গর্ভপাত আইনের কারণে কেবল যন্ত্রের সাহায্যে বাঁচিয়ে রাখা হয়েছে ‘ব্রেন ডেড’ অন্তঃসত্ত্বা নারীকে - Gono television | বাংলাদেশ সরকার অনুমোদিত বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেল।
গর্ভপাত আইনের কারণে কেবল যন্ত্রের সাহায্যে বাঁচিয়ে রাখা হয়েছে ‘ব্রেন ডেড’ অন্তঃসত্ত্বা নারীকে

গর্ভপাত আইনের কারণে কেবল যন্ত্রের সাহায্যে বাঁচিয়ে রাখা হয়েছে ‘ব্রেন ডেড’ অন্তঃসত্ত্বা নারীকে

Oplus_131072

বাড়িতে গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়া অ্যাড্রিয়ানা স্মিথকে হাসপাতালে আনার পর পরীক্ষায় তাঁর মস্তিষ্কে একাধিক ‘ব্লাড-কল্ট’ ধরা পড়ে। চিকিৎসকেরা ৩০ বছর বয়সী এই নারীকে ‘ব্রেন ডেড’ ঘোষণা করেছেন। তারপর তিন মাস পেরিয়ে গেছে। লাইফ সাপোর্ট দিয়ে বাঁচিয়ে রাখা হয়েছে অন্তঃসত্ত্বা অ্যাড্রিয়ানাকে।জর্জিয়ায় ছয় সপ্তাহ পর সব ধরনের গর্ভপাত নিষিদ্ধ। অ্যাড্রিয়ানার মা এপ্রিল নিউকির্ক বলেন, তাঁদের পরিবারের মতামত না নিয়েই তাঁর মেয়ে অ্যাড্রিয়ানা স্মিথকে জীবিত রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।ডব্লিউএক্সআইএ-টিভিকে তিনি বলেন, ‘এই সিদ্ধান্ত আমাদের ওপর ছেড়ে দেওয়া উচিত ছিল।’অ্যাড্রিয়ানার কী হয়েছিল—তা জানাতে গিয়ে তাঁর মা নিউকির্ক বলেন, তাঁর মেয়ে একজন নিবন্ধিত নার্স। গত ফেব্রুয়ারি মাসে প্রচণ্ড মাথাব্যথা নিয়ে অ্যাড্রিয়ানা হাসপাতালে যান। প্রাথমিকভাবে তাঁকে ওষুধ খাওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়। সে সময় তিনি ৯ সপ্তাহের অন্তঃসত্ত্বা।
পরদিন সকালে অ্যাড্রিয়ানা গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়লে তিনি যে হাসপাতালে কাজ করেন, সেখানেই তাঁকে নিয়ে যাওয়া হয়। চিকিৎসকেরা পরীক্ষা করে তাঁর মস্তিষ্কে একাধিক স্থানে জমাট রক্ত (ব্লাড–কল্ট) দেখতে পান। চিকিৎসায় কোনো উন্নতি না হওয়ায় অ্যাড্রিয়ানাকে ‘ব্রেন ডেড’ ঘোষণা করা হয়।তবে জর্জিয়ায় অন্তঃসত্ত্বা হওয়ার ছয় সপ্তাহ পর গর্ভপাতসংক্রান্ত সব ধরনের চিকিৎসা নিষিদ্ধ, তাই ‘হার্টবিট’ আইনের ব্যত্যয় ঘটতে পারে আশঙ্কায় চিকিৎসকেরা অ্যাড্রিয়ানার বিষয়ে কোনো সিদ্ধান্তে আসতে দ্বিধাগ্রস্ত হয়ে পড়েন। কারণ, অ্যাড্রিয়ানা ৯ সপ্তাহের অন্তঃসত্ত্বা।
তার পর থেকে অ্যাড্রিয়ানা লাইফ সাপোর্টে আছেন এবং তিনি এখন ২১ সপ্তাহের অন্তঃসত্ত্বা।নিউকির্ক বলেন, ‘আমি এটা বলছি না যে আমরা তাঁর গর্ভপাতের সিদ্ধান্ত নিতাম। আমি বলতে চাইছি, আমাদের এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়ার সুযোগ থাকা উচিত ছিল।’
অ্যাড্রিয়ানাকে ভেন্টিলেশনে রাখা হয়েছে, যেন তাঁর গর্ভে থাকা শিশুটি পূর্ণ মেয়াদে পৌঁছাতে পারে। যদিও চিকিৎসকেরা নিশ্চিত নন যে এই গর্ভাবস্থা শেষ পর্যন্ত টিকে থাকবে কি না বা কোনো স্বাস্থ্যগত জটিলতা ছাড়াই এটি শেষ হবে কি না।
নর্থওয়েস্টার্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের ‍চিকিৎসা নীতিশাস্ত্র ও প্রজনন অধিকার বিষয়ে বিশেষজ্ঞ কেটি ওয়াটসন বলেন, অ্যাড্রিয়ানার মতো পরিস্থিতির ক্ষেত্রে গর্ভপাত আইন প্রযোজ্য নয়।গতকাল শুক্রবার এএফপিকে কেটি ওয়াটসন বলেন, ‘জর্জিয়ার গর্ভপাতসংক্রান্ত আইন ব্রেন ডেড কোনো ব্যক্তির শরীর থেকে ভেন্টিলেশন সরিয়ে নেওয়ার সঙ্গে একেবারেই সম্পর্কিত নয়। এমনকি মৃত্যুর সময় যদি সেই ব্যক্তি অন্তঃসত্ত্বা থাকেন, তবু এই বিষয়ে আইনানুযায়ী কিছু বলা নেই।’অ্যাড্রিয়ানার বিষয়ে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ যা বলেছে বলে তাঁর পরিবার জানিয়েছে, তা যদি সঠিক হয়, তবে জর্জিয়ার গর্ভপাত আইন সম্পর্কে হাসপাতাল থেকে একটি আশ্চর্যজনক ভুল ব্যাখ্যা দেওয়া হয়েছে বলেও মনে করেন কেটি ওয়াটসন।
ওয়াটসন বলেন, ‘হাসপাতালের এই পদক্ষেপ আইনি দায়বদ্ধতার আশঙ্কা থেকেই নেওয়া হয়ে থাকতে পারে, যা এই ধরনের গর্ভপাতবিরোধী আইন নিয়ে ভয়ের একটি প্রভাব।’উইলিয়ামসের অভিযোগ, যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও জর্জিয়ার গভর্নর ব্রায়ান কেম্প মানুষকে অকল্পনীয় যন্ত্রণার দিকে ঠেলে দিয়েছেন। ট্রাম্প, কেম্প—দুজনই রিপাবলিকান নেতা।সিস্টারসং-এর নির্বাহী পরিচালক মনিকা সিম্পসন বলেছেন, ‘যে অঙ্গরাজ্যে প্রজননসেবা সীমিত ও অপরাধ হিসেবে গণ্য করা হয়, সেখানে কৃষ্ণাঙ্গ ও অন্তঃসত্ত্বা হওয়া প্রাণঘাতী হতে পারে।’


Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

র‌্যাবের চৌকস অভিযানে জীপসহ প্রায় ১১ হাজার ইয়াবার চালান আটক

জামালপুর হামলা পাল্টা হামলার মধ্য দিয়ে জেলার সানন্দবাড়ী তে থমথমে অবস্থা বিরাজমান।

error: আপনি নিউজ চুরি করার চেষ্টা করছেন। বিশেষ প্রয়োজনে যোগাযোগ করুন ০১৭৬৭৪৪৪৩৩৩
%d