জেমিনির এআই কনটেন্ট থেকে ওয়াটারমার্ক সরানোর সুযোগ দিচ্ছে গুগল - Gono television | বাংলাদেশ সরকার অনুমোদিত বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেল।
জেমিনির এআই কনটেন্ট থেকে ওয়াটারমার্ক সরানোর সুযোগ দিচ্ছে গুগল

জেমিনির এআই কনটেন্ট থেকে ওয়াটারমার্ক সরানোর সুযোগ দিচ্ছে গুগল

গানে থাকা দৃশ্যমান ওয়াটারমার্ক সরানোর সুযোগ দিচ্ছে প্রতিষ্ঠানটি। তবে দৃশ্যমান ওয়াটারমার্ক সরানো হলেও এআই দিয়ে তৈরি কনটেন্ট শনাক্ত করতে গোপন প্রযুক্তিগত চিহ্ন বহাল থাকবে।

 

গুগল নতুন একটি সেটিং চালু করেছে, যার মাধ্যমে ব্যবহারকারীরা জেমিনির ‘ন্যানো ব্যানানা’ ইমেজ জেনারেশন মডেল দিয়ে তৈরি ছবির দৃশ্যমান ওয়াটারমার্ক সরাতে পারবেন। বর্তমানে নির্দিষ্ট কিছু অঞ্চলে জেমিনি ও ‘ফ্লো’ প্ল্যাটফর্মে এ সুবিধা পাওয়া যাচ্ছে। শিগগিরই গুগলের ‘সার্চ এআই মোডেও’ এটি চালু হতে পারে।

 

শুধু ছবিই নয়, এআই দিয়ে তৈরি অন্যান্য কনটেন্টের ক্ষেত্রেও ওয়াটারমার্ক সরানোর সুবিধা দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে গুগলের। জেমিনি ‘ওমনি’ দিয়ে তৈরি ভিডিও এবং ‘লিরিয়া’ দিয়ে তৈরি গান থেকেও দৃশ্যমান ওয়াটারমার্ক সরাতে পারবেন ব্যবহারকারীরা।

 

স্থানীয় আইনের ওপর নির্ভর করবে ওয়াটারমার্ক অপসারণ

 

গুগল জানিয়েছে, যেসব দেশ বা অঞ্চলে আইন অনুযায়ী এআই-নির্মিত কনটেন্টে ওয়াটারমার্ক প্রদর্শন বাধ্যতামূলক, সেখানে এ সুবিধা পাওয়া যাবে না।

 

তবে দৃশ্যমান ওয়াটারমার্ক সরানো গেলেও এআই-নির্মিত কনটেন্ট থেকে গোপন শনাক্তকারী সরাবে না গুগল। প্রতিষ্ঠানটি কনটেন্টের উৎস ও পরিচয় শনাক্ত করতে ‘সিন্থআইডি’ নামের অদৃশ্য ওয়াটারমার্ক প্রযুক্তির পাশাপাশি ‘সিটুপিএ’ মেটাডেটা ব্যবহার করবে।

ওয়াটারমার্ক সরালেও শনাক্ত করা যাবে এআই কনটেন্ট

 

দৃশ্যমান ওয়াটারমার্ক সরিয়ে ফেললেই কোনো কনটেন্ট এআই দিয়ে তৈরি বা সম্পাদিত হয়েছে—এটি শনাক্ত করা অসম্ভব হয়ে যাবে না। গুগলের দাবি, ব্যবহারকারীরা চাইলে জেমিনিকে জিজ্ঞেস করেও জানতে পারবেন কোনো ছবি এআই দিয়ে তৈরি বা সম্পাদিত হয়েছে কি না।

 

জেমিনি ছবির গোপন উৎস-সংক্রান্ত তথ্য বিশ্লেষণ করতে পারে এবং যেখানে প্রযোজ্য, সেখানে ‘সিন্থআইডি’ শনাক্তকারী খুঁজে বের করতে পারে। এর ফলে দৃশ্যমানভাবে কনটেন্টে কোনো চিহ্ন না থাকলেও পেছনের প্রযুক্তির মাধ্যমে সেটি এআই-নির্মিত কি না, তা শনাক্ত করার সুযোগ থাকবে।

 

এআই কনটেন্ট নিয়ে বাড়ছে বিতর্ক

 

এআই দিয়ে তৈরি ছবি, ভিডিও, গানসহ বিভিন্ন ধরনের কনটেন্টের ব্যবহার দ্রুত বাড়ছে। ফলে কৃত্রিমভাবে তৈরি কনটেন্ট যেন সহজে শনাক্ত করা যায়, সে বিষয়ে প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলোর ওপর চাপও বাড়ছে।

 

একই সঙ্গে ব্যবহারকারীরা যেন নিজেদের প্রয়োজন অনুযায়ী এআই-নির্মিত কনটেন্টের দৃশ্যমান উপস্থাপনা নিয়ন্ত্রণ করতে পারেন, সেই দাবিও রয়েছে। গুগলের নতুন সিদ্ধান্তকে দৃশ্যমান লেবেলিং ও গোপন শনাক্তকরণ—এই দুই ব্যবস্থার মধ্যে ভারসাম্য তৈরির একটি উদ্যোগ হিসেবে দেখা হচ্ছে।


ক্যাম্পাসে ছাত্রসংগঠনগুলোর মধ্যে গায়ের জোর ও পেশিশক্তির পরিবর্তে মেধা, যোগ্যতা ও বুদ্ধিবৃত্তিক কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে প্রতিযোগিতা হওয়া উচিত বলে মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় সভাপতি নূরুল ইসলাম সাদ্দাম।

 

তিনি বলেন, ‘শক্তি থাকলেই সব সময় শক্তি দেখাতে হয় না। আমরা চাই জুলাইয়ের পরে ক্যাম্পাসগুলোতে মেধার চর্চা হোক। মেধার ভিত্তিতে কম্পিটিশন হোক। যুদ্ধ হলে ইন্টেলেকচুয়াল ওয়ার হওয়া উচিত। গায়ের জোর সবাই দেখাতে পারে, কিন্তু ছাত্রশিবির গায়ের জোর দেখাতে চায় না। আমরা চাই মেধা নিয়ে প্রতিযোগিতা হোক।’

 

বুধবার (১২ আগস্ট) কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের (কুবি) প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থীদের নিয়ে বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবির কুবি শাখার আয়োজিত নবীনবরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।

 

ক্যাম্পাসে সাম্প্রতিক সহিংসতার প্রসঙ্গ টেনে সাদ্দাম হোসেন বলেন, ছাত্রসংগঠনগুলোর মধ্যে প্রতিযোগিতা থাকা স্বাভাবিক। তবে সেই প্রতিযোগিতা হতে হবে শিক্ষার্থীদের কল্যাণ ও ইতিবাচক কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে। পেশিশক্তি প্রদর্শন করে নেতৃত্ব প্রতিষ্ঠার চেষ্টা ছাত্ররাজনীতিকে ক্ষতিগ্রস্ত করে।

 

তিনি বলেন, ‘আমরা এখন পর্যন্ত কোনো জায়গায় মাইর খেলেও মাইরের কোনো জবাব দিচ্ছি না। তার মানে এই না যে আমাদের শক্তি নেই। এটা মনে করার কোনো কারণ নেই। শক্তি থাকলেই সব সময় শক্তি দেখাতে হয় না।’

 

ছাত্ররাজনীতির প্রতিযোগিতার ধরন ব্যাখ্যা করে শিবির সভাপতি বলেন, ‘আমি একটা নবীনবরণ করলে তুমি আরও ১০টা নবীনবরণ করো। আমি স্টুডেন্টদের নিয়ে হায়ার এডুকেশনের একটা প্রোগ্রাম করলে তুমি আরও ২০টা করো। আমি সফটওয়্যার ডেভেলপমেন্ট নিয়ে প্রোগ্রাম করলে তুমি আরও ভালো প্রোগ্রাম করো। এভাবেই প্রতিযোগিতা হওয়া উচিত।’

 

তিনি বলেন, ‘গায়ের জোর দিয়ে সবাই কিছু একটা করতে পারে। কিন্তু শিক্ষার্থীদের জন্য কে বেশি কাজ করতে পারে, কে বেশি ভালো উদ্যোগ নিতে পারে, কে শিক্ষার্থীদের সমস্যাগুলো নিয়ে বেশি কথা বলতে পারে—সেই প্রতিযোগিতাই হওয়া উচিত।’

 

সাদ্দাম হোসেন বলেন, জুলাইয়ের পর দেশের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে নতুন ধরনের ছাত্ররাজনীতির চর্চা প্রয়োজন। ছাত্রসংগঠনগুলোর কাজ হওয়া উচিত শিক্ষার্থীদের একাডেমিক উন্নয়ন, উচ্চশিক্ষা, গবেষণা, ক্যারিয়ার ও সামাজিক সচেতনতা বৃদ্ধিতে ভূমিকা রাখা।

 

তিনি বলেন, ‘জুলাইয়ের পরে ক্যাম্পাসগুলোতে মেধার চর্চা হওয়া উচিত। মেধার ভিত্তিতে কম্পিটিশন হওয়া উচিত। যুদ্ধটা হলে ইনটেলেকচুয়াল ওয়ার হওয়া উচিত।’

 

বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে শিবির সভাপতি বলেন, বিশ্ববিদ্যালয় শুধু সার্টিফিকেট অর্জনের জায়গা নয়; এটি জ্ঞান, মেধা, নৈতিকতা ও নেতৃত্ব তৈরির প্রতিষ্ঠান। শিক্ষার্থীদের নিজেদের যোগ্যতা অর্জনের পাশাপাশি সমাজ ও দেশের প্রতি দায়বদ্ধতা তৈরি করতে হবে।

 

তিনি বলেন, একটা সোসাইটি এমনিই তৈরি হয় না। একটা সমৃদ্ধ বাংলাদেশ মুখের কথায় তৈরি হয় না। যে সোসাইটি নিজেকে তৈরি করতে পেরেছে, সেই সোসাইটির মানুষগুলোকে আগে তৈরি করতে হবে। বিশ্ববিদ্যালয় যদি শুধু সার্টিফিকেট দেয়, কিন্তু নৈতিক মানুষ তৈরি করতে না পারে, তাহলে সেই শিক্ষা সমাজের জন্য কতটা কার্যকর—সেটা ভাবতে হবে।

 

দেশের উন্নয়নে মেধাবীদের ভূমিকার প্রসঙ্গ টেনে শিবির সভাপতি সিঙ্গাপুরের উদাহরণ তুলে ধরেন। তিনি বলেন, মেধাবীদের যথাযথভাবে মূল্যায়ন ও রাষ্ট্র পরিচালনায় তাদের সম্পৃক্ত করার মাধ্যমে একটি দেশ দ্রুত এগিয়ে যেতে পারে। বাংলাদেশেও মেধাভিত্তিক নেতৃত্ব প্রতিষ্ঠার প্রয়োজন রয়েছে।

 

তিনি বলেন, মেধার মূল্যায়ন না থাকলে কোনো সোসাইটি এগোতে পারে না। মেধাবীদের সামনে নিয়ে আসতে হবে। যারা যোগ্য, যারা মেধাবী, যারা নৈতিক—তাদের নেতৃত্বে আসার সুযোগ তৈরি করতে হবে।

 

শিবির সভাপতি আরও বলেন, ছাত্ররাজনীতির মূল প্রতিযোগিতা হওয়া উচিত শিক্ষার্থীদের জন্য ভালো কিছু করার ক্ষেত্রে। সংগঠনগুলো কে কত বেশি শিক্ষার্থীর পাশে দাঁড়াতে পারে, কে কত বেশি শিক্ষামূলক ও জনকল্যাণমূলক কর্মসূচি নিতে পারে এবং কে কত বেশি যোগ্য নেতৃত্ব তৈরি করতে পারে—তার ভিত্তিতেই নিজেদের প্রমাণ করা উচিত।

 

বুধবার (১২ আগস্ট) কুমিল্লা শহরের ঢুলিপাড়া চৌমুহনী এলাকায় এ নবীনবরণ ও ক্যারিয়ার গাইডলাইন অনুষ্ঠান কুবি শাখা ছাত্রশিবিরের সাধারণ সম্পাদক সাইফুল ইসলামের সঞ্চালনায় পরিচালিত হয়। এতে সভাপতিত্ব করেন বিশ্ববিদ্যালয় শাখা সভাপতি মোজাম্মেল হোসেন আবির। প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় সভাপতি নুরুল ইসলাম সাদ্দাম।

 

এ ছাড়াও প্রধান বক্তা হিসেবে উপস্থিত ছিলেন রাঙামাটি বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য ও চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আতিয়ার রহমান। এ ছাড়াও উপস্থিত ছিলেন কুমিল্লা মহানগর ও বিশ্ববিদ্যালয় শাখা শিবিরের অন্য নেতারা, বিশ্ববিদ্যালয়ের নবীন শিক্ষার্থী, শিক্ষক ও সাংবাদিকরা।

গায়ের জোর নয়, মেধা নিয়ে প্রতিযোগিতা চাই: শিবির সভাপতি

শ্রমিক ছাটাই নির্যাতন বন্ধ করে,ছাটাইকৃত শ্রমিকদের কাজে পুনর্বহাল,বন্ধকৃত কারখানা চালু , হয়রানী মূলক মিথ্যা মামলা প্রত্যাহার ও ত্রিপক্ষীয় চুক্তি বাস্তবায়নের দাবী করেছে বাংলাদেশ গার্মেন্টস এন্ড শিল্প শ্রমিক ফেডারেশন।

 

রাকিবুল ইসলাম রঞ্জু:

 

০৮ই আগস্ট ২০২৬ ইং তারিখ রোজ শনিবার,বেলা ১১.০০ ঘটিকায় ফেডারেশনের কেন্দ্রীয় কার্যালয় এক জরুরী সভা অনুষ্ঠিত হয়। উক্ত অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বাংলাদেশ গার্মেন্টস এন্ড শিল্প শ্রমিক ফেডারেশন এর কেন্দ্রীয় সভাপতি , বিশিষ্ট শ্রমিক নেতা মোঃ রফিকুল ইসলাম সুজন।সভায় বক্তব্য রাখেন সুমাইয়া ইসলাম, সাধারণ সম্পাদক,বাংলাদেশ গার্মেন্টস এন্ড শিল্প শ্রমিক ফেডারেশন, মোঃ আবু কালাম ,সহ সাধারন সম্পাদক,বাংলাদেশ গার্মেন্টস এন্ড শিল্প শ্রমিক ফেডারেশন, শিক্ষা ও সমাজ কল্যান সম্পাদক, রাশিদা আক্তার,বাংলা গার্মেন্টস শ্রমিক ফেডারেশনের সাভার আশুলিয়া থানা কমিটির সভাপতি মোঃ আলী আকবর খান,সাজিয়া রহমান, মাহমুদা হোসেন মিলি , হাসিনা খানম প্রমুখ।

 

সভায় সভাপতির বক্তব্যে রফিকুল ইসলাম সুজন বলেন পোশাক শিল্পের সংকট সমাধানে গ্যাস, বিদ্যুৎ সংকটের কারনে শ্রমিক ছাটাই, কর্মচ্যুত বেড়েই চলছে। মালিক -শ্রমিক উভয়েই হতাশ। উক্ত সমস্যার সমাধানে দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহন,দ্রব্যমুল্যের উর্দ্ধোগতি,শ্রমিক- কর্মচারীর ক্রয় ক্ষমতার নাগালের বাহিরে। অবিলম্বে দ্রব্যমুল্য নিয়ন্ত্রন, শ্রমিকদের মাঝে ব্যপক অসন্তোষ বিরাজমান করছে। অবিলম্বে মজুরী বোর্ড গঠন করে শ্রমিকদের পূর্ণমজুরী নির্ধারন এর দাবি, শ্রমিক – কর্মচারীদের বকেয়া বেতন -ভাতা, ছাটাইকৃত শ্রমিকদের কাজে পুর্নবহাল, হয়রানী মূলক মিথ্যা মামলা প্রত্যাহার, ত্রিপক্ষীয় চুক্তি বাস্তবায়ন করতে হবে।

 

তিনি আরো বলেন সাভারের আশুলিয়ায় অবস্থিত এ্যালিয়েন্স নীট কম্পোজিট লিঃ এর বে আইনীভাবে ৫৬৫ জন ছাটাইকৃত শ্রমিকদের অবিলম্বে কাজে পুর্নবহালের দাবি করেন,বকেয় বেতন ,ভাতা পরিশোধ করতে হবে এবং বেক নীট লিঃ,তান্যাম ডিজাইন লিঃ (লুসাকা গ্রুপ), এর ১৪০ জন শ্রমিককে সাময়িক বরখাস্তর তীব্র প্রতিবাদ ও নিন্দা জানাই। অবিলম্বে সাময়িক বরখাস্তের আদেশ প্রত্যাহার পূর্বক কাজে পুর্নবহালের দাবী জানাই।

 

তিনি আরো বলেন গাজীপুরে লিথী গ্রুপের ০৫টি কারখানার ৩৫০০জন শ্রমিককে সমস্যা সমাধানের দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহনের দাবী জানাই। ম্যাক্সন্স স্পিনিং মিলস, ত্রিপক্ষীয় চুক্তি মোতাবেক বন্ধ কারখানা চালু, হয়রানী মুলক মিথ্যা মামলা প্রত্যাহার, বকেয়া বেতন -ভাতা পরিশোধ না করা হলে শ্রমিক – কর্মচারীগন বৃহত্তর আন্দোলনের কর্মসূচি ঘোষনা করা হবে। প্রাইড গ্রুপ,রিজাইনকৃত ও ছাটাইকৃত শ্রমিকদের বকেয়া বেতন – ভাতা পরিশোধ করতে হবে।,বেক্সিমকো গ্রুপ বন্ধ কারখানা চালু কর, বকেয়া বেতন – ভাতা পরিশোধ কর,

 

বক্তারা বলেন বেলকুচি নীটিং এন্ড ডায়িং, সহ সকল কারখানার শ্রমিক – কর্মচারীদের সকল বকেয়া বেতন -ভাতা পরিশোধ, শ্রমিকদের রেশনিং চালু, শ্রমিক ছাটাই- নির্যাতন,বিভিন্ন শিল্প অঞ্চলের চলমান শ্রম অসন্তোষ দ্রুত নিরসন,মামলা- হামলা বন্ধ,বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে শ্রমিক কর্মচারীদের নামে হয়রানী মুলক মিথ্যা মামলা প্রত্যাহার দাবী জানান।দাবী বাস্তবায়ন না হলে যে প্রতিষ্ঠানের মালিক শ্রমিক -কর্মচারীদের বকেয়া বেতন- ভাতা পরিশোধ না করেন বৃহত্তর আন্দোলন কর্মসূচির মাধ্যমে দাবি বাস্তবায়ন করা হবে।

শ্রমিক ছাটাই নির্যাতন বন্ধ করে,ছাটাইকৃত শ্রমিকদের কাজে পুনর্বহাল,বন্ধকৃত কারখানা চালু , হয়রানী মূলক মিথ্যা মামলা প্রত্যাহার ও ত্রিপক্ষীয় চুক্তি বাস্তবায়নের দাবী করেছে বাংলাদেশ গার্মেন্টস এন্ড শিল্প শ্রমিক ফেডারেশন

নীলফামারী জেলা পরিষদের নিয়োগ নিয়ে রিট, এক সপ্তাহে নথি

চাইল অ্যাটর্নি জেনারেলের কার্যালয়

 

স্টাফ রিপোর্টার

মাইদুল ইসলামঃ

০৬/আগস্ট/২৬ইং

নীলফামারী জেলা পরিষদের নিম্ন বিভাগ সহকারী-কাম-টাইপিস্ট পদে নিয়োগ নিয়ে করা রিট মামলাটি শুনানির জন্য হাইকোর্টের কার্যতালিকায় রয়েছে। মামলায় রাষ্ট্রপক্ষের আইনগত প্রস্তুতির জন্য জেলা পরিষদের কাছে প্রয়োজনীয় নথিপত্র চেয়েছে অ্যাটর্নি জেনারেলের কার্যালয়। সম্ভব হলে এক সপ্তাহের মধ্যে এসব নদী পাঠাতে বলা হয়েছে। গত ৩ আগস্ট ডেপুটি আটর্নি জেনারেল মো.জে. আর.খান রবিন স্বাক্ষরিত চিঠিতে নীলফামারী জেলা পরিষদের চেয়ারম্যানকে এ নির্দেশনা দেওয়া হয়। চিঠি সূত্রের জানা গেছে, রিট পিটিশন নম্বর ২৪৮৪/২০২১ (মো. জাহিদ হোসেন বনাম বাংলাদেশ ও অন্যান্য) মামলাটি হাইকোর্ট বিভাগের বিচারপতি কে. এম. হাফিজুল আলম ও বিচারপতি মুরাদ-এ-মাওলা সোহেলের সমন্বয়ে গঠিত ডিভিশন বেঞ্চের দৈনিক কার্যতালিকায় শুনানির জন্য রয়েছে। রিটে অভিযোগ করা হয়েছে ২০১৯ সালের ১৩ জুন প্রকাশিত নিয়োগ বিজ্ঞপ্তির পর নীলফামারী জেলা পরিষদের নিম্ন বিভাগ

সহকারী -কাম-টাইপিস্ট পদে পরীক্ষা গ্রহণ ছাড়াই একজনকে অবৈধ ও গোপনে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। এ নিয়োগ কেন আইনগত কর্তৃত্ববহির্ভৃত ও অবৈধ ঘোষণা করা হবে না এবং নিয়োগ বাতিলের নির্দেশ কেন দেওয়া হবে না, তা জানতে চেয়ে হাইকোর্ট রুল জারি করেন। রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত সংশ্লিষ্ট নিয়োগ প্রক্রিয়ার সব নথি আদালতে দাখিলের ও নির্দেশ দেওয়া হয়। এরমধ্যে ২০১৯ সালের ১৯ জুলাই অনুষ্ঠিত হয়েছে বলে উল্লেখ করা পরীক্ষার নথি ও ফলাফলও রয়েছে। মামলাটির পরবর্তী শুনানিকে সামনে রেখে রাষ্ট্রপক্ষের প্রস্তুতির জন্য জেলা পরিষদের কাছে ভাকালতনামা,

অনুমোদনপত্র, ঘটনার বিবরণ, অনুচ্ছেদভিত্তিক জবাব এবং সংশ্লিষ্ট প্রমাণ্য নথিপত্র চেয়েছে অ্যাটর্নি জেনারেলের কার্যালয়। চিঠিতে বলা হয়েছে, প্রয়োজনীয় কাগজপত্র দ্রুত, সম্ভব হলে এক সপ্তাহের মধ্যে অ্যাটর্নি জেনারেলের কার্যালয়ে পাঠাতে হবে। নির্ধারিত সময়ে নথি সরবরাহ না করা হলে এর ফলে কোন বিরুপ পরিস্থিতি তৈরি হলে তার দায় অ্যাটর্নি জেনারেলের কার্যালয় বহন করবে না। প্রয়োজনে জেলা পরিষদ নিজম্ব প্যানেল আইনজীবীর মাধ্যমেও মামলাটিতে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নিতে পারবে বলে চিঠিতে উল্লেখ করা হয়েছে। এ বিষয়ে সার্বিক সময়ের জন্য ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল মো.জে.আর.খান রবিনের সঙ্গে যোগাযোগ করতে জেলা পরিষদকে অনুরোধ করা হয়েছে।

নীলফামারী জেলা পরিষদের নিয়োগ নিয়ে রিট, এক সপ্তাহে নথি  চাইল অ্যাটর্নি জেনারেলের কার্যালয় 

নোয়ালীর সেনবাগে বন্ধুদের সঙ্গে বাইরে গিয়ে ফুটবল খেলা দেখা ও দেরিতে বাড়ি ফেরাকে কেন্দ্র করে স্ত্রীর সঙ্গে ঝগড়ার পর মো. আলাউদ্দিন ওরফে রায়হান (২৭) নামে এক যুবক আত্মহত্যা করেছেন বলে জানিয়েছে পুলিশ। আজ সোমবার ভোরে উপজেলার কেশারপাড় গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। রায়হান ওই বাড়ির কুয়েতপ্রবাসী আব্দুল বারেকের ছেলে।

 

স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, রায়হান সৌদি আরবপ্রবাসী ছিলেন। প্রায় এক বছর আগে দেশে ফেরেন তিনি। পাঁচ-ছয় মাস আগে বিয়ে করেন। রোববার দিবাগত রাতে স্থানীয় কানকিরহাট বাজারে বন্ধুদের সঙ্গে আর্জেন্টিনা-স্পেনের বিশ্বকাপ ফুটবল খেলা দেখতে যান। খেলা শেষে ভোররাতে বাড়ি ফেরেন তিনি।

 

বাইরে গিয়ে খেলা দেখা ও দেরিতে বাড়ি ফেরাকে কেন্দ্র করে স্ত্রী মারজাহান আক্তার মমতাজের (১৮) সঙ্গে তার ঝগড়া হয়। একপর্যায়ে সোমবার সকালে স্ত্রী বাবার বাড়িতে চলে যাওয়ার কথা বলে ঘর থেকে বেরিয়ে যান। তখন রায়হান স্ত্রীকে আত্মহত্যার হুমকি দেন। ঘর থেকে বের হয়ে কিছু দূর যাওয়ার পর স্ত্রী আবার ফিরে আসেন এবং স্বামী রায়হানকে সিলিং ফ্যানের সঙ্গে ঝুলন্ত অবস্থায় দেখতে পান। খবর পেয়ে দুপুর ১২টার দিকে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করে।

 

সেনবাগ থানার ওসি আবদুর রহিম সরকার বলেন, খবর পেয়ে পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে থানায় নিয়ে যায়। ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহ নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। এ ঘটনায় থানায় অপমৃত্যুর মামলা হয়েছে।

 

বেগমগঞ্জ সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার এ এন এম ইমরান খান বলেন, প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, পারিবারিক কলহের জেরে রায়হান আত্মহত্যা করেছেন। বিষয়টি নিয়ে পুলিশ তদন্ত করছে।

বন্ধুদের নিয়ে বাইরে ফুটবল খেলা দেখা নিয়ে স্ত্রীর সঙ্গে ঝগড়া, যুবকের আত্মহত্যা

নওগাঁয় পুলিশ সুপারের নির্দেশনায় অভিযান, ২২লিটার চোলাই মদসহ গ্রেফতার ৩

 

 

মোঃ সাইদুল ইসলাম হেলাল

নওগাঁ প্রতিনিধিঃ

নওগাঁর পুলিশ সুপার মোহাম্মদ তারিকুল ইসলামের বিশেষ নির্দেশনায় মাদকবিরোধী অভিযান চালিয়ে ২২ লিটার চোলাই মদসহ তিন মাদক কারবারিকে গ্রেফতার করেছে নিয়ামতপুর থানা পুলিশ।

 

আজ রবিবার (১৯ জুলাই) সন্ধ্যা আনুমানিক ৭টার দিকে উপজেলার ৬নং পাড়ইল ইউনিয়নের সাতঘরা গ্রামের একটি বসতবাড়িতে অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেফতার করা হয়।

 

গ্রেফতারকৃতরা হলেন— উপজেলার তল্লা সর্বজান গ্রামের মৃত আব্দুল হামিদের ছেলে রিপন পারভেজ (২৫), একই গ্রামের মোঃ সোহরাব প্রামানিকের ছেলে মোঃ সেলিম রেজা (২৫) এবং সাতঘরা গ্রামের মৃত শিবার ছেলে শ্রী সুতেষ (৬০)।

 

পুলিশ জানায়, জেলাকে মাদক মুক্ত করার ধারাবাহিক প্রত্যয়ে পুলিশ সুপারের দিক-নির্দেশনায় নিয়ামতপুর থানার অফিসার ইনচার্জের (ওসি) নেতৃত্বে পুলিশের একটি বিশেষ টিম এই অভিযান পরিচালনা করে। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে সাতঘরা গ্রামের একটি বসতবাড়িতে তল্লাশি চালিয়ে অভিনব কায়দায় মজুদ রাখা ২২ লিটার অবৈধ চোলাই মদ উদ্ধার করা হয়। এ সময় হাতেনাতে গ্রেফতার করা হয় ওই তিনজনকে।

 

প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেফতারকৃত আসামিরা দীর্ঘদিন ধরে অবৈধভাবে চোলাই মদ তৈরি, মজুদ ও এলাকায় কেনাবেচা করার কথা পুলিশের কাছে স্বীকার করেছে।

 

নিয়ামতপুর থানা পুলিশ জানিয়েছে, গ্রেফতারকৃত মাদক কারবারিদের বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে একটি মামলা দায়েরের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। মাদকের বিরুদ্ধে জেলা পুলিশের এমন কঠোর অভিযান আগামীতেও অব্যাহত থাকবে বলে প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়।

 

মোঃ সাইদুল ইসলাম হেলাল

নওগাঁ প্রতিনিধিঃ

মোবাইল নং- ০১৭২৪২৫৫৭০৬

১৯-৭-২০২৬

নওগাঁয় পুলিশ সুপারের নির্দেশনায় অভিযান, ২২লিটার চোলাই মদসহ গ্রেফতার ৩ 

স্টাফ রিপোর্টার

তানিন পিয়াস চৌধুরী

তাং -১১/০৭/২০২৬ শনিবার

 

হেডলাইন: নড়াইলে কালিয়ায় ওয়ান শু’টা’র গান ও দেশীয় অ*স্ত্রসহ শীর্ষ স*ন্ত্রাসী খবির মোল্লা গ্রে*প্তার—

 

র‌্যাবের একটি চৌকস আভিযানিক দল নড়াইলের কালিয়া উপজেলার হামিদপুর ইউনিয়নের সিলিমপুর গ্রাম থেকে শীর্ষ সন্ত্রাসী খবির মোল্লাকে গ্রেপ্তার করেছে। অভিযানে তার কাছ থেকে একটি ওয়ান শুটার গান,দুই রাউন্ড গুলি ও বেশ কিছু দেশীয় অস্ত্র উদ্ধার করা হয়।

এলাকায় শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রাখতে র‌্যাবের এমন অভিযানকে স্বাগত জানিয়েছে স্থানীয় জনগণ।

 

র‌্যাব-৬-এর স্পেশাল কোম্পানির কমান্ডার মেজর মোহাম্মদ নাজমুল ইসলামের নেতৃত্বে পরিচালিত অভিযানে তাকে আটক করা হয়।

 

গ্রেপ্তার খবির মোল্লা কালিয়া উপজেলার হামিদপুর ইউনিয়নের সিলিমপুর গ্রামের কাউসার মোল্লার ছেলে।

 

র‌্যাব জানিয়েছে, উদ্ধার হওয়া অস্ত্র ও গুলির ঘটনায় খবির মোল্লার বিরুদ্ধে অস্ত্র আইনে মামলা দায়েরসহ প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।

 

কালিয়া ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোঃ ইদ্রিস আলী বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন,গ্রেফতারকৃত আসামিকে থানায় হস্তান্তর করা হয় নাই। তাকে হস্তান্তর করা হলে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

 

নড়াইল কালিয়া থেকে

তানিন পিয়াস চৌধুরী

গন টেলিভিশন সংবাদ

নড়াইলে কালিয়ায় ওয়ান শু’টা’র গান ও দেশীয় অ*স্ত্রসহ শীর্ষ স*ন্ত্রাসী খবির মোল্লা গ্রে*প্তার

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

গানে থাকা দৃশ্যমান ওয়াটারমার্ক সরানোর সুযোগ দিচ্ছে প্রতিষ্ঠানটি। তবে দৃশ্যমান ওয়াটারমার্ক সরানো হলেও এআই দিয়ে তৈরি কনটেন্ট শনাক্ত করতে গোপন প্রযুক্তিগত চিহ্ন বহাল থাকবে।

 

গুগল নতুন একটি সেটিং চালু করেছে, যার মাধ্যমে ব্যবহারকারীরা জেমিনির ‘ন্যানো ব্যানানা’ ইমেজ জেনারেশন মডেল দিয়ে তৈরি ছবির দৃশ্যমান ওয়াটারমার্ক সরাতে পারবেন। বর্তমানে নির্দিষ্ট কিছু অঞ্চলে জেমিনি ও ‘ফ্লো’ প্ল্যাটফর্মে এ সুবিধা পাওয়া যাচ্ছে। শিগগিরই গুগলের ‘সার্চ এআই মোডেও’ এটি চালু হতে পারে।

 

শুধু ছবিই নয়, এআই দিয়ে তৈরি অন্যান্য কনটেন্টের ক্ষেত্রেও ওয়াটারমার্ক সরানোর সুবিধা দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে গুগলের। জেমিনি ‘ওমনি’ দিয়ে তৈরি ভিডিও এবং ‘লিরিয়া’ দিয়ে তৈরি গান থেকেও দৃশ্যমান ওয়াটারমার্ক সরাতে পারবেন ব্যবহারকারীরা।

 

স্থানীয় আইনের ওপর নির্ভর করবে ওয়াটারমার্ক অপসারণ

 

গুগল জানিয়েছে, যেসব দেশ বা অঞ্চলে আইন অনুযায়ী এআই-নির্মিত কনটেন্টে ওয়াটারমার্ক প্রদর্শন বাধ্যতামূলক, সেখানে এ সুবিধা পাওয়া যাবে না।

 

তবে দৃশ্যমান ওয়াটারমার্ক সরানো গেলেও এআই-নির্মিত কনটেন্ট থেকে গোপন শনাক্তকারী সরাবে না গুগল। প্রতিষ্ঠানটি কনটেন্টের উৎস ও পরিচয় শনাক্ত করতে ‘সিন্থআইডি’ নামের অদৃশ্য ওয়াটারমার্ক প্রযুক্তির পাশাপাশি ‘সিটুপিএ’ মেটাডেটা ব্যবহার করবে।

ওয়াটারমার্ক সরালেও শনাক্ত করা যাবে এআই কনটেন্ট

 

দৃশ্যমান ওয়াটারমার্ক সরিয়ে ফেললেই কোনো কনটেন্ট এআই দিয়ে তৈরি বা সম্পাদিত হয়েছে—এটি শনাক্ত করা অসম্ভব হয়ে যাবে না। গুগলের দাবি, ব্যবহারকারীরা চাইলে জেমিনিকে জিজ্ঞেস করেও জানতে পারবেন কোনো ছবি এআই দিয়ে তৈরি বা সম্পাদিত হয়েছে কি না।

 

জেমিনি ছবির গোপন উৎস-সংক্রান্ত তথ্য বিশ্লেষণ করতে পারে এবং যেখানে প্রযোজ্য, সেখানে ‘সিন্থআইডি’ শনাক্তকারী খুঁজে বের করতে পারে। এর ফলে দৃশ্যমানভাবে কনটেন্টে কোনো চিহ্ন না থাকলেও পেছনের প্রযুক্তির মাধ্যমে সেটি এআই-নির্মিত কি না, তা শনাক্ত করার সুযোগ থাকবে।

 

এআই কনটেন্ট নিয়ে বাড়ছে বিতর্ক

 

এআই দিয়ে তৈরি ছবি, ভিডিও, গানসহ বিভিন্ন ধরনের কনটেন্টের ব্যবহার দ্রুত বাড়ছে। ফলে কৃত্রিমভাবে তৈরি কনটেন্ট যেন সহজে শনাক্ত করা যায়, সে বিষয়ে প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলোর ওপর চাপও বাড়ছে।

 

একই সঙ্গে ব্যবহারকারীরা যেন নিজেদের প্রয়োজন অনুযায়ী এআই-নির্মিত কনটেন্টের দৃশ্যমান উপস্থাপনা নিয়ন্ত্রণ করতে পারেন, সেই দাবিও রয়েছে। গুগলের নতুন সিদ্ধান্তকে দৃশ্যমান লেবেলিং ও গোপন শনাক্তকরণ—এই দুই ব্যবস্থার মধ্যে ভারসাম্য তৈরির একটি উদ্যোগ হিসেবে দেখা হচ্ছে।

জেমিনির এআই কনটেন্ট থেকে ওয়াটারমার্ক সরানোর সুযোগ দিচ্ছে গুগল

সাভারের কাউন্দিয়ায় আতিকুর রহমান আতিকের বিরুদ্ধে নানা অভিযোগ এলাকা বাসির।

 

 

 

 

সাভারের কাউন্দিয়া ইউনিয়ন পরিষদ এলাকায় আওয়ামী লীগের সাবেক নেতা আতিকুর রহমান আতিকের বিরুদ্ধে দীর্ঘদিন ধরে প্রভাব বিস্তার,সাধারণ মানুষকে হয়রানি ও ভয়ভীতি প্রদর্শনের অভিযোগ উঠেছে।স্থানীয়দের দাবি, রাজনৈতিক পরিচয় ও প্রভাবকে কাজে লাগিয়ে তিনি এলাকায় নিজের আধিপত্য ধরে রাখার চেষ্টা করেছেন।এতে তার বিরুদ্ধে অভিযোগ থাকলেও ভয়ে অনেকেই প্রকাশ্যে কথা বলতে সাহস পান না।স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ,আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে কাউন্দিয়া ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকায় আতিকুর রহমান রাজনৈতিক প্রভাব ও দাপট ছিলো । বিভিন্ন সামাজিক ও স্থানীয় বিষয়ে তার হস্তক্ষেপ এবং অনুসারীদের তৎপরতায় সাধারণ মানুষকে নানা সময়ে বিব্রতকর পরিস্থিতির মুখে পড়তে হয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে।অভিযোগ কারীদের ভাষ্য,স্থানীয় বিরোধ,জমি-জমা সংক্রান্ত বিষয়,সামাজিক কর্মকাণ্ড কিংবা রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড—বিভিন্ন ক্ষেত্রে নিজের প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা করতেন আতিক। তার মতের বিরোধিতা করলে কিংবা কোনো বিষয়ে প্রতিবাদ করলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিকে নানাভাবে চাপের মুখে পড়তে হতো বলেও অভিযোগ করেছেন কয়েকজন স্থানীয় বাসিন্দা।নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন বাসিন্দা জানান রাজনৈতিক প্রভাবের কারণে দীর্ঘদিন ধরে অনেকে এসব বিষয়ে মুখ খুলতে পারেননি।তাদের দাবি,বর্তমানে রাজনৈতিক পরিস্থিতির পরিবর্তন হলেও আতিকুর রহমান এর প্রভাব এবং তার ঘনিষ্ঠদের তৎপরতা নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে এখনও উদ্বেগ রয়েছে।স্থানীয়দের আরও অভিযোগ করেন,কোনো ব্যক্তি তার কর্মকাণ্ডের বিরোধিতা করলে সামাজিক ভাবে চাপ সৃষ্টি কিংবা বিভিন্নভাবে হয়রানির আশঙ্কা তৈরি হতো।তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে নির্দিষ্ট ঘটনা,ভুক্তভোগী ও প্রমাণ যাচাই করে দেখা প্রয়োজন বলে মনে করছেন সচেতন মহল।এদিকে এলাকাবাসী বলছেন,রাজনৈতিক পরিচয় যাই হোক না কেন,একজন সাধারণ নাগরিকের নিরাপদে ও স্বাভাবিকভাবে বসবাসের অধিকার রয়েছে।কারও বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট অভিযোগ থাকলে তা নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করে সত্যতা পাওয়া গেলে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান তারা,স্থানীয়দের দাবি,আতিকুর রহমান আতিকের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ গুলো প্রশাসনের পক্ষ থেকে নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করা হোক।একই সঙ্গে রাজনৈতিক প্রভাব ব্যবহার করে কেউ যাতে সাধারণ মানুষকে হয়রানি বা ভয়ভীতি দেখাতে না পারে,সে বিষয়ে প্রশাসনের কার্যকর নজরদারি প্রয়োজন।অভিযোগগুলোর বিষয়ে আতিকুর রহমান আতিকের বক্তব্য জানা সম্ভব হলে তা পরবর্তী প্রতিবেদনে তুলে ধরা হবে।

সাভারের কাউন্দিয়ায় আতিকুর রহমান আতিকের বিরুদ্ধে নানা অভিযোগ এলাকা বাসির।

নীলফামারীতে দলিল লেখকদের সাতদফা দাবী বাস্তবায়নে আইনমন্ত্রী বরাবর স্মারকলিপি

স্টাফ রিপোর্টার

মাইদুল ইসলামঃ দলিল লেখক সমিতির সাত দফা দাবী বাস্তবায়নে আইনমন্ত্রী বরাবর স্মারকলিপি দেয়া হয়েছে। মঙ্গলবার (১৮ আগস্ট) দুপুরে জেলা প্রশাসক মাধ্যম এই স্মারকলিপি প্রেরণ করা হয়। এরআগে শহরের শহীদ মিনার এলাকাস্থ দলিল লেখক সমিতির জেলা কার্যালয় থেকে একটি বিক্ষোভ মিছিল নিয়ে জেলা প্রশাসক কার্যালয়ে গিয়ে সমাবেশে মিলিত হন দলিল লেখকরা। সংগঠনের সভাপতি শফিকুল ইসলামের সভাপতিত্বে বিক্ষোভ সভায় প্রধান ছিলেন সাধারণ সম্পাদক গোলাম রব্বানী। অন্যান্যদের মধ্যে সমিতির সাবেক সভাপতি মো. আব্দুল্লাহ্, দলিল লেখক আজগর আলী সরকার ও ডিমলা উপজেলার মাসুদ রানা বক্তব্য দেন।”স্মারকলিপিতে দলিল রেজিস্ট্রেশন পদ্ধতি আধুনিকায়নের নামে দলিল লেখকদের

পেশাচ্যুত না করা, সম্মানিক পাঁচ হাজার টাকা নির্ধারণ, লাইসেন্স প্রাপ্ত দলিল লেখক ব্যতীত অন্য কারো দলিল লেখনির সুযোগ না দেয়া। অনভিজ্ঞদের লাইসেন্স প্রদান না করা, সরকারি খরচে দলিল লেখকের বসার ব্যবস্থা ও নামাজের স্থান নির্ধারণ, দলিল লেখক কাউন্সিল গঠন এবং দলিল লেখকদের পেশাগত কারণে আসামী না করার উল্লেখ করা হয়। বাংলাদেশ দলিল লেখক সমিতি জেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক গোলাম রব্বানী জানান, সাত দফা দাবী বাস্তবায়নে চলতি বছরের আটই ফেব্রুয়ারী ঢাকায় সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয় এবং এতে একাত্মতা প্রকাশ করেন বিএনপি নেতারা। দাবি বাস্তবায়নে সারাদেশে লিফলেট বিতরণ ও সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। বলেন, আমরা চাই মাননীয় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান আমাদের দাবিগুলো মেনে নিয়ে দলিল লেখকদের পাশে দাঁড়াবেন।”স্মারকলিপি গ্রহণ করেন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) নুজহাত তাসনীম আওন।

নীলফামারীতে দলিল লেখকদের সাতদফা দাবী বাস্তবায়নে আইনমন্ত্রী বরাবর স্মারকলিপি 

কুমিল্লার চৌদ্দগ্রামে পারিবারিক কলহের জেরে স্ত্রীকে বৈদ্যুতিক শকে হত্যার ঘটনায় মোহাম্মদ আজাদ নামে এক যুবককে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আদালত।

 

মঙ্গলবার (১৮ আগস্ট) বেলা সাড়ে ১১টার দিকে কুমিল্লার অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ পঞ্চম আদালতের বিচারক মোহাম্মদ সুলতান উদ্দীন প্রধান এ রায় ঘোষণা করেন। এ সময় আসামি আদালতের কাঠগড়ায় উপস্থিত ছিলেন।

 

দণ্ডপ্রাপ্ত মোহাম্মদ আজাদ চৌদ্দগ্রাম উপজেলার মুন্সিরহাট ইউনিয়নের বসন্তপুর গ্রামের মো. কবির হোসেনের ছেলে।

 

মামলার এজাহার ও আদালত সূত্রে জানা গেছে, দীর্ঘদিন ধরে স্ত্রী তানিয়া বেগমের সঙ্গে আজাদের পারিবারিক কলহ চলে আসছিল। এ নিয়ে ২০২৩ সালের ২৭ জুলাই দিবাগত রাতে আজাদ তার স্ত্রী তানিয়া বেগমের হাত-পায়ে বৈদ্যুতিক তার জড়িয়ে শক দেন। এতে ঘটনাস্থলেই তানিয়ার মৃত্যু হয় বলে মামলায় অভিযোগ করা হয়। নিহত তানিয়া বেগম তিন সন্তানের জননী ছিলেন।

 

এ ঘটনায় নিহতের মা মায়া বেগম বাদী হয়ে তার জামাতা মোহাম্মদ আজাদকে আসামি করে চৌদ্দগ্রাম থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন। মামলার পর পুলিশ ঘটনাটি তদন্ত শুরু করে। তদন্তের পাশাপাশি ময়নাতদন্ত প্রতিবেদনসহ বিভিন্ন আলামত ও সাক্ষ্য-প্রমাণ পর্যালোচনা করা হয়। তদন্তে তানিয়ার মৃত্যুর বিষয়টি হত্যাকাণ্ড হিসেবে প্রমাণিত হয়।

 

পরে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা মোহাম্মদ আজাদের বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেন। দীর্ঘ বিচারিক প্রক্রিয়ায় মামলার সাক্ষীদের সাক্ষ্যগ্রহণ ও অন্যান্য নথিপত্র পর্যালোচনা শেষে আদালত মঙ্গলবার মোহাম্মদ আজাদকে মৃত্যুদণ্ডের আদেশ দেন।

 

রায় ঘোষণার পর বাদীপক্ষের আইনজীবী মো. এনামুল হক সরকার বলেন, আদালতে বাদী পক্ষ ন্যায়বিচার পেয়েছেন। তারা দ্রুত রায় কার্যকর করার দাবি জানান।

স্ত্রীকে বৈদ্যুতিক শকে হত্যা, স্বামীর মৃত্যুদণ্ড

পড়ার টেবিল নেই। কখনো বিছানায়, কখনো মায়ের সেলাই মেশিনের ওপর বই রেখে পড়তে হয়েছে। বাড়িতে যাওয়ার জন্য নেই কোনো পাকা রাস্তা। অন্যের লিচুবাগানের ভেতর দিয়ে সরু পথ পেরিয়ে পৌঁছাতে হয় টিনের ছাপড়া ঘরে। অভাবের সংসারের এসব সীমাবদ্ধতা থামাতে পারেনি সাদিয়া আফরিনকে। সব পিছুটান ছাপিয়ে এবার এসএসসি পরীক্ষায় বিজ্ঞান বিভাগ থেকে জিপিএ-৫ পেয়েছে সে।

 

সাদিয়ার বাড়ি দিনাজপুর সদর উপজেলার মাসিমপুর সরকারপাড়া এলাকায়। বাবা মো. সেলিম একজন চালকল শ্রমিক। মা আরফা বেগম ঘর-গৃহস্থালির কাজের পাশাপাশি বাড়িতে সেলাই কাজ করেন। সেলিম-আরফা দম্পতির তিন মেয়ের মধ্যে সাদিয়া বড়। এসএসসিতে জিপিএ-৫ পাওয়ায় পরিবার ও গ্রামজুড়ে আনন্দের আবহ তৈরি হয়েছে।

 

তবে সাদিয়ার এই সাফল্যের পেছনে রয়েছে এক বছর ধরে প্রতি বুধবারের এক বিশেষ পাঠশালা। সেই পাঠশালার শিক্ষক ছিলেন দিনাজপুরের জেলা প্রশাসক মো. রফিকুল ইসলাম।

 

সীমিত আয়ে সংসার চালানোর পর মেয়েদের পড়াশোনার খরচ জোগানো কঠিন হয়ে পড়েছিল সেলিম-আরফা দম্পতির। গত বছরের জুলাইয়ে মেয়ের পড়াশোনার জন্য জেলা প্রশাসকের কাছে আর্থিক সহায়তার আবেদন করেন আরফা বেগম। এক সপ্তাহ পর মেয়েকে নিয়ে জেলা প্রশাসকের সঙ্গে দেখা করেন তিনি। এ সময় জেলা প্রশাসক তাদের পরিবারের খোঁজখবর নেন এবং পড়াশোনা নিয়ে সাদিয়াকে নানা প্রশ্ন করেন। সেদিন বেশির ভাগ প্রশ্নের উত্তর ঠিকঠাক দিতে না পারলেও সেখান থেকেই সাদিয়ার জীবনের নতুন অধ্যায়ের শুরু।

 

জেলা প্রশাসক শুধু আর্থিক সহায়তার আশ্বাসই দেননি, পড়াশোনার কৌশলও বুঝিয়ে দেন। সাত দিনের পড়া ঠিক করে দিয়ে প্রতি বুধবার গণশুনানির দিন সকালে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে এসে পড়া দিতে বলেন। ঠিক করে দেন প্রতিদিনের পড়াশোনার রুটিনও। চার মাস পর আর্থিক সহায়তা দেওয়ার আশ্বাস দিলেও পরের মাসেই সাদিয়াকে ৭ হাজার টাকা দেওয়া হয়। তবে অর্থের সেই সহায়তার চেয়েও বড় হয়ে ওঠে নিয়মিত পড়াশোনার তদারকি।

 

এরপর শুরু হয় সাদিয়ার বুধবারের যাত্রা। সপ্তাহের সাত দিনের পড়া নিয়ে সে হাজির হতো দিনাজপুর জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে। পড়া দিত, ভুল হলে সংশোধন করত, নতুন পড়া নিয়ে বাড়ি ফিরত। এভাবে এক সপ্তাহ, দুই সপ্তাহ করে কেটে যায় মাস। কেটে যায় পুরো একটি বছর। প্রতি বুধবার জেলা প্রশাসকের কাছে পড়া দেওয়া এবং নতুন পড়া নিয়ে বাড়ি ফেরা সাদিয়ার জীবনের নিয়মিত অংশ হয়ে ওঠে।

 

জেলা প্রশাসক সাদিয়ার বিদ্যালয় দিনাজপুর সদর উপজেলার কাদের বকস মেমোরিয়াল হাই স্কুল পরিদর্শনে গিয়েও তার খোঁজ নিতেন। ওই বিদ্যালয়সহ জেলার বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে গিয়ে জেলা প্রশাসকের শিক্ষার্থীদের পাঠদান করার ঘটনাও রয়েছে।

 

গত ১০ আগস্ট এসএসসি পরীক্ষার ফল প্রকাশিত হয়। ফলাফল তালিকায় সাদিয়ার রোল নম্বরের পাশে জিপিএ-৫ দেখে আনন্দে ভরে ওঠে সেলিম-আরফা দম্পতির ঘর। পরে জেলা প্রশাসকের সঙ্গে দেখা করতে গেলে তিনি সাদিয়াকে অভিনন্দন জানান এবং মিষ্টিমুখ করান। এক বছর ধরে প্রতি বুধবার যে মেয়েটি পড়া দিতে তার কাছে যেত, সেই মেয়েটির হাতে এবার ছিল সাফল্যের খবর।

 

সম্প্রতি সাদিয়াদের বাড়িতে গিয়ে দেখা যায়, মাত্র দুই শতক জমির ওপর টিনের ছাপড়া ঘর। ঘরের মাঝখানে দেওয়া একটি বেড়া পুরো ঘরটিকে দুই ভাগ করেছে। এক পাশে সাদিয়ার বাবা-মা ও ছোট বোনের ঘুমানোর জায়গা। অন্য পাশে সাদিয়া ও তার মেঝ বোনের থাকার জায়গা। একটি আলমারির ওপর সাজানো সাদিয়ার বইপত্র। ঘরের পাশেই ছোট্ট একটি রান্নাঘর। রান্নাঘরের টিনের চালে লকলকে লতার ফাঁকে ঝুলছে চালকুমড়া।

 

সাদিয়ার বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মকসেদ আলী বলেন, এবার বিদ্যালয় থেকে ৪৩ জন এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নেয়। এর মধ্যে ২২ জন পাশ করেছে। একমাত্র সাদিয়া আফরিনই জিপিএ-৫ পেয়েছে। জেলা প্রশাসক স্যার প্রায় সময়ই আমাদের স্কুলে আসেন, ক্লাসও নেন। সাদিয়াকে নিজের মেয়ের মতো দেখতেন, পড়াতেন। তার ভালো ফলাফলে আমরা আনন্দিত।

 

সাদিয়ার মা আরফা বেগম বলেন, নিজে পড়ালেখা করতে পারিনি। কষ্ট করে মেয়েদের পড়ালেখা করাচ্ছি। মেয়ের বই কেনার জন্য আর্থিক সহযোগিতা চেয়ে ডিসি স্যারের কাছে আবেদন করেছিলাম। স্যার আমাদের সহযোগিতা করেছেন। শুধু অর্থ দিয়ে নয়, মেয়েকে নিয়মিত পড়া দিয়েছেন, পড়া নিয়েছেন, খোঁজখবর নিয়েছেন। আজকে মেয়েটা ভালো রেজাল্ট করেছে। অনেকেই খোঁজখবর নিচ্ছে, এটা অনেক আনন্দের।

 

মেয়ের সাফল্যে খুশি বাবা মো. সেলিমও। তবে আনন্দের পাশাপাশি তার কণ্ঠে আছে ভবিষ্যৎ নিয়ে দুশ্চিন্তা। তিনি বলেন, ডিসি স্যার আমার মেয়ের নিয়মিত খোঁজ রেখেছেন, তাকে সহায়তা করেছেন। মেয়েটাকে একটা পড়ার টেবিল পর্যন্ত কিনে দিতে পারিনি। হয় বিছানায়, নয়তো ওর মায়ের সেলাই মেশিনের ওপর বই রেখেই পড়ালেখা করেছে। মেয়ে অনেক দূর পর্যন্ত পড়ালেখা করতে চায়। জানি না কতদূর পর্যন্ত পড়াতে পারব।

 

পড়ালেখা শেষ করে সরকারি চাকরি করার প্রত্যাশা সাদিয়ার। মা-বাবার অভাবের সংসার হলেও স্বপ্ন দেখতে ছাড়েনি সে। সাদিয়া বলে, ডিসি স্যারের কাছে পড়া দিতে প্রথমদিকে ভয় পেতাম। কিন্তু পড়াগুলো নিয়মিত করতাম। আর্থিক সহায়তার পাশাপাশি স্যার অনেক সাহস দিয়েছেন।

 

সাদিয়ার বিষয়ে দিনাজপুরের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) এস এম হাবিবুল হাসান বলেন, স্যার ব্যস্ততার ফাঁকে নিয়মিত স্কুল পরিদর্শন করেন, শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কথা বলেন। তবে সাদিয়াকে অর্থ সহায়তার পাশাপাশি পড়ালেখার একটি রুটিন ঠিক করে দিয়েছিলেন। সে বিষয়গুলো মেনে চলেছে।

 

তিনি বলেন, গত দেড় বছরে জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে প্রায় ৪০০ দরিদ্র মেধাবী শিক্ষার্থীকে শিক্ষা সহায়তা দেওয়া হয়েছে। প্রতি বছর নির্দিষ্টসংখ্যক শিক্ষার্থীকে বৃত্তি দেওয়ার কাজও হাতে নেওয়া হয়েছে।

 

দিনাজপুর জেলা প্রশাসক মো. রফিকুল ইসলাম বলেন, মেয়েটি তার মায়ের সঙ্গে এসেছিল। বই কেনার জন্য কিছু টাকার জন্য আবেদন করেছিল। প্রথম দিন কথা বলে বুঝেছিলাম, ওর মধ্যে বেশ আগ্রহ আছে। তারপর ওকে একটা চ্যালেঞ্জ দিলাম। ও সত্যি সত্যি রুটিন মেনে হোমওয়ার্কগুলো করেছে।

 

তিনি বলেন, এমন হাজারো সাদিয়া রয়েছে আমাদের চারপাশে, যারা লেখাপড়ার জন্য প্রয়োজনীয় কাগজ-কলমও পায় না। দিনাজপুরের বেশ কিছু স্কুল ঘুরছি, শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কথা বলেছি। গত দেড় বছরে জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে কিছু মেধাবী শিক্ষার্থীকে শিক্ষা সহায়তা দেওয়া হয়েছে। প্রতি বছর নির্দিষ্টসংখ্যক শিক্ষার্থীকে বৃত্তি দেওয়ার কাজও হাতে নেওয়া হয়েছে।

জেলা প্রশাসকের কাছে পড়ালেখা করা সাদিয়া পেল জিপিএ-৫

শিক্ষক-সংকটের বিষয়টিও তুলে ধরেন শিক্ষামন্ত্রী। তিনি বলেন, প্রাথমিক শিক্ষা ও মাধ্যমিক পর্যায়ে বিপুলসংখ্যক শিক্ষক প্রয়োজন। প্রাথমিক বিদ্যালয়ে দীর্ঘদিন ধরে প্রধান শিক্ষকসহ বিভিন্ন পদ শূন্য রয়েছে। ২০১৭ সাল থেকে এ-সংক্রান্ত মামলা ও প্রশাসনিক জটিলতার কারণে নিয়োগপ্রক্রিয়া বাধাগ্রস্ত হয়েছে। বর্তমানে দ্রুত শিক্ষক নিয়োগের বিষয়ে সরকার সর্বোচ্চ চেষ্টা করছে।

 

শিক্ষামন্ত্রী বলেন, ‘প্রতিষ্ঠান এভাবে চলতে পারে না। আমরা আমাদের সর্বোচ্চ চেষ্টা করছি। শিক্ষক নিয়োগ কত দ্রুত করা যায়, সে বিষয়ে কাজ করছি।’

 

শিক্ষামন্ত্রী আরও বলেন, কারিগরি শিক্ষাকে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। দেশের বিপুল জনসংখ্যাকে মানবসম্পদে রূপান্তর করতে কারিগরি শিক্ষা ও জীবনব্যাপী শিক্ষার সুযোগ বাড়াতে হবে।

 

‎অনুষ্ঠানে জাতীয় প্রাথমিক শিক্ষা একাডেমির (ন্যাপ) মহাপরিচালক ফরিদ আহমদের সভাপতিত্বে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ, যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী মো. আমিনুল হক, সেভ দ্য চিলড্রেনের কান্ট্রি ডিরেক্টর সুমন সেনগুপ্ত এবং প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক শাহীনা ফেরদৌসী।

শিক্ষকদের জন্য স্বতন্ত্র পে স্কেলের কথা জানালেন শিক্ষামন্ত্রী

ফেনীর ছাগলনাইয়ায় আর্থিক সহায়তার কথা বলে এক প্রতিবন্ধী নারীকে নির্জন স্থানে নিয়ে সংঘবদ্ধ ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে। ঘটনা জানাজানি হওয়ার পর বিষয়টি ধামাচাপা দিতে স্থানীয় মাতব্বররা সালিশে ৩০ হাজার টাকা জরিমানা করেছেন বলেও অভিযোগ করেছে ভুক্তভোগীর পরিবার।

 

মঙ্গলবার (১৮ আগস্ট) ভোরে উপজেলার উত্তর ছয়ঘরিয়া গ্রামে অভিযান চালিয়ে অভিযুক্ত তিনজনকে গ্রেফতার করা হয়।

 

গ্রেফতাররা হলেন—ওই গ্রামের মনির আহমদের ছেলে সাকিব (১৮), ইব্রাহিমের ছেলে ইয়াছিন (১৬) ও আনোয়ার হোসেনের ছেলে আরমান (১৫)।

 

পুলিশ ও ভুক্তভোগীর পরিবারের সদস্যরা জানান, শুক্রবার দুপুরে আর্থিক সহায়তা দেওয়ার কথা বলে একই এলাকার টমটমচালক সাকিব, আরমান ও বাদশা দুই সন্তানের জননী ওই নারীকে বাড়ি থেকে নিয়ে যান। পরে তাকে একটি নির্জন স্থানে নিয়ে তিনজন মিলে ধর্ষণ করেন। ঘটনার পর তাকে সেখানে ফেলে রেখে অভিযুক্তরা চলে যান।

 

পরিবারের সদস্যরা জানান, বিষয়টি জানাজানি হলে সোমবার রাতে স্থানীয় কয়েকজন মাতব্বর সালিশে বসেন। সেখানে অভিযুক্তদের ৩০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। গুরুতর এ অপরাধের বিষয়টি পুলিশকে না জানিয়ে সালিশের মাধ্যমে মীমাংসার চেষ্টা করা হয়েছে বলে অভিযোগ পরিবারের।

 

পরে বিষয়টি পুলিশের নজরে এলে মঙ্গলবার ভোরে ছয়ঘরিয়া গ্রামে অভিযান চালিয়ে সাকিব, ইয়াছিন ও আরমানকে গ্রেফতার করা হয়।

 

এ ঘটনায় ভুক্তভোগীর স্বামী বাদী হয়ে ছাগলনাইয়া থানায় ধর্ষণের মামলা দায়ের করেছেন।

 

স্থানীয় ইউপি সদস্য মোকছেদ আহাম্মদ মুন্না বলেন, ঘটনাটি তার এলাকার। একটা সংঘবদ্ধ ধর্ষণের ঘটনা নিয়ে সালিশি বৈঠক করেছে এলাকার কিছু লোক। যা আইন বিরোধী। আমিও ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও বিচাই চাই।

 

ভুক্তভোগীর স্বামী বলেন , আমার স্ত্রী প্রতিবন্ধী। আর্থিক সাহায্য দেওয়ার কথা বলে ওই তিনজন তাকে ধর্ষণ করে। এলাকার সালিশদারদের চাপে সোমবার রাতে বৈঠকে বসি। সেখানে তিনজনকে ৩০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে এবং আমাদের সালিশ মানতে বাধ্য করা হয়েছে। পরে পুলিশ খবর পেয়ে অভিযুক্তদের গ্রেফতার করে। আমি ঘটনার সুষ্ঠু বিচার চাই।

 

ছাগলনাইয়া থানার ওসি মোহাম্মদ আবু তাহের জানান, ধর্ষণের অভিযোগে তিনজনকে গ্রেফতার করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি ঘটনাটি সালিশের মাধ্যমে ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করা হয়ে থাকলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধেও আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

আর্থিক সহায়তার কথা বলে প্রতিবন্ধী নারীকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণের অভিযোগ, গ্রেফতার ৩

পিএসসির চেয়ারম্যান পদত্যাগ করছেন

সাভারে ওয়ার্ল্ড হিউম্যান রাইটস অর্গানাইজেশনের পক্ষ থেকে বিশিষ্ট ব্যবসায়ী মেয়র প্রার্থী ওবায়দুর রহমান অভির সাথে সৌজন্য সাক্ষা।

 

রাকিবুল ইসলাম রঞ্জু:

মানবাধিকার সংস্থা ‘ওয়ার্ল্ড হিউম্যান রাইটস অর্গানাইজেশন’ সাভার উপজেলা কমিটির নেতৃবৃন্দ বিশিষ্ট ব্যবসায়ী ও সমাজসেবক আসন্ন সাভার পৌর নির্বাচনে মেয়র প্রার্থী ওবায়দুর রহমান অভির সাথে এক সৌজন্য সাক্ষাৎ ও শুভেচ্ছা বিনিময় করেছেন।

 

শুভেচ্ছা বিনিময়কালে এলাকার সার্বিক মানবাধিকার পরিস্থিতি, সামাজিক উন্নয়ন এবং সুবিধাবঞ্চিত মানুষের পাশে দাঁড়ানোর বিভিন্ন দিক নিয়ে সংক্ষিপ্ত আলোচনা হয়। এ সময় ওবায়দুর রহমান অভি বলেন, “মানবাধিকার সুরক্ষায় সামাজিক ও মানবাধিকার সংস্থাগুলোর ভূমিকা অপরিসীম। সমাজ থেকে অন্যায়-অবিচার দূর করে মানুষের মৌলিক অধিকার প্রতিষ্ঠায় আমাদের সবাইকে একযোগে কাজ করতে হবে।” তিনি সংস্থার এ মানবিক উদ্যোগকে সাধুবাদ জানান এবং ভবিষ্যতেও যেকোনো সৎ ও সামাজিক কাজে পাশে থাকার আশ্বাস দেন।

 

অনুষ্ঠানে ওয়ার্ল্ড হিউম্যান রাইটস অর্গানাইজেশন সাভার উপজেলা কমিটির সভাপতি মোঃ নুর ইসলাম, সাধারণ সম্পাদক সুমন মন্ডল, সিনিয়র সহ-সভাপতি শাহরিয়াজ আকন্দ, সিনিয়র যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মোঃ আবুল হোসেন, শাহা জালাল রনি, মোঃ ফজলুল শেখ সহ

বিভিন্ন স্তরের নেতৃবৃন্দ ও স্থানীয় গণমান্য ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।

সাভারে ওয়ার্ল্ড হিউম্যান রাইটস অর্গানাইজেশনের পক্ষ থেকে বিশিষ্ট ব্যবসায়ী মেয়র প্রার্থী ওবায়দুর রহমান অভির সাথে সৌজন্য সাক্ষাৎ

অপরাধ দমনে পেশাদারিত্বের স্বীকৃতি, গাইবান্ধায় সম্মাননা পেলেন ডিবি ওস

 

শাহ্ পারভেজ সংগ্রাম, গাইবান্ধা প্রতিনিধি

গাইবান্ধা জেলার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে বিভিন্ন এলাকায় গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান পরিচালনা, মাদক উদ্ধার, অনলাইন জুয়া ও ক্যাসিনোবিরোধী অভিযানসহ অপরাধ দমনে বিশেষ ভূমিকা রাখায় জেলা গোয়েন্দা শাখার (ডিবি) অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আব্দুল মোত্তালিব সরকারকে বিশেষ সম্মাননা প্রদান করা হয়েছে।

সোমবার (১৭ আগস্ট) গাইবান্ধা জেলা পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে জেলা পুলিশ সুপার মো. জসিম উদ্দিন ডিবি ওসি আব্দুল মোত্তালিব সরকারের হাতে সম্মাননা ক্রেস্ট তুলে দেন।

 

জানা যায়, গাইবান্ধা জেলার বিভিন্ন এলাকায় গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে অভিযান পরিচালনা করে মাদকদ্রব্য উদ্ধার, মাদক ব্যবসায়ী ও অপরাধীদের গ্রেফতার, অনলাইন জুয়া ও ক্যাসিনোবিরোধী অভিযানসহ আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় সক্রিয় ভূমিকা পালন করে আসছে জেলা গোয়েন্দা শাখা (ডিবি)। এসব কার্যক্রমে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখায় ডিবি ওসিকে এ বিশেষ সম্মাননা দেওয়া হয়।

পুলিশের এ ধরনের কার্যক্রম অব্যাহত থাকলে জেলার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি আরও উন্নত হবে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।

অপরাধ দমনে পেশাদারিত্বের স্বীকৃতি, গাইবান্ধায় সম্মাননা পেলেন ডিবি ওসি

র‌্যাবের চৌকস অভিযানে জীপসহ প্রায় ১১ হাজার ইয়াবার চালান আটক

জামালপুর হামলা পাল্টা হামলার মধ্য দিয়ে জেলার সানন্দবাড়ী তে থমথমে অবস্থা বিরাজমান।

পর্নোগ্রাফি নিয়ন্ত্রণ আইনে এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা দায়ের ও আদালতে মিথ্যা হলফনামা দেয়ার অভিযোগে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের কেবিন ক্রু খাদিজা সুলতানা শিমুর বিরুদ্ধে মামলা দায়েরের নির্দেশ দিয়েছেন আদালত।

 

বুধবার (১৫ জুলাই) ঢাকার অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালত-২-এর বিচারক মো. জাকির হোসাইন এ আদেশ দেন। আদালতের আদেশে বলা হয়েছে, শিমুর বিরুদ্ধে পর্নোগ্রাফি নিয়ন্ত্রণ আইন, ২০১২-এর ১৩ ধারা এবং দণ্ডবিধির ১৮১, ১৮২ ও ১৯৩ ধারায় মামলা করা হবে। আদালত নিজেই এ মামলার বাদী হয়েছেন।

 

আদালতের নথি অনুযায়ী, খাদিজা সুলতানা শিমু মামলার বাদী হয়ে বেসরকারি একটি এয়ারলাইন্সের কর্মকর্তা মো. ওমর ফারুক চৌধুরীর বিরুদ্ধে পর্নোগ্রাফি নিয়ন্ত্রণ আইনের বিভিন্ন ধারায় উত্তরা পশ্চিম থানায় মামলা করেন।

 

তদন্ত শেষে উত্তরা পশ্চিম থানার তদন্ত কর্মকর্তা আদালতে চূড়ান্ত প্রতিবেদন দাখিল করে জানান, অভিযোগের সত্যতা পাওয়া যায়নি। প্রতিবেদনে বলা হয়, মামলার এজাহারে উল্লেখ করা ফেসবুক লিংক, ডিজিটাল আলামত ও অন্যান্য তথ্য যাচাই করে ওমর ফারুকের বিরুদ্ধে পর্নোগ্রাফি প্রচারের কোনো প্রমাণ মেলেনি। ফলে ওই কর্মকর্তাকে মামলা থেকে অব্যাহতির সুপারিশ করা হয়।

একই সঙ্গে তদন্ত কর্মকর্তা প্রতিবেদনে উল্লেখ করেন, ওমর ফারুক আগে শিমুর বিরুদ্ধে বিয়ের প্রলোভন দিয়ে অর্থ আত্মসাতের অভিযোগে আদালতে মামলা করেছিলেন। সেই মামলার দায় এড়াতেই শিমু সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচারিত বিভিন্ন লিংক উল্লেখ করে তার বিরুদ্ধে পর্নোগ্রাফি ছড়ানোর অভিযোগ এনে উদ্দেশ্যপ্রণোদিত, হয়রানিমূলক ও মিথ্যা মামলা করেছেন বলে প্রাথমিক তদন্তে প্রতীয়মান হয়েছে। এ কারণে শিমুর বিরুদ্ধে পর্নোগ্রাফি নিয়ন্ত্রণ আইন, ২০১২-এর ১৩ ধারায় আইনগত ব্যবস্থা নেয়ার আবেদনও করেন তদন্ত কর্মকর্তা।

 

পরে গত ৯ জুলাই আদালত তদন্ত প্রতিবেদন গ্রহণ করে ওমর ফারুককে মামলা থেকে অব্যাহতি দেন। আদালতের আদেশে বলা হয়, শিমু ক্ষতিসাধনের উদ্দেশ্যে আদালতে মিথ্যা মামলা দায়ের করেছেন এবং হলফ করে মিথ্যা সাক্ষ্য দিয়েছেন। মামলার নথিতে তার দেয়া হলফনামাও সংযুক্ত রয়েছে। এসব বিবেচনায় আদালত নিজেই বাদী হয়ে তার বিরুদ্ধে পর্নোগ্রাফি নিয়ন্ত্রণ আইন ও দণ্ডবিধির সংশ্লিষ্ট ধারায় মামলা দায়েরের নির্দেশ দেন।

 

তদন্তে যা উঠে এসেছে পুলিশের চূড়ান্ত প্রতিবেদনে বলা হয়, তদন্তকালে রেকর্ড, ডিজিটাল আলামত, ফেসবুক লিংক ও ফরেনসিক তথ্য যাচাই করে ওমর ফারুকের বিরুদ্ধে পর্নোগ্রাফি প্রচারের কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি।

 

তদন্তে আরও উঠে আসে, শিমু বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের কেবিন ক্রু এবং ওমর ফারুক একটি বেসরকারি এয়ারলাইন্সের এয়ারক্রাফট মেইনটেন্যান্স কর্মকর্তা। ফেসবুকে পরিচয়ের পর তাদের মধ্যে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে।

 

প্রতিবেদনে বলা হয়, বিয়ের আশ্বাস দিয়ে বিভিন্ন সময়ে ওমর ফারুকের কাছ থেকে বিপুল পরিমাণ অর্থ ও মূল্যবান সামগ্রী নেয়ার অভিযোগে ওমর ফারুক আদালতে পৃথক মামলা করেন। এরপর সেই মামলার দায় থেকে নিজেকে রক্ষা করতেই শিমু পর্নোগ্রাফি আইনে অভিযোগ দায়ের করেন বলে তদন্তে প্রতীয়মান হয়েছে।

 

ওমর ফারুকের আগের মামলা গত ২০ জুলাই ওমর ফারুক চৌধুরী শিমুর বিরুদ্ধে বিয়ের প্রলোভন, ‘হানি ট্র্যাপ’ ও ব্ল্যাকমেইলের মাধ্যমে প্রায় ২২ লাখ টাকা আত্মসাতের অভিযোগে ঢাকার আদালতে মামলা করেন। আদালত অভিযোগটি আমলে নিয়ে উত্তরা পশ্চিম থানাকে তদন্তের নির্দেশ দেন। পরে তিনি বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স কর্তৃপক্ষের কাছেও লিখিত অভিযোগ করেন।

 

সেই মামলায় অভিযোগ করা হয়, ২০২৪ সালে ফেসবুকে পরিচয়ের পর শিমু তাকে বিয়ের আশ্বাস দিয়ে বিভিন্ন সময়ে টাকা নেন। জন্মদিনে দেড় লাখ টাকা মূল্যের একটি হীরার আংটিসহ বিয়ের খরচের জন্য মোট ২১ লাখ ৭৪ হাজার ৫১১ টাকা নেয়ার পরও বিয়ে না করে প্রতারণার মাধ্যমে অর্থ আত্মসাৎ করা হয়েছে বলে মামলায় দাবি করা হয়।

পর্নোগ্রাফি আইনে কেবিন ক্রু শিমুর বিরুদ্ধে মামলার নির্দেশ আদালতের

error: আপনি নিউজ চুরি করার চেষ্টা করছেন। বিশেষ প্রয়োজনে যোগাযোগ করুন ০১৭৬৭৪৪৪৩৩৩
%d