রেলে ১ টাকা আয় করতে আড়াই টাকার বেশি ব্যয় - Gono television | বাংলাদেশ সরকার অনুমোদিত বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেল।
রেলে ১ টাকা আয় করতে আড়াই টাকার বেশি ব্যয়

রেলে ১ টাকা আয় করতে আড়াই টাকার বেশি ব্যয়

Oplus_131072

বাংলাদেশ রেলওয়ে এক টাকা আয় করতে গিয়ে খরচ করছে আড়াই টাকার বেশি। সরকারের এই পরিবহন সংস্থা লোকসান দিচ্ছে বছরের পর বছর ধরে। আয়-ব্যয়ের এই ফারাক কমাতে একগুচ্ছ কর্মসূচি সামনে এনেছে রেলওয়ে। লক্ষ্য দ্রুত সময়ের মধ্যে এক টাকা আয়ের বিপরীতে ব্যয় দুই টাকার নিচে নামিয়ে আনা। দীর্ঘ মেয়াদে রেলওয়েকে লাভজনক অবস্থায় নিয়ে যেতে চায় সরকার।রেলওয়ে সূত্র বলছে, ব্যয় কমাতে স্বল্প, মধ্য ও দীর্ঘমেয়াদি কর্মপরিকল্পনা করা হয়েছে। জনগণের ওপর চাপ না বাড়িয়ে রক্ষণাবেক্ষণে ব্যয় কমানো, লোকসানি পথে (রুট) ট্রেনের চলাচল কমিয়ে লাভজনক পথে তা বাড়ানো; রেলের বিপুল ভূসম্পত্তি ইজারা (লিজ) দিয়ে আয় করার ওপর জোর দিতে চায় রেলওয়ে। এর বাইরে রক্ষণাবেক্ষণ খাতে অপচয় কমানোরও লক্ষ্য থাকছে।রেলের হিসাবে, গত বছরের জুলাই থেকে ডিসেম্বর পর্যন্ত—ছয় মাসে রেলওয়ে যাত্রী ও মালামাল পরিবহন এবং অন্যান্য খাত থেকে আয় করেছে ৮৩৬ কোটি টাকা। এ সময় ব্যয় করেছে ২ হাজার ১৪৮ কোটি টাকা। সাম্প্রতিক সময়ে প্রতিবছর গড়ে দুই হাজার কোটি বা এর বেশি লোকসান দিচ্ছে রেলওয়ে। ২০০৫ সালে ১ টাকা আয়ের বিপরীতে ১ টাকা ৪৬ পয়সা ব্যয় করত রেলওয়ে। রেলওয়ের তথ্য অনুসারে, স্বাধীনতার পর ১৯৯৮-৯৯ অর্থবছরে একবারই লাভ করেছিল রেলওয়ে। ওই অর্থবছরে সংস্থাটি ১ টাকা আয়ের বিপরীতে ব্যয় করেছিল ৯৫ দশমিক ৯ পয়সা। এরপর দিন দিন আয়–ব্যয়ের ফারাক বেড়েছে।কোনো প্রতিষ্ঠান বা কোম্পানির আয় ও ব্যয়ের অনুপাত ‘অপারেটিং রেশিও’ দিয়ে নির্ধারণ করা যায়। এর মাধ্যমে রেলব্যবস্থা কতটা দক্ষ ও লাভজনক, তা বোঝা যায়। অপারেটিং রেশিও মূলত একটি নির্দিষ্ট সময়ের মোট ব্যয়কে মোট আয় দিয়ে ভাগ করা। অপারেটিং রেশিও যত বেশি হবে, ওই প্রতিষ্ঠানের পরিচালন দক্ষতা তত দুর্বল হিসেবে গণ্য করা হয়।আয়-ব্যয়ের অনুপাতের ক্ষেত্রে রেল দৈনন্দিন কাজে মূলত যে ব্যয় করে, সেটা বিবেচনায় নেওয়া হয়। এই ব্যয়ের মধ্যে রয়েছে বেতন-ভাতা, অবসরে যাওয়া কর্মীদের প্রাপ্য সুবিধা, জ্বালানি খরচ, রক্ষণাবেক্ষণ ব্যয়। রেলের আয়ের উৎস মূলত যাত্রী ও মালামাল পরিবহন। এর বাইরে নিজেদের ভূমি ইজারা দিয়ে কিছু আয় করে থাকে রেলওয়ে।রেলের পরিচালন খাতে প্রতিবছর কমবেশি ১০ শতাংশ হারে ব্যয় বেড়েছে। সে তুলনায় আয় বাড়ছে গড়ে ৫ শতাংশের কম। রেলওয়ে দীর্ঘদিন ধরে সিমেন্ট, সার, পাট, জ্বালানি ও খাদ্যপণ্য পরিবহনে উল্লেখযোগ্য আয় করে আসছিল। ধীরে ধীরে এসব পণ্যের পরিবহন কমছে। পণ্য পরিবহন বাড়ানোর বিষয়ে কার্যকর কোনো উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। ছাত্র–জনতার অভ্যুত্থানে ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগ সরকারের সাড়ে ১৫ বছরে রেলের উন্নয়নে বিভিন্ন প্রকল্পের আওতায় এক লাখ কোটি টাকার বেশি খরচ করা হয়েছে। এর বেশির ভাগই ছিল বিদেশি ঋণ। এর মধ্যে পদ্মা সেতু সংযোগ রেলপথ (রেললিংক), চট্টগ্রাম-কক্সবাজার রেললাইন নির্মাণসহ বড় বড় প্রকল্পের ঋণের সুদসহ কিস্তি পরিশোধ করতে হচ্ছে। এই বিপুল ব্যয়ের বিষয়টি অবশ্য অপারেটিং রেশিওতে বিবেচনায় নেওয়া হয় না।বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) পুরকৌশল বিভাগের অধ্যাপক ও পরিবহনবিশেষজ্ঞ সামছুল হক প্রথম আলোকে বলেন, আয়-ব্যয়ের এই নেতিবাচক ফারাক দিনের পর দিন বহন করা রাষ্ট্রের জন্য কঠিন। এর প্রতিকার খুঁজে বের করতেই হবে। তিনি বলেন, সাম্প্রতিক সময়ে নতুন রেললাইন, ইঞ্জিন-কোচ কেনা হয়েছে বিপুল টাকায়। এগুলো আগামী দিনে পুরোনো হবে এবং রক্ষণাবেক্ষণে ব্যয় বাড়বে। তখন আয়-ব্যয়ের ফারাক আরও বাড়তে পারে।


Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

র‌্যাবের চৌকস অভিযানে জীপসহ প্রায় ১১ হাজার ইয়াবার চালান আটক

জামালপুর হামলা পাল্টা হামলার মধ্য দিয়ে জেলার সানন্দবাড়ী তে থমথমে অবস্থা বিরাজমান।

error: আপনি নিউজ চুরি করার চেষ্টা করছেন। বিশেষ প্রয়োজনে যোগাযোগ করুন ০১৭৬৭৪৪৪৩৩৩
%d