নারীর অবমাননাকারী মন্ত্রী মুক্ত থাকলেও বিজেপির মানসিকতা নিয়ে প্রশ্ন তুলে গ্রেপ্তার অধ্যাপক
নারীর অবমাননাকারী মন্ত্রী মুক্ত থাকলেও বিজেপির মানসিকতা নিয়ে প্রশ্ন তুলে গ্রেপ্তার অধ্যাপক

নারীর অবমাননাকারী মন্ত্রী মুক্ত থাকলেও বিজেপির মানসিকতা নিয়ে প্রশ্ন তুলে গ্রেপ্তার অধ্যাপক

Oplus_131072

অধ্যাপক আলি খান মাহমুদাবাদের ‘অপরাধ’, তিনি অপারেশন সিঁদুর নিয়ে দেশের শাসক দল বিজেপির মানসিকতা ও ‘দ্বিচারিতা’ নিয়ে প্রশ্ন তুলেছিলেন। এই অপরাধে অশোক বিশ্ববিদ্যালয়ের এই রাষ্ট্রবিজ্ঞানের অধ্যাপককে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।অথচ বিজেপিশাসিত মধ্য প্রদেশের মন্ত্রী বিজয় শাহ এখনো মুক্ত। অপারেশন সিঁদুরের সাফল্য বর্ণনাকারী ভারতীয় সেনাবাহিনীর কর্নেল সোফিয়া কুরেশিকে ‘সন্ত্রাসবাদীদের বোন’ বলে সম্বোধন করা সত্ত্বেও মন্ত্রী বিজয় শাহর বিরুদ্ধে এখনো কোনো শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করেনি দল। তাঁর মন্ত্রিত্বও যায়নি। যদিও ওই মন্তব্যে রুষ্ট মধ্যপ্রদেশ হাইকোর্ট স্বতঃপ্রণোদিত হয়ে তাঁর বিরুদ্ধে এফআইআর দাখিলের নির্দেশ দিয়েছেন।
অধ্যাপক আলি খান মাহমুদাবাদ অবশ্য বিজয় শাহকে নিয়ে বিজেপির দ্বিচারিতার সমালোচনা করেননি। বস্তুত তিনি কোনো বিশেষ ঘটনারও উল্লেখ করেননি। অপারেশন সিঁদুরের দৈনন্দিন সাফল্য বর্ণনার দায়িত্বে কর্নেল সোফিয়া কুরেশি ও উইং কমান্ডার ব্যোমিকা সিংকে নিয়ে আসার সিদ্ধান্তকে ‘লোক দেখানো’ অভিহিত করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে লিখেছিলেন, অনেক দক্ষিণপন্থী কর্নেল সোফিয়া কুরেশির প্রশংসা করছেন। এটা অবশ্যই ভালো। একই রকম জোরালোভাবে তাঁরা যদি গণপিটুনি, বুলডোজার অভিযান ও ঘৃণার রাজনীতির শিকার মুসলিম নাগরিকদের রক্ষার দাবি তোলেন, তা হলে তা হবে প্রকৃত দেশপ্রেম। সেভাবে সরব হলে ভবিষ্যতে নিগৃহীত ব্যক্তিরা দেশে সুরক্ষিত থাকতে পারবেন। অন্যথায় এটি কেবল ভন্ডামি বলেই প্রতিভাত হবে।সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অধ্যাপক মাহমুদাবাদের এই মন্তব্য দক্ষিণপন্থী বিজেপির গাত্রদাহের কারণ হয়ে দাঁড়ায়। গত শনিবার হরিয়ানা বিজেপির যুব মোর্চার সাধারণ সম্পাদক যোগেশ জাথেরি সোনিপত জেলার রাই থানায় তাঁর বিরুদ্ধে অভিযোগ দাখিল করেন। সেই অভিযোগের ভিত্তিতে গতকাল রোববার দিল্লি পুলিশ তাঁকে গ্রেপ্তার করে।দিল্লি পুলিশের সহকারী কমিশনার অজিত সিং বার্তা সংস্থা পিটিআইকে জানিয়েছেন, অধ্যাপকের বিরুদ্ধে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি নষ্ট, বৈরিতা তৈরি, বিচ্ছিন্নতাবাদে উসকানি, সশস্ত্র বিদ্রোহ, নাশকতামূলক কাজকর্ম ও ধর্মীয় বিশ্বাস অবমাননার অভিযোগ আনা হয়েছে।
অধ্যাপকের মন্তব্যের পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দক্ষিণপন্থীরা সরব হওয়ায় হরিয়ানা রাজ্য মহিলা কমিশনের পক্ষ থেকে তাঁকে নোটিশ দেওয়া হয়েছে। তাতে বলা হয়, অধ্যাপক মাহমুদাবাদ ভারতীয় সশস্ত্র বাহিনীর নারীদের অবমাননা করেছেন। সাম্প্রদায়িক বিভেদ উসকে দিয়েছেন। কমিশনের চেয়ারপারসন রেণু ভাটিয়া সংবাদমাধ্যমকে বলেন, অধ্যাপক মাহবুদাবাদ এমন শব্দ ব্যবহার করেছেন, যা মানা কঠিন। তাঁর উচিত ছিল কমিশনের সামনে হাজির হয়ে দুঃখ প্রকাশ করা।
গ্রেপ্তারের আগেই অবশ্য অধ্যাপক মাহমুদাবাদ নারীবিদ্বেষের অভিযোগ অস্বীকার করে বিবৃতি দেন। তিনি বলেন, ‘বিদ্বেষ তো নয়ই, আমি বরং প্রশংসা করেছি দুই নারীকে ব্রিফিংয়ে নিয়ে আসার জন্য, যাঁদের একজন মুসলিম।’ তিনি বলেন, ‘আমি শুধু এটাই বলতে চেয়েছি, এই অন্তর্ভুক্তিমূলক মানসিকতা দেশের অন্য মুসলিমদের প্রতিও দেখানো দরকার।’অধ্যাপক মাহমুদাবাদ জবাবদিহি করে বলেন, তাঁর বক্তব্যের ভুল ব্যাখ্যা করা হচ্ছে। তিনি শান্তি ও সম্প্রীতির পক্ষেই কথা বলেছেন।কেমব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পিএইচডি ডিগ্রি অর্জন করা এই অধ্যাপকের গ্রেপ্তারির সমালোচনা করেছেন বিরোধী নেতারা। সরাসরি তাঁরা শাসক দলের দ্বিচারিতার উল্লেখ করে এই গ্রেপ্তারের নিন্দা জানিয়েছেন। সমাজবাদী পার্টির নেতা অখিলেশ যাদব ‘এক্স’ হ্যান্ডলে লিখেছেন, ক্ষমতাসীনেরা কুমন্তব্য করেও প্রকাশ্যে ঘুরছেন, অথচ সত্যবাদীরা গ্রেপ্তার হচ্ছেন।অখিলেশ স্পষ্টতই নাম উল্লেখ না করে মধ্যপ্রদেশের বিজেপি মন্ত্রীর প্রসঙ্গ টেনে এনেছেন।কংগ্রেস মুখপাত্র পবন খেরা গতকাল রোববার রাতে অধ্যাপক মাহমুদাবাদের ‘পোস্ট’ হুবহু তুলে দিয়ে ‘এক্স’-এ লেখেন, এটাই নতুন ভারত। একজন ইতিহাসবিদকে গ্রেপ্তার করা হলো সত্য কথা বলা ও বুক চাপড়ানো জাতীয়তাবাদী ভন্ডামির চরিত্র উদ্‌ঘাটনের জন্য। অথচ বিজেপির মন্ত্রী প্রকাশ্যে ঘুরে বেড়াচ্ছেন। এটাই মোদি সরকারের দ্বিচারিতা। এটা শুধু ব্যক্তি বিশেষের বিরুদ্ধে নয়, এমনটা করা হচ্ছে বিজেপিবিরোধী সব বুদ্ধিজীবীর বিরুদ্ধে। কারণ, এই সরকার প্রশ্ন ভয় পায়। নিজের দেশের নাগরিকদের ভয় পায়। তাই লেখক, অধ্যাপক, সমালোচকদের শত্রু বলে গণ্য করে।অধ্যাপক মাহমুদাবাদের পরিচয় দিয়ে পবন খেরা লিখেছেন, প্রধানমন্ত্রী মোরারজি দেশাই যখন অটল বিহারি বাজপেয়ীকে পররাষ্ট্রমন্ত্রী করেছিলেন, তখন পররাষ্ট্রসচিব ছিলেন ‘পদ্মভূষণ’ জগৎ মেহতা। সেই মেহতার নাতি এই আলি খান মাহমুদাবাদ। পবন খেরা লিখেছেন, মাহমুদাবাদ দুটি ভুল করেছেন। একটা ভুল এই পোস্ট লেখা, অন্য ভুল তাঁর নাম। এটাই তাঁর অপরাধ।
এআইএমআইএম নেতা ও সংসদ সদস্য আসাউদ্দিন ওয়েইসি এই গ্রেপ্তারকে ‘অত্যন্ত নিন্দনীয়’ উল্লেখ করে বলেন, স্রেফ বিজেপির নেতারা আপত্তি জানিয়েছেন বলেই অধ্যাপক মাহমুদাবাদকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। অথচ তিনি মোটেই দেশ বা নারীবিরোধী কিছু লেখেননি।
অধ্যাপক মাহমুদবাদের পক্ষে দাঁড়িয়েছেন ইতিহাসবিদ রোমিলা থাপার, রামচন্দ্র গুহ, জয়তী ঘোষ, নিবেদিতা মেনন, রাম পুনিয়ানিদের মতো বিশিষ্টজনেরা। এক বিবৃতিতে তাঁরা বলেছেন, ‘আমরা এমন এক অস্বাভাবিক ভারতে রয়েছি, যেখানে সেনাবাহিনীর পাশে দাঁড়িয়ে কেউ যুদ্ধবাজ মনোভাবের সমালোচনা করলেও তাঁকে হয়রান হতে হয়।’অধ্যাপক মাহমুদাবাদ যেখানে অধ্যাপনা করেন, সেই অশোক বিশ্ববিদ্যালয়ের অবস্থান ‘ধরি মাছ না ছুঁই পানি’র মতো। এক বিবৃতিতে তারা শুধু বলেছে, ‘পুলিশ অধ্যাপক মাহমুদাবাদকে রোববার সকালে গ্রেপ্তার করেছে। আমরা পুরো মামলার বিশদ বিবরণ যাচাই করছি। বিশ্ববিদ্যালয় তদন্তের কাজে পূর্ণ সহযোগিতা করবে।’


Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

র‌্যাবের চৌকস অভিযানে জীপসহ প্রায় ১১ হাজার ইয়াবার চালান আটক

জামালপুর হামলা পাল্টা হামলার মধ্য দিয়ে জেলার সানন্দবাড়ী তে থমথমে অবস্থা বিরাজমান।

পর্নোগ্রাফি নিয়ন্ত্রণ আইনে এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা দায়ের ও আদালতে মিথ্যা হলফনামা দেয়ার অভিযোগে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের কেবিন ক্রু খাদিজা সুলতানা শিমুর বিরুদ্ধে মামলা দায়েরের নির্দেশ দিয়েছেন আদালত।

 

বুধবার (১৫ জুলাই) ঢাকার অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালত-২-এর বিচারক মো. জাকির হোসাইন এ আদেশ দেন। আদালতের আদেশে বলা হয়েছে, শিমুর বিরুদ্ধে পর্নোগ্রাফি নিয়ন্ত্রণ আইন, ২০১২-এর ১৩ ধারা এবং দণ্ডবিধির ১৮১, ১৮২ ও ১৯৩ ধারায় মামলা করা হবে। আদালত নিজেই এ মামলার বাদী হয়েছেন।

 

আদালতের নথি অনুযায়ী, খাদিজা সুলতানা শিমু মামলার বাদী হয়ে বেসরকারি একটি এয়ারলাইন্সের কর্মকর্তা মো. ওমর ফারুক চৌধুরীর বিরুদ্ধে পর্নোগ্রাফি নিয়ন্ত্রণ আইনের বিভিন্ন ধারায় উত্তরা পশ্চিম থানায় মামলা করেন।

 

তদন্ত শেষে উত্তরা পশ্চিম থানার তদন্ত কর্মকর্তা আদালতে চূড়ান্ত প্রতিবেদন দাখিল করে জানান, অভিযোগের সত্যতা পাওয়া যায়নি। প্রতিবেদনে বলা হয়, মামলার এজাহারে উল্লেখ করা ফেসবুক লিংক, ডিজিটাল আলামত ও অন্যান্য তথ্য যাচাই করে ওমর ফারুকের বিরুদ্ধে পর্নোগ্রাফি প্রচারের কোনো প্রমাণ মেলেনি। ফলে ওই কর্মকর্তাকে মামলা থেকে অব্যাহতির সুপারিশ করা হয়।

একই সঙ্গে তদন্ত কর্মকর্তা প্রতিবেদনে উল্লেখ করেন, ওমর ফারুক আগে শিমুর বিরুদ্ধে বিয়ের প্রলোভন দিয়ে অর্থ আত্মসাতের অভিযোগে আদালতে মামলা করেছিলেন। সেই মামলার দায় এড়াতেই শিমু সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচারিত বিভিন্ন লিংক উল্লেখ করে তার বিরুদ্ধে পর্নোগ্রাফি ছড়ানোর অভিযোগ এনে উদ্দেশ্যপ্রণোদিত, হয়রানিমূলক ও মিথ্যা মামলা করেছেন বলে প্রাথমিক তদন্তে প্রতীয়মান হয়েছে। এ কারণে শিমুর বিরুদ্ধে পর্নোগ্রাফি নিয়ন্ত্রণ আইন, ২০১২-এর ১৩ ধারায় আইনগত ব্যবস্থা নেয়ার আবেদনও করেন তদন্ত কর্মকর্তা।

 

পরে গত ৯ জুলাই আদালত তদন্ত প্রতিবেদন গ্রহণ করে ওমর ফারুককে মামলা থেকে অব্যাহতি দেন। আদালতের আদেশে বলা হয়, শিমু ক্ষতিসাধনের উদ্দেশ্যে আদালতে মিথ্যা মামলা দায়ের করেছেন এবং হলফ করে মিথ্যা সাক্ষ্য দিয়েছেন। মামলার নথিতে তার দেয়া হলফনামাও সংযুক্ত রয়েছে। এসব বিবেচনায় আদালত নিজেই বাদী হয়ে তার বিরুদ্ধে পর্নোগ্রাফি নিয়ন্ত্রণ আইন ও দণ্ডবিধির সংশ্লিষ্ট ধারায় মামলা দায়েরের নির্দেশ দেন।

 

তদন্তে যা উঠে এসেছে পুলিশের চূড়ান্ত প্রতিবেদনে বলা হয়, তদন্তকালে রেকর্ড, ডিজিটাল আলামত, ফেসবুক লিংক ও ফরেনসিক তথ্য যাচাই করে ওমর ফারুকের বিরুদ্ধে পর্নোগ্রাফি প্রচারের কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি।

 

তদন্তে আরও উঠে আসে, শিমু বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের কেবিন ক্রু এবং ওমর ফারুক একটি বেসরকারি এয়ারলাইন্সের এয়ারক্রাফট মেইনটেন্যান্স কর্মকর্তা। ফেসবুকে পরিচয়ের পর তাদের মধ্যে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে।

 

প্রতিবেদনে বলা হয়, বিয়ের আশ্বাস দিয়ে বিভিন্ন সময়ে ওমর ফারুকের কাছ থেকে বিপুল পরিমাণ অর্থ ও মূল্যবান সামগ্রী নেয়ার অভিযোগে ওমর ফারুক আদালতে পৃথক মামলা করেন। এরপর সেই মামলার দায় থেকে নিজেকে রক্ষা করতেই শিমু পর্নোগ্রাফি আইনে অভিযোগ দায়ের করেন বলে তদন্তে প্রতীয়মান হয়েছে।

 

ওমর ফারুকের আগের মামলা গত ২০ জুলাই ওমর ফারুক চৌধুরী শিমুর বিরুদ্ধে বিয়ের প্রলোভন, ‘হানি ট্র্যাপ’ ও ব্ল্যাকমেইলের মাধ্যমে প্রায় ২২ লাখ টাকা আত্মসাতের অভিযোগে ঢাকার আদালতে মামলা করেন। আদালত অভিযোগটি আমলে নিয়ে উত্তরা পশ্চিম থানাকে তদন্তের নির্দেশ দেন। পরে তিনি বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স কর্তৃপক্ষের কাছেও লিখিত অভিযোগ করেন।

 

সেই মামলায় অভিযোগ করা হয়, ২০২৪ সালে ফেসবুকে পরিচয়ের পর শিমু তাকে বিয়ের আশ্বাস দিয়ে বিভিন্ন সময়ে টাকা নেন। জন্মদিনে দেড় লাখ টাকা মূল্যের একটি হীরার আংটিসহ বিয়ের খরচের জন্য মোট ২১ লাখ ৭৪ হাজার ৫১১ টাকা নেয়ার পরও বিয়ে না করে প্রতারণার মাধ্যমে অর্থ আত্মসাৎ করা হয়েছে বলে মামলায় দাবি করা হয়।

পর্নোগ্রাফি আইনে কেবিন ক্রু শিমুর বিরুদ্ধে মামলার নির্দেশ আদালতের

ভোলার মনপুরায় নির্বাচনী মাঠে জনআতঙ্ক, দীপক বাহিনীর হাতে আহত ৫

ভোলার মনপুরায় নির্বাচনী মাঠে জনআতঙ্কে, থমথমে পুরো মনপুরা। আসন্ন 2 নং হাজিরহাট ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনী প্রচারণা কালীন সময় প্রার্থী নিজামুদ্দিন হাওলাদারের নেতাকর্মী ও সমর্থকদের বেধড়ক মারধর করার অভিযোগ উঠে এসেছে। প্রার্থীকে বেধড়ক মারধর করায় গুরুতর আহত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি আছেন, নাছির(২৩), আল আমিন(২৫),জিদনী (১৮),অনি (২৩)কাশেম(২৮),অজয়(২৬)

আহতদের পরিবার জানিয়েছেন আহতদের অবস্থা গুরুতর, চিকিৎসার জন্য জেলাতে নেওয়া প্রয়োজন হতে পারে।।

মেম্বার প্রার্থী নাসির অভিযোগ করে বলেন , স্থানীয় প্রশাসন অত্যন্ত দুর্বল অবস্থায় রয়েছে,মাঠ প্রশাসন নীরব দর্শকের ভূমিকা পালন করছেন, দীপক রাশি বাহিনী এরপর এক সন্ত্রাসী কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে, আমি নির্বাচন প্রতারণা চলাকালীন সময়ে অতর্কিত দীপক বাহিনীর মূল হোতা সন্ত্রাসী মাকসুদের নেতৃত্বে দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র সহ আমাকেও আমার তুই ছেলের উপর হামলা চালান।। এতে করে আমিও আমার ছোট ছেলে আমিন গুরুতর আহত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়ে রয়েছি।। মনপুরা পুলিশ প্রশাসনের নিকট আমি অভিযোগ করেছি।ওসি মনপুরা এখন পর্যন্ত কোনো ব্যবস্থা গ্রহণ করেন নাই। তিনি আরো বলেন সন্ত্রাসী ফারুক ফরাজী, ইলিয়াছ চৌধূরী, ইলিয়াস ফরাজী, ফুহাদ আওলাদ মাতাব্বর, মনির ফরাজী, খোকন পর এক নানা সন্ত্রাসী কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছেন।

চেয়ারম্যান প্রার্থী নুরুল ইসলাম অভিযোগ করে বলেন নির্বাচনকে বানচাল করার জন্য একের পর এক সন্ত্রাসী কার্যক্রম চালিয়ে গেলেও ওসি মনপুরা এখন পর্যন্ত কোন ধরনের ব্যবস্থা গ্রহণ করতে পারে নাই, চিরে যদি সন্ত্রাসীদের দমন না করা হয় তাহলে নির্বাচন হবে মনপুরা হবে ঝুঁকিপূর্ণ, নির্বাচনে মাঠ প্রশাসন নিয়ন্ত্রনহীন হয়ে পড়বেন।। নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট আকিব ওসমান মাঠ প্রশাসন নিয়ন্ত্রণে কাজ করলেও এখন পর্যন্ত মনপুরা মাঠ নিয়ন্ত্রণে আনতে পরিপূর্ণ ব্যর্থ হয়েছেন।।

অপর চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী নিজাম উদ্দিন হাওলাদার অভিযোগ করে বলেন পরোক্ষভাবে প্রত্যক্ষভাবে দীপক বাহিনী এ ধরনের ঘটনা চলেছেন, অতর্কিত হামলা, চোরাগুপ্তা হামলা সহ নানা ধরনের কর্মের সাথে পার্থী শাহরিয়া দীপক সরাসরি জড়িত রয়েছেন।।

মুঠোফোনে প্রার্থী শাহরিয়ার চৌধুরী দীপক এর নিকট জানতে চাইলে তিনি সাংবাদিক পরিচয় পেয়ে ব্যস্ততা দেখিয়ে ফোন কাটিয়ে দেন।

বিষয়টি নিয়ে ওসি মনপুরা কে বারবার ফোন করলেও এখন এখন পর্যন্ত মুঠোফোনে পাওয়া যায়নি।।

বিষয়টি নিয়ে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট হাকিম ওসমান এর সাথে কথা বললে তিনি বলেন আমি অতি দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণ করছি, মনপুরাকে মামলা গ্রহণের জন্য নির্দেশ প্রদান করেছি।। অচিরেই মনপুরায় মাঠ প্রশাসন নিয়ন্ত্রণে আনাতে আমি নিরস কাজ করছি।।

উল্লেখ্য এই যে মনপুরা উপজেলা একের পর এক আচরণবিধি লঙ্ঘন করায় প্রার্থী শাহরিয়ার দীপক বিরুদ্ধে শাহরিয়ার বিরুদ্ধে আচরণবিধি লঙ্ঘনের লিখিত অভিযোগ হয়েছে যা পত্র-পত্রিকা ও গণমাধ্যমে বেশ কয়েকবার প্রকাশিত হয়েছে।। আজকের চোরাগুপ্তা হামলা সহ নানা অতর্কিত সন্ত্রাসী হামলার বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়েছে।।। কোন পর্যন্ত কোনো আসামিকে গ্রেপ্তার করতে মনপুরা থানা সম্পূর্ণ ব্যর্থ হয়েছেন।।

আসছে বিস্তারিত……. সাথে থাকুন

ভোলার মনপুরায় নির্বাচনী মাঠে জনআতঙ্ক, দীপক বাহিনীর হাতে আহত ৫

এস এম খলিলুর রহমান
ব্যুরো চীফ হবিগঞ্জ জেলা ॥

নবীগঞ্জ পৌর এলাকার গয়াহরি গ্রামে নিরীহ ব্যক্তি বিজিত দাশ মেটনের উপর সন্ত্রাসী হামলার দায়েরী মামলার অন্যতম আসামী কাউন্সিলর যুবরাজ গোপসহ অপর আসামীদের গ্রেফতার না করায় পুলিশের বিরুদ্ধে অভিযোগ করেছেন বাদিনী সুপ্রিয়া রানী দাশ। শনিবার (১২ জুন) সকালে নবীগঞ্জ প্রেসক্লাব কার্যালয়ে অনুষ্টিত সাংবাদিক সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে সুপ্রিয়া রানী দাশ বলেন, গেল পৌর নির্বাচনকে কেন্দ্র করে কাউন্সিলর যুবরাজ গোপ তার পরিবারের উপর ক্ষিপ্ত হন। এরজের ধরে বিগত ২৬ এপ্রিল সন্ধ্যায় নবীগঞ্জ পৌরসভার ৪নং ওয়ার্ডস্থ গয়াহরি গ্রামে জ্যোতিষ দাশের বাড়ি সামনে রাস্তার উপর পেয়ে আমার স্বামী বিজিত দাশ মেটনকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে ক্ষতবিক্ষত করেন আমাদের ওয়ার্ড কাউন্সিলর যুবরাজ গোপ, জ্যোতিষ দাশ, সীমা রানী দাশ, উৎফল দাশ ও লিপ্টু দাশসহ একদল লোক। তাদের ধারালো অস্ত্রের আঘাতে আমার স্বামী গুরুতর আহত হয়ে সিলেট ও ঢাকা হাসপাতালে চিকিৎসা গ্রহন করি। আমার স্বামী আহত হয়ে মৃত্যুর সাথে পাঞ্জা লড়ছিল। পুলিশ ঘটনার খবর পেয়ে আমার স্বামীর রক্তাক্ত অবস্থা দেখে তাৎক্ষনিকভাবে জ্যোতিষ দাশকে গ্রেফতার করে। পরে ৫৪ ধারায় জেল হাজতে প্রেরন করে পুলিশ। এ ব্যাপারে আমি নবীগঞ্জ থানায় মামলা নিয়ে গেলে পুলিশ আদালতের আশ্রয় নিতে পরামর্শ দেন। পরবর্তীতে আমি বাদী হয়ে হবিগঞ্জ আদালতে উল্লেখিত দুর্বৃত্তদের আসামী করে মামলা দায়ের করি। মামলাটি আদালতের নির্দেশে এফআইআর হিসেবে নবীগঞ্জ থানায় রুজু হয়। মামলা রুজু হলেও মামলার অন্যতম আসামী যুবরাজ গোপসহ অপরাপর আসামীদেরকে পুলিশ গ্রেফতার করতে পারেনি। অথচ যুবরাজ গোপ প্রকাশ্যে নবীগঞ্জ শহরে ও বাড়িতে ঘুরে বেড়াচ্ছে। আমি অসহায় একজন মহিলা, মামলার তদন্ত কর্মকর্তা এসআই লুৎফুর রহমানকে বারবার তাগিদ দেয়া সত্ত্বেও আসামী গ্রেফতার করিতে তিনি গড়িমশি করছেন। এদিকে আমার স্বামীর বর্তমান শারীরিক অবস্থা এখন পর্যন্ত ভাল নয়। বিছানায় শয্যাসায়ী আছেন। দারিদ্রতার কারনে আমার স্বামীর চিকিৎসা করাইতে গিয়ে ইতিমধ্যে ভিটে বাড়ি বিক্রি করতে হয়েছে। সামাজিক বিচার থেকে বঞ্চিত হয়ে আইনের আশ্রয় নিয়েও আমাদের এত বিড়ম্বনা পোহাতে হবে, তা জানা ছিলনা।
বর্তমানে আমার আহত স্বামী বিজিত দাশ কথা বার্তা বলতে পারছেন না, বাম চোখেঁ দেখতেও পান না। ঘটনাটি এলাকার সকল মানূষ অবগত রয়েছেন।
ন্যায় বিচারের স্বার্থে আমার দায়েরী মামলার অন্যতম আসামী যুবরাজ গোপসহ অপর আসামীদের গ্রেফতার পুর্বক আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহনের জন্য সাংবাদিকদের মাধ্যমে পুলিশের উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করছি।

নবীগঞ্জে আসামী গ্রেফতার না করায় পুলিশের বিরুদ্ধে বাদিনীর সংবাদ সম্মেলন

error: আপনি নিউজ চুরি করার চেষ্টা করছেন। বিশেষ প্রয়োজনে যোগাযোগ করুন ০১৭৬৭৪৪৪৩৩৩