Gono television | বাংলাদেশ সরকার অনুমোদিত বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেল। - Gono television is the Bangladesh Government Approved 24/7 News Based TV Channel and Most Reliable News Source and Leading 24/7 News Based TV Channel in Bangladesh, It also the Most Popular News Media for Bangaldesh and Bengali Audience worlwide since 2016.

সংবাদ শিরোনামঃ
বিশ্বের বৃহত্তম সামরিক সদর দপ্তর ‘অক্টাগন’ উদ্বোধন করল মিশর ভবিষ্যতে জিডিপিতে বিসিক খাতের অবদান ৬০ শতাংশে নিতে চায় সরকার: বাণিজ্যমন্ত্রী ঢাকা উত্তর ছাত্রদলের সভাপতি মোঃ তমিজ উদ্দিনকে উপদেষ্টা করে ঢাকা-১৯-আসনের জুলাই-আগস্ট উদযাপন উপদেষ্টা পরিষদ গঠন পিয়া-মারিয়া-তুষ্টিসহ ৬ জনের বিরুদ্ধে থানায় জিডি খুলনা শিপইয়ার্ড সড়ক প্রকল্প পরিদর্শনে মন্ত্রিপরিষদ সচিব সরকারি অনুষ্ঠানের ব্যানার-বিলবোর্ডে প্রধানমন্ত্রীর ছবি ব্যবহার নিষিদ্ধ ৯০ মিনিট খেলার জন্য ফিট নেইমার, আনচেলত্তি কতক্ষণ খেলাবেন? কৃষক লীগ নেতাকে আটকের পর অর্থের বিনিময়ে ছেড়ে দেওয়ার অভিযোগ এসআইয়ের বিরুদ্ধে অফিসের দিনে ৫-৬ ঘণ্টা পড়তেন, ছুটির দিনে পুষিয়ে নিতেন ১৫-১৬ ঘণ্টা পড়ে এমডির অণ্ডকোষ চেপে ধরে চেক-স্ট্যাম্পে স্বাক্ষর নিলেন স্বেচ্ছাসেবক দল নেতার ভাই

বিশ্বের বৃহত্তম সামরিক সদর দপ্তর ‘অক্টাগন’ উদ্বোধন করল মিশর

 

জাহেদুল ইসলাম আল রাইয়ান

 

আধুনিক সামরিক অবকাঠামো ও কৌশলগত সক্ষমতাকে নতুন উচ্চতায় নিয়ে যেতে বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ সামরিক কমান্ড কমপ্লেক্স ‘দ্য অক্টাগন’ (The Octagon) আনুষ্ঠানিকভাবে উদ্বোধন করেছে মিশর। শনিবার (৪ জুলাই) দেশটির নতুন প্রশাসনিক রাজধানীতে নির্মিত এ অত্যাধুনিক কমপ্লেক্স উদ্বোধন করেন মিশরের প্রেসিডেন্ট ও সশস্ত্র বাহিনীর সর্বাধিনায়ক আবদেল ফাত্তাহ আল-সিসি। মিশর সরকার একে বিশ্বের বৃহত্তম ও সর্বাধুনিক সামরিক কমান্ড এবং জাতীয় নিরাপত্তা সদর দপ্তর হিসেবে দাবি করছে।

 

মিশরীয় সরকারি সূত্র ও স্থানীয় গণমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, রাজধানী কায়রো থেকে প্রায় ৪৫ কিলোমিটার পূর্বে গড়ে ওঠা নতুন প্রশাসনিক রাজধানীতে নির্মিত এই কমপ্লেক্সটি ‘স্টেট স্ট্র্যাটেজিক কমান্ড সেন্টার’ প্রকল্পের কেন্দ্রবিন্দু। এর লক্ষ্য হলো সশস্ত্র বাহিনীর কমান্ড, নিয়ন্ত্রণ, সমন্বয় ও কৌশলগত সিদ্ধান্ত গ্রহণ ব্যবস্থাকে সর্বাধুনিক প্রযুক্তির মাধ্যমে আরও কার্যকর ও দ্রুততর করা।

 

প্রায় ৯২ বর্গকিলোমিটার এলাকাজুড়ে বিস্তৃত এই বিশাল স্থাপনাটি আয়তনের দিক থেকে বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ সামরিক অবকাঠামো। মিশরের দাবি অনুযায়ী, এটি যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা সদর দপ্তর পেন্টাগন-এর চেয়েও বড়।

 

‘অক্টাগন’ নামকরণের পেছনে রয়েছে এর ব্যতিক্রমী স্থাপত্যশৈলী। অষ্টভুজ আকৃতির একাধিক ভবনের সমন্বয়ে নির্মিত এই কমপ্লেক্সের নির্মাণকাজ শুরু হয় ২০১৬ সালে। এটি মিশরের দীর্ঘমেয়াদি সামরিক আধুনিকায়ন পরিকল্পনার অন্যতম প্রধান প্রকল্প হিসেবে বাস্তবায়িত হয়েছে।

 

নতুন এই সামরিক সদর দপ্তরে প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় ও সশস্ত্র বাহিনীর কেন্দ্রীয় কমান্ড ছাড়াও রয়েছে অত্যাধুনিক কমান্ড অ্যান্ড কন্ট্রোল সেন্টার, তথ্য বিশ্লেষণ ইউনিট, কৌশলগত যোগাযোগ ব্যবস্থা, সংকট ব্যবস্থাপনা কেন্দ্র, আবহাওয়া পর্যবেক্ষণ ব্যবস্থা এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও উন্নত প্রযুক্তিনির্ভর সামরিক পরিচালনা অবকাঠামো।

 

শুধু সামরিক কমান্ড নয়, এই বিশাল কমপ্লেক্সকে একটি পূর্ণাঙ্গ প্রশাসনিক নগরীর রূপও দেওয়া হয়েছে। কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের জন্য নির্মাণ করা হয়েছে আবাসিক এলাকা, হাসপাতাল, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, হোটেল, শপিং সেন্টার, বিনোদন ও বিভিন্ন সেবামূলক স্থাপনা। ফলে এটি একাধারে সামরিক, প্রশাসনিক ও লজিস্টিক ব্যবস্থাপনার সমন্বিত কেন্দ্র হিসেবে গড়ে উঠেছে।

 

মিশর সরকারের ভাষ্য অনুযায়ী, ‘অক্টাগন’ প্রকল্পের মাধ্যমে সশস্ত্র বাহিনীর কৌশলগত সক্ষমতা বৃদ্ধি, বিভিন্ন নিরাপত্তা সংস্থার মধ্যে সমন্বয় জোরদার এবং প্রযুক্তিনির্ভর কমান্ড ও নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠাই মূল উদ্দেশ্য। এর মাধ্যমে জাতীয় নিরাপত্তা ব্যবস্থাপনা আরও কার্যকর হবে এবং ভবিষ্যতের বহুমাত্রিক নিরাপত্তা চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় দেশটির সক্ষমতা উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পাবে।

 

ইতোমধ্যে নতুন প্রশাসনিক রাজধানীতে অধিকাংশ মন্ত্রণালয়ের কার্যক্রম স্থানান্তর সম্পন্ন করেছে মিশর। সেই ধারাবাহিকতায় ‘দ্য অক্টাগন’ এর উদ্বোধনকে কেবল একটি সামরিক স্থাপনার সূচনা নয়, বরং রাষ্ট্র পরিচালনা, প্রতিরক্ষা আধুনিকায়ন এবং আঞ্চলিক কৌশলগত প্রভাব বৃদ্ধির লক্ষ্যে মিশরের দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হিসেবে দেখা হচ্ছে। বিশ্লেষকদের মতে, মধ্যপ্রাচ্য ও উত্তর আফ্রিকার পরিবর্তিত নিরাপত্তা বাস্তবতায় এই প্রকল্প মিশরের সামরিক ও ভূরাজনৈতিক অবস্থানকে আরও শক্তিশালী করার প্রতীক হিসেবেও বিবেচিত হবে।

 

লেখক কলামিস্ট ও শিক্ষার্থী, আল-আজহার বিশ্ববিদ্যালয়,কায়রো,মিশর

বিশ্বের বৃহত্তম সামরিক সদর দপ্তর ‘অক্টাগন’ উদ্বোধন করল মিশর

বিশ্বের বৃহত্তম সামরিক সদর দপ্তর ‘অক্টাগন’ উদ্বোধন করল মিশর

 

জাহেদুল ইসলাম আল রাইয়ান

 

আধুনিক সামরিক অবকাঠামো ও কৌশলগত সক্ষমতাকে নতুন উচ্চতায় নিয়ে যেতে বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ সামরিক কমান্ড কমপ্লেক্স ‘দ্য অক্টাগন’ (The Octagon) আনুষ্ঠানিকভাবে উদ্বোধন করেছে মিশর। শনিবার (৪ জুলাই) দেশটির নতুন প্রশাসনিক রাজধানীতে নির্মিত এ অত্যাধুনিক কমপ্লেক্স উদ্বোধন করেন মিশরের প্রেসিডেন্ট ও সশস্ত্র বাহিনীর সর্বাধিনায়ক আবদেল ফাত্তাহ আল-সিসি। মিশর সরকার একে বিশ্বের বৃহত্তম ও সর্বাধুনিক সামরিক কমান্ড এবং জাতীয় নিরাপত্তা সদর দপ্তর হিসেবে দাবি করছে।

 

মিশরীয় সরকারি সূত্র ও স্থানীয় গণমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, রাজধানী কায়রো থেকে প্রায় ৪৫ কিলোমিটার পূর্বে গড়ে ওঠা নতুন প্রশাসনিক রাজধানীতে নির্মিত এই কমপ্লেক্সটি ‘স্টেট স্ট্র্যাটেজিক কমান্ড সেন্টার’ প্রকল্পের কেন্দ্রবিন্দু। এর লক্ষ্য হলো সশস্ত্র বাহিনীর কমান্ড, নিয়ন্ত্রণ, সমন্বয় ও কৌশলগত সিদ্ধান্ত গ্রহণ ব্যবস্থাকে সর্বাধুনিক প্রযুক্তির মাধ্যমে আরও কার্যকর ও দ্রুততর করা।

 

প্রায় ৯২ বর্গকিলোমিটার এলাকাজুড়ে বিস্তৃত এই বিশাল স্থাপনাটি আয়তনের দিক থেকে বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ সামরিক অবকাঠামো। মিশরের দাবি অনুযায়ী, এটি যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা সদর দপ্তর পেন্টাগন-এর চেয়েও বড়।

 

‘অক্টাগন’ নামকরণের পেছনে রয়েছে এর ব্যতিক্রমী স্থাপত্যশৈলী। অষ্টভুজ আকৃতির একাধিক ভবনের সমন্বয়ে নির্মিত এই কমপ্লেক্সের নির্মাণকাজ শুরু হয় ২০১৬ সালে। এটি মিশরের দীর্ঘমেয়াদি সামরিক আধুনিকায়ন পরিকল্পনার অন্যতম প্রধান প্রকল্প হিসেবে বাস্তবায়িত হয়েছে।

 

নতুন এই সামরিক সদর দপ্তরে প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় ও সশস্ত্র বাহিনীর কেন্দ্রীয় কমান্ড ছাড়াও রয়েছে অত্যাধুনিক কমান্ড অ্যান্ড কন্ট্রোল সেন্টার, তথ্য বিশ্লেষণ ইউনিট, কৌশলগত যোগাযোগ ব্যবস্থা, সংকট ব্যবস্থাপনা কেন্দ্র, আবহাওয়া পর্যবেক্ষণ ব্যবস্থা এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও উন্নত প্রযুক্তিনির্ভর সামরিক পরিচালনা অবকাঠামো।

 

শুধু সামরিক কমান্ড নয়, এই বিশাল কমপ্লেক্সকে একটি পূর্ণাঙ্গ প্রশাসনিক নগরীর রূপও দেওয়া হয়েছে। কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের জন্য নির্মাণ করা হয়েছে আবাসিক এলাকা, হাসপাতাল, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, হোটেল, শপিং সেন্টার, বিনোদন ও বিভিন্ন সেবামূলক স্থাপনা। ফলে এটি একাধারে সামরিক, প্রশাসনিক ও লজিস্টিক ব্যবস্থাপনার সমন্বিত কেন্দ্র হিসেবে গড়ে উঠেছে।

 

মিশর সরকারের ভাষ্য অনুযায়ী, ‘অক্টাগন’ প্রকল্পের মাধ্যমে সশস্ত্র বাহিনীর কৌশলগত সক্ষমতা বৃদ্ধি, বিভিন্ন নিরাপত্তা সংস্থার মধ্যে সমন্বয় জোরদার এবং প্রযুক্তিনির্ভর কমান্ড ও নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠাই মূল উদ্দেশ্য। এর মাধ্যমে জাতীয় নিরাপত্তা ব্যবস্থাপনা আরও কার্যকর হবে এবং ভবিষ্যতের বহুমাত্রিক নিরাপত্তা চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় দেশটির সক্ষমতা উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পাবে।

 

ইতোমধ্যে নতুন প্রশাসনিক রাজধানীতে অধিকাংশ মন্ত্রণালয়ের কার্যক্রম স্থানান্তর সম্পন্ন করেছে মিশর। সেই ধারাবাহিকতায় ‘দ্য অক্টাগন’ এর উদ্বোধনকে কেবল একটি সামরিক স্থাপনার সূচনা নয়, বরং রাষ্ট্র পরিচালনা, প্রতিরক্ষা আধুনিকায়ন এবং আঞ্চলিক কৌশলগত প্রভাব বৃদ্ধির লক্ষ্যে মিশরের দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হিসেবে দেখা হচ্ছে। বিশ্লেষকদের মতে, মধ্যপ্রাচ্য ও উত্তর আফ্রিকার পরিবর্তিত নিরাপত্তা বাস্তবতায় এই প্রকল্প মিশরের সামরিক ও ভূরাজনৈতিক অবস্থানকে আরও শক্তিশালী করার প্রতীক হিসেবেও বিবেচিত হবে।

 

লেখক কলামিস্ট ও শিক্ষার্থী, আল-আজহার বিশ্ববিদ্যালয়,কায়রো,মিশর

বিশ্বের বৃহত্তম সামরিক সদর দপ্তর ‘অক্টাগন’ উদ্বোধন করল মিশর

দেশের মোট দেশজ উৎপাদনে (জিডিপি) সামগ্রিক ক্ষুদ্র, মাঝারি ও কুটির শিল্প খাতের (বিসিক) অবদান ভবিষ্যতে অন্তত ৬০ শতাংশে নিতে চায় সরকার বলে জানিয়েছেন বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির। রোববার (৫ জুলাই) বিকেলে পাঁচ দিনব্যাপী বিসিক বর্ষা মেলার উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।

 

বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, দেশের জিডিপিতে সামগ্রিক ক্ষুদ্র, মাঝারি ও কুটির শিল্পের অবদান ৩৪ শতাংশ। তবে, ভিয়েতনাম ও কম্বোডিয়ার সাথে তুলনায় এই সংখ্যা মোটেও সন্তোষজনক নয়। তিনি জানান, ভবিষ্যতে জিডিপিতে বিসিক খাতের অবদান অন্তত ৬০ শতাংশে নিতে চায় সরকার।

 

তিনি আরও বলেন, দেশে বিসিকের ৮৪টি শিল্পপার্কের রফতানি আয় ৩০ হাজার কোটি টাকার মতো। তবে, অনেক শিল্পপার্ক তার পূর্ণ সক্ষমতায় কাজ করতে পারছে না। এছাড়া বেশ কিছু শিল্পপার্ক নির্মাণে দীর্ঘসূত্রিতাও দেখা গেছে।

 

তিনি জানান, সরকার এ বিষয় নিয়ে জরিপ করছে। দ্রুতই কিভাবে এসব শিল্পপার্কের সক্ষমতা বাড়ানো যায় তা নিয়ে পরিকল্পনা করা হচ্ছে।

 

এসময় বাণিজ্যমন্ত্রী আরও বলেন, ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্পের উন্নয়ন মানে দেশের বৃহত্তর জনগোষ্ঠীর অর্থনীতিতে সংযোগ থাকা, নতুন উদ্যোক্তা তৈরি হওয়া।

ভবিষ্যতে জিডিপিতে বিসিক খাতের অবদান ৬০ শতাংশে নিতে চায় সরকার: বাণিজ্যমন্ত্রী

ঢাকা উত্তর ছাত্রদলের সভাপতি মোঃ তমিজ উদ্দিনকে উপদেষ্টা করে ঢাকা-১৯-আসনের জুলাই-আগস্ট উদযাপন উপদেষ্টা পরিষদ গঠন

 

 

রাকিবুল ইসলাম রঞ্জু:

ঐতিহাসিক জুলাই-আগস্ট গণঅভ্যুত্থানের চেতনা সংরক্ষণ, গণতন্ত্রের মূল্যবোধকে সমুন্নত রাখা এবং উদযাপনমূলক কর্মসূচি সফলভাবে বাস্তবায়নের লক্ষ্যে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপির) নির্বাচনী এলাকা-১৯২, ঢাকা-১৯ (সাভার-আশুলিয়া)-এ ঐতিহাসিক জুলাই-আগস্ট গণঅভ্যুত্থান উদযাপন উপদেষ্টা পরিষদ-২০২৬ গঠন করা হয়েছে।

 

 

নবগঠিত পরিষদে ঢাকা জেলা উত্তর ছাত্রদলের সভাপতি মোঃ তমিজ উদ্দিন তানভির-কে উপদেষ্টা করে ৫১ সদস্য বিশিষ্ট উপদেষ্টা পরিষদ ঘোষণা করা হয়েছে। উপদেষ্টা পরিষদে আরও রয়েছেন জহির মোহাম্মদ বাবর, ওয়াসিম আহমেদ অনিক, মাহফুজ ইকবাল, নবীনুল ইসলাম নবীন, সেলিম রেজা, জনি দেওয়ান, রাকিব খন্দকার, মঞ্জুরুল হক সৌরভ, সুজন সিকদার, এহসানুল হক ফেরদৌস, ইয়ালিদ নাঈম, লিংকন মিয়া, মোঃ নির্জন এবং তোফায়েল হোসেন।

 

এছাড়া সম্মানিত সদস্য হিসেবে রয়েছেন রকিব দেওয়ান রকি, মোঃ শহিদুল ইসলাম, মোঃ সুরুজ্জামান ,

 

সদস্য হিসেবে অন্তর্ভুক্ত হয়েছেন আরমান হোসেন বাবু, ইমু ইমরান, মোঃ সানোয়ার হোসাইন, আহমেদ ফয়সাল, মোশারফ হিমেল খান, মোঃ ইসমাইল হাবিব, কমল চন্দ্র, রহিচ আহমেদ রাফি, রায়হান মাহাবুব, আলহাজ্ব মাদবর, রাসেল তালুকদার স্বাধীন, তাজ খান নাঈম, মোঃ জাহিদুল ইসলাম শাওন, রয়মান মোস্তফা, রফিকুল ইসলাম নোমান, মাহমুদুল হাসান শোভন, শাফি ইমাম সহ আরো অনেকেই।

 

সংশ্লিষ্ট নেতৃবৃন্দ জানান, জুলাই-আগস্ট গণঅভ্যুত্থানের ইতিহাস, গণতান্ত্রিক চেতনা এবং শহীদদের আত্মত্যাগ নতুন প্রজন্মের কাছে তুলে ধরতে পরিষদটি বিভিন্ন কর্মসূচি গ্রহণ করবে। পাশাপাশি সাভার-আশুলিয়ায় ব্যাপক জনসম্পৃক্ততার মাধ্যমে উদযাপন কার্যক্রম সফল করার লক্ষ্যে সবাই ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করবেন।

ঢাকা উত্তর ছাত্রদলের সভাপতি মোঃ তমিজ উদ্দিনকে উপদেষ্টা করে ঢাকা-১৯-আসনের জুলাই-আগস্ট উদযাপন উপদেষ্টা পরিষদ গঠন

জুলাই আন্দোলনকে অবমাননা ও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে অপপ্রচারের অভিযোগ তুলে শোবিজ দুনিয়ার তিন মডেল-আইনজীবী জান্নাতুল ফেরদৌস পিয়া, মডেল মারিয়া কিসপট্টা এবং অভিনেত্রী শামীমা তুষ্টির বিরুদ্ধে থানায় অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে

শনিবার (৪ জুলাই) শোবিজ জগতের এ তিন নারীর বিরুদ্ধে শাহবাগ থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) দায়ের করা হয়। ‘রাষ্ট্র সংলাপ ফোরাম’ সংগঠনের সদস্য মিল্লাত হোসেন এ অভিযোগ দায়ের করেন।

 

 

শাহবাগ থানার ডিউটি অফিসার এসআই মাজিবুল আলম বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, অভিযোগটি জিডি হিসেবে গ্রহণ করার পর তা তদন্তের জন্য এসআই আশরাফ আলীর কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।

 

তিনি আরও জানান, মডেল ও আইনজীবী জান্নাতুল ফেরদৌস পিয়া, মডেল মারিয়া কিসপট্টা এবং অভিনেত্রী শামীমা তুষ্টি ছাড়া আরও তিনজন রয়েছেন। তারা হলেন সাংবাদিক আনিস আলমগীর, উপস্থাপিকা সোমা ইসলাম এবং সাবেক ছাত্রলীগ নেতা ও কলামিস্ট মোমিন মেহেদী।

 

অভিযোগ প্রসঙ্গে শাহবাগ থানার ডিউটি অফিসার এসআই মাজিবুল আলম জানান, বিষয়টি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ও সাইবার সংশ্লিষ্ট। তাই তদন্তকারী কর্মকর্তা বিষয়টি পর্যালোচনা করছেন। প্রয়োজনে এটি সাইবার ইউনিটেও পাঠানো হতে পারে। তদন্তে অপরাধের প্রমাণ পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে পরবর্তী আইনি পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।

 

এর আগে শুক্রবার (৩ জুলাই) সকালে জুলাই আন্দোলনকে অবমাননা ও অপপ্রচারের অভিযোগে অভিনেত্রী মেহের আফরোজ শাওন, চিত্রনায়িকা মাহিয়া মাহি এবং শান্তা ফারজানা নামে এক নারীর বিরুদ্ধে সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করা হয়। থানায় অভিযোগ দায়ের করেন ‘রাষ্ট্র সংলাপ ফোরাম’ সংগঠনের প্রতিনিধি কেন্দ্রীয় সদস্য সচিব আনম আয়াস, তুহিন ফরাজী এবং কেন্দ্রীয় মুখ্য সংগঠক মুহাম্মদ শাহ্ আলম বাদশা।

অভিযোগপত্রে উল্লেখ করা হয়, বাংলাদেশের ইতিহাসের একটি অবিচ্ছেদ্য অংশ জুলাই আন্দোলনকে নিয়ে অভিযুক্তরা বিভ্রান্তিকর ও অবমাননাকর অপপ্রচার চালিয়েছেন যা জনমনে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি করেছে। তাই আইন অনুযায়ী অভিযুক্তদের শাস্তি চান তারা।

প্রসঙ্গত, ২০২৪ সালে কোটা সংস্কারের দাবিতে শুরু হওয়া শিক্ষার্থীদের স্বতঃস্ফূর্ত প্রতিবাদ দিয়ে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের শুরু। এই আন্দোলনে পরে ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানে পরিণত হলে ৫ আগস্ট শেখ হাসিনা সরকারের পতন ঘটে।

পিয়া-মারিয়া-তুষ্টিসহ ৬ জনের বিরুদ্ধে থানায় জিডি

খুলনা শিপইয়ার্ড সড়ক প্রশস্তকরণ ও উন্নয়ন প্রকল্প সরেজমিনে পরিদর্শন করেছেন মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গনি।

শনিবার (৪ জুলাই) তিনি প্রকল্প এলাকার বিভিন্ন অংশ ঘুরে দেখে বাস্তবায়ন অগ্রগতি সম্পর্কে খোঁজখবর নেন এবং স্থানীয়দের সঙ্গে মতবিনিময় করেন।

 

 

পরিদর্শনকালে তিনি প্রকল্পের প্রধান সড়ক, চারটি সুইচগেট, প্রকল্প এলাকার ম্যাপ এবং রূপসা সেতুর প্রবেশমুখে নির্মাণাধীন ব্রিজ পর্যবেক্ষণ করেন। এ সময় প্রকল্প এলাকার সাধারণ মানুষের সঙ্গে কথা বলে তাদের মতামতও শোনেন।

পরে খুলনা সার্কিট হাউজে অনুষ্ঠিত ‘শিপইয়ার্ড সড়ক প্রশস্তকরণ ও উন্নয়ন (তৃতীয় সংশোধিত)’ প্রকল্পের বাস্তবায়ন সভায় যোগ দেন মন্ত্রিপরিষদ সচিব। সভার আগে তিনি সার্কিট হাউজ প্রাঙ্গণে একটি গাছের চারা রোপণ করেন।

 

সভায় গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. নজরুল ইসলাম, বাস্তবায়ন পরিবীক্ষণ ও মূল্যায়ন বিভাগের (আইএমইডি) সচিব সিরাজুন নূর চৌধুরী, খুলনা বিভাগীয় কমিশনার মো. আবদুল্লাহ হারুন, জেলা প্রশাসক হুরে জান্নাত, খুলনা সিটি করপোরেশনের প্রশাসক নজরুল ইসলাম মঞ্জু, কেডিএ চেয়ারম্যান এস এম শফিকুল ইসলাম, প্রকল্প পরিচালক মো. আরমান হোসেনসহ বিভাগীয়, জেলা প্রশাসন ও কেডিএর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

 

খুলনা শিপইয়ার্ড সড়ক প্রকল্প পরিদর্শনে মন্ত্রিপরিষদ সচিব

সরকারি কোনো অনুষ্ঠান উপলক্ষে প্রস্তুতকৃত ব্যানার, ফেস্টুন ও বিলবোর্ডে প্রধানমন্ত্রীর ছবি ব্যবহার সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করা হয়েছে। ছবি তা ত্রিমাত্রিক কিংবা অন্য যে কোনো আঙ্গিকেরই হোক-না কেন, তা আর ব্যবহার করা যাবে না।

রোববার (৫ জুলাই) মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের সাধারণ অধিশাখা থেকে জারি করা এক পরিপত্রে এই নির্দেশনার কথা জানানো হয়েছে। পরিপত্রে বিষয়টি ‘অতীব গুরুত্বপূর্ণ’ উল্লেখ করে এটি অবিলম্বে কার্যকর করার নির্দেশ দেয়া হয়েছে।

মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের উপসচিব তানিয়া আফরোজের সই করা পরিপত্রে বলা হয়, সরকারি অনুষ্ঠানের ব্যানার, ফেস্টুন ও বিলবোর্ড প্রস্তুতের ক্ষেত্রে অনুষ্ঠানের বিষয়বস্তুকে প্রাধান্য দিয়ে প্রয়োজনীয় ও সামঞ্জস্যপূর্ণ তথ্য উপস্থাপন করতে হবে। একই সঙ্গে ব্যানার, ফেস্টুন ও বিলবোর্ডের নকশা এমনভাবে তৈরি করতে হবে, যাতে অনুষ্ঠানের উদ্দেশ্য, বার্তা ও বিষয়বস্তু সুস্পষ্টভাবে প্রতিফলিত হয়।

 

পরিপত্রটি এরইমধ্যে প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব, সব মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব ও সচিব, প্রধান তথ্য কর্মকর্তা, সব বিভাগের বিভাগীয় কমিশনার, জেলা প্রশাসক (ডিসি) এবং উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাদের (ইউএনও) কাছে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা ও কার্যার্থে পাঠানো হয়েছে।

সরকারি অনুষ্ঠানের ব্যানার-বিলবোর্ডে প্রধানমন্ত্রীর ছবি ব্যবহার নিষিদ্ধ

নরওয়ের বিপক্ষে শেষ ১৬–এর লড়াইয়ে ব্রাজিল পাচ্ছে না মিডফিল্ডার লুকাস পাকেতাকে। জাপানের বিপক্ষে ঊরুর চোটে পাকেতার ছিটকে পড়ার আগে গ্রুপ পর্বে হাইতির বিপক্ষে চোট পেয়ে ছিটকে যাওয়া রাফিনিয়াও এখনও পুরোপুরি ফিট নন। ফলে নরওয়ের বিপক্ষে নকআউট ম্যাচের আগে কোচ কার্লো আনচেলত্তির কপালে চিন্তার ভাঁজ পড়া স্বাভাবিক। এমন শ্বাসরুদ্ধকর মুহূর্তে ব্রাজিলের ড্রেসিং রুমে খোলা হাওয়া হয়ে বইতে পারবেন কি নেইমার, নাকি আজও বেঞ্চেই ঠিকানা হবে ৩৪ বছর বয়সী সুপারস্টারের?

 

রোববার (৫ জুলাই) নিউজার্সি স্টেডিয়ামে কোয়ার্টার ফাইনাল নিশ্চিতের লড়াইয়ে নরওয়ের মুখোমুখি হবে ব্রাজিল। এর আগে গতকাল (৪ জুলাই) ম্যাচ পূর্ব সংবাদ সম্মেলনে ব্রাজিলের কোচ কার্লো আনচেলত্তি দিয়েছেন সুখবর। ৯০ মিনিটের ম্যাচ খেলার জন্য পুরোপুরি ফিট হয়েছেন নেইমার। তবে একই সঙ্গে এই কোচ স্বীকার করেছেন, বিশ্বের অন্যতম সেরা এই ফুটবলার বর্তমানে বদলি খেলোয়াড়ের ভূমিকায় থাকার কারণে গভীরভাবে অসন্তুষ্ট।

 

 

চোটের কারণে দীর্ঘ সময় বাইরে থাকার পর অবশেষে নেইমার পুরোপুরি সেরে উঠেছেন এবং বিশ্বকাপে ব্রাজিলের জন্য বড় ভূমিকা রাখতে প্রস্তুত। ৩৪ বছর বয়সী এই ফরোয়ার্ড এখন পর্যন্ত টুর্নামেন্টে মাত্র একটি ম্যাচে ১৪ মিনিট বদলি হিসেবে খেলেছেন। তবে তার ম্যাচ ফিটনেস নিয়ে যে সব উদ্বেগ ছিল, কোচ আনচেলত্তি তা পুরোপুরি উড়িয়ে দিয়েছেন। ফলে নরওয়ের বিপক্ষে গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচের আগে ব্রাজিল শিবিরে কিছুটা হলেও শক্তি বেড়েছে।

 

ফোলিয়া দে সাও পাওলোকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে আনচেলত্তি বেঞ্চে থাকা নেইমারের পরিস্থিতি নিয়ে বিস্তারিত কথা বলেন।

 

তবে পূর্ণ ফিট হয়ে উঠলেও নেইমারকে শুরুর একাদশে রাখবেন কি–না সে সম্পর্কে নিশ্চিত করে কিছু বলেননি আনচেলত্তি। যখন তাকে জিজ্ঞেস করা হয়েছিল, অতিরিক্ত সময়ের জন্য কি তিনি আবারও নেইমারকে বদলি হিসেবে রাখা হবে? এমন প্রশ্নের জবাবে অভিজ্ঞ ইতালিয়ান কোচ বলেন নেইমারের অভিজ্ঞতার ওপর তার পূর্ণ আস্থা আছে।

 

তিনি বলেন, ‘গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো সে খেলার জন্য উপলব্ধ আছে। কতক্ষণ খেলবে, সেটা কেউ জানে না। ম্যাচের গতি এবং সময় নিয়ন্ত্রণ করার অভিজ্ঞতা তার আছে। যখন আমি মনে করব দল তার প্রয়োজন, তখনই তাকে নামাব।’

 

এরপর সরাসরি প্রশ্ন ছিল, নেইমার কি পুরো ৯০ মিনিট খেলতে পারবে? আনচেলত্তির জবাব ছিল পরিষ্কার, ‘হ্যাঁ, সে ৯০ মিনিট খেলতে পারে।’

 

বেঞ্চে বসে থাকা একজন বিশ্বমানের খেলোয়াড়ের মানসিক অবস্থা নিয়ে কথা বলতে গিয়ে কোচ তাকে প্রশংসাও করেন। তিনি বলেন, ‘সে খুশি নয়, তবে খুব ভালো আচরণ করছে।’

 

তিনি আরও বলেন, ‘সে খুব ভালোভাবে ট্রেনিং করছে। নেইমার অত্যন্ত সম্মানিত, বন্ধুবৎসল এবং সতীর্থদের কাছে প্রিয়। দলের মধ্যে তার বড় গুরুত্ব আছে কারণ তার অসাধারণ দক্ষতা আছে এবং সে খুবই বিনয়ী একজন মানুষ। আমি তার সঙ্গে খুব সন্তুষ্ট। আর অবশ্যই, সে খেলতে চায়, যেমনটা সবসময়ই চেয়েছে।’

 

যখন তাকে জিজ্ঞেস করা হয়েছিল নেইমার কি সরাসরি শুরুর একাদশে থাকার দাবি করেছেন, কোচ পরিস্থিতি পরিষ্কার করেন, ‘সে সরাসরি বলে না ‘আমি খেলতে চাই’, কিন্তু সেই ইচ্ছাটা স্পষ্ট। এটা ভালো জিনিস। একজন খেলোয়াড় বেঞ্চে বসে খুশি থাকতে পারে না।’

 

নরওয়ের বিপক্ষে শেষ ষোলোর ম্যাচে ব্রাজিলকে কঠিন পরীক্ষার মুখে পড়তে হবে, যেখানে প্রতিপক্ষের আক্রমণের নেতৃত্বে থাকবেন আর্লিং হালান্ড। সাত ম্যাচের অপরাজিত ধারা নিয়ে ব্রাজিল মাঠে নামবে এবং মূল ভরসা ভিনিসিউস জুনিয়র। নরওয়ের শক্তিশালী শারীরিক ও এরিয়েল আক্রমণ ঠেকানোর পাশাপাশি নেইমারের সৃজনশীলতা সঠিকভাবে ব্যবহার করাই আনচেলত্তির দলের জন্য বড় চাবিকাঠি হবে কোয়ার্টার ফাইনালে ওঠার জন্য।

৯০ মিনিট খেলার জন্য ফিট নেইমার, আনচেলত্তি কতক্ষণ খেলাবেন?

গাজীপুর মহানগরীর কোনাবাড়ী থানাধীন প্রতাবপুর এলাকায় কৃষক লীগের এক নেতাকে আটক করার পর অর্থের বিনিময়ে ছেড়ে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে পুলিশের এক উপপরিদর্শকের (এসআই) বিরুদ্ধে। একই সঙ্গে ওই নেতাকে আটকের ঘটনায় পুলিশকে সহযোগিতা করার অভিযোগ তুলে এক স্থানীয় মুদি ব্যবসায়ীকে প্রাণনাশের হুমকি দেওয়ার অভিযোগও উঠেছে।

 

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত ২২ জুন রাত সাড়ে ১১টার দিকে এসআই কামরুল হাসানের নেতৃত্বে একদল পুলিশ প্রতাবপুর এলাকায় অভিযান চালায়। এ সময় ১১ নম্বর ওয়ার্ড কৃষক লীগের সভাপতি মতিন মিয়াকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করা হয়। অভিযোগ রয়েছে, পরে তার পরিবারের সদস্যদের কাছ থেকে দুই লাখ টাকা নিয়ে তাকে ছেড়ে দেওয়া হয়। ঘটনার পরদিন ২৩ জুন থেকে মতিন মিয়া আত্মগোপনে রয়েছেন বলে এলাকাবাসীর দাবি।

 

এদিকে মতিন মিয়াকে আটকের ঘটনায় পুলিশের কাছে তার বাড়ির অবস্থান দেখিয়ে দেওয়ার অভিযোগ তুলে স্থানীয় মুদি ব্যবসায়ী নূর মোহাম্মদকে বিভিন্নভাবে ভয়ভীতি ও প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় তিনি কোনাবাড়ী থানায় একটি লিখিত অভিযোগ করেছেন।

 

অভিযোগে নূর মোহাম্মদ উল্লেখ করেন, ঘটনার রাতে পুলিশ তার দোকানে এসে মতিন মিয়ার বাড়ির অবস্থান জানতে চাইলে তিনি তা দেখিয়ে দেন। এরপর পুলিশ মতিন মিয়াকে আটক করে নিয়ে যায়। পরদিন মতিন মিয়ার ভাই আলম তার দোকানে এসে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করেন এবং পুলিশকে সহযোগিতা করার অভিযোগ তুলে তাকে হত্যার হুমকি দেন।

 

নূর মোহাম্মদ বলেন, ‘আমি একজন সাধারণ দোকানি। পুলিশ আমার কাছে রাস্তা জানতে চাইলে আমি শুধু বাড়ির অবস্থান দেখিয়ে দিয়েছি। পরে শুনেছি, রাতেই টাকার বিনিময়ে তাকে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। এখন উল্টো আমাকে ও আমার পরিবারকে হুমকি দেওয়া হচ্ছে। আমি নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছি।’

 

অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে এসআই কামরুল হাসান অর্থ লেনদেনের অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, ‘আমি কোনো টাকা নিইনি।’ এরপর বিষয়টি নিয়ে আবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি আর ফোন রিসিভ করেননি।

 

এ বিষয়ে কোনাবাড়ী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. ইফতেখার আহমেদ বলেন, ‘বিষয়টি সম্পর্কে আমি অবগত আছি। তবে আমার কাছে এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো অভিযোগ আসেনি। অভিযোগ পেলে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

কৃষক লীগ নেতাকে আটকের পর অর্থের বিনিময়ে ছেড়ে দেওয়ার অভিযোগ এসআইয়ের বিরুদ্ধে

শুরুতে বিসিএসের প্রিলিমিনারি পরীক্ষায় ব্যর্থ হয়েছিলেন। করোনা মহামারির কারণে থমকে গিয়েছিল স্বপ্নের পথচলা। সরকারি চাকরি করতে করতেই দিনের পর দিন সীমিত সময় নিয়ে চালিয়ে গেছেন প্রস্তুতি। শেষ পর্যন্ত ৪৭তম বিসিএসে সাধারণ শিক্ষা ক্যাডারে সমাজবিজ্ঞান বিষয়ে প্রথম স্থান অর্জন। এটি একজন চাকরিপ্রার্থীর ধৈর্য, আত্মবিশ্বাস ও সঠিক পরিকল্পনার ফল।

 

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের (চবি) সমাজতত্ত্ব বিভাগ থেকে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর সম্পন্ন করা গোলাম কিবরিয়ার জন্ম ও বেড়ে ওঠা চট্টগ্রাম শহরে। বাবা পুলিশ কর্মকর্তা হওয়ায় ছোটবেলা থেকেই কঠোর শৃঙ্খলার মধ্যে বড় হয়েছেন। অযথা আড্ডা কিংবা সময় নষ্ট করার অভ্যাস কখনোই ছিল না।

 

চিটাগাং পুলিশ ইনস্টিটিউশন (বর্তমান সিএমপি স্কুল অ্যান্ড কলেজ) থেকে এসএসসি এবং চট্টগ্রাম কলেজিয়েট স্কুল অ্যান্ড কলেজ থেকে এইচএসসি পাস করার পর ২০১১-১২ শিক্ষাবর্ষে ভর্তি হন চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে। বিশ্ববিদ্যালয় জীবনের কথা বলতে গিয়ে তিনি বলেন, ‘আমার অনেক বন্ধু অনার্সে পড়ার সময় থেকেই ব্যাংকসহ বিভিন্ন চাকরির পরীক্ষার প্রস্তুতি নিত। কিন্তু আমি একাডেমিক বিষয়টা ভালোভাবে শেখার দিকেই বেশি মনোযোগ দিয়েছি। অনেকদিন এমন হয়েছে, বিশ্ববিদ্যালয়ের লাইব্রেরিতে ঘণ্টার পর ঘণ্টা বসে বই পড়েছি, নোট করেছি। তখন হয়তো বুঝিনি, কিন্তু আজ মনে হয় সেই সময়গুলোই আমার সবচেয়ে বড় বিনিয়োগ ছিল।’

 

মাস্টার্স শেষ করার পর ৪১তম বিসিএসে অংশ নেন কিবরিয়া। কিন্তু পর্যাপ্ত প্রস্তুতি না থাকায় প্রিলিমিনারিতেই বাদ পড়েন। এরপরই শুরু হয় করোনা মহামারি। দীর্ঘ সময়ের অনিশ্চয়তা যেন স্বপ্নের পথকে আরও কঠিন করে তোলে। তিনি বলেন, ‘প্রিলিমিনারিতে ব্যর্থ হওয়ার পর বুঝেছিলাম, শুধু স্বপ্ন দেখলেই হবে না; প্রস্তুতিটাও হতে হবে পরিকল্পিত। তাই নতুন করে নিজের দুর্বল জায়গাগুলো খুঁজতে শুরু করি।’

 

গোলাম কিবরিয়া বলেন, ‘৪৪তম বিসিএস থেকেই শুরু হয় প্রকৃত প্রস্তুতি। সিলেবাস বিশ্লেষণ করে প্রথমেই বুঝতে পারি, গণিতই আমার সবচেয়ে দুর্বল বিষয়। আমি সিদ্ধান্ত নিই, যে বিষয়টিকে সবচেয়ে বেশি ভয় পাই, সেটিকেই সবচেয়ে বেশি সময় দেব। তাই প্রতিদিনের রুটিনে গণিতকে প্রথমেই রাখতাম। এভাবেই প্রস্তুতি নিয়েছি।’

এর মধ্যে সরকারি একটি বিদ্যালয়ে শিক্ষকতা শুরু করেন তিনি। ফলে দিনের বেশিরভাগ সময় অফিসে কাটলেও সন্ধ্যার পর নিয়মিত পাঁচ থেকে ছয় ঘণ্টা পড়াশোনা করতেন। আর ছুটির দিনগুলোতে ১৫ থেকে ১৬ ঘণ্টা পর্যন্ত পড়ে আগের ঘাটতি পূরণের চেষ্টা করতেন। বিশ্ববিদ্যালয় জীবন থেকেই ইংরেজিতে পরীক্ষা দেওয়ার অভ্যাস গড়ে তুলেছিলেন। সেই ধারাবাহিকতায় ৪৪তম ও ৪৭তম বিসিএসের লিখিত পরীক্ষাও ইংরেজিতে দিয়েছেন। তিনি মনে করেন, এটি তাকে অন্যদের তুলনায় কিছুটা এগিয়ে রেখেছে।

 

৪৪তম বিসিএসে নন-ক্যাডার হিসেবে সুপারিশ পান কিবরিয়া। কিন্তু সেখানেই থেমে যাননি। লক্ষ্য ছিল শিক্ষা ক্যাডার। সেই স্বপ্নই পূরণ হয় ৪৭তম বিসিএসে। শুধু শিক্ষা ক্যাডারে সুপারিশই নয়, সমাজবিজ্ঞান বিষয়েও প্রথম স্থান অর্জন করেন তিনি।

 

গোলাম কিবরিয়া জানান, তার ভাইভা হয়েছিল ১০ জুন ২০২৫, উভয় ক্যাডারের ভাইভার প্রথম দিন। লিখিত ও মৌখিক পরীক্ষা ভালো হওয়ায় তিনি আশাবাদী ছিলেন। ফল প্রকাশের দিন অফিস শেষে বাসায় ফিরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে জানতে পারেন ফল প্রকাশ হয়েছে। নিজের নামের পাশে শিক্ষা ক্যাডারে প্রথম হওয়ার খবর দেখে যে অনুভূতি হয়েছিল, তা ভাষায় প্রকাশ করার মতো নয় বলেই জানান তিনি।

 

শিক্ষা ক্যাডারে আসার বিষয়ে তিনি বলেন, ‘আমি শিক্ষা ক্যাডারে এসেছি শুধু চাকরি করার জন্য নয়। আমি চাই গবেষণার মাধ্যমে দেশের শিক্ষা ব্যবস্থার সমস্যাগুলো চিহ্নিত করতে এবং সেগুলোর কার্যকর সমাধানে কাজ করতে। শিক্ষা ব্যবস্থায় গুণগত পরিবর্তন আনার মধ্য দিয়েই দেশের উন্নয়ন সম্ভব বলে আমি বিশ্বাস করি।’

অফিসের দিনে ৫-৬ ঘণ্টা পড়তেন, ছুটির দিনে পুষিয়ে নিতেন ১৫-১৬ ঘণ্টা পড়ে

বরিশাল নগরীর সদর রোডে অবস্থিত অগ্রণী (আবাসন) হাউজিং লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) আব্দুল আজিজ হাওলাদারকে শারীরিকভাবে নির্যাতন করে অণ্ডকোষ চেপে ধরে দুটি চেক ও স্ট্যাম্পে জোরপূর্বক স্বাক্ষর নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনার একটি সিসিটিভি ফুটেজ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে।

 

ভুক্তভোগীর অভিযোগ, গত ২৭ জুন সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে নগরীর সদর রোডে অবস্থিত অগ্রণী হাউজিংয়ের কার্যালয়ে এ ঘটনা ঘটে। তবে সিসিটিভি ফুটেজটি শনিবার (৪ জুলাই) রাতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশ করা হলে তা দ্রুত ভাইরাল হয়। এর আগে গত বৃহস্পতিবার তিনি আদালতে একটি নালিশি মামলা দায়ের করেন। আদালত মামলাটি এফআইআর হিসেবে গ্রহণের নির্দেশ দিয়েছেন বলে জানিয়েছেন তিনি।

 

ভাইরাল হওয়া সিসিটিভি ফুটেজে দেখা যায়, আব্দুল আজিজ হাওলাদারের কক্ষে চারজন যুবক প্রবেশ করেন। তাদের মধ্যে মোস্তাফিজুর রহমান লিটু নামে এক ব্যক্তি তাকে মারধর করেন। একপর্যায়ে তাকে শারীরিকভাবে নির্যাতন করে দুটি চেক ও একটি সাদা স্ট্যাম্পে স্বাক্ষর নেওয়া হয়। ঘটনার সময় আব্দুল আজিজকে ‘বাচ্চু, বাচ্চু’ বলে কাউকে ডাকতে শোনা যায়। পরে আরও একজন কক্ষে প্রবেশ করলে তাকে কিছুক্ষণ আটকে রেখে ধাক্কা দিয়ে বের করে দেওয়া হয়। এ সময় চেক ও স্ট্যাম্পে স্বাক্ষর নেওয়ার পুরো ঘটনাটি মোবাইল ফোনে ধারণ করা হয়।

 

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, অভিযুক্ত মোস্তাফিজুর রহমান লিটু নগরীর কাটপট্টি সড়কের বাসিন্দা। তিনি যুবদলের রাজনীতির সঙ্গে জড়িত বলে স্থানীয়ভাবে পরিচিত। তার বড় ভাই মাহবুবুর রহমান পিন্টু জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সাবেক সভাপতি।

 

ভুক্তভোগী আব্দুল আজিজ হাওলাদার বলেন, মোস্তাফিজুর রহমান লিটু একসময় তাদের আবাসন ব্যবসার অংশীদার ছিলেন। পরবর্তী সময়ে তার বিনিয়োগের বিপরীতে জমি হস্তান্তরের মাধ্যমে হিসাব নিষ্পত্তি করা হয় এবং কোনো পাওনা নেই—এমন অঙ্গীকারনামাও দেওয়া হয়েছিল। এরপরও লিটু তার কাছে এক কোটি টাকা দাবি করে আসছিলেন।

 

তিনি অভিযোগ করে বলেন, ২৭ জুন সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে লিটু অফিসে প্রবেশ করে তাকে মারধর করেন। একপর্যায়ে ভয়ভীতি প্রদর্শন করে, শারীরিকভাবে নির্যাতন চালিয়ে এবং অণ্ডকোষ চেপে ধরে জোরপূর্বক ৭০ লাখ টাকার একটি চেক, একটি সাদা চেক এবং দুটি সাদা স্ট্যাম্পে স্বাক্ষর করিয়ে নেন।

 

আব্দুল আজিজ জানান, ঘটনার পর তিনি সংশ্লিষ্ট ব্যাংকে অভিযোগ করায় ওই চেক থেকে কোনো অর্থ উত্তোলন সম্ভব হয়নি। পরে তিনি আদালতে নালিশি মামলা করেন। আদালত মামলাটি এফআইআর হিসেবে গ্রহণের নির্দেশ দিয়েছেন। ভাইরাল হওয়া সিসিটিভি ফুটেজটি তিনিই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশ করেছেন বলেও জানান।

 

অভিযোগের বিষয়ে মোস্তাফিজুর রহমান লিটু তা অস্বীকার করেছেন। তিনি বলেন, তারা সবাই অগ্রণী হাউজিংয়ের পরিচালক ছিলেন। তার দাবি, আব্দুল আজিজ তাদের অর্থ আত্মসাৎ করেছেন। এ বিষয়ে পরবর্তীতে সংবাদ সম্মেলন করে বিস্তারিত তুলে ধরা হবে।

এ বিষয়ে জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সাবেক সভাপতি মাহবুবুর রহমান পিন্টু দ্য ডেইলি ক্যাম্পাসকে বলেন, ‘এমডিকে হেনস্তার যে অভিযোগ উঠেছে, সে বিষয়ে আমি আগে কিছুই জানতাম না। আমি শুধু জানি, আমার ভাই বহু বছর ধরে অর্গানি হাউজিংয়ের সঙ্গে ব্যবসা করে। এর বাইরে তাদের বিষয়ে আমি কিছু জানি না। এমনকি হাউজিং অফিস কোথায়, সেটাও আমার জানা নেই। বর্তমানে তাদের মধ্যে কী ধরনের লেনদেন রয়েছে, সেটিও আমি জানি না। যদি আমার ভাই এ বিষয়ে আমার সঙ্গে আলোচনা করত, তাহলে হয়তো বলতে পারতাম।’

 

তিনি বলেন, ‘শারীরিক হেনস্তার ঘটনাটি নিয়ে আমি নিজে সেখানে যাইনি। ভিডিওটিও আমি পুরোটা দেখিনি। তবে কয়েকজন আমাকে ঘটনাটির কিছু অংশ দেখিয়েছে।’

 

নিজের রাজনৈতিক সম্পৃক্ততার বিষয়ে পিন্টু বলেন, ‘আমার সঙ্গে তার কোনো রাজনৈতিক সম্পর্ক নেই। আমাদের পরিচয় শুধু আমরা একই বাবার সন্তান। এর বাইরে রাজনৈতিকভাবে তার সঙ্গে আমার কোনো সম্পৃক্ততা নেই। আমি আমার রাজনীতি পরিচ্ছন্নভাবে করার চেষ্টা করি।’

 

ঘটনার সময় তিনি সংশ্লিষ্ট অফিসের বাইরে উপস্থিত ছিলেন—এমন অভিযোগের বিষয়ে তিনি বলেন, ‘এ অভিযোগ সত্য নয়। আমি পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ জামাতে আদায়ের চেষ্টা করি এবং আল্লাহকে সাক্ষী রেখে বলছি, এ ঘটনার বিষয়ে আমি কিছুই জানতাম না। আজই প্রথম বিষয়টি জানতে পেরেছি। ফেসবুকে ঘটনাটি দেখার পর কয়েকজন আমাকে ফোন করে জানায়। এরপর আমি তাদের বলি, ছবিগুলো আমাকে পাঠাতে। এর আগে এ বিষয়ে আমার কোনো ধারণাই ছিল না। আমার ভাইও এ বিষয়ে কখনো আমার সঙ্গে কিছু শেয়ার করেনি।’

 

এ বিষয়ে বরিশাল মহানগর বিএনপির সদস্যসচিব আফরোজা খানম নাসরিন বলেন, ‘কেউ অপরাধ করলে তার বিরুদ্ধে আইনের আশ্রয় নেওয়া যেতে পারে। তবে প্রকাশ্যে এভাবে লাঞ্ছিত করা কাম্য নয়। যদি বিএনপি বা অঙ্গসংগঠনের কেউ জড়িত থাকে, তার বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নিতে হবে।’

 

বরিশাল কোতোয়ালি মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আল মামুন উল ইসলাম দ্য ডেইলি ক্যাম্পাসকে বলেন, ভুক্তভোগী আব্দুল আজিজ থানায় এসে বিষয়টি মৌখিকভাবে জানিয়েছেন। আদালতের আদেশের কাগজ রোববার থানায় পৌঁছাতে পারে। লিখিত অভিযোগ পাওয়ার পর তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এমডির অণ্ডকোষ চেপে ধরে চেক-স্ট্যাম্পে স্বাক্ষর নিলেন স্বেচ্ছাসেবক দল নেতার ভাই

র‌্যাবের চৌকস অভিযানে জীপসহ প্রায় ১১ হাজার ইয়াবার চালান আটক

জামালপুর হামলা পাল্টা হামলার মধ্য দিয়ে জেলার সানন্দবাড়ী তে থমথমে অবস্থা বিরাজমান।

খেলাধুলা

নরওয়ের বিপক্ষে শেষ ১৬–এর লড়াইয়ে ব্রাজিল পাচ্ছে না মিডফিল্ডার লুকাস পাকেতাকে। জাপানের বিপক্ষে ঊরুর চোটে পাকেতার ছিটকে পড়ার আগে গ্রুপ পর্বে হাইতির বিপক্ষে চোট পেয়ে ছিটকে যাওয়া রাফিনিয়াও এখনও পুরোপুরি ফিট নন। ফলে নরওয়ের বিপক্ষে নকআউট ম্যাচের আগে কোচ কার্লো আনচেলত্তির কপালে চিন্তার ভাঁজ পড়া স্বাভাবিক। এমন শ্বাসরুদ্ধকর মুহূর্তে ব্রাজিলের ড্রেসিং রুমে খোলা হাওয়া হয়ে বইতে পারবেন কি নেইমার, নাকি আজও বেঞ্চেই ঠিকানা হবে ৩৪ বছর বয়সী সুপারস্টারের?

 

রোববার (৫ জুলাই) নিউজার্সি স্টেডিয়ামে কোয়ার্টার ফাইনাল নিশ্চিতের লড়াইয়ে নরওয়ের মুখোমুখি হবে ব্রাজিল। এর আগে গতকাল (৪ জুলাই) ম্যাচ পূর্ব সংবাদ সম্মেলনে ব্রাজিলের কোচ কার্লো আনচেলত্তি দিয়েছেন সুখবর। ৯০ মিনিটের ম্যাচ খেলার জন্য পুরোপুরি ফিট হয়েছেন নেইমার। তবে একই সঙ্গে এই কোচ স্বীকার করেছেন, বিশ্বের অন্যতম সেরা এই ফুটবলার বর্তমানে বদলি খেলোয়াড়ের ভূমিকায় থাকার কারণে গভীরভাবে অসন্তুষ্ট।

 

 

চোটের কারণে দীর্ঘ সময় বাইরে থাকার পর অবশেষে নেইমার পুরোপুরি সেরে উঠেছেন এবং বিশ্বকাপে ব্রাজিলের জন্য বড় ভূমিকা রাখতে প্রস্তুত। ৩৪ বছর বয়সী এই ফরোয়ার্ড এখন পর্যন্ত টুর্নামেন্টে মাত্র একটি ম্যাচে ১৪ মিনিট বদলি হিসেবে খেলেছেন। তবে তার ম্যাচ ফিটনেস নিয়ে যে সব উদ্বেগ ছিল, কোচ আনচেলত্তি তা পুরোপুরি উড়িয়ে দিয়েছেন। ফলে নরওয়ের বিপক্ষে গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচের আগে ব্রাজিল শিবিরে কিছুটা হলেও শক্তি বেড়েছে।

 

ফোলিয়া দে সাও পাওলোকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে আনচেলত্তি বেঞ্চে থাকা নেইমারের পরিস্থিতি নিয়ে বিস্তারিত কথা বলেন।

 

তবে পূর্ণ ফিট হয়ে উঠলেও নেইমারকে শুরুর একাদশে রাখবেন কি–না সে সম্পর্কে নিশ্চিত করে কিছু বলেননি আনচেলত্তি। যখন তাকে জিজ্ঞেস করা হয়েছিল, অতিরিক্ত সময়ের জন্য কি তিনি আবারও নেইমারকে বদলি হিসেবে রাখা হবে? এমন প্রশ্নের জবাবে অভিজ্ঞ ইতালিয়ান কোচ বলেন নেইমারের অভিজ্ঞতার ওপর তার পূর্ণ আস্থা আছে।

 

তিনি বলেন, ‘গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো সে খেলার জন্য উপলব্ধ আছে। কতক্ষণ খেলবে, সেটা কেউ জানে না। ম্যাচের গতি এবং সময় নিয়ন্ত্রণ করার অভিজ্ঞতা তার আছে। যখন আমি মনে করব দল তার প্রয়োজন, তখনই তাকে নামাব।’

 

এরপর সরাসরি প্রশ্ন ছিল, নেইমার কি পুরো ৯০ মিনিট খেলতে পারবে? আনচেলত্তির জবাব ছিল পরিষ্কার, ‘হ্যাঁ, সে ৯০ মিনিট খেলতে পারে।’

 

বেঞ্চে বসে থাকা একজন বিশ্বমানের খেলোয়াড়ের মানসিক অবস্থা নিয়ে কথা বলতে গিয়ে কোচ তাকে প্রশংসাও করেন। তিনি বলেন, ‘সে খুশি নয়, তবে খুব ভালো আচরণ করছে।’

 

তিনি আরও বলেন, ‘সে খুব ভালোভাবে ট্রেনিং করছে। নেইমার অত্যন্ত সম্মানিত, বন্ধুবৎসল এবং সতীর্থদের কাছে প্রিয়। দলের মধ্যে তার বড় গুরুত্ব আছে কারণ তার অসাধারণ দক্ষতা আছে এবং সে খুবই বিনয়ী একজন মানুষ। আমি তার সঙ্গে খুব সন্তুষ্ট। আর অবশ্যই, সে খেলতে চায়, যেমনটা সবসময়ই চেয়েছে।’

 

যখন তাকে জিজ্ঞেস করা হয়েছিল নেইমার কি সরাসরি শুরুর একাদশে থাকার দাবি করেছেন, কোচ পরিস্থিতি পরিষ্কার করেন, ‘সে সরাসরি বলে না ‘আমি খেলতে চাই’, কিন্তু সেই ইচ্ছাটা স্পষ্ট। এটা ভালো জিনিস। একজন খেলোয়াড় বেঞ্চে বসে খুশি থাকতে পারে না।’

 

নরওয়ের বিপক্ষে শেষ ষোলোর ম্যাচে ব্রাজিলকে কঠিন পরীক্ষার মুখে পড়তে হবে, যেখানে প্রতিপক্ষের আক্রমণের নেতৃত্বে থাকবেন আর্লিং হালান্ড। সাত ম্যাচের অপরাজিত ধারা নিয়ে ব্রাজিল মাঠে নামবে এবং মূল ভরসা ভিনিসিউস জুনিয়র। নরওয়ের শক্তিশালী শারীরিক ও এরিয়েল আক্রমণ ঠেকানোর পাশাপাশি নেইমারের সৃজনশীলতা সঠিকভাবে ব্যবহার করাই আনচেলত্তির দলের জন্য বড় চাবিকাঠি হবে কোয়ার্টার ফাইনালে ওঠার জন্য।

৯০ মিনিট খেলার জন্য ফিট নেইমার, আনচেলত্তি কতক্ষণ খেলাবেন?

বিশ্বকাপ শুরুর আগে কেউই হয়তো হিসেবে রাখেনি কেপ ভার্দের নাম। প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপে সুযোগ দেশটি স্বাভাবিকভাবেই ছিল আন্ডারডগ। কিন্তু তারাই মাঠে রেখেছে তুমুল প্রতিদ্বন্দ্বিতার ছাপ। রাউন্ড অব ৩২ থেকে বিদায় নিলেও, বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনাকে নাভিশ্বাস তুলে ছেড়েছে পশ্চিম আফ্রিকার এই দেশ।

 

টুর্নামেন্টজুড়ে কেপ ভার্দের অবিশ্বাস্য পারফরম্যান্সের বড় কারিগর দলটির গোলকিপার ভোজিনিয়া। তার মতে, আর্জেন্টিনার বিপক্ষে রাউন্ড অব ৩২-র ম্যাচেও জয়ী দলের মতোই খেলেছে কেপ ভার্দে। কিন্তু ভাগ্য পাশে না পাওয়া মেলেনি জয়।

মায়ামি স্টেডিয়ামে বাংলাদেশ সময় শনিবার ভোরের ম্যাচে কেপ ভার্দেকে ৩-২ গোলে হারিয়েছে বর্তমান বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা। নির্ধারিত সময়ে ১-১ গোলে সমতা থাকার পর অতিরিক্ত ৩০ মিনিটে গিয়ে জিতেছে লিওনেল স্কালোনির শিষ্যরা।

 

অথচ নির্ধারিত সময়েই জিতে যেতে পারত আর্জেন্টিনা। কিন্তু বারবার তাদের গোলের জন্য জোরাল সব আক্রমণ প্রতিহত করে দিয়েছেন ভোজিনহা। বিপজ্জনক জায়গা থেকে লিওনেল মেসির কথা একাধিক ফ্রি কিক তিনি ফিরিয়েছেন অসামান্য ক্ষিপ্রতায়।

 

সব মিলিয়ে ম্যাচে ৮টি সেভ করেছেন ভোজিনিয়া। বিশ্বকাপের ৪ ম্যাচে তার সেভ মোট ১৮টি। এর সঙ্গে দলের অন্যান্যরাও দারুণ ফুটবল খেললে আর্জেন্টিনাকে ১১৩ মিনিট পর্যন্ত আটকে রাখতে সক্ষম হয় কেপ ভার্দে।

অতিরিক্ত ৩০ মিনিটের দ্বিতীয়ার্ধে গিয়ে মেসির কর্নার থেকে উড়ে আসা বলে প্রথম ক্রিস্তিয়ান রোমেরো ও কেপ ভার্দের ফুটবলারের মাথায় লেগে বল জালে জড়ালে ম্যাচ জিতে যায় আর্জেন্টিনা। মাত্র কয়েক মিনিটের জন্য টাইব্রেকারে ম্যাচটি নিতে পারেনি কেপ ভার্দে।

 

ম্যাচ শেষে পরাজয়ের আক্ষেপ থাকলেও, নিজেদের পারফরম্যান্সে গর্ব করার কথাই বলেন ভোজিনিয়া। ফিফায় দেওয়া সাক্ষাৎকারে প্রতিক্রিয়া জানান কেপ ভার্দের প্রাচীর বনে যাওয়া এই গোলকিপার।

 

“আমার মনে হয়, ম্যাচটি জেতার জন্য আমরা যথেষ্ট ভালো খেলেছিলাম। দুর্ভাগ্যবশত, ফুটবল এমনই। আর্জেন্টিনা সেট পিস থেকে তৃতীয় গোলটি করে, কিন্তু আমরা বর্তমান চ্যাম্পিয়নদের সাথে সমান তালে পাল্লা দিয়ে খেলেছি।”

 

এসময় আর্জেন্টিনার প্রতি পূর্ণ শ্রদ্ধা থাকার কথাও বলেন ভোজিনিয়া।

 

“মেসি এবং আর্জেন্টিনার প্রতিটি খেলোয়াড়ের প্রতি আমাদের অগাধ শ্রদ্ধা রয়েছে। তবে মাঠে নামার পর, প্রতিপক্ষের দক্ষতা সম্পর্কে জানা থাকলেও, আমাদের নিজেদের এবং আমাদের খেলার ওপরই মনোযোগ দিতে হয়।”

আর্জেন্টিনার বিপক্ষে বিজয়ীর মতোই খেলেছি: ভোজিনিয়া

ফিফা বিশ্বকাপের শেষ ষোলোর লড়াইয়ে আগামী ৫ জুলাই মুখোমুখি হবে ব্রাজিল ও নরওয়ে। অন্যদিকে ৭ জুলাই মাঠে নামবে আর্জেন্টিনা ও মিসর। গুরুত্বপূর্ণ এই দুই ম্যাচের আগে ইতিহাস কিন্তু দুই দক্ষিণ আমেরিকান পরাশক্তির জন্য ভিন্ন বার্তা দিচ্ছে।

 

পরিসংখ্যান বলছে, ব্রাজিল ও নরওয়ে এর আগে আন্তর্জাতিক ফুটবলে চারবার মুখোমুখি হয়েছে। অবাক করার বিষয় হলো, এই চার দেখায় একবারও জয়ের দেখা পায়নি পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা। নরওয়ের কাছে দুটি ম্যাচে হেরেছে ব্রাজিল, আর বাকি দুটি ম্যাচ ড্র হয়েছে। অর্থাৎ হেড-টু-হেড রেকর্ডে এখন পর্যন্ত নরওয়ের বিপক্ষে জয়শূন্য ব্রাজিল।

 

এমন পরিসংখ্যান নিঃসন্দেহে ব্রাজিল শিবিরের জন্য দুশ্চিন্তার কারণ হতে পারে। যদিও বর্তমান দলের শক্তি, খেলোয়াড়দের ফর্ম এবং টুর্নামেন্টের পরিস্থিতি অতীতের পরিসংখ্যানকে বদলে দিতে পারে, তবুও ইতিহাসের পাতায় নরওয়ের বিপক্ষে ব্রাজিলের রেকর্ড মোটেও স্বস্তিদায়ক নয়।

 

অন্যদিকে আর্জেন্টিনার সামনে রয়েছে মিসরের চ্যালেঞ্জ। এই দুই দল এর আগে মাত্র একবার মুখোমুখি হয়েছিল। সেই ম্যাচে দাপুটে ফুটবল খেলেই বড় ব্যবধানে জয় তুলে নিয়েছিল আর্জেন্টিনা। ফলে অতীতের রেকর্ড বর্তমান বিশ্বচ্যাম্পিয়নদের আত্মবিশ্বাস আরও বাড়িয়ে দেবে বলেই মনে করছেন ফুটবল বিশ্লেষকেরা।

 

তবে ফুটবলে পরিসংখ্যান সব সময় শেষ কথা বলে না। প্রতিটি ম্যাচই নতুন, আর নকআউট পর্বে একটি ভুলই বদলে দিতে পারে পুরো সমীকরণ। তারপরও ইতিহাসের বিচারে শেষ ষোলোর আগে আর্জেন্টিনা যেমন পাচ্ছে আত্মবিশ্বাসের বাড়তি রসদ, তেমনি ব্রাজিলকে তাড়া করে ফিরছে নরওয়ের বিপক্ষে জয়হীন অতীত।

 

ব্রাজিল ও নরওয়ের পরিসংখ্যান:

*মোট ম্যাচ: ৪টি

*ব্রাজিলের জয়: ০টি

*নরওয়ের জয়: ২টি

*ড্র: ২টি

 

ম্যাচগুলোর ফলাফল:

*১৯৮৮ (আন্তর্জাতিক প্রীতি ম্যাচ): ব্রাজিল ১-১ নরওয়ে

*১৯৯৭ (আন্তর্জাতিক প্রীতি ম্যাচ): নরওয়ে ৪-২ ব্রাজিল

*১৯৯৮ (ফিফা বিশ্বকাপ, গ্রুপ পর্ব): নরওয়ে ২-১ ব্রাজিল

*২০০৬ (আন্তর্জাতিক প্রীতি ম্যাচ): ব্রাজিল ১-১ নরওয়ে

 

আর্জেন্টিনা ও মিসরের পরিসংখ্যান:

*মোট ম্যাচ: ১টি

*আর্জেন্টিনার জয়: ১টি

*মিসরের জয়: ০টি

*ড্র: ০টি

 

সর্বশেষ সাক্ষাৎ: ২০০৮ সালের আন্তর্জাতিক প্রীতি ম্যাচ

ফল: আর্জেন্টিনা ২-০ মিসর

পরিসংখ্যানে আর্জেন্টিনার জন্য সুখবর, ব্রাজিল শিবিরে বড় দুঃসংবাদ

বিশ্বকাপে কেপ ভার্দের বিপক্ষে রাউন্ড অব ৩২’র ম্যাচে রুদ্ধশ্বাস লড়াই শেষে জয় পেয়েছে বর্তমান চ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা। ম্যাচ শেষে দলের পারফরম্যান্স নিয়ে খোলামেলা মূল্যায়ন করেছেন অধিনায়ক লিওনেল মেসি। তার মতে, প্রতিপক্ষকে সহজভাবে দেখার কোনো সুযোগই ছিল না এবং শুরু থেকেই তারা জানতেন কঠিন এক পরীক্ষার মুখোমুখি হতে যাচ্ছেন।

 

মেসি বলেন, কেপ ভার্দের অপরাজিত যাত্রা মোটেও কাকতালীয় ছিল না। স্পেন কিংবা উরুগুয়ের মতো শক্তিশালী দলের বিপক্ষেও তারা ভালো ফল করেছে, তাই ম্যাচটি যে কঠিন হবে, সে বিষয়ে আর্জেন্টিনা আগেই সতর্ক ছিল। তার ভাষায়, প্রথম গোলটি করাই ছিল সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ। গোল পাওয়ার পর মনে হয়েছিল ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নিজেদের হাতে রেখে আরও স্বচ্ছন্দে খেলা যাবে। কিন্তু বাস্তবে ঘটেছে ঠিক উল্টোটা।

 

আর্জেন্টাইন অধিনায়ক স্বীকার করেছেন, ম্যাচের বিভিন্ন সময়ে তার দল বলের নিয়ন্ত্রণ হারিয়েছে। রক্ষণভাগ কিছুটা বেশি নিচে নেমে যাওয়ায় প্রতিপক্ষকে কাঙ্ক্ষিতভাবে চাপে রাখা সম্ভব হয়নি। সেই সুযোগ কাজে লাগিয়ে কেপ ভার্দে সমতাসূচক গোলও আদায় করে নেয়। তবে এমন পরিস্থিতির জন্য দল মানসিকভাবে প্রস্তুত ছিল বলেও জানিয়েছেন তিনি।

 

মেসির মতে, নকআউট পর্বের ফুটবলে কোনো ম্যাচই সহজ নয়। এখানে কোনো দলই প্রতিপক্ষকে বিনা লড়াইয়ে কিছু ছেড়ে দেয় না। কেবল নামের কারণে কোনো দলকে দুর্বল মনে করা হতে পারে, কিন্তু মাঠের বাস্তবতা সম্পূর্ণ ভিন্ন। তাই কেপ ভার্দের বিপক্ষে কঠিন লড়াই তাকে বিস্মিত করেনি।

প্রথম গোলের পর দলে কী ঘটেছিল, জানালেন মেসি

কেপ ভার্দের এই স্বপ্নযাত্রার নেপথ্যে মাঠ ও মাঠের বাইরে সবচেয়ে বড় তারকা ভোজিনিয়া। ৪০ বছর বয়সী অখ্যাত এই গোলকিপার স্পেনের বিপক্ষে বিশ্বকাপের প্রথম ম্যাচেই পুরো দুনিয়াকে নিজেকে চিনিয়েছেন তার অতি মানবীয় পারফরম্যান্স দিয়ে। একের পর এক আক্রমণ রুখে দিয়ে হতাশায় স্প্যানিশদের হতাশায় ফেলে দেন তিনি। পুরো ম্যাচে ৭টি সেভ করে ম্যাচের সেরাও নির্বাচিত হন ভোজিনিয়া।

 

আর্জেন্টিনার বিপক্ষে আজ ৮টি সেভ করে এবারের বিশ্বকাপে নিজের মোট সেভের সংখ্যা ১৮-তে নিয়ে গেছেন ভোজিনিয়া। চলতি টুর্নামেন্টে তার চেয়ে বেশি সেভ করেছেন শুধু কুরাসাওয়ের এলোয় রুম (২০) এবং প্যারাগুয়ের অরল্যান্ডো গিল (১৯)।

 

বিশ্বকাপের ইতিহাসে ৪০ বা তার বেশি বয়সী গোলকিপারদের মধ্যে কেবল পিটার শিলটন (১৯৯০ সালে ইংল্যান্ডের হয়ে ২৮টি) এবং দিনো জফ (১৯৮২ সালে ইতালির হয়ে ২৭টি) এক টুর্নামেন্টে এর চেয়ে বেশি সেভ করতে পেরেছেন।

 

পরিসংখ্যান যে সবসময় মাঠের আসল গল্প বলতে পারে না—তার সবচেয়ে বড় উদাহরণ কেপ ভার্দের এবারের বিশ্বকাপ অভিযান। টুর্নামেন্টে তারা কোনো ম্যাচ জেতেনি, অথচ তাদের পারফরম্যান্স ছিল চোখে পড়ার মতো।

 

সাবেক চ্যাম্পিয়ন স্পেন ও উরুগুয়ের সঙ্গে ড্র এবং সৌদি আরবকে রুখে দিয়ে কেপ ভার্দে জায়গা করে নিয়েছিল শেষ ৩২-এ। এমন দুর্দান্ত পারফরম্যান্স কি দলটির সমর্থকরা কখনো কল্পনা করতে পেরেছিল?

 

এরপর আজ নকআউট পর্বে লিওনেল মেসির আর্জেন্টিনার বিপক্ষে ম্যাচটিকে তারা টেনে নিয়েছে অতিরিক্ত সময়ে। ঘড়ির কাটায় ১১১তম মিনিট, ম্যাচ তখন ২-২ সমতায়, মনে হচ্ছিল পেনাল্টি শুট আউট নির্ধারণ হবে ম্যাচের ফল কিন্তু ভাগ্য সহায় হলো না কেপ ভার্দের। বোর্গেসের আত্মঘাতী গোলে আবারও এগিয়ে যায় আর্জেন্টিনা। শেষ পর্যন্ত এই গোলেই ম্যাচের ফলাফল নির্ধারণ করে দেয়।

 

ফলাফলে লেখা থাকবে কেপ ভার্দেকে ৩-২ গোলে হারিয়েছে আর্জেন্টিনা। কিন্তু পুরো বিশ্ব ইতিমধ্যেই দেখেছে আফ্রিকার এই দ্বীপরাষ্ট্রের লড়াকু মানসিকতা। বারবার পিছিয়ে পড়েও চোখে চোখ রাঙিয়ে কেপ ভার্দে কিভাবে চ্যালেঞ্জ ছুড়ে তিনবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনাকে।

 

এক ম্যাচে ৮টি সেভ করে নতুন আফ্রিকান রেকর্ডও গড়েছেন ভোজিনিয়া। ২০১৪ বিশ্বকাপে জার্মানির বিপক্ষে আলজেরিয়ার রাইস এম’বোলহির পর নকআউট পর্বে কোনো আফ্রিকান গোলকিপারের এটি সর্বোচ্চ সেভের কীর্তি।

 

২০১০ সালের চ্যাম্পিয়ন স্পেন, দুইবারের চ্যাম্পিয়ন উরুগুয়ে এবং বর্তমান বিশ্বচ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা—সবার বিপক্ষেই চোখে চোখ রেখে লড়াই করেছে কেপভার্দে। পুরো টুর্নামেন্টে তারা ৪টি গোল করেছে, হজম করেছে ৫টি, ৩টি ম্যাচ ড্র করেছে এবং মাত্র ১টিতে হেরেছে।

 

ফিফা র‍্যাঙ্কিংয়ের ৬৭ নম্বরে থাকা কেপ ভার্দে এবারের বিশ্বকাপের সবচেয়ে বড় চমক। অথচ দেশটির মাত্র ৪,০৩৩ বর্গ কিলোমিটার, জনসংখ্যা মাত্র পাঁচ লাখ উনত্রিশ হাজার।

 

ইতিহাসে প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপের নকআউট পর্বে খেলতে নেমে শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক ছিল কেপ ভার্দে। ম্যাচের শুরুতেই রায়ান মেন্ডেস আর্জেন্টিনার রক্ষণকে বেশ ভালোই পরীক্ষা নেন। তবে ধীরে ধীরে ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নিজেদের হাতে নেয় লাতিন আমেরিকার জায়ান্টরা।

 

ম্যাচের ৩১ মিনিটে লিসান্দ্রো মার্টিনেজের পাস থেকে বল নিয়ন্ত্রণে নিয়ে দুর্দান্ত এক শটে বল জালের ছাদে পাঠান লিওনেল মেসি। এটি ছিল টুর্নামেন্টে তার সপ্তম গোল।

 

প্রথমার্ধে আর্জেন্টিনা সুবিধাজনক অবস্থানে থাকলেও বিরতির পর বদলে যায় কেপ ভার্দে। মেন্ডেসের পাস থেকে ডেরয় ডুয়ার্তে কঠিন কোণ থেকে দারুণ ফিনিশিংয়ে গোল করে দলকে ১-১ সমতায় ফেরান। এটি ছিল বিশ্বকাপের নকআউট পর্বে কেপ ভার্দের ইতিহাসে প্রথম গোল।

 

নির্ধারিত সময়ে আর কোনো গোল না হওয়ায় ম্যাচ গড়ায় অতিরিক্ত সময়ে। ৯২ মিনিটে কর্নার থেকে লিসান্দ্রো মার্টিনেজ গোল করে আর্জেন্টিনাকে আবারও এগিয়ে নেন। পিছিয়ে পড়েও দমে যায়নি কেপ ভার্দে। ১০৩ মিনিটে সিডনি লোপেস কাবরাল এক বাঁকানো শটে গোল করে ম্যাচ আবার ২-২ সমতায় আনেন।

 

১১১ মিনিটে মেসির নেওয়া কর্নার থেকে রোমেরো জোরালো হেড করেন, যা কেপ ভার্দের ডিফেন্ডার দিনেই বোর্গেসের গায়ে সামান্য লেগে দিক পরিবর্তন করে জালে জড়ায়। এই আত্মঘাতী গোলেই ৩-২ ব্যবধানে এগিয়ে যায় আর্জেন্টিনা।

 

ম্যাচের একেবারে শেষ মুহূর্তে ফ্রি-কিক থেকে লোপেস কাবরালের একটি বুলেট গতির শট অসাধারণ দক্ষতায় রুখে দেন আর্জেন্টিনার গোলকিপার এমিলিয়ানো মার্তিনেজ। নাহলে ম্যাচটি টাইব্রেকারে গড়াত। এই সেভের মাধ্যমেই আর্জেন্টিনার শেষ-১৬ নিশ্চিত হয়।

 

বিদায় নিলেও বিশ্বজুড়ে ফুটবলপ্রেমীদের হৃদয় জয় করে মাথা উঁচু করেই মাঠ ছেড়েছে কেপ ভার্দে। সেই সঙ্গে বিশ্ব চিনেছে ভোজিনিয়া নামের এক লড়াকু বীরকে।

বিশ্বকাপে কেপ ভার্দের রূপকথা এবং ৪০ বছরের এক প্রাচীর

সিন্ডিকেটের স্বেচ্ছাচারিতায় চলছে ঠাকুরগাঁও পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি// ঠিকাদার নিয়োগে ব্যপক অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ

 

মোঃ আশরাফুল ইসলাম

ঠাকুরগাঁও প্রতিনিধি

 

পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি (পবিস) বাংলাদেশ পল্লী বিদ্যুতায়ন বোর্ডের অধীনে গ্রামীণ এলাকায় বিদ্যুৎ বিতরণের দায়িত্বপ্রাপ্ত স্থানীয় একটি সমবায় সংস্থা। “আলো ঘরে ঘরে, প্রগতি দেশে দেশে” এ স্লোগানকে সামনে রেখে কাজ করার কথা থাকলেও ঠাকুরগাঁও পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির বিরুদ্ধে বিভিন্ন সময়ে গ্রাহক পর্যায়ে ঘুষ বাণিজ্য, অতিরিক্ত ও ‘ভূতুড়ে’ বিল আদায়, টেন্ডারে অনিয়ম এবং দীর্ঘ লোডশেডিং ও ঠিকাদার নিয়োগ বানিজ্যের মত নানাবিধ দুর্নীতির অভিযোগ রয়েছে।

 

সিন্ডিকেটের মাধ্যমে ঠাকুরগাঁও পল্লী বিদ্যুৎ সমিতিতে মিনি ঠিকাদার তালিকাভুক্তকরণ ও নবায়ন প্রক্রিয়ায় স্বজনপ্রীতি, গোপনীয়তা এবং আর্থিক লেনদেনের অভিযোগ স্থানীয় ঠিকাদারদের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে আলোচিত। যোগ্যতাসম্পন্ন স্থানীয় ঠিকাদারদের বাদ দিয়ে সিন্ডিকেটের মাধ্যমে জেলার বাহিরের নির্দিষ্ট ব্যক্তিদের কাজ পাইয়ে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। নানা দুর্নীতির কারনে একদিকে যেমন প্রশ্নবিদ্ধ হচ্ছে গ্রামীন জনগণের সেবায় নিয়োজিত এ প্রতিষ্ঠানটি অপরদিকে কাজেও গতি হারা্েচ্ছ সরকারের “আলো ঘরে ঘরে”বাস্তবায়িত প্রকল্পটি।

 

জানাযায়,ঠাকুরগাঁও পল্লী বিদ্যুৎ সমিতিতে স্বল্প দৈর্ঘ্য, লাইন নির্মাণ, রক্ষনাবেক্ষন ও আপগ্রেডেশন কাজের জন্য গত বছরের মাঝামাঝি মিনি ঠিকাদার প্রাথমিক তালিকাভুক্তির বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়। সিন্ডিকেটের মাধ্যমে পূর্বের তালিকাভুক্ত কিছু ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানের মালিকগণ তাহাদের পছন্দমতো ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান ছাড়া অন্য কোন প্রতিষ্ঠানকে তালিকাভুক্ত করতে বাধার সৃষ্টি করে। তালিকাভুক্তির ১৭২ টি আবেদনের বিপরীতে আগের জিএম আসাদুজ্জামান খান প্রথমে ৩১ টি এবং পরবর্তীতে আরো ৮ টি সহ মোট ৩৯ টি প্রতিষ্ঠানের নাম অন্তভৃুক্ত করে যাদের অধিকাংশই জেলার বাহিরের এবং অনেক দূরের প্রতিষ্ঠান। এ বিষয়ে নানা প্রশ্ন উঠলে ১৭২ টি প্রতিষ্ঠানের স্বচ্ছতা যাচাইয়ের মাধ্যমে তালিকায় অন্তর্ভুক্তির জন্য পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি রংপুর জোনের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী রেজাউল করিম একটি নির্দেশনা দিলেও তা অমান্য করে সম্প্রতি গোপনেই ৩৯ টি প্রতিষ্ঠানের নাম চুরান্ত করে ঠাকুরগাঁও পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি।

অবৈধ উপায়ে অর্থের বিনিময়ে পছন্দের গুটিকয়েক ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানকে সাময়িক তালিকাভুক্তির কারণে ভোগান্তিতে পড়বে ঠাকুরগাঁও পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির দুইটি জেলা অথ্যাৎ ঠাকুরগাঁও ও পঞ্চগড় জেলার সাধারণ জনগণ । সিন্ডিকেট সহ গুটিকয়েক এসব প্রতিষ্ঠানের কাছে জিম্মি থাকবে দুই জেলার প্রায় ২০ লক্ষ মানুষ।

 

আরাফাত এন্টারপ্রাইজ নামের ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানের স্বত্তাধিকারী ভুক্তভোগী এনামুল হক অভিযোগ করে বলেন, আমি স্বচ্ছতার সাথে অনেক বছর ধরেই এ প্রতিষ্ঠানে টেন্ডারের মাধ্যমে কাজ করে আসছি। কোনদিন কাজের মান নিয়ে প্রশ্নের সম্মুখিন হইনি। এবারো নিয়ম মেনে প্রয়োজনীয় বিল পরিশোধ করে সব কাগজপত্র জমা দেই। আমাকে বাদ দিয়ে দূরের জেলার কোন প্রতিষ্ঠান কিভাবে তালিকায় অন্তর্ভুক্ত হয় তা আমার জানা নেই। সহকারী জেনারেল র্মানেজার (এজিএম ই এন্ড সি) নাহিদ ইসলাম আমাকে বড় বিএনপি নেতার সুপারিশ আনতে বলেন। তারপর নাকি কিছু করা যেতে পারে।

 

এ বিষয়ে ঠাকুরগাঁও পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির জেনারেল ম্যানেজার (জিএম) আশরাফুল আলম খান বলেন, মিনি ঠিকাদার নিয়োগের সার্কুলারটা অতীত এবং আগেই ক্লোজ হয়ে গিয়েছে। ১৭২ আবেদনের প্রেক্ষিতে ৩৯ টি প্রতিষ্ঠান ইনলিস্টেট হয়েছে। অতীতে কিভাবে কি হযেছে তা আমার জানা নেই। তবে সিন্ডিকেটের মাধ্যমে যাচাই বাছাইয়ে স্বচ্ছতা বা বাছাই কমিটির পক্ষপাতিত্বের বিষয়ে তিনি কোন সদুত্তর দেয়নি।

সিন্ডিকেটের স্বেচ্ছাচারিতায় চলছে ঠাকুরগাঁও পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি// ঠিকাদার নিয়োগে ব্যপক অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ

বিস্তারিত....

বিনোদন

আজ ২৫শে বৈশাখ। বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ১৬৫ তম আবির্ভাব দিবস। ১২৬৮ বঙ্গাব্দের ২৫ শে বৈশাখ, কলকাতার জোড়াসাঁকো ঠাকুরবাড়িতে জন্ম বাংলা ভাষা ও সাহিত্যের উৎকর্ষের অন্যতম এই নায়কের। তিনি অনন্য সব সৃষ্টি গল্প, কবিতা, উপন্যাস, ছোটগল্প ও অসংখ্য গানের মধ্য দিয়ে বাংলা সাহিত্য ও সংস্কৃতিকে পৌঁছে দিয়েছেন বিশ্বের কাছে।

 

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের মা সারদাসুন্দরী দেবী এবং বাবা ব্রাহ্ম ধর্মগুরু দেবেন্দ্রনাথ ঠাকুর। তিনি কবিতা লেখা শুরু করেন আট বছর বয়সে। ১৮৯১ সাল থেকে বাবার আদেশে নদিয়া, পাবনা, রাজশাহী ও ওড়িশার জমিদারি তদারকি শুরু করেন। কুষ্টিয়ার শিলাইদহের কুঠিবাড়িতে তিনি দীর্ঘসময় অতিবাহিত করেন। ১৯০১ সালে সপরিবারে চলে আসেন বীরভূমের বোলপুর শহরের উপকণ্ঠে শান্তিনিকেতনে। তার জীবদ্দশায় এবং মৃত্যুর পর প্রকাশিত হয়েছে ৫২টি কাব্যগ্রন্থ, ৩৮টি নাটক, ১৩টি উপন্যাস, ৩৬টি প্রবন্ধ এবং অন্যান্য গদ্য সংকলন। নানা কর্মসূচির মধ্য দিয়ে আজ নোবেল বিজয়ী এই সহিত্য প্রতিভাকে স্মরণ করবে তার অগণিত ভক্ত।

 

বিটিভিতে সকাল ৯টায় থাকছে বিশেষ শিশুতোষ অনুষ্ঠান। সকাল ১০টা ৫ মিনিটে প্রচারিত হবে রবীন্দ্রসংগীতের অনুষ্ঠান ‘গীতবিতান’। সন্ধ্যা ৬টায় থাকছে বিশেষ কবিতা আবৃত্তির অনুষ্ঠান। রাত ৯টায় থাকছে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের গল্প অবলম্বনে নাটক ‘সম্পত্তি সমর্পণ’। রাত ১০টায় সংবাদের পর প্রচারিত হবে বিশেষ রবীন্দ্রসংগীতের অনুষ্ঠান। অনুষ্ঠানে কবির বিভিন্ন পর্যায়ের জনপ্রিয় ৯টি গান পরিবেশন করবেন একঝাঁক রবীন্দ্রসংগীতশিল্পী। রাত ১১টায় প্রচারিত হবে ‘চিত্রাঙ্গদা’।

 

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের সাহিত্যজগৎ ছিল নানা বর্ণ, মানসিকতা ও চেতনায় ভরপুর। তাইতো, নিঃসঙ্গতার প্রতিচ্ছবি চারুলতা, সামাজিক বেড়াজাল ভেঙে আত্মসচেতন হয়ে ওঠা বিনোদিনী কিংবা গোরা উপন্যাসের স্বদেশপ্রেম ও জাতিসত্তার পরিচয়ে জর্জরিত পুরুষের মধ্যে আজও পাঠক খুঁজে ফেরে নিজেদের। বাংলার মাটিতে যেমন তাঁর কদর, তেমনি বিশ্ব দরবারেও সমানভাবে ছড়িয়ে আছে তার দীপ্তি। সাহিত্যে অবদানের জন্য ১৯১৩ সালে নবজাগরণের এই পুরোধাকে ভূষিত করা হয় নোবেল পুরস্কারে। দিনটি উদযাপনে দেশের বিভিন্ন স্থানে আয়োজন করা হয়েছে নানা আয়োজন।

বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ১৬৫তম জন্মজয়ন্তী আজ

প্রতিবেদন: ওমর ফারুক

আজ ৩ মে বিশ্বজুড়ে পালিত হচ্ছে বিশ্ব গণমাধ্যম দিবস। গণমাধ্যমের স্বাধীনতা, দায়বদ্ধতা এবং সাংবাদিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার গুরুত্ব তুলে ধরতেই প্রতি বছর এই দিনটি পালন করা হয়।

১৯৯৩ সালে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদ আনুষ্ঠানিকভাবে ৩ মে-কে বিশ্ব গণমাধ্যম স্বাধীনতা দিবস হিসেবে ঘোষণা করে। এর আগে ১৯৯১ সালে নামিবিয়ার উইন্ডহুকে গৃহীত উইন্ডহুক ঘোষণা-এর মাধ্যমে স্বাধীন ও বহুমুখী গণমাধ্যম প্রতিষ্ঠার আহ্বান জানানো হয়, যা পরবর্তীতে এই দিবস ঘোষণার ভিত্তি তৈরি করে।

বর্তমান সময়ে গণমাধ্যম সমাজের গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে সত্য ও নিরপেক্ষ তথ্য মানুষের কাছে পৌঁছে দিচ্ছে। নানা চ্যালেঞ্জের মধ্যেও সাংবাদিকরা পেশাগত দায়িত্ব পালন করে গণতন্ত্রকে শক্তিশালী করতে অবদান রাখছেন।

বিশ্ব গণমাধ্যম দিবস উপলক্ষে গণ টেলিভিশন-এর পক্ষ থেকে দেশের সকল সাংবাদিক, গণমাধ্যমকর্মী ও দর্শকদের জানানো হয়েছে আন্তরিক শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন। সত্য ও বস্তুনিষ্ঠ সংবাদ পরিবেশনের মাধ্যমে সমাজের কল্যাণে কাজ করে যাওয়ার প্রত্যয় পুনর্ব্যক্ত করেছে প্রতিষ্ঠানটি।

আজ বিশ্ব গণমাধ্যম দিবস

প্রতিবেদনঃ ওমর ফারুক

যারা বিবাহিত, তাদের তুলনায় অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্কদের ক্যানসার হওয়ার ঝুঁকি উল্লেখযোগ্যভাবে বেশি। যুক্তরাষ্ট্রের মায়ামি বিশ্ববিদ্যালয়ের নতুন এক গবেষণায় এমন চমকপ্রদ তথ্য উঠে এসেছে।

পরিসংখ্যান অনুযায়ী, অবিবাহিত পুরুষদের ক্যানসারের ঝুঁকি বিবাহিতদের তুলনায় প্রায় ৭০ শতাংশ বেশি।

গবেষণায় দেখা গেছে, যারা কখনো বিয়ে করেননি, তাদের মধ্যে ক্যানসারে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি তুলনামূলকভাবে বেশি।

 

 

২০১৫ থেকে ২০২২ সালের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের ১২টি অঙ্গরাজ্যের ৪০ লাখের বেশি মানুষের তথ্য বিশ্লেষণ করে এই ফল পাওয়া গেছে। গবেষণায় বলা হয়েছে, প্রায় সব ধরনের প্রধান ক্যানসারের ক্ষেত্রেই অবিবাহিতদের ঝুঁকি বেশি দেখা গেছে।

 

পরিসংখ্যান অনুযায়ী, অবিবাহিত পুরুষদের ক্যানসারের ঝুঁকি বিবাহিতদের তুলনায় প্রায় ৭০ শতাংশ বেশি। নারীদের ক্ষেত্রে এই ঝুঁকি আরও বেশি, প্রায় ৮৫ শতাংশ পর্যন্ত।

 

গবেষণায় আরও দেখা গেছে, অবিবাহিত পুরুষদের মধ্যে মলদ্বারের ক্যানসারের হার বিবাহিতদের তুলনায় প্রায় পাঁচ গুণ বেশি। অন্যদিকে অবিবাহিত নারীদের ক্ষেত্রে জরায়ুমুখের ক্যানসারের হার প্রায় তিন গুণ বেশি।

গবেষকদের মতে, বিয়ে অনেক সময় মানুষের জীবনযাপনকে প্রভাবিত করে। খাদ্যাভ্যাস, স্বাস্থ্যসচেতনতা এবং নিয়মিত চিকিৎসা পরীক্ষার মতো বিষয়গুলো এতে যুক্ত থাকে। ফলে এটি পরোক্ষভাবে স্বাস্থ্যের ওপর প্রভাব ফেলতে পারে।

 

তবে বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করেছেন, এর মানে এই নয় যে বিয়ে করলেই ক্যানসার থেকে সুরক্ষা পাওয়া যাবে। বরং এটি একটি সামাজিক ও আচরণগত ইঙ্গিত মাত্র।

 

গবেষকরা আরও বলেছেন, যারা অবিবাহিত, তাদের উচিত স্বাস্থ্যঝুঁকির বিষয়ে আরও সতর্ক থাকা। নিয়মিত পরীক্ষা করানো এবং স্বাস্থ্যকর জীবনযাপন বজায় রাখে।

 

অবিবাহিতদের ক্যানসারের ঝুঁকি বেশি, বলছে গবেষণা

বিস্তারিত....

মতামত

আগামীকাল থেকে শুরু হচ্ছে এইচএসসি পরীক্ষা: পরীক্ষার্থীদের অভিনন্দন জানিয়েছেন সাভার থানা বিএনপি সভাপতি সাইফুদ্দিন সাইফুল।

 

রাকিবুল ইসলাম রঞ্জু:

আগামীকাল থেকে শুরু হতে যাওয়া উচ্চ মাধ্যমিক সার্টিফিকেট (এইচএসসি) ও সমমানের পরীক্ষার সকল পরীক্ষার্থীদের আন্তরিক অভিনন্দন, শুভেচ্ছা ও শুভকামনা জানিয়েছেন সাভার থানা বিএনপির সভাপতি ও বিশিষ্ট সমাজসেবক সাইফুদ্দিন সাইফুল।

 

আজ এক শুভেচ্ছা বার্তায় তিনি পরীক্ষার্থীদের উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ ও সাফল্য কামনা করেন।

 

শুভেচ্ছা বার্তায় সাইফুদ্দিন সাইফুল বলেন, “এইচএসসি পরীক্ষা প্রতিটি শিক্ষার্থীর জীবনের একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ধাপ। এটি তাদের ভবিষ্যৎ উচ্চশিক্ষা ও ক্যারিয়ার গড়ার ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করে। আমি আশা করি, আমাদের সাভারসহ সারা দেশের শিক্ষার্থীরা অত্যন্ত ধৈর্য, মেধা ও মনোযোগের সাথে পরীক্ষায় অংশ নিয়ে নিজেদের মেধার সর্বোচ্চ স্বাক্ষর রাখবে।”

 

তিনি আরও বলেন, “শিক্ষার্থীরাই আমাদের আগামী দিনের দেশ গড়ার কারিগর। তাদের এই পথচলায় শিক্ষক ও অভিভাবকদের অবদান অনস্বীকার্য। আমি সকল পরীক্ষার্থীর সুস্বাস্থ্য, দীর্ঘায়ু ও পরীক্ষায় আশানুরূপ সাফল্য কামনা করছি। আল্লাহ যেন তাদের মনের আশা পূরণ করেন এবং তারা যেন দেশ ও জাতির কল্যাণে নিয়োজিত হতে পারে।”

 

একই সাথে তিনি পরীক্ষা সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা, শিক্ষক ও অভিভাবকদের প্রতি পরীক্ষার্থীরা যাতে সুষ্ঠু, সুন্দর ও নকলমুক্ত পরিবেশে পরীক্ষা দিতে পারে, তা নিশ্চিত করার আহ্বান জানান।

এইচএসসি পরীক্ষার্থীদের অভিনন্দন জানিয়েছেন সাভার থানা বিএনপি সভাপতি সাইফুদ্দিন সাইফুল

নাগরিক সমস্যার সমাধানে শুধু সরকারের ওপর নির্ভর না করে সবাইকে দায়িত্বশীল হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান।

 

বুধবার (১ জুলাই) রাজধানীর শেওরাপাড়ায় ডেঙ্গু প্রতিরোধ, পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা ও নাগরিক সমস্যা সমাধান অভিযান শেষে তিনি এ কথা বলেন।

 

জামায়াত আমির বলেন, পানি, গ্যাস ও জলাবদ্ধতার মতো অনেক সমস্যার পেছনে নাগরিকদের অসচেতনতাও দায়ী। নিজের গার্বেজটা ড্রেনে নিয়ে আমরা ফেলে দিই। সরকার তো প্রতিদিন ড্রেন পরিষ্কার করবে না। সরকার পরিষ্কার করে দেবে, নাগরিকদের সেটা রক্ষা করতে হবে।

 

এসময় বর্জ্য ড্রেনে ফেলে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি করা থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানান তিনি।

 

বিদ্যুৎ সংকট নিরসনে সরকার আন্তরিকভাবে কাজ করছে উল্লেখ করে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, সরকার, বিরোধী দল ও সাধারণ মানুষের সম্মিলিত উদ্যোগেই এসব সমস্যার দ্রুত সমাধান সম্ভব। একই সঙ্গে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি উন্নয়নে পুলিশকে সহযোগিতা এবং পরিবার থেকেই সন্তানদের চলাফেরা ও সঙ্গী সম্পর্কে সচেতন থাকার পরামর্শ দেন তিনি। এসময় স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম বলেন, ইতোপূর্বে উনার (ডা. শফিকুর রহমান) মতো দূরদর্শী নেতা সংসদে ছিল কি না, আমার জানা নেই। নিজ এলাকার দায়িত্বও তিনি প্রধানমন্ত্রীর হাতে তুলে দিয়েছেন।

শুধু সরকারের ওপর নির্ভর করবেন না: জামায়াত আমির

ইসলামী ব্যাংক ইসলাম নয়, মির্জা ফখরুল ইসলামও ইসলাম নয়, আবার জামায়াতে ইসলামও ইসলাম নয়। সবকিছুতে এভাবে ইসলামের দোহাই দেওয়া ঠিক নয়’’ বলে মন্তব্য করেছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাউদ্দিন আহমদ।

 

আজ মঙ্গলবার (০৯ জুন) জাতীয় সংসদে বাজেট অধিবেশনে বিরোধীদলের সংসদ সদস্যদের সমালোচনার জবাবে এ মন্তব্য করেন তিনি।

 

ইসলামী ব্যাংকের শীর্ষ পদে সাম্প্রতিক রদবদল, গ্রাহক বিক্ষোভ এবং সাবেক এমডির পদত্যাগ নিয়ে আজ স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাউদ্দিন আহমদের বিরুদ্ধে বক্তব্য দেন বিরোধীদলের এমপিরা।

 

পরে বিরোধীদলকে উদ্দেশ্য করে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘‘চেয়ারম্যান থেকে শুরু করে বোর্ড অব ডিরেক্টরের সবাইকে ব্যাংক কোম্পানি আইন অনুযায়ী বাংলাদেশ ব্যাংক অব্যাহতি দিতে পারে। এ বিষয়ে যদি কোনো প্রশ্ন তুলতে হয়, তবে আইন পরিবর্তন করে আসতে হবে।’’

 

অভিযোগ করে সালাউদ্দিন আহমদ বলেন, ‘ব্যাংকে বিশৃঙ্খলা তৈরির উদ্দেশ্যে একটি মহল পর্দার আড়ালে থেকে ‘‘গ্রাহক’’ সেজে আন্দোলন করাচ্ছে। বিরোধীদল বিরোধীদলের ভূমিকা পালন করুক, তাতে আপত্তি নেই। কিন্তু বারে বারে এভাবে পর্দার আড়ালে ও পর্দার বাইরে প্রচারণা চালিয়ে মানুষকে বিভ্রান্ত করবেন না।’

 

সংসদকে আশ্বস্ত করে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘‘ইসলামী ব্যাংকের বৈধ শেয়ারহোল্ডারদের শেয়ার যথাযথভাবে হস্তান্তর করা হবে। এছাড়া, নাবিল গ্রুপসহ যারা ব্যাংক থেকে টাকা নিয়ে আর ফেরত দেয়নি, তাদের প্রত্যেকের বিরুদ্ধে সুষ্ঠু তদন্ত করা হবে। একই সঙ্গে, বিগত সময়ে নিয়ম না মেনে ব্যাংকটিতে যে ৯ হাজার কর্মীকে চাকরিচ্যুত করা হয়েছিল, সেই বিষয়টিও তদন্তের আওতায় আনা হবে বলে জানান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।’’

 

এর আগে জামায়াতের আমির ডা. শফিকুর রহমানও মন্তব্য করেছিলেন, ‘‘একটি নতুন ষড়যন্ত্রের মাধ্যমে ইসলামী ব্যাংকের চেয়ারম্যান পদে অযোগ্য ব্যক্তিকে বসানো হয়েছে।’’

 

সংসদে প্রশ্নোত্তর পর্বে অংশ নিয়ে বিরোধীদলের উপনেতা আবদুল্লাহ মোহাম্মদ তাহের ইসলামী ব্যাংকের বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে সরকারের তীব্র সমালোচনা করেন। তিনি বলেন, ‘‘বিগত সরকারের আমলে ২৬টি ভুয়া কোম্পানি গঠন করে ইসলামী ব্যাংক থেকে ১ লাখ ২৫ হাজার কোটি টাকা সরিয়ে নিয়েছিল এস আলম গ্রুপ। আর এখন বর্তমান সরকার ব্যাংকটিতে কিছু বিতর্কিত লোককে বসিয়েছে। এর মাধ্যমে জনগণের টাকা পুনরায় লুটপাট হবে, এটা অত্যন্ত পরিষ্কার।’’

 

আবদুল্লাহ মোহাম্মদ তাহের প্রশ্ন তোলেন, ‘‘কোন কারণে একজন দুর্নীতিগ্রস্ত ব্যক্তিকে চেয়ারম্যান করা হলো এবং কোন কারণে আগের এমডিকে পদত্যাগ করতে বাধ্য করা হলো? ইসলামী ব্যাংককে যদি স্বাভাবিক প্রক্রিয়ায় চলতে না দেয়া হয়, তবে দেশে বড় ধরনের বিশৃঙ্খলা তৈরি হবে।’’

ইসলামী ব্যাংক ইসলাম নয়, মির্জা ফখরুলও ইসলাম নয়, জামায়াতও ইসলাম নয়: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

 

সরকারের কোষাগারের টাকায় ঢাকার দুই সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক নির্বাচনী প্রচারণা চালাচ্ছেন বলে অভিযোগ করেছেন এনসিপির মুখপাত্র আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া।

 

আজ মঙ্গলবার (৯ জুন) বিকেলে রাজধানীর নাখালপাড়ার হোসেন আলী উচ্চ বিদ্যালয়ে বৃক্ষ বিতরণ কর্মসূচি শেষে এ অভিযোগ করেন তিনি।

 

এনসিপির মুখপাত্র বলেন, এনসিপির পক্ষ থেকে ৫ দফা দাবি দেওয়া হয়েছে। তারা চেয়ারে বসে নির্বাচন করতে পারবেন না। তারা লাখ লাখ পোস্টার লাগিয়ে নগরকে দূষিত করছেন। আবাসিক এলাকা, এমনকি মেট্রো স্টেশনেও গরুর হাট বসানো হয়েছে। এই অব্যবস্থাপনাই প্রমাণ করে তারা মেয়র হওয়ার যোগ্য নন।

 

আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া বলেন, বিভিন্ন জায়গায় আওয়ামী লীগের (কার্যক্রম নিষিদ্ধ দল) মিছিল হচ্ছে। যা স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ও মন্ত্রণালয়ের ব্যর্থতা, কারণ আওয়ামী লীগের সকল কার্যক্রম নিষিদ্ধ আছে।

 

এদিকে, স্থানীয় নির্বাচনে এনসিপি এককভাবে অংশ নেওয়ার সর্বোচ্চ প্রস্তুতি নিচ্ছে উল্লেখ করে আসিফ মাহমুদ জানান, জোটগতভাবে নির্বাচনে যাবে কি না তা তফসিলের পর দলগুলোর সাথে বসে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

সরকারি টাকায় ভোটের প্রচারণা চালাচ্ছেন ঢাকার দুই সিটি প্রশাসক: আসিফ মাহমুদ

৮ লাখ ৩৯ হাজার ৫০৫ কোটি টাকার ‘ছায়া বাজেট প্রস্তাবনা’ ‍দিয়েছে বিরোধী দল বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। এই বাজেটে সামগ্রিক ঘাটতি রয়েছে ১ লাখ ৭৩ হাজার ৫৭৯ কোটি টাকা।

 

মঙ্গলবার (৬ জুন) রাজধানীর মগবাজারে জামায়াতে ইসলামীর পক্ষ থেকে ‘ছায়া বাজেট প্রস্তাবনা’ উপস্থাপন করেন দলের আমির ডা. শফিকুর রহমান।

 

এ সময় তিনি বলেন, নির্বাচনের ফলাফল মেনে নিয়েই সংসদে গিয়েছিলাম। দুটি ভোট একসঙ্গে অনুষ্ঠিত হয়েছিল। কিন্তু তারা একটি শপথ নিলেন, আরেকটি নিলেন না। গণভোটকে তারা অস্বীকার করলেন। রাজনৈতিক ব্যক্তিরা যদি এভাবেই জনগণকে ধোঁকা দেয় তাহলে রাজনৈতিক দলের ওপর মানুষের আস্থা থাকবে কীভাবে?

 

জামায়াতের আমির বলেন, দুই-তৃতীয়াংশের জোরে সরকার আমাদের দাবি অগ্রাহ্য করে জনগণকে অপমান করেছে। গণভোটের রায় ব্যর্থ হওয়ার দলিল কোথাও নেই। এবারই প্রথম বিপত্তি ঘটলো। আমরা যে আশঙ্কা করেছিলাম, এখন তা স্পষ্ট হয়ে উঠেছে সমাজে। আর্থিক, রাজনৈতিক, প্রাতিষ্ঠানিক, সাংবাদিক সমস্ত জায়গায় আজকে রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ স্পষ্ট। সমাজের অপরাধী লোকদের গুরুত্বপূর্ণ জায়গায় বসিয়ে দেয়া হচ্ছে।

 

তিনি বলেন, আমরা বাজেট কোনো দলের জন্য দিচ্ছি না, এই বাজেট ১৮ বা ২০ কোটি মানুষের। আমরা যে প্রস্তাবনা জনগণের সামনে পেশ করবো এটার শর্ত আছে। সততা, স্বচ্ছতা আর জবাবদিহিতা থাকলে এটা অর্জন করা সম্ভব। কিন্তু সততা, স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা আর একাউন্টটিবিলিটি না থাকলে যে বাজেট সরকার দেবে সেটা বাস্তবায়ন করা সম্ভব হবে না।

 

ডা. শফিকুর রহমান আরও বলেন, আমাদের ফ্রিস্কাল ইয়ার জুলাই টু জুন। জুন মাস সাধারণত দেশ বর্ষা-খরা-সাইক্লোনে আক্রান্ত হয়। আমরা লক্ষ্য করি এডিপির একটা বিশাল অংশ শেষের দুই মাসে তাড়াহুড়ো করা বাস্তবায়নের চেষ্টা করা হয়। এটি বাস্তবায়ন নয়, এটি হচ্ছে গণ লুটপাট। এর সুফল জনগণ পায় না। আমরা সংসদে প্রস্তাব দেব, আমাদের ফ্রিস্কাল ইয়ার ক্যালেন্ডার ইয়ারের সঙ্গে মিলিয়ে করা হোক। তাহলে বর্ষার পানিতে আমাদের টাকাগুলা ধুয়ে মুছে সাফ হয়ে যাবে না।

৮ লাখ ৩৯ হাজার ৫০৫ কোটি টাকার ‘ছায়া বাজেট প্রস্তাবনা’ ‍দিয়েছে বিরোধী দল বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী

বিস্তারিত....

সারাবাংলা

জুলাই আন্দোলনকে অবমাননা ও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে অপপ্রচারের অভিযোগ তুলে শোবিজ দুনিয়ার তিন মডেল-আইনজীবী জান্নাতুল ফেরদৌস পিয়া, মডেল মারিয়া কিসপট্টা এবং অভিনেত্রী শামীমা তুষ্টির বিরুদ্ধে থানায় অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে

শনিবার (৪ জুলাই) শোবিজ জগতের এ তিন নারীর বিরুদ্ধে শাহবাগ থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) দায়ের করা হয়। ‘রাষ্ট্র সংলাপ ফোরাম’ সংগঠনের সদস্য মিল্লাত হোসেন এ অভিযোগ দায়ের করেন।

 

 

শাহবাগ থানার ডিউটি অফিসার এসআই মাজিবুল আলম বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, অভিযোগটি জিডি হিসেবে গ্রহণ করার পর তা তদন্তের জন্য এসআই আশরাফ আলীর কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।

 

তিনি আরও জানান, মডেল ও আইনজীবী জান্নাতুল ফেরদৌস পিয়া, মডেল মারিয়া কিসপট্টা এবং অভিনেত্রী শামীমা তুষ্টি ছাড়া আরও তিনজন রয়েছেন। তারা হলেন সাংবাদিক আনিস আলমগীর, উপস্থাপিকা সোমা ইসলাম এবং সাবেক ছাত্রলীগ নেতা ও কলামিস্ট মোমিন মেহেদী।

 

অভিযোগ প্রসঙ্গে শাহবাগ থানার ডিউটি অফিসার এসআই মাজিবুল আলম জানান, বিষয়টি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ও সাইবার সংশ্লিষ্ট। তাই তদন্তকারী কর্মকর্তা বিষয়টি পর্যালোচনা করছেন। প্রয়োজনে এটি সাইবার ইউনিটেও পাঠানো হতে পারে। তদন্তে অপরাধের প্রমাণ পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে পরবর্তী আইনি পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।

 

এর আগে শুক্রবার (৩ জুলাই) সকালে জুলাই আন্দোলনকে অবমাননা ও অপপ্রচারের অভিযোগে অভিনেত্রী মেহের আফরোজ শাওন, চিত্রনায়িকা মাহিয়া মাহি এবং শান্তা ফারজানা নামে এক নারীর বিরুদ্ধে সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করা হয়। থানায় অভিযোগ দায়ের করেন ‘রাষ্ট্র সংলাপ ফোরাম’ সংগঠনের প্রতিনিধি কেন্দ্রীয় সদস্য সচিব আনম আয়াস, তুহিন ফরাজী এবং কেন্দ্রীয় মুখ্য সংগঠক মুহাম্মদ শাহ্ আলম বাদশা।

অভিযোগপত্রে উল্লেখ করা হয়, বাংলাদেশের ইতিহাসের একটি অবিচ্ছেদ্য অংশ জুলাই আন্দোলনকে নিয়ে অভিযুক্তরা বিভ্রান্তিকর ও অবমাননাকর অপপ্রচার চালিয়েছেন যা জনমনে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি করেছে। তাই আইন অনুযায়ী অভিযুক্তদের শাস্তি চান তারা।

প্রসঙ্গত, ২০২৪ সালে কোটা সংস্কারের দাবিতে শুরু হওয়া শিক্ষার্থীদের স্বতঃস্ফূর্ত প্রতিবাদ দিয়ে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের শুরু। এই আন্দোলনে পরে ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানে পরিণত হলে ৫ আগস্ট শেখ হাসিনা সরকারের পতন ঘটে।

পিয়া-মারিয়া-তুষ্টিসহ ৬ জনের বিরুদ্ধে থানায় জিডি

খুলনা শিপইয়ার্ড সড়ক প্রশস্তকরণ ও উন্নয়ন প্রকল্প সরেজমিনে পরিদর্শন করেছেন মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গনি।

শনিবার (৪ জুলাই) তিনি প্রকল্প এলাকার বিভিন্ন অংশ ঘুরে দেখে বাস্তবায়ন অগ্রগতি সম্পর্কে খোঁজখবর নেন এবং স্থানীয়দের সঙ্গে মতবিনিময় করেন।

 

 

পরিদর্শনকালে তিনি প্রকল্পের প্রধান সড়ক, চারটি সুইচগেট, প্রকল্প এলাকার ম্যাপ এবং রূপসা সেতুর প্রবেশমুখে নির্মাণাধীন ব্রিজ পর্যবেক্ষণ করেন। এ সময় প্রকল্প এলাকার সাধারণ মানুষের সঙ্গে কথা বলে তাদের মতামতও শোনেন।

পরে খুলনা সার্কিট হাউজে অনুষ্ঠিত ‘শিপইয়ার্ড সড়ক প্রশস্তকরণ ও উন্নয়ন (তৃতীয় সংশোধিত)’ প্রকল্পের বাস্তবায়ন সভায় যোগ দেন মন্ত্রিপরিষদ সচিব। সভার আগে তিনি সার্কিট হাউজ প্রাঙ্গণে একটি গাছের চারা রোপণ করেন।

 

সভায় গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. নজরুল ইসলাম, বাস্তবায়ন পরিবীক্ষণ ও মূল্যায়ন বিভাগের (আইএমইডি) সচিব সিরাজুন নূর চৌধুরী, খুলনা বিভাগীয় কমিশনার মো. আবদুল্লাহ হারুন, জেলা প্রশাসক হুরে জান্নাত, খুলনা সিটি করপোরেশনের প্রশাসক নজরুল ইসলাম মঞ্জু, কেডিএ চেয়ারম্যান এস এম শফিকুল ইসলাম, প্রকল্প পরিচালক মো. আরমান হোসেনসহ বিভাগীয়, জেলা প্রশাসন ও কেডিএর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

 

খুলনা শিপইয়ার্ড সড়ক প্রকল্প পরিদর্শনে মন্ত্রিপরিষদ সচিব

গাজীপুর মহানগরীর কোনাবাড়ী থানাধীন প্রতাবপুর এলাকায় কৃষক লীগের এক নেতাকে আটক করার পর অর্থের বিনিময়ে ছেড়ে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে পুলিশের এক উপপরিদর্শকের (এসআই) বিরুদ্ধে। একই সঙ্গে ওই নেতাকে আটকের ঘটনায় পুলিশকে সহযোগিতা করার অভিযোগ তুলে এক স্থানীয় মুদি ব্যবসায়ীকে প্রাণনাশের হুমকি দেওয়ার অভিযোগও উঠেছে।

 

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত ২২ জুন রাত সাড়ে ১১টার দিকে এসআই কামরুল হাসানের নেতৃত্বে একদল পুলিশ প্রতাবপুর এলাকায় অভিযান চালায়। এ সময় ১১ নম্বর ওয়ার্ড কৃষক লীগের সভাপতি মতিন মিয়াকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করা হয়। অভিযোগ রয়েছে, পরে তার পরিবারের সদস্যদের কাছ থেকে দুই লাখ টাকা নিয়ে তাকে ছেড়ে দেওয়া হয়। ঘটনার পরদিন ২৩ জুন থেকে মতিন মিয়া আত্মগোপনে রয়েছেন বলে এলাকাবাসীর দাবি।

 

এদিকে মতিন মিয়াকে আটকের ঘটনায় পুলিশের কাছে তার বাড়ির অবস্থান দেখিয়ে দেওয়ার অভিযোগ তুলে স্থানীয় মুদি ব্যবসায়ী নূর মোহাম্মদকে বিভিন্নভাবে ভয়ভীতি ও প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় তিনি কোনাবাড়ী থানায় একটি লিখিত অভিযোগ করেছেন।

 

অভিযোগে নূর মোহাম্মদ উল্লেখ করেন, ঘটনার রাতে পুলিশ তার দোকানে এসে মতিন মিয়ার বাড়ির অবস্থান জানতে চাইলে তিনি তা দেখিয়ে দেন। এরপর পুলিশ মতিন মিয়াকে আটক করে নিয়ে যায়। পরদিন মতিন মিয়ার ভাই আলম তার দোকানে এসে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করেন এবং পুলিশকে সহযোগিতা করার অভিযোগ তুলে তাকে হত্যার হুমকি দেন।

 

নূর মোহাম্মদ বলেন, ‘আমি একজন সাধারণ দোকানি। পুলিশ আমার কাছে রাস্তা জানতে চাইলে আমি শুধু বাড়ির অবস্থান দেখিয়ে দিয়েছি। পরে শুনেছি, রাতেই টাকার বিনিময়ে তাকে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। এখন উল্টো আমাকে ও আমার পরিবারকে হুমকি দেওয়া হচ্ছে। আমি নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছি।’

 

অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে এসআই কামরুল হাসান অর্থ লেনদেনের অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, ‘আমি কোনো টাকা নিইনি।’ এরপর বিষয়টি নিয়ে আবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি আর ফোন রিসিভ করেননি।

 

এ বিষয়ে কোনাবাড়ী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. ইফতেখার আহমেদ বলেন, ‘বিষয়টি সম্পর্কে আমি অবগত আছি। তবে আমার কাছে এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো অভিযোগ আসেনি। অভিযোগ পেলে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

কৃষক লীগ নেতাকে আটকের পর অর্থের বিনিময়ে ছেড়ে দেওয়ার অভিযোগ এসআইয়ের বিরুদ্ধে

বিস্তারিত....

Top