রাজনীতি ডেস্ক: আসন্ন স্থানীয় সরকার নির্বাচনে কোনো রাজনৈতিক জোটের সঙ্গে যুক্ত না হয়ে এককভাবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)। দলটি নিজস্ব শক্তি ও পরিকল্পনা নিয়ে নির্বাচনি মাঠে নামবে বলে স্পষ্ট জানিয়েছেন দলটির আহ্বায়ক ও বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম। সম্প্রতি রাজবাড়ী পৌর মিলনায়তনে পাঁচটি জেলার নেতা-কর্মীদের নিয়ে আয়োজিত এক সাংগঠনিক মতবিনিময় সভার প্রাক্কালে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এই ঘোষণা দেন। এই সভায় ফরিদপুর, গোপালগঞ্জ, মাদারীপুর, শরীয়তপুর ও রাজবাড়ী জেলার বিভিন্ন স্তরের নেতৃবৃন্দ অংশ নেন এবং দলের সাংগঠনিক কার্যক্রম গতিশীল করার নানা কৌশল নিয়ে আলোচনা করেন।
নির্বাচন ব্যবস্থা ও সার্বিক পরিস্থিতি নিয়ে তীব্র অসন্তোষ প্রকাশ করে নাহিদ ইসলাম অভিযোগ করেন যে, বর্তমান রাজনৈতিক বাস্তবতায় একটি অবাধ, সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ নির্বাচন আয়োজনের কোনো পরিবেশ নেই। নির্বাচন কমিশন ও পুলিশ প্রশাসনকে দলীয়করণ করা হয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, ফ্যাসিবাদী শক্তি, স্বৈরাচারী মানসিকতা এবং নতুন প্রজন্মের চাঁদাবাজ ও দুর্নীতিবাজরা দিন দিন একাকার হয়ে যাচ্ছে। ক্ষমতাসীন দলের অভ্যন্তরীণ কোন্দলের কারণে ইতোমধ্যে বহু মানুষের প্রাণহানি ঘটেছে এবং অনেকে আহত হয়েছেন। এই নাজুক পরিস্থিতিতে সুষ্ঠু নির্বাচন নিশ্চিত করার লক্ষ্যে ১১ দলীয় জোটের পক্ষ থেকে নির্বাচন কমিশনের কাছে সুনির্দিষ্ট ও যুগোপযোগী সংস্কার প্রস্তাবনা পেশ করা হবে বলে তিনি জানান।
মাদক সিন্ডিকেটের দৌরাত্ম্য ও রাজনৈতিক প্রশ্রয় প্রসঙ্গে এনসিপির এই শীর্ষ নেতা বলেন যে, রাজনৈতিক ছত্রছায়া ছাড়া এ ধরনের অপরাধমূলক কার্যক্রম টিকে থাকতে পারে না। অতীতে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ এসব সিন্ডিকেটকে রক্ষা করত এবং বর্তমানে একই পন্থায় বিএনপি মদদ জোগাচ্ছে বলে অভিযোগ করেন তিনি। রাজনৈতিক আশীর্বাদ থাকায় পুলিশ প্রশাসনও অপরাধীদের বিরুদ্ধে কার্যকর কোনো আইনি পদক্ষেপ নিতে পারছে না। সরকারের নীতিনির্ধারক ও দলীয় নেতা-কর্মীদের অনেকেই এই মাদক ব্যবসার সঙ্গে জড়িয়ে পড়েছেন দাবি করে তিনি সতর্ক করেন যে, তাদের এই দৌরাত্ম্য কঠোরহস্তে দমন করা না গেলে সমাজ থেকে মাদক নির্মূল করা অসম্ভব হবে।
দেশের গণমাধ্যমের স্বাধীনতা ও বিগত গণ-অভ্যুত্থান পরবর্তী রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে নাহিদ ইসলাম বলেন, বর্তমান সরকার গণমাধ্যমের স্বাধীনতায় বিশ্বাস রাখছে না বলেই গণমাধ্যম সংস্কার কমিশনের একটি সুপারিশও এখনো বাস্তবায়ন করা হয়নি। গত ৫ আগস্টের ছাত্র-জনতার ঐতিহাসিক অভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে ফ্যাসিবাদী আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক পতন ঘটেছে এবং বর্তমানে তাদের দৃশ্যমান কোনো সাংগঠনিক তৎপরতা নেই। তবে পরাজিত হলেও দলটির দোসররা এখনো দেশের বিভিন্ন স্থানে ঘাপটি মেরে বসে আছে এবং প্রতিবেশী রাষ্ট্র বাংলাদেশকে ভূরাজনৈতিক চাপে রাখতে এই শক্তিকে ব্যবহার করা হচ্ছে বলে তিনি মন্তব্য করেন।
Leave a Reply