
অবিলম্বে তৈরি পোশাক শ্রমিকদের জন্য নিম্নতম মজুরি বোর্ড পুনর্গঠন ও কার্যক্রম শুরুর দাবি
রাকিবুল ইসলাম রঞ্জু:
বাংলাদেশের তৈরি পোশাক (RMG) শিল্পে নিয়োজিত শ্রমিক-কর্মচারীদের বিদ্যমান নিম্নতম মজুরি পুনর্নির্ধারণের লক্ষ্যে অবিলম্বে নিম্নতম মজুরি বোর্ড পুনর্গঠন করে কার্যক্রম শুরু করার দাবি জানিয়েছে গার্মেন্টস শ্রমিক পরিষদ।
মাননীয় প্রধানমন্ত্রী, শ্রম মন্ত্রী, শ্রম সচিব, চেয়ারম্যান, নিম্নতম মজুরি বোর্ড, সভাপতি বিজিএমইএ, সভাপতি বিকেএমইএ কে স্মারকলিপি প্রদান করে ।
সংগঠনের আহ্বায়ক লাভলী ইয়াসমীন ও সদস্য সচিব নাহিদুল হাসান নয়ন এক বিবৃতিতে বলেন, দেশের রপ্তানি আয়, অর্থনীতি ও কর্মসংস্থানের অন্যতম প্রধান ভিত্তি তৈরি পোশাক শিল্প। এই শিল্পের সাফল্যের পেছনে শ্রমিকদের শ্রম, দক্ষতা ও নিরলস পরিশ্রমের গুরুত্বপূর্ণ অবদান রয়েছে। অথচ ক্রমবর্ধমান জীবনযাত্রার ব্যয়ের তুলনায় শ্রমিকদের বর্তমান মজুরি অত্যন্ত অপ্রতুল।
বিবৃতিতে অনুষ্ঠানে আরো উপস্তিত ছিলেন গার্মেন্টস শ্রমিক পরিষদ এর যুগ্ন-আহবায়ক মরিয়ম আক্তান, যুগ্ন-সদস্য সচিব মোরশেদ আলম, কেন্দ্রীয় নির্বাহী সদস্য শ্যাম দুলাল, বিভিন্ন ফেডারেশন এর কেন্দ্রীয় নেতা সর্ব বনাব আখি, দুলাল, রোজিনা অক্তার, রুপালী আক্তার, গোলাম মোস্তফা, সিরাজুল ইসলাম প্রমুখ।
বাংলাদেশ শ্রম আইন, ২০০৬-এর ধারা ১৩৯(৬) অনুযায়ী নির্ধারিত নিম্নতম মজুরি প্রতি তিন বছর অন্তর পুনর্নির্ধারণের বিধান রয়েছে। ২০২৩ সালে তৈরি পোশাক শ্রমিকদের জন্য বর্তমান ১২,৫০০ টাকা নিম্নতম মজুরি নির্ধারণ করা হয় এবং সংশ্লিষ্ট গেজেট ২০ ডিসেম্বর ২০২৩ প্রকাশিত হয়। ফলে বর্তমান বাস্তবতায় নতুন করে মজুরি পুনর্নির্ধারণের প্রক্রিয়া এখনই শুরু করা জরুরি।
গার্মেন্টস শ্রমিক পরিষদ বলছে, গত কয়েক বছরে খাদ্য, বাসাভাড়া, চিকিৎসা, শিক্ষা, পরিবহন, পানি-বিদ্যুৎ-গ্যাসসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় সব খাতে ব্যয় উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। কিন্তু শ্রমিকদের আয় সেই অনুপাতে বৃদ্ধি পায়নি। ফলে বর্তমান মজুরিতে শ্রমিক ও তাদের পরিবারের মৌলিক প্রয়োজন পূরণ করা ক্রমেই কঠিন হয়ে পড়েছে।
বিশেষ করে খাদ্য ও পুষ্টির ব্যয় বৃদ্ধি শ্রমিক পরিবারের জীবনযাত্রায় মারাত্মক চাপ সৃষ্টি করেছে। অপর্যাপ্ত আয়ের কারণে অনেক শ্রমিককে ঋণগ্রস্ত হতে হচ্ছে, অতিরিক্ত সময় কাজ করতে হচ্ছে এবং খাদ্য, চিকিৎসা ও শিক্ষার মতো মৌলিক ব্যয় কমিয়ে জীবনযাপন করতে হচ্ছে। শিল্পাঞ্চলগুলোতে ক্রমবর্ধমান বাসাভাড়াও শ্রমিক পরিবারের ওপর অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি করছে।
বিবৃতিতে বলা হয়, “মজুরি কোনো দয়া বা অনুগ্রহ নয়; এটি শ্রমিকের ন্যায্য অধিকার।” শ্রমিক ও তার পরিবারের মর্যাদাপূর্ণ জীবন নিশ্চিত করতে শুধু প্রচলিত ‘Minimum Wage’ নয়, বাস্তব জীবনযাত্রার ব্যয় বিবেচনায় Living Wage বা জীবনধারণ উপযোগী মজুরি নির্ধারণের দিকে এগিয়ে যেতে হবে।
গার্মেন্টস শ্রমিক পরিষদ নিম্নলিখিত দাবিসমূহ উত্থাপন করেছে—
তৈরি পোশাক শিল্পের শ্রমিকদের নিম্নতম মজুরি পুনর্নির্ধারণের লক্ষ্যে অবিলম্বে নিম্নতম মজুরি বোর্ড পুনর্গঠন করে কার্যক্রম শুরু করতে হবে।
মজুরি বোর্ডে প্রকৃত, স্বাধীন ও প্রতিনিধিত্বশীল শ্রমিক প্রতিনিধি নিশ্চিত করতে হবে।
খাদ্য, পুষ্টি, বাসাভাড়া, চিকিৎসা, শিক্ষা, পরিবহন, শিশু পরিচর্যা, ইউটিলিটি ব্যয়, মূল্যস্ফীতি ও সামাজিক প্রয়োজন বিবেচনায় নিয়ে নতুন মজুরি নির্ধারণ করতে হবে।
নতুন মজুরি কাঠামোকে Living Wage-কেন্দ্রিক করতে হবে, যাতে শ্রমিক ও তার পরিবারের মৌলিক প্রয়োজন পূরণ হয়।
মূল্যস্ফীতির সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে নিয়মিত মজুরি সমন্বয়ের ব্যবস্থা বিবেচনা করতে হবে।
সাব-কন্ট্রাক্ট, ছোট ও অনিবন্ধিত কারখানাসহ তৈরি পোশাক শিল্পের সকল শ্রমিককে নতুন মজুরি কাঠামোর কার্যকর আওতায় আনতে হবে।
শ্রমিক সংগঠন, মালিকপক্ষ, সরকার ও সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞদের অংশগ্রহণে স্বচ্ছ ও তথ্যভিত্তিক মজুরি নির্ধারণ প্রক্রিয়া নিশ্চিত করতে হবে।
শ্রমিক পরিবারের প্রকৃত জীবনযাত্রার ব্যয় নিরূপণে একটি স্বচ্ছ, নির্ভরযোগ্য ও অংশগ্রহণমূলক জরিপ পরিচালনা করতে হবে।
নেতৃবৃন্দ বলেন, শ্রমিকের জীবনমান উন্নয়ন ছাড়া তৈরি পোশাক শিল্পের টেকসই উন্নয়ন ও দীর্ঘমেয়াদি প্রতিযোগিতামূলক সক্ষমতা নিশ্চিত করা সম্ভব নয়। ন্যায্য ও জীবনধারণ উপযোগী মজুরি নিশ্চিত হলে শ্রমিকের উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধি, শ্রমিক-মালিক সম্পর্কের উন্নয়ন এবং শিল্পের স্থিতিশীলতা আরও শক্তিশালী হবে।
তারা শ্রমিকের ন্যায্য অধিকার ও মর্যাদাপূর্ণ জীবন নিশ্চিত করতে অবিলম্বে নিম্নতম মজুরি বোর্ড পুনর্গঠন, কার্যক্রম শুরু এবং জীবনধারণ উপযোগী নতুন মজুরি কাঠামো নির্ধারণের জন্য সরকারের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেন।
Like this:
Like Loading...
Related
Leave a Reply