ভারতের বিরুদ্ধে পাকিস্তানের আকাশযুদ্ধে চীনা ‘জে-১০সি’ যুদ্ধবিমানের সাফল্যের রহস্য কী ? - Gono television | বাংলাদেশ সরকার অনুমোদিত বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেল।
ভারতের বিরুদ্ধে পাকিস্তানের আকাশযুদ্ধে চীনা ‘জে-১০সি’ যুদ্ধবিমানের সাফল্যের রহস্য কী ?

ভারতের বিরুদ্ধে পাকিস্তানের আকাশযুদ্ধে চীনা ‘জে-১০সি’ যুদ্ধবিমানের সাফল্যের রহস্য কী ?

Oplus_131072

১৯৮০-এর দশকের গোড়ার দিকে চীন ছিল একটি নিম্ন আয়ের দেশ। তখন দেশটির প্রতি ১০ জনের ৯ জন চরম দারিদ্র্যসীমার নিচে বসবাস করতেন। দেশটির বর্তমান যে শিল্প খাত, তখন সেটির অস্তিত্ব ছিল না বললেই চলে।কিন্তু কোনো প্রতিবন্ধকতা আধুনিক চীনের রূপকার দেং জিয়াওপিংকে দমিয়ে রাখতে পারেনি। তিনি এক দশক ধরে দেশটির নেতৃত্ব দিয়েছেন। এ সময় একটি উচ্চাকাঙ্ক্ষী বিমান তৈরির কর্মসূচি গ্রহণ করেন। এর লক্ষ্য ছিল মূলত স্থানীয় প্রযুক্তির ওপর ভিত্তি করে এমন একটি যুদ্ধবিমান তৈরি, যা নিশ্চিতভাবে পশ্চিমাদের তৈরি বিমানগুলোকে মোকাবিলা করতে সক্ষম হবে।

নতুন ধরনের এই চীনা যুদ্ধবিমান তৈরির কাজটি এতটাই ব্যাপক ও দীর্ঘ ছিল যে তা দেং জিয়াওপিংয়ের ১১ বছরের শাসনকালকেও ছাড়িয়ে গিয়েছিল।দেংয়ের উত্তরসূরি চীনের প্রেসিডেন্ট জিয়াং জেমিন ১৯৯৪ সালে একবার যুদ্ধবিমান নির্মাণকেন্দ্র পরিদর্শনে গিয়ে বলেছিলেন, চীন এমন একটি যুদ্ধবিমান তৈরি করছে, যা পারমাণবিক বোমার চেয়ে বেশি কার্যকর।
পুরোপুরিভাবে জে-১০ যুদ্ধবিমান তৈরি করতে চীনের প্রায় আড়াই দশক সময় লেগেছিল। এটি এমন একটি প্রাণঘাতী যুদ্ধবিমান, যা আকাশযুদ্ধে যেমন সক্ষম, তেমনি স্থলভাগে আঘাত হানার ক্ষেত্রেও সমান দক্ষ। ২০০০-এর দশকের মাঝামাঝি (২০০৪-২০০৬) যুদ্ধবিমানটি চালু করা হয় এবং ২০১৮ সালে এটি যুদ্ধ খাতে যুক্ত হয়। তবে ৭ মে ভোররাতে এই যুদ্ধবিমান প্রথমবারের মতো সরাসরি যুদ্ধে অংশ নেয়। ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে হওয়া এ আকাশযুদ্ধকে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর সবচেয়ে বড় আকাশযুদ্ধ হিসেবে ধরা হচ্ছে।
চীনের ঘনিষ্ঠ ও নির্ভরযোগ্য মিত্র পাকিস্তানই চীনের বাইরে একমাত্র দেশ, যাদের কাছে রয়েছে জে-১০সি যুদ্ধবিমান। এটি চীনা যুদ্ধবিমানটির তৃতীয় ও সর্বশেষ সংস্করণ।পাকিস্তান বিমান বাহিনী (পিএএফ) দাবি করেছে, তারা ৭ মে আকাশযুদ্ধে পাঁচটি ভারতীয় যুদ্ধবিমান ভূপাতিত করেছে। এর মধ্যে তিনটি ফ্রান্সের নির্মিত অত্যাধুনিক রাফাল যুদ্ধবিমান। এর আগে রাফাল ভূপাতিত করার ঘটনা ঘটেনি।
তবে ভারতীয় বিমান বাহিনী (আইএএফ) এখনো কোনো যুদ্ধবিমান হারানোর কথা স্বীকার করেনি। যদিও মার্কিন ও ফরাসি কর্মকর্তারা রাফাল ভূপাতিত হওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

ফরাসি বহুমুখী যুদ্ধবিমান রাফাল বিশ্বের অন্যতম উন্নত ও ৪ দশমিক ৫ প্রজন্মের বিমান হিসেবে পরিচিত। ভারত ২০২০-২২ সালে এই বিমানগুলো সংগ্রহ করেছিল। এটি এখন আইএএফের আকাশবহরের সর্বোচ্চ শক্তির প্রতীক।পশ্চিমা বিশ্বের পরীক্ষিত যুদ্ধবিমানের বিরুদ্ধে জে-১০সির এই প্রথম সফল লড়াই এক গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক তৈরি করেছে। নিরাপত্তা বিশ্লেষকেরা ৭ মের আগপর্যন্ত একে অনেকটা অনীহা নিয়েই ‘মার্কিন এফ-১৬-এর প্রায় সমমানের যুদ্ধবিমান’ হিসেবে উল্লেখ করতেন।


Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

র‌্যাবের চৌকস অভিযানে জীপসহ প্রায় ১১ হাজার ইয়াবার চালান আটক

জামালপুর হামলা পাল্টা হামলার মধ্য দিয়ে জেলার সানন্দবাড়ী তে থমথমে অবস্থা বিরাজমান।

error: আপনি নিউজ চুরি করার চেষ্টা করছেন। বিশেষ প্রয়োজনে যোগাযোগ করুন ০১৭৬৭৪৪৪৩৩৩
%d