শহীদ হাদি হত্যাকাণ্ড নিয়ে মুখ খুললেন মমতা - Gono television | বাংলাদেশ সরকার অনুমোদিত বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেল।
শহীদ হাদি হত্যাকাণ্ড নিয়ে মুখ খুললেন মমতা

শহীদ হাদি হত্যাকাণ্ড নিয়ে মুখ খুললেন মমতা

পশ্চিমবঙ্গের সদ্য সাবেক মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের এক বিস্ফোরক বক্তব্য ঘিরে নতুন করে আলোড়ন শুরু হয়েছে ভারত ও বাংলাদেশের রাজনৈতিক মহলে।

 

কলকাতার ঝর্ণা মঞ্চে মঙ্গলবার (২ জুন) বিজেপির বিরুদ্ধে অবস্থান কর্মসূচি থেকে তিনি দাবি করেছেন, গত বছরের ডিসেম্বরে বাংলাদেশে ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র হাদি হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত কয়েকজন ব্যক্তি মেঘালয় হয়ে পশ্চিমবঙ্গে পালিয়ে এসেছিল। পশ্চিমবঙ্গ পুলিশের বিশেষ টাস্ক ফোর্স তাদের গ্রেফতার করলেও পরবর্তীতে বিষয়টি নিয়ে প্রকাশ্যে কিছু বলতে নিষেধ করা হয়।

 

মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, দেশের স্বার্থে, নিরাপত্তার স্বার্থে এবং দুই দেশের সম্পর্কের স্বার্থে তিনি এতদিন এ বিষয়ে মুখ খোলেননি। তবে বর্তমানে যে রাজনৈতিক পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে, তাতে অনেক অপ্রকাশিত বিষয় সামনে আনার প্রয়োজন দেখা দিয়েছে।মুখ্যমন্ত্রীর দাবি, গ্রেফতারের পর বিষয়টি নিয়ে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে অবহিত করা হয়েছিল। কিন্তু পরবর্তীতে রাজ্য পুলিশ প্রশাসনকে এ বিষয়ে প্রকাশ্যে কোনও মন্তব্য না করার নির্দেশ দেওয়া হয়। তিনি বলেন, চাইলে তিনি অনেক আগেই বিষয়টি নিয়ে সরব হতে পারতেন, কিন্তু দেশের বৃহত্তর স্বার্থে তা করেননি।

 

তার বক্তব্যের সবচেয়ে তাৎপর্যপূর্ণ অংশ ছিল বাংলাদেশ প্রসঙ্গ। মমতা বলেন, তিনি যদি এ বিষয়ে বিস্তারিত বলতে শুরু করেন, তাহলে বাংলাদেশেও বড় ধরনের রাজনৈতিক প্রতিক্রিয়া দেখা দিতে পারে। সেই কারণেই তিনি এখনও সংযত অবস্থান বজায় রেখেছেন।

 

রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রীর মুখে এ ধরনের মন্তব্য অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। কারণ সীমান্ত নিরাপত্তা, আন্তঃরাষ্ট্র সম্পর্ক এবং গোয়েন্দা তৎপরতা সংক্রান্ত বিষয় সাধারণত প্রকাশ্য রাজনৈতিক মঞ্চে খুব কমই উঠে আসে। এই বক্তব্য এমন এক সময়ে এল, যখন পশ্চিমবঙ্গে বিজেপি ও তৃণমূল কংগ্রেসের সংঘাত নতুন মাত্রা পেয়েছে। সম্প্রতি সোনারপুরে তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের ওপর হামলার অভিযোগকে কেন্দ্র করে দুই দলের মধ্যে তীব্র রাজনৈতিক লড়াই শুরু হয়েছে।

 

তৃণমূলের অভিযোগ, বিরোধী দলের নেতাকর্মীদের পরিকল্পিতভাবে নিশানা করা হচ্ছে। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় তার বক্তব্যে অভিযোগ করেন, পশ্চিমবঙ্গে কেন্দ্রীয় সংস্থাগুলোকে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে ব্যবহার করা হচ্ছে। বিরোধী মতকে দমিয়ে রাখার চেষ্টা চলছে। তার দাবি, দীর্ঘদিন ধৈর্য ধরে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করলেও এখন আর নীরব থাকার সুযোগ নেই। উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো, কয়েকদিন আগেই তিনি ঘোষণা করেছিলেন যে সংবিধান ও গণতন্ত্র রক্ষার প্রশ্নে তিনি রাস্তায় নামবেন। সেই ঘোষণার ধারাবাহিকতায় মঙ্গলবারের কর্মসূচিতে অংশ নিয়ে কেন্দ্রের বিরুদ্ধে সরাসরি রাজনৈতিক আক্রমণ শানান তিনি। রাজনৈতিক মহলের একাংশ মনে করছে, মমতার এই বক্তব্য কেবল পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতির মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকবে না। বাংলাদেশ প্রসঙ্গ এবং সীমান্ত নিরাপত্তা সংক্রান্ত দাবি সামনে আসায় বিষয়টি জাতীয় পর্যায়েও আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে চলে আসতে পারে। এদিকে বিজেপির পক্ষ থেকে এখনও পর্যন্ত এই নির্দিষ্ট অভিযোগের বিস্তারিত প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। তবে রাজনৈতিক মহলে জোর আলোচনা শুরু হয়েছে, মুখ্যমন্ত্রীর বক্তব্যের পেছনে কী তথ্য রয়েছে এবং আগামী দিনে তিনি এ বিষয়ে আরও কোনও তথ্য প্রকাশ করেন কি না, তা নিয়ে।

 

কলকাতার রাজনৈতিক অঙ্গনে এখন একটাই প্রশ্ন ঘুরপাক খাচ্ছে। দীর্ঘদিন নীরব থাকার পর মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় কেন এখন এই প্রসঙ্গ সামনে আনলেন। সেই উত্তর খুঁজতেই ব্যস্ত রাজনৈতিক মহল।


জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনের সভাপতি নির্বাচিত হলেন বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান।

 

আজ মঙ্গলবার (২ জুন) জাতিসংঘের সদর দফতরে অনুষ্ঠিত নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বি সাইপ্রাসের প্রার্থী আন্দ্রেয়াস এস কাকোরিসকে হারিয়ে বিজয়ী হয়েছেন তিনি।

 

জাতিসংঘের সদর দফতরে স্থানীয় সময় সকাল ১০টায় ভোটগ্রহণ শুরু হয়। এতে ১৯০ টি সদস্য রাষ্ট্র ভোট দেন। বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান পেয়েছেন ৯৯ টি ভোট এবং সাইপ্রাসের প্রার্থী আন্দ্রেয়াস এস কাকোরিস পেয়েছেন ৯১ টি ভোট। আগামী ৮ সেপ্টেম্বর শুরু হতে যাওয়া জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশন-এর সভাপতিত্ব এবং অধিবেশনের কার্যক্রম পরিচালনা করবেন ড. খলিলুর রহমান।

 

এবারের নির্বাচনে ড. খলিলুর রহমানের সভাপতি নির্বাচিত হওয়ার মাধ্যমে দ্বিতীয়বারের মতো জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদ অধিবেশনের সভাপতি পদে বসলো বাংলাদেশ।

 

এর আগে, ১৯৮৬ সালে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৪১তম অধিবেশনে সভাপতির দায়িত্ব পালন করেছিলেন বাংলাদেশের সাবেক পররাষ্ট্রসচিব ও রাজনীতিবিদ হুমায়ুন রশিদ চৌধুরী।

জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের সভাপতি নির্বাচিত হলেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমান

পবিত্র হজ পালন শেষে বাংলাদেশি হাজিদের দেশে ফেরার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। রোববার (৩০ মে) রাত ৩টা পর্যন্ত ১৫টি ফিরতি ফ্লাইটে মোট ৬ হাজার ১৭৫ হাজি দেশে পৌঁছেছেন। এদিকে চলতি বছর সৌদি আরবে অবস্থানরত বাংলাদেশি হাজিদের মধ্যে এখন পর্যন্ত ৩৭ জনের মৃত্যু হয়েছে।

 

শনিবার (৩০ মে) রাতে ধর্ম মন্ত্রণালয়ের হজ পোর্টালের আইটি হেল্প ডেস্কের দৈনিক বুলেটিনে এসব তথ্য জানানো হয়েছে। উল্লেখ্য, গত ২৬ মে সৌদি আরবে পবিত্র হজ অনুষ্ঠিত হয়।

 

বুলেটিনে বলা হয়েছে, শনিবার বিকাল সাড়ে ৪টায় মক্কায় বাংলাদেশ মিশনের কনফারেন্স কক্ষে ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিব মুন্সী আলাউদ্দিন আল আজাদের (এনডিসি) সভাপতিত্বে হজ প্রশাসনিক দলের নিয়মিত সমন্বয় সভা অনুষ্ঠিত হয়।

 

সভায় সরকারি ও বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় হজ পালনকারীদের নির্বিঘ্নে দেশে ফেরা নিশ্চিত করার প্রয়োজনীয় করণীয়, আবাসন ও চিকিৎসাসেবার সার্বিক পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা করা হয়। এতে প্রশাসনিক দলের সদস্য, চিকিৎসক এবং আইটি দলের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।

 

বুলেটিনে বলা হয়, ৩০ মে থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে হাজিদের ফিরতি ফ্লাইট কার্যক্রম শুরু হয়েছে। প্রথম ফিরতি ফ্লাইট (এসভি-৫৮০৬) স্থানীয় সময় রাত ২টা ৪ মিনিটে জেদ্দার কিং আব্দুল আজিজ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে ৪৪৫ জন হাজি নিয়ে বাংলাদেশের উদ্দেশে যাত্রা করে। ফ্লাইটটি বাংলাদেশ সময় সকাল ৯টা ৪৫ মিনিটে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করে।

 

দেশে ফেরা ৬ হাজার ১৭৫ হাজির মধ্যে সরকারি ব্যবস্থাপনায় ৪১৬ জন এবং বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় ৫ হাজার ৭৫৯ জন রয়েছেন। ফিরতি যাত্রী পরিবহণে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স ১ হাজার ১৮৪ জন, সৌদি এয়ারলাইন্স ১ হাজার ৬৯১ জন এবং ফ্লাইনাস এয়ারলাইন্স ৩ হাজার ৩০০ জন হাজি পরিবহণ করেছে।

 

এ পর্যন্ত মোট ১৫টি ফিরতি ফ্লাইট পরিচালিত হয়েছে। এরমধ্যে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স ৩টি, সৌদি এয়ারলাইন্স ৪টি এবং ফ্লাইনাস ৮টি ফ্লাইট পরিচালনা করেছে।

 

অন্যদিকে সৌদি আরবে এ পর্যন্ত মোট ৩৭ জন বাংলাদেশি হাজির মৃত্যু হয়েছে। তাদের মধ্যে ২৪ জন পুরুষ ও ১৩ জন নারী। মক্কায় ২৭ জন এবং মদিনায় ১০ জনের মৃত্যু হয়েছে।

 

বুলেটিনে আরও জানানো হয়, সৌদি আরবের বিভিন্ন স্থানীয় হাসপাতালে মোট ১৭৬ হাজি চিকিৎসাসেবা নিয়েছেন। বর্তমানে ২৬ হাজি বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি রয়েছেন।

 

চলতি বছর বাংলাদেশ থেকে সরকারি ব্যবস্থাপনায় ৪ হাজার ৫৬৫ জন এবং বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় ৭৩ হাজার ৯৩৫ জন হজযাত্রীর কোটা নির্ধারণ করা হয়। হজযাত্রীদের সৌদি আরবগামী প্রথম ফ্লাইট ছিল ১৮ এপ্রিল এবং শেষ ফ্লাইট ২১ মে। অন্যদিকে ফিরতি ফ্লাইট কার্যক্রম শুরু হয়েছে ৩০ মে থেকে, যা চলবে আগামী ৩০ জুন পর্যন্ত।

এবার হজে গিয়ে মারা গেছেন ৩৭ বাংলাদেশি

সৌদি আরবসহ মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোতে আজ বুধবার (২৭ মে) ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্য ও উৎসবমুখর পরিবেশে উদযাপিত হচ্ছে পবিত্র ঈদুল আজহা। ঈদের নামাজ, পশু কুরবানি এবং হজের আনুষ্ঠানিকতার মধ্য দিয়ে মুসলিম বিশ্বের অন্যতম বড় এই ধর্মীয় উৎসব পালন করছেন ধর্মপ্রাণ মুসলমানরা।

 

পবিত্র হজের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ আনুষ্ঠানিকতা ‘উকুফে আরাফা’ সম্পন্ন হওয়ার পরই মধ্যপ্রাচ্যে ঈদুল আজহার আনুষ্ঠানিকতা শুরু হয়েছে। মঙ্গলবার (২৬ মে) জিলহজ মাসের নবম দিনে বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে আসা প্রায় ১৬ লাখ হাজি সৌদি আরবের আরাফাত ময়দানে সমবেত হন। ভোর থেকেই শুভ্র ইহরামে সজ্জিত হাজিদের ‘লাব্বাইক আল্লাহুম্মা লাব্বাইক’ ধ্বনিতে মুখর হয়ে ওঠে পুরো আরাফাত প্রান্তর।

 

ইসলামী শরিয়ত অনুযায়ী আরাফাতে অবস্থান করা হজের প্রধান রুকন। সূর্যাস্ত পর্যন্ত হাজিরা আরাফাতের নির্ধারিত সীমানার মধ্যে অবস্থান করে নামাজ, তওবা-ইস্তিগফার, কোরআন তিলাওয়াত ও জিকির-আসকারে সময় কাটান। মহান আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনের আশায় কান্না ও প্রার্থনায় মগ্ন ছিলেন তারা।

 

দুপুরে ঐতিহাসিক নামিরা মসজিদ থেকে হজের খুতবা দেন মসজিদুল হারামের ইমাম ও খতিব শায়খ আলি আল হুদাইফি। এবার বাংলাসহ বিশ্বের ৩৫টি ভাষায় খুতবার অনুবাদ সরাসরি সম্প্রচার করা হয়। খুতবায় তিনি মুসলিম উম্মাহর ঐক্য, ইসলামী মূল্যবোধ প্রতিষ্ঠা এবং বিশ্বশান্তি বজায় রাখার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

 

খুতবা শেষে হাজিরা জোহর ও আসরের নামাজ একসঙ্গে আদায় করে সূর্যাস্তের পর মুজদালিফার উদ্দেশে রওনা হন। সেখানে খোলা আকাশের নিচে রাতযাপন করেন তারা। একই সঙ্গে মিনায় শয়তানকে পাথর নিক্ষেপের জন্য প্রয়োজনীয় কঙ্কর সংগ্রহ করেন হাজিরা।

 

আজ ১০ জিলহজ সকালে মিনার জামারায় বড় শয়তানকে পাথর নিক্ষেপের মধ্য দিয়ে ঈদুল আজহার মূল আনুষ্ঠানিকতা শুরু হবে। পরে আল্লাহর সন্তুষ্টি লাভের আশায় পশু কুরবানি করবেন হাজিরা। কুরবানি শেষে মাথা মুণ্ডন বা চুল ছেঁটে ইহরাম ত্যাগ করবেন তারা। এরপর কাবা শরিফ তাওয়াফের মধ্য দিয়ে হজের পরবর্তী আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করবেন।

 

এদিকে সংযুক্ত আরব আমিরাতসহ মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে ঈদকে ঘিরে উৎসবের আমেজ বিরাজ করছে। প্রবাসী বাংলাদেশি, পাকিস্তানি ও ভারতীয় মুসলমানদের অনেকে আগেই গরু, ছাগলসহ কুরবানির পশু কিনেছেন। পরিবার ও স্বজনদের সঙ্গে ঈদের আনন্দ ভাগাভাগি করতে নানা প্রস্তুতি নিয়েছেন তারা।

 

হজ ব্যবস্থাপনা নির্বিঘ্ন রাখতে সৌদি সরকার ব্যাপক নিরাপত্তা ও পরিবহন ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে। তীব্র গরমে হাজিদের স্বস্তি দিতে বিভিন্ন স্থানে পানির ফোয়ারা ও ছায়ার ব্যবস্থা করা হয়েছে। পাশাপাশি হাজিদের যাতায়াত সহজ করতে প্রায় ২৪ হাজার বিশেষ বাস পরিচালনা করছে সৌদি কর্তৃপক্ষ।

সৌদি আরবসহ মধ্যপ্রাচ্যে ঈদুল আজহা অনুষ্ঠিত হয়

গত সোমবার শুরু হয়েছে পবিত্র হজ। এরপর মঙ্গলবার (২৬ মে) আরাফাত ময়দানে সমবেত হয়েছেন ১৬ লাখেরও বেশি হাজি।

 

আজ ১০ জিলহজ, বুধবার। ফজরের নামাজ পড়ার পর হাজিরা মুজদালিফা ত্যাগ করে মিনার দিকে রওনা হন। সেখানে তারা জামারাত আল-আকাবায় বড় শয়তানকে প্রথম পাথর নিক্ষেপ করেন।

 

১১, ১২ ও ১৩ জিলহজ—এই তিন দিন ধরে হাজিরা জামারাতের তিনটি স্তম্ভেই (আল-উলা বা ছোট, আল-উস্তা বা মেজ এবং আল-আকাবা বা বড় শয়তান) পাথর নিক্ষেপ করেন।

 

শয়তানের প্রতীকী তিনটি স্তম্ভে পাথর নিক্ষেপের জন্য আগে থেকে সংগ্রহ করে রাখা পাথরগুলো ব্যবহার করবেন হাজিরা।

 

উল্লেখ্য, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের সঙ্গে ইরানের যুদ্ধের কারণে মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতি থাকলেও এবার বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে ১৫ লক্ষাধিক মুসল্লি হজ পালন করতে এসেছেন।

 

ইসলামের পাঁচটি মূল স্তম্ভের একটি হলো হজ। সামর্থ্যবান প্রত্যেক মুসলমানের জীবনে অন্তত একবার হজ পালন করা ফরজ।

 

এবারের হজ মৌসুমে, পবিত্র নগরী মক্কায় তাপমাত্রা ৪৪ ডিগ্রি সেলসিয়াসে পৌঁছেছে। তাই সৌদি কর্তৃপক্ষ হাজিদের বেশি বেশি পানি পান এবং রোদ থেকে সুরক্ষিত থাকার পরামর্শ

আজ শয়তানকে ‘পাথর’ নিক্ষেপ করবেন হাজিরা

১৬ লাখেরও বেশি হাজি আজ মঙ্গলবার আরাফার ময়দানে সমবেত হয়েছেন, যা হজযাত্রার সবচেয়ে পবিত্র ও আধ্যাত্মিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ পর্যায় হিসেবে বিবেচিত। সৌদি প্রেস এজেন্সির প্রতিবেদনে এই দৃশ্যকে গভীর ভক্তি ও প্রার্থনার পরিবেশ হিসেবে বর্ণনা করা হয়েছে।

 

জিলহজ মাসের ৯ তারিখ ভোর থেকে হাজিরা আরাফাতে প্রবেশ করতে শুরু করেন। তারা সারা দিন সেখানে ইবাদত, কোরআন তেলাওয়াত, আল্লাহর স্মরণ ও দোয়ার মাধ্যমে সময় কাটাবেন এবং সূর্যাস্ত পর্যন্ত নির্ধারিত সীমার মধ্যে অবস্থান করবেন।

 

ইসলামি ঐতিহ্যে আরাফাতে অবস্থান (ওকুফে আরাফা) হজের মূল স্তম্ভ হিসেবে বিবেচিত। হজরত মুহাম্মদ (সা.) বলেছেন, “হজ হলো আরাফা”, যা এই দিনের গুরুত্বকে নির্দেশ করে।

 

ইসলামি আলেমদের মতে, এই দিনটি ইসলামি বর্ষপঞ্জির সবচেয়ে পবিত্র দিনগুলোর একটি, যা রহমত, ক্ষমা এবং আত্মিক পরিশুদ্ধির সঙ্গে সম্পর্কিত। এটি নবী মুহাম্মদ (সা.)-এর বিদায় হজের সঙ্গেও সম্পর্কিত, যেখানে তিনি আরাফার ময়দানে তার শেষ খুতবা প্রদান করেছিলেন এবং ন্যায়বিচার, মানবসমতা ও জীবন ও সম্পদের পবিত্রতার শিক্ষা দিয়েছিলেন।

 

দুপুরে আরাফার খুতবা প্রদান করা হবে, যেখানে হাজিদের ধর্মীয় দিকনির্দেশনা দেওয়া হবে এবং এই দিনের গুরুত্ব স্মরণ করিয়ে দেওয়া হবে। এরপর তারা জোহর ও আসর নামাজ একসঙ্গে ও সংক্ষিপ্তভাবে আদায় করবেন, যা নবীর সুন্নাহ অনুসরণ।

 

সারা দিন হাজিরা দোয়ার জন্য হাত তুলবেন, তালবিয়া ও তাকবির পাঠ করবেন এবং ক্ষমা প্রার্থনা করবেন—একটি গভীর বিনয় ও আত্মসমীক্ষার পরিবেশে।

 

মক্কা থেকে প্রায় ২০ কিলোমিটার দক্ষিণ-পূর্বে অবস্থিত আরাফাত একটি উন্মুক্ত সমতলভূমি, যার কেন্দ্রে রয়েছে জাবালে রহমত (মাউন্ট অব মার্সি)। ইসলামি বিশ্বাস অনুযায়ী, এটি আদম (আ.) ও হাওয়া (আ.)-এর পুনর্মিলনের স্থান হিসেবে পরিচিত এবং বিশ্ব মুসলিমদের কাছে গভীর তাৎপর্যপূর্ণ।

 

এর আগে হাজিরা মিনায় ‘ইয়াওমুত তারবিয়া’ পালন করেন, যেখানে তারা হজের সবচেয়ে কঠিন অংশের জন্য শারীরিক ও মানসিক প্রস্তুতি নেন।

 

সৌদি কর্তৃপক্ষ হাজিদের নিরাপদ চলাচল ও ব্যবস্থাপনার জন্য ব্যাপক পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে, যার মধ্যে রয়েছে ভিড় নিয়ন্ত্রণ, চিকিৎসা সেবা, পরিবহন ব্যবস্থা এবং জরুরি প্রতিক্রিয়া ইউনিট।

 

তাপমাত্রা ৪৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস ছাড়িয়ে যাওয়ায় স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষ সতর্কতা জারি করে হাজিদের পর্যাপ্ত পানি পান ও সরাসরি রোদ এড়িয়ে চলার পরামর্শ দিয়েছে।

 

সূর্যাস্তের পর হাজিরা আরাফাত থেকে মুজদালিফার উদ্দেশে রওনা দেন, যেখানে তারা মাগরিব ও এশার নামাজ একসঙ্গে আদায় করবেন এবং পরবর্তী রীতিনীতির আগে রাতটি ইবাদত ও বিশ্রামে কাটাবেন।

 

সূত্র: আরব নিউজ

আরাফার ময়দানে সমবেত ১৬ লাখেরও বেশি হাজি

সৌদি আরবে শুরু হয়েছে পবিত্র হজের মূল আনুষ্ঠানিকতা। আজ সোমবার (২৫ মে) ভোর থেকে ‘লাব্বাইক আল্লাহুম্মা লাব্বাইক’ ধ্বনিতে মুখরিত হয়ে উঠেছে পবিত্র মক্কা নগরী।

 

বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে আসা লাখো মুসলমান এখন তাঁবুর শহর হিসেবে পরিচিত মিনাতে সমবেত হচ্ছেন। আজ দুপুর পর্যন্ত হাজিদের মিনায় পৌঁছানোর প্রক্রিয়া চলবে বলে জানিয়েছে সৌদি গেজেট।

 

হজযাত্রীরা ৮ জিলহজ থেকে মিনায় অবস্থান করে পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ আদায় করবেন। এই দিনটি ‘ইয়াওমুত তারভিয়া’ নামে পরিচিত। সৌদি হজ কর্তৃপক্ষের নির্দেশনা অনুযায়ী এর আগেই অনেক দেশের হাজি, বিশেষ করে বাংলাদেশি হাজিরা মিনায় পৌঁছে যান।

 

এরপর ৯ জিলহজ (মঙ্গলবার) হাজিরা রওনা হবেন আরাফাতের উদ্দেশে। সেখানে তারা জোহর ও আসরের নামাজ একত্রে আদায় করবেন এবং সূর্যাস্ত পর্যন্ত অবস্থান করবেন। এই অবস্থানকেই হজের মূল রুকন হিসেবে বিবেচনা করা হয়।

 

সূর্যাস্তের পর হাজিরা মুজদালিফায়ের উদ্দেশে যাত্রা করবেন এবং সেখানে রাতযাপন শেষে পরদিন মিনায় ফিরে শয়তানকে কঙ্কর নিক্ষেপ, পশু কোরবানি ও মাথা মুণ্ডনসহ হজের গুরুত্বপূর্ণ বিধান পালন করবেন।

 

বিশ্বজুড়ে প্রায় ১৮ লাখ মুসলমান এবারের হজে অংশ নিচ্ছেন। চলতি বছর বাংলাদেশ থেকে প্রায় ৭৮ হাজারের বেশি হজযাত্রী পবিত্র এ ধর্মীয় অনুষ্ঠান পালন করছেন।

মিনায় পৌঁছাচ্ছেন লাখো হজযাত্রী, ‘লাব্বাইক আল্লাহুম্মা লাব্বাইক’ ধ্বনিতে মুখরিত মক্কা

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

পশ্চিমবঙ্গের সদ্য সাবেক মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের এক বিস্ফোরক বক্তব্য ঘিরে নতুন করে আলোড়ন শুরু হয়েছে ভারত ও বাংলাদেশের রাজনৈতিক মহলে।

 

কলকাতার ঝর্ণা মঞ্চে মঙ্গলবার (২ জুন) বিজেপির বিরুদ্ধে অবস্থান কর্মসূচি থেকে তিনি দাবি করেছেন, গত বছরের ডিসেম্বরে বাংলাদেশে ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র হাদি হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত কয়েকজন ব্যক্তি মেঘালয় হয়ে পশ্চিমবঙ্গে পালিয়ে এসেছিল। পশ্চিমবঙ্গ পুলিশের বিশেষ টাস্ক ফোর্স তাদের গ্রেফতার করলেও পরবর্তীতে বিষয়টি নিয়ে প্রকাশ্যে কিছু বলতে নিষেধ করা হয়।

 

মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, দেশের স্বার্থে, নিরাপত্তার স্বার্থে এবং দুই দেশের সম্পর্কের স্বার্থে তিনি এতদিন এ বিষয়ে মুখ খোলেননি। তবে বর্তমানে যে রাজনৈতিক পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে, তাতে অনেক অপ্রকাশিত বিষয় সামনে আনার প্রয়োজন দেখা দিয়েছে।মুখ্যমন্ত্রীর দাবি, গ্রেফতারের পর বিষয়টি নিয়ে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে অবহিত করা হয়েছিল। কিন্তু পরবর্তীতে রাজ্য পুলিশ প্রশাসনকে এ বিষয়ে প্রকাশ্যে কোনও মন্তব্য না করার নির্দেশ দেওয়া হয়। তিনি বলেন, চাইলে তিনি অনেক আগেই বিষয়টি নিয়ে সরব হতে পারতেন, কিন্তু দেশের বৃহত্তর স্বার্থে তা করেননি।

 

তার বক্তব্যের সবচেয়ে তাৎপর্যপূর্ণ অংশ ছিল বাংলাদেশ প্রসঙ্গ। মমতা বলেন, তিনি যদি এ বিষয়ে বিস্তারিত বলতে শুরু করেন, তাহলে বাংলাদেশেও বড় ধরনের রাজনৈতিক প্রতিক্রিয়া দেখা দিতে পারে। সেই কারণেই তিনি এখনও সংযত অবস্থান বজায় রেখেছেন।

 

রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রীর মুখে এ ধরনের মন্তব্য অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। কারণ সীমান্ত নিরাপত্তা, আন্তঃরাষ্ট্র সম্পর্ক এবং গোয়েন্দা তৎপরতা সংক্রান্ত বিষয় সাধারণত প্রকাশ্য রাজনৈতিক মঞ্চে খুব কমই উঠে আসে। এই বক্তব্য এমন এক সময়ে এল, যখন পশ্চিমবঙ্গে বিজেপি ও তৃণমূল কংগ্রেসের সংঘাত নতুন মাত্রা পেয়েছে। সম্প্রতি সোনারপুরে তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের ওপর হামলার অভিযোগকে কেন্দ্র করে দুই দলের মধ্যে তীব্র রাজনৈতিক লড়াই শুরু হয়েছে।

 

তৃণমূলের অভিযোগ, বিরোধী দলের নেতাকর্মীদের পরিকল্পিতভাবে নিশানা করা হচ্ছে। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় তার বক্তব্যে অভিযোগ করেন, পশ্চিমবঙ্গে কেন্দ্রীয় সংস্থাগুলোকে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে ব্যবহার করা হচ্ছে। বিরোধী মতকে দমিয়ে রাখার চেষ্টা চলছে। তার দাবি, দীর্ঘদিন ধৈর্য ধরে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করলেও এখন আর নীরব থাকার সুযোগ নেই। উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো, কয়েকদিন আগেই তিনি ঘোষণা করেছিলেন যে সংবিধান ও গণতন্ত্র রক্ষার প্রশ্নে তিনি রাস্তায় নামবেন। সেই ঘোষণার ধারাবাহিকতায় মঙ্গলবারের কর্মসূচিতে অংশ নিয়ে কেন্দ্রের বিরুদ্ধে সরাসরি রাজনৈতিক আক্রমণ শানান তিনি। রাজনৈতিক মহলের একাংশ মনে করছে, মমতার এই বক্তব্য কেবল পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতির মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকবে না। বাংলাদেশ প্রসঙ্গ এবং সীমান্ত নিরাপত্তা সংক্রান্ত দাবি সামনে আসায় বিষয়টি জাতীয় পর্যায়েও আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে চলে আসতে পারে। এদিকে বিজেপির পক্ষ থেকে এখনও পর্যন্ত এই নির্দিষ্ট অভিযোগের বিস্তারিত প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। তবে রাজনৈতিক মহলে জোর আলোচনা শুরু হয়েছে, মুখ্যমন্ত্রীর বক্তব্যের পেছনে কী তথ্য রয়েছে এবং আগামী দিনে তিনি এ বিষয়ে আরও কোনও তথ্য প্রকাশ করেন কি না, তা নিয়ে।

 

কলকাতার রাজনৈতিক অঙ্গনে এখন একটাই প্রশ্ন ঘুরপাক খাচ্ছে। দীর্ঘদিন নীরব থাকার পর মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় কেন এখন এই প্রসঙ্গ সামনে আনলেন। সেই উত্তর খুঁজতেই ব্যস্ত রাজনৈতিক মহল।

শহীদ হাদি হত্যাকাণ্ড নিয়ে মুখ খুললেন মমতা

জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনের সভাপতি নির্বাচিত হলেন বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান।

 

আজ মঙ্গলবার (২ জুন) জাতিসংঘের সদর দফতরে অনুষ্ঠিত নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বি সাইপ্রাসের প্রার্থী আন্দ্রেয়াস এস কাকোরিসকে হারিয়ে বিজয়ী হয়েছেন তিনি।

 

জাতিসংঘের সদর দফতরে স্থানীয় সময় সকাল ১০টায় ভোটগ্রহণ শুরু হয়। এতে ১৯০ টি সদস্য রাষ্ট্র ভোট দেন। বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান পেয়েছেন ৯৯ টি ভোট এবং সাইপ্রাসের প্রার্থী আন্দ্রেয়াস এস কাকোরিস পেয়েছেন ৯১ টি ভোট। আগামী ৮ সেপ্টেম্বর শুরু হতে যাওয়া জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশন-এর সভাপতিত্ব এবং অধিবেশনের কার্যক্রম পরিচালনা করবেন ড. খলিলুর রহমান।

 

এবারের নির্বাচনে ড. খলিলুর রহমানের সভাপতি নির্বাচিত হওয়ার মাধ্যমে দ্বিতীয়বারের মতো জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদ অধিবেশনের সভাপতি পদে বসলো বাংলাদেশ।

 

এর আগে, ১৯৮৬ সালে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৪১তম অধিবেশনে সভাপতির দায়িত্ব পালন করেছিলেন বাংলাদেশের সাবেক পররাষ্ট্রসচিব ও রাজনীতিবিদ হুমায়ুন রশিদ চৌধুরী।

জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের সভাপতি নির্বাচিত হলেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমান

ইসলামী ব্যাংকের চেয়ারম্যান খুরশিদ আলমের পদত্যাগের দাবিতে নীলফামারীতে মানববন্ধন

 

মাইদুল ইসলাম: (জেলা প্রতিনিধি নীলফামারী)

০২/জুন/২০২৬: ইসলামী ব্যাংকের সদ্য নিয়োগপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান মোঃ খুরশিদ আলমের পদত্যাগের দাবীতে নীলফামারীতে মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়েছে। আজ মঙ্গলবার (২ জুন ) দুপুর ১২টায় ইসলামী ব্যাংক সচেতন গ্রাহক ফোরাম নীলফামারী জেলা শাখার উদ্যোগে ঘন্টা ব্যাপী এই মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। এ সময় ইসলামী ব্যাংক সচেতন গ্রাহক ফোরাম নীলফামারী জেলা শাখার সদস্য সচিব আরিফ আল মামুনের সঞ্চালনায় বক্তব্য রাখেন সচেতন গ্রাহক ফোরামের আহ্বায়ক মোস্তাকিমুল ইসলাম, সদস্য মাওলানা নাজমুল হুদা, ময়নুল ইসলাম, এনামুল হক প্রমুখ। বক্তারা বলেন অবিলম্বে ইসলামী ব্যাংক থেকে ব্যাংক লুটেরা এস আলম গ্রুপের উত্তরসূরিদের অপসারণ করতে হবে এবং ফ্যাসিবাদদের দোসর খুরশিদ আলমের চেয়ারম্যান হিসেবে নিয়োগ বাতিল করতে হবে। তা না হলে ইসলামী ব্যাংকের কোটি কোটি গ্রাহক রাজপথে দুর্বার আন্দোলন গড়ে তুলবে। ইসলামী ব্যাংক নীলফামারী শাখা কার্যালয়ের সামনে অনুষ্ঠিত মানববন্ধনে ইসলামী ব্যাংকের গ্রাহক ছাড়াও বিভিন্ন শ্রেণী পেশার বিপুল সংখ্যক মানুষ অংশ নেয়।

ইসলামী ব্যাংকের চেয়ারম্যান খুরশিদ আলমের পদত্যাগের দাবিতে নীলফামারীতে মানববন্ধন

সারা দেশে গত ২৪ ঘণ্টায় হামের উপসর্গ নিয়ে আরও ৬ শিশু প্রাণ হারিয়েছে। তবে এ সময়ে হামের নিশ্চিত সংক্রমণে কারো মৃত্যু হয়নি।

 

এ নিয়ে মোট মৃতের সংখ্যা বেড়ে হয়েছে ৫৯৪।

 

মঙ্গলবার স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের দেওয়া এক বার্তায় এ তথ্য জানানো হয়।

 

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, এ হিসাব সোমবার সকাল ৮টা থেকে আজ সকাল ৮টা পর্যন্ত। হামে নিশ্চিত মৃত্যুর সংখ্যা ৯০। আর হামের উপসর্গ নিয়ে মারা গেছে ৫০৪ জন।

 

গত ২৪ ঘণ্টায় ৪২ নিশ্চিত হামের সংক্রমণ শনাক্ত হয়েছে। এ পর্যন্ত নিশ্চিত হামে আক্রান্ত হয়েছে ৯ হাজার ১৩৬ জন।

 

একই সময়ে এক হাজার ২৯২ শিশুর শরীরে হামের উপসর্গ পাওয়া গেছে। এতে করে মোট সন্দেহভাজন সংক্রমণের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৭৩ হাজার ৩৬২ জনে।

হামের উপসর্গে প্রাণ হারাল আরও ৬ শিশু

দেশের ব্যাংক খাতে গত তিন মাসে ৩১ হাজার ৪৮৭ কোটি টাকা খেলাপি ঋণ বেড়েছে। আর মার্চ শেষে দেশের ব্যাংক খাতে খেলাপি ঋণের পরিমাণ ছাড়িয়েছে ৫ লাখ ৮৮ হাজার কোটি টাকা।

 

মঙ্গলবার (২ জুন) বাংলাদেশ ব্যাংকের সর্বশেষ প্রতিবেদন থেকে এসব তথ্য জানা গেছে।

 

এছাড়া দেশে চলতি মাসে খেলাপি ঋণ বেড়েছে তিন হাজার ৭৫৩ কোটি টাকা। নীতি সহায়তা ও নির্বাচনের আগে প্রার্থীরা ঋণ পুনঃতপশিল করে নেওয়ার পরেও খেলাপি ঋণ বাড়ার ঘটনা ঘটল।

 

মার্চ শেষে দেশে মোট খেলাপির পরিমাণ দাঁড়িয়েছে পাঁচ লাখ ৮৮ হাজার ৭০৪ কোটি টাকায়। যা মোট বিতরণকৃত ঋণের ৩২ দশমিক ২৬ শতাংশ।

 

তিন মাসে খেলাপির হার বেড়েছে ১ দশমিক ৬৬ শতাংশ। আর গত বছরের ডিসেম্বর শেষে খেলাপির হার ছিল ৩০ দশমিক ৬ শতাংশ।

তিন মাসে খেলাপি ঋণ বেড়েছে ৩১ হাজার কোটি টাকা

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেছেন, সীমান্তে যেকোনো ধরনের অবৈধ পুশইন বা পুশব্যাকের বিরুদ্ধে বাংলাদেশ অবস্থান নিয়েছে। তবে বৈধ প্রক্রিয়ায় পরিচয় যাচাই শেষে কোনো বাংলাদেশি নাগরিককে ফেরত পাঠানোর বিষয় হলে তা আইনানুগভাবে বিবেচনা করা হবে।

 

মঙ্গলবার (২ জুন) সচিবালয়ে নিজ মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন।

 

ভারতের সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ) ও বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের (বিজিবি) মহাপরিচালক পর্যায়ের আসন্ন বৈঠকে সীমান্তসংক্রান্ত সব বিষয় উত্থাপন করা হবে বলেও জানান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।

 

এসময় সীমান্তে হত্যাকাণ্ডের প্রসঙ্গে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘বর্ডার কিলিং’ বলতে সাধারণত সীমান্ত বা শূন্যরেখায় এক দেশের বাহিনীর হাতে অন্য দেশের নাগরিক নিহত হওয়ার ঘটনাকে বোঝায়। কোনো ব্যক্তি অবৈধভাবে অন্য দেশের ভূখণ্ডে প্রবেশ করে সেখানে আইন ভঙ্গ করলে সংশ্লিষ্ট দেশ তাদের নিজস্ব আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নিতে পারে।

 

সংবাদ সম্মেলনে জঙ্গল সলিমপুরের সন্ত্রাসীদের নির্মূলে সরকারের কোনো বিশেষ পরিকল্পনা আছে কিনা? এমন প্রশ্নের উত্তরে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, আমরা আমাদের পরিকল্পনাটা এখনই ফাঁস করতে চাই না। কারণ এগুলো তথ্য ফাঁস হয়ে গেলে আমাদের রেসকিউ অভিযান ও অপারেশনে অসুবিধা হয়।

সীমান্তে অবৈধ পুশইন-পুশব্যাকের বিরুদ্ধে অবস্থান নেয়া হয়েছে

২০২৭ সালের এসএসসি পরীক্ষার সূচি পরিবর্তন হতে পারে: শিক্ষামন্ত্রী

স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন বলেছেন, ডেঙ্গু রোগীদের ফ্রি চিকিৎসা দেওয়া হবে। ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণে সারা দেশে কঠোরভাবে মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করা হবে।

 

মঙ্গলবার (২ জুন) দুপুরে সচিবালয়ে বেসরকারি হাসপাতাল এবং ডায়গনস্টিক সেন্টারের মালিকদের সাথে ডেঙ্গু প্রতিরোধ নিয়ে এক সভায় তিনি এসব কথা বলেন।

 

তিনি বলেন, ডেঙ্গু রোগীদের জন্য বেসরকারি মেডিকেল কলেজগুলোতে ১০ শতাংশ শয্যা (বেড) ফাঁকা রাখা হবে। পাশাপাশি পরীক্ষায় ৮০ শতাংশ ছাড় পাবে রোগীরা। সেই সঙ্গে তাদের বিনা মূল্যে চিকিৎসা দেওয়া হবে। তবে খাবার ও ওষুধের খরচ রোগীকেই বহন করতে হবে।

 

স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, মশার লার্ভা ধ্বংসের জন্য বিশেষ ওষুধ ব্যবহার করা হবে। এখন পর্যন্ত চারজন ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়েছেন। এটা একটা জাতীয় সমস্যা এটা মোকাবেলায় শুধু সরকার নয়, সবাইকে এগিয়ে আসতে হবে।

 

ডেঙ্গু প্রতিরোধে আগামী শনিবার থেকে সারাদেশে তিনমাসের সচেতনতা কার্যক্রম শুরু হবে বলেও জানান স্বাস্থ্যমন্ত্রী। সঠিকভাবে যেন এই রোগের চিকিৎসা দিতে পারেন এজন্য চিকিৎসকদের ডেঙ্গু প্রোটোকলের উপর প্রশিক্ষণ দেয়া হবে।

 

একইসাথে সিটি কর্পোরেশন এলাকার প্রতিটি বাড়ি ও প্রতিষ্ঠানে মশার প্রজনন যেন না হয় সে বিষয়ে কর্পোরেশনের পক্ষ থেকে কাজ করা হবে।

ডেঙ্গুতে বেড ও চিকিৎসা ফ্রি, পরীক্ষার খরচে ৮০ শতাংশ ছাড়ের নির্দেশ

ফেনীতে এক বাবার আবেদন: মেয়ের নিরাপত্তায় বৈধ শটগান চাই

 

 

প্রতিনিধি:রহিম আলী জাবেদ

 

ফেনীর সোনাগাজীতে কন্যা সন্তানের ভবিষ্যৎ নিরাপত্তার কথা বিবেচনা করে বৈধভাবে একটি শটগানের লাইসেন্স ও অস্ত্র বরাদ্দ চেয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে আবেদন করেছেন এক ব্যক্তি। সম্প্রতি

 

আবেদনপত্রটির ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে বিষয়টি নিয়ে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়।

 

আবেদনকারী তানজিরুল ইসলাম সজীব উপজেলার চরদরবেশ ইউনিয়নের বাসিন্দা। গত ৩১ মে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কাছে পাঠানো আবেদনে তিনি উল্লেখ করেন, বর্তমানে তার সাত বছর বয়সী

 

একটি কন্যা সন্তান রয়েছে। দেশের বর্তমান সামাজিক পরিস্থিতি এবং বিভিন্ন অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনার প্রেক্ষাপটে সন্তানের নিরাপত্তা নিয়ে তিনি উদ্বিগ্ন।

 

আবেদনে তিনি বলেন, একজন দায়িত্বশীল বাবা হিসেবে পরিবারের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আত্মরক্ষার স্বার্থে একটি বৈধ আগ্নেয়াস্ত্র প্রয়োজন বলে তিনি মনে করেন। এ কারণে দেশের প্রচলিত আইন ও বিধিবিধান অনুসরণ করে একটি শটগানের লাইসেন্স ও অস্ত্র বরাদ্দের আবেদন জানিয়েছেন।

 

এতে আরও বলা হয়, অস্ত্রের অপব্যবহার রোধে তিনি সর্বোচ্চ সতর্ক থাকবেন এবং সংশ্লিষ্ট সব আইন ও শর্ত মেনে চলবেন।

 

এদিকে আবেদনপত্রটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর বিষয়টি নিয়ে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। অনেকেই এটিকে একজন পিতার সন্তানের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগের বহিঃপ্রকাশ হিসেবে দেখছেন। অন্যদিকে কেউ কেউ মনে করছেন, ব্যক্তিগত অস্ত্রের পরিবর্তে সামাজিক নিরাপত্তা ব্যবস্থা ও আইনের শাসন আরও শক্তিশালী করা প্রয়োজন।

 

প্রসঙ্গত, বাংলাদেশে আগ্নেয়াস্ত্রের লাইসেন্স পেতে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও জেলা প্রশাসনের নির্ধারিত প্রক্রিয়া অনুসরণ করতে হয়। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের যাচাই-বাছাই শেষে আইন অনুযায়ী যোগ্য বিবেচিত ব্যক্তিদের লাইসেন্স প্রদান করা হয়।

ফেনীতে এক বাবার আবেদন: মেয়ের নিরাপত্তায় বৈধ শটগান চাই

ফেনীতে হেযবুত তাওহীদের কার্যক্রম বন্ধে প্রশাসনের হস্তক্ষেপ চান উজালিয়ার বাসিন্দারা

 

প্রতিনিধি:

 

ফেনী পাঁচগাছিয়া ইউনিয়নের উজালিয়া এলাকায় সম্প্রতি বিতর্কিত সংগঠন হেযবুত তাওহীদের কার্যক্রম বৃদ্ধি পাওয়ায় সাধারণ মানুষের মাঝে উদ্বেগ ও উত্তেজনা সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয় আলেম-উলামা ও সচেতন মহল অভিযোগ করেছেন, সংগঠনটির বক্তব্য ও কার্যক্রম ইসলামের মূলধারার আকীদা-বিশ্বাসের সাথে সম্পূর্ণ সাংঘর্ষিক।

 

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত ১৬ ই মে ফেনী জেলা শিল্পকলা একাডেমিতে উগ্রবাদী সংগঠন হেযবুত তাওহীদ একটি কর্মী সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়, সেখান থেকেই মুলত কর্মীরা এলাকায় এসে বিভিন্ন সভা, লিফলেট বিতরণ ও প্রচারণামূলক কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছে। এ নিয়ে সাধারণ মুসল্লি, মাদরাসা শিক্ষক ও ধর্মপ্রাণ মানুষের মধ্যে অসন্তোষ দেখা দিয়েছে।

 

এলাকার কয়েকজন মুসল্লি জানান, তাদের কিছু বক্তব্য সাধারণ মানুষের ঈমান-আকীদার মধ্যে বিভ্রান্তি তৈরি করছে। আমরা চাই প্রশাসন বিষয়টি গুরুত্বের সাথে দেখুক।

 

স্থানীয় মসজিদের ইমাম বলেন, বাংলাদেশের মুসলমানরা যুগ যুগ ধরে কুরআন-সুন্নাহভিত্তিক আকীদা অনুসরণ করে আসছে। বিভ্রান্তিকর মতবাদ ছড়িয়ে সমাজে ফেতনা সৃষ্টি করা কোনোভাবেই কাম্য নয়।”

 

এ বিষয়ে স্থানীয় এলাকাবাসী ও ধর্মীয় ব্যক্তিবর্গ প্রশাসনের প্রতি দৃষ্টি আকর্ষণ করে বলেন, এলাকায় যেন বিতর্কিত এই হেযবুত তাওহীদ নামক সংগঠন বিভ্রান্তিকর কোন কার্যক্রম পরিচালনা না করে সেদিকে নজরদারি বাড়ানো প্রয়োজন।

ফেনীতে হেযবুত তাওহীদের কার্যক্রম বন্ধে প্রশাসনের হস্তক্ষেপ চান উজালিয়ার বাসিন্দারা

র‌্যাবের চৌকস অভিযানে জীপসহ প্রায় ১১ হাজার ইয়াবার চালান আটক

জামালপুর হামলা পাল্টা হামলার মধ্য দিয়ে জেলার সানন্দবাড়ী তে থমথমে অবস্থা বিরাজমান।

error: আপনি নিউজ চুরি করার চেষ্টা করছেন। বিশেষ প্রয়োজনে যোগাযোগ করুন ০১৭৬৭৪৪৪৩৩৩
%d