আন্তর্জাতিক ডেস্ক: একটি ডিজিটাল ব্যাংকের পতনের পর তীব্র রাজনৈতিক সংকটের মুখে পড়ে প্যারাগুয়েতে অভিশংসিত হয়েছেন দেশটির প্রেসিডেন্ট সান্তিয়াগো পেনা। উয়েনো ব্যাংক নামের ওই আর্থিক প্রতিষ্ঠানটি আকস্মিকভাবে দেউলিয়া হয়ে যাওয়ার পর দেশজুড়ে চরম অসন্তোষ তৈরি হয়। ব্যাংকটির সঙ্গে এই শীর্ষ নেতার সরাসরি ব্যবসায়িক সংশ্লিষ্টতা থাকায় পরিস্থিতি দ্রুত নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়। ব্যাংকের উল্লেখযোগ্য পরিমাণ শেয়ার তাঁর মালিকানাধীন প্রতিষ্ঠানের অধীনে থাকায় সাধারণ মানুষের সঞ্চয় ও পেনশনের অর্থ হারানোর দায় তাঁর ওপর এসে পড়ে। এর ফলে তাঁর নিজ দলের আইনপ্রণেতাসহ জাতীয় সংসদের প্রায় সব সদস্য তাঁর বিরুদ্ধে অবস্থান নেন।
উয়েনো ব্যাংক ধসে পড়ার পর থেকেই প্যারাগুয়ের অর্থনীতিতে বড় ধরনের ধাক্কা লাগে এবং এর জেরে রাজধানী আসুনসিওনসহ বিভিন্ন অঞ্চলে বিক্ষোভ শুরু হয়। ব্যাংকটি বন্ধ হয়ে যাওয়ায় প্রায় ৩০ লাখ আমানতকারী তাঁদের জমানো অর্থ এবং পেনশনের টাকা তুলতে চরম অনিশ্চয়তার মধ্যে পড়েন। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে দেশটির কেন্দ্রীয় ব্যাংক তাৎক্ষণিকভাবে ব্যাংকটির নিয়ন্ত্রণ নিজেদের হাতে নেয়। সাধারণ মানুষের এই আর্থিক ক্ষতি এবং ব্যাংকের মালিকানায় প্রেসিডেন্টের নাম জড়িয়ে পড়ায় দেশটিতে তীব্র রাজনৈতিক অস্থিরতা সৃষ্টি হয়। সাধারণ আমানতকারীরা তাঁদের কষ্টার্জিত অর্থ ফেরত পাওয়ার দাবিতে রাজপথে নেমে আসেন এবং প্রশাসনের বিরুদ্ধে স্লোগান দেন।
পরিস্থিতি বেগতিক দেখে সান্তিয়াগো পেনা নিজেই পদত্যাগের ঘোষণা দিলেও আইনপ্রণেতারা সেই পদত্যাগপত্র গ্রহণ করেননি। তাঁরা সাংবিধানিক প্রক্রিয়ায় তাঁকে অভিশংসন করার সিদ্ধান্ত নেন এবং ৪৫ সদস্যের সিনেটে প্রায় সর্বসম্মতিক্রমে এই প্রস্তাব পাস হয়। সাবেক রাষ্ট্রপ্রধান হিসেবে তাঁর যে আইনি দায়মুক্তি পাওয়ার কথা ছিল, সেটিও এই অভিশংসনের ফলে বাতিল হয়ে যায়। কর্তব্যে অবহেলা, স্বার্থের সংঘাত এবং প্রাতিষ্ঠানিক গোপনীয়তা ভঙ্গের সুনির্দিষ্ট অভিযোগে তাঁকে দোষী সাব্যস্ত করা হয়। সিনেটের এই সিদ্ধান্তের পরপরই আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী তাঁকে আনুষ্ঠানিকভাবে গ্রেপ্তার করে এবং তাঁর বিরুদ্ধে পরবর্তী আইনি প্রক্রিয়া শুরু হয়।
প্রেসিডেন্টের পদ হারানোর পর প্যারাগুয়ের নতুন অন্তর্বর্তীকালীন নেতা হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন পেদ্রো আলিয়ানা। তিনি ২০২৮ সাল পর্যন্ত রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব পালন করবেন এবং ক্ষমতা গ্রহণের পরপরই ক্ষতিগ্রস্ত আমানতকারীদের সম্পূর্ণ ক্ষতিপূরণ দেওয়ার আশ্বাস দিয়েছেন। এদিকে রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবীরা জানিয়েছেন যে বিশ্বাসভঙ্গ ও ক্ষমতার অপব্যবহারের অভিযোগে তাঁকে আইনি জিজ্ঞাসাবাদের মুখোমুখি হতে হবে। অন্যদিকে পেনার আইনজীবী দাবি করেছেন যে তাঁর মক্কেলের বিরুদ্ধে আনীত সব অভিযোগ সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন ও রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। ব্যাংকের এই পতনকে দেশটির ইতিহাসের অন্যতম বড় দুর্নীতি হিসেবে আখ্যায়িত করে এর সুষ্ঠু তদন্ত দাবি করেছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।
Leave a Reply