
গ্রুপ পর্ব শেষ করে বিশ্বকাপ এখন নকআউট পর্বে। বাংলাদেশ সময় আজ রাত ১১টায় এ পর্বে মুখোমখি হবে জাপান ও ব্রাজিল। এখান থেকে প্রতিটি ম্যাচই বাঁচা-মরার লড়াই—একটি হার মানেই বিদায়। এমন গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে শক্তিশালী ব্রাজিলের মুখোমুখি হওয়ার আগে আত্মবিশ্বাসী কণ্ঠেই কথা বলেছেন জাপানের প্রধান কোচ হাজিমে মোরিয়াসু।
দুই দলের ইতিহাসে এখন পর্যন্ত ১২টি ম্যাচ অনুষ্ঠিত হয়েছে। এর মধ্যে মাত্র একবার ব্রাজিলকে হারাতে পেরেছে জাপান, আর সেই জয় এসেছে গত বছরের একটি প্রীতি ম্যাচে। বিশ্বকাপে এর আগে দুই দলের একমাত্র দেখা হয়েছিল ২০০৬ সালে, যেখানে ব্রাজিল ৪-১ গোলের জয় পেয়েছিল।
তবে অতীতের পরিসংখ্যান নিয়ে খুব বেশি ভাবতে রাজি নন মোরিয়াসু। ম্যাচপূর্ব সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, “আমরা ব্রাজিলকে যথাযথ সম্মান দিই। কিন্তু গত বছরও কেউ আমাদের জয়ের সম্ভাবনা দেখেনি। তবুও আমরা জিতেছিলাম। এমন সম্ভাবনাই ইতিহাস বদলে দিতে পারে।”
বর্তমান ফিফা র্যাঙ্কিংয়ে ব্রাজিলের অবস্থান পঞ্চম, আর জাপান রয়েছে ১৭তম স্থানে। এই ব্যবধান স্বীকার করলেও নিজেদের সামর্থ্য নিয়ে আত্মবিশ্বাসী জাপান কোচ। তাঁর ভাষায়, “র্যাঙ্কিংয়ে ব্রাজিল এগিয়ে, এটা বাস্তবতা। তবে প্রতিটি নতুন ম্যাচ নতুন সম্ভাবনা তৈরি করে। আমরা বিশ্বাস করি, আমাদের জয়ের সক্ষমতা রয়েছে।”
বিশ্বকাপের নকআউট পর্বে ওঠা জাপানের জন্য নতুন কিছু নয়। তবে দলটির সর্বোচ্চ অর্জন শেষ ষোলো পর্যন্ত পৌঁছানো। এবার সেই সীমা ছাড়িয়ে আরও দূরে যেতে চান মোরিয়াসু। তিনি বলেন, “অনেকে আমাদের আন্ডারডগ বলছেন। কিন্তু আমরা গ্রুপ পর্বের মতোই সাহসী ফুটবল খেলতে চাই। এখন পুরো বিশ্বের নজর আমাদের ওপর।”
বিশ্বকাপ জয়ের স্বপ্নের কথাও জানিয়েছেন জাপান কোচ। যদিও বাস্তবতা মেনে নিয়ে তিনি বলেন, “আমাদের লক্ষ্য বিশ্বকাপ জেতা। এখনো আমরা সেই পর্যায়ে পৌঁছাতে পারিনি, তবে আমরা উন্নতি করছি এবং ভালো ফুটবল খেলছি।”
এবারের আসরে ব্রাজিল ও জাপান—দুই দলই অপরাজিত থেকে নকআউট পর্বে জায়গা করে নিয়েছে। ব্রাজিল ৭ পয়েন্ট নিয়ে ‘সি’ গ্রুপের চ্যাম্পিয়ন হয়েছে। অন্যদিকে ‘এফ’ গ্রুপের রানার্সআপ হিসেবে শেষ ৩২-এ উঠেছে জাপান। তিউনিসিয়াকে ৪-০ গোলে হারানোর পাশাপাশি সুইডেন ও নেদারল্যান্ডসের বিপক্ষে ড্র করে ৫ পয়েন্ট সংগ্রহ করেছে তারা।
বাংলাদেশ সময় আজ রাত ১১টায় হিউস্টনে মুখোমুখি হবে ব্রাজিল ও জাপান। গত অক্টোবরে ব্রাজিলের বিপক্ষে ২-০ গোলে পিছিয়ে থেকেও ৩-২ ব্যবধানে জয় পাওয়ার স্মৃতি জাপানকে বাড়তি অনুপ্রেরণা জোগাতে পারে। এই ম্যাচের বিজয়ী দল শেষ ষোলোতে কার মুখোমুখি হবে, তা নির্ধারিত হবে আগামীকাল নরওয়ে ও আইভরি কোস্টের ম্যাচের পর।
Leave a Reply