রাষ্ট্রপতি পদে বিএনপির প্রার্থী মির্জা ফখরুলের নাম ঘোষণা আজ - Gono television | বাংলাদেশ সরকার অনুমোদিত বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেল।
রাষ্ট্রপতি পদে বিএনপির প্রার্থী মির্জা ফখরুলের নাম ঘোষণা আজ

রাষ্ট্রপতি পদে বিএনপির প্রার্থী মির্জা ফখরুলের নাম ঘোষণা আজ

দলের চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সবুজ সংকেত পাওয়ার পর আজ বৃহস্পতিবার (১৩ আগস্ট) রাষ্ট্রপতি পদপ্রার্থী হিসেবে মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের নাম ঘোষণা করতে যাচ্ছে বিএনপি। দলটির নির্ভরযোগ্য সূত্রে এমনটি জানা গেছে।

 

দলটির নির্ভরযোগ্য একটি সূত্র গণমাধ্যমকে জানায়, গত ১০ দিনে বিএনপির নীতি-নির্ধারণী পর্যায়ের নেতাদের সঙ্গে কয়েক দফা আলাপ-আলোচনা ও মতবিনিময় শেষে এলজিআরডি মন্ত্রী ফখরুলকেই রাষ্ট্রপতি পদের জন্য দলের চূড়ান্ত প্রার্থী হিসেবে বেছে নিয়েছেন তারেক রহমান।

 

এই সিদ্ধান্ত আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণার আগে সচিবালয়ে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্যদের সঙ্গে বৈঠকে বসবেন দলের চেয়ারম্যান।

 

দলীয় একটি সূত্র জানিয়েছে, ওই বৈঠকেই তারেক রহমান প্রার্থীর নাম প্রকাশ করতে পারেন। এ ছাড়া রাষ্ট্রপতি প্রার্থীর নাম প্রস্তাব ও সমর্থন করার জন্য উপযুক্ত ব্যক্তি নির্বাচনের বিষয়ে তিনি সিনিয়র নেতাদের সঙ্গে পরামর্শ করবেন।

 

এ বিষয়ে স্থায়ী কমিটির এক সদস্য গণমাধ্যমে বলেন, ‘বৈঠকে সম্ভাব্য প্রার্থীর স্বাক্ষর নেওয়া হবে। এরপর প্রস্তাবক ও সমর্থকের স্বাক্ষরসহ মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার জন্য নির্বাচন কমিশনে একটি প্রতিনিধিদল পাঠানো হবে।’

 

সূত্র জানায়, ৭৮ বছর বয়সী ফখরুল এই বৈঠকেই তার মন্ত্রিত্বের পদ ছাড়তে পারেন, এমনটি ধারণা করা হচ্ছে।

 

এরপর বিএনপি নেতারা নির্বাচন কমিশনে যাবেন। সেখানে দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে ফখরুলের মনোনয়নপত্র জমা দেওয়া হতে পারে এবং এরপরই আনুষ্ঠানিকভাবে তার প্রার্থিতা ঘোষণা করা হবে।

 

বিএনপির চিফ হুইপ ও দলের ভাইস চেয়ারম্যান নুরুল ইসলাম মনি গণমাধ্যমে জানান, জামায়াতে ইসলামী তাদের মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার পর বিএনপি তাদের মনোনয়নপত্র জমা দেবে।

 

তিনি আরও বলেন, ‘মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার পর রাষ্ট্রপতি প্রার্থীর নাম জনসমক্ষে ঘোষণা করা হবে।’

 

তফসিল অনুযায়ী, আজ সকাল ১০টা থেকে বিকেল ৪টার মধ্যে মনোনয়নপত্র জমা দেওয়া যাবে।

 

গত ১ আগস্টের এক বৈঠকে বিএনপির স্থায়ী কমিটি দলের রাষ্ট্রপতি প্রার্থী নির্বাচনের জন্য তারেক রহমানকে পূর্ণ ক্ষমতা দেয়। ৯ আগস্ট হুইপ মনি এবং বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী নির্বাচন কমিশন (ইসি) থেকে মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করেন। এর পরের দিন রাষ্ট্রপতি পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে এলডিপির চেয়ারম্যান অলি আহমদের জন্য মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করে জামায়াত-নেতৃত্বাধীন ১১-দলীয় ঐক্য।

 

আগামী ২০ আগস্ট দুপুর ২টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত সংসদীয় অধিবেশনে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে। সংসদ সদস্যরা প্রকাশ্য ব্যালটের মাধ্যমে তাদের ভোট দেবেন।

 

২৪ জুলাই মোহাম্মদ শাহাবুদ্দিন পদত্যাগ করার পর রাষ্ট্রপতির পদটি শূন্য হয়। তখন থেকে স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালন করছেন।

 

এলজিআরডি মন্ত্রী ছাড়াও ফখরুল বর্তমানে একজন সংসদ সদস্য এবং বিএনপির মহাসচিবের পদে রয়েছেন। তিনি যদি রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হন, তবে তাকে এই তিনটি পদই ছেড়ে দিতে হবে। সেক্ষেত্রে বিএনপি নেতৃত্বাধীন সরকার ও দলকে তার স্থলাভিষিক্ত বা বিকল্প ব্যক্তি নির্বাচন করতে হবে।


দীর্ঘ ৩২ বছর আগে বাংলাদেশ থেকে পাচারের শিকার হয়ে নিখোঁজ হন বরগুনার মেয়ে আছিয়া। ওই সময়ে তার বয়স ছিল মাত্র ১৬ বছর। ঘটনার পর পরিবারের সদস্যরা দেশের বিভিন্ন জায়গায় খোঁজ করলেও কোথাও তার সন্ধান মেলেনি। তবে সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে দেওয়া এক পোস্টের মাধ্যমে পাকিস্তানে সন্ধান মিলেছে আছিয়ার।

 

বর্তমানে ৭ সন্তানের জননী আছিয়া বাংলাদেশে ফিরতে চান ৯৫ বছর বয়সি বাবার কাছে। অপরদিকে হারিয়ে যাওয়া মেয়েকে মৃত্যুর আগে কাছে পেতে ব্যাকুল হয়ে আছেন বৃদ্ধ বাবা তমিজ উদ্দিন।

 

আছিয়ার পরিবার সূত্রে জানা যায়, জীবিকার তাগিদে তমিজ উদ্দিন পরিবারের সদস্যদের নিয়ে ১৯৯০ সালের দিকে বরগুনা ছেড়ে ঢাকা চলে যান। সেখানে গিয়ে মিরপুর ২ নম্বরের বড়বাগ নামক এলাকার একটি বাড়িতে বসবাস শুরু করেন তারা। ওই সময় তমিজ উদ্দিন ঢাকায় দিনমজুরির কাজ করে সংসার পরিচালনা করতেন। পরবর্তীতে ১৯৯৪ সালের কোনো একদিন বিকেলে ঘর থেকে বের হয়ে মেয়ে আছিয়া নিখোঁজ হন। পরে পরিবারের সদস্যরা বিভিন্ন জায়গায় খোঁজাখুঁজি করলেও আছিয়ার আর কোনো সন্ধান পাওয়া যায়নি।

 

নিখোঁজ মেয়ে আছিয়ার কোনো সন্ধান না পেয়ে স্ত্রীসহ বাকি ৬ সন্তানদের নিয়ে আবারও বরগুনায় ফিরে আসেন তমিজ উদ্দিন। হারানো মেয়ের শোক নিয়েই তিনি পাঁচ মেয়েকে বিয়ে দিয়েছেন। ছেলেও বিয়ে করে সংসার শুরু করেছেন। এছাড়া গত তিন বছর আগে আছিয়াকে হারানোর শোক নিয়ে মারা যান মা রাহেলা। তবে দীর্ঘ ৩২ বছর পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে দেওয়া এক পোস্টের মাধ্যমে পাকিস্তানে সন্ধান মিলেছে নিখোঁজ মেয়ে আছিয়ার।

 

সন্ধান মেলার পর থেকেই মেয়ের সঙ্গে প্রতিদিন মোবাইল ফোনে কথা হয় বাবা তমিজ উদ্দিনের। তবে দীর্ঘ বছর পর মোবাইল ফোনে মেয়ের মুখ দেখাসহ কণ্ঠ শুনতে পলেও মেয়েকে কাছে পেতে হাউমাউ করে কেঁদে ওঠেন তিনি। পাকিস্তান থেকে আছিয়াও এখন ফিরতে চান বাবার কাছে।

 

হারিয়ে যাওয়ার বিষয়ে জানতে মোবাইল ফোনের মাধ্যমে ভিডিও কলে কথা হয় পাকিস্তান থাকা আছিয়ার সঙ্গে। তিনি গণমাধ্যমে জানান, একটি চক্র তাকে ঢাকার সদরঘাট এলাকা থেকে প্রলোভন দেখিয়ে প্রথমে ভারতে নিয়ে যায়। পরে সেখানে কিছুদিন রেখে পাকিস্তানের মোজাফফর নগরে পাঠানো হয়। এরপর সেখানে ৪০ হাজার রুপির বিনিময়ে একজনের কাছে বিক্রি করে দেওয়া হয়। পরবর্তীতে পাকিস্তানের এক নাগরিকের সঙ্গে বিয়ে হয় আছিয়ার। বর্তমানে সেখানে তার ৬ মেয়ে ও ১ ছেলে সন্তান রয়েছে। তবে এক বছর আগে স্বামীর মৃত্যুর পর স্বজনদের কথা মনে পড়লে তিনি নিজের পরিচয় এবং বাংলাদেশে থাকা বাবার নাম ও ঠিকানা জানিয়ে ফেসবুকে একটি পোস্ট করেন। পরে ওই পোস্টটি খোঁজ নামের একটি ফেসবুক পেজে শেয়ার করলে প্রথমে স্থানীয় রিয়াজ উদ্দিন খান নামে একজনের নজরে আসলে সন্ধান মেলে আছিয়ার বাবা ও স্বজনদের। এর পর ২০ জুলাই থেকেই বাবার সঙ্গে নিয়মিত কথা শুরু হয় পাচারের শিকার হয়ে নিখোঁজ থাকা আছিয়ার।

 

আছিয়া আরও বলেন, পরিবারের সন্ধান পাওয়ার পর এখন তিনি দেশে ফিরতে চান। আর সবার সহযোগিতা বিশেষ করে সরকারি সহযোগিতা পেলে দ্রুতই দেশে ফিরতে পারবেন বলেও জানান আছিয়া।

 

এ বিষয়ে আছিয়ার ভাই মোস্তফা গণমাধ্যমে বলেন, আমার বোনের বয়স যখন ১৬-১৭ বছর তখন বাড়ি থেকে বের হয়ে নিখোঁজ হয়। আমরা বিভিন্ন জায়গায় খোঁজাখুঁজি করেও তাকে পাইনি। না পেয়ে এক সময় ধরেই নিয়েছিলাম, সে হয়তো আর বেঁচে নেই। কিন্তু এখন পাকিস্তানে বোনের খোঁজ মিলেছে। বোনকে ফেরত পেতে আমাদের সরকারের সহযোগিতা প্রয়োজন।

 

দীর্ঘ ৩২ বছর পর হারিয়ে যাওয়া মেয়েকে খুঁজে পেয়ে বৃদ্ধ বাবা তমিজ উদ্দিন বলেন, হারিয়ে যাওয়ার পর আছিয়াকে কোথাও খুঁজে পাইনি। ৩২ বছর পর মোবাইল মেয়েকে দেখতে পেয়েছি। মৃত্যু আগে একবার হলেও মেয়েকে কাছে পেতে চাই। সরকারের কাছে আবেদন জানাই যাতে আছিয়াকে ফিরিয়ে আনার ব্যবস্থা করা হয়।

 

এ বিষয়ে বরগুনার জেলা প্রশাসক তাছলিমা গণমাধ্যমকে বলেন, আছিয়ার ফিরে আসার জন্য দুটি প্রক্রিয়া রয়েছে। এর মধ্যে তার যদি বাংলাদেশে জন্ম নিবন্ধন অথবা নাগরিকত্ব সনদ থাকে তা নিয়ে পাকিস্তানের হাইকমিশনে গিয়ে প্রমাণ করতে পারলে একটি ট্রাভেল পাস পেতে পারেন। তবে যেহেতু ৩২ বছর ধরে পাকিস্তানে রয়েছেন তার যদি জন্ম নিবন্ধন অথবা নাগরিকত্ব সনদ না থাকে, সেক্ষেত্রে বাংলাদেশে থাকা স্বজনরা জেলা প্রশাসককে মাধ্যম করে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বরাবর একটি আবেদন করতে পারেন। সে অনুযায়ী পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বিদ্যমান যে নীতি রয়েছে, সে অনুযায়ী পরবর্তী পদক্ষেপ গ্রহণ করবেন।

৩২ বছর আগে ঢাকায় হারিয়ে যাওয়া মেয়ের সন্ধান মিলল পাকিস্তানে

মুক্তিযুদ্ধবিরোধী কোনো শক্তিকে জনগণ আর সুযোগ দেবে না বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা ও বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী।

 

তিনি বলেন, মুক্তিযুদ্ধের সময় পাকিস্তানিদের আশ্রয়-প্রশ্রয়ে ছিলেন শেখ হাসিনা। সে কারণেই তিনি স্বাধীনতার ঘোষক জিয়াউর রহমানের পরিবার নিয়ে নানামুখী ষড়যন্ত্র করেন।

 

বুধবার (১২ আগস্ট) সকালে বনানীতে প্রয়াত আরাফাত রহমান কোকোর ৫৭তম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে তার কবরে শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে তিনি এ কথা বলেন।তিনি বলেন, মুক্তিযোদ্ধা পরিবার বলেই শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের উত্তরসূরিদের পরিকল্পিতভাবে ধ্বংস করার চেষ্টা করেছিল ফ্যাসিবাদী সরকার। হাসিনা কোনোভাবেই জিয়া পরিবারের দেশপ্রেম বরদাশত করেননি। এখন সে জনগণের ধাওয়া খেয়ে পালিয়েছে।

মুক্তিযুদ্ধবিরোধী শক্তিকে জনগণ আর সুযোগ দেবে না: রিজভী

রাষ্ট্রপতি পদে বিএনপির প্রার্থী হিসেবে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের নামই এখন সবচেয়ে জোরালোভাবে আলোচনায়। সবকিছু ঠিক থাকলে আগামীকাল বৃহস্পতিবার তার নাম আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করা হতে পারে।

 

রাষ্ট্রপতি পদে মনোনয়ন চূড়ান্ত হলে স্থানীয় সরকারমন্ত্রীর পদ থেকে মির্জা ফখরুলকেও পদত্যাগ করতে হবে। একই সঙ্গে বিএনপির মহাসচিব পদেও আসতে পারে পরিবর্তন।

 

দেশের ২৩তম রাষ্ট্রপতি কে হচ্ছেন, মো. সাহাবুদ্দিনের পদত্যাগের পর তা নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে নানা আলোচনা শুরু হয়। জাতীয় সংসদে সংখ্যাগরিষ্ঠ দল বিএনপি হওয়ায় দলটির মনোনীত প্রার্থীই রাষ্ট্রপতি হওয়ার বিষয়টি অনেকটাই নিশ্চিত। গত কয়েক সপ্তাহের আলোচনা, দলের নীতিনির্ধারণী পর্যায়ের বৈঠক এবং সাম্প্রতিক রাজনৈতিক তৎপরতায় সবচেয়ে বেশি উচ্চারিত হচ্ছে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের নাম।

তবে রাষ্ট্রপতি পদে তার মনোনয়ন এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করেনি বিএনপি। দলীয় সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, প্রার্থী চূড়ান্ত করার দায়িত্ব দলের চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ওপর ন্যস্ত করা হয়েছে। ফলে শেষ সিদ্ধান্তের জন্য এখন দলের শীর্ষ নেতৃত্বের আনুষ্ঠানিক ঘোষণার অপেক্ষা।

রাষ্ট্রপতি পদে মির্জা ফখরুলের নাম জোরালো হওয়ার মধ্যেই গতকাল মঙ্গলবার সচিবালয়ে তার কার্যালয়ে দেখা গেছে ভিন্ন এক চিত্র। স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের কার্যালয়ে শুভাকাঙ্ক্ষীদের ভিড় ছিল। অনেকে তাকে শুভেচ্ছা জানান এবং অভিনন্দন জানানোর চেষ্টা করেন।

 

তবে বিষয়টি নিয়ে মির্জা ফখরুলকে খুব বেশি উৎসাহী হতে দেখা যায়নি। শুভেচ্ছা জানাতে আসা ব্যক্তিদের তিনি বলতে শোনা যায়, ‘আগে হোক, তারপর।’

 

এরপরও সবার সঙ্গে হাসিমুখে কথা বলেন তিনি। সন্ধ্যা পর্যন্ত সচিবালয়ে অফিস করেন স্থানীয় সরকারমন্ত্রী। পরে তিনি বেইলি রোডের সরকারি বাসভবনে যান। সেখানেও সন্ধ্যার পর থেকে রাত পর্যন্ত শুভাকাঙ্ক্ষীদের ভিড় ছিল।

 

নির্বাচন কমিশনের ঘোষিত তপশিল অনুযায়ী, বৃহস্পতিবার (১৩ আগস্ট) রাষ্ট্রপতি পদে মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার দিন। ওই দিন সকাল ১০টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত মনোনয়নপত্র জমা দেওয়া যাবে।

 

দলীয় সূত্রের খবর, আগামীকাল বৃহস্পতিবার বিএনপির পক্ষ থেকে রাষ্ট্রপতি পদে দলীয় প্রার্থীর নাম আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করা হতে পারে। সে ক্ষেত্রে মির্জা ফখরুলের স্থানীয় সরকারমন্ত্রী হিসেবে শেষ কর্মদিবস আজ অথবা আগামীকাল হওয়ার সম্ভাবনাই বেশি।

 

তবে মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাই শেষ হওয়ার আগ পর্যন্ত সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের কিছু দায়িত্ব পালন করার সুযোগ তার থাকতে পারে। ১৬ আগস্ট মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাইয়ের পর পরিস্থিতি আরও স্পষ্ট হবে।

 

রাষ্ট্রপতি নির্বাচন সামনে রেখে গত কয়েক দিন ধরে বিএনপির নীতিনির্ধারণী পর্যায়ে সম্ভাব্য প্রার্থী নিয়ে আলোচনা হয়েছে। মির্জা ফখরুলের পাশাপাশি স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খানের নামও বেশ জোরেশোরে আলোচনায় আসে।

 

এ ছাড়া স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন ও ড. আবদুল মঈন খানের নাম নিয়েও দলের শীর্ষ পর্যায়ে আলোচনা হয়েছে। তবে শেষ পর্যন্ত মির্জা ফখরুলের নামই সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব পাচ্ছে।

 

গত ১ আগস্ট বিএনপির স্থায়ী কমিটির বৈঠকে রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের বিষয়ে প্রয়োজনীয় সিদ্ধান্ত গ্রহণ এবং দলীয় প্রার্থী চূড়ান্ত করার দায়িত্ব দলের চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ওপর ন্যস্ত করা হয়। বৈঠক শেষে মির্জা ফখরুল নিজেই সাংবাদিকদের বিষয়টি জানিয়েছিলেন।

 

দলের ভেতরে মির্জা ফখরুলের নাম গুরুত্ব পাওয়ার পেছনে তার দীর্ঘ রাজনৈতিক অভিজ্ঞতাকেই সবচেয়ে বড় কারণ হিসেবে দেখা হচ্ছে। বিএনপির মহাসচিব হিসেবে এক দশকের বেশি সময় ধরে দায়িত্ব পালন করেছেন তিনি। জাতীয় রাজনীতিতে তার পরিচিতি দীর্ঘদিনের। পাশাপাশি সরকারের গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পালনের অভিজ্ঞতাও রয়েছে তার।

 

দলের নেতাকর্মীদের মতে, বিএনপির দীর্ঘ রাজনৈতিক সংকটের সময় মির্জা ফখরুল সামনে থেকে দলকে নেতৃত্ব দিয়েছেন। খালেদা জিয়ার নেতৃত্বে দলের নানা প্রতিকূলতার সময় তিনি নেতাকর্মীদের পাশে ছিলেন। পরে দলের চেয়ারম্যান তারেক রহমানের নেতৃত্বেও বিএনপির সাংগঠনিক কার্যক্রমে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন।

 

সজ্জন ও তুলনামূলকভাবে সংযত রাজনৈতিক নেতা হিসেবেও মির্জা ফখরুলের আলাদা পরিচিতি রয়েছে। ২০১১ সালে তিনি বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিবের দায়িত্ব পান। ২০১৬ সালের জাতীয় কাউন্সিলের পর থেকে তিনি দলের মহাসচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।

 

রাষ্ট্রপতি পদে নিজের সম্ভাব্য মনোনয়ন নিয়ে মির্জা ফখরুল অবশ্য এখনো সরাসরি কিছু বলেননি। গতকাল বিকেলে তিনি বলেন, রাষ্ট্রপতি ইস্যুতে এই মুহূর্তে কিছুই বলার নেই। ১৩ আগস্টের পর দলীয় মনোনয়নের বিষয়টি সমাধান হয়ে যাবে।

 

তিনি বলেন, বিষয়টি একটা প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে যেতে হয়। লুকোচুরির বিষয় নেই। আমরা দলের সর্বোচ্চ ফোরামের সিদ্ধান্ত আগেই জানিয়েছি—রাষ্ট্রপতি প্রার্থী দলীয় মনোনয়ন চূড়ান্ত করবেন পার্টির চেয়ারম্যান তারেক রহমান।

 

মনোনয়নপত্রে স্বাক্ষর বা সম্মতি দিয়েছেন কি না, জানতে চাইলে তিনি বলেন, মনোনয়ন ফরম তুলতে হলে স্বাক্ষর বা সম্মতির কিছু নেই। স্বাক্ষরের বিষয় আছে মনোনয়ন ফরম জমা দেওয়ার ক্ষেত্রে। এখানে গণমাধ্যম অতিউৎসাহী হয়ে অনেক কিছুই লিখেছে। এটা কোনো স্ট্যান্ডার্ড লেভেলের মধ্যে পড়ে না।

 

বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সেলিমা রহমান বলেন, আমরা চেয়ারম্যানের ওপর এ দায়িত্ব দিয়েছি। তিনিই সিদ্ধান্ত নেবেন। দলের তিনজনের নাম বেশ আলোচনায় আসছিল। তবে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের নাম বেশি আলোচনায় আছে। এখন দেখা যাক, চেয়ারম্যান কী সিদ্ধান্ত নেন।

 

জাতীয় সংসদের চিফ হুইপ নুরুল ইসলাম মনি বলেন, রাষ্ট্রপতি পদে বিএনপির প্রার্থী এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে চূড়ান্ত হয়নি।

 

রাষ্ট্রপতি নির্বাচন সামনে রেখে জাতীয় সংসদ ভবনে আয়োজিত প্রস্তুতিমূলক সভা শেষে তিনি বলেন, রাষ্ট্রপতি নির্বাচন নিয়ে বিএনপির অভ্যন্তরে এবং স্থায়ী কমিটিতে আলোচনা চলছে। প্রার্থী চূড়ান্ত করার আগে দলের শীর্ষ নেতৃত্ব ও নীতিনির্ধারকদের সঙ্গে আরও কয়েক দফা আলোচনা ও বৈঠক হবে।

 

তবে দলীয় সূত্রের তথ্য, রাজনৈতিক অঙ্গনের আলোচনা এবং মির্জা ফখরুলের সাম্প্রতিক কর্মকাণ্ড—সব মিলিয়ে তার নামই এখন সবচেয়ে বেশি আলোচিত।

 

রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে সংসদ সদস্যরাই ভোটার। গত বৃহস্পতিবার নির্বাচন কমিশন রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের ভোটার হিসেবে ৩৪৯ জন সংসদ সদস্যের তালিকা প্রকাশ করেছে।

 

তপশিল অনুযায়ী, ১৩ আগস্ট মনোনয়নপত্র জমা, ১৬ আগস্ট মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাই এবং ১৮ আগস্ট প্রার্থিতা প্রত্যাহারের শেষ দিন। ভোট হবে ২০ আগস্ট। ওই দিন জাতীয় সংসদের অধিবেশনকক্ষে দুপুর ২টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত ভোটগ্রহণ চলবে।

 

সংবিধান অনুযায়ী, সংসদ সদস্যদের ভোটে রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হন। ১৯৯১ সালে সংসদীয় ব্যবস্থা পুনঃপ্রতিষ্ঠার পর এই ব্যবস্থা চালু হয়। রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে সংসদ সদস্যদের প্রকাশ্য ভোটের বিধান থাকায় কে কোন প্রার্থীকে ভোট দিয়েছেন, তা গোপন থাকে না।

 

এ ক্ষেত্রে সংবিধানের ৭০ অনুচ্ছেদও গুরুত্বপূর্ণ। দলীয় প্রতীকে নির্বাচিত কোনো সংসদ সদস্য সংসদে নিজ দলের বিপক্ষে ভোট দিলে তার সংসদ সদস্য পদ শূন্য হওয়ার বিধান রয়েছে। ফলে রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে দলীয় সিদ্ধান্তের বাইরে গিয়ে ভোট দেওয়ার রাজনৈতিক সুযোগ কার্যত খুবই সীমিত।

 

সূত্র : এশিয়া পোস্ট

মন্ত্রী পদ ছাড়ছেন মির্জা ফখরুল!

রাষ্ট্রপতি নির্বাচন সামনে রেখে জাতীয় সংসদ ভবনে প্রস্তুতিমূলক সভা শুরু হয়েছে।

 

মঙ্গলবার (১১ আগস্ট) বেলা ১১টায় ভারপ্রাপ্ত স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামালের সভাপতিত্বে এ সভা শুরু হয়।

 

এর আগে রাষ্ট্রপতি পদে প্রার্থী দিতে তৎপরতা শুরু করেছে রাজনৈতিক দলগুলো। গত রোববার (৯ আগস্ট) রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয় থেকে দুটি মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করে ক্ষমতাসীন বিএনপি।

 

দলীয় সূত্রে রাষ্ট্রপতি পদে বিএনপির কয়েকজন জ্যেষ্ঠ নেতার নাম আলোচনায় রয়েছে।

 

অন্যদিকে, জামায়াতে ইসলামী নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় জোট রাষ্ট্রপতি পদে প্রার্থী করেছে লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টির (এলডিপি) চেয়ারম্যান কর্নেল (অব.) অলি আহমদকে। সোমবার (১০ আগস্ট) জোটের একটি প্রতিনিধিদল আগারগাঁওয়ে নির্বাচন কমিশনে গিয়ে তার পক্ষে মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করে।

 

পরে এক ব্রিফিংয়ে জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল হামিদুর রহমান আযাদ বলেন, ‘নির্বাচনে জয়-পরাজয়ের চেয়ে গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া অব্যাহত রাখাই তাদের কাছে গুরুত্বপূর্ণ।’ গণতান্ত্রিক চর্চা ফিরিয়ে আনার লক্ষ্যেই জোট রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে প্রার্থী দিয়েছে বলে জানান তিনি।

 

নির্বাচন কমিশন গত ৬ আগস্ট রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করে। তফসিল অনুযায়ী, মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার শেষ সময় ১৩ আগস্ট। ১৬ আগস্ট মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাই হবে। প্রার্থিতা প্রত্যাহারের শেষ সময় ১৮ আগস্ট বিকেল ৪টা।

 

ভোট গ্রহণ হবে ২০ আগস্ট। ওই দিন দুপুর ২টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত জাতীয় সংসদের অধিবেশন কক্ষে ভোট নেওয়া হবে।

 

এর আগে গত ২৪ জুলাই দেশের ২২তম রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন পদত্যাগ করেন। তার পদত্যাগের পর নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের প্রক্রিয়া শুরু করে নির্বাচন কমিশন। নির্বাচনের প্রস্তুতি নিয়ে সংসদের স্পিকারের সঙ্গে প্রধান নির্বাচন কমিশনার এ এম এম নাসির উদ্দিনের বৈঠকও হয়েছে।

সংসদে রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের প্রস্তুতিমূলক সভা শুরু

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ ডিজিটাল পেমেন্ট নেটওয়ার্ক প্রতিষ্ঠান ভিসার এশিয়া প্যাসিফিক অঞ্চলের প্রেসিডেন্ট স্টিফেন কারপিন।

 

আজ মঙ্গলবার (১১ আগস্ট) সকালে সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে দেখা করেন স্টিফেন কারপিন।

 

এসময় তারা বাংলাদেশে ডিজিটাল কমার্সের গতি বাড়াতে, পেমেন্ট নিরাপত্তা আরও মজবুত করা এবং দেশের ডিজিটাল রূপান্তরে করণীয় নিয়ে আলাপ করেন।

 

এর আগে তিন দিনের সফরে সোমবার বাংলাদেশে আসেন বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ ডিজিটাল পেমেন্ট নেটওয়ার্ক প্রতিষ্ঠান ভিসার এশিয়া প্যাসিফিক অঞ্চলের প্রেসিডেন্ট স্টিফেন কারপিন।

 

আগামী ১২ আগস্ট পর্যন্ত বাংলাদেশে অবস্থান করবেন তিনি। তার সঙ্গে আছেন ভিসার ভারত ও দক্ষিণ এশিয়ার গ্রুপ কান্ট্রি ম্যানেজার সুরেশ শেঠি।

প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন ভিসার এশিয়া প্যাসিফিক অঞ্চলের প্রেসিডেন্ট

বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেছেন, শেখ হাসিনা ভারতে বসে বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক সংস্কৃতির বিরুদ্ধে, গণতন্ত্রের বিরুদ্ধে এবং এ দেশের মানুষের বিরুদ্ধে অস্থিরতা সৃষ্টির জন্য যে বয়ান দিয়ে যাচ্ছেন, সেটি আমাদের অভিযোগ। এই দায় ভারত এড়াতে পারে না।

 

তিনি বলেন, আমরা বলেছি, আওয়ামী লীগ এবং শেখ হাসিনা রাজনৈতিকভাবে দাফন হয়েছে। দিল্লিতে বসে যদি তিনি রাজনৈতিক তৎপরতা চালান, তাহলে সেটি বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক সংস্কৃতির বিরুদ্ধে।

 

শনিবার (৮ আগস্ট) ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সিনেট ভবনে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় সাদা দল ও ইউট্যাবের যৌথ উদ্যোগে জুলাই গণঅভ্যুত্থান ২০২৪-এর দুই বছর পূর্তি উপলক্ষে ‘ফ্যাসিস্ট সরকার পতনে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদের ভূমিকা’ শীর্ষক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

 

সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, শেখ হাসিনা এবং তার কুশীলবদের বিচার চলমান। কিছু বিচার সমাপ্ত হয়েছে, আরও অনেকগুলো বিচার চলমান। কিন্তু শেখ হাসিনার কোনো অনুশোচনা নেই। তিনি বাংলাদেশের মানুষের সামনে দুঃখ প্রকাশ করেননি। বরং যারা গণতান্ত্রিক আন্দোলন করেছে, গণঅভ্যুত্থান করেছে, তাদের জঙ্গিবাদী তৎপরতার মধ্য দিয়ে ক্ষমতা থেকে তাকে অপসারণ করা হয়েছে এমন বক্তব্য দিচ্ছেন।

 

তিনি বলেন, জাতিসংঘের রিপোর্ট অনুযায়ী ১ হাজার ৪০০-এর বেশি মানুষকে হত্যা করা হয়েছে। সেখানে নারী ও শিশুও ছিল। আকাশ থেকে, হেলিকপ্টার থেকে গুলি করে এ দেশের জনগণকে হত্যা করা হয়েছে। এরপরও কি তাকে গণতান্ত্রিক সংস্কৃতির কোনো নেতা হিসেবে ভারত স্বীকৃতি দিতে পারে? এটাই আমাদের প্রশ্ন।

 

বিএনপির এই নেতা বলেন, ভারত বাংলাদেশের সঙ্গে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক চায়—আমরাও চাই। আমাদের দুই দেশের মধ্যে পারস্পরিক নির্ভরশীলতা আছে। আমরা আপনাদের সঙ্গে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক বজায় রাখতে চাই। তবে আমরা কখনো আওয়ামী লীগ হতে পারব না। বাংলাদেশের স্বার্থকে সমুন্নত রেখে, পারস্পরিক মর্যাদা ও সম্মানের ভিত্তিতে আমরা সম্পর্ক রাখতে চাই।

 

সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, শেখ হাসিনা দিল্লিতে বসে তৎপরতা চালাচ্ছেন। তার বিরুদ্ধে মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগ রয়েছে, আইসিটি কোর্ট তাকে দণ্ডিত করেছে, তার বিরুদ্ধে ফাঁসির রায় আছে এবং আরও মামলা চলমান আছে। এরপরও তিনি ভারতে বসে বিশ্বমিডিয়ার সঙ্গে কথা বলার সুযোগ পাচ্ছেন।

 

তিনি আরও বলেন, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে আমরা প্রতিবাদ করেছি। আমরা নিজেরাও প্রতিবাদ করছি। একজন ফ্যাসিস্ট, গণহত্যাকারী, দণ্ডিত অপরাধী যিনি গণতন্ত্রের বিরুদ্ধে মানবতাবিরোধী অপরাধ করেছেন—তাকে ভারতে বসে বারবার বিশ্বমিডিয়ার সঙ্গে কথা বলার সুযোগ দেওয়া হবে, এটা আমরা সমর্থন করি না।

 

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশে আমরা চেতনা বিক্রির রাজনীতি বহুবার দেখেছি। ১৯৭১-এর চেতনা বিক্রির রাজনীতি বাংলাদেশে মারাত্মকভাবে ফেল করেছে। আমরা ভবিষ্যতে চেতনা বিক্রির রাজনীতি করতে চাই না। যারা জুলাই গণঅভ্যুত্থানের কৃতিত্বকে বিচ্ছিন্ন করতে চায় এবং তার ওপর ভিত্তি করে রাজনৈতিক দল গঠন বা রাজনীতি করতে চায়, তাদের কাছে আমার বক্তব্য—বাংলাদেশে আর চেতনা বিক্রির রাজনীতি চলবে না।

 

সালাহউদ্দিন বলেন, নিউটনের আপেল যেমন গাছ থেকে পড়ে, তেমনি গণঅভ্যুত্থান কোনো নিয়ন্ত্রণের আড়ালে পড়ে যায়নি। এটাকে আমাদের পাকাতে হয়েছে। এটি ৩৬ দিনের আন্দোলনের ফসল নয়। ১৭ বছরের ধারাবাহিক আন্দোলনের ফসল হিসেবে এই আন্দোলন আমাদের অর্জন করে দিয়েছে। কেউ যদি মনে করেন মাত্র ৩৬ দিনের আন্দোলনের মধ্যে ১৭ বছরের ধারাবাহিক আন্দোলনের কিছুই নেই, তাহলে সেটা রাজনৈতিক অপরিপক্বতা।

 

তিনি বলেন, আমরা ছাত্র বন্ধুদের নেতৃত্বকে অস্বীকার করি না। যারা সম্মুখসারিতে যুদ্ধ করেছে, রক্ত দিয়েছে, শহীদ হয়েছে—কৃতিত্ব তাদের আছে। কিন্তু জুলাই গণঅভ্যুত্থানের পেছনে দীর্ঘদিনের গণতান্ত্রিক আন্দোলনও ছিল।

 

সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, আমরা চাই শহীদদের আকাঙ্ক্ষার বাস্তবায়ন হোক। সেই বাস্তবায়নের প্রতিযোগিতা হোক। আমাদের পরিকল্পনা আছে, কর্মসূচি আছে, প্রতিশ্রুতি আছে, বাস্তবায়নের অঙ্গীকার আছে। আমরা সেই অঙ্গীকার বাস্তবায়নের চেষ্টা করছি।

আ.লীগ এবং শেখ হাসিনার রাজনৈতিক দাফন হয়েছে: সালাহউদ্দিন আহমদ

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

সাউথ বাংলা ব্যাংকের মামলায় সাজাপ্রাপ্ত আসামি কলারোয়া উপজেলা যুবদলের আহ্বায়ক এম এ হাকিম সবুজ গ্রেপ্তার

 

সাতক্ষীরা প্রতিনিধি: সাউথ বাংলা এগ্রিকালচার অ্যান্ড কমার্স ব্যাংক পিএলসির একটি মামলায় সাজাপ্রাপ্ত আসামি এবং কলারোয়া উপজেলা বিএনপির যুবদলের আহ্বায়ক এম এ হাকিম সবুজকে গ্রেপ্তার করেছে কলারোয়া থানা পুলিশ।

 

বৃহস্পতিবার (১৩ আগস্ট) সন্ধ্যায় কলারোয়া উপজেলার একটি মোবাইল সার্ভিসিংয়ের দোকান থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয় বলে পুলিশ সূত্রে জানা গেছে।

 

পুলিশ সূত্রে জানা যায়, সাউথ বাংলা এগ্রিকালচার অ্যান্ড কমার্স ব্যাংক পিএলসির দায়ের করা মামলায় আদালত থেকে এম এ হাকিম সবুজের বিরুদ্ধে সাজা হয়। ওই মামলায় আদালতের রায় অনুযায়ী তিনি সাজাপ্রাপ্ত আসামি হিসেবে পলাতক ছিলেন বলে পুলিশ জানায়।

 

গোপন সংবাদের ভিত্তিতে কলারোয়া থানা পুলিশ তার অবস্থান শনাক্ত করে। পরে পুলিশের একটি দল অভিযান চালিয়ে কলারোয়া উপজেলার একটি মোবাইল সার্ভিসিংয়ের দোকান থেকে তাকে গ্রেপ্তার করে।

 

গ্রেপ্তারের পর তাকে থানায় নেওয়া হয়। পরবর্তী আইনগত প্রক্রিয়া শেষে তাকে আদালতে পাঠানো হবে বলে পুলিশ জানিয়েছে।

 

এ বিষয়ে কলারোয়া থানা পুলিশের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, আদালতের সাজা পরোয়ানা অনুযায়ী অভিযান চালিয়ে এম এ হাকিম সবুজকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তার বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।

 

এদিকে, এম এ হাকিম সবুজের গ্রেপ্তারের খবর ছড়িয়ে পড়লে স্থানীয় রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনা শুরু হয়েছে। তিনি কলারোয়া উপজেলা বিএনপির যুবদলের আহ্বায়ক হিসেবে রাজনৈতিকভাবে সক্রিয় ছিলেন।

 

তবে মামলার বিস্তারিত ধারা, আদালতের রায়ের তারিখ এবং সাজার মেয়াদ সম্পর্কে সংশ্লিষ্ট আদালত ও পুলিশের নথি যাচাই করে বিস্তারিত জানা যাবে।

সাউথ বাংলা ব্যাংকের মামলায় সাজাপ্রাপ্ত আসামি কলারোয়া উপজেলা যুবদলের আহ্বায়ক এম এ হাকিম সবুজ গ্রেপ্তার

পিরোজপুরের নেছারাবাদে প্রবাসীর বাড়িতে চুরির সময় স্থানীয়দের হাতে নাঈম (২৫) নামে নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের এক নেতা আটক হয়েছেন। আটকের আগে ওই যুবকের ছুরিকাঘাতে প্রবাসীর স্ত্রী, মেয়ে ও এক প্রতিবেশীসহ তিনজন আহত হন।

 

আহতদের উদ্ধার করে নেছারাবাদ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে।

 

বৃহস্পতিবার (১৩ আগস্ট) সকাল ১০টার দিকে স্বরূপকাঠী পৌরসভার ৭ নম্বর ওয়ার্ডে এ ঘটনা ঘটে।

 

আটক নাঈম একই এলাকার মো. রফিক মিয়ার ছেলে।

 

স্থানীয়দের অভিযোগ, নাঈম নিষিদ্ধ ঘোষিত ছাত্রলীগের সঙ্গে সক্রিয়ভাবে যুক্ত ছিলেন।

 

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, প্রবাসী ইলিয়াস হোসেনের বাড়ির পাশে থাকা একটি সুপারি গাছ বেয়ে উঠে নাঈম ঘরে প্রবেশ করেন। এ সময় ঘরে থাকা ইলিয়াস হোসেনের স্ত্রী নাজমা আক্তার তাকে দেখে ফেলেন। নাজমা মোবাইল ফোনে বিষয়টি জানানোর চেষ্টা করলে নাঈম তাকে বাধা দেন। একপর্যায়ে হাতে থাকা ছুরি দিয়ে নাজমাকে আঘাত করা হয়। নাজমার চিৎকার শুনে তার মেয়ে এগিয়ে এলে তাকেও আঘাত করা হয় বলে অভিযোগ রয়েছে। পরে প্রতিবেশী জাহাঙ্গীর হোসেনের ছেলে নুহিন মিয়া তাদের উদ্ধারে এগিয়ে এলে তাকেও ছুরিকাঘাত করে আহত করা হয়। আহতদের চিৎকার শুনে স্থানীয়রা ছুটে এসে নাঈমকে আটক করেন। পরে খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে তাকে আটক করে থানায় নিয়ে যায়।

 

হাসপাতালে চিকিৎসাধীন নাজমা আক্তার বলেন, ঘরে কাজ করার সময় হঠাৎ দেখি নাঈম সুপারি গাছ বেয়ে ঘরে ঢুকেছে। আমি মোবাইলে ফোন করতে গেলে সে বাধা দেয়। পরে চিৎকার করলে ছুরি দিয়ে আমাকে আঘাত করে। আমার মেয়ে ও প্রতিবেশী নুহিন এগিয়ে এলে তাদেরও আহত করা হয়।

 

নেছারাবাদ থানার ওসি মো. মেহেদী হাসান জানান, পৌরসভার ৭ নম্বর ওয়ার্ডে দস্যুতার সময় স্থানীয়রা নাঈম নামে এক যুবককে আটক করেন। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে তাকে হেফাজতে নেয়। এ ঘটনায় তার বিরুদ্ধে দস্যুতার অভিযোগে মামলা করা হয়েছে। পরে তাকে আদালতে পাঠানো হয়েছে।

চুরি করতে গিয়ে ছু/রি/কাঘাতে প্রবাসীর স্ত্রী-মেয়েকে জখম, নিষিদ্ধ ছাত্রলীগ নেতা আটক

টানা তিন দফা উত্থানের পর দেশের বাজারে স্বর্ণের দাম কমিয়েছে বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস)। এবার ভরিতে ২ হাজার ১৫৮ টাকা কমিয়ে ভ্যাটসহ ২২ ক্যারেটের এক ভরি স্বর্ণের দাম ২ লাখ ৩৪ হাজার ৬২১ টাকা নির্ধারণ করেছে সংগঠনটি।

 

শুক্রবার (১৪ আগস্ট) সকালে এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানিয়েছে বাজুস। নতুন এ দাম আজ সকাল ১০টা থেকেই কার্যকর হয়েছে।

 

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, স্থানীয় বাজারে তেজাবি স্বর্ণের (পিওর গোল্ড) মূল্য কমেছে। ফলে সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনায় ভ্যাটসহ স্বর্ণের নতুন দাম নির্ধারণ করা হয়েছে।

 

নতুন দর অনুযায়ী, দেশের বাজারে ভ্যাটসহ প্রতি ভরি (১১.৬৬৪ গ্রাম) ২২ ক্যারেটের স্বর্ণের দাম পড়বে ২ লাখ ৩৪ হাজার ৬২১ টাকা। এছাড়া ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি ২ লাখ ২৪ হাজার ৬৫ টাকা, ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি ১ লাখ ৯২ হাজার ৩৯৮ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম ১ লাখ ৫৭ হাজার ১৭২ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।

 

বাজুস জানিয়েছে, পরবর্তী সিদ্ধান্ত না হওয়া পর্যন্ত সব জুয়েলারি প্রতিষ্ঠানে এই দাম কার্যকর থাকবে। তবে অলঙ্কারের ডিজাইন অনুযায়ী মজুরি প্রযোজ্য। স্বর্ণালঙ্কার ও রৌপলঙ্কারের বিক্রয়মূল্যের সঙ্গে ভ্যাট যুক্ত থাকায় গ্রাহকদের কাছ থেকে আলাদাভাবে ভ্যাট আদায় করা যাবে না। এছাড়া সুনির্দিষ্ট ভ্যাট, মজুরি ও পাথর বাদ দিয়ে অলঙ্কার এক্সচেঞ্জ ও পারচেজের ক্ষেত্রে বাজুসের আগের নিয়ম বহাল থাকবে।

 

এর আগে, সবশেষ গত ১৩ আগস্ট সকালে স্বর্ণের দাম সমন্বয় করেছিল বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন। সেদিন ভরিতে ১ হাজার ১৩৩ টাকা বাড়িয়ে ভ্যাটসহ ২২ ক্যারেটের এক ভরি স্বর্ণের দাম ২ লাখ ৩৬ হাজার ৭৭৯ টাকা নির্ধারণ করা হয়।

 

এছাড়া ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি ২ লাখ ২৬ হাজার ১৬৫ টাকা, ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি ১ লাখ ৯৪ হাজার ২৬০ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম ১ লাখ ৫৮ হাজার ৬৩০ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। যা কার্যকর হয়েছিল সেদিন সকাল ১০টা থেকেই।

 

এ নিয়ে চলতি বছর এখন পর্যন্ত দেশের বাজারে ১০৩ বার সমন্বয় করা হয়েছে স্বর্ণের দাম। যেখানে দাম ৫১ দফা বাড়ানো হয়েছে, কমানো হয়েছে ৫১ দফা ও ১ দফা ভ্যাট সমন্বয় করা হয়েছে। আর গত ২০২৫ সালে দেশের বাজারে মোট ৯৩ বার স্বর্ণের দাম সমন্বয় করা হয়েছিল; যেখানে ৬৪ বার দাম বাড়ানো হয়েছিল, আর কমানো হয়েছিল ২৯ বার

টানা তিন দফা বাড়ার পর দেশে স্বর্ণের দামে পতন

গাজীপুর জজ কোর্টের সামনে সরকারি আইনজীবী (এজিপি) অ্যাডভোকেট রুহুল আমিন ও অ্যাডভোকেট মাহীন হাসান শুভর ওপর হামলার ঘটনায় আদালতে মামলা দায়েরের পর অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করা হয়েছে। একই সঙ্গে নিজেদের ও পরিবারের সদস্যদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগীরা।

 

বৃহস্পতিবার (১৩ আগস্ট) গাজীপুর জেলা আইনজীবী সমিতির লাইব্রেরি কক্ষে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব দাবি জানান তারা।

 

সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, গত ৯ আগস্ট সন্ধ্যা ৬টার দিকে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের পাশে জজ কোর্টের সামনের সড়কে অতর্কিতভাবে তাদের ওপর হামলা চালানো হয়। হামলাকারীরা ধারালো অস্ত্র ও হেলমেট দিয়ে অ্যাডভোকেট রুহুল আমিনকে হত্যার উদ্দেশ্যে মাথা ও চোখ লক্ষ্য করে আঘাত করেন বলে অভিযোগ করা হয়। এতে রুহুল আমিন ও মাহীন হাসান শুভ আহত হন। পরে তাদের শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হয়।

 

ভুক্তভোগীরা জানান, হামলার পর আইনজীবী ও স্থানীয় লোকজন কয়েকজন অভিযুক্তকে আটক করে পুলিশের কাছে সোপর্দ করেন। তবে অজ্ঞাত কারণে পুলিশ তাদের ছেড়ে দেয় বলে অভিযোগ করেন তারা।

 

পরে চিকিৎসা শেষে অ্যাডভোকেট রুহুল আমিন বৃহস্পতিবার অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে মামলা করেন। মামলাটি ১০২১/২০২৬ নম্বরে রুজু করা হয়। পরে আদালত অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করেন।

 

সংবাদ সম্মেলনে বক্তারা আদালতের জারি করা পরোয়ানা দ্রুত কার্যকর করে অভিযুক্তদের গ্রেফতার ও আদালতে সোপর্দ করার দাবি জানান। একই সঙ্গে ভুক্তভোগী, মামলার বাদী এবং তাদের পরিবারের সদস্যদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার আহ্বান জানান তারা।

 

তারা বলেন, মামলা দায়ের করায় আসামিরা ক্ষিপ্ত হয়ে তাদের জীবননাশের হুমকি দিচ্ছেন। এ অবস্থায় ভুক্তভোগী ও তাদের পরিবারের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।

 

আইনজীবীরা বলেন, হামলার সঙ্গে জড়িতদের দ্রুত আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে। তা না হলে ভবিষ্যতে আইনজীবীসহ সাধারণ নাগরিকদের ওপর এ ধরনের হামলার ঘটনা আরও বাড়তে পারে। বিচার বিভাগের প্রতি আস্থা রেখে তারা সুষ্ঠু তদন্ত ও ন্যায়বিচার প্রত্যাশা করেন।

 

সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন অ্যাডভোকেট রুহুল আমিন (এজিপি), গাজীপুর জেলা আইনজীবী সমিতির ক্রীড়া ও সাংস্কৃতিক সম্পাদক অ্যাডভোকেট মো. শাহ আলম, অ্যাডভোকেট মোজাম্মেল, অ্যাডভোকেট কামরুল হাসান রাসেল, অ্যাডভোকেট আল আমিন ইসলাম আশিক, অ্যাডভোকেট আব্দুল্লাহ, অ্যাডভোকেট ওলিউল ইসলাম টুটুল, অ্যাডভোকেট আলমগীর হোসেন ও অ্যাডভোকেট মাহীন হাসান শুভ।

আইনজীবীর ওপর হামলার ঘটনায় পরোয়ানা, নিরাপত্তা চাইলেন ভুক্তভোগীরা

শেরপুরে যৌতুকের দাবিতে স্ত্রীকে নির্যাতনের মামলায় মো. সোহাগ মিয়া (২৯) নামে এক পুলিশ সদস্যকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন আদালত।

 

বৃহস্পতিবার (১৩ আগস্ট) বিকালে আদালতে হাজির হয়ে জামিন আবেদন করেন সোহাগ মিয়া। শুনানি শেষে শেরপুর সদর সিআর আমলি আদালতের বিচারক ও সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট সুলতান মাহমুদ মিলন তার জামিন আবেদন নামঞ্জুর করে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।

 

বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন আদালতের পুলিশ পরিদর্শক মো. জিয়াউর রহমান। তিনি জানান, আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ী সোহাগ মিয়াকে জেলা কারাগারে পাঠানো হয়েছে। তিনি বর্তমানে বান্দরবান জেলা পুলিশ লাইন্সে কর্মরত।

 

মামলা সূত্রে জানা যায়, ২০১৯ সালের ১৫ ডিসেম্বর শেরপুর সদর উপজেলার সূর্য্যদী মধ্যপাড়া গ্রামের মৃত আবুল হাসেনের ছেলে পুলিশ কনস্টেবল সোহাগ মিয়ার সঙ্গে পার্শ্ববর্তী বয়ড়া পরাণপুর গ্রামের মো. আজাদ মিয়ার মেয়ে মোছা. লাকী আক্তারের বিয়ে হয়। তাদের দাম্পত্য জীবনে দুটি সন্তানের জন্ম হয়।

 

লাকী আক্তারের অভিযোগ, বিয়ের সময় মোটা অঙ্কের যৌতুক দেওয়ার পরও সোহাগ মিয়া আরও যৌতুকের জন্য তাকে নির্যাতন করতেন। গত ২৪ জুন ৫ লাখ টাকা যৌতুকের দাবিতে লাকী আক্তারকে মারধর করে বাড়ি থেকে বের করে দেন সোহাগ মিয়া।

 

এর পরিপ্রেক্ষিতে ২৯ জুন স্বামীর বিরুদ্ধে শেরপুরের আদালতে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন, ২০২৫-এর ১১(গ) ধারায় মামলা করেন লাকী আক্তার। ওই মামলায় বৃহস্পতিবার সোহাগ মিয়া আদালতে স্বেচ্ছায় আত্মসমর্পণ করে জামিন আবেদন করেন। শুনানি শেষে আদালত তার জামিন নামঞ্জুর করে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।

 

আদালতের পুলিশ পরিদর্শক মো. জিয়াউর রহমান বলেন, যৌতুক মামলায় পুলিশ কনস্টেবল সোহাগ মিয়াকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন আদালত। আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ী তাকে জেলা কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

স্ত্রী নির্যাতনের মামলায় পুলিশ সদস্য কারাগারে

আইনশৃঙ্খলা রক্ষা ও জননিরাপত্তা বিধানসহ ভালো কাজের স্বীকৃতি হিসেবে ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) বিভিন্ন পর্যায়ের পুলিশ সদস্যদের পুরস্কৃত করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার (১৩ আগস্ট) ডিএমপি সদর দপ্তরে জুলাই মাসের মাসিক অপরাধ পর্যালোচনা সভায় ভালো কাজের স্বীকৃতি হিসেবে বিভিন্ন ক্যাটাগরিতে বিজয়ীদের হাতে পুরস্কার তুলে দেন ইন্সপেক্টর জেনারেল অব পুলিশ (আইজিপি) মো. আলী হোসেন ফকির ও ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার মোসলেহ্ উদ্দিন আহমদ

 

জুলাই-২০২৬ মাসে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের অপরাধ বিভাগের মধ্যে শ্রেষ্ঠ হয়েছে মিরপুর বিভাগ। মূল্যায়নে শ্রেষ্ঠ থানার স্বীকৃতি অর্জন করেছে মিরপুর থানা। দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে উত্তরা-পশ্চিম থানা এবং তৃতীয় স্থান বাড্ডা থানা।

 

অপরদিকে, সহকারী পুলিশ কমিশনারদের মধ্যে ডেমরা জোনের সহকারী পুলিশ কমিশনার মো. শামীম হোসেন প্রথম স্থান অর্জন করেছেন। দ্বিতীয় স্থান অর্জন করেছেন মোহাম্মদপুর জোনের সহকারী পুলিশ কমিশনার মো. আবদুল্লাহ আল মামুন পিপিএম।

 

শ্রেষ্ঠ এসআই প্রথম স্থান অর্জন করেছেন পল্লবী থানার এসআই মো. সাইফুল ইসলাম। দ্বিতীয় স্থান অর্জন করেছেন ভাটারা থানার এসআই দেবাশীষ মন্ডল এবং তৃতীয় স্থান অর্জন করেছেন পল্টন মডেল থানার এসআই অমিত কুমার বিশ্বাস। এএসআইদের মধ্যে প্রথম স্থান অর্জন করেছেন যাত্রাবাড়ী থানার এএসআই নাজমুল ইসলাম এবং দ্বিতীয় স্থান অর্জন করেছে মোহাম্মদপুর থানার এএসআই নাদের আলী।

 

গোয়েন্দা বিভাগের মধ্যে শ্রেষ্ঠ হয়েছে গোয়েন্দা-ওয়ারী বিভাগ। শ্রেষ্ঠ টিম লিডার নির্বাচিত হয়েছেন গোয়েন্দা-ওয়ারী বিভাগের ওয়ারী জোনাল টিমের অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কমিশনার মো. ফজলুল করিম পিপিএম-সেবা।

 

আরও পড়ুন: সরকারি বেতন ১০০ শতাংশ বাড়ানোর সুপারিশ, মন্ত্রিসভার অনুমোদনের অপেক্ষা

 

ট্রাফিক বিভাগের মধ্যে শ্রেষ্ঠ হয়েছে ট্রাফিক-ওয়ারী বিভাগ। শ্রেষ্ঠ ট্রাফিক সার্জেন্টদের মধ্যে প্রথম স্থান অর্জন করেছে মিরপুর-ট্রাফিক জোনের সার্জেন্ট মো. সামসুদ্দীন সরকার এবং দ্বিতীয় স্থান অর্জন করেছে যাত্রাবাড়ী-ট্রাফিক জোনের সার্জেন্ট মো. শাহরিয়ার খান।

 

অপরাধ পর্যালোচনা সভায় অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (লজিস্টিকস্, ফিন্যান্স অ্যান্ড প্রকিউরমেন্ট), অতিরিক্ত দায়িত্বে অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (অ্যাডমিন) মো. মাসুদ করিম, অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (প্রটেকশন অ্যান্ড ডিপ্লোমেটিক সিকিউরিটি) মো. আবুল বাশার তালুকদার, অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (এস্টেট, ডেভেলপমেন্ট ও আইসিটি),অতিরিক্ত দায়িত্বে অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (ক্রাইম এন্ড অপারেশনস্) মোহাম্মদ ওসমান গণি, পিপিএম।

 

অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (কাউন্টার টেরোরিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম) মোহাম্মদ শামসুল হক, যুগ্ম পুলিশ কমিশনারগণ, উপ-পুলিশ কমিশনারগণ, অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কমিশনারগণ, সহকারী পুলিশ কমিশনারগণ, ডিএমপির সকল থানার অফিসার ইনচার্জগণ ও বিভিন্ন পদমর্যাদার পুলিশ কর্মকর্তাগণ উপস্থিত ছিলেন।

ভালো কাজের স্বীকৃতিতে ডিএমপির কর্মকর্তাদের পুরস্কার

দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর মৃত্যুবার্ষিকী: রাজনৈতিক ও সামাজিক অঙ্গনে আলোচিত এক অধ্যায়ের স্মরণ

আজ ১৪ আগস্ট। ২০২৩ সালের এই দিনে রাজধানীর বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে (বিএসএমএমইউ) চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সাবেক নায়েবে আমির ও বহুল আলোচিত ধর্মীয় বক্তা আল্লামা দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদী। মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিল ৮৪ বছর।

তাঁর মৃত্যু বাংলাদেশের রাজনৈতিক ও সামাজিক অঙ্গনে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়। দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবন, ধর্মীয় বক্তা হিসেবে জনপ্রিয়তা এবং ১৯৭১ সালের মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় বিচার—সব মিলিয়ে সাঈদী ছিলেন বাংলাদেশের রাজনীতির অন্যতম আলোচিত ও বিতর্কিত ব্যক্তিত্ব।

শেষ সময়ের চিকিৎসা

২০২৩ সালের ১৩ আগস্ট কারাগারে অসুস্থ হয়ে পড়লে দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীকে প্রথমে গাজীপুরের শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাঁকে ঢাকার বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে স্থানান্তর করা হয়।

পরদিন ১৪ আগস্ট রাতে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাঁর মৃত্যু হয়। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ তাঁর মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করে। তাঁর মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়ার পর অনুসারী ও সমর্থকদের মধ্যে শোকের প্রতিক্রিয়া দেখা যায়।

রাজনৈতিক ও ধর্মীয় জীবনে সাঈদী

দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদী ধর্মীয় বক্তা হিসেবে ব্যাপক পরিচিতি লাভ করেন। দেশের বিভিন্ন স্থানে তাঁর ওয়াজ ও ধর্মীয় বক্তব্যের মাধ্যমে তিনি একটি বড় শ্রোতাগোষ্ঠীর কাছে পরিচিত হয়ে ওঠেন।

এর পাশাপাশি তিনি বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর রাজনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেন। তিনি জাতীয় সংসদের সদস্য হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেন এবং পরবর্তী সময়ে দলটির নায়েবে আমিরের দায়িত্বে ছিলেন।

ধর্মীয় বক্তা ও রাজনৈতিক নেতা হিসেবে তাঁর দীর্ঘ কর্মজীবন বাংলাদেশের সামাজিক ও রাজনৈতিক পরিসরে উল্লেখযোগ্য প্রভাব ফেলেছিল।

মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলা ও বিচার

১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধের সময় সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে মামলা হয়।

২০১৩ সালের ২৮ ফেব্রুয়ারি আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল তাঁকে মৃত্যুদণ্ড দেন। তাঁর বিরুদ্ধে হত্যা, নির্যাতন, লুটপাট ও ধর্ষণসহ বিভিন্ন মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে বিচার হয়।

পরবর্তীতে ট্রাইব্যুনালের রায়ের বিরুদ্ধে তিনি আপিল করেন। ২০১৪ সালের ১৭ সেপ্টেম্বর সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ তাঁর মৃত্যুদণ্ড পরিবর্তন করে আমৃত্যু কারাদণ্ড দেন।

এই বিচার ও রায়কে কেন্দ্র করে বাংলাদেশে ব্যাপক রাজনৈতিক প্রতিক্রিয়া, বিক্ষোভ ও সহিংসতার ঘটনা ঘটে। একই সঙ্গে সাঈদীকে ঘিরে দেশজুড়ে তৈরি হয় তীব্র রাজনৈতিক ও সামাজিক মতবিভাজন।

মৃত্যুর পর প্রতিক্রিয়া

সাঈদীর মৃত্যুর সংবাদ প্রকাশের পর তাঁর অনুসারী ও সমর্থকদের মধ্যে শোকের প্রতিক্রিয়া দেখা যায়। বিভিন্ন স্থানে তাঁকে স্মরণ করে দোয়া ও অন্যান্য কর্মসূচির আয়োজন করা হয়।

অন্যদিকে তাঁর রাজনৈতিক ভূমিকা এবং মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় দণ্ডিত হওয়ার বিষয়টি সামনে এনে বিভিন্ন মহল থেকে ভিন্ন প্রতিক্রিয়াও জানানো হয়।

ফলে তাঁর মৃত্যুর পরও তাঁকে ঘিরে বাংলাদেশের রাজনৈতিক ও সামাজিক অঙ্গনে আলোচনা অব্যাহত থাকে।

মৃত্যুবার্ষিকীতে স্মরণ

আল্লামা দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর জীবন ছিল একই সঙ্গে ধর্মীয়, রাজনৈতিক ও বিচারিক ইতিহাসের সঙ্গে গভীরভাবে সম্পৃক্ত। ধর্মীয় বক্তা হিসেবে তাঁর জনপ্রিয়তা যেমন ব্যাপক ছিল, তেমনি তাঁর রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড ও একাত্তরের মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলাকে ঘিরে ছিল তীব্র বিতর্ক।

আজ তাঁর মৃত্যুবার্ষিকীতে তাঁর অনুসারীরা তাঁকে শ্রদ্ধা ও দোয়ার মাধ্যমে স্মরণ করছেন। একই সঙ্গে তাঁর জীবন ও রাজনৈতিক ভূমিকা নিয়ে নতুন করে আলোচনা হচ্ছে।

ইতিহাসের কোনো আলোচিত ব্যক্তিত্বকে মূল্যায়নের ক্ষেত্রে আবেগের পাশাপাশি আদালতের নথি, ঐতিহাসিক তথ্য ও যাচাইযোগ্য সূত্রকে গুরুত্ব দেওয়া প্রয়োজন। সাঈদীর জীবন ও রাজনৈতিক অধ্যায়ও বাংলাদেশের সাম্প্রতিক ইতিহাসের এমনই একটি আলোচিত অধ্যায়, যা নিয়ে আজও বিভিন্ন মহলে আলোচনা রয়েছে।

আল্লামা দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর মৃত্যুবার্ষিকী: আলোচিত এক অধ্যায়ের স্মরণ

স্বামীর বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলার দায়ে স্ত্রীকে ১০ দিনের কারাদন্ড

 

আতিকুর রহমান আশিক , মানিকগঞ্জ প্রতিনিধি

 

মানিকগঞ্জে স্বামীর বিরুদ্ধে মিথ্যা যৌতুক মামলা দায়ের করার দায়ে লাভলী আক্তার নামে এক নারীকে ১০ দিনের কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই মামলায় অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়ায় স্বামী আরিফুল ইসলাম রতনকে বেকসুর খালাস দেওয়া হয়েছে। মিথ্যা ও হয়রানিমূলক মামলা দায়েরের বিরুদ্ধে আদালতে এ রায় গুরুত্বপূর্ণ বার্তা দেবে বলে মনে করছেন আইনজীবীরা।

 

বৃহস্পতিবার (১৩ আগস্ট) জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালত-২ এর বিচারক দোলন বিশ্বাস এ রায় দেন।

 

মামলা সূত্রে জানা যায়, ২০২৩ সালে স্বামী আরিফুল ইসলাম রতনের বিরুদ্ধে যৌতুক নিরোধ আইন, ২০১৮-এর ৩ ধারায় মামলা করেন স্ত্রী লাভলী আক্তার। মামলায় অভিযোগ করা হয়, ২০২২ সালের ১৫ এপ্রিল আরিফুল পাঁচ লাখ টাকা যৌতুক দাবি করে তাকে মারধর করেন। পরে আরও একটি ঘটনায় যৌতুক দাবির অভিযোগ আনা হয়।

তবে অভিযোগে উল্লেখিত দুই ঘটনার সময়ই আরিফুল ইসলাম বিদেশে ছিলেন। তিনি ২০২১ সালের ৮ এপ্রিল চাকরির উদ্দেশ্যে সৌদি আরবে যান এবং দেশে ফেরেন ২০২৫ সালের ২৬ ফেব্রুয়ারি।

 

গত ২৭ জুলাই সাক্ষ্য-প্রমাণে অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়ায় আরিফুল ইসলাম রতনকে বেকসুর খালাস দেন আদালত। পরে মামলাটি মিথ্যা প্রমাণিত হওয়ায় বাদীর বিরুদ্ধে যৌতুক নিরোধ আইন, ২০১৮-এর ৬ ধারায় ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য আসামিপক্ষের আইনজীবী আদালতে পিটিশন দাখিল করেন।

 

এর পরিপ্রেক্ষিতে বৃহস্পতিবার শুনানি শেষে আদালত বাদী লাভলী আক্তারকে যৌতুক নিরোধ আইন, ২০১৮-এর ৬ ধারায় ১০ দিনের কারাদণ্ড দেন।

 

আসামিপক্ষের আইনজীবী অ্যাডভোকেট জাকির হোসেন কোহিনুর বলেন, সাক্ষ্য-প্রমাণ শেষে আদালত আসামিকে খালাস দেন। পরে মিথ্যা মামলা দায়েরের বিষয়টি বিবেচনায় যৌতুক নিরোধ আইনের ৬ ধারায় বাদীর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে আদালতে আবেদন করা হয়। বৃহস্পতিবার শুনানি শেষে আদালত বাদীকে ১০ দিনের কারাদণ্ড দিয়েছেন।

 

বাদী পক্ষের আইনজীবী সমাপ্তি আক্তার বলেন, ১০ দিনের সাজা হওয়ায় আপিলের শর্তে জামিনের আবেদন করা হয়। পরে আদালত এক মাসের মধ্যে আপিল করার শর্তে এক হাজার টাকা বন্ডের লাভলী আক্তারের জামিন মঞ্জুর করেন।

 

মানিকগঞ্জ জজ কোর্টের আইনজীবী অ্যাডভোকেট মাহাবুবুল ইসলাম বলেন, মিথ্যা মামলা করে কাউকে হয়রানি করলে মামলার বাদীকেও যে শাস্তির মুখোমুখি হতে হবে, এই রায় তার একটি গুরুত্বপূর্ণ বার্তা। এ ধরনের রায় হলে সমাজে ঢালাওভাবে মিথ্যা মামলা দায়েরের প্রবণতা অনেকাংশে কমে আসতে পারে।

স্বামীর বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলার দায়ে স্ত্রীকে ১০ দিনের কারাদন্ড 

গার্মেন্টস শ্রমিকদের জন্য নিম্নতম মজুরী বোর্ড ঘোষণার দাবিতে মাননীয় শ্রম মন্ত্রীর নিকট স্মারকলিপি পেশ করা হবে

গার্মেন্টস শ্রমিক ও শিল্প রক্ষা জাতীয় মঞ্চ

 

রাকিবুল ইসলাম রঞ্জু:

 

১৩ আগষ্ট ২০২৬’ তারিখ সকাল ১১ টায় গার্মেন্টস শ্রমিক ও শিল্প রক্ষা জাতীয় মঞ্চের উদ্যোগে বাংলাদেশ শিশুকল্যাণ পরিষদ মিলনায়তনে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে আগামী ১৬ আগষ্ট গার্মেন্টস শ্রমিকদের জন্য নিম্নতম মজুরী বোর্ড ঘোষণার দাবিতে মাননীয় শ্রম মন্ত্রীর নিকট স্মারকলিপি পেশ করা হবে বলে ঘোষণা করা হয়।

 

সংবাদ সম্মেলনের সভাপতিত্ব করেন মঞ্চের আহ্বায়ক বীর মুক্তিযোদ্ধা আবুল হোসাইন। সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন মঞ্চের সদস্য সচিব শ্রমিক নেতা রফিকুল ইসলাম সুজন। এ সময় উপস্থিত ছিলেন মঞ্চের কেন্দ্রীয় নেতা জনাব মোঃ সফিকুল ইসলাম, কামরুন নাহার, তপন সাহা, কামরুজ্জামান ফিরোজ, আবু কালাম, মিজানুর রহমান শিকদার, সাজিয়া রহমান, মাহমুদা হোসেন মিলি প্রমূখ।

 

সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে বলা হয়, সরকার পে-স্কেল ঘোষণার মধ্য দিয়ে শ্রমিক কর্মচারীদের মধ্যে চরম বৈষম্যে সৃষ্টি করেছেন। বর্তমান শাসন ব্যবস্থায় আমলাতন্ত্র কতখানি শক্তিশালী ভূমিকা পালন করে তার প্রমাণ হচ্ছে পে-স্কেল। ঘোষিত পে-স্কেলে একজন সচিব এর বেতন নির্ধারণ করা হয়েছে ১ লক্ষ ২৫ হাজার টাকা অপর দিকে একজন অফিস সহকারী (পিয়ন) তার বেতন ধরা হয়েছে ৪১ হাজার টাকা। অথচ যারা উৎপাদন করে সেই শ্রমিক বিশেষকরে গার্মেন্টস শ্রমিকদের মজুরী হচ্ছে ১২ হাজার ৫ শত টাকা। এর মধ্য দিয়ে সরকার সমাজে প্রবল বৈষম্য সৃষ্টি করেছে। এই বৈষম্য দুর করতে শ্রমিকের জন্য জাতীয় নিম্নতম মজুরী ৩০ হাজার টাকা এবং গার্মেন্টস শ্রমিকদের জন্য অবিলম্বে নিম্নতম মজুরী বোর্ড ঘোষণা করে শ্রমিকদের বাঁচার মত মজুরী ঘোষণা করতে হবে। বর্তমান উর্দ্ধমূখী বাজার ব্যবস্থায় গার্মেন্টস শ্রমিকরা যে মজুরী পান তা দিয়ে তাদের জীবন চলেনা। ফলে শিল্পের শ্রমক অসন্তষ লেগেই রয়েছে। শিল্পের উৎপাদনের সুষ্ঠ পরিবেশ ও উন্নয়ন নিশ্চিত করতে হলে গার্মেন্টস শ্রমিকদের ন্যূনতম মজুরী বৃদ্ধির বিকল্প নাই। সংবাদ সম্মেলনে আরও বলা হয়, বিগত ২০২৩ সালের ঘোষিত মজুরী আগামী নভেম্বরে শেষ হয়ে যাবে। ডিসেম্বর ২০২৬ সাল থেকে নতুন মজুরী কার্যকর হওয়ার কথা। এখন মাত্র চার মাস সময় আছে সরকার কাল বিলম্ব না করে দ্রুত সময়ের মধ্যে ন্যূনতম মজুরী বোর্ড ঘোষণা করতে হবে এবং বোর্ডের গার্মেন্টস শ্রমিক সংগঠনের মধ্য থেকে নির্বাচিত করতে হবে। সংবাদ সম্মেলনে উল্লেখিত দাবিতে আগামী ১৬ আগষ্ট মাননীয় শ্রমমন্ত্রী মহোদয়ের নিকট স্মারকলিপি পেশ করা হবে। একই সাথে উক্ত স্মারকলিপি মাননীয় প্রধানমন্ত্রী সহ সংশ্লিষ্ট সকল মহলকে অবগতির জন্য পাঠানো হবে।

গার্মেন্টস শ্রমিকদের জন্য নিম্নতম মজুরী বোর্ড ঘোষণার দাবিতে মাননীয় শ্রম মন্ত্রীর নিকট স্মারকলিপি পেশ করা হবে

গাইবান্ধায় অপরাধমুক্ত সমাজ গড়ার অঙ্গীকার, সচেতনতামূলক সভা অনুষ্ঠিত

 

শাহ্ পারভেজ সংগ্রাম,গাইবান্ধা প্রতিনিধি

গাইবান্ধায় র‌্যাপিড এ্যাকশন ব্যাটালিয়ন র‌্যাবের উদ্যোগে মাদক ও সামাজিক অপরাধ প্রতিরোধ বিষয়ক সচেতনতামূলক মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। আজ বৃহস্পতিবার বেলা সাড়ে ১১ টার দিকে সিপিসি-৩ গাইবান্ধা র‌্যাব-১৩ ক্যাম্পের আয়োজনে শিল্পকলা একাডেমির হলরুমে এই সচেতনতা মুলক মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়।

 

অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ও সিপিসি-৩ ও র‌্যাব-১৩ এর ভারপ্রাপ্ত কোম্পানি কমান্ডার মোহাম্মদ রেজাউল হকের সভাপতিত্বে এতে প্রধান অতিথি ছিলেন জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ মাসুদুর রহমান মোল্লা। বিশেষ অতিথি ছিলেন পুলিশ সুপার জসিম উদ্দিন ও গাইবান্ধা সরকারি কলেজের অধ্যক্ষ আব্দুর রশিদ, শিক্ষাবিদ অধ্যাপক মাজহারুল মান্নান । এছাড়াও বিভিন্ন কলেজের শিক্ষার্থী, রেড ক্রিসেন্ট ও রোভার স্কাউটসের সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন। দেড় ঘন্টাব্যাপী মতবিনিময় সভায় বক্তারা বলেন, মাদক কেবল একজন ব্যক্তিকে ধ্বংস করে না, বরং একটি পরিবার ও সমাজকে ভেতর থেকে পঙ্গু করে দেয়।

 

মাদক ও বিভিন্ন সামাজিক অপরাধ প্রতিরোধে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পাশাপাশি অভিভাবক, শিক্ষক ও জনপ্রতিনিধি সহ সকল পেশার মানুষের সম্মিলিত উদ্যোগে বিপদগামী মাদকাসক্ত তরুণদের আলোর পথে ফিরিয়ে আনার গুরুত্ব নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়।

 

অপরদিকে প্রশাসনের পক্ষ থেকে আশ্বস্ত করে জানানো হয়, সরকারের নির্দেশনায় মাদক ও অপরাধ দমনে জিরো টলারেন্স নীতি অনুসরণ করা হচ্ছে। পাশাপাশি গোয়েন্দা নজরদারি জোরদার, নিয়মিত সাঁড়াশি অভিযান পরিচালনাসহ মাদক ও সামাজিক অপরাধ নির্মুলে প্রশাসনের পক্ষ থেকে নানা পদক্ষেপের কথা তুলে ধরা হয়।

 

সভা শেষে মতবিনিময় সভায় অংশগ্রহনকরা শিক্ষার্থীদের মাঝে খেলার সামগ্রী বিতরন করা হয়।

গাইবান্ধায় অপরাধমুক্ত সমাজ গড়ার অঙ্গীকার, সচেতনতামূলক সভা অনুষ্ঠিত

র‌্যাবের চৌকস অভিযানে জীপসহ প্রায় ১১ হাজার ইয়াবার চালান আটক

জামালপুর হামলা পাল্টা হামলার মধ্য দিয়ে জেলার সানন্দবাড়ী তে থমথমে অবস্থা বিরাজমান।

পর্নোগ্রাফি নিয়ন্ত্রণ আইনে এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা দায়ের ও আদালতে মিথ্যা হলফনামা দেয়ার অভিযোগে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের কেবিন ক্রু খাদিজা সুলতানা শিমুর বিরুদ্ধে মামলা দায়েরের নির্দেশ দিয়েছেন আদালত।

 

বুধবার (১৫ জুলাই) ঢাকার অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালত-২-এর বিচারক মো. জাকির হোসাইন এ আদেশ দেন। আদালতের আদেশে বলা হয়েছে, শিমুর বিরুদ্ধে পর্নোগ্রাফি নিয়ন্ত্রণ আইন, ২০১২-এর ১৩ ধারা এবং দণ্ডবিধির ১৮১, ১৮২ ও ১৯৩ ধারায় মামলা করা হবে। আদালত নিজেই এ মামলার বাদী হয়েছেন।

 

আদালতের নথি অনুযায়ী, খাদিজা সুলতানা শিমু মামলার বাদী হয়ে বেসরকারি একটি এয়ারলাইন্সের কর্মকর্তা মো. ওমর ফারুক চৌধুরীর বিরুদ্ধে পর্নোগ্রাফি নিয়ন্ত্রণ আইনের বিভিন্ন ধারায় উত্তরা পশ্চিম থানায় মামলা করেন।

 

তদন্ত শেষে উত্তরা পশ্চিম থানার তদন্ত কর্মকর্তা আদালতে চূড়ান্ত প্রতিবেদন দাখিল করে জানান, অভিযোগের সত্যতা পাওয়া যায়নি। প্রতিবেদনে বলা হয়, মামলার এজাহারে উল্লেখ করা ফেসবুক লিংক, ডিজিটাল আলামত ও অন্যান্য তথ্য যাচাই করে ওমর ফারুকের বিরুদ্ধে পর্নোগ্রাফি প্রচারের কোনো প্রমাণ মেলেনি। ফলে ওই কর্মকর্তাকে মামলা থেকে অব্যাহতির সুপারিশ করা হয়।

একই সঙ্গে তদন্ত কর্মকর্তা প্রতিবেদনে উল্লেখ করেন, ওমর ফারুক আগে শিমুর বিরুদ্ধে বিয়ের প্রলোভন দিয়ে অর্থ আত্মসাতের অভিযোগে আদালতে মামলা করেছিলেন। সেই মামলার দায় এড়াতেই শিমু সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচারিত বিভিন্ন লিংক উল্লেখ করে তার বিরুদ্ধে পর্নোগ্রাফি ছড়ানোর অভিযোগ এনে উদ্দেশ্যপ্রণোদিত, হয়রানিমূলক ও মিথ্যা মামলা করেছেন বলে প্রাথমিক তদন্তে প্রতীয়মান হয়েছে। এ কারণে শিমুর বিরুদ্ধে পর্নোগ্রাফি নিয়ন্ত্রণ আইন, ২০১২-এর ১৩ ধারায় আইনগত ব্যবস্থা নেয়ার আবেদনও করেন তদন্ত কর্মকর্তা।

 

পরে গত ৯ জুলাই আদালত তদন্ত প্রতিবেদন গ্রহণ করে ওমর ফারুককে মামলা থেকে অব্যাহতি দেন। আদালতের আদেশে বলা হয়, শিমু ক্ষতিসাধনের উদ্দেশ্যে আদালতে মিথ্যা মামলা দায়ের করেছেন এবং হলফ করে মিথ্যা সাক্ষ্য দিয়েছেন। মামলার নথিতে তার দেয়া হলফনামাও সংযুক্ত রয়েছে। এসব বিবেচনায় আদালত নিজেই বাদী হয়ে তার বিরুদ্ধে পর্নোগ্রাফি নিয়ন্ত্রণ আইন ও দণ্ডবিধির সংশ্লিষ্ট ধারায় মামলা দায়েরের নির্দেশ দেন।

 

তদন্তে যা উঠে এসেছে পুলিশের চূড়ান্ত প্রতিবেদনে বলা হয়, তদন্তকালে রেকর্ড, ডিজিটাল আলামত, ফেসবুক লিংক ও ফরেনসিক তথ্য যাচাই করে ওমর ফারুকের বিরুদ্ধে পর্নোগ্রাফি প্রচারের কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি।

 

তদন্তে আরও উঠে আসে, শিমু বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের কেবিন ক্রু এবং ওমর ফারুক একটি বেসরকারি এয়ারলাইন্সের এয়ারক্রাফট মেইনটেন্যান্স কর্মকর্তা। ফেসবুকে পরিচয়ের পর তাদের মধ্যে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে।

 

প্রতিবেদনে বলা হয়, বিয়ের আশ্বাস দিয়ে বিভিন্ন সময়ে ওমর ফারুকের কাছ থেকে বিপুল পরিমাণ অর্থ ও মূল্যবান সামগ্রী নেয়ার অভিযোগে ওমর ফারুক আদালতে পৃথক মামলা করেন। এরপর সেই মামলার দায় থেকে নিজেকে রক্ষা করতেই শিমু পর্নোগ্রাফি আইনে অভিযোগ দায়ের করেন বলে তদন্তে প্রতীয়মান হয়েছে।

 

ওমর ফারুকের আগের মামলা গত ২০ জুলাই ওমর ফারুক চৌধুরী শিমুর বিরুদ্ধে বিয়ের প্রলোভন, ‘হানি ট্র্যাপ’ ও ব্ল্যাকমেইলের মাধ্যমে প্রায় ২২ লাখ টাকা আত্মসাতের অভিযোগে ঢাকার আদালতে মামলা করেন। আদালত অভিযোগটি আমলে নিয়ে উত্তরা পশ্চিম থানাকে তদন্তের নির্দেশ দেন। পরে তিনি বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স কর্তৃপক্ষের কাছেও লিখিত অভিযোগ করেন।

 

সেই মামলায় অভিযোগ করা হয়, ২০২৪ সালে ফেসবুকে পরিচয়ের পর শিমু তাকে বিয়ের আশ্বাস দিয়ে বিভিন্ন সময়ে টাকা নেন। জন্মদিনে দেড় লাখ টাকা মূল্যের একটি হীরার আংটিসহ বিয়ের খরচের জন্য মোট ২১ লাখ ৭৪ হাজার ৫১১ টাকা নেয়ার পরও বিয়ে না করে প্রতারণার মাধ্যমে অর্থ আত্মসাৎ করা হয়েছে বলে মামলায় দাবি করা হয়।

পর্নোগ্রাফি আইনে কেবিন ক্রু শিমুর বিরুদ্ধে মামলার নির্দেশ আদালতের

error: আপনি নিউজ চুরি করার চেষ্টা করছেন। বিশেষ প্রয়োজনে যোগাযোগ করুন ০১৭৬৭৪৪৪৩৩৩
%d