ধর্ম ডেস্ক: দীপাবলি উৎসবকে কেন্দ্র করে বরিশালের কাউনিয়া এলাকায় অবস্থিত দুই শতাব্দীর পুরোনো ঐতিহাসিক মহাশ্মশানে সনাতন ধর্মাবলম্বী মানুষের উপচে পড়া ভিড় লক্ষ্য করা গেছে। ঐতিহ্যবাহী এই আয়োজনে অংশ নিতে দূরদূরান্ত থেকে শত শত মানুষ মহাশ্মশান প্রাঙ্গণে সমবেত হন এবং প্রয়াত পূর্বপুরুষ ও প্রিয়জনদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানান। ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্য ও নানা আয়োজনের মধ্য দিয়ে দিনটি পালন করেন তারা।
অনুষ্ঠানের অংশ হিসেবে পরিবারের সদস্যরা তাদের মৃত স্বজনদের সমাধিস্থলে ফুল দিয়ে সাজান এবং সেখানে মাটির প্রদীপ ও মোমবাতি প্রজ্বলন করেন। অনেক পরিবার তাদের প্রয়াত প্রিয়জনের স্মৃতি ধরে রাখতে বাসা থেকে বাঁধানো ছবি সঙ্গে নিয়ে আসেন এবং সমাধিতে রেখে প্রার্থনা করেন। এই আনুষ্ঠানিকতা পুরো শ্মশান এলাকায় এক আবেগঘন ও শান্ত পরিবেশের সৃষ্টি করে।
শ্মশানের ভেতরের ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠানের পাশাপাশি বাইরে বসেছিল ঐতিহ্যবাহী গ্রামীণ মেলা যা উৎসবের আমেজকে আরও বাড়িয়ে দেয়। মেলায় বিভিন্ন ধরনের মিষ্টি, পূজার প্রয়োজনীয় সামগ্রী এবং শিশুদের খেলনা বিক্রির জন্য পসরা সাজিয়ে বসেন স্থানীয় বিক্রেতারা। চারপাশের এই কেনাকাটা ও লোকসমাগমে উৎসবমুখর এক পরিবেশের তৈরি হয়।
সন্ধ্যা নামার সঙ্গে সঙ্গেই পুরো মহাশ্মশান প্রাঙ্গণ হাজার হাজার প্রদীপ ও রঙিন আলোর মালায় ঝলমল করে ওঠে। বিশেষ করে কেন্দ্রীয় পুকুরের চারপাশের আলোকসজ্জা ও কৃত্রিম ফোয়ারার পানির খেলা পুরো পরিবেশকে এক অন্যরকম রূপ দেয়। এই সুন্দর ও উৎসবমুখর পরিবেশে দর্শনার্থী ও পুণ্যার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা সার্বক্ষণিক দায়িত্ব পালন করেন।
Leave a Reply