অবিবাহিতদের ক্যানসারের ঝুঁকি বেশি, বলছে গবেষণা - Gono television | বাংলাদেশ সরকার অনুমোদিত বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেল।
অবিবাহিতদের ক্যানসারের ঝুঁকি বেশি, বলছে গবেষণা

অবিবাহিতদের ক্যানসারের ঝুঁকি বেশি, বলছে গবেষণা

প্রতিবেদনঃ ওমর ফারুক

যারা বিবাহিত, তাদের তুলনায় অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্কদের ক্যানসার হওয়ার ঝুঁকি উল্লেখযোগ্যভাবে বেশি। যুক্তরাষ্ট্রের মায়ামি বিশ্ববিদ্যালয়ের নতুন এক গবেষণায় এমন চমকপ্রদ তথ্য উঠে এসেছে।

পরিসংখ্যান অনুযায়ী, অবিবাহিত পুরুষদের ক্যানসারের ঝুঁকি বিবাহিতদের তুলনায় প্রায় ৭০ শতাংশ বেশি।

গবেষণায় দেখা গেছে, যারা কখনো বিয়ে করেননি, তাদের মধ্যে ক্যানসারে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি তুলনামূলকভাবে বেশি।

 

 

২০১৫ থেকে ২০২২ সালের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের ১২টি অঙ্গরাজ্যের ৪০ লাখের বেশি মানুষের তথ্য বিশ্লেষণ করে এই ফল পাওয়া গেছে। গবেষণায় বলা হয়েছে, প্রায় সব ধরনের প্রধান ক্যানসারের ক্ষেত্রেই অবিবাহিতদের ঝুঁকি বেশি দেখা গেছে।

 

পরিসংখ্যান অনুযায়ী, অবিবাহিত পুরুষদের ক্যানসারের ঝুঁকি বিবাহিতদের তুলনায় প্রায় ৭০ শতাংশ বেশি। নারীদের ক্ষেত্রে এই ঝুঁকি আরও বেশি, প্রায় ৮৫ শতাংশ পর্যন্ত।

 

গবেষণায় আরও দেখা গেছে, অবিবাহিত পুরুষদের মধ্যে মলদ্বারের ক্যানসারের হার বিবাহিতদের তুলনায় প্রায় পাঁচ গুণ বেশি। অন্যদিকে অবিবাহিত নারীদের ক্ষেত্রে জরায়ুমুখের ক্যানসারের হার প্রায় তিন গুণ বেশি।

গবেষকদের মতে, বিয়ে অনেক সময় মানুষের জীবনযাপনকে প্রভাবিত করে। খাদ্যাভ্যাস, স্বাস্থ্যসচেতনতা এবং নিয়মিত চিকিৎসা পরীক্ষার মতো বিষয়গুলো এতে যুক্ত থাকে। ফলে এটি পরোক্ষভাবে স্বাস্থ্যের ওপর প্রভাব ফেলতে পারে।

 

তবে বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করেছেন, এর মানে এই নয় যে বিয়ে করলেই ক্যানসার থেকে সুরক্ষা পাওয়া যাবে। বরং এটি একটি সামাজিক ও আচরণগত ইঙ্গিত মাত্র।

 

গবেষকরা আরও বলেছেন, যারা অবিবাহিত, তাদের উচিত স্বাস্থ্যঝুঁকির বিষয়ে আরও সতর্ক থাকা। নিয়মিত পরীক্ষা করানো এবং স্বাস্থ্যকর জীবনযাপন বজায় রাখে।

 


পিলখানা হত্যাকাণ্ডে ভারতের সম্পৃক্ততার তথ্য জানার কারণেই অবসরপ্রাপ্ত মেজর জাহিদুল ইসলামকে পরিকল্পিতভাবে টার্গেট করা হয়েছিল বলে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে বিস্ফোরক অভিযোগ উঠেছে।

 

অভিযোগে বলা হয়েছে, তাকে ‘জঙ্গি’ সাজিয়ে হত্যা করা হয় এবং পরে তার স্ত্রী ও দুই শিশুকন্যাকে দীর্ঘ চার মাসের বেশি সময় গুম রেখে নির্যাতন চালানো হয়। এ ঘটনায় সাবেক আইজিপিসহ কয়েকজন পুলিশ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে বিচারিক কার্যক্রম শুরু হয়েছে।

 

স্বামীকে জঙ্গি বলে আদালতে স্বীকারোক্তি দিতে জেবুন্নাহারের ওপর চালানো হয় মধ্যযুগীয় নির্যাতন। দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর অবশেষে এই জঘন্যতম হত্যা ও গুমের বিচার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে। বৃহস্পতিবার এ মামলার প্রধান আসামি পুলিশের সাবেক মহাপরিদর্শক (আইজি) একেএম শহীদুল হককে গ্রেফতার দেখিয়ে একদিনের জিজ্ঞাসাবাদের নির্দেশ দিয়েছেন ট্রাইব্যুনাল।

ট্রাইব্যুনালে করা অভিযোগে বলা হয়েছে, ২০০৯ সালে সরকারের বাছাই করা সেনা কর্মকর্তাদের পিলখানায় পোস্টিং দেওয়া হয়। সেই তালিকায় মেজর জাহিদেরও নাম ছিল। তিনি এতে আগ্রহী ছিলেন না; তাই যোগদান করেননি। তখন পিলখানায় জাহিদের কোর্সমেট শহীদ ক্যাপ্টেন মো. মাজহারুল হায়দারের পোস্টিং ছিল। ওই বছরের ২৫ ফেব্রুয়ারি পিলখানায় সেনা কর্মকর্তাদের ওপর এক মর্মান্তিক হত্যাযজ্ঞ চালানো হয়। ঘটনার দিন শহীদ ক্যাপ্টেন মাজহারুল জাহিদকে ফোনে বলেছিলেন, আমাদের সব অফিসারকে মেরে ফেলেছে।

 

কারা মেরেছে জানতে চাইলে ক্যাপ্টেন মাজহার বলেন, কিছু হিন্দিভাষী ব্যক্তি, যারা বিডিআর-এর পোশাক পরা ছিল। যাদের কখনোই পিলখানায় আগে দেখিনি। মেজর জাহিদ তখন বগুড়া ক্যান্টনমেন্টে ছিলেন। ঘটনা শুনে তিনি হতভম্ব হয়ে ক্যান্টনমেন্টের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের বিষয়টি জানান। জাহিদ পিলখানা হত্যাকাণ্ড নিয়ে বিভিন্ন সময় কথা বলেছেন। তিনি মাজহারুলের কাছ থেকে অনেক কিছুই জেনে গিয়েছিলেন। তাই হাসিনা সরকার তাকে টার্গেট করে নজরদারিতে রাখত।

অভিযোগ থেকে আরও জানা যায়, সেনাবাহিনীতে অযোগ্য অফিসারের পদোন্নতি এবং নানা বিশৃঙ্খলা জাহিদ কোনোভাবেই মেনে নিতে পারছিলেন না। একপর্যায়ে তিনি দেখলেন, চাটুকার ও অযোগ্য অফিসারদের পদোন্নতি দেওয়া হচ্ছে। এ অবস্থায় তিনি ২০১৫ সালে চাকরি ছেড়ে পরিবার নিয়ে উত্তরায় ভাড়া বাসায় উঠেন।

 

জঙ্গি নাটক সাজিয়ে হত্যা : চাকরি ছেড়ে দেওয়ার পর গোয়েন্দারা জাহিদের ওপর সার্বক্ষণিক নজরদারি শুরু হয়। একপর্যায়ে পরিবার নিয়ে দেশের বাইরে চলে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেন জাহিদ। বাসা বদল করে উত্তরা থেকে রূপনগরে চলে যান। কিন্তু হাসিনা সরকার জঙ্গি নাটক সাজিয়ে তাকে হত্যার পরিকল্পনা করে। সেই মোতাবেক ২০১৬ সালের ২ সেপ্টেম্বর রাত ১১টার দিকে জাহিদকে হাত বেঁধে বাসার নিচে নিয়ে যায় রূপনগর থানা পুলিশের একটি দল। এরপর নির্মমভাবে তাকে হত্যা করা হয়।

এর আগে রাত ১০টার দিকে আসামিরা জেবুন্নাহারকে তার দুই শিশুসন্তানসহ চোখ বেঁধে অজ্ঞাত স্থানে নিয়ে যায়। তখন জেবুন্নাহার জানতে চান, তার স্বামী কোথায়? পুলিশ তখন বলতে থাকে, তিনি ও তার স্বামী জঙ্গি, এই স্বীকারোক্তি না দিলে তাকেও তার স্বামীর কাছে পাঠিয়ে দেওয়া হবে। তখন তিনি বুঝতে পারেন, তার স্বামীকে হত্যা করা হয়েছে। পরে পুলিশের কোনো একজন জানান, তারাই মেজর জাহিদকে হত্যা করেছে।

 

ট্রাইব্যুনালে অভিযোগ: গত বছরের ১০ আগস্ট আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর বরাবর পৃথক অভিযোগ করেন জেবুন্নাহার। অভিযোগে সাবেক আইজিপি একেএম শহীদুল হক, ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) গোয়েন্দা বিভাগের (ডিবি) তৎকালীন প্রধান মো. মনিরুল ইসলাম, কাউন্টার টেরোরিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইমের (সিটিটিসি) তৎকালীন প্রধান মো. আসাদুজ্জামান, মিরপুর বিভাগের তৎকালীন উপকমিশনার (ডিসি) মাসুদ আহমেদ, রূপনগর থানার তৎকালীন ওসি শাহীদ আলম, ডিসি ডিবি কৃষ্ণ পদ রায় ও রূপনগর থানা-পুলিশের তৎকালীন অজ্ঞাতনামা সদস্যদের আসামি করা হয়েছে।

 

প্রধান আসামি একেএম শহীদুল হককে ট্রাইব্যুনালে হাজির করা হয়। পরে এ মামলায় গ্রেফতার দেখিয়ে তাকে একদিনের জিজ্ঞাসাবাদের নির্দেশ দেন ট্রাইব্যুনাল। বৃহস্পতিবার আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২-এর চেয়ারম্যান বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন বিচারিক প্যানেল এ নির্দেশ দিয়েছেন।

 

স্ত্রীর ওপর নির্মম নির্যাতন: জাহিদের স্ত্রী জেবুন্নাহারকে ডিবি কার্যালয়ে জিজ্ঞাসাবাদের নামে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন করা হয়। নেওয়া হয় মিথ্যা জবানবন্দি। একই সঙ্গে নিহত মেজর জাহিদের বিরুদ্ধে একটি এবং জেবুন্নাহারের বিরুদ্ধে ২টি সাজানো জঙ্গি মামলা দেওয়া হয়। ২০২৪ সালের ৩১ আগস্ট তিনি জামিনে মুক্তি পান।

পিলখানা হত্যাকাণ্ডের তথ্য জানতেন বলেই ‘জঙ্গি’ সাজিয়ে হত্যা

ঠাকুরগাঁওয়ে ১৫ বছর পর শিশু ধর্ষণ মামলার রায় তিনজনের আমৃত্যু কারাদণ্ড, তিনজনের যাবজ্জীবন

 

মোঃ আশরাফুল ইসলাম

ঠাকুরগাঁও প্রতিনিধি

 

 

ঠাকুরগাঁওয়ে ২০১১ সালে সংঘটিত এক শিশু ধর্ষণ মামলার দীর্ঘ বিচারিক প্রক্রিয়া শেষে রায় ঘোষণা করেছেন আদালত। ঘটনার প্রায় ১৫ বছর পর দেওয়া এ রায়ে তিনজনকে প্রাকৃতিক মৃত্যু পর্যন্ত আমৃত্যু কারাদণ্ড এবং অপর তিনজনকে যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি ছয় আসামির প্রত্যেককে অর্থদণ্ড করা হয়েছে। আদালত আদেশে বলেছেন, আদায় করা অর্থ ভুক্তভোগীর ক্ষতিপূরণ হিসেবে প্রদান করতে হবে।

 

 

রোববার (১৯ জুলাই) ঠাকুরগাঁওয়ের শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক (জেলা ও দায়রা জজ) আলী মনসুর বহুল প্রতীক্ষিত এ মামলার রায় ঘোষণা করেন।

আদালত সূত্রে জানা যায়, ২০১১ সালের ২১ অক্টোবর বিকেলে ১৪ বছর বয়সী এক কিশোরী তার এক বান্ধবীর বাড়িতে বেড়াতে যান। সন্ধ্যার দিকে বাড়ি ফেরার সময় ঠাকুরগাঁও-পঞ্চগড় সড়কের পাশে একটি পেট্রোলপাম্পসংলগ্ন এলাকায় পৌঁছালে কয়েকজন যুবক তাঁর গতিরোধ করে।

 

 

মামলার এজাহারে উল্লেখ করা হয়, প্রথমে দুই যুবক কিশোরীর মুখ চেপে ধরে তাঁকে জোর করে পেট্রোলপাম্পের পেছনের একটি নির্জন স্থানে নিয়ে যায়। পরে মোবাইল ফোনে আরও কয়েকজনকে ডেকে আনা হয়। সেখানে তিনজন পালাক্রমে কিশোরীকে ধর্ষণ করে এবং অপর তিনজন এ অপরাধ সংঘটনে সহযোগিতা করে।

 

 

একপর্যায়ে কিশোরীর চিৎকার শুনে পাশ দিয়ে যাওয়া এক ব্যক্তি ঘটনাস্থলের দিকে এগিয়ে এলে আসামিরা পালিয়ে যায়। পরে ওই ব্যক্তি ভুক্তভোগীকে কাপড়ের ব্যবস্থা করে তাঁর পরিচিতদের কাছে পৌঁছে দেন। পরিবারের সদস্যরা বিষয়টি জানতে পেরে তাঁকে চিকিৎসার জন্য ঠাকুরগাঁও আধুনিক সদর হাসপাতালে ভর্তি করেন।

 

 

ঘটনার তিন দিন পর, ২০১১ সালের ২৫ অক্টোবর ভুক্তভোগীর বাবা ঠাকুরগাঁও সদর থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা দায়ের করেন। তদন্ত শেষে পুলিশ আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করলে মামলার বিচার শুরু হয়। দীর্ঘ সময় ধরে সাক্ষ্যগ্রহণ, আলামত উপস্থাপন এবং উভয় পক্ষের যুক্তিতর্ক শেষে আদালত এ রায় দেন।

 

 

রায়ে আদালত নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন, ২০০০ (সংশোধিত ২০০৩)-এর ৯(৩) ধারায় আসামি মো. আনিছ ওরফে রানা, মো. সাইফুল ইসলাম ও মো. দুলালকে দোষী সাব্যস্ত করে প্রাকৃতিক মৃত্যু পর্যন্ত আমৃত্যু কারাদণ্ড দেন। একই সঙ্গে তাঁদের প্রত্যেককে ২ লাখ টাকা করে অর্থদণ্ড করা হয়েছে।

 

এছাড়া অপর তিন আসামি মো. আনিছুর, মো. খতিবুর ওরফে খতু এবং মো. লালুকে একই আইনের ৯(৩)/৩০ ধারায় যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। তাঁদের প্রত্যেককে ১ লাখ টাকা অর্থদণ্ড এবং অনাদায়ে আরও এক বছরের সশ্রম কারাদণ্ড ভোগ করতে হবে।

 

রায়ে আদালত উল্লেখ করেন, আমৃত্যু কারাদণ্ডপ্রাপ্ত তিন আসামি ফৌজদারি কার্যবিধির ৩৫এ ধারার সুবিধা পাবেন না। অর্থাৎ বিচারাধীন অবস্থায় হাজতে কাটানো সময় তাঁদের দণ্ডের সঙ্গে সমন্বয় করা হবে না। পাশাপাশি তাঁরা জেল কোড অনুযায়ী কোনো ধরনের সাজা মওকুফ বা রেমিশনের সুবিধাও পাবেন না।

 

 

অন্যদিকে যাবজ্জীবন দণ্ডপ্রাপ্ত তিন আসামি আইন অনুযায়ী বিচারাধীন অবস্থায় কারাভোগের সময় ফৌজদারি কার্যবিধির ৩৫এ ধারার সুবিধা পাবেন।

আদালত আরও নির্দেশ দেন, দণ্ডিতদের কাছ থেকে আদায় করা অর্থ ভুক্তভোগীর ক্ষতিপূরণ হিসেবে গণ্য হবে। যদি দণ্ডিতরা অর্থ পরিশোধে ব্যর্থ হন, তাহলে তাঁদের স্থাবর ও অস্থাবর সম্পত্তি বিক্রি করে সেই অর্থ আদায় করতে হবে। এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে ঠাকুরগাঁও জেলা প্রশাসককে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

রায় কার্যকরের অংশ হিসেবে আদালত পাঁচ দণ্ডিত আসামিকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন। তবে আমৃত্যু কারাদণ্ডপ্রাপ্ত আসামি মো. আনিছ ওরফে রানা পলাতক থাকায় তাঁর বিরুদ্ধে সাজা পরোয়ানাসহ গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করা হয়েছে। আদালত উল্লেখ করেন, তিনি গ্রেপ্তার বা আত্মসমর্পণের পর থেকে তাঁর সাজা কার্যকর হবে।

 

 

২০১১ সালে সংঘটিত এ ঘটনাটি সে সময় ঠাকুরগাঁও জেলায় ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছিল। দীর্ঘ বিচারিক প্রক্রিয়া শেষে ঘোষিত এ রায়ে মামলার ভুক্তভোগী ও তাঁর পরিবারের জন্য ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় সম্পন্ন হলো।

 

 

রায় ঘোষণার পর সরকার পক্ষের আইনজীবী অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ বদরুল চৌধুরী বলেন, “আদালত সাক্ষ্য-প্রমাণ ও উপস্থাপিত তথ্য-উপাত্ত পর্যালোচনা করে এ রায় দিয়েছেন। দীর্ঘদিন পর হলেও ভুক্তভোগী ন্যায়বিচার পেয়েছেন। এ রায় নারী ও শিশু নির্যাতনের মতো জঘন্য অপরাধ দমনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে এবং সমাজে একটি ইতিবাচক বার্তা দেবে।”

ঠাকুরগাঁওয়ে ১৫ বছর পর শিশু ধর্ষণ মামলার রায় তিনজনের আমৃত্যু কারাদণ্ড, তিনজনের যাবজ্জীবন

২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপের ফাইনালের আগে আবেগঘন বার্তা দিয়েছেন আর্জেন্টিনা অধিনায়ক লিওনেল মেসি। স্পেনের বিপক্ষে শিরোপা নির্ধারণী ম্যাচের আগের রাতে সতীর্থ, কোচিং স্টাফ এবং দলের নেপথ্যে কাজ করা সদস্যদের সঙ্গে তোলা একটি দলীয় ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশ করে তিনি বলেন, এই দল এমন এক ইতিহাস গড়েছে, যা কখনো মুছে ফেলা যাবে না।

 

নিউ জার্সিতে ফাইনালের আগে তোলা ছবিতে ২৬ সদস্যের খেলোয়াড়দলের পাশাপাশি কোচিং স্টাফ, চিকিৎসক, সরঞ্জামকর্মী, রাঁধুনি, কর্মকর্তাসহ আর্জেন্টিনা ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি ক্লদিও তাপিয়াও উপস্থিত ছিলেন। ফাইনালের আগে এটিই ছিল পুরো দলের শেষ আনুষ্ঠানিক দলীয় ছবি।

 

ছবির ক্যাপশনে মেসি লেখেন, গত কয়েক বছরের সবচেয়ে মূল্যবান অর্জন শুধু শিরোপা নয়, বরং সতীর্থদের সঙ্গে কাটানো প্রতিটি মুহূর্ত, একসঙ্গে লড়াই করা, কঠিন সময় পেরিয়ে ঘুরে দাঁড়ানো এবং প্রতিটি যাত্রাকে উপভোগ করা।

 

তিনি দলের খেলোয়াড়, কোচিং স্টাফ এবং জাতীয় দলের সঙ্গে যুক্ত সব সদস্যকে ধন্যবাদ জানিয়ে বলেন, ‘আগামীকাল যা-ই ঘটুক না কেন, এই দল এমন এক ইতিহাস লিখেছে, যা আমরা কখনো ভুলব না এবং কেউ মুছতেও পারবে না।’ একই সঙ্গে তিনি সমর্থকদেরও আর্জেন্টিনার পাশে থাকার আহ্বান জানান।

 

স্পেনের বিপক্ষে ম্যাচটি হবে মেসির ক্যারিয়ারের তৃতীয় বিশ্বকাপ ফাইনাল। ২০১৪ সালে জার্মানির কাছে পরাজয়ের পর ২০২২ সালে ফ্রান্সকে হারিয়ে বিশ্বকাপ জয়ের স্বাদ পান তিনি। এবার ৩৯ বছর বয়সে সম্ভাব্য শেষ বিশ্বকাপ ম্যাচে টানা দ্বিতীয়বারের মতো আর্জেন্টিনাকে শিরোপা এনে দেওয়ার সুযোগ রয়েছে তার সামনে।

 

চলতি বিশ্বকাপেও আর্জেন্টিনার ফাইনালে ওঠার পথে বড় ভূমিকা রেখেছেন মেসি। এখন পর্যন্ত তিনি করেছেন ৮ গোল এবং সতীর্থদের দিয়ে করিয়েছেন আরও ৪টি গোল। সেমিফাইনালে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে গোল না পেলেও আর্জেন্টিনার দুই গোলেই ছিল তার গুরুত্বপূর্ণ অবদান।

 

বাংলাদেশ সময় রোববার রাত ১টায় নিউ জার্সির মেটলাইফ স্টেডিয়ামে ফাইনালে মুখোমুখি হবে আর্জেন্টিনা ও স্পেন। বর্তমান চ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনার লক্ষ্য চতুর্থ বিশ্বকাপ শিরোপা এবং ১৯৬২ সালের ব্রাজিলের পর প্রথম দল হিসেবে টানা দুইবার বিশ্বচ্যাম্পিয়ন হওয়ার কীর্তি গড়া। অন্যদিকে, স্পেন চাইছে ২০১০ সালের পর দ্বিতীয়বারের মতো বিশ্বকাপের ট্রফি জিততে।

ফাইনালের আগে মেসির আবেগঘন বার্তা

ফরিদপুরে অ্যাপেন্ডিসাইটিসের অপারেশনের পর এক কলেজছাত্রীর মৃত্যুকে ঘিরে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।

 

স্বজনদের অভিযোগ, চিকিৎসকের ভুল অপারেশনের কারণেই ১৭ বছর বয়সী আয়েশা আফরিনের মৃত্যু হয়েছে। তবে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ এ অভিযোগ অস্বীকার করে বিষয়টি সংশ্লিষ্ট চিকিৎসকের সঙ্গে সম্পৃক্ত বলে জানিয়েছে।

 

নিহত আয়েশা আফরিন (১৭) সদরপুর উপজেলার আকোটের চর ইউনিয়নের কৈলাশের ডাঙ্গী গ্রামের প্রবাসী লিটন মাতুব্বরের মেয়ে। তিনি ফরিদপুর সরকারি ইয়াসিন কলেজের দ্বাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিলেন।

 

স্বজনদের অভিযোগ অনুযায়ী, বৃহস্পতিবার (১৬ জুলাই) বিকেল ৫টার দিকে অ্যাপেন্ডিসাইটিসের ব্যথা নিয়ে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের সামনে অবস্থিত আল জারা প্রাইভেট হাসপাতালে তাকে নেওয়া হয়। রাত ৯টার দিকে তাকে ভর্তি করা হয় এবং রাত সাড়ে ১০টার দিকে অপারেশন থিয়েটারে নেওয়া হয়।

 

পরিবারের দাবি, অপারেশনের পরপরই আয়েশার শারীরিক অবস্থার দ্রুত অবনতি ঘটে। পরে রাত ৩টার দিকে তাকে শহরের টেপাখোলা এলাকার রেজোয়ান মোল্লা হাসপাতালের আইসিইউতে স্থানান্তর করা হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শুক্রবার সকাল সাড়ে ৮টার দিকে তার মৃত্যু হয়।

 

নিহতের মা আলেয়া বেগম অভিযোগ করে বলেন, “আমার মেয়েকে সুস্থ অবস্থায় অ্যাপেন্ডিসাইটিসের অপারেশন করাতে হাসপাতালে নিয়ে গিয়েছিলাম। কিন্তু চিকিৎসকের ভুলের কারণে আজ আমার মেয়েকে হারাতে হয়েছে। আমি এ ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও দোষীদের কঠোর শাস্তি চাই।”

 

স্বজনদের অভিযোগ, অপারেশনটি করেন ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের সার্জারি বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ও সার্জারি বিশেষজ্ঞ ডা. আতিকুল আহসান। ঘটনার পর থেকে তাকে হাসপাতালে পাওয়া যায়নি।

 

এ বিষয়ে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ অভিযোগ অস্বীকার করে জানায়, বিষয়টি সংশ্লিষ্ট চিকিৎসকের সঙ্গে সম্পর্কিত। তবে এ সময় হাসপাতালের কোনো কর্মকর্তা ক্যামেরার সামনে বক্তব্য দিতে রাজি হননি।

 

অভিযোগের বিষয়ে ডা. আতিকুল আহসানের সঙ্গে একাধিকবার মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষও জানিয়েছে, ঘটনার পর থেকে তাকে হাসপাতালে পাওয়া যাচ্ছে না।

 

এ ঘটনায় নিহতের স্বজনদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। তারা হাসপাতাল প্রাঙ্গণে বিক্ষোভ করেন এবং হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের সঙ্গে বাকবিতণ্ডায় জড়িয়ে পড়েন। একপর্যায়ে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠলে স্থানীয়দের সহায়তায় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে।

 

এ ঘটনায় এখনো কোনো মামলা হয়েছে কি না, তা তাৎক্ষণিকভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি। তবে নিহতের স্বজনরা জানিয়েছেন, তারা এ বিষয়ে আইনগত ব্যবস্থা নেবেন।

 

অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের তদন্তের পর প্রকৃত ঘটনা উদঘাটিত হবে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।

ফরিদপুরে ‘ভুল অপারেশনে’ কলেজছাত্রীর মৃত্যুর অভিযোগ, চিকিৎসক পলাতক

প্রেমের টানে পাকিস্তান থেকে শরীয়তপুরের জাজিরায় এসেছেন মো. মোজাম্মেল হোসাইন নামে এক যুবক। গত শনিবার (১১ জুলাই) পাকিস্তানের লাহোর থেকে জাজিরা উপজেলার বিলাসপুর ইউনিয়নের স্টাপল্টন শিকদার কান্দি এলাকায় তার প্রেমিকা তানজিলা আক্তারের বাড়িতে আসেন। পরে স্থানীয় ইমামের মাধ্যমে শরিয়াহ অনুযায়ী তাদের বিবাহ সম্পন্ন হয়।

 

ভিনদেশি যুবকের এমন প্রেমকাহিনি ঘিরে এলাকায় সৃষ্টি হয়েছে ব্যাপক কৌতূহল ও চাঞ্চল্য। তবে ভালোবাসার এই গল্পের পাশাপাশি স্থানীয়দের একাংশের মনে দেখা দিয়েছে উদ্বেগও। তানজিলাকে পাকিস্তানে নিয়ে যাওয়ার আগে পুরো বিষয়টি যথাযথভাবে যাচাই করার দাবি জানিয়েছেন তারা।

 

পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, প্রায় চার বছর আগে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে তানজিলার সঙ্গে পরিচয় হয় পাকিস্তানের লাহোরের বাসিন্দা উর্দুভাষী মোজাম্মেল হোসাইনের। তানজিলা মজিবর শিকদারের একমাত্র মেয়ে। পরিচয়ের পর নিয়মিত চ্যাটিং ও ভিডিও কলের মাধ্যমে ধীরে ধীরে তাদের মধ্যে গভীর প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে।

 

দীর্ঘ চার বছরের সেই সম্পর্ককে পরিণতি দিতে গত ১১ জুলাই শনিবার লাহোর থেকে জাজিরার বিলাসপুর ইউনিয়নের রহিম উদ্দিন মালাই মৃধাকান্দি গ্রামের স্টাপল্টন শিকদার কান্দি এলাকায় তানজিলার বাড়িতে এসে হাজির হন মোজাম্মেল। পরে জাজিরায় তাদের বিয়ের আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন হয়।

 

তানজিলার মা আসমা আক্তার এ বিয়ে নিয়ে আশাবাদী। তিনি বলেন, ছেলের পরিবারের সঙ্গে তাদের নিয়মিত যোগাযোগ হচ্ছে। এত দূরে মেয়েকে বিয়ে দিতে কিছুটা খারাপ লাগলেও তাদের মনে কোনো ভয় বা শঙ্কা নেই।

 

তবে পরিবারের এই স্বস্তির বিপরীতে প্রতিবেশী ও স্বজনদের একাংশের মধ্যে রয়েছে উদ্বেগ। তানজিলার ফুফু রাত্রি আক্তার ও চাচা তোফাজ্জল শিকদার বলেন, ইদানীং প্রেমের ফাঁদে ফেলে মেয়েদের বিদেশে পাচারের নানা খবর পাওয়া যাচ্ছে। ছেলের পরিবারের কোনো অভিভাবক উপস্থিত না থাকায় এভাবে একটি মেয়েকে পাকিস্তানে পাঠানো ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে।

 

এ কারণে পুরো বিষয়টি যাচাই করে প্রশাসনের নজরদারি নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।

 

স্থানীয় কয়েকজন বলেন, প্রেমের টানে পাকিস্তান থেকে যুবকের জাজিরায় ছুটে আসার ঘটনা এখন স্থানীয়দের আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে। চার বছরের প্রেম শেষ পর্যন্ত দুই দেশের দুই তরুণ-তরুণীকে এক ছাদের নিচে এনেছে। তবে নববধূকে নিয়ে পাকিস্তানে যাত্রার আগে সব ধরনের আইনি প্রক্রিয়া ও নিরাপত্তার বিষয়টি নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় সচেতন মহল।

 

জাজিরা থানার ওসি সালেহ্ আহম্মদ বলেন, বিষয়টি সম্পর্কে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে অবগত নয়। দ্রুত খোঁজখবর নিয়ে তাদের পাসপোর্ট, ভিসাসহ প্রয়োজনীয় কাগজপত্র যাচাই-বাছাই করা হবে। তদন্তে কোনো অসঙ্গতি পাওয়া গেলে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

প্রেমের টানে শরীয়তপুরে পাকিস্তানি যুবক

দুই হাত প্রসারিত করে বুক পেতে দেওয়া সেই অবিনাশী আবু সাঈদ এবং স্বৈরাচার পতনের মহাকাব্যিক অধ্যায়ের আজ দুই বছর। ২০২৪ সালের ১৬ জুলাইয়ে রাজপথে রক্ত ঝরানো সেইসব বীরদের স্মরণে আজ পালিত হচ্ছে ঐতিহাসিক ‘জুলাই শহীদ দিবস’। ছাত্র-জনতার জাগরণের সেই রক্তঝরা দিনটিকেই আজ বিনম্র শ্রদ্ধায় ও শোকের আবহে স্মরণ করছে বাংলাদেশ।

 

শহীদদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা, শোক ও কৃতজ্ঞতা জানিয়ে আজ রাষ্ট্রের বিভিন্ন পর্যায়ে দিবসটি পালনের বিস্তারিত কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়েছে। সরকারি ও বেসরকারি উদ্যোগে আলোচনা সভা, দোয়া মাহফিল এবং স্মরণ অনুষ্ঠানের মাধ্যমে শহীদদের আত্মত্যাগের তাৎপর্য তুলে ধরা হচ্ছে।

 

২০২৪ সালের ১৫ জুলাই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ও জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে আন্দোলনরত সাধারণ শিক্ষার্থীদের ওপর বর্বরোচিত হামলার প্রতিবাদে ১৬ জুলাই দেশব্যাপী বিক্ষোভ কর্মসূচির ডাক দিয়েছিল বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন। এই কর্মসূচি চলাকালেই দেশের বিভিন্ন স্থানে পুলিশ ও তৎকালীন ক্ষমতাসীন দলের ক্যাডারদের সঙ্গে শিক্ষার্থীদের ব্যাপক সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।

 

সেদিন রংপুরে বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের সামনে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের ছত্রভঙ্গ করতে পুলিশ টিয়ার গ্যাস ও নির্বিচারে লাঠিচার্জ করে। একপর্যায়ে পুলিশের শটগানের গুলির সামনে দুই হাত প্রসারিত করে বীরদর্পে দাঁড়িয়ে যান ইংরেজি বিভাগের শিক্ষার্থী আবু সাঈদ। বুক পেতে দেওয়া আবু সাঈদের এই সাহসিকতার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে মুহূর্তের মধ্যেই বৈশ্বিক আলোড়ন সৃষ্টি করে। আবু সাঈদের এই শাহাদাত বরণের দৃশ্যই মূলত ছাত্র-জনতার আন্দোলনের অবিনাশী প্রতীক হয়ে ওঠে।

 

একই দিনে চট্টগ্রামে সংঘর্ষে নির্মমভাবে শহীদ হন কলেজ শিক্ষার্থী ও ছাত্রদল নেতা ওয়াসিম আকরাম, ওমরগণি এমইএস কলেজের শিক্ষার্থী ফয়সাল আহমেদ এবং ফার্নিচার দোকানের কর্মচারী মো. ফারুক। এছাড়া রাজধানীর সায়েন্সল্যাব এলাকায় সংঘর্ষে শহীদ হন হকার মো. শাহজাহান ও যুবদল নেতা সবুজ আলী। নির্ভরযোগ্য বিভিন্ন সূত্রে ১৬ জুলাই সারা দেশে অন্তত ৬ জন শহীদ হওয়ার তথ্য নিশ্চিত হওয়া যায়।

 

১৬ জুলাই হত্যাকাণ্ডের খবর ছড়িয়ে পড়ার সঙ্গে সঙ্গে রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন এলাকার গুরুত্বপূর্ণ সড়ক ও রেলপথ অবরোধ করেন শিক্ষার্থীরা। পরিস্থিতি পুরোপুরি আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে গেলে তৎকালীন সরকার ঢাকা, চট্টগ্রাম, রংপুর, রাজশাহী, বগুড়াসহ বিভিন্ন বিভাগীয় শহরে বিজিবি মোাতেয়েন করে। একই রাতে শিক্ষা মন্ত্রণালয় দেশের সব স্কুল-কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয় ও অধিভুক্ত প্রতিষ্ঠান অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ ঘোষণা করে শিক্ষার্থীদের আবাসিক হল ত্যাগের নির্দেশ দেয় এবং ১৮ জুলাইয়ের এইচএসসি পরীক্ষা স্থগিত করা হয়।

 

১৬ জুলাই ছিল ২০২৪ সালের ছাত্র-জনতার আন্দোলনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বাঁক বদলের দিন। আবু সাঈদের বীরত্বপূর্ণ আত্মত্যাগ আন্দোলনের গতিপথকে কোটা সংস্কারের বৃত্ত থেকে বের করে রাষ্ট্রব্যবস্থা সংস্কার, গণতন্ত্র ও নাগরিক অধিকারের বৃহত্তর লড়াইয়ে রূপান্তর করে। এই আত্মত্যাগকে স্মরণ করে এবং নতুন বাংলাদেশের ন্যায়বিচার ও মানবাধিকারের অঙ্গীকারকে পুনর্ব্যক্ত করতে ১৬ জুলাই জাতীয়ভাবে ‘ঐতিহাসিক জুলাই শহীদ দিবস’ হিসেবে পালিত হচ্ছে।

আজ ঐতিহাসিক জুলাই শহীদ দিবস

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আন্তর্জাতিক অঙ্গনে নেতৃত্ব বিকাশের স্বপ্ন নিয়ে হার্ভার্ডের অধ্যাপকদের প্রতিষ্ঠিত ঐতিহ্যবাহী ‘অ্যাস্পায়ার লিডারস প্রোগ্রাম ২০২৬’ (ব্যাচ-৩)-এ অংশগ্রহণের সুযোগ পেয়েছেন বাংলাদেশের তরুণ ওমর ফারুক।

 

আতিকুর রহমান আশিক

মানিকগঞ্জ প্রতিনিধি

 

 

 

২০১৫ সাল থেকে বিভিন্ন সামাজিক ও স্বেচ্ছাসেবী কার্যক্রমের সঙ্গে যুক্ত ওমর ফারুক দীর্ঘদিন ধরে নেতৃত্ব ও তরুণদের উন্নয়নমূলক কাজে কাজ করছেন। বিভিন্ন স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের সঙ্গে টিম পরিচালনা, ইভেন্ট পরিকল্পনা এবং সামাজিক যোগাযোগের ব্যবহারিক অভিজ্ঞতা অর্জন তাঁকে এই আন্তর্জাতিক প্ল্যাটফর্মে আবেদন করতে উদ্বুদ্ধ করে।

 

এর আগে ২০২৫ সালে নেপালে অনুষ্ঠিত একটি আন্তর্জাতিক বুটক্যাম্পে অংশগ্রহণের সুযোগ পেলেও ভিসা জটিলতায় তিনি শেষ পর্যন্ত অংশ নিতে পারেননি। তবে সেই প্রতিবন্ধকতা তাঁকে থামিয়ে রাখেনি; বরং আন্তর্জাতিক পর্যায়ে শেখার অদম্য আগ্রহকে আরও বাড়িয়ে দেয়। পরবর্তীতে চলতি বছরের মে মাসে তিনি দ্য অ্যাস্পায়ার লিডারস প্রোগ্রামে আবেদন করেন এবং চূড়ান্তভাবে নির্বাচিত হন।

 

নিজের অনুভূতি প্রকাশ করে ওমর ফারুক বলেন, “আন্তর্জাতিক নেতৃত্ব উন্নয়ন কর্মসূচিতে বাংলাদেশ থেকে অংশগ্রহণের সুযোগ পেয়ে আমি নিজেকে অত্যন্ত সৌভাগ্যবান মনে করছি। অনলাইনে আবেদন জমা দেওয়ার পর থেকেই অপেক্ষায় ছিলাম। নির্বাচিত হওয়ার ই-মেইলটি পেয়ে মনে হয়েছে স্বপ্নের পথে আরও একধাপ এগিয়ে গেলাম।”

 

অ্যাস্পায়ার লিডারস প্রোগ্রাম সম্পর্কে:

‘দ্য অ্যাস্পায়ার লিডারস প্রোগ্রাম’ একটি সম্পূর্ণ অর্থায়িত আন্তর্জাতিক নেতৃত্ব উন্নয়ন উদ্যোগ। ২০১৭ সালে হার্ভার্ড বিজনেস স্কুলের অধ্যাপকেরা হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ে এটি প্রতিষ্ঠা করেন। পরবর্তীতে ২০২১ সাল থেকে এটি স্বাধীন অলাভজনক প্রতিষ্ঠান ‘অ্যাস্পায়ার ইনস্টিটিউট’ (Aspire Institute)-এর অধীনে পরিচালিত হয়ে আসছে। এখন পর্যন্ত বিশ্বের ১৯৫টি দেশের ৫ লাখেরও বেশি তরুণ এতে অংশ নিয়েছেন।

 

সম্পূর্ণ অনলাইনে বিনামূল্যে পরিচালিত ৯ সপ্তাহের এই প্রোগ্রামটি মোট তিনটি মডিউলে বিভক্ত। এর মাধ্যমে মূলত বিশ্বজুড়ে সীমিত আয়ের এবং পরিবারের প্রথম প্রজন্মের বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীদের তাদের নিজস্ব সম্প্রদায়ে নেতৃত্বের জন্য প্রস্তুত করা হয়।

 

প্রোগ্রামের সুবিধা ও বৈশিষ্ট্য:

এই প্রোগ্রামের মাধ্যমে ঘরে বসেই হার্ভার্ডসহ বিশ্বের সেরা বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর খ্যাতিসম্পন্ন শিক্ষক, প্রশিক্ষক ও বিশেষজ্ঞদের মাস্টার ক্লাসে অংশ নেওয়ার সুযোগ রয়েছে। এছাড়া অংশগ্রহণকারীরা বিশ্বজুড়ে বিস্তৃত তরুণদের সঙ্গে নেটওয়ার্কিং, আইডিয়া বাস্তবায়নের জন্য অর্থায়ন, ব্যবহারিক দক্ষতা উন্নয়ন কর্মশালা এবং উচ্চশিক্ষার জন্য আর্থিক অনুদান পাওয়ার সুযোগ পান।

আন্তর্জাতিক অঙ্গনে নেতৃত্ব বিকাশের স্বপ্ন নিয়ে হার্ভার্ডের অধ্যাপকদের প্রতিষ্ঠিত ঐতিহ্যবাহী ‘অ্যাস্পায়ার লিডারস প্রোগ্রাম ২০২৬’ (ব্যাচ-৩)-এ অংশগ্রহণের সুযোগ পেয়েছেন বাংলাদেশের তরুণ ওমর ফারুক

স্টাফ রিপোর্টার

তানিন পিয়াস চৌধুরী

তাং: ৩০/০৭/২৬ শনিবার।

 

 

হেডলাইন: নড়াগাতীতে ইউপি সদস্য মনি মিয়া হত্যা: খুনিদের ফাঁসির দাবিতে আবারো মানববন্ধন ও বিক্ষোভ মিছিল।

 

নড়াইলের নড়াগাতীতে জয়নগর ইউনিয়ন পরিষদের ৩ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য মনি মিয়া শেখ হত্যাকাণ্ডে জড়িত চিহ্নিত আসামিদের দ্রুত গ্রেপ্তার ও সর্বোচ্চ শাস্তি ফাঁসির দাবিতে উত্তাল হয়ে উঠেছে এলাকা। এই দাবা বাস্তবায়নে নড়াগাতী থানার সামনে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করেছেন নিহতের স্বজন ও ক্ষুব্ধ এলাকাবাসী। নড়াগাতী থানার সামনের সড়কে আয়োজিত এই মানববন্ধনে স্থানীয় কয়েক শতাধিক নারী-পুরুষ অংশ নেন। পরে তারা একটি বিক্ষোভ মিছিল বের করে নড়াগাতীর প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করেন এবং আসামিদের দ্রুত আইনের আওতায় আনার দাবিতে বিভিন্ন স্লোগান দেন।,মানববন্ধনে সংহতি জানিয়ে বক্তব্য দেন জয়নগর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান কাজী আয়ুব হোসেন। এছাড়া নিহতের পরিবারের পক্ষে বক্তব্য দেন তার বড় ভাই পিরু শেখ, চাচাতো ভাই মনিরুল শেখ, স্ত্রী মনিকা বেগম, কন্যা বৈশাখী, ভাইপো সেকেন্দার শেখ, ভাবি রিলিয়া বেগম ও স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তি মো. ইকরাম শেখসহ অনেকে।,বক্তারা চরম ক্ষোভ প্রকাশ করে অভিযোগ করেন, এলাকার চিহ্নিত অপরাধী আনসার জমাদ্দার ও সৈয়দ শেখ গ্রুপ দীর্ঘদিন ধরে সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড চালিয়ে আসছে। এই একই চক্রটি মনি মিয়াসহ এ পর্যন্ত পাঁচটি হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটিয়েছে। কিন্তু বারবার আদালত থেকে জামিনে মুক্ত হয়ে তারা আরও বেপরোয়া হয়ে উঠছে এবং নতুন নতুন অপরাধ সংঘটিত করছে।এমন নৃশংস ও অভ্যাসগত অপরাধীরা কীভাবে বারবার জামিন পায়—মানববন্ধনে সে প্রশ্ন তুলে বিচারব্যবস্থা ও স্থানীয় প্রশাসনের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন বক্তারা।,কর্মসূচি থেকে নিহতের পরিবার ও এলাকাবাসী প্রশাসনকে স্পষ্ট বার্তা দিয়ে জানান, আগামী ৩ দিনের মধ্যে মনি মিয়া হত্যার সাথে জড়িত চিহ্নিত সকল আসামিকে গ্রেপ্তার করতে হবে। অন্যথায় আরও কঠোর কর্মসূচির হুঁশিয়া,রি দেন তারা

 

নড়াগাতি নড়াইল থেকে

তানিন পিয়াস চৌধুরী

গন টেলিভিশন সংবাদ।

নড়াগাতীতে ইউপি সদস্য মনি মিয়া হত্যা: খুনিদের ফাঁসির দাবিতে আবারো মানববন্ধন ও বিক্ষোভ মিছিল

পিলখানা হত্যাকাণ্ডে ভারতের সম্পৃক্ততার তথ্য জানার কারণেই অবসরপ্রাপ্ত মেজর জাহিদুল ইসলামকে পরিকল্পিতভাবে টার্গেট করা হয়েছিল বলে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে বিস্ফোরক অভিযোগ উঠেছে।

 

অভিযোগে বলা হয়েছে, তাকে ‘জঙ্গি’ সাজিয়ে হত্যা করা হয় এবং পরে তার স্ত্রী ও দুই শিশুকন্যাকে দীর্ঘ চার মাসের বেশি সময় গুম রেখে নির্যাতন চালানো হয়। এ ঘটনায় সাবেক আইজিপিসহ কয়েকজন পুলিশ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে বিচারিক কার্যক্রম শুরু হয়েছে।

 

স্বামীকে জঙ্গি বলে আদালতে স্বীকারোক্তি দিতে জেবুন্নাহারের ওপর চালানো হয় মধ্যযুগীয় নির্যাতন। দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর অবশেষে এই জঘন্যতম হত্যা ও গুমের বিচার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে। বৃহস্পতিবার এ মামলার প্রধান আসামি পুলিশের সাবেক মহাপরিদর্শক (আইজি) একেএম শহীদুল হককে গ্রেফতার দেখিয়ে একদিনের জিজ্ঞাসাবাদের নির্দেশ দিয়েছেন ট্রাইব্যুনাল।

ট্রাইব্যুনালে করা অভিযোগে বলা হয়েছে, ২০০৯ সালে সরকারের বাছাই করা সেনা কর্মকর্তাদের পিলখানায় পোস্টিং দেওয়া হয়। সেই তালিকায় মেজর জাহিদেরও নাম ছিল। তিনি এতে আগ্রহী ছিলেন না; তাই যোগদান করেননি। তখন পিলখানায় জাহিদের কোর্সমেট শহীদ ক্যাপ্টেন মো. মাজহারুল হায়দারের পোস্টিং ছিল। ওই বছরের ২৫ ফেব্রুয়ারি পিলখানায় সেনা কর্মকর্তাদের ওপর এক মর্মান্তিক হত্যাযজ্ঞ চালানো হয়। ঘটনার দিন শহীদ ক্যাপ্টেন মাজহারুল জাহিদকে ফোনে বলেছিলেন, আমাদের সব অফিসারকে মেরে ফেলেছে।

 

কারা মেরেছে জানতে চাইলে ক্যাপ্টেন মাজহার বলেন, কিছু হিন্দিভাষী ব্যক্তি, যারা বিডিআর-এর পোশাক পরা ছিল। যাদের কখনোই পিলখানায় আগে দেখিনি। মেজর জাহিদ তখন বগুড়া ক্যান্টনমেন্টে ছিলেন। ঘটনা শুনে তিনি হতভম্ব হয়ে ক্যান্টনমেন্টের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের বিষয়টি জানান। জাহিদ পিলখানা হত্যাকাণ্ড নিয়ে বিভিন্ন সময় কথা বলেছেন। তিনি মাজহারুলের কাছ থেকে অনেক কিছুই জেনে গিয়েছিলেন। তাই হাসিনা সরকার তাকে টার্গেট করে নজরদারিতে রাখত।

অভিযোগ থেকে আরও জানা যায়, সেনাবাহিনীতে অযোগ্য অফিসারের পদোন্নতি এবং নানা বিশৃঙ্খলা জাহিদ কোনোভাবেই মেনে নিতে পারছিলেন না। একপর্যায়ে তিনি দেখলেন, চাটুকার ও অযোগ্য অফিসারদের পদোন্নতি দেওয়া হচ্ছে। এ অবস্থায় তিনি ২০১৫ সালে চাকরি ছেড়ে পরিবার নিয়ে উত্তরায় ভাড়া বাসায় উঠেন।

 

জঙ্গি নাটক সাজিয়ে হত্যা : চাকরি ছেড়ে দেওয়ার পর গোয়েন্দারা জাহিদের ওপর সার্বক্ষণিক নজরদারি শুরু হয়। একপর্যায়ে পরিবার নিয়ে দেশের বাইরে চলে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেন জাহিদ। বাসা বদল করে উত্তরা থেকে রূপনগরে চলে যান। কিন্তু হাসিনা সরকার জঙ্গি নাটক সাজিয়ে তাকে হত্যার পরিকল্পনা করে। সেই মোতাবেক ২০১৬ সালের ২ সেপ্টেম্বর রাত ১১টার দিকে জাহিদকে হাত বেঁধে বাসার নিচে নিয়ে যায় রূপনগর থানা পুলিশের একটি দল। এরপর নির্মমভাবে তাকে হত্যা করা হয়।

এর আগে রাত ১০টার দিকে আসামিরা জেবুন্নাহারকে তার দুই শিশুসন্তানসহ চোখ বেঁধে অজ্ঞাত স্থানে নিয়ে যায়। তখন জেবুন্নাহার জানতে চান, তার স্বামী কোথায়? পুলিশ তখন বলতে থাকে, তিনি ও তার স্বামী জঙ্গি, এই স্বীকারোক্তি না দিলে তাকেও তার স্বামীর কাছে পাঠিয়ে দেওয়া হবে। তখন তিনি বুঝতে পারেন, তার স্বামীকে হত্যা করা হয়েছে। পরে পুলিশের কোনো একজন জানান, তারাই মেজর জাহিদকে হত্যা করেছে।

 

ট্রাইব্যুনালে অভিযোগ: গত বছরের ১০ আগস্ট আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর বরাবর পৃথক অভিযোগ করেন জেবুন্নাহার। অভিযোগে সাবেক আইজিপি একেএম শহীদুল হক, ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) গোয়েন্দা বিভাগের (ডিবি) তৎকালীন প্রধান মো. মনিরুল ইসলাম, কাউন্টার টেরোরিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইমের (সিটিটিসি) তৎকালীন প্রধান মো. আসাদুজ্জামান, মিরপুর বিভাগের তৎকালীন উপকমিশনার (ডিসি) মাসুদ আহমেদ, রূপনগর থানার তৎকালীন ওসি শাহীদ আলম, ডিসি ডিবি কৃষ্ণ পদ রায় ও রূপনগর থানা-পুলিশের তৎকালীন অজ্ঞাতনামা সদস্যদের আসামি করা হয়েছে।

 

প্রধান আসামি একেএম শহীদুল হককে ট্রাইব্যুনালে হাজির করা হয়। পরে এ মামলায় গ্রেফতার দেখিয়ে তাকে একদিনের জিজ্ঞাসাবাদের নির্দেশ দেন ট্রাইব্যুনাল। বৃহস্পতিবার আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২-এর চেয়ারম্যান বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন বিচারিক প্যানেল এ নির্দেশ দিয়েছেন।

 

স্ত্রীর ওপর নির্মম নির্যাতন: জাহিদের স্ত্রী জেবুন্নাহারকে ডিবি কার্যালয়ে জিজ্ঞাসাবাদের নামে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন করা হয়। নেওয়া হয় মিথ্যা জবানবন্দি। একই সঙ্গে নিহত মেজর জাহিদের বিরুদ্ধে একটি এবং জেবুন্নাহারের বিরুদ্ধে ২টি সাজানো জঙ্গি মামলা দেওয়া হয়। ২০২৪ সালের ৩১ আগস্ট তিনি জামিনে মুক্তি পান।

পিলখানা হত্যাকাণ্ডের তথ্য জানতেন বলেই ‘জঙ্গি’ সাজিয়ে হত্যা

টাঙ্গাইলের মধুপুরে যাত্রীবাহী বাস ও বালুবাহী ট্রাকের তীব্র মুখোমুখি সংঘর্ষে ৩ জন নিহত এবং অন্তত ৭ জন গুরুতর আহত হয়েছেন।

 

বৃহস্পতিবার (৩০ জুলাই) দিবাগত রাত সাড়ে ১০টার দিকে টাঙ্গাইল-ময়মনসিংহ আঞ্চলিক মহাসড়কের মধুপুর উপজেলার রক্তিপাড়া এলাকায় এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনাটি ঘটে। তাৎক্ষণিকভাবে নিহতদের পরিচয় পাওয়া যায়নি।

 

পুলিশ ও স্থানীয় প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, টাঙ্গাইলগামী একটি বালু বোঝাই ট্রাকের সঙ্গে বিপরীত দিক থেকে আসা জামালপুরগামী একটি যাত্রীবাহী বাসের মুখোমুখি মুখোমুখি ধাক্কা লাগে। এতে বাস ও ট্রাকের একাংশ দুমড়েমুচড়ে যায় এবং ঘটনাস্থলেই ৩ জন প্রাণ হারান। দুর্ঘটনায় আহত হন অন্তত ৭ জন যাত্রী। পরে স্থানীয় উদ্ধারকারীরা এগিয়ে এসে আহতদের দ্রুত উদ্ধার করে মধুপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে ভর্তি করেন।

 

মধুপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) একেএম ফজলুল হক জানান, খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে উদ্ধার কাজ চালায়। নিহতদের পরিচয় শনাক্তের চেষ্টা চলছে এবং আইনি প্রক্রিয়া শেষে মরদেহগুলো স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হবে।

টাঙ্গাইলের মধুপুরে বাস-ট্রাক মুখোমুখি সংঘর্ষে নিহত ৩

ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে ক্ষমতাচ্যুত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে দেশে ফেরত পাঠানোর অনুরোধ খতিয়ে দেখছে ভারত। দেশটির কেন্দ্রীয় সরকারের পক্ষ থেকে পররাষ্ট্রবিষয়ক সংসদীয় কমিটিকে এ তথ্য জানানো হয়েছে। পাশাপাশি, ভারতে অবস্থান করলেও শেখ হাসিনাকে কোনো ধরনের রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড পরিচালনার সুযোগ দেওয়া হয়নি বলেও দাবি দেশটির সরকারের। খবর, টাইমস অব ইন্ডিয়া’র।

 

বৃহস্পতিবার (৩০ জুলাই) কংগ্রেস নেতা শশী থারুরের সভাপতিত্বে গঠিত পররাষ্ট্রবিষয়ক পার্লামেন্টারি স্থায়ী কমিটির সুপারিশের ওপর সরকারের নেয়া পদক্ষেপসংক্রান্ত প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়।

 

মূলত, ‘ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্কের ভবিষ্যৎ’ শীর্ষক কমিটির নবম প্রতিবেদনের সুপারিশের ভিত্তিতে সরকারের পদক্ষেপ নিয়ে তৈরি প্রতিবেদনটি বৃহস্পতিবার পার্লামেন্টে উপস্থাপন করা হয়। এতে বলা হয়, প্রযোজ্য আইন ও নির্ধারিত প্রক্রিয়া অনুসারে শেখ হাসিনাকে প্রত্যর্পণের জন্য বাংলাদেশের করা অনুরোধ ‘সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ পর্যালোচনা করছে’।

 

কমিটি জানায়, শেখ হাসিনার অনুপস্থিতিতে তার মৃত্যুদণ্ডের রায় ঘোষণার পর বাংলাদেশ সরকার তাকে প্রত্যর্পণের অনুরোধ জানিয়েছে। বিষয়টি পর্যালোচনার অগ্রগতি সম্পর্কে সরকারকে নিয়মিত কমিটিকে অবহিত রাখারও আহ্বান জানানো হয়েছে।

 

আরও বলা হয়, শেখ হাসিনার ভারতে অবস্থান দেশটির ‘সভ্যতাগত মূল্যবোধ ও মানবিক ঐতিহ্যের’ সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ। গুরুতর সংকট বা অস্তিত্বের হুমকির মুখে থাকা ব্যক্তিদের আশ্রয় দেয়ার দীর্ঘদিনের নীতির অংশ হিসেবেই তিনি ভারতে অবস্থান করছেন। ভারত সরকার স্পষ্ট করেছে যে শেখ হাসিনাকে ভারতের ভূখণ্ড ব্যবহার করে কোনও ধরনের রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড পরিচালনার জন্য কোনও রাজনৈতিক প্ল্যাটফর্ম বা সুযোগ দেয়া হয়নি।

 

কমিটির মতে, ভারত বরাবরই এই নীতি অনুসরণ করে যে দেশটির ভূখণ্ড অন্য কোনও দেশের বিরুদ্ধে রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড পরিচালনার জন্য ব্যবহার করতে দেওয়া হবে না। এ কারণে সরকারকে মানবিক ও নীতিগত অবস্থান বজায় রাখার পাশাপাশি এ ধরনের পরিস্থিতি যথাযথ সংবেদনশীলতা ও ভারতের আন্তর্জাতিক দায়বদ্ধতার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে মোকাবিলার সুপারিশ করেছে কমিটি।

 

উল্লেখ্য, ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টে ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানের মুখে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর বাংলাদেশ ছেড়ে ভারতে চলে যান শেখ হাসিনা। এরপর থেকেই তিনি সেখানেই অবস্থান করছেন।

শেখ হাসিনাকে প্রত্যর্পণে বাংলাদেশের অনুরোধ ‘পর্যালোচনা’ করছে ভারত

ফেনীতে টিকটক ভিডিও বানানোর সময় ছয় বছরের এক মেয়ে শিশুকে উত্যক্ত, হাত ধরে টানাটানি এবং সেই ঘটনার ভিডিও ধারণ করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়ার অভিযোগে তিন যুবকের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়েছে। মামলার প্রধান আসামিকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।

 

বৃহস্পতিবার (৩০ জুলাই) ভুক্তভোগী শিশুর বাবা (৫৫) বাদী হয়ে ফেনী মডেল থানায় মামলাটি দায়ের করেন। তিনি সদর উপজেলার কালিদহ ইউনিয়নের গোবিন্দপুর এলাকার বাসিন্দা।

 

মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, গত ২৮ জুলাই দুপুর ১২টা ১০ মিনিটের দিকে গোবিন্দপুর এলাকায় অ্যাডভোকেট মফিজুর রহমানের বাড়ির সামনে দিয়ে স্কুল থেকে বাড়ি ফিরছিল দ্বিতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থী (৬)। এ সময় অভিযুক্ত তিন যুবকের মধ্যে দুজন শিশুটির হাত ধরে টানাটানি করে উত্যক্ত করে। অন্যজন পুরো ঘটনার ভিডিও ধারণ করে। পরে ভিডিওটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়া হয়।

 

এজাহারে আরও উল্লেখ করা হয়, ভয়ে শিশুটি প্রথমে কাউকে বিষয়টি জানায়নি। পরদিন রাতে বাবার কাছে ঘটনাটি খুলে বলে। পরে স্বজনদের মাধ্যমে পরিবার জানতে পারে, উত্যক্তের ভিডিওটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। ভিডিও দেখে স্থানীয়দের সহায়তায় অভিযুক্তদের শনাক্ত করা হয়।

 

মামলায় আসামি করা হয়েছে কুমিল্লার চান্দিনা উপজেলার মৈশাইল গ্রামের মনির হোসেনের ছেলে, বর্তমানে ফেনী সদরের উত্তর সিলোনিয়া এলাকার বাসিন্দা মোজাম্মেল হোসেন (২০), পশ্চিম সিলোনিয়া গ্রামের জাহাঙ্গীর আলমের ছেলে সালমান (২০) এবং সাত্রাসিদ্ধি গ্রামের মনির আহাম্মদের ছেলে মাহফুজকে (১৯)।

 

মামলার বাদীর অভিযোগ, অভিযুক্তরা তার মেয়ের শ্লীলতাহানির উদ্দেশে অশোভন আচরণ ও উত্যক্ত করেছেন। বিষয়টি নিশ্চিত হওয়ার পর তিনি থানায় মামলা করেন।

 

ফেনী মডেল থানার পরিদর্শক (তদন্ত) সজল কান্তি দাশ যুগান্তরকে জানান, ভিডিওটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার ঘটনায় মামলা হয়েছে। প্রধান আসামি মোজাম্মেল হোসেনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। পলাতক অপর দুই আসামিকে গ্রেফতারে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

টিকটক ভিডিও বানাতে গিয়ে শিশুকে উত্যক্ত, অতঃপর…

নারায়ণগঞ্জে মহানগর ছাত্রশিবিরের ‘জুলাই জাগরণ’ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের মধ্যে পটকা নিক্ষেপের ঘটনা ঘটেছে। তবে এ ঘটনায় কোনো হতাহতের ঘটনা ঘটেনি।

 

বৃহস্পতিবার (৩০ জুলাই) রাত সাড়ে ৮টার দিকে নগরের চাষাঢ়া কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার প্রাঙ্গণে মহানগর ছাত্রশিবিরের আয়োজিত সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে এ ঘটনা ঘটে।

 

আয়োজকদের দাবি, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান চলাকালে হঠাৎ শহীদ মিনারের পেছনে তেলের পাম্পের দিক থেকে দুই যুবক অনুষ্ঠানের মধ্যে পটকা নিক্ষেপ করেন। পরে তারা পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করলে ছাত্রশিবিরের কর্মীরা তাদের আটক করে পুলিশের হাতে তুলে দেন।

 

আটক দুজন হলেন, সোনারগাঁ উপজেলার নাজিরপুর এলাকার গোলজার হোসেনের ছেলে মোখলেস এবং ফতুল্লার গাবতলী এলাকার শাহ আলম সরদারের ছেলে লোকমান।

 

মহানগর ছাত্রশিবিরের সভাপতি অমিত হাসান বলেন, “অনুষ্ঠান চলাকালে দুই ব্যক্তি মিনারের পাশের পাম্পের দিক থেকে দর্শকদের ওপর পটকা ছুড়ে মেরে পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করে। পরে আমাদের ছাত্রশিবিরের ভাইয়েরা তাদের ধরে পুলিশের কাছে দেয়।”

 

তিনি অভিযোগ করেন, অনুষ্ঠান পণ্ড করার উদ্দেশ্যেই তারা এ ঘটনা ঘটিয়েছে। তাঁর দাবি, আটক দুজন নিজেদের প্রয়াত সংসদ সদস্য নাসিম ওসমানের ছেলে ও সাবেক সংসদ সদস্য শামীম ওসমানের ভাতিজা আজমেরী ওসমানের অনুসারী বলে স্বীকার করেছেন।

 

এ বিষয়ে নারায়ণগঞ্জ সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. সাজেদুর রহমান বলেন, “খবর পেয়েছি। তারা দুজন পুলিশের হেফাজতে আছে। প্রাথমিকভাবে তারা দুজন স্বীকার করেছে। তাদের রাজনৈতিক পরিচয় বা কোন উদ্দেশ্যে এ ঘটনা ঘটিয়েছে, সে বিষয়ে পরে বিস্তারিত বলতে পারব।”

 

ওসি আরও বলেন, এ প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত ছাত্রশিবিরের পক্ষ থেকে থানায় কোনো লিখিত অভিযোগ দেওয়া হয়নি।

ছাত্রশিবিরের সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে পটকা নিক্ষেপ, আটক ২

গাইবান্ধায় ৮৮ বস্তা অবৈধ মিশরীয় জিরানি মসলা জব্দসহ ২ জনকে গ্রেফতার করেছে ডিবি পুলিশ

‎শাহ্ পারভেজ সংগ্রাম,গাইবান্ধা প্রতিনিধি

‎গাইবান্ধা শহরে বিপুল পরিমাণ অবৈধ মিশরীয় মসলা জব্দ করেছে জেলা গোয়েন্দা শাখা (ডিবি) পুলিশ। অভিযানে ৮৮ বস্তায় থাকা প্রায় ২ হাজার ২০০ কেজি (প্রায় ৫৫ মণ) মসলা উদ্ধার এবং দুইজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এ ঘটনায় আরও একজনকে মূল সমন্বয়কারী হিসেবে সন্দেহ করা হচ্ছে বলে তদন্তসংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।

‎বৃহস্পতিবার দুপুরে জেলা শহরের ডিসি অফিসের সামনে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে একটি ট্রলি থেকে এসব মসলা জব্দ করা হয়। একই সঙ্গে অবৈধ চালান বহনের অভিযোগে দুইজনকে গ্রেপ্তার করা হয়।

‎গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন বগুড়ার সারিয়াকান্দি উপজেলার নাজমুল হকের ছেলে আতিকুর রহমান এবং গাইবান্ধার পলাশবাড়ী উপজেলার বেলাডাঙ্গা এলাকার রুহুল আমিনের ছেলে শাহজালাল।

‎তদন্তসংশ্লিষ্ট একটি সূত্র জানায়, বগুড়ার শাহীন নামের এক ব্যক্তি এই চালানের সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগ রয়েছে। অভিযানের সময় তিনি পালিয়ে যান। গ্রেপ্তার হওয়া দুজনের মধ্যে একজন ট্রলিচালক এবং অন্যজন সহকারী হিসেবে কাজ করছিলেন বলে প্রাথমিকভাবে জানা গেছে। পুলিশ পলাতক ওই ব্যক্তিকে গ্রেপ্তারের চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।

‎স্থানীয়দের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরেই বিভিন্ন এলাকায় নিম্নমানের বা অবৈধ মসলা সরবরাহের একটি চক্র সক্রিয় রয়েছে। তবে এ বিষয়ে তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত নিশ্চিতভাবে কিছু বলা যাচ্ছে না।

‎ডিবি পুলিশ জানিয়েছে, জব্দ করা মসলা ও ট্রলিটি তাদের হেফাজতে নেওয়া হয়েছে। এ ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের পাশাপাশি পলাতক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তারের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

গাইবান্ধায় ৮৮ বস্তা অবৈধ মিশরীয় জিরানি মসলা জব্দসহ ২ জনকে গ্রেফতার করেছে ডিবি পুলিশ

ফরিদপুরের বোয়ালমারীতে আওয়ামী লীগ থেকে বিএনপিতে যোগ দেওয়া সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান আব্দুল মান্নান মাতুব্বরের বিরুদ্ধে বিএনপি নেতাকর্মীদের বাড়িছাড়া, চাঁদাবাজি ও ভয়ভীতি প্রদর্শনের অভিযোগ উঠেছে। এসব অভিযোগ তুলে সংবাদ সম্মেলন করেছেন স্থানীয় বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতারা।

 

বৃহস্পতিবার (৩০ জুলাই) বিকেল সাড়ে ৫টায় উপজেলার পরমেশ্বরদী ইউনিয়নের পরমেশ্বরদী গ্রামে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলন করা হয়। এতে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন উপজেলা যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক মাহাবুব হাসান সজীব।

 

লিখিত বক্তব্যে তিনি দাবি করেন, গত ১২ ফেব্রুয়ারির জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে এলাকায় কয়েকটি সংঘর্ষের ঘটনা ঘটলেও প্রশাসনের উদ্যোগে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়। তবে পরে আব্দুল মান্নান মাতুব্বর পুনরায় এলাকায় প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা শুরু করেন। সরকারের পরিবর্তনের পর কিছুদিন আত্মগোপনে থাকার পর ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনকে সামনে রেখে এলাকায় ফিরে এসে তিনি ও তার অনুসারীরা বিএনপি নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষের ওপর নানা ধরনের নির্যাতন চালাচ্ছেন।

 

সংবাদ সম্মেলনে আরও অভিযোগ করা হয়, নাজিম হত্যা মামলার বাদী ও সাক্ষীদের মামলা তুলে নিতে চাপ দেওয়া হচ্ছে। তাদের বাড়িতে হামলা, লুটপাট, গবাদিপশু নিয়ে যাওয়া, ফসলি জমিতে যেতে বাধা এবং বিভিন্নভাবে ভয়ভীতি প্রদর্শনের ঘটনাও ঘটছে। এসব কারণে প্রায় ৫০ থেকে ৬০টি পরিবার গত পাঁচ মাস ধরে বাড়িছাড়া রয়েছে এবং প্রায় ৬০ থেকে ৭০ বিঘা জমির পাট কাটতে পারছে না। এছাড়া মাছের ঘের থেকে মাছ লুট ও বিষ প্রয়োগে মাছ নিধন করা হয়েছে। এসব বিষয়ে থানায় একাধিক লিখিত অভিযোগ দেওয়া হয়েছে।

 

পরমেশ্বরদী ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সাবেক সভাপতি আক্কাস মোল্যা বলেন, দীর্ঘদিন ধরে বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত থাকলেও তিনি ও তার পরিবার অতীতেও রাজনৈতিক নির্যাতনের শিকার হয়েছেন। বর্তমানে আব্দুল মান্নান মাতুব্বরের অনুসারীদের কারণে স্বাভাবিকভাবে নিজ বাড়িতে বসবাস করতে পারছেন না বলেও দাবি করেন তিনি।

 

২ নম্বর ওয়ার্ড যুবদলের সাধারণ সম্পাদক আকমল শেখ অভিযোগ করেন, নির্বাচনের পর থেকে তিনি প্রায় সাত মাস ধরে বাড়িছাড়া। তার কাছে তিন লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয়েছে বলে জানান তিনি।

 

একই ওয়ার্ড বিএনপির সাবেক সভাপতি আকুব্বর মাতুব্বর বলেন, প্রভাবশালীদের কারণে তিনি নিজের বাড়িতে যেতে পারছেন না। এমনকি নিজের জমির পাট কাটতেও বাধার মুখে পড়ছেন, ফলে আর্থিক ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছেন।

 

৫ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ মেহেদী হাসান অভিযোগ করেন, তার ভাতিজা সৈয়দ নাজিম আলী হত্যা মামলার বাদী ও সাক্ষীদের মামলা প্রত্যাহারের জন্য চাপ দেওয়া হচ্ছে। মামলা না তোলায় তাদের বাড়িতে হামলার ঘটনাও ঘটেছে।

 

এ বিষয়ে বোয়ালমারী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, এ ঘটনায় থানায় লিখিত অভিযোগ পেলে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

 

সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত বিএনপি নেতারা অভিযোগগুলোর সুষ্ঠু তদন্ত এবং আব্দুল মান্নান মাতুব্বরের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান।

আ’লীগ থেকে বিএনপিতে যোগ দেওয়া নেতার অত্যাচারে ‘ঘরছাড়া’ বিএনপি নেতারা

হবিগঞ্জে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) কেন্দ্রীয় মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটোয়ারী ও উত্তরাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক সারজিস আলমসহ দলটির ১০ নেতার বিরুদ্ধে হত্যাচেষ্টা, মারধর, ভাঙচুর ও ছিনতাইয়ের অভিযোগে মামলা দায়ের করা হয়েছে।

 

বৃহস্পতিবার (৩১ জুলাই) রাত ১০টার দিকে হবিগঞ্জ সদর মডেল থানায় মামলার এজাহার দাখিল করেন জেলা ছাত্রদলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মো. ইকবাল হোসেন রুকন। মামলায় এনসিপির ১০ নেতার নাম উল্লেখের পাশাপাশি অজ্ঞাতপরিচয় আরও ৪০ থেকে ৫০ জনকে আসামি করা হয়েছে।

 

মামলার এজাহার অনুযায়ী, গত ২৮ জুলাই বিকেল ৫টা থেকে রাত ৮টার মধ্যে হবিগঞ্জ পৌরসভার কোর্ট মসজিদের সামনে এনসিপি ও ছাত্রদলের নেতাকর্মীদের মধ্যে দফায় দফায় সংঘর্ষ হয়। অভিযোগে বলা হয়েছে, এনসিপির নেতাকর্মীরা দেশীয় অস্ত্র নিয়ে ছাত্রদলের নেতাকর্মীদের ওপর হামলা চালান।

 

এজাহারে বাদী উল্লেখ করেন, কেন্দ্রীয় ছাত্রদলের কর্মসূচির অংশ হিসেবে জুলাই আন্দোলনের শহীদ রিপন শীলের পরিবারের সঙ্গে সাক্ষাৎ এবং শোকসভায় অংশ নিতে ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা কোর্ট মসজিদের সামনে জড়ো হন। এ সময় নাসীরুদ্দীন পাটোয়ারী, সারজিস আলম, আবু হেনা মোস্তফা কামাল, মাহবুবুল বারী চৌধুরীসহ ৪০ থেকে ৫০ জনের একটি দল দেশীয় অস্ত্র নিয়ে সেখানে এসে হামলা চালায় বলে অভিযোগ করা হয়েছে।

অভিযোগে আরও বলা হয়, হামলায় জেলা ছাত্রদল নেতা মাহফুজ চৌধুরী, মোজাক্কির হোসেন ইমনসহ কয়েকজন আহত হন। তাদের লোহার রড, রামদা, ফিকল, ইটের টুকরোসহ বিভিন্ন দেশীয় অস্ত্র দিয়ে আঘাত করা হয় বলেও এজাহারে উল্লেখ রয়েছে।

 

মামলায় আরও অভিযোগ করা হয়েছে, সংঘর্ষের সময় বাদীর আইফোন-১৩, মোজাক্কির হোসেন ইমনের আইফোন-১১, মাহফুজ চৌধুরীর আইফোন-১৪, মাহমুদুল হাসান গাজীর স্যামসাং এস-২২, রক্সি ইসলামের কাছে থাকা ৫০ হাজার টাকা এবং শিমুল হাসানের আইফোন-১৫ ছিনিয়ে নেওয়া হয়। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছালে অভিযুক্তরা সরে যান এবং আহতরা হবিগঞ্জ সদর আধুনিক হাসপাতালে চিকিৎসা নেন বলে এজাহারে দাবি করা হয়েছে।

 

মামলার আসামিরা হলেন- এনসিপির কেন্দ্রীয় মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটোয়ারী, উত্তরাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক সারজিস আলম, হবিগঞ্জ জেলা জাতীয় শক্তির আহ্বায়ক নুর আলম চৌধুরী, জেলা কমিটির সদস্য ফখরুল জাকির, আ. হাই কামাল, রুহাম গাজী, সদস্য সচিব মাহবুবুল বারী চৌধুরী মুবিন, কেন্দ্রীয় সমন্বয়ক নাহিদ উদ্দিন তারেক, জেলা আহ্বায়ক আবু হেনা মোস্তফা কামাল এবং জেলা কমিটির সদস্য ওয়াদুদ মাহমুদ চৌধুরী।

 

এদিকে, একই ঘটনাকে কেন্দ্র করে এর আগে এনসিপির পক্ষ থেকেও ছাত্রদলের বিরুদ্ধে হামলার অভিযোগ তোলা হয়। দলটির দাবি, ২৮ জুলাই পদযাত্রা ও পথসভা শেষে সার্কিট হাউসে ফেরার পথে ছাত্রদলের হামলায় সারজিস আলমসহ অন্তত ১৫ নেতাকর্মী আহত হন। হামলায় এনসিপির এক কর্মীর একটি চোখ নষ্ট হয়ে যায় বলেও অভিযোগ করেন দলটির নেতারা। একই ঘটনায় কয়েকটি সংবাদমাধ্যমের গাড়ি ভাঙচুরের অভিযোগও করা হয়।

 

এনসিপির অভিযোগ অনুযায়ী, পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠলে নাসীরুদ্দীন পাটোয়ারী ও সারজিস আলম নিরাপত্তার জন্য থানার পাশের সোনালী ব্যাংকে আশ্রয় নেন। পরে পুলিশ তাদের উদ্ধার করে সার্কিট হাউসে নিয়ে যায় এবং রাতে পুলিশি পাহারায় মৌলভীবাজার পৌঁছে দেয়।

 

তবে সদর মডেল থানার এসআই ধ্রুবেশ চক্রবর্তী বলেন, ছাত্রদল নেতা বাদী হয়ে এনসিপির নেতাদের বিরুদ্ধে একটি মামলা দায়ের করেছেন।

 

অন্যদিকে, হবিগঞ্জ জেলা ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক মো. জিল্লুর রহমান ও সাংগঠনিক সম্পাদক মো. মাহবুব আহমেদ থানায় অভিযোগ দায়েরের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

 

ঘটনার জেরে দায়ের হওয়া এ মামলার খবর বৃহস্পতিবার গভীর রাত থেকেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে।

নাসীরুদ্দীন-সারজিসসহ এনসিপির ১০ নেতার বিরুদ্ধে হত্যাচেষ্টার মামলা

র‌্যাবের চৌকস অভিযানে জীপসহ প্রায় ১১ হাজার ইয়াবার চালান আটক

জামালপুর হামলা পাল্টা হামলার মধ্য দিয়ে জেলার সানন্দবাড়ী তে থমথমে অবস্থা বিরাজমান।

পর্নোগ্রাফি নিয়ন্ত্রণ আইনে এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা দায়ের ও আদালতে মিথ্যা হলফনামা দেয়ার অভিযোগে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের কেবিন ক্রু খাদিজা সুলতানা শিমুর বিরুদ্ধে মামলা দায়েরের নির্দেশ দিয়েছেন আদালত।

 

বুধবার (১৫ জুলাই) ঢাকার অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালত-২-এর বিচারক মো. জাকির হোসাইন এ আদেশ দেন। আদালতের আদেশে বলা হয়েছে, শিমুর বিরুদ্ধে পর্নোগ্রাফি নিয়ন্ত্রণ আইন, ২০১২-এর ১৩ ধারা এবং দণ্ডবিধির ১৮১, ১৮২ ও ১৯৩ ধারায় মামলা করা হবে। আদালত নিজেই এ মামলার বাদী হয়েছেন।

 

আদালতের নথি অনুযায়ী, খাদিজা সুলতানা শিমু মামলার বাদী হয়ে বেসরকারি একটি এয়ারলাইন্সের কর্মকর্তা মো. ওমর ফারুক চৌধুরীর বিরুদ্ধে পর্নোগ্রাফি নিয়ন্ত্রণ আইনের বিভিন্ন ধারায় উত্তরা পশ্চিম থানায় মামলা করেন।

 

তদন্ত শেষে উত্তরা পশ্চিম থানার তদন্ত কর্মকর্তা আদালতে চূড়ান্ত প্রতিবেদন দাখিল করে জানান, অভিযোগের সত্যতা পাওয়া যায়নি। প্রতিবেদনে বলা হয়, মামলার এজাহারে উল্লেখ করা ফেসবুক লিংক, ডিজিটাল আলামত ও অন্যান্য তথ্য যাচাই করে ওমর ফারুকের বিরুদ্ধে পর্নোগ্রাফি প্রচারের কোনো প্রমাণ মেলেনি। ফলে ওই কর্মকর্তাকে মামলা থেকে অব্যাহতির সুপারিশ করা হয়।

একই সঙ্গে তদন্ত কর্মকর্তা প্রতিবেদনে উল্লেখ করেন, ওমর ফারুক আগে শিমুর বিরুদ্ধে বিয়ের প্রলোভন দিয়ে অর্থ আত্মসাতের অভিযোগে আদালতে মামলা করেছিলেন। সেই মামলার দায় এড়াতেই শিমু সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচারিত বিভিন্ন লিংক উল্লেখ করে তার বিরুদ্ধে পর্নোগ্রাফি ছড়ানোর অভিযোগ এনে উদ্দেশ্যপ্রণোদিত, হয়রানিমূলক ও মিথ্যা মামলা করেছেন বলে প্রাথমিক তদন্তে প্রতীয়মান হয়েছে। এ কারণে শিমুর বিরুদ্ধে পর্নোগ্রাফি নিয়ন্ত্রণ আইন, ২০১২-এর ১৩ ধারায় আইনগত ব্যবস্থা নেয়ার আবেদনও করেন তদন্ত কর্মকর্তা।

 

পরে গত ৯ জুলাই আদালত তদন্ত প্রতিবেদন গ্রহণ করে ওমর ফারুককে মামলা থেকে অব্যাহতি দেন। আদালতের আদেশে বলা হয়, শিমু ক্ষতিসাধনের উদ্দেশ্যে আদালতে মিথ্যা মামলা দায়ের করেছেন এবং হলফ করে মিথ্যা সাক্ষ্য দিয়েছেন। মামলার নথিতে তার দেয়া হলফনামাও সংযুক্ত রয়েছে। এসব বিবেচনায় আদালত নিজেই বাদী হয়ে তার বিরুদ্ধে পর্নোগ্রাফি নিয়ন্ত্রণ আইন ও দণ্ডবিধির সংশ্লিষ্ট ধারায় মামলা দায়েরের নির্দেশ দেন।

 

তদন্তে যা উঠে এসেছে পুলিশের চূড়ান্ত প্রতিবেদনে বলা হয়, তদন্তকালে রেকর্ড, ডিজিটাল আলামত, ফেসবুক লিংক ও ফরেনসিক তথ্য যাচাই করে ওমর ফারুকের বিরুদ্ধে পর্নোগ্রাফি প্রচারের কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি।

 

তদন্তে আরও উঠে আসে, শিমু বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের কেবিন ক্রু এবং ওমর ফারুক একটি বেসরকারি এয়ারলাইন্সের এয়ারক্রাফট মেইনটেন্যান্স কর্মকর্তা। ফেসবুকে পরিচয়ের পর তাদের মধ্যে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে।

 

প্রতিবেদনে বলা হয়, বিয়ের আশ্বাস দিয়ে বিভিন্ন সময়ে ওমর ফারুকের কাছ থেকে বিপুল পরিমাণ অর্থ ও মূল্যবান সামগ্রী নেয়ার অভিযোগে ওমর ফারুক আদালতে পৃথক মামলা করেন। এরপর সেই মামলার দায় থেকে নিজেকে রক্ষা করতেই শিমু পর্নোগ্রাফি আইনে অভিযোগ দায়ের করেন বলে তদন্তে প্রতীয়মান হয়েছে।

 

ওমর ফারুকের আগের মামলা গত ২০ জুলাই ওমর ফারুক চৌধুরী শিমুর বিরুদ্ধে বিয়ের প্রলোভন, ‘হানি ট্র্যাপ’ ও ব্ল্যাকমেইলের মাধ্যমে প্রায় ২২ লাখ টাকা আত্মসাতের অভিযোগে ঢাকার আদালতে মামলা করেন। আদালত অভিযোগটি আমলে নিয়ে উত্তরা পশ্চিম থানাকে তদন্তের নির্দেশ দেন। পরে তিনি বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স কর্তৃপক্ষের কাছেও লিখিত অভিযোগ করেন।

 

সেই মামলায় অভিযোগ করা হয়, ২০২৪ সালে ফেসবুকে পরিচয়ের পর শিমু তাকে বিয়ের আশ্বাস দিয়ে বিভিন্ন সময়ে টাকা নেন। জন্মদিনে দেড় লাখ টাকা মূল্যের একটি হীরার আংটিসহ বিয়ের খরচের জন্য মোট ২১ লাখ ৭৪ হাজার ৫১১ টাকা নেয়ার পরও বিয়ে না করে প্রতারণার মাধ্যমে অর্থ আত্মসাৎ করা হয়েছে বলে মামলায় দাবি করা হয়।

পর্নোগ্রাফি আইনে কেবিন ক্রু শিমুর বিরুদ্ধে মামলার নির্দেশ আদালতের

error: আপনি নিউজ চুরি করার চেষ্টা করছেন। বিশেষ প্রয়োজনে যোগাযোগ করুন ০১৭৬৭৪৪৪৩৩৩
%d