জাতীয় মহিলা সংস্থার চেয়ারম্যান হলেন আফরোজা আব্বাস - Gono television | বাংলাদেশ সরকার অনুমোদিত বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেল।
জাতীয় মহিলা সংস্থার চেয়ারম্যান হলেন আফরোজা আব্বাস

জাতীয় মহিলা সংস্থার চেয়ারম্যান হলেন আফরোজা আব্বাস

জাতীয় মহিলা সংস্থার চেয়ারম্যান হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন আফরোজা আব্বাস। মঙ্গলবার (১৬ জুন) জারি করা এক প্রজ্ঞাপনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

 

প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, জাতীয় মহিলা সংস্থা আইন, ১৯৯১-এর ধারা ৮(১) ও ৮(২) অনুযায়ী যোগদানের তারিখ থেকে তাঁকে চেয়ারম্যান পদে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। তাঁর কার্যকাল হবে যোগদানের তারিখ থেকে পরবর্তী দুই বছর।

 

তবে সরকার প্রয়োজনবোধে মেয়াদ শেষ হওয়ার আগেই যে কোনো সময় এই নিয়োগ বাতিল করতে পারবে। একইভাবে, চেয়ারম্যানও সরকারের উদ্দেশে স্বাক্ষরযুক্ত পত্রের মাধ্যমে যে কোনো সময় পদত্যাগ করতে পারবেন।

 

প্রজ্ঞাপনে আরও উল্লেখ করা হয়েছে যে, জাতীয় মহিলা সংস্থার চেয়ারম্যান হিসেবে তাঁর এই নিয়োগ অবৈতনিক।

 

আফরোজা আব্বাস বর্তমানে জাতীয়তাবাদী মহিলা দলের কেন্দ্রীয় সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। তিনি মির্জা আব্বাস-এর সহধর্মিণী। মির্জা আব্বাস বিএনপির একজন জ্যেষ্ঠ নেতা এবং সাবেক মন্ত্রী। বর্তমানে আফরোজা আব্বাস নারী নেতৃত্ব ও রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে সক্রিয় ভূমিকা পালন করে আসছেন।


রাজধানীর আদাবরে ছিনতাইকারীদের বিরুদ্ধে অভিযান চালাতে গিয়ে চাপাতির আঘাতে আহত হয়েছেন থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এবং এক উপপরিদর্শক (এসআই)। এ ঘটনায় পুলিশের পাল্টা গুলিতে এক সন্দেহভাজন ছিনতাইকারী গুলিবিদ্ধ হয়েছে। পরে চারজনকে আটক করা হয়েছে।

 

পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, মঙ্গলবার সকালে আদাবর এলাকায় চাপাতির ভয় দেখিয়ে একটি দোকানে ঢুকে ছিনতাইয়ের ঘটনা ঘটে। ঘটনার পর অভিযুক্তদের শনাক্ত করে তাদের অবস্থান সম্পর্কে তথ্য পায় পুলিশ।

 

দুপুরে আদাবরের ডেল্টা গার্মেন্টসের পেছনে সন্দেহভাজন ছিনতাইকারীদের আস্তানায় অভিযান চালায় বাংলাদেশ পুলিশ।

 

অভিযানের সময় ছিনতাইকারীরা পুলিশের ওপর হামলা চালায়। এতে চাপাতির আঘাতে আহত হন জাহিদুল ইসলাম এবং এসআই তরুণ।

 

পুলিশ জানায়, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নিতে পাল্টা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হলে এক সন্দেহভাজন ছিনতাইকারী গুলিবিদ্ধ হয়। ঘটনাস্থল থেকে চারজনকে আটক করা হয়েছে।

 

আহত দুই পুলিশ কর্মকর্তাকে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। গুলিবিদ্ধ ব্যক্তিকেও চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে।

রাজধানীতে ওসি ও এসআইকে কুপিয়ে জখম

জুলাই আন্দোলনের সময় ঢাকার শাহবাগে জুট ব্যবসায়ী মো. মনির এবং রিয়াজুল তালুকদার হত্যা মামলায় সাবেক মন্ত্রী দীপু মনির জামিন নামঞ্জুর করেছেন আদালত।

 

মঙ্গলবার (১৬ জুন) ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আশরাফুল হকের আদালতে দীপু মনির আইনজীবী রাশিদা আক্তার জুঁথি জামিন চেয়ে শুনানি করেন।

 

শুনানি নিয়ে আদালত তার জামিন নামঞ্জুরের আদেশ দেয়। প্রসিকিউশন বিভাগের এসআই শাহ আলম বিষয়টি নিশ্চিত করেন।

 

মনির হত্যা মামলার অভিযোগ অনুযায়ী, আওয়ামী সরকারেে পতনের দিন ২০২৪ সালের ৫ অগাস্টে শাহবাগ থানার চানখারপুল এলাকায় ছাত্র-জনতার সঙ্গে আন্দোলনে অংশ নেন ঝুট ব্যবসায়ী মো. মনির। দুপুরে আসামিদের ছোড়া গুলিতে ঘটনাস্থলেই মারা যান তিনি।

 

এ ঘটনায় নিহতের স্ত্রী রোজিনা আক্তার গত ১৪ মার্চ শাহবাগ হত্যা মামলা করেন। মামলায় ৩৫১ জনকে এজাহারনামীয় ও ৫০০ জনকে অজ্ঞাতনামা আসামি করা হয়।

অন্য মামলার অভিযোগ অনুযায়ী, ৪ অগাস্ট পল্টনের তোপখানা এলাকায় গুলিতে নিহত হন রিয়াজুল। এ ঘটনায় তার সহকর্মী বিল্লাল হোসেন ২০২৪ সালের ১২ সেপ্টেম্বর শেখ হাসিনাসহ ৬৩ জনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেন।

দীপু মনির জামিন নামঞ্জুর

লালমনিরহাটের আদিতমারীতে নিখোঁজের একদিন পর ৭ বছর বয়সী শিশু নন্দিনী রায়ের বস্তাবন্দী মরদেহ উদ্ধারকে কেন্দ্র করে অভিযুক্তের বাড়িতে ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় উত্তেজিত জনতার হামলায় পুলিশ, সাংবাদিক ও স্থানীয় বাসিন্দাসহ অন্তত ৩০ জন আহত হয়েছেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আদিতমারী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি)কে প্রত্যাহার করা হয়েছে।

 

এর আগে, গতকাল সোমবার (১৫ জুন) বিকেলে উপজেলার ফলিমারী গ্রামের ধরণীকান্ত বর্মনের ৭ বছর বয়সী মেয়ে নন্দিনী রায় নিখোঁজ হয়। স্বজনদের অভিযোগ, নিখোঁজের পর থানায় গেলেও পুলিশ তাদের অভিযোগ নেওয়া হয়নি। মঙ্গলবার সকালে বাড়ির পাশের একটি ভুট্টাক্ষেত থেকে তার বস্তাবন্দী মরদেহ উদ্ধার করা হয়।

 

পুলিশ সূত্রে জানা যায়, মঙ্গলবার সকাল সাড়ে ৬টার দিকে প্রতিবেশী রঞ্জিত রায়ের ছেলে বিধান চন্দ্র রায়কে কোদাল হাতে ভুট্টাক্ষেত থেকে বের হতে দেখেন নিহত শিশুর কাকা। সন্দেহ হলে স্থানীয়দের নিয়ে তল্লাশি চালিয়ে মাটির নিচে লুকিয়ে রাখা বস্তাবন্দী মরদেহ উদ্ধার করা হয়। পরে ঘটনাটি জানাজানি হলে পুলিশের সহায়তায় অভিযুক্ত বিধান চন্দ্র রায়কে আটক করে ক্ষুব্ধ জনতা। স্থানীয়দের দাবি, শিশুটিকে ধর্ষণের পর হত্যা করা হয়েছে।

 

ঘটনার পর শত শত মানুষ এলাকায় জড়ো হয়ে পুলিশের কাছ থেকে আটক ব্যক্তিকে ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে অতিরিক্ত পুলিশ, বিজিবি ও আনসার সদস্য মোতায়েন করা হয়। একপর্যায়ে উত্তেজিত জনতার হামলা ও ইটপাটকেলে পুলিশসহ অন্তত ৩০ জন আহত হন। ফেরার পথে জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপারের গাড়িও ভাঙচুর করা হয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে সাউন্ড গ্রেনেড নিক্ষেপ করে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।

 

পরবর্তীতে স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও বিএনপি নেতাকর্মীরা সাধারণ মানুষকে শান্ত করার চেষ্টা করেন। বিক্ষুব্ধ জনতার দাবির মুখে আদিতমারী থানার ওসিকে তাৎক্ষণিকভাবে প্রত্যাহার করা হয়।

 

এদিকে, জেলা পরিষদ প্রশাসকের দাবি স্থানীয় বাসিন্দাদের পরিস্থিতি খারাপ করতে তৃতীয় পক্ষ সুযোগ নিয়েছে। এছাড়া, অভিযুক্তের শাস্তি নিশ্চিতে আইন অনুযায়ী পদক্ষেপ নেওয়া হবে বলে জানায় জেলা পুলিশ। পাশাপাশি, সরকারি কাজে বাধা, হামলা, গাড়ি ভাংচুরের ঘটনায়ও মামলা হবে বলে জানায় তারা।

 

ওসি প্রত্যাহার এবং প্রশাসনের শীর্ষ কর্মকর্তাদের আশ্বাসের পর পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়েছে। তবে এলাকাবাসীর দাবি, আইনি জটিলতা এড়িয়ে দ্রুততম সময়ে এই নির্মম হত্যাকাণ্ডের দৃষ্টান্তমূলক বিচার নিশ্চিত করতে হবে।

লালমনিরহাটে শিশু হত্যা অভিযুক্তের বাড়ি ভাঙচুর-আগুন; পুলিশ-সাংবাদিকসহ আহত অন্তত ৩০

নোয়াখালীতে ঝটিকা সফরে গিয়ে ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালের পরিদর্শন করেছেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন বকুল। এ সময় হাসপাতালের অব্যবস্থাপনা, অপরিচ্ছন্নতাসহ বিভিন্ন অনিয়মের প্রমাণ পেয়ে হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. মোহাম্মদ ফরিদ উদ্দিনকে তাৎক্ষণিক প্রত্যাহার করা হয়েছে।

 

মঙ্গলবার (১৬ জুন) পূর্বঘোষণা ছাড়াই হঠাৎ নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালে পরিদর্শনে যান স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার সাখাওয়াত হোসেন। এ সময় তিনি হাসপাতালের পুরুষ, মহিলা, শিশু ও ডায়রিয়া ওয়ার্ড, জরুরি বিভাগসহ বিভিন্ন ইউনিট সরেজমিন ঘুরে দেখেন। এ সময় ২৩ জন চিকিৎসক হাসপাতালে অনুপস্থিত থাকায় তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতেও সিভিল সার্জনকে জন্য বলা হয়।

 

এ সময়, রোগীরা স্বাস্থ্যমন্ত্রীকে পেয়ে হাসপাতালে বেড নিতে টাকা দেওয়া, ঔষধ না পাওয়া, হাম ও ডায়রিয়া রোগীদের একসাথে রাখাসহ নানা অনিয়মের কথা তুলে ধরেন।

 

পরে মন্ত্রী সার্কিট হাউজে ব্রিফ্রিংয়ে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, সরকার জনগণের দোরগোড়ায় স্বাস্থ্য সেবা পৌঁছে দিতে চায়। নোয়াখালী ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট হাসপাতালের নতুন ভবন দ্রুত উদ্বোধন হবে। এর পাশাপাশি আরেকটি ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট হাসপাতাল নির্মাণ করার হবে। সরকারের মেয়াদ মাত্র তিন মাস হয়েছে। রাতারাতি স্বাস্থ্য খাতের পরিবর্তন সম্ভব নয়।

নোয়াখালীতে স্বাস্থ্যমন্ত্রীর ঝটিকা সফর, হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক প্রত্যাহার

ঝিনাইদহের কালীগঞ্জে নিজের অসুস্থ দাদির জন্য ওষুধ আনতে গিয়ে এক অবুঝ ও নিষ্পাপ শিশু (৮) বর্বরোচিত ধর্ষণের শিকার হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। এই পৈশাচিক ও ন্যাক্কারজনক ঘটনার জানাজানি হতেই স্থানীয় বিক্ষুব্ধ এলাকাবাসী অভিযুক্ত আফতাব ওরফে তরিকুল নামের এক গ্রাম্য চিকিৎসককে গণপিটুনি দিয়ে ঘরের মধ্যে অবরুদ্ধ করে রাখে। পরে পুলিশে সোপর্দ করে তারা। 

শনিবার (৬ জুন) বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে কালীগঞ্জ উপজেলার এক প্রত্যন্ত অঞ্চলের স্থানীয় একটি ফার্মেসিতে এই হীন অপরাধের ঘটনা ঘটে। সংবাদ পেয়ে রাত সাড়ে ৯টার দিকে কালীগঞ্জ থানা পুলিশের একটি বিশেষ দল ঘটনাস্থলে পৌঁছে অভিযুক্তকে উত্তেজিত জনতার হাত থেকে উদ্ধার করে নিজেদের হেফাজতে নেয়। এই ঘটনায় পুরো এলাকাজুড়ে চরম উত্তেজনা ও তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।

 

ভুক্তভোগী শিশুটির পরিবারের তথ্যমতে, শিশুটি স্থানীয় একটি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের তৃতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থী। বিকেলে তার দাদির আকস্মিক অসুস্থতার কারণে সে বাড়ির পাশের বাজারে তরিকুল ডাক্তারের ফার্মেসিতে ওষুধ আনতে গিয়েছিল। স্থানীয়রা জানান, বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে দোকানে আর কোনো ক্রেতা বা অন্য কেউ না থাকার সুযোগে অভিযুক্ত তরিকুল ওই অবুঝ মেয়েটিকে কৌশলে দোকানের ভেতরের একটি গোপন রুমে নিয়ে যায় এবং জোরপূর্বক ধর্ষণ করে। পরবর্তীতে শিশুটি রক্তাক্ত ও কান্নাকাটি অবস্থায় বাড়িতে ফিরে তার মা-বাবাকে এই পৈশাচিক ঘটনা জানালে পরিবারের সদস্যরা তাৎক্ষণিকভাবে স্থানীয় সমাজসেবক ও প্রতিবেশীদের বিষয়টি অবহিত করেন। মুহূর্তের মধ্যে খবরটি ছড়িয়ে পড়লে শত শত বিক্ষুব্ধ মানুষ ওই চিকিৎসকের দোকান ঘেরাও করে তাকে গণধোলাই দেয়।

 

নৃশংস এই ঘটনার পর কান্নায় ভেঙে পড়ে ভুক্তভোগী শিশুটির বাবা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ‘বিকেলে আমার ছোট মেয়েটি ওষুধ আনতে গেলে তরিকুল ডাক্তার এই জঘন্য ও পৈশাচিক কাণ্ড ঘটায়। আমি একজন অসহায় বাবা হিসেবে প্রশাসনের কাছে এই নরপশুর দৃষ্টান্তমূলক ফাঁসি এবং এই ঘটনার সুষ্ঠু ও দ্রুততম বিচার চাই।’

 

এদিকে ঘটনার পরপরই রাতেই শিশুটিকে চিকিৎসার জন্য দ্রুত কালীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যাওয়া হয়। হাসপাতালের জরুরি বিভাগে দায়িত্বরত চিকিৎসক ডা. আরিফুল ইসলাম প্রাথমিক পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষে গণমাধ্যমকে জানান, প্রাথমিকভাবে পরীক্ষা করে মনে হচ্ছে শিশুটিকে পৈশাচিক উপায়ে ধর্ষণ করা হয়েছে। তবে ধর্ষণের বিষয়টি আরও শতভাগ নিশ্চিত হওয়া এবং উচ্চতর ফরেনসিক আলামত সংগ্রহের জন্য ভিকটিমকে উন্নত পরীক্ষার জন্য ঝিনাইদহ সদর হাসপাতালে রেফার করা হয়েছে।

 

ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে ঝিনাইদহের কালীগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জেল্লাল হোসেন বলেন, ‘ফার্মেসিতে এক শিশুকে ধর্ষণের অভিযোগে এক গ্রাম্য চিকিৎসককে জনতা আটকে রেখেছে—এমন সংবাদ পাওয়া মাত্রই পুলিশের একটি ফোর্স পাঠিয়ে অভিযুক্তকে দ্রুত আটক করে থানায় নিয়ে আসা হয়েছে। এরই মধ্যে নির্যাতিত শিশুটিকে উন্নত ডাক্তারি ও মেডিকেল ফরেনসিক পরীক্ষার জন্য জেলা সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। ভিকটিমের মেডিকেল রিপোর্টের ওপর ভিত্তি করে এবং ভুক্তভোগী পরিবারের লিখিত এজাহারের আলোকে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনের সংশ্লিষ্ট ধারায় মামলা দায়েরসহ প্রয়োজনীয় কঠোর আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে।’

 

৮ বছরের শিশুকে ধর্ষণের অভিযোগ: গ্রাম্য চিকিৎসককে পিটুনি দিয়ে পুলিশে দিল জনতা

রাজবাড়ীর গোয়ালন্দের দৌলতদিয়া ৭ নম্বর ফেরিঘাটে ফেরির র‌্যাম ভেঙে যাত্রীবাহী বাস নদীতে ডুবে যাওয়ার ঘটনায় মামলা করেছে নৌ-পুলিশ। এ ঘটনায় বাসের চালক, হেলপার ও সুপারভাইজারকে গ্রেফতার করে আদালতে পাঠানো হয়েছে।

 

শনিবার (৬ জুন) দুপুরে গ্রেফতারকৃত তিনজনকে আদালতে সোপর্দ করা হয়।

 

এর আগে, শুক্রবার (৫ জুন) রাতে দৌলতদিয়া নৌপুলিশ ফাঁড়ির এসআই আবুজার গিফারী বাদী হয়ে গোয়ালন্দ ঘাট থানায় মামলা দায়ের করেন। মামলায় বাসের চালক, হেলপার ও সুপারভাইজারের পাশাপাশি পরিবহন পরিচালনাকারী কর্তৃপক্ষের অজ্ঞাতনামা কয়েকজন ব্যক্তিকেও আসামি করা হয়েছে।

 

গ্রেফতারকৃতরা হলেন, বাসচালক ঝন্টু আলী (৪৮), হেলপার শাকিব হোসেন (২২) এবং সুপারভাইজার আজমল হোসেন (৩৮)।

 

শুক্রবার সকালে মেহেরপুরের গাংনী থেকে প্রায় ৩৮ জন যাত্রী নিয়ে ঢাকার গাবতলীর উদ্দেশে ছেড়ে আসে এসবি সুপার ডিলাক্স পরিবহনের একটি যাত্রীবাহী বাস। সকাল সাড়ে ৯টার দিকে বাসটি দৌলতদিয়া ৭ নম্বর ফেরিঘাটে পৌঁছে। প্রশাসনের কঠোর তদারকিতে নির্দেশনা অনুযায়ী যাত্রীদের নামিয়ে ফেরিতে ওঠার সময় বাসটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে দ্রুতগতিতে ফেরিতে উঠে অপর প্রান্তের র‌্যাম ভেঙে নদীতে পড়ে যায়।

 

দুর্ঘটনার সময় বাসের হেলপার দ্রুত নেমে যেতে সক্ষম হলেও চালক বাসের ভেতরেই আটকা পড়ে। পরে তাকে উদ্ধার করা হয়।

 

ঘটনার পর জেলা প্রশাসন, পুলিশ প্রশাসন, র‌্যাব, সেনাবাহিনী, বিআইডব্লিউটিসি, বিআইডব্লিউটিএ, ফায়ার সার্ভিস, কোস্টগার্ড, নৌ-পুলিশসহ বিভিন্ন সংস্থার সদস্যরা উদ্ধার কাজে অংশ নেন। প্রায় দুই ঘণ্টার চেষ্টার পর দুপুর ১২টার দিকে বিআইডব্লিউটিএর উদ্ধারকারী জাহাজ ‘হামজা’ ও ডুবুরি দলের সহায়তায় বাসটি নদীর তলদেশ থেকে উদ্ধার করা হয়।

 

যাত্রীদের মালামাল যাচাই-বাছাই শেষে তাদের কাছে হস্তান্তর করা হয় এবং দুর্ঘটনাকবলিত বাসটি রেকারের মাধ্যমে সরিয়ে নেওয়া হয়। বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে ফেরিটি ঘাট থেকে সরিয়ে নেওয়ার পর যানবাহন পারাপার স্বাভাবিক হয়।

 

এদিকে, শুক্রবার (৫ জুন) বিকেলে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী মো. রাজিব আহসান এবং সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।

 

ঘটনার পরদিনই নৌপরিবহন মন্ত্রণালয় ও জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে পৃথক দুটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।

 

এ বিষয়ে গোয়ালন্দ ঘাট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শফিকুল ইসলাম বলেন, বাস ডুবির ঘটনায় দায়ের করা মামলায় তিন আসামিকে গ্রেফতার করে আদালতে পাঠানো হয়েছে।

দৌলতদিয়ায় বাস ডুবির ঘটনায় মামলা, গ্রেফতার ৩

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

রাজধানীর আদাবরে ছিনতাইকারীদের বিরুদ্ধে অভিযান চালাতে গিয়ে চাপাতির আঘাতে আহত হয়েছেন থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এবং এক উপপরিদর্শক (এসআই)। এ ঘটনায় পুলিশের পাল্টা গুলিতে এক সন্দেহভাজন ছিনতাইকারী গুলিবিদ্ধ হয়েছে। পরে চারজনকে আটক করা হয়েছে।

 

পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, মঙ্গলবার সকালে আদাবর এলাকায় চাপাতির ভয় দেখিয়ে একটি দোকানে ঢুকে ছিনতাইয়ের ঘটনা ঘটে। ঘটনার পর অভিযুক্তদের শনাক্ত করে তাদের অবস্থান সম্পর্কে তথ্য পায় পুলিশ।

 

দুপুরে আদাবরের ডেল্টা গার্মেন্টসের পেছনে সন্দেহভাজন ছিনতাইকারীদের আস্তানায় অভিযান চালায় বাংলাদেশ পুলিশ।

 

অভিযানের সময় ছিনতাইকারীরা পুলিশের ওপর হামলা চালায়। এতে চাপাতির আঘাতে আহত হন জাহিদুল ইসলাম এবং এসআই তরুণ।

 

পুলিশ জানায়, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নিতে পাল্টা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হলে এক সন্দেহভাজন ছিনতাইকারী গুলিবিদ্ধ হয়। ঘটনাস্থল থেকে চারজনকে আটক করা হয়েছে।

 

আহত দুই পুলিশ কর্মকর্তাকে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। গুলিবিদ্ধ ব্যক্তিকেও চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে।

রাজধানীতে ওসি ও এসআইকে কুপিয়ে জখম

জুলাই আন্দোলনের সময় ঢাকার শাহবাগে জুট ব্যবসায়ী মো. মনির এবং রিয়াজুল তালুকদার হত্যা মামলায় সাবেক মন্ত্রী দীপু মনির জামিন নামঞ্জুর করেছেন আদালত।

 

মঙ্গলবার (১৬ জুন) ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আশরাফুল হকের আদালতে দীপু মনির আইনজীবী রাশিদা আক্তার জুঁথি জামিন চেয়ে শুনানি করেন।

 

শুনানি নিয়ে আদালত তার জামিন নামঞ্জুরের আদেশ দেয়। প্রসিকিউশন বিভাগের এসআই শাহ আলম বিষয়টি নিশ্চিত করেন।

 

মনির হত্যা মামলার অভিযোগ অনুযায়ী, আওয়ামী সরকারেে পতনের দিন ২০২৪ সালের ৫ অগাস্টে শাহবাগ থানার চানখারপুল এলাকায় ছাত্র-জনতার সঙ্গে আন্দোলনে অংশ নেন ঝুট ব্যবসায়ী মো. মনির। দুপুরে আসামিদের ছোড়া গুলিতে ঘটনাস্থলেই মারা যান তিনি।

 

এ ঘটনায় নিহতের স্ত্রী রোজিনা আক্তার গত ১৪ মার্চ শাহবাগ হত্যা মামলা করেন। মামলায় ৩৫১ জনকে এজাহারনামীয় ও ৫০০ জনকে অজ্ঞাতনামা আসামি করা হয়।

অন্য মামলার অভিযোগ অনুযায়ী, ৪ অগাস্ট পল্টনের তোপখানা এলাকায় গুলিতে নিহত হন রিয়াজুল। এ ঘটনায় তার সহকর্মী বিল্লাল হোসেন ২০২৪ সালের ১২ সেপ্টেম্বর শেখ হাসিনাসহ ৬৩ জনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেন।

দীপু মনির জামিন নামঞ্জুর

জাতীয় মহিলা সংস্থার চেয়ারম্যান হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন আফরোজা আব্বাস। মঙ্গলবার (১৬ জুন) জারি করা এক প্রজ্ঞাপনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

 

প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, জাতীয় মহিলা সংস্থা আইন, ১৯৯১-এর ধারা ৮(১) ও ৮(২) অনুযায়ী যোগদানের তারিখ থেকে তাঁকে চেয়ারম্যান পদে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। তাঁর কার্যকাল হবে যোগদানের তারিখ থেকে পরবর্তী দুই বছর।

 

তবে সরকার প্রয়োজনবোধে মেয়াদ শেষ হওয়ার আগেই যে কোনো সময় এই নিয়োগ বাতিল করতে পারবে। একইভাবে, চেয়ারম্যানও সরকারের উদ্দেশে স্বাক্ষরযুক্ত পত্রের মাধ্যমে যে কোনো সময় পদত্যাগ করতে পারবেন।

 

প্রজ্ঞাপনে আরও উল্লেখ করা হয়েছে যে, জাতীয় মহিলা সংস্থার চেয়ারম্যান হিসেবে তাঁর এই নিয়োগ অবৈতনিক।

 

আফরোজা আব্বাস বর্তমানে জাতীয়তাবাদী মহিলা দলের কেন্দ্রীয় সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। তিনি মির্জা আব্বাস-এর সহধর্মিণী। মির্জা আব্বাস বিএনপির একজন জ্যেষ্ঠ নেতা এবং সাবেক মন্ত্রী। বর্তমানে আফরোজা আব্বাস নারী নেতৃত্ব ও রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে সক্রিয় ভূমিকা পালন করে আসছেন।

জাতীয় মহিলা সংস্থার চেয়ারম্যান হলেন আফরোজা আব্বাস

লালমনিরহাটের আদিতমারীতে নিখোঁজের একদিন পর ৭ বছর বয়সী শিশু নন্দিনী রায়ের বস্তাবন্দী মরদেহ উদ্ধারকে কেন্দ্র করে অভিযুক্তের বাড়িতে ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় উত্তেজিত জনতার হামলায় পুলিশ, সাংবাদিক ও স্থানীয় বাসিন্দাসহ অন্তত ৩০ জন আহত হয়েছেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আদিতমারী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি)কে প্রত্যাহার করা হয়েছে।

 

এর আগে, গতকাল সোমবার (১৫ জুন) বিকেলে উপজেলার ফলিমারী গ্রামের ধরণীকান্ত বর্মনের ৭ বছর বয়সী মেয়ে নন্দিনী রায় নিখোঁজ হয়। স্বজনদের অভিযোগ, নিখোঁজের পর থানায় গেলেও পুলিশ তাদের অভিযোগ নেওয়া হয়নি। মঙ্গলবার সকালে বাড়ির পাশের একটি ভুট্টাক্ষেত থেকে তার বস্তাবন্দী মরদেহ উদ্ধার করা হয়।

 

পুলিশ সূত্রে জানা যায়, মঙ্গলবার সকাল সাড়ে ৬টার দিকে প্রতিবেশী রঞ্জিত রায়ের ছেলে বিধান চন্দ্র রায়কে কোদাল হাতে ভুট্টাক্ষেত থেকে বের হতে দেখেন নিহত শিশুর কাকা। সন্দেহ হলে স্থানীয়দের নিয়ে তল্লাশি চালিয়ে মাটির নিচে লুকিয়ে রাখা বস্তাবন্দী মরদেহ উদ্ধার করা হয়। পরে ঘটনাটি জানাজানি হলে পুলিশের সহায়তায় অভিযুক্ত বিধান চন্দ্র রায়কে আটক করে ক্ষুব্ধ জনতা। স্থানীয়দের দাবি, শিশুটিকে ধর্ষণের পর হত্যা করা হয়েছে।

 

ঘটনার পর শত শত মানুষ এলাকায় জড়ো হয়ে পুলিশের কাছ থেকে আটক ব্যক্তিকে ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে অতিরিক্ত পুলিশ, বিজিবি ও আনসার সদস্য মোতায়েন করা হয়। একপর্যায়ে উত্তেজিত জনতার হামলা ও ইটপাটকেলে পুলিশসহ অন্তত ৩০ জন আহত হন। ফেরার পথে জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপারের গাড়িও ভাঙচুর করা হয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে সাউন্ড গ্রেনেড নিক্ষেপ করে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।

 

পরবর্তীতে স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও বিএনপি নেতাকর্মীরা সাধারণ মানুষকে শান্ত করার চেষ্টা করেন। বিক্ষুব্ধ জনতার দাবির মুখে আদিতমারী থানার ওসিকে তাৎক্ষণিকভাবে প্রত্যাহার করা হয়।

 

এদিকে, জেলা পরিষদ প্রশাসকের দাবি স্থানীয় বাসিন্দাদের পরিস্থিতি খারাপ করতে তৃতীয় পক্ষ সুযোগ নিয়েছে। এছাড়া, অভিযুক্তের শাস্তি নিশ্চিতে আইন অনুযায়ী পদক্ষেপ নেওয়া হবে বলে জানায় জেলা পুলিশ। পাশাপাশি, সরকারি কাজে বাধা, হামলা, গাড়ি ভাংচুরের ঘটনায়ও মামলা হবে বলে জানায় তারা।

 

ওসি প্রত্যাহার এবং প্রশাসনের শীর্ষ কর্মকর্তাদের আশ্বাসের পর পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়েছে। তবে এলাকাবাসীর দাবি, আইনি জটিলতা এড়িয়ে দ্রুততম সময়ে এই নির্মম হত্যাকাণ্ডের দৃষ্টান্তমূলক বিচার নিশ্চিত করতে হবে।

লালমনিরহাটে শিশু হত্যা অভিযুক্তের বাড়ি ভাঙচুর-আগুন; পুলিশ-সাংবাদিকসহ আহত অন্তত ৩০

নোয়াখালীতে ঝটিকা সফরে গিয়ে ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালের পরিদর্শন করেছেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন বকুল। এ সময় হাসপাতালের অব্যবস্থাপনা, অপরিচ্ছন্নতাসহ বিভিন্ন অনিয়মের প্রমাণ পেয়ে হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. মোহাম্মদ ফরিদ উদ্দিনকে তাৎক্ষণিক প্রত্যাহার করা হয়েছে।

 

মঙ্গলবার (১৬ জুন) পূর্বঘোষণা ছাড়াই হঠাৎ নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালে পরিদর্শনে যান স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার সাখাওয়াত হোসেন। এ সময় তিনি হাসপাতালের পুরুষ, মহিলা, শিশু ও ডায়রিয়া ওয়ার্ড, জরুরি বিভাগসহ বিভিন্ন ইউনিট সরেজমিন ঘুরে দেখেন। এ সময় ২৩ জন চিকিৎসক হাসপাতালে অনুপস্থিত থাকায় তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতেও সিভিল সার্জনকে জন্য বলা হয়।

 

এ সময়, রোগীরা স্বাস্থ্যমন্ত্রীকে পেয়ে হাসপাতালে বেড নিতে টাকা দেওয়া, ঔষধ না পাওয়া, হাম ও ডায়রিয়া রোগীদের একসাথে রাখাসহ নানা অনিয়মের কথা তুলে ধরেন।

 

পরে মন্ত্রী সার্কিট হাউজে ব্রিফ্রিংয়ে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, সরকার জনগণের দোরগোড়ায় স্বাস্থ্য সেবা পৌঁছে দিতে চায়। নোয়াখালী ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট হাসপাতালের নতুন ভবন দ্রুত উদ্বোধন হবে। এর পাশাপাশি আরেকটি ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট হাসপাতাল নির্মাণ করার হবে। সরকারের মেয়াদ মাত্র তিন মাস হয়েছে। রাতারাতি স্বাস্থ্য খাতের পরিবর্তন সম্ভব নয়।

নোয়াখালীতে স্বাস্থ্যমন্ত্রীর ঝটিকা সফর, হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক প্রত্যাহার

নরসিংদীর রায়পুরায় আধিপত্য নিয়ে দুপক্ষের মধ্যে এক রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। সংঘর্ষে প্রতিপক্ষের গুলিতে অনিক নামে ২০ বছর বয়সী এক তরুণ নিহত হয়েছেন এবং উভয় পক্ষের অন্তত ১০ জন গুরুতর আহত হয়েছেন।

 

আজ মঙ্গলবার (১৬ জুন) ভোররাতে উপজেলার নিলক্ষা ইউনিয়নের হরিপুর ও দড়িগাঁ এলাকায় স্থানীয় নাজিম উদ্দিন এবং আলাল মুন্সি গ্রুপের সমর্থকদের মধ্যে এই ভয়াবহ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।

 

নিহত অনিক দড়িগাঁ এলাকার সাবেক ইউপি সদস্য ওসমান মিয়ার ছেলে এবং তিনি স্থানীয় নাজিম উদ্দিন গ্রুপের সক্রিয় সমর্থক ছিলেন বলে জানা গেছে।

 

পুলিশ ও স্থানীয় বাসিন্দাদের সূত্রে জানা যায়, নিলক্ষা ইউনিয়নে নিজেদের আধিপত্য বজায় রাখা নিয়ে নাজিম উদ্দিন ও আলাল মুন্সি গ্রুপের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে চরম বিরোধ চলে আসছিল। এরই ধারাবাহিকতায় আজ মঙ্গলবার ভোর থেকে দুই পক্ষের লোকজন আধুনিক আগ্নেয়াস্ত্র এবং দেশীয় অস্ত্রশস্ত্রে সজ্জিত হয়ে একে অপরের ওপর ঝাঁপিয়ে পড়ে। সংঘর্ষ চলাকালীন বেশ কয়েকজন যুবক ও কিশোরকে পেশাদার অপরাধীদের মতো বুলেটপ্রুফ জ্যাকেট ও হেলমেট পরে প্রকাশ্যে আগ্নেয়াস্ত্র হাতে পজিশন নিতে দেখা যায়, যা পুরো এলাকায় চরম আতঙ্ক ও ভীতিকর পরিস্থিতির সৃষ্টি করে।

 

এই দুপক্ষের তুমুল গোলাগুলি ও ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ায় অনিক, রাজু, সুমন, কাশেম ও মোবারকসহ অন্তত ১০ জন গুরুতর আহত হন। এদের মধ্যে অনিক, রাজু ও মোবারককে আশঙ্কাজনক অবস্থায় প্রথমে নরসিংদী সদর হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। পরে অবস্থার আরও অবনতি হলে তাদের উন্নত চিকিৎসার জন্য দ্রুত ঢাকায় পাঠানো হয়। সেখানে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় অনিকের মৃত্যু হয়।

 

রায়পুরা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মজিবুর রহমান ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান যে, এলাকায় আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে দীর্ঘদিনের বিরোধের জের ধরেই এই সংঘর্ষ ঘটেছে। খবর পাওয়ার পরপরই পুলিশ, র‌্যাব ও উপজেলা প্রশাসনসহ আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর বিশাল একটি দল দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। বর্তমানে পরিস্থিতি পুরোপুরি পুলিশের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে এবং ঘটনার মূল কারণ উদ্ঘাটনসহ জড়িতদের গ্রেফতারে তদন্ত চলছে। এলাকায় নতুন করে যাতে কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা বা উত্তেজনা তৈরি না হয়, সেজন্য অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করে কঠোর নজরদারি চালানো হচ্ছে।

রায়পুরায় রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষে নিহত ১

ঝিনাইদহের কালীগঞ্জে নিজের অসুস্থ দাদির জন্য ওষুধ আনতে গিয়ে এক অবুঝ ও নিষ্পাপ শিশু (৮) বর্বরোচিত ধর্ষণের শিকার হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। এই পৈশাচিক ও ন্যাক্কারজনক ঘটনার জানাজানি হতেই স্থানীয় বিক্ষুব্ধ এলাকাবাসী অভিযুক্ত আফতাব ওরফে তরিকুল নামের এক গ্রাম্য চিকিৎসককে গণপিটুনি দিয়ে ঘরের মধ্যে অবরুদ্ধ করে রাখে। পরে পুলিশে সোপর্দ করে তারা। 

শনিবার (৬ জুন) বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে কালীগঞ্জ উপজেলার এক প্রত্যন্ত অঞ্চলের স্থানীয় একটি ফার্মেসিতে এই হীন অপরাধের ঘটনা ঘটে। সংবাদ পেয়ে রাত সাড়ে ৯টার দিকে কালীগঞ্জ থানা পুলিশের একটি বিশেষ দল ঘটনাস্থলে পৌঁছে অভিযুক্তকে উত্তেজিত জনতার হাত থেকে উদ্ধার করে নিজেদের হেফাজতে নেয়। এই ঘটনায় পুরো এলাকাজুড়ে চরম উত্তেজনা ও তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।

 

ভুক্তভোগী শিশুটির পরিবারের তথ্যমতে, শিশুটি স্থানীয় একটি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের তৃতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থী। বিকেলে তার দাদির আকস্মিক অসুস্থতার কারণে সে বাড়ির পাশের বাজারে তরিকুল ডাক্তারের ফার্মেসিতে ওষুধ আনতে গিয়েছিল। স্থানীয়রা জানান, বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে দোকানে আর কোনো ক্রেতা বা অন্য কেউ না থাকার সুযোগে অভিযুক্ত তরিকুল ওই অবুঝ মেয়েটিকে কৌশলে দোকানের ভেতরের একটি গোপন রুমে নিয়ে যায় এবং জোরপূর্বক ধর্ষণ করে। পরবর্তীতে শিশুটি রক্তাক্ত ও কান্নাকাটি অবস্থায় বাড়িতে ফিরে তার মা-বাবাকে এই পৈশাচিক ঘটনা জানালে পরিবারের সদস্যরা তাৎক্ষণিকভাবে স্থানীয় সমাজসেবক ও প্রতিবেশীদের বিষয়টি অবহিত করেন। মুহূর্তের মধ্যে খবরটি ছড়িয়ে পড়লে শত শত বিক্ষুব্ধ মানুষ ওই চিকিৎসকের দোকান ঘেরাও করে তাকে গণধোলাই দেয়।

 

নৃশংস এই ঘটনার পর কান্নায় ভেঙে পড়ে ভুক্তভোগী শিশুটির বাবা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ‘বিকেলে আমার ছোট মেয়েটি ওষুধ আনতে গেলে তরিকুল ডাক্তার এই জঘন্য ও পৈশাচিক কাণ্ড ঘটায়। আমি একজন অসহায় বাবা হিসেবে প্রশাসনের কাছে এই নরপশুর দৃষ্টান্তমূলক ফাঁসি এবং এই ঘটনার সুষ্ঠু ও দ্রুততম বিচার চাই।’

 

এদিকে ঘটনার পরপরই রাতেই শিশুটিকে চিকিৎসার জন্য দ্রুত কালীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যাওয়া হয়। হাসপাতালের জরুরি বিভাগে দায়িত্বরত চিকিৎসক ডা. আরিফুল ইসলাম প্রাথমিক পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষে গণমাধ্যমকে জানান, প্রাথমিকভাবে পরীক্ষা করে মনে হচ্ছে শিশুটিকে পৈশাচিক উপায়ে ধর্ষণ করা হয়েছে। তবে ধর্ষণের বিষয়টি আরও শতভাগ নিশ্চিত হওয়া এবং উচ্চতর ফরেনসিক আলামত সংগ্রহের জন্য ভিকটিমকে উন্নত পরীক্ষার জন্য ঝিনাইদহ সদর হাসপাতালে রেফার করা হয়েছে।

 

ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে ঝিনাইদহের কালীগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জেল্লাল হোসেন বলেন, ‘ফার্মেসিতে এক শিশুকে ধর্ষণের অভিযোগে এক গ্রাম্য চিকিৎসককে জনতা আটকে রেখেছে—এমন সংবাদ পাওয়া মাত্রই পুলিশের একটি ফোর্স পাঠিয়ে অভিযুক্তকে দ্রুত আটক করে থানায় নিয়ে আসা হয়েছে। এরই মধ্যে নির্যাতিত শিশুটিকে উন্নত ডাক্তারি ও মেডিকেল ফরেনসিক পরীক্ষার জন্য জেলা সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। ভিকটিমের মেডিকেল রিপোর্টের ওপর ভিত্তি করে এবং ভুক্তভোগী পরিবারের লিখিত এজাহারের আলোকে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনের সংশ্লিষ্ট ধারায় মামলা দায়েরসহ প্রয়োজনীয় কঠোর আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে।’

 

৮ বছরের শিশুকে ধর্ষণের অভিযোগ: গ্রাম্য চিকিৎসককে পিটুনি দিয়ে পুলিশে দিল জনতা

রাজধানীর মিরপুরের পল্লবীতে আট বছরের শিশু রামিসা আক্তারকে ধর্ষণের পর গলা কেটে হত্যার মামলায় রায়ের জন্য আজ (রোববার) ধার্য রয়েছে। ঢাকা মহানগর শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মাসরুর সালেকীনের আদালত এ রায় ঘোষণা করবেন।

 

গত বৃহস্পতিবার (৪ জুন) এ মামলায় রাষ্ট্র ও আসামিপক্ষের আইনজীবীদের যুক্তিতর্ক উপস্থাপন শেষে আদালত রায়ের এ দিন ধার্য করেন। এর মধ্য দিয়ে নৃশংস এ ঘটনার মাত্র ১৯ দিনের মাথায় নজিরবিহীন গতিতে বিচার শেষ পর্যায়ে পৌঁছাল। মামলা দায়েরের পর ৪ দিনের মাথায় চার্জশিট দাখিল, অভিযোগ গঠন ও সাক্ষ্যগ্রহণ সব ক্ষেত্রেই ছিল দ্রুতগতি। আদালত সংশ্লিষ্টরা বলছেন, ধর্ষণ ও হত্যা মামলায় এত দ্রুত বিচারিক কার্যক্রম শেষ পর্যায়ে যাওয়ার নজির দেশে খুব কমই দেখা গেছে। সাধারণত তদন্ত প্রতিবেদন, বিচার শুরু ও সাক্ষ্যগ্রহণের বিভিন্ন ধাপ পার হতে বছরের পর বছর লেগে যায়।

 

যেভাবে এগিয়েছে মামলা : ১৯ মে সকালে পল্লবীতে ঘটনাটি ঘটে। পরদিন ২০ মে (১৯ মে দিবাগত রাত) ১২ টা ৫ মিনিটে ভিকটিমের বাবা বাদী হয়ে পল্লবী থানায় মামলা করেন। মামলায় আসামি সোহেল রানা ও তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তারের বিরুদ্ধে ভিকটিমকে জোরপূর্বক ধর্ষণ করে মৃত্যু ঘটানো ও লাশ গুমে সহযোগিতার অভিযোগ আনা হয়। এরপর তদন্তে মাঠে নামে পুলিশ। ঘটনার ৪ দিনের মাথায় ২৪ মে তদন্তকারী কর্মকর্তা পল্লবী থানার উপ-পরিদর্শক অহিদুজ্জামান চার্জশিট (অভিযোগপত্র) জমা দেন। চার্জশিটে মোট ১৮ জনকে সাক্ষী করা হয়। ওইদিনও মামলাটি বিচারের জন্য ঢাকা মহানগর শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালে পাঠানো হলে সংশ্লিষ্ট ট্রাইব্যুনালের বিচারক মাসরুর সালেকীন চার্জশিট আমলে নেন। অভিযোগ গঠন শুনানির জন্য ১ জুন ধার্য করেন। ঈদের ছুটি শেষে ১ জুন আসামি সোহেল রানা ও স্ত্রীর বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করা হয়। ২ জুন চার্জশিটভূক্ত ১৮ সাক্ষীর মধ্যে ১৬ জনের জবানবন্দি ও জেরার পর সাক্ষ্যগ্রহণ শেষ হয়। পরদিন বুধবার (৩ জুন) আসামিদের আত্মপক্ষ সমর্থনের শুনানি হয়। সেদিন শুনানিতে আসামি সোহেল রানা ও তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তার নিজেদের নির্দোষ দাবি করেন। দুই আসামির বক্তব্য রেকর্ড শেষে যুক্তিতর্ক উপস্থাপনের জন্য বৃহস্পতিবার ধার্য করেন আদালত। রাষ্ট্রপক্ষে এ মামলার বিশেষ পাবলিক প্রসিকিউটর পিপি আজিজুর রহমান দুলু যুক্তি উপস্থাপন করেন। এসময় সাক্ষীদের জবানবন্দি পর্যায়ক্রমে পড়ে শোনান তিনি এবং আসামিদের সর্বোচ্চ শাস্তি প্রার্থনা করেন। অপরদিকে আসামিপক্ষে রাষ্ট্র নিযুক্ত আইনজীবী মুসা কালিমুল্যাহ যুক্তি উপস্থাপন করেন। শুনানিতে তিনি আসামি সোহেল রানার সর্বনিম্ন শাস্তি যাবজ্জীবন কারাদণ্ড প্রার্থনা। অপর আসামি স্বপ্নার শুধুমাত্র লাশ গুম চেষ্টায় সহযোগিতার আপরাধের শাস্তি চান। পরে আদালত রায় ঘোষণার জন্য রোববার ধার্য করেন।

 

ঢাকা মহানগর দায়রা জজ আদালতের পাবলিক প্রসিকিউটর ওমর ফারুক ফারুকী ঢাকা পোস্টকে বলেন, এই শিশুটির সাথে যা হয়েছে এর বর্ণনা শুনে পুরো দেশের মানুষ স্তব্ধ। এ নৃশংস ঘটনা যারা ঘটিয়েছে তাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি হোক এটা সবার চাওয়া। যারা সাক্ষী দিয়েছে তারা ঘটনার ভয়াবহ বর্ণনা দিতে গিয়ে বারবার আপ্লূত হয়েছেন। আদালতে ও এজলাসের বাইরে উপস্থিত সকলেই এই নৃশংসতার বর্ণনা শুনে অঝোরে কেঁদেছেন।

 

প্রসিকিউটর ফারুকী বলেন, এটা একটা চাঞ্চল্যকর মামলা। আমি মনে করি সরকার এখানে যথেষ্ট আন্তরিক। ঘটনার পরপরই আসামিদের গ্রেপ্তার, আদালতে তদন্ত প্রতিবেদন জমা ও পরবর্তীতে বিচার শুরু প্রক্রিয়া যৌক্তিকভাবে দ্রুততম সময়ে হয়েছে। সাক্ষ্যগ্রহণ শুরুর প্রথম দিনেই সমাপ্ত করা গেছে। এখানে আদালতের আন্তরিকতা, সাক্ষীদের স্ব-প্রণোদিত অংশগ্রহণ ইতিবাচক ভূমিকা রেখেছে। আশা করছি আসামিদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত হবে। দেশের মানুষ ন্যায়বিচার চায়, বিচার ব্যবস্থায় আস্থা রাখতে চায়। দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত হলে সমাজে এমন ঘৃণ্য অপরাধ প্রবণতা কমে আসবে।

 

মামলার সূত্রে জানা যায়, রামিসা পপুলার মডেল হাই স্কুলের দ্বিতীয় শ্রেণির ছাত্রী ছিল। গত ১৯ মে সকাল সাড়ে ৯টার দিকে ঘর থেকে বের হলে স্বপ্না তাকে কৌশলে রুমের ভেতরে নেয়। ওইদিন সকাল সাড়ে ১০টার দিকে রামিসাকে স্কুলে যাওয়ার জন্য খোঁজাখুঁজি করতে থাকেন তার মা। একপর্যায়ে আসামির রুমের সামনে শিশুটির জুতা দেখতে পান তিনি। ডাকাডাকির পর কোনও সাড়াশব্দ না পেয়ে রামিসার বাবা-মা এবং অন্যান্য ফ্ল্যাটের লোকজন দরজা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করে আসামির শয়নকক্ষের মেঝেতে রামিসার মস্তকবিহীন মরদেহ এবং মাথা রুমের ভেতরে একটি বড় বালতির মধ্যে দেখতে পান। জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯ এর মাধ্যমে কল পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে স্বপ্নাকে হেফাজতে নেয়। তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় নারায়নগঞ্জ জেলার ফতুল্লা থানার সামনে থেকে সোহেল রানাকে গ্রেপ্তারে সক্ষম হয় পুলিশ।

 

এ ঘটনায় ২০ মে ভিকটিমের বাবা আব্দুল হান্নান মোল্লা বাদী হয়ে পল্লবী থানায় মামলা দায়ের করেন।

শিশু রামিসা ধর্ষণ ও হত্যা: রায় ঘোষণা আজ

এফসিপিএস ট্রেনিং সংক্রান্ত স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের সিদ্ধান্ত বাতিল এবং ইন্টার্ন ও ট্রেইনি চিকিৎসকদের বেতন বৃদ্ধিসহ ৬ দফা দাবিতে অনির্দিষ্টকালের জন্য সব ধরনের ক্লাস, ওয়ার্ড ও পরীক্ষা বর্জনের ঘোষণা দিয়েছেন বরিশালের শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজের (শেবাচিম) সাধারণ শিক্ষার্থীরা।

 

আজ শনিবার (৬ জুন) কলেজের ৫৪, ৫৫, ৫৬ ও ৫৭ ব্যাচের শিক্ষার্থীদের পক্ষে এক যৌথ বিবৃতিতে দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত এই কঠোর আন্দোলনের ঘোষণা দেওয়া হয়।

 

শিক্ষার্থীদের ঘোষিত ৬ দফা দাবির মধ্যে প্রধান দাবিটি হলো— স্বাস্থ্য শিক্ষা ও পরিবার কল্যাণ বিভাগ কর্তৃক গত ১৯ মে গৃহীত এফসিপিএস ট্রেনিং সংক্রান্ত ‘বৈষম্যমূলক’ সিদ্ধান্ত আগামী ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে বাতিল করে নতুন নির্দেশনা জারি করা।

 

অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে— বিসিএস স্বাস্থ্য ক্যাডারে চাকরিতে প্রবেশের বয়সসীমা বাড়িয়ে ৩৪ বছর করা, চিকিৎসকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালের আওতায় ‘স্বাস্থ্যকর্মী নিরাপত্তা আইন’ প্রণয়ন করা, ইন্টার্ন ডাক্তারদের মাসিক বেতন ৩০ হাজার টাকা এবং বেসরকারি ট্রেইনি চিকিৎসকদের বেতন ৫০ হাজার টাকায় উন্নীত করাসহ বেসরকারি চিকিৎসকদের জন্য সুনির্দিষ্ট বেতন কাঠামো তৈরি করা।

 

এছাড়া, বিএমডিসি-২০২৩ অধ্যাদেশের খসড়া আইনে রূপান্তর করে ভুয়া চিকিৎসকদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া এবং বিসিপিএস ও বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বিএমইউ) সকল ভর্তি পরীক্ষার ফি সর্বোচ্চ ১০০০ টাকার মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখার দাবি জানিয়েছেন আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা।

 

বিবৃতিতে শিক্ষার্থীরা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, দেশের স্বাস্থ্য ব্যবস্থার মূল চালিকাশক্তি হওয়া সত্ত্বেও সর্বস্তরের চিকিৎসক সমাজ আজ চরম বৈষম্য, অবহেলা আর নিরাপত্তাহীনতার মুখোমুখি। দেয়ালে পিঠ ঠেকে যাওয়ার কারণে পেশাগত মর্যাদা ও ন্যায্য অধিকার রক্ষায় তারা রাজপথে নামতে বাধ্য হয়েছেন। দাবি অবিলম্বে মেনে না নেওয়া পর্যন্ত চলমান এই ছাত্র ধর্মঘট ও চিকিৎসাসেবা কার্যক্রম স্থগিত রাখার সিদ্ধান্ত বহাল থাকবে বলেও জানিয়ে দিয়েছেন শিক্ষার্থীরা।

৬ দাবিতে অনির্দিষ্টকালের জন্য ক্লাস-পরীক্ষা বর্জন শের-ই-বাংলা মেডিকেল শিক্ষার্থীদের

পবিত্র ঈদুল আজহা ও গ্রীষ্মকালীন অবকাশের টানা ছুটি শেষে খুলছে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান। দীর্ঘ ১৬ দিনের বিরতির পর আজ রোববার (৭ জুন) থেকে দেশের সরকারি ও বেসরকারি প্রাথমিক ও মাধ্যমিক বিদ্যালয় এবং কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের অধীন প্রতিষ্ঠানগুলোতে শুরু হবে নিয়মিত পাঠদান। এতে দুই সপ্তাহেরও বেশি সময় পর শ্রেণিকক্ষে ফিরছে শিক্ষার্থীরা।

 

‎‎ছুটির তালিকা অনুযায়ী, সরকারি-বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, মাধ্যমিক বিদ্যালয়, কলেজ এবং কারিগরি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতে ছুটি চলে বৃহস্পতিবার (৪ জুন) পর্যন্ত। এরপর ৫ ও ৬ জুন সাপ্তাহিক ছুটি থাকায় পাঠদান শুরু হচ্ছে আজ রবিবার (৭ জুন) থেকে। ‎

 

‎অন্যদিকে, দেশের সব মাদ্রাসার আলিয়া, দাখিল, আলিম, ফাজিল ও কামিল স্তরের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো খুলবে আরও দেরিতে। মাদ্রাসা শিক্ষাপঞ্জি অনুযায়ী, ২৪ মে থেকে ছুটি শুরু হয়ে চলবে ১১ জুন (বৃহস্পতিবার) পর্যন্ত। পরবর্তী ১২ ও ১৩ জুন সাপ্তাহিক ছুটি থাকায় ১৪ জুন (রবিবার) থেকে পুনরায় শ্রেণিকক্ষ খুলবে।

 

গত ২৪ মে ছুটি শুরু হওয়ার কথা থাকলেও শিক্ষার্থীরা মূলত ২১ মে ক্লাসের পরেই ছুটিতে যাওয়ার সুযোগ পান। ২২ ও ২৩ মে শুক্র ও শনিবারের সাপ্তাহিক ছুটি ছিল।

 

এদিকে, ঈদুল আজহার ছুটির সঙ্গে গ্রীষ্মকালীন অবকাশ থাকায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা এক মাসের লম্বা ছুটি পেয়েছেন। তবে বিশ্ববিদ্যালয়ের অফিসসমূহ আগামীকাল সোমবার (৮ জুন) থেকে শুরু হবে।

 

তবে রাজশাহীসহ বেশির ভাগ পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে আগামীকাল রবিবার থেকে শ্রেণিকক্ষে শিক্ষার্থীরা পুনরায় ফিরছেন। তাদের ছুটি শেষ হয়েছে বৃহস্পতিবার। এরপর ৫ ও ৬ জুন সাপ্তাহিক ছুটি থাকায় পাঠদান শুরু হচ্ছে আজ রবিবার থেকে। ‎

দীর্ঘ ছুটি শেষে আজ খুলছে স্কুল-কলেজ

জামালপুর হামলা পাল্টা হামলার মধ্য দিয়ে জেলার সানন্দবাড়ী তে থমথমে অবস্থা বিরাজমান।

error: আপনি নিউজ চুরি করার চেষ্টা করছেন। বিশেষ প্রয়োজনে যোগাযোগ করুন ০১৭৬৭৪৪৪৩৩৩