কুয়েটে আবার অস্থিরতা, তিন দফা দাবিতে শিক্ষার্থীদের অবস্থান কর্মসূচি - Gono television | বাংলাদেশ সরকার অনুমোদিত বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেল।
কুয়েটে আবার অস্থিরতা, তিন দফা দাবিতে শিক্ষার্থীদের অবস্থান কর্মসূচি

কুয়েটে আবার অস্থিরতা, তিন দফা দাবিতে শিক্ষার্থীদের অবস্থান কর্মসূচি

Oplus_131072

খুলনা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (কুয়েট) আবার অস্থিরতা তৈরি হয়েছে। একাডেমিক কার্যক্রম চালু, নতুন একটি নিরপেক্ষ তদন্ত কমিটি গঠন ও আগে ঘোষিত পাঁচ দফা দাবি বাস্তবায়নের সুস্পষ্ট রোডম্যাপ ঘোষণার দাবিতে আজ বৃহস্পতিবার দুপুর থেকে প্রশাসনিক ভবনের সামনে অবস্থান কর্মসূচি পালন করছেন শিক্ষার্থীরা।
দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের স্টুডেন্ট ওয়েলফেয়ার সেন্টার থেকে একটি বিক্ষোভ মিছিল বের করেন শিক্ষার্থীরা। মিছিলটি প্রশাসনিক ভবনের সামনে এসে শেষ হয়। সেখানে শিক্ষার্থীরা তাঁদের তিন দফা দাবি তুলে ধরেন।অবস্থান কর্মসূচির এক পর্যায়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য, ছাত্রকল্যাণ পরিচালক ও কয়েকজন শিক্ষক শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কথা বলেন। উপাচার্য দীর্ঘ সময় ধরে শিক্ষার্থীদের বক্তব্য শোনেন এবং তাঁদের কাছে সমস্যা সমাধানের জন্য কিছু সময় চান।অন্যদিকে শিক্ষকদের কর্মবিরতির আজ ছিল অষ্টম দিন। এতে বিশ্ববিদ্যালয়ে কোনো ধরনের ক্লাস বা পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়নি। ৫ মে অনুষ্ঠিত সাধারণ সভা শেষে শিক্ষক সমিতির পক্ষ থেকে ক্যাম্পাসে সংঘটিত অপ্রত্যাশিত ঘটনার সঙ্গে জড়িত ও শিক্ষকদের লাঞ্ছনাকারীদের ৭ কর্মদিবসের মধ্যে চিহ্নিত করে সুষ্ঠু বিচারের দাবি জানানো হয়। শিক্ষকদের দেওয়া সেই সময়সীমা আজ শেষ হচ্ছে।কুয়েট শিক্ষক সমিতির সভাপতি অধ্যাপক সাহিদুল ইসলাম প্রথম আলোকে বলেন, ‘শিক্ষার পরিবেশ ফিরিয়ে আনতে কুয়েট প্রশাসনকে বেঁধে দেওয়া সময়সীমা আজ শেষ হবে। আগামী শুক্র ও শনিবার আমরা পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করব। এরপর রোববার শিক্ষক সমিতির সভায় সাধারণ শিক্ষকদের মতামতের ভিত্তিতে পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।’অবস্থান কর্মসূচি চলাকালে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা তাঁদের উদ্বেগের কথা জানান। তাঁরা বলেন, সাবেক উপাচার্যের পতনের পর নতুন উপাচার্য আসার পরেও সেই পুরোনো প্রহসনের তদন্ত প্রতিবেদনের ওপর ভিত্তি করে তাঁদের শোকজের চিঠি পাঠানো হয়েছে। দফায় দফায় তাঁরা স্থানীয়দের হামলার হুমকিও পাচ্ছেন। ৪ মে থেকে ক্লাস শুরুর কথা থাকলেও এখনো শুরু হয়নি। এমন পরিস্থিতিতে তাঁরা আতঙ্কিত। দ্রুত এ অবস্থার অবসান চান তাঁরা।তদন্ত কমিটির প্রতিবেদন প্রত্যাখ্যানের কারণ উল্লেখ করে শিক্ষার্থীরা বলেন, তদন্ত কমিটি শুধু ১৮ ফেব্রুয়ারি সংঘটিত হামলার বিচারের জন্য গঠন করা হয়েছিল; কিন্তু পরে সেই কমিটি ১৯ থেকে ২২ ফেব্রুয়ারি সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে আন্দোলনকারীদের ওপর প্রশ্নবিদ্ধ শাস্তি আরোপ করেছে। গত ১৪ এপ্রিল সিন্ডিকেট সভায় ৩৭ জন শিক্ষার্থীকে বহিষ্কারের সিদ্ধান্ত হয়। কিন্তু তদন্ত কমিটির সদস্যদের পক্ষপাতিত্ব, অনিয়ম এবং সাবেক উপাচার্যের প্রভাবের সুস্পষ্ট প্রমাণ আছে। ২৩ এপ্রিল সেই পক্ষপাতদুষ্ট তদন্ত প্রতিবেদন সিন্ডিকেটে বাতিল হওয়ার পরও ১২ মে বর্তমান প্রশাসন সেই প্রতিবেদনের ভিত্তিতে ৩৭ জন শিক্ষার্থীকে শোকজ করে, যা আইনানুগভাবে প্রশ্নবিদ্ধ।

শিক্ষার্থীরা অভিযোগ করেন, তদন্ত কমিটির কাছে অভিযুক্ত ৩৭ জনের তালিকা শিক্ষকদের কাছে প্রকাশিত না হলেও ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদকের কাছে পৌঁছায়, যা তদন্ত কমিটির নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন তোলে। সাবেক উপাচার্যের বিদায়ের পর ৩৭ জনের শাস্তিপ্রাপ্ত তালিকা পরিবর্তন করা হয়েছে এবং সিসিটিভি ফুটেজ বহিরাগতদের হাতে তুলে দেওয়া হয়েছে। সাধারণ শিক্ষার্থীদের ওপর নৃশংস হামলার প্রতিবাদে আত্মরক্ষার আন্দোলনকে শোকজ লেটারে অপরাধ হিসেবে তুলে ধরা হয়েছে। তদন্ত কমিটির সদস্যরা সাবেক উপাচার্যের পক্ষের শিক্ষকদের সঙ্গে মানববন্ধনে দাঁড়িয়ে আন্দোলনকারীদের বিরুদ্ধে শক্ত অবস্থান নিয়েছিলেন। একই ব্যক্তি তদন্ত কমিটি ও শৃঙ্খলা কমিটিতে দায়িত্বে আছেন, যা বিচারব্যবস্থার স্বচ্ছতাকে প্রশ্নবিদ্ধ করে।শিক্ষার্থীরা তাঁদের দাবির বিষয়ে বলেন, আন্দোলনকারীদের বিরুদ্ধে জোরপূর্বক প্রহসনমূলক শাস্তি আরোপের জন্য যে তালিকা প্রকাশিত হয়েছে, তা বাতিল করে নতুন বিচার বিভাগীয় তদন্ত কমিটি গঠন করতে হবে। একই সঙ্গে ১৮ ফেব্রুয়ারি হামলার এবং শিক্ষকদের ওপর ঘটা সব শারীরিক নিগ্রহের সুষ্ঠু বিচার করতে হবে। নতুন তদন্ত কমিটি তাঁদের ক্লাস-পরীক্ষার সঙ্গে সমান্তরালে কাজ করবে। তাঁরা আগামী সপ্তাহের প্রথম কার্যদিবসের মধ্যে ক্লাসে ফিরতে চান এবং যেসব শিক্ষক ক্লাস পরীক্ষায় ফিরতে চান, তাঁদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে।
কুয়েটের অন্তর্বর্তীকালীন উপাচার্য অধ্যাপক হজরত আলী দুপুরে সাংবাদিকদের বলেন, ‘যত দ্রুত সম্ভব একাডেমিক কার্যক্রম শুরু করতে চাচ্ছি। এখন পর্যন্ত সবাই সহযোগিতা করছেন। তবে এখন পর্যন্ত ক্লাস খোলার ব্যাপারে কোনো নির্দিষ্ট সিদ্ধান্ত আমার কাছে নেই।’

এক প্রশ্নের জবাবে উপাচার্য বলেন, ‘বিভিন্ন দিক থেকে বিভিন্ন চাপ তো থাকবেই। আমি এখানে আসার বেশ কয়েক দিন হয়ে গেল, এখনো ক্লাস শুরু করতে পারলাম না, এটাও একটা চাপ। যেহেতু বিশাল একটা ঘটনা এবং নানা জটিলতা তৈরি হয়ে আছে। শিক্ষক, শিক্ষার্থী, শিক্ষক সমিতি, কর্মকর্তা, কর্মচারী, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী—সবার সঙ্গেই মিটিং করেছি। আমার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি। সবাই নিজ নিজ জায়গায় তাঁদের দাবিতে অনড়, এ জন্য সময় একটু বেশি লাগছে।’গত ১৮ ফেব্রুয়ারি ছাত্ররাজনীতি নিষিদ্ধের দাবিকে কেন্দ্র করে কুয়েটে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এতে শতাধিক মানুষ আহত হন। পরে শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের মুখে তৎকালীন উপাচার্য ও সহ-উপাচার্যকে সরিয়ে দেয় সরকার। এরপর ১ মে চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (চুয়েট) অধ্যাপক হজরত আলীকে কুয়েটের অন্তর্বর্তীকালীন উপাচার্য হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়।


Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

র‌্যাবের চৌকস অভিযানে জীপসহ প্রায় ১১ হাজার ইয়াবার চালান আটক

জামালপুর হামলা পাল্টা হামলার মধ্য দিয়ে জেলার সানন্দবাড়ী তে থমথমে অবস্থা বিরাজমান।

error: আপনি নিউজ চুরি করার চেষ্টা করছেন। বিশেষ প্রয়োজনে যোগাযোগ করুন ০১৭৬৭৪৪৪৩৩৩
%d