আইন-আদালত ডেস্ক: আইনপেশায় দ্রুত ধনী হওয়ার শর্টকাট পথ খুঁজলে কখনোই সফল ও ভালো আইনজীবী হওয়া সম্ভব নয় বলে মন্তব্য করেছেন আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান। তিনি স্পষ্ট করে জানিয়েছেন যে, এই পেশায় নিজেদের প্রতিষ্ঠা করতে হলে কঠোর পরিশ্রম এবং সততার বিকল্প নেই। সম্প্রতি রাজধানীর ইনডিপেনডেন্ট ইউনিভার্সিটিতে ১৭তম হেনরি ডুনান্ট মেমোরিয়াল মুট কোর্ট প্রতিযোগিতা, ন্যাশনাল রাউন্ড বাংলাদেশ ২০২৬-এর সমাপনী ও পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। দেশের তরুণ আইনজীবী ও আইন শিক্ষার্থীদের নৈতিকতা বজায় রেখে পেশাগত দায়িত্ব পালনের তাগিদ দিয়েছেন তিনি।
মক্কেলদের আইনি সেবা দেওয়ার সময় কেবল তাদের আর্থিক সামর্থ্য বা ফি পাওয়ার বিষয়টি বিবেচনা করা উচিত নয় বলে মনে করেন আইনমন্ত্রী। আদালতে দাঁড়ানোর মূল উদ্দেশ্য হওয়া উচিত ন্যায়বিচার নিশ্চিত করা এবং দায়িত্বশীলতার পরিচয় দেওয়া। মক্কেলের কাছ থেকে প্রাপ্ত অর্থের বাইরেও একজন আইনজীবীর নৈতিক ও পেশাগত দায়বদ্ধতা রয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন। বিচারপ্রার্থী মানুষের আস্থা অর্জন করতে হলে সততা এবং নিষ্ঠার সঙ্গে প্রতিটি মামলা পরিচালনা করার ওপর তিনি বিশেষ গুরুত্ব আরোপ করেছেন।
আইনজীবীদের পেশাগত জায়গায় আরও বেশি মানবিক হওয়ার পরামর্শ দিয়ে মন্ত্রী বলেন, সব সময় টাকার বিনিময়ে কাজ করা এই মহৎ পেশার প্রকৃত রূপ হতে পারে না। সমাজের সুবিধাবঞ্চিত ও অসহায় মানুষের জন্য প্রয়োজনে বিনা মূল্যে মামলা পরিচালনার আহ্বান জানান তিনি। সরকারি আইনগত সহায়তা বা লিগ্যাল এইডের মাধ্যমে দরিদ্র মানুষকে আইনি সেবা দেওয়ার মানসিকতা গড়ে তোলার জন্য তিনি তরুণ প্রজন্মের আইনজীবীদের প্রতি আহ্বান জানান।
তরুণ প্রজন্মের প্রশংসা করে মো. আসাদুজ্জামান বলেন, বর্তমানের তরুণ সমাজ বা জেনজি প্রজন্ম সঠিক পথ প্রদর্শনের মাধ্যমে দেশ ও সমাজকে সামনের দিকে এগিয়ে নিয়ে যাবে। তাদের হাত ধরেই একটি প্রগতিশীল এবং বৈষম্যহীন সমাজ গড়ে উঠবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন। তরুণদের মেধা ও মননশীলতা দেশের বিচারব্যবস্থাকে আরও শক্তিশালী করবে এবং আইনের শাসন প্রতিষ্ঠায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে তিনি বিশ্বাস করেন।
Leave a Reply