Gono television | বাংলাদেশ সরকার অনুমোদিত বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেল। - Gono television is the Bangladesh Government Approved 24/7 News Based TV Channel and Most Reliable News Source and Leading 24/7 News Based TV Channel in Bangladesh, It also the Most Popular News Media for Bangaldesh and Bengali Audience worlwide since 2016.

সংবাদ শিরোনামঃ
খাদ্য অধিদপ্তরের নিয়োগ পরীক্ষায় জালিয়াতি, ঢাকা কলেজ কেন্দ্রে আটক ৫০ পরীক্ষার্থী রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনে জোরালো বৈশ্বিক পদক্ষেপের আহ্বান রাজধানীর ওয়ারীর অটো সজলসহ গ্রেফতার ৪, উদ্ধার অস্ত্র-গুলি ও মাদক সাতক্ষীরার শ্যামনগরে চাঞ্চল্য: চার বন্ধুর সঙ্গে পালিয়ে গেল চার বান্ধবী বিশ্বকাপে কানাডার প্রথম জয়ের দিনে মাঠেই পা ভাঙল ইসমাইলের কোনের এমপিকে গুলির পরিকল্পনার অডিও ফাঁস, সাতকানিয়া-লোহাগাড়ায় চাঞ্চল্য অভাবে মেয়েকে ২৫ হাজার টাকায় বিক্রি, স্ত্রীকে জানান ‘জিন-পরী নিয়ে গেছে’ জয়ের জন্য মরিয়া ব্রাজিলের সামনে দুর্বল হাইতি, একাদশে থাকছেন যারা পাবলিক পরীক্ষায় ‘ডিজিটাল ম্যানিপুলেশন’ করলে ৫ বছর জেল যমজ কন্যাসন্তান জন্ম দেওয়ায় স্ত্রীকে তালাক দিলেন স্বামী

কেপ ভার্দের গোলরক্ষক ভোজিনহার মা অবশেষে যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে ছেলের বিশ্বকাপের খেলা মাঠে বসে দেখতে পারবেন। ভিসা ফি মওকুফ করায় এই সুযোগ তৈরি হয়েছে বলে জানিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র সরকার।

 

৪০ বছর বয়সী ভোজিনহা সোমবার স্পেনের বিপক্ষে কেপ ভার্দের চমকপ্রদ ড্রয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন। ম্যাচ শেষে আবেগঘন প্রতিক্রিয়ায় তিনি জানান, উচ্চ ভিসা ফি ও সংশ্লিষ্ট খরচের কারণে তার মা যুক্তরাষ্ট্রে এসে বিশ্বকাপ দেখতে পারছিলেন না। কার্লো-ন্যাশনালিস্টসহ স্থানীয় সংবাদমাধ্যম এ বিষয়ে খবর প্রকাশ করেছে।

 

বিষয়টি সামনে আসার পর যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধি পরিষদে ডেমোক্র্যাটিক নেতা হাকিম জেফ্রিস উদ্যোগ নেন। তিনি জানান, পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিওর সঙ্গে কথা বলে তিনি কেপ ভার্দের গোলরক্ষকের মায়ের জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের অনুরোধ করেন।

 

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক বার্তায় জেফ্রিজ বলেন, কেপ ভার্দের ‘ব্লু শার্কস’-এর লড়াকু মানসিকতা ও সাফল্যে বিশ্বের ফুটবলপ্রেমীরা আনন্দিত হলেও ভোজিনহার মায়ের অনুপস্থিতির খবর সেই আনন্দ কিছুটা ম্লান করে দিয়েছিল।

 

তিনি আরও বলেন, কোনো মায়েরই তার সন্তানের ইতিহাস গড়ার মুহূর্ত সরাসরি দেখার সুযোগ হাতছাড়া হওয়া উচিত নয়।

 

জেফ্রিজ জানান, যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর নিয়ম অনুযায়ী সব ভিসা ফি মওকুফ করেছে এবং ভোজিনহার মা আনা ক্যান্ডিডা এভোরা আগামী রোববার উরুগুয়ের বিপক্ষে কেপ ভার্দের ম্যাচ দেখতে যুক্তরাষ্ট্রে যেতে পারবেন। বর্তমানে মা-ছেলের পুনর্মিলনের জন্য মায়ামিতে ভ্রমণের ব্যবস্থা করা হচ্ছে।

 

এ ঘটনায় সহযোগিতার জন্য তিনি মার্কো রুবিও, যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর, কেপ ভার্দে সরকারের প্রতিনিধি এবং ফিফাকে ধন্যবাদ জানান।

 

কেপ ভার্দের বিশ্বকাপ যাত্রায় এই মানবিক উদ্যোগ নতুন মাত্রা যোগ করেছে। স্পেনের বিপক্ষে ঐতিহাসিক ফলের পর এখন উরুগুয়ের বিপক্ষে ম্যাচের প্রস্তুতি নিচ্ছে দলটি। সব কিছু ঠিক থাকলে এবারও ভোজিনহা মাঠে নামবেন। মায়ের উপস্থিতি তাকে দিবে বাড়তি অনুপ্রেরণা।

স্বপ্ন পূরণ হচ্ছে ভোজিনহার, মাঠ থেকে সরাসরি দেখবেন মা

খাদ্য অধিদপ্তরের অধীনে সহকারী উপখাদ্য পরিদর্শক পরীক্ষা চলাকালে অবৈধ ডিভাইস ও মোবাইল সহকারে হলে অবস্থান করে জালিয়াতির অভিযোগে ৫০ জনকে আটক করা হয়েছে। আজ শুক্রবার (১৯ জুলাই) বেলা ১২টার দিকে ঢাকা কলেজ কেন্দ্রে তাদের আটক করা হয়। এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন ঢাকা কলেজ অধ্যক্ষ অধ্যাপক এ কে এম ইলিয়াস।

 

জানা যায়, শুক্রবার বেলা ১১টার দিকে রাজধানীর ঢাকা কলেজে খাদ্য অধিদপ্তরের সহকারী উপখাদ্য পরিদর্শক পদে পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়। একপর্যায়ে পরীক্ষা পরিদর্শনে আসা ঢাকা জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে কর্মরত এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট মো. শরীফুল্লাহর নেতৃত্বে অভিযান চালিয়ে পরীক্ষাকেন্দ্রে জালিয়াতির অভিযোগে ৫০ জনকে আটক করা হয়।

 

পরীক্ষাকেন্দ্র থেকে ইলেকট্রনিক ডিভাইসসহ ২৮ জনকে ও কেন্দ্রের বাহিরে ঢাকা কলেজে মূল ফটক থেকে ২২ জনকে আটক করা হয়। এর মধ্যে ফৌজদারি দন্ডবিধির ২৪৫ ও ২৫৮ ধারা অনুযায়ী অন্তত ১৬ জনকে ১ থেকে ৭ দিন করে কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।

 

এ বিষয়ে ঢাকা কলেজ অধ্যক্ষ অধ্যাপক এ কে এম ইলিয়াস বলেন, পরীক্ষায় সময় যাদের সন্দেহজনক মনে হয়েছে পরবর্তীতে চেক করে তাদের কাছে ইলেকট্রনিক ডিভাইস পাওয়া গেছে। মোবাইলে মেসেজ পাওয়া গেছে। পরীক্ষার সময় তারা প্রশ্ন স্ক্যান করে পাঠিয়েছে। এরপর বাহিরে থেকে সেই উত্তর আসছে।

 

তিনি আরও বলেন, এর মধ্যে দুইটা গ্রুপ আছে। একটা হল যারা গেটের বাইরে ঢোকার সময় ধরা পড়ছে। আরেক গ্রুপকে পরীক্ষার হল থেকে ধরা হয়েছে। এরপর জালিয়াতির সঙ্গে যুক্ত পরীক্ষার্থীদের বিভিন্ন রুম থেকে ধরে এনে আলাদা দুইটা রুমে রাখা হয়েছিল। কেন্দ্রের যে ম্যাজিস্ট্রেট আছে তার কাছে সপর্দ করা হয়েছে। আটকারীদের বিরুদ্ধে ম্যাজিস্ট্রেট আইনানুক ব্যবস্থা নিচ্ছে।

 

ঢাকা মহানগর পুলিশের রমনা জোনের নিউমার্কেট অঞ্চলের সহকারী কমিশনার জাহাঙ্গীর আলম বলেন, পরীক্ষায় জালিয়াতির সঙ্গে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে মামলা হবে। এরপর তাদেরকে আদালতে পাঠানো হবে।

খাদ্য অধিদপ্তরের নিয়োগ পরীক্ষায় জালিয়াতি, ঢাকা কলেজ কেন্দ্রে আটক ৫০ পরীক্ষার্থী

বেসামরিক জনগণের সুরক্ষা নিশ্চিতকরণ, আন্তর্জাতিক মানবিক আইন সমুন্নত রাখা এবং রোহিঙ্গাদের নিজ দেশ মায়ানমারে প্রত্যাবাসনের লক্ষ্যে আরো কার্যকর আন্তর্জাতিক পদক্ষেপ গ্রহণের আহ্বান জানিয়েছেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম।

 

নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সদরদপ্তরে গতকাল বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) অনুষ্ঠিত ২০২৬ সালের ইকোসক হিউম্যানিটারিয়ান অ্যাফেয়ার্স সেগমেন্টের উচ্চপর্যায়ের প্যানেল আলোচনায় বক্তব্য প্রদানকালে এ আহ্বান জানান তিনি।

 

আন্তর্জাতিক মানবিক আইন লঙ্ঘনের জন্য জবাবদিহিতা নিশ্চিতকরণ, সংঘাত প্রতিরোধে অধিক বিনিয়োগ এবং মানবিক, শান্তি ও উন্নয়ন কার্যক্রমের মধ্যে সমন্বয় জোরদারের ওপর গুরুত্বারোপ করে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী নারী ও কিশোরীদের বিরুদ্ধে ক্রমবর্ধমান প্রযুক্তিনির্ভর হয়রানি ও অপব্যবহারের বিষয়টি তুলে ধরেন। এ ধরনের হুমকি মোকাবেলায় একটি বৈশ্বিক প্ল্যাটফর্ম প্রতিষ্ঠার আহ্বান পুনর্ব্যক্ত করেন তিনি।

 

প্রতিমন্ত্রী রোহিঙ্গা নারী ও কিশোরীদের ওপর চলমান অর্থায়ন সংকটের নেতিবাচক প্রভাব নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেন।

 

তিনি রোহিঙ্গা সংকটের টেকসই সমাধানে আন্তর্জাতিক সহযোগিতা অব্যাহত রাখার ওপর গুরুত্বারোপ করে তাদের নিজ দেশ মায়ানমারে দ্রুত প্রত্যাবর্তনের আহ্বান জানান।

 

অনুষ্ঠানের ফাঁকে প্রতিমন্ত্রী ভিয়েতনামের উপ-পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. নগুয়েন মিন ভুর সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন।

 

বৈঠকে উভয়পক্ষ পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয়, দ্বিপাক্ষিক সহযোগিতা এবং বহুপাক্ষিক অঙ্গনে সহযোগিতা জোরদারের বিভিন্ন দিক নিয়ে মতবিনিময় করেন।

রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনে জোরালো বৈশ্বিক পদক্ষেপের আহ্বান

রাজধানীর ওয়ারী ও গেন্ডারিয়া এলাকায় অভিযান চালিয়ে অস্ত্র-মাদক কারবারের গডফাদার ‘অটো সজল’ ওরফে সজলসহ ৪ জনকে গ্রেফতার করেছে ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) যাত্রাবাড়ী থানা পুলিশ। এসময়, উদ্ধার করা হয়েছে পুলিশের লুণ্ঠিত অস্ত্র-গুলি ও বিপুল পরিমাণ মাদকদ্রব্য।

 

শনিবার (১৯ জুন) ডিএমপির মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার এস এন নজরুল ইসলাম।

 

পুলিশ জানায়, গত ২ মার্চ ওয়ারী এলাকায় অভিযানের সময় একটি চক্র পুলিশের ওপর গুলি চালিয়ে পালিয়ে যায়। ওই ঘটনার তদন্তের সূত্র ধরে রাজধানীর শামীবাগ এলাকায় অভিযান চালায় ডিএমপি। অভিযানে সজল ওরফে অটো সজল, বাপ্পি, শামসুন্নাহারসহ ৪ জনকে গ্রেফতার করা হয়। তাদের কাছ থেকে ৩টি অত্যাধুনিক পিস্তল ও ৭৭ রাউন্ড গুলি উদ্ধার করা হয়েছে। পুলিশ বলছে, উদ্ধারকৃত অস্ত্র গুলো থানা থেকে লুট হওয়া অস্ত্র হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

 

এছাড়াও অভিযানে বিপুল পরিমাণ মাদকও জব্দ করা হয়েছে। এ ঘটনায় গ্রেফতারদের বিরুদ্ধে গেন্ডারিয়া থানায় পৃথক দুটি মামলা করা হয়েছে।

রাজধানীর ওয়ারীর অটো সজলসহ গ্রেফতার ৪, উদ্ধার অস্ত্র-গুলি ও মাদক

সাতক্ষীরার শ্যামনগরে চাঞ্চল্য: চার বন্ধুর সঙ্গে পালিয়ে গেল চার বান্ধবী

সাতক্ষীরার শ্যামনগর উপজেলায় চার কিশোরী একসঙ্গে নিখোঁজ হওয়ার ঘটনায় এলাকাজুড়ে ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। বৃহস্পতিবার তাদের নিখোঁজ হওয়ার খবর প্রকাশ্যে আসার পর বিষয়টি নিয়ে উদ্বেগ ছড়িয়ে পড়ে পরিবার ও স্থানীয়দের মধ্যে। তবে পরে জানা যায়, ওই চার কিশোরী নিজেদের পরিচিত চার যুবকের সঙ্গে বাড়ি ছেড়ে চলে গেছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, চার বান্ধবী দীর্ঘদিন ধরে ওই চার যুবকের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছিল। পরিবারের সদস্যরা প্রথমে তাদের খোঁজ না পেয়ে উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েন এবং বিভিন্ন স্থানে অনুসন্ধান শুরু করেন। এক পর্যায়ে বিষয়টি এলাকায় ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়।

নিখোঁজের খবর ছড়িয়ে পড়ার পর স্বজনরা ধারণা করেছিলেন, কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটতে পারে। তবে পরবর্তীতে বিভিন্ন তথ্য-উপাত্তের ভিত্তিতে জানা যায়, তারা স্বেচ্ছায় চার বন্ধুর সঙ্গে বাড়ি ছেড়ে অন্যত্র চলে গেছে।

এ ঘটনায় সংশ্লিষ্ট পরিবারগুলোতে উদ্বেগ ও উৎকণ্ঠা বিরাজ করছে। সন্তানদের দ্রুত ফিরে পাওয়ার আশায় স্বজনরা প্রশাসনের সহযোগিতা কামনা করেছেন। অন্যদিকে ঘটনাটি নিয়ে এলাকাজুড়ে নানা আলোচনা-সমালোচনা চলছে।

আইনশৃঙ্খলা বাহিনী বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে পর্যবেক্ষণ করছে বলে জানা গেছে। তাদের অবস্থান নিশ্চিত করা এবং প্রয়োজনীয় আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণে সংশ্লিষ্টরা কাজ করছেন।

ঘটনার পর শ্যামনগরজুড়ে এটি এখন আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে। চার বান্ধবীর একসঙ্গে বাড়ি ছেড়ে চলে যাওয়ার ঘটনায় বিস্মিত স্থানীয়রা, আর তাদের নিরাপদে ফিরে আসার অপেক্ষায় রয়েছে পরিবারগুলো।

সাতক্ষীরার শ্যামনগরে চাঞ্চল্য: চার বন্ধুর সঙ্গে পালিয়ে গেল চার বান্ধবী

 

ভ্যাঙ্কুবারের মাঠে শুক্রবার (১৯ জুন) ফুটবলীয় গোলের উৎসব চললেও, গ্যালারি ও মাঠের ফুটবলারদের স্তব্ধ করে দিয়েছে এক বিভীষিকাময় চোট। ২০২৬ বিশ্বকাপে কাতারের বিরুদ্ধে মাঠে নেমে ৬-০ গোলের এক চোখ ধাঁধানো জয় তুলে নিয়েছে সহ-আয়োজক কানাডা। বিশ্বমঞ্চের ইতিহাসে এটিই কানাডিয়ানদের প্রথম ঐতিহাসিক জয়।

 

জোনাথন ডেভিডের দুর্দান্ত হ্যাটট্রিক আর জ্যাকব শ্যাফেলবার্গের গোলে বড় জয় নিশ্চিত হলেও, ম্যাচটি ফুটবল বিশ্ব মনে রাখবে ৫২ মিনিটে কানাডিয়ান মিডফিল্ডার ইসমাইল কোনের মারাত্মক ইনজুরির জন্য, যা পুরো স্টেডিয়ামকে বিষাদের চাদরে ঢেকে দিয়েছিল।

 

ম্যাচের ৫২তম মিনিটে ডাগআউটের ঠিক সামনেই ঘটে সেই নারকীয় ঘটনা। কাতারের আসিম মাদিবো অত্যন্ত বিপজ্জনকভাবে এক চ্যালেঞ্জ করতে গেলে সরাসরি পা ভেঙে যায় ইসমাইল কোনের। যন্ত্রণায় কোনের সেই চিৎকার শুনেই কানাডার ফুটবলাররা আতঙ্কিত হয়ে মেডিকেল টিমকে মাঠে আসার জন্য ইশারা করতে থাকেন।

 

সম্প্রচারকারীরা ঘটনার ভয়াবহতার কারণে রিপ্লে না দেখালেও, টাচলাইনের মাইক্রোফোনে স্পষ্ট শোনা যাচ্ছিল কান্নাবিজড়িত কণ্ঠে কেউ বলছেন, ‘পা তো ঝুলে পড়েছে’ মাঠের খেলোয়াড় ও কোচিং স্টাফরা দ্রুত কোনের চারপাশে এক মানবপ্রাচীর তৈরি করেন যেন সেই দৃশ্য ক্যামেরায় না আসে। ঘটনার তীব্রতায় রেফারি ভিএআর দেখে মাদিবোকে সরাসরি লাল কার্ড দেখান। এর আগে প্রথমার্ধে হোমাম এল আমিন দুই হলুদ কার্ড দেখে মাঠ ছাড়ায় কাতার পরিণত হয় ৯ জনের দলে।

 

ভয়াবহ এই ঘটনার ১০ মিনিট পর খেলা পুনরায় শুরু হলে, ৬৫ মিনিটে ফ্রি-কিক থেকে বদলি খেলোয়াড় নাথান সালিবা গোল করে কানাডাকে এগিয়ে নেন। গোল উদযাপনে সালিবা ডাগআউটে ছুটে গিয়ে ইসমাইল কোনের জার্সি উঁচিয়ে ধরে সতীর্থের প্রতি ভালোবাসা প্রদর্শন করেন। এরপর যেন গোলের বন্যা বইয়ে দেয় কানাডা। জ্যাকব শ্যাফেলবার্গের গোলের পর জোনাথন ডেভিড এক অনবদ্য হ্যাটট্রিক করে দলকে ৬-০ গোলের পাহাড়সম জয় এনে দেন।

 

ম্যাচ শেষে কানাডার প্রধান কোচ জেসি মার্শ জানান, ডাগআউটের সামনে হাড় ভাঙার শব্দ এতটাই স্পষ্ট ছিল যে পুরো স্কোয়াড মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছে। তবে হাসপাতালে অস্ত্রোপচারের প্রস্তুতি নিতে থাকা কোনে যেভাবে স্ট্রেচারে শোয়া অবস্থাতেই দর্শকদের হাত নাড়িয়ে অভয় দিচ্ছিলেন, তা তার ব্যক্তিত্বের এক অনন্য উদাহরণ। কোনের সেই অসম্পূর্ণ স্বপ্ন পূরণ করতেই আজ কাতারকে স্রেফ খড়কুটোর মতো উড়িয়ে দিয়েছে কানাডিয়ানরা।

বিশ্বকাপে কানাডার প্রথম জয়ের দিনে মাঠেই পা ভাঙল ইসমাইলের কোনের

চট্টগ্রাম-১৫ (সাতকানিয়া-লোহাগাড়া) আসনের সংসদ সদস্য শাহজাহান চৌধুরীকে লক্ষ্য করে পায়ে গুলি করার পরিকল্পনার কথা উল্লেখ রয়েছে—এমন একটি কথিত অডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর সাতকানিয়া ও লোহাগাড়া এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। অডিওটি ঘিরে রাজনৈতিক অঙ্গনেও নানা আলোচনা ও উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।

 

ফাঁস হওয়া ওই অডিওতে সংসদ সদস্যের দীর্ঘদিনের ব্যক্তিগত সহকারী হিসেবে পরিচিত আরমান উদ্দিনের কণ্ঠ রয়েছে বলে দাবি করা হচ্ছে। অডিওতে একজন নির্বাচিত সংসদ সদস্যকে কেন্দ্র করে সহিংস পরিকল্পনার ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে বলে স্থানীয়দের মধ্যে আলোচনা চলছে।

 

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, কথোপকথনে অংশ নেওয়া দুই ব্যক্তির মধ্যে একজনের কণ্ঠ আরমান উদ্দিনের বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে। তবে অপর ব্যক্তির পরিচয় এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

 

সংরক্ষিত অডিওতে এক ব্যক্তিকে বলতে শোনা যায়, লোহাগাড়ায় এমপি কেন আসবে? আসলে পায়ে গুলি করে জিজ্ঞেস করবো কেন এসেছে। লোহাগাড়ার এমপি আরমান সাহেব, এখানে আরমান সাহেবের কথাই চলবে। জবাবে আরমান উদ্দিন বলে পরিচিত ব্যক্তিকে বলতে শোনা যায়, এমপিকে তো লোহাগাড়ায় না আসতে বলি। তারপরেও লোকজনের জ্বালায় আসে।

 

কথোপকথনের একপর্যায়ে অপর ব্যক্তি বলেন, বাদশা খালেদের মতো অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে থাকবো। এর জবাবে আরমান উদ্দিন বলে পরিচিত ব্যক্তি বলেন, এসব করলে পুলিশ আসবে, আর্মি আসবে, এমপি আসবে।

 

অডিওতে একজন সংসদ সদস্যকে লক্ষ্য করে হামলার পরিকল্পনার ইঙ্গিত এবং সেখানে তার ব্যক্তিগত সহকারীর কথিত সম্পৃক্ততার অভিযোগকে কেন্দ্র করে স্থানীয় রাজনৈতিক অঙ্গনে নানা প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে। বিষয়টি নিয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যেও উদ্বেগ ও কৌতূহল দেখা দিয়েছে।

 

স্থানীয় কয়েকটি সূত্রের দাবি, অডিওতে শোনা অপর ব্যক্তি লোহাগাড়া এলাকায় বালু উত্তোলন ও পাহাড় কাটার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট প্রভাবশালী একটি মহলের ঘনিষ্ঠজন হতে পারেন। তবে এ বিষয়ে স্বাধীনভাবে কোনো তথ্য যাচাই করা সম্ভব হয়নি।

 

অডিওর বিষয়ে বক্তব্য জানতে আরমান উদ্দিনের মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি। খুদে বার্তা পাঠানো হলেও তার কোনো জবাব পাওয়া যায়নি।

 

সাতকানিয়া সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আরিফুর রহমান ছিদ্দিকী বলেন, বিষয়টি সম্পর্কে আমি অবগত নই। পুলিশ এখনো কোনো অডিও লিংক বা এ-সংক্রান্ত আনুষ্ঠানিক তথ্য পায়নি।

 

সাতকানিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জাহাঙ্গীর আলম বলেন, এ বিষয়ে আমাদের কাছে কোনো অভিযোগ বা তথ্য নেই।

 

লোহাগাড়া থানার দায়িত্বশীল কর্মকর্তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তারাও এ ধরনের কোনো অভিযোগ বা তথ্য পাওয়ার বিষয়টি অস্বীকার করেন।

 

এদিকে, এ বিষয়ে বক্তব্য নেওয়ার জন্য সংসদ সদস্য শাহজাহান চৌধুরীর সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

এমপিকে গুলির পরিকল্পনার অডিও ফাঁস, সাতকানিয়া-লোহাগাড়ায় চাঞ্চল্য

মাগুরায় অর্থের অভাবে নিজের দেড় মাস বয়সী কন্যাশিশুকে স্ত্রীর অগোচরে বিক্রি করে দিয়েছেন সাগর হোসেন (৩৮) নামে এক ব্যক্তি। পরে শিশুটি নিখোঁজ হওয়ার বিষয়টি গোপন রাখতে স্ত্রীর কাছে নাটক সাজিয়ে বলেছিলেন, ‘মেয়েকে জিন-পরি নিয়ে গেছে।’ বিষয়টি বিশ্বাসযোগ্য করতে বাড়িতে ওঝা-কবিরাজ ডেকে ঝাড়ফুঁকও করিয়েছিলেন। তবে শেষ পর্যন্ত পুলিশের অভিযানে ২২ দিন পর শিশুটিকে উদ্ধার হয়েছে। ফিরে পেয়েছে মায়ের কোল।

 

ঘটনাটি মাগুরা সদর উপজেলার বেরইল পলিতা ইউনিয়নের রামদেরগাতী গ্রামে ঘটেছে। বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) রাত আটটায় মাগুরার পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে পুলিশ সুপার মোল্লা আজাদ হোসেন এ তথ্য জানান।

 

সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, গত ২৭ মে পবিত্র ঈদুল আজহার আগের দিন সাগর হোসেন তার নবজাতক কন্যা টুকটুকিকে বিক্রি করে দেন। দত্তক হিসেবে ক্রেতা ছিলেন সদর উপজেলার দক্ষিণ বীরপুর এলাকার বাসিন্দা মো. শাহাবুর (২৮) ও মনিরা খাতুন (২৫) দম্পতি। ২৫ হাজার টাকার বিনিময়ে একটি স্ট্যাম্পে লিখিত চুক্তির মাধ্যমে এই অবৈধ লেনদেন সম্পন্ন হয়। এ ঘটনায় মধ্যস্থতাকারী হিসেবে আরও অন্তত তিনজন ভূমিকা রাখেন বলে পুলিশ জানিয়েছে।

 

পুলিশ সুপার মোল্লা আজাদ হোসেন জানান, সন্তানকে বিক্রির সময় সাগর প্রতারণার আশ্রয় নেন। তিনি ওই দম্পতির সামনে অন্য এক নারীকে নিজের স্ত্রী পরিচয় দিয়ে দাবি করেন, তার স্ত্রী ক্যানসারে আক্রান্ত এবং চিকিৎসার খরচ জোগাতেই তিনি সন্তান বিক্রি করছেন।

 

অন্যদিকে নিজের আসল স্ত্রী তানজিলা খাতুনের কাছে বাচ্চার নিখোঁজ হওয়া নিয়ে ‘জিনে নেওয়ার’ গল্প ফাঁদেন এবং জিনের মাধ্যমেই বাচ্চা ফেরত আনা হবে আশ্বাস দিয়ে ২১ দিন অতিবাহিত করেন।

 

পরে বাচ্চার খোঁজ না পেয়ে তানজিলা খাতুন ব্যাকুল হয়ে পড়েন এবং বুধবার শত্রুজিৎপুর পুলিশ ক্যাম্পের ইনচার্জ উপপরিদর্শক (এসআই) শুভংকর রায়কে জানান। এরপর তথ্যপ্রযুক্তি ও স্থানীয় সোর্সের সহায়তায় আজ বৃহস্পতিবার বেলা দুইটার দিকে শাহাবুর ও মনিরা দম্পতির হেফাজত থেকে শিশু টুকটুকিকে উদ্ধার করে পুলিশ। এরপর শিশুটিকে তার মায়ের কাছে হস্তান্তর করা হয়।

 

পুলিশ সুপার মোল্লা আজাদ হোসেন বলেন, দারিদ্র্য কখনোই সন্তান বিক্রির অজুহাত হতে পারে না। এটি জঘন্য ও দণ্ডনীয় অপরাধ। ক্রেতা দম্পতির আর্থিক অবস্থাও ভালো নয়; তারা গরু বিক্রি করে বাচ্চাটি কিনেছেন বলে দাবি করেন। তবে কম বয়সী এই দম্পতি অন্য কোনো উদ্দেশ্যে বা পাচারের জন্য বাচ্চাটি কিনেছিলেন কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

 

পুলিশ জানিয়েছে, এ ঘটনায় শিশুটির বাবা সাগর হোসেন, ক্রেতা দম্পতি ও কেনাবেচায় সহায়তাকারী মধ্যস্থতাকারীদের হেফাজতে নেওয়া হয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন।

 

শিশুটির মা তানজিলা খাতুন বলেন, তাদের আরও দুটি সন্তান আছে। তৃতীয় সন্তান জন্মের ১৩ মাস আগে দ্বিতীয় সন্তানের জন্ম হয়। অল্প সময়ের ব্যবধানে সিজারিয়ান অপারেশনের মাধ্যমে দুই শিশু জন্মের পর তিনি অসুস্থ হয়ে পড়েন। এমন পরিস্থিতিতে আর্থিক চাপে পড়ে তার স্বামী এমন ঘটনা ঘটাতে পারেন বলে তার ধারণা। তিনি বলেন, ‘যত কষ্টই হোক, কোনো মা তার সন্তান অন্যকে দিতে চায় না। আমার স্বামী ভুল করেছে, তাকে ক্ষমা করে দিন।’

অভাবে মেয়েকে ২৫ হাজার টাকায় বিক্রি, স্ত্রীকে জানান ‘জিন-পরী নিয়ে গেছে’

প্রথম ম্যাচে মরক্কোর সাথে ১-১ গোলে ড্র করে পয়েন্ট হারানোর পর ২০২৬ বিশ্বকাপে নিজেদের প্রথম জয়ের খোঁজে আগামীকাল সকালে মাঠে নামছে ব্রাজিল। গ্রুপ ‘সি’-এর এই হাইভোল্টেজ ম্যাচে ফিলাডেলফিয়ায় সেলেসাওদের প্রতিপক্ষ তুলনামূলক দুর্বল দল হাইতি। প্রথম ম্যাচের মন্থর গতি ও পয়েন্ট হারানোর ধাক্কা সামলে টুর্নামেন্টে নিজেদের টিকিয়ে রাখতে কার্লো আনচেলত্তির দল এই ম্যাচে জয় ছাড়া কিছুই ভাবছে না। ব্রাজিলের ফিফা র‍্যাঙ্কিং ৫, বিপরীতে ৮৫তম স্থানে থাকা হাইতির লক্ষ্য বিশ্বমঞ্চে যেকোনো মূল্যে এক অবিশ্বাস্য অঘটন ঘটানো।

 

ছন্দের খোঁজে সেলেসাওদের কৌশল

মরক্কোর বিপক্ষে নিজেদের প্রথম ম্যাচে ব্রাজিলের পারফরম্যান্স মোটেও আশানুরূপ ছিল না। ম্যাচ শেষে মাঠের শুষ্কতাকে দায়ী করে ফরোয়ার্ড ভিনিসিয়ুস জুনিয়র বলেছিলেন, ‘মেটলাইফ স্টেডিয়ামের শুকনো উপরিভাগের কারণে ব্রাজিল তাদের স্বাভাবিক ছন্দ পাচ্ছিল না।’ তবে ফিলাডেলফিয়ার মাঠে সেই অজুহাত খাটবে না।

 

বিশ্লেষকদের মতে, ম্যাচের শুরু থেকেই হাইতি তাদের রক্ষণাত্মক ৪-৩-২-১ ফর্মেশন নিয়ে নিজেদের গোলপোস্ট পাহারা দিতে ব্যস্ত থাকবে এবং কাউন্টার অ্যাটাকের (পাল্টা আক্রমণ) ওপর ভরসা করবে। ব্রাজিলের প্রধান চ্যালেঞ্জ হবে এই জমাট রক্ষণ ভাঙা। ভিনিসিয়ুস জুনিয়র ও রাফিনিয়ার ব্যক্তিগত স্কিল এবং গতিই হতে পারে এই ম্যাচের মূল চাবিকাঠি। পরিসংখ্যান বলছে, বিশ্বকাপের ইতিহাসে হাইতির বিপক্ষে খেলা তিন ম্যাচের প্রতিটিতেই ব্রাজিল বড় ব্যবধানে জিতেছে এবং ন্যূনতম ৬টি করে গোল দিয়েছে। ফলে আজ প্রথম ম্যাচের খরা কাটাতে শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক ফুটবল খেলবে লাতিন আমেরিকার পরাশক্তিরা।

 

প্রথম একাদশের ব্যবচ্ছেদ

প্রথম ম্যাচে দলের আক্রমণভাগের ব্যর্থতার কারণে কোচ কার্লো আনচেলত্তি আজকের একাদশে বড় ধরনের কিছু কৌশলগত পরিবর্তন আনতে পারেন। প্রথম ম্যাচে ব্রেন্টফোর্ডের স্ট্রাইকার ইগর থিয়াগো নিজের নামের প্রতি বিচার করতে না পারায় তাঁর জায়গায় ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের মাথেউস কুনিয়াকে ৯ নম্বর জার্সিতে মূল স্ট্রাইকার হিসেবে দেখা যেতে পারে।

 

একই সাথে মাঝমাঠ ও রক্ষণভাগেও পরিবর্তনের আভাস রয়েছে। প্রথমার্ধে হলুদ কার্ড দেখে মাঠ ছাড়া রজার ইবানেজের জায়গায় আজ শুরু থেকেই দেখা যেতে পারে অভিজ্ঞ ডিফেন্ডার দানিলোকে। এ ছাড়া মিডফিল্ডার লুকাস পাকেতা কিংবা কাসেমিরোর জায়গায় ফাবিনিও এবং ব্রুনো গিমারায়েসের অন্তর্ভুক্তি মাঝমাঠের আক্রমণের ধার বাড়াতে সাহায্য করবে। অন্যদিকে, প্রথম ম্যাচে স্কটল্যান্ডের কাছে অল্প ব্যবধানে হারা হাইতি দলে বড় কোনো পরিবর্তনের সম্ভাবনা নেই। রাইট ফ্ল্যাঙ্কে লুইসিয়াস দিদসনের ফর্ম নিয়ে কিছুটা সংশয় থাকলেও কোচ সেবাস্তিয়ান মিগনে তাঁর আগের একাদশের ওপরই ভরসা রাখতে পারেন।

 

একাদশ

ব্রাজিলের সম্ভাব্য একাদশ (৪-৪-২):

 

অ্যালিসন (গোলরক্ষক), দানিলো, মার্কিনহোস, গ্যাব্রিয়েল মাগালাইস, সান্তোস, লুকাস পাকেতা/ফাবিনিও, কাসেমিরো/গিমারায়েস, রাফিনিয়া, মাথেউস কুনিয়া, ভিনিসিয়ুস জুনিয়র ও ইগর থিয়াগো।

 

হাইতির সম্ভাব্য একাদশ (৪-৪-২):

 

প্লাসিদ (গোলরক্ষক), আরকুস, আদে, দেলক্রোয়া, এক্সপেরিয়েন্স, লুইসিয়াস দিদসন/কাসিমির, জাক, বেলেগার্দে, প্রভিডেন্স, ইসিদোর ও পিয়েরো।

 

দুই দলের সমীকরণ

গ্রুপ ‘সি’-তে এই মুহূর্তে সুইজারল্যান্ড ও কানাডা ৪ পয়েন্ট নিয়ে সুবিধাজনক অবস্থানে রয়েছে। ব্রাজিল যদি আজ হাইতির বিপক্ষে বড় ব্যবধানে জিততে না পারে, তবে পরের রাউন্ডের পথ তাদের জন্য বেশ কঠিন হয়ে উঠবে। শক্তির বিচারে দুই দলের মধ্যে আকাশ-পাতাল তফাত থাকলেও হাইতিকে একেবারে হালকাভাবে নেওয়া যাচ্ছে না। কারণ স্কটল্যান্ডের বিপক্ষে প্রথম ম্যাচে তারা দারুণ লড়াই করেছিল এবং বল দখলে এগিয়ে ছিল। তবে অতীত পরিসংখ্যান ও ফুটবলীয় শক্তি বিবেচনায় এই ম্যাচে ব্রাজিলের ২-০ বা তার চেয়ে বড় ব্যবধানে জয় পাওয়া কেবল সময়ের ব্যাপার বলেই মনে করছেন ফুটবল বোদ্ধারা।

জয়ের জন্য মরিয়া ব্রাজিলের সামনে দুর্বল হাইতি, একাদশে থাকছেন যারা

 

পাবলিক পরীক্ষার ফলাফল বা মেধাতালিকায় হ্যাকিং ও ডিজিটাল কারসাজি করলে সর্বোচ্চ ৫ বছর কারাদণ্ড এবং জরিমানার মুখোমুখি হতে হবে। এ ধরনের অপরাধকে ‘ডিজিটাল ম্যানিপুলেশন’ হিসেবে সংজ্ঞায়িত করে নতুন আইনের খসড়ার চূড়ান্ত অনুমোদন দিয়েছে মন্ত্রিসভা।

 

বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) অনুষ্ঠিত মন্ত্রিপরিষদের দশম বৈঠকে দ্য পাবলিক এক্সামিনেশনস (অফেন্সেস) (অ্যামেন্ডমেন্ট) অ্যাক্ট, ২০২৬-এর খসড়া অনুমোদন দেওয়া হয়। পরে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

 

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগের উদ্যোগে দেশের পাবলিক পরীক্ষাগুলোতে নকল, প্রশ্নফাঁস, জাল সনদ তৈরি এবং বিভিন্ন ধরনের অনিয়ম প্রতিরোধের লক্ষ্যে দ্য পাবলিক এক্সামিনেশনস (অফেন্সেস) অ্যাক্ট, ১৯৮০ -প্রণীত হয়। তবে, বর্তমানে প্রযুক্তির ব্যাপক ব্যবহার এবং ডিজিটাল পদ্ধতিতে পরীক্ষাসংক্রান্ত অপরাধ সংঘটনের প্রবণতা বৃদ্ধি পাওয়ায় ওই আইনের বিভিন্ন ধারা সময়োপযোগী নয়। পাবলিক পরীক্ষাগুলো সুষ্ঠু ও নকলমুক্ত পরিবেশ নিশ্চিত করার লক্ষ্যে এবং ডিজিটাল পদ্ধতি ও অনলাইন প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করে পরীক্ষা সংক্রান্ত অপরাধগুলো এবং এর দণ্ড আইনের আওতায় আনার উদ্দেশ্যে বর্তমান আইনে সংশোধন করা হয়েছে।

 

প্রস্তাবিত দ্য পাবলিক এক্সামিনেশনস (অফেন্সেস) (অ্যামেন্ডমেন্ট) অ্যাক্ট, ২০২৬-এর বৈশিষ্ট্য হিসেবে বলা হয়, পাবলিক পরীক্ষার ফল বা মেধাতালিকায় হ্যাকিং বা অবৈধভাবে পরিবর্তন করাকে ‘ডিজিটাল ম্যানিপুলেশন’ শিরোনামে নতুন অপরাধ হিসেবে বিবেচনা করা হয়েছে। ডিজিটাল ম্যানিপুলেশন করলে সর্বোচ্চ ৫ বছর কারাদণ্ড এবং জরিমানার বিধান রাখা হয়েছে। পাবলিক পরীক্ষায় সংগঠিতভাবে পরীক্ষা জালিয়াতি বা চক্র গঠন করলে কঠোর শাস্তি এবং জরিমানার বিধান অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।

পাবলিক পরীক্ষায় ‘ডিজিটাল ম্যানিপুলেশন’ করলে ৫ বছর জেল

 

ঝিনাইদহের মহেশপুরে যমজ কন্যাসন্তান জন্ম দেওয়ায় স্ত্রীকে তালাক দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে রাকিবুল ইসলাম নামে এক যুবকের বিরুদ্ধে।

 

সম্প্রতি উপজেলার কাজীরবেড় ইউনিয়নের পুরাতন কোলা গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।

 

জানা গেছে, পুরাতন কোলা গ্রামের প্রয়াত পীর বক্সের মেয়ে রীনা খাতুনের (২২) সঙ্গে ২০২৫ সালের ফেব্রুয়ারিতে নতুন কোলা গ্রামের শহিদুল ইসলামের ছেলে রাকিবুলের বিয়ে হয়। বিয়ের কিছুদিন পর তিনি অন্তঃসত্ত্বা হন রীনা। পরে চিকিৎসকদের মাধ্যমে জানতে পারেন, তার গর্ভে যমজ কন্যাসন্তান রয়েছে। এ খবর জানার পর থেকেই রাকিবুলের পরিবারের আচরণ বদলে যায়।

 

ভুক্তভোগী রীনার দাবি, গর্ভে কন্যাসন্তান রয়েছে এ কথা জানার পর থেকেই তাকে নানা ধরনের মানসিক চাপ দেওয়া শুরু হয়। একপর্যায়ে নির্যাতন শারীরিক পর্যায়েও পৌঁছায়। পরিস্থিতি অসহনীয় হয়ে উঠলে তিনি বাবার বাড়িতে চলে যান। প্রায় ছয় মাস আগে সেখানে থেকেই একটি বেসরকারি ক্লিনিকে অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে দুটি কন্যাসন্তানের জন্ম দেন।

 

রীনার অভিযোগ, জন্মের পর থেকে প্রায় ছয় মাস বয়সি যমজ সন্তান দুটির কোনো খোঁজখবর নেয়নি রাকিবুলের পরিবার। এ নিয়ে স্থানীয়ভাবে একাধিকবার মীমাংসার উদ্যোগ নেওয়া হলেও সমাধান মেলেনি। থানা-পুলিশের শরণাপন্ন হয়েও কোনো প্রতিকার পাননি বলে দাবি তার। এর মধ্যেই কয়েক দিন আগে ডাকযোগে স্বামী রাকিবুলের পাঠানো তালাকনামা হাতে পান রীনা।

 

হতাশা প্রকাশ করে তিনি বলেন, কন্যাসন্তান হওয়ায় আমার কী দোষ? মেয়েসন্তান জন্ম দিয়েছি বলে আমাকে অপমান ও নির্যাতন করা হয়েছে। পরে যৌতুকের জন্য চাপ দিয়ে শেষ পর্যন্ত তালাক দেওয়া হলো। আমার দুই শিশুর জন্য প্রতি মাসে প্রায় ১২ হাজার টাকার খাবার কিনতে হয়। বাবা নেই, বিধবা মায়ের পক্ষে এই ব্যয় বহন করা খুবই কষ্টের। আমাকে না দেখুক, অন্তত নিজের সন্তানদের দায়িত্ব তো নেওয়া উচিত।

 

এ বিষয়ে মহেশপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. সাজ্জাদ হোসেন বলেন, ঘটনাটি আমার নজরে এসেছে। শিশুদের টিকাদান কার্যক্রমে অংশ নিতে গিয়ে আমি প্রথম রীনার কাছ থেকে বিষয়টি শুনেছি। পরে তাকে লিখিত অভিযোগ দিতে বলা হলে, তিনি তা জমা দেন। অভিযোগের ভিত্তিতে শুনানির দিন নির্ধারণ করা হয়েছে। উভয়পক্ষের বক্তব্য শুনে এবং প্রয়োজনীয় তদন্ত শেষে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

যমজ কন্যাসন্তান জন্ম দেওয়ায় স্ত্রীকে তালাক দিলেন স্বামী

জামালপুর হামলা পাল্টা হামলার মধ্য দিয়ে জেলার সানন্দবাড়ী তে থমথমে অবস্থা বিরাজমান।

জাতীয়

বেসামরিক জনগণের সুরক্ষা নিশ্চিতকরণ, আন্তর্জাতিক মানবিক আইন সমুন্নত রাখা এবং রোহিঙ্গাদের নিজ দেশ মায়ানমারে প্রত্যাবাসনের লক্ষ্যে আরো কার্যকর আন্তর্জাতিক পদক্ষেপ গ্রহণের আহ্বান জানিয়েছেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম।

 

নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সদরদপ্তরে গতকাল বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) অনুষ্ঠিত ২০২৬ সালের ইকোসক হিউম্যানিটারিয়ান অ্যাফেয়ার্স সেগমেন্টের উচ্চপর্যায়ের প্যানেল আলোচনায় বক্তব্য প্রদানকালে এ আহ্বান জানান তিনি।

 

আন্তর্জাতিক মানবিক আইন লঙ্ঘনের জন্য জবাবদিহিতা নিশ্চিতকরণ, সংঘাত প্রতিরোধে অধিক বিনিয়োগ এবং মানবিক, শান্তি ও উন্নয়ন কার্যক্রমের মধ্যে সমন্বয় জোরদারের ওপর গুরুত্বারোপ করে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী নারী ও কিশোরীদের বিরুদ্ধে ক্রমবর্ধমান প্রযুক্তিনির্ভর হয়রানি ও অপব্যবহারের বিষয়টি তুলে ধরেন। এ ধরনের হুমকি মোকাবেলায় একটি বৈশ্বিক প্ল্যাটফর্ম প্রতিষ্ঠার আহ্বান পুনর্ব্যক্ত করেন তিনি।

 

প্রতিমন্ত্রী রোহিঙ্গা নারী ও কিশোরীদের ওপর চলমান অর্থায়ন সংকটের নেতিবাচক প্রভাব নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেন।

 

তিনি রোহিঙ্গা সংকটের টেকসই সমাধানে আন্তর্জাতিক সহযোগিতা অব্যাহত রাখার ওপর গুরুত্বারোপ করে তাদের নিজ দেশ মায়ানমারে দ্রুত প্রত্যাবর্তনের আহ্বান জানান।

 

অনুষ্ঠানের ফাঁকে প্রতিমন্ত্রী ভিয়েতনামের উপ-পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. নগুয়েন মিন ভুর সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন।

 

বৈঠকে উভয়পক্ষ পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয়, দ্বিপাক্ষিক সহযোগিতা এবং বহুপাক্ষিক অঙ্গনে সহযোগিতা জোরদারের বিভিন্ন দিক নিয়ে মতবিনিময় করেন।

রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনে জোরালো বৈশ্বিক পদক্ষেপের আহ্বান

জাতীয় সংসদে অধিবেশন কক্ষে প্রবেশ ও বের হওয়ার সময় মাথা ঝুঁকিয়ে স্পিকারের চেয়ার বা সভাপতির প্রতি সম্মান জানানোর রীতি বাতিলের ঘোষণা দিয়েছেন স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমেদ। তিনি এ বিষয়ে সংসদ সদস্যদের নিজ নিজ ধর্মীয় রীতি মেনে চলতে বলেছেন।

 

বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) সংসদের অধিবেশনে এই সিদ্ধান্ত দেন স্পিকার। তিনি বলেন, ‘জাতীয় সংসদের কার্যপ্রণালি বিধির ২৬৭ অনুযায়ী, সংসদের বৈঠক চলাকালে সংসদে প্রবেশ করার বা সংসদকক্ষ ত্যাগ করার সময় এবং আসন গ্রহণ বা ত্যাগ করার সময় কোনো সদস্য সভাপতির প্রতি সম্মান প্রদর্শন করবেন। অষ্টম সংসদে বিধিটি সংশোধন করে ‘ঝুঁকিয়া’ শব্দটি বাদ দেওয়া হয়।

 

তিনি বলেন, আমি পরীক্ষা করে দেখেছি, অষ্টম সংসদের কার্যপ্রণালি বিধিসংক্রান্ত স্থায়ী কমিটি সংসদে একটি প্রতিবেদন উপস্থাপন করে, যা পরে সংসদে বিবেচিত ও গৃহীত হয়। এর মধ্যে ২৬৭ (১) বিধির সংশোধনী অন্তর্ভুক্ত ছিল।

 

স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমেদ সংসদ সদস্যদের উদ্দেশে বলেন, ‘যেহেতু কার্যপ্রণালি বিধি থেকে ঝুঁকিয়া শব্দটি বাদ দেওয়া হয়েছে, সেহেতু আপনারা জাতীয় সংসদে যার যার ধর্মীয় রীতি অনুযায়ী স্পিকারের চেয়ার বা সভাপতির প্রতি সম্মান জানাবেন।’

 

এর আগে গত ১৬ জুন জামায়াতে ইসলামীর সংসদ সদস্য মো. মুজিবুর রহমান স্পিকারের প্রতি মাথা ঝুঁকিয়ে সম্মান জানানোর বিষয়টি সুরাহার জন্য পয়েন্ট অব অর্ডারে দাঁড়িয়ে অনুরোধ জানান।

 

তিনি আপত্তি তুলে বলেছিলেন, মাথা ঝুঁকিয়ে সম্মান জানানোর এই রীতি ইসলামের সঙ্গে ‘সাংঘর্ষিক’ এবং তা ‘শিরকের কাছাকাছি চলে যায়’। তখন স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমেদ জানিয়েছিলেন, সংসদের কার্যপ্রণালি বিধি দেখে বিষয়টি পরে সংসদকে জানানো হবে।

সংসদে মাথা ঝুঁকিয়ে সম্মান প্রদর্শনের রীতি বাতিল ঘোষণা

 

জাতীয় গণমাধ্যম কমিশন সরকার একতরফাভাবে চাপিয়ে দিতে চায় না, বরং অংশীজনদের সবার মতামত নিয়েই এই কমিশন গঠন করা হবে বলে জানিয়েছেন তথ্য ও সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রী ইয়াসের খান চৌধুরী। স্বাধীন গণমাধ্যম প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে সরকারের সদিচ্ছার কথাও পুনর্ব্যক্ত করেন তিনি।

 

আজ বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) রাজধানীর একটি অভিজাত হোটেলে ‘জাতীয় গণমাধ্যম কমিশনের রূপরেখা প্রণয়ন’ শীর্ষক এক কর্মশালায় স্বাগত বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

 

তথ্য ও সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রী বলেন, স্বাধীন ও মুক্ত গণমাধ্যম প্রতিষ্ঠায় বর্তমান সরকার আন্তরিকভাবে কাজ করে যাচ্ছে। আর সেই লক্ষ্যকে সামনে রেখেই সরকার ‘জাতীয় গণমাধ্যম কমিশন’ গঠন করতে চাইছে। তবে এই কমিশন গঠনের ক্ষেত্রে সরকার কোনো সিদ্ধান্ত একতরফাভাবে চাপিয়ে দেবে না। সবার পরামর্শ ও মতামতের ভিত্তিতে একটি গ্রহণযোগ্য রূপরেখা তৈরি করা হবে।

 

গণমাধ্যমের ভূমিকার কথা উল্লেখ করে ইয়াসের খান চৌধুরী বলেন, সরকারের কোনো ভুলত্রুটি থাকলে তা অবশ্যই গণমাধ্যম ধরিয়ে দেবে। তবে এর পাশাপাশি সরকারের ভালো ও জনকল্যাণমূলক কাজগুলোও গণমাধ্যমে সমানভাবে আসা উচিত বলে তিনি মন্তব্য করেন।

 

তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে মূল প্রবন্ধ (কি-নোট) উপস্থাপন করেন প্রধানমন্ত্রীর তথ্য বিষয়ক উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান। কর্মশালায় গণমাধ্যম ব্যক্তিত্ব, জ্যেষ্ঠ সাংবাদিক এবং তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাগণ উপস্থিত ছিলেন।

সবার মতামত নিয়েই গণমাধ্যম কমিশন গঠন করা হবে: তথ্য প্রতিমন্ত্রী

খেলাধুলা

 

ভ্যাঙ্কুবারের মাঠে শুক্রবার (১৯ জুন) ফুটবলীয় গোলের উৎসব চললেও, গ্যালারি ও মাঠের ফুটবলারদের স্তব্ধ করে দিয়েছে এক বিভীষিকাময় চোট। ২০২৬ বিশ্বকাপে কাতারের বিরুদ্ধে মাঠে নেমে ৬-০ গোলের এক চোখ ধাঁধানো জয় তুলে নিয়েছে সহ-আয়োজক কানাডা। বিশ্বমঞ্চের ইতিহাসে এটিই কানাডিয়ানদের প্রথম ঐতিহাসিক জয়।

 

জোনাথন ডেভিডের দুর্দান্ত হ্যাটট্রিক আর জ্যাকব শ্যাফেলবার্গের গোলে বড় জয় নিশ্চিত হলেও, ম্যাচটি ফুটবল বিশ্ব মনে রাখবে ৫২ মিনিটে কানাডিয়ান মিডফিল্ডার ইসমাইল কোনের মারাত্মক ইনজুরির জন্য, যা পুরো স্টেডিয়ামকে বিষাদের চাদরে ঢেকে দিয়েছিল।

 

ম্যাচের ৫২তম মিনিটে ডাগআউটের ঠিক সামনেই ঘটে সেই নারকীয় ঘটনা। কাতারের আসিম মাদিবো অত্যন্ত বিপজ্জনকভাবে এক চ্যালেঞ্জ করতে গেলে সরাসরি পা ভেঙে যায় ইসমাইল কোনের। যন্ত্রণায় কোনের সেই চিৎকার শুনেই কানাডার ফুটবলাররা আতঙ্কিত হয়ে মেডিকেল টিমকে মাঠে আসার জন্য ইশারা করতে থাকেন।

 

সম্প্রচারকারীরা ঘটনার ভয়াবহতার কারণে রিপ্লে না দেখালেও, টাচলাইনের মাইক্রোফোনে স্পষ্ট শোনা যাচ্ছিল কান্নাবিজড়িত কণ্ঠে কেউ বলছেন, ‘পা তো ঝুলে পড়েছে’ মাঠের খেলোয়াড় ও কোচিং স্টাফরা দ্রুত কোনের চারপাশে এক মানবপ্রাচীর তৈরি করেন যেন সেই দৃশ্য ক্যামেরায় না আসে। ঘটনার তীব্রতায় রেফারি ভিএআর দেখে মাদিবোকে সরাসরি লাল কার্ড দেখান। এর আগে প্রথমার্ধে হোমাম এল আমিন দুই হলুদ কার্ড দেখে মাঠ ছাড়ায় কাতার পরিণত হয় ৯ জনের দলে।

 

ভয়াবহ এই ঘটনার ১০ মিনিট পর খেলা পুনরায় শুরু হলে, ৬৫ মিনিটে ফ্রি-কিক থেকে বদলি খেলোয়াড় নাথান সালিবা গোল করে কানাডাকে এগিয়ে নেন। গোল উদযাপনে সালিবা ডাগআউটে ছুটে গিয়ে ইসমাইল কোনের জার্সি উঁচিয়ে ধরে সতীর্থের প্রতি ভালোবাসা প্রদর্শন করেন। এরপর যেন গোলের বন্যা বইয়ে দেয় কানাডা। জ্যাকব শ্যাফেলবার্গের গোলের পর জোনাথন ডেভিড এক অনবদ্য হ্যাটট্রিক করে দলকে ৬-০ গোলের পাহাড়সম জয় এনে দেন।

 

ম্যাচ শেষে কানাডার প্রধান কোচ জেসি মার্শ জানান, ডাগআউটের সামনে হাড় ভাঙার শব্দ এতটাই স্পষ্ট ছিল যে পুরো স্কোয়াড মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছে। তবে হাসপাতালে অস্ত্রোপচারের প্রস্তুতি নিতে থাকা কোনে যেভাবে স্ট্রেচারে শোয়া অবস্থাতেই দর্শকদের হাত নাড়িয়ে অভয় দিচ্ছিলেন, তা তার ব্যক্তিত্বের এক অনন্য উদাহরণ। কোনের সেই অসম্পূর্ণ স্বপ্ন পূরণ করতেই আজ কাতারকে স্রেফ খড়কুটোর মতো উড়িয়ে দিয়েছে কানাডিয়ানরা।

বিশ্বকাপে কানাডার প্রথম জয়ের দিনে মাঠেই পা ভাঙল ইসমাইলের কোনের

প্রথম ম্যাচে মরক্কোর সাথে ১-১ গোলে ড্র করে পয়েন্ট হারানোর পর ২০২৬ বিশ্বকাপে নিজেদের প্রথম জয়ের খোঁজে আগামীকাল সকালে মাঠে নামছে ব্রাজিল। গ্রুপ ‘সি’-এর এই হাইভোল্টেজ ম্যাচে ফিলাডেলফিয়ায় সেলেসাওদের প্রতিপক্ষ তুলনামূলক দুর্বল দল হাইতি। প্রথম ম্যাচের মন্থর গতি ও পয়েন্ট হারানোর ধাক্কা সামলে টুর্নামেন্টে নিজেদের টিকিয়ে রাখতে কার্লো আনচেলত্তির দল এই ম্যাচে জয় ছাড়া কিছুই ভাবছে না। ব্রাজিলের ফিফা র‍্যাঙ্কিং ৫, বিপরীতে ৮৫তম স্থানে থাকা হাইতির লক্ষ্য বিশ্বমঞ্চে যেকোনো মূল্যে এক অবিশ্বাস্য অঘটন ঘটানো।

 

ছন্দের খোঁজে সেলেসাওদের কৌশল

মরক্কোর বিপক্ষে নিজেদের প্রথম ম্যাচে ব্রাজিলের পারফরম্যান্স মোটেও আশানুরূপ ছিল না। ম্যাচ শেষে মাঠের শুষ্কতাকে দায়ী করে ফরোয়ার্ড ভিনিসিয়ুস জুনিয়র বলেছিলেন, ‘মেটলাইফ স্টেডিয়ামের শুকনো উপরিভাগের কারণে ব্রাজিল তাদের স্বাভাবিক ছন্দ পাচ্ছিল না।’ তবে ফিলাডেলফিয়ার মাঠে সেই অজুহাত খাটবে না।

 

বিশ্লেষকদের মতে, ম্যাচের শুরু থেকেই হাইতি তাদের রক্ষণাত্মক ৪-৩-২-১ ফর্মেশন নিয়ে নিজেদের গোলপোস্ট পাহারা দিতে ব্যস্ত থাকবে এবং কাউন্টার অ্যাটাকের (পাল্টা আক্রমণ) ওপর ভরসা করবে। ব্রাজিলের প্রধান চ্যালেঞ্জ হবে এই জমাট রক্ষণ ভাঙা। ভিনিসিয়ুস জুনিয়র ও রাফিনিয়ার ব্যক্তিগত স্কিল এবং গতিই হতে পারে এই ম্যাচের মূল চাবিকাঠি। পরিসংখ্যান বলছে, বিশ্বকাপের ইতিহাসে হাইতির বিপক্ষে খেলা তিন ম্যাচের প্রতিটিতেই ব্রাজিল বড় ব্যবধানে জিতেছে এবং ন্যূনতম ৬টি করে গোল দিয়েছে। ফলে আজ প্রথম ম্যাচের খরা কাটাতে শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক ফুটবল খেলবে লাতিন আমেরিকার পরাশক্তিরা।

 

প্রথম একাদশের ব্যবচ্ছেদ

প্রথম ম্যাচে দলের আক্রমণভাগের ব্যর্থতার কারণে কোচ কার্লো আনচেলত্তি আজকের একাদশে বড় ধরনের কিছু কৌশলগত পরিবর্তন আনতে পারেন। প্রথম ম্যাচে ব্রেন্টফোর্ডের স্ট্রাইকার ইগর থিয়াগো নিজের নামের প্রতি বিচার করতে না পারায় তাঁর জায়গায় ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের মাথেউস কুনিয়াকে ৯ নম্বর জার্সিতে মূল স্ট্রাইকার হিসেবে দেখা যেতে পারে।

 

একই সাথে মাঝমাঠ ও রক্ষণভাগেও পরিবর্তনের আভাস রয়েছে। প্রথমার্ধে হলুদ কার্ড দেখে মাঠ ছাড়া রজার ইবানেজের জায়গায় আজ শুরু থেকেই দেখা যেতে পারে অভিজ্ঞ ডিফেন্ডার দানিলোকে। এ ছাড়া মিডফিল্ডার লুকাস পাকেতা কিংবা কাসেমিরোর জায়গায় ফাবিনিও এবং ব্রুনো গিমারায়েসের অন্তর্ভুক্তি মাঝমাঠের আক্রমণের ধার বাড়াতে সাহায্য করবে। অন্যদিকে, প্রথম ম্যাচে স্কটল্যান্ডের কাছে অল্প ব্যবধানে হারা হাইতি দলে বড় কোনো পরিবর্তনের সম্ভাবনা নেই। রাইট ফ্ল্যাঙ্কে লুইসিয়াস দিদসনের ফর্ম নিয়ে কিছুটা সংশয় থাকলেও কোচ সেবাস্তিয়ান মিগনে তাঁর আগের একাদশের ওপরই ভরসা রাখতে পারেন।

 

একাদশ

ব্রাজিলের সম্ভাব্য একাদশ (৪-৪-২):

 

অ্যালিসন (গোলরক্ষক), দানিলো, মার্কিনহোস, গ্যাব্রিয়েল মাগালাইস, সান্তোস, লুকাস পাকেতা/ফাবিনিও, কাসেমিরো/গিমারায়েস, রাফিনিয়া, মাথেউস কুনিয়া, ভিনিসিয়ুস জুনিয়র ও ইগর থিয়াগো।

 

হাইতির সম্ভাব্য একাদশ (৪-৪-২):

 

প্লাসিদ (গোলরক্ষক), আরকুস, আদে, দেলক্রোয়া, এক্সপেরিয়েন্স, লুইসিয়াস দিদসন/কাসিমির, জাক, বেলেগার্দে, প্রভিডেন্স, ইসিদোর ও পিয়েরো।

 

দুই দলের সমীকরণ

গ্রুপ ‘সি’-তে এই মুহূর্তে সুইজারল্যান্ড ও কানাডা ৪ পয়েন্ট নিয়ে সুবিধাজনক অবস্থানে রয়েছে। ব্রাজিল যদি আজ হাইতির বিপক্ষে বড় ব্যবধানে জিততে না পারে, তবে পরের রাউন্ডের পথ তাদের জন্য বেশ কঠিন হয়ে উঠবে। শক্তির বিচারে দুই দলের মধ্যে আকাশ-পাতাল তফাত থাকলেও হাইতিকে একেবারে হালকাভাবে নেওয়া যাচ্ছে না। কারণ স্কটল্যান্ডের বিপক্ষে প্রথম ম্যাচে তারা দারুণ লড়াই করেছিল এবং বল দখলে এগিয়ে ছিল। তবে অতীত পরিসংখ্যান ও ফুটবলীয় শক্তি বিবেচনায় এই ম্যাচে ব্রাজিলের ২-০ বা তার চেয়ে বড় ব্যবধানে জয় পাওয়া কেবল সময়ের ব্যাপার বলেই মনে করছেন ফুটবল বোদ্ধারা।

জয়ের জন্য মরিয়া ব্রাজিলের সামনে দুর্বল হাইতি, একাদশে থাকছেন যারা

প্রতিবেদনে বলা হয়, ম্যাচের এক পর্যায়ে মেসির বিপজ্জনক ট্যাকলের শিকার হলেও রেফারি কোনো ব্যবস্থা নেননি। এমনকি ভিডিও সহকারী রেফারি (ভিএআর) পর্যালোচনার পরও আর্জেন্টাইন অধিনায়ককে কোনো কার্ড দেখানো হয়নি বলে অভিযোগ করেন আলজেরিয়ার অভিজ্ঞ ডিফেন্ডার আইসা মান্দি। একইসঙ্গে এ ঘটনার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নিজের হতাশা প্রকাশ করেন তিনি।

 

আইসা মান্দি বলেন, ‘গত রাতে যদি আমার গোড়ালি ভেঙেও যেত, তবু যে খেলোয়াড় এটা করেছে সে কোনো কার্ড পেত না। রেফারিদের আরও ভালো হতে হবে। পুরো বিশ্ব তাদের দিকে তাকিয়ে আছে।’

 

মূলত সিমন মারচিনিয়াকের এই সিদ্ধান্তকে ঘিরে ফুটবলপ্রেমী ও বিশ্লেষকদের মধ্যে ইতোমধ্যেই তর্ক-বিতর্ক শুরু হয়েছে। অনেকের মতে, মেসির ট্যাকলটি অন্তত হলুদ কার্ড পাওয়ার মতো ছিল। আবার কেউ কেউ বলছেন, ঘটনাটি খেলার অংশ এবং রেফারির সিদ্ধান্ত সঠিক ছিল।

 

এ বিষয়ে আলজেরিয়ার কোচ ভ্লাদিমির পেতকোভিচও ম্যাচ শেষে বলেন, তাদের দল কিছু ভুল করেছে, যা মেসির মতো খেলোয়াড়কে আরও বেশি সুযোগ করে দিয়েছে।

 

যদিও ট্যাকল প্রসঙ্গে তিনি সরাসরি মন্তব্য করেননি।

আলজেরিয়া ডিফেন্ডার আমার গোড়ালি ভেঙে গেলেও মেসি কার্ড পেত না

অনেক দিক থেকে দেখলে, বিষয়টি আসলে পুরোপুরি ক্রিস্টিয়ানো রোনালদোর দোষ নয়।

 

যখন বছরের পর বছর আপনাকে বলা হয় আপনি এখনো আগের মতোই সেরা, যখন কোচ আপনাকে নিয়মিত একাদশে রাখেন, যখন হাজারো দর্শক শুধুমাত্র আপনাকে দেখার জন্য স্টেডিয়ামে আসে, তখন নিজের সামর্থ্য সম্পর্কে বিশ্বাস হারানো কঠিন। বরং স্বাভাবিকভাবেই মনে হবে, সেই পুরোনো জাদু এখনো কোথাও রয়ে গেছে।

 

কিন্তু ফুটবল শেষ পর্যন্ত অনুভূতির নয়, বাস্তবতার খেলা। আর বাস্তবতা বলছে, রোনালদো আর আগের রোনালদো নন।

 

হিউস্টনে ডিআর কঙ্গোর বিপক্ষে পর্তুগালের ১-১ গোলে ড্রয়ের ম্যাচটি ছিল সেই বাস্তবতার আরেকটি নির্মম স্মারক। এক ঘণ্টারও বেশি সময় মাঠে থেকেও ম্যাচে তার প্রভাব ছিল প্রায় অদৃশ্য। এমন নয় যে তিনি ভয়াবহ খেলেছেন। বরং সমস্যা ছিল অন্য জায়গায়—তিনি যেন খেলাতেই ছিলেন না।

 

পুরো ম্যাচে রোনালদোর সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য মুহূর্ত ছিল বিরতির পর পাওয়া দুটি সুযোগ। দুটিই কাছের পোস্ট ঘেঁষে বাইরে চলে যায়। প্রথমটি কঠিন সুযোগ ছিল, দ্বিতীয়টিতে তিনি বল ছেড়ে দিলে পেছনে থাকা ব্রুনো ফার্নান্দেস আরও ভালো অবস্থানে শট নিতে পারতেন।

 

ফক্স স্পোর্টসে ম্যাচ বিশ্লেষণে সাবেক ফরাসি কিংবদন্তি থিয়েরি অঁরি মন্তব্য করেছিলেন, “দলের গোল দরকার। গোলটা তোমাকেই করতে হবে এমন নয়।”

 

ইঙ্গিতটা ছিল স্পষ্ট—রোনালদো যেন দলের প্রয়োজনের চেয়ে নিজের গোলের হিসাবেই বেশি মনোযোগী ছিলেন।

 

এরপর ম্যাচে তার অবদান প্রায় শূন্য। একসময় যেসব ক্রসে তিনি অবিশ্বাস্য উচ্চতায় লাফিয়ে হেড করতেন, সেসব পরিস্থিতিতেও এবার তাকে নিষ্ক্রিয় দেখা গেছে। একটি দারুণ ক্রস দূরের পোস্টে ভেসে এলে তিনি লাফ দেওয়ার চেষ্টাও করলেন না। শেষ পর্যন্ত সহজেই বল ক্লিয়ার করে দেন চান্সেল এমবেমবা।

 

একসময় প্রতিপক্ষের জন্য আতঙ্কের নাম ছিলেন রোনালদো। এখন তিনি বেশি পরিচিত নিজের অতীতের জন্য।

 

৪১ বছর বয়সী এই ফরোয়ার্ডকে মাঠে রাখার সবচেয়ে বড় যুক্তি হলো, তিনি এখনো প্রতিপক্ষের মনোযোগ নিজের দিকে টেনে নিতে পারেন। বিবিসির বিশ্লেষণে সাবেক ইংলিশ তারকা ওয়েইন রুনি বলেছিলেন, রোনালদোর অফসাইড অবস্থানে থাকা অনেক সময় প্রতিপক্ষকে বিভ্রান্ত করে এবং সতীর্থদের জন্য জায়গা তৈরি করে।

 

কিন্তু সমস্যা হলো, সেই ফাঁকা জায়গা তৈরি করলেও রোনালদো নিজে আর আগের মতো হুমকি হয়ে উঠতে পারছেন না।

 

ডিআর কঙ্গোর মিডফিল্ডার এনগালায়েল মুকাউও ম্যাচ শেষে পরোক্ষভাবে সেটিই স্বীকার করেন। তার ভাষায়, রোনালদো আর আগের মতো দৌড়ান না এবং বয়সের প্রভাব তার খেলায় স্পষ্ট।

 

তবু পর্তুগাল কোচ রবার্তো মার্টিনেজ তার সিদ্ধান্তের পক্ষে দৃঢ় অবস্থান নিয়েছেন। ম্যাচ শেষে তিনি বলেন, “যে ম্যাচে আমাদের গোল দরকার, সেখানে ফুটবল ইতিহাসের সর্বোচ্চ গোলদাতাকে মাঠ থেকে তুলে নেওয়ার কোনো অর্থ হয় না।”

 

সেখানে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ শব্দটি ছিল—‘ইতিহাস’।

নিষ্ঠুর সত্য হলো, রোনালদো আর পারছেন না

নেইমারের প্রত্যাবর্তনের অপেক্ষা যেন শেষ হতে চলেছে। দীর্ঘদিনের চোট কাটিয়ে অবশেষে ব্রাজিল জাতীয় দলের সঙ্গে পূর্ণাঙ্গ অনুশীলনে ফিরেছেন দেশটির সর্বকালের সর্বোচ্চ গোলদাতা, যা সেলেসাও শিবিরে নতুন আশার সঞ্চার করেছে।

 

২০২৬ বিশ্বকাপ ক্যাম্পে যোগ দেওয়ার পর বুধবার প্রথমবারের মতো সতীর্থদের সঙ্গে অনুশীলন করেন নেইমার। যুক্তরাষ্ট্রের নিউ জার্সির মরিসটাউনের কলম্বিয়া পার্কে অনুষ্ঠিত অনুশীলনে তাকে বেশ প্রাণবন্ত দেখা যায়। এ সময় তার সঙ্গে ছিলেন দলের দুই গুরুত্বপূর্ণ তারকা মারকিনিওস ও রাফিনিয়া।

 

অনুশীলন মাঠে উপস্থিত সাংবাদিক ও আলোকচিত্রীদের দিকে এগিয়ে গিয়ে মজার ছলে নেইমার বলেন, “আমাকে মিস করেছ?”

 

তার এই মন্তব্যে উপস্থিতদের মধ্যেও উচ্ছ্বাস দেখা যায়। কয়েকজন সাংবাদিক তখন বলে ওঠেন, “অবশেষে অপেক্ষার অবসান! হালেলুইয়া!”

 

পূর্ণাঙ্গ দলীয় অনুশীলনে ফেরার পর এখন শুক্রবার ফিলাডেলফিয়ায় হাইতির বিপক্ষে ব্রাজিলের দ্বিতীয় গ্রুপ ম্যাচে নেইমারের খেলার সম্ভাবনা বেড়েছে। তবে তিনি কত মিনিট খেলবেন কিংবা শুরুর একাদশে থাকবেন কি না, সে বিষয়ে এখনও নিশ্চিত কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি।

 

৩৪ বছর বয়সী এই ফরোয়ার্ড মঙ্গলবার ব্যক্তিগত অনুশীলনে ফিরেছিলেন। এরপর একদিনের ব্যবধানে দলীয় অনুশীলনে অংশ নিয়ে পুনর্বাসনের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ ধাপ সম্পন্ন করেন।

 

নেইমারের ফেরাকে উষ্ণভাবে স্বাগত জানিয়েছেন তার সতীর্থরাও। অনুশীলনের সময় করতালির মাধ্যমে তাকে বরণ করে নেওয়া হয়। এমনকি মজার ছলে ‘ইনিশিয়েশন টানেল’ তৈরি করে তাকে অভিনন্দন জানান ব্রাজিলের ফুটবলাররা।

 

বিশ্বকাপের গুরুত্বপূর্ণ সময়ে নেইমারের ফেরার খবর ব্রাজিল সমর্থকদের জন্য নিঃসন্দেহে বড় স্বস্তির। এখন দেখার বিষয়, হাইতির বিপক্ষে ম্যাচে মাঠে নেমে তিনি কতটা প্রভাব ফেলতে পারেন।

নেইমারের অপেক্ষা যেন শেষ হতে চলেছে

কেপ ভার্দের গোলরক্ষক ভোজিনহার মা অবশেষে যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে ছেলের বিশ্বকাপের খেলা মাঠে বসে দেখতে পারবেন। ভিসা ফি মওকুফ করায় এই সুযোগ তৈরি হয়েছে বলে জানিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র সরকার।

 

৪০ বছর বয়সী ভোজিনহা সোমবার স্পেনের বিপক্ষে কেপ ভার্দের চমকপ্রদ ড্রয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন। ম্যাচ শেষে আবেগঘন প্রতিক্রিয়ায় তিনি জানান, উচ্চ ভিসা ফি ও সংশ্লিষ্ট খরচের কারণে তার মা যুক্তরাষ্ট্রে এসে বিশ্বকাপ দেখতে পারছিলেন না। কার্লো-ন্যাশনালিস্টসহ স্থানীয় সংবাদমাধ্যম এ বিষয়ে খবর প্রকাশ করেছে।

 

বিষয়টি সামনে আসার পর যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধি পরিষদে ডেমোক্র্যাটিক নেতা হাকিম জেফ্রিস উদ্যোগ নেন। তিনি জানান, পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিওর সঙ্গে কথা বলে তিনি কেপ ভার্দের গোলরক্ষকের মায়ের জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের অনুরোধ করেন।

 

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক বার্তায় জেফ্রিজ বলেন, কেপ ভার্দের ‘ব্লু শার্কস’-এর লড়াকু মানসিকতা ও সাফল্যে বিশ্বের ফুটবলপ্রেমীরা আনন্দিত হলেও ভোজিনহার মায়ের অনুপস্থিতির খবর সেই আনন্দ কিছুটা ম্লান করে দিয়েছিল।

 

তিনি আরও বলেন, কোনো মায়েরই তার সন্তানের ইতিহাস গড়ার মুহূর্ত সরাসরি দেখার সুযোগ হাতছাড়া হওয়া উচিত নয়।

 

জেফ্রিজ জানান, যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর নিয়ম অনুযায়ী সব ভিসা ফি মওকুফ করেছে এবং ভোজিনহার মা আনা ক্যান্ডিডা এভোরা আগামী রোববার উরুগুয়ের বিপক্ষে কেপ ভার্দের ম্যাচ দেখতে যুক্তরাষ্ট্রে যেতে পারবেন। বর্তমানে মা-ছেলের পুনর্মিলনের জন্য মায়ামিতে ভ্রমণের ব্যবস্থা করা হচ্ছে।

 

এ ঘটনায় সহযোগিতার জন্য তিনি মার্কো রুবিও, যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর, কেপ ভার্দে সরকারের প্রতিনিধি এবং ফিফাকে ধন্যবাদ জানান।

 

কেপ ভার্দের বিশ্বকাপ যাত্রায় এই মানবিক উদ্যোগ নতুন মাত্রা যোগ করেছে। স্পেনের বিপক্ষে ঐতিহাসিক ফলের পর এখন উরুগুয়ের বিপক্ষে ম্যাচের প্রস্তুতি নিচ্ছে দলটি। সব কিছু ঠিক থাকলে এবারও ভোজিনহা মাঠে নামবেন। মায়ের উপস্থিতি তাকে দিবে বাড়তি অনুপ্রেরণা।

স্বপ্ন পূরণ হচ্ছে ভোজিনহার, মাঠ থেকে সরাসরি দেখবেন মা

বিস্তারিত....

বিনোদন

আজ ২৫শে বৈশাখ। বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ১৬৫ তম আবির্ভাব দিবস। ১২৬৮ বঙ্গাব্দের ২৫ শে বৈশাখ, কলকাতার জোড়াসাঁকো ঠাকুরবাড়িতে জন্ম বাংলা ভাষা ও সাহিত্যের উৎকর্ষের অন্যতম এই নায়কের। তিনি অনন্য সব সৃষ্টি গল্প, কবিতা, উপন্যাস, ছোটগল্প ও অসংখ্য গানের মধ্য দিয়ে বাংলা সাহিত্য ও সংস্কৃতিকে পৌঁছে দিয়েছেন বিশ্বের কাছে।

 

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের মা সারদাসুন্দরী দেবী এবং বাবা ব্রাহ্ম ধর্মগুরু দেবেন্দ্রনাথ ঠাকুর। তিনি কবিতা লেখা শুরু করেন আট বছর বয়সে। ১৮৯১ সাল থেকে বাবার আদেশে নদিয়া, পাবনা, রাজশাহী ও ওড়িশার জমিদারি তদারকি শুরু করেন। কুষ্টিয়ার শিলাইদহের কুঠিবাড়িতে তিনি দীর্ঘসময় অতিবাহিত করেন। ১৯০১ সালে সপরিবারে চলে আসেন বীরভূমের বোলপুর শহরের উপকণ্ঠে শান্তিনিকেতনে। তার জীবদ্দশায় এবং মৃত্যুর পর প্রকাশিত হয়েছে ৫২টি কাব্যগ্রন্থ, ৩৮টি নাটক, ১৩টি উপন্যাস, ৩৬টি প্রবন্ধ এবং অন্যান্য গদ্য সংকলন। নানা কর্মসূচির মধ্য দিয়ে আজ নোবেল বিজয়ী এই সহিত্য প্রতিভাকে স্মরণ করবে তার অগণিত ভক্ত।

 

বিটিভিতে সকাল ৯টায় থাকছে বিশেষ শিশুতোষ অনুষ্ঠান। সকাল ১০টা ৫ মিনিটে প্রচারিত হবে রবীন্দ্রসংগীতের অনুষ্ঠান ‘গীতবিতান’। সন্ধ্যা ৬টায় থাকছে বিশেষ কবিতা আবৃত্তির অনুষ্ঠান। রাত ৯টায় থাকছে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের গল্প অবলম্বনে নাটক ‘সম্পত্তি সমর্পণ’। রাত ১০টায় সংবাদের পর প্রচারিত হবে বিশেষ রবীন্দ্রসংগীতের অনুষ্ঠান। অনুষ্ঠানে কবির বিভিন্ন পর্যায়ের জনপ্রিয় ৯টি গান পরিবেশন করবেন একঝাঁক রবীন্দ্রসংগীতশিল্পী। রাত ১১টায় প্রচারিত হবে ‘চিত্রাঙ্গদা’।

 

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের সাহিত্যজগৎ ছিল নানা বর্ণ, মানসিকতা ও চেতনায় ভরপুর। তাইতো, নিঃসঙ্গতার প্রতিচ্ছবি চারুলতা, সামাজিক বেড়াজাল ভেঙে আত্মসচেতন হয়ে ওঠা বিনোদিনী কিংবা গোরা উপন্যাসের স্বদেশপ্রেম ও জাতিসত্তার পরিচয়ে জর্জরিত পুরুষের মধ্যে আজও পাঠক খুঁজে ফেরে নিজেদের। বাংলার মাটিতে যেমন তাঁর কদর, তেমনি বিশ্ব দরবারেও সমানভাবে ছড়িয়ে আছে তার দীপ্তি। সাহিত্যে অবদানের জন্য ১৯১৩ সালে নবজাগরণের এই পুরোধাকে ভূষিত করা হয় নোবেল পুরস্কারে। দিনটি উদযাপনে দেশের বিভিন্ন স্থানে আয়োজন করা হয়েছে নানা আয়োজন।

বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ১৬৫তম জন্মজয়ন্তী আজ

প্রতিবেদন: ওমর ফারুক

আজ ৩ মে বিশ্বজুড়ে পালিত হচ্ছে বিশ্ব গণমাধ্যম দিবস। গণমাধ্যমের স্বাধীনতা, দায়বদ্ধতা এবং সাংবাদিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার গুরুত্ব তুলে ধরতেই প্রতি বছর এই দিনটি পালন করা হয়।

১৯৯৩ সালে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদ আনুষ্ঠানিকভাবে ৩ মে-কে বিশ্ব গণমাধ্যম স্বাধীনতা দিবস হিসেবে ঘোষণা করে। এর আগে ১৯৯১ সালে নামিবিয়ার উইন্ডহুকে গৃহীত উইন্ডহুক ঘোষণা-এর মাধ্যমে স্বাধীন ও বহুমুখী গণমাধ্যম প্রতিষ্ঠার আহ্বান জানানো হয়, যা পরবর্তীতে এই দিবস ঘোষণার ভিত্তি তৈরি করে।

বর্তমান সময়ে গণমাধ্যম সমাজের গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে সত্য ও নিরপেক্ষ তথ্য মানুষের কাছে পৌঁছে দিচ্ছে। নানা চ্যালেঞ্জের মধ্যেও সাংবাদিকরা পেশাগত দায়িত্ব পালন করে গণতন্ত্রকে শক্তিশালী করতে অবদান রাখছেন।

বিশ্ব গণমাধ্যম দিবস উপলক্ষে গণ টেলিভিশন-এর পক্ষ থেকে দেশের সকল সাংবাদিক, গণমাধ্যমকর্মী ও দর্শকদের জানানো হয়েছে আন্তরিক শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন। সত্য ও বস্তুনিষ্ঠ সংবাদ পরিবেশনের মাধ্যমে সমাজের কল্যাণে কাজ করে যাওয়ার প্রত্যয় পুনর্ব্যক্ত করেছে প্রতিষ্ঠানটি।

আজ বিশ্ব গণমাধ্যম দিবস

প্রতিবেদনঃ ওমর ফারুক

যারা বিবাহিত, তাদের তুলনায় অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্কদের ক্যানসার হওয়ার ঝুঁকি উল্লেখযোগ্যভাবে বেশি। যুক্তরাষ্ট্রের মায়ামি বিশ্ববিদ্যালয়ের নতুন এক গবেষণায় এমন চমকপ্রদ তথ্য উঠে এসেছে।

পরিসংখ্যান অনুযায়ী, অবিবাহিত পুরুষদের ক্যানসারের ঝুঁকি বিবাহিতদের তুলনায় প্রায় ৭০ শতাংশ বেশি।

গবেষণায় দেখা গেছে, যারা কখনো বিয়ে করেননি, তাদের মধ্যে ক্যানসারে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি তুলনামূলকভাবে বেশি।

 

 

২০১৫ থেকে ২০২২ সালের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের ১২টি অঙ্গরাজ্যের ৪০ লাখের বেশি মানুষের তথ্য বিশ্লেষণ করে এই ফল পাওয়া গেছে। গবেষণায় বলা হয়েছে, প্রায় সব ধরনের প্রধান ক্যানসারের ক্ষেত্রেই অবিবাহিতদের ঝুঁকি বেশি দেখা গেছে।

 

পরিসংখ্যান অনুযায়ী, অবিবাহিত পুরুষদের ক্যানসারের ঝুঁকি বিবাহিতদের তুলনায় প্রায় ৭০ শতাংশ বেশি। নারীদের ক্ষেত্রে এই ঝুঁকি আরও বেশি, প্রায় ৮৫ শতাংশ পর্যন্ত।

 

গবেষণায় আরও দেখা গেছে, অবিবাহিত পুরুষদের মধ্যে মলদ্বারের ক্যানসারের হার বিবাহিতদের তুলনায় প্রায় পাঁচ গুণ বেশি। অন্যদিকে অবিবাহিত নারীদের ক্ষেত্রে জরায়ুমুখের ক্যানসারের হার প্রায় তিন গুণ বেশি।

গবেষকদের মতে, বিয়ে অনেক সময় মানুষের জীবনযাপনকে প্রভাবিত করে। খাদ্যাভ্যাস, স্বাস্থ্যসচেতনতা এবং নিয়মিত চিকিৎসা পরীক্ষার মতো বিষয়গুলো এতে যুক্ত থাকে। ফলে এটি পরোক্ষভাবে স্বাস্থ্যের ওপর প্রভাব ফেলতে পারে।

 

তবে বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করেছেন, এর মানে এই নয় যে বিয়ে করলেই ক্যানসার থেকে সুরক্ষা পাওয়া যাবে। বরং এটি একটি সামাজিক ও আচরণগত ইঙ্গিত মাত্র।

 

গবেষকরা আরও বলেছেন, যারা অবিবাহিত, তাদের উচিত স্বাস্থ্যঝুঁকির বিষয়ে আরও সতর্ক থাকা। নিয়মিত পরীক্ষা করানো এবং স্বাস্থ্যকর জীবনযাপন বজায় রাখে।

 

অবিবাহিতদের ক্যানসারের ঝুঁকি বেশি, বলছে গবেষণা

বিস্তারিত....

মতামত

জ্বালানি তেল ও বিদ্যুতের দাম বাড়ানোর প্রতিবাদে রাজধানীতে বিক্ষোভ সমাবেশ ও মিছিল করেছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী।

 

আজ বৃহস্পতিবার (০৪ জুন) বিকেলে জামায়াতে ইসলামী ঢাকা মহানগরীর উদ্যোগে বায়তুল মোকাররমের উত্তর গেট থেকে বিক্ষোভ মিছিলটি বের হয়। মিছিলটি পল্টন ও কাকরাইল মোড় ঘুরে শান্তিনগরে গিয়ে শেষ হয়।

 

জ্বালানি তেল ও বিদ্যুতের দাম বাড়ানো সরকারের গণবিরোধী সিদ্ধান্ত বলে আখ্যা দিয়েছেন দলটির নেতারা।

 

বিক্ষোভ সমাবেশে মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, ‘দুই বছর দাম না বাড়ানোর আশ্বাস দিলেও মাত্র তিন মাসের মাথায় মূল্যবৃদ্ধি করে সরকার জনগণের সঙ্গে করা প্রতিশ্রুতি ভঙ্গ করেছে।’

 

তিনি অবিলম্বে এ সিদ্ধান্ত প্রত্যাহারের দাবি জানান এবং তা না হলে সরকারকে জনগণের ক্ষোভের মুখে পড়তে হতে পারে বলেও হুশিয়ারি দেন।

 

বিদ্যুতের মূল্যবৃদ্ধির সিদ্ধান্তকে ‘গণবিরোধী’ আখ্যা দিয়ে জামায়াত সেক্রেটারি বলেন, ‘ গ্রাহক পর্যায়ে ছয়টি স্লটে যেভাবে দাম বাড়ানো হয়েছে, তাতে প্রান্তিক ও দরিদ্র মানুষ চরম ভোগান্তিতে পড়বে। বিদ্যুৎ সেক্টরে সিস্টেম লস ও ক্যাপাসিটি চার্জের নামে হাজার হাজার কোটি টাকা লুটপাট ও দুর্নীতি বন্ধ না করে, সাধারণ মানুষের পকেট কেটে সেই টাকা ভরাট করার চেষ্টা চলছে।’

 

তিনি বলেন, ‘আমরা আইএমএফ বা বিশ্বব্যাংকের গোলাম নই। তাদের কথায় বিদ্যুতের মূল্য বৃদ্ধি করে জনগণের দুঃখ-কষ্ট বাড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। সারা বিশ্ব যখন নবায়নযোগ্য জ্বালানির দিকে ঝুঁকছে, সরকার সেদিকে কোনো পদক্ষেপ না নিয়ে সাধারণ মানুষের ওপর বোঝার ওপর শাকের আঁটি চাপিয়ে দিচ্ছে।’

 

সমাবেশ শেষে বায়তুল মোকাররম থেকে একটি বিক্ষোভ মিছিল বের হয়। মিছিলটি পল্টন ও কাকরাইল মোড় ঘুরে শান্তিনগরে গিয়ে শেষ হয়।

 

প্রসঙ্গত, বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি) সংবাদ সম্মেলন করে বিদ্যুতের দাম বাড়ানোর ঘোষণা দেয়। পাইকারি ও খুচরা—উভয় পর্যায়েই বিদ্যুতের দাম বাড়ানো হয়েছে। পাইকারি পর্যায়ে বিদ্যুতের দাম গড়ে ১৯ দশমিক ৮৫ শতাংশ, সঞ্চালন চার্জ ২৩ দশমিক ৯৬ শতাংশ ও গ্রাহক পর্যায়ে বিদ্যুতের দাম গড়ে ১৬ দশমিক ৬৮ শতাংশ বাড়ানো হয়েছে। নতুন দাম জুন থেকে কার্যকর।

জ্বালানি তেল ও বিদ্যুতের দাম বাড়ানোর প্রতিবাদে জামায়াতের বিক্ষোভ

 

জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সিনিয়র যুগ্ম মুখ্য সমন্বয়ক ও নোয়াখালী-৬ (হাতিয়া) আসনের সংসদ সদস্য আব্দুল হান্নান মাসউদের বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ তুলেছেন বিএনপি নেতা রাশেদ খান।

 

বুধবার (৩ জুন) নিজের ফেসবুক পোস্টে রাশেদ খান দাবি করেন, গণঅভ্যুত্থানের পর সমন্বয়কদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি দুর্নীতিতে জড়িয়ে পড়েন হান্নান মাসউদ।

তিনি অভিযোগ করেন, আওয়ামী লীগের বিভিন্ন নেতার সঙ্গে হান্নান মাসউদের একাধিক বৈঠক হয়েছে এবং এসব বৈঠকের অনেকগুলো রাজধানীর পল্টন এলাকার একটি হোটেলে অনুষ্ঠিত হতো।

 

রাশেদ খানের দাবি, এক পর্যায়ে আওয়ামী লীগের একজন সাবেক সংসদ সদস্যকে বিমানবন্দর পর্যন্ত পৌঁছে দেওয়ার বিষয়ে ৪ কোটি টাকার একটি সমঝোতার আলোচনা হয়।

 

বৈঠক শেষে হান্নান মাসউদ আব্দুল গাফফার জিসানকে বলেন, সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি ১ কোটি টাকা দিতে চান, তবে ৩ কোটি টাকায় চুক্তি করার চেষ্টা করতে হবে। তিনি আরও দাবি করেন, ওই নেতাদের কাছে নগদ অর্থ রয়েছে এবং অর্থের প্রয়োজন আছে বলেও হান্নান মাসউদ মন্তব্য করেছিলেন।

 

পোস্টে রাশেদ খান বলেন, হান্নান মাসউদের বিভিন্ন কর্মকাণ্ডের প্রত্যক্ষ সাক্ষী হাতিয়ার বাসিন্দা আব্দুল গাফফার জিসান।

 

তিনি জানান, ২৭ জুলাইয়ের পর আত্মগোপনে থাকা অবস্থায় রিফাত রশিদ, মাহিন সরকার ও আব্দুল গাফফার জিসানের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ ছিল। জিসান বিভিন্ন সময় সমন্বয়কদের ছবি ও ভিডিও ধারণের কাজও করতেন বলে উল্লেখ করেন তিনি।

 

রাশেদ খানের ভাষ্য অনুযায়ী, গণঅভ্যুত্থানের সময় থেকে জিসান হান্নান মাসউদের নিরাপত্তার দায়িত্বে ছিলেন। তবে হান্নান মাসউদের অর্থের প্রতি অতিরিক্ত আগ্রহ ও আচরণগত পরিবর্তনের কারণে পরবর্তীতে তিনি দূরে সরে যান।

 

ফেসবুক পোস্টে নোয়াখালীর হাতিয়া আসনের সাবেক আওয়ামী লীগ সংসদ সদস্য মোহাম্মদ আলীকে নিয়েও মন্তব্য করেন রাশেদ খান।

 

তার দাবি, হান্নান মাসউদ মনে করতেন মোহাম্মদ আলী তার রাজনৈতিক পথে প্রধান বাধা। এ কারণে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রভাব ব্যবহার করে তাকে গ্রেফতারে ভূমিকা রাখা হয়েছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।

 

রাশেদ খান আরও দাবি করেন, ব্যক্তিগত আলোচনায় হান্নান মাসউদ নাকি বলেছেন যে নোয়াখালীর আওয়ামী লীগের অন্য নেতাদের সঙ্গে তার কোনো দ্বন্দ্ব নেই, কেবল মোহাম্মদ আলীর সঙ্গেই বিরোধ রয়েছে।

 

একই সঙ্গে নোয়াখালীর রাজনীতিতে প্রভাবশালী হতে হলে মোহাম্মদ আলীর মতো অর্থবিত্তের মালিক হওয়ার প্রয়োজনীয়তার কথাও তিনি বিভিন্ন আলোচনায় তুলে ধরতেন বলে অভিযোগ করা হয়েছে।

আ.লীগ নেতাকে বিমানবন্দরে পৌঁছে দিতে ৩ কোটি দাবি করেছিলেন হান্নান মাসউদ’

বাজেট অধিবেশন শুরুর আগে তড়িঘড়ি করে জ্বালানি তেলের মূল্য বৃদ্ধি করা এক ধরনের ধোঁকাবাজি বলে মন্তব্য করেছেন জামায়াতে ইসলামীর আমির ও বিরোধী দলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান।

 

তিনি বলেন, ‘সরকার আগে আশ্বস্ত করেছিল অন্তত চলতি মাসে জ্বালানি তেলের দাম বাড়ানো হবে না। এরপরও যদি নতুন করে মূল্যবৃদ্ধির সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়, তবে তা হবে জনস্বার্থবিরোধী পদক্ষেপ।

 

রোববার (৩১ মে) দিনগত মধ্যরাতে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেইজে দেওয়া এক পোস্টে এসব কথা বলেন ডা. শফিকুর রহমান।

 

তিনি বলেন, ‘গত মাসেই এক দফায় ৮ থেকে ১২ শতাংশ পর্যন্ত জ্বালানি তেলের মূল্য বৃদ্ধি করা হয়েছে। কোনো কোনো ক্ষেত্রে এর চেয়েও বেশি দাম বেড়েছে। এর প্রভাব পড়ে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের বাজারেও, ফলে দ্রব্যমূল্য আরও বেড়ে গেছে। কিন্তু মানুষের আয় না বাড়লেও বেকারত্ব ক্রমাগত বৃদ্ধি পাচ্ছে।’তিনি অভিযোগ করেন, ‘এমন পরিস্থিতিতে আবারও জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধির উদ্যোগের খবর পাওয়া যাচ্ছে, যা সাধারণ মানুষের দুর্ভোগ আরও বাড়াবে। জনগণ ইতোমধ্যে দিশেহারা অবস্থার মধ্যে রয়েছে। তারা কোথায় যাবে, কী করবে এবং কীভাবে জীবনযাপন করবে—সেই প্রশ্ন এখন সামনে চলে এসেছে।’

 

জামায়াত আমির বলেন, ‘এক সপ্তাহের ব্যবধানে জাতীয় বাজেট অধিবেশন শুরু হতে যাচ্ছে। এর আগে যদি তড়িঘড়ি করে জ্বালানি তেলের মূল্য বৃদ্ধি করা হয়, তাহলে তা জনগণের সঙ্গে প্রতারণার শামিল হবে।’

 

তিনি এ ধরনের যেকোনো জনস্বার্থবিরোধী সিদ্ধান্তের বিরোধিতা করার ঘোষণা দেন।

 

বিবৃতিতে দেশবাসীর প্রতি আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, জনগণের অধিকার আদায়ে জনগণকেই সচেতন ও সোচ্চার হতে হবে। নিজেদের অধিকার প্রতিষ্ঠার জন্য কথা বলতে হবে এবং গণতান্ত্রিক উপায়ে দাবি আদায় করতে হবে। এ ক্ষেত্রে জামায়াতে ইসলামী জনগণের পাশে থাকবে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

 

বিরোধী দলীয় নেতা বলেন, দেশে বর্তমানে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির যে অবনতি ঘটেছে, তার সঙ্গে জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধি ও দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি যুক্ত হয়ে দেশ ও সমাজের অস্তিত্বকে চ্যালেঞ্জের মুখে ঠেলে দিচ্ছে।

 

তিনি আরও বলেন, অধিকার কেউ কাউকে এনে দেয় না; তা সংগ্রাম ও আন্দোলনের মাধ্যমেই অর্জন করতে হয়।

 

এর আগে রোববার জুন মাসের জন্য দেশে জ্বালানি তেলের নতুন মূল্য নির্ধারণ করে সরকার। নতুন দাম অনুযায়ী, অকটেন, পেট্রোল ও কেরোসিনের দাম লিটারপ্রতি ৫ টাকা করে বেড়েছে। তবে ডিজেলের দাম অপরিবর্তিত রাখা হয়েছে।

 

এদিন রাতে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগ এ–সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন জারি করে। নতুন মূল্য আজ (সোমবার) থেকেই কার্যকর হবে।

জ্বালানি তেলের দাম বাড়ানোর উদ্যোগ জনস্বার্থবিরোধী: জামায়াত আমির

ঢাকা জেলা উত্তর সহ দেশবাসীকে পবিত্র ঈদুল আযহার শুভেচ্ছা জানালেন মাহাফুজ ইকবাল।

 

রাকিবুল ইসলাম রঞ্জু:

 

পবিত্র ঈদুল আযহা উপলক্ষে ঢাকা জেলা উত্তরসহ সমগ্র দেশবাসীকে আন্তরিক শুভেচ্ছা ও মোবারকবাদ জানিয়েছেন ঢাকা জেলা উত্তর ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক মোঃ মাহাফুজ ইকবাল

 

এক শুভেচ্ছা বার্তায় ছাত্রদল নেতা মাহাফুজ ইকবাল বলেন, “ঈদুল আযহা আমাদের মাঝে ত্যাগের মহিমা ও আত্মশুদ্ধির এক অনন্য বার্তা নিয়ে হাজির হয়। মহান আল্লাহর সন্তুষ্টির উদ্দেশ্যে নিজের প্রিয় বস্তুকে উৎসর্গ করার মাধ্যমেই এই ঈদের প্রকৃত সার্থকতা নিহিত।”

 

তিনি আরও বলেন, ঈদের এই আনন্দ যেন সমাজের প্রতিটি স্তরের মানুষের মাঝে ছড়িয়ে পড়ে, বিশেষ করে সুবিধাবঞ্চিত ও অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়িয়ে তাদের মুখে হাসি ফোটানোই হোক এবারের ঈদের অন্যতম লক্ষ্য। ত্যাগের এই মহান আদর্শকে ধারণ করে সবাইকে হিংসা-বিদ্বেষ ভুলে ঐক্যবদ্ধভাবে একটি সুখী, সমৃদ্ধ ও বৈষম্যহীন সমাজ গঠনে এগিয়ে আসার আহ্বান জানান তিনি।

 

“ঢাকা জেলা উত্তর ছাত্রদলের পক্ষ থেকে আমি দেশবাসী ও সর্বস্তরের জনগণকে জানাই পবিত্র ঈদুল আযহার শুভেচ্ছা— ঈদ মোবারক। সবার জীবন আনন্দ, শান্তি ও সাফল্যে ভরে উঠুক।”

— মোঃ মাহাফুজ ইকবাল, সাধারণ সম্পাদক, ঢাকা জেলা উত্তর ছাত্রদল।

 

পরিশেষে, তিনি সবার সুস্থতা, দীর্ঘায়ু ও কল্যাণ কামনা করেন এবং উৎসবের দিনগুলোতে সবাইকে পারস্পরিক সৌহার্দ্য বজায় রাখার অনুরোধ জানান।

ঢাকা জেলা উত্তর সহ দেশবাসীকে পবিত্র ঈদুল আযহার শুভেচ্ছা জানালেন মাহাফুজ ইকবাল

বিস্তারিত....

সারাবাংলা

রাজধানীর ওয়ারী ও গেন্ডারিয়া এলাকায় অভিযান চালিয়ে অস্ত্র-মাদক কারবারের গডফাদার ‘অটো সজল’ ওরফে সজলসহ ৪ জনকে গ্রেফতার করেছে ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) যাত্রাবাড়ী থানা পুলিশ। এসময়, উদ্ধার করা হয়েছে পুলিশের লুণ্ঠিত অস্ত্র-গুলি ও বিপুল পরিমাণ মাদকদ্রব্য।

 

শনিবার (১৯ জুন) ডিএমপির মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার এস এন নজরুল ইসলাম।

 

পুলিশ জানায়, গত ২ মার্চ ওয়ারী এলাকায় অভিযানের সময় একটি চক্র পুলিশের ওপর গুলি চালিয়ে পালিয়ে যায়। ওই ঘটনার তদন্তের সূত্র ধরে রাজধানীর শামীবাগ এলাকায় অভিযান চালায় ডিএমপি। অভিযানে সজল ওরফে অটো সজল, বাপ্পি, শামসুন্নাহারসহ ৪ জনকে গ্রেফতার করা হয়। তাদের কাছ থেকে ৩টি অত্যাধুনিক পিস্তল ও ৭৭ রাউন্ড গুলি উদ্ধার করা হয়েছে। পুলিশ বলছে, উদ্ধারকৃত অস্ত্র গুলো থানা থেকে লুট হওয়া অস্ত্র হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

 

এছাড়াও অভিযানে বিপুল পরিমাণ মাদকও জব্দ করা হয়েছে। এ ঘটনায় গ্রেফতারদের বিরুদ্ধে গেন্ডারিয়া থানায় পৃথক দুটি মামলা করা হয়েছে।

রাজধানীর ওয়ারীর অটো সজলসহ গ্রেফতার ৪, উদ্ধার অস্ত্র-গুলি ও মাদক

সাতক্ষীরার শ্যামনগরে চাঞ্চল্য: চার বন্ধুর সঙ্গে পালিয়ে গেল চার বান্ধবী

সাতক্ষীরার শ্যামনগর উপজেলায় চার কিশোরী একসঙ্গে নিখোঁজ হওয়ার ঘটনায় এলাকাজুড়ে ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। বৃহস্পতিবার তাদের নিখোঁজ হওয়ার খবর প্রকাশ্যে আসার পর বিষয়টি নিয়ে উদ্বেগ ছড়িয়ে পড়ে পরিবার ও স্থানীয়দের মধ্যে। তবে পরে জানা যায়, ওই চার কিশোরী নিজেদের পরিচিত চার যুবকের সঙ্গে বাড়ি ছেড়ে চলে গেছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, চার বান্ধবী দীর্ঘদিন ধরে ওই চার যুবকের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছিল। পরিবারের সদস্যরা প্রথমে তাদের খোঁজ না পেয়ে উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েন এবং বিভিন্ন স্থানে অনুসন্ধান শুরু করেন। এক পর্যায়ে বিষয়টি এলাকায় ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়।

নিখোঁজের খবর ছড়িয়ে পড়ার পর স্বজনরা ধারণা করেছিলেন, কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটতে পারে। তবে পরবর্তীতে বিভিন্ন তথ্য-উপাত্তের ভিত্তিতে জানা যায়, তারা স্বেচ্ছায় চার বন্ধুর সঙ্গে বাড়ি ছেড়ে অন্যত্র চলে গেছে।

এ ঘটনায় সংশ্লিষ্ট পরিবারগুলোতে উদ্বেগ ও উৎকণ্ঠা বিরাজ করছে। সন্তানদের দ্রুত ফিরে পাওয়ার আশায় স্বজনরা প্রশাসনের সহযোগিতা কামনা করেছেন। অন্যদিকে ঘটনাটি নিয়ে এলাকাজুড়ে নানা আলোচনা-সমালোচনা চলছে।

আইনশৃঙ্খলা বাহিনী বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে পর্যবেক্ষণ করছে বলে জানা গেছে। তাদের অবস্থান নিশ্চিত করা এবং প্রয়োজনীয় আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণে সংশ্লিষ্টরা কাজ করছেন।

ঘটনার পর শ্যামনগরজুড়ে এটি এখন আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে। চার বান্ধবীর একসঙ্গে বাড়ি ছেড়ে চলে যাওয়ার ঘটনায় বিস্মিত স্থানীয়রা, আর তাদের নিরাপদে ফিরে আসার অপেক্ষায় রয়েছে পরিবারগুলো।

সাতক্ষীরার শ্যামনগরে চাঞ্চল্য: চার বন্ধুর সঙ্গে পালিয়ে গেল চার বান্ধবী

চট্টগ্রাম-১৫ (সাতকানিয়া-লোহাগাড়া) আসনের সংসদ সদস্য শাহজাহান চৌধুরীকে লক্ষ্য করে পায়ে গুলি করার পরিকল্পনার কথা উল্লেখ রয়েছে—এমন একটি কথিত অডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর সাতকানিয়া ও লোহাগাড়া এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। অডিওটি ঘিরে রাজনৈতিক অঙ্গনেও নানা আলোচনা ও উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।

 

ফাঁস হওয়া ওই অডিওতে সংসদ সদস্যের দীর্ঘদিনের ব্যক্তিগত সহকারী হিসেবে পরিচিত আরমান উদ্দিনের কণ্ঠ রয়েছে বলে দাবি করা হচ্ছে। অডিওতে একজন নির্বাচিত সংসদ সদস্যকে কেন্দ্র করে সহিংস পরিকল্পনার ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে বলে স্থানীয়দের মধ্যে আলোচনা চলছে।

 

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, কথোপকথনে অংশ নেওয়া দুই ব্যক্তির মধ্যে একজনের কণ্ঠ আরমান উদ্দিনের বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে। তবে অপর ব্যক্তির পরিচয় এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

 

সংরক্ষিত অডিওতে এক ব্যক্তিকে বলতে শোনা যায়, লোহাগাড়ায় এমপি কেন আসবে? আসলে পায়ে গুলি করে জিজ্ঞেস করবো কেন এসেছে। লোহাগাড়ার এমপি আরমান সাহেব, এখানে আরমান সাহেবের কথাই চলবে। জবাবে আরমান উদ্দিন বলে পরিচিত ব্যক্তিকে বলতে শোনা যায়, এমপিকে তো লোহাগাড়ায় না আসতে বলি। তারপরেও লোকজনের জ্বালায় আসে।

 

কথোপকথনের একপর্যায়ে অপর ব্যক্তি বলেন, বাদশা খালেদের মতো অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে থাকবো। এর জবাবে আরমান উদ্দিন বলে পরিচিত ব্যক্তি বলেন, এসব করলে পুলিশ আসবে, আর্মি আসবে, এমপি আসবে।

 

অডিওতে একজন সংসদ সদস্যকে লক্ষ্য করে হামলার পরিকল্পনার ইঙ্গিত এবং সেখানে তার ব্যক্তিগত সহকারীর কথিত সম্পৃক্ততার অভিযোগকে কেন্দ্র করে স্থানীয় রাজনৈতিক অঙ্গনে নানা প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে। বিষয়টি নিয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যেও উদ্বেগ ও কৌতূহল দেখা দিয়েছে।

 

স্থানীয় কয়েকটি সূত্রের দাবি, অডিওতে শোনা অপর ব্যক্তি লোহাগাড়া এলাকায় বালু উত্তোলন ও পাহাড় কাটার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট প্রভাবশালী একটি মহলের ঘনিষ্ঠজন হতে পারেন। তবে এ বিষয়ে স্বাধীনভাবে কোনো তথ্য যাচাই করা সম্ভব হয়নি।

 

অডিওর বিষয়ে বক্তব্য জানতে আরমান উদ্দিনের মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি। খুদে বার্তা পাঠানো হলেও তার কোনো জবাব পাওয়া যায়নি।

 

সাতকানিয়া সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আরিফুর রহমান ছিদ্দিকী বলেন, বিষয়টি সম্পর্কে আমি অবগত নই। পুলিশ এখনো কোনো অডিও লিংক বা এ-সংক্রান্ত আনুষ্ঠানিক তথ্য পায়নি।

 

সাতকানিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জাহাঙ্গীর আলম বলেন, এ বিষয়ে আমাদের কাছে কোনো অভিযোগ বা তথ্য নেই।

 

লোহাগাড়া থানার দায়িত্বশীল কর্মকর্তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তারাও এ ধরনের কোনো অভিযোগ বা তথ্য পাওয়ার বিষয়টি অস্বীকার করেন।

 

এদিকে, এ বিষয়ে বক্তব্য নেওয়ার জন্য সংসদ সদস্য শাহজাহান চৌধুরীর সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

এমপিকে গুলির পরিকল্পনার অডিও ফাঁস, সাতকানিয়া-লোহাগাড়ায় চাঞ্চল্য

বিস্তারিত....

Top