দারুননাজাতের কাণ্ডারি: এক নিরলস শিক্ষা-সাধকের জীবনগাথা
দারুননাজাতের কাণ্ডারি: এক নিরলস শিক্ষা-সাধকের জীবনগাথা

দারুননাজাতের কাণ্ডারি: এক নিরলস শিক্ষা-সাধকের জীবনগাথা

দারুননাজাতের কাণ্ডারি: এক নিরলস শিক্ষা-সাধকের জীবনগাথা

 

জাহেদুল ইসলাম আল রাইয়ান

 

★ প্রারম্ভিক জীবন: এক সম্ভ্রান্ত পরিবারের প্রদীপ

 

১৯৬৩ সালের ৩ সেপ্টেম্বর, বরিশাল বিভাগের বরগুনা জেলার বেতাগী উপজেলার শান্ত, সবুজে মোড়া গ্রাম গ্রেদলক্ষীপুরায় এক সম্ভ্রান্ত মুসলিম পরিবারে জন্ম নেন আ.খ.ম. আবু বকর সিদ্দীক—পূর্ণ নাম আবুল খায়ের মুহাম্মদ আবু বকর সিদ্দীক। পিতা মরহুম মাওলানা আব্দুল গনি এবং মাতা মরহুমা মরিয়ম খানমের স্নেহছায়ায় বেড়ে ওঠা এই শিশুটির চোখে হয়তো তখনো ধরা পড়েনি ভবিষ্যতের বিশাল ক্যানভাস, কিন্তু তাঁর ভেতরে নিঃশব্দে বেড়ে উঠছিল এক মহান শিক্ষা-সাধকের বীজ, যা কালক্রমে রূপ নেবে হাজার হাজার শিক্ষার্থীর জীবন বদলে দেওয়া এক মহীরুহে। ১৯৯৩ সালে তিনি বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন ফয়রা দরবারের প্রসিদ্ধ পীর আলহাজ্ব মাওলানা আব্দুল কুদ্দুসের দ্বিতীয় কন্যার সাথে এই মিলন কেবল দুটি পরিবারের বন্ধনই ছিল না, বরং তা তাঁর জীবনে যুক্ত করে দেয় এক গভীর আধ্যাত্মিক ধারাবাহিকতাও। তাঁদের দাম্পত্য জীবন আলোকিত দুই পুত্রসন্তানে তানভীর আহমদ ও তাওকীর আহমদ, যাঁরা আজ পিতারই প্রতিষ্ঠিত দারুননাজাত সিদ্দীকিয়া কামিল মাদরাসায় ইলম অর্জনে নিমগ্ন, যেন বাবার স্বপ্নের এক জীবন্ত ধারাবাহিকতা।

 

★ শিক্ষাজীবন: প্রত্যন্ত গ্রাম থেকে প্রাচ্যের অক্সফোর্ডে

 

তাঁর শিক্ষাজীবনের যাত্রা শুরু হয় নিজ গ্রামের গ্রেদলক্ষীপুরা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সাধারণ বেঞ্চিতে বসে। প্রাথমিক শিক্ষা সমাপ্ত করে তিনি পা রাখেন রহমতপুর আলিম মাদরাসায়, যেখানে এক বছর অধ্যয়নের পর তিনি ভর্তি হন উত্তর তালগাছিয়া ফাযিল মাদরাসায়, সপ্তম শ্রেণিতে। সপ্তম শ্রেণি সমাপনান্তে তাঁর জীবনে আসে এক মোড়-ঘোরানো, নিয়তি-নির্ধারক অধ্যায় তিনি প্রবেশ করেন বাংলাদেশের প্রথম কামিল মাদরাসা, আল্লামা শাহ নেছারউদ্দীন আহমদ প্রতিষ্ঠিত ছারছিনা দারুসসুন্নাত কামিল মাদ্রাসায়, ইলমে দ্বীনের সেই শ্রেষ্ঠ মারকাযে। সেখানেই ধাপে ধাপে তিনি ১৯৮৩ সালে দাখিল, ১৯৮৫ সালে আলিম, ১৯৮৭ সালে ফাযিল কৃতিত্বের সাথে সমাপ্ত করেন, আর ১৯৮৯ সালে কামিল হাদীস পরীক্ষায় অর্জন করেন প্রথম বিভাগের গৌরব।

 

ইলম অর্জনের এই অক্লান্ত তৃষ্ণা তাঁকে থামতে দেয়নি সেখানেই। ১৯৮৯ থেকে ১৯৯৫ সাল পর্যন্ত তিনি অধ্যয়ন করেন প্রাচ্যের অক্সফোর্ড খ্যাত ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে, যেখান থেকে ইসলামিক স্টাডিজ বিষয়ে অনার্স ও মাস্টার্সে অর্জন করেন উচ্চতর ডিগ্রি। এভাবেই ঐতিহ্যবাহী মাদরাসাশিক্ষার গভীরতা আর আধুনিক বিশ্ববিদ্যালয়িক জ্ঞানের বিস্তৃতি একত্র হয়ে গড়ে তোলে তাঁর ব্যক্তিত্বের এক বিরল, সুসমন্বিত রূপ, যা পরবর্তীতে তাঁকে সাহায্য করবে একটি প্রতিষ্ঠানকে ঐতিহ্য ও আধুনিকতার মধ্যে সুনিপুণ ভারসাম্যে গড়ে তুলতে।

 

এই দীর্ঘ শিক্ষাযাত্রায় যাঁদের হাতের স্পর্শ তাঁকে গড়ে তুলেছে, সেই তালিকা দীর্ঘ ও গৌরবোজ্জ্বল—আল্লামা নিয়ায মাখদুম খোতানী, শরীফ মুহাম্মাদ আব্দুল কাদের, মাওলানা আব্দুর রব খান, মুফতী আ.ম.ম আহমাদুল্লাহ, মুফতী মুহা: মুস্তফা হামীদি, মাওলানা মুহা: আমজাদ হোসাইন, মাওলানা মুহাম্মাদ রেদওয়ানুল করীম, ছুফি মাওলানা আব্দুর রশিদ, মাওলানা রুহুল আমিন ফরায়েজি, মাওলানা মুহাম্মাদ আব্দুল কাদের, মাওলানা ড. কাফিলুদ্দীন সরকার ছালেহী, ড. আ. র. ম. আলী হায়দার মুর্শেদী, অধ্যাপক মুহাম্মদ আব্দুল মালেক, অধ্যাপক ড. হাবিবুর রহমান, অধ্যাপক ড. মো. আনসার উদ্দীন এবং ড. আ.ন.ম. রইস উদ্দীনের মতো বরেণ্য আলেম ও শিক্ষাবিদগণ। আধ্যাত্মিক পথের সন্ধানে তিনি সম্পৃক্ত হন বাংলার হক দরবার ছারছিনার সাথে, যা তাঁর জ্ঞানসাধনায় যোগ করে দেয় হৃদয়ের গভীরতা।

 

★ কর্মজীবন: এক মক্তব থেকে বিশ্বমানের ইলমি মারকায

 

কামিল সমাপ্ত করে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যয়নরত অবস্থাতেই ১৯৯১ সালের ১২ জানুয়ারি তিনি যোগ দেন এক ঐতিহাসিক দায়িত্বে—ডেমরার শুকুরশী গোরস্থান সংলগ্ন আজকের ঐতিহ্যবাহী দারুননাজাত সিদ্দীকিয়া কামিল মাদরাসার প্রধান হিসেবে। সেই থেকে যে অক্লান্ত, নিরবচ্ছিন্ন পথচলা শুরু, তা আজও থামেনি।

 

প্রতিষ্ঠানটির যাত্রা ছিল নিতান্তই বিনম্র, প্রায় অদৃশ্য এক সূচনাবিন্দু থেকে। ১৯৯০ সালের জানুয়ারিতে পার্শ্ববর্তী হুসাইনিয়া জামে মসজিদের ইমাম আলহাজ্জ মৌলভী নূরুল হক সাহেবের হাতে পরিচালিত একটি ক্ষুদ্র মক্তব এখানে স্থানান্তরিত হয়ে শুরু করে একাডেমিক কার্যক্রম। ১৯৯০-৯১ সালে দুই বছর চলে কেবল ইবতেদায়ী স্তর, আর এই স্বল্প সময়েই পরিবর্তন হয় তিনজন ইবতেদায়ী প্রধান। অবশেষে ১৯৯১ সালের ১৬ ডিসেম্বর, মাত্র সাতশো টাকা বেতনে ইবতেদায়ী প্রধান হিসেবে দারুননাজাতের খেদমতে শরীক হন আ.খ.ম. আবু বকর সিদ্দীক আর সেই দিনটিই হয়ে ওঠে প্রতিষ্ঠানটির ভাগ্য চিরতরে বদলে দেওয়া এক টার্নিং পয়েন্ট।

 

আল্লাহর রহমতের ওপর অবিচল ভরসা রেখে তিনি ১৯৯২ সালে মাত্র এগারো জন শিক্ষার্থী নিয়ে শুরু করেন দাখিল স্তরের কার্যক্রম দশম শ্রেণিতে একজন, নবম শ্রেণিতে একজন, অষ্টম শ্রেণিতে তিনজন এবং সপ্তম শ্রেণিতে ছয়জন। এই ক্ষুদ্র বীজ থেকেই ধীরে ধীরে অঙ্কুরিত হয় এক বিশাল মহীরুহ। সর্বসাধারণের আস্থা ও সহযোগিতায় প্রতিষ্ঠানটি ধাপে ধাপে উন্নীত হয় ১৯৯৪ সালে আলিম, ১৯৯৬ সালে ফাযিল এবং ২০০৪ সালে কামিল পর্যায়ে, লাভ করে মাদরাসা বোর্ডের একাডেমিক অনুমতি, মঞ্জুরি এবং ফাযিল পর্যায়ের শিক্ষক-কর্মচারীদের বেতন-ভাতার সরকারি অংশ। এরপর একের পর এক নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হতে থাকে ২০১০ সালে আল কুরআন অ্যান্ড ইসলামিক স্টাডিজ ও আল হাদিস অ্যান্ড ইসলামিক স্টাডিজে অনার্স কোর্স, ২০০৪ সালে কামিল হাদিস, ২০১৬ সালে ফিকহ, ২০১৭ সালে কামিল মাস্টার্স এবং সর্বশেষ ২০১৮ সালে তাফসির বিভাগ।

 

★ ফলাফলের ধারাবাহিকতা: এক যুগ নিরবচ্ছিন্ন শ্রেষ্ঠত্বের ইতিহাস

 

তবে দারুননাজাত সিদ্দীকিয়া কামিল মাদরাসার প্রকৃত পরিচয় বোধহয় সবচেয়ে স্পষ্ট হয়ে ওঠে তার একাডেমিক ফলাফলের ধারাবাহিকতায়। দীর্ঘ যুগ ধরে এই প্রতিষ্ঠান দাখিল, আলিম, ফাযিল ও কামিল পরীক্ষার ফলাফলে সমগ্র বাংলাদেশে প্রথম কিংবা দ্বিতীয় স্থান অর্জন করে আসছে অবিচলভাবে, বছরের পর বছর, এক ধরনের বিরল ধারাবাহিকতায় যা কোনো সাময়িক সাফল্য নয়, বরং প্রতিষ্ঠানের প্রতিটি স্তরে গেঁথে থাকা এক নিরলস শৃঙ্খলা ও নিষ্ঠার ফলাফল। এই ধারাবাহিক কৃতিত্বের কারণেই আজ সারা বাংলাদেশে দারুননাজাত পরিচিত ও আলোচিত এক নাম, যার ফলাফল প্রকাশের দিনে দেশের মাদরাসাশিক্ষা অঙ্গনের দৃষ্টি নিবদ্ধ থাকে এই প্রতিষ্ঠানের দিকেই।

 

এই দীর্ঘ পরিশ্রমেরই স্বীকৃতিস্বরূপ ২০২৬ সালে আরবি বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃক আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে দারুননাজাত সিদ্দীকিয়া কামিল মাদরাসাকে “সেরা প্রতিষ্ঠান” হিসেবে ক্রেস্ট প্রদান করা হয়। শিক্ষামন্ত্রী এহসানুল হক স্বয়ং এই সম্মাননা তুলে দেন অধ্যক্ষ আ.খ.ম. আবু বকর সিদ্দীকের হাতে এক আবেগঘন মুহূর্ত, যা যেন প্রতিফলিত করে তিন দশকেরও বেশি সময়ের নিরলস শ্রম, ত্যাগ ও প্রতিশ্রুতির যথার্থ প্রতিদান। সেই সাতশো টাকা বেতনের ইবতেদায়ী প্রধান থেকে আজকের এই জাতীয় পর্যায়ের স্বীকৃতি পর্যন্ত এই যাত্রাপথ যেন একটি জাতির শিক্ষা-ইতিহাসেরই এক অনুপ্রেরণামূলক অধ্যায়।

 

আজ সেই দারুননাজাত সিদ্দীকিয়া কামিল মাদরাসা প্রায় বারো হাজারেরও অধিক ইলমপিপাসু শিক্ষার্থীর কোলাহলে মুখরিত, বিশ্বদরবারে প্রতিষ্ঠিত এক সম্মানিত ইলমি মারকায হিসেবে। অসংখ্য প্রশাসনিক ব্যস্ততার মাঝেও তিনি কখনো ছাড়েননি নিজ হাতে দরস দেওয়ার অভ্যাস আজও তিনি নিয়মিত পড়ান সহীহ বুখারী ও জামে তিরমিযীর দরস, যেন প্রমাণ করেন, প্রকৃত শিক্ষক কখনো কেবল প্রশাসক হয়ে ওঠেন না, তিনি থেকে যান চিরকাল একজন শিক্ষকই।

 

★ ছাত্রদের সাফল্য: শিক্ষকের প্রকৃত পরিচয়

 

একজন শিক্ষকের প্রকৃত মূল্যায়ন হয় তাঁর ছাত্রদের অর্জনে, আর এই মানদণ্ডে আ.খ.ম. আবু বকর সিদ্দীকের সাফল্য এক বিস্ময়কর ভাষ্য। তাঁর হাতে গড়া অসংখ্য শিক্ষার্থী আজ বিশ্বের নানা প্রান্তে স্কলারশিপ নিয়ে অধ্যয়ন ও গবেষণায় নিমগ্ন বিশ্বখ্যাত সব বিশ্ববিদ্যালয়ে। ইলমের কাবা খ্যাত মিশরের আল-আজহার বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাচীন করিডরে, সৌদি আরবের মদিনা বিশ্ববিদ্যালয়, কিং আব্দুল আজিজ বিশ্ববিদ্যালয় ও উম্মুল কুরা বিশ্ববিদ্যালয়ের শ্রেণিকক্ষে, ইরাকের কারবালা বিশ্ববিদ্যালয়ে, এমনকি তুরস্ক ও মালয়েশিয়ার আন্তর্জাতিক ইসলামি বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষণাগারেও আজ শোভা পাচ্ছেন তাঁরই সন্তানতুল্য ছাত্ররা। শুধু ইলমে দ্বীনের অঙ্গনেই সীমাবদ্ধ নয় তাঁদের পরিচয়—তাঁর ছাত্ররা আজ ছড়িয়ে আছেন দায়ী, লেখক, গবেষক, আইনজীবী, চিকিৎসক ও শিক্ষকসহ বহু মর্যাদাপূর্ণ পেশায়, প্রতিটি ক্ষেত্রেই রেখে চলেছেন নিজেদের স্বতন্ত্র, উজ্জ্বল স্বাক্ষর।

 

এই বিস্ময়কর সাফল্যের রহস্য কী, জানতে চাইলে তিনি নিজেই এক গভীর জীবনদর্শন তুলে ধরেন ছাত্র-শিক্ষকের সম্পর্ক চিরদিনের, এই বন্ধন কোনো ক্লাসরুমের চার দেয়ালে বা সময়ের সীমানায় বাঁধা নয়, বরং তা এক আজীবনের আত্মিক সংযোগ। ছাত্রদের কীভাবে সফলতার সোনালি ছোঁয়া দিতে হয়, তা তিনি কেবল কথায় নয়, নিজের প্রতিটি কর্মে বারবার প্রমাণ করে দেখিয়েছেন। আর তাই তাঁর ভাষায় ফুটে ওঠে এক গভীর শিক্ষা-উপলব্ধি ছাত্রের সফলতাই শিক্ষকের দৃষ্টির প্রকৃত ঠিকানা।

 

★ প্রকাশিত গ্রন্থাবলি: কালির আঁচড়ে ধারণ করা এক জীবনদর্শন

 

লেখনীর জগতেও তাঁর পদচারণা কম উজ্জ্বল নয়। তাঁর প্রকাশিত গ্রন্থের মধ্যে রয়েছে আল্লামা নিয়ায মাখদুম খোতানীর জীবনী এবং চার খণ্ডে বিন্যস্ত জীবনের পাথেয় সিরিজ (১-২, ৩ ও ৪) যেখানে তিনি ধারণ করেছেন নিজের চিন্তা, দীর্ঘ অভিজ্ঞতা ও আধ্যাত্মিক উপলব্ধির নির্যাস।

 

এক নিভৃত গ্রামের মক্তব থেকে শুরু হওয়া একটি যাত্রা আজ পৌঁছে গেছে বিশ্বদরবারের প্রতিটি কোণে আল-আজহারের প্রাচীন গম্বুজ থেকে মদিনার পবিত্র চত্বর পর্যন্ত, জাতীয় পর্যায়ের সম্মাননা মঞ্চ থেকে দেশের প্রতিটি জেলার আলোচিত ফলাফল-তালিকা পর্যন্ত। আর এই বিশাল যাত্রাপথের প্রতিটি ধাপে অবিচল দাঁড়িয়ে আছেন একজন মানুষ, যিনি বিশ্বাস করেন একজন শিক্ষকের জীবন সার্থক তখনই, যখন তাঁর প্রতিষ্ঠান আর তাঁর ছাত্ররা তাঁর চেয়েও দূরে, তাঁর চেয়েও উঁচুতে পৌঁছাতে পারেন। আ.খ.ম. আবু বকর সিদ্দীকের জীবন তাই কেবল একজন ব্যক্তির সাফল্যগাথা নয়, বরং তা এক জাতির শিক্ষা-ইতিহাসের অবিচ্ছেদ্য, স্থায়ী অধ্যায়।

 

 

লেখক কলামিস্ট ও শিক্ষার্থী, আল-আজহার বিশ্ববিদ্যালয়,কায়রো,মিশর


Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

র‌্যাবের চৌকস অভিযানে জীপসহ প্রায় ১১ হাজার ইয়াবার চালান আটক

জামালপুর হামলা পাল্টা হামলার মধ্য দিয়ে জেলার সানন্দবাড়ী তে থমথমে অবস্থা বিরাজমান।

পর্নোগ্রাফি নিয়ন্ত্রণ আইনে এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা দায়ের ও আদালতে মিথ্যা হলফনামা দেয়ার অভিযোগে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের কেবিন ক্রু খাদিজা সুলতানা শিমুর বিরুদ্ধে মামলা দায়েরের নির্দেশ দিয়েছেন আদালত।

 

বুধবার (১৫ জুলাই) ঢাকার অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালত-২-এর বিচারক মো. জাকির হোসাইন এ আদেশ দেন। আদালতের আদেশে বলা হয়েছে, শিমুর বিরুদ্ধে পর্নোগ্রাফি নিয়ন্ত্রণ আইন, ২০১২-এর ১৩ ধারা এবং দণ্ডবিধির ১৮১, ১৮২ ও ১৯৩ ধারায় মামলা করা হবে। আদালত নিজেই এ মামলার বাদী হয়েছেন।

 

আদালতের নথি অনুযায়ী, খাদিজা সুলতানা শিমু মামলার বাদী হয়ে বেসরকারি একটি এয়ারলাইন্সের কর্মকর্তা মো. ওমর ফারুক চৌধুরীর বিরুদ্ধে পর্নোগ্রাফি নিয়ন্ত্রণ আইনের বিভিন্ন ধারায় উত্তরা পশ্চিম থানায় মামলা করেন।

 

তদন্ত শেষে উত্তরা পশ্চিম থানার তদন্ত কর্মকর্তা আদালতে চূড়ান্ত প্রতিবেদন দাখিল করে জানান, অভিযোগের সত্যতা পাওয়া যায়নি। প্রতিবেদনে বলা হয়, মামলার এজাহারে উল্লেখ করা ফেসবুক লিংক, ডিজিটাল আলামত ও অন্যান্য তথ্য যাচাই করে ওমর ফারুকের বিরুদ্ধে পর্নোগ্রাফি প্রচারের কোনো প্রমাণ মেলেনি। ফলে ওই কর্মকর্তাকে মামলা থেকে অব্যাহতির সুপারিশ করা হয়।

একই সঙ্গে তদন্ত কর্মকর্তা প্রতিবেদনে উল্লেখ করেন, ওমর ফারুক আগে শিমুর বিরুদ্ধে বিয়ের প্রলোভন দিয়ে অর্থ আত্মসাতের অভিযোগে আদালতে মামলা করেছিলেন। সেই মামলার দায় এড়াতেই শিমু সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচারিত বিভিন্ন লিংক উল্লেখ করে তার বিরুদ্ধে পর্নোগ্রাফি ছড়ানোর অভিযোগ এনে উদ্দেশ্যপ্রণোদিত, হয়রানিমূলক ও মিথ্যা মামলা করেছেন বলে প্রাথমিক তদন্তে প্রতীয়মান হয়েছে। এ কারণে শিমুর বিরুদ্ধে পর্নোগ্রাফি নিয়ন্ত্রণ আইন, ২০১২-এর ১৩ ধারায় আইনগত ব্যবস্থা নেয়ার আবেদনও করেন তদন্ত কর্মকর্তা।

 

পরে গত ৯ জুলাই আদালত তদন্ত প্রতিবেদন গ্রহণ করে ওমর ফারুককে মামলা থেকে অব্যাহতি দেন। আদালতের আদেশে বলা হয়, শিমু ক্ষতিসাধনের উদ্দেশ্যে আদালতে মিথ্যা মামলা দায়ের করেছেন এবং হলফ করে মিথ্যা সাক্ষ্য দিয়েছেন। মামলার নথিতে তার দেয়া হলফনামাও সংযুক্ত রয়েছে। এসব বিবেচনায় আদালত নিজেই বাদী হয়ে তার বিরুদ্ধে পর্নোগ্রাফি নিয়ন্ত্রণ আইন ও দণ্ডবিধির সংশ্লিষ্ট ধারায় মামলা দায়েরের নির্দেশ দেন।

 

তদন্তে যা উঠে এসেছে পুলিশের চূড়ান্ত প্রতিবেদনে বলা হয়, তদন্তকালে রেকর্ড, ডিজিটাল আলামত, ফেসবুক লিংক ও ফরেনসিক তথ্য যাচাই করে ওমর ফারুকের বিরুদ্ধে পর্নোগ্রাফি প্রচারের কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি।

 

তদন্তে আরও উঠে আসে, শিমু বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের কেবিন ক্রু এবং ওমর ফারুক একটি বেসরকারি এয়ারলাইন্সের এয়ারক্রাফট মেইনটেন্যান্স কর্মকর্তা। ফেসবুকে পরিচয়ের পর তাদের মধ্যে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে।

 

প্রতিবেদনে বলা হয়, বিয়ের আশ্বাস দিয়ে বিভিন্ন সময়ে ওমর ফারুকের কাছ থেকে বিপুল পরিমাণ অর্থ ও মূল্যবান সামগ্রী নেয়ার অভিযোগে ওমর ফারুক আদালতে পৃথক মামলা করেন। এরপর সেই মামলার দায় থেকে নিজেকে রক্ষা করতেই শিমু পর্নোগ্রাফি আইনে অভিযোগ দায়ের করেন বলে তদন্তে প্রতীয়মান হয়েছে।

 

ওমর ফারুকের আগের মামলা গত ২০ জুলাই ওমর ফারুক চৌধুরী শিমুর বিরুদ্ধে বিয়ের প্রলোভন, ‘হানি ট্র্যাপ’ ও ব্ল্যাকমেইলের মাধ্যমে প্রায় ২২ লাখ টাকা আত্মসাতের অভিযোগে ঢাকার আদালতে মামলা করেন। আদালত অভিযোগটি আমলে নিয়ে উত্তরা পশ্চিম থানাকে তদন্তের নির্দেশ দেন। পরে তিনি বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স কর্তৃপক্ষের কাছেও লিখিত অভিযোগ করেন।

 

সেই মামলায় অভিযোগ করা হয়, ২০২৪ সালে ফেসবুকে পরিচয়ের পর শিমু তাকে বিয়ের আশ্বাস দিয়ে বিভিন্ন সময়ে টাকা নেন। জন্মদিনে দেড় লাখ টাকা মূল্যের একটি হীরার আংটিসহ বিয়ের খরচের জন্য মোট ২১ লাখ ৭৪ হাজার ৫১১ টাকা নেয়ার পরও বিয়ে না করে প্রতারণার মাধ্যমে অর্থ আত্মসাৎ করা হয়েছে বলে মামলায় দাবি করা হয়।

পর্নোগ্রাফি আইনে কেবিন ক্রু শিমুর বিরুদ্ধে মামলার নির্দেশ আদালতের

ভোলার মনপুরায় নির্বাচনী মাঠে জনআতঙ্ক, দীপক বাহিনীর হাতে আহত ৫

ভোলার মনপুরায় নির্বাচনী মাঠে জনআতঙ্কে, থমথমে পুরো মনপুরা। আসন্ন 2 নং হাজিরহাট ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনী প্রচারণা কালীন সময় প্রার্থী নিজামুদ্দিন হাওলাদারের নেতাকর্মী ও সমর্থকদের বেধড়ক মারধর করার অভিযোগ উঠে এসেছে। প্রার্থীকে বেধড়ক মারধর করায় গুরুতর আহত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি আছেন, নাছির(২৩), আল আমিন(২৫),জিদনী (১৮),অনি (২৩)কাশেম(২৮),অজয়(২৬)

আহতদের পরিবার জানিয়েছেন আহতদের অবস্থা গুরুতর, চিকিৎসার জন্য জেলাতে নেওয়া প্রয়োজন হতে পারে।।

মেম্বার প্রার্থী নাসির অভিযোগ করে বলেন , স্থানীয় প্রশাসন অত্যন্ত দুর্বল অবস্থায় রয়েছে,মাঠ প্রশাসন নীরব দর্শকের ভূমিকা পালন করছেন, দীপক রাশি বাহিনী এরপর এক সন্ত্রাসী কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে, আমি নির্বাচন প্রতারণা চলাকালীন সময়ে অতর্কিত দীপক বাহিনীর মূল হোতা সন্ত্রাসী মাকসুদের নেতৃত্বে দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র সহ আমাকেও আমার তুই ছেলের উপর হামলা চালান।। এতে করে আমিও আমার ছোট ছেলে আমিন গুরুতর আহত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়ে রয়েছি।। মনপুরা পুলিশ প্রশাসনের নিকট আমি অভিযোগ করেছি।ওসি মনপুরা এখন পর্যন্ত কোনো ব্যবস্থা গ্রহণ করেন নাই। তিনি আরো বলেন সন্ত্রাসী ফারুক ফরাজী, ইলিয়াছ চৌধূরী, ইলিয়াস ফরাজী, ফুহাদ আওলাদ মাতাব্বর, মনির ফরাজী, খোকন পর এক নানা সন্ত্রাসী কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছেন।

চেয়ারম্যান প্রার্থী নুরুল ইসলাম অভিযোগ করে বলেন নির্বাচনকে বানচাল করার জন্য একের পর এক সন্ত্রাসী কার্যক্রম চালিয়ে গেলেও ওসি মনপুরা এখন পর্যন্ত কোন ধরনের ব্যবস্থা গ্রহণ করতে পারে নাই, চিরে যদি সন্ত্রাসীদের দমন না করা হয় তাহলে নির্বাচন হবে মনপুরা হবে ঝুঁকিপূর্ণ, নির্বাচনে মাঠ প্রশাসন নিয়ন্ত্রনহীন হয়ে পড়বেন।। নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট আকিব ওসমান মাঠ প্রশাসন নিয়ন্ত্রণে কাজ করলেও এখন পর্যন্ত মনপুরা মাঠ নিয়ন্ত্রণে আনতে পরিপূর্ণ ব্যর্থ হয়েছেন।।

অপর চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী নিজাম উদ্দিন হাওলাদার অভিযোগ করে বলেন পরোক্ষভাবে প্রত্যক্ষভাবে দীপক বাহিনী এ ধরনের ঘটনা চলেছেন, অতর্কিত হামলা, চোরাগুপ্তা হামলা সহ নানা ধরনের কর্মের সাথে পার্থী শাহরিয়া দীপক সরাসরি জড়িত রয়েছেন।।

মুঠোফোনে প্রার্থী শাহরিয়ার চৌধুরী দীপক এর নিকট জানতে চাইলে তিনি সাংবাদিক পরিচয় পেয়ে ব্যস্ততা দেখিয়ে ফোন কাটিয়ে দেন।

বিষয়টি নিয়ে ওসি মনপুরা কে বারবার ফোন করলেও এখন এখন পর্যন্ত মুঠোফোনে পাওয়া যায়নি।।

বিষয়টি নিয়ে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট হাকিম ওসমান এর সাথে কথা বললে তিনি বলেন আমি অতি দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণ করছি, মনপুরাকে মামলা গ্রহণের জন্য নির্দেশ প্রদান করেছি।। অচিরেই মনপুরায় মাঠ প্রশাসন নিয়ন্ত্রণে আনাতে আমি নিরস কাজ করছি।।

উল্লেখ্য এই যে মনপুরা উপজেলা একের পর এক আচরণবিধি লঙ্ঘন করায় প্রার্থী শাহরিয়ার দীপক বিরুদ্ধে শাহরিয়ার বিরুদ্ধে আচরণবিধি লঙ্ঘনের লিখিত অভিযোগ হয়েছে যা পত্র-পত্রিকা ও গণমাধ্যমে বেশ কয়েকবার প্রকাশিত হয়েছে।। আজকের চোরাগুপ্তা হামলা সহ নানা অতর্কিত সন্ত্রাসী হামলার বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়েছে।।। কোন পর্যন্ত কোনো আসামিকে গ্রেপ্তার করতে মনপুরা থানা সম্পূর্ণ ব্যর্থ হয়েছেন।।

আসছে বিস্তারিত……. সাথে থাকুন

ভোলার মনপুরায় নির্বাচনী মাঠে জনআতঙ্ক, দীপক বাহিনীর হাতে আহত ৫

এস এম খলিলুর রহমান
ব্যুরো চীফ হবিগঞ্জ জেলা ॥

নবীগঞ্জ পৌর এলাকার গয়াহরি গ্রামে নিরীহ ব্যক্তি বিজিত দাশ মেটনের উপর সন্ত্রাসী হামলার দায়েরী মামলার অন্যতম আসামী কাউন্সিলর যুবরাজ গোপসহ অপর আসামীদের গ্রেফতার না করায় পুলিশের বিরুদ্ধে অভিযোগ করেছেন বাদিনী সুপ্রিয়া রানী দাশ। শনিবার (১২ জুন) সকালে নবীগঞ্জ প্রেসক্লাব কার্যালয়ে অনুষ্টিত সাংবাদিক সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে সুপ্রিয়া রানী দাশ বলেন, গেল পৌর নির্বাচনকে কেন্দ্র করে কাউন্সিলর যুবরাজ গোপ তার পরিবারের উপর ক্ষিপ্ত হন। এরজের ধরে বিগত ২৬ এপ্রিল সন্ধ্যায় নবীগঞ্জ পৌরসভার ৪নং ওয়ার্ডস্থ গয়াহরি গ্রামে জ্যোতিষ দাশের বাড়ি সামনে রাস্তার উপর পেয়ে আমার স্বামী বিজিত দাশ মেটনকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে ক্ষতবিক্ষত করেন আমাদের ওয়ার্ড কাউন্সিলর যুবরাজ গোপ, জ্যোতিষ দাশ, সীমা রানী দাশ, উৎফল দাশ ও লিপ্টু দাশসহ একদল লোক। তাদের ধারালো অস্ত্রের আঘাতে আমার স্বামী গুরুতর আহত হয়ে সিলেট ও ঢাকা হাসপাতালে চিকিৎসা গ্রহন করি। আমার স্বামী আহত হয়ে মৃত্যুর সাথে পাঞ্জা লড়ছিল। পুলিশ ঘটনার খবর পেয়ে আমার স্বামীর রক্তাক্ত অবস্থা দেখে তাৎক্ষনিকভাবে জ্যোতিষ দাশকে গ্রেফতার করে। পরে ৫৪ ধারায় জেল হাজতে প্রেরন করে পুলিশ। এ ব্যাপারে আমি নবীগঞ্জ থানায় মামলা নিয়ে গেলে পুলিশ আদালতের আশ্রয় নিতে পরামর্শ দেন। পরবর্তীতে আমি বাদী হয়ে হবিগঞ্জ আদালতে উল্লেখিত দুর্বৃত্তদের আসামী করে মামলা দায়ের করি। মামলাটি আদালতের নির্দেশে এফআইআর হিসেবে নবীগঞ্জ থানায় রুজু হয়। মামলা রুজু হলেও মামলার অন্যতম আসামী যুবরাজ গোপসহ অপরাপর আসামীদেরকে পুলিশ গ্রেফতার করতে পারেনি। অথচ যুবরাজ গোপ প্রকাশ্যে নবীগঞ্জ শহরে ও বাড়িতে ঘুরে বেড়াচ্ছে। আমি অসহায় একজন মহিলা, মামলার তদন্ত কর্মকর্তা এসআই লুৎফুর রহমানকে বারবার তাগিদ দেয়া সত্ত্বেও আসামী গ্রেফতার করিতে তিনি গড়িমশি করছেন। এদিকে আমার স্বামীর বর্তমান শারীরিক অবস্থা এখন পর্যন্ত ভাল নয়। বিছানায় শয্যাসায়ী আছেন। দারিদ্রতার কারনে আমার স্বামীর চিকিৎসা করাইতে গিয়ে ইতিমধ্যে ভিটে বাড়ি বিক্রি করতে হয়েছে। সামাজিক বিচার থেকে বঞ্চিত হয়ে আইনের আশ্রয় নিয়েও আমাদের এত বিড়ম্বনা পোহাতে হবে, তা জানা ছিলনা।
বর্তমানে আমার আহত স্বামী বিজিত দাশ কথা বার্তা বলতে পারছেন না, বাম চোখেঁ দেখতেও পান না। ঘটনাটি এলাকার সকল মানূষ অবগত রয়েছেন।
ন্যায় বিচারের স্বার্থে আমার দায়েরী মামলার অন্যতম আসামী যুবরাজ গোপসহ অপর আসামীদের গ্রেফতার পুর্বক আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহনের জন্য সাংবাদিকদের মাধ্যমে পুলিশের উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করছি।

নবীগঞ্জে আসামী গ্রেফতার না করায় পুলিশের বিরুদ্ধে বাদিনীর সংবাদ সম্মেলন

error: আপনি নিউজ চুরি করার চেষ্টা করছেন। বিশেষ প্রয়োজনে যোগাযোগ করুন ০১৭৬৭৪৪৪৩৩৩