Gono television | বাংলাদেশ সরকার অনুমোদিত বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেল। - Gono television is the Bangladesh Government Approved 24/7 News Based TV Channel and Most Reliable News Source and Leading 24/7 News Based TV Channel in Bangladesh, It also the Most Popular News Media for Bangaldesh and Bengali Audience worlwide since 2016.

সংবাদ শিরোনামঃ
তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নের দাবিতে নীলফামারীতে ৮ কিলোমিটার এলাকাজুড়ে মানববন্ধন ৩ মাসে যে কাজ হয়েছে, আ.লীগের ১৫ বছরেও হয়নি: মির্জা ফখরুল গ্যালারিতে বসে দেশসেরা খুদে ফুটবলারদের খেলা দেখছেন প্রধানমন্ত্রী চুপ করেন, একেবারে খেয়ে ফেলবো’— সালিশ বৈঠকে এমপি হানজালা শিবগঞ্জ সীমান্তে ২০ জনকে পুশইনের চেষ্টা, ধাওয়া খেলে পালাল বিএসএফ বেনজীরকে ফেরাতে সব ধরনের কাগজপত্র দুবাইয়ে পাঠানো হয়েছে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মেসির সেই ‘ফাউল’ ইস্যুতে ফিফার কাছে নালিশ করল আলজেরিয়া শিক্ষার পাশাপাশি খেলাধুলা ও সৃজনশীল কর্মকাণ্ড গুরুত্বপূর্ণ: প্রধানমন্ত্রী পরিত্যক্ত সেপটিক ট্যাংক থেকে ছাগল উদ্ধার করতে গিয়ে ৪ জনের মৃত্যু হাঁটুপানি মাড়িয়ে স্কুলে যাচ্ছে শিক্ষার্থীরা

নারীর অর্থনৈতিক ক্ষমতায়ন, জলবায়ু সহনশীলতা বৃদ্ধি এবং নারী, শান্তি ও নিরাপত্তা এজেন্ডার বাস্তবায়নে ইউএন উইমেনের আরও ঘনিষ্ঠ ও ফলপ্রসূ সহযোগিতার আহ্বান জানিয়েছে বাংলাদেশ।

 

আজ নিউইয়র্কে জাতিসংঘের আন্ডার-সেক্রেটারি-জেনারেল এবং ইউএন উইমেনের নির্বাহী পরিচালক সিমা বাহাউসের সঙ্গে অনুষ্ঠিত দ্বিপাক্ষিক বৈঠকে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম এ আহ্বান জানান।

 

বৈঠকে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী নারীর ক্ষমতায়নে বাংলাদেশের দীর্ঘমেয়াদি অঙ্গীকারের কথা তুলে ধরেন। তিনি সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার দূরদর্শী উদ্যোগে দেশে নারীদের জন্য অবৈতনিক শিক্ষা প্রবর্তনের বিষয়টি স্মরণ করেন এবং বর্তমান সরকারের অধীনে মেয়েদের জন্য স্নাতকোত্তর পর্যায় পর্যন্ত অবৈতনিক শিক্ষা, প্রজনন ও মানসিক স্বাস্থ্যসেবার সম্প্রসারণসহ নারীর ক্ষমতায়নে গৃহীত বিভিন্ন উদ্যোগের কথা উল্লেখ করেন।

 

ইউএন উইমেনের নির্বাহী পরিচালক সিমা বাহাউস নারীর ক্ষমতায়নে ও লিঙ্গ সমতা প্রতিষ্ঠায় বাংলাদেশের উল্লেখযোগ্য অগ্রগতির প্রশংসা করেন। তিনি জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনের সভাপতি পদে বাংলাদেশের নির্বাচনে অভিনন্দন জানান এবং নারীর ক্ষমতায়ন এবং নারী, শান্তি ও নিরাপত্তা এজেন্ডা বাস্তবায়নে বাংলাদেশ সরকারের সঙ্গে সহযোগিতা আরও জোরদার করার বিষয়ে ইউএন উইমেনের আগ্রহ পুনর্ব্যক্ত করেন।

 

এছাড়াও, তিনি শান্তি প্রতিষ্ঠা ও জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা কার্যক্রমে বাংলাদেশি নারীদের গুরুত্বপূর্ণ অবদানেরও ভূয়সী প্রশংসা করেন।

 

রোহিঙ্গা সংকট প্রসঙ্গে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী রোহিঙ্গা নারী ও কন্যাশিশুদের জন্য মানবিক সহায়তা কর্মসূচিতে অর্থায়নের ঘাটতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন। তিনি রোহিঙ্গা সংকটের টেকসই সমাধানে আন্তর্জাতিক সহযোগিতা অব্যাহত রাখার ওপর গুরুত্বারোপ করে তাদের নিজ দেশ মিয়ানমারে দ্রুত প্রত্যাবর্তনের আহ্বান জানান।

নারীর ক্ষমতায়নে বাংলাদেশ-ইউএন উইমেনের ঘনিষ্ঠ সহযোগিতার অঙ্গীকার

 

তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নের দাবিতে নীলফামারীতে ৮ কিলোমিটার এলাকাজুড়ে মানববন্ধন

 

মাইদুল ইসলাম: (জেলা প্রতিনিধি নীলফামারী)

তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নের দাবিতে নীলফামারীতে মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়েছে। আজ শনিবার (২০ জুন) সকালে তিস্তা মহা পরিকল্পনা বাস্তবায়ন সংগ্রাম কমিটির আয়োজনে এই মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। তিস্তা ব্যারেজের সামনে থেকে শুরু হয়ে ডালিয়া- পাগলাপীর সড়কের প্রায় ৮ কিলোমিটার এলাকা জুড়ে এই মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়ন সংগ্রাম কমিটির অন্যতম সদস্য প্রভাষক ছাদের হোসেনের সঞ্চালনায় মানববন্ধনে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়ন সংগ্রাম কমিটির উপদেষ্টা নীলফামারী-১ আসনের সংসদ সদস্য মাওলানা ওবায়দুল্লাহ সালাফি ও নীলফামারী-৪ আসনের সংসদ সদস্য হাফেজ মোহাম্মদ আব্দুল মুনতাকিম। অন্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন সংগ্রাম কমিটির সদস্য মাওলানা আস্তাজুল ইসলাম, অধ্যাপক আনোয়ারুল ইসলাম, মজিবুর রহমান, মোখলেছার রহমান, মনিরুজ্জামান জুয়েল, আব্দুল কাদিম, অ্যাডভোকেট মামুনুর রশিদ পাটোয়ারী, সাংবাদিক কামরুজ্জামান প্রমুখ। প্রধান অতিথির বক্তব্যে নীলফামারী-১ আসনের সংসদ সদস্য অধ্যক্ষ মাওলানা আব্দুস সাত্তার বলেন বৃহস্পতিবার মন্ত্রী পরিষদের দুইজন সদস্য তিস্তা ব্যারেজ এলাকা পরিদর্শন করেন। কিন্তু অত্যন্ত পরিতাপের বিষয় এর কয়েক ঘণ্টা পর তিস্তায় পানি প্রবাহ বেড়ে যায়। এই বিষয়ে অবশ্যই সংসদে কথা উঠাতে হবে। কি কারনে উজানে ভারী বর্ষণ ছাড়াই তিস্তায় পানি প্রবাহ বাড়ল। এজন্য আন্তর্জাতিক আইনে অবশ্যই মামলা করতে হবে। তা না হলে ভারতকে সামলানো যাবে না। ভারত আমাদের প্রতিবেশী রাষ্ট্র, বন্ধু নয়। তিনি আরো বলেন তিস্তা নদী কয়েকটি জেলার উপর দিয়ে প্রবাহিত। তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়ন হলে প্রায় দুই কোটি লোক উপকৃত হবে। নদী শাসন হবে, নদী সুশৃংখল হবে। তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়ন হলে রংপুর-বগুড়া অঞ্চলের জনপদ উপকৃত হবে। সুতরাং দেশের স্বার্থে, জাতীয় স্বার্থে সর্বপরি বাংলাদেশকে বাঁচাতে হলে তিস্তা মহাপরিকল্পনা অতি দ্রুত বাস্তবায়ন করতে হবে। মানববন্ধনে নীলফামারী জেলার বিভিন্ন শ্রেণী- পেশার বিপুল সংখ্যক মানুষ অংশ নেয়।

তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নের দাবিতে নীলফামারীতে ৮ কিলোমিটার এলাকাজুড়ে মানববন্ধন

স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, আমাদের কাজ শুরু হয়ে গেছে। আপনাদের এলাকায় যত রাস্তাঘাট ও সেতু রয়েছে- ইনশাআল্লাহ, ৫ বছরের মধ্যে সব সম্পন্ন করা হবে। তিন মাসে যে কাজ হয়েছে, আওয়ামী লীগের ১৫ বছরেও তা হয়নি।

 

শনিবার (২০ জুন) বেলা সোয়া ১১টায় মুন্সীগঞ্জের গজারিয়া উপজেলার ভবেরচর গ্রামীণ বাজার উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় নবনির্মিত আধুনিক ভবনের উদ্বোধনকালে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

 

মন্ত্রী বলেন, দেশের অবকাঠামোগত উন্নয়ন ত্বরান্বিত করতে সরকার পরিকল্পিতভাবে কাজ করছে এবং জনগণের প্রত্যাশা অনুযায়ী উন্নয়ন কার্যক্রম বাস্তবায়ন করা হবে।

 

জানা যায়, বাংলাদেশ সরকারের (জিওবি) অর্থায়নে দেশব্যাপী গ্রামীণ বাজার উন্নয়ন প্রকল্পের অংশ হিসেবে ভবেরচর গ্রামীণ বাজারে ২০২৪ সালের ১ জুলাই নির্মাণকাজ শুরু হয়। প্রায় ২ কোটি ৩৫ লাখ ৮৬ হাজার ৪৮০ টাকা ব্যয়ে নির্মিত আধুনিক এ মার্কেট ভবনের কাজ বাস্তবায়ন করে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি), মুন্সীগঞ্জ। নির্মাণকাজ সম্পন্ন করে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান স্বপ্না কনস্ট্রাকশন লিমিটেড।

 

অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন, মুন্সীগঞ্জ-৩ আসনের সংসদ সদস্য মো. কামরুজ্জামান রতন, সিলেট-২ আসনের সংসদ সদস্য তাহসিনা রুশদীর লুনা, প্রধান প্রকৌশলী মো. বেলাল হোসেন, জেলা প্রশাসক সৈয়দা নূরমহল আশরাফী, পুলিশ সুপার মেনহাজুল আলম এবং গজারিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) উম্মে হাফছা নাদিয়াসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।

 

পরে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর গজারিয়া উপজেলার ব্র্যাক অফিস থেকে ইমামপুর ইউনিয়ন পরিষদের (ইউনুস শিকদার) সড়কের ২০০০ মিটার পর্যন্ত পুনর্বাসন ও উন্নয়ন কাজের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন। এছাড়া তিনি রসুলপুর বাজার এলাকায় ফুলদী নদীর ওপর সেতু নির্মাণের স্থান পরিদর্শন করেন।

৩ মাসে যে কাজ হয়েছে, আ.লীগের ১৫ বছরেও হয়নি: মির্জা ফখরুল

দেশের প্রাথমিক শিক্ষার সবচেয়ে বড় ক্রীড়া প্রতিযোগিতা ‘প্রাথমিক বিদ্যালয় গোল্ডকাপ ফুটবল টুর্নামেন্ট (বালক-বালিকা)’-এর চূড়ান্ত পর্ব অনুষ্ঠিত হচ্ছে। দেশসেরা খুদে ফুটবলারদের এই ফাইনাল ম্যাচ ও তাদের নৈপুণ্য গ্যালারিতে বসে সরাসরি উপভোগ করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

 

আজ শনিবার (২০ জুন) বিকেল চারটার দিকে প্রধানমন্ত্রী স্টেডিয়ামে পৌঁছেন। পরে তিনি খুদে শিক্ষার্থীদের নিয়ে জাতীয় পতাকা উত্তোলন করেন।

 

সারা দেশের ৬৫ হাজারের বেশি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় থেকে ধাপে ধাপে বাছাই শেষে মোট চারটি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা এই টুর্নামেন্টের ফাইনালে খেলার গৌরব অর্জন করেছে।

 

টুর্নামেন্টের বালিকা ও বালক বিভাগের শিরোপা নির্ধারণী ম্যাচে বালিকা বিভাগের ফাইনালে মুখোমুখি হয় ময়মনসিংহের নান্দাইল উপজেলার আচারগাও সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও পাবনার সাঁথিয়া উপজেলার জোরগাছা ইউনাইটেড সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়।

 

অন্যদিকে প্রধানমন্ত্রী আসার আগে বালক বিভাগের শিরোপা নির্ধারণী ম্যাচে মুখোমুখি হয় ময়মনসিংহের ত্রিশাল উপজেলার দরিরামপুর মডেল সরকারি মডেল প্রাথমিক বিদ্যালয় ও বরিশালের বাকেরগঞ্জ উপজেলার দাড়িয়াল মিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়। এই খেলায় দরিরামপুর মডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়কে ১-০ গোলে হারিয়ে ইতিমধ্যে চ্যাম্পিয়ন হয়েছে দাড়িয়াল মিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়।

 

২২ লাখ শিক্ষার্থীর মহাযজ্ঞ

 

গত বৃহস্পতিবার আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা ও প্রাথমিক ও গণশিক্ষা উপদেষ্টা মাহদী আমিন টুর্নামেন্টের বিস্তারিত তথ্য তুলে ধরেন।

 

তিনি জানান, গত ৬ এপ্রিল শুরু হওয়া এই বিশাল প্রতিযোগিতায় দেশের ৬৫ হাজার ৩৪২টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় থেকে ১১ লাখের বেশি ছাত্র ও ১১ লাখের বেশি ছাত্রী অংশ নিয়েছে।

 

তিনি আরও জানান, একেবারে গ্রাম পর্যায় থেকে শুরু করে ইউনিয়ন, উপজেলা, জেলা ও বিভাগীয় ধাপ পেরিয়ে দীর্ঘ লড়াই শেষে সেরা দলগুলো ঢাকায় চূড়ান্ত পর্বে জায়গা করে নিয়েছে। তৃণমূল পর্যায় থেকে ফুটবল প্রতিভা খুঁজে বের করার এ উদ্যোগ ভবিষ্যতে আরও বড় পরিসরে আয়োজন করা হবে। আগামী আসরে অন্তত ৫০ লাখ শিক্ষার্থীর অংশগ্রহণ নিশ্চিত করার লক্ষ্য রয়েছে।

গ্যালারিতে বসে দেশসেরা খুদে ফুটবলারদের খেলা দেখছেন প্রধানমন্ত্রী

সম্প্রতি ভাইরাল হওয়া প্রায় এক মিনিটের ভিডিওতে মাদারীপুর-১ আসনে বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস থেকে নির্বাচিত সংসদ সদস্য পীরজাদা সাইদ উদ্দিন আহমদ হানজালা এমপিকে বলতে শোনা যায়, ‘কথা বললেন কেন? আপনারা এখানে কাউন্টার দিলেন কেন?’ একপর্যায়ে তিনি টেবিল চাপড়ে বলেন, ‘এই মিয়া চুপ করেন, একেবারে খেয়ে ফেলবো। চুপ করেন। আমি আসছি বিচার করার জন্য। কাউন্টার দিলে আমি দিবো।’

 

মাদারীপুরের শিবচর উপজেলায় একটি সালিশ বৈঠকে তার উত্তেজিত আচরণের একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। ভিডিওতে তাকে টেবিল চাপড়ে উপস্থিত এক বিএনপি কর্মীসহ কয়েকজনকে ধমক দিতে দেখা যায়। এ নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ঘটনাটি এক থেকে দেড় মাস আগের। শিবচর উপজেলার দত্তপাড়া ইউনিয়নের চর বাচামারা মৌলভীকান্দি গ্রামে একটি মারামারির ঘটনাকে কেন্দ্র করে সালিশ বৈঠকের আয়োজন করা হয়। বৈঠকে বিএনপি কর্মী তারামিয়াসহ উভয় পক্ষের লোকজন উপস্থিত ছিলেন।

 

সংশ্লিষ্টদের দাবি, সালিশ চলাকালে এক পক্ষকে এক লাখ টাকা জরিমানা করার সিদ্ধান্ত ঘোষণা করা হলে উপস্থিত লোকজনের মধ্যে আলোচনা ও তর্ক-বিতর্ক শুরু হয়। এ সময় পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠলে সংসদ সদস্য হানজালা ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া জানান।

সালিশে উপস্থিত বিএনপি কর্মী তারা মিয়া বলেন, ‘বিচার চলাকালে আমার সঙ্গে কথা-কাটাকাটি হয়। আমার মনে হয়েছে, এমপি সাহেব অন্যদের কথা শোনার সুযোগ না দিয়ে একতরফাভাবে সিদ্ধান্ত দিতে চাচ্ছিলেন। আমি এর প্রতিবাদ করলে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। পরে এক লাখ টাকা জরিমানাও করা হয়। যাকে জরিমানা করা হয়েছে, তিনি একজন দরিদ্র মানুষ। তার পক্ষে এত টাকা দেওয়া কঠিন।’

 

তারা মিয়া আরও বলেন, ‘যেখানে শত শত মানুষের উপস্থিতিতে সালিশ অনুষ্ঠিত হয়, সেখানে পক্ষে-বিপক্ষে নানা মতামত আসতেই পারে। একজন বিচারকের দায়িত্ব হলো ধৈর্যের সঙ্গে সেসব কথা শোনা। অন্যথায় সেটি জনসম্মুখের সালিশ না হয়ে একতরফা সিদ্ধান্তে পরিণত হয়।’

 

স্থানীয়রা জানান, বৈঠকে উত্তেজনাকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হলে এমপি হানজালা মেজাজ হারিয়ে ফেলেন। এ সময় উপস্থিত একজন মোবাইল ফোনে ভিডিও ধারণ করছিলেন। পরে ভিডিও ধারণ বন্ধ করার নির্দেশ দেওয়া হলে রেকর্ডিংটি সেখানেই শেষ হয়।

 

ভিডিওটি সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর বিষয়টি নিয়ে রাজনৈতিক ও সামাজিক অঙ্গনে নানা প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে।

 

তবে অভিযোগের বিষয়ে সংসদ সদস্য পীরজাদা সাইদ উদ্দিন আহমদ হানজালা বলেন, ‘ঘটনাটি এক থেকে দেড় মাস আগের। এলাকার মানুষ আমাকে ছাড়া সালিশে বসতে চায়নি, তাই আমি সেখানে গিয়েছিলাম। সালিশের সময় উভয় পক্ষ তর্কে জড়িয়ে পড়ে এবং বারবার কথা কাটাকাটি করছিল। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতেই আমি ধমক দিয়েছি। তবে শেষ পর্যন্ত বিচার কাজ সুন্দরভাবেই সম্পন্ন হয়েছে।’

 

প্রসঙ্গত, মাওলানা মামুনুল হকের দল বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস থেকে ১১ দলের প্রার্থী হিসেবে অল্প ভোটের ব্যবধানে প্রথমবারের মতো সংসদ সদস্য হন পীরজাদা হানজালা। এর আগেও তিনি ‘খোঁচাখুঁচি করলে বিএনপি দেশে থাকতে পারবে না’ বক্তব্য দিয়ে ব্যাপক সমালোচিত হন। পরে অবশ্য তিনি এর জন্য দুঃখ প্রকাশ করেন

চুপ করেন, একেবারে খেয়ে ফেলবো’— সালিশ বৈঠকে এমপি হানজালা

চাঁপাইনবাবগঞ্জের শিবগঞ্জ উপজেলার চৌকা সীমান্তে দিয়ে বিএসএফ নারী ও শিশুসহ ২০ জনকে জোরপূর্বক বাংলাদেশে পুশইন করার চেষ্টা করলে তা প্রতিহত করেছে বিজিবি ও স্থানীয় গ্রামবাসী। এ সময় বিএসএফ ও বিজিবির মধ্যে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। পরে বিক্ষুব্ধ জনতার ধাওয়া খেলে পালাতে বাধ্য হয় বিএসএফ সদস্যরা।

 

শনিবার (২০ জুন) ভোরে উপজেলার বিনোদপুর ইউনিয়নের চৌকা সীমান্তে ১৭৭/২এস পিলার এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

 

স্থানীয় ও বিজিবি সূত্রে জানা যায়, শনিবার সকালে চৌকা সীমান্ত এলাকা দিয়ে ৪ শিশু, ১১ নারী ও ৫ পুরুষসহ মোট ২০ জনকে জোর করে বাংলাদেশের অভ্যন্তরে পাঠানোর চেষ্টা চালায় বিএসএফ। বিষয়টি টের পেয়ে বিজিবির টহল দল দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে বাধা দেয়।

 

চৌকা বিওপির হাবিরদার আশরাফ আলি জানান, পুশইন ঘটনার টের পেয়ে আমরা প্রতিরোধ করি। এসময় স্থানীয় বাসিন্দারাও আমাদের সঙ্গে যোগ দেয়। শেষ সংবাদ পাওয়া পর্যন্ত সকাল ৯টার দিকে ২০/২৫জন বিএসএফ আবারও তাদেরকে পুশইন করার চেষ্টা করলে বিজিবি ও বিএসএফের মধ্যে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। তখন স্থানীয়র তাদেরকে ধাওয়া করলে পালাতে বাধ্য হয় বিএসএফ সদস্যরা।

 

বিজিবির অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম চৌধুরী বলেন, ‘বিজিবি টহল দলের তৎপরতায় ২০ জনকে পুশ ইন করার চেষ্টা প্রতিহত করা সম্ভব হয়েছে। তারা বর্তমানে শূন্যরেখায় অবস্থান করছে। আমরা সীমান্তে যাচ্ছি, বিস্তারিত পরে জানানো হবে।’

শিবগঞ্জ সীমান্তে ২০ জনকে পুশইনের চেষ্টা, ধাওয়া খেলে পালাল বিএসএফ

দুবাইয়ে আটক পুলিশের সাবেক মহাপরিদর্শক (আইজি) বেনজীর আহমেদকে ফিরিয়ে আনতে সব ধরনের কাগজপত্র দুবাই পুলিশকে পাঠানো হয়েছে বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। তিনি বলেন, ‘‘আশা করছি যথাযথ প্রক্রিয়া শেষ করে দ্রুতই দুবাই সরকার বেনজির আহমেদকে ফিরিয়ে দেবে।’’

 

আজ শনিবার (২০ জুন) আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় কৃতিত্বপূর্ণ ও প্রশংসনীয় কাজের স্বীকৃতি হিসেবে সচিবালয়ে ১৫ পুলিশ সদস্যদের পুরস্কার অনুষ্ঠান শেষে প্রশ্নের জবাবে এ কথা বলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।

 

আগের যেকোনো সরকারের চেয়ে বর্তমান সরকার দ্রুত গতিতে কাজ করছে উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, ‘‘দুবাই সরকার বেনজিরের বিষয় কাগজপত্র চেয়ে আবেদন করার পরদিনই সব নথি পাঠানো হয়েছে। ১৪৪ পাতার কাগজ পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে দুবাই সরকারের কাছে চলে গেছে।’’

 

তিনি বলেন, ‘‘অপরাধীদের ফিরিয়ে আনতে দুবাইয়ের সঙ্গে সরকারের একটি মিউচুয়াল চুক্তি রয়েছে। সে চুক্তির মাধ্যমে গতমাসেও দুজন অপরাধীকে ফিরিয়ে আনা হয়েছে। তাই বেনজিরকে ফিরিয়ে আনতে কোনো ধরনের আইনি বাধা হবে না।’’

 

‘‘২৩ জুনকে কেন্দ্র করে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ অরাজকতা সৃষ্টি হতে পারে। এটি একটি দল নয়, এটি মাফিয়া বাহিনী। সেজন্য পুলিশ সদরদপ্তরকে অ্যালার্ট করা হয়েছে’’, বলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।

 

তিনি বলেন, ‘‘৫ আগস্ট পরবর্তী সময় পুলিশ যেভাবে আত্মবিশ্বাস হারিয়ে ফেলেছিল নির্বাচিত সরকার আসার পর সেই আত্মবিশ্বাস ফিরে পেয়েছে। পুলিশের কাজের গতি বেড়েছে।’’

বেনজীরকে ফেরাতে সব ধরনের কাগজপত্র দুবাইয়ে পাঠানো হয়েছে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

জয় দিয়ে এবারের বিশ্বকাপ মিশন শুরু করেছে আর্জেন্টিনা। লিওনেল মেসির হ্যাটট্রিকে আলজেরিয়াকে ৩-০ গোলে হারিয়ে দারুণ সূচনা করেছে বর্তমান চ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা। তবে ম্যাচের একটি ঘটনা নিয়ে বিতর্ক তৈরি হয়েছে, যা নিয়ে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ জানিয়েছে আলজেরিয়া ফুটবল কর্তৃপক্ষ।

 

আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, আলজেরিয়া ফিফার রেফারিং কমিশনের কাছে একটি অভিযোগপত্র জমা দিয়েছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন আর্জেন্টিনা অধিনায়ক মেসি।আলজেরিয়ার দাবি, ম্যাচের প্রথমার্ধে তাদের অধিনায়ক আইসা মান্দির সঙ্গে বলের লড়াইয়ে মেসির একটি ট্যাকল ছিল বিপজ্জনক। অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে, ওই ঘটনায় মান্দির পায়ের পেছনের অংশে আঘাত লাগে। তাদের মতে, ঘটনাটি আরও গভীরভাবে পর্যালোচনার প্রয়োজন ছিল।

 

ম্যাচে আর্জেন্টিনা এগিয়ে যাওয়ার কিছুক্ষণ পরই বিতর্কিত ঘটনাটি ঘটে। তবে রেফারি খেলা চালিয়ে যাওয়ার নির্দেশ দেন এবং মাঠে তাৎক্ষণিক কোনো শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।কানসাস সিটিতে অনুষ্ঠিত ম্যাচটি পরিচালনা করেন পোল্যান্ডের অভিজ্ঞ রেফারি শিমন মারচিনিয়াক। তিনি এর আগে ২০২২ সালের বিশ্বকাপ ফাইনালেও দায়িত্ব পালন করেছিলেন। আলজেরিয়ার অভিযোগ মূলত রেফারিং সিদ্ধান্ত এবং ঘটনাটির মূল্যায়নকে কেন্দ্র করেই করা হয়েছে।

 

অন্যদিকে ম্যাচে নিজের পারফরম্যান্স দিয়ে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে ছিলেন মেসি। তিনটি গোল করে তিনি দলকে বড় জয় উপহার দেন। একই সঙ্গে বিশ্বকাপ ইতিহাসে নিজের গোলসংখ্যা ১৬-তে নিয়ে গিয়ে জার্মান কিংবদন্তি মিরোস্লাভ ক্লোসার একটি উল্লেখযোগ্য রেকর্ডের সমতায় পৌঁছান।

মেসির সেই ‘ফাউল’ ইস্যুতে ফিফার কাছে নালিশ করল আলজেরিয়া

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, জাতি গঠনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিনিয়োগ হলো শিশুদের শিক্ষা ও স্বাস্থ্যে বিনিয়োগ। একটি আত্মবিশ্বাসী, দক্ষ ও মানবিক প্রজন্ম গড়ে তোলার জন্য পাঠ্য বিষয় শিক্ষার পাশাপাশি খেলাধুলা, সংস্কৃতি ও সৃজনশীল কর্মকাণ্ড গুরুত্বপূর্ণ। প্রাথমিক বিদ্যালয় গোল্ডকাপ ফুটবল টুর্নামেন্ট (বালক-বালিকা) ২০২৬’ অনুষ্ঠিত হচ্ছে। এটি অবশ্যই ইতিবাচক উদ্যোগ।

 

আজ শনিবার (২০ জুন) অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া ‘প্রাথমিক বিদ্যালয় গোল্ডকাপ ফুটবল টুর্নামেন্ট (বালক-বালিকা) ২০২৬’ উপলক্ষ্যে দেওয়া এক বাণীতে এসব কথা বলেন তিনি।

 

প্রধানমন্ত্রী বলেন, সরকার ‘সবার আগে বাংলাদেশ’ শীর্ষক নির্বাচনি ইশতেহার বাস্তবায়নের অংশ হিসেবে শিক্ষাখাতের আধুনিকায়ন ও পরিমার্জন এবং সময়োপযোগী করে তুলতে কাজ করছে। সেজন্য পাঠ্যক্রমে খেলাধুলাও অন্তর্ভুক্ত করার প্রক্রিয়া চলছে। চতুর্থ শ্রেণি থেকে উচ্চমাধ্যমিক পর্যন্ত পর্যায়ক্রমে ফুটবল, ক্রিকেট, দাবা, কারাতে ও সাঁতার এসব খেলা পাঠ্যক্রমে অন্তর্ভুক্ত করার উদ্যোগ গ্রহণ করা হচ্ছে।

 

প্রধানমন্ত্রী বলেন, শুধু তাত্ত্বিক নয়, ব্যবহারিক ক্লাস ও মূল্যায়নের মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের এই ক্রীড়া কার্যক্রমে অংশ নিতে হবে। আমার বিশ্বাস, এর ফলে মাদকাসক্তি, মোবাইল ফোন আসক্তির মতো সামাজিক সমস্যা রুখে দিতে সহায়ক হবে।

 

তিনি বলেন, ইতোমধ্যে সরকার ‘প্রাথমিক বিদ্যালয় গোল্ডকাপ ফুটবল টুর্নামেন্ট (বালক-বালিকা) ২০২৬’ নীতিমালা প্রণয়ন করেছে। নীতিমালা অনুযায়ী, এ টুর্নামেন্টে দেশের সব সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় অর্থাৎ ৬৫ হাজার ৫৬৯টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মোট ৯৯ লাখ ৪৮ হাজার ৯৫৬ জন বালক ও বালিকা (বালক-৪৬ লাখ ৯১ হাজার ৯৯৬ জন, বালিকা-৫২ লাখ ৫৬ হাজার ৯৬০ জন) উভয় খেলায় অংশগ্রহণের সুযোগ পেয়েছে। এ টুর্নামেন্টে বালক ও বালিকা দল সমান সুযোগ নিয়ে অংশগ্রহণ করেছে। এ বছর সারা দেশে বালক ও বালিকা দল মিলিয়ে মোট ১ লাখ ২৩ হাজার ৯৭৪টি খেলা অনুষ্ঠিত হয়েছে। প্রাথমিক বিদ্যালয় গোল্ডকাপ ফুটবল টুর্নামেন্ট কলেবর বিবেচনায় বিশ্বের সবচেয়ে বড় ফুটবল টুর্নামেন্ট হিসেবে বিবেচিত।

 

প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, বর্তমান সরকার শিক্ষার্থীদের শারীরিক ও মানসিক বিকাশের সঙ্গে মনন বিকাশে লেখাপড়ার পাশাপাশি খেলাধুলা ও সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডে অংশগ্রহণে গুরুত্বারোপ করছে। এর ফলে দেশে ও আন্তর্জাতিক আয়োজনে আমাদের ছেলেমেয়েরা খেলাধুলায়, বিশেষ করে ফুটবলে, সাফল্য অর্জন করছে। আমি বিশ্বাস করি, এই টুর্নামেন্টে অংশগ্রহণকারীরা হবে আমাদের আগামীর উজ্জ্বল মুখ, যারা দেশকে আন্তর্জাতিক পরিসরে নতুনভাবে আলোকিত করবে। আমি ‘প্রাথমিক বিদ্যালয় গোল্ডকাপ ফুটবল টুর্নামেন্ট (বালক-বালিকা) ২০২৬’-এর সর্বাঙ্গীণ সাফল্য কামনা করি।

শিক্ষার পাশাপাশি খেলাধুলা ও সৃজনশীল কর্মকাণ্ড গুরুত্বপূর্ণ: প্রধানমন্ত্রী

টাঙ্গাইলের মধুপুরে ছাগল উদ্ধার করতে গিয়ে পরিত্যক্ত সেপটিক ট্যাংকে নেমে বাবা-ছেলেসহ চার জনের মৃত্যু হয়েছে।

 

শনিবার (২০ জুন) সকাল সাড়ে ৮টার দিকে উপজেলার টেলকি এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে। মধুপুর থানার ওসি এ.কে এম ফজলুর হক ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।

 

নিহতরা হলেন- বাবা বাবুল হাদিমা(৪৮), তার ছেলে নেইমার, বাবুল হাদিমার শ্যালক রতন নকরেক(২৬) ও বোন জামাই গাব্রিয়েল সাংমা (৪২)।

 

পুলিশ ও স্থানীয়রা জানান, শনিবার সকালে বাবুল হাদিমার একটি ছাগল বাড়ির নিকটস্থ একটি পরিত্যক্ত সেপটিক ট্যাংকে পড়ে যায়। ছাগলটি উদ্ধারের জন্য বাবুল হাদিমার ছেলে নেইমার সেপটিক ট্যাংকে নামে। কিন্তু তার কোনো সাড়া শব্দ না পেয়ে তার মামা রতন সাংমা সেপটিক ট্যাংকে নামেন। একইভাবে গ্রাবিয়াল এবং শেষে রতন।

 

একে একে সেপটিক ট্যাংকে নামা চারজনের কারও কোনো সাড়া না পেয়ে স্থানীয়রা ডাকাডাকি শুরু করে। পরে আশপাশের লোকজন ছুটে আসেন। এ সময় স্থানীয়রা ফায়ার সার্ভিসকে খবর দিলে ঘটনার প্রায় দুই ঘন্টা পর সেপটিক ট্যাংক থেকে তাদেরকে মৃত অবস্থায় উদ্ধার করা হয়।

 

মধুপুর থানার ওসি এ.কে এম ফজলুর হক জানান, পুরোনো সেপটিক ট্যাংকটিতে ময়লা-আবর্জনা ফেলায় সেখানে গ্যাসের সৃষ্টি হয়ে এ মর্মান্তিক ঘটনায় ঘটে। পরিবারের আবেদনে ময়নাতদন্ত ছাড়াই মরদেহ স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।

পরিত্যক্ত সেপটিক ট্যাংক থেকে ছাগল উদ্ধার করতে গিয়ে ৪ জনের মৃত্যু

ময়মনসিংহের হালুয়াঘাট উপজেলার ধুরাইল ইউনিয়নের পশ্চিম রামনগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সামনের সড়কে জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয় বর্ষায়। ফলে হাঁটুসমান পানি মাড়িয়ে বিদ্যালয়ে যেতে বাধ্য হয় কোমলমতি শিক্ষার্থীরা। চরম দুর্ভোগে পড়েছেন শিক্ষার্থী ও তাদের অভিভাবকরা।

 

সড়কটি জলে টইটুম্বুর থাকায় স্কুল ব্যাগ কাঁধে নিয়ে শিশুরা ঝুঁকি নিয়ে পানির মধ্য দিয়ে বিদ্যালয়ে যাতায়াত করে। অনেক স্থানে রাস্তার অস্তিত্বও বোঝা যায় না, যা দুর্ঘটনার আশঙ্কা বাড়িয়ে তুলেছে।

 

বিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, ১৯৩৮ সালে প্রতিষ্ঠিত পশ্চিম রামনগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়টি দীর্ঘ ৮৮ বছর ধরে এলাকায় শিক্ষার আলো ছড়িয়ে আসছে। ধুরাইল বাজার থেকে প্রায় আট কিলোমিটার দূরে চরগোরকপুর বাজারের দক্ষিণ পাশে বিদ্যালয়টির অবস্থান। তবে প্রতিষ্ঠার পর থেকে এখন পর্যন্ত বিদ্যালয়ের প্রধান সংযোগ সড়কটি পাকা হয়নি।বিদ্যালয়টিতে বর্তমানে ১৯৭ জন শিক্ষার্থী অধ্যয়ন করছে। আশপাশের কয়েকটি গ্রামের শিক্ষার্থীরা প্রতিদিন এ বিদ্যালয়ে যাতায়াত করে।

 

এলাকাবাসীর অভিযোগ, নির্বাচনের সময় বিদ্যালয়টি গুরুত্বপূর্ণ ভোটকেন্দ্র হিসেবে ব্যবহার করা হলেও সড়ক উন্নয়নে কার্যকর কোনো উদ্যোগ নেওয়া হয়নি।

 

অভিভাবক আব্দুল মান্নান বলেন, ‘আজ বাচ্চাকে কাঁধে করে স্কুলে নিয়ে এসেছি। সামান্য বৃষ্টিতেই রাস্তা পানিতে ডুবে যায়। মাত্র ৫০০ মিটার রাস্তার কারণে বছরের পর বছর আমাদের এই দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে।’

 

স্থানীয় বাসিন্দা রহিমা খাতুন ও মো. রাকিবুল ইসলাম বলেন, সামান্য বৃষ্টিতেই এই সড়কে পানি জমে যায়। এতে শুধু শিক্ষার্থীরাই নয়, পুরো এলাকার মানুষ দুর্ভোগে পড়েন। দ্রুত সড়কটি উঁচু করে পাকা করা হলে সমস্যার স্থায়ী সমাধান হবে।

 

বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক জাহাঙ্গীর হোসেন জানান, চরগোরকপুর প্রধান সড়ক থেকে বিদ্যালয় পর্যন্ত সংযোগ সড়কটি সংস্কার না হওয়ায় প্রতি বর্ষায় শিক্ষক-শিক্ষার্থী সবাইকে ভোগান্তিতে পড়তে হয়।

 

প্রধান শিক্ষক মোহাম্মদ মিজানুর রহমান বলেন, বর্ষা এলেই শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের চরম দুর্ভোগ পোহাতে হয়। যথাযথ কর্তৃপক্ষের কাছে আমার অনুরোধ, সড়কটি দ্রুত উঁচু করে সংস্কার করা হোক, যাতে নিরাপদ যাতায়াত ও স্বাভাবিক পাঠদান নিশ্চিত করা যায়।

 

উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা সেলিমা আক্তার খাতুন বলেন, বিষয়টি আপনার (সাংবাদিক) মাধ্যমে প্রথম জানলাম। প্রধান শিক্ষককে প্রয়োজনীয় কাগজপত্রসহ লিখিত আবেদন করতে বলা হবে।

 

উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (পিআইও) আশীষ কর্মকার বলেন, বিদ্যালয়টি ভোটকেন্দ্র হওয়ায় প্রাথমিকভাবে সেখানে মাটি ফেলে চলাচলের উপযোগী করা হয়েছে। মাটি বসার জন্য কিছুটা সময় দেওয়া হয়েছে। আগামী শুষ্ক মৌসুমে সেখানে এইচবিবি (ইটের সলিং) করে সড়কটি টেকসইভাবে নির্মাণ করা হবে।

হাঁটুপানি মাড়িয়ে স্কুলে যাচ্ছে শিক্ষার্থীরা

জামালপুর হামলা পাল্টা হামলার মধ্য দিয়ে জেলার সানন্দবাড়ী তে থমথমে অবস্থা বিরাজমান।

জাতীয়

স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, আমাদের কাজ শুরু হয়ে গেছে। আপনাদের এলাকায় যত রাস্তাঘাট ও সেতু রয়েছে- ইনশাআল্লাহ, ৫ বছরের মধ্যে সব সম্পন্ন করা হবে। তিন মাসে যে কাজ হয়েছে, আওয়ামী লীগের ১৫ বছরেও তা হয়নি।

 

শনিবার (২০ জুন) বেলা সোয়া ১১টায় মুন্সীগঞ্জের গজারিয়া উপজেলার ভবেরচর গ্রামীণ বাজার উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় নবনির্মিত আধুনিক ভবনের উদ্বোধনকালে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

 

মন্ত্রী বলেন, দেশের অবকাঠামোগত উন্নয়ন ত্বরান্বিত করতে সরকার পরিকল্পিতভাবে কাজ করছে এবং জনগণের প্রত্যাশা অনুযায়ী উন্নয়ন কার্যক্রম বাস্তবায়ন করা হবে।

 

জানা যায়, বাংলাদেশ সরকারের (জিওবি) অর্থায়নে দেশব্যাপী গ্রামীণ বাজার উন্নয়ন প্রকল্পের অংশ হিসেবে ভবেরচর গ্রামীণ বাজারে ২০২৪ সালের ১ জুলাই নির্মাণকাজ শুরু হয়। প্রায় ২ কোটি ৩৫ লাখ ৮৬ হাজার ৪৮০ টাকা ব্যয়ে নির্মিত আধুনিক এ মার্কেট ভবনের কাজ বাস্তবায়ন করে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি), মুন্সীগঞ্জ। নির্মাণকাজ সম্পন্ন করে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান স্বপ্না কনস্ট্রাকশন লিমিটেড।

 

অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন, মুন্সীগঞ্জ-৩ আসনের সংসদ সদস্য মো. কামরুজ্জামান রতন, সিলেট-২ আসনের সংসদ সদস্য তাহসিনা রুশদীর লুনা, প্রধান প্রকৌশলী মো. বেলাল হোসেন, জেলা প্রশাসক সৈয়দা নূরমহল আশরাফী, পুলিশ সুপার মেনহাজুল আলম এবং গজারিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) উম্মে হাফছা নাদিয়াসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।

 

পরে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর গজারিয়া উপজেলার ব্র্যাক অফিস থেকে ইমামপুর ইউনিয়ন পরিষদের (ইউনুস শিকদার) সড়কের ২০০০ মিটার পর্যন্ত পুনর্বাসন ও উন্নয়ন কাজের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন। এছাড়া তিনি রসুলপুর বাজার এলাকায় ফুলদী নদীর ওপর সেতু নির্মাণের স্থান পরিদর্শন করেন।

৩ মাসে যে কাজ হয়েছে, আ.লীগের ১৫ বছরেও হয়নি: মির্জা ফখরুল

দেশের প্রাথমিক শিক্ষার সবচেয়ে বড় ক্রীড়া প্রতিযোগিতা ‘প্রাথমিক বিদ্যালয় গোল্ডকাপ ফুটবল টুর্নামেন্ট (বালক-বালিকা)’-এর চূড়ান্ত পর্ব অনুষ্ঠিত হচ্ছে। দেশসেরা খুদে ফুটবলারদের এই ফাইনাল ম্যাচ ও তাদের নৈপুণ্য গ্যালারিতে বসে সরাসরি উপভোগ করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

 

আজ শনিবার (২০ জুন) বিকেল চারটার দিকে প্রধানমন্ত্রী স্টেডিয়ামে পৌঁছেন। পরে তিনি খুদে শিক্ষার্থীদের নিয়ে জাতীয় পতাকা উত্তোলন করেন।

 

সারা দেশের ৬৫ হাজারের বেশি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় থেকে ধাপে ধাপে বাছাই শেষে মোট চারটি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা এই টুর্নামেন্টের ফাইনালে খেলার গৌরব অর্জন করেছে।

 

টুর্নামেন্টের বালিকা ও বালক বিভাগের শিরোপা নির্ধারণী ম্যাচে বালিকা বিভাগের ফাইনালে মুখোমুখি হয় ময়মনসিংহের নান্দাইল উপজেলার আচারগাও সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও পাবনার সাঁথিয়া উপজেলার জোরগাছা ইউনাইটেড সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়।

 

অন্যদিকে প্রধানমন্ত্রী আসার আগে বালক বিভাগের শিরোপা নির্ধারণী ম্যাচে মুখোমুখি হয় ময়মনসিংহের ত্রিশাল উপজেলার দরিরামপুর মডেল সরকারি মডেল প্রাথমিক বিদ্যালয় ও বরিশালের বাকেরগঞ্জ উপজেলার দাড়িয়াল মিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়। এই খেলায় দরিরামপুর মডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়কে ১-০ গোলে হারিয়ে ইতিমধ্যে চ্যাম্পিয়ন হয়েছে দাড়িয়াল মিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়।

 

২২ লাখ শিক্ষার্থীর মহাযজ্ঞ

 

গত বৃহস্পতিবার আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা ও প্রাথমিক ও গণশিক্ষা উপদেষ্টা মাহদী আমিন টুর্নামেন্টের বিস্তারিত তথ্য তুলে ধরেন।

 

তিনি জানান, গত ৬ এপ্রিল শুরু হওয়া এই বিশাল প্রতিযোগিতায় দেশের ৬৫ হাজার ৩৪২টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় থেকে ১১ লাখের বেশি ছাত্র ও ১১ লাখের বেশি ছাত্রী অংশ নিয়েছে।

 

তিনি আরও জানান, একেবারে গ্রাম পর্যায় থেকে শুরু করে ইউনিয়ন, উপজেলা, জেলা ও বিভাগীয় ধাপ পেরিয়ে দীর্ঘ লড়াই শেষে সেরা দলগুলো ঢাকায় চূড়ান্ত পর্বে জায়গা করে নিয়েছে। তৃণমূল পর্যায় থেকে ফুটবল প্রতিভা খুঁজে বের করার এ উদ্যোগ ভবিষ্যতে আরও বড় পরিসরে আয়োজন করা হবে। আগামী আসরে অন্তত ৫০ লাখ শিক্ষার্থীর অংশগ্রহণ নিশ্চিত করার লক্ষ্য রয়েছে।

গ্যালারিতে বসে দেশসেরা খুদে ফুটবলারদের খেলা দেখছেন প্রধানমন্ত্রী

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, জাতি গঠনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিনিয়োগ হলো শিশুদের শিক্ষা ও স্বাস্থ্যে বিনিয়োগ। একটি আত্মবিশ্বাসী, দক্ষ ও মানবিক প্রজন্ম গড়ে তোলার জন্য পাঠ্য বিষয় শিক্ষার পাশাপাশি খেলাধুলা, সংস্কৃতি ও সৃজনশীল কর্মকাণ্ড গুরুত্বপূর্ণ। প্রাথমিক বিদ্যালয় গোল্ডকাপ ফুটবল টুর্নামেন্ট (বালক-বালিকা) ২০২৬’ অনুষ্ঠিত হচ্ছে। এটি অবশ্যই ইতিবাচক উদ্যোগ।

 

আজ শনিবার (২০ জুন) অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া ‘প্রাথমিক বিদ্যালয় গোল্ডকাপ ফুটবল টুর্নামেন্ট (বালক-বালিকা) ২০২৬’ উপলক্ষ্যে দেওয়া এক বাণীতে এসব কথা বলেন তিনি।

 

প্রধানমন্ত্রী বলেন, সরকার ‘সবার আগে বাংলাদেশ’ শীর্ষক নির্বাচনি ইশতেহার বাস্তবায়নের অংশ হিসেবে শিক্ষাখাতের আধুনিকায়ন ও পরিমার্জন এবং সময়োপযোগী করে তুলতে কাজ করছে। সেজন্য পাঠ্যক্রমে খেলাধুলাও অন্তর্ভুক্ত করার প্রক্রিয়া চলছে। চতুর্থ শ্রেণি থেকে উচ্চমাধ্যমিক পর্যন্ত পর্যায়ক্রমে ফুটবল, ক্রিকেট, দাবা, কারাতে ও সাঁতার এসব খেলা পাঠ্যক্রমে অন্তর্ভুক্ত করার উদ্যোগ গ্রহণ করা হচ্ছে।

 

প্রধানমন্ত্রী বলেন, শুধু তাত্ত্বিক নয়, ব্যবহারিক ক্লাস ও মূল্যায়নের মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের এই ক্রীড়া কার্যক্রমে অংশ নিতে হবে। আমার বিশ্বাস, এর ফলে মাদকাসক্তি, মোবাইল ফোন আসক্তির মতো সামাজিক সমস্যা রুখে দিতে সহায়ক হবে।

 

তিনি বলেন, ইতোমধ্যে সরকার ‘প্রাথমিক বিদ্যালয় গোল্ডকাপ ফুটবল টুর্নামেন্ট (বালক-বালিকা) ২০২৬’ নীতিমালা প্রণয়ন করেছে। নীতিমালা অনুযায়ী, এ টুর্নামেন্টে দেশের সব সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় অর্থাৎ ৬৫ হাজার ৫৬৯টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মোট ৯৯ লাখ ৪৮ হাজার ৯৫৬ জন বালক ও বালিকা (বালক-৪৬ লাখ ৯১ হাজার ৯৯৬ জন, বালিকা-৫২ লাখ ৫৬ হাজার ৯৬০ জন) উভয় খেলায় অংশগ্রহণের সুযোগ পেয়েছে। এ টুর্নামেন্টে বালক ও বালিকা দল সমান সুযোগ নিয়ে অংশগ্রহণ করেছে। এ বছর সারা দেশে বালক ও বালিকা দল মিলিয়ে মোট ১ লাখ ২৩ হাজার ৯৭৪টি খেলা অনুষ্ঠিত হয়েছে। প্রাথমিক বিদ্যালয় গোল্ডকাপ ফুটবল টুর্নামেন্ট কলেবর বিবেচনায় বিশ্বের সবচেয়ে বড় ফুটবল টুর্নামেন্ট হিসেবে বিবেচিত।

 

প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, বর্তমান সরকার শিক্ষার্থীদের শারীরিক ও মানসিক বিকাশের সঙ্গে মনন বিকাশে লেখাপড়ার পাশাপাশি খেলাধুলা ও সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডে অংশগ্রহণে গুরুত্বারোপ করছে। এর ফলে দেশে ও আন্তর্জাতিক আয়োজনে আমাদের ছেলেমেয়েরা খেলাধুলায়, বিশেষ করে ফুটবলে, সাফল্য অর্জন করছে। আমি বিশ্বাস করি, এই টুর্নামেন্টে অংশগ্রহণকারীরা হবে আমাদের আগামীর উজ্জ্বল মুখ, যারা দেশকে আন্তর্জাতিক পরিসরে নতুনভাবে আলোকিত করবে। আমি ‘প্রাথমিক বিদ্যালয় গোল্ডকাপ ফুটবল টুর্নামেন্ট (বালক-বালিকা) ২০২৬’-এর সর্বাঙ্গীণ সাফল্য কামনা করি।

শিক্ষার পাশাপাশি খেলাধুলা ও সৃজনশীল কর্মকাণ্ড গুরুত্বপূর্ণ: প্রধানমন্ত্রী

খেলাধুলা

জয় দিয়ে এবারের বিশ্বকাপ মিশন শুরু করেছে আর্জেন্টিনা। লিওনেল মেসির হ্যাটট্রিকে আলজেরিয়াকে ৩-০ গোলে হারিয়ে দারুণ সূচনা করেছে বর্তমান চ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা। তবে ম্যাচের একটি ঘটনা নিয়ে বিতর্ক তৈরি হয়েছে, যা নিয়ে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ জানিয়েছে আলজেরিয়া ফুটবল কর্তৃপক্ষ।

 

আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, আলজেরিয়া ফিফার রেফারিং কমিশনের কাছে একটি অভিযোগপত্র জমা দিয়েছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন আর্জেন্টিনা অধিনায়ক মেসি।আলজেরিয়ার দাবি, ম্যাচের প্রথমার্ধে তাদের অধিনায়ক আইসা মান্দির সঙ্গে বলের লড়াইয়ে মেসির একটি ট্যাকল ছিল বিপজ্জনক। অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে, ওই ঘটনায় মান্দির পায়ের পেছনের অংশে আঘাত লাগে। তাদের মতে, ঘটনাটি আরও গভীরভাবে পর্যালোচনার প্রয়োজন ছিল।

 

ম্যাচে আর্জেন্টিনা এগিয়ে যাওয়ার কিছুক্ষণ পরই বিতর্কিত ঘটনাটি ঘটে। তবে রেফারি খেলা চালিয়ে যাওয়ার নির্দেশ দেন এবং মাঠে তাৎক্ষণিক কোনো শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।কানসাস সিটিতে অনুষ্ঠিত ম্যাচটি পরিচালনা করেন পোল্যান্ডের অভিজ্ঞ রেফারি শিমন মারচিনিয়াক। তিনি এর আগে ২০২২ সালের বিশ্বকাপ ফাইনালেও দায়িত্ব পালন করেছিলেন। আলজেরিয়ার অভিযোগ মূলত রেফারিং সিদ্ধান্ত এবং ঘটনাটির মূল্যায়নকে কেন্দ্র করেই করা হয়েছে।

 

অন্যদিকে ম্যাচে নিজের পারফরম্যান্স দিয়ে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে ছিলেন মেসি। তিনটি গোল করে তিনি দলকে বড় জয় উপহার দেন। একই সঙ্গে বিশ্বকাপ ইতিহাসে নিজের গোলসংখ্যা ১৬-তে নিয়ে গিয়ে জার্মান কিংবদন্তি মিরোস্লাভ ক্লোসার একটি উল্লেখযোগ্য রেকর্ডের সমতায় পৌঁছান।

মেসির সেই ‘ফাউল’ ইস্যুতে ফিফার কাছে নালিশ করল আলজেরিয়া

ডেস্ক রিপোর্টঃ মোঃ ওমর ফারুক

ব্রাজিল ভক্তদের জন্য বড় সুখবর। বিশ্বকাপে পরের ম্যাচে স্কটল্যান্ডের বিপক্ষে মাঠে দেখা যাবে নেইমারকে। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন সেলেসাওদের বস কার্লো আনচেলোত্তি।

 

ছাব্বিশ বিশ্বকাপে মাঠে নামতে ফিট হতে নিজের সাথে যুদ্ধ করছিলেন নেইমার। তবে হাইতির বিরুদ্ধে ম্যাচে নেইমারকে নিয়ে বাড়তি কোনো ঝুঁকি নিতে চাননি কার্লো আনচেলত্তি। এই ফুটবলারকে ছাড়া খেললেও হাসি নিয়েই মাঠ ছাড়ে সেলসাওরা।

 

এদিকে, দলে ফিরলেও পূর্ণাঙ্গ অনুশীলনে যোগ দিচ্ছিলেন না নেইমার। ফিটনেস ফিরে পেতে হালকা দৌড় ও ফিটনেস ট্রেনিংয়ের মাঝেই সীমাবদ্ধ ছিলেন তিনি।

 

এবার ম্যাচের জন্য সবুজ সংকেত পেয়েছেন মেডিকেল টিমের কাছ থেকে। তাই স্কটল্যান্ডের বিপক্ষে ম্যাচে দেখা যাবে তার পায়ের জাদু। রোববার দলের সাথে পূর্নাঙ্গ অনুশীলনে তিনি যোগ দিচ্ছেন এই সেলেসাও তারকা।

ব্রাজিল শিবিরে সুখবর, স্কটল্যান্ডের বিপক্ষে ফিরছেন নেইমার

জাতিসংঘ মহাসচিবের মায়ানমারবিষয়ক বিশেষ দূতের ব্রিফিংয়ে বক্তব্য দেওয়ার সময় জাতিসংঘে বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি রাষ্ট্রদূত সালাহউদ্দিন নোমান চৌধুরী বলেছেন, রোহিঙ্গা সংকটের একমাত্র টেকসই সমাধান হলো তাদের নিজ দেশ মায়ানমারে দ্রুত প্রত্যাবাসন। একই সঙ্গে বাংলাদেশ উল্লেখ করেছে যে, প্রায় এক দশক ধরে বিপুল সংখ্যক রোহিঙ্গাকে আশ্রয় দেওয়া দেশের জন্য দীর্ঘমেয়াদে টেকসই নয় এবং রোহিঙ্গারাও নিজ দেশে ফিরে যেতে চায়।

 

শনিবার (২০ জুন) নিউইয়র্কে জাতিসংঘে বাংলাদেশের স্থায়ী মিশন এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানায়।

 

রাষ্ট্রদূত সালাহউদ্দিন নোমান চৌধুরী বলেন, রোহিঙ্গা সংকটের উৎপত্তি মায়ানমারে এবং এর স্থায়ী সমাধানও সেখানেই খুঁজে বের করতে হবে।

 

তিনি আরো উল্লেখ করেন, প্রায় ১২ লাখ রোহিঙ্গাকে দীর্ঘদিন আশ্রয় দেওয়ার ফলে বাংলাদেশের ওপর উল্লেখযোগ্য সামাজিক, অর্থনৈতিক, পরিবেশগত ও নিরাপত্তাজনিত চাপ সৃষ্টি হয়েছে।

 

সংকটের শান্তিপূর্ণ সমাধানে বাংলাদেশের অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করে তিনি আন্তর্জাতিক অংশীদারদের প্রতি কূটনৈতিক উদ্যোগ ও সম্পৃক্ততা আরো জোরদারের আহ্বান জানান, যেন রোহিঙ্গাদের দ্রুত নিজ দেশে প্রত্যাবাসনের অনুকূল পরিবেশ সৃষ্টি করা যায়।

জাতিসংঘে বাংলাদেশ: রোহিঙ্গাদের নিজ দেশে দ্রুত প্রত্যাবাসনে জোর

মরক্কোর বিপক্ষে প্রথম ম্যাচে পয়েন্ট হারানোর হতাশা ভুলে জয়ে ফিরল পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ব্রাজিল। আজ শনিবার যুক্তরাষ্ট্রের ফিলাডেলফিয়া স্টেডিয়ামে হাইতিকে ৩-০ গোলে উড়িয়ে দিয়ে বিশ্বকাপে নিজেদের প্রথম জয় তুলে নিয়েছে কার্লো আনচেলত্তির দল। প্রথমার্ধেই তিন গোল করে ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নেওয়া সেলেসাওরা পুরো ম্যাচেই আধিপত্য ধরে রেখে পূর্ণ তিন পয়েন্ট নিশ্চিত করেছে।

 

ম্যাচের শুরু থেকেই হাইতির রক্ষণভাগকে চেপে ধরে আক্রমণভাগ। ম্যাচের ১২ মিনিটে বার্সেলোনা ফরোয়ার্ড রাফিনিয়ার একটি গোল অফসাইডের কারণে বাতিল হয়। এর মিনিট দশেক পর আরও একটি সহজ সুযোগ হাতছাড়া করেন তিনি। তবে ব্রাজিলের গোলের অপেক্ষা ফুরোায় ম্যাচের ২৩ মিনিটে। ভিনিসিউস জুনিয়রের জোরালো শট হাইতি গোলরক্ষক জনি প্লাসিড কোনোমতে ঠেকালেও ফিরতি বলে নিখুঁত শটে লক্ষ্যভেদ করেন মাতেউস কুনিয়া।

 

প্রথম গোলের পর ব্রাজিলের আক্রমণের ধার আরও বেড়ে যায়। ৩৬ মিনিটে ভিনিসিউসের পাস থেকে নিজের দ্বিতীয় ও দলের ব্যবধান দ্বিগুণ করেন কুনিয়া। রিয়াল মাদ্রিদ তারকা ভিনির বাড়ানো রক্ষণচেরা থ্রু পাস ধরে বাঁ পায়ের দারুণ শটে বল জালে জড়ান এই স্ট্রাইকার। তবে এর চার মিনিট পরেই চোট পেয়ে মাঠ ছাড়তে হয় রাফিনিয়াকে, তাঁর বদলি হিসেবে মাঠে নামেন ১৯ বছর বয়সী তরুণ উইঙ্গার রায়ান।

 

প্রথমার্ধের যোগ করা সময়ের তৃতীয় মিনিটে নিজেই গোলদাতাদের তালিকায় নাম লেখান ভিনিসিউস। প্রতিপক্ষ গোলরক্ষকের দুই পায়ের ফাঁক দিয়ে বল জালে পাঠিয়ে ৩-০ ব্যবধানের বড় লিড এনে দেন তিনি।

 

দ্বিতীয়ার্ধেও আক্রমণের ধারা বজায় রাখে সেলেসাওরা। ম্যাচের ৬৪ মিনিটে জোড়া গোল করা কুনিয়া এবং লুকাস পাকেতাকে তুলে নিয়ে তরুণ সেনসেশন এনদ্রিক ও গ্যাব্রিয়েল মার্তিনেল্লিকে মাঠে নামান কোচ আনচেলত্তি। ৭৮ মিনিটে বদলি হিসেবে নামা এনদ্রিক বল জালে জড়ালেও দুর্ভাগ্যবশত সেটি অফসাইডের কারণে বাতিল হয়ে যায়। ম্যাচের বাকি সময়ে আর কোনো গোল না হলেও বড় জয় নিয়ে মাঠ ছাড়ে ব্রাজিল।

 

প্রথম ম্যাচের ড্র থেকে শিক্ষা নিয়ে এই ম্যাচে নিজেদের চিরচেনা আক্রমণাত্মক ফুটবল শৈলীতে ফিরল লাতিন আমেরিকার পরাশক্তিরা, যা বিশ্বকাপের পরের ধাপের লড়াইয়ে দলটিকে বড় আত্মবিশ্বাস জোগাবে।

ভিনি-কুনহার চমক হাইতিকে উড়িয়ে ঘুরে দাঁড়াল ব্রাজিল

 

ভ্যাঙ্কুবারের মাঠে শুক্রবার (১৯ জুন) ফুটবলীয় গোলের উৎসব চললেও, গ্যালারি ও মাঠের ফুটবলারদের স্তব্ধ করে দিয়েছে এক বিভীষিকাময় চোট। ২০২৬ বিশ্বকাপে কাতারের বিরুদ্ধে মাঠে নেমে ৬-০ গোলের এক চোখ ধাঁধানো জয় তুলে নিয়েছে সহ-আয়োজক কানাডা। বিশ্বমঞ্চের ইতিহাসে এটিই কানাডিয়ানদের প্রথম ঐতিহাসিক জয়।

 

জোনাথন ডেভিডের দুর্দান্ত হ্যাটট্রিক আর জ্যাকব শ্যাফেলবার্গের গোলে বড় জয় নিশ্চিত হলেও, ম্যাচটি ফুটবল বিশ্ব মনে রাখবে ৫২ মিনিটে কানাডিয়ান মিডফিল্ডার ইসমাইল কোনের মারাত্মক ইনজুরির জন্য, যা পুরো স্টেডিয়ামকে বিষাদের চাদরে ঢেকে দিয়েছিল।

 

ম্যাচের ৫২তম মিনিটে ডাগআউটের ঠিক সামনেই ঘটে সেই নারকীয় ঘটনা। কাতারের আসিম মাদিবো অত্যন্ত বিপজ্জনকভাবে এক চ্যালেঞ্জ করতে গেলে সরাসরি পা ভেঙে যায় ইসমাইল কোনের। যন্ত্রণায় কোনের সেই চিৎকার শুনেই কানাডার ফুটবলাররা আতঙ্কিত হয়ে মেডিকেল টিমকে মাঠে আসার জন্য ইশারা করতে থাকেন।

 

সম্প্রচারকারীরা ঘটনার ভয়াবহতার কারণে রিপ্লে না দেখালেও, টাচলাইনের মাইক্রোফোনে স্পষ্ট শোনা যাচ্ছিল কান্নাবিজড়িত কণ্ঠে কেউ বলছেন, ‘পা তো ঝুলে পড়েছে’ মাঠের খেলোয়াড় ও কোচিং স্টাফরা দ্রুত কোনের চারপাশে এক মানবপ্রাচীর তৈরি করেন যেন সেই দৃশ্য ক্যামেরায় না আসে। ঘটনার তীব্রতায় রেফারি ভিএআর দেখে মাদিবোকে সরাসরি লাল কার্ড দেখান। এর আগে প্রথমার্ধে হোমাম এল আমিন দুই হলুদ কার্ড দেখে মাঠ ছাড়ায় কাতার পরিণত হয় ৯ জনের দলে।

 

ভয়াবহ এই ঘটনার ১০ মিনিট পর খেলা পুনরায় শুরু হলে, ৬৫ মিনিটে ফ্রি-কিক থেকে বদলি খেলোয়াড় নাথান সালিবা গোল করে কানাডাকে এগিয়ে নেন। গোল উদযাপনে সালিবা ডাগআউটে ছুটে গিয়ে ইসমাইল কোনের জার্সি উঁচিয়ে ধরে সতীর্থের প্রতি ভালোবাসা প্রদর্শন করেন। এরপর যেন গোলের বন্যা বইয়ে দেয় কানাডা। জ্যাকব শ্যাফেলবার্গের গোলের পর জোনাথন ডেভিড এক অনবদ্য হ্যাটট্রিক করে দলকে ৬-০ গোলের পাহাড়সম জয় এনে দেন।

 

ম্যাচ শেষে কানাডার প্রধান কোচ জেসি মার্শ জানান, ডাগআউটের সামনে হাড় ভাঙার শব্দ এতটাই স্পষ্ট ছিল যে পুরো স্কোয়াড মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছে। তবে হাসপাতালে অস্ত্রোপচারের প্রস্তুতি নিতে থাকা কোনে যেভাবে স্ট্রেচারে শোয়া অবস্থাতেই দর্শকদের হাত নাড়িয়ে অভয় দিচ্ছিলেন, তা তার ব্যক্তিত্বের এক অনন্য উদাহরণ। কোনের সেই অসম্পূর্ণ স্বপ্ন পূরণ করতেই আজ কাতারকে স্রেফ খড়কুটোর মতো উড়িয়ে দিয়েছে কানাডিয়ানরা।

বিশ্বকাপে কানাডার প্রথম জয়ের দিনে মাঠেই পা ভাঙল ইসমাইলের কোনের

প্রথম ম্যাচে মরক্কোর সাথে ১-১ গোলে ড্র করে পয়েন্ট হারানোর পর ২০২৬ বিশ্বকাপে নিজেদের প্রথম জয়ের খোঁজে আগামীকাল সকালে মাঠে নামছে ব্রাজিল। গ্রুপ ‘সি’-এর এই হাইভোল্টেজ ম্যাচে ফিলাডেলফিয়ায় সেলেসাওদের প্রতিপক্ষ তুলনামূলক দুর্বল দল হাইতি। প্রথম ম্যাচের মন্থর গতি ও পয়েন্ট হারানোর ধাক্কা সামলে টুর্নামেন্টে নিজেদের টিকিয়ে রাখতে কার্লো আনচেলত্তির দল এই ম্যাচে জয় ছাড়া কিছুই ভাবছে না। ব্রাজিলের ফিফা র‍্যাঙ্কিং ৫, বিপরীতে ৮৫তম স্থানে থাকা হাইতির লক্ষ্য বিশ্বমঞ্চে যেকোনো মূল্যে এক অবিশ্বাস্য অঘটন ঘটানো।

 

ছন্দের খোঁজে সেলেসাওদের কৌশল

মরক্কোর বিপক্ষে নিজেদের প্রথম ম্যাচে ব্রাজিলের পারফরম্যান্স মোটেও আশানুরূপ ছিল না। ম্যাচ শেষে মাঠের শুষ্কতাকে দায়ী করে ফরোয়ার্ড ভিনিসিয়ুস জুনিয়র বলেছিলেন, ‘মেটলাইফ স্টেডিয়ামের শুকনো উপরিভাগের কারণে ব্রাজিল তাদের স্বাভাবিক ছন্দ পাচ্ছিল না।’ তবে ফিলাডেলফিয়ার মাঠে সেই অজুহাত খাটবে না।

 

বিশ্লেষকদের মতে, ম্যাচের শুরু থেকেই হাইতি তাদের রক্ষণাত্মক ৪-৩-২-১ ফর্মেশন নিয়ে নিজেদের গোলপোস্ট পাহারা দিতে ব্যস্ত থাকবে এবং কাউন্টার অ্যাটাকের (পাল্টা আক্রমণ) ওপর ভরসা করবে। ব্রাজিলের প্রধান চ্যালেঞ্জ হবে এই জমাট রক্ষণ ভাঙা। ভিনিসিয়ুস জুনিয়র ও রাফিনিয়ার ব্যক্তিগত স্কিল এবং গতিই হতে পারে এই ম্যাচের মূল চাবিকাঠি। পরিসংখ্যান বলছে, বিশ্বকাপের ইতিহাসে হাইতির বিপক্ষে খেলা তিন ম্যাচের প্রতিটিতেই ব্রাজিল বড় ব্যবধানে জিতেছে এবং ন্যূনতম ৬টি করে গোল দিয়েছে। ফলে আজ প্রথম ম্যাচের খরা কাটাতে শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক ফুটবল খেলবে লাতিন আমেরিকার পরাশক্তিরা।

 

প্রথম একাদশের ব্যবচ্ছেদ

প্রথম ম্যাচে দলের আক্রমণভাগের ব্যর্থতার কারণে কোচ কার্লো আনচেলত্তি আজকের একাদশে বড় ধরনের কিছু কৌশলগত পরিবর্তন আনতে পারেন। প্রথম ম্যাচে ব্রেন্টফোর্ডের স্ট্রাইকার ইগর থিয়াগো নিজের নামের প্রতি বিচার করতে না পারায় তাঁর জায়গায় ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের মাথেউস কুনিয়াকে ৯ নম্বর জার্সিতে মূল স্ট্রাইকার হিসেবে দেখা যেতে পারে।

 

একই সাথে মাঝমাঠ ও রক্ষণভাগেও পরিবর্তনের আভাস রয়েছে। প্রথমার্ধে হলুদ কার্ড দেখে মাঠ ছাড়া রজার ইবানেজের জায়গায় আজ শুরু থেকেই দেখা যেতে পারে অভিজ্ঞ ডিফেন্ডার দানিলোকে। এ ছাড়া মিডফিল্ডার লুকাস পাকেতা কিংবা কাসেমিরোর জায়গায় ফাবিনিও এবং ব্রুনো গিমারায়েসের অন্তর্ভুক্তি মাঝমাঠের আক্রমণের ধার বাড়াতে সাহায্য করবে। অন্যদিকে, প্রথম ম্যাচে স্কটল্যান্ডের কাছে অল্প ব্যবধানে হারা হাইতি দলে বড় কোনো পরিবর্তনের সম্ভাবনা নেই। রাইট ফ্ল্যাঙ্কে লুইসিয়াস দিদসনের ফর্ম নিয়ে কিছুটা সংশয় থাকলেও কোচ সেবাস্তিয়ান মিগনে তাঁর আগের একাদশের ওপরই ভরসা রাখতে পারেন।

 

একাদশ

ব্রাজিলের সম্ভাব্য একাদশ (৪-৪-২):

 

অ্যালিসন (গোলরক্ষক), দানিলো, মার্কিনহোস, গ্যাব্রিয়েল মাগালাইস, সান্তোস, লুকাস পাকেতা/ফাবিনিও, কাসেমিরো/গিমারায়েস, রাফিনিয়া, মাথেউস কুনিয়া, ভিনিসিয়ুস জুনিয়র ও ইগর থিয়াগো।

 

হাইতির সম্ভাব্য একাদশ (৪-৪-২):

 

প্লাসিদ (গোলরক্ষক), আরকুস, আদে, দেলক্রোয়া, এক্সপেরিয়েন্স, লুইসিয়াস দিদসন/কাসিমির, জাক, বেলেগার্দে, প্রভিডেন্স, ইসিদোর ও পিয়েরো।

 

দুই দলের সমীকরণ

গ্রুপ ‘সি’-তে এই মুহূর্তে সুইজারল্যান্ড ও কানাডা ৪ পয়েন্ট নিয়ে সুবিধাজনক অবস্থানে রয়েছে। ব্রাজিল যদি আজ হাইতির বিপক্ষে বড় ব্যবধানে জিততে না পারে, তবে পরের রাউন্ডের পথ তাদের জন্য বেশ কঠিন হয়ে উঠবে। শক্তির বিচারে দুই দলের মধ্যে আকাশ-পাতাল তফাত থাকলেও হাইতিকে একেবারে হালকাভাবে নেওয়া যাচ্ছে না। কারণ স্কটল্যান্ডের বিপক্ষে প্রথম ম্যাচে তারা দারুণ লড়াই করেছিল এবং বল দখলে এগিয়ে ছিল। তবে অতীত পরিসংখ্যান ও ফুটবলীয় শক্তি বিবেচনায় এই ম্যাচে ব্রাজিলের ২-০ বা তার চেয়ে বড় ব্যবধানে জয় পাওয়া কেবল সময়ের ব্যাপার বলেই মনে করছেন ফুটবল বোদ্ধারা।

জয়ের জন্য মরিয়া ব্রাজিলের সামনে দুর্বল হাইতি, একাদশে থাকছেন যারা

বিস্তারিত....

বিনোদন

আজ ২৫শে বৈশাখ। বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ১৬৫ তম আবির্ভাব দিবস। ১২৬৮ বঙ্গাব্দের ২৫ শে বৈশাখ, কলকাতার জোড়াসাঁকো ঠাকুরবাড়িতে জন্ম বাংলা ভাষা ও সাহিত্যের উৎকর্ষের অন্যতম এই নায়কের। তিনি অনন্য সব সৃষ্টি গল্প, কবিতা, উপন্যাস, ছোটগল্প ও অসংখ্য গানের মধ্য দিয়ে বাংলা সাহিত্য ও সংস্কৃতিকে পৌঁছে দিয়েছেন বিশ্বের কাছে।

 

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের মা সারদাসুন্দরী দেবী এবং বাবা ব্রাহ্ম ধর্মগুরু দেবেন্দ্রনাথ ঠাকুর। তিনি কবিতা লেখা শুরু করেন আট বছর বয়সে। ১৮৯১ সাল থেকে বাবার আদেশে নদিয়া, পাবনা, রাজশাহী ও ওড়িশার জমিদারি তদারকি শুরু করেন। কুষ্টিয়ার শিলাইদহের কুঠিবাড়িতে তিনি দীর্ঘসময় অতিবাহিত করেন। ১৯০১ সালে সপরিবারে চলে আসেন বীরভূমের বোলপুর শহরের উপকণ্ঠে শান্তিনিকেতনে। তার জীবদ্দশায় এবং মৃত্যুর পর প্রকাশিত হয়েছে ৫২টি কাব্যগ্রন্থ, ৩৮টি নাটক, ১৩টি উপন্যাস, ৩৬টি প্রবন্ধ এবং অন্যান্য গদ্য সংকলন। নানা কর্মসূচির মধ্য দিয়ে আজ নোবেল বিজয়ী এই সহিত্য প্রতিভাকে স্মরণ করবে তার অগণিত ভক্ত।

 

বিটিভিতে সকাল ৯টায় থাকছে বিশেষ শিশুতোষ অনুষ্ঠান। সকাল ১০টা ৫ মিনিটে প্রচারিত হবে রবীন্দ্রসংগীতের অনুষ্ঠান ‘গীতবিতান’। সন্ধ্যা ৬টায় থাকছে বিশেষ কবিতা আবৃত্তির অনুষ্ঠান। রাত ৯টায় থাকছে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের গল্প অবলম্বনে নাটক ‘সম্পত্তি সমর্পণ’। রাত ১০টায় সংবাদের পর প্রচারিত হবে বিশেষ রবীন্দ্রসংগীতের অনুষ্ঠান। অনুষ্ঠানে কবির বিভিন্ন পর্যায়ের জনপ্রিয় ৯টি গান পরিবেশন করবেন একঝাঁক রবীন্দ্রসংগীতশিল্পী। রাত ১১টায় প্রচারিত হবে ‘চিত্রাঙ্গদা’।

 

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের সাহিত্যজগৎ ছিল নানা বর্ণ, মানসিকতা ও চেতনায় ভরপুর। তাইতো, নিঃসঙ্গতার প্রতিচ্ছবি চারুলতা, সামাজিক বেড়াজাল ভেঙে আত্মসচেতন হয়ে ওঠা বিনোদিনী কিংবা গোরা উপন্যাসের স্বদেশপ্রেম ও জাতিসত্তার পরিচয়ে জর্জরিত পুরুষের মধ্যে আজও পাঠক খুঁজে ফেরে নিজেদের। বাংলার মাটিতে যেমন তাঁর কদর, তেমনি বিশ্ব দরবারেও সমানভাবে ছড়িয়ে আছে তার দীপ্তি। সাহিত্যে অবদানের জন্য ১৯১৩ সালে নবজাগরণের এই পুরোধাকে ভূষিত করা হয় নোবেল পুরস্কারে। দিনটি উদযাপনে দেশের বিভিন্ন স্থানে আয়োজন করা হয়েছে নানা আয়োজন।

বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ১৬৫তম জন্মজয়ন্তী আজ

প্রতিবেদন: ওমর ফারুক

আজ ৩ মে বিশ্বজুড়ে পালিত হচ্ছে বিশ্ব গণমাধ্যম দিবস। গণমাধ্যমের স্বাধীনতা, দায়বদ্ধতা এবং সাংবাদিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার গুরুত্ব তুলে ধরতেই প্রতি বছর এই দিনটি পালন করা হয়।

১৯৯৩ সালে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদ আনুষ্ঠানিকভাবে ৩ মে-কে বিশ্ব গণমাধ্যম স্বাধীনতা দিবস হিসেবে ঘোষণা করে। এর আগে ১৯৯১ সালে নামিবিয়ার উইন্ডহুকে গৃহীত উইন্ডহুক ঘোষণা-এর মাধ্যমে স্বাধীন ও বহুমুখী গণমাধ্যম প্রতিষ্ঠার আহ্বান জানানো হয়, যা পরবর্তীতে এই দিবস ঘোষণার ভিত্তি তৈরি করে।

বর্তমান সময়ে গণমাধ্যম সমাজের গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে সত্য ও নিরপেক্ষ তথ্য মানুষের কাছে পৌঁছে দিচ্ছে। নানা চ্যালেঞ্জের মধ্যেও সাংবাদিকরা পেশাগত দায়িত্ব পালন করে গণতন্ত্রকে শক্তিশালী করতে অবদান রাখছেন।

বিশ্ব গণমাধ্যম দিবস উপলক্ষে গণ টেলিভিশন-এর পক্ষ থেকে দেশের সকল সাংবাদিক, গণমাধ্যমকর্মী ও দর্শকদের জানানো হয়েছে আন্তরিক শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন। সত্য ও বস্তুনিষ্ঠ সংবাদ পরিবেশনের মাধ্যমে সমাজের কল্যাণে কাজ করে যাওয়ার প্রত্যয় পুনর্ব্যক্ত করেছে প্রতিষ্ঠানটি।

আজ বিশ্ব গণমাধ্যম দিবস

প্রতিবেদনঃ ওমর ফারুক

যারা বিবাহিত, তাদের তুলনায় অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্কদের ক্যানসার হওয়ার ঝুঁকি উল্লেখযোগ্যভাবে বেশি। যুক্তরাষ্ট্রের মায়ামি বিশ্ববিদ্যালয়ের নতুন এক গবেষণায় এমন চমকপ্রদ তথ্য উঠে এসেছে।

পরিসংখ্যান অনুযায়ী, অবিবাহিত পুরুষদের ক্যানসারের ঝুঁকি বিবাহিতদের তুলনায় প্রায় ৭০ শতাংশ বেশি।

গবেষণায় দেখা গেছে, যারা কখনো বিয়ে করেননি, তাদের মধ্যে ক্যানসারে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি তুলনামূলকভাবে বেশি।

 

 

২০১৫ থেকে ২০২২ সালের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের ১২টি অঙ্গরাজ্যের ৪০ লাখের বেশি মানুষের তথ্য বিশ্লেষণ করে এই ফল পাওয়া গেছে। গবেষণায় বলা হয়েছে, প্রায় সব ধরনের প্রধান ক্যানসারের ক্ষেত্রেই অবিবাহিতদের ঝুঁকি বেশি দেখা গেছে।

 

পরিসংখ্যান অনুযায়ী, অবিবাহিত পুরুষদের ক্যানসারের ঝুঁকি বিবাহিতদের তুলনায় প্রায় ৭০ শতাংশ বেশি। নারীদের ক্ষেত্রে এই ঝুঁকি আরও বেশি, প্রায় ৮৫ শতাংশ পর্যন্ত।

 

গবেষণায় আরও দেখা গেছে, অবিবাহিত পুরুষদের মধ্যে মলদ্বারের ক্যানসারের হার বিবাহিতদের তুলনায় প্রায় পাঁচ গুণ বেশি। অন্যদিকে অবিবাহিত নারীদের ক্ষেত্রে জরায়ুমুখের ক্যানসারের হার প্রায় তিন গুণ বেশি।

গবেষকদের মতে, বিয়ে অনেক সময় মানুষের জীবনযাপনকে প্রভাবিত করে। খাদ্যাভ্যাস, স্বাস্থ্যসচেতনতা এবং নিয়মিত চিকিৎসা পরীক্ষার মতো বিষয়গুলো এতে যুক্ত থাকে। ফলে এটি পরোক্ষভাবে স্বাস্থ্যের ওপর প্রভাব ফেলতে পারে।

 

তবে বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করেছেন, এর মানে এই নয় যে বিয়ে করলেই ক্যানসার থেকে সুরক্ষা পাওয়া যাবে। বরং এটি একটি সামাজিক ও আচরণগত ইঙ্গিত মাত্র।

 

গবেষকরা আরও বলেছেন, যারা অবিবাহিত, তাদের উচিত স্বাস্থ্যঝুঁকির বিষয়ে আরও সতর্ক থাকা। নিয়মিত পরীক্ষা করানো এবং স্বাস্থ্যকর জীবনযাপন বজায় রাখে।

 

অবিবাহিতদের ক্যানসারের ঝুঁকি বেশি, বলছে গবেষণা

বিস্তারিত....

মতামত

সম্প্রতি ভাইরাল হওয়া প্রায় এক মিনিটের ভিডিওতে মাদারীপুর-১ আসনে বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস থেকে নির্বাচিত সংসদ সদস্য পীরজাদা সাইদ উদ্দিন আহমদ হানজালা এমপিকে বলতে শোনা যায়, ‘কথা বললেন কেন? আপনারা এখানে কাউন্টার দিলেন কেন?’ একপর্যায়ে তিনি টেবিল চাপড়ে বলেন, ‘এই মিয়া চুপ করেন, একেবারে খেয়ে ফেলবো। চুপ করেন। আমি আসছি বিচার করার জন্য। কাউন্টার দিলে আমি দিবো।’

 

মাদারীপুরের শিবচর উপজেলায় একটি সালিশ বৈঠকে তার উত্তেজিত আচরণের একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। ভিডিওতে তাকে টেবিল চাপড়ে উপস্থিত এক বিএনপি কর্মীসহ কয়েকজনকে ধমক দিতে দেখা যায়। এ নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ঘটনাটি এক থেকে দেড় মাস আগের। শিবচর উপজেলার দত্তপাড়া ইউনিয়নের চর বাচামারা মৌলভীকান্দি গ্রামে একটি মারামারির ঘটনাকে কেন্দ্র করে সালিশ বৈঠকের আয়োজন করা হয়। বৈঠকে বিএনপি কর্মী তারামিয়াসহ উভয় পক্ষের লোকজন উপস্থিত ছিলেন।

 

সংশ্লিষ্টদের দাবি, সালিশ চলাকালে এক পক্ষকে এক লাখ টাকা জরিমানা করার সিদ্ধান্ত ঘোষণা করা হলে উপস্থিত লোকজনের মধ্যে আলোচনা ও তর্ক-বিতর্ক শুরু হয়। এ সময় পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠলে সংসদ সদস্য হানজালা ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া জানান।

সালিশে উপস্থিত বিএনপি কর্মী তারা মিয়া বলেন, ‘বিচার চলাকালে আমার সঙ্গে কথা-কাটাকাটি হয়। আমার মনে হয়েছে, এমপি সাহেব অন্যদের কথা শোনার সুযোগ না দিয়ে একতরফাভাবে সিদ্ধান্ত দিতে চাচ্ছিলেন। আমি এর প্রতিবাদ করলে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। পরে এক লাখ টাকা জরিমানাও করা হয়। যাকে জরিমানা করা হয়েছে, তিনি একজন দরিদ্র মানুষ। তার পক্ষে এত টাকা দেওয়া কঠিন।’

 

তারা মিয়া আরও বলেন, ‘যেখানে শত শত মানুষের উপস্থিতিতে সালিশ অনুষ্ঠিত হয়, সেখানে পক্ষে-বিপক্ষে নানা মতামত আসতেই পারে। একজন বিচারকের দায়িত্ব হলো ধৈর্যের সঙ্গে সেসব কথা শোনা। অন্যথায় সেটি জনসম্মুখের সালিশ না হয়ে একতরফা সিদ্ধান্তে পরিণত হয়।’

 

স্থানীয়রা জানান, বৈঠকে উত্তেজনাকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হলে এমপি হানজালা মেজাজ হারিয়ে ফেলেন। এ সময় উপস্থিত একজন মোবাইল ফোনে ভিডিও ধারণ করছিলেন। পরে ভিডিও ধারণ বন্ধ করার নির্দেশ দেওয়া হলে রেকর্ডিংটি সেখানেই শেষ হয়।

 

ভিডিওটি সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর বিষয়টি নিয়ে রাজনৈতিক ও সামাজিক অঙ্গনে নানা প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে।

 

তবে অভিযোগের বিষয়ে সংসদ সদস্য পীরজাদা সাইদ উদ্দিন আহমদ হানজালা বলেন, ‘ঘটনাটি এক থেকে দেড় মাস আগের। এলাকার মানুষ আমাকে ছাড়া সালিশে বসতে চায়নি, তাই আমি সেখানে গিয়েছিলাম। সালিশের সময় উভয় পক্ষ তর্কে জড়িয়ে পড়ে এবং বারবার কথা কাটাকাটি করছিল। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতেই আমি ধমক দিয়েছি। তবে শেষ পর্যন্ত বিচার কাজ সুন্দরভাবেই সম্পন্ন হয়েছে।’

 

প্রসঙ্গত, মাওলানা মামুনুল হকের দল বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস থেকে ১১ দলের প্রার্থী হিসেবে অল্প ভোটের ব্যবধানে প্রথমবারের মতো সংসদ সদস্য হন পীরজাদা হানজালা। এর আগেও তিনি ‘খোঁচাখুঁচি করলে বিএনপি দেশে থাকতে পারবে না’ বক্তব্য দিয়ে ব্যাপক সমালোচিত হন। পরে অবশ্য তিনি এর জন্য দুঃখ প্রকাশ করেন

চুপ করেন, একেবারে খেয়ে ফেলবো’— সালিশ বৈঠকে এমপি হানজালা

জ্বালানি তেল ও বিদ্যুতের দাম বাড়ানোর প্রতিবাদে রাজধানীতে বিক্ষোভ সমাবেশ ও মিছিল করেছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী।

 

আজ বৃহস্পতিবার (০৪ জুন) বিকেলে জামায়াতে ইসলামী ঢাকা মহানগরীর উদ্যোগে বায়তুল মোকাররমের উত্তর গেট থেকে বিক্ষোভ মিছিলটি বের হয়। মিছিলটি পল্টন ও কাকরাইল মোড় ঘুরে শান্তিনগরে গিয়ে শেষ হয়।

 

জ্বালানি তেল ও বিদ্যুতের দাম বাড়ানো সরকারের গণবিরোধী সিদ্ধান্ত বলে আখ্যা দিয়েছেন দলটির নেতারা।

 

বিক্ষোভ সমাবেশে মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, ‘দুই বছর দাম না বাড়ানোর আশ্বাস দিলেও মাত্র তিন মাসের মাথায় মূল্যবৃদ্ধি করে সরকার জনগণের সঙ্গে করা প্রতিশ্রুতি ভঙ্গ করেছে।’

 

তিনি অবিলম্বে এ সিদ্ধান্ত প্রত্যাহারের দাবি জানান এবং তা না হলে সরকারকে জনগণের ক্ষোভের মুখে পড়তে হতে পারে বলেও হুশিয়ারি দেন।

 

বিদ্যুতের মূল্যবৃদ্ধির সিদ্ধান্তকে ‘গণবিরোধী’ আখ্যা দিয়ে জামায়াত সেক্রেটারি বলেন, ‘ গ্রাহক পর্যায়ে ছয়টি স্লটে যেভাবে দাম বাড়ানো হয়েছে, তাতে প্রান্তিক ও দরিদ্র মানুষ চরম ভোগান্তিতে পড়বে। বিদ্যুৎ সেক্টরে সিস্টেম লস ও ক্যাপাসিটি চার্জের নামে হাজার হাজার কোটি টাকা লুটপাট ও দুর্নীতি বন্ধ না করে, সাধারণ মানুষের পকেট কেটে সেই টাকা ভরাট করার চেষ্টা চলছে।’

 

তিনি বলেন, ‘আমরা আইএমএফ বা বিশ্বব্যাংকের গোলাম নই। তাদের কথায় বিদ্যুতের মূল্য বৃদ্ধি করে জনগণের দুঃখ-কষ্ট বাড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। সারা বিশ্ব যখন নবায়নযোগ্য জ্বালানির দিকে ঝুঁকছে, সরকার সেদিকে কোনো পদক্ষেপ না নিয়ে সাধারণ মানুষের ওপর বোঝার ওপর শাকের আঁটি চাপিয়ে দিচ্ছে।’

 

সমাবেশ শেষে বায়তুল মোকাররম থেকে একটি বিক্ষোভ মিছিল বের হয়। মিছিলটি পল্টন ও কাকরাইল মোড় ঘুরে শান্তিনগরে গিয়ে শেষ হয়।

 

প্রসঙ্গত, বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি) সংবাদ সম্মেলন করে বিদ্যুতের দাম বাড়ানোর ঘোষণা দেয়। পাইকারি ও খুচরা—উভয় পর্যায়েই বিদ্যুতের দাম বাড়ানো হয়েছে। পাইকারি পর্যায়ে বিদ্যুতের দাম গড়ে ১৯ দশমিক ৮৫ শতাংশ, সঞ্চালন চার্জ ২৩ দশমিক ৯৬ শতাংশ ও গ্রাহক পর্যায়ে বিদ্যুতের দাম গড়ে ১৬ দশমিক ৬৮ শতাংশ বাড়ানো হয়েছে। নতুন দাম জুন থেকে কার্যকর।

জ্বালানি তেল ও বিদ্যুতের দাম বাড়ানোর প্রতিবাদে জামায়াতের বিক্ষোভ

 

জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সিনিয়র যুগ্ম মুখ্য সমন্বয়ক ও নোয়াখালী-৬ (হাতিয়া) আসনের সংসদ সদস্য আব্দুল হান্নান মাসউদের বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ তুলেছেন বিএনপি নেতা রাশেদ খান।

 

বুধবার (৩ জুন) নিজের ফেসবুক পোস্টে রাশেদ খান দাবি করেন, গণঅভ্যুত্থানের পর সমন্বয়কদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি দুর্নীতিতে জড়িয়ে পড়েন হান্নান মাসউদ।

তিনি অভিযোগ করেন, আওয়ামী লীগের বিভিন্ন নেতার সঙ্গে হান্নান মাসউদের একাধিক বৈঠক হয়েছে এবং এসব বৈঠকের অনেকগুলো রাজধানীর পল্টন এলাকার একটি হোটেলে অনুষ্ঠিত হতো।

 

রাশেদ খানের দাবি, এক পর্যায়ে আওয়ামী লীগের একজন সাবেক সংসদ সদস্যকে বিমানবন্দর পর্যন্ত পৌঁছে দেওয়ার বিষয়ে ৪ কোটি টাকার একটি সমঝোতার আলোচনা হয়।

 

বৈঠক শেষে হান্নান মাসউদ আব্দুল গাফফার জিসানকে বলেন, সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি ১ কোটি টাকা দিতে চান, তবে ৩ কোটি টাকায় চুক্তি করার চেষ্টা করতে হবে। তিনি আরও দাবি করেন, ওই নেতাদের কাছে নগদ অর্থ রয়েছে এবং অর্থের প্রয়োজন আছে বলেও হান্নান মাসউদ মন্তব্য করেছিলেন।

 

পোস্টে রাশেদ খান বলেন, হান্নান মাসউদের বিভিন্ন কর্মকাণ্ডের প্রত্যক্ষ সাক্ষী হাতিয়ার বাসিন্দা আব্দুল গাফফার জিসান।

 

তিনি জানান, ২৭ জুলাইয়ের পর আত্মগোপনে থাকা অবস্থায় রিফাত রশিদ, মাহিন সরকার ও আব্দুল গাফফার জিসানের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ ছিল। জিসান বিভিন্ন সময় সমন্বয়কদের ছবি ও ভিডিও ধারণের কাজও করতেন বলে উল্লেখ করেন তিনি।

 

রাশেদ খানের ভাষ্য অনুযায়ী, গণঅভ্যুত্থানের সময় থেকে জিসান হান্নান মাসউদের নিরাপত্তার দায়িত্বে ছিলেন। তবে হান্নান মাসউদের অর্থের প্রতি অতিরিক্ত আগ্রহ ও আচরণগত পরিবর্তনের কারণে পরবর্তীতে তিনি দূরে সরে যান।

 

ফেসবুক পোস্টে নোয়াখালীর হাতিয়া আসনের সাবেক আওয়ামী লীগ সংসদ সদস্য মোহাম্মদ আলীকে নিয়েও মন্তব্য করেন রাশেদ খান।

 

তার দাবি, হান্নান মাসউদ মনে করতেন মোহাম্মদ আলী তার রাজনৈতিক পথে প্রধান বাধা। এ কারণে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রভাব ব্যবহার করে তাকে গ্রেফতারে ভূমিকা রাখা হয়েছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।

 

রাশেদ খান আরও দাবি করেন, ব্যক্তিগত আলোচনায় হান্নান মাসউদ নাকি বলেছেন যে নোয়াখালীর আওয়ামী লীগের অন্য নেতাদের সঙ্গে তার কোনো দ্বন্দ্ব নেই, কেবল মোহাম্মদ আলীর সঙ্গেই বিরোধ রয়েছে।

 

একই সঙ্গে নোয়াখালীর রাজনীতিতে প্রভাবশালী হতে হলে মোহাম্মদ আলীর মতো অর্থবিত্তের মালিক হওয়ার প্রয়োজনীয়তার কথাও তিনি বিভিন্ন আলোচনায় তুলে ধরতেন বলে অভিযোগ করা হয়েছে।

আ.লীগ নেতাকে বিমানবন্দরে পৌঁছে দিতে ৩ কোটি দাবি করেছিলেন হান্নান মাসউদ’

বাজেট অধিবেশন শুরুর আগে তড়িঘড়ি করে জ্বালানি তেলের মূল্য বৃদ্ধি করা এক ধরনের ধোঁকাবাজি বলে মন্তব্য করেছেন জামায়াতে ইসলামীর আমির ও বিরোধী দলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান।

 

তিনি বলেন, ‘সরকার আগে আশ্বস্ত করেছিল অন্তত চলতি মাসে জ্বালানি তেলের দাম বাড়ানো হবে না। এরপরও যদি নতুন করে মূল্যবৃদ্ধির সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়, তবে তা হবে জনস্বার্থবিরোধী পদক্ষেপ।

 

রোববার (৩১ মে) দিনগত মধ্যরাতে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেইজে দেওয়া এক পোস্টে এসব কথা বলেন ডা. শফিকুর রহমান।

 

তিনি বলেন, ‘গত মাসেই এক দফায় ৮ থেকে ১২ শতাংশ পর্যন্ত জ্বালানি তেলের মূল্য বৃদ্ধি করা হয়েছে। কোনো কোনো ক্ষেত্রে এর চেয়েও বেশি দাম বেড়েছে। এর প্রভাব পড়ে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের বাজারেও, ফলে দ্রব্যমূল্য আরও বেড়ে গেছে। কিন্তু মানুষের আয় না বাড়লেও বেকারত্ব ক্রমাগত বৃদ্ধি পাচ্ছে।’তিনি অভিযোগ করেন, ‘এমন পরিস্থিতিতে আবারও জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধির উদ্যোগের খবর পাওয়া যাচ্ছে, যা সাধারণ মানুষের দুর্ভোগ আরও বাড়াবে। জনগণ ইতোমধ্যে দিশেহারা অবস্থার মধ্যে রয়েছে। তারা কোথায় যাবে, কী করবে এবং কীভাবে জীবনযাপন করবে—সেই প্রশ্ন এখন সামনে চলে এসেছে।’

 

জামায়াত আমির বলেন, ‘এক সপ্তাহের ব্যবধানে জাতীয় বাজেট অধিবেশন শুরু হতে যাচ্ছে। এর আগে যদি তড়িঘড়ি করে জ্বালানি তেলের মূল্য বৃদ্ধি করা হয়, তাহলে তা জনগণের সঙ্গে প্রতারণার শামিল হবে।’

 

তিনি এ ধরনের যেকোনো জনস্বার্থবিরোধী সিদ্ধান্তের বিরোধিতা করার ঘোষণা দেন।

 

বিবৃতিতে দেশবাসীর প্রতি আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, জনগণের অধিকার আদায়ে জনগণকেই সচেতন ও সোচ্চার হতে হবে। নিজেদের অধিকার প্রতিষ্ঠার জন্য কথা বলতে হবে এবং গণতান্ত্রিক উপায়ে দাবি আদায় করতে হবে। এ ক্ষেত্রে জামায়াতে ইসলামী জনগণের পাশে থাকবে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

 

বিরোধী দলীয় নেতা বলেন, দেশে বর্তমানে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির যে অবনতি ঘটেছে, তার সঙ্গে জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধি ও দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি যুক্ত হয়ে দেশ ও সমাজের অস্তিত্বকে চ্যালেঞ্জের মুখে ঠেলে দিচ্ছে।

 

তিনি আরও বলেন, অধিকার কেউ কাউকে এনে দেয় না; তা সংগ্রাম ও আন্দোলনের মাধ্যমেই অর্জন করতে হয়।

 

এর আগে রোববার জুন মাসের জন্য দেশে জ্বালানি তেলের নতুন মূল্য নির্ধারণ করে সরকার। নতুন দাম অনুযায়ী, অকটেন, পেট্রোল ও কেরোসিনের দাম লিটারপ্রতি ৫ টাকা করে বেড়েছে। তবে ডিজেলের দাম অপরিবর্তিত রাখা হয়েছে।

 

এদিন রাতে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগ এ–সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন জারি করে। নতুন মূল্য আজ (সোমবার) থেকেই কার্যকর হবে।

জ্বালানি তেলের দাম বাড়ানোর উদ্যোগ জনস্বার্থবিরোধী: জামায়াত আমির

বিস্তারিত....

সারাবাংলা

 

তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নের দাবিতে নীলফামারীতে ৮ কিলোমিটার এলাকাজুড়ে মানববন্ধন

 

মাইদুল ইসলাম: (জেলা প্রতিনিধি নীলফামারী)

তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নের দাবিতে নীলফামারীতে মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়েছে। আজ শনিবার (২০ জুন) সকালে তিস্তা মহা পরিকল্পনা বাস্তবায়ন সংগ্রাম কমিটির আয়োজনে এই মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। তিস্তা ব্যারেজের সামনে থেকে শুরু হয়ে ডালিয়া- পাগলাপীর সড়কের প্রায় ৮ কিলোমিটার এলাকা জুড়ে এই মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়ন সংগ্রাম কমিটির অন্যতম সদস্য প্রভাষক ছাদের হোসেনের সঞ্চালনায় মানববন্ধনে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়ন সংগ্রাম কমিটির উপদেষ্টা নীলফামারী-১ আসনের সংসদ সদস্য মাওলানা ওবায়দুল্লাহ সালাফি ও নীলফামারী-৪ আসনের সংসদ সদস্য হাফেজ মোহাম্মদ আব্দুল মুনতাকিম। অন্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন সংগ্রাম কমিটির সদস্য মাওলানা আস্তাজুল ইসলাম, অধ্যাপক আনোয়ারুল ইসলাম, মজিবুর রহমান, মোখলেছার রহমান, মনিরুজ্জামান জুয়েল, আব্দুল কাদিম, অ্যাডভোকেট মামুনুর রশিদ পাটোয়ারী, সাংবাদিক কামরুজ্জামান প্রমুখ। প্রধান অতিথির বক্তব্যে নীলফামারী-১ আসনের সংসদ সদস্য অধ্যক্ষ মাওলানা আব্দুস সাত্তার বলেন বৃহস্পতিবার মন্ত্রী পরিষদের দুইজন সদস্য তিস্তা ব্যারেজ এলাকা পরিদর্শন করেন। কিন্তু অত্যন্ত পরিতাপের বিষয় এর কয়েক ঘণ্টা পর তিস্তায় পানি প্রবাহ বেড়ে যায়। এই বিষয়ে অবশ্যই সংসদে কথা উঠাতে হবে। কি কারনে উজানে ভারী বর্ষণ ছাড়াই তিস্তায় পানি প্রবাহ বাড়ল। এজন্য আন্তর্জাতিক আইনে অবশ্যই মামলা করতে হবে। তা না হলে ভারতকে সামলানো যাবে না। ভারত আমাদের প্রতিবেশী রাষ্ট্র, বন্ধু নয়। তিনি আরো বলেন তিস্তা নদী কয়েকটি জেলার উপর দিয়ে প্রবাহিত। তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়ন হলে প্রায় দুই কোটি লোক উপকৃত হবে। নদী শাসন হবে, নদী সুশৃংখল হবে। তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়ন হলে রংপুর-বগুড়া অঞ্চলের জনপদ উপকৃত হবে। সুতরাং দেশের স্বার্থে, জাতীয় স্বার্থে সর্বপরি বাংলাদেশকে বাঁচাতে হলে তিস্তা মহাপরিকল্পনা অতি দ্রুত বাস্তবায়ন করতে হবে। মানববন্ধনে নীলফামারী জেলার বিভিন্ন শ্রেণী- পেশার বিপুল সংখ্যক মানুষ অংশ নেয়।

তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নের দাবিতে নীলফামারীতে ৮ কিলোমিটার এলাকাজুড়ে মানববন্ধন

টাঙ্গাইলের মধুপুরে ছাগল উদ্ধার করতে গিয়ে পরিত্যক্ত সেপটিক ট্যাংকে নেমে বাবা-ছেলেসহ চার জনের মৃত্যু হয়েছে।

 

শনিবার (২০ জুন) সকাল সাড়ে ৮টার দিকে উপজেলার টেলকি এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে। মধুপুর থানার ওসি এ.কে এম ফজলুর হক ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।

 

নিহতরা হলেন- বাবা বাবুল হাদিমা(৪৮), তার ছেলে নেইমার, বাবুল হাদিমার শ্যালক রতন নকরেক(২৬) ও বোন জামাই গাব্রিয়েল সাংমা (৪২)।

 

পুলিশ ও স্থানীয়রা জানান, শনিবার সকালে বাবুল হাদিমার একটি ছাগল বাড়ির নিকটস্থ একটি পরিত্যক্ত সেপটিক ট্যাংকে পড়ে যায়। ছাগলটি উদ্ধারের জন্য বাবুল হাদিমার ছেলে নেইমার সেপটিক ট্যাংকে নামে। কিন্তু তার কোনো সাড়া শব্দ না পেয়ে তার মামা রতন সাংমা সেপটিক ট্যাংকে নামেন। একইভাবে গ্রাবিয়াল এবং শেষে রতন।

 

একে একে সেপটিক ট্যাংকে নামা চারজনের কারও কোনো সাড়া না পেয়ে স্থানীয়রা ডাকাডাকি শুরু করে। পরে আশপাশের লোকজন ছুটে আসেন। এ সময় স্থানীয়রা ফায়ার সার্ভিসকে খবর দিলে ঘটনার প্রায় দুই ঘন্টা পর সেপটিক ট্যাংক থেকে তাদেরকে মৃত অবস্থায় উদ্ধার করা হয়।

 

মধুপুর থানার ওসি এ.কে এম ফজলুর হক জানান, পুরোনো সেপটিক ট্যাংকটিতে ময়লা-আবর্জনা ফেলায় সেখানে গ্যাসের সৃষ্টি হয়ে এ মর্মান্তিক ঘটনায় ঘটে। পরিবারের আবেদনে ময়নাতদন্ত ছাড়াই মরদেহ স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।

পরিত্যক্ত সেপটিক ট্যাংক থেকে ছাগল উদ্ধার করতে গিয়ে ৪ জনের মৃত্যু

ময়মনসিংহের হালুয়াঘাট উপজেলার ধুরাইল ইউনিয়নের পশ্চিম রামনগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সামনের সড়কে জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয় বর্ষায়। ফলে হাঁটুসমান পানি মাড়িয়ে বিদ্যালয়ে যেতে বাধ্য হয় কোমলমতি শিক্ষার্থীরা। চরম দুর্ভোগে পড়েছেন শিক্ষার্থী ও তাদের অভিভাবকরা।

 

সড়কটি জলে টইটুম্বুর থাকায় স্কুল ব্যাগ কাঁধে নিয়ে শিশুরা ঝুঁকি নিয়ে পানির মধ্য দিয়ে বিদ্যালয়ে যাতায়াত করে। অনেক স্থানে রাস্তার অস্তিত্বও বোঝা যায় না, যা দুর্ঘটনার আশঙ্কা বাড়িয়ে তুলেছে।

 

বিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, ১৯৩৮ সালে প্রতিষ্ঠিত পশ্চিম রামনগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়টি দীর্ঘ ৮৮ বছর ধরে এলাকায় শিক্ষার আলো ছড়িয়ে আসছে। ধুরাইল বাজার থেকে প্রায় আট কিলোমিটার দূরে চরগোরকপুর বাজারের দক্ষিণ পাশে বিদ্যালয়টির অবস্থান। তবে প্রতিষ্ঠার পর থেকে এখন পর্যন্ত বিদ্যালয়ের প্রধান সংযোগ সড়কটি পাকা হয়নি।বিদ্যালয়টিতে বর্তমানে ১৯৭ জন শিক্ষার্থী অধ্যয়ন করছে। আশপাশের কয়েকটি গ্রামের শিক্ষার্থীরা প্রতিদিন এ বিদ্যালয়ে যাতায়াত করে।

 

এলাকাবাসীর অভিযোগ, নির্বাচনের সময় বিদ্যালয়টি গুরুত্বপূর্ণ ভোটকেন্দ্র হিসেবে ব্যবহার করা হলেও সড়ক উন্নয়নে কার্যকর কোনো উদ্যোগ নেওয়া হয়নি।

 

অভিভাবক আব্দুল মান্নান বলেন, ‘আজ বাচ্চাকে কাঁধে করে স্কুলে নিয়ে এসেছি। সামান্য বৃষ্টিতেই রাস্তা পানিতে ডুবে যায়। মাত্র ৫০০ মিটার রাস্তার কারণে বছরের পর বছর আমাদের এই দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে।’

 

স্থানীয় বাসিন্দা রহিমা খাতুন ও মো. রাকিবুল ইসলাম বলেন, সামান্য বৃষ্টিতেই এই সড়কে পানি জমে যায়। এতে শুধু শিক্ষার্থীরাই নয়, পুরো এলাকার মানুষ দুর্ভোগে পড়েন। দ্রুত সড়কটি উঁচু করে পাকা করা হলে সমস্যার স্থায়ী সমাধান হবে।

 

বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক জাহাঙ্গীর হোসেন জানান, চরগোরকপুর প্রধান সড়ক থেকে বিদ্যালয় পর্যন্ত সংযোগ সড়কটি সংস্কার না হওয়ায় প্রতি বর্ষায় শিক্ষক-শিক্ষার্থী সবাইকে ভোগান্তিতে পড়তে হয়।

 

প্রধান শিক্ষক মোহাম্মদ মিজানুর রহমান বলেন, বর্ষা এলেই শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের চরম দুর্ভোগ পোহাতে হয়। যথাযথ কর্তৃপক্ষের কাছে আমার অনুরোধ, সড়কটি দ্রুত উঁচু করে সংস্কার করা হোক, যাতে নিরাপদ যাতায়াত ও স্বাভাবিক পাঠদান নিশ্চিত করা যায়।

 

উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা সেলিমা আক্তার খাতুন বলেন, বিষয়টি আপনার (সাংবাদিক) মাধ্যমে প্রথম জানলাম। প্রধান শিক্ষককে প্রয়োজনীয় কাগজপত্রসহ লিখিত আবেদন করতে বলা হবে।

 

উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (পিআইও) আশীষ কর্মকার বলেন, বিদ্যালয়টি ভোটকেন্দ্র হওয়ায় প্রাথমিকভাবে সেখানে মাটি ফেলে চলাচলের উপযোগী করা হয়েছে। মাটি বসার জন্য কিছুটা সময় দেওয়া হয়েছে। আগামী শুষ্ক মৌসুমে সেখানে এইচবিবি (ইটের সলিং) করে সড়কটি টেকসইভাবে নির্মাণ করা হবে।

হাঁটুপানি মাড়িয়ে স্কুলে যাচ্ছে শিক্ষার্থীরা

বিস্তারিত....

Top