Gono television | বাংলাদেশ সরকার অনুমোদিত বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেল। - Gono television is the Bangladesh Government Approved 24/7 News Based TV Channel and Most Reliable News Source and Leading 24/7 News Based TV Channel in Bangladesh, It also the Most Popular News Media for Bangaldesh and Bengali Audience worlwide since 2016.

সংবাদ শিরোনামঃ
ব্যক্তি-দল হিসেবে জমির উদ্দিন সরকারের ক্লায়েন্ট ছিলাম: বিরোধীদলীয় নেতা নীলফামারীতে ট্রাক চাপায় একই পরিবারের তিনজনসহ নিহত ৪ গাইবান্ধায় ৭০ পিস ইয়াবাসহ মাদক ব্যবসায়ী গ্রেফতার করেছে ডিবি পুলিশ  গাইবান্ধায় ঘুমন্ত চাচাকে গলা কেটে হত্যার অভিযোগ ভাতিজার বিরুদ্ধে সাতক্ষীরা জেলা আইন-শৃঙ্খলা বিষয়ক মাসিক সভা অনুষ্ঠিত ফেনী সীমান্তে বিজিবির অভিযানে ১ কোটি টাকার ভারতীয় পণ্য জব্দ মানিকগঞ্জে নানা আয়োজনের মধ্য দিয়ে যথাযোগ্য মর্যাদায় ‘বিশ্ব জনসংখ্যা দিবস’ পালিত হয়েছে। পানির স্রোতে কবরস্থান থেকে ভেসে যাচ্ছে মরদেহ! আবারও গোপনে নারী শিক্ষার্থীদের ভিডিও ধারণ, আটক ৬ ঢাকা সিটির বর্জ্য থেকে বিদ্যুৎ প্রকল্প নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর বৈঠক

বিশ্বের বৃহত্তম সামরিক সদর দপ্তর ‘অক্টাগন’ উদ্বোধন করল মিশর

 

জাহেদুল ইসলাম আল রাইয়ান

 

আধুনিক সামরিক অবকাঠামো ও কৌশলগত সক্ষমতাকে নতুন উচ্চতায় নিয়ে যেতে বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ সামরিক কমান্ড কমপ্লেক্স ‘দ্য অক্টাগন’ (The Octagon) আনুষ্ঠানিকভাবে উদ্বোধন করেছে মিশর। শনিবার (৪ জুলাই) দেশটির নতুন প্রশাসনিক রাজধানীতে নির্মিত এ অত্যাধুনিক কমপ্লেক্স উদ্বোধন করেন মিশরের প্রেসিডেন্ট ও সশস্ত্র বাহিনীর সর্বাধিনায়ক আবদেল ফাত্তাহ আল-সিসি। মিশর সরকার একে বিশ্বের বৃহত্তম ও সর্বাধুনিক সামরিক কমান্ড এবং জাতীয় নিরাপত্তা সদর দপ্তর হিসেবে দাবি করছে।

 

মিশরীয় সরকারি সূত্র ও স্থানীয় গণমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, রাজধানী কায়রো থেকে প্রায় ৪৫ কিলোমিটার পূর্বে গড়ে ওঠা নতুন প্রশাসনিক রাজধানীতে নির্মিত এই কমপ্লেক্সটি ‘স্টেট স্ট্র্যাটেজিক কমান্ড সেন্টার’ প্রকল্পের কেন্দ্রবিন্দু। এর লক্ষ্য হলো সশস্ত্র বাহিনীর কমান্ড, নিয়ন্ত্রণ, সমন্বয় ও কৌশলগত সিদ্ধান্ত গ্রহণ ব্যবস্থাকে সর্বাধুনিক প্রযুক্তির মাধ্যমে আরও কার্যকর ও দ্রুততর করা।

 

প্রায় ৯২ বর্গকিলোমিটার এলাকাজুড়ে বিস্তৃত এই বিশাল স্থাপনাটি আয়তনের দিক থেকে বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ সামরিক অবকাঠামো। মিশরের দাবি অনুযায়ী, এটি যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা সদর দপ্তর পেন্টাগন-এর চেয়েও বড়।

 

‘অক্টাগন’ নামকরণের পেছনে রয়েছে এর ব্যতিক্রমী স্থাপত্যশৈলী। অষ্টভুজ আকৃতির একাধিক ভবনের সমন্বয়ে নির্মিত এই কমপ্লেক্সের নির্মাণকাজ শুরু হয় ২০১৬ সালে। এটি মিশরের দীর্ঘমেয়াদি সামরিক আধুনিকায়ন পরিকল্পনার অন্যতম প্রধান প্রকল্প হিসেবে বাস্তবায়িত হয়েছে।

 

নতুন এই সামরিক সদর দপ্তরে প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় ও সশস্ত্র বাহিনীর কেন্দ্রীয় কমান্ড ছাড়াও রয়েছে অত্যাধুনিক কমান্ড অ্যান্ড কন্ট্রোল সেন্টার, তথ্য বিশ্লেষণ ইউনিট, কৌশলগত যোগাযোগ ব্যবস্থা, সংকট ব্যবস্থাপনা কেন্দ্র, আবহাওয়া পর্যবেক্ষণ ব্যবস্থা এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও উন্নত প্রযুক্তিনির্ভর সামরিক পরিচালনা অবকাঠামো।

 

শুধু সামরিক কমান্ড নয়, এই বিশাল কমপ্লেক্সকে একটি পূর্ণাঙ্গ প্রশাসনিক নগরীর রূপও দেওয়া হয়েছে। কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের জন্য নির্মাণ করা হয়েছে আবাসিক এলাকা, হাসপাতাল, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, হোটেল, শপিং সেন্টার, বিনোদন ও বিভিন্ন সেবামূলক স্থাপনা। ফলে এটি একাধারে সামরিক, প্রশাসনিক ও লজিস্টিক ব্যবস্থাপনার সমন্বিত কেন্দ্র হিসেবে গড়ে উঠেছে।

 

মিশর সরকারের ভাষ্য অনুযায়ী, ‘অক্টাগন’ প্রকল্পের মাধ্যমে সশস্ত্র বাহিনীর কৌশলগত সক্ষমতা বৃদ্ধি, বিভিন্ন নিরাপত্তা সংস্থার মধ্যে সমন্বয় জোরদার এবং প্রযুক্তিনির্ভর কমান্ড ও নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠাই মূল উদ্দেশ্য। এর মাধ্যমে জাতীয় নিরাপত্তা ব্যবস্থাপনা আরও কার্যকর হবে এবং ভবিষ্যতের বহুমাত্রিক নিরাপত্তা চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় দেশটির সক্ষমতা উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পাবে।

 

ইতোমধ্যে নতুন প্রশাসনিক রাজধানীতে অধিকাংশ মন্ত্রণালয়ের কার্যক্রম স্থানান্তর সম্পন্ন করেছে মিশর। সেই ধারাবাহিকতায় ‘দ্য অক্টাগন’ এর উদ্বোধনকে কেবল একটি সামরিক স্থাপনার সূচনা নয়, বরং রাষ্ট্র পরিচালনা, প্রতিরক্ষা আধুনিকায়ন এবং আঞ্চলিক কৌশলগত প্রভাব বৃদ্ধির লক্ষ্যে মিশরের দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হিসেবে দেখা হচ্ছে। বিশ্লেষকদের মতে, মধ্যপ্রাচ্য ও উত্তর আফ্রিকার পরিবর্তিত নিরাপত্তা বাস্তবতায় এই প্রকল্প মিশরের সামরিক ও ভূরাজনৈতিক অবস্থানকে আরও শক্তিশালী করার প্রতীক হিসেবেও বিবেচিত হবে।

 

লেখক কলামিস্ট ও শিক্ষার্থী, আল-আজহার বিশ্ববিদ্যালয়,কায়রো,মিশর

বিশ্বের বৃহত্তম সামরিক সদর দপ্তর ‘অক্টাগন’ উদ্বোধন করল মিশর

বিরোধীদলীয় নেতা ও জামায়াত আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, জাতীয় সংসদের সাবেক স্পিকার ব্যারিস্টার জমির উদ্দিন সরকারকে গভীর শ্রদ্ধায় স্মরণ করছি। তিনি পেশাগত জীবনে এবং রাজনীতিবিদ হিসেবে সফল এবং কালারফুল। ব্যক্তি এবং দল হিসেবে আমি এবং আমরা তার ক্লায়েন্ট ছিলাম।

 

রোববার (১২ জুলাই) জাতীয় সংসদে সাবেক স্পিকার ব্যারিস্টার জমির উদ্দিন সরকারকে স্মরণ করে তিনি এসব কথা বলেন।

 

বিরোধীদলীয় নেতা বলেন, বিশেষ করে আমাদের কষ্টের দিনগুলোতে, সেই ওয়ান-ইলেভেন আমলে আইনের যাঁতাকলে যখন আমরা পিষ্ট, তখন প্রায়ই আমরা তার কাছে যেতাম, দ্বারস্থ হতাম। তিনি গুরুত্বপূর্ণ পরামর্শ দিয়েই শুধু আমাদের কাজ সারেননি, বরং আমাদের মজলুম নেতৃবৃন্দের পক্ষে তিনি আদালতে বারবার দাঁড়িয়েছেন।

 

তিনি আরও বলেন, এরকম তো আরও অনেকেই দাঁড়িয়েছেন, কিন্তু তিনি একদিক দিয়ে ভীষণ ব্যতিক্রম ছিলেন। প্রথমবার থেকেই আমরা চেষ্টা করেছি, কৃতজ্ঞতাস্বরূপ তাকে কিছু ফি দেওয়ার। শেষ পর্যন্ত আমরা এই কাজে সফল হইনি।

 

বিরোধীদলীয় নেতা বলেন, তার এই অবদান স্মরণ করে আমার চোখে পানি আসছে। আমরা তার ঋণ পরিশোধ করতে পারবো না। তিনি স্পিকার হিসেবে পার্লামেন্টকে প্রাণবন্ত করে রাখতেন, আর আইনের অঙ্গনে তিনি অনেকের গুরু। তার চলন-বলন, সবকিছুই ছিল শিক্ষণীয়।

ব্যক্তি-দল হিসেবে জমির উদ্দিন সরকারের ক্লায়েন্ট ছিলাম: বিরোধীদলীয় নেতা

নীলফামারীতে ট্রাক চাপায় একই পরিবারের তিনজনসহ নিহত ৪

 

মাইদুল ইসলাম

স্টাফ রিপোর্টার

জেলা নীলফামারী; নীলফামারী ডোমার উপজেলায় ট্রাকের ধাক্কায় ব্যাটারী চালিত যাত্রীবাহী মিথিলার ভ্যানচালক সহ একই পরিবারের

তিনজনসহ ৪ জন নিহত হয়েছে। রবিবার (১২জুলাই)

বেলা সাড়ে ৩ টার দিকে জলঢাকা-ডোমার আঞ্চলিক সড়কের একবট নামক স্থানে এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনাটি ঘটে। এ সময় একজন আহত হয়। নিহতরা হলেন ডোমার উপজেলার

পাঙ্গামটকপুর ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের নদীয়াপাড়ার ওলি বর্মনের ছেলে মিথিলা ভ্যানচালক পরিমল বর্ম্মন (৪০), নিহত পরিমলের ছোট ভাই প্রদীপ বম্মনের স্ত্রী প্রতিমা বম্মন (৩০), তার দুই সন্তান বিপাশা বর্ম্মণ(৪) ও অপরযাত্রী শহিদুল ইসলামকে (৪০) উন্নত চিকিৎসার জন্য রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেয়া হয়েছে। প্রত্যক্ষদশীরা জানান, পরিবারটি ডোমার উপজেলার বোড়াগাড়ী ইউনিয়নের মোড়ালের ডাঙ্গা এলাকায় বিয়ের অনুষ্ঠানে দাওয়াতে যাচ্ছিলেন। এ সময় জলঢাকা থেকে তোমাদের দিকে আসছিল একটি ট্রাক (বগুড়া ট ১৯-২৪৭২) দ্রুতগতিতে এসে ওই সড়কের এক বট নামক স্থানে চালক নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে যাত্রীবাহী মিথিলাকে ধাক্কা দেয়। এরপর ট্রাকটি সড়কের ধারে পড়ে যায়। এতে মিথিলার চালক সহ একই পরিবারের ৪ যাত্রীরা ঘটনাস্থলে নিহত হয় ও নিহত প্রতিমার জনসন্তান নম্রত বর্ম্মন ও অপর যাত্রী শহিদুল ইসলাম আহত হয়। খবর পেয়ে ডোমার ফায়ার সার্ভিস, পুলিশ ও এলাকাবাসী নিহত ও আহতদের উদ্ধার করে ডোমার হাসপাতালে

নেয়। এখান থেকে আহত দুইজনকে রংপুর মেডিকেলে স্থানান্তরিত করা হয়েছে। ডোমার থানার (ওসি) হাবিবুল্লাহ হাবিব ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেন।

নীলফামারীতে ট্রাক চাপায় একই পরিবারের তিনজনসহ নিহত ৪

গাইবান্ধায় ৭০ পিস ইয়াবাসহ মাদক ব্যবসায়ী গ্রেফতার করেছে ডিবি পুলিশ

 

শাহ্ পারভেজ সংগ্রাম,গাইবান্ধা প্রতিনিধি

গাইবান্ধা সদর উপজেলায় গোপন সংবাদের ভিত্তিতে বিশেষ অভিযান চালিয়ে ৭০ পিস ইয়াবা ট্যাবলেটসহ মো. উজ্জল মিয়া (২৫) নামে এক মাদক ব্যবসায়ীকে গ্রেফতার করেছে জেলা গোয়েন্দা শাখা (ডিবি) পুলিশ।

 

রবিবার (১২ জুলাই) দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে গাইবান্ধা সদর থানাধীন ২নং মালিবাড়ি ইউনিয়নের ৫নং ওয়ার্ডের কিসামত মালিবাড়ি মধ্যপাড়া গ্রামস্থ জনৈক লাল মিয়ার বাড়ির সামনে পাকা রাস্তার ওপর থেকে তাকে গ্রেফতার করা হয়।

পুলিশ সূত্রে জানা যায়, গাইবান্ধার পুলিশ সুপারের সার্বিক দিকনির্দেশনায় এবং জেলা গোয়েন্দা শাখার (ডিবি) অফিসার ইনচার্জের নেতৃত্বে ডিবি পুলিশের একটি চৌকস আভিযানিক দল গোপন সংবাদের ভিত্তিতে ওই এলাকায় মাদকবিরোধী অভিযান পরিচালনা করে। এ সময় মাদক কেনাবেচার সময় মো. উজ্জল মিয়াকে হাতেনাতে আটক করা হয়। পরে তার পরিহিত প্যান্টের সামনের বাম পকেট থেকে বিশেষ কায়দায় রাখা সাদা পলিথিনে মোড়ানো ৭০ পিস কমলা রঙের ইয়াবা ট্যাবলেট উদ্ধার করা হয়।

গ্রেফতারকৃত মো. উজ্জল মিয়া গাইবান্ধা সদর থানার কাউন্সিলর বাজার এলাকার মো. হাবিবুর রহমানের ছেলে।

গাইবান্ধা জেলা গোয়েন্দা শাখার পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, গ্রেফতারকৃত আসামির বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে এবং আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন। বর্তমানে ওই এলাকার আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে।

মাদক নির্মূলে জেলা পুলিশের এমন কঠোর অবস্থান অব্যাহত থাকবে বলেও সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।

গাইবান্ধায় ৭০ পিস ইয়াবাসহ মাদক ব্যবসায়ী গ্রেফতার করেছে ডিবি পুলিশ 

গাইবান্ধায় ঘুমন্ত চাচাকে গলা কেটে হত্যার অভিযোগ ভাতিজার বিরুদ্ধে

 

শাহ্ পারভেজ সংগ্রাম, গাইবান্ধা প্রতিনিধি

গাইবান্ধায় ধারালো অস্ত্র দিয়ে চাচাকে গলা কেটে হত্যার অভিযোগ উঠেছে আপন ভাতিজার বিরুদ্ধে। জেলার ফুলছড়ি উপজেলার কঞ্চিপাড়া ইউনিয়নের কেতকিরহাট মাঝিপাড়া এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।ঘটনার পর থেকেই অভিযুক্ত ভাতিজা পলাতক রয়েছে।

 

নিহত শাহ জালালের স্ত্রী পারুল বেগম জানান, রবিবার গভীর রাতে কৌশলে দরজা খুলে ঘরে প্রবেশ করে আপন ভাতিজা গোলাম হোসেন। ধারালো অস্ত্র দিয়ে আপন চাচা শাহ জালালের গলা কেটে ফেলে। গোঙানীর শব্দ শুনে শাহ জালালের স্ত্রী পারুল বেগম পাশের ঘর থেকে উঠে আসলে গোলাম হোসেন পালিয়ে যায়। পরে ঘটনাস্থলেই মারা যান শাহ জালাল।

নিহত শাহ জালালের ছেলে পাঞ্চু মিয়া জানায়,

যাতে কেউ তাকে ধরতে না পারে, সেজন্য তার বাবাকে হত্যার আগে বাহির থেকে প্রতিবেশীদের ঘরের দরজা আটকে দেয় গোলাম হোসেন।

 

স্থানীয়রা জানান, অভিযুক্ত গোলাম হোসেন দীর্ঘদিন ধরে মাদকাসক্ত। পারিবারিক কলহের জের ধরে গোলাম হোসেন তার আপন চাচাকে হত্যা করে বলে দাবী নিহতের পরিবারের। এর আগে প্রায়ই গোলাম তার স্ত্রীকে মারধর করতো, চাচা শাহ জালালসহ প্রতিবেশীরা প্রতিবাদ করলে তখন থেকেই গোলাম ক্ষুব্ধ ছিলেন। পরে গোলামের নির্যাতন সহ্য করতে না পেরে তার স্ত্রী সন্তানদের নিয়ে ঢাকায় চলে যায়। পরে গোলামও ঢাকায় যায়। শনিবার হঠাৎ ঢাকা থেকে এসে পরদিনই চাচাকে হত্যা করে গোলাম।

 

খবর পেয়ে রবিবার সকালে পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন ফুলছড়ি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা দুরুল হুদা ও সিআইডির কর্মকর্তারা। ঘটনাস্থল থেকে একটি ধারালো ছুরি জব্দ করেছে পুলিশ। এঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহনের প্রক্রিয়া চলছে বলে জানান ফুলছড়ি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা দুরুল হুদা। তিনি জানান, নিহতের মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য জেলা সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। অভিযুক্ত ভাতিজা গোলাম হোসেনকে গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে।

গাইবান্ধায় ঘুমন্ত চাচাকে গলা কেটে হত্যার অভিযোগ ভাতিজার বিরুদ্ধে

সাতক্ষীরা জেলা আইন-শৃঙ্খলা বিষয়ক মাসিক সভা অনুষ্ঠিত

 

মো: তুহিন হোসেন সাতক্ষীরা প্রতিনিধি :

 

সাতক্ষীরা জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে জনাব মিজ্ কাউসার আজিজ, জেলা প্রশাসক, সাতক্ষীরার সভাপতিত্বে জেলা আইন-শৃঙ্খলা বিষয়ক মাসিক সভা অনুষ্ঠিত হয়।

১২ জুলাই ২০২৬ খ্রিঃ তারিখে রবিবার। উক্ত জেলা আইন-শৃঙ্খলা সভায় সম্মানিত সহ-সভাপতি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সাতক্ষীরা জেলা পুলিশের অভিভাবক সুযোগ্য পুলিশ সুপার জনাব আবু সালেহ মোঃ আশরাফুল আলম মহোদয়।

সভায় পুলিশ সুপার মহোদয় অত্র জেলার সার্বিক আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা করেন এবং অপরাধ দমনে সকলের সহযোগিতা কামনা করেন। জেলা আইন-শৃঙ্খলা বিষয়ক সভায় সম্পত্তি সংক্রান্ত অপরাধ নিয়ন্ত্রণ, সন্ত্রাস ও নাশকতামূলক কার্যক্রম পর্যালোচনা, মাদকদ্রব্য ও চোরাচালান নিরোধ, অনলাইন জুয়া, অনিষ্পন্ন চোরাচালান মামলার নিষ্পত্তি ত্বরান্বিতকরণ, সড়ক দূর্ঘটনা নিয়ন্ত্রণ, মানব পাচার প্রতিরোধ, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শৃঙ্খলা, সড়কের শৃঙ্খলা, অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ ও ফুটপাত দখলমুক্তকরন, ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা ইত্যাদি বিষয়ের উপর বিস্তারিত আলোচনা করেন।

এসময় আরও উপস্থিত ছিলেন জেলার বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি দপ্তরের কর্মকর্তাবৃন্দ, রাজনৈতিক দলের নেতৃবৃন্দ, সুধীবৃন্দ এবং প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ার সাংবাদিকবৃন্দ।

সাতক্ষীরা জেলা আইন-শৃঙ্খলা বিষয়ক মাসিক সভা অনুষ্ঠিত

 

ফেনী সীমান্তে বিজিবির অভিযানে ১ কোটি টাকার ভারতীয় পণ্য জব্

 

প্রতিবেদক, ফেনী:রহিম আলী জাবেদ

 

ফেনী ও চট্টগ্রামের সীমান্তবর্তী এলাকায় পৃথক চোরাচালানবিরোধী অভিযানে প্রায় ১ কোটি ১ লাখ ৭৯ হাজার ৭৫ টাকা মূল্যের বিপুল পরিমাণ ভারতীয় শাড়ি, থ্রিপিস, কসমেটিকস, চকলেট ও বিভিন্ন ধরনের ওষুধ জব্দ করেছে ফেনী ব্যাটালিয়ন (৪ বিজিবি)।

রোববার (১২ জুলাই) গোপন সংবাদের ভিত্তিতে ফেনী জেলার পরশুরাম ও ছাগলনাইয়া উপজেলা এবং চট্টগ্রাম জেলার জোরারগঞ্জ উপজেলার সীমান্ত এলাকায় বিশেষ অভিযান চালিয়ে এসব পণ্য জব্দ করা হয়।

 

বিজিবি জানায়, জব্দকৃত মালামালের আনুমানিক বাজারমূল্য ১ কোটি ১ লাখ ৭৯ হাজার ৭৫ টাকা। প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য জব্দকৃত মালামাল স্থানীয় কাস্টমস কর্তৃপক্ষের কাছে হস্তান্তরের প্রক্রিয়া চলছে।

ফেনী ব্যাটালিয়নের (৪ বিজিবি) অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল এম এম জিল্লুর রহমান বলেন, সীমান্তে নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ, পুশইন প্রতিরোধ, সীমান্ত হত্যা শূন্যের কোটায় রাখা, মাদক ও চোরাচালান দমন এবং অবৈধ অনুপ্রবেশ রোধে বিজিবির গোয়েন্দা নজরদারি ও আভিযানিক কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে।

ফেনী সীমান্তে বিজিবির অভিযানে ১ কোটি টাকার ভারতীয় পণ্য জব্দ

মানিকগঞ্জে নানা আয়োজনের মধ্য দিয়ে যথাযোগ্য মর্যাদায় ‘বিশ্ব জনসংখ্যা দিবস’ পালিত হয়েছে।

 

 

আতিকুর রহমান আশিক

মানিকগঞ্জ প্রতিনিধি

 

 

 

দিবসটি উপলক্ষে জেলা প্রশাসন ও পরিবার পরিকল্পনা বিভাগের আয়োজনে একটি আলোচনা সভা ও পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।

১২জুলাই ২০২৬, রবিবার জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মানিকগঞ্জের জেলা প্রশাসক ও বিজ্ঞ জেলা ম্যাজিস্ট্রেট নাজমুন আরা সুলতানা।

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মানিকগঞ্জ জেলার পুলিশ সুপার মোহাম্মদ সারোয়ার আলম (বিপিএম) এবং সিভিল সার্জন ডা. আইফী ফেরদৌস। সভায় সভাপতিত্ব করেন পরিবার পরিকল্পনার উপপরিচালক জাকিয়া আক্তার।

আলোচনা সভায় বক্তারা বর্তমান সময়ের প্রেক্ষাপটে জনসংখ্যা নিয়ন্ত্রণের গুরুত্ব এবং তরুণ প্রজন্মের সম্ভাবনাকে কাজে লাগানোর ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করেন। অনুষ্ঠান শেষে দিবসটি উপলক্ষে আয়োজিত বিভিন্ন প্রতিযোগিতায় বিজয়ীদের মাঝে পুরস্কার বিতরণ করা হয়।

অনুষ্ঠানে সরকারি-বেসরকারি বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তা এবং স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন।

মানিকগঞ্জে নানা আয়োজনের মধ্য দিয়ে যথাযোগ্য মর্যাদায় ‘বিশ্ব জনসংখ্যা দিবস’ পালিত হয়েছে।

এলাকাবাসী জানান, প্রতি বর্ষা মৌসুমেই সাঙ্গু নদীর ভাঙনে এই কবরস্থান ঝুঁকির মুখে পড়ে। অতীতেও একাধিকবার কবর ভেঙে মরদেহ ভেসে যাওয়ার ঘটনা ঘটেছে। কিন্তু স্থায়ীভাবে নদীভাঙন প্রতিরোধে কার্যকর কোনো উদ্যোগ নেওয়া হয়নি।

 

স্থানীয়দের দাবি, আজিজ কেরানির বাড়ি থেকে মো. ইলিয়াছের বাড়ি পর্যন্ত নদীতীরে একটি টেকসই প্রতিরক্ষা বাঁধ নির্মাণ করা হলে কবরস্থান, বসতবাড়ি ও আশপাশের কৃষিজমি নদীভাঙনের হাত থেকে রক্ষা পাবে।

 

এলাকাবাসীর অভিযোগ, প্রতিবছর বর্ষা এলেই সাঙ্গু নদীর ভয়াল ভাঙনে কবরস্থান, বসতঘর ও ফসলি জমি হুমকির মুখে পড়ে। নদীগর্ভে বিলীন হচ্ছে মূল্যবান সম্পদ। এমনকি মৃত্যুর পরও স্বজনদের কবর নিরাপদ থাকছে না। তাই দ্রুত স্থায়ী নদীভাঙন প্রতিরোধে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন তারা।

পানির স্রোতে কবরস্থান থেকে ভেসে যাচ্ছে মরদেহ!

জাতীয় কবি নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়ে গোপনে নারী শিক্ষার্থীদের ভিডিও ধারণের অভিযোগে ছয় বহিরাগত কিশোরকে আটক করেছে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা। পরে তাদের পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।

 

শনিবার (১১ জুলাই) সন্ধ্যায় বিশ্ববিদ্যালয়ের নতুন কলা ভবনের সামনে পুকুরপাড়ে এ ঘটনা ঘটে। অভিযুক্তরা হলেন- ত্রিশাল উপজেলার স্থানীয় বাসিন্দা তাজুল, মোস্তাকিম, আরিফিন, ফয়সাল, জাহিদ হাসান জনি ও লিওন। তারা সবাই দশম শ্রেণির শিক্ষার্থী বলে জানা গেছে।

 

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, বিশ্ববিদ্যালয়ের নাট্যকলা ও পরিবেশনা বিদ্যা বিভাগের কয়েকজন শিক্ষার্থী আসন্ন নাট্যোৎসবের প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন। এ সময় এক বহিরাগত কিশোর নারী শিক্ষার্থীদের জুম করে ভিডিও ধারণ করেন বলে অভিযোগ ওঠে। বিষয়টি শিক্ষার্থীদের নজরে এলে তারা অভিযুক্তদের আটক করেন।

 

প্রত্যক্ষদর্শী শিক্ষার্থী ফয়সাল বলেন, আমরা বিষয়টি দেখতে পেয়ে তাদের আটক করি। পরে তারা ভিডিওটি মুছে ফেলার চেষ্টা করলেও মোবাইলের রিসেন্টলি ডিলেটেড ফোল্ডারে ফুটেজ পাওয়া যায়।

 

তবে অভিযুক্তদের একজন দাবি করেন, তারা ঘুরতে বিশ্ববিদ্যালয়ে এসেছিলেন। তিনি জানান, তাদের অজান্তেই একজন সঙ্গী তার মোবাইল ফোন নিয়ে ভিডিও ধারণ করেন। অপর একজনের দাবি, ইচ্ছাকৃতভাবে ভিডিও করা হয়নি; ভুলবশত মোবাইলের বাটনে চাপ লেগে ভিডিও রেকর্ড হয়ে যায়।

 

বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর ড. মাহবুবুর রহমান জনি বলেন, অভিযুক্তদের মোবাইল ফোনে সংশ্লিষ্ট ভিডিওসহ নারী শিক্ষার্থীদের আপত্তিকর ফুটেজ পাওয়া গেছে। পরে তাদের বিশ্ববিদ্যালয়ের পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রে পাঠানো হয়েছে। আটক শিক্ষার্থীদের স্বজনদের খবর দেয়া হয়েছে। অভিভাবকদের সঙ্গে আলোচনা করে পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন জানিয়েছে, আটক শিক্ষার্থীদের পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে ইতোমধ্যে যোগাযোগ করা হয়েছে। ঘটনাটির পরবর্তী আইনগত ও প্রশাসনিক প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।

 

এর আগে গত মঙ্গলবার (৭ জুলাই) দিবাগত রাতে বিশ্ববিদ্যালয়ের নতুন প্রশাসনিক ভবনের সামনে নারী শিক্ষার্থীদের টিজিং এবং ভিডিও ধারণ করায় চার বহিরাগতকে আটক করে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা। পরবর্তীতে আটক চারজনকে বিশ্ববিদ্যালয়ের আনসার সদস্যদের সহায়তায় পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়। এরপর মধ্যরাতে অভিভাবকদের উপস্থিতিতে মুচলেকা নিয়ে আটককৃতদের অভিভাবকদের জিম্মায় ছেড়ে দেয়া হয়।

আবারও গোপনে নারী শিক্ষার্থীদের ভিডিও ধারণ, আটক ৬

ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের আমিনবাজার ও দক্ষিণ সিটির মাতুয়াইলে বর্জ্য থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদনের দুটি প্রকল্প নিয়ে বৈঠক করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

 

আজ রোববার (১২ জুলাই) সকালে বাংলাদেশ সচিবালয়ের মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের সভাকক্ষে বৈঠকটি অনুষ্ঠিত হয়। প্রধানমন্ত্রীর উপ প্রেস সচিব শাহাদাৎ হোসেন স্বাধীন এ কথা জানান।

 

তিনি জানান, বৈঠকে বলা হয় চীনের সিএমইসি গ্রুপ আমিনবাজারে একটি বর্জ্য থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্র নির্মাণে বিনিয়োগ করবে। প্রকল্পটি প্রতিদিন ঢাকা শহরের প্রায় তিন হাজার টন বর্জ্য ব্যবহার করে ৪২.৫ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন করবে।

 

এছাড়া ২০২৮ সালের আগস্টের মধ্যে প্রকল্পটি জাতীয় গ্রিডে বিদ্যুৎ সরবরাহ শুরু করবে বলে আশা করা হচ্ছে। এ প্রকল্পের মাধ্যমে আগামী ২৫ বছর বিদ্যুৎ উৎপাদন করা সম্ভব হবে।

 

শাহাদাৎ হোসেন স্বাধীন জানান, অন্যদিকে দক্ষিণ কোরিয়ার বি অ্যান্ড এফ কোম্পানি ঢাকা দক্ষিণ সিটির মাতুয়াইলে একটি বর্জ্য ব্যবস্থাপনা ও বিদ্যুৎ উৎপাদন প্রকল্প বাস্তবায়ন করবে।

 

এ প্রকল্পের মাধ্যমে বছরে বর্জ্য থেকে প্রায় ১৫ হাজার টন মিথেন গ্যাস উৎপাদিত হবে, যা থেকে বছরে প্রায় ৮১ হাজার মেগাওয়াট-ঘণ্টা বিদ্যুৎ উৎপাদন করা হবে। এটি দৈনিক প্রায় ২২১ মেগাওয়াট-ঘণ্টা বিদ্যুৎ উৎপাদনের সমতুল্য।

 

তিনি বলেন, এছাড়া এ প্রকল্প থেকে সৌরবিদ্যুৎ, সার, পশুখাদ্য এবং পরিবেশবান্ধব ইকো-ব্রিকস উৎপাদন করা হবে। এ প্রকল্পে প্রতিদিন প্রায় তিন হাজার থেকে সাড়ে তিন হাজার টন বর্জ্য ব্যবহার করা হবে।

 

এটি বর্জ্য ব্যবস্থাপনার উন্নয়নের পাশাপাশি জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলা এবং বৈশ্বিক উষ্ণায়ন প্রশমনে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখবে বলে বৈঠকে জানানো হয়।

 

প্রকল্প দুটি দ্রুত এগিয়ে নিতে প্রধানমন্ত্রী স্থানীয় সরকার, বিদ্যুৎ ও পরিবেশ মন্ত্রণালয়ের মধ্যে একটি আন্তঃমন্ত্রণালয় বৈঠক আয়োজনের নির্দেশ দেন।

 

শাহাদাৎ হোসেন স্বাধীন বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান নির্ধারিত সময়সীমার মধ্যে দুটি প্রকল্প বাস্তবায়ন এবং পরিবেশবান্ধব প্রযুক্তির সর্বোত্তম ব্যবহার নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

 

বৈঠকে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম, ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক মো. শফিকুল ইসলাম খান, ঢাকা দক্ষিণ সিটির প্রশাসক মো. আব্দুস সালাম, প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব এ বি এম আব্দুস সাত্তার, প্রধানমন্ত্রীর অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমন এবং সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাগণ উপস্থিত ছিলেন।

ঢাকা সিটির বর্জ্য থেকে বিদ্যুৎ প্রকল্প নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর বৈঠক

র‌্যাবের চৌকস অভিযানে জীপসহ প্রায় ১১ হাজার ইয়াবার চালান আটক

জামালপুর হামলা পাল্টা হামলার মধ্য দিয়ে জেলার সানন্দবাড়ী তে থমথমে অবস্থা বিরাজমান।

খেলাধুলা

কানসাস সিটির অ্যারোহেড স্টেডিয়ামে আবার সেই রূপকথার মতো শেষ মুহূর্তের উল্লাস আর বিশ্বচ্যাম্পিয়নদের রাজকীয় প্রত্যাবর্তন। নির্ধারিত ৯০ মিনিট ১-১ সমতায় শেষ হওয়ার পর অতিরিক্ত সময়ের ১১৩ মিনিট পর্যন্ত ১০ জনের সুইজারল্যান্ড রক্তক্ষয়ী প্রাচীর গড়ে আটকে রেখেছিল বর্তমান বিশ্বচ্যাম্পিয়নদের। সবাই যখন চরম শঙ্কা নিয়ে পেনাল্টি টাইব্রেকারের দিকে তাকাচ্ছিল, তখনই গোল করলো আলভারেজ ও লাওতারো।

 

পুরো টুর্নামেন্টে ছন্দহীন থাকা আর একাদশে জায়গা নেওয়া নিয়ে ওঠা সব সমালোচনা এক শটে উড়িয়ে দিয়ে ১১৪তম মিনিটে ২৫ গজ দূর থেকে এক চোখধাঁধানো রকেট শটে আলবিসেলেস্তাদের ২-১ গোলে এগিয়ে দেন এই অ্যাটলেটিকো মাদ্রিদ ফরোয়ার্ড। এরপর অতিরিক্ত সময়ের যোগ করা সময়ে শেষ কফিনে শেষ পেরেকটি ঠুকে দেন লাওতারো মার্তিনেজ। সুইজারল্যান্ডকে ৩-১ ব্যবধানে হারিয়ে টানা দ্বিতীয়বারের মতো বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে পৌঁছে গেল লিওনেল মেসির আর্জেন্টিনা।

 

আজকের এই মহাকাব্যিক জয়ের ফলে বিশ্বকাপের সেমিফাইনালের মেগা মঞ্চে আর্জেন্টিনার মুখোমুখি হতে যাচ্ছে চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী ইংল্যান্ড। এর আগে প্রথমার্ধের ১০ মিনিটে মেসির কর্নার থেকে ম্যাক আলিস্টারের হেডে আর্জেন্টিনা এগিয়ে গেলেও, ৬৭ মিনিটে ড্যান এনদোয়ের গোলে সমতায় ফিরেছিল সুইজারল্যান্ড। ৭২ মিনিটে ব্রিল এমবোলো লাল কার্ড পেয়ে মাঠ ছাড়লে ১০ জনের দলে পরিণত হয় সুইসরা। কিন্তু সেই ১০ জনের সুইস দুর্গ ভাঙতে অতিরিক্ত সময়ের প্রথমার্ধ পর্যন্ত ঘাম ঝরাতে হয় স্কালোনির শিষ্যদের।

 

অবশেষে ১১৪ মিনিটে ২৫ গজ দূর থেকে আলভারেজের সেই অবিশ্বাস্য দূরপাল্লার দূরপাল্লার গোল কানসাস সিটিতে উপস্থিত কোটি আর্জেন্টাইন সমর্থককে ভাসায় চরম আনন্দের বন্যায়। ম্যাচের শেষ বাঁশি বাজার ঠিক আগ মুহূর্তে সুইসদের অল-আউট আক্রমণের সুযোগ নিয়ে পাল্টা আক্রমণে ৩-১ গোলের নিশ্চিত সিলমোহর একে দেন লাওতারো মার্তিনেজ। এই নাটকীয় জয়ে আর্জেন্টিনার বিশ্বকাপ জয়ের স্বপ্নযাত্রা অবিচল রইল এবং কানসাস সিটি থেকে এখন নিউ ইয়র্কের মেটলাইফ স্টেডিয়ামে ইংল্যান্ডকে উড়িয়ে ফাইনালের টিকিট কাটার নতুন মিশনে পা রাখল স্কালোনির শিষ্যরা।

আলভারেজ–মার্তিনেজের গোলে সেমিফাইনালে বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা

খেলা তখন অতিরিক্ত সময়ে গড়িয়েছে। কেপ ভার্দের বিপক্ষে রাউন্ড অব সিক্সটিনে স্নায়ুক্ষয়ী লড়াইয়ে শেষ মুহূর্তের ট্যাকলটা করতে গিয়েই পকেট থেকে রেফারি বের করেছিলেন হলুদ কার্ড। গনজালো মন্টিয়েলের হয়তো তখন কার্ডের কথা ভাবার সময় ছিল না, লক্ষ্য ছিল একটাই—দলকে কোয়ার্টার ফাইনালে তোলা। কিন্তু সেই একটি হলুদ কার্ডই এখন আর্জেন্টিনার এই রাইট-ব্যাকের জন্য রূপ নিয়েছে এক অদৃশ্য খাঁচায়।

 

 

 

কালড় কানসাস সিটির অ্যারোহেড স্টেডিয়ামে সুইজারল্যান্ডের মুখোমুখি হচ্ছে আর্জেন্টিনা। সেমিফাইনালের টিকিট কাটার এই লড়াইয়ে মন্টিয়েল প্রথম একাদশে থাকবেন কি না, তা নিয়ে লিওনেল স্কালোনি শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত ভাববেন।

 

 

 

তবে তিনি খেলুন কিংবা বদলি হিসেবে নামুন—একটা অদৃশ্য সতর্কবার্তা তার মাথার ওপর ঝুলছে। সুইজারল্যান্ডের বিপক্ষে আরেকটি হলুদ কার্ড দেখলেই স্বপ্নভঙ্গের বেদনায় পুড়তে হবে মন্টিয়েলকে। আর্জেন্টিনা যদি সেমিফাইনালে চলেও যায়, নিষেধাজ্ঞার খাঁড়ায় পড়ে সাইডবেঞ্চে বসে থাকতে হবে ২৮ বছর বয়সী এই ডিফেন্ডারকে।

 

 

 

ফিফার নিয়ম অনুযায়ী, নকআউট পর্বের শুরু (শেষ ৩২) থেকে কোয়ার্টার ফাইনাল পর্যন্ত কোনো খেলোয়াড় যদি দুটি ভিন্ন ম্যাচে দুটি হলুদ কার্ড দেখেন, তবে পরবর্তী ম্যাচের জন্য তিনি নিষিদ্ধ হবেন। কোয়ার্টার ফাইনাল শেষ হওয়ার পর এই কার্ডের হিসাব মুছে যায়। সেমিফাইনালে ফ্রেশ কার্ড নিয়ে নামার সুযোগ থাকে।

 

 

 

কিন্তু মন্টিয়েলের সমস্যা হলো, তিনি অলরেডি শেষ ষোলোতেই একটা কার্ড হজম করে বসে আছেন। কোয়ার্টার ফাইনালের বৈতরণী পার হওয়ার ম্যাচে মন্টিয়েলকে তাই খেলতে হবে ‘পায়ে বরফ আর মাথায় বরফ’ বেঁধে।

 

 

 

চলতি বিশ্বকাপে মন্টিয়েলের ভূমিকা আর্জেন্টিনার জন্য বেশ গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। আলজেরিয়ার বিপক্ষে প্রথম ম্যাচে প্রথমার্ধের পরই তাঁকে তুলে নাহুয়েল মোলিনাকে নামিয়েছিলেন স্কালোনি। কিন্তু মিশরের বিপক্ষে ম্যাচে আবার মোলিনার জায়গায় নেমে খানিটা জাদুকরী মুহূর্ত উপহার দেন রিভার প্লেটের এই রাইট-ব্যাক; তাঁর পাস থেকেই এসেছিল লিওনেল মেসির সেই সমতাসূচক গোলটি।

 

 

 

স্কালোনির দলের এখন একমাত্র অগ্রাধিকার সুইজারল্যান্ডকে হারিয়ে সেমিফাইনালে পা রাখা, যেখানে প্রতিপক্ষ হতে পারে নরওয়ে অথবা ইংল্যান্ড। দলের লক্ষ্য অর্জনে মাঠে কেউ গা বাঁচিয়ে খেলবেন না, এটাই স্বাভাবিক। কিন্তু মন্টিয়েল ভালো করেই জানেন তার বর্তমান পরিস্থিতি।

 

 

 

আলবিসেলেস্তেদের রক্ষণভাগ সামলানোর পাশাপাশি তাঁকে সামলাতে হবে নিজের আবেগকেও। অ্যারোহেড স্টেডিয়ামের সবুজ গালিচায় কি মন্টিয়েল পারবেন হলুদ কার্ডের ফাঁদ এড়িয়ে আর্জেন্টিনাকে স্বপ্নের সেমিফাইনালে নিয়ে যেতে? সে উত্তর মাঠের লড়াইয়ের জন্য তোলা থাকুক।

হাত-পা-মাথায় ‘বরফ বেঁধে’ খেলতে হবে মন্টিয়েলকে

শুক্রবার (১০ জুলাই) উত্তর আমেরিকা থেকে দেশে ফেরার পর ভূমধ্যসাগর উপকূলের আলামেইন আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের বাইরে জড়ো হন অসংখ্য সমর্থক। খেলোয়াড় ও কোচিং স্টাফকে স্বাগত জানাতে সেখানে সৃষ্টি হয় উৎসবমুখর পরিবেশ। অধিনায়ক মোহাম্মদ সালাহর ছবি সংবলিত ব্যানারে লেখা ছিল, ‘ধন্যবাদ’।

 

এবারের বিশ্বকাপে ইতিহাস গড়েছে মিশর। চারবারের চেষ্টায় প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপে জয়ের স্বাদ পায় দলটি। পাশাপাশি প্রথমবারের মতো নিশ্চিত করে শেষ ষোলোর টিকিট।

 

বিমানবন্দর থেকে ছাদখোলা বাসে করে নিউ আলামেইন শহর প্রদক্ষিণ করেন খেলোয়াড়রা। সড়কের দুই পাশে দাঁড়িয়ে থাকা হাজারো সমর্থকের উদ্দেশে হাত নেড়ে শুভেচ্ছা জানান তারা। শনিবার দেশটির প্রেসিডেন্ট আবদেল ফাত্তাহ আল-সিসি খেলোয়াড়, কোচিং স্টাফ ও কর্মকর্তাদের রাষ্ট্রীয় সংবর্ধনা দেওয়ার কথা রয়েছে।

 

সমর্থকদের হাতে প্রধান কোচ হোসাম হাসানের বড় বড় ছবিও দেখা যায়, যেগুলোতে ফিলিস্তিনের পতাকা জড়ানো ছিল। বিশ্বকাপ চলাকালে ফিলিস্তিনের প্রতি তার প্রকাশ্য সমর্থনের স্বীকৃতি হিসেবেই এমন আয়োজন করা হয়েছে। টুর্নামেন্টজুড়ে তিনি একাধিকবার মাঠে ফিলিস্তিনের পতাকা বহন করেন এবং সংবাদ সম্মেলনেও ফিলিস্তিনিদের অধিকারের পক্ষে বক্তব্য দেন।

 

শেষ ষোলোয় লিওনেল মেসির আর্জেন্টিনার বিপক্ষে ২-০ গোলে এগিয়ে থেকেও শেষ পর্যন্ত ৩-২ ব্যবধানে হেরে যায় মিশর। ম্যাচের শেষ ১১ মিনিটে টানা তিন গোল হজম করে বিদায় নিতে হলেও বিশ্বকাপে এটিই দেশটির ইতিহাসের সেরা সাফল্য। গ্রুপ পর্বে নিউজিল্যান্ডকে হারানোর পর শেষ ৩২-এ অস্ট্রেলিয়াকে টাইব্রেকারে পরাজিত করে প্রথমবারের মতো শেষ ষোলোয় জায়গা করে নিয়েছিল ফারাওরা।

আর্জেন্টিনার কাছে হেরে বিদায়, মিশর দলকে বরণ করলেন হাজারো সমর্থক

২০২৬ বিশ্বকাপে ফাইনাল ম্যাচ পরিচালনার সুযোগ আছে ইংল্যান্ডের রেফারি মাইকেল অলিভারের সামনে। তবে ইংল্যান্ড কিংবা আর্জেন্টিনা ফাইনালে উঠলে সেই সুযোগ থেকে বঞ্চিত হবেন ৪১ বছর বয়সী এই ইংলিশ রেফারি। এমনকি তার স্বদেশি রেফারি অ্যান্থনি টেলরও আর্জেন্টিনা ফাইনাল খেললে সেই ম্যাচটি পরিচালনার সুযোগ পাবেন না।

 

স্বার্থের সংঘাত এড়াতে এবং নিরপেক্ষতা নিশ্চিত করতে রেফারিদের সাধারণত নিজ দেশের ম্যাচ পরিচালনার দায়িত্ব দেওয়া হয় না। এর পাশাপাশি দীর্ঘদিন ধরে আর্জেন্টিনা এবং ইংল্যান্ডের ম্যাচেও দুই দেশের রেফারিদের দায়িত্ব না দেওয়ার নীতি অনুসরণ করে আসছে ফিফা।

 

এর পেছনে রয়েছে ৪৪ বছর পুরোনো এক রাজনৈতিক ও ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট। ১৯৮২ সালে সংগঠিত ফকল্যান্ডস যুদ্ধের কারণে আর্জেন্টিনা সংশ্লিষ্ট ম্যাচে ইংল্যান্ডের কোনো রেফারিকে কিংবা ইংল্যান্ড সংশ্লিষ্ট ম্যাচে আর্জেন্টিনার কোনো রেফারিকে দায়িত্ব দেয় না বিশ্ব ফুটবলের সর্বোচ্চ নিয়ন্ত্রক সংস্থা।

 

ফকল্যান্ড দ্বীপপুঞ্জ নিয়ে ১৯৮২ সালে যুক্তরাজ্য ও আর্জেন্টিনার মধ্যে যুদ্ধ হয়েছিল। সেই সংঘাতে আর্জেন্টিনার ৬৪৯ জন সামরিক সদস্য নিহত হন। বিষয়টি এখনো দুই দেশের মধ্যে সংবেদনশীল রাজনৈতিক ইস্যু হিসেবে বিবেচিত হয়।

 

এ কারণে আর্জেন্টিনা যদি বিশ্বকাপ ফাইনালে ওঠে তাহলে ইংল্যান্ডের রেফারি হিসেবে মাইকেল অলিভারকে সেই ম্যাচ পরিচালনার দায়িত্ব দেওয়া হবে না। একইভাবে ইংল্যান্ডও ফাইনালে খেললে আর্জেন্টাইন কোনো রেফারিকে দায়িত্ব দেওয়া হয় না।

 

এর আগেও একই কারণে কাতার বিশ্বকাপের ফাইনাল ম্যাচ পরিচালনার সুযোগ হারিয়েছিলেন অ্যান্থনি টেলর। ২০২২ বিশ্বকাপে আর্জেন্টিনা ফাইনালে ওঠায় এই ইংলিশ রেফারি সেই পরিচালনার দায়িত্ব থেকে ছিটকে যান।

 

এবারের বিশ্বকাপে অলিভার ইতোমধ্যে ছয়টি ম্যাচ পরিচালনা করেছেন। আগামী ১১ জুলাই লস অ্যাঞ্জেলসে অনুষ্ঠেয় স্পেন ও বেলজিয়ামের মধ্যকার কোয়ার্টার ফাইনাল ম্যাচটিও তিনি পরিচালনা করবেন। এর মধ্য দিয়ে বিশ্বকাপের ৭টি ম্যাচে রেফারির দায়িত্ব পালনের মাইলফলক স্পর্শ করবেন তিনি, যা কোনো ইংলিশ রেফারির জন্য সর্বোচ্চ।

আর্জেন্টিনা ফাইনালে উঠলেই ‘বদলে যাবে’ রেফারি!

বিশ্বকাপ মানেই আনন্দ আর উন্মাদনা। কথার লড়াই। আর এ যুগে এসে ফেসবুকে মেনশন করে পোস্ট দেওয়া আর কমেন্ট যুদ্ধে নিজের দলকে সবার উঁচুতে রাখার প্রানপণ চেষ্টা চলতেই থাকে। তবে বাংলাদেশে এখানেই থেমে নেই; উন্মাদনার আড়ালে কথা কাটাকাটি, মারামারি ও সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেই চলেছে। এমনকি সংঘর্ষে প্রাণও যাচ্ছে অনেকের। সমর্থকদের বাগ্‌বিতণ্ডা, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পাল্টাপাল্টি মন্তব্য, পতাকা টাঙানো কিংবা খেলা দেখাকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষ—সব মিলিয়ে এবারের বিশ্বকাপে ইতোমধ্যে অন্তত ১২ জনের মৃত্যু হয়েছে। বাংলাদেশ থেকে ১২ হাজার কিলোমিটার (প্রায় ৮,২০০ থেকে ৮,৬০০ মাইল) দূরত্বের এই খেলা নিয়ে দেশের আহতও হয়েছেন শতাধিকের বেশি মানুষ।

 

নিহতদের মধ্যে তিনজন ছুরিকাঘাতে, তিনজন পতাকা টাঙাতে গিয়ে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে, একজন সড়ক দুর্ঘটনায়, একজন ল্যাম্পপোস্ট ভেঙে, একজন স্ট্রোকে, একজন কিশোরদের ফুটবল খেলা নিয়ে সংঘর্ষে এবং সর্বশেষ একজন আর্জেন্টিনা সমর্থকদের আঘাতে প্রাণ হারিয়েছেন।

 

সর্বশেষ গতকাল মঙ্গলবার রাতে কুমিল্লার আদর্শ সদর উপজেলার দুর্গাপুর ইউনিয়নের ধনপুর এলাকায় আর্জেন্টিনা-মিশর ম্যাচকে কেন্দ্র করে সমর্থকদের সংঘর্ষে মো. শরিফুল ইসলাম (৩২) নিহত হন। তিনি মিশরের সমর্থক ছিলেন। অভিযোগ রয়েছে, আর্জেন্টিনা সমর্থক হিসেবে পরিচিত দুই ব্যক্তি তার মাথায় আঘাত করেন। গুরুতর আহত অবস্থায় কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। এ ঘটনায় জড়িতদের গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

 

এ ছাড়া গতকাল মিসরের বিপক্ষে আর্জেন্টিনার নাটকীয় জয়ের পর অতিরিক্ত উচ্ছ্বাস প্রকাশ করতে গিয়ে ঝিনাইদহের শৈলকুপা পৌরসভার বালিয়াডাঙ্গা গ্রামের রসুল উদ্দীন (৪০) নামের এক ভ্যানচালকের মৃত্যু হয়। তিনি এলাকায় আর্জেন্টিনা ও ফুটবল তারকা লিওনেল মেসির একনিষ্ঠ সমর্থক হিসেবে পরিচিত ছিলেন।

 

একই রাতে দেশের বিভিন্ন স্থানে সংঘর্ষ

গতকাল রাতে চট্টগ্রামের মীরসরাইয়ে আর্জেন্টিনা-মিশর ম্যাচ ঘিরে ব্রাজিল ও আর্জেন্টিনা সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষে দুজন আহত হন। গুরুতর আহত ব্রাজিল সমর্থক মাঈনুদ্দিন মিঠুকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। এ ছাড়া গতকাল রাতে টাঙ্গাইলের মাওলানা ভাসানী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়েও একই ম্যাচকে কেন্দ্র করে শিক্ষার্থীদের মধ্যে দফায় দফায় সংঘর্ষ হয়। এতে বিশ্ববিদ্যালয়ের এক সহকারী প্রক্টরসহ অন্তত ১০ জন আহত হন। সংঘর্ষ চলাকালে একাডেমিক ভবনে ভাঙচুরের ঘটনাও ঘটে।

 

যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়েও গতকাল রাতে দুই বিভাগের শিক্ষার্থীদের সংঘর্ষে কয়েকজন আহত হন। ঘটনাস্থলের ভিডিও ধারণ করতে গেলে কয়েকজন সাংবাদিকের ওপর হামলা, হুমকি এবং মোবাইল ফোন ছিনিয়ে নেওয়ার ঘটনা ঘটে। এ ছাড়া ঝিনাইদহের কালীগঞ্জেও গতকাল আর্জেন্টিনা-ব্রাজিল সমর্থকদের সংঘর্ষে মামুন হোসেন (২২) নামে এক যুবক আহত হন।

 

টানা কয়েকদিনের সংঘর্ষ

গত ৬ জুলাই বগুড়ার শিবগঞ্জে ব্রাজিল-আর্জেন্টিনা সমর্থকদের ফেসবুক পোস্টকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষে এইচএসসি পরীক্ষার্থী জয় কুমার ও বিশাল কুমার গুরুতর আহত হন। এর আগে ২৯ জুন চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে বড় পর্দায় ফুটবল ম্যাচ দেখার সময় ধূমপানকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর, এক সহকারী প্রক্টরসহ কয়েকজন শিক্ষার্থী আহত হন।

 

এ ছাড়া গত ২৮ জুন হবিগঞ্জ সদর উপজেলার রাজিউড়া ইউনিয়নের উচাইল স্কুলবাড়ি মাঠে বড় পর্দায় খেলা দেখানোকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের সংঘর্ষে অন্তত ২০ জন আহত হন। গত ২২ জুন জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে বড় পর্দায় খেলা দেখা নিয়ে সংঘর্ষ ও মারধরের ঘটনায় এক শিক্ষার্থীকে বহিষ্কার করে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। এ ছাড়া ১৮ জুন চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডে ফুটবল খেলা নিয়ে তুচ্ছ বিরোধে বিএনপির দুই পক্ষের সংঘর্ষে নারীসহ অন্তত ১০ জন আহত হন।

 

আগের প্রাণহানির ঘটনাগুলো

বিশ্বকাপ শুরুর পর গত ১ জুলাই একই দিনে ঢাকার আদাবর, সিলেটের জকিগঞ্জ ও ঢাকার আশুলিয়ায় তিনটি পৃথক ঘটনায় তিনজন নিহত হন। রাজধানীর আদাবরে বিশ্বকাপ ফুটবল খেলা দেখার সময় বাঁশি বাজানোকে কেন্দ্র করে শুরু হওয়া বিরোধের জেরে দুই পক্ষের সংঘর্ষে আবুল বাশার বাদশা নামে বিএনপির এক নেতা নিহত হন।

 

আশুলিয়ায় ফুটবল ম্যাচ নিয়ে বিরোধের জেরে কিশোর নাহিদ হাসানকে ছুরিকাঘাতে হত্যা করে মাটিচাপা দেওয়া হয়। সিলেটের জকিগঞ্জে ফুটবল খেলার উল্লাসকে কেন্দ্র করে চাচাতো ভাইয়ের ছুরিকাঘাতে নিহত হন আলম আহমদ। এ ছাড়া গত শুক্রবার নড়াইল সদরে কিশোরদের ফুটবল খেলা নিয়ে বিরোধে মোস্তফা কাজী নামে এক বৃদ্ধকে কুপিয়ে ও হাতুড়ি দিয়ে পিটিয়ে হত্যা করা হয়।

 

পতাকা টাঙাতে গিয়ে তিন মৃত্যু

বিশ্বকাপের পতাকা টাঙাতে গিয়ে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে তিনজনের মৃত্যু হয়েছে। ১৯ জুন ময়মনসিংহের গফরগাঁওয়ে ব্রাজিলের পতাকা টাঙাতে গিয়ে মাহিন শেখ নামে এক স্কুলছাত্র মারা যান। ১৫ জুন চট্টগ্রামে আর্জেন্টিনার পতাকা টাঙাতে গিয়ে রামহরি বৈষ্ণবের মৃত্যু হয়। ৯ জুন মানিকগঞ্জ সদরে ব্রাজিলের পতাকা টাঙানোর সময় বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে মারা যান ফয়সাল নামে এক যুবক।

 

আরও কয়েকটি প্রাণহানির ঘটনা

গত ১৩ জুন ভোলায় বিশ্বকাপ উপলক্ষে মোটরসাইকেল শোভাযাত্রায় অংশ নিয়ে সড়ক দুর্ঘটনায় এক যুবকের মৃত্যু হয়। গত শুক্রবার চট্টগ্রাম নগরীর হালিশহরে ল্যাম্পপোস্ট ভেঙে মাহিদুল ইসলাম নামে এক যুবকের মৃত্যু হয়। একই দিন বরগুনার তালতলীতে ফুটবল ম্যাচের অনুশীলনের সময় স্ট্রোক করে মারা যান খোকন কর্মকার।

 

এ ব্যাপারে টাঙ্গাইলের পুলিশ সুপার (এসপি) মুহম্মদ শামসুল আলম সরকার বলেন, খেলাকে খেলা হিসেবেই নেওয়া উচিত। এখানে অতিরঞ্জনের কিছু নেই। সকলের সচেতন করতে সবাইকে এগিয়ে আসতে হবে। সুশীল সমাজের এগিয়ে আসতে হবে। যারা বোঝে না, তাদের বোঝানো দরকার।

 

বিশ্বকাপে সংঘটিত হওয়া সহিংসতা নিয়ে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের শিক্ষক মুহম্মদ আসাদুজ্জামান সাদী দ্য ডেইলি ক্যাম্পাসকে বলেন, এখানে গা ভাসিয়ে দেওয়া যাবে না। ফুটবল বিশ্বকাপকে শুধু বিনোদনের উপকরণ হিসেবেই নিতে হবে। এ খেলা নিয়ে অতিরিক্ত বাড়াবাড়ি ও আবেগতাড়িত হওয়া যাবে না। আবেগ ভালো কিছু বয়ে আনে না। যখন আমরা অতি আবেগ দেখিয়ে পারস্পারিক বিতর্কে জড়াব, তখন সমাজে, বন্ধু বন্ধু, এমনকি কাছের মানুষের সঙ্গে সহিংসতা ঘটছে। সকলকে আবেগ থেকে বেরিয়ে এসে সচেতন হওয়ার আহ্বান জানান তিনি।

উন্মাদনার আড়ালে ট্র্যাজেডি: ১২ হাজার কিলোমিটার দূরের খেলা নিয়ে বাংলাদেশে মৃত্যু ১২

৪৮ দল নিয়ে শুরু হওয়া বিশ্বকাপে এখন টিকে আছে আটটি দল। একদিন বিরতির পর আজ (বৃহস্পতিবার) থেকে ফিফার এই মেগা ইভেন্টের কোয়ার্টার ফাইনাল শুরু হবে। নতুন এই রাউন্ডে নামার আগে দুর্ভাবনায় আছে ৮ দলের অন্তত ১৮ ফুটবলার। কারণ আরেকটি হলুদ কার্ড দেখলেই দল সেমিফাইনালে উঠলে খেলতে পারবেন না তারা।

 

এই তালিকায় আছে আর্জেন্টিনা, ফ্রান্স, স্পেন ও ইংল্যান্ডের মতো অন্যতম ফেভারিট দলগুলোও। তবে কিছুটা বেশি দুশ্চিন্তা করতে হচ্ছে ইংল্যান্ড ও মরক্কোকে। কারণ দুটি দলেরই চারজন করে ফুটবলার নকআউট রাউন্ডে একটি হলুদ কার্ড দেখেছেন। ফলে কোয়ার্টার ফাইনালে বেশ সতর্কতার সঙ্গে খেলতে হবে তাদের। এ ছাড়া সুইজারল্যান্ড ও ফ্রান্সের তিন জন করে এবং স্পেন, বেলজিয়াম, আর্জেন্টিনা ও নরওয়ের একজন করে হলুদ কার্ড দেখেন।

 

এই বিশ্বকাপের আগে অবশ্য হলুদ কার্ডজনিত নিষেধাজ্ঞায় পরিবর্তন এনেছিল ফিফা। কোয়ার্টার ফাইনাল পর্যন্ত পৌঁছাতে একটি দলকে পাঁচটি ম্যাচ খেলতে হয়। ফিফার আগের নিয়ম অনুযায়ী– ওই সময়ের মধ্যে যেকোনো দুটি ম্যাচে হলুদ কার্ড পেলেই পরবর্তী ম্যাচে নিষিদ্ধ হন সংশ্লিষ্ট খেলোয়াড়। ৩২ দলের পরিবর্তে ২০২৬ বিশ্বকাপে অংশগ্রহণ করে ৪৮টি দল। ফলে নকআউট পর্বে একটি বাড়তি রাউন্ড যোগ হয়েছে। ফিফা মনে করছে, বাড়তি এই রাউন্ডের কারণে ফুটবলারদের নিষেধাজ্ঞার ঝুঁকি অনেক বেড়ে যাবে।

 

আগের নিয়মে কোনো পরিবর্তন না আনা হলে সেমিফাইনালের মতো গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে তারকা খেলোয়াড়দের হারানোর আশঙ্কা করে ফিফা। কারণ, সেমিফাইনাল পর্যন্ত পৌঁছাতে এবার খেলোয়াড়দের ছয়টি ম্যাচ খেলতে হচ্ছে। তাই ২০২৬ বিশ্বকাপে চালু হয় নতুন কার্ড নীতি। গ্রুপ পর্বে পাওয়া সব হলুদ কার্ড নকআউট পর্ব শুরুর আগে বাতিল (রিসেট) হয়ে গেছে। এরপর কোয়ার্টার ফাইনাল শেষে আবারও হলুদ কার্ডের হিসাব শুরু হয়।

 

বিশ্বকাপের নিয়ম অনুযায়ী, ভিন্ন দুই ম্যাচে দুটি হলুদ কার্ড পেলে খেলোয়াড়কে স্বয়ংক্রিয়ভাবে এক ম্যাচের জন্য নিষিদ্ধ হতে হয়। ফলে শেষ ৩২ কিংবা শেষ ষোলোর ম্যাচে যারা ইতোমধ্যে একটি হলুদ কার্ড পেয়েছেন তারা আবারও সতর্কবার্তা পেলে, সংশ্লিষ দল সেমিফাইনালে উঠলে তারা ম্যাচটি খেলতে পারবেন না। যেহেতু কোয়ার্টার ফাইনালের পর হলুদ কার্ডের তালিকা আবার নতুন করে শুরু হয়, তাই হলুদ কার্ডের সংখ্যার কারণে কোনো খেলোয়াড় ফাইনালে নিষিদ্ধ হবেন না। কেবল সেমিফাইনালে লাল কার্ড পেলেই ফাইনালে খেলতে পারবেন না তিনি।

 

লাল কার্ড পাওয়া খেলোয়াড় স্বয়ংক্রিয়ভাবে এক ম্যাচের জন্য নিষিদ্ধ হবেন। আবার সহিংস আচরণের ক্ষেত্রে মাত্রা অনুসারে আরও নিষেধাজ্ঞা আরোপ করার অধিকার রাখে ফিফার শৃঙ্খলা কমিটি। প্রসঙ্গত, আজ (৯ জুলাই) থেকে ১২ জুলাই পর্যন্ত কোয়ার্টার ফাইনাল, ১৪-১৫ জুলাই সেমিফাইনাল, ১৮ জুলাই তৃতীয় স্থান নির্ধারণী এবং ১৯ জুলাই অনুষ্ঠিত হবে মেগা আসরের ফাইনাল।

 

নিষেধাজ্ঞার ঝুঁকিতে যে ১৮ ফুটবলার

ইংল্যান্ড : জুড বেলিংহ্যাম, নিকো ও’রাইলি, ডেক্লান রাইস, মার্ক গেয়ি

 

মরক্কো : ইসা দিওপ, আশরাফ হাকিমি, রেদোয়ান হালহাল, বিলাল এল খানুস

 

ফ্রান্স : মানু কোনে, মাইকেল ওলিসে, ব্রাডলি বারকোলা

 

সুইজারল্যান্ড : গ্রানিত জাকা, ডেনিস জাকারিয়া, মিরো মুহাইম

 

আর্জেন্টিনা : গঞ্জালো মন্টিয়েল

 

স্পেন : ফেররান তোরেস

 

বেলজিয়াম : ব্র্যান্ডন মেচেলে

 

নরওয়ে : অ্যা

ন্তোনিও নুসা

 

বিশ্বকাপে নিষেধাজ্ঞার শঙ্কায় আর্জেন্টাইন তারকাসহ ১৮ ফুটবলার

বিস্তারিত....

বিনোদন

আজ ২৫শে বৈশাখ। বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ১৬৫ তম আবির্ভাব দিবস। ১২৬৮ বঙ্গাব্দের ২৫ শে বৈশাখ, কলকাতার জোড়াসাঁকো ঠাকুরবাড়িতে জন্ম বাংলা ভাষা ও সাহিত্যের উৎকর্ষের অন্যতম এই নায়কের। তিনি অনন্য সব সৃষ্টি গল্প, কবিতা, উপন্যাস, ছোটগল্প ও অসংখ্য গানের মধ্য দিয়ে বাংলা সাহিত্য ও সংস্কৃতিকে পৌঁছে দিয়েছেন বিশ্বের কাছে।

 

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের মা সারদাসুন্দরী দেবী এবং বাবা ব্রাহ্ম ধর্মগুরু দেবেন্দ্রনাথ ঠাকুর। তিনি কবিতা লেখা শুরু করেন আট বছর বয়সে। ১৮৯১ সাল থেকে বাবার আদেশে নদিয়া, পাবনা, রাজশাহী ও ওড়িশার জমিদারি তদারকি শুরু করেন। কুষ্টিয়ার শিলাইদহের কুঠিবাড়িতে তিনি দীর্ঘসময় অতিবাহিত করেন। ১৯০১ সালে সপরিবারে চলে আসেন বীরভূমের বোলপুর শহরের উপকণ্ঠে শান্তিনিকেতনে। তার জীবদ্দশায় এবং মৃত্যুর পর প্রকাশিত হয়েছে ৫২টি কাব্যগ্রন্থ, ৩৮টি নাটক, ১৩টি উপন্যাস, ৩৬টি প্রবন্ধ এবং অন্যান্য গদ্য সংকলন। নানা কর্মসূচির মধ্য দিয়ে আজ নোবেল বিজয়ী এই সহিত্য প্রতিভাকে স্মরণ করবে তার অগণিত ভক্ত।

 

বিটিভিতে সকাল ৯টায় থাকছে বিশেষ শিশুতোষ অনুষ্ঠান। সকাল ১০টা ৫ মিনিটে প্রচারিত হবে রবীন্দ্রসংগীতের অনুষ্ঠান ‘গীতবিতান’। সন্ধ্যা ৬টায় থাকছে বিশেষ কবিতা আবৃত্তির অনুষ্ঠান। রাত ৯টায় থাকছে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের গল্প অবলম্বনে নাটক ‘সম্পত্তি সমর্পণ’। রাত ১০টায় সংবাদের পর প্রচারিত হবে বিশেষ রবীন্দ্রসংগীতের অনুষ্ঠান। অনুষ্ঠানে কবির বিভিন্ন পর্যায়ের জনপ্রিয় ৯টি গান পরিবেশন করবেন একঝাঁক রবীন্দ্রসংগীতশিল্পী। রাত ১১টায় প্রচারিত হবে ‘চিত্রাঙ্গদা’।

 

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের সাহিত্যজগৎ ছিল নানা বর্ণ, মানসিকতা ও চেতনায় ভরপুর। তাইতো, নিঃসঙ্গতার প্রতিচ্ছবি চারুলতা, সামাজিক বেড়াজাল ভেঙে আত্মসচেতন হয়ে ওঠা বিনোদিনী কিংবা গোরা উপন্যাসের স্বদেশপ্রেম ও জাতিসত্তার পরিচয়ে জর্জরিত পুরুষের মধ্যে আজও পাঠক খুঁজে ফেরে নিজেদের। বাংলার মাটিতে যেমন তাঁর কদর, তেমনি বিশ্ব দরবারেও সমানভাবে ছড়িয়ে আছে তার দীপ্তি। সাহিত্যে অবদানের জন্য ১৯১৩ সালে নবজাগরণের এই পুরোধাকে ভূষিত করা হয় নোবেল পুরস্কারে। দিনটি উদযাপনে দেশের বিভিন্ন স্থানে আয়োজন করা হয়েছে নানা আয়োজন।

বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ১৬৫তম জন্মজয়ন্তী আজ

প্রতিবেদন: ওমর ফারুক

আজ ৩ মে বিশ্বজুড়ে পালিত হচ্ছে বিশ্ব গণমাধ্যম দিবস। গণমাধ্যমের স্বাধীনতা, দায়বদ্ধতা এবং সাংবাদিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার গুরুত্ব তুলে ধরতেই প্রতি বছর এই দিনটি পালন করা হয়।

১৯৯৩ সালে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদ আনুষ্ঠানিকভাবে ৩ মে-কে বিশ্ব গণমাধ্যম স্বাধীনতা দিবস হিসেবে ঘোষণা করে। এর আগে ১৯৯১ সালে নামিবিয়ার উইন্ডহুকে গৃহীত উইন্ডহুক ঘোষণা-এর মাধ্যমে স্বাধীন ও বহুমুখী গণমাধ্যম প্রতিষ্ঠার আহ্বান জানানো হয়, যা পরবর্তীতে এই দিবস ঘোষণার ভিত্তি তৈরি করে।

বর্তমান সময়ে গণমাধ্যম সমাজের গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে সত্য ও নিরপেক্ষ তথ্য মানুষের কাছে পৌঁছে দিচ্ছে। নানা চ্যালেঞ্জের মধ্যেও সাংবাদিকরা পেশাগত দায়িত্ব পালন করে গণতন্ত্রকে শক্তিশালী করতে অবদান রাখছেন।

বিশ্ব গণমাধ্যম দিবস উপলক্ষে গণ টেলিভিশন-এর পক্ষ থেকে দেশের সকল সাংবাদিক, গণমাধ্যমকর্মী ও দর্শকদের জানানো হয়েছে আন্তরিক শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন। সত্য ও বস্তুনিষ্ঠ সংবাদ পরিবেশনের মাধ্যমে সমাজের কল্যাণে কাজ করে যাওয়ার প্রত্যয় পুনর্ব্যক্ত করেছে প্রতিষ্ঠানটি।

আজ বিশ্ব গণমাধ্যম দিবস

প্রতিবেদনঃ ওমর ফারুক

যারা বিবাহিত, তাদের তুলনায় অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্কদের ক্যানসার হওয়ার ঝুঁকি উল্লেখযোগ্যভাবে বেশি। যুক্তরাষ্ট্রের মায়ামি বিশ্ববিদ্যালয়ের নতুন এক গবেষণায় এমন চমকপ্রদ তথ্য উঠে এসেছে।

পরিসংখ্যান অনুযায়ী, অবিবাহিত পুরুষদের ক্যানসারের ঝুঁকি বিবাহিতদের তুলনায় প্রায় ৭০ শতাংশ বেশি।

গবেষণায় দেখা গেছে, যারা কখনো বিয়ে করেননি, তাদের মধ্যে ক্যানসারে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি তুলনামূলকভাবে বেশি।

 

 

২০১৫ থেকে ২০২২ সালের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের ১২টি অঙ্গরাজ্যের ৪০ লাখের বেশি মানুষের তথ্য বিশ্লেষণ করে এই ফল পাওয়া গেছে। গবেষণায় বলা হয়েছে, প্রায় সব ধরনের প্রধান ক্যানসারের ক্ষেত্রেই অবিবাহিতদের ঝুঁকি বেশি দেখা গেছে।

 

পরিসংখ্যান অনুযায়ী, অবিবাহিত পুরুষদের ক্যানসারের ঝুঁকি বিবাহিতদের তুলনায় প্রায় ৭০ শতাংশ বেশি। নারীদের ক্ষেত্রে এই ঝুঁকি আরও বেশি, প্রায় ৮৫ শতাংশ পর্যন্ত।

 

গবেষণায় আরও দেখা গেছে, অবিবাহিত পুরুষদের মধ্যে মলদ্বারের ক্যানসারের হার বিবাহিতদের তুলনায় প্রায় পাঁচ গুণ বেশি। অন্যদিকে অবিবাহিত নারীদের ক্ষেত্রে জরায়ুমুখের ক্যানসারের হার প্রায় তিন গুণ বেশি।

গবেষকদের মতে, বিয়ে অনেক সময় মানুষের জীবনযাপনকে প্রভাবিত করে। খাদ্যাভ্যাস, স্বাস্থ্যসচেতনতা এবং নিয়মিত চিকিৎসা পরীক্ষার মতো বিষয়গুলো এতে যুক্ত থাকে। ফলে এটি পরোক্ষভাবে স্বাস্থ্যের ওপর প্রভাব ফেলতে পারে।

 

তবে বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করেছেন, এর মানে এই নয় যে বিয়ে করলেই ক্যানসার থেকে সুরক্ষা পাওয়া যাবে। বরং এটি একটি সামাজিক ও আচরণগত ইঙ্গিত মাত্র।

 

গবেষকরা আরও বলেছেন, যারা অবিবাহিত, তাদের উচিত স্বাস্থ্যঝুঁকির বিষয়ে আরও সতর্ক থাকা। নিয়মিত পরীক্ষা করানো এবং স্বাস্থ্যকর জীবনযাপন বজায় রাখে।

 

অবিবাহিতদের ক্যানসারের ঝুঁকি বেশি, বলছে গবেষণা

বিস্তারিত....

মতামত

বিরোধীদলীয় নেতা ও জামায়াত আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, জাতীয় সংসদের সাবেক স্পিকার ব্যারিস্টার জমির উদ্দিন সরকারকে গভীর শ্রদ্ধায় স্মরণ করছি। তিনি পেশাগত জীবনে এবং রাজনীতিবিদ হিসেবে সফল এবং কালারফুল। ব্যক্তি এবং দল হিসেবে আমি এবং আমরা তার ক্লায়েন্ট ছিলাম।

 

রোববার (১২ জুলাই) জাতীয় সংসদে সাবেক স্পিকার ব্যারিস্টার জমির উদ্দিন সরকারকে স্মরণ করে তিনি এসব কথা বলেন।

 

বিরোধীদলীয় নেতা বলেন, বিশেষ করে আমাদের কষ্টের দিনগুলোতে, সেই ওয়ান-ইলেভেন আমলে আইনের যাঁতাকলে যখন আমরা পিষ্ট, তখন প্রায়ই আমরা তার কাছে যেতাম, দ্বারস্থ হতাম। তিনি গুরুত্বপূর্ণ পরামর্শ দিয়েই শুধু আমাদের কাজ সারেননি, বরং আমাদের মজলুম নেতৃবৃন্দের পক্ষে তিনি আদালতে বারবার দাঁড়িয়েছেন।

 

তিনি আরও বলেন, এরকম তো আরও অনেকেই দাঁড়িয়েছেন, কিন্তু তিনি একদিক দিয়ে ভীষণ ব্যতিক্রম ছিলেন। প্রথমবার থেকেই আমরা চেষ্টা করেছি, কৃতজ্ঞতাস্বরূপ তাকে কিছু ফি দেওয়ার। শেষ পর্যন্ত আমরা এই কাজে সফল হইনি।

 

বিরোধীদলীয় নেতা বলেন, তার এই অবদান স্মরণ করে আমার চোখে পানি আসছে। আমরা তার ঋণ পরিশোধ করতে পারবো না। তিনি স্পিকার হিসেবে পার্লামেন্টকে প্রাণবন্ত করে রাখতেন, আর আইনের অঙ্গনে তিনি অনেকের গুরু। তার চলন-বলন, সবকিছুই ছিল শিক্ষণীয়।

ব্যক্তি-দল হিসেবে জমির উদ্দিন সরকারের ক্লায়েন্ট ছিলাম: বিরোধীদলীয় নেতা

আগামীকাল থেকে শুরু হচ্ছে এইচএসসি পরীক্ষা: পরীক্ষার্থীদের অভিনন্দন জানিয়েছেন সাভার থানা বিএনপি সভাপতি সাইফুদ্দিন সাইফুল।

 

রাকিবুল ইসলাম রঞ্জু:

আগামীকাল থেকে শুরু হতে যাওয়া উচ্চ মাধ্যমিক সার্টিফিকেট (এইচএসসি) ও সমমানের পরীক্ষার সকল পরীক্ষার্থীদের আন্তরিক অভিনন্দন, শুভেচ্ছা ও শুভকামনা জানিয়েছেন সাভার থানা বিএনপির সভাপতি ও বিশিষ্ট সমাজসেবক সাইফুদ্দিন সাইফুল।

 

আজ এক শুভেচ্ছা বার্তায় তিনি পরীক্ষার্থীদের উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ ও সাফল্য কামনা করেন।

 

শুভেচ্ছা বার্তায় সাইফুদ্দিন সাইফুল বলেন, “এইচএসসি পরীক্ষা প্রতিটি শিক্ষার্থীর জীবনের একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ধাপ। এটি তাদের ভবিষ্যৎ উচ্চশিক্ষা ও ক্যারিয়ার গড়ার ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করে। আমি আশা করি, আমাদের সাভারসহ সারা দেশের শিক্ষার্থীরা অত্যন্ত ধৈর্য, মেধা ও মনোযোগের সাথে পরীক্ষায় অংশ নিয়ে নিজেদের মেধার সর্বোচ্চ স্বাক্ষর রাখবে।”

 

তিনি আরও বলেন, “শিক্ষার্থীরাই আমাদের আগামী দিনের দেশ গড়ার কারিগর। তাদের এই পথচলায় শিক্ষক ও অভিভাবকদের অবদান অনস্বীকার্য। আমি সকল পরীক্ষার্থীর সুস্বাস্থ্য, দীর্ঘায়ু ও পরীক্ষায় আশানুরূপ সাফল্য কামনা করছি। আল্লাহ যেন তাদের মনের আশা পূরণ করেন এবং তারা যেন দেশ ও জাতির কল্যাণে নিয়োজিত হতে পারে।”

 

একই সাথে তিনি পরীক্ষা সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা, শিক্ষক ও অভিভাবকদের প্রতি পরীক্ষার্থীরা যাতে সুষ্ঠু, সুন্দর ও নকলমুক্ত পরিবেশে পরীক্ষা দিতে পারে, তা নিশ্চিত করার আহ্বান জানান।

এইচএসসি পরীক্ষার্থীদের অভিনন্দন জানিয়েছেন সাভার থানা বিএনপি সভাপতি সাইফুদ্দিন সাইফুল

নাগরিক সমস্যার সমাধানে শুধু সরকারের ওপর নির্ভর না করে সবাইকে দায়িত্বশীল হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান।

 

বুধবার (১ জুলাই) রাজধানীর শেওরাপাড়ায় ডেঙ্গু প্রতিরোধ, পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা ও নাগরিক সমস্যা সমাধান অভিযান শেষে তিনি এ কথা বলেন।

 

জামায়াত আমির বলেন, পানি, গ্যাস ও জলাবদ্ধতার মতো অনেক সমস্যার পেছনে নাগরিকদের অসচেতনতাও দায়ী। নিজের গার্বেজটা ড্রেনে নিয়ে আমরা ফেলে দিই। সরকার তো প্রতিদিন ড্রেন পরিষ্কার করবে না। সরকার পরিষ্কার করে দেবে, নাগরিকদের সেটা রক্ষা করতে হবে।

 

এসময় বর্জ্য ড্রেনে ফেলে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি করা থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানান তিনি।

 

বিদ্যুৎ সংকট নিরসনে সরকার আন্তরিকভাবে কাজ করছে উল্লেখ করে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, সরকার, বিরোধী দল ও সাধারণ মানুষের সম্মিলিত উদ্যোগেই এসব সমস্যার দ্রুত সমাধান সম্ভব। একই সঙ্গে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি উন্নয়নে পুলিশকে সহযোগিতা এবং পরিবার থেকেই সন্তানদের চলাফেরা ও সঙ্গী সম্পর্কে সচেতন থাকার পরামর্শ দেন তিনি। এসময় স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম বলেন, ইতোপূর্বে উনার (ডা. শফিকুর রহমান) মতো দূরদর্শী নেতা সংসদে ছিল কি না, আমার জানা নেই। নিজ এলাকার দায়িত্বও তিনি প্রধানমন্ত্রীর হাতে তুলে দিয়েছেন।

শুধু সরকারের ওপর নির্ভর করবেন না: জামায়াত আমির

ইসলামী ব্যাংক ইসলাম নয়, মির্জা ফখরুল ইসলামও ইসলাম নয়, আবার জামায়াতে ইসলামও ইসলাম নয়। সবকিছুতে এভাবে ইসলামের দোহাই দেওয়া ঠিক নয়’’ বলে মন্তব্য করেছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাউদ্দিন আহমদ।

 

আজ মঙ্গলবার (০৯ জুন) জাতীয় সংসদে বাজেট অধিবেশনে বিরোধীদলের সংসদ সদস্যদের সমালোচনার জবাবে এ মন্তব্য করেন তিনি।

 

ইসলামী ব্যাংকের শীর্ষ পদে সাম্প্রতিক রদবদল, গ্রাহক বিক্ষোভ এবং সাবেক এমডির পদত্যাগ নিয়ে আজ স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাউদ্দিন আহমদের বিরুদ্ধে বক্তব্য দেন বিরোধীদলের এমপিরা।

 

পরে বিরোধীদলকে উদ্দেশ্য করে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘‘চেয়ারম্যান থেকে শুরু করে বোর্ড অব ডিরেক্টরের সবাইকে ব্যাংক কোম্পানি আইন অনুযায়ী বাংলাদেশ ব্যাংক অব্যাহতি দিতে পারে। এ বিষয়ে যদি কোনো প্রশ্ন তুলতে হয়, তবে আইন পরিবর্তন করে আসতে হবে।’’

 

অভিযোগ করে সালাউদ্দিন আহমদ বলেন, ‘ব্যাংকে বিশৃঙ্খলা তৈরির উদ্দেশ্যে একটি মহল পর্দার আড়ালে থেকে ‘‘গ্রাহক’’ সেজে আন্দোলন করাচ্ছে। বিরোধীদল বিরোধীদলের ভূমিকা পালন করুক, তাতে আপত্তি নেই। কিন্তু বারে বারে এভাবে পর্দার আড়ালে ও পর্দার বাইরে প্রচারণা চালিয়ে মানুষকে বিভ্রান্ত করবেন না।’

 

সংসদকে আশ্বস্ত করে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘‘ইসলামী ব্যাংকের বৈধ শেয়ারহোল্ডারদের শেয়ার যথাযথভাবে হস্তান্তর করা হবে। এছাড়া, নাবিল গ্রুপসহ যারা ব্যাংক থেকে টাকা নিয়ে আর ফেরত দেয়নি, তাদের প্রত্যেকের বিরুদ্ধে সুষ্ঠু তদন্ত করা হবে। একই সঙ্গে, বিগত সময়ে নিয়ম না মেনে ব্যাংকটিতে যে ৯ হাজার কর্মীকে চাকরিচ্যুত করা হয়েছিল, সেই বিষয়টিও তদন্তের আওতায় আনা হবে বলে জানান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।’’

 

এর আগে জামায়াতের আমির ডা. শফিকুর রহমানও মন্তব্য করেছিলেন, ‘‘একটি নতুন ষড়যন্ত্রের মাধ্যমে ইসলামী ব্যাংকের চেয়ারম্যান পদে অযোগ্য ব্যক্তিকে বসানো হয়েছে।’’

 

সংসদে প্রশ্নোত্তর পর্বে অংশ নিয়ে বিরোধীদলের উপনেতা আবদুল্লাহ মোহাম্মদ তাহের ইসলামী ব্যাংকের বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে সরকারের তীব্র সমালোচনা করেন। তিনি বলেন, ‘‘বিগত সরকারের আমলে ২৬টি ভুয়া কোম্পানি গঠন করে ইসলামী ব্যাংক থেকে ১ লাখ ২৫ হাজার কোটি টাকা সরিয়ে নিয়েছিল এস আলম গ্রুপ। আর এখন বর্তমান সরকার ব্যাংকটিতে কিছু বিতর্কিত লোককে বসিয়েছে। এর মাধ্যমে জনগণের টাকা পুনরায় লুটপাট হবে, এটা অত্যন্ত পরিষ্কার।’’

 

আবদুল্লাহ মোহাম্মদ তাহের প্রশ্ন তোলেন, ‘‘কোন কারণে একজন দুর্নীতিগ্রস্ত ব্যক্তিকে চেয়ারম্যান করা হলো এবং কোন কারণে আগের এমডিকে পদত্যাগ করতে বাধ্য করা হলো? ইসলামী ব্যাংককে যদি স্বাভাবিক প্রক্রিয়ায় চলতে না দেয়া হয়, তবে দেশে বড় ধরনের বিশৃঙ্খলা তৈরি হবে।’’

ইসলামী ব্যাংক ইসলাম নয়, মির্জা ফখরুলও ইসলাম নয়, জামায়াতও ইসলাম নয়: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

 

সরকারের কোষাগারের টাকায় ঢাকার দুই সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক নির্বাচনী প্রচারণা চালাচ্ছেন বলে অভিযোগ করেছেন এনসিপির মুখপাত্র আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া।

 

আজ মঙ্গলবার (৯ জুন) বিকেলে রাজধানীর নাখালপাড়ার হোসেন আলী উচ্চ বিদ্যালয়ে বৃক্ষ বিতরণ কর্মসূচি শেষে এ অভিযোগ করেন তিনি।

 

এনসিপির মুখপাত্র বলেন, এনসিপির পক্ষ থেকে ৫ দফা দাবি দেওয়া হয়েছে। তারা চেয়ারে বসে নির্বাচন করতে পারবেন না। তারা লাখ লাখ পোস্টার লাগিয়ে নগরকে দূষিত করছেন। আবাসিক এলাকা, এমনকি মেট্রো স্টেশনেও গরুর হাট বসানো হয়েছে। এই অব্যবস্থাপনাই প্রমাণ করে তারা মেয়র হওয়ার যোগ্য নন।

 

আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া বলেন, বিভিন্ন জায়গায় আওয়ামী লীগের (কার্যক্রম নিষিদ্ধ দল) মিছিল হচ্ছে। যা স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ও মন্ত্রণালয়ের ব্যর্থতা, কারণ আওয়ামী লীগের সকল কার্যক্রম নিষিদ্ধ আছে।

 

এদিকে, স্থানীয় নির্বাচনে এনসিপি এককভাবে অংশ নেওয়ার সর্বোচ্চ প্রস্তুতি নিচ্ছে উল্লেখ করে আসিফ মাহমুদ জানান, জোটগতভাবে নির্বাচনে যাবে কি না তা তফসিলের পর দলগুলোর সাথে বসে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

সরকারি টাকায় ভোটের প্রচারণা চালাচ্ছেন ঢাকার দুই সিটি প্রশাসক: আসিফ মাহমুদ

বিস্তারিত....

সারাবাংলা

গাইবান্ধায় ৭০ পিস ইয়াবাসহ মাদক ব্যবসায়ী গ্রেফতার করেছে ডিবি পুলিশ

 

শাহ্ পারভেজ সংগ্রাম,গাইবান্ধা প্রতিনিধি

গাইবান্ধা সদর উপজেলায় গোপন সংবাদের ভিত্তিতে বিশেষ অভিযান চালিয়ে ৭০ পিস ইয়াবা ট্যাবলেটসহ মো. উজ্জল মিয়া (২৫) নামে এক মাদক ব্যবসায়ীকে গ্রেফতার করেছে জেলা গোয়েন্দা শাখা (ডিবি) পুলিশ।

 

রবিবার (১২ জুলাই) দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে গাইবান্ধা সদর থানাধীন ২নং মালিবাড়ি ইউনিয়নের ৫নং ওয়ার্ডের কিসামত মালিবাড়ি মধ্যপাড়া গ্রামস্থ জনৈক লাল মিয়ার বাড়ির সামনে পাকা রাস্তার ওপর থেকে তাকে গ্রেফতার করা হয়।

পুলিশ সূত্রে জানা যায়, গাইবান্ধার পুলিশ সুপারের সার্বিক দিকনির্দেশনায় এবং জেলা গোয়েন্দা শাখার (ডিবি) অফিসার ইনচার্জের নেতৃত্বে ডিবি পুলিশের একটি চৌকস আভিযানিক দল গোপন সংবাদের ভিত্তিতে ওই এলাকায় মাদকবিরোধী অভিযান পরিচালনা করে। এ সময় মাদক কেনাবেচার সময় মো. উজ্জল মিয়াকে হাতেনাতে আটক করা হয়। পরে তার পরিহিত প্যান্টের সামনের বাম পকেট থেকে বিশেষ কায়দায় রাখা সাদা পলিথিনে মোড়ানো ৭০ পিস কমলা রঙের ইয়াবা ট্যাবলেট উদ্ধার করা হয়।

গ্রেফতারকৃত মো. উজ্জল মিয়া গাইবান্ধা সদর থানার কাউন্সিলর বাজার এলাকার মো. হাবিবুর রহমানের ছেলে।

গাইবান্ধা জেলা গোয়েন্দা শাখার পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, গ্রেফতারকৃত আসামির বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে এবং আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন। বর্তমানে ওই এলাকার আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে।

মাদক নির্মূলে জেলা পুলিশের এমন কঠোর অবস্থান অব্যাহত থাকবে বলেও সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।

গাইবান্ধায় ৭০ পিস ইয়াবাসহ মাদক ব্যবসায়ী গ্রেফতার করেছে ডিবি পুলিশ 

সাতক্ষীরা জেলা আইন-শৃঙ্খলা বিষয়ক মাসিক সভা অনুষ্ঠিত

 

মো: তুহিন হোসেন সাতক্ষীরা প্রতিনিধি :

 

সাতক্ষীরা জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে জনাব মিজ্ কাউসার আজিজ, জেলা প্রশাসক, সাতক্ষীরার সভাপতিত্বে জেলা আইন-শৃঙ্খলা বিষয়ক মাসিক সভা অনুষ্ঠিত হয়।

১২ জুলাই ২০২৬ খ্রিঃ তারিখে রবিবার। উক্ত জেলা আইন-শৃঙ্খলা সভায় সম্মানিত সহ-সভাপতি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সাতক্ষীরা জেলা পুলিশের অভিভাবক সুযোগ্য পুলিশ সুপার জনাব আবু সালেহ মোঃ আশরাফুল আলম মহোদয়।

সভায় পুলিশ সুপার মহোদয় অত্র জেলার সার্বিক আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা করেন এবং অপরাধ দমনে সকলের সহযোগিতা কামনা করেন। জেলা আইন-শৃঙ্খলা বিষয়ক সভায় সম্পত্তি সংক্রান্ত অপরাধ নিয়ন্ত্রণ, সন্ত্রাস ও নাশকতামূলক কার্যক্রম পর্যালোচনা, মাদকদ্রব্য ও চোরাচালান নিরোধ, অনলাইন জুয়া, অনিষ্পন্ন চোরাচালান মামলার নিষ্পত্তি ত্বরান্বিতকরণ, সড়ক দূর্ঘটনা নিয়ন্ত্রণ, মানব পাচার প্রতিরোধ, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শৃঙ্খলা, সড়কের শৃঙ্খলা, অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ ও ফুটপাত দখলমুক্তকরন, ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা ইত্যাদি বিষয়ের উপর বিস্তারিত আলোচনা করেন।

এসময় আরও উপস্থিত ছিলেন জেলার বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি দপ্তরের কর্মকর্তাবৃন্দ, রাজনৈতিক দলের নেতৃবৃন্দ, সুধীবৃন্দ এবং প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ার সাংবাদিকবৃন্দ।

সাতক্ষীরা জেলা আইন-শৃঙ্খলা বিষয়ক মাসিক সভা অনুষ্ঠিত

 

ফেনী সীমান্তে বিজিবির অভিযানে ১ কোটি টাকার ভারতীয় পণ্য জব্

 

প্রতিবেদক, ফেনী:রহিম আলী জাবেদ

 

ফেনী ও চট্টগ্রামের সীমান্তবর্তী এলাকায় পৃথক চোরাচালানবিরোধী অভিযানে প্রায় ১ কোটি ১ লাখ ৭৯ হাজার ৭৫ টাকা মূল্যের বিপুল পরিমাণ ভারতীয় শাড়ি, থ্রিপিস, কসমেটিকস, চকলেট ও বিভিন্ন ধরনের ওষুধ জব্দ করেছে ফেনী ব্যাটালিয়ন (৪ বিজিবি)।

রোববার (১২ জুলাই) গোপন সংবাদের ভিত্তিতে ফেনী জেলার পরশুরাম ও ছাগলনাইয়া উপজেলা এবং চট্টগ্রাম জেলার জোরারগঞ্জ উপজেলার সীমান্ত এলাকায় বিশেষ অভিযান চালিয়ে এসব পণ্য জব্দ করা হয়।

 

বিজিবি জানায়, জব্দকৃত মালামালের আনুমানিক বাজারমূল্য ১ কোটি ১ লাখ ৭৯ হাজার ৭৫ টাকা। প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য জব্দকৃত মালামাল স্থানীয় কাস্টমস কর্তৃপক্ষের কাছে হস্তান্তরের প্রক্রিয়া চলছে।

ফেনী ব্যাটালিয়নের (৪ বিজিবি) অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল এম এম জিল্লুর রহমান বলেন, সীমান্তে নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ, পুশইন প্রতিরোধ, সীমান্ত হত্যা শূন্যের কোটায় রাখা, মাদক ও চোরাচালান দমন এবং অবৈধ অনুপ্রবেশ রোধে বিজিবির গোয়েন্দা নজরদারি ও আভিযানিক কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে।

ফেনী সীমান্তে বিজিবির অভিযানে ১ কোটি টাকার ভারতীয় পণ্য জব্দ

বিস্তারিত....

Top