
বোমারু মামুনকে ধরতে সাভারে ভবন ঘিরে রেখেছে আইনশৃঙ্খলাবাহিনী, গ্রেপ্তার আরিফ
রাজধানীর মতিঝিল মেট্রোরেল স্টেশনের নিচে ও সাভারের আশুলিয়ায় বোমা উদ্ধারের ঘটনায় জড়িত দুজনকে শনাক্ত করেছে পুলিশের কাউন্টার টেররিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম (সিটিটিসি) ইউনিট। তাদের একজন মোহাম্মদ আরিফকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। অপরজন নাজমুল হাসান ওরফে ‘বোমারু মামুন’কে গ্রেপ্তারে সাভারে অভিযান চলছে।
মঙ্গলবার (১১ আগস্ট) রাতে সাভারের হেমায়েতপুরের শ্যামপুর এলাকায় আব্দুল জলিলের মালিকানাধীন একটি তিনতলা ভবন ঘিরে অভিযান শুরু করে সিটিটিসি। রাত ১২টা পর্যন্ত অভিযান চলছিল। ভবনটির ভেতর বিপুল পরিমাণ বিস্ফোরক তৈরির সরঞ্জাম রয়েছে বলে জানিয়েছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।
সিটিটিসি ইউনিটের যুগ্ম কমিশনার মুনশী শাহাবুদ্দীন বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেন, মতিঝিল ও আশুলিয়ায় বোমা উদ্ধারের ঘটনায় তদন্ত করে দুজনকে শনাক্ত করা হয়েছে। তাদের একজন আরিফ। অপরজন মূলহোতা বোমারু মামুন।
সিটিটিসি সূত্র জানায়, মঙ্গলবার রাত ৮টার দিকে গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে সাভারের তেঁতুলঝড়া ইউনিয়নের শ্যামপুর এলাকায় আব্দুল জলিলের বাড়িটি ঘিরে অভিযান শুরু হয়। এ সময় মোহাম্মদ আরিফকে গ্রেপ্তার করা হয়। বাড়ি থেকে বিপুল পরিমাণ কেমিক্যাল ও বিস্ফোরক তৈরির উপকরণ জব্দ করা হয়েছে।
স্থানীয় বাসিন্দাদের পাশাপাশি সাংবাদিকদেরও ভবনটির কাছাকাছি যেতে দেওয়া হয়নি। আশপাশের এলাকায় সাধারণ মানুষের চলাচলও সীমিত করে দেয় আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।
সাভার মডেল থানার এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, স্থানীয় পুলিশকে অভিযানের কারণ আগে থেকে জানানো হয়নি। পরে অভিযানে সহায়তা করতে তাদের সেখানে পাঠানো হয়। এ বিষয়ে সিটিটিসি বিস্তারিত জানাবে।
সিটিটিসির এক কর্মকর্তা জানান, ভবনটির ভেতরে বিপুল পরিমাণ বিস্ফোরক তৈরির সরঞ্জাম থাকার তথ্য পাওয়া গেছে। বাড়িটিতে তালা দেওয়া ছিল। সিটিটিসি সদস্যরা ভেতরে অভিযান চালানোর প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন। অভিযানে সিটিটিসি ও স্থানীয় পুলিশের পাশাপাশি জাতীয় নিরাপত্তা গোয়েন্দা সংস্থার (এনএসআই) কর্মকর্তারাও উপস্থিত ছিলেন।
সাভার মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সাইফুল আলম বলেন, হেমায়েতপুর এলাকা থেকে একজনকে পাঁচটি ককটেল ও বিস্ফোরকসহ আটক করা হয়। তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতেই ওই বাড়িতে অভিযান চালানো হচ্ছে।
ওসি বলেন, বাড়িটি চলতি মাসের ১ তারিখে ভাড়া নেওয়া হয়েছিল। সেখানে বিস্ফোরক রাখা হয়। প্রাথমিকভাবে ঘটনাটি জঙ্গি সংগঠন জামায়াতুল মুজাহিদিন বাংলাদেশ (জেএমবি)-এর কাজ বলে ধারণা করা হচ্ছে। অভিযানে বাড়ি থেকে জেএমবির কিছু লিফলেট, কয়েকটি ককটেলসদৃশ বস্তু এবং উল্লেখযোগ্য পরিমাণ বোমা তৈরির উপকরণ ও সরঞ্জাম উদ্ধার করা হয়েছে।
পরে রাত ১২টার দিকে ওসি জানান, আটক ব্যক্তির ব্যাগ থেকে বিশেষ কায়দায় তৈরি পাঁচটি শক্তিশালী পাইপ বোমা উদ্ধার করা হয়েছে। তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে বাড়িটির নিচতলার একটি কক্ষ থেকে একই ধরনের আরও নয়টি বোমা উদ্ধার করা হয়। এ ছাড়া বোমা তৈরির বিপুল পরিমাণ সরঞ্জামও পাওয়া গেছে।
রাত ১২টার দিকে একটি পাইপ বোমা বিস্ফোরণ ঘটিয়ে নিষ্ক্রিয় করা হয়। অভিযানে থাকা এক পুলিশ কর্মকর্তা জানান, ভবন থেকে উদ্ধার করা পাইপ বোমার মূল উপাদান হাইড্রোজেন পার-অক্সাইড।
এসব ঘটনায় বুধবার (১২ আগস্ট) দুপুরে ডিএমপি মিডিয়া সেন্টারে সংবাদ সম্মেলনে এ বিষয়ে বিস্তারিত জানাবেন ঢাকা মহানগর পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (সিটিটিসি) মোহাম্মদ শামসুল হক।
বোমারু মামুনকে ধরতে সাভারে ভবন ঘিরে রেখেছে আইনশৃঙ্খলাবাহিনী, গ্রেপ্তার আরিফ রাজধানীর মতিঝিল মেট্রোরেল স্টেশনের নিচে ও সাভারের আশুলিয়ায় বোমা উদ্ধারের ঘটনায় জড়িত দুজনকে শনাক্ত করেছে পুলিশের কাউন্টার টেররিজম অ্যান্ড বিস্তারিত

নীলফামারী বড় মাঠে অবৈধ দোকান উচ্ছেদে প্রশাসনের অভিযান
স্টাফ রিপোর্টার
মাইদুল ইসলাম
নীলফামারী বড় মাঠ দখল করে নির্মাণ করা অবৈধ দোকান উচ্ছেদে অভিযান পরিচালনা করেছে জেলা প্রশাসন। মঙ্গলবার
(১৯ আগস্ট) বিকেলে জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও সহকারী কমিশনার মোঃ তানজীর ইসলাম এ অভিযান পরিচালনা করেন। এ সময় বড় মাঠের অবৈধ দোকানদারদের দোকান সরিয়ে নিতে তাৎক্ষণিক নির্দেশ দেন তিনি। নির্দেশের পর কিছু দোকানদার দোকান সরিয়ে চলে যান। অভিযানে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট এ. কে. এম শাহ্ আরেফিন, জেলা ক্রীড়া সংস্থার সদস্য সচিব আবু মোহাম্মদ সোয়েমসহ আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন। জানা যায়, নীলফামারী বড় মাঠের একটি বড় অংশ দীর্ঘদিন ধরে দখল করে অবৈধভাবে দোকান স্থাপন করা হয়েছে। এতে খেলোয়াড়দের অনুশীলনের জন্য মাঠের পরিসর কমে গেছে। খেলোয়াড়দের খেলার সুযোগ সুবিধা বাড়াতেই এই উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনা করা হয়। জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মোঃ তানজীর ইসলাম বলেন, ‘আজকে আমরা প্রাথমিকভাবে এসে তাদের দোকান সরিয়ে নিতে বলছি। কিছু দোকান তাৎক্ষণিকভাবে উঠেও গেছে। কিছু স্থায়ী দোকান ছিল, সেগুলো নিজ দায়িত্বে সরিয়ে নিতে ৪৮ ঘন্টা সময় দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে তারা স্বেচ্ছায় উঠে না গেলে আমাদের নিয়ম অনুযায়ী এগুলো উচ্ছেদ করবো।’
নীলফামারী বড় মাঠে অবৈধ দোকান উচ্ছেদে প্রশাসনের অভিযান স্টাফ রিপোর্টার মাইদুল ইসলাম নীলফামারী বড় মাঠ দখল করে নির্মাণ করা অবৈধ দোকান উচ্ছেদে অভিযান পরিচালনা করেছে জেলা প্রশাসন। মঙ্গলবার (১৯ বিস্তারিত

আওয়ামী লীগের প্রশ্নে যে বা যারা নিরব ভূমিকা পালন করবে হোক সরকারি দল বা বিরোধী দল পরিনীতি কিন্তু লীগের মত ই হবে। শ্রী অর্ণব কুমার হিরা
রাকিবুল ইসলাম রঞ্জু:
আওয়ামী লীগের প্রশ্নে যে বা যারা নিরব ভূমিকা পালন করবে হোক সরকারি দল বা বিরোধী দল পরিনীতি কিন্তু লীগের মত ই হবে বলে মন্তব্য করেছেন, ঢাকা জেলা উত্তর ছাত্র অধিকার পরিষদের সভাপতি শ্রী অর্ণব কুমার হিরা, তিনি আরো বলেন,
বিএনপি বরাবরই উদারতার উদাহরণ দেখাতে গিয়ে খাল কেটে কুমির এনেছে ১৯৭৯ জামায়াতের নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করে নির্বাচনে অংশগ্রহণ এর মধ্যে দিয়ে এদেশে রাজনীতি করার সুযোগ করে দেয় জিয়াউর রহমান এবং ১৯৮৫ সালের ১৭ এপ্রিল শেখের বেটি হাসিনা কে এনে আওয়ামী লীগের রাজনীতির প্রত্যাবর্তন ঘটায় জিয়ার রহমান তার ফল ঠিক ১৭ দিন পর পান বিএনপি ৩০ এপ্রিল জিয়াউর রহমান এর হত্যার মধ্য দিয়ে,
,কাজেই বিএনপি কে বলছি এতো উদার হবেন না খাল কেটে কুমির আনবেন না দ্বিতীয় বার,
আওয়ামী লীগের প্রশ্নে যে বা যারা নিরব ভূমিকা পালন করবে হোক সরকারি দল বা বিরোধী দল পরিনীতি কিন্তু লীগের মত ই হবে। শ্রী অর্ণব কুমার হিরা রাকিবুল ইসলাম রঞ্জু: বিস্তারিত

গার্মেন্টস শ্রমিকদের মজুরি পুনর্নির্ধারণে অবিলম্বে মজুরি বোর্ড গঠনের দাবি
‘১২ হাজার ৫০০ টাকা দিয়ে মর্যাদাপূর্ণ জীবনযাপন সম্ভব নয়’
রাকিবুল ইসলাম রঞ্জু:
বাংলাদেশের তৈরি পোশাকশিল্পে কর্মরত শ্রমিক-কর্মচারীদের জন্য বিদ্যমান নিম্নতম মজুরি পুনর্নির্ধারণে অবিলম্বে নতুন নিম্নতম মজুরি বোর্ড গঠনের দাবি জানিয়েছে এশিয়া ফ্লোর ওয়েজ অ্যালায়েন্স (AFWA) বাংলাদেশ কমিটি। সংগঠনটির নেতারা বলেছেন, ক্রমবর্ধমান জীবনযাত্রার ব্যয়, মূল্যস্ফীতি ও নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের লাগামহীন মূল্যবৃদ্ধির বিপরীতে বর্তমান ১২ হাজার ৫০০ টাকা নিম্নতম মজুরি দিয়ে একজন পোশাক শ্রমিকের নিজের ও পরিবারের ন্যূনতম প্রয়োজন মেটানোও কঠিন।
মঙ্গলবার (১১ আগস্ট) সকাল ১১টায় জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে আয়োজিত এক সমাবেশে এ দাবি জানানো হয়। সমাবেশ শেষে গার্মেন্টস শ্রমিকদের মজুরি পুনর্নির্ধারণের জন্য দ্রুত নিম্নতম মজুরি বোর্ড গঠনের দাবিতে প্রধানমন্ত্রী এবং শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রীর কাছে আবেদন জমা দেওয়া হয়।
সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন AFWA বাংলাদেশ কমিটির আহ্বায়ক ও বাংলাদেশ গার্মেন্টস ও সোয়েটার্স শ্রমিক ট্রেড ইউনিয়ন কেন্দ্রের সাধারণ সম্পাদক কাজী রুহুল আমীন। সমাবেশ পরিচালনা করেন AFWA বাংলাদেশ কমিটির সদস্য ও সম্মিলিত শ্রমিক ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক নাহিদুল হাসান নয়ন।
সমাবেশে বক্তব্য দেন AFWA বাংলাদেশ কমিটির সদস্য সচিব ও গ্রিন বাংলা গার্মেন্টস ওয়ার্কার্স ফেডারেশনের সভাপতি সুলতানা বেগম, সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ ইলিয়াস, টেক্সটাইল গার্মেন্টস ওয়ার্কার্স ফেডারেশনের সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা আবুল হোসাইন, বাংলাদেশ গার্মেন্টস এন্ড শিল্প শ্রমিক ফেডারেশনের সভাপতি রফিকুল ইসলাম সুজন, বাংলাদেশ গার্মেন্টস লেবার কংগ্রেসের সভাপতি শামিমা আক্তার, বাংলাদেশী গার্মেন্টস ট্রেড ইউনিয়ন ফেডারেশনের সহ-সভাপতি গোলাম মোস্তফা, সম্মিলিত শ্রমিক ফেডারেশনের সহ-সভাপতি ইয়াহিয়া খান, AFWA বাংলাদেশ নারী কমিটির আহ্বায়ক রাসিদা আক্তার ও সদস্য জাহানারা বেগম, আলোকিত গার্মেন্টস গার্মেন্টস শ্রমিক ফেডারেশনের গাজীপুর জেলা কমিটির সভাপতি বিল্লাল হোসেনসহ বিভিন্ন শ্রমিক সংগঠনের নেতারা।
সমাবেশে বক্তারা বলেন, বাংলাদেশের অর্থনীতিতে তৈরি পোশাকশিল্প অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। দেশের রপ্তানি আয়, বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন, কর্মসংস্থান এবং বিশেষ করে নারীর অর্থনৈতিক ও সামাজিক ক্ষমতায়নে এই শিল্পের অবদান গুরুত্বপূর্ণ। তবে এই শিল্পের সাফল্যের অন্যতম প্রধান ভিত্তি লাখ লাখ শ্রমিকের সস্তা শ্রম।
তাঁরা বলেন, শ্রমিকদের দীর্ঘদিনের শ্রম ও ঘামের বিনিময়ে তৈরি পোশাকশিল্পে বিপুল সম্পদ সৃষ্টি হলেও সেই সম্পদের ন্যায্য অংশ শ্রমিকদের হাতে পৌঁছাচ্ছে না। মালিকদের একটি অংশ শিল্পের মাধ্যমে বিপুল সম্পদের মালিক হলেও শ্রমিকদের জীবনমানের কাঙ্ক্ষিত উন্নতি হয়নি।
বক্তারা বলেন, “মজুরি বৃদ্ধি কোনো দয়া বা অনুগ্রহ নয়। শ্রমিক যে সম্পদ উৎপাদন করেন, তার ন্যায্য অংশ পাওয়াই মজুরি বৃদ্ধির মূল প্রশ্ন।”
তাদের মতে, একজন শ্রমিকের মজুরি এমন পর্যায়ে থাকতে হবে, যাতে তিনি খাদ্য, বাসস্থান, চিকিৎসা, করা শিক্ষা, পোশাক ও যাতায়াতের মতো মৌলিক প্রয়োজন মেটানোর পাশাপাশি পরিবার নিয়ে মর্যাদাপূর্ণ জীবনযাপন করতে পারেন।
সমাবেশে বক্তারা বলেন, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে খাদ্য, বাসাভাড়া, জ্বালানি, বিদ্যুৎ, গ্যাস, পরিবহন, শিক্ষা, চিকিৎসা ও ওষুধসহ প্রায় সব নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম বেড়েছে। কিন্তু সেই অনুপাতে গার্মেন্টস শ্রমিকদের আয় বাড়েনি।
ফলে একজন শ্রমিকের মাসিক আয়ের বড় অংশই বাসাভাড়া ও খাদ্য ব্যয়ে চলে যাচ্ছে। সন্তানদের শিক্ষা, চিকিৎসা, পোশাক, যাতায়াত এবং অন্যান্য জরুরি ব্যয় মেটাতে গিয়ে অনেক পরিবার ঋণগ্রস্ত হচ্ছে বলেও দাবি করেন শ্রমিক নেতারা।
বক্তারা বলেন, চলতি বছরে আন্তর্জাতিক অঙ্গনের সংঘাত ও বৈশ্বিক বাজারের অস্থিরতার কারণে জ্বালানি, পরিবহন ও বিভিন্ন পণ্যের বাজারে যে চাপ তৈরি হয়েছে, তার প্রভাব বাংলাদেশের শ্রমজীবী মানুষের ওপরও পড়েছে। ফলে বিদ্যমান মজুরি কাঠামো এখন আর শ্রমিকদের জীবনযাত্রার বাস্তবতার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়।
সমাবেশে সরকারি কর্মচারীদের প্রস্তাবিত নতুন বেতন কাঠামোর সঙ্গে পোশাক শ্রমিকদের মজুরির তুলনাও তুলে ধরেন বক্তারা।
তারা বলেন, সরকারি কর্মচারীদের নতুন বেতন কাঠামোতে সর্বনিম্ন বেতন ২০ হাজার টাকা নির্ধারণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। অন্যদিকে দেশের অন্যতম প্রধান রপ্তানি খাত তৈরি পোশাকশিল্পে কর্মরত শ্রমিকদের নিম্নতম মজুরি ১২ হাজার ৫০০ টাকা।
শ্রমিক নেতারা প্রশ্ন তোলেন, একই দেশে বসবাসকারী একজন মানুষের খাদ্য, বাসস্থান, চিকিৎসা ও অন্যান্য জীবনযাত্রার ব্যয় যদি বিবেচনা করে সরকারি কর্মচারীদের বেতন পুনর্নির্ধারণ করা হয়, তাহলে দেশের রপ্তানি আয়ের প্রধান কারিগর পোশাক শ্রমিকদের ক্ষেত্রে সেই একই বাস্তবতা কেন বিবেচনায় নেওয়া হবে না?
তাদের দাবি, সরকারি-বেসরকারি সব খাতের শ্রমজীবী মানুষের জন্য জীবনযাত্রার ব্যয় ও মূল্যস্ফীতির সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ আয় নিশ্চিত করার নীতি গ্রহণ করতে হবে।
বক্তারা আরও বলেন, বর্তমান মজুরি দিয়ে সংসারের ব্যয় মেটাতে না পেরে অনেক শ্রমিককে নিয়মিত অতিরিক্ত সময় কাজ করতে হচ্ছে। স্বাভাবিক কর্মঘণ্টার বাইরে দীর্ঘ সময় কাজ করার ফলে শ্রমিকদের শারীরিক ও মানসিক স্বাস্থ্য ঝুঁকির মধ্যে পড়ছে। একই সঙ্গে পরিবারকে সময় দিতে না পারায় পারিবারিক জীবনেও এর নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে।
শ্রমিক নেতারা বলেন, একজন শ্রমিকের স্বাভাবিক কর্মঘণ্টার মজুরি দিয়েই যদি পরিবারের মৌলিক প্রয়োজন মেটানো না যায়, তাহলে অতিরিক্ত ওভারটাইমের ওপর নির্ভরশীলতা তৈরি হওয়া স্বাভাবিক।
তাদের মতে, শ্রমিকের জীবনমান উন্নত করতে হলে এমন মজুরি কাঠামো প্রয়োজন, যাতে শ্রমিক অতিরিক্ত সময় কাজ করতে বাধ্য না হয়ে স্বাভাবিক কর্মঘণ্টার আয় দিয়েই জীবনধারণ করতে পারেন।
সমাবেশে বক্তারা বাংলাদেশ শ্রম আইন, ২০০৬-এর ধারা ১৩৯(৬)-এর কথা উল্লেখ করে বলেন, নির্ধারিত সময় পরপর নিম্নতম মজুরি পুনর্নির্ধারণের আইনগত প্রক্রিয়া রয়েছে। ফলে বর্তমান বাস্তবতায় নতুন নিম্নতম মজুরি বোর্ড গঠনে কোনো অযৌক্তিক বিলম্বের কারণ নেই।
তারা বলেন, শ্রমিকদের জীবনযাত্রার ব্যয়, মূল্যস্ফীতি, শিল্পের উৎপাদনশীলতা, মালিকদের সক্ষমতা এবং জাতীয় অর্থনীতিতে পোশাক শ্রমিকদের অবদান বিবেচনায় নিয়ে দ্রুত মজুরি পুনর্নির্ধারণের উদ্যোগ নিতে হবে।
সমাবেশে বক্তারা বলেন, শ্রমিকদের মজুরি বৃদ্ধি করলে শিল্প ধ্বংস হবে—এ ধরনের প্রচারণা বাস্তবসম্মত নয়। বরং ন্যায্য মজুরি শ্রমিকদের জীবনমান উন্নত করার পাশাপাশি উৎপাদনশীলতা, কর্মক্ষেত্রে স্থিতিশীলতা এবং শ্রমিক ধরে রাখার সক্ষমতা বাড়াতে পারে।
তারা বলেন, আন্তর্জাতিক বাজারে বাংলাদেশের পোশাকশিল্পের দীর্ঘমেয়াদি সক্ষমতা ধরে রাখতে হলে শুধু কম মজুরির ওপর নির্ভরশীলতা থেকে বেরিয়ে আসতে হবে। শ্রমিকের অধিকার, ন্যায্য মজুরি, নিরাপদ কর্মপরিবেশ এবং সামাজিক সুরক্ষা নিশ্চিত করে একটি টেকসই ও মানবিক পোশাকশিল্প গড়ে তুলতে হবে।
সমাবেশ থেকে AFWA বাংলাদেশ কমিটির পক্ষে সরকারের কাছে কয়েকটি দাবি জানানো হয়। দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে—
• গার্মেন্টস শ্রমিকদের বর্তমান নিম্নতম মজুরি পুনর্নির্ধারণের জন্য অবিলম্বে নতুন নিম্নতম মজুরি বোর্ড গঠন;
• জীবনযাত্রার প্রকৃত ব্যয় বিবেচনায় নিয়ে মর্যাদাপূর্ণ জীবনযাপনের উপযোগী মজুরি নির্ধারণ;
• মজুরি বোর্ডে প্রকৃত ও স্বাধীন শ্রমিক প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করা;
• মূল্যস্ফীতি ও নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের মূল্যবৃদ্ধির সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে মজুরি কাঠামো পুনর্বিবেচনা;
• শ্রমিকদের চাকরির নিরাপত্তা, কর্মক্ষেত্রের নিরাপত্তা, স্বাস্থ্য, মাতৃত্বকালীন সুবিধা ও সামাজিক সুরক্ষা নিশ্চিত করা;
• শ্রমিকদের ট্রেড ইউনিয়ন করার অধিকার কার্যকর করা;
• আন্তর্জাতিক পোশাক ব্র্যান্ড ও ক্রেতাদের সরবরাহ শৃঙ্খলে শ্রমিকদের ন্যায্য মজুরি ও অধিকার নিশ্চিত করতে দায়বদ্ধ করা।
সভাপতির বক্তব্যে জোটের আহবায়ক প্রখ্যাত শ্রমিকনেতা কাজী রুহুল আমিন চলতি আগষ্ট মাসের মধ্যে “গার্মেন্ট শিল্প সেক্টর”-এ মজুরি বোর্ড গঠন করার আহবান জানান। অন্যথায় শ্রমিকদের সাথে নিয়ে কঠোর আন্দোলন করতে বাধ্য হবে। সেকারণে শিল্প, উৎপাদন বা অর্থনীতির যদি কোন প্রকার ক্ষতি হয় তার দায় শ্রমিকরা নেবে না, সরকার ও মালিকদের নিতে হবে। বিকেএমইএ এর সভাপতি কতৃক ৫ বছরের আগে মজুরি বাড়াবে না মর্মে ঘোষণার কঠোর সমালোচনা করে কাজী রুহুল আমিন বলেন, আপনারা মালিকরা শোষণ করেই ক্ষান্ত হচ্ছেন না, নিন্দনীয় এবং ঔদ্ধত্যপূর্ণ আচরণ করছেন যার পরিনতি ভাল হবে না। সরকার ও মালিকদের দায়িত্বশীল আচরন করার আহবান জানিয়ে বলেন, দ্রব্যমূল্যের লাগামহীন উর্ধ্বগতির বিষয়টি বিবেচনা করুন।
তিনি বলেন, বাংলাদেশের পোশাকশিল্পের সাফল্যের মূল কারিগর শ্রমিকরা। অথচ সেই শ্রমিকরাই যদি বর্তমান মজুরিতে পরিবারের মৌলিক প্রয়োজন পূরণ করতে না পারেন, তাহলে দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নকে টেকসই ও মানবিক উন্নয়ন বলা যায় না।
তিনি বলেন, “শ্রমিকদের মজুরি বৃদ্ধি কোনো অনুদান নয়। এটি শ্রমিকের উৎপাদিত সম্পদের ন্যায্য অংশ পাওয়ার অধিকার। জীবনযাত্রার ব্যয়ের বাস্তবতা বিবেচনায় নিয়ে অবিলম্বে নিম্নতম মজুরি বোর্ড গঠন করতে হবে।”
AFWA বাংলাদেশ কমিটির সদস্য সচিব সুলতানা বেগম বলেন, পোশাক শ্রমিকদের মজুরি সংকট দীর্ঘদিনের। শ্রমিকদের ন্যায্য মজুরি নিশ্চিত না করে শুধু উৎপাদন ও রপ্তানি বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দিলে শিল্পের স্থায়িত্ব নিশ্চিত হবে না।
তিনি বলেন, “শ্রমিকের মর্যাদা ও অধিকার নিশ্চিত করেই পোশাকশিল্পকে টেকসই করতে হবে। মজুরি বোর্ড গঠনে আর কোনো ধরনের দীর্ঘসূত্রতা গ্রহণযোগ্য নয়।”
সমাবেশ থেকে বক্তারা বলেন, শ্রমিকদের দীর্ঘদিনের মজুরি সংকট ও জীবনযাত্রার ব্যয়কে উপেক্ষা করলে শিল্পে অসন্তোষ বাড়তে পারে। তাই শ্রমিকদের ন্যায্য মজুরি নিশ্চিত করা শুধু শ্রমিকের স্বার্থ নয়; এটি বাংলাদেশের পোশাকশিল্পের স্থিতিশীলতা, উৎপাদনশীলতা ও আন্তর্জাতিক বাজারে দীর্ঘমেয়াদি প্রতিযোগিতামূলক সক্ষমতা রক্ষারও অন্যতম পূর্বশর্ত।
AFWA বাংলাদেশ কমিটি তাই অবিলম্বে নিম্নতম মজুরি বোর্ড গঠন করে গার্মেন্টস শ্রমিকদের জন্য নতুন, ন্যায়সংগত ও জীবনযাত্রার ব্যয়ের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ মজুরি কাঠামো নির্ধারণের জন্য সরকারের প্রতি জোর দাবি জানিয়েছে।
কর্মসূচি শেষে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী, গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার ও মাননীয় মন্ত্রী, শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়, গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার বরাবর গার্মেন্টস শ্রমিকদের মজুরি পুনর্নির্ধারণে অবিলম্বে মজুরি বোর্ড গঠনের দাবির আবেদন পত্র জমা দেওয়া হয়। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী, গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়, তেজগাঁও, ঢাকা, বরাবর AFWA বাংলাদেশ কমিটির সদস্য সচিব সুলতানা বেগম, বাংলাদেশ গার্মেন্টস লেবার কংগ্রেসের সভাপতি শামিমা আক্তার, সম্মিলিত শ্রমিক ফেডারেশনের সহ-সভাপতি আঁখি এবং মাননীয় মন্ত্রী, শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়, গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার, বাংলাদেশ সচিবালয়, ঢাকা বরাবর সম্মিলিত শ্রমিক ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক নাহিদুল হাসান নয়ন, বাংলাদেশ গার্মেন্টস অ্যান্ড শিল্প শ্রমিক ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক সুমাইয়া ইসলাম, বাংলাদেশ গার্মেন্টস ও সোয়েটার্স শ্রমিক ট্রেড ইউনিয়ন কেন্দ্রের নেতা দীপক শীল AFWA বাংলাদেশ কমিটির পক্ষ থেকে আবেদন পত্র জমাদেন।
গার্মেন্টস শ্রমিকদের মজুরি পুনর্নির্ধারণে অবিলম্বে মজুরি বোর্ড গঠনের দাবি ‘১২ হাজার ৫০০ টাকা দিয়ে মর্যাদাপূর্ণ জীবনযাপন সম্ভব নয়’ রাকিবুল ইসলাম রঞ্জু: বাংলাদেশের তৈরি পোশাকশিল্পে কর্মরত শ্রমিক-কর্মচারীদের জন্য বিদ্যমান নিম্নতম বিস্তারিত
এসএসসি ও সমমান পরীক্ষার ফল পুনর্নিরীক্ষণের (খাতা চ্যালেঞ্জ) আবেদন শুরু হয়েছে।
মঙ্গলবার (১১ আগস্ট) থেকে শুরু হওয়া এ আবেদন চলবে আগামী ১৭ আগস্ট পর্যন্ত।
এবার নতুন পদ্ধতিতে প্রতি পত্রের জন্য ১৫০ টাকা ফি দিয়ে অনলাইনে পুনর্নিরীক্ষণের আবেদন করতে হবে।
ঢাকা মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ডের এক চিঠিতে জানানো হয়েছে, ২০২৬ সালের এসএসসি ও সমমান পরীক্ষার ফল পুনর্নিরীক্ষণের জন্য রোল ও রেজিস্ট্রেশন নম্বর দিয়ে নির্ধারিত অনলাইন পোর্টালে প্রবেশ করতে হবে। এরপর ড্রপডাউন মেনু থেকে সংশ্লিষ্ট শিক্ষা বোর্ড নির্বাচন করে ‘সাবমিট’ বাটনে ক্লিক করতে হবে।
পরবর্তী ধাপে একটি মোবাইল নম্বর দিতে হবে। পুনর্নিরীক্ষণের ফল প্রকাশের পর ওই নম্বরেই এসএমএসের মাধ্যমে ফল জানানো হবে।
যেভাবে আবেদন করবেন
আবেদন প্রক্রিয়ায় প্রবেশের পর শিক্ষার্থীর বিষয়ভিত্তিক ফলাফল দেখা যাবে। যেসব বিষয়ে পুনর্নিরীক্ষণ করতে চান, সেগুলো নির্বাচন করে ‘ফি প্রদান করুন’ বাটনে ক্লিক করতে হবে। প্রতিটি পত্রের জন্য ফি নির্ধারণ করা হয়েছে ১৫০ টাকা।
কোনো বিষয়ের দুটি পত্র থাকলে এবং উভয় পত্রের ফল পুনর্নিরীক্ষণ করতে চাইলে দুটি পত্রের জন্যই আলাদাভাবে আবেদন করতে হবে।
যেভাবে ফি পরিশোধ করবেন
বিষয় নির্বাচন করার পর পরবর্তী স্ক্রিনে মোট ফি-এর পরিমাণ দেখানো হবে। এরপর বিকাশ, নগদ অথবা সোনালী সেবার মাধ্যমে ফি পরিশোধ করা যাবে। ফি পরিশোধের বিস্তারিত নির্দেশনা পুনর্নিরীক্ষণ পোর্টালেই পাওয়া যাবে।
ফি পরিশোধের পর আবার আবেদন পোর্টালে ফিরে এসে ‘জমা দিন’ বাটনে ক্লিক করতে হবে। তাহলেই আবেদন প্রক্রিয়া সম্পন্ন হবে।
পরে নতুন বিষয় যুক্ত করার সুযোগ
একবার ফি দিয়ে আবেদন জমা দেওয়ার পরও কোনো শিক্ষার্থী চাইলে একই প্রক্রিয়ায় নতুন কোনো বিষয় পুনর্নিরীক্ষণের জন্য যুক্ত করতে পারবেন। তবে নতুন করে মোবাইল নম্বর দেওয়ার প্রয়োজন হবে না।
অন্যদিকে, ফি পরিশোধের আগে আবেদন পরিবর্তন বা সংশোধন করতে চাইলে ‘মুছে ফেলুন’ বাটনে ক্লিক করে যেসব বিষয়ের জন্য এখনো ফি দেওয়া হয়নি, সেগুলো প্রত্যাহার করা যাবে। এরপর নতুন করে বিষয় নির্বাচন করা যাবে।
তবে একবার কোনো বিষয়ের ফি পরিশোধ হয়ে গেলে সেটি আর বাতিল করা যাবে না। কোনো অবস্থাতেই পরিশোধ করা ফি ফেরত দেওয়া হবে না।
আবেদন চলবে ১৭ আগস্ট পর্যন্ত
শিক্ষার্থীদের নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই অনলাইনে আবেদন সম্পন্ন করতে হবে। এবার কোনো ধরনের ম্যানুয়াল আবেদন গ্রহণ করা হবে না। তাই ফল মনমতো না এলে দেরি না করে নির্ধারিত অনলাইন পদ্ধতিতে খাতা চ্যালেঞ্জ বা ফল পুনর্নিরীক্ষণের আবেদন করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
এসএসসি ও সমমান পরীক্ষার ফল পুনর্নিরীক্ষণের (খাতা চ্যালেঞ্জ) আবেদন শুরু হয়েছে। মঙ্গলবার (১১ আগস্ট) থেকে শুরু হওয়া এ আবেদন চলবে আগামী ১৭ আগস্ট পর্যন্ত। এবার নতুন পদ্ধতিতে প্রতি বিস্তারিত

ছেলের সঙ্গে একই বছরে এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নিয়ে মা ও ছেলে দুজনেই জিপিএ-৫ পেয়েছেন।
রাজশাহী নগরের রাজপাড়া থানা এলাকার সাদিয়া বেগম ও তার ছেলে তানভীর আহমেদের এমন সাফল্যে পরিবার ও এলাকাজুড়ে আনন্দের পরিবেশ তৈরি হয়েছে।
জানা গেছে, সাদিয়া বেগমের বিয়ে হয়েছিল ১৯ বছর আগে। সংসারের দায়িত্বে প্রায় ১৭ বছর পড়াশোনা থেকে দূরে ছিলেন তিনি। তবে পড়াশোনার প্রতি আগ্রহ হারাননি। পরে আবার বই হাতে তুলে নিয়ে সংসার ও দুই সন্তানের দেখাশোনার পাশাপাশি পড়াশোনা শুরু করেন।
প্রায় দুই বছর আগে ছেলের সঙ্গে এসএসসি পরীক্ষা দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন সাদিয়া। পরিবারের সম্মতিতে প্রস্তুতি শুরু করেন। চলতি বছরের এসএসসি (ভোকেশনাল) পরীক্ষায় রাজপাড়া আদর্শ মহিলা টেকনিক্যাল অ্যান্ড বিএম কলেজ থেকে অংশ নিয়ে তিনি জিপিএ-৫ অর্জন করেন।
অন্যদিকে তার ছেলে তানভীর আহমেদ রাজশাহী শিক্ষা বোর্ড সরকারি মডেল স্কুল অ্যান্ড কলেজের বিজ্ঞান বিভাগ থেকে এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নিয়ে গোল্ডেন জিপিএ-৫ পেয়েছে।
সাদিয়া বলেন, ‘পড়াশোনার প্রতি ঝোঁক ছিল। কিন্তু বিয়ের পর নানা কারণে পড়ালেখা করতে পারিনি। হাল ছাড়িনি। বছর দুয়েক আগে সিদ্ধান্ত নিলাম ছেলের সঙ্গে পরীক্ষা দেব। পরিবারের সম্মতিতে প্রস্তুতি শুরু করি।’
ছেলে তানভীরও মায়ের সঙ্গে পরীক্ষা দেওয়ার অভিজ্ঞতাকে সৌভাগ্যের বিষয় হিসেবে দেখছে। সে বলেন, ‘মায়ের সঙ্গে এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নিয়ে দুজনই জিপিএ-৫ পেয়েছি। মায়ের সঙ্গে পরীক্ষা দেওয়ার সৌভাগ্য কয়জনের হয়!’
তানভীর জানায়, মা তার পড়াশোনার নিয়মিত খোঁজ নেওয়ার পাশাপাশি নিজেও পড়াশোনা করতেন। অনেক সময় রাত জেগে তার পাশে বসে থাকতেন। নিজের সাফল্য বাবা-মাকে উৎসর্গ করে ভবিষ্যতে ইঞ্জিনিয়ার হওয়ার স্বপ্নের কথাও জানিয়েছে সে।
মা-ছেলের এই সাফল্যে খুশি তাদের গৃহশিক্ষক আরিফুল ইসলামও। তিনি প্রায় চার বছর ধরে তানভীরকে ইংরেজি পড়ানোর পাশাপাশি সাদিয়ার পড়াশোনাতেও সহযোগিতা করেছেন।
পরিবার সূত্রে জানা গেছে, সাদিয়ার স্বামী তোফাজ্জল হোসেন একজন সরকারি কর্মকর্তা। সংসার ও সন্তানদের দায়িত্ব সামলেও দীর্ঘ বিরতির পর নিজের পড়াশোনার স্বপ্ন পূরণ করেছেন সাদিয়া। একই পরীক্ষায় ছেলের সঙ্গে অংশ নিয়ে দুজনের জিপিএ-৫ অর্জন সেই অধ্যবসায়েরই অনন্য উদাহরণ।
ছেলের সঙ্গে একই বছরে এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নিয়ে মা ও ছেলে দুজনেই জিপিএ-৫ পেয়েছেন। রাজশাহী নগরের রাজপাড়া থানা এলাকার সাদিয়া বেগম ও তার ছেলে তানভীর আহমেদের এমন সাফল্যে পরিবার বিস্তারিত

প্রকাশিত এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষার ফলাফলে সাতক্ষীরার চারটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে কোনো পরীক্ষার্থীই পাস করতে পারেনি। শতভাগ অকৃতকার্য এসব প্রতিষ্ঠানের মধ্যে রয়েছে নিম্ন মাধ্যমিক বিদ্যালয় ও একটি নৈশ বিদ্যালয়। এর মধ্যে দেবহাটার একটি বিদ্যালয়ে ২০০১ সাল থেকে শিক্ষকরা বেতন-ভাতা না পাওয়ায় শিক্ষা কার্যক্রমের বেহাল চিত্রও উঠে এসেছে।
সোমবার (১০ আগস্ট) দুপুরে সংশ্লিষ্ট শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান প্রধান ও জেলা শিক্ষা কার্যালয় সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে।
শতভাগ অকৃতকার্য চারটি প্রতিষ্ঠান হলো আশাশুনি উপজেলার আশাশুনি গোদাড়া নিম্ন মাধ্যমিক বালিকা বিদ্যালয়, সাতক্ষীরা সদরের সাতক্ষীরা নৈশ বিদ্যালয় (নাইট স্কুল), দেবহাটা উপজেলার বাবুরাবাদ ঢেবুখালী বিদ্যালয় এবং শ্যামনগর উপজেলার কৈখালি ইউনিয়নের সাহেবখালী সিদ্দিকগাজী বিদ্যালয়।
আশাশুনি গোদাড়া নিম্ন মাধ্যমিক বালিকা বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষিকা জেবুন্নেছা জানান, চলতি বছর বিদ্যালয়টির মানবিক বিভাগ থেকে চারজন শিক্ষার্থী এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নেয়। কিন্তু প্রকাশিত ফলাফলে তাদের কেউই উত্তীর্ণ হতে পারেনি।
দেবহাটার বাবুরাবাদ ঢেবুখালী বিদ্যালয়ের চিত্র আরও নাজুক। প্রতিষ্ঠানটির অফিস সহকারী নূর হোসেন জানান, ২০০১ সাল থেকে বিদ্যালয়ের শিক্ষকরা কোনো বেতন-ভাতা পাচ্ছেন না। ফলে শিক্ষকদের অনেকেই নিয়মিত বিদ্যালয়ে আসেন না। কাগজে-কলমে আটজন শিক্ষক থাকলেও বাস্তবে তাদের উপস্থিতি নেই বললেই চলে। একজন শিক্ষিকা ও একজন ধর্মীয় শিক্ষক থাকলেও তারাও নিয়মিত সময় দেন না।
নূর হোসেন আক্ষেপ করে বলেন, ‘বলতে গেলে আমি অফিস সহকারী হিসেবে একাই স্কুলটি দেখে-শুনে টিকিয়ে রেখেছি। গত বছর বিদ্যালয়টির পাঁচজন পরীক্ষার্থীর মধ্যে চারজন পাস করেছিল। তবে এবার কোনো পরীক্ষার্থীই উত্তীর্ণ হতে পারেনি।’
সাতক্ষীরা নৈশ মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের ফলাফলের বিষয়ে জানতে চাইলে প্রতিষ্ঠানটির ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক মমিনুর রহমান বলেন, ফলাফলের সঠিক তথ্য এই মুহূর্তে তার জানা নেই। বোর্ড ও অনলাইনভিত্তিক নথি যাচাই করে বিস্তারিত তথ্য জানাতে পারবেন।
অন্যদিকে শ্যামনগরের কৈখালি ইউনিয়নের সাহেবখালী সিদ্দিকগাজী বিদ্যালয়টি শতভাগ অকৃতকার্য হওয়ার কারণ জানতে প্রতিষ্ঠানটির প্রধান শিক্ষকের মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
এ বিষয়ে সাতক্ষীরা জেলা সহকারী মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার মোহাম্মদ আবুল খায়ের বলেন, যশোর শিক্ষা বোর্ড থেকে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোয় ফলাফলের বিস্তারিত তথ্য পাঠানো হচ্ছে। যেসব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে কোনো শিক্ষার্থী পাস করতে পারেনি, সেসব প্রতিষ্ঠানের বিষয়ে অনুসন্ধান করা হবে। অনুসন্ধানে কারণ চিহ্নিত হওয়ার পর প্রয়োজন অনুযায়ী প্রশাসনিক ও প্রাতিষ্ঠানিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
প্রকাশিত এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষার ফলাফলে সাতক্ষীরার চারটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে কোনো পরীক্ষার্থীই পাস করতে পারেনি। শতভাগ অকৃতকার্য এসব প্রতিষ্ঠানের মধ্যে রয়েছে নিম্ন মাধ্যমিক বিদ্যালয় ও একটি নৈশ বিদ্যালয়। এর মধ্যে বিস্তারিত

বেসরকারি স্কুল-কলেজে প্রবেশ পর্যায়ে শিক্ষক নিয়োগের ক্ষমতা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ম্যানেজিং কমিটির হাতেই দিচ্ছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়। এর ফলে এখন থেকে আর শিক্ষক নিয়োগের সুপারিশ করতে পারবে না বেসরকারি শিক্ষক নিবন্ধন ও প্রত্যয়ন কর্তৃপক্ষ (এনটিআরসিএ)। এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিয়েছে মন্ত্রণালয়।
গত ৩ আগস্ট শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে এনটিআরসিএর সার্বিক কার্যক্রম নিয়ে আয়োজিত সভায় এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। সভায় শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন, মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের সচিব আবদুল খালেক, এনটিআরসিএ চেয়ারম্যান (অতিরিক্ত দায়িত্ব) আলিফ রুদাবাসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
সভার কার্যবিবরণী থেকে জানা যায়, এনটিআরসিএ চেয়ারম্যান সভাকে অবহিত করেন, ২০০৫ সনের ১ নং আইন ‘বেসরকারি শিক্ষক নিবন্ধন ও প্রত্যয়ন কর্তৃপক্ষ আইন, ২০০৫’ এ প্রদত্ত ক্ষমতাবলে প্রণীত ‘বেসরকারি শিক্ষক নিবন্ধন পরীক্ষা গ্রহণ ও প্রত্যয়ন বিধিমালা, ২০০৬’ অনুযায়ী বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে শিক্ষক হিসেবে নিবন্ধন ও প্রত্যয়নের জন্য প্রার্থীদের যোগ্যতা নিরূপন ও এতদ্বিষয়ে প্রত্যয়নপত্র প্রদানের উদ্দেশ্যে প্রতি পঞ্জিকা বর্ষে অন্তত একবার পরীক্ষা গ্রহণের জন্য নির্দেশনা রয়েছে।
বেসরকারি শিক্ষক নিবন্ধন ও প্রত্যয়ন কর্তৃপক্ষ (এনটিআরসিএ) হতে সর্বশেষ ২০২৩ সালে নিয়োগ পরীক্ষার বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়। সে প্রেক্ষিতে ১৯তম এনটিআরসিএ শিক্ষক (প্রবেশ পর্যায়) নিবন্ধন পরীক্ষার বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা প্রয়োজন।
সভায় শিক্ষামন্ত্রী ড. মিলন জানান, ‘২০০৫ সাল হতে ২০১৫ সালের পূর্বে এনটিআরসিএ কেবলমাত্র নিবন্ধন ও প্রত্যয়ন কার্যক্রম পরিচালনা করতো। ২০১৫ সাল থেকে এনটিআরসিএর সক্ষমতার বাইরে গিয়ে নিয়োগ সুপারিশ করার পর থেকে বিভিন্ন জটিলতা, মামলা এবং অচলাবস্থা সৃষ্টি হয়।’
তিনি আরও জানান, ‘বর্তমানে নির্বাচিত গণতান্ত্রিক সরকার সুষ্ঠুভাবে রাষ্ট্র পরিচালনা এবং একটি সুস্থ ও কার্যকর শিক্ষাব্যবস্থা গড়ে তোলার নিমিত্তে নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে। এনটিআরসিএর বর্তমান অচলাবস্থা নিরসনে পূর্বের ন্যায় এনটিআরসিএ কর্তৃক কেবলমাত্র নিবন্ধন ও প্রত্যয়ন কার্যক্রম পরিচালনা করা এবং প্রত্যায়নপত্র শিক্ষকদের প্রতিষ্ঠানের স্ব স্ব ম্যানেজিং কমিটি বা গভর্নিং বডি কর্তৃক বাছাই প্রক্রিয়ার মাধ্যমে বর্তমান সমস্যার সমাধান করা যেতে।’ শিক্ষামন্ত্রীর অভিমতের সঙ্গে সভায় উপস্থিত সকলে এ বিষয়ে একমত পোষণ করেন।
কার্যবিবরণীতে সভার সিদ্ধান্তে লেখা হয়, ‘বেসরকারি শিক্ষক নিবন্ধন ও প্রত্যয়ন কর্তৃপক্ষ আইন, ২০০৫’ অনুযায়ী এখন থেকে এনটিআরসিএ কেবলমাত্র নিবন্ধন ও প্রত্যয়নের কাজ করবে। ২০১৫ সালের পরিপত্র অনুযায়ী আর নিয়োগ সুপারিশ করবে না। এ লক্ষ্যে প্রয়োজনীয় কার্যক্রম গ্রহণ করতে হবে।’ শুধু তাই নয়, সভার সিদ্ধান্ত মতে, ‘১৮তম শিক্ষক নিবন্ধন পরীক্ষায় উত্তীর্ণ ৯৮৪২ জন তাদের পছন্দ অনুযায়ী শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে স্বউদ্যোগে ম্যানেজিং কমিটি/গভর্নিং বডির মাধ্যমে নিয়োগ প্রাপ্ত হবেন। এ লক্ষ্যে প্রয়োজনীয় পরিপত্র/প্রজ্ঞাপন সংশোধন/জারি করতে হবে।’
নাম অপ্রকাশিত রাখার শর্তে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের এক কর্মকর্তা দ্য ডেইলি ক্যাম্পাসকে বলেন, সভার কার্যবিবরণীর সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ১৯তম শিক্ষক নিবন্ধন থেকেই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ম্যানেজিং কমিটির মাধ্যমে শিক্ষক নিয়োগ হবে। এনটিআরসিএ আর নিয়োগ সুপারিশ করবে না। এজন্য প্রয়োজনীয় আইন সংশোধন করা হবে।’
জানা গেছে, ২০০৫ সালে এনটিআরসিএ প্রতিষ্ঠিত হয়। প্রথম এক দশক সংস্থাটি কেবল শিক্ষক নিবন্ধন পরীক্ষা নিয়ে সনদ দিত। ২০১৫ সালের ৩০ ডিসেম্বর সংস্থাটি নিবন্ধনধারী শিক্ষকদের সরাসরি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নিয়োগের সুপারিশ দেওয়ার কার্যক্রম শুরু করে। ফলে ঘুষ ছাড়া শিক্ষক নিয়োগ নিশ্চিত হয়ে যায়। সুফল ভোগ করেন অসংখ্য মানুষ। এ পর্যন্ত সংস্থাটি ১ লাখ ৭৭ হাজার ৫৭১ জন শিক্ষক নিয়োগের সুপারিশ করেছে।
বেসরকারি স্কুল-কলেজে প্রবেশ পর্যায়ে শিক্ষক নিয়োগের ক্ষমতা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ম্যানেজিং কমিটির হাতেই দিচ্ছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়। এর ফলে এখন থেকে আর শিক্ষক নিয়োগের সুপারিশ করতে পারবে না বেসরকারি শিক্ষক নিবন্ধন ও প্রত্যয়ন বিস্তারিত

২৭ মামলার আসামি ও সংঘবদ্ধ প্রতারক চক্রের ‘গডফাদার’ আকাশ গ্রেপ্তার
মোঃ আশরাফুল ইসলাম
ঠাকুরগাঁও প্রতিনিধি:
ঠাকুরগাঁওয়ে জেলা গোয়েন্দা শাখা (ডিবি) পুলিশের বিশেষ অভিযানে মোঃ মোস্তফা আলী ওরফে আকাশ (৩৫) নামে এক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। পুলিশের দাবি, তিনি সংঘবদ্ধ প্রতারক চক্রের অন্যতম হোতা ও কুখ্যাত মাদক ব্যবসায়ী। তার বিরুদ্ধে প্রতারণা, অপহরণ, চাঁদাবাজি, মারামারি, চুরি, বিস্ফোরক দ্রব্য ও মাদকসহ বিভিন্ন অভিযোগে মোট ২৭টি মামলা রয়েছে।
রোববার (৯ আগস্ট) বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় ঠাকুরগাঁও সদর থানা এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে ঠাকুরগাঁও রোড এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করে ডিবি পুলিশের একটি চৌকস দল।
গ্রেপ্তার মোঃ মোস্তফা আলী ওরফে আকাশ ঠাকুরগাঁওয়ের পীরগঞ্জ পৌরসভার ৬ নম্বর ওয়ার্ডের জগথা এলাকার মোঃ মোবারক আলীর ছেলে।
ডিবি পুলিশ সূত্রে জানা যায়, ডিবিতে তদন্তাধীন নকল স্বর্ণের মূর্তি দেখিয়ে প্রতারণার একটি মামলার এজাহারভুক্ত পলাতক আসামি ছিলেন মোস্তফা আলী ওরফে আকাশ। তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় তার অবস্থান শনাক্ত করার পর ঠাকুরগাঁও সদর থানা এলাকায় দিনব্যাপী অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।
পুলিশের তথ্যমতে, আকাশের বিরুদ্ধে প্রতারণা, অপহরণ, চাঁদাবাজি, মারামারি, চুরি, বিস্ফোরক দ্রব্য ও মাদকসহ মোট ২৭টি মামলা রয়েছে। এছাড়া পীরগঞ্জ থানায় তার বিরুদ্ধে তিন বছরের সশ্রম কারাদণ্ড ও ৭ হাজার টাকা অর্থদণ্ডের সাজা পরোয়ানা মুলতবি রয়েছে।
পুলিশ আরও জানায়, আকাশ দীর্ঘদিন ধরে মাদক ব্যবসা ও প্রতারণার সঙ্গে জড়িত। তিনি একসময় গাজীপুরে অবস্থান করে মাদক ব্যবসার একটি সিন্ডিকেট পরিচালনা করতেন বলে পুলিশের কাছে তথ্য রয়েছে। পরবর্তীতে গোপনে হরিপুর ও রানীশংকৈল থানা এলাকাসহ নিজ এলাকা পীরগঞ্জে বিভিন্ন সময়ে অবস্থান করে মাদক, প্রতারণাসহ নানা অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে পড়েন বলে জানা গেছে।
বিশেষ করে নকল স্বর্ণের মূর্তিসহ বিভিন্ন কৌশলে প্রতারণার মাধ্যমে সাধারণ মানুষকে আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করার অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। তার ভয়ে অনেক ভুক্তভোগী প্রকাশ্যে অভিযোগ করতেও সাহস পেতেন না বলে পুলিশ সূত্রে জানা গেছে।
জেলা গোয়েন্দা শাখার (ডিবি) অফিসার ইনচার্জ মোঃ গোলাম রসুল বলেন, অপরাধী যতই কৌশলী হোক, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর নজরদারি এড়িয়ে অপরাধ করে পার পাওয়ার সুযোগ নেই। তথ্যপ্রযুক্তির সর্বোচ্চ ব্যবহার করে অপরাধীদের শনাক্ত ও আইনের আওতায় আনার কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে। মাদক ব্যবসা, প্রতারণা ও সংঘবদ্ধ অপরাধের বিরুদ্ধে জেলা পুলিশের অভিযান আরও জোরদার করা হবে। সাধারণ মানুষের জানমাল ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে জেলা গোয়েন্দা শাখা সর্বদা তৎপর রয়েছে।
গ্রেপ্তারের পর প্রয়োজনীয় আইনগত প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে মোঃ মোস্তফা আলী ওরফে আকাশকে সোমবার (১০ আগস্ট) বিজ্ঞ আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে।
২৭ মামলার আসামি ও সংঘবদ্ধ প্রতারক চক্রের ‘গডফাদার’ আকাশ গ্রেপ্তার মোঃ আশরাফুল ইসলাম ঠাকুরগাঁও প্রতিনিধি: ঠাকুরগাঁওয়ে জেলা গোয়েন্দা শাখা (ডিবি) পুলিশের বিশেষ অভিযানে মোঃ মোস্তফা আলী ওরফে আকাশ বিস্তারিত

চাঁদাবাজির মামলায় জামায়াত নেতা ইউপি চেয়ারম্যান নজরুল ইসলাম কারাগারে
সংবাদদাতা : ইয়াছিন মোড়ল
সাতক্ষীরার শ্যামনগরে জাইকার অর্থায়নে পানি উন্নয়ন বোর্ডের বন্যা নিয়ন্ত্রণ বেড়িবাঁধ নির্মাণ প্রকল্পে চাঁদাবাজি, হামলা ও কাজ বন্ধ করে দেওয়ার অভিযোগে দায়ের করা মামলায় বুড়িগোয়ালিনী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও শ্যামনগর উপজেলা জামায়াতের নেতা হাজী মো. নজরুল ইসলাম এবং তার সহযোগী বিশ্বজিৎ মণ্ডলের জামিন আবেদন নামঞ্জুর করেছেন আদালত। পরে তাদের কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেওয়া হয়।
সোমবার (১০ জুলাই) সকালে সাতক্ষীরার চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মো. সাইদুর রহমানের আদালতে হাজির হয়ে জামিনের আবেদন করেন তারা। উভয় পক্ষের শুনানি শেষে আদালত জামিন আবেদন নামঞ্জুর করে তাদের কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।
মামলার বাদীপক্ষে শুনানি করেন অতিরিক্ত পাবলিক প্রসিকিউটর সিরাজুল ইসলাম এবং আইনজীবী শেখ আবদুল খালেক ও নির্মল জোয়াদ্দার। তারা আদালতে বলেন, আসামিরা সরকারি প্রকল্পের কাজে চাঁদাবাজির সঙ্গে জড়িত। তারা জামিনে বাইরে থাকলে সরকারি কাজ ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
অন্যদিকে আসামিপক্ষে শুনানি করেন আইনজীবী আবু বক্কর ও সৈয়দ ইফতেখার আলী।
এর আগে উচ্চ আদালত থেকে হাজী মো. নজরুল ইসলাম ও বিশ্বজিৎ মণ্ডল ছয় সপ্তাহের জামিনে ছিলেন। জামিনের মেয়াদ শেষ হওয়ায় সোমবার তারা সাতক্ষীরা আদালতে হাজির হয়ে পুনরায় জামিনের আবেদন করেন। শুনানি শেষে আদালত তাদের জামিন আবেদন নামঞ্জুর করেন।
গত ২৫ মে রাতে শ্যামনগর থানায় মামলাটি করেন প্রকল্প বাস্তবায়নকারী প্রতিষ্ঠান আর-রাদ করপোরেশনের আইন কর্মকর্তা মো. জাল উদ্দিন।
মামলায় প্রধান আসামি করা হয়েছে বুড়িগোয়ালিনী ইউপি চেয়ারম্যান ও শ্যামনগর উপজেলা জামায়াতের কর্মপরিষদ ও শুরা সদস্য হাজী মো. নজরুল ইসলামকে। মামলায় তার ছেলে আব্দুর রহমান, স্থানীয় বিশ্বজিৎ মণ্ডলসহ আরও কয়েকজনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে। এছাড়া অজ্ঞাতনামা ২০ থেকে ২৫ জনকে আসামি করা হয়।
এজাহারে বলা হয়, শ্যামনগরের পূর্ব দুর্গাবাটি এলাকায় জাইকার অর্থায়নে পানি উন্নয়ন বোর্ডের বন্যা নিয়ন্ত্রণ বেড়িবাঁধ নির্মাণ করছে ডিএল-উন্নয়ন (জেভি) ও ডকইয়ার্ড অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং ওয়ার্কস লিমিটেডের পক্ষে আর-রাদ করপোরেশন।
মামলার অভিযোগ অনুযায়ী, গত বছরের আগস্ট থেকে প্রকল্পসংশ্লিষ্টদের কাছে চাঁদা দাবি এবং নির্মাণকাজ বন্ধের জন্য চাপ দেওয়া হচ্ছিল। চাঁদা না দেওয়ায় গত ১৪ এপ্রিল থেকে প্রকল্পের কাজ বন্ধ হয়ে যায়।
এজাহারে আরও বলা হয়, ১৯ মে রাতে প্রকল্প এলাকায় গিয়ে হাজী মো. নজরুল ইসলাম ১৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করেন। একই সঙ্গে কাজ চালিয়ে গেলে প্রকল্পের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের হত্যার হুমকি দেওয়ার অভিযোগ করা হয়েছে।
এরপর ২৩ মে দুপুরে হাজী মো. নজরুল ইসলাম, তার ছেলে আব্দুর রহমানসহ কয়েকজন প্রকল্প এলাকায় গিয়ে প্রকৌশলী জাহিদ হাসানকে মারধর করেন বলে মামলায় অভিযোগ করা হয়েছে। তাকে বাধা দিতে গিয়ে কিউরিং ম্যান ফেরদৌসও মারধরের শিকার হন।
এ সময় প্রকৌশলী জাহিদ হাসানের একটি অ্যাপল স্মার্টওয়াচ ও মানিব্যাগ নিয়ে যাওয়া হয় বলে এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে। পুরো ঘটনা প্রকল্প এলাকার সিসিটিভি ক্যামেরায় ধারণ হয়েছে বলে দাবি করেছেন মামলার বাদী।
হামলায় আহত প্রকৌশলী জাহিদ হাসান ও ফেরদৌসকে পরে শ্যামনগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা দেওয়া হয়।
তবে মামলার প্রধান আসামি হাজী মো. নজরুল ইসলাম শুরু থেকেই তার বিরুদ্ধে আনা সব অভিযোগ অস্বীকার করে আসছেন। তার দাবি, তাকে জড়িয়ে করা অভিযোগ মিথ্যা, বানোয়াট ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত।
হামলার সময় তিনি ইউনিয়ন পরিষদের বাজেট অধিবেশনে ছিলেন বলেও দাবি করেছেন হাজী মো. নজরুল ইসলাম।
চাঁদাবাজির মামলায় জামায়াত নেতা ইউপি চেয়ারম্যান নজরুল ইসলাম কারাগারে সংবাদদাতা : ইয়াছিন মোড়ল সাতক্ষীরার শ্যামনগরে জাইকার অর্থায়নে পানি উন্নয়ন বোর্ডের বন্যা নিয়ন্ত্রণ বেড়িবাঁধ নির্মাণ প্রকল্পে চাঁদাবাজি, হামলা ও বিস্তারিত

