দেশে রেকর্ড সংখ্যক গবাদিপশু কোরবানি হয়েছে-প্রতিমন্ত্রী টুকু - Gono television | বাংলাদেশ সরকার অনুমোদিত বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেল।
দেশে রেকর্ড সংখ্যক গবাদিপশু কোরবানি হয়েছে-প্রতিমন্ত্রী টুকু

দেশে রেকর্ড সংখ্যক গবাদিপশু কোরবানি হয়েছে-প্রতিমন্ত্রী টুকু

পবিত্র ঈদুল আজহা উপলক্ষে সারা দেশে মোট ৯৩ লাখ ৬৭ হাজার ৪১৮টি গবাদি পশু কোরবানি হয়েছে। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি পশু কোরবানি হয়েছে ঢাকা বিভাগে এবং দ্বিতীয় সর্বোচ্চ অবস্থানে রয়েছে রাজশাহী বিভাগ। আর গত বছরের তুলনায় এবার কোরবানির পশুর সংখ্যা বেড়েছে।

 

বৃহস্পতিবার (৪ জুন) সচিবালয়ে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের সম্মেলনকক্ষে আয়োজিত এক প্রেস ব্রিফিংয়ে এসব তথ্য জানান মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাউদ্দিন টুকু। দেশব্যাপী কোরবানি হওয়া গবাদিপশুর প্রাথমিক হিসাব এবং সরকারের গৃহীত কার্যক্রম সম্পর্কে অবহিত করতে এই সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়।

 

তিনি বলেন, দেশে কোরবানির পশু উৎপাদনে বাংলাদেশ এখন স্বয়ংসম্পূর্ণ। অভ্যন্তরীণ চাহিদা পূরণের পর উদ্বৃত্ত পশু ও মাংস বিদেশে রপ্তানির লক্ষ্য নিয়ে সরকার কাজ করছে।

 

প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী আরো জানান, প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের আওতাধীন ৮টি বিভাগ থেকে প্রাপ্ত প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, এ বছর মোট জাবাইকৃত বা কোরবানিকৃত পশুর সংখ্যা ৯৩ লাখ ৬৭ হাজার ৪১৮। এর মধ্যে গরু ও মহিষের সংখ্যা ৪৮ লাখ ৬৪ হাজার ১৫৮, ছাগল ও ভেড়ার সংখ্যা ৪৫ লাখ ২ হাজার ২৩৩ এবং অন্যান্য পশু ১ হাজার ২৭টি।

 

বিভাগভিত্তিক কোরবানির চিত্র পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ঢাকা বিভাগে এবার সর্বাধিক ২৩ লাখ ৫১ হাজার ৬৬৬টি পশু কোরবানি হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে ১৩ লাখ ৬৯ হাজার ৫টি গরু ও মহিষ, ৯ লাখ ৮২ হাজার ১০৭টি ছাগল ও ভেড়া এবং ৫৫৪টি অন্যান্য পশু। গরু ও মহিষ কোরবানির ক্ষেত্রে ঢাকা বিভাগ দেশের শীর্ষে রয়েছে।

 

দ্বিতীয় সর্বোচ্চ কোরবানি হয়েছে রাজশাহী বিভাগে, যার সংখ্যা ২৩ লাখ ৪২ হাজার ৮৬৯। এর মধ্যে গরু ও মহিষ ৭ লাখ ৯৬ হাজার ১২১টি, ছাগল ও ভেড়া ১৫ লাখ ৪৬ হাজার ৭০৬টি এবং অন্যান্য পশু ৪২টি। ছাগল ও ভেড়া কোরবানির ক্ষেত্রে রাজশাহী বিভাগ দেশের মধ্যে সর্বোচ্চ অবস্থানে রয়েছে।

 

তৃতীয় অবস্থানে থাকা চট্টগ্রাম বিভাগে কোরবানি হয়েছে ১৭ লাখ ৩৪ হাজার ২৫টি পশু, যার মধ্যে গরু ও মহিষ ১২ লাখ ১৮ হাজার ৬৭২টি, ছাগল ও ভেড়া ৫ লাখ ১৪ হাজার ১৯২টি এবং অন্যান্য পশু ১৬১টি।

 

অন্যান্য বিভাগের মধ্যে খুলনায় ৮ লাখ ৪৬ হাজার ৫টি, রংপুরে ১০ লাখ ৫০ হাজার ৫৫৪টি, বরিশালে ৪ লাখ ১৬০টি, ময়মনসিংহে ৩ লাখ ৬৭ হাজার ৮১৮টি এবং সিলেট বিভাগে ২ লাখ ৭৪ হাজার ৩২১টি পশু কোরবানি হয়েছে।

 

প্রতিমন্ত্রী জানান, এ বছর পবিত্র ঈদুল আজহায় কোরবানির যোগ্য পশুর মোট চাহিদা ছিল ১ কোটি ১ লাখ ৬ হাজার ৩৩৪টি। এর বিপরীতে দেশে কোরবানির যোগ্য পশুর প্রাপ্যতা বা জোগান ছিল ১ কোটি ২৩ লাখ ৩৩ হাজার ৮৪০টি। ফলে কোরবানি শেষে দেশে এবার ২৯ লাখ ৬৬ হাজার ৪২২টি পশু উদ্বৃত্ত রয়েছে।

 

গত বছর (২০২৫ সাল) কোরবানির পশুর সম্ভাব্য চাহিদা ছিল ১ কোটি ৩ লাখ ৭৯ হাজার ২০টি এবং প্রাপ্যতা ছিল ১ কোটি ২৪ লাখ ৪৭ হাজার ৩৩৭টি। গত বছর দেশে মোট ৯১ লাখ ৩৬ হাজারটি পশু কোরবানি হয়েছিল এবং উদ্বৃত্ত ছিল ৩৩ লাখ ১১ হাজার ৩৩৭টি পশু। সেই তুলনায় গত বছরের চেয়ে এবার ২ লাখ ৩১ হাজার ৪১৮টি বেশি পশু কোরবানি হয়েছে।

 

প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাউদ্দিন টুকু বলেন, দেশীয় খামারিদের উৎপাদিত পশুর মাধ্যমেই এ বছরও কোরবানির শতভাগ চাহিদা পূরণ করা সম্ভব হয়েছে। সরকারের সময়োপযোগী নীতি সহায়তা, খামারিদের কঠোর পরিশ্রম ও উদ্যোক্তাদের বিনিয়োগের কারণে প্রাণিসম্পদ খাত আজ স্বয়ংসম্পূর্ণ। গ্রামীণ অর্থনীতি শক্তিশালী করতে ও টেকসই উন্নয়ন নিশ্চিত করতে সরকার আধুনিক প্রযুক্তি ও খামারি বান্ধব নীতি নিয়ে কাজ করে যাচ্ছে।


জলবায়ু পরিবর্তনের ক্রমবর্ধমান ঝুঁকি মোকাবিলায় সমন্বিত উদ্যোগ গ্রহণের আহ্বান জানিয়েছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। বিশ্ব পরিবেশ দিবস ২০২৬ উপলক্ষে বৃহস্পতিবার (৪ জুন) দেওয়া এক ফেসবুক বার্তায় তিনি এ আহ্বান জানান।

 

ফেসবুক বার্তায় তিনি বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনের অভিঘাত বর্তমানে সমগ্র মানবজাতির জন্য অন্যতম বড় বৈশ্বিক চ্যালেঞ্জ। সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধি, তাপদাহ, অনিয়মিত বৃষ্টিপাত, ঘূর্ণিঝড়, জলোচ্ছ্বাস, আকস্মিক বন্যা, খরা এবং জীববৈচিত্র্যের অবক্ষয় বিশ্বব্যাপী পরিবেশ ও অর্থনীতির ওপর গভীর প্রভাব ফেলছে।

 

তিনি উল্লেখ করেন, বৈশ্বিক গ্রিনহাউস গ্যাস নিঃসরণে বাংলাদেশের অবদান খুবই কম হলেও ভৌগোলিক অবস্থান, উচ্চ জনঘনত্ব এবং জলবায়ু-সংবেদনশীল অর্থনীতির কারণে দেশটি জলবায়ু ঝুঁকির মুখে রয়েছে।

 

তিনি লেখেন, Climate Risk Index 2026 অনুযায়ী বাংলাদেশ উচ্চ জলবায়ু ঝুঁকির সম্মুখীন। লবণাক্ততা বৃদ্ধি, কৃষি উৎপাদন হ্রাস, জলবায়ুজনিত বাস্তুচ্যুতি এবং প্রাকৃতিক দুর্যোগের ক্রমবর্ধমান তীব্রতা আমাদের উন্নয়ন অগ্রযাত্রার জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

 

তারেক রহমান বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবিলায় জাতীয় অভিযোজন পরিকল্পনা (NAP), জাতীয়ভাবে নির্ধারিত অবদান (NDC), উপকূলীয় সুরক্ষা, সামাজিক বনায়ন, দুর্যোগ প্রস্তুতি এবং প্রকৃতি-ভিত্তিক সমাধানকে গুরুত্ব দিতে হবে।

 

তিনি জানান, পরিবেশ সংরক্ষণ ও জলবায়ু সহনশীলতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে আগামী পাঁচ বছরে ২৫ কোটি বৃক্ষরোপণের কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়েছে। পাশাপাশি ২০ হাজার কিলোমিটার খাল খনন ও পুনঃখননের উদ্যোগ নেওয়ার কথাও উল্লেখ করেন।

 

কৃষিখাতকে জলবায়ু-সহিষ্ণু ও আধুনিক ভিত্তিতে পুনর্গঠনের ওপর গুরুত্বারোপ করে তিনি বলেন, গবেষণা, উদ্ভাবন, প্রশিক্ষণ ও সম্প্রসারণ কার্যক্রমকে অগ্রাধিকার দিতে হবে।

 

বার্তায় নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবহার বৃদ্ধি, সবুজ শিল্পায়ন, পরিবেশবান্ধব নগরায়ণ, উন্নত বর্জ্য ব্যবস্থাপনা, গণপরিবহন উন্নয়ন এবং পরিবেশবান্ধব প্রযুক্তির প্রসারের প্রয়োজনীয়তার কথাও তুলে ধরেন তিনি।

 

সবশেষে তারেক রহমান বলেন, পরিবেশ সচেতনতা, দায়িত্বশীল আচরণ এবং সমন্বিত উদ্যোগের মাধ্যমে একটি সবুজ, নিরাপদ ও জলবায়ু-সহনশীল বাংলাদেশ গড়ে তোলা সম্ভব।

 

সব শেষে তিনি বিশ্ব পরিবেশ দিবস ২০২৬ উপলক্ষে গৃহীত সকল কর্মসূচির সার্বিক সাফল্য কামনা করেন।

জলবায়ু সংকট মোকাবিলায় সমন্বিত উদ্যোগের আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর

বন্ধ ও লোকসানি সরকারি কারখানাগুলোতে নতুন বিনিয়োগ আনার লক্ষ্যে দেশব্যাপী রোড শো আয়োজনের পরিকল্পনা করেছে সরকার। দেশি ও বিদেশি বিনিয়োগকারীদের আকৃষ্ট করতে নেওয়া এ উদ্যোগের প্রস্তুতি চলতি মাসের মধ্যেই সম্পন্ন করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

 

বৃহস্পতিবার (০৪ জুন) সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত ‘শিল্প মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন বন্ধ কারখানা চালু ও ব্যবস্থাপনা’–সংক্রান্ত এক বৈঠকে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। সভায় সভাপতিত্ব করেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

 

বৈঠকে শিল্প মন্ত্রণালয়ের অধীন বিভিন্ন সরকারি কারখানার বর্তমান অবস্থা, উৎপাদন কার্যক্রম বন্ধ থাকার কারণ এবং সেগুলো পুনরায় চালুর সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা হয়। পাশাপাশি দীর্ঘদিন ধরে লোকসানে থাকা প্রতিষ্ঠানগুলোকে কীভাবে টেকসই ও লাভজনক করা যায়, সে বিষয়েও মতবিনিময় করা হয়।

 

সভাসংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানিয়েছে, প্রস্তাবিত রোড শো কর্মসূচির মাধ্যমে বিনিয়োগকারীদের কাছে বন্ধ ও অলাভজনক কারখানাগুলোর সম্ভাবনা, অবকাঠামোগত সুবিধা এবং ব্যবসায়িক সুযোগ তুলে ধরা হবে। এর মাধ্যমে বেসরকারি ও বিদেশি বিনিয়োগ বাড়ানোর চেষ্টা করা হবে।প্রধানমন্ত্রীর ডেপুটি প্রেস সেক্রেটারি হাসান শিপলু বলেন, বৈঠকে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিরা কারখানাগুলোর বিদ্যমান চ্যালেঞ্জ, আর্থিক অবস্থা এবং সম্ভাব্য পুনরুদ্ধার পরিকল্পনা উপস্থাপন করেন। এসব প্রতিষ্ঠানের কার্যক্রম পুনরায় সচল করতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিয়েও আলোচনা হয়।

 

তিনি জানান, প্রধানমন্ত্রী সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে দ্রুত ও কার্যকর উদ্যোগ নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন। একই সঙ্গে বাস্তবভিত্তিক পরিকল্পনার মাধ্যমে বন্ধ শিল্পপ্রতিষ্ঠানগুলো পুনরুজ্জীবিত করা এবং লোকসানি সংস্থাগুলোকে লাভজনক প্রতিষ্ঠানে রূপান্তরের ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন।

 

সভায় আরও জানানো হয়, কারখানাগুলোর পুনর্গঠন ও পুনরায় চালুর বিষয়ে বিশেষজ্ঞ কমিটির সুপারিশ পর্যালোচনার কাজ চলছে। সুপারিশগুলো চূড়ান্ত হওয়ার পর সেগুলোর ভিত্তিতে পরবর্তী কর্মপরিকল্পনা নির্ধারণ করা হবে।

 

বৈঠকে বাণিজ্য ও শিল্পমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির, প্রধানমন্ত্রীর অর্থ ও পরিকল্পনা উপদেষ্টা রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর, বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (বিডা) নির্বাহী চেয়ারম্যান আশিক চৌধুরী, প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব এ বি এম আব্দুস সাত্তারসহ শিল্প মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

বন্ধ কারখানা চালু করতে রোড শো আয়োজনের সিদ্ধান্ত সরকারের

দেশের সব শেষ করে চলে গেছেন, আওয়ামীলীগ দেশটাকে আবার নতুন করে গড়তেছি ঠাকুরগাঁওয়ে মির্জা ফখরুল।

 

মোঃ আশরাফুল ইসলাম

ঠাকুরগাঁও প্রতিনিধি।

 

নির্বাচনের সময় বিএনপি নাই, তারেক রহমান নাই। মানুষের মাঝে একটি দল আতংক সৃষ্টি করেছিলো। আল্লাহ তায়ালার কী অশেষ রহমত। মানুষ আমাদের ভোট দিয়ে নির্বাচিত করেছে। যারা বিএনপি করেন তাদের দায়িত্ব এখন অনেক বেশি। জনগণ আপনাদের উপর আস্থা রেখেছে, সে আস্থার মূল্য দিতে হবে বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

বুধবার (৩ জুন) বিকালে ঠাকুরগাঁওয়ে নবগঠিত ভূল্লী উপজেলার অস্থায়ী কার্যালয় উদ্বোধন শেষে ভূল্লী কুমারপুর উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে এক গণসংবর্ধনা অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে তিনি এসব কথা বলেন।

তিনি বলেন, আপনাদের কর্মকান্ডে প্রতিফলন করতে হবে। জনগণের ভালোবাসা অর্জন করতে হবে। ধমক দিয়ে, পিটিয়ে, নির্যাতন করে ক্ষমতায় টিকে থাকা যায় না।

তিনি আরও বলেন, হাসিনা তার কর্মকান্ডের জন্য টিকতে পারেনি। এমন পড়ন পড়ছে আর উঠতে পারে না। তার সাংঙ্গো পাংঙ্গোও নিয়ে পালিয়ে গেছে। আমরা এই অবস্থা চাই না। আমরা বাংলাদেশে সুন্দর, সুষ্ঠ, সহনশীল রাজনীতি চাই। আমরা গনতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করতে চাই। আমরা সংসদকে কার্যকারী করতে চাই।

এর আগে ভূল্লী উপজেলা বাস্তবায়ন করায় বিএনপি মহাসচিব ও এলজিআরডি মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলামকে নাগরিক সমাজ, বিএনপি ও বিভিন্ন সামাজিক সংগঠন এর পক্ষ থেকে ফুলের শুভেচ্ছা ও ক্রেস্ট প্রদান করা হয়।

দেশের সব শেষ করে চলে গেছেন, আওয়ামীলীগ দেশটাকে আবার নতুন করে গড়তেছি ঠাকুরগাঁওয়ে মির্জা ফখরুল

আগামী ২১ ও ২২ জুন মালয়েশিয়া সফরে যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিমের আমন্ত্রণে এ সফর অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে।

 

সূত্র জানা যায়, সফরে দুই দেশের প্রধানমন্ত্রীর মধ্যে দ্বিপক্ষীয় বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে। বৈঠকে শ্রমবাজার, বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সম্প্রসারণ, প্রবাসী বাংলাদেশিদের কল্যাণ, হালাল খাদ্যশিল্প, মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি (এফটিএ) এবং অর্থনৈতিক সহযোগিতাসহ বিভিন্ন বিষয় গুরুত্ব পেতে পারে।

 

কুয়ালালামপুরে বাংলাদেশ হাইকমিশনে যোগাযোগ করে জানা গেছে, মালয়েশিয়া সরকার সোমবার (১ জুন) সকালে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সফরের বিষয়টি আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করে চিঠি দিয়েছে। দুই দিনের সফরের দ্বিতীয় দিনে—অর্থাৎ ২২ জুন দুই শীর্ষ নেতার মধ্যে দ্বিপক্ষীয় বৈঠকটি আয়োজনের বিষয়ে কথা চলছে।

প্রধানমন্ত্রীর মালয়েশিয়া সফরে গুরুত্ব পাবে যেসব বিষয়

জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের সভাপতি হিসেবে পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমানের বিজয় বাংলাদেশের কূটনীতি এবং গণতন্ত্রের জন্য বড় বিষয় বলে দাবি করেছেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম। তিনি বলেন, ‘অবশ্যই আমি মনে করব, এটা বিএনপির ধারাবাহিক পররাষ্ট্রনীতির একটা সাফল্য।’

 

জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের সভাপতি দায়িত্ব পালনের সময়ে খলিলুর রহমান পররাষ্ট্রমন্ত্রীর দায়িত্বে থাকবেন কি না—এমন প্রশ্নে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম বলেছেন, এটি সম্পূর্ণ প্রধানমন্ত্রীর (তারেক রহমান) সিদ্ধান্ত।

 

আজ বুধবার ঢাকায় এসব কথা বলেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ। গতকাল মঙ্গলবার নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সদর দপ্তরে অনুষ্ঠিত নির্বাচনে সাইপ্রাসের প্রার্থী আন্দ্রেয়াস এস কাকৌরিসকে হারিয়ে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের (ইউএনজিএ) ৮১তম অধিবেশনের সভাপতি পদে নির্বাচিত হয়েছেন বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান।

 

এক প্রশ্নের জবাবে প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ বলেন, ‘আমি আগেই বলেছি, পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমানকে যদি ডেডিক্যাটলি এই কাজটি করতে হলে তাকে ওখানে সময়টা দিতেই হবে।

 

তার মানে এই না যে তিনি পররাষ্ট্রমন্ত্রী থাকতে পারবেন না। আমি মনে করি, এটি প্রধানমন্ত্রী এবং তার (পররাষ্ট্রমন্ত্রী) সিদ্ধান্ত।’

প্রধানন্ত্রীর বিদেশ সফর কোন দেশে জানতে চাইলে প্রতিমন্ত্রী বলেন, যতক্ষণ পর্যন্ত প্রধানমন্ত্রীর দপ্তর বা পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে কোনো তথ্য দেওয়া না হচ্ছে ততক্ষণ সেটি সিরিয়াসলি নেওয়ার কিছু নেই।

 

অনেক দেশ থেকে প্রধানমন্ত্রীর সফরে আমন্ত্রণপত্র এসেছে বলে জানিয়েছেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী।

 

কোন দেশ থেকে তিনি বিদেশ সফর শুরু করবেন তা প্রধানমন্ত্রীর প্রেস উইং জানিয়ে দেবে বলে জানান শামা ওবায়েদ।

গতকাল মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় তার বক্তব্যে বাংলাদেশের একটি হত্যাকাণ্ডে কারা জড়িত তা জানেন বলে দাবি করে বক্তব্য দেন। এবিষয়ে পররাষ্ট্রমন্ত্রী শামা ওবায়েদ বলেন, ‘একটি রাজ্যের পরাজিত ব্যক্তি কী বলল তা আমলে নিচ্ছে না সরকার। এ হত্যাকাণ্ডে (হাদি হত্যাকাণ্ড) জড়িত সন্দেহে ভারতে গ্রেপ্তার আসামিদের ফিরিয়ে আনতে দেশটির সঙ্গে কাজ করছে সরকার।’

খলিলুর রহমান পররাষ্ট্রমন্ত্রী থাকবেন কি না, সিদ্ধান্ত প্রধানমন্ত্রীর

ঘরে ঘরে হেলথ স্ক্রিনিং কার্যক্রম চালু করা হবে বলে জানিয়েছেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী মো. সাখাওয়াত হোসেন। তিনি বলেন, প্রথমে ৬ থেকে ১০টি উপজেলার ১টি করে ইউনিয়নে এই স্ক্রিনিং কার্যক্রম পাইলট আকারে চালু করা হবে।

 

বুধবার (৩ জুন) সচিবালয়ে স্বাস্থ্যখাত সম্পর্কিত বিষয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে এক ব্রিফিংয়ে তিনি এসব কথা বলেন।

 

স্বাস্থ্যমন্ত্রী জানান, স্ক্রিনিং কার্যক্রম সফল হলে সারাদেশে চালু করা হবে। যাতে স্বাস্থ্য সুবিধা তৃণমূলে ভালোভাবে পৌঁছে দেওয়া যায়। এছাড়া ঘরে ঘরে স্বাস্থ্য সেবা দেওয়ার জন্য মেডিকেল কিট বক্স এর ব্যবস্থা করা হবে, যার ভেতর রক্ত, ইউরিন ও ডায়েবেটিস পরীক্ষা থেকে শুরু করে সবকিছুর ব্যবস্থা থাকবে।

 

তিনি বলেন, দেশের ৪৯২টি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সকে ৫০ শয্যা থেকে ১০১ শয্যার হাসপাতালে রুপান্তরের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে গণপূর্ত বিভাগ আজ থেকে কাজ শুরু করা হয়েছে।

 

তিনি আরও বলেন, খুলনা, বরিশাল, রাজশাহী, রংপুর বিভাগ ও কুমিল্লায় ২০০ শয্যা বিশিষ্ট ৫টি স্পেশালাইজড শিশু হসপিটাল করা হবে। প্রত্যেকটি শিশু হাসপাতালে একটি বিশেষায়িত আইসিইউ থাকবে। ৬ মাসের মধ্যে কাজ শেষে প্রধানমন্ত্রী এসব হাসপাতাল উদ্বোধন করবেন।

 

এসময় স্বাস্থ্যমন্ত্রী জানান, চীন-বাংলাদেশ যৌথ উদ্যোগে নারীদের জন্য ৫টি বিশেষায়িত হাসপাতাল নির্মাণ করা হবে। এছাড়াও, ঢাকা মিটফোর্ড হাসপাতালে পুরোনো ভবন ভেঙে নতুন করে নির্মাণ করা হবে বলে জানান তিনি।

ঘরে ঘরে হেলথ স্ক্রিনিং কার্যক্রম চালু করা হবে: স্বাস্থ্যমন্ত্রী

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

টাঙ্গাইলে দুই গ্রামবাসীর সংঘর্ষ, ভাঙচুর, হামলা ও ঘরবাড়িতে আগুন দেয়ার ঘটনা ঘটেছে। সংঘর্ষে একজন নিহত ও বেশ কয়েকজন আহত হয়েছে। নিহত কালাম তালুকদার (৬৫) জগৎপুরা গ্রামের হাবিবুর রহমান তালুকদারের ছেলে।

 

বৃহস্পতিবার সন্ধ্যার দিকে ভূঞাপুর উপজেলার জগৎপুরা ও গোপালপুর উপজেলার গোল পেঁচা এলাকায় সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। ভূঞাপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের চিকিৎসক ডা. ফাতেমা নিহত হওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। এদিকে এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে দুই গ্রামে বিপুল সংখ্যক পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।

 

জানা যায়, দোকানে বাকি খাওয়াকে কেন্দ্র করে গোপালপুর উপজেলার গোল পেঁচা ও ভূঞাপুর উপজেলার জগৎকুড়া গ্রামের মধ্যে গত ২২ এপ্রিল দফায় দফায় সংঘর্ষ ও ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে। এরই জের ধরে বিকালে পুনরায় সংঘর্ষে জড়ায় দুটি গ্রামের লোকজন।

 

দেশীয় অস্ত্রসহকারে চলে দফায় দফায় সংঘর্ষ, ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের ঘটনা। সংঘর্ষে কালাম তালুকদারসহ অনেকেই আহত হন। পরে তাদের ভূঞাপুর হাসপাতালে নেয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক ডা. ফাতেমা কালামকে মৃত ঘোষণা করেন। আহত অন্যান্যদের টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

 

ভূঞাপুর থানার উপ-পরিদর্শক মো.আসলাম উদ্দিন বলেন, সংঘর্ষের ঘটনায় নিহত কালামের সুরতহাল রিপোর্ট তৈরি করা হয়েছে। ময়না তদন্তের জন্য টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হবে।

টাঙ্গাইলে দুই গ্রামবাসীর সংঘর্ষ : একাধিক বাড়ি ঘরে আগুন, একজনের মৃত্যু

নারায়ণগঞ্জ জেলা বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির সদস্য ও সিটি কর্পোরেশনের ৬নং ওয়ার্ড বিএনপির আহবায়ক ওকিল উদ্দিন ভূঁইয়ার উপর যুবদল কর্মীদের হামলার ঘটনা ঘটেছে।

 

বৃহস্পতিবার (৪ জুন) দুপুরে নারায়ণগঞ্জ জেলা পরিষদের কার্যালয় প্রাঙ্গনে জেলা যুবদলের সদস্য সচিব মশিউর রহমান রনির অনুসারী যুবদল কর্মীরা এই হামলা করেন। এসময় বিএনপি নেতা ওকিল উদ্দিন ভূঁইয়াকে ব্যাপক মারধর করা হয়। সেই সঙ্গে তার পড়নে থাকা জামা কাপড় ছিঁড়ে ফেলা হয়। পরে অন্যরা এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন।

 

উপস্থিত বিএনপির নেতাকর্মীদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা প্রয়াত রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের ৪৫তম শাহাদত বার্ষিকী উপলক্ষে নারায়ণগঞ্জ জেলা পরিষদের উদ্যোগে নানা কর্মসূচির আয়োজন করা হয়। কর্মসূচির মধ্যে ছিলো, স্বেচ্ছায় রক্তদান কর্মসূচি, বৃক্ষ মেলা, বই মেলা, চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতা ও জিয়াউর রহমানের দুর্লভ আলোকচিত্র প্রদর্শনী।

 

আর এই কর্মসূচি উপলক্ষ্যে জেলা পরিষদে নারায়ণগঞ্জ বিএনপির বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা আসেন। আর এই কর্মসূচির উদ্বোধন অনুষ্ঠান চলাকালে জেলা যুবদলের সদস্য সচিব মশিউর রহমান রনি ও বিএনপি নেতা ওকিল উদ্দিন ভূঁইয়ার তর্ক বিতর্কে ঘটনা ঘটে। আর এই তর্ক বিতর্কের জের ধরে ওকিল উদ্দিন ভূঁইয়াকে কার্যালয় প্রাঙ্গনে একা পেয়ে ব্যাপক মারধর করা হয়। পরে অন্যরা এগিয়ে এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন।

 

বিএনপি নেতা ওকিল উদ্দিন ভূঁইয়া বলেন, অনুষ্ঠানের শুরুতে মশিউর রহমান রনির সাথে আমার তর্ক বিতর্ক হয়। পরে জেলা পরিষদের প্রশাসক অধ্যাপক মামুন মাহমুদ সহ অন্যান্য নেতারা একত্রে বসে আমাদের মিলিয়ে দেন। এরপর আমি জেলা পরিষদের কার্যালয় প্রাঙ্গনে আসার সাথে সাথেই আমার ওপর অতর্কিতভাবে হামলা করা হয়। আমি এই ঘটনায় মামলা দায়ের করবো।

 

তবে এ বিষয়ে জেলা যুবদলের সদস্য সচিব মশিউর রহমান রনি বলেন, প্রথমে আমাদের দুইজনের মাঝে একটা ভুল বুঝাবুঝি হয়েছিলো। পরে আমরা এ বিষয়ে উভয়পক্ষ মিলে সমাধান করি। কিন্তু অতি উৎসাহী কিছু কর্মী কার্যালয় প্রাঙ্গনে গিয়ে এই ঘটনা ঘটায়। তাদের বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে। যুবদল থেকে বহিস্কার করে দেয়া হয়েছে।

নারায়ণগঞ্জে বিএনপি নেতার ওপর যুবদলের হামলা

জ্বালানি তেল ও বিদ্যুতের দাম বাড়ানোর প্রতিবাদে রাজধানীতে বিক্ষোভ সমাবেশ ও মিছিল করেছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী।

 

আজ বৃহস্পতিবার (০৪ জুন) বিকেলে জামায়াতে ইসলামী ঢাকা মহানগরীর উদ্যোগে বায়তুল মোকাররমের উত্তর গেট থেকে বিক্ষোভ মিছিলটি বের হয়। মিছিলটি পল্টন ও কাকরাইল মোড় ঘুরে শান্তিনগরে গিয়ে শেষ হয়।

 

জ্বালানি তেল ও বিদ্যুতের দাম বাড়ানো সরকারের গণবিরোধী সিদ্ধান্ত বলে আখ্যা দিয়েছেন দলটির নেতারা।

 

বিক্ষোভ সমাবেশে মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, ‘দুই বছর দাম না বাড়ানোর আশ্বাস দিলেও মাত্র তিন মাসের মাথায় মূল্যবৃদ্ধি করে সরকার জনগণের সঙ্গে করা প্রতিশ্রুতি ভঙ্গ করেছে।’

 

তিনি অবিলম্বে এ সিদ্ধান্ত প্রত্যাহারের দাবি জানান এবং তা না হলে সরকারকে জনগণের ক্ষোভের মুখে পড়তে হতে পারে বলেও হুশিয়ারি দেন।

 

বিদ্যুতের মূল্যবৃদ্ধির সিদ্ধান্তকে ‘গণবিরোধী’ আখ্যা দিয়ে জামায়াত সেক্রেটারি বলেন, ‘ গ্রাহক পর্যায়ে ছয়টি স্লটে যেভাবে দাম বাড়ানো হয়েছে, তাতে প্রান্তিক ও দরিদ্র মানুষ চরম ভোগান্তিতে পড়বে। বিদ্যুৎ সেক্টরে সিস্টেম লস ও ক্যাপাসিটি চার্জের নামে হাজার হাজার কোটি টাকা লুটপাট ও দুর্নীতি বন্ধ না করে, সাধারণ মানুষের পকেট কেটে সেই টাকা ভরাট করার চেষ্টা চলছে।’

 

তিনি বলেন, ‘আমরা আইএমএফ বা বিশ্বব্যাংকের গোলাম নই। তাদের কথায় বিদ্যুতের মূল্য বৃদ্ধি করে জনগণের দুঃখ-কষ্ট বাড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। সারা বিশ্ব যখন নবায়নযোগ্য জ্বালানির দিকে ঝুঁকছে, সরকার সেদিকে কোনো পদক্ষেপ না নিয়ে সাধারণ মানুষের ওপর বোঝার ওপর শাকের আঁটি চাপিয়ে দিচ্ছে।’

 

সমাবেশ শেষে বায়তুল মোকাররম থেকে একটি বিক্ষোভ মিছিল বের হয়। মিছিলটি পল্টন ও কাকরাইল মোড় ঘুরে শান্তিনগরে গিয়ে শেষ হয়।

 

প্রসঙ্গত, বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি) সংবাদ সম্মেলন করে বিদ্যুতের দাম বাড়ানোর ঘোষণা দেয়। পাইকারি ও খুচরা—উভয় পর্যায়েই বিদ্যুতের দাম বাড়ানো হয়েছে। পাইকারি পর্যায়ে বিদ্যুতের দাম গড়ে ১৯ দশমিক ৮৫ শতাংশ, সঞ্চালন চার্জ ২৩ দশমিক ৯৬ শতাংশ ও গ্রাহক পর্যায়ে বিদ্যুতের দাম গড়ে ১৬ দশমিক ৬৮ শতাংশ বাড়ানো হয়েছে। নতুন দাম জুন থেকে কার্যকর।

জ্বালানি তেল ও বিদ্যুতের দাম বাড়ানোর প্রতিবাদে জামায়াতের বিক্ষোভ

জলবায়ু পরিবর্তনের ক্রমবর্ধমান ঝুঁকি মোকাবিলায় সমন্বিত উদ্যোগ গ্রহণের আহ্বান জানিয়েছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। বিশ্ব পরিবেশ দিবস ২০২৬ উপলক্ষে বৃহস্পতিবার (৪ জুন) দেওয়া এক ফেসবুক বার্তায় তিনি এ আহ্বান জানান।

 

ফেসবুক বার্তায় তিনি বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনের অভিঘাত বর্তমানে সমগ্র মানবজাতির জন্য অন্যতম বড় বৈশ্বিক চ্যালেঞ্জ। সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধি, তাপদাহ, অনিয়মিত বৃষ্টিপাত, ঘূর্ণিঝড়, জলোচ্ছ্বাস, আকস্মিক বন্যা, খরা এবং জীববৈচিত্র্যের অবক্ষয় বিশ্বব্যাপী পরিবেশ ও অর্থনীতির ওপর গভীর প্রভাব ফেলছে।

 

তিনি উল্লেখ করেন, বৈশ্বিক গ্রিনহাউস গ্যাস নিঃসরণে বাংলাদেশের অবদান খুবই কম হলেও ভৌগোলিক অবস্থান, উচ্চ জনঘনত্ব এবং জলবায়ু-সংবেদনশীল অর্থনীতির কারণে দেশটি জলবায়ু ঝুঁকির মুখে রয়েছে।

 

তিনি লেখেন, Climate Risk Index 2026 অনুযায়ী বাংলাদেশ উচ্চ জলবায়ু ঝুঁকির সম্মুখীন। লবণাক্ততা বৃদ্ধি, কৃষি উৎপাদন হ্রাস, জলবায়ুজনিত বাস্তুচ্যুতি এবং প্রাকৃতিক দুর্যোগের ক্রমবর্ধমান তীব্রতা আমাদের উন্নয়ন অগ্রযাত্রার জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

 

তারেক রহমান বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবিলায় জাতীয় অভিযোজন পরিকল্পনা (NAP), জাতীয়ভাবে নির্ধারিত অবদান (NDC), উপকূলীয় সুরক্ষা, সামাজিক বনায়ন, দুর্যোগ প্রস্তুতি এবং প্রকৃতি-ভিত্তিক সমাধানকে গুরুত্ব দিতে হবে।

 

তিনি জানান, পরিবেশ সংরক্ষণ ও জলবায়ু সহনশীলতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে আগামী পাঁচ বছরে ২৫ কোটি বৃক্ষরোপণের কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়েছে। পাশাপাশি ২০ হাজার কিলোমিটার খাল খনন ও পুনঃখননের উদ্যোগ নেওয়ার কথাও উল্লেখ করেন।

 

কৃষিখাতকে জলবায়ু-সহিষ্ণু ও আধুনিক ভিত্তিতে পুনর্গঠনের ওপর গুরুত্বারোপ করে তিনি বলেন, গবেষণা, উদ্ভাবন, প্রশিক্ষণ ও সম্প্রসারণ কার্যক্রমকে অগ্রাধিকার দিতে হবে।

 

বার্তায় নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবহার বৃদ্ধি, সবুজ শিল্পায়ন, পরিবেশবান্ধব নগরায়ণ, উন্নত বর্জ্য ব্যবস্থাপনা, গণপরিবহন উন্নয়ন এবং পরিবেশবান্ধব প্রযুক্তির প্রসারের প্রয়োজনীয়তার কথাও তুলে ধরেন তিনি।

 

সবশেষে তারেক রহমান বলেন, পরিবেশ সচেতনতা, দায়িত্বশীল আচরণ এবং সমন্বিত উদ্যোগের মাধ্যমে একটি সবুজ, নিরাপদ ও জলবায়ু-সহনশীল বাংলাদেশ গড়ে তোলা সম্ভব।

 

সব শেষে তিনি বিশ্ব পরিবেশ দিবস ২০২৬ উপলক্ষে গৃহীত সকল কর্মসূচির সার্বিক সাফল্য কামনা করেন।

জলবায়ু সংকট মোকাবিলায় সমন্বিত উদ্যোগের আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর

প্রান্তিক গ্রাহকদের ভোগান্তির বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে আবাসিকে ৭৫ ইউনিট পর্যন্ত (লাইফলাইন) বিদ্যুতের বাড়তি দাম প্রত্যাহার করে নিয়েছে বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি)।

 

বৃহস্পতিবার (৪ জুন) বিইআরসির এক বিজ্ঞপ্তিতে বিদ্যুতের বাড়তি দাম প্রত্যাহারের বিষয়টি জানানো হয়েছে।

 

এর আগে বুধবার (৩ জুন) পাইকারি ও খুচরা পর্যায়ে বিদ্যুতের নতুন দাম ঘোষণা করে বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি)। যেখানে আবাসিক গ্রাহকদের প্রতি ইউনিট বিদ্যুতের দাম ৪ টাকা ৬৩ পয়সা থেকে বাড়িয়ে ৫ টাকা ৩২ পয়সা নির্ধারণ করা হয়। সেই সঙ্গে প্রথম ধাপে ৭৫ ইউনিট পর্যন্ত ব্যবহারকারীদের জন্য প্রতি ইউনিট বিদ্যুতের দাম ৫ টাকা ২৬ পয়সা থেকে বাড়িয়ে ৬ টাকা ১৮ পয়সা করা হয়।

 

আবাসিকে ৭৫ ইউনিট পর্যন্ত বিদ্যুতের বর্ধিত মূল্য প্রত্যাহারের বিষয়ে বিইআরসির বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, বিদ্যুৎ বিতরণ সংস্থা ও কোম্পানিগুলো বুধবার বিদ্যুতের খুচরা মূল্যহার পুনর্নির্ধারণ সংক্রান্ত বিজ্ঞপ্তিতে অন্তর্ভুক্ত আবাসিক লাইফ লাইন (০-৫০ ইউনিট) এবং আবাসিক প্রথম ধাপের (০-৭৫ ইউনিট) পুনর্নির্ধারিত মূল্যহার পুনর্বিবেচনার জন্য আবেদন করে।

 

এর প্রেক্ষিতে বৃহস্পতিবার এ বিষয়ে শুনানি শেষে বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন আইন, ২০০৩ এর ধারা ২২(খ) ও ৩৪ এ প্রদত্ত ক্ষমতাবলে এবং বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন বিদ্যুৎ বিতরণ (খুচরা) ট্যারিফ প্রবিধানমালা, ২০১৬ এর প্রবিধান ১৩(৩) অনুসারে আবাসিক লাইফ লাইন (০-৫০ ইউনিট) এবং আবাসিক প্রথম ধাপের (০-৭৫ ইউনিট) বর্ধিত মূল্যহার কার্যকর না করে পূর্বের মূল্যহার বহাল রাখা হলো।

 

ফলে সব বিদ্যুৎ বিতরণ সংস্থা ও কোম্পানির আবাসিক গ্রাহক-শ্রেণির লাইফ লাইন (০-৫০ ইউনিট) এর এনার্জি রেট বা চার্জ প্রতি কিলোওয়াট ৪ টাকা ৬৩ পয়সা এবং প্রথম ধাপের (০-৭৫ ইউনিট) এনার্জি রেট বা চার্জ ৫ টাকা ২৬ পয়সা জুন, ২০২৬ থেকে বহাল থাকবে।

 

তবে বিদ্যুতের খুচরা মূল্যহার পুনর্নির্ধারণের বিষয়ে বুধবার জারি করা বিইআরসির অন্যান্য আদেশ অপরিবর্তিত থাকবে বলেও বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ রয়েছে।

বিদ্যুতের বাড়তি দাম প্রত্যাহার করল বিইআরসি

বন্ধ ও লোকসানি সরকারি কারখানাগুলোতে নতুন বিনিয়োগ আনার লক্ষ্যে দেশব্যাপী রোড শো আয়োজনের পরিকল্পনা করেছে সরকার। দেশি ও বিদেশি বিনিয়োগকারীদের আকৃষ্ট করতে নেওয়া এ উদ্যোগের প্রস্তুতি চলতি মাসের মধ্যেই সম্পন্ন করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

 

বৃহস্পতিবার (০৪ জুন) সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত ‘শিল্প মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন বন্ধ কারখানা চালু ও ব্যবস্থাপনা’–সংক্রান্ত এক বৈঠকে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। সভায় সভাপতিত্ব করেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

 

বৈঠকে শিল্প মন্ত্রণালয়ের অধীন বিভিন্ন সরকারি কারখানার বর্তমান অবস্থা, উৎপাদন কার্যক্রম বন্ধ থাকার কারণ এবং সেগুলো পুনরায় চালুর সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা হয়। পাশাপাশি দীর্ঘদিন ধরে লোকসানে থাকা প্রতিষ্ঠানগুলোকে কীভাবে টেকসই ও লাভজনক করা যায়, সে বিষয়েও মতবিনিময় করা হয়।

 

সভাসংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানিয়েছে, প্রস্তাবিত রোড শো কর্মসূচির মাধ্যমে বিনিয়োগকারীদের কাছে বন্ধ ও অলাভজনক কারখানাগুলোর সম্ভাবনা, অবকাঠামোগত সুবিধা এবং ব্যবসায়িক সুযোগ তুলে ধরা হবে। এর মাধ্যমে বেসরকারি ও বিদেশি বিনিয়োগ বাড়ানোর চেষ্টা করা হবে।প্রধানমন্ত্রীর ডেপুটি প্রেস সেক্রেটারি হাসান শিপলু বলেন, বৈঠকে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিরা কারখানাগুলোর বিদ্যমান চ্যালেঞ্জ, আর্থিক অবস্থা এবং সম্ভাব্য পুনরুদ্ধার পরিকল্পনা উপস্থাপন করেন। এসব প্রতিষ্ঠানের কার্যক্রম পুনরায় সচল করতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিয়েও আলোচনা হয়।

 

তিনি জানান, প্রধানমন্ত্রী সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে দ্রুত ও কার্যকর উদ্যোগ নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন। একই সঙ্গে বাস্তবভিত্তিক পরিকল্পনার মাধ্যমে বন্ধ শিল্পপ্রতিষ্ঠানগুলো পুনরুজ্জীবিত করা এবং লোকসানি সংস্থাগুলোকে লাভজনক প্রতিষ্ঠানে রূপান্তরের ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন।

 

সভায় আরও জানানো হয়, কারখানাগুলোর পুনর্গঠন ও পুনরায় চালুর বিষয়ে বিশেষজ্ঞ কমিটির সুপারিশ পর্যালোচনার কাজ চলছে। সুপারিশগুলো চূড়ান্ত হওয়ার পর সেগুলোর ভিত্তিতে পরবর্তী কর্মপরিকল্পনা নির্ধারণ করা হবে।

 

বৈঠকে বাণিজ্য ও শিল্পমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির, প্রধানমন্ত্রীর অর্থ ও পরিকল্পনা উপদেষ্টা রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর, বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (বিডা) নির্বাহী চেয়ারম্যান আশিক চৌধুরী, প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব এ বি এম আব্দুস সাত্তারসহ শিল্প মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

বন্ধ কারখানা চালু করতে রোড শো আয়োজনের সিদ্ধান্ত সরকারের

চাঁপাইনবাবগঞ্জের তিন উপজেলায় পৃথক বজ্রপাতের ঘটনায় তিন নারীসহ ছয়জনের মৃত্যু হয়েছে। বৃহস্পতিবার (৪ জুন) বিকেলে বৃষ্টির সময় জেলার সদর, শিবগঞ্জ ও নাচোল উপজেলায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।

 

নিহতরা হলেন, চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর উপজেলার আতাহার গ্রামের রাব্বিলের ছেলে আব্দুল্লাহ, শিবগঞ্জ উপজেলার চকনরেন্দ্র গ্রামের আব্দুর রবের স্ত্রী মাহমুদা আক্তার, রানীবাড়ি বাজারপাড়ার আবুল কাশেমের মেয়ে সাদিয়া খাতুন, মোবারকপুর ইউনিয়নের শিকারপুর দক্ষিণপাড়ার ফিটু আলীর ছেলে মেসবাউল, নাচোল উপজেলার লাহাবাড়ি গ্রামের সুমিয়ারা বেগম এবং একই উপজেলার নেজামপুর ইউনিয়নের গোসাইপুর গ্রামের শাফিউলের ছেলে হাসান আলি লালু।

 

এ বিষয়ে শিবগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মতিউর রহমান বলেন, শিবগঞ্জ উপজেলার নিহত তিনজন বাড়ির পাশের আমবাগানে আম কুড়ানোর সময় আকস্মিক বজ্রপাত হলে ঘটনাস্থলেই তাদের মৃত্যু হয়।

 

এদিকে, শিবগঞ্জ উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মিজানুর রহমান বলেন, নিহত তিন পরিবারের প্রত্যেককে তাৎক্ষণিকভাবে ২৫ হাজার টাকা করে আর্থিক সহায়তা প্রদান করা হয়েছে।

 

অন্যদিকে, চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) একরামুল হোসাইন বলেন, আতাহার এলাকায় বৃষ্টির মধ্যে মাঠ থেকে গরু আনতে গিয়ে বজ্রপাতে গুরুতর আহত হয় আব্দুল্লাহ। পরে স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করে।

 

নাচোল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সুকোমল চন্দ্র দেবনাথ বলেন, নাচোল উপজেলার লাহাবাড়ি এলাকায় মাঠে ঘাস কেটে বাড়ি ফেরার পথে বজ্রপাতে সুমিয়ারা বেগমের মৃত্যু হয়। এদিকে আমকুড়াতে গিয়ে বজ্রপাতে নাচোল উপজেলার গোসাইপুর গ্রামের হাসান আলি লালুর মৃত্যু হয়।

 

এ বিষয়ে স্থানীয় প্রশাসন জানায়, চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর ও নাচোল উপজেলার নিহত পরিবারগুলোকে ২৫ হাজার টাকা করে আর্থিক সহায়তা প্রদান করা হয়েছে।

চাঁপাইনবাবগঞ্জে বজ্রপাতে ৬ জনের মৃত্যু

সাতক্ষীরা জেলা পরিষদের প্রশাসক হলেন সাবেক এমপি হাবিবুল ইসলাম হাবিব

 

মো: তুহিন হোসেন সাতক্ষীরা জেলা প্রতিনিধি :

 

 

সাতক্ষীরা জেলা পরিষদের পূর্ণকালীন প্রশাসক হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন বিএনপির কেন্দ্রীয় প্রকাশনা বিষয়ক সম্পাদক ও সাতক্ষীরা-১ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য হাবিবুল ইসলাম হাবিব। স্থানীয় সরকার বিভাগের এক প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে তাকে এ দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (০৪ জুন) স্থানীয় সরকার বিভাগের জারি করা এক প্রজ্ঞাপনে দেশের বিভিন্ন জেলা পরিষদে প্রশাসক নিয়োগের অংশ হিসেবে হাবিবুল ইসলাম হাবিবকে সাতক্ষীরা জেলা পরিষদের প্রশাসক হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়।

প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, দায়িত্ব পালনকালে তিনি জেলা পরিষদের চেয়ারম্যানের সব ক্ষমতা প্রয়োগ করতে পারবেন। পাশাপাশি বিধি অনুযায়ী ভাতা ও অন্যান্য সুযোগ-সুবিধা ভোগ করবেন।

জেলা পরিষদের প্রশাসক নিয়োগকে ঘিরে কয়েক মাস ধরে সাতক্ষীরার রাজনৈতিক অঙ্গনে নানা আলোচনা চলছিল। এর মধ্যেই বুধবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে হাবিবুল ইসলাম হাবিবের প্রশাসক হিসেবে নিয়োগ পাওয়ার খবর ছড়িয়ে পড়ে। খবরটি ছড়িয়ে পড়ার পর বিএনপি ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা তাকে অভিনন্দন জানাতে শুরু করেন।

তবে তখনো আনুষ্ঠানিক প্রজ্ঞাপন প্রকাশ না হওয়ায় বিষয়টি নিয়ে বিভ্রান্তি তৈরি হয়। হাবিবুল ইসলাম হাবিবের মেয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এক পোস্টে লেখেন, তার জানা মতে তখনো জেলা পরিষদের প্রশাসক নিয়োগের আনুষ্ঠানিক ঘোষণা আসেনি।

পরে বৃহস্পতিবার সরকারি প্রজ্ঞাপন জারির পর বিষয়টি নিশ্চিত হলে পরিবার ও সমর্থকদের মধ্যে উচ্ছ্বাস দেখা যায়। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও তাকে শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানিয়ে অসংখ্য পোস্ট দিতে দেখা যায় দলীয় নেতাকর্মীদের।

হাবিবুল ইসলাম হাবিব দীর্ঘদিন ধরে সাতক্ষীরার রাজনীতিতে সক্রিয়। তিনি বিএনপির কেন্দ্রীয় প্রকাশনাবিষয়ক সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করছেন। সর্বশেষ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তিনি সাতক্ষীরা-১ আসন থেকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করলেও বিজয়ী হতে পারেননি। তবে নির্বাচনের পরও দলীয় কর্মকাণ্ড ও নির্বাচনী এলাকার সঙ্গে তার যোগাযোগ অব্যাহত ছিল।

রাজনৈতিক জীবনে নানা প্রতিকূলতার মুখোমুখি হতে হয়েছে তাকে। ২০০২ সালে কলারোয়ায় তৎকালীন বিরোধীদলীয় নেত্রী শেখ হাসিনার গাড়িবহরে হামলার ঘটনায় করা মামলায় তিনি অভিযুক্ত হন। পরে ওই মামলায় আদালতের রায়ে তাকে বিভিন্ন ধারায় সাজা দেওয়া হয়। দীর্ঘ সময় কারাভোগের পর ২০২৪ সালের ৩ সেপ্টেম্বর তিনি জামিনে মুক্তি পান।

দীর্ঘ রাজনৈতিক ও আইনি অধ্যায়ের পর এবার স্থানীয় সরকার ব্যবস্থার গুরুত্বপূর্ণ একটি পদে দায়িত্ব পেলেন হাবিবুল ইসলাম হাবিব। তার নিয়োগে জেলা বিএনপি ও অঙ্গ সংগঠনের নেতাকর্মীদের মধ্যে উৎসাহ-উদ্দীপনা দেখা গেছে।

সাতক্ষীরা জেলা পরিষদের প্রশাসক হলেন সাবেক এমপি হাবিবুল ইসলাম হাবিব

নিখোঁজের দুই দিন পর ঘরের মেঝের নিচে মিলল বৃদ্ধা মায়ের মরদেহ, হত্যার অভিযোগ ছেলের বিরুদ্ধে

 

মাইদুল ইসলাম: (জেলা প্রতিনিধি নীলফামারী)

যে ঘরে জীবনের শেষ আশ্রয় খুঁজেছিলেন এক অসহায় বৃদ্ধা মা, সেই ঘরের মেঝের নিচে দুই দিন পর মিলল তার নিথর দেহ। নীলফামারী কিশোরগঞ্জ উপজেলায় হৃদয়বিদারক এ ঘটনায় এলাকায় শোক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। বুধবার (৩জ জুন) মধ্যরাতে উপজেলার বড়ভিটা ইউনিয়নের উত্তর বড় ভিটা ময়দান পাড়া এলাকায় ঘরের মেঝে খুরে মারুফা বেগম ( ৬০) নামের এক বৃদ্ধার মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। তিনি ওই এলাকার মৃত আশরাফ আলীর স্ত্রী এবং তিন সন্তানের জননী। স্বজন ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, মারুফা বেগম তার বড় ছেলে জুয়েল মিয়ার সঙ্গে বাড়িতে বসবাস করতেন। ছোট ছেলে লাভিন চাকরির কারণে ঢাকায় থাকতেন। গত সোমবার হঠাৎ করেই নিখোঁজ হয়ে যান মা মারুফা বেগম। পরিবারের সদস্যরা বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজি করেও তার কোন সন্ধান পাননি। নিখোঁজের দুইদিন পর রহস্যজনক ঘটনা সূত্রপাত হয়। বুধবার লাভিন নিয়ার স্ত্রী ঘর গোছানোর সময় বিছানার তোশকের নিচে রক্তের দাগ এবং ঘরের মেঝেতে অস্বাভাবিক ফাটল দেখতে পান। বিষয়টি তাৎক্ষণিকভাবে লাভিন মিয়াকে জানানো হলে তিনি থানায় খবর দেন। পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে ঘরের ভেতরে রক্তের চিহ্ন ও মেঝের ফাটল দেখে সন্দেহ প্রকাশ করে। পরে ফায়ার সার্ভিসের সহায়তায় মেঝে খুঁরে উদ্ধার করা হয় মারুফা বেগমের মরদেহ। এ দৃশ্য দেখে স্বজন ও এলাকাবাসীর মধ্যে নেমে আসে সোখের ছায়া। নিহতের ছোট ছেলে লাভিন মিয়া অভিযোগ করে বলে, ” আমি ঢাকা থেকে এসে জানতে পারি, আমার মায়ের সঙ্গে বড় ভাইয়ের স্ত্রীর ঝগড়া হয়েছিল। এরপর ভাবী রাগ করে বাবার বাড়িতে চলে যান। ঐদিন থেকেই মা নিখোঁজ ছিলেন। পরে ঘরের ভেতর রক্তাক্ত ও মেঝেতে ফাটল দেখে পুলিশকে জানাই। আমার মা নিখোঁজ হওয়ার পর থেকেই বড় ভাই জুয়েল আত্মগোপন হয়েছে। আমার

দৃঢ় ধারণা, সে-ই আমার মাকে হত্যা করে ঘরের মেঝেতে পুঁতে রেখেছে।” এ বিষয়ে কিশোরগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) লুৎফর রহমান বলেন, ” ” “নিহতের ছোট ছেলে থানায় এসে বিষয়টি জানালে আমরা ঘটনাস্থলে যাই। ঘরের ভেতরে রক্তের চিহ্ন মেঝেতে ফাটল দেখতে পেয়ে ফায়ার সার্ভিসে সহযোগিতায় মেঝে ঘুরে মরদেহ উদ্ধার করা হয়।” তিনি আরো বলেন,” মারুফা বেগম দুইদিন ধরে নিখোঁজ ছিলেন। ঘটনাটি

গুরুত্বসহকারে তদন্ত করা হচ্ছে। তদন্ত শেষে হত্যার প্রকৃত রহস্য উদঘাটন এবং জড়িতদের গ্রেপ্তার করা হবে।” একজন মায়ের এমন মর্মান্তিক পরিণতি পুরো এলাকাকে নিস্তব্ধ করে দিয়েছে। যে সন্তানকে বুকে আগলে মানুষ করেছেন, সেই সন্তানের বিরুদ্ধেই উঠেছে হত্যার অভিযোগ-এ ঘটনায় স্থানীয়দের মাঝে গভীর ক্ষোভ ও বেদনার সৃষ্টি হয়েছে।

নিখোঁজের দুই দিন পর ঘরের মেঝের নিচে মিলল বৃদ্ধা মায়ের মরদেহ, হত্যার অভিযোগ ছেলের বিরুদ্ধে

র‌্যাবের চৌকস অভিযানে জীপসহ প্রায় ১১ হাজার ইয়াবার চালান আটক

জামালপুর হামলা পাল্টা হামলার মধ্য দিয়ে জেলার সানন্দবাড়ী তে থমথমে অবস্থা বিরাজমান।

error: আপনি নিউজ চুরি করার চেষ্টা করছেন। বিশেষ প্রয়োজনে যোগাযোগ করুন ০১৭৬৭৪৪৪৩৩৩
%d