কোচিং সেন্টারের সঙ্গে জড়িত হতে পারবেন না জুডিসিয়াল সার্ভিসের সদস্যরা - Gono television | বাংলাদেশ সরকার অনুমোদিত বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেল।
কোচিং সেন্টারের সঙ্গে জড়িত হতে পারবেন না জুডিসিয়াল সার্ভিসের সদস্যরা

কোচিং সেন্টারের সঙ্গে জড়িত হতে পারবেন না জুডিসিয়াল সার্ভিসের সদস্যরা

বাংলাদেশ জুডিসিয়াল সার্ভিসের সদস্যরা প্রত্যক্ষ বা ডিজিটাল বাণিজ্যিক কোচিং সেন্টারের সঙ্গে জড়িত হতে পারবেন না বলে পরিপত্র জারি করেছে বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্ট। সোমবার (২৪ আগস্ট) সুপ্রিম কোর্টের হাইকোর্ট বিভাগের বিচার শাখার রেজিস্টার জেনারেল হাবিবুর রহমান সিদ্দিকী স্বাক্ষরিত এক প্রজ্ঞাপনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

 

প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, বাংলাদেশ জুডিসিয়াল সার্ভিসে (অতঃপর সার্ভিস হিসেবে উল্লিখিত) কর্মরত সদস্যগণের পেশাগত শৃঙ্খলা, নিরপেক্ষতা ও মর্যাদা সমুন্নত রাখা এবং বিচার বিভাগের প্রতি জনগণের সুদৃঢ় আস্থা অক্ষুণ্ন রাখার লক্ষ্যে বাণিজ্যিক ভিত্তিতে পরিচালিত সরাসরি বা ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে কোচিং কার্যক্রমে সম্পৃক্ততার বিষয়ে সার্ভিসের সদস্যগণের জন্য নির্দেশনা জারি করা হয়েছে।

 

নির্দেশনাসমূহের মধ্যে, সার্ভিসের কোনো সদস্য প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে বাণিজ্যিক ভিত্তিতে পরিচালিত সরাসরি বা ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে কোচিং কার্যক্রমের সাথে সম্পৃক্ত হতে পারবেন না। সার্ভিসের কোনো সদস্য প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে বাণিজ্যিক উদ্দেশ্যে তাঁর নাম, পদবি, ছবি বা পরিচয় সরাসরি বা ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে কোচিং সংক্রান্ত প্রচার প্রচারণার কাজে ব্যবহার করতে পারবেন না কিংবা এমন ধরনের ব্যবহার অনুমোদন করতে পারবেন না।

 

আরও বলা হয়েছে, সার্ভিসের কোনো সদস্য বিচারিক দায়িত্ব পালনের সুবাদে প্রাপ্ত কোনো গোপনীয়, অপ্রকাশিত বা দাফতরিক তথ্য সরাসরি বা ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে কোচিং কার্যক্রমে প্রকাশ, সরবরাহ বা ব্যবহার করতে পারবেন না। সার্ভিসের কোনো সদস্য বাণিজ্যিক ভিত্তিতে পরিচালিত সরাসরি বা ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে কোচিংয়ের জন্য শিক্ষাসামগ্রী প্রস্তুত, সম্পাদন, প্রকাশ বা সরবরাহ করতে পারবেন না।

 

এ পরিপত্রের কোনো বিধান লঙ্ঘন করলে সার্ভিসের সংশ্লিষ্ট সদস্যের বিরুদ্ধে শৃঙ্খলা সংক্রান্ত প্রযোজ্য আইন ও বিধি অনুযায়ী যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলেও জানানো হয়েছে।


অবিলম্বে তৈরি পোশাক শ্রমিকদের জন্য নিম্নতম মজুরি বোর্ড পুনর্গঠন ও কার্যক্রম শুরুর দাবি

 

রাকিবুল ইসলাম রঞ্জু:

বাংলাদেশের তৈরি পোশাক (RMG) শিল্পে নিয়োজিত শ্রমিক-কর্মচারীদের বিদ্যমান নিম্নতম মজুরি পুনর্নির্ধারণের লক্ষ্যে অবিলম্বে নিম্নতম মজুরি বোর্ড পুনর্গঠন করে কার্যক্রম শুরু করার দাবি জানিয়েছে গার্মেন্টস শ্রমিক পরিষদ।

 

মাননীয় প্রধানমন্ত্রী, শ্রম মন্ত্রী, শ্রম সচিব, চেয়ারম্যান, নিম্নতম মজুরি বোর্ড, সভাপতি বিজিএমইএ, সভাপতি বিকেএমইএ কে স্মারকলিপি প্রদান করে ।

 

সংগঠনের আহ্বায়ক লাভলী ইয়াসমীন ও সদস্য সচিব নাহিদুল হাসান নয়ন এক বিবৃতিতে বলেন, দেশের রপ্তানি আয়, অর্থনীতি ও কর্মসংস্থানের অন্যতম প্রধান ভিত্তি তৈরি পোশাক শিল্প। এই শিল্পের সাফল্যের পেছনে শ্রমিকদের শ্রম, দক্ষতা ও নিরলস পরিশ্রমের গুরুত্বপূর্ণ অবদান রয়েছে। অথচ ক্রমবর্ধমান জীবনযাত্রার ব্যয়ের তুলনায় শ্রমিকদের বর্তমান মজুরি অত্যন্ত অপ্রতুল।

 

বিবৃতিতে অনুষ্ঠানে আরো উপস্তিত ছিলেন গার্মেন্টস শ্রমিক পরিষদ এর যুগ্ন-আহবায়ক মরিয়ম আক্তান, যুগ্ন-সদস্য সচিব মোরশেদ আলম, কেন্দ্রীয় নির্বাহী সদস্য শ্যাম দুলাল, বিভিন্ন ফেডারেশন এর কেন্দ্রীয় নেতা সর্ব বনাব আখি, দুলাল, রোজিনা অক্তার, রুপালী আক্তার, গোলাম মোস্তফা, সিরাজুল ইসলাম প্রমুখ।

 

বাংলাদেশ শ্রম আইন, ২০০৬-এর ধারা ১৩৯(৬) অনুযায়ী নির্ধারিত নিম্নতম মজুরি প্রতি তিন বছর অন্তর পুনর্নির্ধারণের বিধান রয়েছে। ২০২৩ সালে তৈরি পোশাক শ্রমিকদের জন্য বর্তমান ১২,৫০০ টাকা নিম্নতম মজুরি নির্ধারণ করা হয় এবং সংশ্লিষ্ট গেজেট ২০ ডিসেম্বর ২০২৩ প্রকাশিত হয়। ফলে বর্তমান বাস্তবতায় নতুন করে মজুরি পুনর্নির্ধারণের প্রক্রিয়া এখনই শুরু করা জরুরি।

 

গার্মেন্টস শ্রমিক পরিষদ বলছে, গত কয়েক বছরে খাদ্য, বাসাভাড়া, চিকিৎসা, শিক্ষা, পরিবহন, পানি-বিদ্যুৎ-গ্যাসসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় সব খাতে ব্যয় উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। কিন্তু শ্রমিকদের আয় সেই অনুপাতে বৃদ্ধি পায়নি। ফলে বর্তমান মজুরিতে শ্রমিক ও তাদের পরিবারের মৌলিক প্রয়োজন পূরণ করা ক্রমেই কঠিন হয়ে পড়েছে।

 

বিশেষ করে খাদ্য ও পুষ্টির ব্যয় বৃদ্ধি শ্রমিক পরিবারের জীবনযাত্রায় মারাত্মক চাপ সৃষ্টি করেছে। অপর্যাপ্ত আয়ের কারণে অনেক শ্রমিককে ঋণগ্রস্ত হতে হচ্ছে, অতিরিক্ত সময় কাজ করতে হচ্ছে এবং খাদ্য, চিকিৎসা ও শিক্ষার মতো মৌলিক ব্যয় কমিয়ে জীবনযাপন করতে হচ্ছে। শিল্পাঞ্চলগুলোতে ক্রমবর্ধমান বাসাভাড়াও শ্রমিক পরিবারের ওপর অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি করছে।

 

বিবৃতিতে বলা হয়, “মজুরি কোনো দয়া বা অনুগ্রহ নয়; এটি শ্রমিকের ন্যায্য অধিকার।” শ্রমিক ও তার পরিবারের মর্যাদাপূর্ণ জীবন নিশ্চিত করতে শুধু প্রচলিত ‘Minimum Wage’ নয়, বাস্তব জীবনযাত্রার ব্যয় বিবেচনায় Living Wage বা জীবনধারণ উপযোগী মজুরি নির্ধারণের দিকে এগিয়ে যেতে হবে।

 

গার্মেন্টস শ্রমিক পরিষদ নিম্নলিখিত দাবিসমূহ উত্থাপন করেছে—

তৈরি পোশাক শিল্পের শ্রমিকদের নিম্নতম মজুরি পুনর্নির্ধারণের লক্ষ্যে অবিলম্বে নিম্নতম মজুরি বোর্ড পুনর্গঠন করে কার্যক্রম শুরু করতে হবে।

মজুরি বোর্ডে প্রকৃত, স্বাধীন ও প্রতিনিধিত্বশীল শ্রমিক প্রতিনিধি নিশ্চিত করতে হবে।

খাদ্য, পুষ্টি, বাসাভাড়া, চিকিৎসা, শিক্ষা, পরিবহন, শিশু পরিচর্যা, ইউটিলিটি ব্যয়, মূল্যস্ফীতি ও সামাজিক প্রয়োজন বিবেচনায় নিয়ে নতুন মজুরি নির্ধারণ করতে হবে।

নতুন মজুরি কাঠামোকে Living Wage-কেন্দ্রিক করতে হবে, যাতে শ্রমিক ও তার পরিবারের মৌলিক প্রয়োজন পূরণ হয়।

মূল্যস্ফীতির সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে নিয়মিত মজুরি সমন্বয়ের ব্যবস্থা বিবেচনা করতে হবে।

সাব-কন্ট্রাক্ট, ছোট ও অনিবন্ধিত কারখানাসহ তৈরি পোশাক শিল্পের সকল শ্রমিককে নতুন মজুরি কাঠামোর কার্যকর আওতায় আনতে হবে।

 

শ্রমিক সংগঠন, মালিকপক্ষ, সরকার ও সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞদের অংশগ্রহণে স্বচ্ছ ও তথ্যভিত্তিক মজুরি নির্ধারণ প্রক্রিয়া নিশ্চিত করতে হবে।

 

শ্রমিক পরিবারের প্রকৃত জীবনযাত্রার ব্যয় নিরূপণে একটি স্বচ্ছ, নির্ভরযোগ্য ও অংশগ্রহণমূলক জরিপ পরিচালনা করতে হবে।

 

নেতৃবৃন্দ বলেন, শ্রমিকের জীবনমান উন্নয়ন ছাড়া তৈরি পোশাক শিল্পের টেকসই উন্নয়ন ও দীর্ঘমেয়াদি প্রতিযোগিতামূলক সক্ষমতা নিশ্চিত করা সম্ভব নয়। ন্যায্য ও জীবনধারণ উপযোগী মজুরি নিশ্চিত হলে শ্রমিকের উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধি, শ্রমিক-মালিক সম্পর্কের উন্নয়ন এবং শিল্পের স্থিতিশীলতা আরও শক্তিশালী হবে।

 

তারা শ্রমিকের ন্যায্য অধিকার ও মর্যাদাপূর্ণ জীবন নিশ্চিত করতে অবিলম্বে নিম্নতম মজুরি বোর্ড পুনর্গঠন, কার্যক্রম শুরু এবং জীবনধারণ উপযোগী নতুন মজুরি কাঠামো নির্ধারণের জন্য সরকারের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেন।

অবিলম্বে তৈরি পোশাক শ্রমিকদের জন্য নিম্নতম মজুরি বোর্ড পুনর্গঠন ও কার্যক্রম শুরুর দাবি

পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী (সা.) উপলক্ষে মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সা.)-এর শান্তি, ন্যায়, সহমর্মিতা, ক্ষমা ও মানবিকতার আদর্শ অনুসরণ করে ব্যক্তি, পরিবার, সমাজ ও রাষ্ট্রীয় জীবনে ন্যায় ও মানবিক মূল্যবোধ প্রতিষ্ঠার আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

 

পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী (সা.) উপলক্ষে মঙ্গলবার (২৫ আগস্ট) দেওয়া এক বাণীতে প্রধানমন্ত্রী বলেন, মহানবী (সা.)-এর জীবন ও আদর্শ অনুসরণ করে একটি শান্তিপূর্ণ, ন্যায়ভিত্তিক ও কল্যাণমুখী সমাজ গড়ে তোলা সম্ভব।

 

তিনি বলেন, মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সা.)-এর শুভাগমন মানবসভ্যতার ইতিহাসে এক অনন্য ও মহিমান্বিত ঘটনা। তার আবির্ভাব মানুষের জন্য সত্য ও আলোর এক নতুন দিগন্ত উন্মোচন করেছিল। তিনি মানুষকে তাওহিদের দিকে আহ্বান করার পাশাপাশি সত্য, ন্যায়, সাম্য, ভ্রাতৃত্ব, মানবিকতা ও শান্তির শিক্ষা দিয়েছেন। তাঁর পবিত্র জীবন ও কর্ম সমগ্র মানবজাতির জন্য চিরন্তন পথনির্দেশ ও অনুকরণীয় আদর্শ হয়ে আছে।

 

পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী (সা.) উপলক্ষে বাংলাদেশের সর্বস্তরের ধর্মপ্রাণ মুসলমানসহ বিশ্বের সমগ্র মুসলিম উম্মাহকে আন্তরিক মোবারকবাদ ও শুভেচ্ছা জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘মহান আল্লাহ রাব্বুল আলামিনের দরবারে অশেষ শুকরিয়া আদায় করছি, যিনি মানবজাতির হেদায়েত ও কল্যাণের জন্য সর্বশেষ নবী ও রসূল, রহমাতুল্লিল আলামিন হজরত মুহাম্মদ (সা.)-কে পৃথিবীতে প্রেরণ করেছেন। তার প্রতি অগণিত দরুদ ও সালাম বর্ষিত হোক।’

 

পবিত্র কুরআনে মহান আল্লাহ তায়ালা ইরশাদ করেছেন, ‘নিশ্চয়ই তোমাদের জন্য আল্লাহর রসূলের মধ্যে রয়েছে উত্তম আদর্শ’ (সূরা আল-আহযাব, আয়াত: ২১)। মহানবী (সা.)-এর জীবন ছিল পবিত্র কুরআনের শিক্ষার বাস্তব ও জীবন্ত প্রতিফলন। সত্যবাদিতা, আমানতদারি, ন্যায়বিচার, ক্ষমাশীলতা, সহনশীলতা, দয়া ও পরোপকারের অনন্য দৃষ্টান্ত তিনি স্থাপন করেছেন। তার জীবনাচরণে আমরা যেমন আল্লাহর প্রতি গভীর আনুগত্যের শিক্ষা পাই, তেমনি মানুষের প্রতি ভালোবাসা, দায়িত্ববোধ ও মহানুভবতার অপূর্ব প্রকাশ দেখতে পাই।’

 

মহানবী (সা.) জাতি, বর্ণ, গোত্র, ভাষা ও সামাজিক অবস্থানের বিভেদ অতিক্রম করে মানুষের মর্যাদা ও অধিকার প্রতিষ্ঠায় জোর দিয়েছেন উল্লেখ করে তারেক রহমান বলেন, তিনি এতিম, দরিদ্র, অসহায় ও বঞ্চিত মানুষের প্রতি দায়িত্বশীল ও সহমর্মী হওয়ার শিক্ষা দিয়েছেন। পরিবার, প্রতিবেশী, নারী, শিশু এবং সমাজের দুর্বল ও প্রান্তিক মানুষের অধিকার রক্ষার ওপর তিনি বিশেষ গুরুত্বারোপ করেছেন। তাঁর শিক্ষা মানুষে মানুষে বিভেদ নয়, বরং ভ্রাতৃত্ব, সম্প্রীতি ও পারস্পরিক দায়িত্ববোধের বন্ধনকে সুদৃঢ় করে।

 

তিনি বলেন, বর্তমান বিশ্ব নানা সংকট ও চ্যালেঞ্জের মধ্য দিয়ে অতিক্রম করছে। যুদ্ধ, সংঘাত, হিংসা, বৈষম্য, অসহিষ্ণুতা ও নৈতিক অবক্ষয় মানুষের শান্তি, নিরাপত্তা ও স্বাভাবিক জীবনকে ব্যাহত করছে। এমন এক সময়ে মহানবী (সা.)-এর শান্তি, ন্যায়, সহমর্মিতা, ক্ষমা ও মানবিকতার শিক্ষা অত্যন্ত প্রাসঙ্গিক। তার জীবনাদর্শ অনুসরণ করে ব্যক্তি, পরিবার, সমাজ ও রাষ্ট্রীয় জীবনে ন্যায়, দায়িত্ববোধ ও মানবিক মূল্যবোধ প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে একটি শান্তিপূর্ণ ও কল্যাণমুখী সমাজ গড়ে তোলা সম্ভব।

 

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমাদের তরুণ প্রজন্মই দেশের ভবিষ্যৎ। তাদের মাদক, সন্ত্রাস, উগ্রতা ও অপরাধের পথ থেকে দূরে রেখে জ্ঞান, সৃজনশীলতা, নৈতিকতা, মানবিকতা ও দেশপ্রেমের চেতনায় গড়ে তুলতে মহানবী (সা.)-এর জীবন ও আদর্শ হতে পারে এক অনন্য প্রেরণার উৎস। তার আদর্শ তরুণদের সত্য ও ন্যায়ের পথে অবিচল থাকতে, অন্যের প্রতি শ্রদ্ধাশীল হতে এবং সমাজ ও দেশের প্রতি দায়িত্বশীল ভূমিকা পালনে উদ্বুদ্ধ করতে পারে।’

 

তিনি বলেন, ‘মহানবী (সা.)-এর শিক্ষা শুধু মুসলমানদের ধর্মীয় ও আধ্যাত্মিক জীবনের জন্য নয়, মানবিক ও নৈতিক মূল্যবোধের বিকাশের ক্ষেত্রেও গভীর তাৎপর্য বহন করে। তার আদর্শকে আমাদের ব্যক্তিজীবন, পারিবারিক জীবন ও সামাজিক আচরণে ধারণ করতে হবে। পারস্পরিক শ্রদ্ধা, সহমর্মিতা, সহনশীলতা ও ন্যায়বোধকে শক্তিশালী করার মধ্য দিয়েই আমরা একটি শান্তিপূর্ণ, ন্যায়ভিত্তিক ও মানবিক বাংলাদেশ গড়ে তুলতে পারি।’

 

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘মহান আল্লাহ তায়ালা আমাদের প্রিয় নবী হজরত মুহাম্মদ (সা.)-এর সুমহান জীবনাদর্শ ও সুন্নাহ অনুসরণ করার তাওফিক দান করুন। তার শিক্ষা ও আদর্শ আমাদের ব্যক্তি ও সমাজজীবনে সত্য, ন্যায়, সাম্য, ভ্রাতৃত্ব ও মানবিকতার চেতনাকে আরও সুদৃঢ় করুক। বাংলাদেশসহ সমগ্র বিশ্বে শান্তি, ন্যায়, সাম্য, সমৃদ্ধি ও মানবিকতা প্রতিষ্ঠিত হোক-এই পবিত্র দিনে এটাই আমার আন্তরিক প্রার্থনা।’

 

পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী (সা.) উপলক্ষে তিনি দেশবাসীসহ সমগ্র মুসলিম উম্মাহর প্রতি আন্তরিক মোবারকবাদ ও শুভেচ্ছা জানান।

মহানবীর আদর্শ অনুসরণে শান্তিপূর্ণ বাংলাদেশ গড়ার আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর

সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার গাড়িবহরে হামলা ও হত্যাচেষ্টা মামলায় তেজগাঁও থানা শ্রমিকলীগের সভাপতি গ্রেপ্তার মো. আবুল কাশেম পাটোয়ারী ওরফে ‘হাতকাটা কাশেম’ এর পাঁচ দিনের রিমান্ডে পাঠানোর আদেশ দিয়েছেন আদালত।

 

আজ মঙ্গলবার (২৫ আগস্ট) দুপুরে শুনানি শেষে ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আরিফুল ইসলামের আদালত এই আদেশ দেন।

 

রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী মুহাম্মদ শামসুদ্দোহা সুমন এসব তথ্য নিশ্চিত করেন।

 

গত ১৭ আগস্ট রাজধানীর কারওয়ান বাজার এলাকা থেকে কাশেমকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরদিন ১৮ আগস্ট আসামির জামিন আবেদন নামঞ্জুর করে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন। এরপর গত ২০ আগস্ট মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ও তেজগাঁও থানার পুলিশ পরিদর্শক আবদুল হান্নান আসামিকে এই মামলায় জিজ্ঞাসাবাদের জন্য সাত দিনের রিমান্ড চেয়ে আবেদন করেন। আদালত আসামির উপস্থিতিতে শুনানির জন্য দিন রাখেন সোমবার।

 

এদিকে, আসামিপক্ষে আইনজীবী মনির হোসেন সুমন ও মাসুদ রানা রিমান্ড বাতিলপূর্বক জামিনের প্রার্থনা করেন। রাষ্ট্রপক্ষ থেকে এর বিরোধিতা করা হয়। উভয় পক্ষের শুনানি শেষে আদালত আসামির পাঁচ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।

 

২০২৪ সালের ২২ আগস্ট খালেদা জিয়ার গাড়িবহরে হামলার অভিযোগে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ ১১৩ জনের বিরুদ্ধে তেজগাঁও থানায় মামলা করা হয়। ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপির ২৬ নম্বর ওয়ার্ডের সাধারণ সম্পাদক বেল্লাল হোসেন মামলাটি করেন।

 

মামলায় উল্লেখযোগ্য আসামিদের মধ্যে রয়েছেন সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল, তেজগাঁও থানা আওয়ামী লীগের সভাপতি আবদুর রশিদ, সাধারণ সম্পাদক ও ওয়ার্ড কাউন্সিলর শামীম হাসান এবং ঢাকা মহানগর উত্তর ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি সৈয়দ মিজানুর রহমান।

 

মামলার অভিযোগে বলা হয়েছে, ২০১৫ সালের ২০ এপ্রিল ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন নির্বাচনে বিএনপির মেয়র প্রার্থী তাবিথ আউয়ালের নির্বাচনী প্রচারণায় অংশ নেন খালেদা জিয়া। ওই সময় রাজধানীর কারওয়ান বাজারে বাপেক্স ভবনের সামনে তাকে হত্যার উদ্দেশ্যে আওয়ামী লীগ ও এর বিভিন্ন অঙ্গসংগঠনের নেতা-কর্মীরা তার গাড়িবহরে হামলা চালান বলে অভিযোগ করা হয়েছে।

 

মামলার তদন্ত কর্মকর্তা আব্দুল হান্নান জানান, কাশেম এই মামলাত ৪৯ নম্বর আসামি। তাকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দিয়েছেন আদালত। পরে তাকে রিমান্ডে নেওয়া হবে।

খালেদা জিয়ার গাড়িবহরে হামলা: শ্রমিকলীগ নেতা হাতকাটা কাশেম ৫ দিনের রিমান্ডে

গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রী জাকারিয়া তাহের বলেছেন, ‘দেশে ভবন নির্মাণের ক্ষেত্রে যেসব আইন, বিধি ও নীতিমালা রয়েছে, সেগুলোর সঠিক বাস্তবায়ন ছিল না। ভবনের অনুমোদিত নকশায় সুয়ারেজ ট্রিটমেন্ট প্ল্যান্ট (এসটিপি) ও সোক ওয়েল অন্তর্ভুক্ত থাকলেও অনেক ডেভেলপার কোম্পানি তা নির্মাণ করেনি। এখন থেকে আইনের সঠিক বাস্তবায়ন করা হবে।’

 

তিনি আরও বলেন, আইন ব্যত্যয় করে ভবন নির্মাণ ও আবাসন গড়ে তোলার সুযোগ আর থাকছে না। আগামীতে যেন কেউ অনুমোদিত নকশার বাইরে ভবন নির্মাণ করতে না পারে, তা নিশ্চিত করা হবে।

 

মন্ত্রী আরও বলেন, রিহ্যাব এবং বাংলাদেশ ল্যান্ড ডেভেলপার অ্যাসোসিয়েশনের সদস্যদের সচেতন হতে হবে যেন, আইন ভঙ্গ করে যেন কোনো ভবন বা আবাসন গড়ে না ওঠে। রাজউক ভূমি ব্যবহার ছাড়পত্র ও নকশা অনুমোদনের পুরো প্রক্রিয়াটি শতভাগ ডিজিটালাইজেশনের আওতায় আনছে। জাতীয় গৃহায়ন কর্তৃপক্ষের বিধিমালা সংশোধন করে রাজধানীর বাইরের ডেভেলপার প্রতিষ্ঠানগুলোকে সুনির্দিষ্ট নীতিমালার অধীনে আনা হবে।

 

রোববার (২৩ আগস্ট) সচিবালয়ে মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে রিয়েল এস্টেট অ্যান্ড হাউজিং অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (রিহ্যাব) এবং বাংলাদেশ ল্যান্ড ডেভেলপার অ্যাসোসিয়েশনের সদস্যদের সঙ্গে আয়োজিত এক মতবিনিময় সভায় এসব কথা বলেন জাকারিয়া তাহের।

 

এ সময় উপস্থিত ছিলেন গৃহায়ন ও গণপূর্ত প্রতিমন্ত্রী আহম্মদ সোহেল মনজুর, রাজউক চেয়ারম্যান ইঞ্জিনিয়ার মো. রিয়াজুল ইসলাম ও অতিরিক্ত সচিব মো. আব্দুল মতিন।

 

সভায় রিহ্যাবের ও বাংলাদেশ ল্যান্ড ডেভেলপার অ্যাসোসিয়েশনের পক্ষ থেকে উপস্থিত ছিলেন ড. আলী আফজাল, মুস্তাফিজুর রহমান ভূঁইয়া দিপু, লিয়াকত আলী খাঁন মুকুল, ড. এম এ কাইয়ুম, মো. রায়হানুল ইসলাম, আব্দুর রাজ্জাক, মো. খাজা নজিবুল্লাহ চৌধুরী, ইঞ্জিনিয়ার একেএম রেজউল করিম রেজাসহ উভয় সংগঠনের সদস্যরা।

 

সভায় আহম্মদ সোহেল মনজুর বলেন, আপনারা গ্রাহকদের ভোগান্তির বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করুন। অনেক মানুষ বছরের পর বছর আগে টাকা পরিশোধ করেও তাদের কাঙ্ক্ষিত ফ্ল্যাট বা অ্যাপার্টমেন্ট বুঝে পাচ্ছেন না। আবার অনেকে কোনো কারণে চুক্তি অনুযায়ী কিস্তি চালিয়ে যেতে না পারায় তাদের জমা টাকা তিন-চার বছর ধরে ফেরত পাচ্ছেন না। তাদের বিষয়টি মানবিক দৃষ্টিকোণ থেকে বিবেচনা করা প্রয়োজন।

 

মতবিনিময় সভায় রিহ্যাব এবং বাংলাদেশ ল্যান্ড ডেভেলপমেন্ট অ্যাসোসিয়েশনের নেতারা আইন ও বিধি মেনে ভবন নির্মাণ ও আবাসন উন্নয়নের বিষয়ে তাদের দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।

 

এ সময় তারা ঢাকা মহানগর বিশদ অঞ্চল পরিকল্পনা (ড্যাপ) ও ঢাকা মহানগর ইমারত নির্মাণ বিধিমালার বিষয়ে তাদের মতামত তুলে ধরেন।

অনুমোদিত নকশার বাইরে ভবন নির্মাণ করা যাবে না: গণপূর্তমন্ত্রী

শুক্রবার (২১ আগস্ট) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে পৃথক পোস্ট দিয়ে একে অপরের বিরুদ্ধে বিভিন্ন অভিযোগ তোলেন তারা। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে রাজশাহী কলেজের শিক্ষার্থীদের মধ্যেও নানা ধরনের মন্তব্য দেখা গেছে।

 

রাজশাহী কলেজ ছাত্রলীগের (নিষিদ্ধঘোষিত) নেত্রী জান্নাতুল ফেরদৌস পিয়া এক ফেসবুক পোস্টে প্রীতি চৌধুরীকে উদ্দেশ্য করে অভিযোগ করেন, তিনি ছাত্রলীগের নেতাদের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ ছিলেন এবং ছাত্রলীগের রাজনীতিতে যুক্ত হওয়ার বিষয়ে তার সঙ্গে যোগাযোগ করেছিলেন। এ সময় পিয়া রাজশাহী কলেজ ছাত্রলীগের (নিষিদ্ধঘোষিত) সভাপতি রসিক দত্তের সঙ্গে প্রীতির সম্পর্ক নিয়েও প্রশ্ন তোলেন। একই সঙ্গে মেসেঞ্জারে কথোপকথনের কিছু স্ক্রিনশট পরবর্তী পোস্টে প্রকাশ করবেন বলেও জানান তিনি।

 

এর জবাবে রাজশাহী কলেজ ছাত্রদলের নেত্রী প্রীতি চৌধুরী নিজের ফেসবুক পোস্টে পিয়ার বক্তব্যের সমালোচনা করেন। তিনি দাবি করেন, ছাত্রলীগের রাজনীতিতে যুক্ত হওয়ার জন্য তাকে একাধিকবার চাপ দেওয়া হলেও তিনি তাতে সাড়া দেননি এবং রাজশাহী কলেজে ছাত্রলীগের মিছিল-মিটিংয়ে তাকে দেখা যায়নি।

 

পোস্টে প্রীতি আরও দাবি করেন, পিয়া বিভিন্ন মেয়েকে মেসেজ দিয়ে রসিক দত্তের সঙ্গে তার যোগাযোগ ও সম্পর্ক নিয়ে জানতে চাইতেন। পাশাপাশি তিনি পিয়ার বিরুদ্ধে ব্যক্তিগত ও রাজনৈতিক বিষয়ে নানা মন্তব্য করেন এবং তার কাছে থাকা আরও কিছু স্ক্রিনশট প্রকাশ করার বিষয়ে সতর্ক করেন।

 

এ ঘটনায় রাজশাহী কলেজ ছাত্রদলের সিনিয়র আহ্বায়ক জুবায়ের রশিদ পৃথক ফেসবুক পোস্টে প্রীতির পক্ষে অবস্থান নেন। তিনি দাবি করেন, জুলাই আন্দোলনে রাজশাহী কলেজ থেকে ফ্যাসিবাদবিরোধী আন্দোলনে নেতৃত্ব দেওয়া মেয়েদের মধ্যে প্রীতি অন্যতম। তাকে ভয় দেখিয়ে রাজনীতি থেকে দূরে রাখার কোনো প্রচেষ্টা সফল হবে না বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

 

প্রীতির পক্ষ নিয়ে ফেসবুকে পোস্ট করেছেন রাজশাহী কলেজ ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক রাশিকুজ্জামান প্রীতমও। তিনি লেখেন, জুলাই আন্দোলনে রাজশাহী কলেজ থেকে যে কয়েকজন সাহসী নারী সামনে থেকে নেতৃত্ব দিয়েছেন, প্রীতি তাদের অন্যতম।

 

এদিকে দুই নেত্রীর পাল্টাপাল্টি অভিযোগ ও স্ক্রিনশট প্রকাশের হুঁশিয়ারি ঘিরে রাজশাহী কলেজের বিভিন্ন শিক্ষার্থীও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নিজেদের মতামত প্রকাশ করছেন।

ছাত্রলীগ-ছাত্রদল নেত্রীর পাল্টাপাল্টি অভিযোগ, স্ক্রিনশট প্রকাশের হুঁশিয়ারি

শ্যামনগরে পারিবারিক শত্রুতার জেরে গৃহবধূ ও শিশুকে বেধড়ক মারপিট, লাখ টাকা ও স্বর্ণালংকার লু।

 

সংবাদদাতা: জিয়াউর রহমান জিয়া,

শ্যামনগর উপজেলা প্রতিনিধি,

“দৈনিক আমাদের দেশ”।

 

সাতক্ষীরার শ্যামনগর উপজেলার ভুরুলিয়া ইউনিয়নের রুদ্রপুর গ্রামে পারিবারিক শত্রুতার জের ধরে এক গৃহবধূ ও তার নাবালক ছেলেকে বেধড়ক মারপিট করে নগদ টাকা ও স্বর্ণালংকার লুটের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় আহত মা-ছেলে বর্তমানে শ্যামনগর স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন রয়েছে।

 

ঘটনা ঘটেছে গত *২১ আগস্ট ২০২৬, রাত আনুমানিক ৮টার পর*।

 

স্থানীয় ও আহতদের সূত্রে জানা যায়, রুদ্রপুর গ্রামের মোসাম্মৎ সকিনা খাতুন স্বামী বাড়িতে না থাকার সুযোগে একই গ্রামের মোঃ আফজাল, পিতা- রুহুল আমিন; মোঃ হাসান, পিতা- মোঃ হবি; মোঃ হবি, পিতা- রুহুল আমিন এবং মোহাম্মদ আরাফাত, পিতা- আনিসুর রহমান সহ ৮/১০ জনের একটি দল দেশীয় লাঠি ও রড নিয়ে সকিনার বসতঘরে প্রবেশ করে।

 

এসময় নামাজরত অবস্থায় সকিনা খাতুনের চুলের মুঠি ধরে “আমাদের মেয়ে কই” বলে চিৎকার করে এলোপাতাড়ি মারতে থাকে। মাকে বাঁচাতে ১২ বছর বয়সী ছেলে মোহাম্মদ ইব্রাহিম এগিয়ে এলে তাকেও রড ও লাঠি দিয়ে পিটিয়ে তার বাম হাত ভেঙে দেয় দুর্বৃত্তরা।

 

হামলাকারীরা ঘরে থাকা আলমারি ভেঙে নগদ ১ লক্ষ ৫ হাজার টাকা, সকিনার কানের দুল ও গলার চেন লুট করে নেয়। পরে মা ও ছেলেকে জোর করে ধরে নিয়ে টেনে হিজড়ে তাদের বাড়িতে আটকে রেখে পুনরায় নির্যাতন করে ঘরে তালাবদ্ধ করে রাখে।

 

খবর পেয়ে স্থানীয়রা ঘটনাস্থলে গিয়ে তাদের উদ্ধার করতে না পেরে ৯৯৯ এ ফোন দেয়। পরে পুলিশ গিয়ে গুরুতর আহত অবস্থায় সকিনা ও ইব্রাহিমকে উদ্ধার করে শ্যামনগর স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করে।

 

শ্যামনগর স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের কর্তব্যরত চিকিৎসক ডা. মোহাম্মদ শাকিল হোসেন জানান, “রোগী দুইজনই মারাত্মকভাবে জখম হয়েছে। অবস্থা বিবেচনায় উন্নত চিকিৎসার জন্য তাদের সাতক্ষীরা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রেফার করা লাগতে পারে।

 

সরেজমিনে গিয়ে ঘটনার সত্যতা পাওয়া গেছে। এ বিষয়ে স্থানীয় অবসরপ্রাপ্ত নায়েব মনসুর আহম্মদ ঘটনার সত্যতা স্বীকার করেছেন।

 

এ ঘটনায় শ্যামনগর থানায় মামলার প্রস্তুতি চলছে বলে জানা গেছে।

শ্যামনগরে পারিবারিক শত্রুতার জেরে গৃহবধূ ও শিশুকে বেধড়ক মারপিট, লাখ টাকা ও স্বর্ণালংকার লুট

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

ঠাকুরগাঁওয়ে পিকআপ ও অটোরিকশার ত্রিমুখী সংঘর্ষ নিহত ২ আহত ৪

 

মোঃ আশরাফুল ইসলাম

ঠাকুরগাঁও প্রতিনিধি:

 

ঠাকুরগাঁওয়ের ভূল্লীতে পিকআপ, মোটরসাইকেল ও ব্যাটারিচালিত অটোরিকশার মুখোমুখি সংঘর্ষে দুই নারী নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আরও চারজন আহত হয়েছেন। বুধবার (২৬ আগস্ট) সকাল ৮টার দিকে পঞ্চগড়-ঠাকুরগাঁও মহাসড়কের ভূল্লী উপজেলাধীন কচুবাড়ী পোস্ট অফিস পাড়া এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।

 

নিহতরা হলেন—ভূল্লী উপজেলার বড় বালিয়া এলাকার শাহজাহান আলীর স্ত্রী আনোয়ারা বেগম (৪৫) এবং অজ্ঞাতনামা এক পুরুষ (প্রায় ৪০) মারা যান।

 

আহতরা হলেন— মোটরসাইকেলচালক লক্ষ্মীরহাট বাজার এলাকার ইদ্রিস আলীর ছেলে মো. হারুনুর রশিদ (৩৮), অটোরিকশাচালক কিসমত কেশুরবাড়ি এলাকার হাফিজুল ইসলামের ছেলে মো. সাহিরুল ইসলাম (২৩), বড় বালিয়া এলাকার মোছা. জরিনা (৪০) এবং ঠিকানা অজ্ঞাত মো. শফিকুল ইসলাম। আহতদের মধ্যে গুরুতর অবস্থায় হারুনুর রশিদ, সাহিরুল ইসলাম ও অন্যদের উন্নত চিকিৎসার জন্য রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।

 

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বুধবার সকালে ঢাকা থেকে পঞ্চগড়ের উদ্দেশে ছেড়ে আসা একটি মালবাহী পিকআপ কচুবাড়ী পোস্ট অফিস পাড়া এলাকায় পৌঁছালে বিপরীত দিক থেকে আসা একটি মোটরসাইকেল ও ব্যাটারিচালিত অটোরিকশার সঙ্গে মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। এতে তিনটি যানবাহনই ক্ষতিগ্রস্ত হয় এবং কয়েকজন যাত্রী ও চালক গুরুতর আহত হন।

 

দুর্ঘটনার পর স্থানীয় লোকজন ও ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে আহতদের উদ্ধার করেন। পরে তাদের ঠাকুরগাঁও ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় আনোয়ারা বেগম ও লাইলী বেগমের মৃত্যু হয়। গুরুতর আহত হারুনুর রশিদ ও সাহিরুল ইসলামকে পরে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়।

 

খবর পেয়ে ভূল্লী থানার পুলিশ এবং বোদা হাইওয়ে থানার পুলিশ ঘটনাস্থলে উপস্থিত হন। তারা দুর্ঘটনাকবলিত যানবাহন সরিয়ে মহাসড়কে যান চলাচল স্বাভাবিক করেন।

 

এ ঘটনায় পিকআপের চালক মো. হাবিবুর রহমান (২৪)কে আটক করেছে পুলিশ। তিনি নেত্রকোনার পূর্বধলা উপজেলার বিষকাকুড়ি গ্রামের মো. আব্দুল হামিদের ছেলে। পুলিশ পিকআপসহ তাকে ভূল্লী থানায় নিয়ে গেছে।

 

ভূল্লী থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) নূরে আলম সিদ্দিকী বলেন, “কচুবাড়ী এলাকায় পিকআপ, মোটরসাইকেল ও ব্যাটারিচালিত অটোরিকশার মধ্যে সংঘর্ষে দুই নারী নিহত হয়েছেন। আহতদের উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। পিকআপের চালককে গাড়িসহ আটক করা হয়েছে। দুর্ঘটনার বিষয়ে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলছে।”

পুলিশ জানিয়েছে, বর্তমানে মহাসড়কে যান চলাচল স্বাভাবিক রয়েছে। দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

ঠাকুরগাঁওয়ে পিকআপ ও অটোরিকশার ত্রিমুখী সংঘর্ষ নিহত ২ আহত ৪

নাটোরের গুরুদাসপুরে নদীতে ডুবে মারা যাওয়া দুই শিশুর সুরতহাল প্রতিবেদন করতে গিয়ে হামলার শিকার হয়েছেন পুলিশের এক উপপরিদর্শক (এসআই) ও এক কনস্টেবল। মঙ্গলবার (২৫ আগস্ট) রাত ৮টার দিকে উপজেলার নাজিরপুর ইউনিয়নের ওয়াপদা বাজারসংলগ্ন ঈদগাহ মাঠে দুই শিশুর জানাজার সময় এ ঘটনা ঘটে। পরে অতিরিক্ত পুলিশ গিয়ে তাদের উদ্ধার করে থানায় নিয়ে যায়।

 

এদিকে তদন্তে ত্রুটি পাওয়ার অভিযোগে ওই দুই পুলিশ সদস্যকে একই রাতে সাময়িক বরখাস্ত করে নাটোর পুলিশ লাইন্সে সংযুক্ত করা হয়েছে। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন নাটোরের পুলিশ সুপার শরিফুল ইসলাম।

 

বরখাস্ত হওয়া দুই পুলিশ সদস্য হলেন গুরুদাসপুর থানার এসআই আবুল বাসার (৪৫) ও কনস্টেবল রাকিব হোসেন (৩৬)।

 

পুলিশ সুপার শরিফুল ইসলাম বলেন, মৃত দুই শিশুর সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরির জন্য এসআই আবুল বাসার ও কনস্টেবল রাকিব ঘটনাস্থলে গিয়েছিলেন। তাদের তদন্তে নানা ধরনের ত্রুটি পাওয়া গেছে। এ কারণে তাদের সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে।

 

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, মঙ্গলবার বিকেলে গুরুদাসপুর উপজেলার নাজিরপুর ইউনিয়নের শ্যামপুর গ্রামে নন্দকুঁজা নদীতে ডুবে দুই শিশু মারা যায়। নিহতরা হলো—চন্দ্রপুর গ্রামের ফজলুর রহমানের ছেলে ফারহান ইসলাম এবং একই গ্রামের বাবুল ইসলামের ছেলে লাম ইসলাম। তারা দুজনই চন্দ্রপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী।

 

স্থানীয়রা জানান, দুপুরে খাওয়ার পর দুই শিশু নদীর তীরের একটি আমবাগানে খেলছিল। একপর্যায়ে তারা নদীর কিনারায় গোসল করতে নামে। দুজনের কেউই সাঁতার জানত না। নদীর স্রোতে তারা তলিয়ে যায়। পরে স্থানীয়রা তাদের উদ্ধার করে নাটোর জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক দুজনকেই মৃত ঘোষণা করেন।

 

সন্ধ্যায় দুই শিশুর মরদেহ ওয়াপদা বাজারসংলগ্ন ঈদগাহ মাঠে নেওয়া হয়। সেখানে জানাজার প্রস্তুতি চলছিল। এ সময় সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরির জন্য এসআই আবুল বাসার ও কনস্টেবল রাকিব সেখানে যান।

 

স্থানীয় বিএনপি নেতা সামসুল হকের দাবি, সুরতহাল করার সময় পুলিশ সদস্যরা মরদেহ দুটি থানায় নেওয়ার কথা বলেন। এ সময় কাফনের কাপড় সরিয়ে মরদেহ অনাবৃত করা হয়েছে—এমন অভিযোগ ওঠে। এতে জানাজায় উপস্থিত লোকজন ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠেন।

 

একপর্যায়ে উত্তেজিত কয়েকজন দুই পুলিশ সদস্যের ওপর চড়াও হন। তাদের কিল-ঘুষি মারার পাশাপাশি ইটপাটকেল নিক্ষেপ করা হয়। আত্মরক্ষার জন্য দুই পুলিশ সদস্য ওয়াপদা বাজারের একটি দোকানে আশ্রয় নেন।

 

সামসুল হক বলেন, পুলিশের আচরণে স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভ তৈরি হয়। একপর্যায়ে প্রায় দেড় হাজার মানুষ দোকানটি ঘিরে ফেলেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে গেলে দুই পুলিশ সদস্য স্থানীয়দের কাছে ক্ষমা চান। এরপরও তারা হামলার শিকার হন।

 

পরে হামলার শিকার দুই পুলিশ সদস্য থানায় খবর দেন। খবর পেয়ে অতিরিক্ত পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে তাদের উদ্ধার করে থানায় নিয়ে যায়। এ ঘটনায় এলাকায় গ্রেপ্তার আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়লেও এখন পর্যন্ত থানায় কোনো অভিযোগ দায়ের হয়নি এবং কাউকে আটকও করা হয়নি বলে পুলিশ জানিয়েছে।

 

গুরুদাসপুর থানার তদন্ত কর্মকর্তা এস এম রিয়াজুল হাসান বলেন, দুই পুলিশ সদস্যের ওপর হামলার খবর পেয়ে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়। পরে স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিদের সঙ্গে আলোচনা ও সমঝোতার মাধ্যমে তাদের উদ্ধার করা হয়।

 

এ বিষয়ে গুরুদাসপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুল হান্নানের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন ধরেননি।

 

এদিকে একসঙ্গে দুই শিশুর মৃত্যুর ঘটনায় পরিবার ও এলাকাজুড়ে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। জানাজার সময় পুলিশের সঙ্গে স্থানীয়দের এ সংঘর্ষের ঘটনায়ও এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছে।

জানাজার সময় তদন্ত করতে গিয়ে হামলার শিকার দুই পুলিশ, রাতেই বরখাস্ত

ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় সোনালী ব্যাংকের ভেতরে ক্যাশ কাউন্টারের সামনে থেকে এক গ্রাহকের ৭ লাখ ৮০ হাজার টাকা চুরি করেছে একটি চোর চক্র।

 

সোমবার (২৫ আগস্ট) দুপুরে সোনালী ব্যাংকের ব্রাহ্মণবাড়িয়া করপোরেট শাখায় এ ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় ব্যাংকের নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে এবং আতঙ্ক ছড়িয়েছে সাধারণ গ্রাহকদের মধ্যে।

 

প্রত্যক্ষদর্শী ও ব্যাংক কর্তৃপক্ষ জানায়, সকাল ১১টার দিকে এক গ্রাহক ৭ লাখ ৮০ হাজার টাকা জমা দিতে ব্যাংকে আসেন। টাকার ব্যাগটি ক্যাশ কাউন্টারের সামনে রেখে পাশের একটি টেবিলে বসে জমা দেওয়ার ভাউচার পূরণ করছিলেন তিনি।

 

এ সময় সুযোগ বুঝে চক্রটির এক সদস্য ক্যাশ কাউন্টারের সামনে থেকে টাকার ব্যাগটি নিয়ে দ্রুত ব্যাংক থেকে বেরিয়ে যায়। পরে বিষয়টি বুঝতে পেরে ব্যাংক কর্তৃপক্ষকে জানান ওই গ্রাহক।

 

জানা গেছে, চোর চক্রের কয়েকজন সদস্য গ্রাহকের বেশে ব্যাংকের ভেতরে প্রবেশ করেছিল। তাদের মধ্যে একজন সুযোগ বুঝে টাকার ব্যাগটি নিয়ে বেরিয়ে যায়।

 

খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। চক্রটির সদস্যদের শনাক্ত করতে ব্যাংকের সিসিটিভি ফুটেজ পর্যালোচনা করা হচ্ছে।

 

সোনালী ব্যাংকের ব্রাহ্মণবাড়িয়া করপোরেট শাখার প্রধান মো. শরীফুল হক বলেন, গ্রাহক টাকার ব্যাগটি ক্যাশ কাউন্টারের সামনে রেখে ভাউচার লিখছিলেন। এ সময় টাকার দিকে তার নজর না থাকায় চোর চক্রটি কৌশলে ব্যাগটি নিয়ে ব্যাংক থেকে বেরিয়ে যায়।

 

তিনি আরও বলেন, সিসিটিভি ফুটেজ পর্যালোচনা করে চোর চক্রের সদস্যদের শনাক্তের চেষ্টা করছে পুলিশ। গ্রাহকের অসাবধানতার কারণেই এ অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটেছে বলেও জানান তিনি।

ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় সোনালী ব্যাংকের ভেতর থেকে গ্রাহকের ৭ লাখ ৮০ হাজার টাকা চুরি

রাজবাড়ীর পাংশায় ৩০ পিস ইয়াবাসহ কালুখালী উপজেলার মাজবাড়ী ইউনিয়নের দুই সংরক্ষিত নারী ইউপি সদস্যকে গ্রেফতার করেছে জেলা গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশ।

 

মঙ্গলবার (২৫ আগস্ট) রাত সাড়ে ১০টার দিকে বিষয়টি নিশ্চিত করেন রাজবাড়ী ডিবি পুলিশের ওসি মো. মফিজুল ইসলাম।

 

পুলিশ জানায়, মঙ্গলবার বিকেলে জেলা গোয়েন্দা শাখার এসআই শিমুল শেখের নেতৃত্বে পুলিশের একটি দল পাংশা মডেল থানা এলাকায় অভিযান চালায়। এ সময় পাংশা পৌরসভার কলেজ রোডে ‘উড ওয়ার্ড ফার্নিচার’ দোকানের সামনে পাকা সড়ক থেকে ৩০ পিস ইয়াবা উদ্ধার করা হয়। একইসঙ্গে মাদক ব্যাবসার সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে দুই নারীকে গ্রেফতার করা হয়।

 

গ্রেফতার দুজন হলেন— কালুখালী উপজেলার মোহনপুর এলাকার আব্দুল মান্নান মন্ডলের স্ত্রী মোছা. হামিদা খাতুন (৪৭) এবং চর কুলটিয়া এলাকার কদর আলী মন্ডলের স্ত্রী সাজেদা বেগম (৪০)।

 

হামিদা খাতুন মাজবাড়ী ইউনিয়নের ১, ২ ও ৩ নম্বর ওয়ার্ডের সংরক্ষিত নারী সদস্য। অন্যদিকে সাজেদা বেগম একই ইউনিয়নের ৭, ৮ ও ৯ নম্বর ওয়ার্ডের সংরক্ষিত নারী সদস্য।

 

ডিবি পুলিশের ওসি মো. মফিজুল ইসলাম জানান, গ্রেফতারের পর তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।

 

এ বিষয়ে মাজবাড়ী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান কাজী শরিফুল ইসলাম বলেন, তার পরিষদের দুই নারী সদস্য ইয়াবাসহ গ্রেফতার হয়েছেন বলে তিনি শুনেছেন। তবে প্রশাসনের পক্ষ থেকে তাকে এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু জানানো হয়নি।

রাজবাড়ীতে ইয়াবাসহ দুই নারী ইউপি সদস্য গ্রেফতার

ঢাকায় ভুটানের রাজার যাত্রাবিরতি, সৌজন্য সাক্ষাৎ করলেন রাষ্ট্রপতি

ভুটানের রাজা জিগমে খেসার নামগে ওয়াংচুককে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে স্বাগত জানিয়েছেন রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

 

ভুটানের রাজাকে বহনকারী একটি বিশেষ বিমান সিঙ্গাপুর থেকে ভুটান যাওয়ার পথে বুধবার (২৬ আগস্ট) ভোরে ঢাকায় যাত্রাবিরতি করে। বিমানবন্দরে প্রায় এক ঘণ্টার অবস্থানকালে ভিভিআইপি লাউঞ্জে রাষ্ট্রপতি ভুটানের রাজার সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন। তারা পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয়ে সৌহার্দ্যপূর্ণ আলোচনা করেন।

 

এ সময় রাষ্ট্রপতি ভুটানের রাজা ও রাজপরিবারের সদস্যদের সুবিধাজনক সময়ে বাংলাদেশে রাষ্ট্রীয় সফরের জন্য আমন্ত্রণ জানান। জবাবে ভুটানের রাজা বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীকে তাদের সুবিধাজনক সময়ে ভুটান সফরের আমন্ত্রণ জানিয়েছেন।

 

ভুটানের রাজা ওয়াংচুক রাষ্ট্রপতি হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের জন্য মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকে আন্তরিক অভিনন্দন ও শুভ কামনা জানিয়েছেন। রাষ্ট্রপতি বাংলাদেশের জনগণ ও সরকারের পক্ষ থেকে ভুটানের রাজা ও রাজপরিবারের সদস্যদের প্রতি উষ্ণ শুভেচ্ছা জানিয়েছেন। জবাবে ভুটানের রাজাও বাংলাদেশের জনগণ ও সরকারের প্রতি শুভকামনা জ্ঞাপন করেন।

 

আলাপকালে রাষ্ট্রপতি বলেন, বাংলাদেশ ও ভুটানের মধ্যে গভীর ও ঐতিহাসিক সম্পর্ক বিদ্যমান। তিনি বলেন, ভুটান সবসময় আমাদের হৃদয়ে বিশেষ স্থান করে আছে। কারণ, ১৯৭১ সালের ৬ ডিসেম্বর বাংলাদেশকে স্বীকৃতি দেওয়া বিশ্বের প্রথম দেশ ভুটান।

 

বাংলাদেশের প্রতি ভুটানের বর্তমান রাজার পিতা, রাজা জিগমে সিংগে ওয়াংচুকের বিশেষ মমত্ববোধ ও শুভ কামনাও রাষ্ট্রপতি গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করেন।

 

দুই দেশের অভিন্ন উন্নয়ন ও সমৃদ্ধির আকাঙ্ক্ষার কথা তুলে ধরে ভুটানের রাজা শিক্ষা, বাণিজ্য ও বিনিয়োগসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে দ্বিপক্ষীয় সহযোগিতা আরও বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দেন।

 

ভুটানের রাজা তার দূরদর্শী ‘গেলেফু মাইন্ডফুলনেস সিটি’ প্রকল্প সম্পর্কে রাষ্ট্রপতিকে অবহিত করেন এবং এ উদ্যোগে বাংলাদেশের অংশগ্রহণ ও সহযোগিতা কামনা করেন। রাষ্ট্রপতি প্রকল্পটির প্রতি গভীর আগ্রহ প্রকাশ করেন এবং এর প্রশংসা করেন। তিনি বলেন– পারস্পরিক কল্যাণ, সমৃদ্ধি ও টেকসই উন্নয়নের লক্ষ্যে এ অঞ্চলের রূপান্তরমূলক উদ্যোগগুলো এগিয়ে নিতে বাংলাদেশ ভুটানের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করতে প্রস্তুত।

 

সৌজন্য সাক্ষাতে উপস্থিত ছিলেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান, বাংলাদেশে নিযুক্ত ভুটানের রাষ্ট্রদূত এবং বাংলাদেশ সরকারের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।

 

ভুটানের রাজাকে বহনকারী বিশেষ বিমানটি সকাল সাড়ে ৬টার দিকে ভুটানের উদ্দেশে ঢাকা ত্যাগ করে।

ঢাকায় ভুটানের রাজার যাত্রাবিরতি, সৌজন্য সাক্ষাৎ করলেন রাষ্ট্রপতি

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (রাকসু) জিএস সালাহউদ্দিন আম্মারের দায় নেবে না ইসলামী ছাত্রশিবির। মঙ্গলবার (২৬ আগস্ট) বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবহন মার্কেট চত্বরে এক সংবাদ সম্মেলনে এ কথা জানায় সংগঠনটি।

 

দাপ্তরিক খরচের বাজেট নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে রাবি শিবির সভাপতি মুজাহিদ ফয়সাল বলেন, জিএস দাপ্তরিক কাজের কথা বলে তিন লাখ ৭০ হাজার টাকা তুলে বিভিন্ন দপ্তরের নামে খরচ দেখিয়েছেন, যা আমাদের কাছে অবাস্তব মনে হয়েছে। আমাদের প্রতিনিধিদের হিসাব অনুযায়ী, অন্য সব দফতর মিলে সর্বসাকুল্যে ৫০-৬০ হাজার টাকার বেশি খরচ হওয়ার কথা নয়। এভাবে অন্যান্য দফতরের ওপর দায় চাপিয়ে তিনি ব্যক্তিগত অনিয়ম এড়াতে পারেন না। কোন দফতরে কত টাকা খরচ হয়েছে, এর তথ্য-প্রমাণসহ সুনির্দিষ্ট হিসাব প্রকাশের দাবি জানাচ্ছি। সালাহউদ্দিন আম্মার আমাদের প্যানেলের না হওয়ায় তার কর্মকাণ্ড ও আর্থিক হিসাবের কোনো দায় ছাত্রশিবির নেবে না।

 

সংবাদ সম্মেলনে, রাকসু নির্বাচনের তপশিল ঘোষণাসহ পাঁচ দফা দাবি জানিয়েছে সংগঠনটি। তাদের অন্য দাবিগুলো হচ্ছে, বিশ্ববিদ্যালয়ে শতভাগ আবাসিকতা নিশ্চিত করতে সুস্পষ্ট রোডম্যাপ প্রণয়ন, অনাবাসিক শিক্ষার্থীদের জন্য আবাসন ভাতা চালু, পূর্ণাঙ্গ ও আধুনিক মেডিকেল সেন্টার প্রতিষ্ঠা এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের সিনেট কার্যকর করতে হবে।

 

রাকসু নির্বাচনকে একাডেমিক ক্যালেন্ডারে অন্তর্ভুক্ত করার দাবি জানিয়ে লিখিত বক্তব্যে শিবির সভাপতি বলেন, ইতোমধ্যেই রাকসু নির্বাচনের ১০ মাস অতিবাহিত হচ্ছে। এখনই যদি পরবর্তী রাকসু নির্বাচনের প্রস্তুতি গ্রহণ করা না যায়, তবে যথাসময়ে রাকসু বাস্তবায়নে শিক্ষার্থীদের চাওয়া পূরণ করা সম্ভব হবে না। তাই বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন এখনই কার্যকর পদক্ষেপ নিক। শিক্ষার্থীরা যাতে প্রতিবছর রাকসু নির্বাচন পায়, এটি নিশ্চিত করতে একাডেমিক ক্যালেন্ডারে রাকসু নির্বাচনকে অন্তর্ভুক্ত করার দাবি জানাই।

 

১০ মাসে রাকসু’র অর্জনের বিষয়ে তিনি বলেন, আপনারা দেখবেন, ক্যাম্পাসে ট্যাগিং-ফ্রেমিং বা নারী শিক্ষার্থীদের বুলিং কিন্তু আগের মতো হচ্ছে না। আগের মতো ক্যাম্পাসে মাদকের ছড়াছড়ি নেই। ক্যাম্পাসের রাজনৈতিক সহাবস্থান নিশ্চিত হয়েছে এবং আসন বাণিজ্যের কবর রচিত হয়েছে। গেস্টরুম কালচার, গণরুম কালচার নেই। ক্যাম্পাসগুলোতে মেধা এবং সিনিয়রিটির ভিত্তিতে আসন বণ্টন হচ্ছে, যেটি সবচেয়ে বড় একটি পরিবর্তন।

 

এ সময় সংবাদ সম্মেলনে আরও উপস্থিত ছিলেন শিবিরের সাধারণ সম্পাদক মেহেদী হাসানসহ বিভিন্ন হলের নির্বাচিত রাকসু প্রতিনিধি ও সংগঠনের নেতাকর্মীরা।

রাকসুর জিএস আম্মারের দায় নেবে না শিবির

যশোরের কেশবপুরে বাবার মরদেহ বাড়ির বারান্দায় রেখে সংঘর্ষে জড়ানো সেই দুই ভাইয়ের বিরুদ্ধে এবার বৃদ্ধ মাকে ভিটেবাড়ি থেকে বের করে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। অসহায় বৃদ্ধা নুরজাহানের ঠাঁই হয়েছে প্রায় ১২ কিলোমিটার দূরে মেয়ের বাড়িতে।

 

মঙ্গলবার সকালের দিকে কেশবপুর উপজেলার সন্যাসগাছা গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। পরপর দুই ঘটনায় কেন্দ্র করে এলাকায় চাঞ্চল্যের সষ্টি হয়েছে।

 

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, সোমবার সকালে নুরজাহান বেগমের স্বামী খালেক মানের মরদেহ বাড়ির বারান্দায় রাখা ছিল। স্বজনরা যখন দাফনের প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন, তখন কবরের জায়গা দেওয়া নিয়ে দুই ছেলে মাহবুর রহমান ও আসাবুর রহমানের মধ্যে বিরোধ দেখা দেয়। একপর্যায়ে তারা সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়েন। এতে উভয় পক্ষের পাঁচজন আহত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হন। এ ঘটনার রেশ কাটতে না কাটতেই বৃদ্ধা নুরজাহান বেগমকে ভিটেবাড়ি থেকে বের করে দেওয়ার অভিযোগ ওঠে তার ছেলেদের বিরুদ্ধে। স্বামীকে হারানোর শোকের মধ্যেই বাড়ি ছাড়তে বাধ্য হয়ে শেষ পর্যন্ত মেয়ে নাছিমা বেগমের বাড়িতে আশ্রয় নেন তিনি। নিজ বাড়ি থেকে প্রায় ১২ কিলোমিটার দূরে পাঁজিয়া ইউনিয়নের গড়ভাঙ্গা গ্রামে বর্তমান মেয়ের বাড়িতে রয়েছেন বলে তার মেয়েজামাই নজরুল ইসলাম জানান।

 

আসাবুর রহমানের ছেলে আল আমিন জানান, চিকিৎসার জন্য তার বাবা বাইরে আছেন। বড় চাচা মামলা করেছেন শুনে বাড়ি আসেননি। তবে তার দাদি কোথায় আছেন তা তার জানা নেই।

 

এ বিষয়ে গৌরীঘোনা ইউনিয়ন পরিষদের সন্যাসগাছা ওয়ার্ডের সদস্য পংকজ চক্রবর্তী জানান, ঘটনাটি শুনেছি। স্থানীয়ভাবে বিষয়টি মীমাংসার উদ্যোগ নেওয়া হবে।

 

কেশবপুর থানার ওসি রোকসানা খাতুন বলেন, সন্যাসগাছার ঘটনায় মাকে বাড়িতে ঢুকতে না দেওয়ার বিষয়টি জানি না। তবে তিনি অভিযোগ করলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

বাড়িতে বাবার লাশ রেখে সংঘর্ষ কেশবপুরে এবার মাকে বাড়িছাড়া করল সেই দুই ভাই

কালিগঞ্জে আইন-শৃঙ্খলা কমিটির সভা অপরাধীকে দল-মত না দেখে আইনের আওতায় আনার নির্দেশ

এস. এম. নাসির উদ্দীন, কালিগঞ্জ (সাতক্ষীরা) প্রতিনিধি:

 

সাতক্ষীরার কালিগঞ্জে উপজেলা প্রশাসনের আয়োজনে মাসিক আইন-শৃঙ্খলা, উন্নয়ন সমন্বয় ও এনজিও বিষয়ক কমিটির সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। মঙ্গলবার (২৫ আগস্ট) সকাল ১০টায় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার সম্মেলন কক্ষে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়।

 

সভায় সভাপতিত্ব করেন কালিগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (চলতি দায়িত্ব) মিলন সাহা। প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা আইন-শৃঙ্খলা কমিটির উপদেষ্টা ও সাতক্ষীরা-৩ (কালিগঞ্জ-আশাশুনি) আসনের সংসদ সদস্য হাফেজ মুহাদ্দিস রবিউল বাশার।

 

প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি বলেন, কোনো অবস্থাতেই আইন-শৃঙ্খলার অবনতি ঘটে—এমন কর্মকাণ্ড বরদাশত করা হবে না। দল-মতকে প্রাধান্য না দিয়ে অপরাধীদের চিহ্নিত করে আইনের আওতায় আনতে হবে। সরকারি বরাদ্দের কাজ যথাযথভাবে বাস্তবায়ন করতে হবে। এসব কাজে কোনো ধরনের অন্যায় ও দুর্নীতি বরদাশত করা হবে না।

 

সভায় উপজেলার সার্বিক আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি ও বিভিন্ন বিষয়ে দিকনির্দেশনামূলক বক্তব্য দেন উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মইনুল ইসলাম খান, কালিগঞ্জ থানার পুলিশ পরিদর্শক সুশান্ত ঘোষ, উপজেলা জামায়াতে ইসলামীর আমির মাওলানা আব্দুল ওহাব সিদ্দিক, সেক্রেটারি সহকারী অধ্যাপক আব্দুর রউফ, উপজেলা বিএনপির সাবেক সদস্য সচিব ডা. শেখ শফিকুল ইসলাম বাবু এবং কালিগঞ্জ প্রেসক্লাবের সভাপতি শেখ সাইফুল বারী সফু।

 

এছাড়া বক্তব্য দেন কৃষ্ণনগর ইউপি চেয়ারম্যান সাফিয়া পারভীন, নলতা ইউপি চেয়ারম্যান মো. আজিজুর রহমান, ধলবাড়িয়া ইউপি চেয়ারম্যান গাজী শওকাত হোসেন, বিষ্ণুপুর ইউপি চেয়ারম্যান জাহাঙ্গীর আলম, উপজেলা দুর্নীতি প্রতিরোধ কমিটির সভাপতি মোস্তফা আখেরুজ্জামান পল্টু, হাজী তোফিল উদ্দিন মহিলা দাখিল মাদ্রাসার সুপার মাওলানা শফিউল্লাহ এবং কালিগঞ্জ বিজিবি খানজিয়া ক্যাম্পের সুবেদার সাদেক।

 

সভায় কালিগঞ্জ উপজেলায় সাম্প্রতিক সময়ে সংঘটিত পৃথক তিনটি হত্যাকাণ্ড, মাদকদ্রব্য ও চোরাচালান বৃদ্ধি, সীমান্ত এলাকায় মাদক চোরাচালানের কারণে যুবসমাজের বিপথগামিতা এবং বিভিন্ন মোড়ে কেরাম বোর্ড খেলা বন্ধসহ আইন-শৃঙ্খলা সংশ্লিষ্ট নানা বিষয় নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। এসব বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের সিদ্ধান্তও নেওয়া হয়।

 

সমাপনী বক্তব্যে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মিলন সাহা বলেন, উপজেলার আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির টেকসই উন্নয়ন এবং অপরাধ দমনে প্রশাসনের পক্ষ থেকে কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে। মদ, জুয়া, জমি দখল ও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড প্রতিরোধে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

 

সভায় উপজেলা আইন-শৃঙ্খলা কমিটির সংশ্লিষ্ট সদস্য, বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তা, জনপ্রতিনিধি, রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ এবং স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।

কালিগঞ্জে আইন-শৃঙ্খলা কমিটির সভা অপরাধীকে দল-মত না দেখে আইনের আওতায় আনার নির্দেশ

চিকিৎসক-জনবল সংকটে ঝুঁকছে ডিমলা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স অবকাঠামো যন্ত্রপাতি আছে, নেই পর্যাপ্ত জনব , বন্ধু অপারেশন থিয়েটার, জটিল রোগী যাচ্ছে জেলা সদর ও রংপুরে মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে

 

স্টাফ রিপোর্টার

মাইদুল ইসলাম:

২৫/আগস্ট/২৬ইংঃ নীলফামারী প্রান্তিক উপজেলার ডিমলায় প্রায়

সাড়ে তিন লাখ মানুষের একমাত্র সরকারি চিকিৎসাকেন্দ্র ৫০ শয্যার

উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স। চিকিৎসা সেবা মানুষের দোরগোড়ায় পৌঁছে দিতে সরকারি উদ্যোগে গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক অবকাঠামো, রয়েছে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা সরঞ্জাম কিন্তু চিকিৎসক ও জনবল সংকটে ব্যহত হচ্ছে প্রতিষ্ঠানটির স্বাভাবিক কার্যক্রম। দীর্ঘদিন ধরে বন্ধ হয়েছে অপারেশন থিয়েটার। ফলে দুর্ঘটনায় আহত রুগী, জটিল রোগে আক্রান্ত মানুষ কিংবা প্রসূতি মায়েদের সিজারিয়ানসহ প্রয়োজনীয় অস্ত্রোপচারের জন্য ছুটতে হচ্ছে জেলা সদর কিংবা রংপুর মেডিকেল হাসপাতালে। হাসপাতালের চিকিৎসক ও প্রয়োজনীয় জনবল না থাকায় কাঙ্ক্ষিত সেবা না পেয়ে প্রতিদিনই ভোগান্তিরতে পরছে প্রত্যন্ত এলাকার সাধারণ মানুষ। বিশেষ করে দরিদ্র ও

নিম্নআয়ের রোগীদের চিকিৎসার জন্য দূরের হাসপাতালে যেতে হচ্ছে বাড়তি অর্থ খরচ করে। এতে সরকারি স্বাস্থ্যসেবার উপর নির্ভরশীল মানুষের দুর্ভোগ আরো বাড়ছে। হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, ৫০ শয্যার এই স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে মোট ২৬০ টি পদের বিপরীতে কর্মরত আছেন প্রয়োজনের তুলনায় কমসংখ্যক জনবল। শূন্য রয়েছে ৯৩ টি পদ। এর মধ্যে চিকিৎসকের ৩৩ টি অনুমোদিত পদের বিপরীতে ১৮ টি পদই শূন্য । দীর্ঘদিন ধরে উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তার পদটিও খালি রয়েছে। আবাসিক মেডিকেল কর্মকর্তা (আরএমও) পদ থাকলেও বর্তমানে ওই পদে কোন চিকিৎসক নেই। ফলে একজন মেডিকেল অফিসার কে ভারপ্রাপ্ত আরএমও হিসেবে দায়িত্ব পালন করতে হচ্ছে। চিকিৎসক সংকটের কারণে বহির্বিভাগে রোগীদের চাপ সামলাতে হিমশিম খেতে হচ্ছে কর্তৃপক্ষকে। প্রত্যন্ত গ্রাম থেকে চিকিৎসা নিতে আসা রোগীদের দীর্ঘসময় অপেক্ষা করতে হচ্ছে। আবার প্রয়োজনীয় বিশেষ চিকিৎসক ও অন্যান্য সুবিধা না থাকায় অনেক রোগীকে উন্নত চিকিৎসার জন্য অন্যত্র পাঠিয়ে দেওয়া হচ্ছে। সবচেয়ে বেশি সংকট তৈরি হয়েছে অস্ত্রোপচার সেবায়। হাসপাতালে অবকাঠামো ও প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি থাকার পরও জনবল সংকটে দীর্ঘদিন ধরে অপারেশন থিয়েটার কার্যত বন্ধ। ফলে জরুরী অস্ত্রোপচারে প্রয়োজন এমন রোগীদের জেলা সদর হাসপাতাল কিংবা বেসরকারি হাসপাতালে যেতে হচ্ছে। ডিমলা উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়ন থেকে চিকিৎসা নিতে আসা রোগীদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, সরকারি হাসপাতালে চিকিৎসা নেওয়ার প্রত্যাশা থাকলেও প্রয়োজনীয় সেবা না পাওয়ায় তাদের অনেকেই অর্থ খরচ করে বাইরের ডাক্তারের পরামর্শ নিতে হচ্ছে। এতে যাতায়ত , পরীক্ষা-নিরীক্ষা ঔষধ ও চিকিৎসার খরচ মিলিয়ে ব্যয় বেড়ে যাচ্ছে। বিশেষ করে সিজারিয়ান অপারেশনের প্রয়োজন হওয়ায় দরিদ্র পরিবারের প্রসূতি নারীদের জন্য পরিস্থিতি আরো কঠিন হয়ে উঠেছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, একটি উপজেলা পর্যায়ের সরকারি হাসপাতালে অবকাঠামো ও যন্ত্রপাতি থাকার পরেও শুধু জনবল সংকটে সেবা বন্ধ থাকা অত্যন্ত হতাশাজনক। স্থানীয়দের দাবি দ্রুত চিকিৎসকসহ শুন্য পদগুলো পূরণ করে অপারেশন থিয়েটার চালু করার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা। স্বাস্থ্যসেবা সংশ্লিষ্টরা বলছেন, একটি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের কার্যক্রম শুধু বহির্বিভাগে রোগী দেখা পর্যন্ত সীমাবদ্ধ নয়। জরুরী চিকিৎসা, প্রসূতি সেবা, অস্ত্রোপচারসহ প্রয়োজনীয় চিকিৎসাসেবায নিশ্চিত করতে হলে অনুমোদিত পথ অনুযায়ী চিকিৎসক ও অন্যান্য জনবল থাকা জরুরি। বিশেষ করে ডিমলা উপজেলার মত বড় জনসংখ্যার একটি উপজেলার জন্য জনবল সংকট দীর্ঘস্থায়ী হলে এর সরাসরি প্রভাব পড়ে সাধারণ মানুষের উপর। হাসপাতালের ভারপ্রাপ্ত উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা.আবু হেনা মোস্তফা কামাল বলেন, জনবল সংকটের বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে। শূন্য পথ গুলো পূরণ হলে হাসপাতালে চিকিৎসা সেবা আরো কার্যকর হবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি। এদিকে, ডিমলা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের বর্তমান পরিস্থিতি সরকারি স্বাস্থ্য অবকাঠামোর একটি বড় বাস্তবতাকেই সামনে এনেছে – ভবন আছে, যন্ত্রপাতি আছে, কিন্তু সেগুলো পরিচালনার মত পর্যাপ্ত জনবল নেই। ফলে সরকারি বিনিয়োগে গড়ে ওঠা অবকাঠামোর পূর্ণ সুফল থেকে বঞ্চিত হচ্ছে লাখো মানুষ। স্থানীয়দের প্রশ্ন, চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করতে যদি প্রয়োজনীয় চিকিৎসক ও জনবলই না থাকে, তাহলে কোটি কোটি টাকা ব্যয় নির্মিত অবকাঠামো ও কেনা আধুনিক যন্ত্রপাতি কতটা কাজে আসছে? ডিমলার মানুষের এই প্রশ্ন উত্তর খুঁজতে দ্রুত শূন্য পদ পুরন, অপারেশন থিয়েটার চালু এবং প্রয়োজনীয় বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক সেবা নিশ্চিত করার দাবি এখন জোরালো হচ্ছে।

চিকিৎসক-জনবল সংকটে ঝুঁকছে ডিমলা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স অবকাঠামো যন্ত্রপাতি আছে, নেই পর্যাপ্ত জনবল

র‌্যাবের চৌকস অভিযানে জীপসহ প্রায় ১১ হাজার ইয়াবার চালান আটক

জামালপুর হামলা পাল্টা হামলার মধ্য দিয়ে জেলার সানন্দবাড়ী তে থমথমে অবস্থা বিরাজমান।

পর্নোগ্রাফি নিয়ন্ত্রণ আইনে এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা দায়ের ও আদালতে মিথ্যা হলফনামা দেয়ার অভিযোগে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের কেবিন ক্রু খাদিজা সুলতানা শিমুর বিরুদ্ধে মামলা দায়েরের নির্দেশ দিয়েছেন আদালত।

 

বুধবার (১৫ জুলাই) ঢাকার অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালত-২-এর বিচারক মো. জাকির হোসাইন এ আদেশ দেন। আদালতের আদেশে বলা হয়েছে, শিমুর বিরুদ্ধে পর্নোগ্রাফি নিয়ন্ত্রণ আইন, ২০১২-এর ১৩ ধারা এবং দণ্ডবিধির ১৮১, ১৮২ ও ১৯৩ ধারায় মামলা করা হবে। আদালত নিজেই এ মামলার বাদী হয়েছেন।

 

আদালতের নথি অনুযায়ী, খাদিজা সুলতানা শিমু মামলার বাদী হয়ে বেসরকারি একটি এয়ারলাইন্সের কর্মকর্তা মো. ওমর ফারুক চৌধুরীর বিরুদ্ধে পর্নোগ্রাফি নিয়ন্ত্রণ আইনের বিভিন্ন ধারায় উত্তরা পশ্চিম থানায় মামলা করেন।

 

তদন্ত শেষে উত্তরা পশ্চিম থানার তদন্ত কর্মকর্তা আদালতে চূড়ান্ত প্রতিবেদন দাখিল করে জানান, অভিযোগের সত্যতা পাওয়া যায়নি। প্রতিবেদনে বলা হয়, মামলার এজাহারে উল্লেখ করা ফেসবুক লিংক, ডিজিটাল আলামত ও অন্যান্য তথ্য যাচাই করে ওমর ফারুকের বিরুদ্ধে পর্নোগ্রাফি প্রচারের কোনো প্রমাণ মেলেনি। ফলে ওই কর্মকর্তাকে মামলা থেকে অব্যাহতির সুপারিশ করা হয়।

একই সঙ্গে তদন্ত কর্মকর্তা প্রতিবেদনে উল্লেখ করেন, ওমর ফারুক আগে শিমুর বিরুদ্ধে বিয়ের প্রলোভন দিয়ে অর্থ আত্মসাতের অভিযোগে আদালতে মামলা করেছিলেন। সেই মামলার দায় এড়াতেই শিমু সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচারিত বিভিন্ন লিংক উল্লেখ করে তার বিরুদ্ধে পর্নোগ্রাফি ছড়ানোর অভিযোগ এনে উদ্দেশ্যপ্রণোদিত, হয়রানিমূলক ও মিথ্যা মামলা করেছেন বলে প্রাথমিক তদন্তে প্রতীয়মান হয়েছে। এ কারণে শিমুর বিরুদ্ধে পর্নোগ্রাফি নিয়ন্ত্রণ আইন, ২০১২-এর ১৩ ধারায় আইনগত ব্যবস্থা নেয়ার আবেদনও করেন তদন্ত কর্মকর্তা।

 

পরে গত ৯ জুলাই আদালত তদন্ত প্রতিবেদন গ্রহণ করে ওমর ফারুককে মামলা থেকে অব্যাহতি দেন। আদালতের আদেশে বলা হয়, শিমু ক্ষতিসাধনের উদ্দেশ্যে আদালতে মিথ্যা মামলা দায়ের করেছেন এবং হলফ করে মিথ্যা সাক্ষ্য দিয়েছেন। মামলার নথিতে তার দেয়া হলফনামাও সংযুক্ত রয়েছে। এসব বিবেচনায় আদালত নিজেই বাদী হয়ে তার বিরুদ্ধে পর্নোগ্রাফি নিয়ন্ত্রণ আইন ও দণ্ডবিধির সংশ্লিষ্ট ধারায় মামলা দায়েরের নির্দেশ দেন।

 

তদন্তে যা উঠে এসেছে পুলিশের চূড়ান্ত প্রতিবেদনে বলা হয়, তদন্তকালে রেকর্ড, ডিজিটাল আলামত, ফেসবুক লিংক ও ফরেনসিক তথ্য যাচাই করে ওমর ফারুকের বিরুদ্ধে পর্নোগ্রাফি প্রচারের কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি।

 

তদন্তে আরও উঠে আসে, শিমু বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের কেবিন ক্রু এবং ওমর ফারুক একটি বেসরকারি এয়ারলাইন্সের এয়ারক্রাফট মেইনটেন্যান্স কর্মকর্তা। ফেসবুকে পরিচয়ের পর তাদের মধ্যে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে।

 

প্রতিবেদনে বলা হয়, বিয়ের আশ্বাস দিয়ে বিভিন্ন সময়ে ওমর ফারুকের কাছ থেকে বিপুল পরিমাণ অর্থ ও মূল্যবান সামগ্রী নেয়ার অভিযোগে ওমর ফারুক আদালতে পৃথক মামলা করেন। এরপর সেই মামলার দায় থেকে নিজেকে রক্ষা করতেই শিমু পর্নোগ্রাফি আইনে অভিযোগ দায়ের করেন বলে তদন্তে প্রতীয়মান হয়েছে।

 

ওমর ফারুকের আগের মামলা গত ২০ জুলাই ওমর ফারুক চৌধুরী শিমুর বিরুদ্ধে বিয়ের প্রলোভন, ‘হানি ট্র্যাপ’ ও ব্ল্যাকমেইলের মাধ্যমে প্রায় ২২ লাখ টাকা আত্মসাতের অভিযোগে ঢাকার আদালতে মামলা করেন। আদালত অভিযোগটি আমলে নিয়ে উত্তরা পশ্চিম থানাকে তদন্তের নির্দেশ দেন। পরে তিনি বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স কর্তৃপক্ষের কাছেও লিখিত অভিযোগ করেন।

 

সেই মামলায় অভিযোগ করা হয়, ২০২৪ সালে ফেসবুকে পরিচয়ের পর শিমু তাকে বিয়ের আশ্বাস দিয়ে বিভিন্ন সময়ে টাকা নেন। জন্মদিনে দেড় লাখ টাকা মূল্যের একটি হীরার আংটিসহ বিয়ের খরচের জন্য মোট ২১ লাখ ৭৪ হাজার ৫১১ টাকা নেয়ার পরও বিয়ে না করে প্রতারণার মাধ্যমে অর্থ আত্মসাৎ করা হয়েছে বলে মামলায় দাবি করা হয়।

পর্নোগ্রাফি আইনে কেবিন ক্রু শিমুর বিরুদ্ধে মামলার নির্দেশ আদালতের

error: আপনি নিউজ চুরি করার চেষ্টা করছেন। বিশেষ প্রয়োজনে যোগাযোগ করুন ০১৭৬৭৪৪৪৩৩৩
%d