Gono television | বাংলাদেশ সরকার অনুমোদিত বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেল। - Gono television is the Bangladesh Government Approved 24/7 News Based TV Channel and Most Reliable News Source and Leading 24/7 News Based TV Channel in Bangladesh, It also the Most Popular News Media for Bangaldesh and Bengali Audience worlwide since 2016.

সংবাদ শিরোনামঃ
স্মার্ট কৃষি ও নিরাপদ খাদ্য উৎপাদনে নীলফামারীতে পার্টনার কংগ্রেস অনুষ্ঠিত আলজেরিয়া ডিফেন্ডার আমার গোড়ালি ভেঙে গেলেও মেসি কার্ড পেত না মানিকগঞ্জে ১ লাখ ৩৫ হাজার টাকা নিয়ে উধাও রকেট এজেন্টের কর্মী, থানায় অভিযোগ ঢাকার গণপরিবহন ব্যবস্থায় বড় পরিবর্তন, নতুন নিয়মে চলবে বাস পরীমণি কাণ্ড: বাধ্যতামূলক অবসরে এডিসি সাকলায়েন সংসদে মাথা ঝুঁকিয়ে সম্মান প্রদর্শনের রীতি বাতিল ঘোষণা ২ জুলাই থেকে অভিন্ন প্রশ্নপত্রে এইচএসসি পরীক্ষা: শিক্ষামন্ত্রী নিষ্ঠুর সত্য হলো, রোনালদো আর পারছেন না বন্ধু হবা, কফি খাব আর মজা করব—ছাত্রীকে খুবি শিক্ষক সবার মতামত নিয়েই গণমাধ্যম কমিশন গঠন করা হবে: তথ্য প্রতিমন্ত্রী

কেপ ভার্দের গোলরক্ষক ভোজিনহার মা অবশেষে যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে ছেলের বিশ্বকাপের খেলা মাঠে বসে দেখতে পারবেন। ভিসা ফি মওকুফ করায় এই সুযোগ তৈরি হয়েছে বলে জানিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র সরকার।

 

৪০ বছর বয়সী ভোজিনহা সোমবার স্পেনের বিপক্ষে কেপ ভার্দের চমকপ্রদ ড্রয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন। ম্যাচ শেষে আবেগঘন প্রতিক্রিয়ায় তিনি জানান, উচ্চ ভিসা ফি ও সংশ্লিষ্ট খরচের কারণে তার মা যুক্তরাষ্ট্রে এসে বিশ্বকাপ দেখতে পারছিলেন না। কার্লো-ন্যাশনালিস্টসহ স্থানীয় সংবাদমাধ্যম এ বিষয়ে খবর প্রকাশ করেছে।

 

বিষয়টি সামনে আসার পর যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধি পরিষদে ডেমোক্র্যাটিক নেতা হাকিম জেফ্রিস উদ্যোগ নেন। তিনি জানান, পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিওর সঙ্গে কথা বলে তিনি কেপ ভার্দের গোলরক্ষকের মায়ের জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের অনুরোধ করেন।

 

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক বার্তায় জেফ্রিজ বলেন, কেপ ভার্দের ‘ব্লু শার্কস’-এর লড়াকু মানসিকতা ও সাফল্যে বিশ্বের ফুটবলপ্রেমীরা আনন্দিত হলেও ভোজিনহার মায়ের অনুপস্থিতির খবর সেই আনন্দ কিছুটা ম্লান করে দিয়েছিল।

 

তিনি আরও বলেন, কোনো মায়েরই তার সন্তানের ইতিহাস গড়ার মুহূর্ত সরাসরি দেখার সুযোগ হাতছাড়া হওয়া উচিত নয়।

 

জেফ্রিজ জানান, যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর নিয়ম অনুযায়ী সব ভিসা ফি মওকুফ করেছে এবং ভোজিনহার মা আনা ক্যান্ডিডা এভোরা আগামী রোববার উরুগুয়ের বিপক্ষে কেপ ভার্দের ম্যাচ দেখতে যুক্তরাষ্ট্রে যেতে পারবেন। বর্তমানে মা-ছেলের পুনর্মিলনের জন্য মায়ামিতে ভ্রমণের ব্যবস্থা করা হচ্ছে।

 

এ ঘটনায় সহযোগিতার জন্য তিনি মার্কো রুবিও, যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর, কেপ ভার্দে সরকারের প্রতিনিধি এবং ফিফাকে ধন্যবাদ জানান।

 

কেপ ভার্দের বিশ্বকাপ যাত্রায় এই মানবিক উদ্যোগ নতুন মাত্রা যোগ করেছে। স্পেনের বিপক্ষে ঐতিহাসিক ফলের পর এখন উরুগুয়ের বিপক্ষে ম্যাচের প্রস্তুতি নিচ্ছে দলটি। সব কিছু ঠিক থাকলে এবারও ভোজিনহা মাঠে নামবেন। মায়ের উপস্থিতি তাকে দিবে বাড়তি অনুপ্রেরণা।

স্বপ্ন পূরণ হচ্ছে ভোজিনহার, মাঠ থেকে সরাসরি দেখবেন মা

স্মার্ট কৃষি ও নিরাপদ খাদ্য উৎপাদনে নীলফামারীতে পার্টনার কংগ্রেস অনুষ্ঠিত

সাইদুল ইসলাম: (জেলা প্রতিনিধি নীলফামারী)

স্মার্ট কৃষি ও নিরাপদ খাদ্য উৎপাদন নিশ্চিত করার লক্ষ্যে নীলফামারীতে প্রোগ্রাম অন এগ্রিকালচারাল এন্ড রুরাল ট্রান্সফরর্মেশন অব নিউট্রিশন, এন্টারপ্রেনরশিপ এন্ড রেজিলেশনস ইন বাংলাদেশ (পার্টনার) প্রোগ্রামের আওতায় পার্টনার কংগ্রেস অনুষ্ঠিত হয়েছে। বৃহস্পতিবার

(১৮ জুন) সদর উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের আয়োজনে উপজেলা পরিষদ চত্বরে এ কংগ্রেস অনুষ্ঠিত হয়। এতে কৃষক, উদ্যোক্তা, বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের কর্মকর্তা অংশ নেন। অনুষ্ঠানে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক মোছাঃ হোমায়রা মন্ডলের সভাপতিত্বে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ নায়িরুজামান। স্বাগত বক্তব্য রাখেন সদর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ আতিক আহমেদ, জেলা মৎস্য কর্মকর্তা বরুন কুমার মন্ডল, সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোবাশ্বিরা আমাতুল্লাহ এবং জেলা বিএনপি’র জ্যৈষ্ঠ যুগ্ম আহবায়ক সোহেল পারভেজ। অনুষ্ঠানে সঞ্চালনা করেন উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা রাকিব আবেদীন। এ সময় বক্তারা বলেন, প্রযুক্তিনির্ভর চাষাবাদ, পুষ্টিসমৃদ্ধ খাদ্য উৎপাদন ও কৃষি উদ্যোক্তা সৃষ্টি দেশের কৃষিকে আধুনিক ও টেকসই করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। তারা জানান, পার্টনার ফিল্ড স্কুলের (পিএফএস) প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত কৃষকদের জ্ঞান ও অভিজ্ঞতা অন্যান্য কৃষকদের মধ্যেও ছড়িয়ে পড়ছে, যা কৃষির আধুনিকায়ন ভূমিকা রাখছে। শেষে আরেকটি অনুষ্ঠানে জাতীয় ফল মেলা উপলক্ষে ফল বাগান সৃজনে বিশেষ ভূমিকা রাখায় উদ্যোক্তাদের সম্মাননা প্রদান করা হয়। ২০২৫-২৬ অর্থ বছরে ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক কৃষকদের মাঝে কৃষি পূর্ণবাসন ও প্রণোদনা কর্মসূচির আওতায় রোপা আমনের বীজ,ফলজ, বনজ ও ঔষধি গাছের চারা এবং বিনামূল্যে সার বিতরণ করা হয়। এর আগে ফল মেলা পরিদর্শন করেন জেলা প্রশাসক ও অন্যান্য অতিথিরা।

স্মার্ট কৃষি ও নিরাপদ খাদ্য উৎপাদনে নীলফামারীতে পার্টনার কংগ্রেস অনুষ্ঠিত

প্রতিবেদনে বলা হয়, ম্যাচের এক পর্যায়ে মেসির বিপজ্জনক ট্যাকলের শিকার হলেও রেফারি কোনো ব্যবস্থা নেননি। এমনকি ভিডিও সহকারী রেফারি (ভিএআর) পর্যালোচনার পরও আর্জেন্টাইন অধিনায়ককে কোনো কার্ড দেখানো হয়নি বলে অভিযোগ করেন আলজেরিয়ার অভিজ্ঞ ডিফেন্ডার আইসা মান্দি। একইসঙ্গে এ ঘটনার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নিজের হতাশা প্রকাশ করেন তিনি।

 

আইসা মান্দি বলেন, ‘গত রাতে যদি আমার গোড়ালি ভেঙেও যেত, তবু যে খেলোয়াড় এটা করেছে সে কোনো কার্ড পেত না। রেফারিদের আরও ভালো হতে হবে। পুরো বিশ্ব তাদের দিকে তাকিয়ে আছে।’

 

মূলত সিমন মারচিনিয়াকের এই সিদ্ধান্তকে ঘিরে ফুটবলপ্রেমী ও বিশ্লেষকদের মধ্যে ইতোমধ্যেই তর্ক-বিতর্ক শুরু হয়েছে। অনেকের মতে, মেসির ট্যাকলটি অন্তত হলুদ কার্ড পাওয়ার মতো ছিল। আবার কেউ কেউ বলছেন, ঘটনাটি খেলার অংশ এবং রেফারির সিদ্ধান্ত সঠিক ছিল।

 

এ বিষয়ে আলজেরিয়ার কোচ ভ্লাদিমির পেতকোভিচও ম্যাচ শেষে বলেন, তাদের দল কিছু ভুল করেছে, যা মেসির মতো খেলোয়াড়কে আরও বেশি সুযোগ করে দিয়েছে।

 

যদিও ট্যাকল প্রসঙ্গে তিনি সরাসরি মন্তব্য করেননি।

আলজেরিয়া ডিফেন্ডার আমার গোড়ালি ভেঙে গেলেও মেসি কার্ড পেত না

মানিকগঞ্জে দুই ব্যবসায়ীর কাছ থেকে ১ লাখ ৩৫ হাজার টাকা আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে রকেট এজেন্টের কর্মী মো. আশিকুর রহমানের (২৪) বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় মানিকগঞ্জ সদর থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন ভুক্তভোগীরা।

 

সোমবার (১৫ জুন) সন্ধ্যায় শহরের দেবেন্দ্র কলেজ এলাকার ফ্রেন্ডস কম্পিউটার ও মুনা কম্পিউটার নামের দুটি প্রতিষ্ঠানে এ ঘটনা ঘটে।

 

অভিযুক্ত আশিকুর রহমান ঘিওর উপজেলার সাইংজুরী এলাকার মো. আমিনুর রহমানের ছেলে। তিনি স্থানীয় একটি রকেট এজেন্ট প্রতিষ্ঠানের কর্মী বলে জানা গেছে।

 

অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, আশিকুর রহমান রকেট অ্যাকাউন্টে ব্যালেন্স রিচার্জের কথা বলে ফ্রেন্ডস কম্পিউটার দোকানে যান। তার অনুরোধে দোকানের মালিক মো. সুজন মিয়া অভিযুক্তের বিকাশ নম্বরে ৪৫ হাজার টাকা পাঠান। পরে ওই টাকা রকেট নম্বরে পাঠানোর কথা থাকলেও আশিকুর কিছু সময়ের মধ্যে টাকা পৌঁছে যাবে বলে দোকান থেকে চলে যান। কিন্তু নির্ধারিত অ্যাকাউন্টে টাকা না পৌঁছালে সুজন মিয়া তার সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করেন। তবে অভিযুক্তের মোবাইল ফোন বন্ধ পাওয়া যায়।

 

একই কৌশলে মুনা কম্পিউটার দোকানের শেয়ারহোল্ডার মো. মনির হোসেনের কাছ থেকেও ৯০ হাজার টাকা নেওয়ার অভিযোগ রয়েছে। রকেট লেনদেনে সাময়িক সমস্যার কথা বলে এই অর্থ নিয়ে যাওয়ার পর তার সঙ্গে আর যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।

 

পরে তারা খোঁজ নিয়ে জানতে পারেন, একই ধরনের কৌশলে আরও কয়েকজনের কাছ থেকেও অর্থ হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ রয়েছে আশিকুর রহমানের বিরুদ্ধে।

 

ভুক্তভোগী সুজন মিয়া বলেন, “আশিকুর রহমানের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করেও তাকে না পেয়ে আমরা প্রতিষ্ঠানের ম্যানেজার মো. দেলোয়ার হোসেনের সঙ্গে যোগাযোগ করি। বিষয়টি জানালে তিনিও কিছু সময়ের জন্য মোবাইল ফোন বন্ধ রাখেন। প্রায় এক বছর ধরে আশিকুরের সঙ্গে আমাদের আর্থিক লেনদেন হয়ে আসছিল। হঠাৎ করে তাকে চাকরি থেকে অব্যাহতি দেওয়া হলেও এ বিষয়ে আমাদের কোনো ধরনের তথ্য জানানো হয়নি। এমনকি তার পরিবর্তে নতুন কাউকেও আমাদের সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দেওয়া হয়নি। ফলে আমরা তাকে প্রতিষ্ঠানের কর্মী হিসেবেই বিশ্বাস করেছি এবং সেই আস্থার ভিত্তিতেই তার কাছে টাকা জমা দিয়েছি।”

 

এ বিষয়ে অভিযুক্ত আশিকুর রহমানের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তবে কথা হয় তার ছোট ভাই ও বাবা আমিনুর রহমানের সঙ্গে।

 

আশিকুরের ছোট ভাই জানান, দুপুর পর্যন্ত তিনি তার ভাইয়ের সঙ্গেই ছিলেন। পরে আশিকুর নিজের মোবাইল ফোনটি তার কাছে রেখে যান। মোবাইলটিতে তার কিছু গুরুত্বপূর্ণ তথ্য ছিল বলে তিনি জানান।

 

অন্যদিকে আশিকুরের বাবা আমিনুর রহমান বলেন, “আমার ছেলেকে পাঠাও কোম্পানির ম্যানেজার নিয়ে গেছে। সে এখন কোথায় আছে, আমি জানি না। ছেলের সঙ্গে যখনই কথা হয়, তখন শুধু টাকা পাঠানোর কথা বলে।”

 

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, পাঠাও কোম্পানির টাকাও আত্মসাতের অভিযোগ রয়েছে আশিকুরের বিরুদ্ধে।

 

এ ব্যাপারে পাঠাও কোম্পানির ম্যানেজার নাজমুল হাসানের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে প্রতিষ্ঠানের এক কর্মীর মাধ্যমে তিনি জানান, এই মুহূর্তে তিনি এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য করতে চান না।

 

রকেট ডিস্ট্রিবিউটর মানিকগঞ্জ শাখার ম্যানেজার মো. দেলোয়ার হোসেন বলেন, “অভিযুক্ত আশিকুর রহমানকে গত ১৫ জুন প্রতিষ্ঠান থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। তার বিরুদ্ধে ওঠা অর্থ আত্মসাতের বিষয়ে আমরা জেনেছি এবং থানায় অভিযোগ দিয়েছি।”

 

এ ব্যাপারে মানিকগঞ্জ সদর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. মনির হোসেন বলেন, “অভিযোগ আছে কি না, দেখে বলতে হবে। অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

মানিকগঞ্জে ১ লাখ ৩৫ হাজার টাকা নিয়ে উধাও রকেট এজেন্টের কর্মী, থানায় অভিযোগ

ঢাকার গণপরিবহন ব্যবস্থায় শৃঙ্খলা ফেরাতে রাজধানীর সব বাস একক কোম্পানির অধীনে পরিচালনার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম।

 

বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) সচিবালয়ের গণমাধ্যম কেন্দ্রে বাংলাদেশ সেক্রেটারিয়েট রিপোর্টার্স ফোরাম (বিএসআরএফ) আয়োজিত ‘বিএসআরএফ সংলাপ’-এ তিনি এ তথ্য জানান।

 

মন্ত্রী বলেন, বাস মালিকদের সমন্বয়ে একটি পৃথক কোম্পানি গঠন করে রাজধানীর গণপরিবহন পরিচালনা করা হবে। এই ব্যবস্থায় নির্দিষ্ট মান, অভিন্ন রঙ, বৈধ ফিটনেস এবং প্রয়োজনীয় যাত্রীসেবা নিশ্চিত করে ঢাকার বিভিন্ন রুটে বাস চলাচল করবে।

 

তিনি বলেন, বর্তমানে একই রুটে বিভিন্ন মালিকের বাস পরিচালিত হওয়ায় অস্বাস্থ্যকর প্রতিযোগিতা তৈরি হচ্ছে। এর ফলে বাসগুলো নির্ধারিত টার্মিনাল ও স্টপেজ এড়িয়ে যত্রতত্র যাত্রী ওঠানামা করায় যানজট ও বিশৃঙ্খলা বাড়ছে। নতুন ব্যবস্থার মাধ্যমে এসব অনিয়ম বন্ধ করা হবে।

 

শেখ রবিউল আলম আরও জানান, ভবিষ্যতে বাসগুলো নির্দিষ্ট রুটে চলবে এবং কেবল নির্ধারিত টার্মিনাল ও স্টপেজেই যাত্রী ওঠানামা করবে। যেখানে-সেখানে যাত্রী ওঠানামার বর্তমান প্রবণতা আর অনুমোদন করা হবে না।

 

এ ছাড়া পরিবেশবান্ধব যোগাযোগব্যবস্থা গড়ে তুলতে সড়কে ইলেকট্রিক যানবাহন ব্যবহারে উৎসাহ দেওয়া হচ্ছে বলেও জানান তিনি। কোন রুটে কোন কোম্পানি বাস পরিচালনা করবে, সে বিষয়ে বাস মালিকরা কাজ করছেন বলে উল্লেখ করেন মন্ত্রী।

 

বিএসআরএফের সভাপতি মাসউদুল হকের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সংলাপটি সঞ্চালনা করেন সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক উবায়দুল্লাহ বাদল।

 

 

ঢাকার গণপরিবহন ব্যবস্থায় বড় পরিবর্তন, নতুন নিয়মে চলবে বাস

ঢাকা মহানগর পুলিশের গোয়েন্দা বিভাগের সাবেক অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কমিশনার (এডিসি) ও বর্তমানে ঝিনাইদহ ইন-সার্ভিস ট্রেনিং সেন্টারের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. গোলাম সাকলায়েনকে বাধ্যতামূলক অবসরে পাঠিয়েছে সরকার।

 

বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের শৃঙ্খলা-২ শাখা থেকে জারি করা এক প্রজ্ঞাপনে বাধ্যতামূলক অবসরের কথা জানানো হয়। রাষ্ট্রপতির আদেশক্রমে প্রজ্ঞাপনের সই করেন মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব মনজুর মোর্শেদ চৌধুরী।

 

এর আগে মঙ্গলবার এ বিষয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব (শৃঙ্খলা অনুবিভাগ) কাজী মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম বলেন, বিষয়টি মন্ত্রীর দপ্তর থেকে জানা যেতে পারে। ঘটনাটি আমিও দেখেছি। এ ব্যাপারে এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি। তবে ঘটনাটি সত্য।

 

২০২৪ সালের ১৩ জুন স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের শৃঙ্খলা-২ শাখা থেকে উপসচিব রোকেয়া পারভিন জুঁইয়ের সই করা এক চিঠিতে গোলাম সাকলায়েনকে ‘গুরুদণ্ড’ হিসেবে চাকরি থেকে ‘বাধ্যতামূলক অবসর প্রদান’ পরামর্শের জন্য নির্দেশক্রমে অনুরোধ জানানো হয়।

 

ওই চিঠিতে বলা হয়, বিভিন্ন সময়ে (দিনে ও রাতে) নায়িকা পরীমনির বাসায় এডিসি গোলাম সাকলায়েন অবস্থান করেছেন বলে প্রমাণ পাওয়া যায় মোবাইল ফোনের ফরেনসিক রিপোর্ট দেখে। তাকে গুরুদণ্ড দেওয়ার বিষয়ে মতামত চেয়ে সরকারি কর্ম কমিশনের কাছে চিঠি পাঠানো হয়েছে।

 

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, ২০২১ সালের ১৩ জুন ঢাকার অদূরে সাভারের বিরুলিয়ার বোট ক্লাবের ঘটনার পর পরীমনিকে ধর্ষণচেষ্টা ও শারীরিক নির্যাতন করা হয়েছে বলে অভিযোগ এনে মামলা করা হয়। মামলার পরদিনই আসামি হিসেবে ক্লাব নেতা ব্যবসায়ী নাসির উদ্দিন মাহমুদকে ঢাকার উত্তরার একটি বাসা থেকে গ্রেফতার করা হয়। তার সঙ্গে গ্রেফতার হন আরও কয়েকজন সহযোগী।

 

মামলা তদন্তের অংশ হিসেবে পরীমনিকে গোয়েন্দা কার্যালয়ে ডেকে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করা হয়। তখনই ডিবির গুলশান বিভাগের অতিরিক্ত উপ-কমিশনার (এডিসি) গোলাম সাকলায়েনের সঙ্গে পরিচয় হয় পরীমনির। এরপর দুজনের মধ্যে শুরু হয় যোগাযোগ। নিয়মিত পরীমনির বাসায় যাতায়াত শুরু করেন গোলাম সাকলায়েন। মাঝেমধ্যেই গাড়ি নিয়ে বের হতেন দুজনে।

 

সংশ্লিষ্ট সূত্রের তথ্যানুযায়ী, সবশেষ পরীমনি ডিবির কর্মকর্তা গোলাম সাকলায়েনের রাজারবাগের মধুমতি ভবনের বাসায় গিয়ে প্রায় ১৮ ঘণ্টা অবস্থান করেন। ২০২১ সালের ৪ আগস্ট রাতে গ্রেফতারের পর পরীমনি অকপটে স্বীকার করেন সবকিছু।

পরীমণি কাণ্ড: বাধ্যতামূলক অবসরে এডিসি সাকলায়েন

জাতীয় সংসদে অধিবেশন কক্ষে প্রবেশ ও বের হওয়ার সময় মাথা ঝুঁকিয়ে স্পিকারের চেয়ার বা সভাপতির প্রতি সম্মান জানানোর রীতি বাতিলের ঘোষণা দিয়েছেন স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমেদ। তিনি এ বিষয়ে সংসদ সদস্যদের নিজ নিজ ধর্মীয় রীতি মেনে চলতে বলেছেন।

 

বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) সংসদের অধিবেশনে এই সিদ্ধান্ত দেন স্পিকার। তিনি বলেন, ‘জাতীয় সংসদের কার্যপ্রণালি বিধির ২৬৭ অনুযায়ী, সংসদের বৈঠক চলাকালে সংসদে প্রবেশ করার বা সংসদকক্ষ ত্যাগ করার সময় এবং আসন গ্রহণ বা ত্যাগ করার সময় কোনো সদস্য সভাপতির প্রতি সম্মান প্রদর্শন করবেন। অষ্টম সংসদে বিধিটি সংশোধন করে ‘ঝুঁকিয়া’ শব্দটি বাদ দেওয়া হয়।

 

তিনি বলেন, আমি পরীক্ষা করে দেখেছি, অষ্টম সংসদের কার্যপ্রণালি বিধিসংক্রান্ত স্থায়ী কমিটি সংসদে একটি প্রতিবেদন উপস্থাপন করে, যা পরে সংসদে বিবেচিত ও গৃহীত হয়। এর মধ্যে ২৬৭ (১) বিধির সংশোধনী অন্তর্ভুক্ত ছিল।

 

স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমেদ সংসদ সদস্যদের উদ্দেশে বলেন, ‘যেহেতু কার্যপ্রণালি বিধি থেকে ঝুঁকিয়া শব্দটি বাদ দেওয়া হয়েছে, সেহেতু আপনারা জাতীয় সংসদে যার যার ধর্মীয় রীতি অনুযায়ী স্পিকারের চেয়ার বা সভাপতির প্রতি সম্মান জানাবেন।’

 

এর আগে গত ১৬ জুন জামায়াতে ইসলামীর সংসদ সদস্য মো. মুজিবুর রহমান স্পিকারের প্রতি মাথা ঝুঁকিয়ে সম্মান জানানোর বিষয়টি সুরাহার জন্য পয়েন্ট অব অর্ডারে দাঁড়িয়ে অনুরোধ জানান।

 

তিনি আপত্তি তুলে বলেছিলেন, মাথা ঝুঁকিয়ে সম্মান জানানোর এই রীতি ইসলামের সঙ্গে ‘সাংঘর্ষিক’ এবং তা ‘শিরকের কাছাকাছি চলে যায়’। তখন স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমেদ জানিয়েছিলেন, সংসদের কার্যপ্রণালি বিধি দেখে বিষয়টি পরে সংসদকে জানানো হবে।

সংসদে মাথা ঝুঁকিয়ে সম্মান প্রদর্শনের রীতি বাতিল ঘোষণা

আগামী ২ জুলাই থেকে শুরু হতে যাওয়া এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষা অভিন্ন (একই) প্রশ্নপত্রে অনুষ্ঠিত হবে বলে জানিয়েছেন শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন।

 

আজ বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) দুপুরে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে মন্ত্রী এই সিদ্ধান্তের কথা জানান।

 

শিক্ষামন্ত্রী বলেন, এবার আমরা অভিন্ন প্রশ্নে পরীক্ষার ব্যবস্থা করেছি, দেখি কী হয়। প্রতিটি বোর্ডের মধ্যে একটি সুস্থ প্রতিযোগিতা থাকে, মূলত সেই উদ্দেশ্য থেকেই আমাদের এই সিদ্ধান্ত।

 

পরীক্ষা চলাকালীন যেকোনো প্রাকৃতিক দুর্যোগ বা আপৎকালীন পরিস্থিতির প্রস্তুতি প্রসঙ্গে মন্ত্রী বলেন, পরীক্ষার সময় দুর্যোগ হলে তা মোকাবিলার জন্য আমাদের পর্যাপ্ত ব্যবস্থা রয়েছে। প্রশ্নপত্র যথাসময়ে আগেই নির্দিষ্ট কেন্দ্রে পৌঁছে যাবে। যেকোনো সমস্যা এড়াতে আমাদের আগাম প্রস্তুতি ও প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেওয়া আছে।

 

সংবাদ সম্মেলনে আরও উপস্থিত ছিলেন প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ, প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা বিষয়ক উপদেষ্টা ড. মাহদী আমিন, মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের সচিব আবদুল খালেক, মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদফতরের (মাউশি) মহাপরিচালক প্রফেসর ড. খান মইনুদ্দিন আল মাহমুদ সোহেল এবং প্রাথমিক শিক্ষা অধিদফতরের মহাপরিচালক শাহীনা ফেরদৌসীসহ মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাবৃন্দ।

২ জুলাই থেকে অভিন্ন প্রশ্নপত্রে এইচএসসি পরীক্ষা: শিক্ষামন্ত্রী

অনেক দিক থেকে দেখলে, বিষয়টি আসলে পুরোপুরি ক্রিস্টিয়ানো রোনালদোর দোষ নয়।

 

যখন বছরের পর বছর আপনাকে বলা হয় আপনি এখনো আগের মতোই সেরা, যখন কোচ আপনাকে নিয়মিত একাদশে রাখেন, যখন হাজারো দর্শক শুধুমাত্র আপনাকে দেখার জন্য স্টেডিয়ামে আসে, তখন নিজের সামর্থ্য সম্পর্কে বিশ্বাস হারানো কঠিন। বরং স্বাভাবিকভাবেই মনে হবে, সেই পুরোনো জাদু এখনো কোথাও রয়ে গেছে।

 

কিন্তু ফুটবল শেষ পর্যন্ত অনুভূতির নয়, বাস্তবতার খেলা। আর বাস্তবতা বলছে, রোনালদো আর আগের রোনালদো নন।

 

হিউস্টনে ডিআর কঙ্গোর বিপক্ষে পর্তুগালের ১-১ গোলে ড্রয়ের ম্যাচটি ছিল সেই বাস্তবতার আরেকটি নির্মম স্মারক। এক ঘণ্টারও বেশি সময় মাঠে থেকেও ম্যাচে তার প্রভাব ছিল প্রায় অদৃশ্য। এমন নয় যে তিনি ভয়াবহ খেলেছেন। বরং সমস্যা ছিল অন্য জায়গায়—তিনি যেন খেলাতেই ছিলেন না।

 

পুরো ম্যাচে রোনালদোর সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য মুহূর্ত ছিল বিরতির পর পাওয়া দুটি সুযোগ। দুটিই কাছের পোস্ট ঘেঁষে বাইরে চলে যায়। প্রথমটি কঠিন সুযোগ ছিল, দ্বিতীয়টিতে তিনি বল ছেড়ে দিলে পেছনে থাকা ব্রুনো ফার্নান্দেস আরও ভালো অবস্থানে শট নিতে পারতেন।

 

ফক্স স্পোর্টসে ম্যাচ বিশ্লেষণে সাবেক ফরাসি কিংবদন্তি থিয়েরি অঁরি মন্তব্য করেছিলেন, “দলের গোল দরকার। গোলটা তোমাকেই করতে হবে এমন নয়।”

 

ইঙ্গিতটা ছিল স্পষ্ট—রোনালদো যেন দলের প্রয়োজনের চেয়ে নিজের গোলের হিসাবেই বেশি মনোযোগী ছিলেন।

 

এরপর ম্যাচে তার অবদান প্রায় শূন্য। একসময় যেসব ক্রসে তিনি অবিশ্বাস্য উচ্চতায় লাফিয়ে হেড করতেন, সেসব পরিস্থিতিতেও এবার তাকে নিষ্ক্রিয় দেখা গেছে। একটি দারুণ ক্রস দূরের পোস্টে ভেসে এলে তিনি লাফ দেওয়ার চেষ্টাও করলেন না। শেষ পর্যন্ত সহজেই বল ক্লিয়ার করে দেন চান্সেল এমবেমবা।

 

একসময় প্রতিপক্ষের জন্য আতঙ্কের নাম ছিলেন রোনালদো। এখন তিনি বেশি পরিচিত নিজের অতীতের জন্য।

 

৪১ বছর বয়সী এই ফরোয়ার্ডকে মাঠে রাখার সবচেয়ে বড় যুক্তি হলো, তিনি এখনো প্রতিপক্ষের মনোযোগ নিজের দিকে টেনে নিতে পারেন। বিবিসির বিশ্লেষণে সাবেক ইংলিশ তারকা ওয়েইন রুনি বলেছিলেন, রোনালদোর অফসাইড অবস্থানে থাকা অনেক সময় প্রতিপক্ষকে বিভ্রান্ত করে এবং সতীর্থদের জন্য জায়গা তৈরি করে।

 

কিন্তু সমস্যা হলো, সেই ফাঁকা জায়গা তৈরি করলেও রোনালদো নিজে আর আগের মতো হুমকি হয়ে উঠতে পারছেন না।

 

ডিআর কঙ্গোর মিডফিল্ডার এনগালায়েল মুকাউও ম্যাচ শেষে পরোক্ষভাবে সেটিই স্বীকার করেন। তার ভাষায়, রোনালদো আর আগের মতো দৌড়ান না এবং বয়সের প্রভাব তার খেলায় স্পষ্ট।

 

তবু পর্তুগাল কোচ রবার্তো মার্টিনেজ তার সিদ্ধান্তের পক্ষে দৃঢ় অবস্থান নিয়েছেন। ম্যাচ শেষে তিনি বলেন, “যে ম্যাচে আমাদের গোল দরকার, সেখানে ফুটবল ইতিহাসের সর্বোচ্চ গোলদাতাকে মাঠ থেকে তুলে নেওয়ার কোনো অর্থ হয় না।”

 

সেখানে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ শব্দটি ছিল—‘ইতিহাস’।

নিষ্ঠুর সত্য হলো, রোনালদো আর পারছেন না

খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের (খুবি) এগ্রোটেকনোলজি ডিসিপ্লিনের প্রধান অধ্যাপক রেজাউল ইসলামের বিরুদ্ধে ছাত্রীদের সঙ্গে অশালীন আচরণ, যৌন হয়রানি ও অনৈতিক সম্পর্ক স্থাপনের প্রস্তাব দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী এক ছাত্রীর লিখিত অভিযোগের পর অন্য ভুক্তভোগী ছাত্রীরাও শিক্ষকের কুরুচিপূর্ণ মন্তব্যের বিভিন্ন বার্তা প্রকাশ করেছেন।

 

এসব মেসেজের স্ক্রিনশর্ট যা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে দেশব্যাপী সমালোচনার ঝড় ওঠে।

ছাত্রীদের কুরুচিপূর্ণ মন্তব্যের একাধিক স্ক্রিনশর্ট প্রতিবেদকের হাতে এসেছে। সেখানে দেখা যায় ওই শিক্ষক ছাত্রীদের ইনবক্সে ‘বন্ধু হবা, কফি খাব আর মজা করব’, ‘বন্ধুর সঙ্গে হাগ করলে ডিপ্রেশন থাকে না’, ‘আমি তোমাকে ছাড়া থাকতে পারব না, তোমার মতো মেয়ে বিয়ের আগে পাওয়া দরকার ছিল’–এমন সব বার্তা পাঠিয়েছেন।

 

গত মঙ্গলবার বিশ্ববিদ্যালয়ের যৌন হয়রানি ও নিপীড়ন নিরোধকেন্দ্রে কৃষিপ্রযুক্তি বিভাগের শিক্ষার্থীরা ভুক্তভোগীর পক্ষে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের উত্যক্ত করা মেসেজসংবলিত প্রমাণপত্রসহ লিখিত অভিযোগ করে ওই শিক্ষকের অব্যাহতির দাবি জানিয়েছেন।

 

ভুক্তভোগী ছাত্রী বলেন, আমাকে তিনি মেসেঞ্জারের পাশাপাশি হোয়াটসঅ্যাপেও কল দিয়ে এসব কথা বলতেন। আমি নিজেই তাকে ফ্রেন্ডরিকোয়েস্ট পাঠালে তিনি এক্সেপ্ট করেই এসব বাক্য প্রদান শুরু করেন। ভুক্তভোগীর দাবি, ক্যাম্পাস বন্ধ হওয়ার আগ মুহূর্তে এসব অশালীন বাক্য প্রদানের ঘটনা ঘটায় তৎক্ষণাৎ তিনি ভয় পেয়ে সিনিয়রদের জানান।

 

বিচারের দাবি জানিয়ে তিনি আরো বলেন, ‘একজন শিক্ষকের কাছ থেকে এ ধরনের আচরণ কোনোভাবেই প্রত্যাশিত নয়।

 

শুরুতে প্রভাবশালী এই ব্যক্তির বিরুদ্ধে মুখ খুলতে ভয় পেলেও, অন্যায়ের বিরুদ্ধে কথা বলা প্রয়োজন মনে করেই আমি সামনে এসেছি। আমি চাই অন্য ভুক্তভোগীরাও সাহস করে কথা বলুক এবং এ ঘটনার এমন একটি দৃষ্টান্তমূলক বিচার হোক, যাতে ভবিষ্যতে আর কোনো শিক্ষার্থীকে এই পরিস্থিতির শিকার হতে না হয়।’

এই ঘটনা সামনে আসার পরে পূর্বে আরো কয়েকজন ছাত্রীর সঙ্গে এমন ঘটনার কথা সামনে আসে। একই ডিসিপ্লিনের আরো দুজন ছাত্রী হেনস্তার কথা জানান এই প্রতিবেদককে। অভিযুক্ত শিক্ষকের বিরুদ্ধে এক ছাত্রী অতীতে মৌখিক ও মানসিক হেনস্তার অভিযোগ তুলে বলেন, ‘প্রায় এক যুগ আগে যখন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এতটা জনপ্রিয় ছিল না, তখনো ক্লাসের সবার সামনে কিংবা গভীর রাতে ফোন ও মেসেজে ছাত্রীদের নানা ধরনের আপত্তিকর ও অস্বস্তিকর প্রশ্ন করতেন আমাদের বিভাগের শিক্ষক রেজাউল ইসলাম।

 

 

 

বন্ধু হবা, কফি খাব আর মজা করব—ছাত্রীকে খুবি শিক্ষক

 

জাতীয় গণমাধ্যম কমিশন সরকার একতরফাভাবে চাপিয়ে দিতে চায় না, বরং অংশীজনদের সবার মতামত নিয়েই এই কমিশন গঠন করা হবে বলে জানিয়েছেন তথ্য ও সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রী ইয়াসের খান চৌধুরী। স্বাধীন গণমাধ্যম প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে সরকারের সদিচ্ছার কথাও পুনর্ব্যক্ত করেন তিনি।

 

আজ বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) রাজধানীর একটি অভিজাত হোটেলে ‘জাতীয় গণমাধ্যম কমিশনের রূপরেখা প্রণয়ন’ শীর্ষক এক কর্মশালায় স্বাগত বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

 

তথ্য ও সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রী বলেন, স্বাধীন ও মুক্ত গণমাধ্যম প্রতিষ্ঠায় বর্তমান সরকার আন্তরিকভাবে কাজ করে যাচ্ছে। আর সেই লক্ষ্যকে সামনে রেখেই সরকার ‘জাতীয় গণমাধ্যম কমিশন’ গঠন করতে চাইছে। তবে এই কমিশন গঠনের ক্ষেত্রে সরকার কোনো সিদ্ধান্ত একতরফাভাবে চাপিয়ে দেবে না। সবার পরামর্শ ও মতামতের ভিত্তিতে একটি গ্রহণযোগ্য রূপরেখা তৈরি করা হবে।

 

গণমাধ্যমের ভূমিকার কথা উল্লেখ করে ইয়াসের খান চৌধুরী বলেন, সরকারের কোনো ভুলত্রুটি থাকলে তা অবশ্যই গণমাধ্যম ধরিয়ে দেবে। তবে এর পাশাপাশি সরকারের ভালো ও জনকল্যাণমূলক কাজগুলোও গণমাধ্যমে সমানভাবে আসা উচিত বলে তিনি মন্তব্য করেন।

 

তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে মূল প্রবন্ধ (কি-নোট) উপস্থাপন করেন প্রধানমন্ত্রীর তথ্য বিষয়ক উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান। কর্মশালায় গণমাধ্যম ব্যক্তিত্ব, জ্যেষ্ঠ সাংবাদিক এবং তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাগণ উপস্থিত ছিলেন।

সবার মতামত নিয়েই গণমাধ্যম কমিশন গঠন করা হবে: তথ্য প্রতিমন্ত্রী

জামালপুর হামলা পাল্টা হামলার মধ্য দিয়ে জেলার সানন্দবাড়ী তে থমথমে অবস্থা বিরাজমান।

জাতীয়

জাতীয় সংসদে অধিবেশন কক্ষে প্রবেশ ও বের হওয়ার সময় মাথা ঝুঁকিয়ে স্পিকারের চেয়ার বা সভাপতির প্রতি সম্মান জানানোর রীতি বাতিলের ঘোষণা দিয়েছেন স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমেদ। তিনি এ বিষয়ে সংসদ সদস্যদের নিজ নিজ ধর্মীয় রীতি মেনে চলতে বলেছেন।

 

বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) সংসদের অধিবেশনে এই সিদ্ধান্ত দেন স্পিকার। তিনি বলেন, ‘জাতীয় সংসদের কার্যপ্রণালি বিধির ২৬৭ অনুযায়ী, সংসদের বৈঠক চলাকালে সংসদে প্রবেশ করার বা সংসদকক্ষ ত্যাগ করার সময় এবং আসন গ্রহণ বা ত্যাগ করার সময় কোনো সদস্য সভাপতির প্রতি সম্মান প্রদর্শন করবেন। অষ্টম সংসদে বিধিটি সংশোধন করে ‘ঝুঁকিয়া’ শব্দটি বাদ দেওয়া হয়।

 

তিনি বলেন, আমি পরীক্ষা করে দেখেছি, অষ্টম সংসদের কার্যপ্রণালি বিধিসংক্রান্ত স্থায়ী কমিটি সংসদে একটি প্রতিবেদন উপস্থাপন করে, যা পরে সংসদে বিবেচিত ও গৃহীত হয়। এর মধ্যে ২৬৭ (১) বিধির সংশোধনী অন্তর্ভুক্ত ছিল।

 

স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমেদ সংসদ সদস্যদের উদ্দেশে বলেন, ‘যেহেতু কার্যপ্রণালি বিধি থেকে ঝুঁকিয়া শব্দটি বাদ দেওয়া হয়েছে, সেহেতু আপনারা জাতীয় সংসদে যার যার ধর্মীয় রীতি অনুযায়ী স্পিকারের চেয়ার বা সভাপতির প্রতি সম্মান জানাবেন।’

 

এর আগে গত ১৬ জুন জামায়াতে ইসলামীর সংসদ সদস্য মো. মুজিবুর রহমান স্পিকারের প্রতি মাথা ঝুঁকিয়ে সম্মান জানানোর বিষয়টি সুরাহার জন্য পয়েন্ট অব অর্ডারে দাঁড়িয়ে অনুরোধ জানান।

 

তিনি আপত্তি তুলে বলেছিলেন, মাথা ঝুঁকিয়ে সম্মান জানানোর এই রীতি ইসলামের সঙ্গে ‘সাংঘর্ষিক’ এবং তা ‘শিরকের কাছাকাছি চলে যায়’। তখন স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমেদ জানিয়েছিলেন, সংসদের কার্যপ্রণালি বিধি দেখে বিষয়টি পরে সংসদকে জানানো হবে।

সংসদে মাথা ঝুঁকিয়ে সম্মান প্রদর্শনের রীতি বাতিল ঘোষণা

 

জাতীয় গণমাধ্যম কমিশন সরকার একতরফাভাবে চাপিয়ে দিতে চায় না, বরং অংশীজনদের সবার মতামত নিয়েই এই কমিশন গঠন করা হবে বলে জানিয়েছেন তথ্য ও সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রী ইয়াসের খান চৌধুরী। স্বাধীন গণমাধ্যম প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে সরকারের সদিচ্ছার কথাও পুনর্ব্যক্ত করেন তিনি।

 

আজ বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) রাজধানীর একটি অভিজাত হোটেলে ‘জাতীয় গণমাধ্যম কমিশনের রূপরেখা প্রণয়ন’ শীর্ষক এক কর্মশালায় স্বাগত বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

 

তথ্য ও সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রী বলেন, স্বাধীন ও মুক্ত গণমাধ্যম প্রতিষ্ঠায় বর্তমান সরকার আন্তরিকভাবে কাজ করে যাচ্ছে। আর সেই লক্ষ্যকে সামনে রেখেই সরকার ‘জাতীয় গণমাধ্যম কমিশন’ গঠন করতে চাইছে। তবে এই কমিশন গঠনের ক্ষেত্রে সরকার কোনো সিদ্ধান্ত একতরফাভাবে চাপিয়ে দেবে না। সবার পরামর্শ ও মতামতের ভিত্তিতে একটি গ্রহণযোগ্য রূপরেখা তৈরি করা হবে।

 

গণমাধ্যমের ভূমিকার কথা উল্লেখ করে ইয়াসের খান চৌধুরী বলেন, সরকারের কোনো ভুলত্রুটি থাকলে তা অবশ্যই গণমাধ্যম ধরিয়ে দেবে। তবে এর পাশাপাশি সরকারের ভালো ও জনকল্যাণমূলক কাজগুলোও গণমাধ্যমে সমানভাবে আসা উচিত বলে তিনি মন্তব্য করেন।

 

তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে মূল প্রবন্ধ (কি-নোট) উপস্থাপন করেন প্রধানমন্ত্রীর তথ্য বিষয়ক উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান। কর্মশালায় গণমাধ্যম ব্যক্তিত্ব, জ্যেষ্ঠ সাংবাদিক এবং তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাগণ উপস্থিত ছিলেন।

সবার মতামত নিয়েই গণমাধ্যম কমিশন গঠন করা হবে: তথ্য প্রতিমন্ত্রী

 

প্রায় এক দশকব্যাপী তদন্ত শেষে বাংলাদেশ ব্যাংকের বহুল আলোচিত রিজার্ভ চুরির মামলায় খসড়া অভিযোগপত্র (চার্জশিট) প্রস্তুত করেছে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)। আইনি পরামর্শের জন্য খসড়া অভিযোগপত্রটি অ্যাটর্নি জেনারেলের কার্যালয়ে পাঠানো হয়েছে। দেশের ইতিহাসের অন্যতম বড় আর্থিক কেলেঙ্কারির এ ঘটনায় দেশি-বিদেশি মোট ৬৪ ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানকে অভিযুক্ত করা হয়েছে।

 

বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) গণমাধ্যমের কাছে তথ্যটি নিশ্চিত করেছেন সিআইডির মুখপাত্র জসীমউদ্দিন খান।

 

তিনি বলেন, বাংলাদেশ ব্যাংকের রিজার্ভ চুরির মামলার খসড়া অভিযোগপত্র (চার্জশিট) প্রস্তুত করেছে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ। এই আর্থিক কেলেঙ্কারির ঘটনায় দেশি-বিদেশি মোট ৬৪ ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানকে অভিযুক্ত করা হয়।

 

প্রায় ১০ হাজার পৃষ্ঠার এই খসড়া অভিযোগপত্রটি চূড়ান্ত আইনি পরামর্শের জন্য এরই মধ্যে অ্যাটর্নি জেনারেলের কার্যালয়ে হস্তান্তর করা হয়েছে বলেও জানান তিনি।

 

মিলিয়ন ডলার ফিলিপাইনের আরসিবিসি ব্যাংকে থাকা চারটি অ্যাকাউন্টে স্থানান্তর করা হয় এবং বাকি ২০ মিলিয়ন ডলার শ্রীলঙ্কার একটি ব্যাংকে পাঠানো হয়।

 

যদিও হ্যাকারদের বানান ভুলের কারণে শ্রীলঙ্কায় ২০ মিলিয়ন ডলার স্থানান্তরের প্রচেষ্টা ব্যর্থ হয়। পরে বাংলাদেশ ব্যাংক ফিলিপাইন থেকে প্রায় ১৫ মিলিয়ন ডলার পুনরুদ্ধার করতে সক্ষম হয়। এ ঘটনায় বাংলাদেশ ব্যাংকের তৎকালীন উপ-পরিচালক (হিসাব ও বাজেটিং) জোবায়ের বিন হুদা ২০১৬ সালের ১৫ মার্চ মতিঝিল থানায় মামলাটি করেন।

 

মামলাটি বর্তমানে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি) তদন্ত করছে। গত ২১ সেপ্টেম্বর সিআইডি প্রধান অতিরিক্ত আইজিপি মো. ছিবগাত উল্লাহ বলেছেন, বাংলাদেশ ব্যাংকের রিজার্ভ চুরির মামলায় ফিলিপাইনের আরসিবিসি ব্যাংকের ৮১ মিলিয়ন ডলার বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে। যথাযথ প্রক্রিয়া অনুসরণ করে দ্রুততম সময়ে এই অর্থ বাংলাদেশে ফেরত আনা হবে।

রিজার্ভ চুরিতে আতিউর রহমানসহ ৬৪ ব্যক্তি-প্রতিষ্ঠানের সম্পৃক্ততা মিলেছে

খেলাধুলা

প্রতিবেদনে বলা হয়, ম্যাচের এক পর্যায়ে মেসির বিপজ্জনক ট্যাকলের শিকার হলেও রেফারি কোনো ব্যবস্থা নেননি। এমনকি ভিডিও সহকারী রেফারি (ভিএআর) পর্যালোচনার পরও আর্জেন্টাইন অধিনায়ককে কোনো কার্ড দেখানো হয়নি বলে অভিযোগ করেন আলজেরিয়ার অভিজ্ঞ ডিফেন্ডার আইসা মান্দি। একইসঙ্গে এ ঘটনার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নিজের হতাশা প্রকাশ করেন তিনি।

 

আইসা মান্দি বলেন, ‘গত রাতে যদি আমার গোড়ালি ভেঙেও যেত, তবু যে খেলোয়াড় এটা করেছে সে কোনো কার্ড পেত না। রেফারিদের আরও ভালো হতে হবে। পুরো বিশ্ব তাদের দিকে তাকিয়ে আছে।’

 

মূলত সিমন মারচিনিয়াকের এই সিদ্ধান্তকে ঘিরে ফুটবলপ্রেমী ও বিশ্লেষকদের মধ্যে ইতোমধ্যেই তর্ক-বিতর্ক শুরু হয়েছে। অনেকের মতে, মেসির ট্যাকলটি অন্তত হলুদ কার্ড পাওয়ার মতো ছিল। আবার কেউ কেউ বলছেন, ঘটনাটি খেলার অংশ এবং রেফারির সিদ্ধান্ত সঠিক ছিল।

 

এ বিষয়ে আলজেরিয়ার কোচ ভ্লাদিমির পেতকোভিচও ম্যাচ শেষে বলেন, তাদের দল কিছু ভুল করেছে, যা মেসির মতো খেলোয়াড়কে আরও বেশি সুযোগ করে দিয়েছে।

 

যদিও ট্যাকল প্রসঙ্গে তিনি সরাসরি মন্তব্য করেননি।

আলজেরিয়া ডিফেন্ডার আমার গোড়ালি ভেঙে গেলেও মেসি কার্ড পেত না

অনেক দিক থেকে দেখলে, বিষয়টি আসলে পুরোপুরি ক্রিস্টিয়ানো রোনালদোর দোষ নয়।

 

যখন বছরের পর বছর আপনাকে বলা হয় আপনি এখনো আগের মতোই সেরা, যখন কোচ আপনাকে নিয়মিত একাদশে রাখেন, যখন হাজারো দর্শক শুধুমাত্র আপনাকে দেখার জন্য স্টেডিয়ামে আসে, তখন নিজের সামর্থ্য সম্পর্কে বিশ্বাস হারানো কঠিন। বরং স্বাভাবিকভাবেই মনে হবে, সেই পুরোনো জাদু এখনো কোথাও রয়ে গেছে।

 

কিন্তু ফুটবল শেষ পর্যন্ত অনুভূতির নয়, বাস্তবতার খেলা। আর বাস্তবতা বলছে, রোনালদো আর আগের রোনালদো নন।

 

হিউস্টনে ডিআর কঙ্গোর বিপক্ষে পর্তুগালের ১-১ গোলে ড্রয়ের ম্যাচটি ছিল সেই বাস্তবতার আরেকটি নির্মম স্মারক। এক ঘণ্টারও বেশি সময় মাঠে থেকেও ম্যাচে তার প্রভাব ছিল প্রায় অদৃশ্য। এমন নয় যে তিনি ভয়াবহ খেলেছেন। বরং সমস্যা ছিল অন্য জায়গায়—তিনি যেন খেলাতেই ছিলেন না।

 

পুরো ম্যাচে রোনালদোর সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য মুহূর্ত ছিল বিরতির পর পাওয়া দুটি সুযোগ। দুটিই কাছের পোস্ট ঘেঁষে বাইরে চলে যায়। প্রথমটি কঠিন সুযোগ ছিল, দ্বিতীয়টিতে তিনি বল ছেড়ে দিলে পেছনে থাকা ব্রুনো ফার্নান্দেস আরও ভালো অবস্থানে শট নিতে পারতেন।

 

ফক্স স্পোর্টসে ম্যাচ বিশ্লেষণে সাবেক ফরাসি কিংবদন্তি থিয়েরি অঁরি মন্তব্য করেছিলেন, “দলের গোল দরকার। গোলটা তোমাকেই করতে হবে এমন নয়।”

 

ইঙ্গিতটা ছিল স্পষ্ট—রোনালদো যেন দলের প্রয়োজনের চেয়ে নিজের গোলের হিসাবেই বেশি মনোযোগী ছিলেন।

 

এরপর ম্যাচে তার অবদান প্রায় শূন্য। একসময় যেসব ক্রসে তিনি অবিশ্বাস্য উচ্চতায় লাফিয়ে হেড করতেন, সেসব পরিস্থিতিতেও এবার তাকে নিষ্ক্রিয় দেখা গেছে। একটি দারুণ ক্রস দূরের পোস্টে ভেসে এলে তিনি লাফ দেওয়ার চেষ্টাও করলেন না। শেষ পর্যন্ত সহজেই বল ক্লিয়ার করে দেন চান্সেল এমবেমবা।

 

একসময় প্রতিপক্ষের জন্য আতঙ্কের নাম ছিলেন রোনালদো। এখন তিনি বেশি পরিচিত নিজের অতীতের জন্য।

 

৪১ বছর বয়সী এই ফরোয়ার্ডকে মাঠে রাখার সবচেয়ে বড় যুক্তি হলো, তিনি এখনো প্রতিপক্ষের মনোযোগ নিজের দিকে টেনে নিতে পারেন। বিবিসির বিশ্লেষণে সাবেক ইংলিশ তারকা ওয়েইন রুনি বলেছিলেন, রোনালদোর অফসাইড অবস্থানে থাকা অনেক সময় প্রতিপক্ষকে বিভ্রান্ত করে এবং সতীর্থদের জন্য জায়গা তৈরি করে।

 

কিন্তু সমস্যা হলো, সেই ফাঁকা জায়গা তৈরি করলেও রোনালদো নিজে আর আগের মতো হুমকি হয়ে উঠতে পারছেন না।

 

ডিআর কঙ্গোর মিডফিল্ডার এনগালায়েল মুকাউও ম্যাচ শেষে পরোক্ষভাবে সেটিই স্বীকার করেন। তার ভাষায়, রোনালদো আর আগের মতো দৌড়ান না এবং বয়সের প্রভাব তার খেলায় স্পষ্ট।

 

তবু পর্তুগাল কোচ রবার্তো মার্টিনেজ তার সিদ্ধান্তের পক্ষে দৃঢ় অবস্থান নিয়েছেন। ম্যাচ শেষে তিনি বলেন, “যে ম্যাচে আমাদের গোল দরকার, সেখানে ফুটবল ইতিহাসের সর্বোচ্চ গোলদাতাকে মাঠ থেকে তুলে নেওয়ার কোনো অর্থ হয় না।”

 

সেখানে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ শব্দটি ছিল—‘ইতিহাস’।

নিষ্ঠুর সত্য হলো, রোনালদো আর পারছেন না

নেইমারের প্রত্যাবর্তনের অপেক্ষা যেন শেষ হতে চলেছে। দীর্ঘদিনের চোট কাটিয়ে অবশেষে ব্রাজিল জাতীয় দলের সঙ্গে পূর্ণাঙ্গ অনুশীলনে ফিরেছেন দেশটির সর্বকালের সর্বোচ্চ গোলদাতা, যা সেলেসাও শিবিরে নতুন আশার সঞ্চার করেছে।

 

২০২৬ বিশ্বকাপ ক্যাম্পে যোগ দেওয়ার পর বুধবার প্রথমবারের মতো সতীর্থদের সঙ্গে অনুশীলন করেন নেইমার। যুক্তরাষ্ট্রের নিউ জার্সির মরিসটাউনের কলম্বিয়া পার্কে অনুষ্ঠিত অনুশীলনে তাকে বেশ প্রাণবন্ত দেখা যায়। এ সময় তার সঙ্গে ছিলেন দলের দুই গুরুত্বপূর্ণ তারকা মারকিনিওস ও রাফিনিয়া।

 

অনুশীলন মাঠে উপস্থিত সাংবাদিক ও আলোকচিত্রীদের দিকে এগিয়ে গিয়ে মজার ছলে নেইমার বলেন, “আমাকে মিস করেছ?”

 

তার এই মন্তব্যে উপস্থিতদের মধ্যেও উচ্ছ্বাস দেখা যায়। কয়েকজন সাংবাদিক তখন বলে ওঠেন, “অবশেষে অপেক্ষার অবসান! হালেলুইয়া!”

 

পূর্ণাঙ্গ দলীয় অনুশীলনে ফেরার পর এখন শুক্রবার ফিলাডেলফিয়ায় হাইতির বিপক্ষে ব্রাজিলের দ্বিতীয় গ্রুপ ম্যাচে নেইমারের খেলার সম্ভাবনা বেড়েছে। তবে তিনি কত মিনিট খেলবেন কিংবা শুরুর একাদশে থাকবেন কি না, সে বিষয়ে এখনও নিশ্চিত কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি।

 

৩৪ বছর বয়সী এই ফরোয়ার্ড মঙ্গলবার ব্যক্তিগত অনুশীলনে ফিরেছিলেন। এরপর একদিনের ব্যবধানে দলীয় অনুশীলনে অংশ নিয়ে পুনর্বাসনের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ ধাপ সম্পন্ন করেন।

 

নেইমারের ফেরাকে উষ্ণভাবে স্বাগত জানিয়েছেন তার সতীর্থরাও। অনুশীলনের সময় করতালির মাধ্যমে তাকে বরণ করে নেওয়া হয়। এমনকি মজার ছলে ‘ইনিশিয়েশন টানেল’ তৈরি করে তাকে অভিনন্দন জানান ব্রাজিলের ফুটবলাররা।

 

বিশ্বকাপের গুরুত্বপূর্ণ সময়ে নেইমারের ফেরার খবর ব্রাজিল সমর্থকদের জন্য নিঃসন্দেহে বড় স্বস্তির। এখন দেখার বিষয়, হাইতির বিপক্ষে ম্যাচে মাঠে নেমে তিনি কতটা প্রভাব ফেলতে পারেন।

নেইমারের অপেক্ষা যেন শেষ হতে চলেছে

কেপ ভার্দের গোলরক্ষক ভোজিনহার মা অবশেষে যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে ছেলের বিশ্বকাপের খেলা মাঠে বসে দেখতে পারবেন। ভিসা ফি মওকুফ করায় এই সুযোগ তৈরি হয়েছে বলে জানিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র সরকার।

 

৪০ বছর বয়সী ভোজিনহা সোমবার স্পেনের বিপক্ষে কেপ ভার্দের চমকপ্রদ ড্রয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন। ম্যাচ শেষে আবেগঘন প্রতিক্রিয়ায় তিনি জানান, উচ্চ ভিসা ফি ও সংশ্লিষ্ট খরচের কারণে তার মা যুক্তরাষ্ট্রে এসে বিশ্বকাপ দেখতে পারছিলেন না। কার্লো-ন্যাশনালিস্টসহ স্থানীয় সংবাদমাধ্যম এ বিষয়ে খবর প্রকাশ করেছে।

 

বিষয়টি সামনে আসার পর যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধি পরিষদে ডেমোক্র্যাটিক নেতা হাকিম জেফ্রিস উদ্যোগ নেন। তিনি জানান, পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিওর সঙ্গে কথা বলে তিনি কেপ ভার্দের গোলরক্ষকের মায়ের জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের অনুরোধ করেন।

 

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক বার্তায় জেফ্রিজ বলেন, কেপ ভার্দের ‘ব্লু শার্কস’-এর লড়াকু মানসিকতা ও সাফল্যে বিশ্বের ফুটবলপ্রেমীরা আনন্দিত হলেও ভোজিনহার মায়ের অনুপস্থিতির খবর সেই আনন্দ কিছুটা ম্লান করে দিয়েছিল।

 

তিনি আরও বলেন, কোনো মায়েরই তার সন্তানের ইতিহাস গড়ার মুহূর্ত সরাসরি দেখার সুযোগ হাতছাড়া হওয়া উচিত নয়।

 

জেফ্রিজ জানান, যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর নিয়ম অনুযায়ী সব ভিসা ফি মওকুফ করেছে এবং ভোজিনহার মা আনা ক্যান্ডিডা এভোরা আগামী রোববার উরুগুয়ের বিপক্ষে কেপ ভার্দের ম্যাচ দেখতে যুক্তরাষ্ট্রে যেতে পারবেন। বর্তমানে মা-ছেলের পুনর্মিলনের জন্য মায়ামিতে ভ্রমণের ব্যবস্থা করা হচ্ছে।

 

এ ঘটনায় সহযোগিতার জন্য তিনি মার্কো রুবিও, যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর, কেপ ভার্দে সরকারের প্রতিনিধি এবং ফিফাকে ধন্যবাদ জানান।

 

কেপ ভার্দের বিশ্বকাপ যাত্রায় এই মানবিক উদ্যোগ নতুন মাত্রা যোগ করেছে। স্পেনের বিপক্ষে ঐতিহাসিক ফলের পর এখন উরুগুয়ের বিপক্ষে ম্যাচের প্রস্তুতি নিচ্ছে দলটি। সব কিছু ঠিক থাকলে এবারও ভোজিনহা মাঠে নামবেন। মায়ের উপস্থিতি তাকে দিবে বাড়তি অনুপ্রেরণা।

স্বপ্ন পূরণ হচ্ছে ভোজিনহার, মাঠ থেকে সরাসরি দেখবেন মা

বিশ্বকাপের মঞ্চে আর্জেন্টিনার একটি অস্বস্তিকর পরিসংখ্যান ছিল। শিরোপা জয়ের পরের আসরে প্রথম ম্যাচে কখনোই জয় দিয়ে শুরু করতে পারেনি তারা। ফলে আলজেরিয়ার বিপক্ষে ম্যাচটি ঘিরে সমর্থকদের মধ্যে ছিল বাড়তি উদ্বেগ। ম্যাচে আলজেরিয়া ৩-০ গোলে হেরে যায়, যেখানে আর্জেন্টিনার হয়ে দারুণ পারফর্ম করেন লিওনেল মেসি। মেসির হ্যাটট্রিকেই দাপুটে জয় পায় আর্জেন্টিনা।

 

ম্যাচ শেষে আলজেরিয়ার কোচ পেটকোভিচ স্বীকার করেন, শুরুতেই দেওয়া কিছু ভুলের কারণেই মেসির জন্য গোল করা সহজ হয়ে যায়।

 

তিনি বলেন, ‘দুর্ভাগ্যবশত, প্রথম ও দ্বিতীয় গোলের সময় আমরাই মেসিকে সুযোগ করে দিয়েছি, ফলে তার জন্য গোল করাটা অনেক সহজ হয়ে গেছে। তবে ম্যাচের যে কোনো গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তে ঠাণ্ডা মাথায় সিদ্ধান্ত নেওয়ার যে ক্ষমতা মেসির আছে, তা দিয়ে তিনি যে কোনো কঠিন কাজকে খুব সহজে রূপ দিতে পারেন।’

 

নিজ দলের পারফরম্যান্স নিয়ে তিনি আরও বলেন, ‘নির্দিষ্ট কোনো খেলোয়াড়কে দোষ দেওয়া আমার স্বভাব নয়। তবে আমি মনে করি আর্জেন্টিনার খেলোয়াড়দের অবলীলায় শট নেওয়ার সুযোগ দিয়ে আমরা বেশ কিছু বড় ভুল করেছি। এই হারের জন্য আমরা নিজেদেরই দায় দিতে পারি, তবে এখন আমাদের এগুলো নিয়ে কাজ করতে হবে এবং এই ম্যাচ থেকে শিক্ষা নিতে হবে।’

 

এসময় আর্জেন্টিনা দলের খেলার ধরন নিয়েও মন্তব্য করে তিনি বলেন, ‘মেসি এমন একটা বাড়তি সুবিধা পান যেখানে পুরো আর্জেন্টিনা দল তার জন্য জীবন দিয়ে খেলে এবং তাকে সাহায্য করে। বছরের পর বছর, বা বলা ভালো কয়েক দশক ধরে তিনি অবিশ্বাস্য সব কীর্তি গড়ে চলেছেন। আজ আর্জেন্টিনা মোট ১০টি শট নিয়েছিল, যার মধ্যে ৭টিই ছিল মেসির।’

 

আর্জেন্টিনার বিপক্ষে ম্যাচের আগে আলজেরিয়ার কোচ ভ্লাদিমির পেতকোভিচ জানিয়েছিলেন যে তিনি সাধারণত কোনো নির্দিষ্ট খেলোয়াড়কে আলাদা করে থামানোর জন্য বিশেষ পরিকল্পনা করেন না। তার মতে, একজন খেলোয়াড়কে আটকাতে পুরো দলকে আলাদাভাবে প্রস্তুত করা কার্যকর নয়।

 

আলজেরিয়ার পরবর্তী ম্যাচ জর্ডানের বিপক্ষে আগামী ২২ জুন এবং এরপর ২৮ জুন তারা অস্ট্রিয়ার মুখোমুখি হবে। পরের রাউন্ডে যেতে হলে জয় ছাড়া বিকল্প নেই কোচ ভ্লাদিমির পেতকোভিচের শিষ্যদের হাতে।

আমরাই মেসিকে সুযোগ করে দিয়েছি: আলজেরিয়া কোচ

ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬ ঘিরে ফুটবলবিশ্বে যখন উত্তেজনা তুঙ্গে, তখন সম্ভাব্য চ্যাম্পিয়ন নিয়ে নতুন আলোচনার জন্ম দিয়েছে একটি সুপারকম্পিউটার বিশ্লেষণ। যুক্তরাজ্যের ইউনিভার্সিটি অব লিভারপুলের ম্যানেজমেন্ট স্কুলের গবেষকদের তৈরি এই মডেল জানিয়েছে, এবারের বিশ্বকাপের ফাইনালে মুখোমুখি হতে পারে ইংল্যান্ড ও স্পেন—যেখানে শিরোপা জয়ের সবচেয়ে বড় ফেভারিট হিসেবে এগিয়ে রাখা হয়েছে স্পেনকে।

 

গবেষকদের দাবি, উন্নত মেশিন লার্নিংভিত্তিক এই সিস্টেম খেলোয়াড়দের ব্যক্তিগত দক্ষতা, দলের সমন্বয়, ইনজুরি পরিস্থিতি, ফিটনেস এবং প্রতিপক্ষ বিশ্লেষণসহ একাধিক ভেরিয়েবল ব্যবহার করে ফলাফল পূর্বাভাস দেয়। এক হাজার সিমুলেশন চালিয়ে প্রতিটি দলের সম্ভাব্য পথ, নকআউট পর্বে অগ্রগতি এবং শিরোপা জয়ের সম্ভাবনাও নির্ধারণ করা হয়েছে।

 

বিশ্লেষণে দেখা গেছে, স্পেনের বিশ্বকাপ জয়ের সম্ভাবনা ২৬.১ শতাংশ, যা তালিকার শীর্ষে। এরপর রয়েছে ইংল্যান্ড ১৭ শতাংশ সম্ভাবনা নিয়ে। ফ্রান্সের সম্ভাবনা ১৩.৫ শতাংশ, বর্তমান বিশ্বচ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনার ১২.৪ শতাংশ এবং পর্তুগালের ১০.৬ শতাংশ।

 

পূর্বাভাস অনুযায়ী, ইংল্যান্ড গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন হয়ে নকআউট পর্বে উঠতে পারে। শেষ ষোলোতে তাদের সম্ভাব্য প্রতিপক্ষ হিসেবে ডিআর কঙ্গো ও মেক্সিকোর নাম উঠে এসেছে। কোয়ার্টার ফাইনালে ব্রাজিল এবং সেমিফাইনালে পর্তুগালের মুখোমুখি হওয়ার সম্ভাবনাও দেখানো হয়েছে।

 

স্কটল্যান্ডের ক্ষেত্রেও পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, তারা গ্রুপে তৃতীয় স্থানে থাকতে পারে এবং শেষ ষোলোতে ওঠার সম্ভাবনা ১১.৮ শতাংশ।

 

গোল্ডেন বুটের দৌড়ে সমান সম্ভাবনায় এগিয়ে রয়েছেন নরওয়ের আর্লিং হালান্ড এবং স্পেনের মিকেল ওইয়ারজাবাল। সিমুলেশন অনুযায়ী দুজনই গড়ে ৫.২টি করে গোল করতে পারেন।

 

গবেষণার সহ-প্রধান ড. বেঞ্জামিন হোমস জানান, ইউরো ২০২৪-এর পর মডেলটি আরও উন্নত করা হয়েছে। এতে এখন ইনজুরি, নিষেধাজ্ঞা, ম্যাচের কৌশল, আবহাওয়া এবং ভৌগোলিক বিষয়ও অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে, যা তিনটি স্বাগতিক দেশ যুক্তরাষ্ট্র, মেক্সিকো ও কানাডায় অনুষ্ঠিত টুর্নামেন্টে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।

 

তিনি বলেন, বাজিকরদের পূর্বাভাসের সঙ্গে মিল রেখে স্পেনই ফেভারিট অবস্থানে রয়েছে। তবে নরওয়ে এখানে ‘ডার্ক হর্স’ হিসেবে উঠে এসেছে, যার শিরোপা জয়ের সম্ভাবনা ৩.৬ শতাংশ।

 

অন্য একটি পৃথক গবেষণায় ইনসব্রুক বিশ্ববিদ্যালয়ের বিশ্লেষণেও স্পেনকে সামান্য ব্যবধানে ফেভারিট হিসেবে দেখানো হয়েছে। সেখানে ইংল্যান্ড, ফ্রান্স ও জার্মানি কাছাকাছি অবস্থানে থাকলেও স্পেন এগিয়ে রয়েছে।

 

বিশেষজ্ঞদের মতে, টুর্নামেন্টে ফেভারিট দলের শিরোপা জয়ের সম্ভাবনা সাধারণত সীমিত থাকে, ফলে অপ্রত্যাশিত কোনো দলও বড় সাফল্য পেতে পারে।

 

সব মিলিয়ে সুপারকম্পিউটারের এই পূর্বাভাস বিশ্বকাপের আগে নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে—প্রযুক্তির হিসাব কি মাঠের বাস্তবতাকে ধরতে পারবে, নাকি আবারও ফুটবলই প্রমাণ করবে শেষ কথা খেলা নিজেই?

বিশ্বকাপ জিতবে কোন দল? জানালো সুপারকম্পিউটার

বিস্তারিত....

বিনোদন

আজ ২৫শে বৈশাখ। বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ১৬৫ তম আবির্ভাব দিবস। ১২৬৮ বঙ্গাব্দের ২৫ শে বৈশাখ, কলকাতার জোড়াসাঁকো ঠাকুরবাড়িতে জন্ম বাংলা ভাষা ও সাহিত্যের উৎকর্ষের অন্যতম এই নায়কের। তিনি অনন্য সব সৃষ্টি গল্প, কবিতা, উপন্যাস, ছোটগল্প ও অসংখ্য গানের মধ্য দিয়ে বাংলা সাহিত্য ও সংস্কৃতিকে পৌঁছে দিয়েছেন বিশ্বের কাছে।

 

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের মা সারদাসুন্দরী দেবী এবং বাবা ব্রাহ্ম ধর্মগুরু দেবেন্দ্রনাথ ঠাকুর। তিনি কবিতা লেখা শুরু করেন আট বছর বয়সে। ১৮৯১ সাল থেকে বাবার আদেশে নদিয়া, পাবনা, রাজশাহী ও ওড়িশার জমিদারি তদারকি শুরু করেন। কুষ্টিয়ার শিলাইদহের কুঠিবাড়িতে তিনি দীর্ঘসময় অতিবাহিত করেন। ১৯০১ সালে সপরিবারে চলে আসেন বীরভূমের বোলপুর শহরের উপকণ্ঠে শান্তিনিকেতনে। তার জীবদ্দশায় এবং মৃত্যুর পর প্রকাশিত হয়েছে ৫২টি কাব্যগ্রন্থ, ৩৮টি নাটক, ১৩টি উপন্যাস, ৩৬টি প্রবন্ধ এবং অন্যান্য গদ্য সংকলন। নানা কর্মসূচির মধ্য দিয়ে আজ নোবেল বিজয়ী এই সহিত্য প্রতিভাকে স্মরণ করবে তার অগণিত ভক্ত।

 

বিটিভিতে সকাল ৯টায় থাকছে বিশেষ শিশুতোষ অনুষ্ঠান। সকাল ১০টা ৫ মিনিটে প্রচারিত হবে রবীন্দ্রসংগীতের অনুষ্ঠান ‘গীতবিতান’। সন্ধ্যা ৬টায় থাকছে বিশেষ কবিতা আবৃত্তির অনুষ্ঠান। রাত ৯টায় থাকছে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের গল্প অবলম্বনে নাটক ‘সম্পত্তি সমর্পণ’। রাত ১০টায় সংবাদের পর প্রচারিত হবে বিশেষ রবীন্দ্রসংগীতের অনুষ্ঠান। অনুষ্ঠানে কবির বিভিন্ন পর্যায়ের জনপ্রিয় ৯টি গান পরিবেশন করবেন একঝাঁক রবীন্দ্রসংগীতশিল্পী। রাত ১১টায় প্রচারিত হবে ‘চিত্রাঙ্গদা’।

 

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের সাহিত্যজগৎ ছিল নানা বর্ণ, মানসিকতা ও চেতনায় ভরপুর। তাইতো, নিঃসঙ্গতার প্রতিচ্ছবি চারুলতা, সামাজিক বেড়াজাল ভেঙে আত্মসচেতন হয়ে ওঠা বিনোদিনী কিংবা গোরা উপন্যাসের স্বদেশপ্রেম ও জাতিসত্তার পরিচয়ে জর্জরিত পুরুষের মধ্যে আজও পাঠক খুঁজে ফেরে নিজেদের। বাংলার মাটিতে যেমন তাঁর কদর, তেমনি বিশ্ব দরবারেও সমানভাবে ছড়িয়ে আছে তার দীপ্তি। সাহিত্যে অবদানের জন্য ১৯১৩ সালে নবজাগরণের এই পুরোধাকে ভূষিত করা হয় নোবেল পুরস্কারে। দিনটি উদযাপনে দেশের বিভিন্ন স্থানে আয়োজন করা হয়েছে নানা আয়োজন।

বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ১৬৫তম জন্মজয়ন্তী আজ

প্রতিবেদন: ওমর ফারুক

আজ ৩ মে বিশ্বজুড়ে পালিত হচ্ছে বিশ্ব গণমাধ্যম দিবস। গণমাধ্যমের স্বাধীনতা, দায়বদ্ধতা এবং সাংবাদিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার গুরুত্ব তুলে ধরতেই প্রতি বছর এই দিনটি পালন করা হয়।

১৯৯৩ সালে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদ আনুষ্ঠানিকভাবে ৩ মে-কে বিশ্ব গণমাধ্যম স্বাধীনতা দিবস হিসেবে ঘোষণা করে। এর আগে ১৯৯১ সালে নামিবিয়ার উইন্ডহুকে গৃহীত উইন্ডহুক ঘোষণা-এর মাধ্যমে স্বাধীন ও বহুমুখী গণমাধ্যম প্রতিষ্ঠার আহ্বান জানানো হয়, যা পরবর্তীতে এই দিবস ঘোষণার ভিত্তি তৈরি করে।

বর্তমান সময়ে গণমাধ্যম সমাজের গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে সত্য ও নিরপেক্ষ তথ্য মানুষের কাছে পৌঁছে দিচ্ছে। নানা চ্যালেঞ্জের মধ্যেও সাংবাদিকরা পেশাগত দায়িত্ব পালন করে গণতন্ত্রকে শক্তিশালী করতে অবদান রাখছেন।

বিশ্ব গণমাধ্যম দিবস উপলক্ষে গণ টেলিভিশন-এর পক্ষ থেকে দেশের সকল সাংবাদিক, গণমাধ্যমকর্মী ও দর্শকদের জানানো হয়েছে আন্তরিক শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন। সত্য ও বস্তুনিষ্ঠ সংবাদ পরিবেশনের মাধ্যমে সমাজের কল্যাণে কাজ করে যাওয়ার প্রত্যয় পুনর্ব্যক্ত করেছে প্রতিষ্ঠানটি।

আজ বিশ্ব গণমাধ্যম দিবস

প্রতিবেদনঃ ওমর ফারুক

যারা বিবাহিত, তাদের তুলনায় অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্কদের ক্যানসার হওয়ার ঝুঁকি উল্লেখযোগ্যভাবে বেশি। যুক্তরাষ্ট্রের মায়ামি বিশ্ববিদ্যালয়ের নতুন এক গবেষণায় এমন চমকপ্রদ তথ্য উঠে এসেছে।

পরিসংখ্যান অনুযায়ী, অবিবাহিত পুরুষদের ক্যানসারের ঝুঁকি বিবাহিতদের তুলনায় প্রায় ৭০ শতাংশ বেশি।

গবেষণায় দেখা গেছে, যারা কখনো বিয়ে করেননি, তাদের মধ্যে ক্যানসারে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি তুলনামূলকভাবে বেশি।

 

 

২০১৫ থেকে ২০২২ সালের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের ১২টি অঙ্গরাজ্যের ৪০ লাখের বেশি মানুষের তথ্য বিশ্লেষণ করে এই ফল পাওয়া গেছে। গবেষণায় বলা হয়েছে, প্রায় সব ধরনের প্রধান ক্যানসারের ক্ষেত্রেই অবিবাহিতদের ঝুঁকি বেশি দেখা গেছে।

 

পরিসংখ্যান অনুযায়ী, অবিবাহিত পুরুষদের ক্যানসারের ঝুঁকি বিবাহিতদের তুলনায় প্রায় ৭০ শতাংশ বেশি। নারীদের ক্ষেত্রে এই ঝুঁকি আরও বেশি, প্রায় ৮৫ শতাংশ পর্যন্ত।

 

গবেষণায় আরও দেখা গেছে, অবিবাহিত পুরুষদের মধ্যে মলদ্বারের ক্যানসারের হার বিবাহিতদের তুলনায় প্রায় পাঁচ গুণ বেশি। অন্যদিকে অবিবাহিত নারীদের ক্ষেত্রে জরায়ুমুখের ক্যানসারের হার প্রায় তিন গুণ বেশি।

গবেষকদের মতে, বিয়ে অনেক সময় মানুষের জীবনযাপনকে প্রভাবিত করে। খাদ্যাভ্যাস, স্বাস্থ্যসচেতনতা এবং নিয়মিত চিকিৎসা পরীক্ষার মতো বিষয়গুলো এতে যুক্ত থাকে। ফলে এটি পরোক্ষভাবে স্বাস্থ্যের ওপর প্রভাব ফেলতে পারে।

 

তবে বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করেছেন, এর মানে এই নয় যে বিয়ে করলেই ক্যানসার থেকে সুরক্ষা পাওয়া যাবে। বরং এটি একটি সামাজিক ও আচরণগত ইঙ্গিত মাত্র।

 

গবেষকরা আরও বলেছেন, যারা অবিবাহিত, তাদের উচিত স্বাস্থ্যঝুঁকির বিষয়ে আরও সতর্ক থাকা। নিয়মিত পরীক্ষা করানো এবং স্বাস্থ্যকর জীবনযাপন বজায় রাখে।

 

অবিবাহিতদের ক্যানসারের ঝুঁকি বেশি, বলছে গবেষণা

বিস্তারিত....

মতামত

জ্বালানি তেল ও বিদ্যুতের দাম বাড়ানোর প্রতিবাদে রাজধানীতে বিক্ষোভ সমাবেশ ও মিছিল করেছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী।

 

আজ বৃহস্পতিবার (০৪ জুন) বিকেলে জামায়াতে ইসলামী ঢাকা মহানগরীর উদ্যোগে বায়তুল মোকাররমের উত্তর গেট থেকে বিক্ষোভ মিছিলটি বের হয়। মিছিলটি পল্টন ও কাকরাইল মোড় ঘুরে শান্তিনগরে গিয়ে শেষ হয়।

 

জ্বালানি তেল ও বিদ্যুতের দাম বাড়ানো সরকারের গণবিরোধী সিদ্ধান্ত বলে আখ্যা দিয়েছেন দলটির নেতারা।

 

বিক্ষোভ সমাবেশে মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, ‘দুই বছর দাম না বাড়ানোর আশ্বাস দিলেও মাত্র তিন মাসের মাথায় মূল্যবৃদ্ধি করে সরকার জনগণের সঙ্গে করা প্রতিশ্রুতি ভঙ্গ করেছে।’

 

তিনি অবিলম্বে এ সিদ্ধান্ত প্রত্যাহারের দাবি জানান এবং তা না হলে সরকারকে জনগণের ক্ষোভের মুখে পড়তে হতে পারে বলেও হুশিয়ারি দেন।

 

বিদ্যুতের মূল্যবৃদ্ধির সিদ্ধান্তকে ‘গণবিরোধী’ আখ্যা দিয়ে জামায়াত সেক্রেটারি বলেন, ‘ গ্রাহক পর্যায়ে ছয়টি স্লটে যেভাবে দাম বাড়ানো হয়েছে, তাতে প্রান্তিক ও দরিদ্র মানুষ চরম ভোগান্তিতে পড়বে। বিদ্যুৎ সেক্টরে সিস্টেম লস ও ক্যাপাসিটি চার্জের নামে হাজার হাজার কোটি টাকা লুটপাট ও দুর্নীতি বন্ধ না করে, সাধারণ মানুষের পকেট কেটে সেই টাকা ভরাট করার চেষ্টা চলছে।’

 

তিনি বলেন, ‘আমরা আইএমএফ বা বিশ্বব্যাংকের গোলাম নই। তাদের কথায় বিদ্যুতের মূল্য বৃদ্ধি করে জনগণের দুঃখ-কষ্ট বাড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। সারা বিশ্ব যখন নবায়নযোগ্য জ্বালানির দিকে ঝুঁকছে, সরকার সেদিকে কোনো পদক্ষেপ না নিয়ে সাধারণ মানুষের ওপর বোঝার ওপর শাকের আঁটি চাপিয়ে দিচ্ছে।’

 

সমাবেশ শেষে বায়তুল মোকাররম থেকে একটি বিক্ষোভ মিছিল বের হয়। মিছিলটি পল্টন ও কাকরাইল মোড় ঘুরে শান্তিনগরে গিয়ে শেষ হয়।

 

প্রসঙ্গত, বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি) সংবাদ সম্মেলন করে বিদ্যুতের দাম বাড়ানোর ঘোষণা দেয়। পাইকারি ও খুচরা—উভয় পর্যায়েই বিদ্যুতের দাম বাড়ানো হয়েছে। পাইকারি পর্যায়ে বিদ্যুতের দাম গড়ে ১৯ দশমিক ৮৫ শতাংশ, সঞ্চালন চার্জ ২৩ দশমিক ৯৬ শতাংশ ও গ্রাহক পর্যায়ে বিদ্যুতের দাম গড়ে ১৬ দশমিক ৬৮ শতাংশ বাড়ানো হয়েছে। নতুন দাম জুন থেকে কার্যকর।

জ্বালানি তেল ও বিদ্যুতের দাম বাড়ানোর প্রতিবাদে জামায়াতের বিক্ষোভ

 

জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সিনিয়র যুগ্ম মুখ্য সমন্বয়ক ও নোয়াখালী-৬ (হাতিয়া) আসনের সংসদ সদস্য আব্দুল হান্নান মাসউদের বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ তুলেছেন বিএনপি নেতা রাশেদ খান।

 

বুধবার (৩ জুন) নিজের ফেসবুক পোস্টে রাশেদ খান দাবি করেন, গণঅভ্যুত্থানের পর সমন্বয়কদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি দুর্নীতিতে জড়িয়ে পড়েন হান্নান মাসউদ।

তিনি অভিযোগ করেন, আওয়ামী লীগের বিভিন্ন নেতার সঙ্গে হান্নান মাসউদের একাধিক বৈঠক হয়েছে এবং এসব বৈঠকের অনেকগুলো রাজধানীর পল্টন এলাকার একটি হোটেলে অনুষ্ঠিত হতো।

 

রাশেদ খানের দাবি, এক পর্যায়ে আওয়ামী লীগের একজন সাবেক সংসদ সদস্যকে বিমানবন্দর পর্যন্ত পৌঁছে দেওয়ার বিষয়ে ৪ কোটি টাকার একটি সমঝোতার আলোচনা হয়।

 

বৈঠক শেষে হান্নান মাসউদ আব্দুল গাফফার জিসানকে বলেন, সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি ১ কোটি টাকা দিতে চান, তবে ৩ কোটি টাকায় চুক্তি করার চেষ্টা করতে হবে। তিনি আরও দাবি করেন, ওই নেতাদের কাছে নগদ অর্থ রয়েছে এবং অর্থের প্রয়োজন আছে বলেও হান্নান মাসউদ মন্তব্য করেছিলেন।

 

পোস্টে রাশেদ খান বলেন, হান্নান মাসউদের বিভিন্ন কর্মকাণ্ডের প্রত্যক্ষ সাক্ষী হাতিয়ার বাসিন্দা আব্দুল গাফফার জিসান।

 

তিনি জানান, ২৭ জুলাইয়ের পর আত্মগোপনে থাকা অবস্থায় রিফাত রশিদ, মাহিন সরকার ও আব্দুল গাফফার জিসানের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ ছিল। জিসান বিভিন্ন সময় সমন্বয়কদের ছবি ও ভিডিও ধারণের কাজও করতেন বলে উল্লেখ করেন তিনি।

 

রাশেদ খানের ভাষ্য অনুযায়ী, গণঅভ্যুত্থানের সময় থেকে জিসান হান্নান মাসউদের নিরাপত্তার দায়িত্বে ছিলেন। তবে হান্নান মাসউদের অর্থের প্রতি অতিরিক্ত আগ্রহ ও আচরণগত পরিবর্তনের কারণে পরবর্তীতে তিনি দূরে সরে যান।

 

ফেসবুক পোস্টে নোয়াখালীর হাতিয়া আসনের সাবেক আওয়ামী লীগ সংসদ সদস্য মোহাম্মদ আলীকে নিয়েও মন্তব্য করেন রাশেদ খান।

 

তার দাবি, হান্নান মাসউদ মনে করতেন মোহাম্মদ আলী তার রাজনৈতিক পথে প্রধান বাধা। এ কারণে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রভাব ব্যবহার করে তাকে গ্রেফতারে ভূমিকা রাখা হয়েছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।

 

রাশেদ খান আরও দাবি করেন, ব্যক্তিগত আলোচনায় হান্নান মাসউদ নাকি বলেছেন যে নোয়াখালীর আওয়ামী লীগের অন্য নেতাদের সঙ্গে তার কোনো দ্বন্দ্ব নেই, কেবল মোহাম্মদ আলীর সঙ্গেই বিরোধ রয়েছে।

 

একই সঙ্গে নোয়াখালীর রাজনীতিতে প্রভাবশালী হতে হলে মোহাম্মদ আলীর মতো অর্থবিত্তের মালিক হওয়ার প্রয়োজনীয়তার কথাও তিনি বিভিন্ন আলোচনায় তুলে ধরতেন বলে অভিযোগ করা হয়েছে।

আ.লীগ নেতাকে বিমানবন্দরে পৌঁছে দিতে ৩ কোটি দাবি করেছিলেন হান্নান মাসউদ’

বাজেট অধিবেশন শুরুর আগে তড়িঘড়ি করে জ্বালানি তেলের মূল্য বৃদ্ধি করা এক ধরনের ধোঁকাবাজি বলে মন্তব্য করেছেন জামায়াতে ইসলামীর আমির ও বিরোধী দলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান।

 

তিনি বলেন, ‘সরকার আগে আশ্বস্ত করেছিল অন্তত চলতি মাসে জ্বালানি তেলের দাম বাড়ানো হবে না। এরপরও যদি নতুন করে মূল্যবৃদ্ধির সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়, তবে তা হবে জনস্বার্থবিরোধী পদক্ষেপ।

 

রোববার (৩১ মে) দিনগত মধ্যরাতে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেইজে দেওয়া এক পোস্টে এসব কথা বলেন ডা. শফিকুর রহমান।

 

তিনি বলেন, ‘গত মাসেই এক দফায় ৮ থেকে ১২ শতাংশ পর্যন্ত জ্বালানি তেলের মূল্য বৃদ্ধি করা হয়েছে। কোনো কোনো ক্ষেত্রে এর চেয়েও বেশি দাম বেড়েছে। এর প্রভাব পড়ে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের বাজারেও, ফলে দ্রব্যমূল্য আরও বেড়ে গেছে। কিন্তু মানুষের আয় না বাড়লেও বেকারত্ব ক্রমাগত বৃদ্ধি পাচ্ছে।’তিনি অভিযোগ করেন, ‘এমন পরিস্থিতিতে আবারও জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধির উদ্যোগের খবর পাওয়া যাচ্ছে, যা সাধারণ মানুষের দুর্ভোগ আরও বাড়াবে। জনগণ ইতোমধ্যে দিশেহারা অবস্থার মধ্যে রয়েছে। তারা কোথায় যাবে, কী করবে এবং কীভাবে জীবনযাপন করবে—সেই প্রশ্ন এখন সামনে চলে এসেছে।’

 

জামায়াত আমির বলেন, ‘এক সপ্তাহের ব্যবধানে জাতীয় বাজেট অধিবেশন শুরু হতে যাচ্ছে। এর আগে যদি তড়িঘড়ি করে জ্বালানি তেলের মূল্য বৃদ্ধি করা হয়, তাহলে তা জনগণের সঙ্গে প্রতারণার শামিল হবে।’

 

তিনি এ ধরনের যেকোনো জনস্বার্থবিরোধী সিদ্ধান্তের বিরোধিতা করার ঘোষণা দেন।

 

বিবৃতিতে দেশবাসীর প্রতি আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, জনগণের অধিকার আদায়ে জনগণকেই সচেতন ও সোচ্চার হতে হবে। নিজেদের অধিকার প্রতিষ্ঠার জন্য কথা বলতে হবে এবং গণতান্ত্রিক উপায়ে দাবি আদায় করতে হবে। এ ক্ষেত্রে জামায়াতে ইসলামী জনগণের পাশে থাকবে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

 

বিরোধী দলীয় নেতা বলেন, দেশে বর্তমানে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির যে অবনতি ঘটেছে, তার সঙ্গে জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধি ও দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি যুক্ত হয়ে দেশ ও সমাজের অস্তিত্বকে চ্যালেঞ্জের মুখে ঠেলে দিচ্ছে।

 

তিনি আরও বলেন, অধিকার কেউ কাউকে এনে দেয় না; তা সংগ্রাম ও আন্দোলনের মাধ্যমেই অর্জন করতে হয়।

 

এর আগে রোববার জুন মাসের জন্য দেশে জ্বালানি তেলের নতুন মূল্য নির্ধারণ করে সরকার। নতুন দাম অনুযায়ী, অকটেন, পেট্রোল ও কেরোসিনের দাম লিটারপ্রতি ৫ টাকা করে বেড়েছে। তবে ডিজেলের দাম অপরিবর্তিত রাখা হয়েছে।

 

এদিন রাতে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগ এ–সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন জারি করে। নতুন মূল্য আজ (সোমবার) থেকেই কার্যকর হবে।

জ্বালানি তেলের দাম বাড়ানোর উদ্যোগ জনস্বার্থবিরোধী: জামায়াত আমির

ঢাকা জেলা উত্তর সহ দেশবাসীকে পবিত্র ঈদুল আযহার শুভেচ্ছা জানালেন মাহাফুজ ইকবাল।

 

রাকিবুল ইসলাম রঞ্জু:

 

পবিত্র ঈদুল আযহা উপলক্ষে ঢাকা জেলা উত্তরসহ সমগ্র দেশবাসীকে আন্তরিক শুভেচ্ছা ও মোবারকবাদ জানিয়েছেন ঢাকা জেলা উত্তর ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক মোঃ মাহাফুজ ইকবাল

 

এক শুভেচ্ছা বার্তায় ছাত্রদল নেতা মাহাফুজ ইকবাল বলেন, “ঈদুল আযহা আমাদের মাঝে ত্যাগের মহিমা ও আত্মশুদ্ধির এক অনন্য বার্তা নিয়ে হাজির হয়। মহান আল্লাহর সন্তুষ্টির উদ্দেশ্যে নিজের প্রিয় বস্তুকে উৎসর্গ করার মাধ্যমেই এই ঈদের প্রকৃত সার্থকতা নিহিত।”

 

তিনি আরও বলেন, ঈদের এই আনন্দ যেন সমাজের প্রতিটি স্তরের মানুষের মাঝে ছড়িয়ে পড়ে, বিশেষ করে সুবিধাবঞ্চিত ও অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়িয়ে তাদের মুখে হাসি ফোটানোই হোক এবারের ঈদের অন্যতম লক্ষ্য। ত্যাগের এই মহান আদর্শকে ধারণ করে সবাইকে হিংসা-বিদ্বেষ ভুলে ঐক্যবদ্ধভাবে একটি সুখী, সমৃদ্ধ ও বৈষম্যহীন সমাজ গঠনে এগিয়ে আসার আহ্বান জানান তিনি।

 

“ঢাকা জেলা উত্তর ছাত্রদলের পক্ষ থেকে আমি দেশবাসী ও সর্বস্তরের জনগণকে জানাই পবিত্র ঈদুল আযহার শুভেচ্ছা— ঈদ মোবারক। সবার জীবন আনন্দ, শান্তি ও সাফল্যে ভরে উঠুক।”

— মোঃ মাহাফুজ ইকবাল, সাধারণ সম্পাদক, ঢাকা জেলা উত্তর ছাত্রদল।

 

পরিশেষে, তিনি সবার সুস্থতা, দীর্ঘায়ু ও কল্যাণ কামনা করেন এবং উৎসবের দিনগুলোতে সবাইকে পারস্পরিক সৌহার্দ্য বজায় রাখার অনুরোধ জানান।

ঢাকা জেলা উত্তর সহ দেশবাসীকে পবিত্র ঈদুল আযহার শুভেচ্ছা জানালেন মাহাফুজ ইকবাল

বিস্তারিত....

সারাবাংলা

স্মার্ট কৃষি ও নিরাপদ খাদ্য উৎপাদনে নীলফামারীতে পার্টনার কংগ্রেস অনুষ্ঠিত

সাইদুল ইসলাম: (জেলা প্রতিনিধি নীলফামারী)

স্মার্ট কৃষি ও নিরাপদ খাদ্য উৎপাদন নিশ্চিত করার লক্ষ্যে নীলফামারীতে প্রোগ্রাম অন এগ্রিকালচারাল এন্ড রুরাল ট্রান্সফরর্মেশন অব নিউট্রিশন, এন্টারপ্রেনরশিপ এন্ড রেজিলেশনস ইন বাংলাদেশ (পার্টনার) প্রোগ্রামের আওতায় পার্টনার কংগ্রেস অনুষ্ঠিত হয়েছে। বৃহস্পতিবার

(১৮ জুন) সদর উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের আয়োজনে উপজেলা পরিষদ চত্বরে এ কংগ্রেস অনুষ্ঠিত হয়। এতে কৃষক, উদ্যোক্তা, বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের কর্মকর্তা অংশ নেন। অনুষ্ঠানে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক মোছাঃ হোমায়রা মন্ডলের সভাপতিত্বে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ নায়িরুজামান। স্বাগত বক্তব্য রাখেন সদর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ আতিক আহমেদ, জেলা মৎস্য কর্মকর্তা বরুন কুমার মন্ডল, সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোবাশ্বিরা আমাতুল্লাহ এবং জেলা বিএনপি’র জ্যৈষ্ঠ যুগ্ম আহবায়ক সোহেল পারভেজ। অনুষ্ঠানে সঞ্চালনা করেন উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা রাকিব আবেদীন। এ সময় বক্তারা বলেন, প্রযুক্তিনির্ভর চাষাবাদ, পুষ্টিসমৃদ্ধ খাদ্য উৎপাদন ও কৃষি উদ্যোক্তা সৃষ্টি দেশের কৃষিকে আধুনিক ও টেকসই করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। তারা জানান, পার্টনার ফিল্ড স্কুলের (পিএফএস) প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত কৃষকদের জ্ঞান ও অভিজ্ঞতা অন্যান্য কৃষকদের মধ্যেও ছড়িয়ে পড়ছে, যা কৃষির আধুনিকায়ন ভূমিকা রাখছে। শেষে আরেকটি অনুষ্ঠানে জাতীয় ফল মেলা উপলক্ষে ফল বাগান সৃজনে বিশেষ ভূমিকা রাখায় উদ্যোক্তাদের সম্মাননা প্রদান করা হয়। ২০২৫-২৬ অর্থ বছরে ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক কৃষকদের মাঝে কৃষি পূর্ণবাসন ও প্রণোদনা কর্মসূচির আওতায় রোপা আমনের বীজ,ফলজ, বনজ ও ঔষধি গাছের চারা এবং বিনামূল্যে সার বিতরণ করা হয়। এর আগে ফল মেলা পরিদর্শন করেন জেলা প্রশাসক ও অন্যান্য অতিথিরা।

স্মার্ট কৃষি ও নিরাপদ খাদ্য উৎপাদনে নীলফামারীতে পার্টনার কংগ্রেস অনুষ্ঠিত

মানিকগঞ্জে দুই ব্যবসায়ীর কাছ থেকে ১ লাখ ৩৫ হাজার টাকা আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে রকেট এজেন্টের কর্মী মো. আশিকুর রহমানের (২৪) বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় মানিকগঞ্জ সদর থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন ভুক্তভোগীরা।

 

সোমবার (১৫ জুন) সন্ধ্যায় শহরের দেবেন্দ্র কলেজ এলাকার ফ্রেন্ডস কম্পিউটার ও মুনা কম্পিউটার নামের দুটি প্রতিষ্ঠানে এ ঘটনা ঘটে।

 

অভিযুক্ত আশিকুর রহমান ঘিওর উপজেলার সাইংজুরী এলাকার মো. আমিনুর রহমানের ছেলে। তিনি স্থানীয় একটি রকেট এজেন্ট প্রতিষ্ঠানের কর্মী বলে জানা গেছে।

 

অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, আশিকুর রহমান রকেট অ্যাকাউন্টে ব্যালেন্স রিচার্জের কথা বলে ফ্রেন্ডস কম্পিউটার দোকানে যান। তার অনুরোধে দোকানের মালিক মো. সুজন মিয়া অভিযুক্তের বিকাশ নম্বরে ৪৫ হাজার টাকা পাঠান। পরে ওই টাকা রকেট নম্বরে পাঠানোর কথা থাকলেও আশিকুর কিছু সময়ের মধ্যে টাকা পৌঁছে যাবে বলে দোকান থেকে চলে যান। কিন্তু নির্ধারিত অ্যাকাউন্টে টাকা না পৌঁছালে সুজন মিয়া তার সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করেন। তবে অভিযুক্তের মোবাইল ফোন বন্ধ পাওয়া যায়।

 

একই কৌশলে মুনা কম্পিউটার দোকানের শেয়ারহোল্ডার মো. মনির হোসেনের কাছ থেকেও ৯০ হাজার টাকা নেওয়ার অভিযোগ রয়েছে। রকেট লেনদেনে সাময়িক সমস্যার কথা বলে এই অর্থ নিয়ে যাওয়ার পর তার সঙ্গে আর যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।

 

পরে তারা খোঁজ নিয়ে জানতে পারেন, একই ধরনের কৌশলে আরও কয়েকজনের কাছ থেকেও অর্থ হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ রয়েছে আশিকুর রহমানের বিরুদ্ধে।

 

ভুক্তভোগী সুজন মিয়া বলেন, “আশিকুর রহমানের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করেও তাকে না পেয়ে আমরা প্রতিষ্ঠানের ম্যানেজার মো. দেলোয়ার হোসেনের সঙ্গে যোগাযোগ করি। বিষয়টি জানালে তিনিও কিছু সময়ের জন্য মোবাইল ফোন বন্ধ রাখেন। প্রায় এক বছর ধরে আশিকুরের সঙ্গে আমাদের আর্থিক লেনদেন হয়ে আসছিল। হঠাৎ করে তাকে চাকরি থেকে অব্যাহতি দেওয়া হলেও এ বিষয়ে আমাদের কোনো ধরনের তথ্য জানানো হয়নি। এমনকি তার পরিবর্তে নতুন কাউকেও আমাদের সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দেওয়া হয়নি। ফলে আমরা তাকে প্রতিষ্ঠানের কর্মী হিসেবেই বিশ্বাস করেছি এবং সেই আস্থার ভিত্তিতেই তার কাছে টাকা জমা দিয়েছি।”

 

এ বিষয়ে অভিযুক্ত আশিকুর রহমানের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তবে কথা হয় তার ছোট ভাই ও বাবা আমিনুর রহমানের সঙ্গে।

 

আশিকুরের ছোট ভাই জানান, দুপুর পর্যন্ত তিনি তার ভাইয়ের সঙ্গেই ছিলেন। পরে আশিকুর নিজের মোবাইল ফোনটি তার কাছে রেখে যান। মোবাইলটিতে তার কিছু গুরুত্বপূর্ণ তথ্য ছিল বলে তিনি জানান।

 

অন্যদিকে আশিকুরের বাবা আমিনুর রহমান বলেন, “আমার ছেলেকে পাঠাও কোম্পানির ম্যানেজার নিয়ে গেছে। সে এখন কোথায় আছে, আমি জানি না। ছেলের সঙ্গে যখনই কথা হয়, তখন শুধু টাকা পাঠানোর কথা বলে।”

 

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, পাঠাও কোম্পানির টাকাও আত্মসাতের অভিযোগ রয়েছে আশিকুরের বিরুদ্ধে।

 

এ ব্যাপারে পাঠাও কোম্পানির ম্যানেজার নাজমুল হাসানের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে প্রতিষ্ঠানের এক কর্মীর মাধ্যমে তিনি জানান, এই মুহূর্তে তিনি এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য করতে চান না।

 

রকেট ডিস্ট্রিবিউটর মানিকগঞ্জ শাখার ম্যানেজার মো. দেলোয়ার হোসেন বলেন, “অভিযুক্ত আশিকুর রহমানকে গত ১৫ জুন প্রতিষ্ঠান থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। তার বিরুদ্ধে ওঠা অর্থ আত্মসাতের বিষয়ে আমরা জেনেছি এবং থানায় অভিযোগ দিয়েছি।”

 

এ ব্যাপারে মানিকগঞ্জ সদর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. মনির হোসেন বলেন, “অভিযোগ আছে কি না, দেখে বলতে হবে। অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

মানিকগঞ্জে ১ লাখ ৩৫ হাজার টাকা নিয়ে উধাও রকেট এজেন্টের কর্মী, থানায় অভিযোগ

ঢাকা মহানগর পুলিশের গোয়েন্দা বিভাগের সাবেক অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কমিশনার (এডিসি) ও বর্তমানে ঝিনাইদহ ইন-সার্ভিস ট্রেনিং সেন্টারের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. গোলাম সাকলায়েনকে বাধ্যতামূলক অবসরে পাঠিয়েছে সরকার।

 

বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের শৃঙ্খলা-২ শাখা থেকে জারি করা এক প্রজ্ঞাপনে বাধ্যতামূলক অবসরের কথা জানানো হয়। রাষ্ট্রপতির আদেশক্রমে প্রজ্ঞাপনের সই করেন মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব মনজুর মোর্শেদ চৌধুরী।

 

এর আগে মঙ্গলবার এ বিষয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব (শৃঙ্খলা অনুবিভাগ) কাজী মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম বলেন, বিষয়টি মন্ত্রীর দপ্তর থেকে জানা যেতে পারে। ঘটনাটি আমিও দেখেছি। এ ব্যাপারে এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি। তবে ঘটনাটি সত্য।

 

২০২৪ সালের ১৩ জুন স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের শৃঙ্খলা-২ শাখা থেকে উপসচিব রোকেয়া পারভিন জুঁইয়ের সই করা এক চিঠিতে গোলাম সাকলায়েনকে ‘গুরুদণ্ড’ হিসেবে চাকরি থেকে ‘বাধ্যতামূলক অবসর প্রদান’ পরামর্শের জন্য নির্দেশক্রমে অনুরোধ জানানো হয়।

 

ওই চিঠিতে বলা হয়, বিভিন্ন সময়ে (দিনে ও রাতে) নায়িকা পরীমনির বাসায় এডিসি গোলাম সাকলায়েন অবস্থান করেছেন বলে প্রমাণ পাওয়া যায় মোবাইল ফোনের ফরেনসিক রিপোর্ট দেখে। তাকে গুরুদণ্ড দেওয়ার বিষয়ে মতামত চেয়ে সরকারি কর্ম কমিশনের কাছে চিঠি পাঠানো হয়েছে।

 

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, ২০২১ সালের ১৩ জুন ঢাকার অদূরে সাভারের বিরুলিয়ার বোট ক্লাবের ঘটনার পর পরীমনিকে ধর্ষণচেষ্টা ও শারীরিক নির্যাতন করা হয়েছে বলে অভিযোগ এনে মামলা করা হয়। মামলার পরদিনই আসামি হিসেবে ক্লাব নেতা ব্যবসায়ী নাসির উদ্দিন মাহমুদকে ঢাকার উত্তরার একটি বাসা থেকে গ্রেফতার করা হয়। তার সঙ্গে গ্রেফতার হন আরও কয়েকজন সহযোগী।

 

মামলা তদন্তের অংশ হিসেবে পরীমনিকে গোয়েন্দা কার্যালয়ে ডেকে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করা হয়। তখনই ডিবির গুলশান বিভাগের অতিরিক্ত উপ-কমিশনার (এডিসি) গোলাম সাকলায়েনের সঙ্গে পরিচয় হয় পরীমনির। এরপর দুজনের মধ্যে শুরু হয় যোগাযোগ। নিয়মিত পরীমনির বাসায় যাতায়াত শুরু করেন গোলাম সাকলায়েন। মাঝেমধ্যেই গাড়ি নিয়ে বের হতেন দুজনে।

 

সংশ্লিষ্ট সূত্রের তথ্যানুযায়ী, সবশেষ পরীমনি ডিবির কর্মকর্তা গোলাম সাকলায়েনের রাজারবাগের মধুমতি ভবনের বাসায় গিয়ে প্রায় ১৮ ঘণ্টা অবস্থান করেন। ২০২১ সালের ৪ আগস্ট রাতে গ্রেফতারের পর পরীমনি অকপটে স্বীকার করেন সবকিছু।

পরীমণি কাণ্ড: বাধ্যতামূলক অবসরে এডিসি সাকলায়েন

বিস্তারিত....

Top