
নবীন শিক্ষার্থীদের স্বাগত জানানো এবং বিশ্ববিদ্যালয় জীবনের নতুন পথচলায় তাদের উৎসাহিত করতে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে (জবি) সমাজতান্ত্রিক ছাত্র ফ্রন্টের উদ্যোগে ‘মিছিলে নতুন মুখ’ শীর্ষক নবীনবরণ অনুষ্ঠিত হয়েছে।
মঙ্গলবার (১১ আগস্ট) বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় অডিটোরিয়ামে এই অনুষ্ঠান আয়োজিত হয়।
নবীনবরণ উপলক্ষে ছিল সাংস্কৃতিক আয়োজন। এতে নবীন শিক্ষার্থীরা গান ও কবিতা আবৃত্তি পরিবেশন করেন। এছাড়া সঙ্গীত দল ‘কোরাস’ গান পরিবেশন করে। জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী শিহাব উদ্দিন, অংকুর কর্মকার ও জয়িতা চাকমাও সংগীত পরিবেশন করেন।
অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন সংগঠনটির প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক খিজির আল সিফাত, সুমাইয়া আবেদীন ঋতিকা ও এনা। শুরুতে নবীন শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে শুভেচ্ছা বক্তব্য দেন ছাত্রনেতা রিদি জাফরাত। তিনি নবীনদের বিশ্ববিদ্যালয় জীবনের নতুন অভিজ্ঞতা, জ্ঞানচর্চা ও সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডে সক্রিয়ভাবে যুক্ত হওয়ার আহ্বান জানান।
আয়োজকরা বলেন, নবীনদের স্বাগত জানানোর পাশাপাশি এ আয়োজনের মাধ্যমে বিশ্ববিদ্যালয়ের নতুন ও পুরোনো শিক্ষার্থীদের মধ্যে সংযোগ, সাংস্কৃতিক চর্চা ও পারস্পরিক সম্প্রীতি আরও জোরদার করার প্রত্যয় ব্যক্ত করা হয়েছে। ‘মিছিলে নতুন মুখ’ আয়োজনের মধ্য দিয়ে নবীন শিক্ষার্থীদের শিক্ষা, সংস্কৃতি, মুক্তচিন্তা ও মনুষ্যত্ব রক্ষার পথে এগিয়ে যাওয়ার আহ্বান জানানো হয়।
বক্তারা শিক্ষার্থীদের অধিকার, মুক্তচিন্তা ও জ্ঞানচর্চার বিকাশ এবং বৈষম্যহীন শিক্ষাব্যবস্থা প্রতিষ্ঠায় শিক্ষার্থীদের ভূমিকার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। একই সঙ্গে বিশ্ববিদ্যালয় জীবনকে কেবল প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষার মধ্যে সীমাবদ্ধ না রেখে সামাজিক ও সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডে সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণের আহ্বান জানান তারা।
অনুষ্ঠানে অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক সামিনা লুৎফা নিত্রা। নবীন শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, ‘বিশ্ববিদ্যালয়ের নবীন শিক্ষার্থী হিসেবে বুদ্ধিবৃত্তিক ও জ্ঞানচর্চার পাশাপাশি দেশ, জাতি, রাষ্ট্র কিংবা পৃথিবীর সমস্ত বড় বড় সংকটের দিকে নজর রাখতে হবে। বিশ্ববিদ্যালয়ের আক্ষরিক অর্থ অর্থাৎ বৈশ্বিক জ্ঞান অর্জনকে গুরুত্ব দিতে হবে।’
এ সময় জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাস বি সহযোগী অধ্যাপক নাসির উদ্দীন আহমেদও বক্তব্য দেন। অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন সমাজতান্ত্রিক ছাত্র ফ্রন্টের কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক রফিকুজ্জামান ফরিদ এবং জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সভাপতি ইভান তাহসিব।
ইভান তাহসিব বলেন, “আপনারা জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন শিক্ষার্থীর পাশাপাশি দেশের একজন নাগরিক। জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের সংকট সমস্ত শিক্ষা ব্যবস্থার সংকটের বহিঃপ্রকাশ। তাই জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের সংকট নিয়ে কথা বলার পাশাপাশি পুরো শিক্ষা ব্যবস্থার সংকট নিয়েও কথা বলা জরুরি।”
অনুষ্ঠানের শেষভাগে বিভিন্ন প্রতিযোগিতায় বিজয়ী শিক্ষার্থীদের হাতে পুরস্কার তুলে দেন আমন্ত্রিত অতিথিরা।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শেখ মুজিবুর রহমান হলে সমকামিতার অভিযোগে ২০২৫-২৬ শিক্ষাবর্ষের দুই আবাসিক শিক্ষার্থীকে হল থেকে স্থায়ীভাবে বহিষ্কার করা হয়েছে। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন শেখ মুজিবুর রহমান হল সংসদের সাধারণ সম্পাদক (জিএস) আহমেদ আল সাবাহ। এক বিবৃতিতে তিনি বিষয়টি নিশ্চিত করেন।
বিবৃতিতে হল সংসদের জিএস জানান, শেখ মুজিবুর রহমান হলের ২০২৫–২৬ সেশনের দুইজন আবাসিক ছাত্রের বিরুদ্ধে গুরুতর সামাজিক শৃঙ্খলাভঙ্গের (সমকামিতা) প্রমাণিত অপরাধের ভিত্তিতে কঠোরতম প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। অপরাধের গুরুত্ব বিবেচনায় উভয়কে হল থেকে স্থায়ীভাবে বহিষ্কার করা হয়েছে এবং স্থানীয় অভিভাবকের উপস্থিতিতে তাৎক্ষণিকভাবে হল থেকে বের করে দেওয়া হয়েছে।
তিনি আরও জানান, এখানেই বিষয়টি শেষ নয়। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের মাধ্যমে আরও কঠোর শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে, যাতে তাদের বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রত্ব বাতিলের বিষয়টিও যথাযথ কর্তৃপক্ষের কাছে নিশ্চিত করা যায়।
এই ব্যাপারে প্রথম অভিযোগ আসলে অভিযোগকারী ছাত্রের পক্ষে আদিষ্ট হয়ে প্রশাসন বরাবর শাস্তির আবেদন করেন হল সংসদের জিএস আহমেদ আল সাবাহ। এরপর তদন্ত কমিটি গঠন হয় এবং ঘটনার অকাট্য প্রমাণ পাওয়া যাওয়ার ফলে তাদেরকে সর্বোচ্চ শাস্তির আওতায় আনা হয়।
বহিষ্কৃত শিক্ষার্থীরা হলেন—আফিফ হাসান নীরব ও আরিফুল হক শুভ। আফিফ হাসান নীরব ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিভাগের ২০২৫-২৬ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী। তার বাড়ি গোপালগঞ্জ। আরিফুল হক শুভ মার্কেটিং বিভাগের ২০২৫-২৬ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী। তার বাড়ি নেত্রকোনা।

ঠাকুরগাঁওয়ে নকল মুক্ত সফলতার শীর্ষে ভুল্লী উপজেলার শুখানপুকুড়ী লতিফন নেছা বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়।
মো: আশরাফুল ইসলাম, ঠাকুরগাঁও প্রতিনিধি:
ভূল্লী গৌরবোজ্জ্বল সাফল্য
অত্যন্ত আনন্দের সাথে জানানো যাচ্ছে যে, ভুল্লী উপজেলায় চমৎকার ফলাফলের মাধ্যমে শীর্ষস্থান দখল করেছে শুখানপুখুরী লতিফন নেছা বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়। শিক্ষার্থীদের একাগ্রতা, শিক্ষকদের ক্লান্তিহীন পরিশ্রম এবং অভিভাবকদের সার্বিক সহযোগিতায় বিদ্যালয়টি এই কৃতিত্ব অর্জন করেছে বলে জানিয়ে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক।
পরীক্ষার ফলাফল এক নজরে
মোট পরীক্ষার্থী: ৪০ জন
কৃতকার্য (পাশ করেছে): ২৭ জন
পাশের হার: ৬৭.৫%
জিপিএ-৫ (A+): ০৩ জন
আমাদের মূল অর্জনসমূহ
উপজেলায় শ্রেষ্ঠত্ব: উপজেলার সকল শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের মাঝে সেরা ফলাফলের অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন।
মেধার জয়গান: মোট কৃতকার্য শিক্ষার্থীদের মধ্য থেকে ৩ জন শিক্ষার্থী সর্বোচ্চ জিপিএ-৫ (A+) অর্জন করে বিদ্যালয় তথা পুরো এলাকার নাম উজ্জ্বল করেছে।
আন্তরিক কৃতজ্ঞতা ও শুভকামনা
শ্রদ্ধেয় শিক্ষক মণ্ডলীর প্রতি:
বিদ্যালয়ের নিবেদিতপ্রাণ শিক্ষক মণ্ডলীর অক্লান্ত পরিশ্রম, সঠিক দিকনির্দেশনা এবং পাঠদানে গুণগত মানের কারণেই আজকের এই সাফল্য। আপনাদের এই অবদান চিরস্মরণীয়।
সম্মানিত পরিচালনা পর্ষদ ও দায়িত্বে নিয়োজিত ব্যক্তিবর্গের প্রতি:
বিদ্যালয়ের সার্বিক সুশাসন, সুষ্ঠু পরিবেশ নিশ্চিতকরণ এবং সার্বিক সহায়তার জন্য পরিচালনা পর্ষদ ও সংশ্লিষ্ট সকল দায়িত্বশীলদের প্রতি রইল
প্রিয় অভিভাবকদের প্রতি
সন্তানদের পড়ালেখার প্রতি আপনাদের নিরবচ্ছিন্ন খেয়াল, সহযোগিতা এবং অকৃত্রিম ট্রাস্টের জন্য আমরা গভীরভাবে কৃতজ্ঞ।

গাইবান্ধা পলাশবাড়ীর বিদ্যালয়ে শতভাগ ফেল, সাদুল্যাপুরের স্কুলেও একই চিত্র
শাহ্ পারভেজ সংগ্রাম, গাইবান্ধা প্রতিনিধি
গাইবান্ধার পলাশবাড়ী উপজেলার মনোহরপুর ইউনিয়নের মনোহরপুর বালিকা উচ্চবিদ্যালয় থেকে এবারের এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নেওয়া তিন শিক্ষার্থীর কেউই পাস করতে পারেনি। বিদ্যালয়টিতে প্রধান শিক্ষকসহ ১১ জন শিক্ষক ও পাঁচজন কর্মচারী সরকারি নিয়মে বেতন-ভাতা পেলেও তিন শিক্ষার্থীর সবাই ফেল করায় বিদ্যালয়টিতে শতভাগ অকৃতকার্যের ঘটনা ঘটেছে।
বিদ্যালয় সূত্রে জানা যায়, ১৯৯৭ সালে বিদ্যালয়টি প্রতিষ্ঠিত হয় এবং ২০০৫ সালে এমপিওভুক্ত হয়। ২০২৫ সালে নিম্নমাধ্যমিক থেকে মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে উন্নীত হওয়ার অনুমতি পায় প্রতিষ্ঠানটি। ওই বছর বিদ্যালয়টির ছয়জন শিক্ষার্থী এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নিয়ে সবাই উত্তীর্ণ হয়েছিল। বর্তমানে বিদ্যালয়ে প্রায় ২০০ শিক্ষার্থী রয়েছে।
এবার এসএসসি পরীক্ষায় বিদ্যালয়টির তিন শিক্ষার্থী অংশ নেয়। তারা সবাই মানবিক বিভাগের শিক্ষার্থী। গত সোমবার (১০ আগস্ট) এসএসসি ও সমমান পরীক্ষার ফল প্রকাশ হলে দেখা যায়, তিনজনের কেউই উত্তীর্ণ হতে পারেনি।
শতভাগ অকৃতকার্যের বিষয়ে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক শাহাদাত হোসেন মুঠোফোনে বলেন, এর আগে বিদ্যালয়ের ফলাফল কখনো এমন বিপর্যয় হয়নি। তিন শিক্ষার্থীই গণিতে অকৃতকার্য হয়েছে। গণিত শিক্ষক ফারুক খালেক দীর্ঘদিন ধরে শারীরিকভাবে অসুস্থ। বর্তমানে তিনি একটি মামলায় কারাগারে থাকায় গণিত বিষয়ে পাঠদান ব্যাহত হয়েছে।
এদিকে গাইবান্ধার সাদুল্যাপুর উপজেলার উত্তর দামোদরপুর কাজীপাড়া বালিকা উচ্চবিদ্যালয় থেকেও এবারের এসএসসি পরীক্ষায় পাঁচজন শিক্ষার্থী অংশ নিলেও কেউ পাস করতে পারেনি। ফলে ওই বিদ্যালয়েও শতভাগ শিক্ষার্থী অকৃতকার্য হয়েছে।
এ বিষয়ে গাইবান্ধা জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা মো. আতাউর রহমান বলেন, কী কারণে বিদ্যালয় দুটির শতভাগ শিক্ষার্থী অকৃতকার্য হয়েছে, তা জানতে প্রধান শিক্ষকদের কাছে ব্যাখ্যা চাওয়া হয়েছে। পাশাপাশি বিদ্যালয় দুটি পরিদর্শন করে বিষয়টি তদন্ত করা হবে। তদন্তের পর প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
তিনি আরও বলেন, এমপিওভুক্ত কোনো বিদ্যালয় থেকে এ ধরনের ফলাফল প্রত্যাশিত নয়।

গাইবান্ধা পলাশবাড়ীর বিদ্যালয়ে শতভাগ ফেল, সাদুল্যাপুরের স্কুলেও একই চিত্র
শাহ্ পারভেজ সংগ্রাম, গাইবান্ধা প্রতিনিধি
গাইবান্ধার পলাশবাড়ী উপজেলার মনোহরপুর ইউনিয়নের মনোহরপুর বালিকা উচ্চবিদ্যালয় থেকে এবারের এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নেওয়া তিন শিক্ষার্থীর কেউই পাস করতে পারেনি। বিদ্যালয়টিতে প্রধান শিক্ষকসহ ১১ জন শিক্ষক ও পাঁচজন কর্মচারী সরকারি নিয়মে বেতন-ভাতা পেলেও তিন শিক্ষার্থীর সবাই ফেল করায় বিদ্যালয়টিতে শতভাগ অকৃতকার্যের ঘটনা ঘটেছে।
বিদ্যালয় সূত্রে জানা যায়, ১৯৯৭ সালে বিদ্যালয়টি প্রতিষ্ঠিত হয় এবং ২০০৫ সালে এমপিওভুক্ত হয়। ২০২৫ সালে নিম্নমাধ্যমিক থেকে মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে উন্নীত হওয়ার অনুমতি পায় প্রতিষ্ঠানটি। ওই বছর বিদ্যালয়টির ছয়জন শিক্ষার্থী এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নিয়ে সবাই উত্তীর্ণ হয়েছিল। বর্তমানে বিদ্যালয়ে প্রায় ২০০ শিক্ষার্থী রয়েছে।
এবার এসএসসি পরীক্ষায় বিদ্যালয়টির তিন শিক্ষার্থী অংশ নেয়। তারা সবাই মানবিক বিভাগের শিক্ষার্থী। গত সোমবার (১০ আগস্ট) এসএসসি ও সমমান পরীক্ষার ফল প্রকাশ হলে দেখা যায়, তিনজনের কেউই উত্তীর্ণ হতে পারেনি।
শতভাগ অকৃতকার্যের বিষয়ে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক শাহাদাত হোসেন মুঠোফোনে বলেন, এর আগে বিদ্যালয়ের ফলাফল কখনো এমন বিপর্যয় হয়নি। তিন শিক্ষার্থীই গণিতে অকৃতকার্য হয়েছে। গণিত শিক্ষক ফারুক খালেক দীর্ঘদিন ধরে শারীরিকভাবে অসুস্থ। বর্তমানে তিনি একটি মামলায় কারাগারে থাকায় গণিত বিষয়ে পাঠদান ব্যাহত হয়েছে।
এদিকে গাইবান্ধার সাদুল্যাপুর উপজেলার উত্তর দামোদরপুর কাজীপাড়া বালিকা উচ্চবিদ্যালয় থেকেও এবারের এসএসসি পরীক্ষায় পাঁচজন শিক্ষার্থী অংশ নিলেও কেউ পাস করতে পারেনি। ফলে ওই বিদ্যালয়েও শতভাগ শিক্ষার্থী অকৃতকার্য হয়েছে।
এ বিষয়ে গাইবান্ধা জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা মো. আতাউর রহমান বলেন, কী কারণে বিদ্যালয় দুটির শতভাগ শিক্ষার্থী অকৃতকার্য হয়েছে, তা জানতে প্রধান শিক্ষকদের কাছে ব্যাখ্যা চাওয়া হয়েছে। পাশাপাশি বিদ্যালয় দুটি পরিদর্শন করে বিষয়টি তদন্ত করা হবে। তদন্তের পর প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
তিনি আরও বলেন, এমপিওভুক্ত কোনো বিদ্যালয় থেকে এ ধরনের ফলাফল প্রত্যাশিত নয়।

হল দখলকে কেন্দ্র করে ৪ আগস্ট দফায় দফায় সংঘর্ষে জড়ায় ঢাকা আলিয়া মাদ্রাসার ছাত্রদল ও ছাত্রশিবির। টানা কয়েকদিন ধরে চলতে থাকে উত্তেজনা। অবশেষে রোববার রাতে দুই দলের সংসদ সদস্য, কেন্দ্রীয় নেতা ও পুলিশের মধ্যস্থতায় আলোচনায় বসে দুপক্ষ। বৈঠক শেষে ক্যাম্পাসে সহাবস্থানের বিষয়ে একমত হয় দুই ছাত্র সংগঠন।
লালবাগ বিভাগের উপকমিশনার মুহাম্মদ তালেবুর রহমান বলেন, দুই পক্ষই ক্যাম্পাসে শান্তিপূর্ণ সহাবস্থান করবে। এই প্রেক্ষিতেই বর্তমানে মাদ্রাসায় স্বাভাবিক অবস্থা বিরাজ করছে। আমরা আশা করছি প্রত্যেকেই তার নিজ নিজ অবস্থান থেকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করার মাধ্যমে আইনশৃংখলা পরিস্থিতি সমুন্নত রাখতে সহায়তা করবে।
তবে ছাত্রদল ও ছাত্রশিবিরের সংঘাতের ক্ষত এখনও স্পষ্ট আলিয়া মাদ্রাসার হলগুলোতে। এরইমধ্যে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হওয়ায় ক্যাম্পাসে ফিরতে শুরু করেছে শিক্ষার্থীরা। ক্যাম্পাসে আবারও স্বাভাবিক কার্যক্রম ফিরিয়ে আনার কথা বলছে ছাত্রদল নেতারা।
একজন ছাত্রদল নেতা বলেন, প্রিন্সিপালরা আহতের বিষয়ে আমাদের দিকে অভিযোগের তীর ছুড়ছে। কিন্তু উল্টো আমাদেরকে ধাওয়া দিয়ে শিক্ষাবোর্ডের ওখানে নিয়ে গেছে। আরেক ছাত্রদল নেতা বলেন, পেছনের সবকিছুর ইতি টেনে সামনের দিকে কিভাবে আমরা সবাই মিলেমিশে থাকতে পারি, সাধারণ শিক্ষার্থীদের পাশে থাকতে পারি এ বিষয়েই সিদ্ধান্ত হয়েছে।
ছাত্রদলের আরেক নেতা বলেন, ভবিষ্যতে যেন আর কোনো বিশৃঙ্খলা পরিবেশ সৃষ্টি না হয় এজন্য আমাদের বড় ভাই আমাদের শাসন করে গেছে। ছাত্রশিবিরের লোকজনও তাদেরকে আমাদের সাথে একসাথে থাকার কথা বলে গেছে।
অন্যদিকে, শিক্ষার পরিবেশ নিশ্চিত করা, হলের সমস্যা সমাধানসহ বিভিন্ন বিষয়ে ১১ দফা দাবি জানিয়েছে ছাত্রশিবির।
বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরের প্রচার সম্পাদক এসএম ফরহাদ বলেন, সিট কে পাবে কে পাবে না – এটা কে শিবির করে, কে ছাত্রদল করে এই বেসিসে হবে না। সরাসরি মেরিট বেসিসে হলে যে নীতিমালা অনুযায়ী সিট পাবার কথা সে নীতিমালা অনুযায়ী সিট পাবে। অ-শিক্ষার্থী, অনিয়মিত শিক্ষার্থী কিংবা যুবদল কিংবা সিনিয়র কেউ হলে উঠে যাবার যে প্রবণতা বা কালচার, এই ধরনের কোনো কালচার এখানে না থাকার ব্যাপারে স্ট্রংলি বলেছি।
সংঘাতের পর সমঝোতায় এলেও দুই সংগঠনের মধ্যে অবিশ্বাস পুরোপুরি কাটেনি। এখন এই সহাবস্থান কতটা স্থায়ী হয়, সেদিকেই নজর সবার।


Leave a Reply