পঞ্চম ব্রাজিলিয়ান হিসেবে গ্রুপ পর্বের ৩ ম্যাচেই ভিনির গোল, আগের চারজনই জিতেছেন বিশ্বকাপ - Gono television | বাংলাদেশ সরকার অনুমোদিত বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেল।
পঞ্চম ব্রাজিলিয়ান হিসেবে গ্রুপ পর্বের ৩ ম্যাচেই ভিনির গোল, আগের চারজনই জিতেছেন বিশ্বকাপ

পঞ্চম ব্রাজিলিয়ান হিসেবে গ্রুপ পর্বের ৩ ম্যাচেই ভিনির গোল, আগের চারজনই জিতেছেন বিশ্বকাপ

২০২৬ বিশ্বকাপে স্কটল্যান্ডের বিপক্ষে ২ গোল করেছেন ব্রাজিলের তারকা খেলোয়াড় ভিনিসিউস জুনিয়র। এ নিয়ে এবারের আসরের গ্রুপ পর্বের তিন ম্যাচে চার গোল করলেন তিনি। আর বিশ্বকাপ ইতিহাসে পঞ্চম ব্রাজিলিয়ান হিসেবে গ্রুপ পর্বের তিন ম্যাচেই গোলের দেখা পেলেন এই সেলাসাও তারকা।

 

বৃহস্পতিবার (২৫ জুন) যুক্তরাষ্ট্রের মিয়ামির হার্ড রক স্টেডিয়ামে স্কটল্যান্ডের মুখোমুখি হয় পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা।

 

ম্যাচের সপ্তম মিনিটেই এগিয়ে যায় ব্রাজিল। স্কটল্যান্ডের রক্ষণভাগের ভুলের সুযোগ নিয়ে রায়ানের পাস থেকে সহজেই গোল করেন ভিনিসিউস। প্রথমার্ধের যোগ করা সময়ে আবারও গোল করেন তিনি। ব্রুনো গিমারেইসের ক্রস থেকে হেডে বল জালে জড়িয়ে নিজের এবং দলের দ্বিতীয় গোলটি করেন তিনি।

 

এর আগে, গ্রুপের প্রথম ম্যাচে মরক্কোর বিপক্ষে ১ গোল এবং পরের ম্যাচে হাইতির বিপক্ষেও ১টি গোল করেন এই সেলাসাও তারকা।

 

ব্রাজিলের হয়ে ১৯৭০ বিশ্বকাপের গ্রুপ পর্বের ৩ ম্যাচে গোল করেছিলেন জর্জিনহো। ১৯৯৪ বিশ্বকাপে করেছিলেন রোমারিও। আর রোনালদো ও রিভালদো ২০০২ সালের কোরিয়া-জাপান বিশ্বকাপে করেছিলেন এই রেকর্ড।

 

উল্লেখ্য, ভিনিসিউসের আগে যতবারই এই রেকর্ড হয়েছে, সব বারই বিশ্বকাপ জিতেছে ব্রাজিল।


ফুটবল বিশ্বে সবচেয়ে আলোচিত দুই দেশ হলো ব্রাজিল ও আর্জেন্টিনা। এই দুই দেশের ম্যাচ দেখতে মুখিয়ে থাকে ফুটবল ভক্তরা। আর সেটা যদি বিশ্বকাপের মতো মঞ্চে হয়, তাহলেও কথায় নেই। সবশেষ ১৯৯০ সালে বিশ্বকাপে আর্জেন্টিনার বিপক্ষে খেলেছিল ব্রাজিল।

 

এরপর কেটে গেছে প্রায় ৩ যুগ, কিন্তু দেখা হয়নি ব্রাজিল-আর্জেন্টিনার। তবে ভক্তদের সেই অপেক্ষা শেষ হতে পারে এই বিশ্বকাপে। সমীকরণ মিলে গেলে চলমান বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে মুখোমুখি হতে পারে ব্রাজিল-আর্জেন্টিনা।

 

গ্রুপ পর্বে টানা দুই ম্যাচ জিতে ‘জে’ গ্রুগের চ্যাম্পিয়ন হয়েছে আর্জেন্টিনা। শেষ ম্যাচে তারা মাঠে নামবে জর্ডানের বিপক্ষে, সবঠিক থাকলে শেষ ম্যাচেও জয় নিশ্চিত হতে যাচ্ছে আলবিসেলেস্তাদের। দ্বিতীয় রাউন্ডে তারা খেলবে ‘এইচ’ গ্রুপের রানার্স আপদের বিপক্ষে। যেখানে এগিয়ে রয়েছে লাতিন আমেরিকার আরেক দেশ উরুগুয়ে।

 

অন্যদিকে বিশ্বকাপের শুরুটা ভালো করতে না পারলেও হাইতিকে ও স্কটল্যান্ডকে হারিয়ে গ্রুপ সেরা ব্রাজিল। পরের রাউন্ডে ব্রাজিলের প্রতিপক্ষ হতে পারে জাপান।

 

ফলে ব্রাজিল-আর্জেন্টিনা এই অবস্থানের থেকে যদি দ্বিতীয়, তৃতীয় ও কোয়ার্টার ফাইনালের বাঁধা পেরোতে পারে তাহলে সেমিফাইনালে মুখোমুখি হবে দুই দল।

 

বিশ্বকাপে (মূল পর্ব) আর্জেন্টিনা ও ব্রাজিল সবশেষ ১৯৯০ সালের ২৪ জুন মুখোমুখি হয়েছিল। ইতালির তুরিনে অনুষ্ঠিত ১৯৯০ বিশ্বকাপের সেই হাইভোল্টেজ ‘রাউন্ড অব সিক্সটিন’ (দ্বিতীয় রাউন্ড) ম্যাচে ব্রাজিলকে ১-০ গোলে পরাজিত করেছিল আর্জেন্টিনা।

 

ম্যাচের ৮১তম মিনিটে ডিয়েগো ম্যারাডোনার দুর্দান্ত এক অ্যাসিস্ট থেকে আর্জেন্টিনার পক্ষে জয়সূচক একমাত্র গোলটি করেছিলেন ফরোয়ার্ড ক্লদিও ক্যানিজিয়া। বিশ্বকাপে নকআউট পর্বে এটিই দুই দলের একমাত্র লড়াই।

 

ফলে সেমিফাইনালে দেখালে আর্জেন্টিনাকে হারিয়ে ফাইনালে যেতে চাইবে সেলেসাওরা। অন্যদিকে নিজেদের চতুর্থ শিরোপা জিততেও মরিয়া মেসির দল।

৩৬ বছর পর বিশ্বকাপে মুখোমুখি হতে যাচ্ছে ব্রাজিল-আর্জেন্টিনা!

নিজেদের সর্বকালের সর্বোচ্চ গোলদাতা নেইমার জুনিয়রকে পেতে ৯৮১ দিন অপেক্ষা করতে হয়েছে ব্রাজিলকে। চোটজর্জর এই তারকার প্রত্যাবর্তনের ম্যাচটি অবশ্য তিনি মাঠে নামার আগেই রাঙিয়ে দিয়েছেন ভিনিসিয়ুস জুনিয়র ও ম্যাথিউস কুনহা। যাতে ভর করে স্কটল্যান্ডকে ৩-০ ব্যবধানে উড়িয়ে দিয়ে নকআউট রাউন্ডে উঠল ব্রাজিল। বিশ্বকাপের ইতিহাসে সর্বোচ্চ ১৬ বার গ্রুপ পর্বে চ্যাম্পিয়নের রেকর্ড গড়ে ব্রাজিল।

 

মায়ামির হার্ড রক স্টেডিয়ামে প্রথমার্ধেই দ্বিগুণ ব্যবধানে পিছিয়ে ছিল স্কটল্যান্ড। বিরতির পর তারা ম্যাচে ফিরতে মরিয়া হয়ে আক্রমণ চালায়। তবে কিছুতেই গোলের দেখা পাচ্ছিল না স্কটিশরা। গোললাইন থেকে একাধিক বল ফেরত পাঠিয়ে তাদের হতাশ করেছেন অ্যালিসন বেকার। এরই মাঝে ৬০ উল্টো তাদের আবারও পিছিয়ে দিলেন কুনহা। ম্যাচে ব্রুনো গুইমারেসের দ্বিতীয় অ্যাসিস্টে তিনি আসরের তৃতীয় গোলটি করলেন।

 

যথারীতি গোলের পর সার্ফারদের মতো উত্তাল ঢেউয়ে ভারসাম্য রক্ষার সেই উদযাপন কলেন কুনহা। সেই নাচে যোগ দিলেন লুকাস পাকেতা, আর গ্যালারিতে মাতোয়ারা পুরো হলুদ শিবির। অনেকদিন ধরে নম্বর নাইন খুঁজে ফেরা ব্রাজিল যেন উপযুক্ত ব্যক্তিকে পেয়ে গেল এবারের বিশ্বকাপে। আগের ম্যাচে কুনহা হাইতির বিপক্ষে জোড়া গোল করেছিলেন।

 

এর আগে ম্যাচের মাত্র সাত মিনিটেই ব্রাজিলকে এগিয়ে দিয়েছিলেন ভিনিসিয়ুস জুনিয়র। স্কটল্যান্ড সেন্টার-ব্যাক স্কট ম্যাককেনার দুর্বলতায় ‍সুযোগটা বলতে গেলে উপহার হিসেবেই তিনি পেয়েছিলেন। স্কটিশ গোলরক্ষক অ্যাঙ্গাস গুনকে কাটিয়ে যা ঠাণ্ডা মাথায় তিনি জালে জড়ান। এরপর প্রথমার্ধের যোগ করা সময়ে দারুণ এক হেডে ব্যবধান দ্বিগুণ করেন ভিনিসিয়ুস। তার উদ্দেশে ক্রস বাড়িয়ে ছিলেন গুইমারেস। লাফিয়ে সেটিকে জালে পৌঁছে চলতি বিশ্বকাপে নিজের চতুর্থ গোল পেলেন ভিনি। এরপর নাচলেন কর্নার ফ্ল্যাগ ধরে।

 

আরও বেশ কয়েকটি সুযোগ নষ্ট না করলে ব্রাজিলের জয়ের ব্যবধানটা বাড়তে পারত। তবে ২০২৩ সালের ১৭ অক্টোবরের পর নেইমারের প্রত্যাবর্তন এবং ‘সি’ গ্রুপের চ্যাম্পিয়ন হয়ে নকআউটে ওঠায় সেই আক্ষেপ আর থাকার কথা নয় সেলেসাওদের। এ ছাড়া দ্বিতীয়ার্ধে ব্রাজিলের রক্ষণে একের পর হানা দেওয়া স্কটল্যান্ডকে রুখে দিতে দুর্দান্ত সব সেভ করেছেন ব্রাজিল গোলরক্ষক অ্যালিসন। বিশেষ করে স্কটিশ প্রধান তারকা স্কট ম্যাকটোমিনের একাধিক প্রচেষ্টা ছিল অনবদ্য।

 

ব্রাজিল প্রথমার্ধে পজেশনে পিছিয়ে থাকলেও, দ্বিতীয়ার্ধে তারা বলের বেশিরভাগ নিয়ন্ত্রণ দখলে নিয়েছে। পাশাপাশি গোলের জন্য ২১টি শট নিয়ে ৮টিই লক্ষ্যে ছিল আনচেলত্তির শিষ্যদের। বিপরীতে স্কটল্যান্ড ৯ শটের ৫টি লক্ষ্যে রাখতে পারে। ৩ ম্যাচে ৭ পয়েন্ট নিয়ে ব্রাজিল শীর্ষে এবং স্কটল্যান্ড ৩ পয়েন্ট নিয়ে তিনে থেকে শেষ করল।

নেইমারের ফেরার ম্যাচেই গ্রুপসেরা হয়ে নকআউটে ব্রাজিল

ব্রাজিল ও স্কটল্যান্ড মুখোমুখি হওয়ার আগে পরিসংখ্যানই ইঙ্গিত দিচ্ছে সেলেসাওদের এগিয়ে থাকার গল্প। বিশ্বকাপে গ্রুপ পর্বের শেষ ম্যাচে স্কটল্যান্ডের বিপক্ষে মাঠে নামবে পাঁচবারের চ্যাম্পিয়ন ব্রাজিল। যেখানে ড্র করলেই দ্বিতীয় রাউন্ড নিশ্চিত হবে দক্ষিণ আমেরিকার এই পরাশক্তির।

 

গ্রুপে দুই ম্যাচে ৪ পয়েন্ট নিয়ে ইতোমধ্যে ভালো অবস্থানে রয়েছে ব্রাজিল। গ্রুপ সেরা হওয়ার লক্ষ্যেই এবার স্কটল্যান্ডের বিপক্ষে নামছে তারা। এই গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচের আগে দলে স্বস্তির খবর হয়ে এসেছে নেইমারের প্রত্যাবর্তন। যা আক্রমণভাগকে আরও শক্তিশালী করবে বলে আশা করা হচ্ছে।

 

পরিসংখ্যান বলছে, বিশ্বকাপে যুক্তরাজ্যের দলগুলোর বিপক্ষে ব্রাজিলের সাফল্যের হার ৮৬.৭ শতাংশ, আর ইউরোপীয় দলগুলোর বিপক্ষে এই হার ৬৫.৪ শতাংশ। বিশ্বকাপে গ্রেট ব্রিটেনের দলগুলোর বিপক্ষে এখন পর্যন্ত ১০ ম্যাচে অপরাজিত ব্রাজিল ৮ জয় ও ২ ড্র।

 

বিশেষ করে স্কটল্যান্ডের বিপক্ষে ইতিহাসও ব্রাজিলের পক্ষেই কথা বলছে। দুই দল বিশ্বকাপে চারবার মুখোমুখি হয়েছে, যেখানে ব্রাজিলের ৩ জয় ও ১ ড্র রয়েছে। ১৯৭৪ সালে গোলশূন্য ড্র দিয়ে শুরু হলেও এরপর ১৯৮২ সালে ৪-১, ১৯৯০ সালে ১-০ এবং ১৯৯৮ সালে ২-১ ব্যবধানে জয় পায় সেলেসাওরা।

 

ইংল্যান্ডের বিপক্ষেও একই ধরনের দাপট দেখিয়েছে ব্রাজিল ৩ জয় ও ১ ড্র। পাশাপাশি ওয়েলসকে ১৯৫৮ সালে ১-০ এবং উত্তর আয়ারল্যান্ডকে ১৯৮৬ সালে ৩-০ গোলে হারিয়েছে তারা। সর্বশেষ যুক্তরাজ্যের কোনো দলের বিপক্ষে বিশ্বকাপ ম্যাচ ছিল ২০০২ সালে, যেখানে কোয়ার্টার ফাইনালে ইংল্যান্ডকে ২-১ গোলে হারিয়ে শিরোপা অভিযানে এগিয়ে যায় ব্রাজিল।

 

তবে একটি অদ্ভুত কাকতালীয় তথ্যও রয়েছে স্কটল্যান্ডকে হারিয়ে কোনোবারই বিশ্বকাপ জিততে পারেনি ব্রাজিল। তাই পরিসংখ্যানের দাপট থাকলেও ইতিহাসের এই ব্যতিক্রমী ছায়া ম্যাচটিকে কিছুটা ভিন্ন মাত্রা দিচ্ছে।

স্কটল্যান্ডকে হারালে আরেক বিপদ ব্রাজিলের

যুক্তরাষ্ট্রের মাটিতে ফুটবল বিশ্বকাপের মহোৎসব চলছে, আর সেখানে ডোনাল্ড ট্রাম্প দেশের প্রেসিডেন্ট থাকা অবস্থায় ফাইনালের মঞ্চে উপস্থিত থাকবেন না—এমনটা তো ভাবাই যায় না। শেষ পর্যন্ত সেই ধারণাই সত্যি হতে যাচ্ছে। আগামী রোববার (১৯ জুলাই) নিউইয়র্ক-নিউজার্সি স্টেডিয়ামে ২০২৬ বিশ্বকাপের মেগা ফাইনাল শেষে নতুন বিশ্বচ্যাম্পিয়নদের হাতে সোনালী ট্রফিটি তুলে দেবেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।

 

বুধবার (২৪ জুন) এক জমকালো সংবাদ সম্মেলনে এই হাইভোল্টেজ খবরটি অফিশিয়ালি নিশ্চিত করেছেন ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনো।

 

গত বছর যুক্তরাষ্ট্রে অনুষ্ঠিত ফিফা ক্লাব বিশ্বকাপের ফাইনালেও গ্যালারিতে সশরীরে উপস্থিত থেকে ফুটবলারদের উৎসাহিত করেছিলেন তিনি। যদিও চলতি ২০২৬ বিশ্বকাপের কোনো ম্যাচে এখন পর্যন্ত ভিআইপি বক্সে মার্কিন প্রেসিডেন্টকে দেখা যায়নি, তবে ফাইনালের মেগা মঞ্চটি তিনি কোনোভাবেই হাতছাড়া করছেন না।

 

ফুটবল বিশ্বকাপের ফাইনালে ট্রাম্পের ট্রফি তুলে দেওয়ার এই বিষয়টি বৈশ্বিক গণমাধ্যমে বড় ‘খবর’ হওয়ার পেছনে রয়েছে এক দীর্ঘ রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক ডেডলক। কারণ, গত দুটি আসরে আয়োজক দেশের সরকার বা রাষ্ট্রপ্রধানদের ফাইনালের মঞ্চে ট্রফি হাতে দেখা যায়নি।

 

২০১৮ রাশিয়া বিশ্বকাপে পুতিন এবং ২০২২ কাতার বিশ্বকাপে শেখ তামিম বিন হামাদ আল থানি ফাইনাল ম্যাচ উপভোগ করলেও পুরস্কার বিতরণী মঞ্চে যাননি। ফলে দীর্ঘ ৮ বছর পর কোনো বিশ্বমঞ্চের ফাইনালে ট্রফি দেওয়ার প্রথা ভাঙতে যাচ্ছেন ট্রাম্প।

বিশ্বকাপ ফাইনালে বিশ্বচ্যাম্পিয়নদের হাতে ট্রফি তুলে দেবেন ট্রাম্প

দীর্ঘদিন ধরে ফিফা বিশ্বকাপের সর্বোচ্চ গোলদাতার রেকর্ড ছিল ব্রাজিলের কিংবদন্তি রোনালদো নাজারিওর দখলে। পরে সেই রেকর্ড নিজের করে নেন জার্মানির মিরোস্লাভ ক্লোসা। আর এক যুগ পর ইতিহাসের নতুন শীর্ষে উঠে এসেছেন আর্জেন্টিনার অধিনায়ক লিওনেল মেসি। রোনালদোর মতে, এই রেকর্ডের প্রকৃত দাবিদারও মেসিই।

 

বিশ্বকাপের নিজেদের সর্বশেষ ম্যাচে অস্ট্রিয়াকে ২-০ গোলে হারিয়েছে আর্জেন্টিনা। দলের জয়ের দুই গোলই করেন মেসি। এই জোড়া গোলের সুবাদে ক্লোসাকে ছাড়িয়ে বিশ্বকাপ ইতিহাসের সর্বোচ্চ গোলদাতার আসনে বসেছেন তিনি।

 

এখন পর্যন্ত বিশ্বকাপে ২৮ ম্যাচে মেসির গোলসংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১৮। এর আগে ২০০২ থেকে ২০১৪ পর্যন্ত চারটি বিশ্বকাপ খেলে ১৬ গোল নিয়ে শীর্ষে ছিলেন ক্লোসা। তিনি ২০০৬ সালে রোনালদোর ১৫ গোলের রেকর্ড ভেঙে নতুন মানদণ্ড গড়েছিলেন।

 

চলতি আসরের প্রথম ম্যাচে আলজেরিয়ার বিপক্ষে হ্যাটট্রিক করে ১৬ গোলের মাইলফলকে পৌঁছে ক্লোসার পাশে নাম লেখান মেসি। এরপর অস্ট্রিয়ার বিপক্ষে আরও দুটি গোল করে এককভাবে শীর্ষস্থান দখল করেন আর্জেন্টাইন মহাতারকা।

 

এই কীর্তির পর মেসিকে অভিনন্দন জানিয়েছেন ক্লোসা। জার্মান কিংবদন্তি তাকে সর্বকালের সেরা ফুটবলার হিসেবেও অভিহিত করেছেন। একই সুরে কথা বলেছেন রোনালদো। ফরাসি সংবাদমাধ্যম লে’কিপকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ব্রাজিলিয়ান কিংবদন্তি বলেন, বিশ্বকাপের সর্বোচ্চ গোলদাতার রেকর্ড মেসির কাছেই সবচেয়ে বেশি মানানসই।

 

রোনালদো বলেন, ‘ফুটবলের দেবতাদের কাছে এই পরিসংখ্যানই প্রমাণ করে যে সে অন্য সবার চেয়ে এগিয়ে। বিশ্বকাপ ইতিহাসের সর্বোচ্চ গোলদাতার স্বীকৃতি যদি কারও প্রাপ্য হয়, তবে সেটি অবশ্যই মেসির।’

 

অস্ট্রিয়ার বিপক্ষে ম্যাচের দিন মেসির বয়স ছিল ৩৮ বছর ৩৬৩ দিন। এরই মধ্যে ৩৯ বছরে পা দিয়েছেন তিনি। এই বয়সেও দুর্দান্ত ফর্ম ধরে রাখায় মেসির প্রশংসা করতে গিয়ে মজার ছলেই নিজের প্রসঙ্গ টানেন রোনালদো।

 

হাসতে হাসতে তিনি বলেন, ‘তার বয়স ৩৮, হে ঈশ্বর! ৩৮ বছর বয়সে আমি তো চার বছর আগেই অবসর নিয়েছিলাম। তখন আমার ওজন ছিল প্রায় ১২০ কেজি!’

 

বিশ্বকাপ ইতিহাসের সর্বোচ্চ গোলদাতারা

 

১. লিওনেল মেসি — ১৮ গোল (২০০৬-২০২৬)

 

২. কিলিয়ান এমবাপে — ১৬ গোল (২০১৮-২০২৬)

 

৩. মিরোস্লাভ ক্লোসা — ১৬ গোল (২০০২-২০১৪)

 

৪. রোনালদো — ১৫ গোল (১৯৯৪-২০০৬)

 

৫. গার্ড মুলার — ১৪ গোল (১৯৭০-১৯৭৪)

বিশ্বকাপের সর্বোচ্চ গোলদাতার স্বীকৃতি মেসিরই প্রাপ্য: রোনালদো

ব্রাজিল ভক্তদের দীর্ঘ আড়াই বছরের বুক ফাটানো অপেক্ষার অবসান ঘটতে যাচ্ছে বিশ্বকাপের মঞ্চেই। দীর্ঘ দিন পর আবারও ব্রাজিলের বিখ্যাত ১০ নম্বর জার্সি গায়ে মাঠ কাঁপাতে প্রস্তুত দলের সবচেয়ে বড় তারকা নেইমার জুনিয়র। গ্রুপপর্বের শেষ ম্যাচে স্কটল্যান্ডের বিপক্ষে নেইমারের দলে থাকার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন কোচ কার্লো আনচেলত্তি।

 

বাংলাদেশ সময় আগামীকাল বৃহস্পতিবার ভোর ৫টায় মিয়ামিতে গ্রুপ পর্বের বাঁচা-মরার লড়াইয়ে স্কটল্যান্ডের মুখোমুখি হবে সেলেসাওরা।

 

ম্যাচপূর্ব সংবাদ সম্মেলনে নেইমারের চোটের আপডেট দিতে গিয়ে বেশ ফুরফুরে মেজাজে দেখা যায় ইতালিয়ান এই মাস্টারমাইন্ডকে। হাসতে হাসতে সাংবাদিকদের তিনি জানান, নেইমার খেলার জন্য সম্পূর্ণ উপযুক্ত এবং চলতি সপ্তাহে দলের বাকিদের সঙ্গে খুব ভালো অনুশীলন করেছেন। নেইমারের মতো কোয়ালিটির একজন খেলোয়াড় দলে ফেরাটা পুরো স্কোয়াডের জন্যই বিশাল স্বস্তির বলে উল্লেখ করেন তিনি।

 

নেইমারকে শুরু থেকেই খেলানো হবে কি না, এমন প্রশ্নের জবাবে স্বভাবসুলভ রসবোধের আশ্রয় নিয়ে আনচেলত্তি বলেন, তিনি নিজে বুড়ো বয়সে ৯০ মিনিট হেঁটে বেড়াতে পারলে নেইমার অনায়াসে ৯০ মিনিট দৌড়ে খেলতে পারবেন। নেইমার একদম ঠিক আছেন জানিয়ে কোচ বলেন, যদি ও মাঠে না-ও নামে, ডাগআউটে ওর উপস্থিতি এবং অভিজ্ঞতা দলের তরুণ খেলোয়াড়দের মানসিকভাবে অনেক এগিয়ে রাখবে।

 

শেষবার ২০২৩ সালের ১৭ অক্টোবর উরুগুয়ের বিপক্ষে বিশ্বকাপ বাছাইপর্বের ম্যাচে ব্রাজিলের জার্সি গায়ে মাঠে নেমেছিলেন নেইমার। মন্টভিডিওর সেই ম্যাচে মারাত্মক চোট পেয়ে স্ট্রেচারে করে মাঠ ছাড়ার পর কেটে গেছে দীর্ঘ ৯৮০ দিন। চোটের কারণে দীর্ঘদিন দলের বাইরে থাকা ৩৪ বছর বয়সী এই ফরোয়ার্ডের এটাই শেষ বিশ্বকাপ। ফলে তার ফেরা নিয়ে পুরো ব্রাজিল ক্যাম্পে এখন উৎসবের আমেজ বিরাজ করছে।

 

প্রথম ম্যাচে মরক্কোর সঙ্গে ড্রয়ের পর দ্বিতীয় ম্যাচে হাইতিকে হারিয়ে নক-আউটের পথ সচল রেখেছে ব্রাজিল। তবে স্কটল্যান্ড ম্যাচে গ্যালারির দর্শকদের বড় দাবি রিয়ালের নতুন সেনসেশন এনড্রিককে খেলানোর। এই নিয়ে আনচেলত্তি মজা করে বলেন, ভক্তরা এনড্রিকের জন্য পাগল হলেও আগামীকাল স্কোয়াডে নেইমারও থাকছেন। এখন ভক্তরা এনড্রিক নাকি নেইমার- কাকে ছেড়ে কার জন্য চিৎকার করবেন, তা নিয়ে হয়তো দ্বিধায় পড়ে যাবেন। তবে দিনশেষে ভক্তরা দুজনকেই সমান ভালোবাসবেন বলে বিশ্বাস এই কোচের।

স্কটল্যান্ড ম্যাচের আগে ব্রাজিল শিবিরে বড় সুখবর

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

নীলফামারীতে জমি বিরোধে হামলার অভিযোগ, আসামিদের গ্রেফতারের দাবিতে সংবাদ সম্মেলন

মাইদুল ইসলাম; (জেলা প্রতিনিধি নীলফামারী)

সদর উপজেলার চাপড়া সুকানপুকুর এলাকায় জমি- জমা সংক্রান্ত বিরোধকে কেন্দ্র করে হামলা,

হয়রানিমূলক মামলা ও অপপ্রচারের অভিযোগ এনে সংবাদ সম্মেলন করেছেন ভুক্তভোগী পরিবারের সদস্যরা। বৃহস্পতিবার

(২৫ জুন) বিকেলে চাপরা শুকানপুকুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় মাঠে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন ভুক্তভোগী পরিবারের সদস্য মুক্তা খাতুন। এছাড়াও নাসরিন বেগম, বড় ভাই আবু তালেব সহ আরো অনেকে বক্তব্য দেন। লিখিত বক্তব্যে মুক্তা খাতুন অভিযোগ করেন, তার শ্বশুর মজিদুল ইসলামের দ্বিতীয় স্ত্রী তহমিনা বেগমের সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে পারিবারিক ও সম্পত্তিগত বিরত চলে আসছে। সম্প্রতি তালাকের পর তহমিনা বেগম তাদের পরিবারের সদস্যদের বিরুদ্ধে আদালতে মামলা দায়ের করেন। তিনি আরও বলেন, গত ১৭ জুন তহমিনা বেগম ও তার সহযোগীরা মজিদুল ইসলামের

ভিটাবাড়িতে প্রবেশ করে হামলা চালান। খেতে মজিদুল ইসলাম ও তার ছেলে ওবায়দুল ইসলাম আহত হন। পরে তাদের নীলফামারী সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হলে গুরুতর আহত ওবায়দুল ইসলামকে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। মুক্তা খাতুন দাবি করেন, এ ঘটনায় তহমিনা বেগম ও রবিউল ইসলামসহ কয়েকজনকে আসামি করে নীলফামারী থানায় মামলা দায়ের করা হয়েছে। তবে এখনো আসামিদের গ্রেফতার না করায় তারা নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছে। সংবাদ সম্মেলনে তিনি অভিযোগ করেন, মামলার প্রধান আসামি রবিউল ইসলাম সম্প্রতি একটি সংবাদ সম্মেলন করে প্রকৃত ঘটনা আড়াল এবং তাদের পরিবারের সামাজিক মর্যাদা ক্ষণ্য করার চেষ্টা করেছেন। ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত অভিযুক্তদের দ্রুত গ্রেফতার এবং ভুক্তভোগী পরিবারের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবী জানান বক্তারা।

নীলফামারীতে জমি বিরোধে হামলার অভিযোগ, আসামিদের গ্রেফতারের দাবিতে সংবাদ সম্মেলন

সাতক্ষীরার জলাশয়ে বিলুপ্তপ্রায় শাপলা ফুল: হারিয়ে যাচ্ছে গ্রামীণ সৌন্দর্য ও জীববৈচিত্র্য

মোঃ তুহিন হোসেন সাতক্ষীরা প্রতিনিধি:

একসময় সাতক্ষীরার সকল উপজেলার বিল, খাল, পুকুর ও জলাশয়গুলোতে শাপলা ফুলের বাহার ছিল চোখে পড়ার মতো। বর্ষা এলেই ফুটে উঠতো সাদা, লাল ও বেগুনি রঙের শাপলা, যা শুধু প্রকৃতির সৌন্দর্য নয়, গ্রামীণ জীবনের এক আবেগময় অংশ হিসেবেই পরিগণিত ছিল। কিন্তু সময়ের সাথে সাথে আশাশুনির সেই অপরূপ দৃশ্য ক্রমেই হারিয়ে যাচ্ছে।

জলবায়ু পরিবর্তন, অপরিকল্পিত আধুনিকায়ন, জলাশয় ভরাট, রাসায়নিক বর্জ্য এবং অতিমাত্রায় কীটনাশক ব্যবহারের ফলে আজ বিলুপ্তির পথে প্রাকৃতিক জলজ উদ্ভিদ শাপলা। স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, একসময় গ্রামের শিশুরা সকাল সকাল শাপলা তুলতে পুকুরে যেত। মায়েরা রান্নার উপকরণ হিসেবে শাপলার ডাটা সংগ্রহ করতেন। শাপলার শিকড় (ঢ্যাঁড়শের মতো অংশ) ছিল গ্রামীণ পুষ্টিকর খাদ্য, যা পেটের নানা রোগের ওষুধ হিসেবেও ব্যবহৃত হতো।

বিশেষ করে প্রতিটি গ্রামে পুকুরঘাট, বিল বা খালের ধারে বসে শাপলা ফোটা দেখার যে অপার আনন্দ ছিল তা আজ শহুরে যান্ত্রিকতার ভিড়ে চাপা পড়ে যাচ্ছে। কলারোয়া, তালা, দেবহাটা, কালিগঞ্জ, শ্যামনগর ও আশাশুনিসহ অনেক এলাকায় এখন আর আগের মতো শাপলা দেখা যায় না। উপজেলা কৃষি ও পরিবেশ সচেতন ব্যক্তিরা বলছেন, শাপলা শুধু একটি ফুল নয় এটি একটি জীববৈচিত্র্যবান এলাকার পরিচায়ক।

এটি জলাশয়ের স্বাস্থ্যবিধান রক্ষা করে এবং ছোট মাছের আশ্রয়স্থল হিসেবেও কাজ করে। ফলে শাপলা বিলুপ্ত হওয়া মানে শুধু ফুল হারানো নয়, একটি জীববৈচিত্র্যগত ভারসাম্যের বিপর্যয়ও। ঝাউডাঙ্গা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক এম এ কাশেম বলেন, শিক্ষার্থী ও তরুণদের প্রকৃতি চেনাতে হলে, গ্রামীণ সৌন্দর্য টিকিয়ে রাখতে হলে স্থানীয় জলজ উদ্ভিদ সংরক্ষণে পদক্ষেপ নিতে হবে। স্থানীয়দের দাবি, সরকারি বা বেসরকারি উদ্যোগে বিল ও খাল পুনরুদ্ধার, রাসায়নিক দূষণ রোধ এবং শাপলা সংরক্ষণে সচেতনতা বৃদ্ধি এখন সময়ের দাবি। পরিবেশবান্ধব সাতক্ষীরা গড়তে হলে প্রকৃতির এই নিঃশব্দ ধ্বংস ঠেকাতে কার্যকর নীতিমালা ও জনগণের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে হবে।

সাতক্ষীরার জলাশয়ে বিলুপ্তপ্রায় শাপলা ফুল: হারিয়ে যাচ্ছে গ্রামীণ সৌন্দর্য ও জীববৈচিত্র্য

লক্ষ্মীপুরের রায়পুরে মা ও বোনসহ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের এক ছাত্রীকে কুপিয়ে হত্যা করা হয়েছে। এছাড়া বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রীর মেঝো বোন কলেজছাত্রী ইকরা আক্তারকেও কুপিয়ে আহত করা হয়েছে। তার অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে জানিয়েছেন চিকিৎসকরা।

 

এদিকে এ ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে এক যুবক গণপিটুনিতে নিহত হয়েছেন।

 

বৃহস্পতিবার (২৫ জুন) সকাল সাড়ে ১০টার দিকে রায়পুর পৌরসভার ৩নং ওয়ার্ডের গোডাউন রোড এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

 

এদিকে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টাকালে উত্তেজিত জনতার ইটপাটকেলে পুলিশে ৬-৭ জন পুলিশ সদস্য আহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। তবে ঘটনার কারণ জানাতে পারেনি কেউ।

 

নিহতরা হলেন- মা শাহিনুর বেগম (৩৮), বড় মেয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রী সায়মা আক্তার (২১) ও ছোট মেয়ে শিফা আক্তার (৯)। নিহত সায়মা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ও আহত ইকরা রায়পুর কাজী ফারুকী কলেজের দ্বাদশ শ্রেণির ছাত্রী ছিলেন। তাদের পিতা কামাল হোসেন ২০১৯ সালে কেরোয়া গ্রামে রাস্তায় পড়ে থাকা তারে বিদ্যুৎস্পর্শে মারা যান।

 

গণপিটুনিতে নিহত অভিযুক্ত যুবক নোয়াখালী জেলার সুবর্ণচরের বাসিন্দা কার্তিক মজুমদারের ছেলে অন্তর মজুমদার। নিহতদের রায়পুর ও সদর হাসপাতাল মর্গে রাখা হয়েছে।

 

এদিকে আহত মেঝো মেয়ে কলেজছাত্রী ইকরা আক্তারকে (১৭) আশংকাজনক অবস্থায় উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।

 

পুলিশ ও স্থানীয়রা জানায়, দীর্ঘ কয়েকবছর ধরে শাহীনুর তার সন্তানদের নিয়ে ঘটনাস্থলে একটি ভাড়া বাসায় থাকেন। তাদের বাড়ি কুমিল্লা জেলায়। তারা দীর্ঘ কয়েক বছর ধরে ঘটনাস্থলে ভাড়া থাকেন। কয়েক বছর আগে তার স্বামী মো. কামাল বিদ্যুৎস্পর্শে মারা যান। এরপর থেকে ৩ মেয়ে ও এক ছেলেকে নিয়ে শাহীনুর ওই বাসায় বসবাস করে আসছিলেন।

 

বৃহস্পতিবার সকালে তিন মেয়েসহ শাহীনুরকে বাসায় ঢুকে কুপিয়ে মারাত্মক আহত করে ওই যুবক। এ সময় ঘটনাস্থলেই মা ও ছোট মেয়ে মারা যান। অপর আহতদের হাসপাতালে নেওয়ার পর বড় মেয়ে সায়মাকে মৃত ঘোষণা করা হয়। এর মধ্যে ইকরা নামের একজনকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় ঢাকায় প্রেরণ করা হয়।

 

এদিকে এ ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগ তুলে ঘাতক যুবককে গণপিটুনি দেয় এলাকাবাসী। গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে সদর হাসপাতালে ভর্তির পর তার মৃত্যু হয় বলে জানান কর্তব্যরত চিকিৎসক।

 

পরে পুলিশ এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। এ সময় উত্তেজিত জনতা তাদের ইটপাটকেল নিক্ষেপ করে। খবর পেয়ে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন পুলিশ সুপার আবু তারেক।

 

রায়পুর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. বাহারুল আলম বলেন, হাসপাতালে ৫ জনকে আহত অবস্থায় আনা হয়েছে। এর মধ্যে দুই মেয়ে ও তাদের মা মারা গেছেন। এছাড়া তার এক মেয়েকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় ঢাকায় পাঠানো হয়েছে। তাদের সবার শরীরের বিভিন্ন অংশে ধারাল অস্ত্রের আঘাত রয়েছে। অভিযুক্ত একজনকে গণপিটুনি দিয়ে আহত করা হয়। তার মাথায় ধারাল অস্ত্রের আঘাত রয়েছে।

 

সহকারী পুলিশ সুপার (রায়পুর সার্কেল) মো. আব্দুর রাশেদ বলেন, তিনজন নিহত হয়েছেন। তাদের লাশ হাসপাতালে রয়েছে। একজনকে ঢাকায় পাঠানো হয়। এছাড়া অভিযুক্ত যুবককে গণপিটুনি দিয়েছে জনতা। তাকে সদর হাসপাতালে চিকিৎসার জন্য পাঠানো হলে তিনি পথে মারা যান। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে গেলে উত্তেজিতরা ইটপাটকেল ছুড়লে ৭ জন সদস্য আহত হয়।

 

পুলিশ সুপার আবু তারেক ৪ জন নিহতের ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, এখনো ঘটনার কারণ জানা যায়নি। তবে তদন্ত চলছে বলে জানান তিনি।

মা-বোনসহ ঢাবি ছাত্রীকে কুপিয়ে হত্যা, গণপিটুনিতে ঘাতকের মৃত্যু

শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহসানুল হক মিলন বলেছেন, যারা বিগত ২০ বছর ধরে গ্রামের শিক্ষা ফাঁকি দিয়ে শহরে এসেছে, তাদের আবারও গ্রামে পাঠানো হবে।

 

‎বৃহস্পতিবার (২৫ জুন) বিকেলে খুলনা বিভাগীয় অডিটরিয়ামে অনুষ্ঠিত এক মতবিনিময় সভায় তিনি এ কথা বলেন।

 

মন্ত্রী বলেন, জুলাই মাস থেকে দেশের সব স্কুলে মিড ডে মিল চালু হবে, সেখানে কোনো অনিয়ম হলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

 

তিনি আরও বলেন, ৬০ হাজার শিক্ষক সংকট নিয়ে দেশের শিক্ষা ব্যবস্থা চলছে। এভাবে শিক্ষার মান উন্নয়ন করা সম্ভব নয়। তাই পর্যায়ক্রমে শিক্ষক নিয়োগ দেওয়া হবে।

 

এহসানুল হক মিলন বলেন, আগে পরীক্ষার্থীরা খাতা চ্যালেঞ্জ করলে শুধুমাত্র নম্বরপত্র যোগ করা হতো। তাই আইন পরিবর্তন করে খাতা চেক করার সুযোগ রাখা হয়েছে বলে জানান তিনি।

গ্রামের শিক্ষা ফাঁকি দিয়ে শহরে আগতদের আবারও গ্রামে পাঠানো হবে

শ্রীপুরে জাতীয় ভিটামিন ‘এ’ প্লাস ক্যাম্পেইন উপলক্ষে অবহিতকরণ সভা অনুষ্ঠিত: লক্ষ্যমাত্রা ২১,৭২৫ শিশু

মুজাহিদ শেখ, শ্রীপুর (মাগুরা):

 

মাগুরার শ্রীপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের উদ্যোগে আগামী ২৮ জুন ২০২৬ তারিখে অনুষ্ঠিতব্য জাতীয় ভিটামিন ‘এ’ প্লাস ক্যাম্পেইন সফল করার লক্ষ্যে এক ওরিয়েন্টেশন ও অবহিতকরণ সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। ২৫ জুন (বৃহস্পতিবার) উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স মিলনায়তনে এই সভার আয়োজন করা হয়।

 

উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মো. আশরাফুজ্জামান লিটনের সভাপতিত্বে সভায় অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন শ্রীপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) অলি মিয়া। এছাড়া সভায় হাসপাতালের অন্যান্য কর্মকর্তা, চিকিৎসক, মাঠকর্মী এবং স্থানীয় সংবাদকর্মীগণ উপস্থিত ছিলেন।

 

সভাপতির বক্তব্যে ডা. মো. আশরাফুজ্জামান লিটন জানান, আগামী ২৮শে জুন শ্রীপুর উপজেলার ৮টি ইউনিয়নের মোট ১৯৩টি কেন্দ্রে একযোগে শিশুদের ভিটামিন ‘এ’ ক্যাপসুল খাওয়ানো হবে। এর মধ্যে ১৯২টি নিয়মিত ইপিআই আ/রি-কেন্দ্র এবং ১টি বিশেষ অতিরিক্ত কেন্দ্র রয়েছে। ক্যাম্পেইনে ৬ মাস থেকে ১১ মাস বয়সী ২,৪৭৫ জন শিশুকে একটি করে নীল রঙের এবং ১২ মাস থেকে ৫৯ মাস বয়সী ১৯,২৫০ জন শিশুকে একটি করে লাল রঙের উচ্চ ক্ষমতাসম্পন্ন ভিটামিন ‘এ’ ক্যাপসুল খাওয়ানোর লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। অর্থাৎ, উপজেলায় সর্বমোট ২১,৭২৫ জন শিশুকে এই ক্যাম্পেইনের আওতায় আনা হবে।

 

স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স সূত্রে জানা গেছে, ১৭৪ বর্গ কিলোমিটার আয়তনের এই উপজেলার মোট ১,৮৪,৭৭৯ জন জনসংখ্যার স্বাস্থ্য সুরক্ষায় এই ক্যাম্পেইনটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এই বিশাল কর্মযজ্ঞ সফলভাবে সম্পন্ন করতে ২৩ জন মাঠকর্মী (এইচ.এ), ২৩ জন এফডব্লিউএ, ১৯ জন সিএইচসিপি এবং ২৪ জন প্রথম সারির তত্ত্বাবধায়ক মাঠপর্যায়ে সার্বক্ষণিক দায়িত্ব পালন করবেন। এছাড়াও কেন্দ্রগুলোতে সার্বিক সহায়তার জন্য মোট ৩৮৬ জন প্রশিক্ষিত স্বেচ্ছাসেবক নিয়োজিত থাকবেন। দুর্গম বা প্রত্যন্ত অঞ্চলের শিশুদের সুবিধার্থে উপজেলার ৮টি ইউনিয়নের নির্ধারিত স্থানে অতিরিক্ত ক্যাপসুলের বিশেষ বুথ প্রস্তুত রাখা হয়েছে।

 

সভায় অতিথি শ্রীপুর থানার অফিসার ইনচার্জ অলি মিয়া বলেন, “শিশুদের অন্ধত্ব প্রতিরোধ ও রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধিতে ভিটামিন ‘এ’ ক্যাপসুল অপরিহার্য। এই জাতীয় কর্মসূচিকে সফল করতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীসহ প্রশাসনের পক্ষ থেকে সব ধরনের সহযোগিতা প্রদান করা হবে।” তিনি প্রতিটি অভিভাবককে তাদের শিশুদের নিকটস্থ কেন্দ্রে নিয়ে এসে ভিটামিন ‘এ’ ক্যাপসুল খাওয়ানোর জন্য বিশেষভাবে আহ্বান জানান।

 

উল্লেখ্য, এই ক্যাম্পেইনের প্রস্তুতি হিসেবে ইতোমধ্যে ২৩ জুন মাইক্রোপ্লান প্রণয়ন এবং ২৫ জুন উপজেলা অ্যাডভোকেসী মিটিং ও সিএস অফিসে চূড়ান্ত প্রতিবেদন প্রেরণ সম্পন্ন হয়েছে। ২১ ও ২২ জুন দুই দিনব্যাপী ওয়ার্ড পর্যায়ের স্বেচ্ছাসেবকদের ওরিয়েন্টেশনও সফলভাবে সম্পন্ন করা হয়েছে।

শ্রীপুরে জাতীয় ভিটামিন ‘এ’ প্লাস ক্যাম্পেইন উপলক্ষে অবহিতকরণ সভা অনুষ্ঠিত: লক্ষ্যমাত্রা ২১,৭২৫ শিশু

লক্ষ্মীপুরের রায়পুরে একই পরিবারের তিনজনকে কুপিয়ে হত্যা করা হয়েছে। হত্যার চেষ্টা করা হয়েছে মেজো বোনকেও। তার অবস্থা আশঙ্কাজনক। বৃহস্পতিবার (২৫ জুন) সকালে রায়পুর পৌরসভার ৩নং ওয়ার্ডের গোডাউন রোড এলাকার ভাড়া বাসায় ঘটনাটি ঘটে।

 

নিহতরা হলেন- সায়মা আক্তার (২১), তার তা শাহিনুর বেগম (৩৮) এবং ছোট বোন শিফা আক্তার (৯)। এ ঘটনায় আহত মেজো মেয়ে কলেজছাত্রী ইকরা আক্তারকে (১৭) আশঙ্কাজনক অবস্থায় ঢাকায় পাঠানো হয়।

 

এদিকে ঘটনার সঙ্গে জড়িত সন্দেহে অজ্ঞাত এক যুবককে পিটুনি দেওয়া হয়েছে। তাকেও উন্নত চিকিৎসার জন্য সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়। ঘটনার সময় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টাকালে উত্তেজিত জনতার ইটপাটকেলে পুলিশে ৬-৭ জন সদস্য আহত হয়েছেন।

 

নিহতদের বাড়ি কুমিল্লা জেলায়। তারা দীর্ঘ কয়েক বছর ধরে ঘটনাস্থলে ভাড়া থাকেন। নিহত সায়মা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ও আহত ইকরা রায়পুর কাজী ফারুকী কলেজের দ্বাদশ শ্রেণির ছাত্রী।

 

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্র জানায়, দীর্ঘ কয়েক বছর ধরে শাহীনুর তার সন্তানদের নিয়ে ঘটনাস্থলে ভাড়া বাসায় থাকেন। কয়েক বছর আগে তার স্বামী মো. কামাল বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে মারা যান। এরপর থেকে ৩ মেয়ে ও এক ছেলেকে নিয়ে শাহীনুর ওই বাসায় বসবাস করে আসছেন। সকালে তিন মেয়েসহ শাহীনুরকে কুপিয়ে হত্যা করা হয়। এ ঘটনায় স্থানীয়রা ঘাতক যুবককে গণপিটুনি দেয়। পরে পুলিশ এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।

 

রায়পুর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা বাহারুল আলম বলেন, হাসপাতালে ৫ জনকে আহত অবস্থায় আনা হয়েছে। এর মধ্যে দুই মেয়ে ও তাদের মা মারা গেছেন। তার এক মেয়েকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় ঢাকায় পাঠানো হয়েছে। তাদের সবার শরীরের বিভিন্ন অংশে ধারাল অস্ত্রের আঘাত রয়েছে। এছাড়া অভিযুক্ত একজনকে গণপিটুনি দিয়ে আহত করা হয়। তার মাথায় ধারাল অস্ত্রের আঘাত রয়েছে।

 

বিষয়টি দ্য ডেইলি ক্যাম্পাসকে নিশ্চিত করেছেন সহকারী পুলিশ সুপার (রায়পুর সার্কেল) মো. আব্দুর রাশেদ। তিনি বলেন বলেন, ৩ জন নিহত হয়েছেন। তাদের মরদেহ হাসপাতালে রয়েছে। একজনকে ঢাকায় পাঠানো হয়। এছাড়া অভিযুক্ত যুবককে গণপিটুনি দিয়েছে জনতা। তাকেও সদর হাসপাতালে চিকিৎসার জন্য পাঠানো হয়েছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে গেলে উত্তেজিতরা ইটপাটকেল ছুড়লে আমাদের ৬-৭ জন সদস্য আহত হয়।

মাসহ দুই মেয়েকে কুপিয়ে হত্যা, আশঙ্কাজনক মেজো মেয়েও

ঝিনাইদহের হরিণাকুন্ডু উপজেলার গোপীনাথপুর গ্রামে যুবক মুকুল মালিক হত্যা মামলায় ৩ আসামিকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। এ ছাড়া দণ্ডাদেশপ্রাপ্ত প্রত্যেককে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা অনাদায়ে আরও এক বছরের বিনাশ্রম কারাদণ্ডের আদেশ দেওয়া হয়েছে।

 

বৃহস্পতিবার (২৫ জুন) ঝিনাইদহের অতিরিক্ত দায়রা জজ ২য় আদালতের বিচারক গৌতম কুমার ঘোষ এ রায় ঘোষণা করেন।

 

দণ্ডপ্রাপ্তরা হলেন, চুয়াডাঙ্গার আলমডাঙ্গা উপজেলার ডাওকি গ্রামের মুকুল মল্লিকের স্ত্রী ফিরোজা খাতুন, হরিণাকুন্ডু উপজেলার গোপীনাথপুর গ্রামের মিঠু মিয়ার ছেলে বিল্লাল হোসেন ও মনোয়ার হোসেনের ছেলে আলমগীর হোসেন (পলাতক)।

 

অপরদিকে, একই মামলার আসামি ফারুক হোসেন ও মাসুদ রানার বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়ায় তাদের খালাস দেওয়া হয়েছে।

 

মামলার বিবরণে জানা যায়, ২০১৭ সালের ৩ আগস্ট রাতে পারিবারিক বিষয় নিয়ে দণ্ডপ্রাপ্ত আসামি ফিরোজা খাতুনের সঙ্গে মুকুল মালিকের বিরোধ হয়। ওই রাতেই মুকুল বাড়ি থেকে বের হয়ে নিখোঁজ হন। পরে ১৩ আগস্ট গোপীনাথপুর গ্রামের বাঘমারা মাঠের একটি ধানক্ষেতের গর্ত থেকে মাটিচাপা অবস্থায় তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়।

 

এ ঘটনায় নিহতের বাবা আব্দুর রশিদ বিশ্বাস বাদী হয়ে হরিণাকুন্ডু থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন। দীর্ঘ তদন্ত ও সাক্ষ্যপ্রমাণ পর্যালোচনা শেষে আদালত ৩ আসামিকে দোষী সাব্যস্ত করে এ দণ্ডাদেশ প্রদান করেন।

 

রায়ে আদালত দণ্ডপ্রাপ্ত আসামিদের পূর্বে ভোগ করা হাজতবাসের সময় দণ্ডের সঙ্গে সমন্বয়ের নির্দেশ দেন। একইসঙ্গে খালাসপ্রাপ্ত আসামিদের জামিননামার দায় থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে।

ঝিনাইদহে মুকুল হত্যা মামলায় ৩ আসামির যাবজ্জীবন কারাদণ্ড

জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) ফেনী জেলা কমিটির যুগ্ম সদস্যসচিব ওমর ফারুককে একটি ফেসবুক পোস্টের জেরে কারণ দর্শানোর নোটিশ (শোকজ) দেওয়া হয়েছে। বুধবার (২৪ জুন) রাতে দলের কেন্দ্রীয় দপ্তর সেলের সদস্য সাদিয়া ফারজানা দিনার স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

 

শোকজ নোটিশে উল্লেখ করা হয়, ফেনী জেলা কমিটির যুগ্ম সদস্যসচিব ওমর ফারুকের বিরুদ্ধে সাংগঠনিক শৃঙ্খলাভঙ্গের গুরুতর অভিযোগ উত্থাপিত হয়েছে। এ অবস্থায় কেন তার বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে না, সে বিষয়ে নোটিশ প্রাপ্তির তারিখ থেকে দুই কার্যদিবসের মধ্যে চট্টগ্রাম বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক এ এস এম. সুজাউদ্দিনের কাছে সশরীরে উপস্থিত হয়ে লিখিত জবাব দিতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

 

তবে নোটিশে তার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগের সুনির্দিষ্ট কোনো বিবরণ উল্লেখ করা হয়নি।

 

এর আগে ওমর ফারুক নিজের ফেসবুক আইডিতে ফেনী জেলা এনসিপির নেতৃত্ব ও সাংগঠনিক কার্যক্রম নিয়ে সমালোচনামূলক একটি পোস্ট করেন। পোস্টে তিনি লেখেন, ‘আমাদের জেলা এনসিপিতে অযোগ্য একজনকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে, যার কোনো সংগঠন চালানোর অভিজ্ঞতা নাই, নাই কোনো মুরোদ, আছে শুধু একটা পদ, যার নাম আহ্বায়ক। দয়া করে কমিটির এসব অযোগ্য, কোরামবাজ লোকজনকে কমিটি থেকে বাদ দিয়ে যোগ্য সংগঠকদের মাধ্যমে কমিটি দেওয়া হোক।’

 

একই পোস্টের মন্তব্যের ঘরে দলের যুগ্ম সদস্যসচিব সালেহ উদ্দিন সিফাতকে উল্লেখ করে তিনি আরও লেখেন, ‘ভাই, দয়া করে আপনি উনাকে নিঃশর্তভাবে আর কোনো সাপোর্ট দিয়েন না। উনি আপনার নাম বিক্রি করেই ফেনী জেলা এনসিপিকে অস্থিতিশীল করে যাচ্ছে। নির্বাচনকালীন আহ্বায়কের একক সিদ্ধান্তে দাগনভূঞা কেন্দ্রিক একজন বিতর্কিত ব্যক্তিকে মনোনয়ন দিয়ে দাগনভূঞায় এনসিপি এখন পর্যন্ত কোণঠাসা। বর্তমানে উনি জেলা এনসিপিকে যা করে রাখছে, এই অবস্থা থেকে উঠে দাঁড়াতেই এক বছরের বেশি সময় লাগবে। আপনাকে বিষয়গুলো নিয়ে ইনবক্স করেছি, এএসএম সুজাউদ্দিন ভাইকেও বলেছি। দুঃখজনকভাবে আপনারা সিন করেও কোনো পদক্ষেপ নেননি। এরপরও সিফাত ভাই ফেনীতে এসে বিষয়গুলোর সমাধান না করে উল্টো তাদের সঙ্গে বসার অর্থ হচ্ছে আমাদের উপেক্ষা করা, ফেনী জেলা এনসিপির কণ্ঠকে তুচ্ছ করে দেখা। আপনাদের এসব পদক্ষেপ-অপদক্ষেপ ফেনী জেলা এনসিপির জন্য অশনিসংকেত।’

 

উল্লেখ্য, গত বছরের ৫ ডিসেম্বর দলের সদস্যসচিব আখতার হোসেন এবং মুখ্য সংগঠক (দক্ষিণাঞ্চল) হাসনাত আবদুল্লাহ স্বাক্ষরিত বিজ্ঞপ্তিতে ফেনী জেলা এনসিপির ৬৭ সদস্যের আহ্বায়ক কমিটি অনুমোদন দেওয়া হয়। ওই কমিটিতে জাহিদুল ইসলাম সৈকতকে আহ্বায়ক এবং শাহ ওয়ালী উল্লাহ মানিককে সদস্যসচিব হিসেবে দায়িত্ব পান।

ফেসবুক পোস্ট ঘিরে এনসিপির নেতাকে শোকজ

মাদক নিয়ন্ত্রণ আইন সংশোধন করে শিগগিরই তা জাতীয় সংসদে পাস করা হবে বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমেদ। একইসঙ্গে মাদক সংক্রান্ত মামলা জট দূর করতে আলাদা ট্রাইব্যুনালও গঠন হবে বলে জানান তিনি।

 

বৃহস্পতিবার (২৫ জুন) সচিবালয়ে এক ব্রিফিংয়ে সাংবাদিকদের তিনি এ তথ্য জানান।

 

 

দেশের প্রায় ৮২ লাখ মানুষ মাদকাসক্ত উল্লেখ করে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ঢাকাসহ তিনটি বিভাগীয় শহরে মাদক নিরাময় কেন্দ্রের সংখ্যা বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। পাশাপাশি বেসরকারি পর্যায়ের মাদক নিরাময় কেন্দ্রগুলোকে বিভিন্নভাবে সহায়তা করে যাচ্ছে সরকার। যাতে করে মাদক নির্মূলে কার্যকর পদক্ষেপ নেয়া সম্ভব হয়।

 

আরও পড়ুন: দেশে স্বর্ণের দামে ফের পতন, ভরিতে কমলো কত?

 

সরকার মাদক নিরাময়ে ৭৩টি প্রতিষ্ঠানকে এবার ১ কোটি ৪০ লাখ টাকা দিয়েছে বলেও জানান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।

 

এসময় সালাহউদ্দিন আহমেদ জানান, আইন সংশোধনের মাধ্যমে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে অস্ত্র প্রদান, থানায় আসামী হস্তান্তরের আগে রাখার জন্য হাজতখানাসহ বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধা বাড়ানোর উদ্যোগ নেয়া হয়েছে।

শিগগিরই মাদক নিয়ন্ত্রণ আইন সংশোধন: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

র‌্যাবের চৌকস অভিযানে জীপসহ প্রায় ১১ হাজার ইয়াবার চালান আটক

জামালপুর হামলা পাল্টা হামলার মধ্য দিয়ে জেলার সানন্দবাড়ী তে থমথমে অবস্থা বিরাজমান।

error: আপনি নিউজ চুরি করার চেষ্টা করছেন। বিশেষ প্রয়োজনে যোগাযোগ করুন ০১৭৬৭৪৪৪৩৩৩
%d