Gono television | বাংলাদেশ সরকার অনুমোদিত বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেল। - Gono television is the Bangladesh Government Approved 24/7 News Based TV Channel and Most Reliable News Source and Leading 24/7 News Based TV Channel in Bangladesh, It also the Most Popular News Media for Bangaldesh and Bengali Audience worlwide since 2016.

সংবাদ শিরোনামঃ
ফেনীতে ১১ দলীয় জোটের সেমিনার অনুষ্ঠিত পরীক্ষা স্থগিত হবে না, ৫৯ জেলার এইচএসসি নিয়ে আগের সিদ্ধান্তই বহাল, ব্যাখ্যা দিল আন্তঃশিক্ষা বোর্ড নওগাঁর মহাদেবপুরে রহস্যজনকভাবে দম্পতির মৃত্যু উত্তরাঞ্চলের ৫ জেলায় বন্যার আশঙ্কা ছাত্রসমাজ আবারও রাজপথে তীব্র প্রতিবাদ গড়ে তুলবে: শিবির সভাপতি শিক্ষামন্ত্রী’ পদটিকে প্রতি কদম হাঁটতাম আর গালি দিতাম: হামীম পত্নীতলায় ১৪ বিজিবির অভিযানে ৭৫ বোতল ভারতীয় ইস্কাফ সিরাপ উদ্ধার পরিস্থিতি খুবই ভয়াবহ, কিছুই খেতে পারছি না, চুলাও জ্বলছে না এমপির পক্ষে ত্রাণ বিতরণের সময় বিএনপির দুই পক্ষের সংঘর্ষ, ফাঁকা গুলি আগে চিকিৎসা দরকার হাসপাতাল সড়কের!

বিশ্বের বৃহত্তম সামরিক সদর দপ্তর ‘অক্টাগন’ উদ্বোধন করল মিশর

 

জাহেদুল ইসলাম আল রাইয়ান

 

আধুনিক সামরিক অবকাঠামো ও কৌশলগত সক্ষমতাকে নতুন উচ্চতায় নিয়ে যেতে বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ সামরিক কমান্ড কমপ্লেক্স ‘দ্য অক্টাগন’ (The Octagon) আনুষ্ঠানিকভাবে উদ্বোধন করেছে মিশর। শনিবার (৪ জুলাই) দেশটির নতুন প্রশাসনিক রাজধানীতে নির্মিত এ অত্যাধুনিক কমপ্লেক্স উদ্বোধন করেন মিশরের প্রেসিডেন্ট ও সশস্ত্র বাহিনীর সর্বাধিনায়ক আবদেল ফাত্তাহ আল-সিসি। মিশর সরকার একে বিশ্বের বৃহত্তম ও সর্বাধুনিক সামরিক কমান্ড এবং জাতীয় নিরাপত্তা সদর দপ্তর হিসেবে দাবি করছে।

 

মিশরীয় সরকারি সূত্র ও স্থানীয় গণমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, রাজধানী কায়রো থেকে প্রায় ৪৫ কিলোমিটার পূর্বে গড়ে ওঠা নতুন প্রশাসনিক রাজধানীতে নির্মিত এই কমপ্লেক্সটি ‘স্টেট স্ট্র্যাটেজিক কমান্ড সেন্টার’ প্রকল্পের কেন্দ্রবিন্দু। এর লক্ষ্য হলো সশস্ত্র বাহিনীর কমান্ড, নিয়ন্ত্রণ, সমন্বয় ও কৌশলগত সিদ্ধান্ত গ্রহণ ব্যবস্থাকে সর্বাধুনিক প্রযুক্তির মাধ্যমে আরও কার্যকর ও দ্রুততর করা।

 

প্রায় ৯২ বর্গকিলোমিটার এলাকাজুড়ে বিস্তৃত এই বিশাল স্থাপনাটি আয়তনের দিক থেকে বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ সামরিক অবকাঠামো। মিশরের দাবি অনুযায়ী, এটি যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা সদর দপ্তর পেন্টাগন-এর চেয়েও বড়।

 

‘অক্টাগন’ নামকরণের পেছনে রয়েছে এর ব্যতিক্রমী স্থাপত্যশৈলী। অষ্টভুজ আকৃতির একাধিক ভবনের সমন্বয়ে নির্মিত এই কমপ্লেক্সের নির্মাণকাজ শুরু হয় ২০১৬ সালে। এটি মিশরের দীর্ঘমেয়াদি সামরিক আধুনিকায়ন পরিকল্পনার অন্যতম প্রধান প্রকল্প হিসেবে বাস্তবায়িত হয়েছে।

 

নতুন এই সামরিক সদর দপ্তরে প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় ও সশস্ত্র বাহিনীর কেন্দ্রীয় কমান্ড ছাড়াও রয়েছে অত্যাধুনিক কমান্ড অ্যান্ড কন্ট্রোল সেন্টার, তথ্য বিশ্লেষণ ইউনিট, কৌশলগত যোগাযোগ ব্যবস্থা, সংকট ব্যবস্থাপনা কেন্দ্র, আবহাওয়া পর্যবেক্ষণ ব্যবস্থা এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও উন্নত প্রযুক্তিনির্ভর সামরিক পরিচালনা অবকাঠামো।

 

শুধু সামরিক কমান্ড নয়, এই বিশাল কমপ্লেক্সকে একটি পূর্ণাঙ্গ প্রশাসনিক নগরীর রূপও দেওয়া হয়েছে। কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের জন্য নির্মাণ করা হয়েছে আবাসিক এলাকা, হাসপাতাল, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, হোটেল, শপিং সেন্টার, বিনোদন ও বিভিন্ন সেবামূলক স্থাপনা। ফলে এটি একাধারে সামরিক, প্রশাসনিক ও লজিস্টিক ব্যবস্থাপনার সমন্বিত কেন্দ্র হিসেবে গড়ে উঠেছে।

 

মিশর সরকারের ভাষ্য অনুযায়ী, ‘অক্টাগন’ প্রকল্পের মাধ্যমে সশস্ত্র বাহিনীর কৌশলগত সক্ষমতা বৃদ্ধি, বিভিন্ন নিরাপত্তা সংস্থার মধ্যে সমন্বয় জোরদার এবং প্রযুক্তিনির্ভর কমান্ড ও নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠাই মূল উদ্দেশ্য। এর মাধ্যমে জাতীয় নিরাপত্তা ব্যবস্থাপনা আরও কার্যকর হবে এবং ভবিষ্যতের বহুমাত্রিক নিরাপত্তা চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় দেশটির সক্ষমতা উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পাবে।

 

ইতোমধ্যে নতুন প্রশাসনিক রাজধানীতে অধিকাংশ মন্ত্রণালয়ের কার্যক্রম স্থানান্তর সম্পন্ন করেছে মিশর। সেই ধারাবাহিকতায় ‘দ্য অক্টাগন’ এর উদ্বোধনকে কেবল একটি সামরিক স্থাপনার সূচনা নয়, বরং রাষ্ট্র পরিচালনা, প্রতিরক্ষা আধুনিকায়ন এবং আঞ্চলিক কৌশলগত প্রভাব বৃদ্ধির লক্ষ্যে মিশরের দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হিসেবে দেখা হচ্ছে। বিশ্লেষকদের মতে, মধ্যপ্রাচ্য ও উত্তর আফ্রিকার পরিবর্তিত নিরাপত্তা বাস্তবতায় এই প্রকল্প মিশরের সামরিক ও ভূরাজনৈতিক অবস্থানকে আরও শক্তিশালী করার প্রতীক হিসেবেও বিবেচিত হবে।

 

লেখক কলামিস্ট ও শিক্ষার্থী, আল-আজহার বিশ্ববিদ্যালয়,কায়রো,মিশর

বিশ্বের বৃহত্তম সামরিক সদর দপ্তর ‘অক্টাগন’ উদ্বোধন করল মিশর

ফেনীতে ১১ দলীয় জোটের সেমিনার অনুষ্ঠিত

 

ফেনী প্রতিনিধ :রহিম আলী জাবেদ

 

ফেনী, ১৩ জুলাই: ফেনীতে ১১ দলীয় জোটের উদ্যোগে ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থানের চেতনা, গণভোটের রায় বাস্তবায়ন, জুলাই গণহত্যা ও মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচার এবং আমাদের বাস্তবতা’ শীর্ষক সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়েছে।

 

সোমবার (১৩ জুলাই) বিকেলে শহরের গ্র্যান্ড সুলতান কনভেনশন হলে আয়োজিত এ সেমিনারে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় সেক্রেটারি জেনারেল অধ্যাপক মিয়া গোলাম পরওয়ার। সভাপতিত্ব করেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী ফেনী জেলা আমীর ও কেন্দ্রীয় মজলিসে শূরা সদস্য মুফতি আব্দুল হান্নান। প্রধান বক্তা ছিলেন এবি পার্টির কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক ব্যারিস্টার আসাদুজ্জামান ফুয়াদ।

 

ফেনী জেলা জামায়াতের সেক্রেটারি মোহাম্মদ আব্দুর রহিমের সঞ্চালনায় সেমিনারে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় মজলিসে শূরা সদস্য অধ্যাপক লিয়াকত আলী ভূঁইয়া, ঢাকা মহানগর উত্তর জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি ডা. ফখরুদ্দিন মানিক, কেন্দ্রীয় মজলিসে শূরা সদস্য অ্যাডভোকেট এস. এম. কামাল উদ্দিন, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস ফেনী জেলা সভাপতি মাওলানা নাজমুল আলম, এনসিপির সদস্য সচিব শাহ ওয়ালী উল্লাহ মানিক, বিডিপির সেক্রেটারি মোহাম্মদ ইসমাইল, জাগপা ফেনী জেলা সভাপতি মোহাম্মদ সাইফুদ্দিন, ফেনী শহর ছাত্রশিবির সভাপতি শফিকুল ইসলাম এবং ফেনী জেলা ছাত্রশিবির সভাপতি ইমাম হোসেন আরমান।

 

সেমিনারে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন ফেনী জেলা জামায়াতের নায়েবে আমীর অধ্যাপক আবু ইউছুপ। স্বাগত বক্তব্য রাখেন এবি পার্টি ফেনী জেলার সদস্য সচিব ফজলুল হক।

বক্তারা বলেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের চেতনা বাস্তবায়ন, গণভোটের রায়ের প্রতি শ্রদ্ধাশীল থাকা, জুলাই গণহত্যা ও মানবতাবিরোধী অপরাধের সঙ্গে জড়িতদের দ্রুত ও নিরপেক্ষ বিচার নিশ্চিত করা এবং একটি গণতান্ত্রিক, ন্যায়ভিত্তিক ও বৈষম্যহীন বাংলাদেশ গঠনে জাতীয় ঐক্যের বিকল্প নেই। তারা জনগণের প্রত্যাশা বাস্তবায়নে সব গণতান্ত্রিক শক্তিকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার আহ্বান জানান।

ফেনীতে ১১ দলীয় জোটের সেমিনার অনুষ্ঠিত

চট্টগ্রামসহ ৫ জেলায় আগামী ১৬ জুলাই পর্যন্ত এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষা আগের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী স্থগিত থাকবে। তবে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে চলমান বন্যা, টানা অতিবর্ষণ ও জলাবদ্ধতার কারণে এরই মধ্যে দেশের সব জেলার পরীক্ষা স্থগিতের দাবি উঠেছে।

 

এ প্রেক্ষিতে শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও সংশ্লিষ্ট সকলের অবগতির জন্য বাংলাদেশ আন্তঃশিক্ষা বোর্ড সমন্বয় কমিটি এক বিজ্ঞপ্তিতে ব্যাখ্যা দিয়ে বলছে, এইচএসসি ও সমমানের ১২ লাখ ৭০ হাজার ৫৮৩ জন শিক্ষার্থীর পরীক্ষার প্রস্তুতি উপলব্ধি করে এবং পরীক্ষা বারবার স্থগিত করা হলে শিক্ষার্থীদের শিক্ষাজীবন, ফলাফল প্রকাশ, বিশ্ববিদ্যালয় ও অন্যান্য উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ভর্তি কার্যক্রম এবং সামগ্রিক শিক্ষা ক্যালেন্ডার ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা থাকে। একই সঙ্গে অভিন্ন প্রশ্নপত্র ব্যবস্থায় একটি বোর্ডের কারণে সকল বোর্ডের পরীক্ষা স্থগিত রাখাও বাস্তবসম্মত নয়।

 

আজ সোমবার (১৩ জুলাই) রাতে আন্তঃশিক্ষা বোর্ড সমন্বয় কমিটির সভাপতি ও ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান প্রফেসর সৈয়দ আক্তারুজ্জামন স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

 

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, চলমান এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষা কে কেন্দ্র করে বিরূপ আবহাওয়ার মধ্যেও কেন পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হচ্ছে- এ বিষয়ে অনেক শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও শুভানুধ্যায়ীর উদ্বেগ ও প্রশ্ন আমাদের দৃষ্টিগোচর হয়েছে। এই উদ্বেগকে আমরা আন্তরিকভাবে উপলব্ধি করি এবং এ বিষয়ে নিম্নোক্ত বিষয়গুলো সকলের জ্ঞাতার্থে জানাতে চাই।

 

‘‘২০২৬ সালের এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষা দেশের সকল শিক্ষা বোর্ডে অভিন্ন প্রশ্নপত্রে ২৬৯৭টি কেন্দ্রে মোট ১২ লাখা ৭০ হাজার ৫৮৩ জন পরীক্ষার্থীর অংশগ্রহণে অনুষ্ঠিত হচ্ছে এবং সকল পরীক্ষার্থী আমাদের কাছে সমান গুরুত্বপূর্ণ। তবে অতিবৃষ্টিজনিত বন্যায় চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডের বিভিন্ন পরীক্ষা কেন্দ্র ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় এবং পরীক্ষার্থীদের নিরাপদে কেন্দ্রে উপস্থিত হতে না পারার কারণে শুধু চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডের পরীক্ষা আগামী ১৬ জুলাই পর্যন্ত স্থগিত করা হয়েছে। সংশ্লিষ্ট এলাকার বাস্তব পরিস্থিতি ও উপজেলা নির্বাহী অফিসার এবং জেলা প্রশাসকদের মতামতের প্রেক্ষিতে এ সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়েছে।’’

 

বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, অন্যদিকে দেশের অন্যান্য শিক্ষা বোর্ডের অধিকাংশ পরীক্ষা কেন্দ্র কার্যক্রম পরিচালনার উপযোগী রয়েছে এবং সংশ্লিষ্ট জেলা প্রশাসন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও স্থানীয় প্রশাসনের সঙ্গে সার্বক্ষণিক সমন্বয়ের ভিত্তিতে পরীক্ষা গ্রহণের পরিবেশ বিদ্যমান রয়েছে মর্মে স্থানীয় প্রশাসন প্রতিবেদন প্রেরণ করেছেন। উক্ত প্রতিবেদনের উপর ভিত্তি করে পূর্বনির্ধারিত সময়সূচি অনুযায়ী অন্যান্য বোর্ডের পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হচ্ছে। অপ্রত্যাশিতভাবে আজ সকালে বিরূপ আবহাওয়ার কারণে কিছু কেন্দ্রে বিশেষ করে কুমিল্লা সরকারি মহিলা কলেজ, কুমিল্লা কেন্দ্রে শিক্ষার্থীদের যাতায়াতে ভোগান্তির সৃষ্টি হয়।

 

‘‘তবে স্থানীয় প্রশাসন, কেন্দ্রের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ও অভিভাবকদের আন্তরিক সহযোগিতায় শিক্ষার্থীরা যথাসময়ে কেন্দ্রে উপস্থিত হয়ে পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করতে সক্ষম হয়। ১২ লাখ ৭০ হাজার ৫৮৩ জন শিক্ষার্থীর পরীক্ষার প্রস্তুতি উপলব্ধি করে এবং পরীক্ষা বারবার স্থগিত করা হলে শিক্ষার্থীদের শিক্ষাজীবন, ফলাফল প্রকাশ, বিশ্ববিদ্যালয় ও অন্যান্য উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ভর্তি কার্যক্রম এবং সামগ্রিক শিক্ষা ক্যালেন্ডার ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা থাকে। একই সঙ্গে অভিন্ন প্রশ্নপত্র ব্যবস্থায় একটি বোর্ডের কারণে সকল বোর্ডের পরীক্ষা স্থগিত রাখাও বাস্তবসম্মত নয়।’’

 

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, তবে কোনো অঞ্চলে প্রাকৃতিক দুর্যোগের কারণে পরীক্ষার্থীদের নিরাপত্তা বা পরীক্ষা গ্রহণ মারাত্মকভাবে ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিলে সেক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট জেলা প্রশাসক পরিস্থিতি মূল্যায়ন করে তাৎক্ষণিকভাবে প্রয়োজনীয় সিদ্ধান্ত গ্রহণ করবে। আমাদের কাছে শিক্ষার্থীদের জীবন ও নিরাপত্তাই সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার।

 

‘‘অনুগ্রহ করে শিক্ষা বোর্ড ও শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সরকারি নির্দেশনা অনুসরণ করুন। বিরূপ আবহাওয়ার কারণে পরীক্ষাকেন্দ্রে যাতায়াতের ক্ষেত্রে পর্যাপ্ত সময় হাতে নিয়ে সতর্কতার সঙ্গে রওনা হওয়ার অনুরোধ জানানো যাচ্ছে। শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করে সুষ্ঠু, সুন্দর ও নির্বিঘ্নভাবে পরীক্ষা সম্পন্ন করতে সংশ্লিষ্ট সকল কর্তৃপক্ষ সর্বোচ্চ আন্তরিকতা ও দায়িত্বশীলতার সঙ্গে কাজ করে যাচ্ছে।’’

 

পরীক্ষা স্থগিত হবে না, ৫৯ জেলার এইচএসসি নিয়ে আগের সিদ্ধান্তই বহাল, ব্যাখ্যা দিল আন্তঃশিক্ষা বোর্ড

নওগাঁর মহাদেবপুরে রহস্যজনকভাবে দম্পতির মৃত্যু

 

মোঃ সাইদুল ইসলাম হেলাল

বিশেষ প্রতিনিধিঃ

নওগাঁর মহাদেবপুরে নিজ শয়নকক্ষ থেকে এক দম্পতির মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। সোমবার (১৩ জুলাই) সকাল সাড়ে ৯টার দিকে উপজেলার সফাপুর ইউনিয়নের পাহাড়পুর গ্রামে এই ঘটনা ঘটে। ঘটনার পর থেকেই স্থানীয়দের আঙুল দম্পতির মাদক ও মোবাইল জুয়ায় আসক্ত ছেলের দিকে।

 

নিহত ব্যক্তিরা হলেন— পাহাড়পুর গ্রামের লোকমান মন্ডল (৫৫) ও তার স্ত্রী দেলোয়ারা বেগম (৪৫)

 

স্থানীয় ও পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, প্রতিদিনের মতোই রবিবার রাতের খাবার খেয়ে নিজেদের ঘরে ঘুমাতে যান লোকমান ও দেলোয়ারা দম্পতি। তবে ভোর চারটার দিকে তাদের ছেলে মুক্তার হোসেন হঠাৎ প্রতিবেশীদের ডেকে এনে দাবি করেন তার বাবা-মা মারা গেছেন। প্রতিবেশীরা ঘরে ঢুকে খাটের ওপর স্বামী-স্ত্রীর নিথর দেহ পড়ে থাকতে দেখেন।

 

এলাকাবাসীর অভিযোগ, মুক্তার হোসেন দীর্ঘদিন ধরে মারাত্মকভাবে মাদক ও অনলাইন জুয়ায় আসক্ত ছিলেন। জুয়া খেলার টাকা জোগাড় করতে প্রায়ই তিনি মা-বাবার ওপর চাপ সৃষ্টি করতেন। ধারণা করা হচ্ছে, রবিবার রাতেও নেশা ও জুয়ার টাকার জন্য মা-বাবার সাথে তার বাগ্‌বিতণ্ডা হয়। টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানানোয়, ক্ষোভে রাতে কোনো এক সময় খাবারের সাথে বিষাক্ত কিছু মিশিয়ে তাদের খাইয়ে দেওয়া হয়।

 

স্থানীয় এক প্রতিবেশী জানান, “মুক্তার কোনো কাজকর্ম করত না, সারাদিন মোবাইল জুয়া আর নেশা নিয়েই থাকত। টাকার জন্য মা-বাবার ওপর অত্যাচার করত। ওরাই যে বিষ খাইয়ে ওদের মেরেছে, এ বিষয়ে আমাদের মনে কোনো সন্দেহ নেই।”

 

খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছায় মহাদেবপুর থানা পুলিশ। লাশ দুটি উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য নওগাঁ জেনারেল হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে।

 

মহাদেবপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ওমর ফারুক ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন,

 

প্রাথমিকভাবে আমাদের ধারণা করা হচ্ছে , বিষাক্ত কোনো খাবারের প্রতিক্রিয়ায় তাদের মৃত্যু হয়েছে।”

 

মরদেহের সুরতহাল শেষে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে। ময়না তদন্তের রিপোর্ট হাতে পেলেই মৃত্যুর প্রকৃত কারণ নিশ্চিত হওয়া যাবে।”

 

পুলিশ বলছে ছেলের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগটি খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তদন্ত সাপেক্ষে দ্রুত আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

নওগাঁর মহাদেবপুরে রহস্যজনকভাবে দম্পতির মৃত্যু

টানা ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টির কারণে দেশের বিভিন্ন এলাকায় বন্যা পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে আগামী ২৪ থেকে ৪৮ ঘণ্টায় উত্তরাঞ্চলের কয়েকটি নদীর পানি বেড়ে ৫ জেলায় নতুন করে বন্যা পরিস্থিতির সৃষ্টি হতে পারে বলে জানিয়েছে পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র।

 

সোমবার (১৩ জুলাই) দেওয়া এক পূর্বাভাসে জানানো হয়, উত্তর-পূর্বাঞ্চলের কয়েকটি নদীর পানি ইতোমধ্যে বাড়তে শুরু করেছে। আগামী দুই দিনে এসব নদীর পানি আরও বৃদ্ধি পেতে পারে।

 

পূর্বাভাস অনুযায়ী, সিলেট, সুনামগঞ্জ, নেত্রকোণা, শেরপুর ও ময়মনসিংহ জেলার বিভিন্ন নদীর পানি বেড়ে কিছু এলাকায় বিপৎসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হতে পারে। এতে নদীসংলগ্ন নিম্নাঞ্চলে স্বল্পমেয়াদি বন্যা পরিস্থিতির আশঙ্কা রয়েছে।

 

পাউবো জানিয়েছে, গত ২৪ ঘণ্টায় উত্তর-পূর্বাঞ্চলের সুরমা-কুশিয়ারা নদীর পানি সমতল বেড়েছে। আগামী দুই দিনও এসব নদীর পানি বাড়তে পারে। এর ফলে সিলেট ও সুনামগঞ্জের সুরমা-কুশিয়ারা নদীসংলগ্ন নিম্নাঞ্চলের বন্যা পরিস্থিতির কিছুটা অবনতি হতে পারে।

 

এদিকে সিলেট ও ময়মনসিংহ বিভাগের যাদুকাটা, ভুলাই-কংস নদীর পানি বেড়েছে। অন্যদিকে সোমেশ্বরী নদীর পানি স্থিতিশীল রয়েছে এবং সারিগোয়াইন নদীর পানি কমেছে।

 

উত্তরাঞ্চলেও বাড়ছে নদীর পানি

 

রংপুর বিভাগের নদ-নদীর পানিও বাড়তে শুরু করেছে। আগামী ২৪ থেকে ৪৮ ঘণ্টায় নীলফামারী, লালমনিরহাট, রংপুর ও কুড়িগ্রাম জেলার তিস্তা ও দুধকুমার নদীর পানি বৃদ্ধি পেয়ে কিছু স্থানে বিপৎসীমা অতিক্রম করতে পারে।

 

এ ছাড়া গাইবান্ধায় তিস্তা এবং কুড়িগ্রামে ধরলা নদীর পানি সতর্কসীমায় প্রবাহিত হতে পারে। এতে নদীসংলগ্ন নিম্নাঞ্চল সাময়িকভাবে প্লাবিত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

 

পাউবো আরও জানিয়েছে, রংপুর ও রাজশাহী বিভাগের টাঙ্গন, পুনর্ভবা, ঘাঘট, আত্রাই, মহানন্দা, যমুনেশ্বরী ও করতোয়া নদীর পানি বেড়েছে। আগামী কয়েক দিন এসব নদীর পানিও বাড়তে পারে।

 

অন্যদিকে বান্দরবান, চট্টগ্রাম ও কক্সবাজারের সাঙ্গু ও মাতামুহুরী নদীর পানি কমতে পারে বলে জানিয়েছে বন্যা পূর্বাভাস কেন্দ্র। ফলে এসব এলাকার নিম্নাঞ্চলের বন্যা পরিস্থিতির উন্নতি অব্যাহত থাকতে পারে।

 

দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে নদ-নদীর পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় স্থানীয় প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোকে সতর্ক থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

উত্তরাঞ্চলের ৫ জেলায় বন্যার আশঙ্কা

তরুণ প্রজন্মের আকাঙ্ক্ষা পূরণে প্রয়োজনে আবারও রাজপথে নামার হুঁশিয়ারি দিয়ে শিবির সভাপতি বলেন, তরুণ প্রজন্ম যে সংস্কার ও গণভোটের আকাঙ্ক্ষা নিয়ে আন্দোলন করেছে, তা অনতিবিলম্বে বাস্তবায়ন করতে হবে। সরকারের বোধোদয় না হলে সাধারণ জনগণ ও ছাত্রসমাজ আবারও রাজপথে তীব্র প্রতিবাদ গড়ে তুলবে। ক্যাম্পাসগুলোতে র‍্যাগিং, সিট দখল এবং ভর্তি বাণিজ্য বন্ধ করে সেগুলোকে আদর্শ ও নৈতিকতার ‘মার্কেট প্লেস’ (মার্কেট প্লেস অফ ভ্যালুজ) হিসেবে গড়ে তোলার আহ্বান জানিয়েছেন ইসলামী ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় সভাপতি সাদ্দাম হোসেন। একই সাথে তিনি জুলাই-পরবর্তী বাংলাদেশে ছাত্র রাজনীতির আমূল পরিবর্তনের ওপর জোর দেন।

 

সোমবার (১৩ জুলাই) দুপুরে নোয়াখালী জেলা শহরের একটি কনভেনশন হলে নোয়াখালী সরকারি কলেজের নবীন শিক্ষার্থীদের বরণ ও ক্যারিয়ার গাইডলাইন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

 

প্রধান অতিথির বক্তব্যে সাদ্দাম হোসেন বলেন, “সাধারণ বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে নবীন শিক্ষার্থীরা আসার পর জ্যেষ্ঠদের দ্বারা র‍্যাগিং বা হেনস্তার শিকার হন। এই নেতিবাচক সংস্কৃতি থেকে বেরিয়ে এসে ইসলামী ছাত্রশিবির শিক্ষার্থীদের ক্যারিয়ার কাউন্সিলিং, সফট ও হার্ড স্কিল ডেভেলপমেন্ট এবং ইথিক্যাল ডেভেলপমেন্ট নিয়ে কাজ করছে।”

 

ছাত্র রাজনীতির বর্তমান প্রেক্ষাপট সমালোচনা করে তিনি বলেন, “রাজনীতি এখন অনেকের কাছে এক ধরণের ব্যবসা হয়ে দাঁড়িয়েছে। জুলাই-পরবর্তী বাংলাদেশে এই ধরনের চেতনা আর চলবে না। এখন ছাত্রদের কাছে যেতে হবে আইডিওলজি, থিম এবং নতুনত্ব নিয়ে।”

 

বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে উপাচার্য (ভিসি) ও প্রশাসক নিয়োগের প্রসঙ্গ টেনে শিবির সভাপতি ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “সাদা দল বা নির্দিষ্ট রাজনৈতিক দল না করলে কেউ ভিসি হতে পারবেন না—এমন নগ্ন দলীয়করণ আমরা জুলাই-পরবর্তীতে দেখতে চাই নাই। দলীয় এজেন্ডা বাস্তবায়নের জন্য রাজনৈতিক ব্যাকগ্রাউন্ডের ব্যক্তিকে ভিসি বানানো হয়েছে। সহস্রাধিক শহীদ এই ফ্যাসিবাদ ও স্বৈরশাসনমুক্ত ক্যাম্পাসের জন্য জীবন দেননি।”

 

বর্তমান শিক্ষাব্যবস্থা ও বেকারত্ব সংকটের সমালোচনা করে সাদ্দাম হোসেন বলেন, “শিক্ষার মান বাড়লেও মানবিক মূল্যবোধের কোনো পরিবর্তন ঘটেনি। বর্তমানে দেশে ৪১ লক্ষ বেকার রয়েছে। প্রতিবছর জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ৪ লক্ষ শিক্ষার্থী বের হলেও তাদের কর্মসংস্থানের কোনো ব্যবস্থা করা হচ্ছে না এবং এই পরিবর্তনে সরকারের কার্যকরী কোনো ভূমিকা দেখা যাচ্ছে না।”

 

তিনি আরও বলেন, সমাজব্যবস্থায় দ্বান্দ্বিক বস্তুবাদিতা পশ্চিমা সংস্কৃতিকে টিকিয়ে রাখলেও তা মানুষের জন্য প্রকৃত কল্যাণ বয়ে আনে না। আল্লাহর আইনই একমাত্র মানুষের কল্যাণ স্থাপন করে এবং পুরো পৃথিবীতে রাজনৈতিক, শিক্ষা, সমাজ, আইন ও দেশ পরিচালনাসহ সকল ব্যবস্থাপনায় ইসলামই একমাত্র মুক্তির পথ।

 

নোয়াখালী সরকারি কলেজ ছাত্রশিবিরের সভাপতি মোহাম্মদ আল-আমিনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন— কেন্দ্রীয় মজলিসে শুরা সদস্য ও নোয়াখালী জেলা জামায়াতের আমীর ইসহাক খন্দকার, নোয়াখালী সরকারি কলেজের সাবেক শিবির সভাপতি অধ্যক্ষ বেলায়েত হোসেন এবং ছাত্রশিবির নোয়াখালী শহর সভাপতি আব্দুল্লাহ আল মাহবুবসহ অন্যান্য নেতৃবৃন্দ। অনুষ্ঠানের শেষ অংশে প্রধান অতিথি নতুন শিক্ষার্থীদের বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর দেন এবং ক্যারিয়ার গঠনে দিকনির্দেশনামূলক পরামর্শ প্রদান করেন।

ছাত্রসমাজ আবারও রাজপথে তীব্র প্রতিবাদ গড়ে তুলবে: শিবির সভাপতি

টানা বৃষ্টির কারণে রাজধানীতে জলাবদ্ধতায় শিক্ষার্থীদের ভোগান্তি নিয়ে ফেসবুকে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) কবি জসীম উদ্দিন হল ছাত্রদলের আহ্বায়ক শেখ তানভীর বারী হামিম।

 

সোমবার (১৩ জুলাই) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে দেওয়া এক স্ট্যাটাসে তিনি এ ক্ষোভ প্রকাশ করেন।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে দেওয়া পোস্টে হামিম লেখেন, আব্বা খুলনা থেকে ডাক্তার দেখানোর উদ্দেশ‍্যে ঢাকায় এসেছে। আজ সকালে তার টেস্টগুলো করাতে শান্তিনগর মোড়ের পপুলারে যাচ্ছিলাম। যে বৃষ্টি, রাস্তার যে ভয়াবহ অবস্হা (যদিও আমি গাড়িতে ছিলাম), গাড়ি থেকেই শিক্ষার্থীদের যে নাজেহাল অবস্হা দেখলাম তাহলে গ্রামগন্জে কি অবস্হা!

 

হামিম আরও লেখেন, একটা সত‍্যি কথা বলি, কেউ কিছু মনে কইরেন না। আজকের দিনে আমি এইচএসসি পরীক্ষার্থী হলে “শিক্ষামন্ত্রী” পদটিকে বৃষ্টিতে পরীক্ষা দিতে যেয়ে প্রতি কদম হাঁটতাম আর গালি দিতাম….আর তার থেকে বেশি গালি দিতাম তাদেরকে যারা গত দেড় বছর সুযোগ পেলেই রাস্তা বন্ধ করে পরীক্ষা পিছাতে বা বাতিল করার চেষ্টা করেছে ঐসব পোলাপানদেরকে।

শিক্ষামন্ত্রী’ পদটিকে প্রতি কদম হাঁটতাম আর গালি দিতাম: হামীম

পত্নীতলায় ১৪ বিজিবির অভিযানে ৭৫ বোতল ভারতীয় ইস্কাফ সিরাপ উদ্ধার

 

মোঃ সাইদুল ইসলাম হেলাল

বিশেষ প্রতিনিধিঃ

নওগাঁর পত্নীতলা সীমান্তে অভিযান চালিয়ে ৭৫ বোতল ভারতীয় নেশাজাতীয় ইস্কাফ সিরাপ উদ্ধার করেছে পত্নীতলা ব্যাটালিয়ন (১৪ বিজিবি)।

 

সোমবার দিবাগত রাত ১২টা ২০ মিনিটে আগ্রাদ্বিগুন বিওপির টহল কমান্ডার নায়েব সুবেদার মো. সোয়েব আলী মুন্সীর নেতৃত্বে একটি বিশেষ টহল দল সীমান্ত পিলার ২৫৬/৬-এস থেকে আনুমানিক ৩০০ গজ বাংলাদেশের অভ্যন্তরে মহেশপুর মাঠ এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে।

 

এ সময় বিজিবির উপস্থিতি টের পেয়ে চোরাকারবারিরা মালামাল ফেলে পালিয়ে যায়। পরে ঘটনাস্থলে তল্লাশি চালিয়ে মালিকবিহীন অবস্থায় ৭৫ বোতল ভারতীয় নেশাজাতীয় ইস্কাফ সিরাপ উদ্ধার করা হয়।

 

বিজিবি জানায়, উদ্ধারকৃত মাদকদ্রব্য ধামইরহাট থানা পুলিশের কাছে হস্তান্তরের কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।

 

পত্নীতলা ব্যাটালিয়ন (১৪ বিজিবি)-এর অধিনায়ক জানান, নওগাঁ ও জয়পুরহাট সীমান্তবর্তী দায়িত্বপূর্ণ এলাকায় অবৈধ সীমান্ত পারাপার প্রতিরোধ, দেশের আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা এবং আন্তঃসীমান্তীয় সব ধরনের অপরাধ দমনে বিজিবির অভিযান ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে।

 

মোঃ সাইদুল ইসলাম হেলাল

বিশেষ প্রতিনিধিঃ

মোবাইল নং- ০১৭২৪২৫৫৭০৬

তারিখঃ ১৩-৭-২০২৬

পত্নীতলায় ১৪ বিজিবির অভিযানে ৭৫ বোতল ভারতীয় ইস্কাফ সিরাপ উদ্ধার

‘পরিস্থিতি খুবই ভয়াবহ, কিছুই খেতে পারছি না, চুলাও জ্বলছে না’

 

 

 

 

 

ষ্টাফ: রিপোর্টার

রুবেল হোসাইন

 

‘এখানে পরিস্থিতি খুবই ভয়াবহ। কিছুই খেতে পারছি না। চারদিকে এত পানি যে এখনও চুলায় আগুন জ্বালিয়ে রান্না করা সম্ভব হচ্ছে না। সবাই অনাহারে দিন কাটাচ্ছে। পুরো এলাকা পানিতে তলিয়ে গেছে, আর অনেকের ঘরবাড়িও ভেঙে গেছে।’ আজ রোববার এভাবে বন্যা পরিস্থিতি বর্ণনা করছিলেন কক্সবাজারের চকরিয়ার কাকারা ইউনিয়নের শাকের মোহাম্মদচর পূর্বপাড়ার বাসিন্দা মোহাম্মদ হোছাইন।

 

চকরিয়ার কাকারা ইউনিয়নের মতোই পেকুয়া, মাতামুহুরি, রামু ও সদর উপজেলার বিস্তীর্ণ এলাকা প্লাবিত হয়েছে। এসব এলাকার প্রায় ৬০ শতাংশ জনপদ এখনও পানির নিচে। ডুবে আছে হাজারও ঘরবাড়ি।

 

পেকুয়া উপজেলার টৈটং ইউনিয়নের দক্ষিণ সোনাইছড়ি ভেলুয়াপাড়ায় ছোট একটি মাটির ঘরে এক ছেলে, ছেলের বউ আর দুই নাতি নিয়ে বসবাস করছিলেন সাফুরা খাতুন। তিনি বলেন, ‘গত কয়েকদিনের টানা বৃষ্টি এবং বন্যার পানিতে পুরো ঘরটি ভেঙে গেছে। এক সপ্তাহ ধরে চুলায় আগুন জ্বালাতে পারছি না। প্রতিবেশীরা কয়েক বেলা খাবার পাঠালেও এখনো সরকারি কোনো সহযোগিতা আসেনি। এভাবে অনাহারে অর্ধাহারে দিন কাটছে।’

 

কাকারা এলাকার বাসিন্দা আব্দুর রশিদ বলেন, ‘আমরা প্রতিবছরই এই জলাবদ্ধতার কারণে চরম দুর্ভোগের শিকার হই। আমাদের বাড়িঘর পানিতে তলিয়ে যায়, আর আমরা উঁচু মাচার ওপর আশ্রয় নিয়ে থাকতে বাধ্য হই। প্রতিনিয়ত প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র ওঠানামা করাতে আমাদের অনেক কষ্ট হয়। এত কষ্টের মধ্যেও বিশুদ্ধ পানির ব্যবস্থা থাকে না। প্রতিটি দিন আমাদের জন্য এক কঠিন সংগ্রাম হয়ে দাঁড়িয়েছে।’

 

একই এলাকার ইকবাল হোসেন বলেন, ‘বর্তমানে সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন বিশুদ্ধ পানি ও পর্যাপ্ত শুকনো খাবার। প্রতিটি বাড়ি পানিবন্দি হয়ে পড়েছে। রান্নাবান্না করার কোনো সুযোগ নেই। তাই জরুরি ভিত্তিতে তাদের কাছে খাবার ও নিরাপদ পানির ব্যবস্থা করা অত্যন্ত জরুরি।’

 

ইয়াছিন আরাফাত নামের আরেক বাসিন্দা বলেন, ‘চকরিয়া উপজেলাকে অবিলম্বে দুর্গত এলাকা ঘোষণা করা উচিত। একইসঙ্গে সরকারের সব পর্যায় থেকে জরুরি ভিত্তিতে ত্রাণ সহায়তা পৌঁছে দেওয়া প্রয়োজন। বিশেষ করে শুকনো খাবার, ওষুধ, বিশুদ্ধ পানি ও অন্যান্য জরুরি সামগ্রী ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের কাছে দ্রুত পৌঁছে দিতে হবে। উপজেলার কাকারা, লক্ষ্যারচর, কুয়ারবিলসহ সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত পাঁচটি ইউনিয়নে অবিলম্বে সরকারের বিশেষ সহায়তা নিশ্চিত করা জরুরি।’

 

কক্সবাজারে বন্যা পরিস্থিতির কিছুটা উন্নতি হলেও এখনও পানিবন্দি লক্ষাধিক মানুষ। ঘরে খাবার নেই। চুলা জ্বলছে না। জেলা প্রশাসক মো. আ. মান্নান জানিয়েছেন, ‘বিগত বছরে গড় বৃষ্টিপাতের রেকর্ড অনুযায়ী, জুলাই মাসে কক্সবাজারে গড়ে ৯২৪ মিলিমিটার বৃষ্টি হয়। কিন্তু দুর্ভাগ্যজনকভাবে, গত সাত দিনেই জেলায় ৮২৩ মিলিমিটারের বৃষ্টিপাত রেকর্ড হয়েছে। অর্থাৎ, পুরো জুলাই মাসে যে পরিমাণ বৃষ্টি হওয়ার কথা, তার প্রায় ৯০ শতাংশই মাত্র সাত দিনের মধ্যে হয়েছে। ফলে অতিরিক্ত পানি দ্রুত নিষ্কাশন সম্ভব হচ্ছে না।’

 

জেলা প্রশাসন জানিয়েছে, অতিবৃষ্টি ও মাতামুহুরি নদী দিয়ে নেমে আসা পানির ঢল চকরিয়া, পেকুয়া, মাতামুহুরি ও রামু এলাকা প্লাবিত হয়েছে। কক্সবাজার জেলার ৭১টি ইউনিয়নের মধ্যে প্রায় ৬৯টি ইউনিয়ন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং প্রায় দুই থেকে আড়াই লাখ মানুষ পানিবন্দি অবস্থায় রয়েছে।

 

জেলা কৃষি বিভাগ জানিয়েছে, কক্সবাজার জেলার ৯ উপজেলায় এ পর্যন্ত ৪৩ হাজার ২১০ হেক্টর ফসলি জমি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

 

জেলা প্রশাসক মো. আ. মান্নান বলেন, ‘তবে স্বস্তির বিষয় হলো, শনিবার থেকে বৃষ্টিপাত অনেকটাই কমে এসেছে এবং পানি দ্রুত নেমে যাচ্ছে। ক্ষতিগ্রস্তদের সহায়তায় সরকারের পক্ষ থেকে ইতোমধ্যে ৩০ লাখ টাকা এবং ৪৫০ মেট্রিক টন চাল বরাদ্দ দেয়া হয়েছে। দেওয়া হচ্ছে শুকনো খাবারও।’

 

প্রধানমন্ত্রীও সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলে সার্বিক পরিস্থিতির খোঁজ নিয়েছেন এবং প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দিয়েছেন জানিয়ে জেলা প্রশাসক বলেন, ‘প্রশাসন, বিভিন্ন সরকারি দপ্তর, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী, জনপ্রতিনিধি ও রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ সবাই মিলে পরিস্থিতি মোকাবিলায় একযোগে কাজ করছে। স্লুইসগেট নিয়ে যে বিভ্রান্তি রয়েছে, তা সঠিক নয়। গত দুই দিন ধরে সব স্লুইসগেট খোলা রয়েছে। শুধু জোয়ারের সময় সমুদ্রের পানি যাতে ভেতরে প্রবেশ করতে না পারে, সেজন্য সাময়িকভাবে গেট বন্ধ করা হয়। ভাটার সময় আবার সেগুলো খুলে দেওয়া হয়। বর্তমানে কোথাও কোনো স্লুইস গেট বন্ধ নেই।’

 

শিশুসহ ৩ জনের মৃত্যু

এদিকে শনিবার রাতে কক্সবাজার শহরে পাহাড়ধসে রোজিনা বেগম নামে এক গৃহবধূর মৃত্যু হয়েছে। তিনি শহরের পূর্ব কলাতলী ঝরঝরিপাড়ার বাসিন্দা আব্দুল মজিদের স্ত্রী।

 

এছাড়া চকরিয়ায় বন্যার পানিতে ডুবে সজিব জলদাশ (১২) নামে এক শিশুর মৃত্যু হয়েছে। রোববার দুপুর ৩টার দিকে উপজেলার কৈয়ারবিল ইউনিয়নের খোজাখালী জলদাসপাড়া এলাকা থেকে ওই শিশুর ভাসমান মরদেহ উদ্ধার করা হয়। সে ওই গ্রামের তুফান জলদাশের ছেলে।

 

এর আগে শনিবার রাত সাড়ে ৯টার দিকে পেকুয়ায় বন্যার পানিতে ডুবে ২১ মাস বয়সী এক শিশুর মৃত্যু হয়েছে। ‎মারা যাওয়া শিশুর নাম মুশফিকুর রহিম। সে ওই এলাকার সৌদি আরব প্রবাসী মো. নাছিরের ছেলে।

 

এ নিয়ে জেলায় পাহাড়ধস, পানিতে ডুবে ও দেয়ালচাপায় প্রাণহানি বেড়ে ২৮ জনে দাঁড়িয়েছে

পরিস্থিতি খুবই ভয়াবহ, কিছুই খেতে পারছি না, চুলাও জ্বলছে না

সাতকানিয়ায় চট্টগ্রাম-১৪ আসনের (চন্দনাইশ ও সাতকানিয়া আংশিক) সংসদ সদস্য জসীম উদ্দীন আহমেদের ত্রাণ বিতরণ অনুষ্ঠানকে কেন্দ্র করে বিএনপির দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এ সময় প্রতিপক্ষকে লক্ষ্য করে তিন রাউন্ড গুলি ছোড়ার অভিযোগও উঠেছে। সংঘর্ষে ৫ জন আহত হয়েছেন। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন, ঘটনার সময় আতঙ্কে ত্রাণ নিতে আসা বন্যাদুর্গতরা প্রাণভয়ে স্থান ত্যাগ করায় ত্রাণ বিতরণ কার্যক্রম বন্ধ হয়ে যায়।

 

শনিবার (১১ জুলাই) বিকালে উপজেলার কালিয়াইশ ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের পূর্ব কাটগড় বিওসি’র মোড় এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

 

আহতরা হলেন- মো. আকতার সওদাগর, মো. ইব্রাহিম, আবদুল আলিম, মোস্তাক ও সেলিম। তাদেরকে বিভিন্ন হাসপাতাল ও স্থানীয়ভাবে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে।

 

জানা যায়, শনিবার বিকালে কালিয়াইশ ইউনিয়নের বন্যা দুর্গতদের মাঝে ত্রাণসামগ্রী বিতরণে আসেন চট্টগ্রাম-১৪ আসনের সংসদ সদস্য জসীম উদ্দীম আহমেদ। তিনি প্রথমে সড়ক ও জনপথ বিভাগের রেষ্ট হাউসের সামনে সারিবদ্ধ মহিলাদের ত্রাণসামগ্রী বিতরণ করেন।

 

একই সময় বিওসি’র মোড় এলাকায় স্থানীয় বিএনপি’র নেতা-কর্মীরা চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়কের পাশে দাঁড়িয়ে এমপিকে স্বাগত জানানোর উদ্দেশ্যে জড়ো হলে আওয়ামী লীগের টিকেটে নির্বাচিত কালিয়াইশ ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান বীর মুক্তিযোদ্ধা হাফেজ আহমদের উপস্থিতিতে কেন্দ্র করে উভয়পক্ষের মধ্যে কথা কাটাকাটি ও সংঘর্ষ হয়।

 

এ সময় পুলিশ সদস্যরা এমপিকে গাড়িতে তুলে দেন এবং তারাসহ কেরানীহাটের দিকে ত্রাণসামগ্রী বিতরণের উদ্দেশ্যে চলে যান। এরপর রুবেল নামে এক ব্যক্তি জসিম ডেকোরেশনের সামনে প্রকাশ্যে একটি ফাঁকা গুলিবর্ষণ করেন। এ সময় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়লে বিওসি’র মোড়ের পূর্বদিকে পাঁচতলা এলাকায় আরও দুই রাউন্ড ফাঁকা গুলিবর্ষণের শব্দ শোনা যায়।

 

উত্তর সাতকানিয়া সাংগঠনিক উপজেলা যুবদলের সংগঠক শাহাদাৎ হোসেন মোস্তাক বলেন, আমরা এমপিকে রিসিভ করে বিওসি’র মোড়ের দিকে আসার সময় কয়েকজন ছেলে কথা কাটাকাটিতে লিপ্ত হন। এর কিছুক্ষণ পর এমপির প্রটোকল রক্তার্থে এক সিকিউরিটি স্থানীয় এক বিএনপি নেতাকে ধাক্কা দেন। পরবর্তীতে এমপি সেখান থেকে চলে যাওয়ার পর আমাদের উপর হামলা করা হয়।

 

কালিয়াইশ ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক আমির হোসেন বলেন, মূলত হাফেজ চেয়ারম্যানের উপস্থিতিকে কেন্দ্র করে ঘটনার সূত্রপাত হয়। পরবর্তীতে এমপি চলে যাওয়ার পর কথা কাটাকাটি ও ধস্তাধস্তির একপর্যায়ে রুবেল নামের এক ছেলে একটি ফাঁকা গুলিবর্ষণ করেন। পরে পাঁচতলা এলাকায়ও দুই রাউন্ড ফাঁকা গুলিবর্ষণ করা হয়।

 

সাতকানিয়া থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর আলম বলেন, ওই সময় আমি এমপির সঙ্গে ছিলাম। দু’পক্ষের মধ্যে কথা কাটাকাটি হলে আমরা সেখান থেকে এমপিসহ পরবর্তী কর্মসূচির উদ্দেশ্যে রওনা হই। এরপর সেখানে পুলিশের একটি টিম পাঠানো হয়। পুরো বিষয়টি আমরা তদন্ত করছি। গুলিবর্ষণের সত্যতা মিললে দোষীদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

এমপির পক্ষে ত্রাণ বিতরণের সময় বিএনপির দুই পক্ষের সংঘর্ষ, ফাঁকা গুলি

জানা যায়, রাজবাড়ী পৌরসভার ২ নম্বর রেলগেট থেকে জেলা সদর হাসপাতাল পর্যন্ত সড়কটি দীর্ঘদিন ধরে চলাচলের অনুপযোগী হয়ে রয়েছে। সড়কের বিভিন্ন স্থানে বড় বড় গর্ত, ভাঙাচোরা অংশ ও অপর্যাপ্ত পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থার কারণে বর্ষা মৌসুমে বৃষ্টির পানি জমে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে ওঠে। অনেক সময় রাস্তার গর্ত পানির নিচে তলিয়ে থাকায় দুর্ঘটনার ঝুঁকি বেড়ে যায়।

 

শুধু হাসপাতাল সড়কই নয়, সামান্য বৃষ্টিতেই রাজবাড়ী শহরের কারিগরি বিদ্যালয় এলাকা, সদর হাসপাতাল ও জেলা সিভিল সার্জন কার্যালয়ের সামনে, সারের গুদাম, বিদ্যুৎ কার্যালয়, আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা দল কার্যালয়, কাজীকান্দা, সেগুনবাগিচা, বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় মোড় এবং জাতীয় ব্যাংক মোড়সহ বিভিন্ন এলাকায় জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়। তবে হাসপাতাল সড়কের দুরবস্থা সবচেয়ে বেশি ভোগান্তির কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

 

হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে আসা রোগী ও তাদের স্বজনরা জানান, জরুরি বিভাগে পৌঁছাতে অনেক সময় পানি মাড়িয়ে যেতে হয়। এতে রোগীদের কষ্ট যেমন বাড়ছে, তেমনি স্বাস্থ্যঝুঁকিও তৈরি হচ্ছে।

রাজবাড়ী জেলা সদর হাসপাতালের প্রধান সংযোগ সড়কটির বেহাল দশার কারণে চরম দুর্ভোগে পড়েছেন রোগী, স্বজন ও সাধারণ মানুষ। ভাঙাচোরা রাস্তা, বড় বড় গর্ত আর সামান্য বৃষ্টিতেই সৃষ্টি হওয়া হাঁটুসমান জলাবদ্ধতার কারণে জরুরি রোগীদের হাসপাতালে নিতে গিয়ে প্রতিনিয়ত ঝুঁকির মুখে পড়তে হচ্ছে। ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, চিকিৎসা পাওয়ার আগেই হাসপাতালগামী এই সড়কে শুরু হয় রোগীদের চরম ভোগান্তি।

 

আগে চিকিৎসা দরকার হাসপাতাল সড়কের!

র‌্যাবের চৌকস অভিযানে জীপসহ প্রায় ১১ হাজার ইয়াবার চালান আটক

জামালপুর হামলা পাল্টা হামলার মধ্য দিয়ে জেলার সানন্দবাড়ী তে থমথমে অবস্থা বিরাজমান।

খেলাধুলা

কানসাস সিটির অ্যারোহেড স্টেডিয়ামে আবার সেই রূপকথার মতো শেষ মুহূর্তের উল্লাস আর বিশ্বচ্যাম্পিয়নদের রাজকীয় প্রত্যাবর্তন। নির্ধারিত ৯০ মিনিট ১-১ সমতায় শেষ হওয়ার পর অতিরিক্ত সময়ের ১১৩ মিনিট পর্যন্ত ১০ জনের সুইজারল্যান্ড রক্তক্ষয়ী প্রাচীর গড়ে আটকে রেখেছিল বর্তমান বিশ্বচ্যাম্পিয়নদের। সবাই যখন চরম শঙ্কা নিয়ে পেনাল্টি টাইব্রেকারের দিকে তাকাচ্ছিল, তখনই গোল করলো আলভারেজ ও লাওতারো।

 

পুরো টুর্নামেন্টে ছন্দহীন থাকা আর একাদশে জায়গা নেওয়া নিয়ে ওঠা সব সমালোচনা এক শটে উড়িয়ে দিয়ে ১১৪তম মিনিটে ২৫ গজ দূর থেকে এক চোখধাঁধানো রকেট শটে আলবিসেলেস্তাদের ২-১ গোলে এগিয়ে দেন এই অ্যাটলেটিকো মাদ্রিদ ফরোয়ার্ড। এরপর অতিরিক্ত সময়ের যোগ করা সময়ে শেষ কফিনে শেষ পেরেকটি ঠুকে দেন লাওতারো মার্তিনেজ। সুইজারল্যান্ডকে ৩-১ ব্যবধানে হারিয়ে টানা দ্বিতীয়বারের মতো বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে পৌঁছে গেল লিওনেল মেসির আর্জেন্টিনা।

 

আজকের এই মহাকাব্যিক জয়ের ফলে বিশ্বকাপের সেমিফাইনালের মেগা মঞ্চে আর্জেন্টিনার মুখোমুখি হতে যাচ্ছে চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী ইংল্যান্ড। এর আগে প্রথমার্ধের ১০ মিনিটে মেসির কর্নার থেকে ম্যাক আলিস্টারের হেডে আর্জেন্টিনা এগিয়ে গেলেও, ৬৭ মিনিটে ড্যান এনদোয়ের গোলে সমতায় ফিরেছিল সুইজারল্যান্ড। ৭২ মিনিটে ব্রিল এমবোলো লাল কার্ড পেয়ে মাঠ ছাড়লে ১০ জনের দলে পরিণত হয় সুইসরা। কিন্তু সেই ১০ জনের সুইস দুর্গ ভাঙতে অতিরিক্ত সময়ের প্রথমার্ধ পর্যন্ত ঘাম ঝরাতে হয় স্কালোনির শিষ্যদের।

 

অবশেষে ১১৪ মিনিটে ২৫ গজ দূর থেকে আলভারেজের সেই অবিশ্বাস্য দূরপাল্লার দূরপাল্লার গোল কানসাস সিটিতে উপস্থিত কোটি আর্জেন্টাইন সমর্থককে ভাসায় চরম আনন্দের বন্যায়। ম্যাচের শেষ বাঁশি বাজার ঠিক আগ মুহূর্তে সুইসদের অল-আউট আক্রমণের সুযোগ নিয়ে পাল্টা আক্রমণে ৩-১ গোলের নিশ্চিত সিলমোহর একে দেন লাওতারো মার্তিনেজ। এই নাটকীয় জয়ে আর্জেন্টিনার বিশ্বকাপ জয়ের স্বপ্নযাত্রা অবিচল রইল এবং কানসাস সিটি থেকে এখন নিউ ইয়র্কের মেটলাইফ স্টেডিয়ামে ইংল্যান্ডকে উড়িয়ে ফাইনালের টিকিট কাটার নতুন মিশনে পা রাখল স্কালোনির শিষ্যরা।

আলভারেজ–মার্তিনেজের গোলে সেমিফাইনালে বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা

খেলা তখন অতিরিক্ত সময়ে গড়িয়েছে। কেপ ভার্দের বিপক্ষে রাউন্ড অব সিক্সটিনে স্নায়ুক্ষয়ী লড়াইয়ে শেষ মুহূর্তের ট্যাকলটা করতে গিয়েই পকেট থেকে রেফারি বের করেছিলেন হলুদ কার্ড। গনজালো মন্টিয়েলের হয়তো তখন কার্ডের কথা ভাবার সময় ছিল না, লক্ষ্য ছিল একটাই—দলকে কোয়ার্টার ফাইনালে তোলা। কিন্তু সেই একটি হলুদ কার্ডই এখন আর্জেন্টিনার এই রাইট-ব্যাকের জন্য রূপ নিয়েছে এক অদৃশ্য খাঁচায়।

 

 

 

কালড় কানসাস সিটির অ্যারোহেড স্টেডিয়ামে সুইজারল্যান্ডের মুখোমুখি হচ্ছে আর্জেন্টিনা। সেমিফাইনালের টিকিট কাটার এই লড়াইয়ে মন্টিয়েল প্রথম একাদশে থাকবেন কি না, তা নিয়ে লিওনেল স্কালোনি শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত ভাববেন।

 

 

 

তবে তিনি খেলুন কিংবা বদলি হিসেবে নামুন—একটা অদৃশ্য সতর্কবার্তা তার মাথার ওপর ঝুলছে। সুইজারল্যান্ডের বিপক্ষে আরেকটি হলুদ কার্ড দেখলেই স্বপ্নভঙ্গের বেদনায় পুড়তে হবে মন্টিয়েলকে। আর্জেন্টিনা যদি সেমিফাইনালে চলেও যায়, নিষেধাজ্ঞার খাঁড়ায় পড়ে সাইডবেঞ্চে বসে থাকতে হবে ২৮ বছর বয়সী এই ডিফেন্ডারকে।

 

 

 

ফিফার নিয়ম অনুযায়ী, নকআউট পর্বের শুরু (শেষ ৩২) থেকে কোয়ার্টার ফাইনাল পর্যন্ত কোনো খেলোয়াড় যদি দুটি ভিন্ন ম্যাচে দুটি হলুদ কার্ড দেখেন, তবে পরবর্তী ম্যাচের জন্য তিনি নিষিদ্ধ হবেন। কোয়ার্টার ফাইনাল শেষ হওয়ার পর এই কার্ডের হিসাব মুছে যায়। সেমিফাইনালে ফ্রেশ কার্ড নিয়ে নামার সুযোগ থাকে।

 

 

 

কিন্তু মন্টিয়েলের সমস্যা হলো, তিনি অলরেডি শেষ ষোলোতেই একটা কার্ড হজম করে বসে আছেন। কোয়ার্টার ফাইনালের বৈতরণী পার হওয়ার ম্যাচে মন্টিয়েলকে তাই খেলতে হবে ‘পায়ে বরফ আর মাথায় বরফ’ বেঁধে।

 

 

 

চলতি বিশ্বকাপে মন্টিয়েলের ভূমিকা আর্জেন্টিনার জন্য বেশ গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। আলজেরিয়ার বিপক্ষে প্রথম ম্যাচে প্রথমার্ধের পরই তাঁকে তুলে নাহুয়েল মোলিনাকে নামিয়েছিলেন স্কালোনি। কিন্তু মিশরের বিপক্ষে ম্যাচে আবার মোলিনার জায়গায় নেমে খানিটা জাদুকরী মুহূর্ত উপহার দেন রিভার প্লেটের এই রাইট-ব্যাক; তাঁর পাস থেকেই এসেছিল লিওনেল মেসির সেই সমতাসূচক গোলটি।

 

 

 

স্কালোনির দলের এখন একমাত্র অগ্রাধিকার সুইজারল্যান্ডকে হারিয়ে সেমিফাইনালে পা রাখা, যেখানে প্রতিপক্ষ হতে পারে নরওয়ে অথবা ইংল্যান্ড। দলের লক্ষ্য অর্জনে মাঠে কেউ গা বাঁচিয়ে খেলবেন না, এটাই স্বাভাবিক। কিন্তু মন্টিয়েল ভালো করেই জানেন তার বর্তমান পরিস্থিতি।

 

 

 

আলবিসেলেস্তেদের রক্ষণভাগ সামলানোর পাশাপাশি তাঁকে সামলাতে হবে নিজের আবেগকেও। অ্যারোহেড স্টেডিয়ামের সবুজ গালিচায় কি মন্টিয়েল পারবেন হলুদ কার্ডের ফাঁদ এড়িয়ে আর্জেন্টিনাকে স্বপ্নের সেমিফাইনালে নিয়ে যেতে? সে উত্তর মাঠের লড়াইয়ের জন্য তোলা থাকুক।

হাত-পা-মাথায় ‘বরফ বেঁধে’ খেলতে হবে মন্টিয়েলকে

শুক্রবার (১০ জুলাই) উত্তর আমেরিকা থেকে দেশে ফেরার পর ভূমধ্যসাগর উপকূলের আলামেইন আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের বাইরে জড়ো হন অসংখ্য সমর্থক। খেলোয়াড় ও কোচিং স্টাফকে স্বাগত জানাতে সেখানে সৃষ্টি হয় উৎসবমুখর পরিবেশ। অধিনায়ক মোহাম্মদ সালাহর ছবি সংবলিত ব্যানারে লেখা ছিল, ‘ধন্যবাদ’।

 

এবারের বিশ্বকাপে ইতিহাস গড়েছে মিশর। চারবারের চেষ্টায় প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপে জয়ের স্বাদ পায় দলটি। পাশাপাশি প্রথমবারের মতো নিশ্চিত করে শেষ ষোলোর টিকিট।

 

বিমানবন্দর থেকে ছাদখোলা বাসে করে নিউ আলামেইন শহর প্রদক্ষিণ করেন খেলোয়াড়রা। সড়কের দুই পাশে দাঁড়িয়ে থাকা হাজারো সমর্থকের উদ্দেশে হাত নেড়ে শুভেচ্ছা জানান তারা। শনিবার দেশটির প্রেসিডেন্ট আবদেল ফাত্তাহ আল-সিসি খেলোয়াড়, কোচিং স্টাফ ও কর্মকর্তাদের রাষ্ট্রীয় সংবর্ধনা দেওয়ার কথা রয়েছে।

 

সমর্থকদের হাতে প্রধান কোচ হোসাম হাসানের বড় বড় ছবিও দেখা যায়, যেগুলোতে ফিলিস্তিনের পতাকা জড়ানো ছিল। বিশ্বকাপ চলাকালে ফিলিস্তিনের প্রতি তার প্রকাশ্য সমর্থনের স্বীকৃতি হিসেবেই এমন আয়োজন করা হয়েছে। টুর্নামেন্টজুড়ে তিনি একাধিকবার মাঠে ফিলিস্তিনের পতাকা বহন করেন এবং সংবাদ সম্মেলনেও ফিলিস্তিনিদের অধিকারের পক্ষে বক্তব্য দেন।

 

শেষ ষোলোয় লিওনেল মেসির আর্জেন্টিনার বিপক্ষে ২-০ গোলে এগিয়ে থেকেও শেষ পর্যন্ত ৩-২ ব্যবধানে হেরে যায় মিশর। ম্যাচের শেষ ১১ মিনিটে টানা তিন গোল হজম করে বিদায় নিতে হলেও বিশ্বকাপে এটিই দেশটির ইতিহাসের সেরা সাফল্য। গ্রুপ পর্বে নিউজিল্যান্ডকে হারানোর পর শেষ ৩২-এ অস্ট্রেলিয়াকে টাইব্রেকারে পরাজিত করে প্রথমবারের মতো শেষ ষোলোয় জায়গা করে নিয়েছিল ফারাওরা।

আর্জেন্টিনার কাছে হেরে বিদায়, মিশর দলকে বরণ করলেন হাজারো সমর্থক

২০২৬ বিশ্বকাপে ফাইনাল ম্যাচ পরিচালনার সুযোগ আছে ইংল্যান্ডের রেফারি মাইকেল অলিভারের সামনে। তবে ইংল্যান্ড কিংবা আর্জেন্টিনা ফাইনালে উঠলে সেই সুযোগ থেকে বঞ্চিত হবেন ৪১ বছর বয়সী এই ইংলিশ রেফারি। এমনকি তার স্বদেশি রেফারি অ্যান্থনি টেলরও আর্জেন্টিনা ফাইনাল খেললে সেই ম্যাচটি পরিচালনার সুযোগ পাবেন না।

 

স্বার্থের সংঘাত এড়াতে এবং নিরপেক্ষতা নিশ্চিত করতে রেফারিদের সাধারণত নিজ দেশের ম্যাচ পরিচালনার দায়িত্ব দেওয়া হয় না। এর পাশাপাশি দীর্ঘদিন ধরে আর্জেন্টিনা এবং ইংল্যান্ডের ম্যাচেও দুই দেশের রেফারিদের দায়িত্ব না দেওয়ার নীতি অনুসরণ করে আসছে ফিফা।

 

এর পেছনে রয়েছে ৪৪ বছর পুরোনো এক রাজনৈতিক ও ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট। ১৯৮২ সালে সংগঠিত ফকল্যান্ডস যুদ্ধের কারণে আর্জেন্টিনা সংশ্লিষ্ট ম্যাচে ইংল্যান্ডের কোনো রেফারিকে কিংবা ইংল্যান্ড সংশ্লিষ্ট ম্যাচে আর্জেন্টিনার কোনো রেফারিকে দায়িত্ব দেয় না বিশ্ব ফুটবলের সর্বোচ্চ নিয়ন্ত্রক সংস্থা।

 

ফকল্যান্ড দ্বীপপুঞ্জ নিয়ে ১৯৮২ সালে যুক্তরাজ্য ও আর্জেন্টিনার মধ্যে যুদ্ধ হয়েছিল। সেই সংঘাতে আর্জেন্টিনার ৬৪৯ জন সামরিক সদস্য নিহত হন। বিষয়টি এখনো দুই দেশের মধ্যে সংবেদনশীল রাজনৈতিক ইস্যু হিসেবে বিবেচিত হয়।

 

এ কারণে আর্জেন্টিনা যদি বিশ্বকাপ ফাইনালে ওঠে তাহলে ইংল্যান্ডের রেফারি হিসেবে মাইকেল অলিভারকে সেই ম্যাচ পরিচালনার দায়িত্ব দেওয়া হবে না। একইভাবে ইংল্যান্ডও ফাইনালে খেললে আর্জেন্টাইন কোনো রেফারিকে দায়িত্ব দেওয়া হয় না।

 

এর আগেও একই কারণে কাতার বিশ্বকাপের ফাইনাল ম্যাচ পরিচালনার সুযোগ হারিয়েছিলেন অ্যান্থনি টেলর। ২০২২ বিশ্বকাপে আর্জেন্টিনা ফাইনালে ওঠায় এই ইংলিশ রেফারি সেই পরিচালনার দায়িত্ব থেকে ছিটকে যান।

 

এবারের বিশ্বকাপে অলিভার ইতোমধ্যে ছয়টি ম্যাচ পরিচালনা করেছেন। আগামী ১১ জুলাই লস অ্যাঞ্জেলসে অনুষ্ঠেয় স্পেন ও বেলজিয়ামের মধ্যকার কোয়ার্টার ফাইনাল ম্যাচটিও তিনি পরিচালনা করবেন। এর মধ্য দিয়ে বিশ্বকাপের ৭টি ম্যাচে রেফারির দায়িত্ব পালনের মাইলফলক স্পর্শ করবেন তিনি, যা কোনো ইংলিশ রেফারির জন্য সর্বোচ্চ।

আর্জেন্টিনা ফাইনালে উঠলেই ‘বদলে যাবে’ রেফারি!

বিশ্বকাপ মানেই আনন্দ আর উন্মাদনা। কথার লড়াই। আর এ যুগে এসে ফেসবুকে মেনশন করে পোস্ট দেওয়া আর কমেন্ট যুদ্ধে নিজের দলকে সবার উঁচুতে রাখার প্রানপণ চেষ্টা চলতেই থাকে। তবে বাংলাদেশে এখানেই থেমে নেই; উন্মাদনার আড়ালে কথা কাটাকাটি, মারামারি ও সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেই চলেছে। এমনকি সংঘর্ষে প্রাণও যাচ্ছে অনেকের। সমর্থকদের বাগ্‌বিতণ্ডা, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পাল্টাপাল্টি মন্তব্য, পতাকা টাঙানো কিংবা খেলা দেখাকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষ—সব মিলিয়ে এবারের বিশ্বকাপে ইতোমধ্যে অন্তত ১২ জনের মৃত্যু হয়েছে। বাংলাদেশ থেকে ১২ হাজার কিলোমিটার (প্রায় ৮,২০০ থেকে ৮,৬০০ মাইল) দূরত্বের এই খেলা নিয়ে দেশের আহতও হয়েছেন শতাধিকের বেশি মানুষ।

 

নিহতদের মধ্যে তিনজন ছুরিকাঘাতে, তিনজন পতাকা টাঙাতে গিয়ে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে, একজন সড়ক দুর্ঘটনায়, একজন ল্যাম্পপোস্ট ভেঙে, একজন স্ট্রোকে, একজন কিশোরদের ফুটবল খেলা নিয়ে সংঘর্ষে এবং সর্বশেষ একজন আর্জেন্টিনা সমর্থকদের আঘাতে প্রাণ হারিয়েছেন।

 

সর্বশেষ গতকাল মঙ্গলবার রাতে কুমিল্লার আদর্শ সদর উপজেলার দুর্গাপুর ইউনিয়নের ধনপুর এলাকায় আর্জেন্টিনা-মিশর ম্যাচকে কেন্দ্র করে সমর্থকদের সংঘর্ষে মো. শরিফুল ইসলাম (৩২) নিহত হন। তিনি মিশরের সমর্থক ছিলেন। অভিযোগ রয়েছে, আর্জেন্টিনা সমর্থক হিসেবে পরিচিত দুই ব্যক্তি তার মাথায় আঘাত করেন। গুরুতর আহত অবস্থায় কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। এ ঘটনায় জড়িতদের গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

 

এ ছাড়া গতকাল মিসরের বিপক্ষে আর্জেন্টিনার নাটকীয় জয়ের পর অতিরিক্ত উচ্ছ্বাস প্রকাশ করতে গিয়ে ঝিনাইদহের শৈলকুপা পৌরসভার বালিয়াডাঙ্গা গ্রামের রসুল উদ্দীন (৪০) নামের এক ভ্যানচালকের মৃত্যু হয়। তিনি এলাকায় আর্জেন্টিনা ও ফুটবল তারকা লিওনেল মেসির একনিষ্ঠ সমর্থক হিসেবে পরিচিত ছিলেন।

 

একই রাতে দেশের বিভিন্ন স্থানে সংঘর্ষ

গতকাল রাতে চট্টগ্রামের মীরসরাইয়ে আর্জেন্টিনা-মিশর ম্যাচ ঘিরে ব্রাজিল ও আর্জেন্টিনা সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষে দুজন আহত হন। গুরুতর আহত ব্রাজিল সমর্থক মাঈনুদ্দিন মিঠুকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। এ ছাড়া গতকাল রাতে টাঙ্গাইলের মাওলানা ভাসানী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়েও একই ম্যাচকে কেন্দ্র করে শিক্ষার্থীদের মধ্যে দফায় দফায় সংঘর্ষ হয়। এতে বিশ্ববিদ্যালয়ের এক সহকারী প্রক্টরসহ অন্তত ১০ জন আহত হন। সংঘর্ষ চলাকালে একাডেমিক ভবনে ভাঙচুরের ঘটনাও ঘটে।

 

যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়েও গতকাল রাতে দুই বিভাগের শিক্ষার্থীদের সংঘর্ষে কয়েকজন আহত হন। ঘটনাস্থলের ভিডিও ধারণ করতে গেলে কয়েকজন সাংবাদিকের ওপর হামলা, হুমকি এবং মোবাইল ফোন ছিনিয়ে নেওয়ার ঘটনা ঘটে। এ ছাড়া ঝিনাইদহের কালীগঞ্জেও গতকাল আর্জেন্টিনা-ব্রাজিল সমর্থকদের সংঘর্ষে মামুন হোসেন (২২) নামে এক যুবক আহত হন।

 

টানা কয়েকদিনের সংঘর্ষ

গত ৬ জুলাই বগুড়ার শিবগঞ্জে ব্রাজিল-আর্জেন্টিনা সমর্থকদের ফেসবুক পোস্টকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষে এইচএসসি পরীক্ষার্থী জয় কুমার ও বিশাল কুমার গুরুতর আহত হন। এর আগে ২৯ জুন চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে বড় পর্দায় ফুটবল ম্যাচ দেখার সময় ধূমপানকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর, এক সহকারী প্রক্টরসহ কয়েকজন শিক্ষার্থী আহত হন।

 

এ ছাড়া গত ২৮ জুন হবিগঞ্জ সদর উপজেলার রাজিউড়া ইউনিয়নের উচাইল স্কুলবাড়ি মাঠে বড় পর্দায় খেলা দেখানোকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের সংঘর্ষে অন্তত ২০ জন আহত হন। গত ২২ জুন জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে বড় পর্দায় খেলা দেখা নিয়ে সংঘর্ষ ও মারধরের ঘটনায় এক শিক্ষার্থীকে বহিষ্কার করে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। এ ছাড়া ১৮ জুন চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডে ফুটবল খেলা নিয়ে তুচ্ছ বিরোধে বিএনপির দুই পক্ষের সংঘর্ষে নারীসহ অন্তত ১০ জন আহত হন।

 

আগের প্রাণহানির ঘটনাগুলো

বিশ্বকাপ শুরুর পর গত ১ জুলাই একই দিনে ঢাকার আদাবর, সিলেটের জকিগঞ্জ ও ঢাকার আশুলিয়ায় তিনটি পৃথক ঘটনায় তিনজন নিহত হন। রাজধানীর আদাবরে বিশ্বকাপ ফুটবল খেলা দেখার সময় বাঁশি বাজানোকে কেন্দ্র করে শুরু হওয়া বিরোধের জেরে দুই পক্ষের সংঘর্ষে আবুল বাশার বাদশা নামে বিএনপির এক নেতা নিহত হন।

 

আশুলিয়ায় ফুটবল ম্যাচ নিয়ে বিরোধের জেরে কিশোর নাহিদ হাসানকে ছুরিকাঘাতে হত্যা করে মাটিচাপা দেওয়া হয়। সিলেটের জকিগঞ্জে ফুটবল খেলার উল্লাসকে কেন্দ্র করে চাচাতো ভাইয়ের ছুরিকাঘাতে নিহত হন আলম আহমদ। এ ছাড়া গত শুক্রবার নড়াইল সদরে কিশোরদের ফুটবল খেলা নিয়ে বিরোধে মোস্তফা কাজী নামে এক বৃদ্ধকে কুপিয়ে ও হাতুড়ি দিয়ে পিটিয়ে হত্যা করা হয়।

 

পতাকা টাঙাতে গিয়ে তিন মৃত্যু

বিশ্বকাপের পতাকা টাঙাতে গিয়ে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে তিনজনের মৃত্যু হয়েছে। ১৯ জুন ময়মনসিংহের গফরগাঁওয়ে ব্রাজিলের পতাকা টাঙাতে গিয়ে মাহিন শেখ নামে এক স্কুলছাত্র মারা যান। ১৫ জুন চট্টগ্রামে আর্জেন্টিনার পতাকা টাঙাতে গিয়ে রামহরি বৈষ্ণবের মৃত্যু হয়। ৯ জুন মানিকগঞ্জ সদরে ব্রাজিলের পতাকা টাঙানোর সময় বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে মারা যান ফয়সাল নামে এক যুবক।

 

আরও কয়েকটি প্রাণহানির ঘটনা

গত ১৩ জুন ভোলায় বিশ্বকাপ উপলক্ষে মোটরসাইকেল শোভাযাত্রায় অংশ নিয়ে সড়ক দুর্ঘটনায় এক যুবকের মৃত্যু হয়। গত শুক্রবার চট্টগ্রাম নগরীর হালিশহরে ল্যাম্পপোস্ট ভেঙে মাহিদুল ইসলাম নামে এক যুবকের মৃত্যু হয়। একই দিন বরগুনার তালতলীতে ফুটবল ম্যাচের অনুশীলনের সময় স্ট্রোক করে মারা যান খোকন কর্মকার।

 

এ ব্যাপারে টাঙ্গাইলের পুলিশ সুপার (এসপি) মুহম্মদ শামসুল আলম সরকার বলেন, খেলাকে খেলা হিসেবেই নেওয়া উচিত। এখানে অতিরঞ্জনের কিছু নেই। সকলের সচেতন করতে সবাইকে এগিয়ে আসতে হবে। সুশীল সমাজের এগিয়ে আসতে হবে। যারা বোঝে না, তাদের বোঝানো দরকার।

 

বিশ্বকাপে সংঘটিত হওয়া সহিংসতা নিয়ে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের শিক্ষক মুহম্মদ আসাদুজ্জামান সাদী দ্য ডেইলি ক্যাম্পাসকে বলেন, এখানে গা ভাসিয়ে দেওয়া যাবে না। ফুটবল বিশ্বকাপকে শুধু বিনোদনের উপকরণ হিসেবেই নিতে হবে। এ খেলা নিয়ে অতিরিক্ত বাড়াবাড়ি ও আবেগতাড়িত হওয়া যাবে না। আবেগ ভালো কিছু বয়ে আনে না। যখন আমরা অতি আবেগ দেখিয়ে পারস্পারিক বিতর্কে জড়াব, তখন সমাজে, বন্ধু বন্ধু, এমনকি কাছের মানুষের সঙ্গে সহিংসতা ঘটছে। সকলকে আবেগ থেকে বেরিয়ে এসে সচেতন হওয়ার আহ্বান জানান তিনি।

উন্মাদনার আড়ালে ট্র্যাজেডি: ১২ হাজার কিলোমিটার দূরের খেলা নিয়ে বাংলাদেশে মৃত্যু ১২

৪৮ দল নিয়ে শুরু হওয়া বিশ্বকাপে এখন টিকে আছে আটটি দল। একদিন বিরতির পর আজ (বৃহস্পতিবার) থেকে ফিফার এই মেগা ইভেন্টের কোয়ার্টার ফাইনাল শুরু হবে। নতুন এই রাউন্ডে নামার আগে দুর্ভাবনায় আছে ৮ দলের অন্তত ১৮ ফুটবলার। কারণ আরেকটি হলুদ কার্ড দেখলেই দল সেমিফাইনালে উঠলে খেলতে পারবেন না তারা।

 

এই তালিকায় আছে আর্জেন্টিনা, ফ্রান্স, স্পেন ও ইংল্যান্ডের মতো অন্যতম ফেভারিট দলগুলোও। তবে কিছুটা বেশি দুশ্চিন্তা করতে হচ্ছে ইংল্যান্ড ও মরক্কোকে। কারণ দুটি দলেরই চারজন করে ফুটবলার নকআউট রাউন্ডে একটি হলুদ কার্ড দেখেছেন। ফলে কোয়ার্টার ফাইনালে বেশ সতর্কতার সঙ্গে খেলতে হবে তাদের। এ ছাড়া সুইজারল্যান্ড ও ফ্রান্সের তিন জন করে এবং স্পেন, বেলজিয়াম, আর্জেন্টিনা ও নরওয়ের একজন করে হলুদ কার্ড দেখেন।

 

এই বিশ্বকাপের আগে অবশ্য হলুদ কার্ডজনিত নিষেধাজ্ঞায় পরিবর্তন এনেছিল ফিফা। কোয়ার্টার ফাইনাল পর্যন্ত পৌঁছাতে একটি দলকে পাঁচটি ম্যাচ খেলতে হয়। ফিফার আগের নিয়ম অনুযায়ী– ওই সময়ের মধ্যে যেকোনো দুটি ম্যাচে হলুদ কার্ড পেলেই পরবর্তী ম্যাচে নিষিদ্ধ হন সংশ্লিষ্ট খেলোয়াড়। ৩২ দলের পরিবর্তে ২০২৬ বিশ্বকাপে অংশগ্রহণ করে ৪৮টি দল। ফলে নকআউট পর্বে একটি বাড়তি রাউন্ড যোগ হয়েছে। ফিফা মনে করছে, বাড়তি এই রাউন্ডের কারণে ফুটবলারদের নিষেধাজ্ঞার ঝুঁকি অনেক বেড়ে যাবে।

 

আগের নিয়মে কোনো পরিবর্তন না আনা হলে সেমিফাইনালের মতো গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে তারকা খেলোয়াড়দের হারানোর আশঙ্কা করে ফিফা। কারণ, সেমিফাইনাল পর্যন্ত পৌঁছাতে এবার খেলোয়াড়দের ছয়টি ম্যাচ খেলতে হচ্ছে। তাই ২০২৬ বিশ্বকাপে চালু হয় নতুন কার্ড নীতি। গ্রুপ পর্বে পাওয়া সব হলুদ কার্ড নকআউট পর্ব শুরুর আগে বাতিল (রিসেট) হয়ে গেছে। এরপর কোয়ার্টার ফাইনাল শেষে আবারও হলুদ কার্ডের হিসাব শুরু হয়।

 

বিশ্বকাপের নিয়ম অনুযায়ী, ভিন্ন দুই ম্যাচে দুটি হলুদ কার্ড পেলে খেলোয়াড়কে স্বয়ংক্রিয়ভাবে এক ম্যাচের জন্য নিষিদ্ধ হতে হয়। ফলে শেষ ৩২ কিংবা শেষ ষোলোর ম্যাচে যারা ইতোমধ্যে একটি হলুদ কার্ড পেয়েছেন তারা আবারও সতর্কবার্তা পেলে, সংশ্লিষ দল সেমিফাইনালে উঠলে তারা ম্যাচটি খেলতে পারবেন না। যেহেতু কোয়ার্টার ফাইনালের পর হলুদ কার্ডের তালিকা আবার নতুন করে শুরু হয়, তাই হলুদ কার্ডের সংখ্যার কারণে কোনো খেলোয়াড় ফাইনালে নিষিদ্ধ হবেন না। কেবল সেমিফাইনালে লাল কার্ড পেলেই ফাইনালে খেলতে পারবেন না তিনি।

 

লাল কার্ড পাওয়া খেলোয়াড় স্বয়ংক্রিয়ভাবে এক ম্যাচের জন্য নিষিদ্ধ হবেন। আবার সহিংস আচরণের ক্ষেত্রে মাত্রা অনুসারে আরও নিষেধাজ্ঞা আরোপ করার অধিকার রাখে ফিফার শৃঙ্খলা কমিটি। প্রসঙ্গত, আজ (৯ জুলাই) থেকে ১২ জুলাই পর্যন্ত কোয়ার্টার ফাইনাল, ১৪-১৫ জুলাই সেমিফাইনাল, ১৮ জুলাই তৃতীয় স্থান নির্ধারণী এবং ১৯ জুলাই অনুষ্ঠিত হবে মেগা আসরের ফাইনাল।

 

নিষেধাজ্ঞার ঝুঁকিতে যে ১৮ ফুটবলার

ইংল্যান্ড : জুড বেলিংহ্যাম, নিকো ও’রাইলি, ডেক্লান রাইস, মার্ক গেয়ি

 

মরক্কো : ইসা দিওপ, আশরাফ হাকিমি, রেদোয়ান হালহাল, বিলাল এল খানুস

 

ফ্রান্স : মানু কোনে, মাইকেল ওলিসে, ব্রাডলি বারকোলা

 

সুইজারল্যান্ড : গ্রানিত জাকা, ডেনিস জাকারিয়া, মিরো মুহাইম

 

আর্জেন্টিনা : গঞ্জালো মন্টিয়েল

 

স্পেন : ফেররান তোরেস

 

বেলজিয়াম : ব্র্যান্ডন মেচেলে

 

নরওয়ে : অ্যা

ন্তোনিও নুসা

 

বিশ্বকাপে নিষেধাজ্ঞার শঙ্কায় আর্জেন্টাইন তারকাসহ ১৮ ফুটবলার

বিস্তারিত....

বিনোদন

আজ ২৫শে বৈশাখ। বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ১৬৫ তম আবির্ভাব দিবস। ১২৬৮ বঙ্গাব্দের ২৫ শে বৈশাখ, কলকাতার জোড়াসাঁকো ঠাকুরবাড়িতে জন্ম বাংলা ভাষা ও সাহিত্যের উৎকর্ষের অন্যতম এই নায়কের। তিনি অনন্য সব সৃষ্টি গল্প, কবিতা, উপন্যাস, ছোটগল্প ও অসংখ্য গানের মধ্য দিয়ে বাংলা সাহিত্য ও সংস্কৃতিকে পৌঁছে দিয়েছেন বিশ্বের কাছে।

 

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের মা সারদাসুন্দরী দেবী এবং বাবা ব্রাহ্ম ধর্মগুরু দেবেন্দ্রনাথ ঠাকুর। তিনি কবিতা লেখা শুরু করেন আট বছর বয়সে। ১৮৯১ সাল থেকে বাবার আদেশে নদিয়া, পাবনা, রাজশাহী ও ওড়িশার জমিদারি তদারকি শুরু করেন। কুষ্টিয়ার শিলাইদহের কুঠিবাড়িতে তিনি দীর্ঘসময় অতিবাহিত করেন। ১৯০১ সালে সপরিবারে চলে আসেন বীরভূমের বোলপুর শহরের উপকণ্ঠে শান্তিনিকেতনে। তার জীবদ্দশায় এবং মৃত্যুর পর প্রকাশিত হয়েছে ৫২টি কাব্যগ্রন্থ, ৩৮টি নাটক, ১৩টি উপন্যাস, ৩৬টি প্রবন্ধ এবং অন্যান্য গদ্য সংকলন। নানা কর্মসূচির মধ্য দিয়ে আজ নোবেল বিজয়ী এই সহিত্য প্রতিভাকে স্মরণ করবে তার অগণিত ভক্ত।

 

বিটিভিতে সকাল ৯টায় থাকছে বিশেষ শিশুতোষ অনুষ্ঠান। সকাল ১০টা ৫ মিনিটে প্রচারিত হবে রবীন্দ্রসংগীতের অনুষ্ঠান ‘গীতবিতান’। সন্ধ্যা ৬টায় থাকছে বিশেষ কবিতা আবৃত্তির অনুষ্ঠান। রাত ৯টায় থাকছে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের গল্প অবলম্বনে নাটক ‘সম্পত্তি সমর্পণ’। রাত ১০টায় সংবাদের পর প্রচারিত হবে বিশেষ রবীন্দ্রসংগীতের অনুষ্ঠান। অনুষ্ঠানে কবির বিভিন্ন পর্যায়ের জনপ্রিয় ৯টি গান পরিবেশন করবেন একঝাঁক রবীন্দ্রসংগীতশিল্পী। রাত ১১টায় প্রচারিত হবে ‘চিত্রাঙ্গদা’।

 

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের সাহিত্যজগৎ ছিল নানা বর্ণ, মানসিকতা ও চেতনায় ভরপুর। তাইতো, নিঃসঙ্গতার প্রতিচ্ছবি চারুলতা, সামাজিক বেড়াজাল ভেঙে আত্মসচেতন হয়ে ওঠা বিনোদিনী কিংবা গোরা উপন্যাসের স্বদেশপ্রেম ও জাতিসত্তার পরিচয়ে জর্জরিত পুরুষের মধ্যে আজও পাঠক খুঁজে ফেরে নিজেদের। বাংলার মাটিতে যেমন তাঁর কদর, তেমনি বিশ্ব দরবারেও সমানভাবে ছড়িয়ে আছে তার দীপ্তি। সাহিত্যে অবদানের জন্য ১৯১৩ সালে নবজাগরণের এই পুরোধাকে ভূষিত করা হয় নোবেল পুরস্কারে। দিনটি উদযাপনে দেশের বিভিন্ন স্থানে আয়োজন করা হয়েছে নানা আয়োজন।

বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ১৬৫তম জন্মজয়ন্তী আজ

প্রতিবেদন: ওমর ফারুক

আজ ৩ মে বিশ্বজুড়ে পালিত হচ্ছে বিশ্ব গণমাধ্যম দিবস। গণমাধ্যমের স্বাধীনতা, দায়বদ্ধতা এবং সাংবাদিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার গুরুত্ব তুলে ধরতেই প্রতি বছর এই দিনটি পালন করা হয়।

১৯৯৩ সালে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদ আনুষ্ঠানিকভাবে ৩ মে-কে বিশ্ব গণমাধ্যম স্বাধীনতা দিবস হিসেবে ঘোষণা করে। এর আগে ১৯৯১ সালে নামিবিয়ার উইন্ডহুকে গৃহীত উইন্ডহুক ঘোষণা-এর মাধ্যমে স্বাধীন ও বহুমুখী গণমাধ্যম প্রতিষ্ঠার আহ্বান জানানো হয়, যা পরবর্তীতে এই দিবস ঘোষণার ভিত্তি তৈরি করে।

বর্তমান সময়ে গণমাধ্যম সমাজের গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে সত্য ও নিরপেক্ষ তথ্য মানুষের কাছে পৌঁছে দিচ্ছে। নানা চ্যালেঞ্জের মধ্যেও সাংবাদিকরা পেশাগত দায়িত্ব পালন করে গণতন্ত্রকে শক্তিশালী করতে অবদান রাখছেন।

বিশ্ব গণমাধ্যম দিবস উপলক্ষে গণ টেলিভিশন-এর পক্ষ থেকে দেশের সকল সাংবাদিক, গণমাধ্যমকর্মী ও দর্শকদের জানানো হয়েছে আন্তরিক শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন। সত্য ও বস্তুনিষ্ঠ সংবাদ পরিবেশনের মাধ্যমে সমাজের কল্যাণে কাজ করে যাওয়ার প্রত্যয় পুনর্ব্যক্ত করেছে প্রতিষ্ঠানটি।

আজ বিশ্ব গণমাধ্যম দিবস

প্রতিবেদনঃ ওমর ফারুক

যারা বিবাহিত, তাদের তুলনায় অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্কদের ক্যানসার হওয়ার ঝুঁকি উল্লেখযোগ্যভাবে বেশি। যুক্তরাষ্ট্রের মায়ামি বিশ্ববিদ্যালয়ের নতুন এক গবেষণায় এমন চমকপ্রদ তথ্য উঠে এসেছে।

পরিসংখ্যান অনুযায়ী, অবিবাহিত পুরুষদের ক্যানসারের ঝুঁকি বিবাহিতদের তুলনায় প্রায় ৭০ শতাংশ বেশি।

গবেষণায় দেখা গেছে, যারা কখনো বিয়ে করেননি, তাদের মধ্যে ক্যানসারে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি তুলনামূলকভাবে বেশি।

 

 

২০১৫ থেকে ২০২২ সালের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের ১২টি অঙ্গরাজ্যের ৪০ লাখের বেশি মানুষের তথ্য বিশ্লেষণ করে এই ফল পাওয়া গেছে। গবেষণায় বলা হয়েছে, প্রায় সব ধরনের প্রধান ক্যানসারের ক্ষেত্রেই অবিবাহিতদের ঝুঁকি বেশি দেখা গেছে।

 

পরিসংখ্যান অনুযায়ী, অবিবাহিত পুরুষদের ক্যানসারের ঝুঁকি বিবাহিতদের তুলনায় প্রায় ৭০ শতাংশ বেশি। নারীদের ক্ষেত্রে এই ঝুঁকি আরও বেশি, প্রায় ৮৫ শতাংশ পর্যন্ত।

 

গবেষণায় আরও দেখা গেছে, অবিবাহিত পুরুষদের মধ্যে মলদ্বারের ক্যানসারের হার বিবাহিতদের তুলনায় প্রায় পাঁচ গুণ বেশি। অন্যদিকে অবিবাহিত নারীদের ক্ষেত্রে জরায়ুমুখের ক্যানসারের হার প্রায় তিন গুণ বেশি।

গবেষকদের মতে, বিয়ে অনেক সময় মানুষের জীবনযাপনকে প্রভাবিত করে। খাদ্যাভ্যাস, স্বাস্থ্যসচেতনতা এবং নিয়মিত চিকিৎসা পরীক্ষার মতো বিষয়গুলো এতে যুক্ত থাকে। ফলে এটি পরোক্ষভাবে স্বাস্থ্যের ওপর প্রভাব ফেলতে পারে।

 

তবে বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করেছেন, এর মানে এই নয় যে বিয়ে করলেই ক্যানসার থেকে সুরক্ষা পাওয়া যাবে। বরং এটি একটি সামাজিক ও আচরণগত ইঙ্গিত মাত্র।

 

গবেষকরা আরও বলেছেন, যারা অবিবাহিত, তাদের উচিত স্বাস্থ্যঝুঁকির বিষয়ে আরও সতর্ক থাকা। নিয়মিত পরীক্ষা করানো এবং স্বাস্থ্যকর জীবনযাপন বজায় রাখে।

 

অবিবাহিতদের ক্যানসারের ঝুঁকি বেশি, বলছে গবেষণা

বিস্তারিত....

মতামত

বিরোধীদলীয় নেতা ও জামায়াত আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, জাতীয় সংসদের সাবেক স্পিকার ব্যারিস্টার জমির উদ্দিন সরকারকে গভীর শ্রদ্ধায় স্মরণ করছি। তিনি পেশাগত জীবনে এবং রাজনীতিবিদ হিসেবে সফল এবং কালারফুল। ব্যক্তি এবং দল হিসেবে আমি এবং আমরা তার ক্লায়েন্ট ছিলাম।

 

রোববার (১২ জুলাই) জাতীয় সংসদে সাবেক স্পিকার ব্যারিস্টার জমির উদ্দিন সরকারকে স্মরণ করে তিনি এসব কথা বলেন।

 

বিরোধীদলীয় নেতা বলেন, বিশেষ করে আমাদের কষ্টের দিনগুলোতে, সেই ওয়ান-ইলেভেন আমলে আইনের যাঁতাকলে যখন আমরা পিষ্ট, তখন প্রায়ই আমরা তার কাছে যেতাম, দ্বারস্থ হতাম। তিনি গুরুত্বপূর্ণ পরামর্শ দিয়েই শুধু আমাদের কাজ সারেননি, বরং আমাদের মজলুম নেতৃবৃন্দের পক্ষে তিনি আদালতে বারবার দাঁড়িয়েছেন।

 

তিনি আরও বলেন, এরকম তো আরও অনেকেই দাঁড়িয়েছেন, কিন্তু তিনি একদিক দিয়ে ভীষণ ব্যতিক্রম ছিলেন। প্রথমবার থেকেই আমরা চেষ্টা করেছি, কৃতজ্ঞতাস্বরূপ তাকে কিছু ফি দেওয়ার। শেষ পর্যন্ত আমরা এই কাজে সফল হইনি।

 

বিরোধীদলীয় নেতা বলেন, তার এই অবদান স্মরণ করে আমার চোখে পানি আসছে। আমরা তার ঋণ পরিশোধ করতে পারবো না। তিনি স্পিকার হিসেবে পার্লামেন্টকে প্রাণবন্ত করে রাখতেন, আর আইনের অঙ্গনে তিনি অনেকের গুরু। তার চলন-বলন, সবকিছুই ছিল শিক্ষণীয়।

ব্যক্তি-দল হিসেবে জমির উদ্দিন সরকারের ক্লায়েন্ট ছিলাম: বিরোধীদলীয় নেতা

আগামীকাল থেকে শুরু হচ্ছে এইচএসসি পরীক্ষা: পরীক্ষার্থীদের অভিনন্দন জানিয়েছেন সাভার থানা বিএনপি সভাপতি সাইফুদ্দিন সাইফুল।

 

রাকিবুল ইসলাম রঞ্জু:

আগামীকাল থেকে শুরু হতে যাওয়া উচ্চ মাধ্যমিক সার্টিফিকেট (এইচএসসি) ও সমমানের পরীক্ষার সকল পরীক্ষার্থীদের আন্তরিক অভিনন্দন, শুভেচ্ছা ও শুভকামনা জানিয়েছেন সাভার থানা বিএনপির সভাপতি ও বিশিষ্ট সমাজসেবক সাইফুদ্দিন সাইফুল।

 

আজ এক শুভেচ্ছা বার্তায় তিনি পরীক্ষার্থীদের উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ ও সাফল্য কামনা করেন।

 

শুভেচ্ছা বার্তায় সাইফুদ্দিন সাইফুল বলেন, “এইচএসসি পরীক্ষা প্রতিটি শিক্ষার্থীর জীবনের একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ধাপ। এটি তাদের ভবিষ্যৎ উচ্চশিক্ষা ও ক্যারিয়ার গড়ার ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করে। আমি আশা করি, আমাদের সাভারসহ সারা দেশের শিক্ষার্থীরা অত্যন্ত ধৈর্য, মেধা ও মনোযোগের সাথে পরীক্ষায় অংশ নিয়ে নিজেদের মেধার সর্বোচ্চ স্বাক্ষর রাখবে।”

 

তিনি আরও বলেন, “শিক্ষার্থীরাই আমাদের আগামী দিনের দেশ গড়ার কারিগর। তাদের এই পথচলায় শিক্ষক ও অভিভাবকদের অবদান অনস্বীকার্য। আমি সকল পরীক্ষার্থীর সুস্বাস্থ্য, দীর্ঘায়ু ও পরীক্ষায় আশানুরূপ সাফল্য কামনা করছি। আল্লাহ যেন তাদের মনের আশা পূরণ করেন এবং তারা যেন দেশ ও জাতির কল্যাণে নিয়োজিত হতে পারে।”

 

একই সাথে তিনি পরীক্ষা সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা, শিক্ষক ও অভিভাবকদের প্রতি পরীক্ষার্থীরা যাতে সুষ্ঠু, সুন্দর ও নকলমুক্ত পরিবেশে পরীক্ষা দিতে পারে, তা নিশ্চিত করার আহ্বান জানান।

এইচএসসি পরীক্ষার্থীদের অভিনন্দন জানিয়েছেন সাভার থানা বিএনপি সভাপতি সাইফুদ্দিন সাইফুল

নাগরিক সমস্যার সমাধানে শুধু সরকারের ওপর নির্ভর না করে সবাইকে দায়িত্বশীল হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান।

 

বুধবার (১ জুলাই) রাজধানীর শেওরাপাড়ায় ডেঙ্গু প্রতিরোধ, পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা ও নাগরিক সমস্যা সমাধান অভিযান শেষে তিনি এ কথা বলেন।

 

জামায়াত আমির বলেন, পানি, গ্যাস ও জলাবদ্ধতার মতো অনেক সমস্যার পেছনে নাগরিকদের অসচেতনতাও দায়ী। নিজের গার্বেজটা ড্রেনে নিয়ে আমরা ফেলে দিই। সরকার তো প্রতিদিন ড্রেন পরিষ্কার করবে না। সরকার পরিষ্কার করে দেবে, নাগরিকদের সেটা রক্ষা করতে হবে।

 

এসময় বর্জ্য ড্রেনে ফেলে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি করা থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানান তিনি।

 

বিদ্যুৎ সংকট নিরসনে সরকার আন্তরিকভাবে কাজ করছে উল্লেখ করে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, সরকার, বিরোধী দল ও সাধারণ মানুষের সম্মিলিত উদ্যোগেই এসব সমস্যার দ্রুত সমাধান সম্ভব। একই সঙ্গে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি উন্নয়নে পুলিশকে সহযোগিতা এবং পরিবার থেকেই সন্তানদের চলাফেরা ও সঙ্গী সম্পর্কে সচেতন থাকার পরামর্শ দেন তিনি। এসময় স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম বলেন, ইতোপূর্বে উনার (ডা. শফিকুর রহমান) মতো দূরদর্শী নেতা সংসদে ছিল কি না, আমার জানা নেই। নিজ এলাকার দায়িত্বও তিনি প্রধানমন্ত্রীর হাতে তুলে দিয়েছেন।

শুধু সরকারের ওপর নির্ভর করবেন না: জামায়াত আমির

ইসলামী ব্যাংক ইসলাম নয়, মির্জা ফখরুল ইসলামও ইসলাম নয়, আবার জামায়াতে ইসলামও ইসলাম নয়। সবকিছুতে এভাবে ইসলামের দোহাই দেওয়া ঠিক নয়’’ বলে মন্তব্য করেছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাউদ্দিন আহমদ।

 

আজ মঙ্গলবার (০৯ জুন) জাতীয় সংসদে বাজেট অধিবেশনে বিরোধীদলের সংসদ সদস্যদের সমালোচনার জবাবে এ মন্তব্য করেন তিনি।

 

ইসলামী ব্যাংকের শীর্ষ পদে সাম্প্রতিক রদবদল, গ্রাহক বিক্ষোভ এবং সাবেক এমডির পদত্যাগ নিয়ে আজ স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাউদ্দিন আহমদের বিরুদ্ধে বক্তব্য দেন বিরোধীদলের এমপিরা।

 

পরে বিরোধীদলকে উদ্দেশ্য করে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘‘চেয়ারম্যান থেকে শুরু করে বোর্ড অব ডিরেক্টরের সবাইকে ব্যাংক কোম্পানি আইন অনুযায়ী বাংলাদেশ ব্যাংক অব্যাহতি দিতে পারে। এ বিষয়ে যদি কোনো প্রশ্ন তুলতে হয়, তবে আইন পরিবর্তন করে আসতে হবে।’’

 

অভিযোগ করে সালাউদ্দিন আহমদ বলেন, ‘ব্যাংকে বিশৃঙ্খলা তৈরির উদ্দেশ্যে একটি মহল পর্দার আড়ালে থেকে ‘‘গ্রাহক’’ সেজে আন্দোলন করাচ্ছে। বিরোধীদল বিরোধীদলের ভূমিকা পালন করুক, তাতে আপত্তি নেই। কিন্তু বারে বারে এভাবে পর্দার আড়ালে ও পর্দার বাইরে প্রচারণা চালিয়ে মানুষকে বিভ্রান্ত করবেন না।’

 

সংসদকে আশ্বস্ত করে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘‘ইসলামী ব্যাংকের বৈধ শেয়ারহোল্ডারদের শেয়ার যথাযথভাবে হস্তান্তর করা হবে। এছাড়া, নাবিল গ্রুপসহ যারা ব্যাংক থেকে টাকা নিয়ে আর ফেরত দেয়নি, তাদের প্রত্যেকের বিরুদ্ধে সুষ্ঠু তদন্ত করা হবে। একই সঙ্গে, বিগত সময়ে নিয়ম না মেনে ব্যাংকটিতে যে ৯ হাজার কর্মীকে চাকরিচ্যুত করা হয়েছিল, সেই বিষয়টিও তদন্তের আওতায় আনা হবে বলে জানান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।’’

 

এর আগে জামায়াতের আমির ডা. শফিকুর রহমানও মন্তব্য করেছিলেন, ‘‘একটি নতুন ষড়যন্ত্রের মাধ্যমে ইসলামী ব্যাংকের চেয়ারম্যান পদে অযোগ্য ব্যক্তিকে বসানো হয়েছে।’’

 

সংসদে প্রশ্নোত্তর পর্বে অংশ নিয়ে বিরোধীদলের উপনেতা আবদুল্লাহ মোহাম্মদ তাহের ইসলামী ব্যাংকের বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে সরকারের তীব্র সমালোচনা করেন। তিনি বলেন, ‘‘বিগত সরকারের আমলে ২৬টি ভুয়া কোম্পানি গঠন করে ইসলামী ব্যাংক থেকে ১ লাখ ২৫ হাজার কোটি টাকা সরিয়ে নিয়েছিল এস আলম গ্রুপ। আর এখন বর্তমান সরকার ব্যাংকটিতে কিছু বিতর্কিত লোককে বসিয়েছে। এর মাধ্যমে জনগণের টাকা পুনরায় লুটপাট হবে, এটা অত্যন্ত পরিষ্কার।’’

 

আবদুল্লাহ মোহাম্মদ তাহের প্রশ্ন তোলেন, ‘‘কোন কারণে একজন দুর্নীতিগ্রস্ত ব্যক্তিকে চেয়ারম্যান করা হলো এবং কোন কারণে আগের এমডিকে পদত্যাগ করতে বাধ্য করা হলো? ইসলামী ব্যাংককে যদি স্বাভাবিক প্রক্রিয়ায় চলতে না দেয়া হয়, তবে দেশে বড় ধরনের বিশৃঙ্খলা তৈরি হবে।’’

ইসলামী ব্যাংক ইসলাম নয়, মির্জা ফখরুলও ইসলাম নয়, জামায়াতও ইসলাম নয়: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

 

সরকারের কোষাগারের টাকায় ঢাকার দুই সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক নির্বাচনী প্রচারণা চালাচ্ছেন বলে অভিযোগ করেছেন এনসিপির মুখপাত্র আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া।

 

আজ মঙ্গলবার (৯ জুন) বিকেলে রাজধানীর নাখালপাড়ার হোসেন আলী উচ্চ বিদ্যালয়ে বৃক্ষ বিতরণ কর্মসূচি শেষে এ অভিযোগ করেন তিনি।

 

এনসিপির মুখপাত্র বলেন, এনসিপির পক্ষ থেকে ৫ দফা দাবি দেওয়া হয়েছে। তারা চেয়ারে বসে নির্বাচন করতে পারবেন না। তারা লাখ লাখ পোস্টার লাগিয়ে নগরকে দূষিত করছেন। আবাসিক এলাকা, এমনকি মেট্রো স্টেশনেও গরুর হাট বসানো হয়েছে। এই অব্যবস্থাপনাই প্রমাণ করে তারা মেয়র হওয়ার যোগ্য নন।

 

আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া বলেন, বিভিন্ন জায়গায় আওয়ামী লীগের (কার্যক্রম নিষিদ্ধ দল) মিছিল হচ্ছে। যা স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ও মন্ত্রণালয়ের ব্যর্থতা, কারণ আওয়ামী লীগের সকল কার্যক্রম নিষিদ্ধ আছে।

 

এদিকে, স্থানীয় নির্বাচনে এনসিপি এককভাবে অংশ নেওয়ার সর্বোচ্চ প্রস্তুতি নিচ্ছে উল্লেখ করে আসিফ মাহমুদ জানান, জোটগতভাবে নির্বাচনে যাবে কি না তা তফসিলের পর দলগুলোর সাথে বসে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

সরকারি টাকায় ভোটের প্রচারণা চালাচ্ছেন ঢাকার দুই সিটি প্রশাসক: আসিফ মাহমুদ

বিস্তারিত....

সারাবাংলা

ফেনীতে ১১ দলীয় জোটের সেমিনার অনুষ্ঠিত

 

ফেনী প্রতিনিধ :রহিম আলী জাবেদ

 

ফেনী, ১৩ জুলাই: ফেনীতে ১১ দলীয় জোটের উদ্যোগে ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থানের চেতনা, গণভোটের রায় বাস্তবায়ন, জুলাই গণহত্যা ও মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচার এবং আমাদের বাস্তবতা’ শীর্ষক সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়েছে।

 

সোমবার (১৩ জুলাই) বিকেলে শহরের গ্র্যান্ড সুলতান কনভেনশন হলে আয়োজিত এ সেমিনারে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় সেক্রেটারি জেনারেল অধ্যাপক মিয়া গোলাম পরওয়ার। সভাপতিত্ব করেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী ফেনী জেলা আমীর ও কেন্দ্রীয় মজলিসে শূরা সদস্য মুফতি আব্দুল হান্নান। প্রধান বক্তা ছিলেন এবি পার্টির কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক ব্যারিস্টার আসাদুজ্জামান ফুয়াদ।

 

ফেনী জেলা জামায়াতের সেক্রেটারি মোহাম্মদ আব্দুর রহিমের সঞ্চালনায় সেমিনারে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় মজলিসে শূরা সদস্য অধ্যাপক লিয়াকত আলী ভূঁইয়া, ঢাকা মহানগর উত্তর জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি ডা. ফখরুদ্দিন মানিক, কেন্দ্রীয় মজলিসে শূরা সদস্য অ্যাডভোকেট এস. এম. কামাল উদ্দিন, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস ফেনী জেলা সভাপতি মাওলানা নাজমুল আলম, এনসিপির সদস্য সচিব শাহ ওয়ালী উল্লাহ মানিক, বিডিপির সেক্রেটারি মোহাম্মদ ইসমাইল, জাগপা ফেনী জেলা সভাপতি মোহাম্মদ সাইফুদ্দিন, ফেনী শহর ছাত্রশিবির সভাপতি শফিকুল ইসলাম এবং ফেনী জেলা ছাত্রশিবির সভাপতি ইমাম হোসেন আরমান।

 

সেমিনারে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন ফেনী জেলা জামায়াতের নায়েবে আমীর অধ্যাপক আবু ইউছুপ। স্বাগত বক্তব্য রাখেন এবি পার্টি ফেনী জেলার সদস্য সচিব ফজলুল হক।

বক্তারা বলেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের চেতনা বাস্তবায়ন, গণভোটের রায়ের প্রতি শ্রদ্ধাশীল থাকা, জুলাই গণহত্যা ও মানবতাবিরোধী অপরাধের সঙ্গে জড়িতদের দ্রুত ও নিরপেক্ষ বিচার নিশ্চিত করা এবং একটি গণতান্ত্রিক, ন্যায়ভিত্তিক ও বৈষম্যহীন বাংলাদেশ গঠনে জাতীয় ঐক্যের বিকল্প নেই। তারা জনগণের প্রত্যাশা বাস্তবায়নে সব গণতান্ত্রিক শক্তিকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার আহ্বান জানান।

ফেনীতে ১১ দলীয় জোটের সেমিনার অনুষ্ঠিত

সাতকানিয়ায় চট্টগ্রাম-১৪ আসনের (চন্দনাইশ ও সাতকানিয়া আংশিক) সংসদ সদস্য জসীম উদ্দীন আহমেদের ত্রাণ বিতরণ অনুষ্ঠানকে কেন্দ্র করে বিএনপির দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এ সময় প্রতিপক্ষকে লক্ষ্য করে তিন রাউন্ড গুলি ছোড়ার অভিযোগও উঠেছে। সংঘর্ষে ৫ জন আহত হয়েছেন। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন, ঘটনার সময় আতঙ্কে ত্রাণ নিতে আসা বন্যাদুর্গতরা প্রাণভয়ে স্থান ত্যাগ করায় ত্রাণ বিতরণ কার্যক্রম বন্ধ হয়ে যায়।

 

শনিবার (১১ জুলাই) বিকালে উপজেলার কালিয়াইশ ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের পূর্ব কাটগড় বিওসি’র মোড় এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

 

আহতরা হলেন- মো. আকতার সওদাগর, মো. ইব্রাহিম, আবদুল আলিম, মোস্তাক ও সেলিম। তাদেরকে বিভিন্ন হাসপাতাল ও স্থানীয়ভাবে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে।

 

জানা যায়, শনিবার বিকালে কালিয়াইশ ইউনিয়নের বন্যা দুর্গতদের মাঝে ত্রাণসামগ্রী বিতরণে আসেন চট্টগ্রাম-১৪ আসনের সংসদ সদস্য জসীম উদ্দীম আহমেদ। তিনি প্রথমে সড়ক ও জনপথ বিভাগের রেষ্ট হাউসের সামনে সারিবদ্ধ মহিলাদের ত্রাণসামগ্রী বিতরণ করেন।

 

একই সময় বিওসি’র মোড় এলাকায় স্থানীয় বিএনপি’র নেতা-কর্মীরা চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়কের পাশে দাঁড়িয়ে এমপিকে স্বাগত জানানোর উদ্দেশ্যে জড়ো হলে আওয়ামী লীগের টিকেটে নির্বাচিত কালিয়াইশ ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান বীর মুক্তিযোদ্ধা হাফেজ আহমদের উপস্থিতিতে কেন্দ্র করে উভয়পক্ষের মধ্যে কথা কাটাকাটি ও সংঘর্ষ হয়।

 

এ সময় পুলিশ সদস্যরা এমপিকে গাড়িতে তুলে দেন এবং তারাসহ কেরানীহাটের দিকে ত্রাণসামগ্রী বিতরণের উদ্দেশ্যে চলে যান। এরপর রুবেল নামে এক ব্যক্তি জসিম ডেকোরেশনের সামনে প্রকাশ্যে একটি ফাঁকা গুলিবর্ষণ করেন। এ সময় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়লে বিওসি’র মোড়ের পূর্বদিকে পাঁচতলা এলাকায় আরও দুই রাউন্ড ফাঁকা গুলিবর্ষণের শব্দ শোনা যায়।

 

উত্তর সাতকানিয়া সাংগঠনিক উপজেলা যুবদলের সংগঠক শাহাদাৎ হোসেন মোস্তাক বলেন, আমরা এমপিকে রিসিভ করে বিওসি’র মোড়ের দিকে আসার সময় কয়েকজন ছেলে কথা কাটাকাটিতে লিপ্ত হন। এর কিছুক্ষণ পর এমপির প্রটোকল রক্তার্থে এক সিকিউরিটি স্থানীয় এক বিএনপি নেতাকে ধাক্কা দেন। পরবর্তীতে এমপি সেখান থেকে চলে যাওয়ার পর আমাদের উপর হামলা করা হয়।

 

কালিয়াইশ ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক আমির হোসেন বলেন, মূলত হাফেজ চেয়ারম্যানের উপস্থিতিকে কেন্দ্র করে ঘটনার সূত্রপাত হয়। পরবর্তীতে এমপি চলে যাওয়ার পর কথা কাটাকাটি ও ধস্তাধস্তির একপর্যায়ে রুবেল নামের এক ছেলে একটি ফাঁকা গুলিবর্ষণ করেন। পরে পাঁচতলা এলাকায়ও দুই রাউন্ড ফাঁকা গুলিবর্ষণ করা হয়।

 

সাতকানিয়া থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর আলম বলেন, ওই সময় আমি এমপির সঙ্গে ছিলাম। দু’পক্ষের মধ্যে কথা কাটাকাটি হলে আমরা সেখান থেকে এমপিসহ পরবর্তী কর্মসূচির উদ্দেশ্যে রওনা হই। এরপর সেখানে পুলিশের একটি টিম পাঠানো হয়। পুরো বিষয়টি আমরা তদন্ত করছি। গুলিবর্ষণের সত্যতা মিললে দোষীদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

এমপির পক্ষে ত্রাণ বিতরণের সময় বিএনপির দুই পক্ষের সংঘর্ষ, ফাঁকা গুলি

চিকিৎসা শেষে সুস্থ হয়ে প্রাকৃতিক আবাসে ফিরে গেছে সুন্দরবনে হরিণ শিকারিদের পাতা ফাঁদে আটকা পড়ে আহত হওয়া সেই বাঘিনী। তাকে গতিবিধি দেখার জন্য সুন্দরবনে আট কিলোমিটারজুড়ে স্থাপন করা হয়েছে ২০টি ক্যামেরা। একটি দল অন্তত এক বছর ধরে বাঘ অবমুক্তকরণ এলাকার চারপাশে বাঘের গতিবিধি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করবে বলে জানান এই কর্মকর্তা।

 

গতকাল রোববার (১২ জুলাই) দুপুরে বাঘিনীকে সুন্দরবন পূর্ব বনবিভাগের আন্ধারমানিক ইকো ট্যুরিজম কেন্দ্রসংলগ্ন বনাঞ্চলে অবমুক্ত করা হয়। বন বিভাগের কর্মকর্তারা আশা করছেন, সুস্থ বাঘিনীটি এখন স্বাভাবিকভাবে সুন্দরবনের প্রাকৃতিক পরিবেশে বিচরণ করতে পারবে।

 

প্রাণী ব্যবস্থাপনা ও প্রকৃতি সংরক্ষণ বিভাগ, খুলনার বিভাগীয় বন কর্মকর্তা (ডিএফও) নির্মল কুমার পাল জানান, বাঘটিকে সুন্দরবনে অবমুক্ত করার জন্য অভিজ্ঞ ও প্রখ্যাত বন্যপ্রাণী চিকিৎসক, বাঘ বিশেষজ্ঞ এবং বন বিভাগের কর্মকর্তাদের সমন্বয়ে চারটি দল গঠন করা হয়। এই দলই বাঘিনীকে সুন্দরবনে ছেড়ে দেয়ার বিষয়টি সার্বিকভাবে তত্ত্বাবধায়ন করেছে।

 

গত ৩ জানুয়ারি সুন্দরবনের শরকির খালসংলগ্ন বনাঞ্চলে হরিণ শিকারিদের পাতা ফাঁদে আটকা পড়ে বাঘিনীটি গুরুতর জখম হয়। পরদিন ৪ জানুয়ারি বন বিভাগের সদস্যরা ট্রাঙ্কুইলাইজার গান ব্যবহার করে বাঘিনীটিকে অচেতন অবস্থায় উদ্ধার করেন। পরে তাকে খুলনায় বন্য প্রাণী ব্যবস্থাপনা ও প্রকৃতি সংরক্ষণ বিভাগের পুনর্বাসনকেন্দ্রে নেয়া হয়।

 

সেখানে ৬ মাসেরও অধিক সময় ধরে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা ও নিবিড় পরিচর্যার মাধ্যমে বাঘিনীটি পুরোপুরি সুস্থ করে তোলা হয়।

সুন্দরবনে ২০ ক্যামেরার নজরদারিতে সেই বাঘিনী

বিস্তারিত....

Top