সারাবাংলা - Gono television | বাংলাদেশ সরকার অনুমোদিত বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেল।

এসএসসি ও সমমান পরীক্ষার ফল পুনর্নিরীক্ষণের (খাতা চ্যালেঞ্জ) আবেদন শুরু হয়েছে।

 

মঙ্গলবার (১১ আগস্ট) থেকে শুরু হওয়া এ আবেদন চলবে আগামী ১৭ আগস্ট পর্যন্ত।

 

এবার নতুন পদ্ধতিতে প্রতি পত্রের জন্য ১৫০ টাকা ফি দিয়ে অনলাইনে পুনর্নিরীক্ষণের আবেদন করতে হবে।

 

ঢাকা মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ডের এক চিঠিতে জানানো হয়েছে, ২০২৬ সালের এসএসসি ও সমমান পরীক্ষার ফল পুনর্নিরীক্ষণের জন্য রোল ও রেজিস্ট্রেশন নম্বর দিয়ে নির্ধারিত অনলাইন পোর্টালে প্রবেশ করতে হবে। এরপর ড্রপডাউন মেনু থেকে সংশ্লিষ্ট শিক্ষা বোর্ড নির্বাচন করে ‘সাবমিট’ বাটনে ক্লিক করতে হবে।

 

পরবর্তী ধাপে একটি মোবাইল নম্বর দিতে হবে। পুনর্নিরীক্ষণের ফল প্রকাশের পর ওই নম্বরেই এসএমএসের মাধ্যমে ফল জানানো হবে।

 

যেভাবে আবেদন করবেন

আবেদন প্রক্রিয়ায় প্রবেশের পর শিক্ষার্থীর বিষয়ভিত্তিক ফলাফল দেখা যাবে। যেসব বিষয়ে পুনর্নিরীক্ষণ করতে চান, সেগুলো নির্বাচন করে ‘ফি প্রদান করুন’ বাটনে ক্লিক করতে হবে। প্রতিটি পত্রের জন্য ফি নির্ধারণ করা হয়েছে ১৫০ টাকা।

 

কোনো বিষয়ের দুটি পত্র থাকলে এবং উভয় পত্রের ফল পুনর্নিরীক্ষণ করতে চাইলে দুটি পত্রের জন্যই আলাদাভাবে আবেদন করতে হবে।

 

যেভাবে ফি পরিশোধ করবেন

বিষয় নির্বাচন করার পর পরবর্তী স্ক্রিনে মোট ফি-এর পরিমাণ দেখানো হবে। এরপর বিকাশ, নগদ অথবা সোনালী সেবার মাধ্যমে ফি পরিশোধ করা যাবে। ফি পরিশোধের বিস্তারিত নির্দেশনা পুনর্নিরীক্ষণ পোর্টালেই পাওয়া যাবে।

 

ফি পরিশোধের পর আবার আবেদন পোর্টালে ফিরে এসে ‘জমা দিন’ বাটনে ক্লিক করতে হবে। তাহলেই আবেদন প্রক্রিয়া সম্পন্ন হবে।

 

পরে নতুন বিষয় যুক্ত করার সুযোগ

একবার ফি দিয়ে আবেদন জমা দেওয়ার পরও কোনো শিক্ষার্থী চাইলে একই প্রক্রিয়ায় নতুন কোনো বিষয় পুনর্নিরীক্ষণের জন্য যুক্ত করতে পারবেন। তবে নতুন করে মোবাইল নম্বর দেওয়ার প্রয়োজন হবে না।

 

অন্যদিকে, ফি পরিশোধের আগে আবেদন পরিবর্তন বা সংশোধন করতে চাইলে ‘মুছে ফেলুন’ বাটনে ক্লিক করে যেসব বিষয়ের জন্য এখনো ফি দেওয়া হয়নি, সেগুলো প্রত্যাহার করা যাবে। এরপর নতুন করে বিষয় নির্বাচন করা যাবে।

 

তবে একবার কোনো বিষয়ের ফি পরিশোধ হয়ে গেলে সেটি আর বাতিল করা যাবে না। কোনো অবস্থাতেই পরিশোধ করা ফি ফেরত দেওয়া হবে না।

 

আবেদন চলবে ১৭ আগস্ট পর্যন্ত

শিক্ষার্থীদের নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই অনলাইনে আবেদন সম্পন্ন করতে হবে। এবার কোনো ধরনের ম্যানুয়াল আবেদন গ্রহণ করা হবে না। তাই ফল মনমতো না এলে দেরি না করে নির্ধারিত অনলাইন পদ্ধতিতে খাতা চ্যালেঞ্জ বা ফল পুনর্নিরীক্ষণের আবেদন করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

এসএসসি ও সমমান পরীক্ষার ফল পুনর্নিরীক্ষণের (খাতা চ্যালেঞ্জ) আবেদন শুরু হয়েছে।   মঙ্গলবার (১১ আগস্ট) থেকে শুরু হওয়া এ আবেদন চলবে আগামী ১৭ আগস্ট পর্যন্ত।   এবার নতুন পদ্ধতিতে প্রতি বিস্তারিত

ছেলের সঙ্গে একই বছরে এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নিয়ে মা ও ছেলে দুজনেই জিপিএ-৫ পেয়েছেন।

 

রাজশাহী নগরের রাজপাড়া থানা এলাকার সাদিয়া বেগম ও তার ছেলে তানভীর আহমেদের এমন সাফল্যে পরিবার ও এলাকাজুড়ে আনন্দের পরিবেশ তৈরি হয়েছে।

 

জানা গেছে, সাদিয়া বেগমের বিয়ে হয়েছিল ১৯ বছর আগে। সংসারের দায়িত্বে প্রায় ১৭ বছর পড়াশোনা থেকে দূরে ছিলেন তিনি। তবে পড়াশোনার প্রতি আগ্রহ হারাননি। পরে আবার বই হাতে তুলে নিয়ে সংসার ও দুই সন্তানের দেখাশোনার পাশাপাশি পড়াশোনা শুরু করেন।

 

প্রায় দুই বছর আগে ছেলের সঙ্গে এসএসসি পরীক্ষা দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন সাদিয়া। পরিবারের সম্মতিতে প্রস্তুতি শুরু করেন। চলতি বছরের এসএসসি (ভোকেশনাল) পরীক্ষায় রাজপাড়া আদর্শ মহিলা টেকনিক্যাল অ্যান্ড বিএম কলেজ থেকে অংশ নিয়ে তিনি জিপিএ-৫ অর্জন করেন।

অন্যদিকে তার ছেলে তানভীর আহমেদ রাজশাহী শিক্ষা বোর্ড সরকারি মডেল স্কুল অ্যান্ড কলেজের বিজ্ঞান বিভাগ থেকে এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নিয়ে গোল্ডেন জিপিএ-৫ পেয়েছে।

 

সাদিয়া বলেন, ‘পড়াশোনার প্রতি ঝোঁক ছিল। কিন্তু বিয়ের পর নানা কারণে পড়ালেখা করতে পারিনি। হাল ছাড়িনি। বছর দুয়েক আগে সিদ্ধান্ত নিলাম ছেলের সঙ্গে পরীক্ষা দেব। পরিবারের সম্মতিতে প্রস্তুতি শুরু করি।’

 

ছেলে তানভীরও মায়ের সঙ্গে পরীক্ষা দেওয়ার অভিজ্ঞতাকে সৌভাগ্যের বিষয় হিসেবে দেখছে। সে বলেন, ‘মায়ের সঙ্গে এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নিয়ে দুজনই জিপিএ-৫ পেয়েছি। মায়ের সঙ্গে পরীক্ষা দেওয়ার সৌভাগ্য কয়জনের হয়!’

 

তানভীর জানায়, মা তার পড়াশোনার নিয়মিত খোঁজ নেওয়ার পাশাপাশি নিজেও পড়াশোনা করতেন। অনেক সময় রাত জেগে তার পাশে বসে থাকতেন। নিজের সাফল্য বাবা-মাকে উৎসর্গ করে ভবিষ্যতে ইঞ্জিনিয়ার হওয়ার স্বপ্নের কথাও জানিয়েছে সে।

 

মা-ছেলের এই সাফল্যে খুশি তাদের গৃহশিক্ষক আরিফুল ইসলামও। তিনি প্রায় চার বছর ধরে তানভীরকে ইংরেজি পড়ানোর পাশাপাশি সাদিয়ার পড়াশোনাতেও সহযোগিতা করেছেন।

 

পরিবার সূত্রে জানা গেছে, সাদিয়ার স্বামী তোফাজ্জল হোসেন একজন সরকারি কর্মকর্তা। সংসার ও সন্তানদের দায়িত্ব সামলেও দীর্ঘ বিরতির পর নিজের পড়াশোনার স্বপ্ন পূরণ করেছেন সাদিয়া। একই পরীক্ষায় ছেলের সঙ্গে অংশ নিয়ে দুজনের জিপিএ-৫ অর্জন সেই অধ্যবসায়েরই অনন্য উদাহরণ।

একসঙ্গে এসএসসি পাস করলেন মা-ছেলে, দুজনই জিপিএ-৫

ছেলের সঙ্গে একই বছরে এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নিয়ে মা ও ছেলে দুজনেই জিপিএ-৫ পেয়েছেন।   রাজশাহী নগরের রাজপাড়া থানা এলাকার সাদিয়া বেগম ও তার ছেলে তানভীর আহমেদের এমন সাফল্যে পরিবার বিস্তারিত

প্রকাশিত এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষার ফলাফলে সাতক্ষীরার চারটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে কোনো পরীক্ষার্থীই পাস করতে পারেনি। শতভাগ অকৃতকার্য এসব প্রতিষ্ঠানের মধ্যে রয়েছে নিম্ন মাধ্যমিক বিদ্যালয় ও একটি নৈশ বিদ্যালয়। এর মধ্যে দেবহাটার একটি বিদ্যালয়ে ২০০১ সাল থেকে শিক্ষকরা বেতন-ভাতা না পাওয়ায় শিক্ষা কার্যক্রমের বেহাল চিত্রও উঠে এসেছে।

 

সোমবার (১০ আগস্ট) দুপুরে সংশ্লিষ্ট শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান প্রধান ও জেলা শিক্ষা কার্যালয় সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে।

 

শতভাগ অকৃতকার্য চারটি প্রতিষ্ঠান হলো আশাশুনি উপজেলার আশাশুনি গোদাড়া নিম্ন মাধ্যমিক বালিকা বিদ্যালয়, সাতক্ষীরা সদরের সাতক্ষীরা নৈশ বিদ্যালয় (নাইট স্কুল), দেবহাটা উপজেলার বাবুরাবাদ ঢেবুখালী বিদ্যালয় এবং শ্যামনগর উপজেলার কৈখালি ইউনিয়নের সাহেবখালী সিদ্দিকগাজী বিদ্যালয়।

 

আশাশুনি গোদাড়া নিম্ন মাধ্যমিক বালিকা বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষিকা জেবুন্নেছা জানান, চলতি বছর বিদ্যালয়টির মানবিক বিভাগ থেকে চারজন শিক্ষার্থী এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নেয়। কিন্তু প্রকাশিত ফলাফলে তাদের কেউই উত্তীর্ণ হতে পারেনি।

 

দেবহাটার বাবুরাবাদ ঢেবুখালী বিদ্যালয়ের চিত্র আরও নাজুক। প্রতিষ্ঠানটির অফিস সহকারী নূর হোসেন জানান, ২০০১ সাল থেকে বিদ্যালয়ের শিক্ষকরা কোনো বেতন-ভাতা পাচ্ছেন না। ফলে শিক্ষকদের অনেকেই নিয়মিত বিদ্যালয়ে আসেন না। কাগজে-কলমে আটজন শিক্ষক থাকলেও বাস্তবে তাদের উপস্থিতি নেই বললেই চলে। একজন শিক্ষিকা ও একজন ধর্মীয় শিক্ষক থাকলেও তারাও নিয়মিত সময় দেন না।

 

নূর হোসেন আক্ষেপ করে বলেন, ‘বলতে গেলে আমি অফিস সহকারী হিসেবে একাই স্কুলটি দেখে-শুনে টিকিয়ে রেখেছি। গত বছর বিদ্যালয়টির পাঁচজন পরীক্ষার্থীর মধ্যে চারজন পাস করেছিল। তবে এবার কোনো পরীক্ষার্থীই উত্তীর্ণ হতে পারেনি।’

 

সাতক্ষীরা নৈশ মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের ফলাফলের বিষয়ে জানতে চাইলে প্রতিষ্ঠানটির ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক মমিনুর রহমান বলেন, ফলাফলের সঠিক তথ্য এই মুহূর্তে তার জানা নেই। বোর্ড ও অনলাইনভিত্তিক নথি যাচাই করে বিস্তারিত তথ্য জানাতে পারবেন।

 

অন্যদিকে শ্যামনগরের কৈখালি ইউনিয়নের সাহেবখালী সিদ্দিকগাজী বিদ্যালয়টি শতভাগ অকৃতকার্য হওয়ার কারণ জানতে প্রতিষ্ঠানটির প্রধান শিক্ষকের মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

 

এ বিষয়ে সাতক্ষীরা জেলা সহকারী মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার মোহাম্মদ আবুল খায়ের বলেন, যশোর শিক্ষা বোর্ড থেকে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোয় ফলাফলের বিস্তারিত তথ্য পাঠানো হচ্ছে। যেসব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে কোনো শিক্ষার্থী পাস করতে পারেনি, সেসব প্রতিষ্ঠানের বিষয়ে অনুসন্ধান করা হবে। অনুসন্ধানে কারণ চিহ্নিত হওয়ার পর প্রয়োজন অনুযায়ী প্রশাসনিক ও প্রাতিষ্ঠানিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

সাতক্ষীরায় ৪ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে পাস করেনি কেউ

প্রকাশিত এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষার ফলাফলে সাতক্ষীরার চারটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে কোনো পরীক্ষার্থীই পাস করতে পারেনি। শতভাগ অকৃতকার্য এসব প্রতিষ্ঠানের মধ্যে রয়েছে নিম্ন মাধ্যমিক বিদ্যালয় ও একটি নৈশ বিদ্যালয়। এর মধ্যে বিস্তারিত

বেসরকারি স্কুল-কলেজে প্রবেশ পর্যায়ে শিক্ষক নিয়োগের ক্ষমতা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ম্যানেজিং কমিটির হাতেই দিচ্ছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়। এর ফলে এখন থেকে আর শিক্ষক নিয়োগের সুপারিশ করতে পারবে না বেসরকারি শিক্ষক নিবন্ধন ও প্রত্যয়ন কর্তৃপক্ষ (এনটিআরসিএ)। এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিয়েছে মন্ত্রণালয়।

 

গত ৩ আগস্ট শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে এনটিআরসিএর সার্বিক কার্যক্রম নিয়ে আয়োজিত সভায় এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। সভায় শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন, মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের সচিব আবদুল খালেক, এনটিআরসিএ চেয়ারম্যান (অতিরিক্ত দায়িত্ব) আলিফ রুদাবাসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

 

সভার কার্যবিবরণী থেকে জানা যায়, এনটিআরসিএ চেয়ারম্যান সভাকে অবহিত করেন, ২০০৫ সনের ১ নং আইন ‘বেসরকারি শিক্ষক নিবন্ধন ও প্রত্যয়ন কর্তৃপক্ষ আইন, ২০০৫’ এ প্রদত্ত ক্ষমতাবলে প্রণীত ‘বেসরকারি শিক্ষক নিবন্ধন পরীক্ষা গ্রহণ ও প্রত্যয়ন বিধিমালা, ২০০৬’ অনুযায়ী বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে শিক্ষক হিসেবে নিবন্ধন ও প্রত্যয়নের জন্য প্রার্থীদের যোগ্যতা নিরূপন ও এতদ্বিষয়ে প্রত্যয়নপত্র প্রদানের উদ্দেশ্যে প্রতি পঞ্জিকা বর্ষে অন্তত একবার পরীক্ষা গ্রহণের জন্য নির্দেশনা রয়েছে।

 

বেসরকারি শিক্ষক নিবন্ধন ও প্রত্যয়ন কর্তৃপক্ষ (এনটিআরসিএ) হতে সর্বশেষ ২০২৩ সালে নিয়োগ পরীক্ষার বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়। সে প্রেক্ষিতে ১৯তম এনটিআরসিএ শিক্ষক (প্রবেশ পর্যায়) নিবন্ধন পরীক্ষার বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা প্রয়োজন।

সভায় শিক্ষামন্ত্রী ড. মিলন জানান, ‘২০০৫ সাল হতে ২০১৫ সালের পূর্বে এনটিআরসিএ কেবলমাত্র নিবন্ধন ও প্রত্যয়ন কার্যক্রম পরিচালনা করতো। ২০১৫ সাল থেকে এনটিআরসিএর সক্ষমতার বাইরে গিয়ে নিয়োগ সুপারিশ করার পর থেকে বিভিন্ন জটিলতা, মামলা এবং অচলাবস্থা সৃষ্টি হয়।’

 

তিনি আরও জানান, ‘বর্তমানে নির্বাচিত গণতান্ত্রিক সরকার সুষ্ঠুভাবে রাষ্ট্র পরিচালনা এবং একটি সুস্থ ও কার্যকর শিক্ষাব্যবস্থা গড়ে তোলার নিমিত্তে নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে। এনটিআরসিএর বর্তমান অচলাবস্থা নিরসনে পূর্বের ন্যায় এনটিআরসিএ কর্তৃক কেবলমাত্র নিবন্ধন ও প্রত্যয়ন কার্যক্রম পরিচালনা করা এবং প্রত্যায়নপত্র শিক্ষকদের প্রতিষ্ঠানের স্ব স্ব ম্যানেজিং কমিটি বা গভর্নিং বডি কর্তৃক বাছাই প্রক্রিয়ার মাধ্যমে বর্তমান সমস্যার সমাধান করা যেতে।’ শিক্ষামন্ত্রীর অভিমতের সঙ্গে সভায় উপস্থিত সকলে এ বিষয়ে একমত পোষণ করেন।

 

কার্যবিবরণীতে সভার সিদ্ধান্তে লেখা হয়, ‘বেসরকারি শিক্ষক নিবন্ধন ও প্রত্যয়ন কর্তৃপক্ষ আইন, ২০০৫’ অনুযায়ী এখন থেকে এনটিআরসিএ কেবলমাত্র নিবন্ধন ও প্রত্যয়নের কাজ করবে। ২০১৫ সালের পরিপত্র অনুযায়ী আর নিয়োগ সুপারিশ করবে না। এ লক্ষ্যে প্রয়োজনীয় কার্যক্রম গ্রহণ করতে হবে।’ শুধু তাই নয়, সভার সিদ্ধান্ত মতে, ‘১৮তম শিক্ষক নিবন্ধন পরীক্ষায় উত্তীর্ণ ৯৮৪২ জন তাদের পছন্দ অনুযায়ী শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে স্বউদ্যোগে ম্যানেজিং কমিটি/গভর্নিং বডির মাধ্যমে নিয়োগ প্রাপ্ত হবেন। এ লক্ষ্যে প্রয়োজনীয় পরিপত্র/প্রজ্ঞাপন সংশোধন/জারি করতে হবে।’

 

নাম অপ্রকাশিত রাখার শর্তে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের এক কর্মকর্তা দ্য ডেইলি ক্যাম্পাসকে বলেন, সভার কার্যবিবরণীর সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ১৯তম শিক্ষক নিবন্ধন থেকেই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ম্যানেজিং কমিটির মাধ্যমে শিক্ষক নিয়োগ হবে। এনটিআরসিএ আর নিয়োগ সুপারিশ করবে না। এজন্য প্রয়োজনীয় আইন সংশোধন করা হবে।’

 

জানা গেছে, ২০০৫ সালে এনটিআরসিএ প্রতিষ্ঠিত হয়। প্রথম এক দশক সংস্থাটি কেবল শিক্ষক নিবন্ধন পরীক্ষা নিয়ে সনদ দিত। ২০১৫ সালের ৩০ ডিসেম্বর সংস্থাটি নিবন্ধনধারী শিক্ষকদের সরাসরি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নিয়োগের সুপারিশ দেওয়ার কার্যক্রম শুরু করে। ফলে ঘুষ ছাড়া শিক্ষক নিয়োগ নিশ্চিত হয়ে যায়। সুফল ভোগ করেন অসংখ্য মানুষ। এ পর্যন্ত সংস্থাটি ১ লাখ ৭৭ হাজার ৫৭১ জন শিক্ষক নিয়োগের সুপারিশ করেছে।

ম্যানেজিং কমিটির হাতেই শিক্ষক নিয়োগের ক্ষমতা, এনটিআরসিএ শুধু সনদ দেবে

বেসরকারি স্কুল-কলেজে প্রবেশ পর্যায়ে শিক্ষক নিয়োগের ক্ষমতা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ম্যানেজিং কমিটির হাতেই দিচ্ছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়। এর ফলে এখন থেকে আর শিক্ষক নিয়োগের সুপারিশ করতে পারবে না বেসরকারি শিক্ষক নিবন্ধন ও প্রত্যয়ন বিস্তারিত

২৭ মামলার আসামি ও সংঘবদ্ধ প্রতারক চক্রের ‘গডফাদার’ আকাশ গ্রেপ্তার

 

মোঃ আশরাফুল ইসলাম

ঠাকুরগাঁও প্রতিনিধি:

 

ঠাকুরগাঁওয়ে জেলা গোয়েন্দা শাখা (ডিবি) পুলিশের বিশেষ অভিযানে মোঃ মোস্তফা আলী ওরফে আকাশ (৩৫) নামে এক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। পুলিশের দাবি, তিনি সংঘবদ্ধ প্রতারক চক্রের অন্যতম হোতা ও কুখ্যাত মাদক ব্যবসায়ী। তার বিরুদ্ধে প্রতারণা, অপহরণ, চাঁদাবাজি, মারামারি, চুরি, বিস্ফোরক দ্রব্য ও মাদকসহ বিভিন্ন অভিযোগে মোট ২৭টি মামলা রয়েছে।

রোববার (৯ আগস্ট) বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় ঠাকুরগাঁও সদর থানা এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে ঠাকুরগাঁও রোড এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করে ডিবি পুলিশের একটি চৌকস দল।

গ্রেপ্তার মোঃ মোস্তফা আলী ওরফে আকাশ ঠাকুরগাঁওয়ের পীরগঞ্জ পৌরসভার ৬ নম্বর ওয়ার্ডের জগথা এলাকার মোঃ মোবারক আলীর ছেলে।

ডিবি পুলিশ সূত্রে জানা যায়, ডিবিতে তদন্তাধীন নকল স্বর্ণের মূর্তি দেখিয়ে প্রতারণার একটি মামলার এজাহারভুক্ত পলাতক আসামি ছিলেন মোস্তফা আলী ওরফে আকাশ। তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় তার অবস্থান শনাক্ত করার পর ঠাকুরগাঁও সদর থানা এলাকায় দিনব্যাপী অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।

পুলিশের তথ্যমতে, আকাশের বিরুদ্ধে প্রতারণা, অপহরণ, চাঁদাবাজি, মারামারি, চুরি, বিস্ফোরক দ্রব্য ও মাদকসহ মোট ২৭টি মামলা রয়েছে। এছাড়া পীরগঞ্জ থানায় তার বিরুদ্ধে তিন বছরের সশ্রম কারাদণ্ড ও ৭ হাজার টাকা অর্থদণ্ডের সাজা পরোয়ানা মুলতবি রয়েছে।

পুলিশ আরও জানায়, আকাশ দীর্ঘদিন ধরে মাদক ব্যবসা ও প্রতারণার সঙ্গে জড়িত। তিনি একসময় গাজীপুরে অবস্থান করে মাদক ব্যবসার একটি সিন্ডিকেট পরিচালনা করতেন বলে পুলিশের কাছে তথ্য রয়েছে। পরবর্তীতে গোপনে হরিপুর ও রানীশংকৈল থানা এলাকাসহ নিজ এলাকা পীরগঞ্জে বিভিন্ন সময়ে অবস্থান করে মাদক, প্রতারণাসহ নানা অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে পড়েন বলে জানা গেছে।

বিশেষ করে নকল স্বর্ণের মূর্তিসহ বিভিন্ন কৌশলে প্রতারণার মাধ্যমে সাধারণ মানুষকে আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করার অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। তার ভয়ে অনেক ভুক্তভোগী প্রকাশ্যে অভিযোগ করতেও সাহস পেতেন না বলে পুলিশ সূত্রে জানা গেছে।

জেলা গোয়েন্দা শাখার (ডিবি) অফিসার ইনচার্জ মোঃ গোলাম রসুল বলেন, অপরাধী যতই কৌশলী হোক, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর নজরদারি এড়িয়ে অপরাধ করে পার পাওয়ার সুযোগ নেই। তথ্যপ্রযুক্তির সর্বোচ্চ ব্যবহার করে অপরাধীদের শনাক্ত ও আইনের আওতায় আনার কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে। মাদক ব্যবসা, প্রতারণা ও সংঘবদ্ধ অপরাধের বিরুদ্ধে জেলা পুলিশের অভিযান আরও জোরদার করা হবে। সাধারণ মানুষের জানমাল ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে জেলা গোয়েন্দা শাখা সর্বদা তৎপর রয়েছে।

গ্রেপ্তারের পর প্রয়োজনীয় আইনগত প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে মোঃ মোস্তফা আলী ওরফে আকাশকে সোমবার (১০ আগস্ট) বিজ্ঞ আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে।

২৭ মামলার আসামি ও সংঘবদ্ধ প্রতারক চক্রের ‘গডফাদার’ আকাশ গ্রেপ্তার

২৭ মামলার আসামি ও সংঘবদ্ধ প্রতারক চক্রের ‘গডফাদার’ আকাশ গ্রেপ্তার   মোঃ আশরাফুল ইসলাম ঠাকুরগাঁও প্রতিনিধি:   ঠাকুরগাঁওয়ে জেলা গোয়েন্দা শাখা (ডিবি) পুলিশের বিশেষ অভিযানে মোঃ মোস্তফা আলী ওরফে আকাশ বিস্তারিত

চাঁদাবাজির মামলায় জামায়াত নেতা ইউপি চেয়ারম্যান নজরুল ইসলাম কারাগারে

 

সংবাদদাতা : ইয়াছিন মোড়ল

 

সাতক্ষীরার শ্যামনগরে জাইকার অর্থায়নে পানি উন্নয়ন বোর্ডের বন্যা নিয়ন্ত্রণ বেড়িবাঁধ নির্মাণ প্রকল্পে চাঁদাবাজি, হামলা ও কাজ বন্ধ করে দেওয়ার অভিযোগে দায়ের করা মামলায় বুড়িগোয়ালিনী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও শ্যামনগর উপজেলা জামায়াতের নেতা হাজী মো. নজরুল ইসলাম এবং তার সহযোগী বিশ্বজিৎ মণ্ডলের জামিন আবেদন নামঞ্জুর করেছেন আদালত। পরে তাদের কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেওয়া হয়।

 

সোমবার (১০ জুলাই) সকালে সাতক্ষীরার চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মো. সাইদুর রহমানের আদালতে হাজির হয়ে জামিনের আবেদন করেন তারা। উভয় পক্ষের শুনানি শেষে আদালত জামিন আবেদন নামঞ্জুর করে তাদের কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।

 

মামলার বাদীপক্ষে শুনানি করেন অতিরিক্ত পাবলিক প্রসিকিউটর সিরাজুল ইসলাম এবং আইনজীবী শেখ আবদুল খালেক ও নির্মল জোয়াদ্দার। তারা আদালতে বলেন, আসামিরা সরকারি প্রকল্পের কাজে চাঁদাবাজির সঙ্গে জড়িত। তারা জামিনে বাইরে থাকলে সরকারি কাজ ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

 

অন্যদিকে আসামিপক্ষে শুনানি করেন আইনজীবী আবু বক্কর ও সৈয়দ ইফতেখার আলী।

 

এর আগে উচ্চ আদালত থেকে হাজী মো. নজরুল ইসলাম ও বিশ্বজিৎ মণ্ডল ছয় সপ্তাহের জামিনে ছিলেন। জামিনের মেয়াদ শেষ হওয়ায় সোমবার তারা সাতক্ষীরা আদালতে হাজির হয়ে পুনরায় জামিনের আবেদন করেন। শুনানি শেষে আদালত তাদের জামিন আবেদন নামঞ্জুর করেন।

 

গত ২৫ মে রাতে শ্যামনগর থানায় মামলাটি করেন প্রকল্প বাস্তবায়নকারী প্রতিষ্ঠান আর-রাদ করপোরেশনের আইন কর্মকর্তা মো. জাল উদ্দিন।

 

মামলায় প্রধান আসামি করা হয়েছে বুড়িগোয়ালিনী ইউপি চেয়ারম্যান ও শ্যামনগর উপজেলা জামায়াতের কর্মপরিষদ ও শুরা সদস্য হাজী মো. নজরুল ইসলামকে। মামলায় তার ছেলে আব্দুর রহমান, স্থানীয় বিশ্বজিৎ মণ্ডলসহ আরও কয়েকজনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে। এছাড়া অজ্ঞাতনামা ২০ থেকে ২৫ জনকে আসামি করা হয়।

 

এজাহারে বলা হয়, শ্যামনগরের পূর্ব দুর্গাবাটি এলাকায় জাইকার অর্থায়নে পানি উন্নয়ন বোর্ডের বন্যা নিয়ন্ত্রণ বেড়িবাঁধ নির্মাণ করছে ডিএল-উন্নয়ন (জেভি) ও ডকইয়ার্ড অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং ওয়ার্কস লিমিটেডের পক্ষে আর-রাদ করপোরেশন।

 

মামলার অভিযোগ অনুযায়ী, গত বছরের আগস্ট থেকে প্রকল্পসংশ্লিষ্টদের কাছে চাঁদা দাবি এবং নির্মাণকাজ বন্ধের জন্য চাপ দেওয়া হচ্ছিল। চাঁদা না দেওয়ায় গত ১৪ এপ্রিল থেকে প্রকল্পের কাজ বন্ধ হয়ে যায়।

 

এজাহারে আরও বলা হয়, ১৯ মে রাতে প্রকল্প এলাকায় গিয়ে হাজী মো. নজরুল ইসলাম ১৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করেন। একই সঙ্গে কাজ চালিয়ে গেলে প্রকল্পের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের হত্যার হুমকি দেওয়ার অভিযোগ করা হয়েছে।

 

এরপর ২৩ মে দুপুরে হাজী মো. নজরুল ইসলাম, তার ছেলে আব্দুর রহমানসহ কয়েকজন প্রকল্প এলাকায় গিয়ে প্রকৌশলী জাহিদ হাসানকে মারধর করেন বলে মামলায় অভিযোগ করা হয়েছে। তাকে বাধা দিতে গিয়ে কিউরিং ম্যান ফেরদৌসও মারধরের শিকার হন।

 

এ সময় প্রকৌশলী জাহিদ হাসানের একটি অ্যাপল স্মার্টওয়াচ ও মানিব্যাগ নিয়ে যাওয়া হয় বলে এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে। পুরো ঘটনা প্রকল্প এলাকার সিসিটিভি ক্যামেরায় ধারণ হয়েছে বলে দাবি করেছেন মামলার বাদী।

 

হামলায় আহত প্রকৌশলী জাহিদ হাসান ও ফেরদৌসকে পরে শ্যামনগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা দেওয়া হয়।

 

তবে মামলার প্রধান আসামি হাজী মো. নজরুল ইসলাম শুরু থেকেই তার বিরুদ্ধে আনা সব অভিযোগ অস্বীকার করে আসছেন। তার দাবি, তাকে জড়িয়ে করা অভিযোগ মিথ্যা, বানোয়াট ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত।

 

হামলার সময় তিনি ইউনিয়ন পরিষদের বাজেট অধিবেশনে ছিলেন বলেও দাবি করেছেন হাজী মো. নজরুল ইসলাম।

চাঁদাবাজির মামলায় জামায়াত নেতা ইউপি চেয়ারম্যান নজরুল ইসলাম কারাগারে

চাঁদাবাজির মামলায় জামায়াত নেতা ইউপি চেয়ারম্যান নজরুল ইসলাম কারাগারে   সংবাদদাতা : ইয়াছিন মোড়ল   সাতক্ষীরার শ্যামনগরে জাইকার অর্থায়নে পানি উন্নয়ন বোর্ডের বন্যা নিয়ন্ত্রণ বেড়িবাঁধ নির্মাণ প্রকল্পে চাঁদাবাজি, হামলা ও বিস্তারিত

বিভাগীয় শহর খুলনায় বিদ্যুতের তীব্র সংকট, দিনের অর্ধেক সময়ও থাকছে না বিদ্যুৎ

 

লোডশেডিংয়ে চরম দুর্ভোগে নগরবাসী, দুশ্চিন্তায় অনলাইনভিত্তিক কর্মজীবীরা

 

খুলনা প্রতিনিধি:

বিভাগীয় শহর খুলনায় বিদ্যুতের তীব্র লোডশেডিংয়ে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন নগরবাসী। দিনের দীর্ঘ সময় বিদ্যুৎ না থাকায় স্বাভাবিক জীবনযাত্রা ব্যাহত হচ্ছে। বিশেষ করে প্রচণ্ড গরমের মধ্যে ঘন ঘন ও দীর্ঘ সময়ের লোডশেডিংয়ে দুর্ভোগ আরও বেড়েছে।

 

নগরীর বিভিন্ন এলাকায় বাসিন্দাদের অভিযোগ, দিনের বিভিন্ন সময়ে একাধিকবার বিদ্যুৎ চলে যাচ্ছে। অনেক ক্ষেত্রে বিদ্যুৎ চলে যাওয়ার পর দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করতে হচ্ছে। ফলে বাসাবাড়ির স্বাভাবিক কাজকর্ম থেকে শুরু করে ব্যবসা-বাণিজ্য ও শিক্ষার্থীদের পড়াশোনায়ও নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে।

 

সবচেয়ে বেশি সমস্যায় পড়েছেন অনলাইনভিত্তিক কর্মজীবীরা। ফ্রিল্যান্সার, ভিডিও এডিটর, গ্রাফিক ডিজাইনার, অনলাইন উদ্যোক্তা ও বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের রিমোট কর্মীরা বিদ্যুৎ ও ইন্টারনেটের ওপর নির্ভর করে কাজ করেন। দীর্ঘ সময় বিদ্যুৎ না থাকায় অনেকেই সময়মতো কাজ জমা দিতে পারছেন না। গুরুত্বপূর্ণ অনলাইন মিটিং ও কাজের সময় বিদ্যুৎ চলে যাওয়ায় তৈরি হচ্ছে অতিরিক্ত দুশ্চিন্তা।

 

একজন অনলাইনভিত্তিক কর্মজীবী বলেন, “আমাদের কাজের বড় একটি অংশ নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে সম্পন্ন করতে হয়। বিদ্যুৎ চলে গেলে ব্যাকআপ থাকলেও দীর্ঘ সময় কাজ চালিয়ে যাওয়া কঠিন হয়ে পড়ে। এতে কাজের সময়সূচি ও আয়ের ওপর প্রভাব পড়ছে।”

 

এদিকে শিক্ষার্থীরাও পড়াশোনা নিয়ে সমস্যায় পড়েছেন। বিশেষ করে রাতে দীর্ঘ সময় বিদ্যুৎ না থাকায় পড়াশোনার পরিবেশ ব্যাহত হচ্ছে। একই সঙ্গে দোকানপাট, ছোট ব্যবসা ও বিভিন্ন সেবামূলক প্রতিষ্ঠানেও বিদ্যুৎ সংকটের প্রভাব পড়ছে।

 

নগরবাসীর দাবি, লোডশেডিংয়ের সময়সূচি ও বিদ্যুৎ সরবরাহের পরিস্থিতি সম্পর্কে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে স্পষ্ট তথ্য জানানো হোক। পাশাপাশি দ্রুত বিদ্যুৎ পরিস্থিতির উন্নতি করে দীর্ঘ সময়ের লোডশেডিং বন্ধের কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া হোক।

 

বিদ্যুৎ সরবরাহ স্বাভাবিক না হলে খুলনার মতো গুরুত্বপূর্ণ বিভাগীয় শহরে জনজীবন ও অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে আরও নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে বলে আশঙ্কা করছেন নগরবাসী।

বিভাগীয় শহর খুলনায় বিদ্যুতের তীব্র সংকট, দিনের অর্ধেক সময়ও থাকছে না বিদ্যুৎ লোডশেডিংয়ে চরম দুর্ভোগে নগরবাসী, দুশ্চিন্তায় অনলাইনভিত্তিক কর্মজীবীরা

বিভাগীয় শহর খুলনায় বিদ্যুতের তীব্র সংকট, দিনের অর্ধেক সময়ও থাকছে না বিদ্যুৎ   লোডশেডিংয়ে চরম দুর্ভোগে নগরবাসী, দুশ্চিন্তায় অনলাইনভিত্তিক কর্মজীবীরা   খুলনা প্রতিনিধি: বিভাগীয় শহর খুলনায় বিদ্যুতের তীব্র লোডশেডিংয়ে চরম বিস্তারিত

সৌদিতে সোফা কারখানার আগুনে নিহতদের মধ্যে নওগাঁ- আত্রাইয়ের ১৩ জন

 

মোঃ সাইদুল ইসলাম হেলাল

বিশেষ প্রতিনিধিঃ

রিয়াদে বাংলাদেশ দূতাবাসের বরাতে প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয় রাত দেড়টায় বলেছে, ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে ঘটনাস্থলে ১৬ জন মারা যাওয়ার তথ্য দিয়েছেন ফায়ার সার্ভিসের উদ্ধারকর্মীরা। আগুনে পুড়ে যাওয়ায় মৃতদেহ শনাক্ত করা কঠিন হয়ে পড়েছে।

 

 

সৌদি আরবের রিয়াদে একটি সোফা কারখানায় আগুনে দগ্ধ হয়ে নওগাঁর আত্রাই উপজেলার ১০ জনের মৃত্যুর খবর দিয়েছে স্হানীয় প্রশাসন। পাশের নাটোর জেলার নলডাঙ্গা উপজেলার আরও তিন প্রবাসী নিহত হয়েছেন।

 

রোববার স্হানীয় সময় দুপুর ২টার দিকে রিয়াদের শিফা থানাধীন মুসা সানাইয়া শিল্প এলাকায় এ আগুন লাগে।

 

রিয়াদে বাংলাদেশ দূতাবাসের বরাতে প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয় রাত দেড়টায় বলেছে, ভয়াবহ এ অগ্নিকাণ্ডে ঘটনাস্থলে ১৬ জন মারা যাওয়ার তথ্য দিয়েছেন ফায়ার সার্ভিসের উদ্ধারকর্মীরা। আগুনে পুড়ে যাওয়ায় মৃতদেহ শনাক্ত করা কঠিন হয়ে পড়েছে।

 

 

মন্ত্রণালয়ের জনসংযোগ কর্মকর্তা মো. শরীফুল ইসলামের পাঠানো বার্তায় বলা হয়, “স্থানীয় ফায়ার সার্ভিস এখনো উদ্ধার কাজ পরিচালনা করছে। অগ্নিকাণ্ডে পুড়ে যাওয়ায় মৃতদেহসমূহ শনাক্ত করা দুরূহ হয়ে পড়েছে।”

 

দূতাবাসের কর্মকর্তাদের ঘটনাস্থলে গিয়ে কাজ করার তথ্য দিয়ে তিনি বলেন, “নিহতদের নাম পরিচয় শনাক্তে তারা স্থানীয় সৌদি কর্তৃপক্ষের সাথে নিবিড় যোগাযোগ অব্যাহত রেখেছে।”

 

এর আগে নিহতদের স্বজনদের বরাতে স্থানীয় প্রশাসন ও জনপ্রিতিনিধিরা বলছেন, রোববার দুপুরের দিকে ওই সোফা কারখানায় আগুন লাগে। এতে অন্তত ১৭ জনের মৃত্যু হয়। বাংলাদেশি ছাড়াও অন্য দেশের নাগরিক আছে কিনা সেটা অবশ্য স্বজনরা বলতে পারেননি।

 

 

রাত ১টার দিকে সৌদি দূতাবাসের কাউন্সেলর (শ্রম) মুহাম্মদ রেজায়ে রাব্বীর বরাতে প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের জনসংযোগ কর্মকর্তা শরীফুল বলেছিলেন, সৌদির কারখানায় মৃত্যুর প্রকৃত সংখ্যা তখনও তারা নিশ্চিত হতে পারেননি। প্রকৃত সংখ্যা পাওয়া গেলে তা জানিয়ে দেওয়া হবে।

 

শরীফুল বলেন, শ্রম কাউন্সেলরসহ দূতাবাসের কর্মকর্তারা ঘটনাস্থলে রয়েছেন।

 

দুর্ঘটনার বিষয়ে নিহতের স্বজনদের বরাতে নাটোরের খাজুরা ইউপি চেয়ারম্যান সোহরাব হোসেন বলেন, সৌদি আরবের সময় দুপুর ২টার দিকে সোফা কারখানায় সবাই ঘুমিয়ে ছিলেন। তাদের একজন চুল কাটাতে বাইরে গিয়েছিলেন। তিনি ফিরে এসে আগুন দেখে চিৎকার করলে স্থানীয়রা ফায়ার সার্ভিস ও প্রশাসনে খবর দেয়। ফায়ার সার্ভিস এসে আগুন নিয়ন্ত্রণের পরে ১৭ জনের মরদেহ শোয়া অবস্থায় উদ্ধার করে।

 

এদিকে রাত সোয়া ১টার দিকে আত্রাই উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. মনিরুজ্জামান বলেন, রাত সাড়ে ১০টার দিকে সাতজনের মৃত্যুর বিষয়টি জানা গিয়েছিল। পরে ১০ জনের মৃত্যুর বিষয়টি জানা যায়। এখনও উপজেলার বিভিন্ন গ্রামে খোঁজখবর নেওয়া হচ্ছে। তবে এই মৃত্যুর সংখ্যা আরও বাড়তে পারে।

 

নওগাঁ জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম বলেন, এখনও পর্যন্ত ১০ জনের মৃত্যুর বিষয়টি জানা গেছে। ইউএনও খোঁজ নিতে বের হয়েছেন।

 

আত্রাইয়ের ইউএনও বলেন, নিহতদের মধ্যে উপজেলার গন্ডগোহালী গ্রামের চারজন, বিষা গ্রামের দুজন এবং পারকাসুন্দা গ্রামের একজনের মৃত্যুর খবর প্রথমে পাওয়া যায়। পরে আরও মৃত্যুর খবর আসে।

 

আত্রাই উপজেলার নিহতদের প্রাথমিক ভাবে তালিকা পাওয়া যায়।

১. মো. জালাল — পিতা: মৃত তমেজ উদ্দিন — গ্রাম: পারকাসুন্দা, পাঁচুপুর ইউনিয়ন।

২. মো. সুমন হোসেন — পিতা: বাদল — গ্রাম: ডুবাই, বিশা ইউনিয়ন।

৩. মো. হাসিবুল হাসান শুভ — পিতা: চঞ্চল — গ্রাম: ডুবাই, বিশা ইউনিয়ন।

৪. মো. মোহন প্রামাণিক — পিতা: গুফফার প্রামাণিক — গ্রাম: গন্ডগোহালী, কালিকাপুর ইউনিয়ন।

৫. মো. সুমুন প্রামাণিক — পিতা: গুফফার প্রামাণিক — গ্রাম: গন্ডগোহালী, কালিকাপুর ইউনিয়ন।

৬. মো. রুবেল হোসেন — পিতা: জান্নার — গ্রাম: গন্ডগোহালী, কালিকাপুর ইউনিয়ন।

৭. মো. কলিউদ্দিন প্রামাণিক — পিতা: ফজলু — গ্রাম: গন্ডগোহালী, কালিকাপুর ইউনিয়ন।

৮. মো. সাগর হোসেন — পিতার নাম: উল্লেখ নেই — গ্রাম: সাধনগর, বিশা ইউনিয়ন।

৯. মো. ফরিদ শেখ — পিতা: ময়েন শেখ — গ্রাম: উদনপৈ, শাহগোলা ইউনিয়ন।

১০. মো. মজিদুল ইসলাম — পিতা: মজনু মিয়া — গ্রাম: মাদবপুর, বিশা ইউনিয়ন।

১১.সোহেল রানা,পিতা- অজ্ঞাত, সাং ডুবাই, বিশা ইউনিয়ন।

১২।মো.মিনহাজ, পিতা- অজ্ঞাত, সাং মধ্যেবোয়ালিয়া, পাচুপুর ইউনিয়ন।

১৩।মো. মহিদুল ইসলাম, পিতা- অজ্ঞাত,সাং খরসতী, বিশা ইউনিয়ন।

 

উপজেলাজুড়ে এমন মৃত্যুর খবরে গ্রামে গ্রামে শোকবিহ্বল হয়ে পড়েছেন সবাই। নিহতের গ্রামের বাড়িতে শোকাতুর হয়ে পড়েছেন স্বজনরা।

 

 

অপরদিকে ওই সোফা কারখানায় লাগা আগুনে নিহতদের মধ্যে নাটোরের নলডাঙ্গার খাজুরা এলাকার তিন বাসিন্দা থাকার তথ্য দিয়েছেন খাজুরা ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মো. সোহরাব হোসেন।

নিহতদের স্বজনদের বরাতে তিনি এ খবর দেন।

 

নিহতরা হলেন- খাজুরা শ্রীপুরপাড়া এলাকার গোলাম রাব্বানীর ছেলে সাব্বির হোসেন সোহাগ, দিঘীর পাড় এলাকার জাকের হোসেনের ছেলে শামীম হোসেন এবং মহিষডাঙ্গা এলাকার আসলাম আলীর ছেলে রবিউল আওয়াল হৃদয়।

ইউপি চেয়ারম্যান বলেন, “একসাথে এতগুলো প্রবাসী ভাইয়ের চিরতরে হারিয়ে যাওয়া খুবই শোকের ও বেদনার।”

 

এই দিকে ক্ষতিপূরণ দেবে বলছে মন্ত্রণালয়

 

এ দুর্ঘটনার খবর জানার পর থেকে প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয় জরিয়াদে বাংলাদেশ দূতাবাসের সঙ্গে যোগাযোগ করা শুরু করে। তাদের মাধ্যমে দুর্ঘটনাস্থল ও স্থানীয় কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সার্বক্ষণিক যোগাযোগ রাখছে।

 

নিহত প্রবাসীদের মরদেহ দ্রুত দেশে ফিরিয়ে আনার পদক্ষেপ নেওয়ার কথাও বলেছে প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়।

 

পাশাপাশি নিহতদের পরিবারকে ক্ষতিপূরণ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়ার তথ্যও দেন মন্ত্রণালয়ের জনসংযোগ কর্মকর্তা শরীফুল।

 

প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী ক্ষতিপূরণ নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের এ নির্দেশ দিয়েছেন বলে তুলে ধরেন তিনি।

 

নিহত ও আহতদের পরিবারের জন্য প্রয়োজনীয় সব ধরনের সরকারি সহায়তা দেওয়ার কথাও বলেছেন মন্ত্রী।

 

প্রবাসী বাংলাদেশি শ্রমিকের মৃত্যুতে গভীর শোক ও দুঃখ প্রকাশ করেছেন প্রবাসী কল্যাণমন্ত্রী আরিফুল হক।

 

নিহতদের আত্মার মাগফিরাত কামনা করে শোক বার্তায় তিনি বলেন, “জীবিকার তাগিদে সুদূর সৌদি আরবে কর্মরত আমাদের এই প্রবাসী ভাইদের এমন অকাল ও মর্মান্তিক মৃত্যু অত্যন্ত হৃদয়বিদারক। দেশের অর্থনীতিতে তাদের অবদান অপরিসীম। তাদের এই আকস্মিক প্রয়াণে আমি গভীর শোকাহত এবং নিহতের শোকসন্তপ্ত পরিবারের সদস্যদের প্রতি গভীর সমবেদনা প্রকাশ করছি।”

 

রিয়াদে বাংলাদেশ দূতাবাসও এ ঘটনায় গভীর শোক প্রকাশ করছে বলে জানিয়েছেন প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের জনসংযোগ কর্মকর্তা।

 

নওগাঁর জেলা প্রশাসক বলেন, সৌদি আরবে কর্মরত এই প্রবাসীদের এমন মৃত্যু অত্যন্ত হৃদয়বিদারক। দেশের অর্থনীতিতে তাদের অবদান অপরিসীম। তাদের এই আকস্মিক প্রয়াণে তিনি গভীর শোকাহত। নিহতদের শোকসন্তপ্ত পরিবারের সদস্যদের প্রতি তিনি গভীর সমবেদনা প্রকাশ করেন।

 

মোঃ সাইদুল ইসলাম হেলাল

বিশেষ প্রতিনিধিঃ

মোবাইল নং- ০১৭২৪২৫৫৭০৬

তারিখঃ ১০-৮-২০২৬

সৌদিতে সোফা কারখানার আগুনে নিহতদের মধ্যে নওগাঁ- আত্রাইয়ের ১৩ জন

সৌদিতে সোফা কারখানার আগুনে নিহতদের মধ্যে নওগাঁ- আত্রাইয়ের ১৩ জন   মোঃ সাইদুল ইসলাম হেলাল বিশেষ প্রতিনিধিঃ রিয়াদে বাংলাদেশ দূতাবাসের বরাতে প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয় রাত দেড়টায় বলেছে, ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে ঘটনাস্থলে বিস্তারিত

নীলফামারীতে জেলা পুলিশের কিট প্যারেড অনুষ্ঠিত শৃঙ্খলা, পরিচ্ছন্নতা ও পেশাদারিত্বের উপর গুরুত্বআরোপ

 

স্টাফ রিপোর্টার

মাইদুল ইসলাম

পুলিশ সদস্যের শৃঙ্খলা, পরিছছ্চ্ছন্নতা, পোশাকের সঠিক ব্যবহার ও পেশাদারিত্ব নিশ্চিত করতে নীলফামারী জেলা পুলিশের উদ্যোগে কিট প্যারেড অনুষ্ঠিত হয়েছে। রোববার (৯ আগস্ট) সকাল ৯ টায় নীলফামারী পুলিশ লাইন্সের ড্রিল শেডে অনুষ্ঠিত এ কিট প্যারেডে জেলা পুলিশের বিভিন্ন ইউনিটের অফিসার ও ফোর্স সদস্যরা অংশগ্রহণ করেন। কিড প্যারেডে অভিবাদন গ্রহণ ও পুলিশ সদস্যের কিট সামগ্রী পরিদর্শন করেন নীলফামারীর অতিরিক্ত পুলিশ সুপার

(প্রশাসক ও অর্থ) মোহসিন। এই সময় তিনি পুলিশ সদস্যদের ব্যবহৃত কিট সামগ্রীর মান, যথাযথ ব্যবহার ও পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা পর্যবেক্ষণ করেন। পরিদর্শনের ভিত্তিতে সংশ্লিষ্ট সদস্যদের জিএস মার্ক প্রদান করা হয়। এছাড়াও যেসব পুলিশ সদস্যের কিট সামগ্রী পাওনা রয়েছে, তাদের সংশ্লিষ্ট অফিস থেকে প্রয়োজনীয় কিট সামগ্রী সংগ্রহ করার নির্দেশ দেন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার। কিট পরিদর্শন শেষে পুলিশ সদস্যদের উদ্দেশ্যে দিকনির্দেশনামূলক বক্তব্যে তিনি বলেন, দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রে শৃঙ্খলা ও পেশাদারিত্ব বজায় রাখার কোন বিকল্প নেই। ড্রেস রুলস যথাযথভাবে মেনে পোশাক পরিধান, নিয়মিত পিটি-প্যারেডে অংশগ্রহণ, স্বাস্থ্য সচেতনতা,

পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখা এবং খেলাধুলার মাধ্যমে শারীরিক দক্ষতা ধরে রাখার উপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি। একই সঙ্গে জনগণের সেবায় আরও আন্তরিকতা ও পেশাদারিত্বের সঙ্গে দায়িত্ব পালনের জন্য পুলিশ সদস্যদের প্রতি আহ্বান জানান অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মোহসিন। কিট প্যারেডে সরকারি পুলিশ সুপার (প্রবিঃ) জ্যোতির্ময় ঘোষ, সহকারী পুলিশ সুপার (প্রবিঃ) মোঃ আবদুল্লাহ আল মাহমুদ খান, আরআই, পুলিশ লাইন্স নীলফামারী সহ জেলা পুলিশের বিভিন্ন পথ মর্যাদার সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।

নীলফামারীতে জেলা পুলিশের কিট প্যারেড অনুষ্ঠিত শৃঙ্খলা, পরিচ্ছন্নতা ও পেশাদারিত্বের উপর গুরুত্বআরোপ 

নীলফামারীতে জেলা পুলিশের কিট প্যারেড অনুষ্ঠিত শৃঙ্খলা, পরিচ্ছন্নতা ও পেশাদারিত্বের উপর গুরুত্বআরোপ   স্টাফ রিপোর্টার মাইদুল ইসলাম পুলিশ সদস্যের শৃঙ্খলা, পরিছছ্চ্ছন্নতা, পোশাকের সঠিক ব্যবহার ও পেশাদারিত্ব নিশ্চিত করতে নীলফামারী জেলা বিস্তারিত

ভূল্লী দারাজগাঁওয়ে বিয়ের দাবিতে এসএসসি পরীক্ষার্থী সুমাইয়ার অনশন

 

মোঃ আশরাফুল ইসলাম

ঠাকুরগাঁও প্রতিনিধি:

 

ঠাকুরগাঁওয়ে ভূল্লী উপজেলার দেবীপুর ইউনিয়নে দারাজগাঁও খাঁনবাড়ী গ্রামে সাকিব নামে এক যুবকের বাড়ীতে বিয়ের দাবিতে সুমাইয়া নামে এক এসএসসি পরীক্ষার্থী অনশন করতেছে।

রবিবার দুপুর থেকে প্রেমিক সাকিবের বাড়ীতে বিয়ের দাবিতে অনশন করেন সুমাইয়া।

প্রেমিক সাকিব দেবীপুর ইউনিয়নের দারাজগাঁও খাঁনবাড়ী এলাকার বাসিন্দা ধুকরু মোহাম্মদ এর ছেলে।

জানা যায়, বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে প্রেমিকা সুমাইয়ার সাথে দীর্ঘদিন থেকে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে তোলেন সাকিব।

এই সুযোগে প্রেমিকা সুমাইয়াকে নিয়ে বিভিন্ন জায়গায় ঘুরতে নিয়ে যাইতো সাকিব।

হঠাৎ করে যোগাযোগ বন্ধ করে দিলে আজ তার বাড়ীতে বিয়ের দাবিতে অনশন করেন সুমাইয়া।

এ সময় তাকে মারধর করে বাড়ী থেকে বের করে দেওয়ার চেষ্টা করেন সাকিবের পরিবারের সদস্যরা।

ভূল্লী দারাজগাঁওয়ে বিয়ের দাবিতে এসএসসি পরীক্ষার্থী সুমাইয়ার অনশন

ভূল্লী দারাজগাঁওয়ে বিয়ের দাবিতে এসএসসি পরীক্ষার্থী সুমাইয়ার অনশন   মোঃ আশরাফুল ইসলাম ঠাকুরগাঁও প্রতিনিধি:   ঠাকুরগাঁওয়ে ভূল্লী উপজেলার দেবীপুর ইউনিয়নে দারাজগাঁও খাঁনবাড়ী গ্রামে সাকিব নামে এক যুবকের বাড়ীতে বিয়ের দাবিতে বিস্তারিত

কক্সবাজারের চকরিয়ায় বাস ও যাত্রীবাহী লেগুনা গাড়ির মুখোমুখি সংঘর্ষে চারজন নিহত হয়েছেন। এতে গুরুতর আহত হয়েছেন আরও অন্তত পাঁচজন।

 

বৃহস্পতিবার (১৩ আগস্ট) সকাল সাড়ে ৬টার দিকে চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়কের খুটাখালী নয়াপাড়া বায়তুল মামুর জামে মসজিদ এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।

 

হাইওয়ে পুলিশ সূত্রে জানা যায়, ঈদগাঁও থেকে ছেড়ে আসা চকরিয়াগামী একটি নম্বরবিহীন যাত্রীবাহী লেগুনা গাড়ি মহাসড়কের খুটাখালী নয়াপাড়া এলাকায় পৌঁছালে বিপরীত দিক থেকে আসা লাল-সবুজ পরিবহনের একটি যাত্রীবাহী এসি বাস গাড়িটিকে মুখোমুখি ধাক্কা দেয়। এতে লেগুনা গাড়িটির ছাদ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায় এবং দুমড়ে-মুচড়ে মহাসড়কের ওপর ছিটকে পড়ে।দুর্ঘটনার পর স্থানীয়রা উদ্ধারকাজে এগিয়ে আসেন। আহতদের উদ্ধার করে কক্সবাজার সদর হাসপাতাল ও মালুমঘাট খ্রিষ্টান মেমোরিয়াল হাসপাতালে ভর্তি করান। পরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় হাসপাতালে চার যাত্রীর মৃত্যু হয়।নিহতরা হলেন- চকরিয়া উপজেলার খুটাখালী সেগুন বাগিচা এলাকার মৃত মতিউর রহমানের ছেলে মো. জসিম উদ্দিন (২৫), ঈদগাঁও উপজেলার পশ্চিম গজারীয়া এলাকার মৃত আবুল কাশেমের ছেলে মো. রফিক (২৮), চকরিয়ার ফুলছড়ি শিয়ালপাড়া এলাকার মৃত মঞ্জুর আলমের ছেলে মো. শাহেদ (২৭) এবং ঈদগাঁও উপজেলার খুটাখালী নতুন অফিস এলাকার আমিনুল হকের ছেলে মো. জিয়াবুল হক (২৫)।

 

এদের মধ্যে জসিম উদ্দিন মালুমঘাট খ্রিস্টান মেমোরিয়াল হাসপাতালে এবং অপর তিনজন কক্সবাজার সদর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান।

 

এদিকে দুর্ঘটনায় গুরুতর আহত পাঁচজন বর্তমানে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। মালুমঘাট খ্রিষ্টান মেমোরিয়াল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আছেন- জিয়াবুল হক (৪০), মো. সরওয়ার (১৯), সৈয়দ আলম (৫০) ও মো. দেলোয়ার হোসেন (৩৫)। এছাড়া সৈয়দ করিম (৩০) নামে আহত আরেক যাত্রী কক্সবাজার সদর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

 

মালুমঘাট হাইওয়ে পুলিশের উপ-পরিদর্শক (এসআই) মো. শামসুজ্জামান বলেন, দুর্ঘটনার পরপরই দুর্ঘটনাকবলিত গাড়ি দুটি সড়ক থেকে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে এবং মহাসড়কে যানবাহন চলাচল স্বাভাবিক রয়েছে। এ বিষয়ে আইনি ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন।

চকরিয়ায় বাস-লেগুনা সংঘর্ষে প্রাণ গেল ৪ জনের, আহত ৫

শ্যামনগরে ভুল করে গ্যাস ট্যাবলেট খেয়ে কিশোরীর মৃত্যু, বিয়ের ১ দিন আগেই শোকের ছায়া।

সংবাদদাতা: জিয়াউর রহমান জিয়া,

শ্যামনগর উপজেলা প্রতিনিধি,

 

 

*শ্যামনগর, সাতক্ষীরা প্রতিনিধি*

*তারিখ: ১২/০৮/২০২৬*

 

সাতক্ষীরার শ্যামনগর উপজেলার কাশিমাড়ী ইউনিয়নের জয়নগর গ্রামে ভুল করে ইঁদুর মারার গ্যাস ট্যাবলেট খেয়ে *সোহানা পারভীন (১৭)* নামে এক কিশোরীর মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে।

 

আগামীকাল বৃহস্পতিবার পারিবারিকভাবে তার বিয়ের কথা ছিল। বিয়ের আনন্দের আগেই এমন ঘটনায় পুরো এলাকায় নেমে এসেছে শোকের ছায়া।

 

পারিবারিক ও থানা সূত্রে জানা গেছে, গত বুধবার রাত সাড়ে ১২টার দিকে নিজ বাড়িতে ভুলক্রমে ইঁদুর মারার জন্য ব্যবহৃত গ্যাস ট্যাবলেট খেয়ে গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েন সোহানা। পরে পরিবারের সদস্যরা দ্রুত তাকে উদ্ধার করে শ্যামনগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়ার চেষ্টা করেন। তবে হাসপাতালে নেওয়ার পথেই তার মৃত্যু হয়।

 

নিহত সোহানা পারভীন জয়নগর গ্রামের আব্দুল মান্নানের মেয়ে।

 

এ বিষয়ে শ্যামনগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. শাফিউল ইসলাম পাটোয়ারী ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, পরিবারের পক্ষ থেকে কোনো অভিযোগ না থাকায় মরদেহ পারিবারিকভাবে দাফন করা হয়েছে।

 

একটি অনাকাঙ্ক্ষিত ভুলে একটি সম্ভাবনাময় জীবন অকালে ঝরে যাওয়ায় এলাকাবাসীর মাঝে গভীর শোক ও দুঃখের সৃষ্টি হয়েছে।

 

ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন।

বিয়ের ১ দিন আগেই শোকের ছায়া ,ভুল করে গ্যাস ট্যাবলেট খেয়ে কিশোরীর মৃত্যু

গাইবান্ধায় দৈনিক করতোয়া’র ৫১তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী পালিত

 

শাহ্ পারভেজ সংগ্রাম,গাইবান্ধা প্রতিনিধি

উৎসবমুখর পরিবেশে ও নানাবিধ আয়োজনের মধ্য দিয়ে গাইবান্ধায় দেশের ঐতিহ্যবাহী পত্রিকা ‘দৈনিক করতোয়া’-এর ৫১তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী পালিত হয়েছে। গাইবান্ধা প্রেসক্লাব (মূলধারা) ও দৈনিক করতোয়া জেলা কার্যালয়ের যৌথ উদ্যোগে এসব কর্মসূচির আয়োজন করা হয়।

প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে আলোচনা সভা, কেক কাটা ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়। বুধবার বিকেল ৫টায় শহরের হযরত শাহবাঙ্গাল কওমী মাদ্রাসা ও এতিমখানা প্রাঙ্গণে এই আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়।

দৈনিক করতোয়ার গাইবান্ধা প্রতিনিধি ও গাইবান্ধা প্রেসক্লাব (মূলধারা)-এর সভাপতি সৈয়দ নুরুল আলম জাহাঙ্গীরের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত আলোচনা সভায় বক্তব্য রাখেন গাইবান্ধা প্রেসক্লাব (মূলধারা)-এর সাধারণ সম্পাদক আবেদুর রহমান স্বপন, সহ-সভাপতি শাহাবুল শাহীন তোতা, সহ-সভাপতি হারুনুর রশিদ বাদল, কোষাধ্যক্ষ ফজলে রাব্বি মন্ডল, সাংগঠনিক সম্পাদক আতিক বাবু, ক্রীড়া সম্পাদক সাইফুল ইসলাম প্রিন্স এবং দপ্তর সম্পাদক ফারহান শেখ।

এছাড়াও অন্যান্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন ও উপস্থিত ছিলেন নির্বাহী সদস্য আবুল কাসেম, মো. তৌহিদুর রহমান, মো. মিজানুর রহমান, এস. এম. শাকির হায়দার, নিয়াম শেখ, মো. ইউসুফ আলী, অ্যাডভোকেট কাশেম ইয়াসবীর, তাজরুল ইসলামসহ স্থানীয় সাংবাদিক ও গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ।

 

আলোচনা সভা শেষে জন্মদিনের কেক কাটা হয়। পরবর্তীতে দৈনিক করতোয়ার সার্বিক সমৃদ্ধি এবং পত্রিকাটির সম্পাদক মোজাম্মেল হক লালুর দীর্ঘায়ু ও সুস্থতা কামনা করে বিশেষ মোনাজাত পরিচালনা করেন জেলা কালেক্টরেট মসজিদের পেশ ইমাম মুফতি যোবায়ের আহমেদ। মোনাজাতে শাহবাঙ্গাল কওমী মাদ্রাসার শিক্ষার্থীরা অংশ নেয়।

গাইবান্ধায় দৈনিক করতোয়া’র ৫১তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী পালিত

দীর্ঘ ৩২ বছর আগে বাংলাদেশ থেকে পাচারের শিকার হয়ে নিখোঁজ হন বরগুনার মেয়ে আছিয়া। ওই সময়ে তার বয়স ছিল মাত্র ১৬ বছর। ঘটনার পর পরিবারের সদস্যরা দেশের বিভিন্ন জায়গায় খোঁজ করলেও কোথাও তার সন্ধান মেলেনি। তবে সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে দেওয়া এক পোস্টের মাধ্যমে পাকিস্তানে সন্ধান মিলেছে আছিয়ার।

 

বর্তমানে ৭ সন্তানের জননী আছিয়া বাংলাদেশে ফিরতে চান ৯৫ বছর বয়সি বাবার কাছে। অপরদিকে হারিয়ে যাওয়া মেয়েকে মৃত্যুর আগে কাছে পেতে ব্যাকুল হয়ে আছেন বৃদ্ধ বাবা তমিজ উদ্দিন।

 

আছিয়ার পরিবার সূত্রে জানা যায়, জীবিকার তাগিদে তমিজ উদ্দিন পরিবারের সদস্যদের নিয়ে ১৯৯০ সালের দিকে বরগুনা ছেড়ে ঢাকা চলে যান। সেখানে গিয়ে মিরপুর ২ নম্বরের বড়বাগ নামক এলাকার একটি বাড়িতে বসবাস শুরু করেন তারা। ওই সময় তমিজ উদ্দিন ঢাকায় দিনমজুরির কাজ করে সংসার পরিচালনা করতেন। পরবর্তীতে ১৯৯৪ সালের কোনো একদিন বিকেলে ঘর থেকে বের হয়ে মেয়ে আছিয়া নিখোঁজ হন। পরে পরিবারের সদস্যরা বিভিন্ন জায়গায় খোঁজাখুঁজি করলেও আছিয়ার আর কোনো সন্ধান পাওয়া যায়নি।

 

নিখোঁজ মেয়ে আছিয়ার কোনো সন্ধান না পেয়ে স্ত্রীসহ বাকি ৬ সন্তানদের নিয়ে আবারও বরগুনায় ফিরে আসেন তমিজ উদ্দিন। হারানো মেয়ের শোক নিয়েই তিনি পাঁচ মেয়েকে বিয়ে দিয়েছেন। ছেলেও বিয়ে করে সংসার শুরু করেছেন। এছাড়া গত তিন বছর আগে আছিয়াকে হারানোর শোক নিয়ে মারা যান মা রাহেলা। তবে দীর্ঘ ৩২ বছর পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে দেওয়া এক পোস্টের মাধ্যমে পাকিস্তানে সন্ধান মিলেছে নিখোঁজ মেয়ে আছিয়ার।

 

সন্ধান মেলার পর থেকেই মেয়ের সঙ্গে প্রতিদিন মোবাইল ফোনে কথা হয় বাবা তমিজ উদ্দিনের। তবে দীর্ঘ বছর পর মোবাইল ফোনে মেয়ের মুখ দেখাসহ কণ্ঠ শুনতে পলেও মেয়েকে কাছে পেতে হাউমাউ করে কেঁদে ওঠেন তিনি। পাকিস্তান থেকে আছিয়াও এখন ফিরতে চান বাবার কাছে।

 

হারিয়ে যাওয়ার বিষয়ে জানতে মোবাইল ফোনের মাধ্যমে ভিডিও কলে কথা হয় পাকিস্তান থাকা আছিয়ার সঙ্গে। তিনি গণমাধ্যমে জানান, একটি চক্র তাকে ঢাকার সদরঘাট এলাকা থেকে প্রলোভন দেখিয়ে প্রথমে ভারতে নিয়ে যায়। পরে সেখানে কিছুদিন রেখে পাকিস্তানের মোজাফফর নগরে পাঠানো হয়। এরপর সেখানে ৪০ হাজার রুপির বিনিময়ে একজনের কাছে বিক্রি করে দেওয়া হয়। পরবর্তীতে পাকিস্তানের এক নাগরিকের সঙ্গে বিয়ে হয় আছিয়ার। বর্তমানে সেখানে তার ৬ মেয়ে ও ১ ছেলে সন্তান রয়েছে। তবে এক বছর আগে স্বামীর মৃত্যুর পর স্বজনদের কথা মনে পড়লে তিনি নিজের পরিচয় এবং বাংলাদেশে থাকা বাবার নাম ও ঠিকানা জানিয়ে ফেসবুকে একটি পোস্ট করেন। পরে ওই পোস্টটি খোঁজ নামের একটি ফেসবুক পেজে শেয়ার করলে প্রথমে স্থানীয় রিয়াজ উদ্দিন খান নামে একজনের নজরে আসলে সন্ধান মেলে আছিয়ার বাবা ও স্বজনদের। এর পর ২০ জুলাই থেকেই বাবার সঙ্গে নিয়মিত কথা শুরু হয় পাচারের শিকার হয়ে নিখোঁজ থাকা আছিয়ার।

 

আছিয়া আরও বলেন, পরিবারের সন্ধান পাওয়ার পর এখন তিনি দেশে ফিরতে চান। আর সবার সহযোগিতা বিশেষ করে সরকারি সহযোগিতা পেলে দ্রুতই দেশে ফিরতে পারবেন বলেও জানান আছিয়া।

 

এ বিষয়ে আছিয়ার ভাই মোস্তফা গণমাধ্যমে বলেন, আমার বোনের বয়স যখন ১৬-১৭ বছর তখন বাড়ি থেকে বের হয়ে নিখোঁজ হয়। আমরা বিভিন্ন জায়গায় খোঁজাখুঁজি করেও তাকে পাইনি। না পেয়ে এক সময় ধরেই নিয়েছিলাম, সে হয়তো আর বেঁচে নেই। কিন্তু এখন পাকিস্তানে বোনের খোঁজ মিলেছে। বোনকে ফেরত পেতে আমাদের সরকারের সহযোগিতা প্রয়োজন।

 

দীর্ঘ ৩২ বছর পর হারিয়ে যাওয়া মেয়েকে খুঁজে পেয়ে বৃদ্ধ বাবা তমিজ উদ্দিন বলেন, হারিয়ে যাওয়ার পর আছিয়াকে কোথাও খুঁজে পাইনি। ৩২ বছর পর মোবাইল মেয়েকে দেখতে পেয়েছি। মৃত্যু আগে একবার হলেও মেয়েকে কাছে পেতে চাই। সরকারের কাছে আবেদন জানাই যাতে আছিয়াকে ফিরিয়ে আনার ব্যবস্থা করা হয়।

 

এ বিষয়ে বরগুনার জেলা প্রশাসক তাছলিমা গণমাধ্যমকে বলেন, আছিয়ার ফিরে আসার জন্য দুটি প্রক্রিয়া রয়েছে। এর মধ্যে তার যদি বাংলাদেশে জন্ম নিবন্ধন অথবা নাগরিকত্ব সনদ থাকে তা নিয়ে পাকিস্তানের হাইকমিশনে গিয়ে প্রমাণ করতে পারলে একটি ট্রাভেল পাস পেতে পারেন। তবে যেহেতু ৩২ বছর ধরে পাকিস্তানে রয়েছেন তার যদি জন্ম নিবন্ধন অথবা নাগরিকত্ব সনদ না থাকে, সেক্ষেত্রে বাংলাদেশে থাকা স্বজনরা জেলা প্রশাসককে মাধ্যম করে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বরাবর একটি আবেদন করতে পারেন। সে অনুযায়ী পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বিদ্যমান যে নীতি রয়েছে, সে অনুযায়ী পরবর্তী পদক্ষেপ গ্রহণ করবেন।

৩২ বছর আগে ঢাকায় হারিয়ে যাওয়া মেয়ের সন্ধান মিলল পাকিস্তানে

দলের চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সবুজ সংকেত পাওয়ার পর আজ বৃহস্পতিবার (১৩ আগস্ট) রাষ্ট্রপতি পদপ্রার্থী হিসেবে মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের নাম ঘোষণা করতে যাচ্ছে বিএনপি। দলটির নির্ভরযোগ্য সূত্রে এমনটি জানা গেছে।

 

দলটির নির্ভরযোগ্য একটি সূত্র গণমাধ্যমকে জানায়, গত ১০ দিনে বিএনপির নীতি-নির্ধারণী পর্যায়ের নেতাদের সঙ্গে কয়েক দফা আলাপ-আলোচনা ও মতবিনিময় শেষে এলজিআরডি মন্ত্রী ফখরুলকেই রাষ্ট্রপতি পদের জন্য দলের চূড়ান্ত প্রার্থী হিসেবে বেছে নিয়েছেন তারেক রহমান।

 

এই সিদ্ধান্ত আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণার আগে সচিবালয়ে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্যদের সঙ্গে বৈঠকে বসবেন দলের চেয়ারম্যান।

 

দলীয় একটি সূত্র জানিয়েছে, ওই বৈঠকেই তারেক রহমান প্রার্থীর নাম প্রকাশ করতে পারেন। এ ছাড়া রাষ্ট্রপতি প্রার্থীর নাম প্রস্তাব ও সমর্থন করার জন্য উপযুক্ত ব্যক্তি নির্বাচনের বিষয়ে তিনি সিনিয়র নেতাদের সঙ্গে পরামর্শ করবেন।

 

এ বিষয়ে স্থায়ী কমিটির এক সদস্য গণমাধ্যমে বলেন, ‘বৈঠকে সম্ভাব্য প্রার্থীর স্বাক্ষর নেওয়া হবে। এরপর প্রস্তাবক ও সমর্থকের স্বাক্ষরসহ মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার জন্য নির্বাচন কমিশনে একটি প্রতিনিধিদল পাঠানো হবে।’

 

সূত্র জানায়, ৭৮ বছর বয়সী ফখরুল এই বৈঠকেই তার মন্ত্রিত্বের পদ ছাড়তে পারেন, এমনটি ধারণা করা হচ্ছে।

 

এরপর বিএনপি নেতারা নির্বাচন কমিশনে যাবেন। সেখানে দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে ফখরুলের মনোনয়নপত্র জমা দেওয়া হতে পারে এবং এরপরই আনুষ্ঠানিকভাবে তার প্রার্থিতা ঘোষণা করা হবে।

 

বিএনপির চিফ হুইপ ও দলের ভাইস চেয়ারম্যান নুরুল ইসলাম মনি গণমাধ্যমে জানান, জামায়াতে ইসলামী তাদের মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার পর বিএনপি তাদের মনোনয়নপত্র জমা দেবে।

 

তিনি আরও বলেন, ‘মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার পর রাষ্ট্রপতি প্রার্থীর নাম জনসমক্ষে ঘোষণা করা হবে।’

 

তফসিল অনুযায়ী, আজ সকাল ১০টা থেকে বিকেল ৪টার মধ্যে মনোনয়নপত্র জমা দেওয়া যাবে।

 

গত ১ আগস্টের এক বৈঠকে বিএনপির স্থায়ী কমিটি দলের রাষ্ট্রপতি প্রার্থী নির্বাচনের জন্য তারেক রহমানকে পূর্ণ ক্ষমতা দেয়। ৯ আগস্ট হুইপ মনি এবং বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী নির্বাচন কমিশন (ইসি) থেকে মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করেন। এর পরের দিন রাষ্ট্রপতি পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে এলডিপির চেয়ারম্যান অলি আহমদের জন্য মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করে জামায়াত-নেতৃত্বাধীন ১১-দলীয় ঐক্য।

 

আগামী ২০ আগস্ট দুপুর ২টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত সংসদীয় অধিবেশনে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে। সংসদ সদস্যরা প্রকাশ্য ব্যালটের মাধ্যমে তাদের ভোট দেবেন।

 

২৪ জুলাই মোহাম্মদ শাহাবুদ্দিন পদত্যাগ করার পর রাষ্ট্রপতির পদটি শূন্য হয়। তখন থেকে স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালন করছেন।

 

এলজিআরডি মন্ত্রী ছাড়াও ফখরুল বর্তমানে একজন সংসদ সদস্য এবং বিএনপির মহাসচিবের পদে রয়েছেন। তিনি যদি রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হন, তবে তাকে এই তিনটি পদই ছেড়ে দিতে হবে। সেক্ষেত্রে বিএনপি নেতৃত্বাধীন সরকার ও দলকে তার স্থলাভিষিক্ত বা বিকল্প ব্যক্তি নির্বাচন করতে হবে।

রাষ্ট্রপতি পদে বিএনপির প্রার্থী মির্জা ফখরুলের নাম ঘোষণা আজ

দশকের পর দশক হাজারো শিক্ষার্থীকে লেখাপড়া শিখিয়ে মানুষ করার পর একজন শিক্ষক অবসরে যান। জীবনের শেষ সময় একটু ভালোভাবে কাটানোর জন্য নিজের সঞ্চিত অবসরের টাকা ভরসা তাদের। কিন্তু এ টাকা সময়মতো ফেরত না পাওয়ায় চরম ভোগান্তিতে পড়তে হয়েছিল তাদের। অবশেষে সেই ভোগান্তি কমানোর উদ্যোগ নিয়েছে বিএনপি সরকার। উদ্যোগের অংশ হিসেবে প্রাথমিকভাবে ১ লাখ ১৯ হাজার শিক্ষক-কর্মচারীকে অবসর ও কল্যাণ ট্রাস্টের অর্থ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল। তবে এ সংখ্যা আরও বৃদ্ধি পেয়ে হয়েছে ১ লাখ ২৩ হাজার।

 

বুধবার (১২ আগস্ট) শিক্ষা মন্ত্রণালয় এবং মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরের (মাউশি) দুটি সূত্র দ্য ডেইলি ক্যাম্পাসকে এ তথ্য নিশ্চিত করেছে।

 

এর আগে গত ৬ আগস্ট প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের নানা বিষয় নিয়ে অনুষ্ঠিত বৈঠকে ১ লাখ ১৯ হাজার শিক্ষক-কর্মচারীকে অবসর ও কল্যাণ ট্রাস্টের অর্থ দিতে সম্মতি দেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। সভায় শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন, প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা বিষয়ক উপদেষ্টা ড. মাহদী আমিন এবং শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের সচিব আবদুল খালেক উপস্থিত ছিলেন।

 

শিক্ষা মন্ত্রণালয় সূত্র জানিয়েছে, ১ লাখ ২৩ হাজার শিক্ষক-কর্মচারীকে অবসর ও কল্যাণ ট্রাস্টের অর্থ দেওয়া হবে। অবসর সুবিধা বোর্ডের অর্থ পাবেন ৭০ হাজার ১১৯ জন শিক্ষক-কর্মচারী। আর কল্যাণ ট্রাস্টের অর্থ পাবেন ৫৩ হাজার ৪৭৭ জন আবেদনকারী। আগামী শনিবার (১৫ আগস্ট) অর্থ বিতরণের কার্যক্রম উদ্বোধন করবেন প্রধামন্ত্রী তারেক রহমান।

 

নাম অপ্রকাশিত রাখার শর্তে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের এক কর্মকর্তা দ্য ডেইলি ক্যাম্পাসকে বলেন, ‘আবেদনকারীর সংখ্যা বৃদ্ধি পেয়েছে। এজন্য মোট সংখ্যাও বৃদ্ধি পেয়েছে। অবসর সুবিধার প্রায় সাড়ে ৪ লাখ টাকা করে পাবেন শিক্ষক-কর্মচারীরা। আর কল্যাণ ট্রাস্টের ২ লাখ ৩৯ হাজার টাকা পাবেন।

 

জানা গেছে, শিক্ষকদের চাঁদা, ব্যাংকে জমা থাকা টাকার সুদ এবং মাঝেমধ্যে সরকারের দেওয়া থোক বরাদ্দ ও বন্ড সুবিধার ভিত্তিতে এই টাকা দেওয়া হয়। অবসরসুবিধার জন্য চাকরিকালীন শিক্ষক-কর্মচারীদের মূল বেতনের ৬ শতাংশ প্রতি মাসে কেটে রাখা হয়। কল্যাণসুবিধার জন্য কাটা হয় আরও ৪ শতাংশ। ২০১৯ সাল পর্যন্ত এই হারে চাঁদা নেওয়া হয়েছে। এর আগে অবসরসুবিধার জন্য ৪ শতাংশ এবং কল্যাণসুবিধার জন্য ২ শতাংশ হারে চাঁদা নেওয়া হতো।

 

এ ছাড়া প্রত্যেক শিক্ষার্থীর কাছ থেকে বছরে ১০০ টাকা নেওয়া হয়। এর মধ্যে ৭০ টাকা অবসরসুবিধা ও ৩০ টাকা কল্যাণসুবিধা তহবিলে জমা হয়। বাকি অর্থ সরকার এবং জমা করা অর্থের সুদ থেকে সমন্বয় করা হয়।

 

সূত্রমতে, সর্বোচ্চ গ্রেডে অর্থাৎ অধ্যক্ষদের ক্ষেত্রে অবসরসুবিধা হিসেবে মোট প্রায় ৩৮ লাখ টাকা পাওয়া যায়। এর মধ্যে চাঁদার পরিমাণ প্রায় সাড়ে ৪ লাখ টাকা। কল্যাণসুবিধা হিসেবে একজন অধ্যক্ষ মোট ২০ লাখের বেশি টাকা পান। অন্যদিকে মাধ্যমিকের একজন সহকারী শিক্ষক অবসরসুবিধা হিসেবে পান প্রায় ১৭ লাখ টাকা। এর মধ্যে চাঁদার পরিমাণ প্রায় ২ লাখ টাকা। আর একজন সহকারী শিক্ষক কল্যাণসুবিধা হিসেবে মোট প্রায় পৌনে ৭ লাখ টাকা পান। এর মধ্যে চাঁদার পরিমাণ প্রায় ৭৭ হাজার টাকা। কর্মচারীদের ক্ষেত্রে এই টাকা আরও কম।

 

শিক্ষা মন্ত্রণালয় ও সংশ্লিষ্ট দুই প্রতিষ্ঠানের সূত্র জানিয়েছে, মূলত এখন দুই প্রতিষ্ঠানে যে টাকা জমা আছে, তা দিয়েই এই আংশিক সুবিধা দেওয়া হচ্ছে।

 

অবসর ও কল্যাণ ট্রাস্টের টাকা পেতে যাওয়া শিক্ষক-কর্মচারীর সংখ্যা বাড়ল

জ্বালানি তেল আমদানি ও বিপণনে বিশ্বের বেশ কয়েকটি বড় এবং অর্থনৈতিকভাবে শক্তিশালী দেশ সরকারের পাশাপাশি বেসরকারি খাতের সহায়তা নিচ্ছে। এশিয়ায় চীন, ভারত, সিঙ্গাপুর ও দক্ষিণ কোরিয়া এ তালিকায় রয়েছে।

 

জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত, নিরবচ্ছিন্ন সরবরাহ বজায় রাখা এবং স্বচ্ছ ও প্রতিযোগিতামূলক ব্যবস্থা গড়ে তুলতে এসব দেশে বেসরকারিভাবে জ্বালানি তেল আমদানি ও বিপণন কার্যক্রম বহু আগে থেকেই সফলভাবে পরিচালিত হচ্ছে। নিজেদের চাহিদা মেটানোর পাশাপাশি দেশগুলো আমদানীকৃত উদ্বৃত্ত জ্বালানি আন্তর্জাতিক বাজারেও রপ্তানি করছে। এ দেশগুলোর বেসরকারি উদ্যোক্তারা অপরিশোধিত তেল আমদানি করে তা রাষ্ট্রায়ত্ত বা বেসরকারি পরিশোধনাগারে পরিশোধন করছে। পরে তা স্থানীয়ভাবে বিদ্যুৎকেন্দ্র, জ্বালানি স্টেশন, শিল্পকারখানায় বিক্রি করছে।

 

এ ক্ষেত্রে স্থানীয় বাজারের পরিস্থিতি, পরিচালন ব্যয় এবং প্রতিযোগিতামূলক অবস্থানের ওপর ভিত্তি করে খুচরা জ্বালানির দাম সমন্বয় করা হচ্ছে। দেশের বাইরে আঞ্চলিক বাজারেও তারা এ জ্বালানি বিক্রি করছে। সম্প্রতি বাংলাদেশেও জ্বালানি তেল আমদানি ও বিপণনে বেসরকারি খাতকে সংযুক্ত করার বিষয়টি সরকার বেশ গুরুত্ব দিচ্ছে। বর্তমানে এ-সংক্রান্ত একটি নীতিমালার খসড়া প্রণয়নের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

 

ভারতজুড়ে জ্বালানি তেল বিক্রি করছে রিলায়েন্স : ভারতের বেসরকারি কোম্পানি রিলায়েন্স ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেড চুক্তির মাধ্যমে অপরিশোধিত তেল আমদানি করে। গুজরাটের বিশাল জামনগর রিফাইনারি কমপ্লেক্সে তা পরিশোধন করা হয়। এই পরিশোধনাগারে উৎপাদন হয় পেট্রোল ও ডিজেল। রিলায়েন্স তাদের নিজস্ব খুচরা জ্বালানি স্টেশনের নেটওয়ার্ক ও শিল্প গ্রাহকদের কাছে ভারতজুড়ে এ জ্বালানি বিক্রি করে। মূলত মধ্যপ্রাচ্য, আফ্রিকা, আমেরিকা এবং রাশিয়ার জাতীয় তেল কোম্পানি ও ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে ভারতের এ বেসরকারি কোম্পানিটি দীর্ঘমেয়াদি চুক্তি এবং স্পট ক্রয়ের মাধ্যমে অপরিশোধিত তেল সংগ্রহ করে।

 

রিলায়েন্স বিশাল আকারের তেলবাহী জাহাজের মাধ্যমে সমুদ্রপথে ভারতের জামনগরের নিকটবর্তী বন্দরগুলোতে অপরিশোধিত তেল পরিবহন করে। সুপার ট্যাংকারগুলো উপকূলের অদূরে স্থাপিত ‘সিঙ্গেল-পয়েন্ট মুরিং (এসপিএম)-এর মাধ্যমে বিশাল সব স্টোরেজ ট্যাংকে অপরিশোধিত তেল খালাস করে। এরপর অপরিশোধিত তেল জামনগর রিফাইনারিতে পাঠানো হয়, যা বিশ্বের অন্যতম বৃহত্তম ও জটিল তেল শোধন কেন্দ্র। এ রিফাইনারি অপরিশোধিত তেলকে ব্যবহারযোগ্য জ্বালানি যেমন-পেট্রোল, ডিজেল, জেট ফুয়েল এবং পেট্রোকেমিক্যাল ফিডস্টকে রূপান্তর করে।

 

বিশ্বব্যাপী সরকারকে সহায়তা করছে বেসরকারি খাত

পরিবেশবান্ধব নির্মাণের ব্যতিক্রমী উদাহরণ হিসেবে দৃষ্টিনন্দন মাদারগঞ্জের মসজিদ।

 

মোঃ আশরাফুল ইসলাম

ঠাকুরগাঁও প্রতিনিধি:

 

আজানের ধ্বনিতে প্রতিদিন মুখর হয়ে ওঠে মাদারগঞ্জ জামে মসজিদ। পাঁচ ওয়াক্ত নামাজে এখানে সমবেত হন শতাধিক মুসল্লি। তাঁদের কাছে এটি ইবাদতের স্থান, এলাকার মানুষের কাছে ধর্মীয় ও সামাজিক মিলনকেন্দ্র। তবে এর আরেকটি পরিচয়ও আছে এটি পরিবেশবান্ধব নির্মাণের একটি দৃশ্যমান উদাহরণ।

 

জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে যখন তাপমাত্রার ঊর্ধ্বগতি, অনিয়মিত বৃষ্টিপাত ও ঋতুচক্রের পরিবর্তন প্রকৃতির স্বাভাবিক ছন্দকে বদলে দিচ্ছে, তখন নির্মাণ খাতেও পরিবেশের ওপর চাপ কমানোর বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে।

 

এমন বাস্তবতায় প্রচলিত পোড়া ইটের বিকল্প হিসেবে পরিবেশবান্ধব নির্মাণসামগ্রীর ব্যবহারকে সামনে রেখে ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলার মাদারগঞ্জ গ্রামে মসজিদ নির্মাণ করেছে ইকো-সোশ্যাল ডেভলপমেন্ট অর্গানাইজেশন (ইএসডিও)।

 

ইএসডিওর নিজস্ব অর্থায়নে ১৬ লাখ টাকা ব্যয়ে নির্মিত ১ হাজার ৯০০ বর্গফুট আয়তনের মাদারগঞ্জ জামে মসজিদে প্রচলিত পোড়া ইটের পরিবর্তে ব্যবহার করা হয়েছে পরিবেশবান্ধব হলো ব্লক। পুরো স্থাপনা নির্মাণে ব্যবহার হয়েছে প্রায় ২ হাজার ৬০০টি হলো ব্লক।

 

আকারের হিসাবে একটি হলো ব্লক প্রায় চারটি প্রচলিত পোড়া ইটের সমপরিমাণ। সেই হিসাবে মসজিদটিতে ব্যবহৃত ২ হাজার ৬০০টি হলো ব্লক প্রায় ১০ হাজার ৪০০টি পোড়া ইটের সমপরিমাণ নির্মাণকাজের ব্যবহার করা হয়েছে। প্রতিদিন নামাজ পড়তে আসা মুসল্লিদের পাশাপাশি আশপাশের মানুষও মসজিদটির নির্মাণকাজে ব্যবহৃত হলো ব্লক সম্পর্কে জানতে পারছেন। ফলে ধর্মীয় প্রয়োজন পূরণের পাশাপাশি মসজিদটি স্থানীয় মানুষের সামনে পরিবেশবান্ধব নির্মাণসামগ্রীর ব্যবহার ও সম্ভাবনাকে তুলে ধরছে।

 

নামাজ আদায় করতে আসা আব্দুল লতিফ, মুনসুর আলী, মোকলেসুর ও দুলালসহ স্থানীয় কয়েকজন মুসল্লি জানান,,মাদারগঞ্জ জামে মসজিদটি নির্মাণের ফলে আমাদের দীর্ঘদিনের একটি প্রত্যাশা পূরণ হয়েছে। আগে এলাকার মানুষকে নামাজ আদায়ের জন্য নানা ধরনের অসুবিধার মধ্যে পড়তে হতো। এখন একটি সুন্দর, পরিপাটি ও স্থায়ী মসজিদে আমরা নিয়মিত পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ আদায় করতে পারছি। প্রতিদিন শতাধিক মানুষ এখানে নামাজ পড়তে আসেন। শুধু নামাজ আদায় নয়, মসজিদটি আমাদের এলাকার মানুষের মধ্যে পারস্পরিক যোগাযোগ ও সামাজিক বন্ধনও আরও দৃঢ় করেছে।

 

তাঁরা আরও বলেন, মসজিদটি নির্মাণে পরিবেশবান্ধব হলো ব্লক ব্যবহার করা হয়েছে এ বিষয়টি আমাদের কাছে নতুন ও আনন্দের। আমরা আগে এ ধরনের নির্মাণসামগ্রী সম্পর্কে তেমন কিছু জানতাম না। এখন মসজিদের দেয়াল ও নির্মাণকাজ দেখে বুঝতে পারছি, প্রচলিত পোড়া ইটের পাশাপাশি পরিবেশবান্ধব বিকল্প উপকরণ দিয়েও সুন্দর ও টেকসই স্থাপনা নির্মাণ করা সম্ভব। ইএসডিও শুধু আমাদের একটি মসজিদ নির্মাণ করে দেয়নি, একই সঙ্গে আমাদের একটি নতুন চিন্তার সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দিয়েছে।

 

মসজিদটি নির্মাণ করে দেওয়ায় ইএসডিওর প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়েছেন মসজিদ পরিচালনা কমিটির সভাপতি আলহাজ্ব মো. আশরাফ আলী। তিনি বলেন, একটি সুন্দর ও স্থায়ী মসজিদ ছিল আমাদের এলাকার মানুষের দীর্ঘদিনের প্রত্যাশা। ইএসডিও সেই প্রত্যাশা পূরণ করেছে। এখন শতাধিক মুসল্লি এখানে সুন্দর পরিবেশে পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ আদায় করতে পারছেন। এটি আমাদের জন্য অত্যন্ত আনন্দের।

 

তিনি আরও বলেন, আমরা বিশেষভাবে আনন্দিত যে মসজিদটি পরিবেশবান্ধব হলো ব্লক দিয়ে নির্মাণ করা হয়েছে। এতে আমাদের ধর্মীয় প্রয়োজন পূরণের পাশাপাশি এলাকার মানুষ নতুন ও পরিবেশবান্ধব নির্মাণপ্রযুক্তি সম্পর্কে জানার সুযোগ পাচ্ছেন। এমন মহতী উদ্যোগের জন্য মাদারগঞ্জবাসী ও মসজিদ কমিটির পক্ষ থেকে ইএসডিওর প্রতি আন্তরিক কৃতজ্ঞতা জানাই।

 

মসজিদ পরিচালনা কমিটির সাধারণ সম্পাদক মো. রায়হানুল ইসলাম বলেন, ১৬ লাখ টাকা ব্যয়ে আমাদের জন্য একটি পূর্ণাঙ্গ মসজিদ নির্মাণ করে দেওয়া বড় একটি সহযোগিতা। এলাকার মানুষের একার পক্ষে এত বড় একটি কাজ বাস্তবায়ন করা কঠিন ছিল। ইএসডিও পাশে দাঁড়ানোয় আজ আমরা একটি সুন্দর মসজিদ পেয়েছি।

 

তিনি আরও বলেন, সবচেয়ে ভালো লাগার বিষয় হলো, মসজিদটি পরিবেশবান্ধব নির্মাণসামগ্রী দিয়ে তৈরি হয়েছে। আমরা মনে করি, এই মসজিদ দেখে এলাকার অন্য মানুষও বাড়িঘর ও বিভিন্ন স্থাপনা নির্মাণে পরিবেশবান্ধব ব্লক ব্যবহারে আগ্রহী হবেন।

 

এ বিষয়ে ইকো-সোশ্যাল ডেভলপমেন্ট অর্গানাইজেশন (ইএসডিও)’র প্রতিষ্ঠাতা ও নির্বাহী পরিচালক ড. মুহম্মদ শহীদ উজ জামান বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব এখন আর ভবিষ্যতের কোনো আশঙ্কা নয়, আমরা প্রতিনিয়ত এর প্রভাব অনুভব করছি। আগামী প্রজন্মের জন্য একটি নিরাপদ ও বাসযোগ্য পৃথিবী রেখে যেতে হলে উন্নয়নের প্রতিটি ক্ষেত্রে পরিবেশের কথা ভাবতে হবে। উন্নয়ন এমন হতে হবে, যা মানুষের প্রয়োজন পূরণ করবে এবং একই সঙ্গে প্রকৃতি ও পরিবেশের প্রতিও দায়িত্বশীল থাকবে।

 

তিনি আরও বলেন, আমরা চাই পরিবেশবান্ধব নির্মাণসামগ্রী শুধু আলোচনা, প্রশিক্ষণ কিংবা প্রদর্শনীর মধ্যে সীমাবদ্ধ না থাকুক। মানুষ এর বাস্তব ব্যবহার দেখুক এবং উপলব্ধি করুক যে প্রচলিত পোড়া ইটের কার্যকর বিকল্প ব্যবহার করেও সুন্দর ও কার্যকর স্থাপনা নির্মাণ করা সম্ভব। মাদারগঞ্জ জামে মসজিদ সেই চিন্তারই একটি বাস্তব উদাহরণ।

পরিবেশবান্ধব নির্মাণের ব্যতিক্রমী উদাহরণ হিসেবে দৃষ্টিনন্দন মাদারগঞ্জের মসজিদ।

মালয়েশিয়ায় ১২৬ জন বাংলাদেশি কর্মীর ৩ মাস বেতন নেই। সমাধানে কোম্পানি পরিদর্শনে দূতাবাস

 

মো:নুরুল ইসলাম সুজন কুয়ালালামপুর মালয়েশিয়া।।

 

মালয়েশিয়ার পাহাং রাজ্যের প্লাইউড প্রস্তুতকারক প্রতিষ্ঠান মেনটাকাব ভিনিয়ার অ্যান্ড প্লাইউড এসডিএন বিএইচডি-তে কর্মরত প্রায় ২৫০ জন অভিবাসী শ্রমিক জানিয়েছেন, তিন মাসেরও বেশি সময় ধরে তাঁদের বেতন দেওয়া হয়নি, যার ফলে তাঁদের এবং দেশে থাকা তাঁদের পরিবারের জন্য দুর্ভোগ সৃষ্টি হয়েছে।

বাংলাদেশ, মিয়ানমার, ইন্দোনেশিয়া ও নেপালের শ্রমিকরাও দাবি করেছেন যে, তাঁদের চাকরির চুক্তিতে উল্লিখিত শর্তের চেয়ে ভিন্ন কর্মপরিবেশে তাঁদেরকে কাজ করতে হয়েছে।

১২৬ জন বাংলাদেশি শ্রমিকের একজন মুখপাত্র স্থানীয় সংবাদমাধ্যম ফ্রী মালয়েশিয়া টুডে-কে জানান যে, বকেয়া মজুরি এখানে তাদের দুর্ভোগের কারণ হচ্ছে এবং দেশে থাকা তাদের পরিবারগুলো ঋণ বা বন্ধকী ঋণ পরিশোধ করতে হিমশিম খাচ্ছে।

 

তারা জানান কলিং ভিসায় মালয়েশিয়া যেতে বেশিরভাগেরই জনপ্রতি প্রায় ১৬ থেকে ১৮ হাজার রিঙ্গিত খরচ হয়েছে। এই অর্থের একটি বড় অংশ তারা ব্যাংক ঋণ, নিজেদের জমি বন্ধক রেখে অথবা পরিবারের সদস্যদের কাছ থেকে ধার করে জোগাড় করেছিলেন। ভাগ্য বদলের আশায় পাড়িজমানো এসব কর্মীদের পরিবার তাদের পাঠানো টাকার ওপর নির্ভরশীল। কর্মীরা বলেন “আমরা এখানে যখন সংগ্রাম করছি, আমাদের প্রিয়জনেরাও তখন দুর্ভোগ ও উদ্বেগের সম্মুখীন হচ্ছেন। আমরা আশা করি মালয়েশীয় কর্তৃপক্ষ আমাদের বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে নেবে”।

 

উল্লখ্য, কোম্পানিটির বৈদেশিক বাজারগুলোর মধ্যে রয়েছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, দক্ষিণ আফ্রিকা এবং উপসাগরীয় রাষ্ট্রসমূহ।

 

শ্রমিকরা অভিযোগ করেছেন যে, চুক্তিতে নির্ধারিত আট ঘণ্টার পরিবর্তে তাঁদেরকে দৈনিক ৬৫ রিঙ্গিত মজুরিতে দিনে ১২ ঘণ্টা পর্যন্ত কাজ করতে বাধ্য করা হতো এবং তাঁদেরকে নিয়মিতভাবে সাপ্তাহিক ছুটির দিন দেওয়া হতো না।

“তারা আমাদের পাসপোর্ট আটকে রেখেছে, যা আমাদের চুক্তির লঙ্ঘন। এছাড়াও, আমাদের বার্ষিক ছুটিতে দেশে যেতে চাইলে মালয়েশিয়ায় ফিরে আসা নিশ্চিত করার জন্য ২৫০০ রিঙ্গিত জামানত চাইছে। এটা ঠিক নয়,” মুখপাত্র বলেন।

 

তিনি বলেন, তারা বাংলাদেশ হাই কমিশন ও শ্রম বিভাগকে বিষয়টি জানালেও তাদের অভিযোগ তদন্ত করতে কোনো কর্মকর্তা আসেননি।

 

তবে কর্মীদের অভিযোগ সঠিক নয় দাবী করে দূতাবাস থেকে আরটিভিকে জানায়, গতকাল ১১ আগস্ট) সকাল ১১ টায় কর্মীদের পক্ষ থেকে জানানোর পর দূতাবাস থেকে নিয়োগকর্তার সাথে যোগাযোগ করে সকল সমস্যা সমাধানের লক্ষে আগামীকাল ১৩ আগস্ট দূতাবাস, নিয়োগকর্তা এবং কর্মী প্রতিনিধিদের সমন্বয়ে ত্রিপক্ষীয় বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে। বৈঠকে অংশ নিতে ইতোমধ্যে দূতাবাসের প্রতিনিধি দল সেখানে রওনা দিয়েছেন।

 

এছাড়া অভিযোগের বিষয়ে বিস্তারিত জানতে যোগাযোগ করা হলে কোম্পানির একজন মুখপাত্র জানান, কোম্পানির নিজস্ব সমস্যার কারণে বেতন প্রদানে বিলম্ব হয়েছে।

তিনি বলেছেন, কোম্পানি কর্মীদের বেতনের একাংশ পরিশোধ করেছে, কিন্তু ঠিক কত টাকা পরিশোধ করা হয়েছে তা জানাতে রাজি হননি।

 

আমরা বলছি না যে আমরা তাদের পাওনা পরিশোধ করব না। আমরা যত দ্রুত সম্ভব তাদের বকেয়া নিষ্পত্তি করার জন্য যথাসাধ্য চেষ্টা করছি।

“সমস্যা হলো, তারা আমাদের পরিকল্পনা শুনতে চায় না। তাদের সাথে কথা বলাও কঠিন, কারণ তারা আক্রমণাত্মক,” তিনি বললেন।

 

মুখপাত্র দাবি করেছেন যে, শ্রমিকদের দাবি দিন দিন বাড়ছিল, যার ফলে কোম্পানির পক্ষে বিষয়টি সামাল দেওয়া কঠিন হয়ে পড়ছিল। তিনি আরও বলেন, কোম্পানির ওপর চাপ সৃষ্টির জন্য তাদের অন্যান্য অভিযোগগুলোকে অতিরঞ্জিত করা হয়েছে।

মালয়েশিয়ায় ১২৬ জন বাংলাদেশি কর্মীর ৩ মাস বেতন নেই। সমাধানে কোম্পানি পরিদর্শনে দূতাবাস

র‌্যাবের চৌকস অভিযানে জীপসহ প্রায় ১১ হাজার ইয়াবার চালান আটক

জামালপুর হামলা পাল্টা হামলার মধ্য দিয়ে জেলার সানন্দবাড়ী তে থমথমে অবস্থা বিরাজমান।

পর্নোগ্রাফি নিয়ন্ত্রণ আইনে এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা দায়ের ও আদালতে মিথ্যা হলফনামা দেয়ার অভিযোগে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের কেবিন ক্রু খাদিজা সুলতানা শিমুর বিরুদ্ধে মামলা দায়েরের নির্দেশ দিয়েছেন আদালত।

 

বুধবার (১৫ জুলাই) ঢাকার অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালত-২-এর বিচারক মো. জাকির হোসাইন এ আদেশ দেন। আদালতের আদেশে বলা হয়েছে, শিমুর বিরুদ্ধে পর্নোগ্রাফি নিয়ন্ত্রণ আইন, ২০১২-এর ১৩ ধারা এবং দণ্ডবিধির ১৮১, ১৮২ ও ১৯৩ ধারায় মামলা করা হবে। আদালত নিজেই এ মামলার বাদী হয়েছেন।

 

আদালতের নথি অনুযায়ী, খাদিজা সুলতানা শিমু মামলার বাদী হয়ে বেসরকারি একটি এয়ারলাইন্সের কর্মকর্তা মো. ওমর ফারুক চৌধুরীর বিরুদ্ধে পর্নোগ্রাফি নিয়ন্ত্রণ আইনের বিভিন্ন ধারায় উত্তরা পশ্চিম থানায় মামলা করেন।

 

তদন্ত শেষে উত্তরা পশ্চিম থানার তদন্ত কর্মকর্তা আদালতে চূড়ান্ত প্রতিবেদন দাখিল করে জানান, অভিযোগের সত্যতা পাওয়া যায়নি। প্রতিবেদনে বলা হয়, মামলার এজাহারে উল্লেখ করা ফেসবুক লিংক, ডিজিটাল আলামত ও অন্যান্য তথ্য যাচাই করে ওমর ফারুকের বিরুদ্ধে পর্নোগ্রাফি প্রচারের কোনো প্রমাণ মেলেনি। ফলে ওই কর্মকর্তাকে মামলা থেকে অব্যাহতির সুপারিশ করা হয়।

একই সঙ্গে তদন্ত কর্মকর্তা প্রতিবেদনে উল্লেখ করেন, ওমর ফারুক আগে শিমুর বিরুদ্ধে বিয়ের প্রলোভন দিয়ে অর্থ আত্মসাতের অভিযোগে আদালতে মামলা করেছিলেন। সেই মামলার দায় এড়াতেই শিমু সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচারিত বিভিন্ন লিংক উল্লেখ করে তার বিরুদ্ধে পর্নোগ্রাফি ছড়ানোর অভিযোগ এনে উদ্দেশ্যপ্রণোদিত, হয়রানিমূলক ও মিথ্যা মামলা করেছেন বলে প্রাথমিক তদন্তে প্রতীয়মান হয়েছে। এ কারণে শিমুর বিরুদ্ধে পর্নোগ্রাফি নিয়ন্ত্রণ আইন, ২০১২-এর ১৩ ধারায় আইনগত ব্যবস্থা নেয়ার আবেদনও করেন তদন্ত কর্মকর্তা।

 

পরে গত ৯ জুলাই আদালত তদন্ত প্রতিবেদন গ্রহণ করে ওমর ফারুককে মামলা থেকে অব্যাহতি দেন। আদালতের আদেশে বলা হয়, শিমু ক্ষতিসাধনের উদ্দেশ্যে আদালতে মিথ্যা মামলা দায়ের করেছেন এবং হলফ করে মিথ্যা সাক্ষ্য দিয়েছেন। মামলার নথিতে তার দেয়া হলফনামাও সংযুক্ত রয়েছে। এসব বিবেচনায় আদালত নিজেই বাদী হয়ে তার বিরুদ্ধে পর্নোগ্রাফি নিয়ন্ত্রণ আইন ও দণ্ডবিধির সংশ্লিষ্ট ধারায় মামলা দায়েরের নির্দেশ দেন।

 

তদন্তে যা উঠে এসেছে পুলিশের চূড়ান্ত প্রতিবেদনে বলা হয়, তদন্তকালে রেকর্ড, ডিজিটাল আলামত, ফেসবুক লিংক ও ফরেনসিক তথ্য যাচাই করে ওমর ফারুকের বিরুদ্ধে পর্নোগ্রাফি প্রচারের কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি।

 

তদন্তে আরও উঠে আসে, শিমু বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের কেবিন ক্রু এবং ওমর ফারুক একটি বেসরকারি এয়ারলাইন্সের এয়ারক্রাফট মেইনটেন্যান্স কর্মকর্তা। ফেসবুকে পরিচয়ের পর তাদের মধ্যে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে।

 

প্রতিবেদনে বলা হয়, বিয়ের আশ্বাস দিয়ে বিভিন্ন সময়ে ওমর ফারুকের কাছ থেকে বিপুল পরিমাণ অর্থ ও মূল্যবান সামগ্রী নেয়ার অভিযোগে ওমর ফারুক আদালতে পৃথক মামলা করেন। এরপর সেই মামলার দায় থেকে নিজেকে রক্ষা করতেই শিমু পর্নোগ্রাফি আইনে অভিযোগ দায়ের করেন বলে তদন্তে প্রতীয়মান হয়েছে।

 

ওমর ফারুকের আগের মামলা গত ২০ জুলাই ওমর ফারুক চৌধুরী শিমুর বিরুদ্ধে বিয়ের প্রলোভন, ‘হানি ট্র্যাপ’ ও ব্ল্যাকমেইলের মাধ্যমে প্রায় ২২ লাখ টাকা আত্মসাতের অভিযোগে ঢাকার আদালতে মামলা করেন। আদালত অভিযোগটি আমলে নিয়ে উত্তরা পশ্চিম থানাকে তদন্তের নির্দেশ দেন। পরে তিনি বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স কর্তৃপক্ষের কাছেও লিখিত অভিযোগ করেন।

 

সেই মামলায় অভিযোগ করা হয়, ২০২৪ সালে ফেসবুকে পরিচয়ের পর শিমু তাকে বিয়ের আশ্বাস দিয়ে বিভিন্ন সময়ে টাকা নেন। জন্মদিনে দেড় লাখ টাকা মূল্যের একটি হীরার আংটিসহ বিয়ের খরচের জন্য মোট ২১ লাখ ৭৪ হাজার ৫১১ টাকা নেয়ার পরও বিয়ে না করে প্রতারণার মাধ্যমে অর্থ আত্মসাৎ করা হয়েছে বলে মামলায় দাবি করা হয়।

পর্নোগ্রাফি আইনে কেবিন ক্রু শিমুর বিরুদ্ধে মামলার নির্দেশ আদালতের

error: আপনি নিউজ চুরি করার চেষ্টা করছেন। বিশেষ প্রয়োজনে যোগাযোগ করুন ০১৭৬৭৪৪৪৩৩৩