Gono television | বাংলাদেশ সরকার অনুমোদিত বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেল। - Gono television is the Bangladesh Government Approved 24/7 News Based TV Channel and Most Reliable News Source and Leading 24/7 News Based TV Channel in Bangladesh, It also the Most Popular News Media for Bangaldesh and Bengali Audience worlwide since 2016.

সংবাদ শিরোনামঃ
অস্ট্রেলিয়ার সর্বোচ্চ বেসামরিক সম্মাননা পাওয়ায় বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত সার্জেন্ট মোহাম্মদ শাব্বির আলমকে সংবর্ধনা নীলফামারীতে মাদক ও সামাজিক অপরাধ প্রতিরোধে সচেতনতামূলক মতবিনিময় সভা  এনসিপির গাড়িবহর আটকে দিলো পুলিশ, নেতাদের সঙ্গে ধাক্কাধাক্কি নওগাঁ জেনারেল হাসপাতালে চেরি গাছ উপহার: অনন্য নজির রাখলেন নওগাঁর ‘তাল বেলাল’ ব্রাজিল অধ্যায়ের ইতি টানলেন নেইমার! সমকামিতার অভিযোগে ছাত্রদল নেতা বহিষ্কার শ্যামনগরে পুলিশের অভিযানে বিপুল মাদক ও অবৈধ ওষুধ জব্দ, অন্ধকারে পালালো কারবারিরা গাইবান্ধায় হয়রানি ও মিথ্যা মামলার প্রতিবাদে সংবাদ সম্মেলন সেলফি ভিডিও দিয়েই ফেসবুক অ্যাকাউন্ট ভেরিফাই, মিলবে যেসব সুবিধা আলোচিত খুন-ডাকাতির রহস্য উদ্ঘাটন, ৯ দিনে পুলিশের জালে মূল ৭ সদস্য

চার বিয়ে সুন্নত? নাকি সমাজের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় বিভ্রান্তি

 

জাহেদুল ইসলাম আল রাইয়ান

 

ধর্মীয় আলোচনায় এমন কিছু বিষয় রয়েছে, যেগুলো যতটা আলোচিত, তার চেয়ে অনেক বেশি অপব্যাখ্যাত। ইসলামে একাধিক বিয়ার বিধান তার অন্যতম। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম থেকে শুরু করে জনপরিসরের নানা বক্তৃতায় প্রায়ই এমন ধারণা প্রচার করা হয় যে, চারটি বিয়া করা সুন্নত, বরং এটি যেন একজন ধার্মিক পুরুষের বিশেষ মর্যাদার পরিচয়। অথচ কুরআন, সুন্নাহ এবং ইসলামী আইনশাস্ত্রের নির্ভরযোগ্য ব্যাখ্যা এই ধারণাকে সমর্থন করে না।

 

প্রথমেই একটি মৌলিক সত্য স্পষ্ট হওয়া প্রয়োজন ইসলামে বিবাহ সুন্নত, কিন্তু চারটি বিয়া সুন্নত নয়। রাসূলুল্লাহ সা. বিবাহকে তাঁর সুন্নত হিসেবে ঘোষণা করেছেন, কিন্তু কোথাও চারটি বিয়া করাকে সুন্নত হিসেবে ঘোষণা করেননি। এই দুটির মধ্যে পার্থক্য না করায় সমাজে বিভ্রান্তি তৈরি হয়েছে।

 

কুরআন পুরুষকে সর্বোচ্চ চারজন স্ত্রী গ্রহণের অনুমতি দিয়েছে, তবে সেই অনুমতির সঙ্গে এমন একটি শর্ত জুড়ে দিয়েছে, যা অধিকাংশ আলোচনায় ইচ্ছাকৃত বা অনিচ্ছাকৃতভাবে উপেক্ষিত হয়। আল্লাহ তাআলা বলেছেন, যদি ন্যায়বিচার করতে না পারার আশঙ্কা থাকে, তাহলে একজন স্ত্রীই যথেষ্ট। অর্থাৎ ইসলামের মূল বক্তব্য সংখ্যা নয়, ন্যায়বিচার। অনুমতি নয়, দায়িত্ব। অধিকার নয়, জবাবদিহি।

 

এই আয়াতের অবতীর্ণ হওয়ার ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপটও গভীরভাবে তাৎপর্যপূর্ণ। উহুদের যুদ্ধে বহু মুসলিম শহীদ হওয়ার পর মদিনায় অসংখ্য নারী বিধবা হন এবং বহু শিশু পিতৃহীন হয়ে পড়ে। সমাজে তখন এমন এক মানবিক সংকট তৈরি হয়, যেখানে নারীদের নিরাপত্তা, সম্মান, ভরণপোষণ ও সামাজিক স্থিতি নিশ্চিত করা জরুরি হয়ে ওঠে। এই বাস্তবতায় ইসলাম সীমাহীন বহুবিবাহের প্রচলিত আরব প্রথাকে নিয়ন্ত্রণ করে সর্বোচ্চ চারজন পর্যন্ত সীমাবদ্ধ করে এবং তার সঙ্গে ন্যায়বিচারের কঠোর শর্ত আরোপ করে। সুতরাং একাধিক বিয়ার অনুমতি ছিল একটি সামাজিক দায়িত্ব পালনের পথ, প্রবৃত্তির অবাধ বৈধতা নয়।

 

দুঃখজনক হলেও সত্য, বর্তমান সমাজে এই বিধানকে প্রায়ই তার মূল দর্শন থেকে বিচ্ছিন্ন করে কেবল পুরুষের ব্যক্তিগত আকাঙ্ক্ষার সঙ্গে যুক্ত করা হয়। বিশেষ করে আর্থিকভাবে অসচ্ছল, সামাজিকভাবে দুর্বল কিংবা নিজের কন্যার বয়সী কোনো তরুণীকে দ্বিতীয় বা তৃতীয় স্ত্রী হিসেবে গ্রহণ করে কেউ যদি এটিকে ‘সুন্নত’ পালনের ভাষ্য দেন, তাহলে তা ইসলামের নৈতিক উদ্দেশ্যের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। ইসলাম কখনো মানুষের দুর্বলতাকে ভোগের সুযোগে পরিণত করার শিক্ষা দেয়নি, বরং দুর্বল মানুষের অধিকার সংরক্ষণকেই ধর্মীয় দায়িত্বে পরিণত করেছে।

 

ইসলামী আইনশাস্ত্রে একাধিক বিয়া কোনো একরৈখিক বিধান নয়। ইমাম নববী রহ., ইমাম ইবনু কুদামাহ রহ., ইমাম কুরতুবী রহ. এবং ইমাম ইবন কাসীর রহ.-এর আলোচনায় স্পষ্ট যে, একাধিক বিয়ার বিধান ব্যক্তির সামর্থ্য, প্রয়োজন এবং ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার সক্ষমতার ওপর নির্ভরশীল। কোথাও তা বৈধ, কোথাও তা কল্যাণকর হতে পারে, আবার কোথাও তা অপছন্দনীয় কিংবা অন্যায়ের আশঙ্কা থাকলে নিষিদ্ধের পর্যায়েও পৌঁছাতে পারে। অতএব, একাধিক বিয়াকে সর্বাবস্থায় সুন্নত হিসেবে উপস্থাপন করা ফিকহের প্রতিষ্ঠিত নীতির সঙ্গে সঙ্গতিপূর্ণ নয়।

 

রাসূলুল্লাহ সা. কঠোর ভাষায় সতর্ক করেছেন যে ব্যক্তি একাধিক স্ত্রীর মধ্যে ন্যায়বিচার করবে না, কিয়ামতের দিন সে বিকলাঙ্গ ও লাঞ্ছিত অবস্থায় উপস্থিত হবে। এই হাদিস একাধিক বিয়ার অনুমতির চেয়ে তার দায়িত্ব ও জবাবদিহিকেই অধিক গুরুত্ব দিয়েছে।

 

অনেকেই আবার রাসূলুল্লাহ সা.-এর একাধিক বিবাহকে ব্যক্তিগত আকাঙ্ক্ষার পক্ষে দলিল হিসেবে ব্যবহার করেন। অথচ এটি ইতিহাসের অসম্পূর্ণ পাঠ। তাঁর অধিকাংশ বিবাহ ছিল বিধবা নারীদের আশ্রয় প্রদান, বিভিন্ন গোত্রের সঙ্গে সামাজিক ও রাজনৈতিক সম্পর্ক সুদৃঢ় করা, ইসলামী পারিবারিক বিধান বাস্তব জীবনে শিক্ষা দেওয়া এবং নবুয়তের দায়িত্ব পালনের বৃহত্তর প্রয়োজনে। উপরন্তু, চারজনের অধিক স্ত্রী রাখার অনুমতি ছিল তাঁর জন্য বিশেষ বিধান; যা সাধারণ মুসলমানদের জন্য প্রযোজ্য নয়। অতএব, নববী জীবনের বিশেষ বৈশিষ্ট্যকে সাধারণ বিধান হিসেবে প্রতিষ্ঠা করা বৈজ্ঞানিক বা শরয়ি কোনো দৃষ্টিকোণ থেকেই গ্রহণযোগ্য নয়।

আজ আমাদের সমাজে একাধিক বিয়া নিয়ে দুটি বিপরীত প্রবণতা দেখা যায়। একদল এটিকে ধর্মীয় শ্রেষ্ঠত্বের প্রতীক বানাতে চান, আরেকদল ইসলামকে দোষারোপ করে পুরো বিধানকেই প্রশ্নবিদ্ধ করেন। বাস্তবে এই দুই অবস্থানই কুরআনের ভারসাম্যপূর্ণ দৃষ্টিভঙ্গি থেকে বিচ্যুত। ইসলাম একাধিক বিয়াকে কখনো বাধ্যতামূলক করেনি, আবার অযৌক্তিকভাবেও নিষিদ্ধ করেনি। বরং ব্যক্তি, পরিবার ও সমাজের সামগ্রিক কল্যাণ বিবেচনায় একটি সীমিত, নিয়ন্ত্রিত এবং জবাবদিহিমূলক অনুমতি দিয়েছে।

 

ইসলামের পরিবারব্যবস্থার কেন্দ্রবিন্দু সংখ্যা নয়, ন্যায়বিচার, অধিকার নয়, দায়িত্ব, প্রবৃত্তি নয়, তাকওয়া। তাই চারটি বিয়া করাকে ধর্মীয় কৃতিত্ব হিসেবে প্রচার করা যেমন বিভ্রান্তিকর, তেমনি ইসলামের এই শর্তসাপেক্ষ বিধানকে নারীবিদ্বেষের প্রতীক হিসেবে উপস্থাপন করাও ইতিহাস ও শরিয়ত উভয়ের প্রতিই অবিচার। ইসলামের প্রকৃত শিক্ষা হলো, যে সম্পর্ক ন্যায়বিচার, দায়িত্ববোধ ও মানবিক মর্যাদাকে প্রতিষ্ঠা করে, কেবল সেই সম্পর্কই আল্লাহর কাছে গ্রহণযোগ্য। আর যেখানে ন্যায়বিচারের নিশ্চয়তা নেই, সেখানে কুরআনের নির্দেশ আজও একই একজনই যথেষ্ট।

 

লেখক কলামিস্ট ও শিক্ষার্থী, আল-আজহার বিশ্ববিদ্যালয়,কায়রো,মিশর

 

mdraiyan6790@gmail.com

+8801871194102

চার বিয়ে সুন্নত? নাকি সমাজের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় বিভ্রান্তি

অস্ট্রেলিয়ার সর্বোচ্চ বেসামরিক সম্মাননা পাওয়ায় বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত সার্জেন্ট মোহাম্মদ শাব্বির আলমকে সংবর্ধনা

 

অস্ট্রেলিয়ার অন্যতম সর্বোচ্চ বেসামরিক সম্মাননা `অর্ডার অব অস্ট্রেলিয়া মেডেল (OAM)’ অর্জন করায় বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত অস্ট্রেলীয় পুলিশ কর্মকর্তা সার্জেন্ট মোহাম্মদ শাব্বির আলমকে সংবর্ধনা দিয়েছে ভিক্টোরিয়ার বাংলাদেশি কমিউনিটি।

 

১২ জুলাই: মেলবোর্নের গ্লেন ওয়েভারলি কমিউনিটি সেন্টারে আয়োজিত এ নাগরিক সংবর্ধনায় বাংলাদেশি কমিউনিটির বিভিন্ন প্রজন্মের বিপুলসংখ্যক মানুষ অংশ নেন। শীত ও গুঁড়ি গুঁড়ি বৃষ্টি উপেক্ষা করে তাঁরা সার্জেন্ট আলমের এই অর্জন উদ্‌যাপনে একত্র হন।

 

সার্জেন্ট শাব্বির আলম দীর্ঘদিন ধরে মানবসেবা, স্বেচ্ছাসেবামূলক কার্যক্রম, জননিরাপত্তা ও কমিউনিটি উন্নয়নে অবদান রেখে আসছেন। বিশেষ করে ২০০৯ সালের ব্ল্যাক স্যাটারডে এবং ২০১৯ সালের ব্ল্যাক সামার দাবানলের সময় ত্রাণ ও উদ্ধার কার্যক্রমে তাঁর ভূমিকা ব্যাপক প্রশংসিত হয়। এসব অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ তাঁকে OAM প্রদান করা হয়েছে।

 

অনুষ্ঠান শুরু হয় বিকেল ৩টা ১৫ মিনিটে। সঞ্চালনা করেন আমিন রহমান। অস্ট্রেলিয়ার প্রচলিত *Acknowledgement of Country*-এর মাধ্যমে অনুষ্ঠানের সূচনা হয়। পরে সার্জেন্ট আলমের বিভিন্ন পদক, সম্মাননা ও অর্জনের বিবরণ তুলে ধরা হলে উপস্থিত অতিথিরা করতালির মাধ্যমে তাঁকে অভিনন্দন জানান।

 

বক্তব্যে মুশফিকুর রহমান বলেন, সার্জেন্ট আলম জেনারেশন–ওয়াইয়ের প্রতিনিধি। এর আগে OAM অর্জনকারী বাংলাদেশি-অস্ট্রেলীয়রা ছিলেন বেবি বুমার প্রজন্মের। তাঁর মতে, এটি বাংলাদেশি-অস্ট্রেলীয় কমিউনিটির বিকাশ ও মূলধারার অস্ট্রেলীয় সমাজে তাদের ক্রমবর্ধমান অংশগ্রহণের প্রতিফলন।

 

তিনি আরও বলেন, আগের প্রজন্মের অনেকেই মূলত বাংলাদেশি অভিবাসীদের সহায়তায় কাজ করেছেন। অন্যদিকে সার্জেন্ট আলমের সেবার পরিধি সমগ্র অস্ট্রেলীয় সমাজজুড়ে বিস্তৃত, যা বাংলাদেশি-অস্ট্রেলীয়দের স্বেচ্ছাসেবামূলক কর্মকাণ্ডকে নতুন উচ্চতায় নিয়ে গেছে।

 

অনুষ্ঠানে কামরুল চৌধুরী OAM, মোহাম্মদ কামরুজ্জামান OAMসহ আরও কয়েকজন বক্তা সার্জেন্ট আলমের অবদানের প্রশংসা করেন।

 

প্রতিক্রিয়ায় সার্জেন্ট শাব্বির আলম বলেন, কোনো বড় অর্জন বা জনসেবা একার পক্ষে সম্ভব নয়। এর পেছনে একটি নিবেদিত দলের সম্মিলিত প্রচেষ্টা থাকে। তিনি তাঁর সহকর্মী ও স্বেচ্ছাসেবকদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান।

 

অনুষ্ঠানের একপর্যায়ে বাংলাদেশি কমিউনিটির পক্ষ থেকে তাঁর হাতে একটি *Certificate of Appreciation* তুলে দেওয়া হয়। সম্মাননাপত্রে মানবসেবা, বিনয় এবং সব সম্প্রদায়ের কল্যাণে তাঁর অবদানের প্রশংসা করা হয়।

 

অনুষ্ঠান শেষে অতিথিদের জন্য পরিবেশন করা হয় ঘরে তৈরি বিভিন্ন ধরনের মিষ্টান্ন ও নাস্তা। পরে সৌহার্দ্যপূর্ণ আড্ডা, স্মৃতিচারণ এবং আলোকচিত্র ধারণের মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠানের সমাপ্তি ঘটে।

 

আয়োজকদের ভাষ্য, এই সংবর্ধনা শুধু সার্জেন্ট শাব্বির আলমের ব্যক্তিগত অর্জনের স্বীকৃতিই নয়; এটি বাংলাদেশি-অস্ট্রেলীয় কমিউনিটির সামাজিক দায়বদ্ধতা, স্বেচ্ছাসেবামূলক চর্চা এবং বৃহত্তর অস্ট্রেলীয় সমাজে তাদের ইতিবাচক অবদানেরও একটি প্রতীক।

 

*প্রতিবেদন: এম. রহমান, মেলবোর্ন, অস্ট্রেলিয়া*

অস্ট্রেলিয়ার সর্বোচ্চ বেসামরিক সম্মাননা পাওয়ায় বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত সার্জেন্ট মোহাম্মদ শাব্বির আলমকে সংবর্ধনা

নীলফামারীতে মাদক ও সামাজিক অপরাধ প্রতিরোধে সচেতনতামূলক মতবিনিময় সভা

 

স্টাফ রিপোর্টার

মাইদুল ইসলাম

নীলফামারীতে মাদক ও সামাজিক অপরাধ প্রতিরোধে জনসচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে মতবিনিময় সভা করেছেন র‍্যাব- ১৩, সিপিসি-২। বুধবার ষ

(২৯ জুলাই) সকালে জেলা শিল্পকলা একাডেমি অডিটোরিয়ামে এ সভার আয়োজন করা হয়।

র‍্যাব-১৩, সিপিসি-২ এর কোম্পানি কমান্ডার

স্কোয়াড্রোন লিডার আশরাফুল কবিরের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ নায়িরুজামান। বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার

(প্রশাসক ও অর্থ) মো. মহসীন। সভায় বক্তারা বলেন, মাদক সমাজের জন্য একটি ভয়াবহ ব্যাধি। এটি শুধু একজন ব্যক্তিকে নয়, একটি পরিবার ও সমাজকে ধ্বংসের দিকে ঠেলে দেয়। মাদক ও বিভিন্ন সামাজিক অপরাধ প্রতিরোধে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পাশাপাশি অভিভাবক, শিক্ষক, জনপ্রতিনিধি, ধর্মীয়

নেতাসহ সমাজের সব শ্রেণি-পেশার মানুষের সম্মিলিত উদ্যোগ প্রয়োজন। সভা শেষে শিক্ষার্থীদের মাঝে খেলার সামগ্রী বিতরণ করা হয়। এ সময় সরকারি বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তা, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের

শিক্ষক-শিক্ষার্থী, স্থানীয় গণমাধ্যম ব্যক্তি, সাংবাদিক ও সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।

নীলফামারীতে মাদক ও সামাজিক অপরাধ প্রতিরোধে সচেতনতামূলক মতবিনিময় সভা 

১৪৪ ধারা জারির মধ্যেই জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) কেন্দ্রীয় নেতাদের গাড়িবহর হবিগঞ্জে প্রবেশের পথে পুলিশের বাধার মুখে পড়েছে। এসময় এনসিপি নেতাদের সঙ্গে পুলিশের ধাক্কাধাক্কি হয়।

 

বহরে আছেন এনসিপির দক্ষিণাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক ও সংসদ সদস্য হাসনাত আব্দুল্লাহ, উত্তরাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক সারজিস আলম ও মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীনসহ আরও অনেকে।

 

আজ বুধবার বিকাল পৌনে ৫টার দিকে মৌলভীবাজার থেকে হবিগঞ্জের প্রবেশপথ সাতগাঁও এলাকায় পুলিশ তাদের আটকে দেয়। ঘটনাস্থলে পুলিশ ও এনসিপি নেতাদের মধ্যে বাদানুবাদ চলছে। একই সময়ে দলীয় কার্যালয়ের আশপাশে অবস্থান নেন ছাত্রদল ও যুবদলের নেতাকর্মীরা। পাল্টাপাল্টি কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে পৌর এলাকায় থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে। শহরের অন্তত ২৫টি গুরুত্বপূর্ণ স্থানে পুলিশ মোতায়েন রয়েছে।

 

বুধবার বিকাল ৪টায় জেলা এনসিপির সদস্য সচিব মাহবুবুল বারী চৌধুরী মুবিন আগামীর সময়কে জানান, হামলার প্রতিবাদে বিক্ষোভ করতে কিছুক্ষণের মধ্যেই কেন্দ্রীয় নেতাদের হবিগঞ্জে প্রবেশের কথা ছিল। কিন্তু পুলিশ পথে বাধা দিয়ে তাদের আটকে দিয়েছে।

 

অন্যদিকে ছাত্রদলের এক শীর্ষ নেতা বলেন, ১৪৪ ধারার কারণে কোনো বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করা হচ্ছে না। তবে নেতাকর্মীরা দলীয় কার্যালয়ের আশপাশে অবস্থান করছেন।

 

দুই পক্ষের পাল্টাপাল্টি কর্মসূচিকে ঘিরে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ায় জেলা প্রশাসক ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেট ড. জি এম সরফরাজ পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত হবিগঞ্জ পৌর এলাকায় ১৪৪ ধারা জারি করেন। বুধবার সকাল থেকেই টাউন হল, জেলা প্রশাসকের কার্যালয়, সদর মডেল থানা, আদালত এলাকা, টাউন হল রোড, চৌধুরীবাজার, কালীবাড়ি রোড, রাজনগর ও শায়েস্তানগরসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থানে শতাধিক পুলিশ সদস্যকে দায়িত্ব পালন করতে দেখা যায়।

 

এর আগে মঙ্গলবার সন্ধ্যায় টাউন হলের সামনে পথসভা শেষে সার্কিট হাউসে ফেরার পথে এনসিপির কেন্দ্রীয় নেতাদের গাড়িবহরে হামলার ঘটনা ঘটে। হামলার পর নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী, সারজিস আলমসহ নেতারা সোনালী ব্যাংকের হবিগঞ্জ প্রধান শাখায় আশ্রয় নেন। পরে পুলিশ সুপার তারেক মাহমুদের নেতৃত্বে পুলিশ তাদের উদ্ধার করে সার্কিট হাউসে পৌঁছে দেয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ একটি সাউন্ড গ্রেনেড নিক্ষেপ করে।

 

হামলার জন্য ছাত্রদলের নেতাকর্মীদের দায়ী করে সারজিস আলম দাবি করেন, হামলায় একজন কর্মীর একটি চোখ নষ্ট হয়েছে, জেলা এনসিপির নেতা মুবিনের হাত ভেঙেছে এবং তিনি নিজেও আঙুলে আঘাত পেয়েছেন।

এনসিপির গাড়িবহর আটকে দিলো পুলিশ, নেতাদের সঙ্গে ধাক্কাধাক্কি

 

নওগাঁ জেনারেল হাসপাতালে চেরি গাছ উপহার: অনন্য নজির রাখলেন নওগাঁর ‘তাল বেলাল’

 

মোঃ সাইদুল ইসলাম হেলাল

বিশেষ প্রতিনিধিঃ

নওগাঁ ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট আধুনিক জেনারেল হাসপাতালের সৌন্দর্য ও পরিবেশের শোভা বৃদ্ধির লক্ষ্যে এক ব্যতিক্রমী উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। আজ বুধবার সকালে ‘নওগাঁ পরিবেশ উন্নয়ন সংস্থা’র উদ্যোগে হাসপাতাল প্রাঙ্গণে রোপণের জন্য শোভাবর্ধনকারী থাই চেরি ফুলের গাছ উপহার দেওয়া হয়। সংস্থার নির্বাহী পরিচালক ও দেশবরেণ্য বিশিষ্ট বৃক্ষপ্রেমী মাহমুদুন নবী বেলালের ব্যক্তিগত উদ্যোগে নওগাঁ ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার (আরএমও) ডা. আবু জার গাফফার-এর হাতে আনুষ্ঠানিক ভাবে এই চেরি ফুলের গাছ তুলে দেওয়া হয়। গাছ হস্তান্তরকালে অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন নওগাঁ পরিবেশ উন্নয়ন সংস্থার ভারপ্রাপ্ত সভাপতি আসাদুজ্জামান খান চৌধুরী, সদস্য আব্দুল কাইউম, সজিব হোসেন এবং হাসপাতালের কর্মকর্তা ও কর্মচারীবৃন্দ। গাছ হস্তান্তরকালে আরএমও ডা. আবু জার গাফফার বলেন, “হাসপাতালের মতো একটি জনাকীর্ণ ও সংবেদনশীল স্থানে এ ধরনের দৃষ্টিনন্দন ফুলের গাছ রোপণ রোগীদের মানসিক প্রশান্তি দেবে। পরিবেশ রক্ষায় ও হাসপাতালের সার্বিক পরিবেশ মনোরম করতে এই সবুজ উদ্যোগ সত্যি প্রশংসনীয়। “অনুষ্ঠানে বৃক্ষপ্রেমী মাহমুদুন নবী বেলাল বলেন, “পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা ও জলবায়ু পরিবর্তনের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় আমাদের সবাইকে নিজ নিজ অবস্থান থেকে এগিয়ে আসতে হবে। হাসপাতাল প্রাঙ্গণকে সুশোভিত করতে এবং এখানে আগত সেবাপ্রার্থীদের মনে কিছুটা স্বস্তি দিতেই আমাদের এই ক্ষুদ্র প্রয়াস। “উল্লেখ্য, বৃক্ষপ্রেমী মাহমুদুন নবী বেলাল পরিবেশ রক্ষায় একজন নিবেদিতপ্রাণ মানুষ। তিনি ইতিপূর্বে সম্পূর্ণ নিজস্ব উদ্যোগে নওগাঁ-রাজশাহী মহাসড়কের দু’পাশের প্রায় ৭৫ কিলোমিটার এলাকা জুড়ে বিপুল পরিমাণ তাল বীজ রোপণ করে দেশজুড়ে অনন্য নজির স্থাপন করেছেন। মহাসড়কের পাশে তাঁর রোপণ করা সেই তালগাছগুলো এখন দৃশ্যমান ও পরিবেশের শোভা বাড়াচ্ছে। এই অসাধারণ কীর্তির জন্য তিনি এলাকাবাসী ও পরিবেশবাদীদের কাছে ‘তাল বেলাল’ নামে বিশেষভাবে পরিচিতি লাভ করেছেন। এর পাশাপাশি জেলার বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠান ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে তিনি নিয়মিত ফলজ, বনজ ও ওষুধি গাছ রোপণ করে আসছেন।

 

মোঃ সাইদুল ইসলাম হেলাল

বিশেষ প্রতিনিধিঃ

মোবাইল নং- ০১৭২৪২৫৫৭০৬

তারিখঃ ২৯-৭-২০২৬

নওগাঁ জেনারেল হাসপাতালে চেরি গাছ উপহার: অনন্য নজির রাখলেন নওগাঁর ‘তাল বেলাল’

দীর্ঘ দেড় দশকেরও বেশি সময় ধরে ব্রাজিলের আক্রমণভাগের অন্যতম ভরসা ছিলেন নেইমার জুনিয়র। জাতীয় দলের হয়ে অসংখ্য স্মরণীয় মুহূর্ত উপহার দেওয়া এই তারকা এবার আন্তর্জাতিক ফুটবলকে বিদায় জানানোর ঘোষণা দিয়েছেন। কোপা সুদামেরিকানায় সান্তোসের জয়ের পর নিজের ভবিষ্যৎ নিয়ে কথা বলতে গিয়ে তিনি জানান, ব্রাজিলের জার্সিতে আর মাঠে নামার ইচ্ছা নেই।

 

ভেনেজুয়েলার ইউনিভার্সিদাদ সেন্ট্রালের বিপক্ষে ৪-২ গোলের জয়ের পর সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে নেইমার বলেন, জাতীয় দলের হয়ে তার পথচলা শেষ হয়েছে। দেশের জার্সির জন্য নিজের সর্বোচ্চটুকু দিয়েছেন বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

 

নেইমারের ভাষায়, ব্রাজিলের প্রতিনিধিত্ব করা ছিল তার জীবনের সবচেয়ে বড় সম্মানগুলোর একটি। তবে এখন তিনি মনে করছেন, আন্তর্জাতিক ফুটবল থেকে সরে দাঁড়ানোর সময় এসেছে।

 

২০২৬ বিশ্বকাপে শিরোপার স্বপ্ন নিয়ে মাঠে নেমেছিল ব্রাজিল। কিন্তু শেষ ষোলোতে নরওয়ের কাছে হেরে বিদায় নিতে হয় দলকে। সেই ম্যাচে শেষদিকে পেনাল্টি থেকে গোল করলেও হার এড়ানো সম্ভব হয়নি। ম্যাচ শেষে আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েছিলেন নেইমার। পরে জানা যায়, সেটিই ছিল তার আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারের শেষ ম্যাচ।

মাত্র ১৮ বছর বয়সে ২০১০ সালে ব্রাজিল জাতীয় দলে অভিষেক হয় নেইমারের। এরপর ১৩০টি আন্তর্জাতিক ম্যাচে অংশ নিয়ে তিনি করেছেন ৮০টি গোল এবং সতীর্থদের দিয়ে করিয়েছেন আরও ৫৯টি গোল। দেশের ইতিহাসে সর্বোচ্চ গোলদাতা হিসেবে নিজের নাম প্রতিষ্ঠা করলেও বিশ্বকাপ কিংবা কোপা আমেরিকার শিরোপা জয়ের স্বপ্ন অপূর্ণই থেকে গেল তার।

 

জাতীয় দলকে বিদায় জানালেও ক্লাব ফুটবলে নিজের যাত্রা চালিয়ে যেতে চান নেইমার। ইউনিভার্সিদাদ সেন্ট্রালের বিপক্ষে বদলি হিসেবে নেমে সান্তোসের জয়ে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখেন তিনি। এই জয়ের ফলে কোপা সুদামেরিকানার শেষ ষোলো নিশ্চিত করেছে ব্রাজিলের ক্লাবটি। পরবর্তী পর্বে তাদের প্রতিপক্ষ হবে ইকুয়েডরের মাকারা।

 

এদিকে সম্প্রতি সান্তোস ড্রেসিংরুমে সতীর্থদের সঙ্গে নেইমারের আচরণ নিয়ে যে বিতর্ক তৈরি হয়েছিল, সেটিও নাকচ করেছেন এই ফরোয়ার্ড। সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছিল, চ্যাপেকোয়েন্সের বিপক্ষে ম্যাচ শেষে তিনি তরুণ দুই ফুটবলার গ্যাব্রিয়েল বন্তেম্পো ও জোয়াও আনানিয়াসের সমালোচনা করেন এবং তাদের নিয়ে বিদ্রূপাত্মক মন্তব্য করেন।

 

তবে এসব অভিযোগকে ভিত্তিহীন বলে উড়িয়ে দিয়েছেন নেইমার। তার দাবি, ম্যাচের পর তিনি শুধু দলের পারফরম্যান্স নিয়ে কথা বলেছেন এবং সহজে পয়েন্ট হারানো নিয়ে হতাশা প্রকাশ করেছেন। অধিনায়ক হিসেবে দলের ভুলগুলো তুলে ধরা নিজের দায়িত্ব বলেও মন্তব্য করেন তিনি। একই ধরনের বক্তব্য অন্য জ্যেষ্ঠ খেলোয়াড়রাও দিয়েছিলেন বলে জানান ব্রাজিলিয়ান এই তারকা।

ব্রাজিল অধ্যায়ের ইতি টানলেন নেইমার!

পিরোজপুরের স্বরূপকাঠী উপজেলার শহীদ স্মৃতি ডিগ্রি কলেজ ছাত্রদলের সভাপতি মো. আরিফুল ইসলামকে প্রাথমিক সদস্যপদসহ দলের সব সাংগঠনিক পদ থেকে বহিষ্কার করেছে জেলা ছাত্রদল। সংগঠনের দাবি, সাংগঠনিক শৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগের ভিত্তিতে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

 

মঙ্গলবার (২৮ জুলাই) পিরোজপুর জেলা ছাত্রদলের প্রকাশিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বহিষ্কারের বিষয়টি জানানো হয়।

 

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, পিরোজপুর জেলা ছাত্রদলের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী সাংগঠনিক শৃঙ্খলা ভঙ্গের সুনির্দিষ্ট অভিযোগের ভিত্তিতে এ বহিষ্কারাদেশ কার্যকর করা হয়েছে। সিদ্ধান্তে অনুমোদন দেন জেলা ছাত্রদলের সভাপতি সালাউদ্দিন তালুকদার কুমার এবং সাধারণ সম্পাদক মাহমুদ হাসান শাহীন।

 

বিজ্ঞপ্তিতে আরও জানানো হয়, সংগঠনের সকল পর্যায়ের নেতাকর্মীদের বহিষ্কৃত নেতা মো. আরিফুল ইসলামের সঙ্গে কোনো ধরনের সাংগঠনিক সম্পর্ক না রাখার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। এ প্রেস বিজ্ঞপ্তিটি প্রেরণ করেন জেলা ছাত্রদলের দপ্তর সম্পাদক খালিদ হাসান।

 

এর আগে শহীদ স্মৃতি ডিগ্রি কলেজ ছাত্রদলের একাংশের নেতাকর্মীরা সংবাদ সম্মেলন করে আরিফুল ইসলাম মোল্লার বিরুদ্ধে ভুয়া (ফেক) ফেসবুক আইডি ব্যবহার করে শিক্ষার্থীদের অনৈতিক (সমকামিতা) প্রস্তাব দেওয়ার অভিযোগ তোলেন।

 

সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে কলেজ ছাত্রদলের প্রচার সম্পাদক মো. ফারদিন ইসলাম অভিযোগ করেন, আরিফুল ইসলাম মোল্লা মেয়েদের নামে একাধিক ভুয়া ফেসবুক আইডি খুলে সংগঠনের নেতাকর্মী ও সাধারণ শিক্ষার্থীদের সঙ্গে প্রতারণামূলক যোগাযোগ করতেন। পরে তাদের অনৈতিক প্রস্তাব দিতেন।

 

তিনি আরও দাবি করেন, কয়েকজন শিক্ষার্থীর সঙ্গে জোরপূর্বক সমকামিতার চেষ্টাও করা হয়েছে এবং এ-সংক্রান্ত কিছু তথ্য-প্রমাণ তাদের কাছে রয়েছে। বিষয়টি জানতে পেরে তারা সভাপতিকে জিজ্ঞাসা করলে তিনি টাকা দিয়ে বিষয়টি মীমাংসার প্রস্তাব দেন বলেও অভিযোগ করেন।

 

সংবাদ সম্মেলনে কলেজ ছাত্রদল নেতা মো. ইশতিয়াক দাবি করেন, বিভিন্ন ভুয়া ফেসবুক আইডির মাধ্যমে একাধিক ব্যক্তিকে অনৈতিক প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে এবং এ-সংক্রান্ত মেসেঞ্জার কথোপকথনের স্ক্রিনশট তাদের কাছে সংরক্ষিত রয়েছে।

 

অপর ছাত্রনেতা মো. আরিফুল ইসলাম মুবিন অভিযোগ করেন, একটি ফেসবুক আইডি থেকে আরিফুল ইসলাম মোল্লার ছবি ব্যবহার করে তাকে অনৈতিক প্রস্তাব দেওয়া হয়। এ বিষয়ে জানতে চাইলে তাকে প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হয়েছে বলেও তিনি দাবি করেন।

 

পিরোজপুর জেলা ছাত্রদলের সভাপতি সালাউদ্দিন তালুকদার কুমার বলেন, সাংগঠনিক শৃঙ্খলা ভঙ্গের সুনির্দিষ্ট অভিযোগের ভিত্তিতে জেলা ছাত্রদলের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী মো. আরিফুল ইসলামকে প্রাথমিক সদস্যসহ দলের সব সাংগঠনিক পদ থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে। ছাত্রদল শৃঙ্খলা পরিপন্থি কোনো কর্মকাণ্ডকে প্রশ্রয় দেয় না।

সমকামিতার অভিযোগে ছাত্রদল নেতা বহিষ্কার

*শ্যামনগরে পুলিশের অভিযানে বিপুল মাদক ও অবৈধ ওষুধ জব্দ, অন্ধকারে পালালো কারবারিরা*।

 

*সংবাদদাতা: জিয়াউর রহমান জিয়া,*

*শ্যামনগর উপজেলা প্রতিনিধি*,

*দৈনিক আমাদের দেশ*।

 

*শ্যামনগর, সাতক্ষীরা | ২৯ জুলাই ২০২৬:* সাতক্ষীরার শ্যামনগরে মাদকের বিরুদ্ধে পুলিশের বিশেষ অভিযানে বিপুল পরিমাণ ফেনসিডিল জাতীয় কাফ সিরাপ ও অবৈধ স্কিন ক্রিম উদ্ধার করা হয়েছে। তবে পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে মাদক কারবারিরা ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যাওয়ায় কাউকে আটক করা সম্ভব হয়নি।

 

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে সোমবার গভীর রাতে শ্যামনগর থানার এসআই সুদেব কুমার এবং এএসআই ইমরান হোসেনের নেতৃত্বে একটি আভিযানিক দল উপজেলার মুন্সিগঞ্জ ইউনিয়নের পার্শ্বেখালী এলাকার ওয়াপদার ওপর শামসুজ্জামান গাজীর রাইস মিলের পশ্চিম পাশে অভিযান চালায়।

 

পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছানোর আগেই কারবারিরা মালামাল ফেলে দ্রুত পালিয়ে যায়। পরে সেখানে তল্লাশি করে পরিত্যক্ত অবস্থায় উদ্ধার করা হয়:

 

– *উইনসেরেক্স কাফ সিরাপ:* ১৩৯ বোতল

– *এসকাফ কাফ সিরাপ:* ৪৪ বোতল

– *গোমেলা ১৫ গ্রাম ক্রিম:* ৫২২ টি

– *গোমেলা ক্রিমের খালি মোড়ক:* ২৬১ টি

 

উদ্ধারকৃত কাফ সিরাপগুলো ফেনসিডিল হিসেবে এবং ক্রিমগুলো নিষিদ্ধ উপাদানযুক্ত বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে।

 

এ বিষয়ে শ্যামনগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ওসি সাফিউল ইসলাম পাটোয়ারী বলেন, মাদক ও চোরাচালানের বিরুদ্ধে আমাদের জিরো টলারেন্স নীতি রয়েছে। পালিয়ে যাওয়া চিহ্নিত ও অজ্ঞাতনামা কারবারিদের বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা দায়েরের প্রক্রিয়া চলছে। অপরাধীদের গ্রেফতারে অভিযান অব্যাহত থাকবে।

 

উদ্ধারকৃত মালামাল শ্যামনগর থানায় জব্দ তালিকাভুক্ত করে আইনানুগ ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে বলে পুলিশ জানিয়েছে।

শ্যামনগরে পুলিশের অভিযানে বিপুল মাদক ও অবৈধ ওষুধ জব্দ, অন্ধকারে পালালো কারবারিরা

গাইবান্ধায় হয়রানি ও মিথ্যা মামলার প্রতিবাদে সংবাদ সম্মেলন

 

শাহ্ পারভেজ সংগ্রাম, গাইবান্ধা প্রতিনিধি

গাইবান্ধার পলাশবাড়ী উপজেলার মনোহরপুর ইউনিয়নের পুটিমারী গ্রামের বাসিন্দারা অভিযোগ করেছেন, পরিবেশগত ছাড়পত্রবিহীন একটি লোহার কারখানার বিরুদ্ধে চলমান আইনি কার্যক্রমকে ভিন্নখাতে প্রবাহিত করতে এবং প্রতিবাদী গ্রামবাসীকে হয়রানির উদ্দেশ্যে মিথ্যা মামলা দায়েরের ষড়যন্ত্র করা হচ্ছে।

(২৮জুলাই) মঙ্গলবার সকালে সমবায় মার্কেটের ২য় তলায় আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে গ্রামবাসীর পক্ষে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন মোছাঃ শিলা খাতুন।

 

তিনি অভিযোগ করেন, কারখানার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট মর্জিনা বেগম ও তার পরিবারের সদস্যরা দীর্ঘদিন ধরে গ্রামবাসীকে ভয়ভীতি প্রদর্শন ও মিথ্যা মামলায় হয়রানি করছেন। সম্প্রতি দায়ের করা একটি মামলায় সেলিম ও আশরাফুল নামে দুইজন কারাগারে রয়েছেন বলেও দাবি করা হয়।

 

গ্রামবাসীর দাবি, পরিবেশ অধিদপ্তরের উচ্ছেদ কার্যক্রম বাধাগ্রস্ত করতেই পরিকল্পিতভাবে এ ঘটনা ঘটানো হয়েছে। তারা নিরপেক্ষ তদন্ত, প্রকৃত ঘটনা উদঘাটন এবং নিরীহ গ্রামবাসীকে হয়রানি থেকে সুরক্ষা দেওয়ার জন্য প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেন।

গাইবান্ধায় হয়রানি ও মিথ্যা মামলার প্রতিবাদে সংবাদ সম্মেলন

এআই প্রযুক্তির বিস্তারের সঙ্গে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভুয়া প্রোফাইল ও নকল পরিচয়ের সংখ্যা বাড়ছে। এই সমস্যা মোকাবিলায় ব্যবহারকারীদের জন্য নতুন একটি বিনামূল্যের পরিচয় যাচাই ব্যবস্থা চালু করছে ফেসবুক।

 

‘ফেসবুক ভেরিফায়েড’ নামে নতুন এই ফিচারের মাধ্যমে ব্যবহারকারীরা একটি সংক্ষিপ্ত সেলফি ভিডিও জমা দিয়ে পরিচয় যাচাই করতে পারবেন। যাচাই সম্পন্ন হলে তাদের প্রোফাইলে একটি বিশেষ ব্যাজ যুক্ত হবে, যা দেখাবে অ্যাকাউন্টটির পেছনে একজন বাস্তব ব্যক্তি রয়েছেন।

 

মেটা জানিয়েছে, এটি তাদের অর্থের বিনিময়ে দেওয়া ‘মেটা ভেরিফায়েড’ সাবস্ক্রিপশন থেকে সম্পূর্ণ আলাদা একটি সেবা।

 

প্রযুক্তিবিষয়ক সংবাদমাধ্যম ইন্ডিয়া টুডে জানিয়েছে, নতুন এই ভেরিফায়েড ব্যাজ ব্যবহারকারীদের জন্য বেশ কিছু সুবিধা নিয়ে আসবে।

 

যেসব সুবিধা মিলবে

 

দ্রুত পরিচয় যাচাই: সংক্ষিপ্ত সেলফি ভিডিও জমা দিলেই কয়েক মিনিটের মধ্যে যাচাই সম্পন্ন হতে পারে।

 

ভুয়া অ্যাকাউন্ট চেনা সহজ: ব্যাজ দেখে সহজেই বোঝা যাবে, অ্যাকাউন্টটি একজন বাস্তব ব্যক্তির।

 

মার্কেটপ্লেসে নিরাপদ লেনদেন: ক্রেতা ও বিক্রেতার মধ্যে আস্থা বাড়বে।

 

ডেটিং প্রোফাইলে বাড়তি বিশ্বাসযোগ্যতা: ভুয়া পরিচয়ের ঝুঁকি কমাতে সহায়ক হবে।

 

গ্রুপে যাচাইকৃত সদস্য শনাক্ত করা সহজ: বিভিন্ন গ্রুপে প্রকৃত ব্যবহারকারীকে সহজে চেনা যাবে।

 

একবার যাচাই করলেই হবে: একবার পরিচয় নিশ্চিত হলে সমর্থিত সব জায়গায় স্বয়ংক্রিয়ভাবে ব্যাজ প্রদর্শিত হবে।

 

সহজ যাচাই প্রক্রিয়া: সেলফি ভিডিও ও প্রোফাইল ছবির মিল যাচাই করেই পরিচয় নিশ্চিত করবে ফেসবুক।

 

এআই-তৈরি ভুয়া প্রোফাইল শনাক্তে সহায়ক: কৃত্রিম ও প্রকৃত ব্যবহারকারীর মধ্যে পার্থক্য করা সহজ হবে।

 

ভবিষ্যতে আরও বিস্তৃত ব্যবহার: বর্তমানে প্রোফাইল, মার্কেটপ্লেস, ডেটিং ও গ্রুপে ব্যাজ দেখা গেলেও ভবিষ্যতে নিউজ ফিডের পোস্টেও এটি দেখানোর পরিকল্পনা রয়েছে।

 

তবে মেটা স্পষ্ট করেছে, এই ব্যাজ কেবল পরিচয় যাচাইয়ের প্রমাণ। এটি কোনো ব্যবহারকারীর আচরণ, সততা বা সম্পূর্ণ বিশ্বাসযোগ্যতার নিশ্চয়তা দেয় না। তাই ভেরিফায়েড ব্যাজ থাকলেও ব্যবহারকারীদের সতর্ক থেকেই ফেসবুক ব্যবহারের পরামর্শ দিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি।

 

সেলফি ভিডিও দিয়েই ফেসবুক অ্যাকাউন্ট ভেরিফাই, মিলবে যেসব সুবিধা

নরসিংদীর মাধবদী থানার আলোচিত খুনের পর ডাকাতির ঘটনার মূল রহস্য উদ্ঘাটন করেছে জেলা পুলিশ। তথ্যপ্রযুক্তি ও গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে ঘটনার মাত্র ৯ দিনের মধ্যে ঢাকা, নারায়ণগঞ্জ ও নরসিংদীর বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে ডাকাত দলের মূল সাত সদস্যকে গ্রেফতার করা হয়েছে।

 

পুলিশ জানায়, গ্রেফতারকৃতরা প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে ঘটনার সঙ্গে নিজেদের সম্পৃক্ততার কথা স্বীকার করেছে। তাদের মধ্যে তিনজন বিজ্ঞ আদালতে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছে।

 

পুলিশ সূত্রে জানা যায়, গত ১৮ জুলাই ২০২৬ ভোররাতে মাধবদী থানাধীন নুরালাপুর ইউনিয়নের বলভদ্রদী গ্রামে সৌদি ফেরত প্রবাসী মিলনের বাড়িতে একদল সশস্ত্র ডাকাত হানা দেয়। এ সময় পরিবারের সদস্যরা বাধা দিলে ডাকাতরা ধারালো অস্ত্র দিয়ে হামলা চালায়। হামলায় মিলনের বড় ভাই মো. শাহজাহান (৫৬) নিহত হন এবং তার চাচা মো. সুরুজ মিয়া গুরুতর আহত হন। পরে ডাকাতরা স্বর্ণালংকার ও মোবাইল ফোন লুট করে পালিয়ে যায়।

 

এ ঘটনায় ১৯ জুলাই মাধবদী থানায় মামলা (নং-২৩) দায়ের করা হয়। ঘটনার পরপরই নরসিংদী জেলা পুলিশ সুপার মো. আব্দুল্লাহ্-আল-ফারুক ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন এবং মাধবদী থানা ও জেলা গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশের সমন্বয়ে একাধিক বিশেষ টিম গঠন করেন।

 

গ্রেফতার হওয়া সাতজন হলেন— জুবায়ের হোসেন (২০), আশিক আহমেদ (২৩), মোজাহিদ রহমান অপু (২২), মো. সুজন মিয়া (২৫), মো. ফারুক মিয়া (৩০), রোমান (২৮) এবং মো. হৃদয় মিয়া (২২)।

 

পুলিশের দাবি, গ্রেফতারকৃতরা একটি পেশাদার ডাকাত চক্রের সক্রিয় সদস্য। তাদের মধ্যে কয়েকজন খড়িয়া এলাকার পূর্ববর্তী একটি ডাকাতি ও দিগন্ত হত্যা মামলারও এজাহারভুক্ত আসামি।

 

অভিযানকালে আসামিদের কাছ থেকে লুণ্ঠিত মালামাল বিক্রির নগদ ৮ হাজার টাকা উদ্ধার করা হয়েছে। এছাড়া লুণ্ঠিত স্বর্ণালংকার ও অন্যান্য মালামাল উদ্ধারে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

 

বর্তমানে গ্রেফতারকৃতদের আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে এবং তাদের বিরুদ্ধে ৭ দিনের রিমান্ড আবেদন করা হয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, মামলার তদন্ত অব্যাহত রয়েছে এবং চক্রটির সঙ্গে জড়িত অন্যদের শনাক্ত ও গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে।

আলোচিত খুন-ডাকাতির রহস্য উদ্ঘাটন, ৯ দিনে পুলিশের জালে মূল ৭ সদস্য

র‌্যাবের চৌকস অভিযানে জীপসহ প্রায় ১১ হাজার ইয়াবার চালান আটক

জামালপুর হামলা পাল্টা হামলার মধ্য দিয়ে জেলার সানন্দবাড়ী তে থমথমে অবস্থা বিরাজমান।

পর্নোগ্রাফি নিয়ন্ত্রণ আইনে এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা দায়ের ও আদালতে মিথ্যা হলফনামা দেয়ার অভিযোগে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের কেবিন ক্রু খাদিজা সুলতানা শিমুর বিরুদ্ধে মামলা দায়েরের নির্দেশ দিয়েছেন আদালত।

 

বুধবার (১৫ জুলাই) ঢাকার অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালত-২-এর বিচারক মো. জাকির হোসাইন এ আদেশ দেন। আদালতের আদেশে বলা হয়েছে, শিমুর বিরুদ্ধে পর্নোগ্রাফি নিয়ন্ত্রণ আইন, ২০১২-এর ১৩ ধারা এবং দণ্ডবিধির ১৮১, ১৮২ ও ১৯৩ ধারায় মামলা করা হবে। আদালত নিজেই এ মামলার বাদী হয়েছেন।

 

আদালতের নথি অনুযায়ী, খাদিজা সুলতানা শিমু মামলার বাদী হয়ে বেসরকারি একটি এয়ারলাইন্সের কর্মকর্তা মো. ওমর ফারুক চৌধুরীর বিরুদ্ধে পর্নোগ্রাফি নিয়ন্ত্রণ আইনের বিভিন্ন ধারায় উত্তরা পশ্চিম থানায় মামলা করেন।

 

তদন্ত শেষে উত্তরা পশ্চিম থানার তদন্ত কর্মকর্তা আদালতে চূড়ান্ত প্রতিবেদন দাখিল করে জানান, অভিযোগের সত্যতা পাওয়া যায়নি। প্রতিবেদনে বলা হয়, মামলার এজাহারে উল্লেখ করা ফেসবুক লিংক, ডিজিটাল আলামত ও অন্যান্য তথ্য যাচাই করে ওমর ফারুকের বিরুদ্ধে পর্নোগ্রাফি প্রচারের কোনো প্রমাণ মেলেনি। ফলে ওই কর্মকর্তাকে মামলা থেকে অব্যাহতির সুপারিশ করা হয়।

একই সঙ্গে তদন্ত কর্মকর্তা প্রতিবেদনে উল্লেখ করেন, ওমর ফারুক আগে শিমুর বিরুদ্ধে বিয়ের প্রলোভন দিয়ে অর্থ আত্মসাতের অভিযোগে আদালতে মামলা করেছিলেন। সেই মামলার দায় এড়াতেই শিমু সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচারিত বিভিন্ন লিংক উল্লেখ করে তার বিরুদ্ধে পর্নোগ্রাফি ছড়ানোর অভিযোগ এনে উদ্দেশ্যপ্রণোদিত, হয়রানিমূলক ও মিথ্যা মামলা করেছেন বলে প্রাথমিক তদন্তে প্রতীয়মান হয়েছে। এ কারণে শিমুর বিরুদ্ধে পর্নোগ্রাফি নিয়ন্ত্রণ আইন, ২০১২-এর ১৩ ধারায় আইনগত ব্যবস্থা নেয়ার আবেদনও করেন তদন্ত কর্মকর্তা।

 

পরে গত ৯ জুলাই আদালত তদন্ত প্রতিবেদন গ্রহণ করে ওমর ফারুককে মামলা থেকে অব্যাহতি দেন। আদালতের আদেশে বলা হয়, শিমু ক্ষতিসাধনের উদ্দেশ্যে আদালতে মিথ্যা মামলা দায়ের করেছেন এবং হলফ করে মিথ্যা সাক্ষ্য দিয়েছেন। মামলার নথিতে তার দেয়া হলফনামাও সংযুক্ত রয়েছে। এসব বিবেচনায় আদালত নিজেই বাদী হয়ে তার বিরুদ্ধে পর্নোগ্রাফি নিয়ন্ত্রণ আইন ও দণ্ডবিধির সংশ্লিষ্ট ধারায় মামলা দায়েরের নির্দেশ দেন।

 

তদন্তে যা উঠে এসেছে পুলিশের চূড়ান্ত প্রতিবেদনে বলা হয়, তদন্তকালে রেকর্ড, ডিজিটাল আলামত, ফেসবুক লিংক ও ফরেনসিক তথ্য যাচাই করে ওমর ফারুকের বিরুদ্ধে পর্নোগ্রাফি প্রচারের কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি।

 

তদন্তে আরও উঠে আসে, শিমু বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের কেবিন ক্রু এবং ওমর ফারুক একটি বেসরকারি এয়ারলাইন্সের এয়ারক্রাফট মেইনটেন্যান্স কর্মকর্তা। ফেসবুকে পরিচয়ের পর তাদের মধ্যে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে।

 

প্রতিবেদনে বলা হয়, বিয়ের আশ্বাস দিয়ে বিভিন্ন সময়ে ওমর ফারুকের কাছ থেকে বিপুল পরিমাণ অর্থ ও মূল্যবান সামগ্রী নেয়ার অভিযোগে ওমর ফারুক আদালতে পৃথক মামলা করেন। এরপর সেই মামলার দায় থেকে নিজেকে রক্ষা করতেই শিমু পর্নোগ্রাফি আইনে অভিযোগ দায়ের করেন বলে তদন্তে প্রতীয়মান হয়েছে।

 

ওমর ফারুকের আগের মামলা গত ২০ জুলাই ওমর ফারুক চৌধুরী শিমুর বিরুদ্ধে বিয়ের প্রলোভন, ‘হানি ট্র্যাপ’ ও ব্ল্যাকমেইলের মাধ্যমে প্রায় ২২ লাখ টাকা আত্মসাতের অভিযোগে ঢাকার আদালতে মামলা করেন। আদালত অভিযোগটি আমলে নিয়ে উত্তরা পশ্চিম থানাকে তদন্তের নির্দেশ দেন। পরে তিনি বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স কর্তৃপক্ষের কাছেও লিখিত অভিযোগ করেন।

 

সেই মামলায় অভিযোগ করা হয়, ২০২৪ সালে ফেসবুকে পরিচয়ের পর শিমু তাকে বিয়ের আশ্বাস দিয়ে বিভিন্ন সময়ে টাকা নেন। জন্মদিনে দেড় লাখ টাকা মূল্যের একটি হীরার আংটিসহ বিয়ের খরচের জন্য মোট ২১ লাখ ৭৪ হাজার ৫১১ টাকা নেয়ার পরও বিয়ে না করে প্রতারণার মাধ্যমে অর্থ আত্মসাৎ করা হয়েছে বলে মামলায় দাবি করা হয়।

পর্নোগ্রাফি আইনে কেবিন ক্রু শিমুর বিরুদ্ধে মামলার নির্দেশ আদালতের

খেলাধুলা

দীর্ঘ দেড় দশকেরও বেশি সময় ধরে ব্রাজিলের আক্রমণভাগের অন্যতম ভরসা ছিলেন নেইমার জুনিয়র। জাতীয় দলের হয়ে অসংখ্য স্মরণীয় মুহূর্ত উপহার দেওয়া এই তারকা এবার আন্তর্জাতিক ফুটবলকে বিদায় জানানোর ঘোষণা দিয়েছেন। কোপা সুদামেরিকানায় সান্তোসের জয়ের পর নিজের ভবিষ্যৎ নিয়ে কথা বলতে গিয়ে তিনি জানান, ব্রাজিলের জার্সিতে আর মাঠে নামার ইচ্ছা নেই।

 

ভেনেজুয়েলার ইউনিভার্সিদাদ সেন্ট্রালের বিপক্ষে ৪-২ গোলের জয়ের পর সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে নেইমার বলেন, জাতীয় দলের হয়ে তার পথচলা শেষ হয়েছে। দেশের জার্সির জন্য নিজের সর্বোচ্চটুকু দিয়েছেন বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

 

নেইমারের ভাষায়, ব্রাজিলের প্রতিনিধিত্ব করা ছিল তার জীবনের সবচেয়ে বড় সম্মানগুলোর একটি। তবে এখন তিনি মনে করছেন, আন্তর্জাতিক ফুটবল থেকে সরে দাঁড়ানোর সময় এসেছে।

 

২০২৬ বিশ্বকাপে শিরোপার স্বপ্ন নিয়ে মাঠে নেমেছিল ব্রাজিল। কিন্তু শেষ ষোলোতে নরওয়ের কাছে হেরে বিদায় নিতে হয় দলকে। সেই ম্যাচে শেষদিকে পেনাল্টি থেকে গোল করলেও হার এড়ানো সম্ভব হয়নি। ম্যাচ শেষে আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েছিলেন নেইমার। পরে জানা যায়, সেটিই ছিল তার আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারের শেষ ম্যাচ।

মাত্র ১৮ বছর বয়সে ২০১০ সালে ব্রাজিল জাতীয় দলে অভিষেক হয় নেইমারের। এরপর ১৩০টি আন্তর্জাতিক ম্যাচে অংশ নিয়ে তিনি করেছেন ৮০টি গোল এবং সতীর্থদের দিয়ে করিয়েছেন আরও ৫৯টি গোল। দেশের ইতিহাসে সর্বোচ্চ গোলদাতা হিসেবে নিজের নাম প্রতিষ্ঠা করলেও বিশ্বকাপ কিংবা কোপা আমেরিকার শিরোপা জয়ের স্বপ্ন অপূর্ণই থেকে গেল তার।

 

জাতীয় দলকে বিদায় জানালেও ক্লাব ফুটবলে নিজের যাত্রা চালিয়ে যেতে চান নেইমার। ইউনিভার্সিদাদ সেন্ট্রালের বিপক্ষে বদলি হিসেবে নেমে সান্তোসের জয়ে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখেন তিনি। এই জয়ের ফলে কোপা সুদামেরিকানার শেষ ষোলো নিশ্চিত করেছে ব্রাজিলের ক্লাবটি। পরবর্তী পর্বে তাদের প্রতিপক্ষ হবে ইকুয়েডরের মাকারা।

 

এদিকে সম্প্রতি সান্তোস ড্রেসিংরুমে সতীর্থদের সঙ্গে নেইমারের আচরণ নিয়ে যে বিতর্ক তৈরি হয়েছিল, সেটিও নাকচ করেছেন এই ফরোয়ার্ড। সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছিল, চ্যাপেকোয়েন্সের বিপক্ষে ম্যাচ শেষে তিনি তরুণ দুই ফুটবলার গ্যাব্রিয়েল বন্তেম্পো ও জোয়াও আনানিয়াসের সমালোচনা করেন এবং তাদের নিয়ে বিদ্রূপাত্মক মন্তব্য করেন।

 

তবে এসব অভিযোগকে ভিত্তিহীন বলে উড়িয়ে দিয়েছেন নেইমার। তার দাবি, ম্যাচের পর তিনি শুধু দলের পারফরম্যান্স নিয়ে কথা বলেছেন এবং সহজে পয়েন্ট হারানো নিয়ে হতাশা প্রকাশ করেছেন। অধিনায়ক হিসেবে দলের ভুলগুলো তুলে ধরা নিজের দায়িত্ব বলেও মন্তব্য করেন তিনি। একই ধরনের বক্তব্য অন্য জ্যেষ্ঠ খেলোয়াড়রাও দিয়েছিলেন বলে জানান ব্রাজিলিয়ান এই তারকা।

ব্রাজিল অধ্যায়ের ইতি টানলেন নেইমার!

আর্জেন্টিনা জাতীয় দলের অধিনায়ক লিওনেল মেসির ড্রেসিংরুম থেকে মাঠে যাওয়ার পথে দেয়া অনুপ্রেরণামূলক ভাষণের একটি ভিডিও প্রকাশের পর ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়েছে। ফাইনালে স্পেনের কাছে পরাজয়ের পর ভিডিওটির একটি অংশ ঘিরে নানা জল্পনা-কল্পনা তৈরি হয়েছিল। বিশেষ করে মেসির বলা ‘সবকিছু ভুলে যাও’ বাক্যটির গোপন অর্থ খুঁজতে শুরু করেছিলেন অনেকে। তবে সম্প্রতি পুরো ভিডিও প্রকাশিত হওয়ার পর সেই বক্তব্যকে ঘিরে নতুন ব্যাখ্যাও সামনে এসেছে।

 

মাঠে নামার আগে সতীর্থদের উদ্দেশে মেসি বলেন, ‘চলো সবাই, শান্ত থাকো। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, আমরা যেন শান্ত থাকি। শুধু খেলায় মনোযোগ দাও। সবকিছু ভুলে যাও। শুধু খেলো, খেলায় মনোযোগ দাও। চলো।’

 

তার এই বক্তব্যের মূল উদ্দেশ্য ছিল চাপমুক্ত থেকে নিজেদের স্বাভাবিক খেলাটি খেলা।

 

মাঠে প্রবেশের সময় আর্জেন্টিনার খেলোয়াড়দের মধ্যে কৌশলগত কিছু কথোপকথনও শোনা যায়। গোলরক্ষক এমিলিয়ানো ‘দিবু’ মার্টিনেজকে উদ্দেশ করে ক্রিস্তিয়ান ‘কুতি’ রোমেরো বলেন, প্রতিপক্ষের আক্রমণে কীভাবে চাপ সৃষ্টি করতে হবে এবং লামিন ইয়ামালকে সামলানোর পরিকল্পনা নিয়ে।

 

লিসান্দ্রো ‘লিচা’ মার্টিনেজ দিবুকে সতর্ক করে বলেন, প্রতিপক্ষ ভেতরে ঢুকে শট নেয়ার চেষ্টা করবে, তাই সে বিষয়ে সতর্ক থাকতে হবে। পরে লিচা নিকোলাস তাগলিয়াফিকোকে বলেন, ‘পুরো ম্যাচ জুড়ে তাকে আটকে রাখবে।’ দিবুকে উদ্দেশ করে তিনি আরও বলেন, ‘প্রতিটি বল নিশ্চিতভাবে ধরবে, মানসিকভাবে শক্ত থাকো।’

 

এ সময় মেসি আবারও ডিফেন্ডারদের বলেন, প্রতিপক্ষ আক্রমণে এলে লিয়ান্দ্রো পারেদেস ও এনজো ফার্নান্দেজ যেন অপ্রয়োজনীয়ভাবে সামনে উঠে না যান। সবশেষে কুতি রোমেরো দিবুকে বলেন, ‘আজ তোমার দিন।’ জবাবে দিবুর আত্মবিশ্বাসী উত্তর ছিল, ‘আজ আমার দিন। আজ ইতিহাসে লেখা থাকবে।’

 

এরপর দুই দল মাঠে প্রবেশ করে এবং প্রতিপক্ষের খেলোয়াড়দের সঙ্গে সৌহার্দ্যপূর্ণভাবে শুভেচ্ছা বিনিময় করে। তবে ম্যাচ শুরু হওয়ার পর উত্তেজনা বাড়তে থাকে। খেলার বিভিন্ন মুহূর্তে তীব্র লড়াই ও বাকবিনিময় দেখা যায়। শেষ পর্যন্ত পরাজয়ের হতাশা নিয়েই মাঠ ছাড়তে হয় আর্জেন্টিনাকে।

 

ভিডিওটি নিয়ে তৈরি হওয়া বিতর্ক সম্পর্কে জানতে চাইলে আর্জেন্টিনা কোচ লিওনেল স্কালোনি বলেন, ‘আমি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম দেখি না। এসব বিষয়ে কিছুই জানি না। আপনারা কী নিয়ে বলছেন, সে সম্পর্কেও আমার কোনো ধারণা নেই।’

ফাইনালের আগমুহূর্তে আর্জেন্টিনার ড্রেসিংরুমে কী হচ্ছিল? স্পষ্ট করলো দেশটির গণমাধ্যম

২০২৬ ফুটবল বিশ্বকাপের শ্বাসরুদ্ধকর ফাইনালে আর্জেন্টিনাকে হারিয়ে দ্বিতীয়বারের মতো শিরোপা জিতেছে স্পেন। তবে মাঠের লড়াই ছাপিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এখন আলোচনার তুঙ্গে স্প্যানিশ ডিফেন্ডার মার্ক কুকুরেলার একটি ভিডিও। যেখানে দেখা যায়, এই চেলসি তারকা একটি সাধারণ সাদা প্লাস্টিকের ব্যাগে করে বিশ্বকাপ ট্রফির মতো দেখতে একটি বস্তু নিয়ে স্টেডিয়াম ছাড়ছেন। অত্যন্ত মূল্যবান এই ট্রফিটি এভাবে ‘ময়লা ফেলার ব্যাগে’ বহনের দৃশ্য দেখে ফুটবল বিশ্বে ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।

 

নির্ধারিত ৯০ মিনিট গোলশূন্য থাকার পর অতিরিক্ত সময়ের ১০৬ মিনিটে ফেরান তোরেসের গোলে আর্জেন্টিনাকে ১-০ ব্যবধানে পরাজিত করে লুইস দে লা ফুয়েন্তের দল। উদযাপনের আনুষ্ঠানিকতা শেষে খেলোয়াড়েরা যখন ড্রেসিংরুমের দিকে ফিরছিলেন, তখন ক্যামেরায় ধরা পড়ে কুকুরেলার এই অদ্ভুত দৃশ্য। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মুহূর্তেই ছড়িয়ে পড়া ভিডিওটিতে দেখা যায়, একটি শপিং ব্যাগের ভেতর সোনালী রঙের ট্রফিটি নিয়ে হেঁটে যাচ্ছেন তিনি।

 

বিশ্বের সবচেয়ে মর্যাদাপূর্ণ ট্রফিটি এমন সাদামাটাভাবে বহন করতে দেখে নেটিজেন ও সাংবাদিকেরা বিষ্ময় প্রকাশ করেন। তবে এই রহস্যের সমাধান হয়েছে খুব দ্রুতই। জানা গেছে, কুকুরেলার ব্যাগে থাকা বস্তুটি আসল ফিফা বিশ্বকাপ ট্রফি ছিল না; বরং সেটি ছিল লেগো (LEGO) দিয়ে তৈরি ট্রফির একটি হুবহু প্রতিচ্ছবি বা খেলনা। শখের বশে তৈরি করা এই লেগো ট্রফিটিই তিনি প্লাস্টিকের ব্যাগে করে নিয়ে যাচ্ছিলেন।

কুকুরেয়ার প্লাস্টিকের ব্যাগে ‘বিশ্বকাপ ট্রফি’! আসল রহস্য কী?

চুয়াডাঙ্গার জীবননগর উপজেলার গোয়ালপাড়া গ্রামের স্কুলছাত্রী মরিয়মকে (১০) ধর্ষণ ও হত্যার দায়ে অভিযুক্ত একমাত্র আসামি আবুল হোসেন ওরফে ফটিককে মৃত্যুদণ্ড এবং ২ লাখ টাকা জরিমানা করেছেন আদালত।

 

সোমবার (২০ জুলাই) শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনাল চুয়াডাঙ্গার বিচারক (জেলা ও দায়রা জজ) মো. মোক্তাগীর আলম আসামির উপস্থিতিতে এই রায় ঘোষণা করেন।

 

আসামি আবুল হোসেনের বাড়ি পার্শ্ববর্তী গয়েশপুর গ্রামে। আদালতে তিনি ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন। আদালত ও মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, ২০২৩ সালের ২১ ডিসেম্বর গোয়ালপাড়া গ্রামের মরিয়ম খাতুন কয়েকজন শিশুকে সাথে নিয়ে মাঠে শাক তুলতে যায়। এ সময় শাক তুলে দেওয়ার কথা বলে আসামী মরিয়মকে একটি ভুট্টাখেতের ভেতর নিয়ে যায় এবং ধর্ষণ শেষে হত্যা করে।

 

এ ঘটনায় তদন্ত শেষে পুলিশ অভিযুক্ত আবুল হোসেনের বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেন।

 

চুয়াডাঙ্গার নারী ও শিশু আদালতের পিপি এমএম শাহজাহান মুকুল জানান, ‘৩১জন স্বাক্ষীর স্বাক্ষ্যগ্রহণ শেষে এই রায় ঘোষণা করেন আদালত।’ আদালতের রায়ে বাদী ও রাষ্ট্রপক্ষ সন্তষ্টি প্রকাশ করেন। এমন বিচার অব্যাহত থাকলে দেশে ধর্ষণ হত্যা নিয়ন্ত্রণে আসবে বলে মনে করেন বিশেষজ্ঞরা।

স্কুলছাত্রীকে ধর্ষণ ও হত্যা মামলার আসামির মৃত্যুদণ্ড

ইউরো জয়ের দুই বছর পর এবার বিশ্বকাপও জিতে ফুটবলের নতুন পরাশক্তি হিসেবে নিজেদের প্রতিষ্ঠা আরও শক্ত করলো স্পেন। শুধু পুরুষদেরই নয়, নারী ও বয়সভিত্তিক সব পর্যায় মিলিয়ে গত পাঁচ বছরে ১৬টি আন্তর্জাতিক শিরোপা জিতেছে লা রোজারা। ফুটবল বিশ্লেষকদের মতে, পরিকল্পিত উন্নয়ন আর শক্তিশালী একাডেমি কাঠামোই স্পেনকে এনে দিয়েছে এই অবিশ্বাস্য সাফল্য।

 

২০২৬ বিশ্বকাপ ফাইনালে আর্জেন্টিনাকে ১-০ গোলে হারিয়ে দ্বিতীয়বারের মতো বিশ্বচ্যাম্পিয়ন হয়েছে স্পেন। এর আগে ২০২৪ সালে ইউরোপিয়ান চ্যাম্পিয়নশিপ জিতেছিল লুইস দে লা ফুয়েন্তের দল। ২০১০ সালেও ইউরোর পর বিশ্বকাপ জয়ের একই কীর্তি গড়েছিল স্পেন।

পুরুষ ও নারী— উভয় ফুটবলে একই সময়ে বিশ্বচ্যাম্পিয়ন হওয়ার প্রথম দেশ এখন স্পেন। ২০২৩ সালে নারী বিশ্বকাপ জয়ের পর এবার পুরুষ দলের বিশ্বকাপ শিরোপা সেই ইতিহাসকে আরও সমৃদ্ধ করেছে।

 

শুধু সিনিয়র পর্যায় নয়, বয়সভিত্তিক দলগুলোর সাফল্যও চোখে পড়ার মতো। ২০২২ থেকে ২০২৬ সালের মধ্যে নারী ও পুরুষ মিলিয়ে স্পেন জিতেছে মোট ১৬টি ইউরোপীয় ও বিশ্ব শিরোপা।

 

নারী ফুটবলে এই সময়ে স্পেন জিতেছে— ২০২৩ নারী বিশ্বকাপ, ২০২৪ ও ২০২৫ নেশনস লিগ, অনূর্ধ্ব-২০ বিশ্বকাপ ২০২২, অনূর্ধ্ব-১৯ ইউরো টানা পাঁচবার (২০২২-২০২৬), অনূর্ধ্ব-১৭ বিশ্বকাপ (২০২২) ও ইউরো (২০২৪)।

 

অন্যদিকে পুরুষ ফুটবলে জিতেছে— ২০২৬ বিশ্বকাপ, ২০২৪ ইউরো, ২০২৩ নেশনস লিগ, ২০২৪ অলিম্পিক স্বর্ণ এবং ২০২৬ এর অনূর্ধ্ব-১৯ ইউরো।

 

স্প্যানিশ ফুটবল বিশেষজ্ঞ গিলেম বালাগের ভাষায়, এটি শুধু একটি ভালো দলের সাফল্য নয়, বরং পুরো দেশের ফুটবল দর্শন ও পরিকল্পনার প্রতিফলন। তার মতে, স্পেনে সবাই একই ফুটবল দর্শনে বিশ্বাস করে। এ কারণেই সাফল্যের ধারাবাহিকতা তৈরি হয়েছে।

 

দেশটির নারী ফুটবলেও গত এক দশকে এসেছে আমূল পরিবর্তন। বার্সেলোনার সাবেক খেলোয়াড় মারিয়া গারিদো জানান, কয়েক বছর আগেও মেয়েদের জন্য পর্যাপ্ত একাডেমি, সুযোগ-সুবিধা কিংবা আর্থিক সহায়তা ছিল না। এখন উন্নত অবকাঠামো, বয়সভিত্তিক প্রতিযোগিতা এবং পেশাদার পরিবেশ নারী ফুটবলকে নতুন উচ্চতায় নিয়ে গেছে।

 

এই অর্জনগুলো দিয়ে শক্তিশালী ভবিষ্যতের বার্তা দিয়েছে স্পেন। দলটির হয়ে মাত্র ১৯ বছর বয়সেই বিশ্বকাপজয়ী হয়েছেন লামিনে ইয়ামাল ও পাউ কুবারসি। এই দুই তরুণকে ঘিরে স্পেনের ভবিষ্যৎ আরও উজ্জ্বল বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।

 

সাবেক ইংল্যান্ড গোলরক্ষক জো হার্ট বলেন, স্পেন এমন একটি ফুটবল দর্শন তৈরি করেছে, যার ধারেকাছেও এখন অন্য কোনো দল যেতে পারছে না।

 

আর ফ্রান্সের বিশ্বকাপজয়ী কিংবদন্তি থিয়েরি অঁরি মনে করেন, স্পেনের এই আধিপত্য কাকতালীয় নয়। তার ভাষায়, তারা এমন একটি কাঠামো গড়ে তুলেছে, যার ফল এখন প্রতিটি পর্যায়ে দেখা যাচ্ছে। স্পেনের সাম্প্রতিক সাফল্য বলছে, বিশ্ব ফুটবলের নতুন মানদণ্ড এখন লা রোজাই।

পাঁচ বছরে নারী-পুরুষ মিলিয়ে ১৬ শিরোপা, বিশ্ব ফুটবলে স্পেনের একচ্ছত্র আধিপত্য

বিশ্বকাপে হারের পর দেশে ফেরার প্রস্তুতি নিয়েছে আর্জেন্টিনা। তবে একই বিমানে ফিরছেন না লিওনেল স্কালোনির দলের সবাই। কয়েকজন ফুটবলার যুক্তরাষ্ট্র থেকেই নিজ নিজ গন্তব্যে চলে যাবেন। খেলোয়াড়, কোচিং স্টাফ ও কর্মকর্তাদের নিয়ে প্রতিনিধিদলের একটি অংশ সোমবার স্থানীয় সময় বিকেল ৫টার দিকে বুয়েনস এইরেসে পৌঁছাবে।

 

বাংলাদেশ সময় তখন মঙ্গলবার রাত ২টা। সোমবার ভোরে নিউইয়র্ক থেকে ভাড়া করা বিমানে আর্জেন্টিনার উদ্দেশে যাত্রা শুরু করার কথা প্রতিনিধিদলটির।

 

এক বিবৃতিতে ফেরার সময়সূচি জানিয়েছে আর্জেন্টিনা ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন। সংস্থাটি জানিয়েছে, দলের কয়েকজন ফুটবলার যুক্তরাষ্ট্র থেকেই নিজ নিজ ক্লাবে যোগ দিতে অথবা ছুটি কাটাতে আলাদা গন্তব্যের উদ্দেশে রওনা হবেন। বাকি খেলোয়াড়দের সঙ্গে কোচিং স্টাফ ও দলের অন্য সদস্যরা দেশে ফিরবেন।

 

তবে কারা বুয়েনস এইরেসগামী বিমানে থাকবেন, সেই তালিকা প্রকাশ করেনি এএফএ। যুক্তরাষ্ট্রে বসবাস এবং সেখানকার ক্লাবে খেলার কারণে লিওনেল মেসি ও রদ্রিগো দে পলের দেশে না ফেরার সম্ভাবনাই বেশি। যদিও তাদের বিষয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু জানানো হয়নি।

 

পুরো দল একসঙ্গে দেশে না ফেরায় আপাতত কোনো শোভাযাত্রা বা আনুষ্ঠানিক সংবর্ধনার পরিকল্পনাও নেই। রানার্সআপ দলটি উদ্‌যাপনের সিদ্ধান্ত নিলে সেই দিন জাতীয় ছুটি ঘোষণা করা হবে বলে এর আগে জানিয়েছিলেন আর্জেন্টিনার প্রেসিডেন্ট হাভিয়ের মিলেই।

 

সমর্থকদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়ে এএফএ বলেছে, বিশ্বকাপজুড়ে প্রতিটি শহর ও স্টেডিয়ামে আর্জেন্টাইনদের সমর্থন দলের শক্তি হিসেবে কাজ করেছে। টানা দ্বিতীয়বার বিশ্বকাপ জয়ের স্বপ্ন পূরণ না হলেও জাতীয় দল ও দেশের মানুষের সম্পর্ক যেকোনো ফলাফলের চেয়ে বড় বলেও উল্লেখ করেছে সংস্থাটি।

 

এএফএর বিবৃতিতে আরও বলা হয়েছে, পতাকা, বার্তা, শোভাযাত্রা ও নিঃশর্ত ভালোবাসার মাধ্যমে সমর্থকেরা আবারও প্রমাণ করেছেন যে জাতীয় দল আর্জেন্টিনার মানুষের অমূল্য সম্পদ। আনন্দের সময়ের মতো কঠিন মুহূর্তেও পাশে থাকার জন্য তাদের ধন্যবাদ জানিয়েছে দেশটির ফুটবল কর্তৃপক্ষ।

 

রোববার নিউ জার্সিতে অনুষ্ঠিত বিশ্বকাপ ফাইনালে স্পেনের কাছে ১-০ গোলে হারে বর্তমান চ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা। নির্ধারিত সময়ে কোনো দল গোল করতে পারেনি। অতিরিক্ত সময়ের ১০৬তম মিনিটে ফেরান তোরেসের গোলে শিরোপা জেতে স্পেন।

ভিন্ন পথে আর্জেন্টিনার ফুটবলাররা, জানা গেল দেশে ফেরার সময়

বিস্তারিত....

বিনোদন

২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপের ফাইনালের আগে আবেগঘন বার্তা দিয়েছেন আর্জেন্টিনা অধিনায়ক লিওনেল মেসি। স্পেনের বিপক্ষে শিরোপা নির্ধারণী ম্যাচের আগের রাতে সতীর্থ, কোচিং স্টাফ এবং দলের নেপথ্যে কাজ করা সদস্যদের সঙ্গে তোলা একটি দলীয় ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশ করে তিনি বলেন, এই দল এমন এক ইতিহাস গড়েছে, যা কখনো মুছে ফেলা যাবে না।

 

নিউ জার্সিতে ফাইনালের আগে তোলা ছবিতে ২৬ সদস্যের খেলোয়াড়দলের পাশাপাশি কোচিং স্টাফ, চিকিৎসক, সরঞ্জামকর্মী, রাঁধুনি, কর্মকর্তাসহ আর্জেন্টিনা ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি ক্লদিও তাপিয়াও উপস্থিত ছিলেন। ফাইনালের আগে এটিই ছিল পুরো দলের শেষ আনুষ্ঠানিক দলীয় ছবি।

 

ছবির ক্যাপশনে মেসি লেখেন, গত কয়েক বছরের সবচেয়ে মূল্যবান অর্জন শুধু শিরোপা নয়, বরং সতীর্থদের সঙ্গে কাটানো প্রতিটি মুহূর্ত, একসঙ্গে লড়াই করা, কঠিন সময় পেরিয়ে ঘুরে দাঁড়ানো এবং প্রতিটি যাত্রাকে উপভোগ করা।

 

তিনি দলের খেলোয়াড়, কোচিং স্টাফ এবং জাতীয় দলের সঙ্গে যুক্ত সব সদস্যকে ধন্যবাদ জানিয়ে বলেন, ‘আগামীকাল যা-ই ঘটুক না কেন, এই দল এমন এক ইতিহাস লিখেছে, যা আমরা কখনো ভুলব না এবং কেউ মুছতেও পারবে না।’ একই সঙ্গে তিনি সমর্থকদেরও আর্জেন্টিনার পাশে থাকার আহ্বান জানান।

 

স্পেনের বিপক্ষে ম্যাচটি হবে মেসির ক্যারিয়ারের তৃতীয় বিশ্বকাপ ফাইনাল। ২০১৪ সালে জার্মানির কাছে পরাজয়ের পর ২০২২ সালে ফ্রান্সকে হারিয়ে বিশ্বকাপ জয়ের স্বাদ পান তিনি। এবার ৩৯ বছর বয়সে সম্ভাব্য শেষ বিশ্বকাপ ম্যাচে টানা দ্বিতীয়বারের মতো আর্জেন্টিনাকে শিরোপা এনে দেওয়ার সুযোগ রয়েছে তার সামনে।

 

চলতি বিশ্বকাপেও আর্জেন্টিনার ফাইনালে ওঠার পথে বড় ভূমিকা রেখেছেন মেসি। এখন পর্যন্ত তিনি করেছেন ৮ গোল এবং সতীর্থদের দিয়ে করিয়েছেন আরও ৪টি গোল। সেমিফাইনালে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে গোল না পেলেও আর্জেন্টিনার দুই গোলেই ছিল তার গুরুত্বপূর্ণ অবদান।

 

বাংলাদেশ সময় রোববার রাত ১টায় নিউ জার্সির মেটলাইফ স্টেডিয়ামে ফাইনালে মুখোমুখি হবে আর্জেন্টিনা ও স্পেন। বর্তমান চ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনার লক্ষ্য চতুর্থ বিশ্বকাপ শিরোপা এবং ১৯৬২ সালের ব্রাজিলের পর প্রথম দল হিসেবে টানা দুইবার বিশ্বচ্যাম্পিয়ন হওয়ার কীর্তি গড়া। অন্যদিকে, স্পেন চাইছে ২০১০ সালের পর দ্বিতীয়বারের মতো বিশ্বকাপের ট্রফি জিততে।

ফাইনালের আগে মেসির আবেগঘন বার্তা

প্রেমের টানে পাকিস্তান থেকে শরীয়তপুরের জাজিরায় এসেছেন মো. মোজাম্মেল হোসাইন নামে এক যুবক। গত শনিবার (১১ জুলাই) পাকিস্তানের লাহোর থেকে জাজিরা উপজেলার বিলাসপুর ইউনিয়নের স্টাপল্টন শিকদার কান্দি এলাকায় তার প্রেমিকা তানজিলা আক্তারের বাড়িতে আসেন। পরে স্থানীয় ইমামের মাধ্যমে শরিয়াহ অনুযায়ী তাদের বিবাহ সম্পন্ন হয়।

 

ভিনদেশি যুবকের এমন প্রেমকাহিনি ঘিরে এলাকায় সৃষ্টি হয়েছে ব্যাপক কৌতূহল ও চাঞ্চল্য। তবে ভালোবাসার এই গল্পের পাশাপাশি স্থানীয়দের একাংশের মনে দেখা দিয়েছে উদ্বেগও। তানজিলাকে পাকিস্তানে নিয়ে যাওয়ার আগে পুরো বিষয়টি যথাযথভাবে যাচাই করার দাবি জানিয়েছেন তারা।

 

পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, প্রায় চার বছর আগে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে তানজিলার সঙ্গে পরিচয় হয় পাকিস্তানের লাহোরের বাসিন্দা উর্দুভাষী মোজাম্মেল হোসাইনের। তানজিলা মজিবর শিকদারের একমাত্র মেয়ে। পরিচয়ের পর নিয়মিত চ্যাটিং ও ভিডিও কলের মাধ্যমে ধীরে ধীরে তাদের মধ্যে গভীর প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে।

 

দীর্ঘ চার বছরের সেই সম্পর্ককে পরিণতি দিতে গত ১১ জুলাই শনিবার লাহোর থেকে জাজিরার বিলাসপুর ইউনিয়নের রহিম উদ্দিন মালাই মৃধাকান্দি গ্রামের স্টাপল্টন শিকদার কান্দি এলাকায় তানজিলার বাড়িতে এসে হাজির হন মোজাম্মেল। পরে জাজিরায় তাদের বিয়ের আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন হয়।

 

তানজিলার মা আসমা আক্তার এ বিয়ে নিয়ে আশাবাদী। তিনি বলেন, ছেলের পরিবারের সঙ্গে তাদের নিয়মিত যোগাযোগ হচ্ছে। এত দূরে মেয়েকে বিয়ে দিতে কিছুটা খারাপ লাগলেও তাদের মনে কোনো ভয় বা শঙ্কা নেই।

 

তবে পরিবারের এই স্বস্তির বিপরীতে প্রতিবেশী ও স্বজনদের একাংশের মধ্যে রয়েছে উদ্বেগ। তানজিলার ফুফু রাত্রি আক্তার ও চাচা তোফাজ্জল শিকদার বলেন, ইদানীং প্রেমের ফাঁদে ফেলে মেয়েদের বিদেশে পাচারের নানা খবর পাওয়া যাচ্ছে। ছেলের পরিবারের কোনো অভিভাবক উপস্থিত না থাকায় এভাবে একটি মেয়েকে পাকিস্তানে পাঠানো ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে।

 

এ কারণে পুরো বিষয়টি যাচাই করে প্রশাসনের নজরদারি নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।

 

স্থানীয় কয়েকজন বলেন, প্রেমের টানে পাকিস্তান থেকে যুবকের জাজিরায় ছুটে আসার ঘটনা এখন স্থানীয়দের আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে। চার বছরের প্রেম শেষ পর্যন্ত দুই দেশের দুই তরুণ-তরুণীকে এক ছাদের নিচে এনেছে। তবে নববধূকে নিয়ে পাকিস্তানে যাত্রার আগে সব ধরনের আইনি প্রক্রিয়া ও নিরাপত্তার বিষয়টি নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় সচেতন মহল।

 

জাজিরা থানার ওসি সালেহ্ আহম্মদ বলেন, বিষয়টি সম্পর্কে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে অবগত নয়। দ্রুত খোঁজখবর নিয়ে তাদের পাসপোর্ট, ভিসাসহ প্রয়োজনীয় কাগজপত্র যাচাই-বাছাই করা হবে। তদন্তে কোনো অসঙ্গতি পাওয়া গেলে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

প্রেমের টানে শরীয়তপুরে পাকিস্তানি যুবক

আজ ২৫শে বৈশাখ। বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ১৬৫ তম আবির্ভাব দিবস। ১২৬৮ বঙ্গাব্দের ২৫ শে বৈশাখ, কলকাতার জোড়াসাঁকো ঠাকুরবাড়িতে জন্ম বাংলা ভাষা ও সাহিত্যের উৎকর্ষের অন্যতম এই নায়কের। তিনি অনন্য সব সৃষ্টি গল্প, কবিতা, উপন্যাস, ছোটগল্প ও অসংখ্য গানের মধ্য দিয়ে বাংলা সাহিত্য ও সংস্কৃতিকে পৌঁছে দিয়েছেন বিশ্বের কাছে।

 

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের মা সারদাসুন্দরী দেবী এবং বাবা ব্রাহ্ম ধর্মগুরু দেবেন্দ্রনাথ ঠাকুর। তিনি কবিতা লেখা শুরু করেন আট বছর বয়সে। ১৮৯১ সাল থেকে বাবার আদেশে নদিয়া, পাবনা, রাজশাহী ও ওড়িশার জমিদারি তদারকি শুরু করেন। কুষ্টিয়ার শিলাইদহের কুঠিবাড়িতে তিনি দীর্ঘসময় অতিবাহিত করেন। ১৯০১ সালে সপরিবারে চলে আসেন বীরভূমের বোলপুর শহরের উপকণ্ঠে শান্তিনিকেতনে। তার জীবদ্দশায় এবং মৃত্যুর পর প্রকাশিত হয়েছে ৫২টি কাব্যগ্রন্থ, ৩৮টি নাটক, ১৩টি উপন্যাস, ৩৬টি প্রবন্ধ এবং অন্যান্য গদ্য সংকলন। নানা কর্মসূচির মধ্য দিয়ে আজ নোবেল বিজয়ী এই সহিত্য প্রতিভাকে স্মরণ করবে তার অগণিত ভক্ত।

 

বিটিভিতে সকাল ৯টায় থাকছে বিশেষ শিশুতোষ অনুষ্ঠান। সকাল ১০টা ৫ মিনিটে প্রচারিত হবে রবীন্দ্রসংগীতের অনুষ্ঠান ‘গীতবিতান’। সন্ধ্যা ৬টায় থাকছে বিশেষ কবিতা আবৃত্তির অনুষ্ঠান। রাত ৯টায় থাকছে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের গল্প অবলম্বনে নাটক ‘সম্পত্তি সমর্পণ’। রাত ১০টায় সংবাদের পর প্রচারিত হবে বিশেষ রবীন্দ্রসংগীতের অনুষ্ঠান। অনুষ্ঠানে কবির বিভিন্ন পর্যায়ের জনপ্রিয় ৯টি গান পরিবেশন করবেন একঝাঁক রবীন্দ্রসংগীতশিল্পী। রাত ১১টায় প্রচারিত হবে ‘চিত্রাঙ্গদা’।

 

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের সাহিত্যজগৎ ছিল নানা বর্ণ, মানসিকতা ও চেতনায় ভরপুর। তাইতো, নিঃসঙ্গতার প্রতিচ্ছবি চারুলতা, সামাজিক বেড়াজাল ভেঙে আত্মসচেতন হয়ে ওঠা বিনোদিনী কিংবা গোরা উপন্যাসের স্বদেশপ্রেম ও জাতিসত্তার পরিচয়ে জর্জরিত পুরুষের মধ্যে আজও পাঠক খুঁজে ফেরে নিজেদের। বাংলার মাটিতে যেমন তাঁর কদর, তেমনি বিশ্ব দরবারেও সমানভাবে ছড়িয়ে আছে তার দীপ্তি। সাহিত্যে অবদানের জন্য ১৯১৩ সালে নবজাগরণের এই পুরোধাকে ভূষিত করা হয় নোবেল পুরস্কারে। দিনটি উদযাপনে দেশের বিভিন্ন স্থানে আয়োজন করা হয়েছে নানা আয়োজন।

বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ১৬৫তম জন্মজয়ন্তী আজ

প্রতিবেদন: ওমর ফারুক

আজ ৩ মে বিশ্বজুড়ে পালিত হচ্ছে বিশ্ব গণমাধ্যম দিবস। গণমাধ্যমের স্বাধীনতা, দায়বদ্ধতা এবং সাংবাদিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার গুরুত্ব তুলে ধরতেই প্রতি বছর এই দিনটি পালন করা হয়।

১৯৯৩ সালে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদ আনুষ্ঠানিকভাবে ৩ মে-কে বিশ্ব গণমাধ্যম স্বাধীনতা দিবস হিসেবে ঘোষণা করে। এর আগে ১৯৯১ সালে নামিবিয়ার উইন্ডহুকে গৃহীত উইন্ডহুক ঘোষণা-এর মাধ্যমে স্বাধীন ও বহুমুখী গণমাধ্যম প্রতিষ্ঠার আহ্বান জানানো হয়, যা পরবর্তীতে এই দিবস ঘোষণার ভিত্তি তৈরি করে।

বর্তমান সময়ে গণমাধ্যম সমাজের গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে সত্য ও নিরপেক্ষ তথ্য মানুষের কাছে পৌঁছে দিচ্ছে। নানা চ্যালেঞ্জের মধ্যেও সাংবাদিকরা পেশাগত দায়িত্ব পালন করে গণতন্ত্রকে শক্তিশালী করতে অবদান রাখছেন।

বিশ্ব গণমাধ্যম দিবস উপলক্ষে গণ টেলিভিশন-এর পক্ষ থেকে দেশের সকল সাংবাদিক, গণমাধ্যমকর্মী ও দর্শকদের জানানো হয়েছে আন্তরিক শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন। সত্য ও বস্তুনিষ্ঠ সংবাদ পরিবেশনের মাধ্যমে সমাজের কল্যাণে কাজ করে যাওয়ার প্রত্যয় পুনর্ব্যক্ত করেছে প্রতিষ্ঠানটি।

আজ বিশ্ব গণমাধ্যম দিবস

প্রতিবেদনঃ ওমর ফারুক

যারা বিবাহিত, তাদের তুলনায় অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্কদের ক্যানসার হওয়ার ঝুঁকি উল্লেখযোগ্যভাবে বেশি। যুক্তরাষ্ট্রের মায়ামি বিশ্ববিদ্যালয়ের নতুন এক গবেষণায় এমন চমকপ্রদ তথ্য উঠে এসেছে।

পরিসংখ্যান অনুযায়ী, অবিবাহিত পুরুষদের ক্যানসারের ঝুঁকি বিবাহিতদের তুলনায় প্রায় ৭০ শতাংশ বেশি।

গবেষণায় দেখা গেছে, যারা কখনো বিয়ে করেননি, তাদের মধ্যে ক্যানসারে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি তুলনামূলকভাবে বেশি।

 

 

২০১৫ থেকে ২০২২ সালের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের ১২টি অঙ্গরাজ্যের ৪০ লাখের বেশি মানুষের তথ্য বিশ্লেষণ করে এই ফল পাওয়া গেছে। গবেষণায় বলা হয়েছে, প্রায় সব ধরনের প্রধান ক্যানসারের ক্ষেত্রেই অবিবাহিতদের ঝুঁকি বেশি দেখা গেছে।

 

পরিসংখ্যান অনুযায়ী, অবিবাহিত পুরুষদের ক্যানসারের ঝুঁকি বিবাহিতদের তুলনায় প্রায় ৭০ শতাংশ বেশি। নারীদের ক্ষেত্রে এই ঝুঁকি আরও বেশি, প্রায় ৮৫ শতাংশ পর্যন্ত।

 

গবেষণায় আরও দেখা গেছে, অবিবাহিত পুরুষদের মধ্যে মলদ্বারের ক্যানসারের হার বিবাহিতদের তুলনায় প্রায় পাঁচ গুণ বেশি। অন্যদিকে অবিবাহিত নারীদের ক্ষেত্রে জরায়ুমুখের ক্যানসারের হার প্রায় তিন গুণ বেশি।

গবেষকদের মতে, বিয়ে অনেক সময় মানুষের জীবনযাপনকে প্রভাবিত করে। খাদ্যাভ্যাস, স্বাস্থ্যসচেতনতা এবং নিয়মিত চিকিৎসা পরীক্ষার মতো বিষয়গুলো এতে যুক্ত থাকে। ফলে এটি পরোক্ষভাবে স্বাস্থ্যের ওপর প্রভাব ফেলতে পারে।

 

তবে বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করেছেন, এর মানে এই নয় যে বিয়ে করলেই ক্যানসার থেকে সুরক্ষা পাওয়া যাবে। বরং এটি একটি সামাজিক ও আচরণগত ইঙ্গিত মাত্র।

 

গবেষকরা আরও বলেছেন, যারা অবিবাহিত, তাদের উচিত স্বাস্থ্যঝুঁকির বিষয়ে আরও সতর্ক থাকা। নিয়মিত পরীক্ষা করানো এবং স্বাস্থ্যকর জীবনযাপন বজায় রাখে।

 

অবিবাহিতদের ক্যানসারের ঝুঁকি বেশি, বলছে গবেষণা

বিস্তারিত....

মতামত

আসন্ন সাভার পৌর নির্বাচনে ৯ নং ওয়ার্ডের কাউন্সিলর পদপ্রার্থী হিসেবে জনপ্রিয়তার শীর্ষে পরিচ্ছন্ন রাজনীতিবিদ লায়ন মনজুরুল ইসলাম (মঞ্জু)

 

রাকিবুল ইসলাম রঞ্জু:

আসন্ন সাভার পৌরসভা নির্বাচনকে কেন্দ্র করে ৯নং ওয়ার্ডে বইছে নির্বাচনী হাওয়া। সম্ভাব্য প্রার্থীদের মধ্যে প্রচার-প্রচারণা ও গণসংযোগে ব্যাপকভাবে এগিয়ে রয়েছেন বিশিষ্ট সমাজসেবক, শিক্ষানুরাগী পরিচ্ছন্ন রাজনীতিবিদ সাভার পৌর যুবদলের সাবেক সহ-সভাপতি , সাভার পৌর ৯ নং ওয়ার্ড বিএনপির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক,লায়ন মোহাম্মদ মনজুরুল ইসলাম (মঞ্জু)। ওয়ার্ডের সর্বস্তরের মানুষের মাঝে তার সততা, নিষ্ঠা ও দীর্ঘদিনের সমাজসেবামূলক কর্মকাণ্ডের কারণে তিনি বর্তমানে জনপ্রিয়তার শীর্ষে রয়েছেন।

 

স্থানীয় ভোটার ও সাধারণ জনগণের সাথে কথা বলে জানা গেছে, লায়ন মনজুরুল ইসলাম মঞ্জু দীর্ঘদিন ধরে ৯নং ওয়ার্ডের অবহেলিত মানুষের পাশে থেকে সুখ-দুঃখে কাজ করে যাচ্ছেন। যেকোনো দুর্যোগে তিনি অসহায় মানুষের মাঝে খাদ্য ও আর্থিক সহায়তা নিয়ে সবার আগে এগিয়ে এসেছেন।

 

এলাকাবাসীর মতে, সাভার পৌরসভার ৯নং ওয়ার্ডকে একটি আধুনিক, মাদকমুক্ত ও আদর্শ ওয়ার্ড হিসেবে গড়ে তুলতে লায়ন মনজুরুল ইসলাম মঞ্জুর কোনো বিকল্প নেই। রাস্তাঘাটের উন্নয়ন, ড্রেনেজ ব্যবস্থার সংস্কার এবং তরুণ সমাজকে মাদকের হাত থেকে রক্ষা করতে তিনি দীর্ঘদিন ধরে কাজ করছেন। তার এই পরিচ্ছন্ন রাজনৈতিক ভাবমূর্তি ও পরোপকারী মানসিকতার কারণে ওয়ার্ডের তরুণ প্রজন্ম থেকে শুরু করে প্রবীণদের মধ্যেও তাকে নিয়ে ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা দেখা যাচ্ছে।

 

নিজের প্রার্থিতা ও জনপ্রিয়তার বিষয়ে লায়ন মোহাম্মদ মনজুরুল ইসলাম (মঞ্জু) বলেন, “আমি পদের লোভে নয়, বরং ৯নং ওয়ার্ডের সাধারণ মানুষের সেবা করতেই কাউন্সিলর পদপ্রার্থী হিসেবে মাঠে নেমেছি। দীর্ঘদিন ধরে এই ওয়ার্ডের মানুষের সুখে-দুঃখে পাশে থাকার চেষ্টা করেছি। আগামী দিনে যদি জনগণ আমাকে সুযোগ দেয়, তবে ৯নং ওয়ার্ডকে সাভার পৌরসভার মধ্যে একটি রোল মডেল ও আধুনিক ওয়ার্ড হিসেবে গড়ে তুলবো।”

 

নির্বাচনের দিন যত ঘনিয়ে আসছে, ওয়ার্ডের মোড়ে মোড়ে, চায়ের দোকানে ও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে লায়ন মনজুরুল ইসলাম মঞ্জুর পক্ষে সমর্থন ও জোয়ার ততই বাড়ছে। স্থানীয় সচেতন মহল মনে করছেন, একটি পরিচ্ছন্ন ও সুশাসিত ওয়ার্ড গঠনে সাধারণ মানুষ এবার ব্যালটের মাধ্যমে সঠিক নেতাকেই বেছে নেবেন, অত্র ওয়ার্ডের সাধারণ জনগণ।

আসন্ন সাভার পৌর নির্বাচনে ৯ নং ওয়ার্ডের কাউন্সিলর পদপ্রার্থী হিসেবে জনপ্রিয়তার শীর্ষে পরিচ্ছন্ন রাজনীতিবিদ লায়ন মনজুরুল ইসলাম (মঞ্জু)

বিরোধীদলীয় নেতা ও জামায়াত আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, জাতীয় সংসদের সাবেক স্পিকার ব্যারিস্টার জমির উদ্দিন সরকারকে গভীর শ্রদ্ধায় স্মরণ করছি। তিনি পেশাগত জীবনে এবং রাজনীতিবিদ হিসেবে সফল এবং কালারফুল। ব্যক্তি এবং দল হিসেবে আমি এবং আমরা তার ক্লায়েন্ট ছিলাম।

 

রোববার (১২ জুলাই) জাতীয় সংসদে সাবেক স্পিকার ব্যারিস্টার জমির উদ্দিন সরকারকে স্মরণ করে তিনি এসব কথা বলেন।

 

বিরোধীদলীয় নেতা বলেন, বিশেষ করে আমাদের কষ্টের দিনগুলোতে, সেই ওয়ান-ইলেভেন আমলে আইনের যাঁতাকলে যখন আমরা পিষ্ট, তখন প্রায়ই আমরা তার কাছে যেতাম, দ্বারস্থ হতাম। তিনি গুরুত্বপূর্ণ পরামর্শ দিয়েই শুধু আমাদের কাজ সারেননি, বরং আমাদের মজলুম নেতৃবৃন্দের পক্ষে তিনি আদালতে বারবার দাঁড়িয়েছেন।

 

তিনি আরও বলেন, এরকম তো আরও অনেকেই দাঁড়িয়েছেন, কিন্তু তিনি একদিক দিয়ে ভীষণ ব্যতিক্রম ছিলেন। প্রথমবার থেকেই আমরা চেষ্টা করেছি, কৃতজ্ঞতাস্বরূপ তাকে কিছু ফি দেওয়ার। শেষ পর্যন্ত আমরা এই কাজে সফল হইনি।

 

বিরোধীদলীয় নেতা বলেন, তার এই অবদান স্মরণ করে আমার চোখে পানি আসছে। আমরা তার ঋণ পরিশোধ করতে পারবো না। তিনি স্পিকার হিসেবে পার্লামেন্টকে প্রাণবন্ত করে রাখতেন, আর আইনের অঙ্গনে তিনি অনেকের গুরু। তার চলন-বলন, সবকিছুই ছিল শিক্ষণীয়।

ব্যক্তি-দল হিসেবে জমির উদ্দিন সরকারের ক্লায়েন্ট ছিলাম: বিরোধীদলীয় নেতা

আগামীকাল থেকে শুরু হচ্ছে এইচএসসি পরীক্ষা: পরীক্ষার্থীদের অভিনন্দন জানিয়েছেন সাভার থানা বিএনপি সভাপতি সাইফুদ্দিন সাইফুল।

 

রাকিবুল ইসলাম রঞ্জু:

আগামীকাল থেকে শুরু হতে যাওয়া উচ্চ মাধ্যমিক সার্টিফিকেট (এইচএসসি) ও সমমানের পরীক্ষার সকল পরীক্ষার্থীদের আন্তরিক অভিনন্দন, শুভেচ্ছা ও শুভকামনা জানিয়েছেন সাভার থানা বিএনপির সভাপতি ও বিশিষ্ট সমাজসেবক সাইফুদ্দিন সাইফুল।

 

আজ এক শুভেচ্ছা বার্তায় তিনি পরীক্ষার্থীদের উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ ও সাফল্য কামনা করেন।

 

শুভেচ্ছা বার্তায় সাইফুদ্দিন সাইফুল বলেন, “এইচএসসি পরীক্ষা প্রতিটি শিক্ষার্থীর জীবনের একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ধাপ। এটি তাদের ভবিষ্যৎ উচ্চশিক্ষা ও ক্যারিয়ার গড়ার ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করে। আমি আশা করি, আমাদের সাভারসহ সারা দেশের শিক্ষার্থীরা অত্যন্ত ধৈর্য, মেধা ও মনোযোগের সাথে পরীক্ষায় অংশ নিয়ে নিজেদের মেধার সর্বোচ্চ স্বাক্ষর রাখবে।”

 

তিনি আরও বলেন, “শিক্ষার্থীরাই আমাদের আগামী দিনের দেশ গড়ার কারিগর। তাদের এই পথচলায় শিক্ষক ও অভিভাবকদের অবদান অনস্বীকার্য। আমি সকল পরীক্ষার্থীর সুস্বাস্থ্য, দীর্ঘায়ু ও পরীক্ষায় আশানুরূপ সাফল্য কামনা করছি। আল্লাহ যেন তাদের মনের আশা পূরণ করেন এবং তারা যেন দেশ ও জাতির কল্যাণে নিয়োজিত হতে পারে।”

 

একই সাথে তিনি পরীক্ষা সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা, শিক্ষক ও অভিভাবকদের প্রতি পরীক্ষার্থীরা যাতে সুষ্ঠু, সুন্দর ও নকলমুক্ত পরিবেশে পরীক্ষা দিতে পারে, তা নিশ্চিত করার আহ্বান জানান।

এইচএসসি পরীক্ষার্থীদের অভিনন্দন জানিয়েছেন সাভার থানা বিএনপি সভাপতি সাইফুদ্দিন সাইফুল

নাগরিক সমস্যার সমাধানে শুধু সরকারের ওপর নির্ভর না করে সবাইকে দায়িত্বশীল হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান।

 

বুধবার (১ জুলাই) রাজধানীর শেওরাপাড়ায় ডেঙ্গু প্রতিরোধ, পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা ও নাগরিক সমস্যা সমাধান অভিযান শেষে তিনি এ কথা বলেন।

 

জামায়াত আমির বলেন, পানি, গ্যাস ও জলাবদ্ধতার মতো অনেক সমস্যার পেছনে নাগরিকদের অসচেতনতাও দায়ী। নিজের গার্বেজটা ড্রেনে নিয়ে আমরা ফেলে দিই। সরকার তো প্রতিদিন ড্রেন পরিষ্কার করবে না। সরকার পরিষ্কার করে দেবে, নাগরিকদের সেটা রক্ষা করতে হবে।

 

এসময় বর্জ্য ড্রেনে ফেলে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি করা থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানান তিনি।

 

বিদ্যুৎ সংকট নিরসনে সরকার আন্তরিকভাবে কাজ করছে উল্লেখ করে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, সরকার, বিরোধী দল ও সাধারণ মানুষের সম্মিলিত উদ্যোগেই এসব সমস্যার দ্রুত সমাধান সম্ভব। একই সঙ্গে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি উন্নয়নে পুলিশকে সহযোগিতা এবং পরিবার থেকেই সন্তানদের চলাফেরা ও সঙ্গী সম্পর্কে সচেতন থাকার পরামর্শ দেন তিনি। এসময় স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম বলেন, ইতোপূর্বে উনার (ডা. শফিকুর রহমান) মতো দূরদর্শী নেতা সংসদে ছিল কি না, আমার জানা নেই। নিজ এলাকার দায়িত্বও তিনি প্রধানমন্ত্রীর হাতে তুলে দিয়েছেন।

শুধু সরকারের ওপর নির্ভর করবেন না: জামায়াত আমির

ইসলামী ব্যাংক ইসলাম নয়, মির্জা ফখরুল ইসলামও ইসলাম নয়, আবার জামায়াতে ইসলামও ইসলাম নয়। সবকিছুতে এভাবে ইসলামের দোহাই দেওয়া ঠিক নয়’’ বলে মন্তব্য করেছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাউদ্দিন আহমদ।

 

আজ মঙ্গলবার (০৯ জুন) জাতীয় সংসদে বাজেট অধিবেশনে বিরোধীদলের সংসদ সদস্যদের সমালোচনার জবাবে এ মন্তব্য করেন তিনি।

 

ইসলামী ব্যাংকের শীর্ষ পদে সাম্প্রতিক রদবদল, গ্রাহক বিক্ষোভ এবং সাবেক এমডির পদত্যাগ নিয়ে আজ স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাউদ্দিন আহমদের বিরুদ্ধে বক্তব্য দেন বিরোধীদলের এমপিরা।

 

পরে বিরোধীদলকে উদ্দেশ্য করে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘‘চেয়ারম্যান থেকে শুরু করে বোর্ড অব ডিরেক্টরের সবাইকে ব্যাংক কোম্পানি আইন অনুযায়ী বাংলাদেশ ব্যাংক অব্যাহতি দিতে পারে। এ বিষয়ে যদি কোনো প্রশ্ন তুলতে হয়, তবে আইন পরিবর্তন করে আসতে হবে।’’

 

অভিযোগ করে সালাউদ্দিন আহমদ বলেন, ‘ব্যাংকে বিশৃঙ্খলা তৈরির উদ্দেশ্যে একটি মহল পর্দার আড়ালে থেকে ‘‘গ্রাহক’’ সেজে আন্দোলন করাচ্ছে। বিরোধীদল বিরোধীদলের ভূমিকা পালন করুক, তাতে আপত্তি নেই। কিন্তু বারে বারে এভাবে পর্দার আড়ালে ও পর্দার বাইরে প্রচারণা চালিয়ে মানুষকে বিভ্রান্ত করবেন না।’

 

সংসদকে আশ্বস্ত করে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘‘ইসলামী ব্যাংকের বৈধ শেয়ারহোল্ডারদের শেয়ার যথাযথভাবে হস্তান্তর করা হবে। এছাড়া, নাবিল গ্রুপসহ যারা ব্যাংক থেকে টাকা নিয়ে আর ফেরত দেয়নি, তাদের প্রত্যেকের বিরুদ্ধে সুষ্ঠু তদন্ত করা হবে। একই সঙ্গে, বিগত সময়ে নিয়ম না মেনে ব্যাংকটিতে যে ৯ হাজার কর্মীকে চাকরিচ্যুত করা হয়েছিল, সেই বিষয়টিও তদন্তের আওতায় আনা হবে বলে জানান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।’’

 

এর আগে জামায়াতের আমির ডা. শফিকুর রহমানও মন্তব্য করেছিলেন, ‘‘একটি নতুন ষড়যন্ত্রের মাধ্যমে ইসলামী ব্যাংকের চেয়ারম্যান পদে অযোগ্য ব্যক্তিকে বসানো হয়েছে।’’

 

সংসদে প্রশ্নোত্তর পর্বে অংশ নিয়ে বিরোধীদলের উপনেতা আবদুল্লাহ মোহাম্মদ তাহের ইসলামী ব্যাংকের বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে সরকারের তীব্র সমালোচনা করেন। তিনি বলেন, ‘‘বিগত সরকারের আমলে ২৬টি ভুয়া কোম্পানি গঠন করে ইসলামী ব্যাংক থেকে ১ লাখ ২৫ হাজার কোটি টাকা সরিয়ে নিয়েছিল এস আলম গ্রুপ। আর এখন বর্তমান সরকার ব্যাংকটিতে কিছু বিতর্কিত লোককে বসিয়েছে। এর মাধ্যমে জনগণের টাকা পুনরায় লুটপাট হবে, এটা অত্যন্ত পরিষ্কার।’’

 

আবদুল্লাহ মোহাম্মদ তাহের প্রশ্ন তোলেন, ‘‘কোন কারণে একজন দুর্নীতিগ্রস্ত ব্যক্তিকে চেয়ারম্যান করা হলো এবং কোন কারণে আগের এমডিকে পদত্যাগ করতে বাধ্য করা হলো? ইসলামী ব্যাংককে যদি স্বাভাবিক প্রক্রিয়ায় চলতে না দেয়া হয়, তবে দেশে বড় ধরনের বিশৃঙ্খলা তৈরি হবে।’’

ইসলামী ব্যাংক ইসলাম নয়, মির্জা ফখরুলও ইসলাম নয়, জামায়াতও ইসলাম নয়: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

বিস্তারিত....

সারাবাংলা

অস্ট্রেলিয়ার সর্বোচ্চ বেসামরিক সম্মাননা পাওয়ায় বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত সার্জেন্ট মোহাম্মদ শাব্বির আলমকে সংবর্ধনা

 

অস্ট্রেলিয়ার অন্যতম সর্বোচ্চ বেসামরিক সম্মাননা `অর্ডার অব অস্ট্রেলিয়া মেডেল (OAM)’ অর্জন করায় বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত অস্ট্রেলীয় পুলিশ কর্মকর্তা সার্জেন্ট মোহাম্মদ শাব্বির আলমকে সংবর্ধনা দিয়েছে ভিক্টোরিয়ার বাংলাদেশি কমিউনিটি।

 

১২ জুলাই: মেলবোর্নের গ্লেন ওয়েভারলি কমিউনিটি সেন্টারে আয়োজিত এ নাগরিক সংবর্ধনায় বাংলাদেশি কমিউনিটির বিভিন্ন প্রজন্মের বিপুলসংখ্যক মানুষ অংশ নেন। শীত ও গুঁড়ি গুঁড়ি বৃষ্টি উপেক্ষা করে তাঁরা সার্জেন্ট আলমের এই অর্জন উদ্‌যাপনে একত্র হন।

 

সার্জেন্ট শাব্বির আলম দীর্ঘদিন ধরে মানবসেবা, স্বেচ্ছাসেবামূলক কার্যক্রম, জননিরাপত্তা ও কমিউনিটি উন্নয়নে অবদান রেখে আসছেন। বিশেষ করে ২০০৯ সালের ব্ল্যাক স্যাটারডে এবং ২০১৯ সালের ব্ল্যাক সামার দাবানলের সময় ত্রাণ ও উদ্ধার কার্যক্রমে তাঁর ভূমিকা ব্যাপক প্রশংসিত হয়। এসব অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ তাঁকে OAM প্রদান করা হয়েছে।

 

অনুষ্ঠান শুরু হয় বিকেল ৩টা ১৫ মিনিটে। সঞ্চালনা করেন আমিন রহমান। অস্ট্রেলিয়ার প্রচলিত *Acknowledgement of Country*-এর মাধ্যমে অনুষ্ঠানের সূচনা হয়। পরে সার্জেন্ট আলমের বিভিন্ন পদক, সম্মাননা ও অর্জনের বিবরণ তুলে ধরা হলে উপস্থিত অতিথিরা করতালির মাধ্যমে তাঁকে অভিনন্দন জানান।

 

বক্তব্যে মুশফিকুর রহমান বলেন, সার্জেন্ট আলম জেনারেশন–ওয়াইয়ের প্রতিনিধি। এর আগে OAM অর্জনকারী বাংলাদেশি-অস্ট্রেলীয়রা ছিলেন বেবি বুমার প্রজন্মের। তাঁর মতে, এটি বাংলাদেশি-অস্ট্রেলীয় কমিউনিটির বিকাশ ও মূলধারার অস্ট্রেলীয় সমাজে তাদের ক্রমবর্ধমান অংশগ্রহণের প্রতিফলন।

 

তিনি আরও বলেন, আগের প্রজন্মের অনেকেই মূলত বাংলাদেশি অভিবাসীদের সহায়তায় কাজ করেছেন। অন্যদিকে সার্জেন্ট আলমের সেবার পরিধি সমগ্র অস্ট্রেলীয় সমাজজুড়ে বিস্তৃত, যা বাংলাদেশি-অস্ট্রেলীয়দের স্বেচ্ছাসেবামূলক কর্মকাণ্ডকে নতুন উচ্চতায় নিয়ে গেছে।

 

অনুষ্ঠানে কামরুল চৌধুরী OAM, মোহাম্মদ কামরুজ্জামান OAMসহ আরও কয়েকজন বক্তা সার্জেন্ট আলমের অবদানের প্রশংসা করেন।

 

প্রতিক্রিয়ায় সার্জেন্ট শাব্বির আলম বলেন, কোনো বড় অর্জন বা জনসেবা একার পক্ষে সম্ভব নয়। এর পেছনে একটি নিবেদিত দলের সম্মিলিত প্রচেষ্টা থাকে। তিনি তাঁর সহকর্মী ও স্বেচ্ছাসেবকদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান।

 

অনুষ্ঠানের একপর্যায়ে বাংলাদেশি কমিউনিটির পক্ষ থেকে তাঁর হাতে একটি *Certificate of Appreciation* তুলে দেওয়া হয়। সম্মাননাপত্রে মানবসেবা, বিনয় এবং সব সম্প্রদায়ের কল্যাণে তাঁর অবদানের প্রশংসা করা হয়।

 

অনুষ্ঠান শেষে অতিথিদের জন্য পরিবেশন করা হয় ঘরে তৈরি বিভিন্ন ধরনের মিষ্টান্ন ও নাস্তা। পরে সৌহার্দ্যপূর্ণ আড্ডা, স্মৃতিচারণ এবং আলোকচিত্র ধারণের মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠানের সমাপ্তি ঘটে।

 

আয়োজকদের ভাষ্য, এই সংবর্ধনা শুধু সার্জেন্ট শাব্বির আলমের ব্যক্তিগত অর্জনের স্বীকৃতিই নয়; এটি বাংলাদেশি-অস্ট্রেলীয় কমিউনিটির সামাজিক দায়বদ্ধতা, স্বেচ্ছাসেবামূলক চর্চা এবং বৃহত্তর অস্ট্রেলীয় সমাজে তাদের ইতিবাচক অবদানেরও একটি প্রতীক।

 

*প্রতিবেদন: এম. রহমান, মেলবোর্ন, অস্ট্রেলিয়া*

অস্ট্রেলিয়ার সর্বোচ্চ বেসামরিক সম্মাননা পাওয়ায় বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত সার্জেন্ট মোহাম্মদ শাব্বির আলমকে সংবর্ধনা

নীলফামারীতে মাদক ও সামাজিক অপরাধ প্রতিরোধে সচেতনতামূলক মতবিনিময় সভা

 

স্টাফ রিপোর্টার

মাইদুল ইসলাম

নীলফামারীতে মাদক ও সামাজিক অপরাধ প্রতিরোধে জনসচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে মতবিনিময় সভা করেছেন র‍্যাব- ১৩, সিপিসি-২। বুধবার ষ

(২৯ জুলাই) সকালে জেলা শিল্পকলা একাডেমি অডিটোরিয়ামে এ সভার আয়োজন করা হয়।

র‍্যাব-১৩, সিপিসি-২ এর কোম্পানি কমান্ডার

স্কোয়াড্রোন লিডার আশরাফুল কবিরের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ নায়িরুজামান। বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার

(প্রশাসক ও অর্থ) মো. মহসীন। সভায় বক্তারা বলেন, মাদক সমাজের জন্য একটি ভয়াবহ ব্যাধি। এটি শুধু একজন ব্যক্তিকে নয়, একটি পরিবার ও সমাজকে ধ্বংসের দিকে ঠেলে দেয়। মাদক ও বিভিন্ন সামাজিক অপরাধ প্রতিরোধে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পাশাপাশি অভিভাবক, শিক্ষক, জনপ্রতিনিধি, ধর্মীয়

নেতাসহ সমাজের সব শ্রেণি-পেশার মানুষের সম্মিলিত উদ্যোগ প্রয়োজন। সভা শেষে শিক্ষার্থীদের মাঝে খেলার সামগ্রী বিতরণ করা হয়। এ সময় সরকারি বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তা, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের

শিক্ষক-শিক্ষার্থী, স্থানীয় গণমাধ্যম ব্যক্তি, সাংবাদিক ও সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।

নীলফামারীতে মাদক ও সামাজিক অপরাধ প্রতিরোধে সচেতনতামূলক মতবিনিময় সভা 

 

নওগাঁ জেনারেল হাসপাতালে চেরি গাছ উপহার: অনন্য নজির রাখলেন নওগাঁর ‘তাল বেলাল’

 

মোঃ সাইদুল ইসলাম হেলাল

বিশেষ প্রতিনিধিঃ

নওগাঁ ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট আধুনিক জেনারেল হাসপাতালের সৌন্দর্য ও পরিবেশের শোভা বৃদ্ধির লক্ষ্যে এক ব্যতিক্রমী উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। আজ বুধবার সকালে ‘নওগাঁ পরিবেশ উন্নয়ন সংস্থা’র উদ্যোগে হাসপাতাল প্রাঙ্গণে রোপণের জন্য শোভাবর্ধনকারী থাই চেরি ফুলের গাছ উপহার দেওয়া হয়। সংস্থার নির্বাহী পরিচালক ও দেশবরেণ্য বিশিষ্ট বৃক্ষপ্রেমী মাহমুদুন নবী বেলালের ব্যক্তিগত উদ্যোগে নওগাঁ ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার (আরএমও) ডা. আবু জার গাফফার-এর হাতে আনুষ্ঠানিক ভাবে এই চেরি ফুলের গাছ তুলে দেওয়া হয়। গাছ হস্তান্তরকালে অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন নওগাঁ পরিবেশ উন্নয়ন সংস্থার ভারপ্রাপ্ত সভাপতি আসাদুজ্জামান খান চৌধুরী, সদস্য আব্দুল কাইউম, সজিব হোসেন এবং হাসপাতালের কর্মকর্তা ও কর্মচারীবৃন্দ। গাছ হস্তান্তরকালে আরএমও ডা. আবু জার গাফফার বলেন, “হাসপাতালের মতো একটি জনাকীর্ণ ও সংবেদনশীল স্থানে এ ধরনের দৃষ্টিনন্দন ফুলের গাছ রোপণ রোগীদের মানসিক প্রশান্তি দেবে। পরিবেশ রক্ষায় ও হাসপাতালের সার্বিক পরিবেশ মনোরম করতে এই সবুজ উদ্যোগ সত্যি প্রশংসনীয়। “অনুষ্ঠানে বৃক্ষপ্রেমী মাহমুদুন নবী বেলাল বলেন, “পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা ও জলবায়ু পরিবর্তনের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় আমাদের সবাইকে নিজ নিজ অবস্থান থেকে এগিয়ে আসতে হবে। হাসপাতাল প্রাঙ্গণকে সুশোভিত করতে এবং এখানে আগত সেবাপ্রার্থীদের মনে কিছুটা স্বস্তি দিতেই আমাদের এই ক্ষুদ্র প্রয়াস। “উল্লেখ্য, বৃক্ষপ্রেমী মাহমুদুন নবী বেলাল পরিবেশ রক্ষায় একজন নিবেদিতপ্রাণ মানুষ। তিনি ইতিপূর্বে সম্পূর্ণ নিজস্ব উদ্যোগে নওগাঁ-রাজশাহী মহাসড়কের দু’পাশের প্রায় ৭৫ কিলোমিটার এলাকা জুড়ে বিপুল পরিমাণ তাল বীজ রোপণ করে দেশজুড়ে অনন্য নজির স্থাপন করেছেন। মহাসড়কের পাশে তাঁর রোপণ করা সেই তালগাছগুলো এখন দৃশ্যমান ও পরিবেশের শোভা বাড়াচ্ছে। এই অসাধারণ কীর্তির জন্য তিনি এলাকাবাসী ও পরিবেশবাদীদের কাছে ‘তাল বেলাল’ নামে বিশেষভাবে পরিচিতি লাভ করেছেন। এর পাশাপাশি জেলার বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠান ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে তিনি নিয়মিত ফলজ, বনজ ও ওষুধি গাছ রোপণ করে আসছেন।

 

মোঃ সাইদুল ইসলাম হেলাল

বিশেষ প্রতিনিধিঃ

মোবাইল নং- ০১৭২৪২৫৫৭০৬

তারিখঃ ২৯-৭-২০২৬

নওগাঁ জেনারেল হাসপাতালে চেরি গাছ উপহার: অনন্য নজির রাখলেন নওগাঁর ‘তাল বেলাল’

বিস্তারিত....

Top