জুনেই বাড়ছে বিদ্যুতের দাম, চলতি সপ্তাহে গণশুনানি - Gono television | বাংলাদেশ সরকার অনুমোদিত বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেল।
জুনেই বাড়ছে বিদ্যুতের দাম, চলতি সপ্তাহে গণশুনানি

জুনেই বাড়ছে বিদ্যুতের দাম, চলতি সপ্তাহে গণশুনানি

আগামী মাসেই বাড়ছে বিদ্যুতের দাম। নিয়ন্ত্রক সংস্থা এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন বলছে, চলতি সপ্তাহে গণশুনানি শেষ করে মে মাসেই নতুন দাম চূড়ান্ত করবে তারা। সেটি হলে জুন থেকে গ্রাহকদের গুনতে হবে নতুন দাম। জ্বালানি তেল, এলপি গ্যাসের পর বিদ্যুতের দাম বাড়লে তা মরার ওপর খাঁড়ার ঘা হবে বলে মনে করছেন সাধারণ মানুষ। আর অর্থনীতিবিদরা বলছেন, দাম বাড়ানোর নেতিবাচক প্রভাব কেবল জনজীবনে নয়, পড়বে অর্থনীতিতেও। তবে বাধ্য হয়েই দাম বাড়াতে হচ্ছে বলেও মনে করেন তারা।

 

ইরান-ইসরায়েল-যুক্তরাষ্ট্র যুদ্ধের জেরে দেশেও বেড়েছে জ্বালানি তেলের দাম। আর তার প্রভাব পড়েছে গণপরিবহন থেকে নিত্যপণ্য পরিবহনেও। একই কারণে লাফিয়ে লাফিয়ে বেড়েছে বোতলজাত এলপি গ্যাস সিলিন্ডারের দামও।

 

এমন পরিস্থিতিতে টানাপড়েনে রয়েছেন নিম্নবিত্ত, খেটে খাওয়া ও নির্দিষ্ট আয়ের মানুষজন। এরই মধ্যে চলছে বিদ্যুতের দাম বাড়ানোর তোড়জোড়। এক লাফে ২৯ শতাংশ পর্যন্ত দাম বাড়ানোর প্রস্তাব সরকারি কোম্পানিগুলোর। সেই প্রস্তাব যাচাই-বাছাই করে আসছে বুধবার ও বৃহস্পতিবার গণশুনানি করতে যাচ্ছে এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন।

 

এনার্জি রেগুলেটরি কমিশনের চেয়ারম্যান জালাল আহমেদ বলেন, বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড (বিপিডিবি) এবং বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের (পিডিবি) অধীনস্থ সঞ্চালন কোম্পানি ও বিতরণ কোম্পানি প্রস্তাব পাঠিয়েছে। পাইকারি, খুচরা এবং সঞ্চালন ব্যয় বৃদ্ধির জন্য। গণশুনানির পর মতামতের ভিত্তিতে আমরা দ্রুতই এর মূল্য নির্ধারণ করবো।

 

বিদ্যুতের দাম বাড়ানোর এমন আভাসে চিন্তায় সাধারণ মানুষ। তারা জানান, বিদ্যুৎ সরবরাহ স্বাভাবিক না থাকতেই বিল বাড়ানোর সিদ্ধান্ত তাদের জন্য নতুন চাপ তৈরি করবে। আয় না বাড়লেও নিত্যপণ্যের দাম বাড়ছে বলে অভিযোগ তাদের। এমন পরিস্থিতিতে বিদ্যুতের দাম বাড়ানো হলে সংসার চালানো আরও কঠিন হয়ে পড়বে বলেও উদ্বেগ প্রকাশ করেন তারা।

 

এদিকে, সরকার বলছে, গত অর্থবছরে বিদ্যুতে ২ হাজার ৬৩৮ কোটি টাকা লোকসান দিতে হয়েছে। দাম না বাড়ালে ২০২৬ সালে এই ঘাটতি দাঁড়াবে ৩ হাজার ৮০০ কোটি টাকারও বেশি। তবে দাম বাড়লে এর নেতিবাচক প্রভাব অপরিহার্য।

 

সিপিডি অতিরিক্ত পরিচালক (গবেষণা) তৌফিকুল ইসলাম খান বলেন, জনগণের জন্য এটা নিঃসন্দেহে চাপের হবে। এটা শুধুমাত্র বিদ্যুতের দাম বা বিল কতটা বাড়বে, সেই বিষয় নয়। সার্বিকভাবেই অর্থনীতিতে দ্রব্যমূল্য বাড়ার একটি প্রবণতা দেখা যেতে পারে। সরকারের পক্ষে ভর্তুকি পুরোপুরি দেওয়া হয়তো সম্ভব হবে না। সুতরাং তারা কতটা সমন্বয় করতে পারবেন, সে বিষয়ে একটি পরিষ্কার ও স্বচ্ছ ধারণা থাকা দরকার।

 

দেশের প্রায় ৫ কোটি গ্রাহকের মধ্যে যারা ৭৫ ইউনিট পর্যন্ত ব্যবহার করবেন, তাদের লাইফলাইন অর্থাৎ কম দামের সুবিধা দেওয়ার প্রস্তাব সরকারের। আগে এটি ৫০ ইউনিট থাকলেও ২০০ ইউনিট পর্যন্ত গ্রাহকরা কম দামের সুবিধা পেতেন। এবার সেই সুবিধা তুলে দেওয়ার কথা বলা হয়েছে। এটি বাস্তবায়িত হলে নিম্নবিত্ত ও নিম্ন-মধ্যবিত্তকেও গুনতে হবে উচ্চ হারের বিল।

 


প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ড্রিম প্রজেক্ট ফ্যামিলি কার্ড বিতরণে গরিবদের বঞ্চিত করে আমলারা অন্যায় করেছেন বলে মন্তব্য করেছেন ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল।রোববার (১৭ মে) সকালে ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে ‘চাষাভূষার সন্তান’ গ্রন্থের প্রাসঙ্গিকতা ও করণীয় শীর্ষক সেমিনারে এ কথা বলেন তিনি।

 

ডেপুটি স্পিকার বলেন, ‘স্বাধীনতার পর থেকে হাওড় অঞ্চল নিয়ে কোনো টেকসই বা বৈজ্ঞানিক পরিকল্পনা নেওয়া হয়নি। মৎস্য চাষ ও উন্নয়নের নামে ইজারা বা লিজ দিয়ে হাওড় ধ্বংসের নৈরাজ্য চলছে।’

 

তিনি আরও বলেন, ‘হাওড়ের ক্ষয়ক্ষতির সরকারি তালিকায় প্রকৃত ক্ষতির চেয়ে তিন গুণ বেশি। ভুয়া নাম অন্তর্ভুক্তির অভিযোগ করেন তিনি।’হাওড়ের প্রকৃত সমস্যা ও কারণ নির্ধারণে একটি ‘স্পেশাল টাস্ক ফোর্স’ গঠনের দাবি জানান কায়সার কামাল।

 

অনুষ্ঠানে বক্তারা হাওড়ের কৃষক-চাষীদের দুঃখ দুর্দশা নিয়ে আলোচনা করেন।

 

ফ্যামিলি কার্ড বিতরণে গরিবদের বঞ্চিত করেছেন আমলারা: ডেপুটি স্পিকার

পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগের (সিআইডি) প্রধান অতিরিক্ত আইজিপি মোসলেহ উদ্দিন আহমেদকে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) নতুন কমিশনারের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।

 

রোববার (১৭ মে) স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পুলিশ-১ শাখা থেকে জারি করা এক প্রজ্ঞাপনে এ তথ্য জানানো হয়। রাষ্ট্রপতির আদেশক্রমে প্রজ্ঞাপনে স্বাক্ষর করেছেন উপ-সচিব তৌছিফ আহমেদ।

 

প্রজ্ঞাপন বলা হয়েছে, অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি) অতিরিক্ত আইজিপি মোসলেহ উদ্দিন আহমেদকে ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) কমিশনার হিসেবে বদলি ও পদায়ন করা হলো।

 

প্রজ্ঞাপনে আরও বলা হয়, জনস্বার্থে জারি করা এ আদেশ অবিলম্বে কার্যকর হবে।

 

মোসলেহ উদ্দিন আহমেদ বাংলাদেশ পুলিশের ১৫তম ব্যাচের বর্তমানে সবচেয়ে সিনিয়র কর্মকর্তা এবং অতিরিক্ত আইজিপি পদে কর্মরত ছিলেন।

 

তিনি সিআইডি প্রধানের দায়িত্ব পালনের আগে পুলিশ সদর দপ্তরে অতিরিক্ত আইজিপি (লজিস্টিকস) পদে কর্মরত ছিলেন।

ডিএমপির নতুন কমিশনার মোসলেহ উদ্দিন

দেশে হামের প্রাদুর্ভাবে শতাধিক শিশুর মৃত্যুর পরিপ্রেক্ষিতে আড়াই দশকেরও বেশি সময় ধরে চলে আসা হামের টিকাদান কর্মসূচি বাতিলের সিদ্ধান্তকে ‘ফৌজদারি অবহেলা’ আখ্যা দিয়ে হাইকোর্টে রিট আবেদন দায়ের করা হয়েছে। রিটে সাবেক অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসসহ ২৪ জনের ভূমিকা তদন্ত এবং তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত তাদের দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞার নির্দেশনা চাওয়া হয়েছে।রোববার (১৭ মে) সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ব্যারিস্টার এম আশরাফুল ইসলাম হাইকোর্টের সংশ্লিষ্ট শাখায় এ রিট আবেদন দায়ের করেন। রিটে হামের টিকাকে রাষ্ট্রীয় ব্যবস্থাপনা থেকে বেসরকারি খাতে হস্তান্তরের প্রক্রিয়ায় সংশ্লিষ্টদের সম্পৃক্ততার অভিযোগ তুলে তদন্ত কমিটি গঠনের আবেদন জানানো হয়।

 

রিটে কেবিনেট সচিব, স্বাস্থ্য সচিব, স্বরাষ্ট্র সচিব, জনপ্রশাসন সচিব এবং স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালকসহ সংশ্লিষ্ট সরকারি কর্মকর্তাদের বিবাদী করা হয়েছে।

 

এর আগে গত ৬ এপ্রিল একই বিষয়ে সংশ্লিষ্টদের কাছে লিগ্যাল নোটিশ পাঠান ব্যারিস্টার আশরাফুল ইসলাম। ওই নোটিশে পাঁচ দিনের মধ্যে তদন্ত কমিটি গঠন এবং ড. মুহাম্মদ ইউনূসসহ উপদেষ্টা পরিষদের সদস্যদের বিরুদ্ধে দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা জারির উদ্যোগ নিতে বলা হয়েছিল। অন্যথায় আইনগত পদক্ষেপ নেওয়ার ঘোষণা দেওয়া হয়। সেই ঘোষণার ধারাবাহিকতায় রিট আবেদনটি দায়ের করা হয়েছে বলে জানান তিনি।

 

ব্যারিস্টার আশরাফুল ইসলাম বলেন, দেশে আবারও হামের ব্যাপক প্রাদুর্ভাব দেখা দিয়েছে। এতে শতাধিক শিশুর মৃত্যু হয়েছে এবং বহু শিশু ও সাধারণ মানুষ আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি রয়েছেন।

 

রিটে যাদের বিরুদ্ধে দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞার নির্দেশনা চাওয়া হয়েছে, তাদের মধ্যে রয়েছেন ড. মুহাম্মদ ইউনূস, ড. আসিফ নজরুল, সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান, আদিলুর রহমান খান, নূরজাহান বেগম, ব্রিগেডিয়ার (অব.) সাখাওয়াত হোসেন, জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী, মোস্তফা সরয়ার ফারুকী এবং সাবেক প্রেস সচিব শফিকুল আলমসহ সংশ্লিষ্টরা। হামের টিকা ব্যবস্থাকে রাষ্ট্রীয় কাঠামো থেকে বেসরকারি খাতে দেওয়ার ‘অশুভ ও অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে’ স্বার্থসংশ্লিষ্টভাবে জড়িত থাকার অভিযোগে এই তদন্ত ও নিষেধাজ্ঞার দাবি জানান ব্যারিস্টার আশরাফুল ইসলাম।

ড. ইউনূসসহ ২৪ জনের দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা চেয়ে হাইকোর্টে রিট

জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের শহীদ আবু সাঈদ হত্যা মামলায় ১০ বছরের কারাদণ্ডপ্রাপ্ত বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয় (বেরোবি) এর সাবেক উপাচার্য (ভিসি) হাসিবুর রশীদকে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২ এ হাজির করা হয়েছে।

 

রোববার (১৭ মে) ট্রাইব্যুনালের বিচারিক প্যানেল তাকে সাজা ভোগের জন্য কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেবেন বলে জানা গেছে। এর আগে মোহাম্মদপুর থানা থেকে তাকে ট্রাইব্যুনালে হাজির করা হয়।

 

গতকাল শনিবার (১৬ মে) সন্ধ্যায় ঢাকার সলিমুল্লাহ রোডের একটি বাসা থেকে তাকে গ্রেফতার করা হয়।

 

এর আগে, গত ৯ এপ্রিল আবু সাঈদ হত্যা মামলায় হাসিবুর রশীদকে ১০ বছরের কারাদণ্ড দেন ট্রাইব্যুনাল। মামলায় তার বিরুদ্ধে আবু সাঈদকে হত্যায় উস্কানি, প্ররোচনা, সহযোগিতা এবং দায়িত্বে অবহেলার অভিযোগ আনা হয়।

 

ট্রাইব্যুনালে বিচার চলাকালে শুরু থেকেই তিনি পলাতক থাকায় তার পক্ষে রাষ্ট্রনিযুক্ত আইনজীবী আইনি লড়াই পরিচালনা করেন।

 

 

আবু সাঈদ হত্যা মামলা বেরোবির সাবেক ভিসি হাসিবুর রশীদকে ট্রাইব্যুনালে হাজির

মালয়েশিয়ায় চিকিৎসাধীন বিএনপি’র স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাসের শারীরিক অবস্থার উন্নতি হয়েছে। তিনি জুনের প্রথম সপ্তাহে দেশে ফিরতে পারেন বলে জানিয়েছেন তার স্ত্রী আফরোজা আব্বাস।

 

শনিবার (১৬ মে) কুয়ালালামপুরের প্রিন্সকোর্ট মেডিকেল সেন্টার হাসপাতালে প্রবাসী সাংবাদিকদের সাথে আলাপকালে আফরোজা আব্বাস এ কথা জানান।

 

তিনি বলেন, চিকিৎসকরা বর্তমানে মির্জা আব্বাসকে বিশেষ পর্যবেক্ষণে রেখেছেন। আগের তুলনায় তার শারীরিক অবস্থা অনেক বেশি স্থিতিশীল। মালয়েশিয়ায় তার ফিজিওথেরাপি চলছে।

 

এছাড়া তাকে দেখতে হাসপাতালে আসা দলীয় নেতাকর্মী ও শুভাকাঙ্ক্ষীদের সাথে কথাও বলেছেন এই বিএনপি নেতা— এমনটাই জানান আফরোজা আব্বাস।

জুনের প্রথম সপ্তাহেই দেশে ফিরতে পারেন মির্জা আব্বাস

রাজধানীর শ্যামলীতে চিকিৎসক ও নার্সের অবহেলায় হাম উপসর্গে আক্রান্ত এক শিশুর মৃত্যুর অভিযোগ উঠেছে।

 

শুক্রবার (১৫ মে) রাতে বাংলাদেশ শিশু হাসপাতালে এ ঘটনা ঘটে।

 

স্বজনদের অভিযোগ— চিকিৎসক ও নার্সের অবহেলায় শিশুটি মারা গেছে। তারা জানান, তিনদিন আগে হামের উপসর্গ নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয় ৯ মাসের শিশুটি। এ ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত করে দোষীদের কঠোর শাস্তির দাবি জানান স্বজনরা।

 

যদিও এই অভিযোগকে ভিক্তিহীন উল্লেখ করেন হাসপাতালের কর্তব্যরত আবাসিক চিকিৎসক ডা. আসিফ হান্নান। তিনি জানান, শিশুটি হাম ও নিউমোনিয়া আক্রান্ত ছিল। গতকাল তাকে আইসিইউতে নেওয়া হয়।

 

শিশুটিকে হাসপাতালের পক্ষ থেকে সর্বোচ্চ চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে বলেও দাবি চিকিৎসকের। তবে, যদি কারো দোষ প্রমাণিত হয় তার ব্যাপারে ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও জানান তিনি।

রাজধানীতে চিকিৎসক-নার্সের অবহেলায় শিশু মৃত্যুর অভিযোগ

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

ফেসবুক স্ট্যাটাসে ‘হা-হা’ রিয়েক্ট দেওয়ায় সংঘর্ষ, নারীর মৃত্যু

কক্সবাজারের উখিয়ায় ফেসবুকের একটি পোস্টকে কেন্দ্র করে শুরু হওয়া বিরোধ শেষ পর্যন্ত প্রাণঘাতী সংঘর্ষে রূপ নিয়েছে। এতে এক নারী নিহত হয়েছেন বলে অভিযোগ উঠেছে।

 

শনিবার (১৬ মে) রাত ৮টার দিকে উখিয়া উপজেলা সদরের টাইপালং এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। নিহতের নাম সৈয়দা খাতুন (৫০), তিনি স্থানীয় সব্বির আহমেদের স্ত্রী।

 

স্থানীয় ও ভুক্তভোগী পরিবারের দাবি অনুযায়ী, কয়েকদিন ধরে এলাকায় রাজনৈতিক স্লোগান ও ফেসবুক পোস্ট ঘিরে উত্তেজনা চলছিল। এরই ধারাবাহিকতায় এক ছাত্রদল নেতার ফেসবুক স্ট্যাটাসে ‘হা-হা’ রিয়্যাক্ট দেওয়াকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা তৈরি হয়, যা পরে সংঘর্ষে রূপ নেয়।

 

অভিযোগ অনুযায়ী, ঘটনাটি প্রথমে একটি মারধরের মধ্য দিয়ে শুরু হয় এবং পরে তা দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করতে গিয়ে নিহত নারীর ছেলে ও স্থানীয় একজন এনজিওকর্মীও হামলার শিকার হন বলে দাবি করা হয়েছে। পরে খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে গেলে ওই নারী আহত হন এবং হাসপাতালে নেওয়ার পর তাকে মৃত ঘোষণা করা হয়।

 

পরিবারের পক্ষ থেকে স্থানীয় একাধিক রাজনৈতিক ও ছাত্র সংগঠনের নেতাকর্মীদের জড়িত থাকার অভিযোগ আনা হয়েছে। তবে অভিযুক্তরা সংবাদ সম্মেলন করে ঘটনার জন্য দুঃখ প্রকাশ করেছেন এবং নিজেদের নির্দোষ দাবি করেছেন।

 

উখিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জানিয়েছেন, নারীটির মৃত্যু হয়েছে হাসপাতালে। মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানতে ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহ কক্সবাজার সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। পাশাপাশি ঘটনার বিস্তারিত তদন্ত চলছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

 

ঘটনাটি ঘিরে এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে কাজ করছে।

ফেসবুক স্ট্যাটাসে ‘হা-হা’ রিয়েক্ট দেওয়ায় সংঘর্ষ, নারীর মৃত্যু

দীর্ঘ চার বছর ধরে গণধর্ষণ করার পর বিচার না পেয়ে আত্মহত্যার পথ বেছে নিয়েছেন ভারতের রাজস্থানের যোধপুর জেলার এক তরুণী। এই নির্মম ঘটনার বিচার চাইতে পুলিশের ধারস্থ হন সেই তরুণীর ছোট বোন। এরপর বিচার না পেয়ে ক্ষোভে এবং অভিমানে ওই তরুণীর ছোট বোনও আত্মহত্যার পথ বেছে নেন। মাত্র দুই মাসের ব্যবধানে দুই বোনের এমন মর্মান্তিক মৃত্যুর ঘটনায় পুরো এলাকায় চরম উত্তেজনা ও তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।

 

স্থানীয় মারওয়ার রাজপুত সম্প্রদায়ের মানুষ ও সাধারণ জনতা এই ঘটনার প্রতিবাদে এবং দায়ীদের শাস্তির দাবিতে রাজপথে নেমে এসেছেন।

 

মামলার বিবরণ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ঘটনার সূত্রপাত চার বছর আগে। যোধপুরের একটি স্থানীয় ‘ই-মিত্র’ (ডিজিটাল সেবা) কেন্দ্রের অপারেটর মহিপাল নামের এক যুবক গোপনে ওই বড় বোনের কিছু আপত্তিকর ভিডিও ধারণ করেন। পরে সেই ভিডিওর সূত্র ধরে মহিপাল ও তার সহযোগীরা তরুণীকে দীর্ঘ চার বছর ধরে ব্ল্যাকমেইল করে আসছিল। তারা ওই পরিবারের কাছ থেকে বিপুল পরিমাণ অর্থ হাতিয়ে নেওয়ার পাশাপাশি তরুণীকে দলবদ্ধভাবে ধর্ষণ করে। এই মানসিক ও শারীরিক নির্যাতন সহ্য করতে না পেরে গত ২০ মার্চ বড় বোন আত্মহত্যা করেন।

 

বড় বোনের মৃত্যুর পর গত ১১ এপ্রিল ছোট বোন বাদী হয়ে মহিপাল, শিবরাজ, গোপালসহ আটজনের বিরুদ্ধে থানায় একটি মামলা দায়ের করেন। সে সময় তিনি পুলিশকে হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছিলেন, দ্রুত অপরাধীদের গ্রেপ্তার ও বিচার করা না হলে তিনিও নিজের জীবন শেষ করে দেবেন।

 

অভিযোগ রয়েছে, মামলা করার পরও আসামিরা দমে যায়নি; বরং তারা ছোট বোনকেও নানাভাবে যৌন নিপীড়ন ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সেই ভিডিও ছড়িয়ে দেওয়ার হুমকি দিতে থাকে। আসামিরা প্রকাশ্যে ঘুরে বেড়াত এবং পুলিশ তাদের কিছুই করতে পারবে না বলে অহংকার করত। অবশেষে গত শুক্রবার প্রশাসনের দৃষ্টি আকর্ষণ করতে ওই তরুণী স্থানীয় একটি পানির ট্যাংকের ওপর উঠে পড়েন। সেখানে আসামিদের দ্রুত গ্রেপ্তারের দাবি জানিয়ে তিনি বিষপান করেন। পরে তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাঁর মৃত্যু হয়।

 

এই ঘটনার পর যোধপুরজুড়ে ক্ষোভের আগুন জ্বলে উঠেছে। নিহতের মরদেহ যে হাসপাতালের মর্গে রাখা হয়েছে, তার বাইরে রাজপুত সমাজের শত শত মানুষ জড়ো হয়ে তীব্র বিক্ষোভ প্রদর্শন করেন। মারওয়ার রাজপুত সোসাইটির সভাপতি হনুমান সিং খাংটা অভিযোগ করে বলেন, পুলিশ শুরু থেকেই আসামিদের আড়াল করার চেষ্টা করেছে। পুলিশের এই চরম গাফিলতি ও নিষ্ক্রিয়তার কারণেই আজ দুটি নিরীহ প্রাণ ঝরে গেল।

 

বিক্ষুব্ধ জনতা ও নিহতের পরিবার অবিলম্বে সব আসামির গ্রেপ্তার এবং দায়িত্বে অবহেলাকারী পুলিশ কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে কঠোর শাস্তিমূলক ব্যবস্থার দাবি জানিয়েছে। প্রশাসনের পক্ষ থেকে উচ্চপর্যায়ের ও সুষ্ঠু তদন্তের লিখিত আশ্বাস পাওয়ার পর পরিবারটি মরদেহের ময়নাতদন্তের অনুমতি দেয়।

 

যোধপুরের পুলিশ সুপার (এসপি) পিডি নিত্যা গণমাধ্যমকে জানিয়েছেন, মূল অভিযুক্ত মহিপালসহ দুজনকে ইতিমধ্যে আটক করা হয়েছে এবং তাদের আনুষ্ঠানিকভাবে গ্রেপ্তারের প্রক্রিয়া চলছে। বাকি আসামিদের ধরতেও অভিযান অব্যাহত রয়েছে। এ ছাড়া ঘটনায় পুলিশের কোনো গাফিলতি ছিল কি না, তা খতিয়ে দেখতে একটি বিভাগীয় তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে বলে আশ্বাস দিয়েছে স্থানীয় প্রশাসন।

চার বছর ধরে ব্ল্যাকমেইল ও গণধর্ষণ: বিচার না পেয়ে ২ বোনের আত্মহত্যা

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ড্রিম প্রজেক্ট ফ্যামিলি কার্ড বিতরণে গরিবদের বঞ্চিত করে আমলারা অন্যায় করেছেন বলে মন্তব্য করেছেন ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল।রোববার (১৭ মে) সকালে ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে ‘চাষাভূষার সন্তান’ গ্রন্থের প্রাসঙ্গিকতা ও করণীয় শীর্ষক সেমিনারে এ কথা বলেন তিনি।

 

ডেপুটি স্পিকার বলেন, ‘স্বাধীনতার পর থেকে হাওড় অঞ্চল নিয়ে কোনো টেকসই বা বৈজ্ঞানিক পরিকল্পনা নেওয়া হয়নি। মৎস্য চাষ ও উন্নয়নের নামে ইজারা বা লিজ দিয়ে হাওড় ধ্বংসের নৈরাজ্য চলছে।’

 

তিনি আরও বলেন, ‘হাওড়ের ক্ষয়ক্ষতির সরকারি তালিকায় প্রকৃত ক্ষতির চেয়ে তিন গুণ বেশি। ভুয়া নাম অন্তর্ভুক্তির অভিযোগ করেন তিনি।’হাওড়ের প্রকৃত সমস্যা ও কারণ নির্ধারণে একটি ‘স্পেশাল টাস্ক ফোর্স’ গঠনের দাবি জানান কায়সার কামাল।

 

অনুষ্ঠানে বক্তারা হাওড়ের কৃষক-চাষীদের দুঃখ দুর্দশা নিয়ে আলোচনা করেন।

 

ফ্যামিলি কার্ড বিতরণে গরিবদের বঞ্চিত করেছেন আমলারা: ডেপুটি স্পিকার

পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগের (সিআইডি) প্রধান অতিরিক্ত আইজিপি মোসলেহ উদ্দিন আহমেদকে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) নতুন কমিশনারের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।

 

রোববার (১৭ মে) স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পুলিশ-১ শাখা থেকে জারি করা এক প্রজ্ঞাপনে এ তথ্য জানানো হয়। রাষ্ট্রপতির আদেশক্রমে প্রজ্ঞাপনে স্বাক্ষর করেছেন উপ-সচিব তৌছিফ আহমেদ।

 

প্রজ্ঞাপন বলা হয়েছে, অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি) অতিরিক্ত আইজিপি মোসলেহ উদ্দিন আহমেদকে ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) কমিশনার হিসেবে বদলি ও পদায়ন করা হলো।

 

প্রজ্ঞাপনে আরও বলা হয়, জনস্বার্থে জারি করা এ আদেশ অবিলম্বে কার্যকর হবে।

 

মোসলেহ উদ্দিন আহমেদ বাংলাদেশ পুলিশের ১৫তম ব্যাচের বর্তমানে সবচেয়ে সিনিয়র কর্মকর্তা এবং অতিরিক্ত আইজিপি পদে কর্মরত ছিলেন।

 

তিনি সিআইডি প্রধানের দায়িত্ব পালনের আগে পুলিশ সদর দপ্তরে অতিরিক্ত আইজিপি (লজিস্টিকস) পদে কর্মরত ছিলেন।

ডিএমপির নতুন কমিশনার মোসলেহ উদ্দিন

দেশে হামের প্রাদুর্ভাবে শতাধিক শিশুর মৃত্যুর পরিপ্রেক্ষিতে আড়াই দশকেরও বেশি সময় ধরে চলে আসা হামের টিকাদান কর্মসূচি বাতিলের সিদ্ধান্তকে ‘ফৌজদারি অবহেলা’ আখ্যা দিয়ে হাইকোর্টে রিট আবেদন দায়ের করা হয়েছে। রিটে সাবেক অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসসহ ২৪ জনের ভূমিকা তদন্ত এবং তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত তাদের দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞার নির্দেশনা চাওয়া হয়েছে।রোববার (১৭ মে) সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ব্যারিস্টার এম আশরাফুল ইসলাম হাইকোর্টের সংশ্লিষ্ট শাখায় এ রিট আবেদন দায়ের করেন। রিটে হামের টিকাকে রাষ্ট্রীয় ব্যবস্থাপনা থেকে বেসরকারি খাতে হস্তান্তরের প্রক্রিয়ায় সংশ্লিষ্টদের সম্পৃক্ততার অভিযোগ তুলে তদন্ত কমিটি গঠনের আবেদন জানানো হয়।

 

রিটে কেবিনেট সচিব, স্বাস্থ্য সচিব, স্বরাষ্ট্র সচিব, জনপ্রশাসন সচিব এবং স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালকসহ সংশ্লিষ্ট সরকারি কর্মকর্তাদের বিবাদী করা হয়েছে।

 

এর আগে গত ৬ এপ্রিল একই বিষয়ে সংশ্লিষ্টদের কাছে লিগ্যাল নোটিশ পাঠান ব্যারিস্টার আশরাফুল ইসলাম। ওই নোটিশে পাঁচ দিনের মধ্যে তদন্ত কমিটি গঠন এবং ড. মুহাম্মদ ইউনূসসহ উপদেষ্টা পরিষদের সদস্যদের বিরুদ্ধে দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা জারির উদ্যোগ নিতে বলা হয়েছিল। অন্যথায় আইনগত পদক্ষেপ নেওয়ার ঘোষণা দেওয়া হয়। সেই ঘোষণার ধারাবাহিকতায় রিট আবেদনটি দায়ের করা হয়েছে বলে জানান তিনি।

 

ব্যারিস্টার আশরাফুল ইসলাম বলেন, দেশে আবারও হামের ব্যাপক প্রাদুর্ভাব দেখা দিয়েছে। এতে শতাধিক শিশুর মৃত্যু হয়েছে এবং বহু শিশু ও সাধারণ মানুষ আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি রয়েছেন।

 

রিটে যাদের বিরুদ্ধে দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞার নির্দেশনা চাওয়া হয়েছে, তাদের মধ্যে রয়েছেন ড. মুহাম্মদ ইউনূস, ড. আসিফ নজরুল, সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান, আদিলুর রহমান খান, নূরজাহান বেগম, ব্রিগেডিয়ার (অব.) সাখাওয়াত হোসেন, জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী, মোস্তফা সরয়ার ফারুকী এবং সাবেক প্রেস সচিব শফিকুল আলমসহ সংশ্লিষ্টরা। হামের টিকা ব্যবস্থাকে রাষ্ট্রীয় কাঠামো থেকে বেসরকারি খাতে দেওয়ার ‘অশুভ ও অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে’ স্বার্থসংশ্লিষ্টভাবে জড়িত থাকার অভিযোগে এই তদন্ত ও নিষেধাজ্ঞার দাবি জানান ব্যারিস্টার আশরাফুল ইসলাম।

ড. ইউনূসসহ ২৪ জনের দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা চেয়ে হাইকোর্টে রিট

জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের শহীদ আবু সাঈদ হত্যা মামলায় ১০ বছরের কারাদণ্ডপ্রাপ্ত বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয় (বেরোবি) এর সাবেক উপাচার্য (ভিসি) হাসিবুর রশীদকে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২ এ হাজির করা হয়েছে।

 

রোববার (১৭ মে) ট্রাইব্যুনালের বিচারিক প্যানেল তাকে সাজা ভোগের জন্য কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেবেন বলে জানা গেছে। এর আগে মোহাম্মদপুর থানা থেকে তাকে ট্রাইব্যুনালে হাজির করা হয়।

 

গতকাল শনিবার (১৬ মে) সন্ধ্যায় ঢাকার সলিমুল্লাহ রোডের একটি বাসা থেকে তাকে গ্রেফতার করা হয়।

 

এর আগে, গত ৯ এপ্রিল আবু সাঈদ হত্যা মামলায় হাসিবুর রশীদকে ১০ বছরের কারাদণ্ড দেন ট্রাইব্যুনাল। মামলায় তার বিরুদ্ধে আবু সাঈদকে হত্যায় উস্কানি, প্ররোচনা, সহযোগিতা এবং দায়িত্বে অবহেলার অভিযোগ আনা হয়।

 

ট্রাইব্যুনালে বিচার চলাকালে শুরু থেকেই তিনি পলাতক থাকায় তার পক্ষে রাষ্ট্রনিযুক্ত আইনজীবী আইনি লড়াই পরিচালনা করেন।

 

 

আবু সাঈদ হত্যা মামলা বেরোবির সাবেক ভিসি হাসিবুর রশীদকে ট্রাইব্যুনালে হাজির

সাতক্ষীরায় অন্তঃসত্ত্বা স্ত্রীকে জবাই করে পালাল স্বামী, উদ্ধার হলো গলাকাটা মরদেহ

 

 

মো: তুহিন হোসেন সাতক্ষীরা প্রতিনিধি :

 

সাতক্ষীরায় এক অন্তঃসত্ত্বা গৃহবধূর গলাকাটা মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। এ ঘটনার পর থেকে তার স্বামী সাদ্দাম হোসেন পলাতক রয়েছেন।

শনিবার (১৬ মে) রাত সাড়ে ১১টার দিকে সদর উপজেলার ভোমরা ইউনিয়নের লক্ষ্মীদাড়ি গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।

নিহত তাসলিমা খাতুন দেবহাটা উপজেলার উত্তর বহেরা গ্রামের নুরুজ্জামানের মেয়ে। স্থানীয়রা জানান, স্বামী সাদ্দাম হোসেন তার নানার বাড়িতে বসবাস করতেন। তাদের সংসারে এক ছেলে ও এক মেয়ে রয়েছে। এছাড়া তাসলিমা চার মাসের অন্তঃসত্ত্বা ছিলেন।

পরিবার ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, সংসারে অভাব-অনটনের কারণে দাম্পত্য কলহ চলছিল। সম্প্রতি তাসলিমা তার বাবার বাড়ি থেকে একটি ছাগল এনে পালন করছিলেন। পরে সেই ছাগলটি স্ত্রীকে না জানিয়ে বিক্রি করে দিলে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে বিরোধ সৃষ্টি হয়।

ঘটনার রাতে ছেলে ও মেয়েকে পাশের একটি ঘরে আটকে রেখে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে ঝগড়া ও মারামারির একপর্যায়ে তাসলিমার গলাকাটা মরদেহ ঘরের মেঝেতে পড়ে থাকতে দেখা যায়। পরে স্থানীয়রা পুলিশে খবর দিলে রাতেই সদর থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে মরদেহ উদ্ধার করে।

সাতক্ষীরা সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাসুদুর রহমান জানান, মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য সাতক্ষীরা সদর হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে। অভিযুক্ত স্বামীকে আটকে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে। এ ঘটনায় মামলার প্রস্তুতি চলছে।

সাতক্ষীরায় অন্তঃসত্ত্বা স্ত্রীকে জবাই করে পালাল স্বামী, উদ্ধার হলো গলাকাটা মরদেহ

আগামী মাসেই বাড়ছে বিদ্যুতের দাম। নিয়ন্ত্রক সংস্থা এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন বলছে, চলতি সপ্তাহে গণশুনানি শেষ করে মে মাসেই নতুন দাম চূড়ান্ত করবে তারা। সেটি হলে জুন থেকে গ্রাহকদের গুনতে হবে নতুন দাম। জ্বালানি তেল, এলপি গ্যাসের পর বিদ্যুতের দাম বাড়লে তা মরার ওপর খাঁড়ার ঘা হবে বলে মনে করছেন সাধারণ মানুষ। আর অর্থনীতিবিদরা বলছেন, দাম বাড়ানোর নেতিবাচক প্রভাব কেবল জনজীবনে নয়, পড়বে অর্থনীতিতেও। তবে বাধ্য হয়েই দাম বাড়াতে হচ্ছে বলেও মনে করেন তারা।

 

ইরান-ইসরায়েল-যুক্তরাষ্ট্র যুদ্ধের জেরে দেশেও বেড়েছে জ্বালানি তেলের দাম। আর তার প্রভাব পড়েছে গণপরিবহন থেকে নিত্যপণ্য পরিবহনেও। একই কারণে লাফিয়ে লাফিয়ে বেড়েছে বোতলজাত এলপি গ্যাস সিলিন্ডারের দামও।

 

এমন পরিস্থিতিতে টানাপড়েনে রয়েছেন নিম্নবিত্ত, খেটে খাওয়া ও নির্দিষ্ট আয়ের মানুষজন। এরই মধ্যে চলছে বিদ্যুতের দাম বাড়ানোর তোড়জোড়। এক লাফে ২৯ শতাংশ পর্যন্ত দাম বাড়ানোর প্রস্তাব সরকারি কোম্পানিগুলোর। সেই প্রস্তাব যাচাই-বাছাই করে আসছে বুধবার ও বৃহস্পতিবার গণশুনানি করতে যাচ্ছে এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন।

 

এনার্জি রেগুলেটরি কমিশনের চেয়ারম্যান জালাল আহমেদ বলেন, বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড (বিপিডিবি) এবং বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের (পিডিবি) অধীনস্থ সঞ্চালন কোম্পানি ও বিতরণ কোম্পানি প্রস্তাব পাঠিয়েছে। পাইকারি, খুচরা এবং সঞ্চালন ব্যয় বৃদ্ধির জন্য। গণশুনানির পর মতামতের ভিত্তিতে আমরা দ্রুতই এর মূল্য নির্ধারণ করবো।

 

বিদ্যুতের দাম বাড়ানোর এমন আভাসে চিন্তায় সাধারণ মানুষ। তারা জানান, বিদ্যুৎ সরবরাহ স্বাভাবিক না থাকতেই বিল বাড়ানোর সিদ্ধান্ত তাদের জন্য নতুন চাপ তৈরি করবে। আয় না বাড়লেও নিত্যপণ্যের দাম বাড়ছে বলে অভিযোগ তাদের। এমন পরিস্থিতিতে বিদ্যুতের দাম বাড়ানো হলে সংসার চালানো আরও কঠিন হয়ে পড়বে বলেও উদ্বেগ প্রকাশ করেন তারা।

 

এদিকে, সরকার বলছে, গত অর্থবছরে বিদ্যুতে ২ হাজার ৬৩৮ কোটি টাকা লোকসান দিতে হয়েছে। দাম না বাড়ালে ২০২৬ সালে এই ঘাটতি দাঁড়াবে ৩ হাজার ৮০০ কোটি টাকারও বেশি। তবে দাম বাড়লে এর নেতিবাচক প্রভাব অপরিহার্য।

 

সিপিডি অতিরিক্ত পরিচালক (গবেষণা) তৌফিকুল ইসলাম খান বলেন, জনগণের জন্য এটা নিঃসন্দেহে চাপের হবে। এটা শুধুমাত্র বিদ্যুতের দাম বা বিল কতটা বাড়বে, সেই বিষয় নয়। সার্বিকভাবেই অর্থনীতিতে দ্রব্যমূল্য বাড়ার একটি প্রবণতা দেখা যেতে পারে। সরকারের পক্ষে ভর্তুকি পুরোপুরি দেওয়া হয়তো সম্ভব হবে না। সুতরাং তারা কতটা সমন্বয় করতে পারবেন, সে বিষয়ে একটি পরিষ্কার ও স্বচ্ছ ধারণা থাকা দরকার।

 

দেশের প্রায় ৫ কোটি গ্রাহকের মধ্যে যারা ৭৫ ইউনিট পর্যন্ত ব্যবহার করবেন, তাদের লাইফলাইন অর্থাৎ কম দামের সুবিধা দেওয়ার প্রস্তাব সরকারের। আগে এটি ৫০ ইউনিট থাকলেও ২০০ ইউনিট পর্যন্ত গ্রাহকরা কম দামের সুবিধা পেতেন। এবার সেই সুবিধা তুলে দেওয়ার কথা বলা হয়েছে। এটি বাস্তবায়িত হলে নিম্নবিত্ত ও নিম্ন-মধ্যবিত্তকেও গুনতে হবে উচ্চ হারের বিল।

 

জুনেই বাড়ছে বিদ্যুতের দাম, চলতি সপ্তাহে গণশুনানি

আজ দেশে ফিরছে কারিনা কায়সারের মরদেহ, সন্ধ্যায় জানাজা

কনটেন্ট ক্রিয়েটর ও অভিনেত্রী কারিনা কায়সার

হাসিখুশি ও প্রাণবন্ত ব্যক্তিত্বের জন্য পরিচিত কনটেন্ট ক্রিয়েটর ও অভিনেত্রী কারিনা কায়সার আর নেই। লিভার–সংক্রান্ত জটিলতায় ভারতের চেন্নাইয়ে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান। উন্নত চিকিৎসার জন্য এয়ার অ্যাম্বুলেন্সে তাঁকে নেওয়া হলেও শেষ পর্যন্ত তাঁকে বাঁচানো সম্ভব হয়নি।

 

পরিবার সূত্রে জানা গেছে, প্রথমে জ্বরে আক্রান্ত হওয়ার পর তাঁর শরীরে সংক্রমণ ধরা পড়ে। পরে হেপাটাইটিস এ ও ই–জনিত জটিলতায় লিভার ফেইলিউর দেখা দিলে তাঁকে আইসিইউতে নেওয়া হয় এবং পরে লাইফ সাপোর্টে রাখা হয়। অবস্থার অবনতি হলে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাঁকে ভারতের চেন্নাইয়ের ভেলোরের খ্রিস্টান মেডিকেল কলেজ (সিএমসি) হাসপাতালে নেওয়া হয়।

 

কারিনার মরদেহ রোববার বিকেলে এয়ার অ্যাম্বুলেন্সে দেশে আনা হবে বলে জানিয়েছেন তাঁর বাবা, সাবেক জাতীয় ফুটবলার কায়সার হামিদ। বিমানটি বিকেল সাড়ে চারটা থেকে পাঁচটার মধ্যে ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছানোর কথা রয়েছে।

 

বিমানবন্দর থেকে মরদেহ নিয়ে যাওয়া হবে বনানী ডিওএইচএসে। সেখানে কেন্দ্রীয় মসজিদে বাদ মাগরিব প্রথম জানাজা অনুষ্ঠিত হবে। এরপর এশার আগে বনানী দরবার শরিফ মসজিদে দ্বিতীয় জানাজা এবং সোমবার বাদ জোহর তৃতীয় জানাজা শেষে মুন্সিগঞ্জের গজারিয়া উপজেলার আবদুল্লাহপুর গ্রামে দাফন করা হবে। পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, তাঁর মায়ের দেওয়া মসজিদের পাশেই তাঁকে সমাহিত করা হবে।

 

এদিকে সোমবার সকালে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে জানাজার আয়োজনের অনুরোধ জানিয়েছেন ছাত্র ও জুলাই যোদ্ধারা। তবে এ বিষয়ে এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি বলে জানিয়েছে পরিবার।

 

১৯৯৪ সালের ১১ নভেম্বর জন্মগ্রহণ করা কারিনা কায়সারের বয়স হয়েছিল ৩৩ বছর। কনটেন্ট ক্রিয়েটর হিসেবে পরিচিতি পেলেও তিনি অভিনয় ও চিত্রনাট্য লেখার কাজেও যুক্ত ছিলেন। তাঁর উল্লেখযোগ্য কাজের মধ্যে রয়েছে ‘ইন্টার্নশিপ’ ও ‘৩৬-২৪-৩৬’।

 

কারিনার মৃত্যুর খবরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। সহকর্মী, নির্মাতা, অভিনয়শিল্পী ও ভক্তরা তাঁর প্রাণবন্ত ব্যক্তিত্ব ও কাজের প্রতি শ্রদ্ধা জানাচ্ছেন।

আজ দেশে ফিরছে কারিনা কায়সারের মরদেহ, সন্ধ্যায় জানাজা

চব্বিশের জুলাই গণঅভ্যুত্থানে মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের এবং যুবলীগ-ছাত্রলীগের শীর্ষ সাত নেতার বিরুদ্ধে আজ রোববার (১৭ মে) যুক্তিতর্ক শুরু হবে।

 

এদিন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২ এর চেয়ারম্যান বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন বিচারিক প্যানেলে প্রথমে যুক্তিতর্ক উপস্থাপন করবে প্রসিকিউশন। পরে আসামিপক্ষ তাদের বক্তব্য তুলে ধরবে।

 

গত ২৭ এপ্রিল মামলার সাক্ষ্যগ্রহণ পর্ব শেষ হয়। ওইদিন ২৬তম সাক্ষী হিসেবে তদন্ত কর্মকর্তা আহমেদ নাসের উদ্দিন মোহাম্মদকে জেরা করেন সাত আসামির পক্ষে রাষ্ট্রনিযুক্ত আইনজীবী লোকমান হাওলাদার ও ইশরাত জাহান। ১৯ এপ্রিল তার সাক্ষ্যগ্রহণ শুরু হয়েছিল।

 

সাক্ষ্যগ্রহণ শেষ হওয়ার পর যুক্তিতর্ক উপস্থাপনের জন্য আজকের দিন নির্ধারণ করেন ট্রাইব্যুনাল।

 

মামলার অন্য আসামিরা হলেন, আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম, সাবেক তথ্য ও সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রী মোহাম্মদ আলী আরাফাত, যুবলীগ সভাপতি শেখ ফজলে শামস পরশ, যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক মাইনুল হোসেন খান নিখিল, ছাত্রলীগ সভাপতি সাদ্দাম হোসেন এবং সাধারণ সম্পাদক ওয়ালি আসিফ ইনান।

আ.লীগ-যুবলীগ-ছাত্রলীগের শীর্ষ ৭ নেতার বিচারে যুক্তিতর্ক শুরু আজ

র‌্যাবের চৌকস অভিযানে জীপসহ প্রায় ১১ হাজার ইয়াবার চালান আটক

জামালপুর হামলা পাল্টা হামলার মধ্য দিয়ে জেলার সানন্দবাড়ী তে থমথমে অবস্থা বিরাজমান।

error: আপনি নিউজ চুরি করার চেষ্টা করছেন। বিশেষ প্রয়োজনে যোগাযোগ করুন ০১৭৬৭৪৪৪৩৩৩
%d