হঠাৎ দেখা - Gono television | বাংলাদেশ সরকার অনুমোদিত বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেল।

হঠাৎ দেখা

Oplus_131072

লেখা:রাশেদুজ্জামান রাশেদ
প্রকাশ: ২৫ মে ২০২৫, ০৯: ০৩
অলংকরণ: আরাফাত করিম
অলংকরণ: আরাফাত করিম
স্টেশনে হঠাৎ দেখা। ভেবেছি কখনো দেখা হবে না। কয়েক মাস আগে দেখেছি, আলতা রাঙা পায়ে। লাল রঙের শাড়িতে এলোমেলো চুল। উড়ু উড়ু মনে এক পলক দেখেছি। তার মিষ্টি মুখের মুচকি হাসি। মনে হয় হাজার বছর ধরে দেখি। হঠাৎ কানে প্রশ্ন আসে

-কী ব্যাপার? এমনভাবে কী দেখছেন?

তার প্রশ্নকে পাত্তা না দিয়ে আচমকা হয়ে দাঁড়িয়ে তাকে দেখছি।

-আজব তো! এভাবে কি কেউ দেখে?

পাল্টা প্রশ্ন করলাম, তাহলে কীভাবে দেখব?

-না, এভাবে আমাকে দেখতে হবে না।

-আপনি এত সুন্দরী কেন? আর আপনি কোথায় যাবেন?

-আমি সেতু। ঢাকায় যাব। নাম শুনে একটু মুচকি হাসি দিলাম।

-আশ্চর্য তো, হাসার কী হলো?

-কেন, মানুষকে হাসার স্বাধীনতাটুকুও দেবেন না।

-হ্যাঁ, অবশ্যই আপনার হাসার স্বাধীনতা আছে। আপনি মন খুলে হাসুন। আমি চললাম। এ কথা বলেই আলতা রাঙা পায়ে ধীরে ধীরে হাঁটতে শুরু করে টিকিট কাউন্টারের দিকে।

-এই যে শুনেন? আপনাকে কিছু কথা বলার আছে। পরিচয়ের ৩০ মিনিটে না বলার কথাগুলো আজ বলে দিতে চাই।

কিন্তু বলা হলো না। ট্রেনের যাত্রাবিরতি শেষ। ট্রেনের দুবার শর্ট হুইসেল জানান দিচ্ছে ট্রেন ছাড়ার সময় হয়েছে। ট্রেনের সব যাত্রী উঠে গেছে। তাই সে দ্রুত প্ল্যাটফর্ম থেকে দৌড়ে কামরায় বসল। ঝকমক ট্রেন চলছে। চলেই গেলে। রয়ে গেলাম বড় একা হয়ে। রোজ বিকেলে তার অপেক্ষায় বসে থাকি। কবে হবে তার দেখা! কতশত যাত্রী দেখা হয়। অনেক পছন্দ হয়। প্রেমে পড়ি, কিন্তু কেউ মন কেড়ে নিয়ে যেতে পারে না।

তার হাসির স্মৃতি নিয়ে ছয় মাস কেটে গেল। দেখা হয় না। রোজ বটগাছের নিচে কল্পনায় তার সঙ্গে কথা হয়ে মন ভেঙে যায়। ভাঙা মন চাঙা করতে সিদ্ধান্ত নিয়েছি নতুন করে আবার প্রেমে পড়ব। প্রতিদিনের মতো পথ ধরেছি স্টেশনের দিকে। গিয়ে দেখি আগের মতো সেতু দাঁড়িয়ে আছে। তাকে দেখে বিশ্বাস করতে পারছি না। আবার এমনভাবে দেখা হবে। তাই তো দুই হাত দিয়ে চোখ দুটো মুছে নিয়েও দেখছি সেতু দাঁড়িয়ে হাসছে। কত মাস হয়ে গেল!
– প্রতিদিন আপনার অপেক্ষায় থাকি। কবে দেখা হবে আর মনের অজানা কথাগুলো বলে দিতে পারব!

– আচ্ছা, আপনি কেমন আছেন? আজ আবার কোথায় যাচ্ছেন? হ্যাঁ, আমি ভালো আছি। এক ভদ্রলোক সেতুকে ডাকছে। ও গো! দ্রুত এসো। ট্রেন চলে আসছে। সেতু বলল, হ্যাঁ, যাচ্ছি। বলেই তাড়াতাড়ি তার হাত ধরে ট্রেনে উঠে চলে গেল। রয়ে গেলাম নিরুদ্ধ প্রেমিক হয়ে। আর দেখা হলো না! যুবক পেরিয়ে চুল পেকে বুড়ো স্মৃতিবিজড়িত দিনগুলো শুধু মনে পড়ে। আর কতকাল তার অপেক্ষায়! কখনো তার চিন্তায় দুই চোখের জল গড়িয়ে পড়ে অঝোর ধারায়। শরীরের অবস্থা বেহাল ডাক্তার পরীক্ষা করে দেখে বলল, আরও কিছুদিন হাসপাতালে বিশ্রাম নিতে। তবে দুঃখের বিষয়, ডায়ালাইসিস করতে হবে। বাঁ দিকের বৃক্ক অকেজো হয়ে গেছে।
সুমন বলল, চিন্তিত হবে না, আমি দেখি কী করা যায়। এই বলে তার ক্যামেরা দিয়ে ছবি তুলল। সে কিছু না বলেই বাইরে চলে গেল। পরের দিন সুমন সকালে হকারের কাছ থেকে খবরের কাগজ দিয়ে বলল। এই পত্রিকায় আপনার খবর ছাপানো হয়েছে। পত্রিকা খুলে দেখি, ‘দেশের আলোচিত লেখক জাসেতের টাকার অভাবে ডায়ালাইসিস করা হচ্ছে না’ শিরোনামে খবর ছাপানো হয়েছে। পত্রিকা পড়া শেষে সুমন বলল, এই খবর দেখে অনেকেই আপনার পাশে সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দেবেন।
সকালে জানালার দিকে তাকিয়ে দেখি মুক্ত আকাশে ঝাঁকে ঝাঁকে পাখি ওড়ে। আমিও মুক্ত আকাশে ঘুরতে চাই। ভাবনাগুলো শেষ না হতেই এক ভদ্রমহিলা। দেখতে মাথায় পাকা চুল আর যুবতীর মতো, কিন্তু যুবতী নয় বৃদ্ধ হয়েছেন। তিনি এসে প্রশ্ন করলেন,

-আপনি কেমন আছেন? আপনি আমাকে চিনতে পেরেছেন? জবাবটা দিলাম না, আমি চিনতে পারিনি। বয়স বেড়েছে, সবকিছু স্মরণ রাখতে পারি না।

– স্টেশনের সেতু মেয়েটির কথা স্মরণ আছে? আমি সেই সেতু।
এ কথা শুনে আশ্চর্য হয়ে দেখতেই থাকি। একের পর এক প্রশ্ন আওড়ে যাচ্ছি! কখন অজ্ঞান হয়ে শুয়ে পড়ি, তা স্মরণ নেই। মাসখানেক পর সুস্থ হয়ে জানতে পারলাম, আমার সুস্থ হওয়ার সম্পূর্ণ ব্যয়ভার সেতু বহন করছে। শোবার ঘরের টেবিলে এক টুকরা কাগজ পড়ে আছে। সেই সাদা কাগজে লেখা আছে ‘তোমাকে কখনো বলেছি যে মন থেকে মুছে ফেলেছি? বলিনি! কোনো দিন বলব না। তুমি আছো, থাকবে হৃদয়ে আর গোপনে কাঁদব অঝোর ধারায়। ভালো থাকো, সুস্থ থাকো।’


 

গোবিপ্রবি প্রতিনিধি:
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের নির্বাচনে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রশিবিরের সভাপতির প্রার্থীতার বিরুদ্ধে রিট আবেদনকারী নারী শিক্ষার্থীকে শিবির নেতা কর্তৃক প্রকাশ্যে গণধর্ষণের হুমকি, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রদল নেত্রীদের হেনস্থা এবং শিবিরের নেতাকর্মীদের দ্বারা সারাদেশে নারী শিক্ষার্থীদের লক্ষ্য করে অব্যাহত সাইবার বুলিংয়ের প্রতিবাদে বিক্ষোভ মিছিল করেছে গোপালগঞ্জ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (গোবিপ্রবি) ছাত্রদল।
মঙ্গলবার (২ সেপ্টেম্বর) দুপুরে ছাত্রদলের সভাপতি দুর্জয় শুভ ও সাধারণ সম্পাদক আমিনুল ইসলাম বিদ্যুতের নেতৃত্বে বিশ্ববিদ্যালয়ের  লিপুস ক্যান্টিন থেকে বিক্ষোভ  মিছিল  শুরু হয়ে ক্যাম্পাসের প্রশাসনিক ভবনের সামনে নেতাকর্মীদের বক্তৃতার মাধ্যমে বিক্ষোভ মিছিল কর্মসূচী শেষ হয়। বিক্ষোভ মিছিলে আনুমানিক হাজারের অধিক নেতাকর্মীর উপস্থিতি দেখ যায়।
এসময়  বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলের  সিনিয়র সহ-সভাপতি রাকিবুল ইসলাম,  সিনিয়র যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক শাহরিয়ার গালিব, সাংগঠনিক সম্পাদক ফারুক খন্দকার,   যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মোঃ শাহাজান ইসলাম, মাসুদ রানা, আরিফুল ইসলাম, নূরজামাল, আল রোহান, বাতেন সরকার, শফিকুল ইসলাম, জাহিদ কামাল,  দপ্তর সম্পাদক তর্কি ইয়াছির,  সহ সকল  পর্যায়ের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।
বিক্ষোভ মিছিলে স্লোগান দেয়, ❝নারী অধিকার রক্ষা করতে, ছাত্রদল সজাগ থাকবে। দিল্লি গেছে স্বৈরাচার, পিন্ডি যাবে রাজাকার। শিবির আর স্বৈরাচার, মিলেমিশে একাকার। নারী হেনস্থার আস্তানা, এ বাংলায় হবে না।❞
বিক্ষোভ মিছিল শেষে ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক আমিনুল ইসলাম বিদ্যুৎ বলেন, নারীদের অধিকার নিয়ে কথা বলে যে সংগঠন, তা জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল। কিন্তু আমরা দেখতে পাচ্ছি ৫ আগস্টের পর একটি গুপ্ত সংগঠনের আবির্ভাব হয়েছে, যারা গত ১৭ বছর স্বৈরাচারের সাথে মিলিত হয়ে কাজ চালিয়েছে। সেই কারণে তারা তাদের কমিটি প্রকাশ করে না। বর্তমানে তারা সাইবার ক্রাইমের মাধ্যমে নারীদের হেনস্তা করছে এবং গুপ্তভাবে নিজেদের উদ্দেশ্য হাসিল করার চেষ্টা করছে। আমি স্পষ্টভাবে জানিয়ে দিতে চাই, জামাত-শিবির গুপ্তভাবে রাজনীতি করে তাদের ফায়দা হাসিল করতে পারবে না।
ছাত্রদলের সভাপতি দুর্জয় শুভ বলেন, পরিচয় গোপন করে এমন চরিত্রহীনা রাজনীতি বন্ধ করার আহ্বান থাকবে আপনাদের প্রতি (গুপ্ত বাহিনীর)। পাশাপাশি, যারা বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ (৭১) বিশ্বাস করে না, তারা বাংলাদেশে রাজনীতি করতে পারে না। আপনারা গুপ্তভাবে রাজনীতি করবেন না, প্রকাশ্যে আসুন। আপনাদের বিরুদ্ধে কেউ কথা বললেও আপনারা ফেক আইডি দিয়ে প্রতিহত করেন। এই ফেক আইডির রাজনীতি বন্ধ করতে হবে। আমি ছাত্রদলের রাজনীতি করি, আমার পরিচয় আছে। আপনিও রাজনীতি করলে আপনার পরিচয় প্রকাশ্যে আনুন। আমরা সবাই ২৪ জুলাইয়ের আন্দোলনে একসাথে কাজ করেছি। আবার একসাথে থেকে আগামী বাংলাদেশ গড়ব। তবে আপনাদের প্রতি একটা অনুরোধ রাখবো, সাইবার বুলিং ও অনলাইন রাজনীতি থেকে সরে আসুন।

নারী নিপীড়নের গোবিপ্রবি ছাত্রদলের বিক্ষোভ 

শাহাজান, গোবিপ্রবি:

‘গনতন্ত্রের মা‘  বিএনপি চেয়ারপার্সন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে  গোপালগঞ্জ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয়  মসজিদে ১৫ আগস্ট  ২০২৫ (শুক্রবার)   আসরবাদ দোয়া ও মিলাদ মাহফিল এর আয়োজন করে গোপালগঞ্জ বিজ্ঞান ও  প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদল।দোয়া ও মিলাদ মাহফিলে বেগম খালেদা জিয়ার সুস্থতা ও দীর্ঘায়ু  কামনা করে দোয়া করা হয়।

দোয়া ও মিলাদ  মাহফিলে বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলের সভাপতি দূর্জয় শুভ, সাধারণ সম্পাদক আমিনুল ইসলাম বিদ্যুৎ সহ অনান্য নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন। আরও উপস্থিত ছিলেন সাধারণ শিক্ষার্থীীবৃন্দ ও মুসল্লিগন।

গোবিপ্রবি ছাত্রদল সভাপতি দূর্জয় শুভ জানান, “শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান বহুদলীয় গণতন্ত্রের প্রতিষ্ঠাতা। তিনিই জাতিকে একটি সত্যিকার গণতন্ত্রের শক্তভিত্তির ওপরে দাঁড় করাতে চেয়েছিলেন। আনতে চেয়েছিলেন অর্থনৈতিক মুক্তি। দিতে চেয়েছিলেন জাতিকে সম্মান আর গৌরব। তার সততা, নিষ্ঠা, গভীর দেশপ্রেম, পরিশ্রমপ্রিয়তা, নেতৃত্বের দৃঢ়তা প্রভৃতি গুণাবলী এ দেশের গণমানুষের হৃদয়কে স্পর্শ করেছিল। বেগম খালেদা জিয়া সেই ধারাকে এগিয়ে নেন এবং বিএনপি অত্যন্ত জনপ্রিয় দলে পরিণত হয়। খালেদা জিয়ার সময়ে বাংলাদেশ দক্ষিণ এশিয়ার ‘ইমার্জিং টাইগার’ খেতাবে ভূষিত হয়। তিনি একাধারে স্বৈরশাসকের আতঙ্ক, গণতন্ত্রের ধারক। আজ এই মহীয়সী নারীর শুভ জন্মদিনে তাকে শ্রদ্ধাভরে স্মরণ করছি এবং তার সুস্বাস্থ্য দীর্ঘায়ু কামনা করছি। দেশ বাসীর কাছে আপোষহীন জননেত্রীর জন্যে দোয়া চাই।

বেগম খালেদা জিয়া শুধু একজন রাজনীতিবিদ নন, তিনি বাংলাদেশের গণতন্ত্রের প্রতীক। দেশের মানুষের অধিকার ও গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠায় তাঁর অবদান জাতি চিরকাল মনে রাখবে।”

খালেদা জিয়ার জন্মবার্ষিকীতে গোবিপ্রবি  ছাত্রদলের দোয়া মাহফিল

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

র‌্যাবের চৌকস অভিযানে জীপসহ প্রায় ১১ হাজার ইয়াবার চালান আটক

জামালপুর হামলা পাল্টা হামলার মধ্য দিয়ে জেলার সানন্দবাড়ী তে থমথমে অবস্থা বিরাজমান।

error: আপনি নিউজ চুরি করার চেষ্টা করছেন। বিশেষ প্রয়োজনে যোগাযোগ করুন ০১৭৬৭৪৪৪৩৩৩
%d