নড়াগাতীতে ইউপি সদস্য মনি মিয়া হত্যা: খুনিদের ফাঁসির দাবিতে আবারো মানববন্ধন ও বিক্ষোভ মিছিল - Gono television | বাংলাদেশ সরকার অনুমোদিত বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেল।
নড়াগাতীতে ইউপি সদস্য মনি মিয়া হত্যা: খুনিদের ফাঁসির দাবিতে আবারো মানববন্ধন ও বিক্ষোভ মিছিল

নড়াগাতীতে ইউপি সদস্য মনি মিয়া হত্যা: খুনিদের ফাঁসির দাবিতে আবারো মানববন্ধন ও বিক্ষোভ মিছিল

স্টাফ রিপোর্টার

তানিন পিয়াস চৌধুরী

তাং: ৩০/০৭/২৬ শনিবার।

 

 

হেডলাইন: নড়াগাতীতে ইউপি সদস্য মনি মিয়া হত্যা: খুনিদের ফাঁসির দাবিতে আবারো মানববন্ধন ও বিক্ষোভ মিছিল।

 

নড়াইলের নড়াগাতীতে জয়নগর ইউনিয়ন পরিষদের ৩ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য মনি মিয়া শেখ হত্যাকাণ্ডে জড়িত চিহ্নিত আসামিদের দ্রুত গ্রেপ্তার ও সর্বোচ্চ শাস্তি ফাঁসির দাবিতে উত্তাল হয়ে উঠেছে এলাকা। এই দাবা বাস্তবায়নে নড়াগাতী থানার সামনে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করেছেন নিহতের স্বজন ও ক্ষুব্ধ এলাকাবাসী। নড়াগাতী থানার সামনের সড়কে আয়োজিত এই মানববন্ধনে স্থানীয় কয়েক শতাধিক নারী-পুরুষ অংশ নেন। পরে তারা একটি বিক্ষোভ মিছিল বের করে নড়াগাতীর প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করেন এবং আসামিদের দ্রুত আইনের আওতায় আনার দাবিতে বিভিন্ন স্লোগান দেন।,মানববন্ধনে সংহতি জানিয়ে বক্তব্য দেন জয়নগর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান কাজী আয়ুব হোসেন। এছাড়া নিহতের পরিবারের পক্ষে বক্তব্য দেন তার বড় ভাই পিরু শেখ, চাচাতো ভাই মনিরুল শেখ, স্ত্রী মনিকা বেগম, কন্যা বৈশাখী, ভাইপো সেকেন্দার শেখ, ভাবি রিলিয়া বেগম ও স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তি মো. ইকরাম শেখসহ অনেকে।,বক্তারা চরম ক্ষোভ প্রকাশ করে অভিযোগ করেন, এলাকার চিহ্নিত অপরাধী আনসার জমাদ্দার ও সৈয়দ শেখ গ্রুপ দীর্ঘদিন ধরে সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড চালিয়ে আসছে। এই একই চক্রটি মনি মিয়াসহ এ পর্যন্ত পাঁচটি হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটিয়েছে। কিন্তু বারবার আদালত থেকে জামিনে মুক্ত হয়ে তারা আরও বেপরোয়া হয়ে উঠছে এবং নতুন নতুন অপরাধ সংঘটিত করছে।এমন নৃশংস ও অভ্যাসগত অপরাধীরা কীভাবে বারবার জামিন পায়—মানববন্ধনে সে প্রশ্ন তুলে বিচারব্যবস্থা ও স্থানীয় প্রশাসনের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন বক্তারা।,কর্মসূচি থেকে নিহতের পরিবার ও এলাকাবাসী প্রশাসনকে স্পষ্ট বার্তা দিয়ে জানান, আগামী ৩ দিনের মধ্যে মনি মিয়া হত্যার সাথে জড়িত চিহ্নিত সকল আসামিকে গ্রেপ্তার করতে হবে। অন্যথায় আরও কঠোর কর্মসূচির হুঁশিয়া,রি দেন তারা

 

নড়াগাতি নড়াইল থেকে

তানিন পিয়াস চৌধুরী

গন টেলিভিশন সংবাদ।


আন্তর্জাতিক অঙ্গনে নেতৃত্ব বিকাশের স্বপ্ন নিয়ে হার্ভার্ডের অধ্যাপকদের প্রতিষ্ঠিত ঐতিহ্যবাহী ‘অ্যাস্পায়ার লিডারস প্রোগ্রাম ২০২৬’ (ব্যাচ-৩)-এ অংশগ্রহণের সুযোগ পেয়েছেন বাংলাদেশের তরুণ ওমর ফারুক।

 

আতিকুর রহমান আশিক

মানিকগঞ্জ প্রতিনিধি

 

 

 

২০১৫ সাল থেকে বিভিন্ন সামাজিক ও স্বেচ্ছাসেবী কার্যক্রমের সঙ্গে যুক্ত ওমর ফারুক দীর্ঘদিন ধরে নেতৃত্ব ও তরুণদের উন্নয়নমূলক কাজে কাজ করছেন। বিভিন্ন স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের সঙ্গে টিম পরিচালনা, ইভেন্ট পরিকল্পনা এবং সামাজিক যোগাযোগের ব্যবহারিক অভিজ্ঞতা অর্জন তাঁকে এই আন্তর্জাতিক প্ল্যাটফর্মে আবেদন করতে উদ্বুদ্ধ করে।

 

এর আগে ২০২৫ সালে নেপালে অনুষ্ঠিত একটি আন্তর্জাতিক বুটক্যাম্পে অংশগ্রহণের সুযোগ পেলেও ভিসা জটিলতায় তিনি শেষ পর্যন্ত অংশ নিতে পারেননি। তবে সেই প্রতিবন্ধকতা তাঁকে থামিয়ে রাখেনি; বরং আন্তর্জাতিক পর্যায়ে শেখার অদম্য আগ্রহকে আরও বাড়িয়ে দেয়। পরবর্তীতে চলতি বছরের মে মাসে তিনি দ্য অ্যাস্পায়ার লিডারস প্রোগ্রামে আবেদন করেন এবং চূড়ান্তভাবে নির্বাচিত হন।

 

নিজের অনুভূতি প্রকাশ করে ওমর ফারুক বলেন, “আন্তর্জাতিক নেতৃত্ব উন্নয়ন কর্মসূচিতে বাংলাদেশ থেকে অংশগ্রহণের সুযোগ পেয়ে আমি নিজেকে অত্যন্ত সৌভাগ্যবান মনে করছি। অনলাইনে আবেদন জমা দেওয়ার পর থেকেই অপেক্ষায় ছিলাম। নির্বাচিত হওয়ার ই-মেইলটি পেয়ে মনে হয়েছে স্বপ্নের পথে আরও একধাপ এগিয়ে গেলাম।”

 

অ্যাস্পায়ার লিডারস প্রোগ্রাম সম্পর্কে:

‘দ্য অ্যাস্পায়ার লিডারস প্রোগ্রাম’ একটি সম্পূর্ণ অর্থায়িত আন্তর্জাতিক নেতৃত্ব উন্নয়ন উদ্যোগ। ২০১৭ সালে হার্ভার্ড বিজনেস স্কুলের অধ্যাপকেরা হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ে এটি প্রতিষ্ঠা করেন। পরবর্তীতে ২০২১ সাল থেকে এটি স্বাধীন অলাভজনক প্রতিষ্ঠান ‘অ্যাস্পায়ার ইনস্টিটিউট’ (Aspire Institute)-এর অধীনে পরিচালিত হয়ে আসছে। এখন পর্যন্ত বিশ্বের ১৯৫টি দেশের ৫ লাখেরও বেশি তরুণ এতে অংশ নিয়েছেন।

 

সম্পূর্ণ অনলাইনে বিনামূল্যে পরিচালিত ৯ সপ্তাহের এই প্রোগ্রামটি মোট তিনটি মডিউলে বিভক্ত। এর মাধ্যমে মূলত বিশ্বজুড়ে সীমিত আয়ের এবং পরিবারের প্রথম প্রজন্মের বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীদের তাদের নিজস্ব সম্প্রদায়ে নেতৃত্বের জন্য প্রস্তুত করা হয়।

 

প্রোগ্রামের সুবিধা ও বৈশিষ্ট্য:

এই প্রোগ্রামের মাধ্যমে ঘরে বসেই হার্ভার্ডসহ বিশ্বের সেরা বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর খ্যাতিসম্পন্ন শিক্ষক, প্রশিক্ষক ও বিশেষজ্ঞদের মাস্টার ক্লাসে অংশ নেওয়ার সুযোগ রয়েছে। এছাড়া অংশগ্রহণকারীরা বিশ্বজুড়ে বিস্তৃত তরুণদের সঙ্গে নেটওয়ার্কিং, আইডিয়া বাস্তবায়নের জন্য অর্থায়ন, ব্যবহারিক দক্ষতা উন্নয়ন কর্মশালা এবং উচ্চশিক্ষার জন্য আর্থিক অনুদান পাওয়ার সুযোগ পান।

আন্তর্জাতিক অঙ্গনে নেতৃত্ব বিকাশের স্বপ্ন নিয়ে হার্ভার্ডের অধ্যাপকদের প্রতিষ্ঠিত ঐতিহ্যবাহী ‘অ্যাস্পায়ার লিডারস প্রোগ্রাম ২০২৬’ (ব্যাচ-৩)-এ অংশগ্রহণের সুযোগ পেয়েছেন বাংলাদেশের তরুণ ওমর ফারুক

ফেনীতে টিকটক ভিডিও বানানোর সময় ছয় বছরের এক মেয়ে শিশুকে উত্যক্ত, হাত ধরে টানাটানি এবং সেই ঘটনার ভিডিও ধারণ করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়ার অভিযোগে তিন যুবকের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়েছে। মামলার প্রধান আসামিকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।

 

বৃহস্পতিবার (৩০ জুলাই) ভুক্তভোগী শিশুর বাবা (৫৫) বাদী হয়ে ফেনী মডেল থানায় মামলাটি দায়ের করেন। তিনি সদর উপজেলার কালিদহ ইউনিয়নের গোবিন্দপুর এলাকার বাসিন্দা।

 

মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, গত ২৮ জুলাই দুপুর ১২টা ১০ মিনিটের দিকে গোবিন্দপুর এলাকায় অ্যাডভোকেট মফিজুর রহমানের বাড়ির সামনে দিয়ে স্কুল থেকে বাড়ি ফিরছিল দ্বিতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থী (৬)। এ সময় অভিযুক্ত তিন যুবকের মধ্যে দুজন শিশুটির হাত ধরে টানাটানি করে উত্যক্ত করে। অন্যজন পুরো ঘটনার ভিডিও ধারণ করে। পরে ভিডিওটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়া হয়।

 

এজাহারে আরও উল্লেখ করা হয়, ভয়ে শিশুটি প্রথমে কাউকে বিষয়টি জানায়নি। পরদিন রাতে বাবার কাছে ঘটনাটি খুলে বলে। পরে স্বজনদের মাধ্যমে পরিবার জানতে পারে, উত্যক্তের ভিডিওটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। ভিডিও দেখে স্থানীয়দের সহায়তায় অভিযুক্তদের শনাক্ত করা হয়।

 

মামলায় আসামি করা হয়েছে কুমিল্লার চান্দিনা উপজেলার মৈশাইল গ্রামের মনির হোসেনের ছেলে, বর্তমানে ফেনী সদরের উত্তর সিলোনিয়া এলাকার বাসিন্দা মোজাম্মেল হোসেন (২০), পশ্চিম সিলোনিয়া গ্রামের জাহাঙ্গীর আলমের ছেলে সালমান (২০) এবং সাত্রাসিদ্ধি গ্রামের মনির আহাম্মদের ছেলে মাহফুজকে (১৯)।

 

মামলার বাদীর অভিযোগ, অভিযুক্তরা তার মেয়ের শ্লীলতাহানির উদ্দেশে অশোভন আচরণ ও উত্যক্ত করেছেন। বিষয়টি নিশ্চিত হওয়ার পর তিনি থানায় মামলা করেন।

 

ফেনী মডেল থানার পরিদর্শক (তদন্ত) সজল কান্তি দাশ যুগান্তরকে জানান, ভিডিওটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার ঘটনায় মামলা হয়েছে। প্রধান আসামি মোজাম্মেল হোসেনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। পলাতক অপর দুই আসামিকে গ্রেফতারে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

টিকটক ভিডিও বানাতে গিয়ে শিশুকে উত্যক্ত, অতঃপর…

নারায়ণগঞ্জে মহানগর ছাত্রশিবিরের ‘জুলাই জাগরণ’ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের মধ্যে পটকা নিক্ষেপের ঘটনা ঘটেছে। তবে এ ঘটনায় কোনো হতাহতের ঘটনা ঘটেনি।

 

বৃহস্পতিবার (৩০ জুলাই) রাত সাড়ে ৮টার দিকে নগরের চাষাঢ়া কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার প্রাঙ্গণে মহানগর ছাত্রশিবিরের আয়োজিত সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে এ ঘটনা ঘটে।

 

আয়োজকদের দাবি, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান চলাকালে হঠাৎ শহীদ মিনারের পেছনে তেলের পাম্পের দিক থেকে দুই যুবক অনুষ্ঠানের মধ্যে পটকা নিক্ষেপ করেন। পরে তারা পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করলে ছাত্রশিবিরের কর্মীরা তাদের আটক করে পুলিশের হাতে তুলে দেন।

 

আটক দুজন হলেন, সোনারগাঁ উপজেলার নাজিরপুর এলাকার গোলজার হোসেনের ছেলে মোখলেস এবং ফতুল্লার গাবতলী এলাকার শাহ আলম সরদারের ছেলে লোকমান।

 

মহানগর ছাত্রশিবিরের সভাপতি অমিত হাসান বলেন, “অনুষ্ঠান চলাকালে দুই ব্যক্তি মিনারের পাশের পাম্পের দিক থেকে দর্শকদের ওপর পটকা ছুড়ে মেরে পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করে। পরে আমাদের ছাত্রশিবিরের ভাইয়েরা তাদের ধরে পুলিশের কাছে দেয়।”

 

তিনি অভিযোগ করেন, অনুষ্ঠান পণ্ড করার উদ্দেশ্যেই তারা এ ঘটনা ঘটিয়েছে। তাঁর দাবি, আটক দুজন নিজেদের প্রয়াত সংসদ সদস্য নাসিম ওসমানের ছেলে ও সাবেক সংসদ সদস্য শামীম ওসমানের ভাতিজা আজমেরী ওসমানের অনুসারী বলে স্বীকার করেছেন।

 

এ বিষয়ে নারায়ণগঞ্জ সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. সাজেদুর রহমান বলেন, “খবর পেয়েছি। তারা দুজন পুলিশের হেফাজতে আছে। প্রাথমিকভাবে তারা দুজন স্বীকার করেছে। তাদের রাজনৈতিক পরিচয় বা কোন উদ্দেশ্যে এ ঘটনা ঘটিয়েছে, সে বিষয়ে পরে বিস্তারিত বলতে পারব।”

 

ওসি আরও বলেন, এ প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত ছাত্রশিবিরের পক্ষ থেকে থানায় কোনো লিখিত অভিযোগ দেওয়া হয়নি।

ছাত্রশিবিরের সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে পটকা নিক্ষেপ, আটক ২

জামায়াত নির্বাচন চায়নি, নির্বাচন বানচালের চেষ্টা করেছে- এমপি রানু

স্টাফ রিপোর্টার

৩০/জুলাই/২০২৬ইং: নীলফামারী সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য ও নীলফামারী জেলার দায়িত্বপ্রাপ্ত এমপি রেহেনা আক্তার রানু বলেছেন, ১২ ফেব্রুয়ারীর নির্বাচনে বিএনপি’র ভূমিধস জয় পেয়েছে কিন্তু আপনার এলাকায় ধানের শীষ বিজয়ী হতে পারেনি। এতে ক্ষতি ধানের শীষের প্রার্থী প্রকৌশলী শাহরিন ইসলাম চৌধুরী তুহিনের কোন ক্ষতি হয়নি, ক্ষতি হয়েছে এই এলাকার মানুষের। বৃহস্পতিবার (৩০ জুলাই) দুপুরে নীলফামারী শহরের মশিউর রহমান ডিগ্রী কলেজে মসজিদ ও একাডেমিক ভবনের দ্বিতীয় ও তৃতীয় তলায় উদ্ধারমুখী সম্প্রসারণ কাজের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এ কথা বলেন। জামায়াতের বিরুদ্ধে অভিযোগ করে রেহেনা আক্তার রানু বলেন, জামায়াত নির্বাচন চাই নি, নির্বাচন বানচালের চেষ্টা করেছে। নির্বাচনের আগে ধোকাবাজি করেছে, জান্নাতের টিকিট বিক্রি করেছে। আসছে স্থানীয় সরকার নির্বাচনে যারা স্বাধীনতার বিরোধিতা করেছিল ওই সমস্ত গোষ্ঠীকে প্রত্যাখ্যান করতে হবে। বিশেষ অতিথির বক্তব্যে বিএনপি জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য ও এ্যাসোসিয়েশন অব ইঞ্জিনিয়ার্স বাংলাদেশ (এ্যাব) এর আহবায়ক প্রকৌশলী শাহরিন ইসলাম চৌধুরী তুহিন বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ১৬ থেকে ১৭ ঘণ্টা কাজ করেন। সকাল ৯ টায় সচিবালয় যান আর বাড়িতে ফেরেন রাত ১১ টায়। তিনি যেভাবে হাল ধরেছেন আপনাদের সকলের দাবি সমর্থন থাকে তাহলে আগামী পাঁচ বছর পর দেশের

অর্থসামাজিক ব্যবস্থার বিরাট পরিবর্তন ঘটবে। সাবেক সংসদ সদস্য তুহিন বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বিভিন্ন কার্ড দেওয়ার যে ব্যবস্থা করছেন এগুলো তৃণমূল একেবারেই নিচের স্তরের গরিব মেহনতি মানুষের কথা চিন্তা করেই করেছেন। বেশির ভাগ সময় গরীব মেহনতি মানুষের কথা রাজনীতিবিদ রাষ্ট্র চিন্তা করেনা কিন্তু এই ব্যবস্থা করেছেন তারেক রহমান। বক্তব্য দেন জেলা পরিষদের প্রশাসক এ্যাডভোকেট মিজানুর রহমান চৌধুরী শামীম, মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা রংপুর অঞ্চলের পরিচালক অধ্যাপক গোলাম মাজেদ, শিক্ষা প্রকৌশলী অধিদপ্তর নীলফামারীর নির্বাহী প্রকৌশলী হাজেরুল ইসলাম, সাবেক সংসদ সদস্য প্রকৌশলী শাহরিন ইসলাম তুহিন এর সহধর্মিনী তামান্না ইয়াসমিন। মশিউর রহমান ডিগ্রী কলেজের গভনিং বডির সভাপতি সোহায়েল পারভেজ সভায়

সভাপতিত্ব করেন। মশিউর রহমান ডিগ্রী কলেজের অধ্যক্ষ মো. শহিদুল ইসলাম জানান, শিক্ষা প্রকৌশলী অধিদপ্তরের তত্ত্বাবধানে দেড় কোটি টাকা ব্যয়ে একাডেমিক ভবনের দ্বিতীয় ও তৃতীয় তলা ভবনের উর্দ্ধমুখী সম্প্রসারণ এবং জেলা পরিষদের অর্থায়নে ৩লাখ টাকা দিয়ে মসজিদ নির্মাণ কাজ শুরু হলো আজ।

জামায়াত নির্বাচন চায়নি, নির্বাচন বানচালের চেষ্টা করেছে- এমপি রানু 

অনলাইনে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাচালিত ভুয়া আইডি, ছবি ও সাইবার প্রতারণা রুখতে পদক্ষেপ নিয়েছে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুক। এবার সাধারণ ব্যবহারকারীদের পরিচয় নিশ্চিত করতে বিনামূল্যে ‘ভেরিফায়েড ব্যাজ’ দেওয়ার উদ্যোগ নিয়েছে মেটা।

 

এর মাধ্যমে ব্যবহারকারীরা সহজে চিহ্নিত করতে পারবেন অ্যাকাউন্টটি কোনো বাস্তব মানুষের নাকি এআই দিয়ে তৈরি ভুয়া আইডি। তবে মেটার পেইড সার্ভিস ‘মেটা ভেরিফায়েড’-এর মতো টাকা দিয়ে এই ব্যাজ কিনতে হবে না। সম্পূর্ণ বিনামূল্যে এই ব্যাজটি পাবেন সাধারণ ব্যবহারকারীরা।

 

নতুন এই ব্যাজ পেতে ব্যবহারকারীকে একটি নির্দিষ্ট প্রক্রিয়ার মাধ্যমে নিজের সেলফি ভিডিও ধারণ করে জমা দিতে হবে। ফেসবুক উক্ত ভিডিওটি অ্যাকাউন্টের মূল ছবি ও তথ্যের সঙ্গে মিলিয়ে পরিচয় শতভাগ নিশ্চিত করবে।

 

তবে এই সুবিধা সবার জন্য নয়। ব্যাজটি পেতে হলে অ্যাকাউন্টধারীকে বেশ কিছু প্রাথমিক শর্ত পূরণ করতে হবে:

 

শর্তগুলো হলো

 

১. ব্যবহারকারীর বয়স অবশ্যই ন্যূনতম ১৮ বছর হতে হবে। এর কম বয়সীরা এই সুবিধা পাবেন না।

 

২. ফেসবুকের ‘কমিউনিটি স্ট্যান্ডার্ড’ মেনে অ্যাকাউন্টটি সচল অবস্থায় না থাকলে পাওয়া যাবে না এই ব্যাজ।

 

৩. অ্যাকাউন্টে পূর্বে কোনো প্রতারণা, ভুয়া পরিচয় উপস্থাপন বা সন্দেহজনক কর্মকাণ্ডের ইতিহাস থাকলে এই ব্যাজ পাওয়া যাবে না।

 

৪. ফেসবুক পেজ এবং প্রোফেশনাল মোড অ্যাকাউন্টের ক্ষেত্রে বিনামূল্যের এই ব্যাজ সুবিধা পাওয়া যাবে না।

 

৪. মেটার সেলফি ভিডিওভিত্তিক পরিচয় যাচাই প্রক্রিয়ায় সফলভাবে উত্তীর্ণ হতে হবে নতুবা ভেরিফায়েড ব্যাজ পাওয়া যাবে না।

 

পরিচয় যাচাই সফল হলে এই ভেরিফায়েড ব্যাজটি ব্যবহারকারীর প্রোফাইল ছাড়াও মার্কেটপ্লেস, বিভিন্ন ফেসবুক গ্রুপ এবং ফেসবুক ডেটিং প্ল্যাটফর্মে প্রদর্শিত হবে।

 

মেটা বলছে এই ব্যাজটি কেবল একজন ব্যবহারকারী বাস্তব মানুষ কি না সেই প্রমাণ বহন করে। এর মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির সততা, বিশ্বাসযোগ্যতা বা ব্যক্তিগত আচরণের কোনো নিশ্চয়তা মেটা দেয় না। ফলে অনলাইনে যেকোনো লেনদেন, তথ্য আদান-প্রদান বা ব্যক্তিগত যোগাযোগ স্থাপনের ক্ষেত্রে ব্যবহারকারীদের নিজস্ব সচেতনতা বজায় রাখার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

 

বর্তমানে এই ফিচারটি বিশ্বের নির্বাচিত কয়েকটি দেশে পরীক্ষামূলকভাবে চালু করা হচ্ছে। পর্যায়ক্রমে বিশ্বের অন্যান্য দেশের সাধারণ ব্যবহারকারীদের জন্য এই সুবিধা উন্মুক্ত করবে মেটা।

 

সূত্র: এনগ্যাজেট

বিনামূল্যে ভেরিফায়েড ব্যাজ দিচ্ছে ফেসবুক, পাবেন না যারা

পটুয়াখালীর বাউফলে এক গৃহবধূর (২৭) সঙ্গে পরকীয়ার অভিযোগে দাসপাড়া ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ড জামায়াতের সেক্রেটারি ফারুক হোসেন প্যাদাকে (৪০) মারধর করেছেন স্থানীয়রা।

 

বুধবার (২৯ জুলাই) রাত সাড়ে ৮টার দিকে উপজেলার দাসপাড়া ইউনিয়নে এ ঘটনা ঘটে।

 

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বুধবার রাত ৮টার দিকে স্থানীয় কয়েকজন ব্যক্তি ফারুক হোসেন প্যাদার বিরুদ্ধে এক গৃহবধূর সঙ্গে প্রেম করার অভিযোগ এনে তাকে আটক করে মারধর করেন। পরে স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে বাউফল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করেন।

 

তবে অভিযোগ অস্বীকার করে ফারুক হোসেন প্যাদা বলেন, স্থানীয় সাইদুল, পারভেজসহ মৃধা বাড়ির ৪ থেকে ৫ জন আমাকে মারধর করেছেন। তারা আমার কাছে থাকা ৫০ হাজার টাকা ও একটি মোবাইল ফোন নিয়েছেন। অতীতে তাদের সঙ্গে আমার পূর্ব বিরোধ আছে। সেই বিরোধের জেরে আমার বিরুদ্ধে গুজব ছড়ানো হচ্ছে যে, আমার সঙ্গে এক নারীর সম্পর্ক রয়েছে। আমি তাদের এ ধরনের মিথ্যা অপবাদ না ছড়ানোর অনুরোধ করি। আমি কোনো নারীর সঙ্গে সম্পর্ক করিনি। কোনো নারীও আমার বিরুদ্ধে এ ধরনের অভিযোগ করেননি। তারপরও কথিত অভিযোগে আমাকে মারধর করা হয়েছে।

 

জাহানারা বেগম নামে এক নারী বলেন, ফারুক দীর্ঘদিন ধরে আমার পুত্রবধূকে বিভিন্নভাবে বিরক্ত করছেন। তাকে টাকা-পয়সার প্রলোভন দেখাচ্ছে। একপর্যায়ে তিনি আমাদের পরিবারের সঙ্গে সখ্যতা গড়ে তোলেন। বিষয়টি নিয়ে এলাকায় কানাঘুষা চলছিল। প্রথমে আমরা তা বিশ্বাস করিনি। পরে কিছু ছবি দেখানোর পর বিষয়টি বিশ্বাস করি। এ নিয়ে স্থানীয়ভাবে সালিশও হয়েছিল। এরপরও তিনি আমার পুত্রবধূকে কুপ্রস্তাব দিতে থাকেন।

 

তবে এ বিষয়ে তার পুত্রবধূর কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

 

বাউফল থানার ওসি সিরাজুল ইসলাম বলেন, মারামারির খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। লিখিত অভিযোগ পেলে তদন্ত করে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

পরকীয়ার অভিযোগে জামায়াত নেতাকে মারধর

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আন্তর্জাতিক অঙ্গনে নেতৃত্ব বিকাশের স্বপ্ন নিয়ে হার্ভার্ডের অধ্যাপকদের প্রতিষ্ঠিত ঐতিহ্যবাহী ‘অ্যাস্পায়ার লিডারস প্রোগ্রাম ২০২৬’ (ব্যাচ-৩)-এ অংশগ্রহণের সুযোগ পেয়েছেন বাংলাদেশের তরুণ ওমর ফারুক।

 

আতিকুর রহমান আশিক

মানিকগঞ্জ প্রতিনিধি

 

 

 

২০১৫ সাল থেকে বিভিন্ন সামাজিক ও স্বেচ্ছাসেবী কার্যক্রমের সঙ্গে যুক্ত ওমর ফারুক দীর্ঘদিন ধরে নেতৃত্ব ও তরুণদের উন্নয়নমূলক কাজে কাজ করছেন। বিভিন্ন স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের সঙ্গে টিম পরিচালনা, ইভেন্ট পরিকল্পনা এবং সামাজিক যোগাযোগের ব্যবহারিক অভিজ্ঞতা অর্জন তাঁকে এই আন্তর্জাতিক প্ল্যাটফর্মে আবেদন করতে উদ্বুদ্ধ করে।

 

এর আগে ২০২৫ সালে নেপালে অনুষ্ঠিত একটি আন্তর্জাতিক বুটক্যাম্পে অংশগ্রহণের সুযোগ পেলেও ভিসা জটিলতায় তিনি শেষ পর্যন্ত অংশ নিতে পারেননি। তবে সেই প্রতিবন্ধকতা তাঁকে থামিয়ে রাখেনি; বরং আন্তর্জাতিক পর্যায়ে শেখার অদম্য আগ্রহকে আরও বাড়িয়ে দেয়। পরবর্তীতে চলতি বছরের মে মাসে তিনি দ্য অ্যাস্পায়ার লিডারস প্রোগ্রামে আবেদন করেন এবং চূড়ান্তভাবে নির্বাচিত হন।

 

নিজের অনুভূতি প্রকাশ করে ওমর ফারুক বলেন, “আন্তর্জাতিক নেতৃত্ব উন্নয়ন কর্মসূচিতে বাংলাদেশ থেকে অংশগ্রহণের সুযোগ পেয়ে আমি নিজেকে অত্যন্ত সৌভাগ্যবান মনে করছি। অনলাইনে আবেদন জমা দেওয়ার পর থেকেই অপেক্ষায় ছিলাম। নির্বাচিত হওয়ার ই-মেইলটি পেয়ে মনে হয়েছে স্বপ্নের পথে আরও একধাপ এগিয়ে গেলাম।”

 

অ্যাস্পায়ার লিডারস প্রোগ্রাম সম্পর্কে:

‘দ্য অ্যাস্পায়ার লিডারস প্রোগ্রাম’ একটি সম্পূর্ণ অর্থায়িত আন্তর্জাতিক নেতৃত্ব উন্নয়ন উদ্যোগ। ২০১৭ সালে হার্ভার্ড বিজনেস স্কুলের অধ্যাপকেরা হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ে এটি প্রতিষ্ঠা করেন। পরবর্তীতে ২০২১ সাল থেকে এটি স্বাধীন অলাভজনক প্রতিষ্ঠান ‘অ্যাস্পায়ার ইনস্টিটিউট’ (Aspire Institute)-এর অধীনে পরিচালিত হয়ে আসছে। এখন পর্যন্ত বিশ্বের ১৯৫টি দেশের ৫ লাখেরও বেশি তরুণ এতে অংশ নিয়েছেন।

 

সম্পূর্ণ অনলাইনে বিনামূল্যে পরিচালিত ৯ সপ্তাহের এই প্রোগ্রামটি মোট তিনটি মডিউলে বিভক্ত। এর মাধ্যমে মূলত বিশ্বজুড়ে সীমিত আয়ের এবং পরিবারের প্রথম প্রজন্মের বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীদের তাদের নিজস্ব সম্প্রদায়ে নেতৃত্বের জন্য প্রস্তুত করা হয়।

 

প্রোগ্রামের সুবিধা ও বৈশিষ্ট্য:

এই প্রোগ্রামের মাধ্যমে ঘরে বসেই হার্ভার্ডসহ বিশ্বের সেরা বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর খ্যাতিসম্পন্ন শিক্ষক, প্রশিক্ষক ও বিশেষজ্ঞদের মাস্টার ক্লাসে অংশ নেওয়ার সুযোগ রয়েছে। এছাড়া অংশগ্রহণকারীরা বিশ্বজুড়ে বিস্তৃত তরুণদের সঙ্গে নেটওয়ার্কিং, আইডিয়া বাস্তবায়নের জন্য অর্থায়ন, ব্যবহারিক দক্ষতা উন্নয়ন কর্মশালা এবং উচ্চশিক্ষার জন্য আর্থিক অনুদান পাওয়ার সুযোগ পান।

আন্তর্জাতিক অঙ্গনে নেতৃত্ব বিকাশের স্বপ্ন নিয়ে হার্ভার্ডের অধ্যাপকদের প্রতিষ্ঠিত ঐতিহ্যবাহী ‘অ্যাস্পায়ার লিডারস প্রোগ্রাম ২০২৬’ (ব্যাচ-৩)-এ অংশগ্রহণের সুযোগ পেয়েছেন বাংলাদেশের তরুণ ওমর ফারুক

স্টাফ রিপোর্টার

তানিন পিয়াস চৌধুরী

তাং: ৩০/০৭/২৬ শনিবার।

 

 

হেডলাইন: নড়াগাতীতে ইউপি সদস্য মনি মিয়া হত্যা: খুনিদের ফাঁসির দাবিতে আবারো মানববন্ধন ও বিক্ষোভ মিছিল।

 

নড়াইলের নড়াগাতীতে জয়নগর ইউনিয়ন পরিষদের ৩ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য মনি মিয়া শেখ হত্যাকাণ্ডে জড়িত চিহ্নিত আসামিদের দ্রুত গ্রেপ্তার ও সর্বোচ্চ শাস্তি ফাঁসির দাবিতে উত্তাল হয়ে উঠেছে এলাকা। এই দাবা বাস্তবায়নে নড়াগাতী থানার সামনে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করেছেন নিহতের স্বজন ও ক্ষুব্ধ এলাকাবাসী। নড়াগাতী থানার সামনের সড়কে আয়োজিত এই মানববন্ধনে স্থানীয় কয়েক শতাধিক নারী-পুরুষ অংশ নেন। পরে তারা একটি বিক্ষোভ মিছিল বের করে নড়াগাতীর প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করেন এবং আসামিদের দ্রুত আইনের আওতায় আনার দাবিতে বিভিন্ন স্লোগান দেন।,মানববন্ধনে সংহতি জানিয়ে বক্তব্য দেন জয়নগর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান কাজী আয়ুব হোসেন। এছাড়া নিহতের পরিবারের পক্ষে বক্তব্য দেন তার বড় ভাই পিরু শেখ, চাচাতো ভাই মনিরুল শেখ, স্ত্রী মনিকা বেগম, কন্যা বৈশাখী, ভাইপো সেকেন্দার শেখ, ভাবি রিলিয়া বেগম ও স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তি মো. ইকরাম শেখসহ অনেকে।,বক্তারা চরম ক্ষোভ প্রকাশ করে অভিযোগ করেন, এলাকার চিহ্নিত অপরাধী আনসার জমাদ্দার ও সৈয়দ শেখ গ্রুপ দীর্ঘদিন ধরে সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড চালিয়ে আসছে। এই একই চক্রটি মনি মিয়াসহ এ পর্যন্ত পাঁচটি হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটিয়েছে। কিন্তু বারবার আদালত থেকে জামিনে মুক্ত হয়ে তারা আরও বেপরোয়া হয়ে উঠছে এবং নতুন নতুন অপরাধ সংঘটিত করছে।এমন নৃশংস ও অভ্যাসগত অপরাধীরা কীভাবে বারবার জামিন পায়—মানববন্ধনে সে প্রশ্ন তুলে বিচারব্যবস্থা ও স্থানীয় প্রশাসনের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন বক্তারা।,কর্মসূচি থেকে নিহতের পরিবার ও এলাকাবাসী প্রশাসনকে স্পষ্ট বার্তা দিয়ে জানান, আগামী ৩ দিনের মধ্যে মনি মিয়া হত্যার সাথে জড়িত চিহ্নিত সকল আসামিকে গ্রেপ্তার করতে হবে। অন্যথায় আরও কঠোর কর্মসূচির হুঁশিয়া,রি দেন তারা

 

নড়াগাতি নড়াইল থেকে

তানিন পিয়াস চৌধুরী

গন টেলিভিশন সংবাদ।

নড়াগাতীতে ইউপি সদস্য মনি মিয়া হত্যা: খুনিদের ফাঁসির দাবিতে আবারো মানববন্ধন ও বিক্ষোভ মিছিল

পিলখানা হত্যাকাণ্ডে ভারতের সম্পৃক্ততার তথ্য জানার কারণেই অবসরপ্রাপ্ত মেজর জাহিদুল ইসলামকে পরিকল্পিতভাবে টার্গেট করা হয়েছিল বলে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে বিস্ফোরক অভিযোগ উঠেছে।

 

অভিযোগে বলা হয়েছে, তাকে ‘জঙ্গি’ সাজিয়ে হত্যা করা হয় এবং পরে তার স্ত্রী ও দুই শিশুকন্যাকে দীর্ঘ চার মাসের বেশি সময় গুম রেখে নির্যাতন চালানো হয়। এ ঘটনায় সাবেক আইজিপিসহ কয়েকজন পুলিশ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে বিচারিক কার্যক্রম শুরু হয়েছে।

 

স্বামীকে জঙ্গি বলে আদালতে স্বীকারোক্তি দিতে জেবুন্নাহারের ওপর চালানো হয় মধ্যযুগীয় নির্যাতন। দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর অবশেষে এই জঘন্যতম হত্যা ও গুমের বিচার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে। বৃহস্পতিবার এ মামলার প্রধান আসামি পুলিশের সাবেক মহাপরিদর্শক (আইজি) একেএম শহীদুল হককে গ্রেফতার দেখিয়ে একদিনের জিজ্ঞাসাবাদের নির্দেশ দিয়েছেন ট্রাইব্যুনাল।

ট্রাইব্যুনালে করা অভিযোগে বলা হয়েছে, ২০০৯ সালে সরকারের বাছাই করা সেনা কর্মকর্তাদের পিলখানায় পোস্টিং দেওয়া হয়। সেই তালিকায় মেজর জাহিদেরও নাম ছিল। তিনি এতে আগ্রহী ছিলেন না; তাই যোগদান করেননি। তখন পিলখানায় জাহিদের কোর্সমেট শহীদ ক্যাপ্টেন মো. মাজহারুল হায়দারের পোস্টিং ছিল। ওই বছরের ২৫ ফেব্রুয়ারি পিলখানায় সেনা কর্মকর্তাদের ওপর এক মর্মান্তিক হত্যাযজ্ঞ চালানো হয়। ঘটনার দিন শহীদ ক্যাপ্টেন মাজহারুল জাহিদকে ফোনে বলেছিলেন, আমাদের সব অফিসারকে মেরে ফেলেছে।

 

কারা মেরেছে জানতে চাইলে ক্যাপ্টেন মাজহার বলেন, কিছু হিন্দিভাষী ব্যক্তি, যারা বিডিআর-এর পোশাক পরা ছিল। যাদের কখনোই পিলখানায় আগে দেখিনি। মেজর জাহিদ তখন বগুড়া ক্যান্টনমেন্টে ছিলেন। ঘটনা শুনে তিনি হতভম্ব হয়ে ক্যান্টনমেন্টের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের বিষয়টি জানান। জাহিদ পিলখানা হত্যাকাণ্ড নিয়ে বিভিন্ন সময় কথা বলেছেন। তিনি মাজহারুলের কাছ থেকে অনেক কিছুই জেনে গিয়েছিলেন। তাই হাসিনা সরকার তাকে টার্গেট করে নজরদারিতে রাখত।

অভিযোগ থেকে আরও জানা যায়, সেনাবাহিনীতে অযোগ্য অফিসারের পদোন্নতি এবং নানা বিশৃঙ্খলা জাহিদ কোনোভাবেই মেনে নিতে পারছিলেন না। একপর্যায়ে তিনি দেখলেন, চাটুকার ও অযোগ্য অফিসারদের পদোন্নতি দেওয়া হচ্ছে। এ অবস্থায় তিনি ২০১৫ সালে চাকরি ছেড়ে পরিবার নিয়ে উত্তরায় ভাড়া বাসায় উঠেন।

 

জঙ্গি নাটক সাজিয়ে হত্যা : চাকরি ছেড়ে দেওয়ার পর গোয়েন্দারা জাহিদের ওপর সার্বক্ষণিক নজরদারি শুরু হয়। একপর্যায়ে পরিবার নিয়ে দেশের বাইরে চলে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেন জাহিদ। বাসা বদল করে উত্তরা থেকে রূপনগরে চলে যান। কিন্তু হাসিনা সরকার জঙ্গি নাটক সাজিয়ে তাকে হত্যার পরিকল্পনা করে। সেই মোতাবেক ২০১৬ সালের ২ সেপ্টেম্বর রাত ১১টার দিকে জাহিদকে হাত বেঁধে বাসার নিচে নিয়ে যায় রূপনগর থানা পুলিশের একটি দল। এরপর নির্মমভাবে তাকে হত্যা করা হয়।

এর আগে রাত ১০টার দিকে আসামিরা জেবুন্নাহারকে তার দুই শিশুসন্তানসহ চোখ বেঁধে অজ্ঞাত স্থানে নিয়ে যায়। তখন জেবুন্নাহার জানতে চান, তার স্বামী কোথায়? পুলিশ তখন বলতে থাকে, তিনি ও তার স্বামী জঙ্গি, এই স্বীকারোক্তি না দিলে তাকেও তার স্বামীর কাছে পাঠিয়ে দেওয়া হবে। তখন তিনি বুঝতে পারেন, তার স্বামীকে হত্যা করা হয়েছে। পরে পুলিশের কোনো একজন জানান, তারাই মেজর জাহিদকে হত্যা করেছে।

 

ট্রাইব্যুনালে অভিযোগ: গত বছরের ১০ আগস্ট আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর বরাবর পৃথক অভিযোগ করেন জেবুন্নাহার। অভিযোগে সাবেক আইজিপি একেএম শহীদুল হক, ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) গোয়েন্দা বিভাগের (ডিবি) তৎকালীন প্রধান মো. মনিরুল ইসলাম, কাউন্টার টেরোরিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইমের (সিটিটিসি) তৎকালীন প্রধান মো. আসাদুজ্জামান, মিরপুর বিভাগের তৎকালীন উপকমিশনার (ডিসি) মাসুদ আহমেদ, রূপনগর থানার তৎকালীন ওসি শাহীদ আলম, ডিসি ডিবি কৃষ্ণ পদ রায় ও রূপনগর থানা-পুলিশের তৎকালীন অজ্ঞাতনামা সদস্যদের আসামি করা হয়েছে।

 

প্রধান আসামি একেএম শহীদুল হককে ট্রাইব্যুনালে হাজির করা হয়। পরে এ মামলায় গ্রেফতার দেখিয়ে তাকে একদিনের জিজ্ঞাসাবাদের নির্দেশ দেন ট্রাইব্যুনাল। বৃহস্পতিবার আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২-এর চেয়ারম্যান বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন বিচারিক প্যানেল এ নির্দেশ দিয়েছেন।

 

স্ত্রীর ওপর নির্মম নির্যাতন: জাহিদের স্ত্রী জেবুন্নাহারকে ডিবি কার্যালয়ে জিজ্ঞাসাবাদের নামে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন করা হয়। নেওয়া হয় মিথ্যা জবানবন্দি। একই সঙ্গে নিহত মেজর জাহিদের বিরুদ্ধে একটি এবং জেবুন্নাহারের বিরুদ্ধে ২টি সাজানো জঙ্গি মামলা দেওয়া হয়। ২০২৪ সালের ৩১ আগস্ট তিনি জামিনে মুক্তি পান।

পিলখানা হত্যাকাণ্ডের তথ্য জানতেন বলেই ‘জঙ্গি’ সাজিয়ে হত্যা

টাঙ্গাইলের মধুপুরে যাত্রীবাহী বাস ও বালুবাহী ট্রাকের তীব্র মুখোমুখি সংঘর্ষে ৩ জন নিহত এবং অন্তত ৭ জন গুরুতর আহত হয়েছেন।

 

বৃহস্পতিবার (৩০ জুলাই) দিবাগত রাত সাড়ে ১০টার দিকে টাঙ্গাইল-ময়মনসিংহ আঞ্চলিক মহাসড়কের মধুপুর উপজেলার রক্তিপাড়া এলাকায় এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনাটি ঘটে। তাৎক্ষণিকভাবে নিহতদের পরিচয় পাওয়া যায়নি।

 

পুলিশ ও স্থানীয় প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, টাঙ্গাইলগামী একটি বালু বোঝাই ট্রাকের সঙ্গে বিপরীত দিক থেকে আসা জামালপুরগামী একটি যাত্রীবাহী বাসের মুখোমুখি মুখোমুখি ধাক্কা লাগে। এতে বাস ও ট্রাকের একাংশ দুমড়েমুচড়ে যায় এবং ঘটনাস্থলেই ৩ জন প্রাণ হারান। দুর্ঘটনায় আহত হন অন্তত ৭ জন যাত্রী। পরে স্থানীয় উদ্ধারকারীরা এগিয়ে এসে আহতদের দ্রুত উদ্ধার করে মধুপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে ভর্তি করেন।

 

মধুপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) একেএম ফজলুল হক জানান, খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে উদ্ধার কাজ চালায়। নিহতদের পরিচয় শনাক্তের চেষ্টা চলছে এবং আইনি প্রক্রিয়া শেষে মরদেহগুলো স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হবে।

টাঙ্গাইলের মধুপুরে বাস-ট্রাক মুখোমুখি সংঘর্ষে নিহত ৩

ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে ক্ষমতাচ্যুত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে দেশে ফেরত পাঠানোর অনুরোধ খতিয়ে দেখছে ভারত। দেশটির কেন্দ্রীয় সরকারের পক্ষ থেকে পররাষ্ট্রবিষয়ক সংসদীয় কমিটিকে এ তথ্য জানানো হয়েছে। পাশাপাশি, ভারতে অবস্থান করলেও শেখ হাসিনাকে কোনো ধরনের রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড পরিচালনার সুযোগ দেওয়া হয়নি বলেও দাবি দেশটির সরকারের। খবর, টাইমস অব ইন্ডিয়া’র।

 

বৃহস্পতিবার (৩০ জুলাই) কংগ্রেস নেতা শশী থারুরের সভাপতিত্বে গঠিত পররাষ্ট্রবিষয়ক পার্লামেন্টারি স্থায়ী কমিটির সুপারিশের ওপর সরকারের নেয়া পদক্ষেপসংক্রান্ত প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়।

 

মূলত, ‘ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্কের ভবিষ্যৎ’ শীর্ষক কমিটির নবম প্রতিবেদনের সুপারিশের ভিত্তিতে সরকারের পদক্ষেপ নিয়ে তৈরি প্রতিবেদনটি বৃহস্পতিবার পার্লামেন্টে উপস্থাপন করা হয়। এতে বলা হয়, প্রযোজ্য আইন ও নির্ধারিত প্রক্রিয়া অনুসারে শেখ হাসিনাকে প্রত্যর্পণের জন্য বাংলাদেশের করা অনুরোধ ‘সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ পর্যালোচনা করছে’।

 

কমিটি জানায়, শেখ হাসিনার অনুপস্থিতিতে তার মৃত্যুদণ্ডের রায় ঘোষণার পর বাংলাদেশ সরকার তাকে প্রত্যর্পণের অনুরোধ জানিয়েছে। বিষয়টি পর্যালোচনার অগ্রগতি সম্পর্কে সরকারকে নিয়মিত কমিটিকে অবহিত রাখারও আহ্বান জানানো হয়েছে।

 

আরও বলা হয়, শেখ হাসিনার ভারতে অবস্থান দেশটির ‘সভ্যতাগত মূল্যবোধ ও মানবিক ঐতিহ্যের’ সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ। গুরুতর সংকট বা অস্তিত্বের হুমকির মুখে থাকা ব্যক্তিদের আশ্রয় দেয়ার দীর্ঘদিনের নীতির অংশ হিসেবেই তিনি ভারতে অবস্থান করছেন। ভারত সরকার স্পষ্ট করেছে যে শেখ হাসিনাকে ভারতের ভূখণ্ড ব্যবহার করে কোনও ধরনের রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড পরিচালনার জন্য কোনও রাজনৈতিক প্ল্যাটফর্ম বা সুযোগ দেয়া হয়নি।

 

কমিটির মতে, ভারত বরাবরই এই নীতি অনুসরণ করে যে দেশটির ভূখণ্ড অন্য কোনও দেশের বিরুদ্ধে রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড পরিচালনার জন্য ব্যবহার করতে দেওয়া হবে না। এ কারণে সরকারকে মানবিক ও নীতিগত অবস্থান বজায় রাখার পাশাপাশি এ ধরনের পরিস্থিতি যথাযথ সংবেদনশীলতা ও ভারতের আন্তর্জাতিক দায়বদ্ধতার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে মোকাবিলার সুপারিশ করেছে কমিটি।

 

উল্লেখ্য, ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টে ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানের মুখে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর বাংলাদেশ ছেড়ে ভারতে চলে যান শেখ হাসিনা। এরপর থেকেই তিনি সেখানেই অবস্থান করছেন।

শেখ হাসিনাকে প্রত্যর্পণে বাংলাদেশের অনুরোধ ‘পর্যালোচনা’ করছে ভারত

ফেনীতে টিকটক ভিডিও বানানোর সময় ছয় বছরের এক মেয়ে শিশুকে উত্যক্ত, হাত ধরে টানাটানি এবং সেই ঘটনার ভিডিও ধারণ করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়ার অভিযোগে তিন যুবকের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়েছে। মামলার প্রধান আসামিকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।

 

বৃহস্পতিবার (৩০ জুলাই) ভুক্তভোগী শিশুর বাবা (৫৫) বাদী হয়ে ফেনী মডেল থানায় মামলাটি দায়ের করেন। তিনি সদর উপজেলার কালিদহ ইউনিয়নের গোবিন্দপুর এলাকার বাসিন্দা।

 

মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, গত ২৮ জুলাই দুপুর ১২টা ১০ মিনিটের দিকে গোবিন্দপুর এলাকায় অ্যাডভোকেট মফিজুর রহমানের বাড়ির সামনে দিয়ে স্কুল থেকে বাড়ি ফিরছিল দ্বিতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থী (৬)। এ সময় অভিযুক্ত তিন যুবকের মধ্যে দুজন শিশুটির হাত ধরে টানাটানি করে উত্যক্ত করে। অন্যজন পুরো ঘটনার ভিডিও ধারণ করে। পরে ভিডিওটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়া হয়।

 

এজাহারে আরও উল্লেখ করা হয়, ভয়ে শিশুটি প্রথমে কাউকে বিষয়টি জানায়নি। পরদিন রাতে বাবার কাছে ঘটনাটি খুলে বলে। পরে স্বজনদের মাধ্যমে পরিবার জানতে পারে, উত্যক্তের ভিডিওটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। ভিডিও দেখে স্থানীয়দের সহায়তায় অভিযুক্তদের শনাক্ত করা হয়।

 

মামলায় আসামি করা হয়েছে কুমিল্লার চান্দিনা উপজেলার মৈশাইল গ্রামের মনির হোসেনের ছেলে, বর্তমানে ফেনী সদরের উত্তর সিলোনিয়া এলাকার বাসিন্দা মোজাম্মেল হোসেন (২০), পশ্চিম সিলোনিয়া গ্রামের জাহাঙ্গীর আলমের ছেলে সালমান (২০) এবং সাত্রাসিদ্ধি গ্রামের মনির আহাম্মদের ছেলে মাহফুজকে (১৯)।

 

মামলার বাদীর অভিযোগ, অভিযুক্তরা তার মেয়ের শ্লীলতাহানির উদ্দেশে অশোভন আচরণ ও উত্যক্ত করেছেন। বিষয়টি নিশ্চিত হওয়ার পর তিনি থানায় মামলা করেন।

 

ফেনী মডেল থানার পরিদর্শক (তদন্ত) সজল কান্তি দাশ যুগান্তরকে জানান, ভিডিওটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার ঘটনায় মামলা হয়েছে। প্রধান আসামি মোজাম্মেল হোসেনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। পলাতক অপর দুই আসামিকে গ্রেফতারে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

টিকটক ভিডিও বানাতে গিয়ে শিশুকে উত্যক্ত, অতঃপর…

নারায়ণগঞ্জে মহানগর ছাত্রশিবিরের ‘জুলাই জাগরণ’ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের মধ্যে পটকা নিক্ষেপের ঘটনা ঘটেছে। তবে এ ঘটনায় কোনো হতাহতের ঘটনা ঘটেনি।

 

বৃহস্পতিবার (৩০ জুলাই) রাত সাড়ে ৮টার দিকে নগরের চাষাঢ়া কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার প্রাঙ্গণে মহানগর ছাত্রশিবিরের আয়োজিত সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে এ ঘটনা ঘটে।

 

আয়োজকদের দাবি, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান চলাকালে হঠাৎ শহীদ মিনারের পেছনে তেলের পাম্পের দিক থেকে দুই যুবক অনুষ্ঠানের মধ্যে পটকা নিক্ষেপ করেন। পরে তারা পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করলে ছাত্রশিবিরের কর্মীরা তাদের আটক করে পুলিশের হাতে তুলে দেন।

 

আটক দুজন হলেন, সোনারগাঁ উপজেলার নাজিরপুর এলাকার গোলজার হোসেনের ছেলে মোখলেস এবং ফতুল্লার গাবতলী এলাকার শাহ আলম সরদারের ছেলে লোকমান।

 

মহানগর ছাত্রশিবিরের সভাপতি অমিত হাসান বলেন, “অনুষ্ঠান চলাকালে দুই ব্যক্তি মিনারের পাশের পাম্পের দিক থেকে দর্শকদের ওপর পটকা ছুড়ে মেরে পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করে। পরে আমাদের ছাত্রশিবিরের ভাইয়েরা তাদের ধরে পুলিশের কাছে দেয়।”

 

তিনি অভিযোগ করেন, অনুষ্ঠান পণ্ড করার উদ্দেশ্যেই তারা এ ঘটনা ঘটিয়েছে। তাঁর দাবি, আটক দুজন নিজেদের প্রয়াত সংসদ সদস্য নাসিম ওসমানের ছেলে ও সাবেক সংসদ সদস্য শামীম ওসমানের ভাতিজা আজমেরী ওসমানের অনুসারী বলে স্বীকার করেছেন।

 

এ বিষয়ে নারায়ণগঞ্জ সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. সাজেদুর রহমান বলেন, “খবর পেয়েছি। তারা দুজন পুলিশের হেফাজতে আছে। প্রাথমিকভাবে তারা দুজন স্বীকার করেছে। তাদের রাজনৈতিক পরিচয় বা কোন উদ্দেশ্যে এ ঘটনা ঘটিয়েছে, সে বিষয়ে পরে বিস্তারিত বলতে পারব।”

 

ওসি আরও বলেন, এ প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত ছাত্রশিবিরের পক্ষ থেকে থানায় কোনো লিখিত অভিযোগ দেওয়া হয়নি।

ছাত্রশিবিরের সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে পটকা নিক্ষেপ, আটক ২

গাইবান্ধায় ৮৮ বস্তা অবৈধ মিশরীয় জিরানি মসলা জব্দসহ ২ জনকে গ্রেফতার করেছে ডিবি পুলিশ

‎শাহ্ পারভেজ সংগ্রাম,গাইবান্ধা প্রতিনিধি

‎গাইবান্ধা শহরে বিপুল পরিমাণ অবৈধ মিশরীয় মসলা জব্দ করেছে জেলা গোয়েন্দা শাখা (ডিবি) পুলিশ। অভিযানে ৮৮ বস্তায় থাকা প্রায় ২ হাজার ২০০ কেজি (প্রায় ৫৫ মণ) মসলা উদ্ধার এবং দুইজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এ ঘটনায় আরও একজনকে মূল সমন্বয়কারী হিসেবে সন্দেহ করা হচ্ছে বলে তদন্তসংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।

‎বৃহস্পতিবার দুপুরে জেলা শহরের ডিসি অফিসের সামনে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে একটি ট্রলি থেকে এসব মসলা জব্দ করা হয়। একই সঙ্গে অবৈধ চালান বহনের অভিযোগে দুইজনকে গ্রেপ্তার করা হয়।

‎গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন বগুড়ার সারিয়াকান্দি উপজেলার নাজমুল হকের ছেলে আতিকুর রহমান এবং গাইবান্ধার পলাশবাড়ী উপজেলার বেলাডাঙ্গা এলাকার রুহুল আমিনের ছেলে শাহজালাল।

‎তদন্তসংশ্লিষ্ট একটি সূত্র জানায়, বগুড়ার শাহীন নামের এক ব্যক্তি এই চালানের সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগ রয়েছে। অভিযানের সময় তিনি পালিয়ে যান। গ্রেপ্তার হওয়া দুজনের মধ্যে একজন ট্রলিচালক এবং অন্যজন সহকারী হিসেবে কাজ করছিলেন বলে প্রাথমিকভাবে জানা গেছে। পুলিশ পলাতক ওই ব্যক্তিকে গ্রেপ্তারের চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।

‎স্থানীয়দের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরেই বিভিন্ন এলাকায় নিম্নমানের বা অবৈধ মসলা সরবরাহের একটি চক্র সক্রিয় রয়েছে। তবে এ বিষয়ে তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত নিশ্চিতভাবে কিছু বলা যাচ্ছে না।

‎ডিবি পুলিশ জানিয়েছে, জব্দ করা মসলা ও ট্রলিটি তাদের হেফাজতে নেওয়া হয়েছে। এ ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের পাশাপাশি পলাতক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তারের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

গাইবান্ধায় ৮৮ বস্তা অবৈধ মিশরীয় জিরানি মসলা জব্দসহ ২ জনকে গ্রেফতার করেছে ডিবি পুলিশ

ফরিদপুরের বোয়ালমারীতে আওয়ামী লীগ থেকে বিএনপিতে যোগ দেওয়া সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান আব্দুল মান্নান মাতুব্বরের বিরুদ্ধে বিএনপি নেতাকর্মীদের বাড়িছাড়া, চাঁদাবাজি ও ভয়ভীতি প্রদর্শনের অভিযোগ উঠেছে। এসব অভিযোগ তুলে সংবাদ সম্মেলন করেছেন স্থানীয় বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতারা।

 

বৃহস্পতিবার (৩০ জুলাই) বিকেল সাড়ে ৫টায় উপজেলার পরমেশ্বরদী ইউনিয়নের পরমেশ্বরদী গ্রামে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলন করা হয়। এতে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন উপজেলা যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক মাহাবুব হাসান সজীব।

 

লিখিত বক্তব্যে তিনি দাবি করেন, গত ১২ ফেব্রুয়ারির জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে এলাকায় কয়েকটি সংঘর্ষের ঘটনা ঘটলেও প্রশাসনের উদ্যোগে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়। তবে পরে আব্দুল মান্নান মাতুব্বর পুনরায় এলাকায় প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা শুরু করেন। সরকারের পরিবর্তনের পর কিছুদিন আত্মগোপনে থাকার পর ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনকে সামনে রেখে এলাকায় ফিরে এসে তিনি ও তার অনুসারীরা বিএনপি নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষের ওপর নানা ধরনের নির্যাতন চালাচ্ছেন।

 

সংবাদ সম্মেলনে আরও অভিযোগ করা হয়, নাজিম হত্যা মামলার বাদী ও সাক্ষীদের মামলা তুলে নিতে চাপ দেওয়া হচ্ছে। তাদের বাড়িতে হামলা, লুটপাট, গবাদিপশু নিয়ে যাওয়া, ফসলি জমিতে যেতে বাধা এবং বিভিন্নভাবে ভয়ভীতি প্রদর্শনের ঘটনাও ঘটছে। এসব কারণে প্রায় ৫০ থেকে ৬০টি পরিবার গত পাঁচ মাস ধরে বাড়িছাড়া রয়েছে এবং প্রায় ৬০ থেকে ৭০ বিঘা জমির পাট কাটতে পারছে না। এছাড়া মাছের ঘের থেকে মাছ লুট ও বিষ প্রয়োগে মাছ নিধন করা হয়েছে। এসব বিষয়ে থানায় একাধিক লিখিত অভিযোগ দেওয়া হয়েছে।

 

পরমেশ্বরদী ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সাবেক সভাপতি আক্কাস মোল্যা বলেন, দীর্ঘদিন ধরে বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত থাকলেও তিনি ও তার পরিবার অতীতেও রাজনৈতিক নির্যাতনের শিকার হয়েছেন। বর্তমানে আব্দুল মান্নান মাতুব্বরের অনুসারীদের কারণে স্বাভাবিকভাবে নিজ বাড়িতে বসবাস করতে পারছেন না বলেও দাবি করেন তিনি।

 

২ নম্বর ওয়ার্ড যুবদলের সাধারণ সম্পাদক আকমল শেখ অভিযোগ করেন, নির্বাচনের পর থেকে তিনি প্রায় সাত মাস ধরে বাড়িছাড়া। তার কাছে তিন লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয়েছে বলে জানান তিনি।

 

একই ওয়ার্ড বিএনপির সাবেক সভাপতি আকুব্বর মাতুব্বর বলেন, প্রভাবশালীদের কারণে তিনি নিজের বাড়িতে যেতে পারছেন না। এমনকি নিজের জমির পাট কাটতেও বাধার মুখে পড়ছেন, ফলে আর্থিক ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছেন।

 

৫ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ মেহেদী হাসান অভিযোগ করেন, তার ভাতিজা সৈয়দ নাজিম আলী হত্যা মামলার বাদী ও সাক্ষীদের মামলা প্রত্যাহারের জন্য চাপ দেওয়া হচ্ছে। মামলা না তোলায় তাদের বাড়িতে হামলার ঘটনাও ঘটেছে।

 

এ বিষয়ে বোয়ালমারী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, এ ঘটনায় থানায় লিখিত অভিযোগ পেলে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

 

সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত বিএনপি নেতারা অভিযোগগুলোর সুষ্ঠু তদন্ত এবং আব্দুল মান্নান মাতুব্বরের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান।

আ’লীগ থেকে বিএনপিতে যোগ দেওয়া নেতার অত্যাচারে ‘ঘরছাড়া’ বিএনপি নেতারা

হবিগঞ্জে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) কেন্দ্রীয় মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটোয়ারী ও উত্তরাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক সারজিস আলমসহ দলটির ১০ নেতার বিরুদ্ধে হত্যাচেষ্টা, মারধর, ভাঙচুর ও ছিনতাইয়ের অভিযোগে মামলা দায়ের করা হয়েছে।

 

বৃহস্পতিবার (৩১ জুলাই) রাত ১০টার দিকে হবিগঞ্জ সদর মডেল থানায় মামলার এজাহার দাখিল করেন জেলা ছাত্রদলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মো. ইকবাল হোসেন রুকন। মামলায় এনসিপির ১০ নেতার নাম উল্লেখের পাশাপাশি অজ্ঞাতপরিচয় আরও ৪০ থেকে ৫০ জনকে আসামি করা হয়েছে।

 

মামলার এজাহার অনুযায়ী, গত ২৮ জুলাই বিকেল ৫টা থেকে রাত ৮টার মধ্যে হবিগঞ্জ পৌরসভার কোর্ট মসজিদের সামনে এনসিপি ও ছাত্রদলের নেতাকর্মীদের মধ্যে দফায় দফায় সংঘর্ষ হয়। অভিযোগে বলা হয়েছে, এনসিপির নেতাকর্মীরা দেশীয় অস্ত্র নিয়ে ছাত্রদলের নেতাকর্মীদের ওপর হামলা চালান।

 

এজাহারে বাদী উল্লেখ করেন, কেন্দ্রীয় ছাত্রদলের কর্মসূচির অংশ হিসেবে জুলাই আন্দোলনের শহীদ রিপন শীলের পরিবারের সঙ্গে সাক্ষাৎ এবং শোকসভায় অংশ নিতে ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা কোর্ট মসজিদের সামনে জড়ো হন। এ সময় নাসীরুদ্দীন পাটোয়ারী, সারজিস আলম, আবু হেনা মোস্তফা কামাল, মাহবুবুল বারী চৌধুরীসহ ৪০ থেকে ৫০ জনের একটি দল দেশীয় অস্ত্র নিয়ে সেখানে এসে হামলা চালায় বলে অভিযোগ করা হয়েছে।

অভিযোগে আরও বলা হয়, হামলায় জেলা ছাত্রদল নেতা মাহফুজ চৌধুরী, মোজাক্কির হোসেন ইমনসহ কয়েকজন আহত হন। তাদের লোহার রড, রামদা, ফিকল, ইটের টুকরোসহ বিভিন্ন দেশীয় অস্ত্র দিয়ে আঘাত করা হয় বলেও এজাহারে উল্লেখ রয়েছে।

 

মামলায় আরও অভিযোগ করা হয়েছে, সংঘর্ষের সময় বাদীর আইফোন-১৩, মোজাক্কির হোসেন ইমনের আইফোন-১১, মাহফুজ চৌধুরীর আইফোন-১৪, মাহমুদুল হাসান গাজীর স্যামসাং এস-২২, রক্সি ইসলামের কাছে থাকা ৫০ হাজার টাকা এবং শিমুল হাসানের আইফোন-১৫ ছিনিয়ে নেওয়া হয়। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছালে অভিযুক্তরা সরে যান এবং আহতরা হবিগঞ্জ সদর আধুনিক হাসপাতালে চিকিৎসা নেন বলে এজাহারে দাবি করা হয়েছে।

 

মামলার আসামিরা হলেন- এনসিপির কেন্দ্রীয় মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটোয়ারী, উত্তরাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক সারজিস আলম, হবিগঞ্জ জেলা জাতীয় শক্তির আহ্বায়ক নুর আলম চৌধুরী, জেলা কমিটির সদস্য ফখরুল জাকির, আ. হাই কামাল, রুহাম গাজী, সদস্য সচিব মাহবুবুল বারী চৌধুরী মুবিন, কেন্দ্রীয় সমন্বয়ক নাহিদ উদ্দিন তারেক, জেলা আহ্বায়ক আবু হেনা মোস্তফা কামাল এবং জেলা কমিটির সদস্য ওয়াদুদ মাহমুদ চৌধুরী।

 

এদিকে, একই ঘটনাকে কেন্দ্র করে এর আগে এনসিপির পক্ষ থেকেও ছাত্রদলের বিরুদ্ধে হামলার অভিযোগ তোলা হয়। দলটির দাবি, ২৮ জুলাই পদযাত্রা ও পথসভা শেষে সার্কিট হাউসে ফেরার পথে ছাত্রদলের হামলায় সারজিস আলমসহ অন্তত ১৫ নেতাকর্মী আহত হন। হামলায় এনসিপির এক কর্মীর একটি চোখ নষ্ট হয়ে যায় বলেও অভিযোগ করেন দলটির নেতারা। একই ঘটনায় কয়েকটি সংবাদমাধ্যমের গাড়ি ভাঙচুরের অভিযোগও করা হয়।

 

এনসিপির অভিযোগ অনুযায়ী, পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠলে নাসীরুদ্দীন পাটোয়ারী ও সারজিস আলম নিরাপত্তার জন্য থানার পাশের সোনালী ব্যাংকে আশ্রয় নেন। পরে পুলিশ তাদের উদ্ধার করে সার্কিট হাউসে নিয়ে যায় এবং রাতে পুলিশি পাহারায় মৌলভীবাজার পৌঁছে দেয়।

 

তবে সদর মডেল থানার এসআই ধ্রুবেশ চক্রবর্তী বলেন, ছাত্রদল নেতা বাদী হয়ে এনসিপির নেতাদের বিরুদ্ধে একটি মামলা দায়ের করেছেন।

 

অন্যদিকে, হবিগঞ্জ জেলা ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক মো. জিল্লুর রহমান ও সাংগঠনিক সম্পাদক মো. মাহবুব আহমেদ থানায় অভিযোগ দায়েরের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

 

ঘটনার জেরে দায়ের হওয়া এ মামলার খবর বৃহস্পতিবার গভীর রাত থেকেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে।

নাসীরুদ্দীন-সারজিসসহ এনসিপির ১০ নেতার বিরুদ্ধে হত্যাচেষ্টার মামলা

র‌্যাবের চৌকস অভিযানে জীপসহ প্রায় ১১ হাজার ইয়াবার চালান আটক

জামালপুর হামলা পাল্টা হামলার মধ্য দিয়ে জেলার সানন্দবাড়ী তে থমথমে অবস্থা বিরাজমান।

পর্নোগ্রাফি নিয়ন্ত্রণ আইনে এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা দায়ের ও আদালতে মিথ্যা হলফনামা দেয়ার অভিযোগে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের কেবিন ক্রু খাদিজা সুলতানা শিমুর বিরুদ্ধে মামলা দায়েরের নির্দেশ দিয়েছেন আদালত।

 

বুধবার (১৫ জুলাই) ঢাকার অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালত-২-এর বিচারক মো. জাকির হোসাইন এ আদেশ দেন। আদালতের আদেশে বলা হয়েছে, শিমুর বিরুদ্ধে পর্নোগ্রাফি নিয়ন্ত্রণ আইন, ২০১২-এর ১৩ ধারা এবং দণ্ডবিধির ১৮১, ১৮২ ও ১৯৩ ধারায় মামলা করা হবে। আদালত নিজেই এ মামলার বাদী হয়েছেন।

 

আদালতের নথি অনুযায়ী, খাদিজা সুলতানা শিমু মামলার বাদী হয়ে বেসরকারি একটি এয়ারলাইন্সের কর্মকর্তা মো. ওমর ফারুক চৌধুরীর বিরুদ্ধে পর্নোগ্রাফি নিয়ন্ত্রণ আইনের বিভিন্ন ধারায় উত্তরা পশ্চিম থানায় মামলা করেন।

 

তদন্ত শেষে উত্তরা পশ্চিম থানার তদন্ত কর্মকর্তা আদালতে চূড়ান্ত প্রতিবেদন দাখিল করে জানান, অভিযোগের সত্যতা পাওয়া যায়নি। প্রতিবেদনে বলা হয়, মামলার এজাহারে উল্লেখ করা ফেসবুক লিংক, ডিজিটাল আলামত ও অন্যান্য তথ্য যাচাই করে ওমর ফারুকের বিরুদ্ধে পর্নোগ্রাফি প্রচারের কোনো প্রমাণ মেলেনি। ফলে ওই কর্মকর্তাকে মামলা থেকে অব্যাহতির সুপারিশ করা হয়।

একই সঙ্গে তদন্ত কর্মকর্তা প্রতিবেদনে উল্লেখ করেন, ওমর ফারুক আগে শিমুর বিরুদ্ধে বিয়ের প্রলোভন দিয়ে অর্থ আত্মসাতের অভিযোগে আদালতে মামলা করেছিলেন। সেই মামলার দায় এড়াতেই শিমু সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচারিত বিভিন্ন লিংক উল্লেখ করে তার বিরুদ্ধে পর্নোগ্রাফি ছড়ানোর অভিযোগ এনে উদ্দেশ্যপ্রণোদিত, হয়রানিমূলক ও মিথ্যা মামলা করেছেন বলে প্রাথমিক তদন্তে প্রতীয়মান হয়েছে। এ কারণে শিমুর বিরুদ্ধে পর্নোগ্রাফি নিয়ন্ত্রণ আইন, ২০১২-এর ১৩ ধারায় আইনগত ব্যবস্থা নেয়ার আবেদনও করেন তদন্ত কর্মকর্তা।

 

পরে গত ৯ জুলাই আদালত তদন্ত প্রতিবেদন গ্রহণ করে ওমর ফারুককে মামলা থেকে অব্যাহতি দেন। আদালতের আদেশে বলা হয়, শিমু ক্ষতিসাধনের উদ্দেশ্যে আদালতে মিথ্যা মামলা দায়ের করেছেন এবং হলফ করে মিথ্যা সাক্ষ্য দিয়েছেন। মামলার নথিতে তার দেয়া হলফনামাও সংযুক্ত রয়েছে। এসব বিবেচনায় আদালত নিজেই বাদী হয়ে তার বিরুদ্ধে পর্নোগ্রাফি নিয়ন্ত্রণ আইন ও দণ্ডবিধির সংশ্লিষ্ট ধারায় মামলা দায়েরের নির্দেশ দেন।

 

তদন্তে যা উঠে এসেছে পুলিশের চূড়ান্ত প্রতিবেদনে বলা হয়, তদন্তকালে রেকর্ড, ডিজিটাল আলামত, ফেসবুক লিংক ও ফরেনসিক তথ্য যাচাই করে ওমর ফারুকের বিরুদ্ধে পর্নোগ্রাফি প্রচারের কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি।

 

তদন্তে আরও উঠে আসে, শিমু বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের কেবিন ক্রু এবং ওমর ফারুক একটি বেসরকারি এয়ারলাইন্সের এয়ারক্রাফট মেইনটেন্যান্স কর্মকর্তা। ফেসবুকে পরিচয়ের পর তাদের মধ্যে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে।

 

প্রতিবেদনে বলা হয়, বিয়ের আশ্বাস দিয়ে বিভিন্ন সময়ে ওমর ফারুকের কাছ থেকে বিপুল পরিমাণ অর্থ ও মূল্যবান সামগ্রী নেয়ার অভিযোগে ওমর ফারুক আদালতে পৃথক মামলা করেন। এরপর সেই মামলার দায় থেকে নিজেকে রক্ষা করতেই শিমু পর্নোগ্রাফি আইনে অভিযোগ দায়ের করেন বলে তদন্তে প্রতীয়মান হয়েছে।

 

ওমর ফারুকের আগের মামলা গত ২০ জুলাই ওমর ফারুক চৌধুরী শিমুর বিরুদ্ধে বিয়ের প্রলোভন, ‘হানি ট্র্যাপ’ ও ব্ল্যাকমেইলের মাধ্যমে প্রায় ২২ লাখ টাকা আত্মসাতের অভিযোগে ঢাকার আদালতে মামলা করেন। আদালত অভিযোগটি আমলে নিয়ে উত্তরা পশ্চিম থানাকে তদন্তের নির্দেশ দেন। পরে তিনি বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স কর্তৃপক্ষের কাছেও লিখিত অভিযোগ করেন।

 

সেই মামলায় অভিযোগ করা হয়, ২০২৪ সালে ফেসবুকে পরিচয়ের পর শিমু তাকে বিয়ের আশ্বাস দিয়ে বিভিন্ন সময়ে টাকা নেন। জন্মদিনে দেড় লাখ টাকা মূল্যের একটি হীরার আংটিসহ বিয়ের খরচের জন্য মোট ২১ লাখ ৭৪ হাজার ৫১১ টাকা নেয়ার পরও বিয়ে না করে প্রতারণার মাধ্যমে অর্থ আত্মসাৎ করা হয়েছে বলে মামলায় দাবি করা হয়।

পর্নোগ্রাফি আইনে কেবিন ক্রু শিমুর বিরুদ্ধে মামলার নির্দেশ আদালতের

error: আপনি নিউজ চুরি করার চেষ্টা করছেন। বিশেষ প্রয়োজনে যোগাযোগ করুন ০১৭৬৭৪৪৪৩৩৩
%d