
রেকর্ডের রাত, জোড়া গোল, সমালোচনার জবাব, আর শেষে সেই চিরচেনা প্রশ্ন। এবারের বিশ্বকাপে কি দেখা হবে ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো ও লিওনেল মেসির? হিউস্টনে উজবেকিস্তানের বিপক্ষে পর্তুগালের ৫-০ গোলের জয়ের পর প্রশ্নটা এসেছিল রোনালদোর সামনে। পর্তুগিজ তারকার জবাব ছিল সংযত, কিছুটা বিরক্তিরও।
মেসির প্রসঙ্গ উঠতেই সরাসরি উত্তরে যাননি রোনালদো। স্প্যানিশ সংবাদমাধ্যম কাদেনা সের জানিয়েছে, প্রশ্ন শুনে অন্য সাংবাদিকের দিকে তাকিয়ে তিনি বলেন, ‘চালিয়ে যান।’ প্রশ্ন শেষ হওয়ার আগেই রোনালদো আরও বলেন, ‘আমি জানি না এর উত্তর কিভাবে দিব তবে এটি দারুণ হবে (মেসির সাথে দেখা হওয়া) ’ এরপর আলোচনার বিষয় বদলে যায়।
এই প্রতিক্রিয়াই বলে দেয়, মেসির সঙ্গে তুলনা বা সম্ভাব্য মুখোমুখি লড়াই নিয়ে দীর্ঘ আলোচনা করতে চাননি রোনালদো। তার কাছে রাতটির বড় বিষয় ছিল পর্তুগালের জয়, নিজের গোল এবং প্রথম ম্যাচের পর তৈরি হওয়া চাপ কাটিয়ে ওঠা।
প্রথম ম্যাচের পর পর্তুগাল ও রোনালদোকে ঘিরে সমালোচনা কম হয়নি। ডিআর কঙ্গোর বিপক্ষে ১-১ ড্রয়ে পর্তুগাল বলের দখল রাখলেও আক্রমণে ধার দেখাতে পারেনি। রোনালদোও ছিলেন অনেকটাই নিষ্প্রভ। বড় টুর্নামেন্টে তার গোলখরা ১০ ম্যাচে পৌঁছেছিল। ৪১ বছর বয়সী অধিনায়ককে নিয়ে প্রশ্ন উঠেছিল নতুন করে।
কিন্তু হিউস্টনে ছবিটা বদলে যায় দ্রুত। ম্যাচের ৬ মিনিটেই জোয়াও কানসেলোর নিচু ক্রস থেকে কাছের পোস্টে গোল করেন রোনালদো। এই গোলেই তিনি হয়ে যান ছয়টি বিশ্বকাপে গোল করা প্রথম ফুটবলার। ২০০৬ থেকে ২০২৬, দুই দশকের বেশি সময় ধরে বিশ্বকাপ মঞ্চে গোলের ধারাবাহিকতা ধরে রাখলেন তিনি।
৩৯ মিনিটে আসে দ্বিতীয় গোল। ব্রুনো ফার্নান্দেসের নিখুঁত পাস ধরে বক্সে ঢুকে নিচু শটে বল জালে পাঠান রোনালদো। এই গোলের পর বিশ্বকাপে তাঁর গোলসংখ্যা দাঁড়ায় ১০। এতে তিনি পর্তুগালের কিংবদন্তি ইউসেবিওকে ছাড়িয়ে বিশ্বকাপে পর্তুগালের সর্বোচ্চ গোলদাতা হন।
Leave a Reply