আমার দেখা রাশিয়ার ৮০তম বিজয় দিবস: ভ্লাদিভস্তক থেকে রেড স্কয়ার দেখা
আমার দেখা রাশিয়ার ৮০তম বিজয় দিবস: ভ্লাদিভস্তক থেকে রেড স্কয়ার দেখা

আমার দেখা রাশিয়ার ৮০তম বিজয় দিবস: ভ্লাদিভস্তক থেকে রেড স্কয়ার দেখা

Oplus_131072

১০ মে ছিল রাশিয়ার বিজয় দিবস। রাশিয়ার ইতিহাসে এই দিনটির গুরুত্ব ঠিক যতটা ঐতিহাসিক, ততটাই আবেগময় ও রাজনৈতিক। এ বছর দিনটির ৮০তম বার্ষিকী। রাশিয়াজুড়ে দিবসটি পালিত হয়েছে এক অসাধারণ বিশালতা ও তাৎপর্যের মধ্য দিয়ে। আমি এই দিনটি কাটিয়েছি ভ্লাদিভস্তকে। তবে চোখ রেখেছিলাম মস্কোর রেড স্কয়ারের দিকেও, যেখানে প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন এক অভূতপূর্ব কূটনৈতিক ও সামরিক প্রদর্শনের মাধ্যমে বিশ্বকে নিজের অবস্থান জানান দিচ্ছিলেন।
বিজয় দিবসের সকালটা শুরু হয়েছিল সুরম্য ভ্লাদিভস্তক শহরের কেন্দ্রীয় স্কয়ারে। ভ্লাদিভস্তক—প্রশান্ত মহাসাগরঘেঁষা এই শহর একদিকে যেমন সমুদ্রের সৌন্দর্য বহন করে, তেমনি সামরিক ইতিহাসের গর্বে উদ্ভাসিত। রাশিয়ার পূর্ব প্রান্তে অবস্থিত হলেও, বিজয় দিবস এখানে ঠিক ততটাই গুরুত্বের সঙ্গে উদযাপিত হয়, যতটা মস্কো বা সেন্ট পিটার্সবার্গে। এদিন প্রথম সামরিক কুচকাওয়াজ অনুষ্ঠিত হয় এখানেই। সামনের সারিতে ছিল ঐতিহাসিক টি-৩৪ ট্যাংক, যেটি দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় সোভিয়েত সামরিক শক্তির প্রতীক ছিল। এরপর একে একে হাজির হলো আধুনিক অস্ত্র, মিসাইল সিস্টেম এবং জিটি-১৩ ও জিটি-১৪ অ্যান্টেনা মাস্টসহ মুরমানস্ক-বিএন ইলেকট্রনিক যুদ্ধব্যবস্থা। শুধু সামরিক মিছিল নয়, সাধারণ নাগরিকদের অংশগ্রহণও চোখে পড়ার মতো। বয়োজ্যেষ্ঠরা ‘অমর রেজিমেন্ট’ মিছিল করে হাতে তাঁদের পরিবারের যুদ্ধাহতদের ছবি নিয়ে হেঁটে যাচ্ছিলেন—এক দৃষ্টিনন্দন ও আবেগময় দৃশ্য।
যখন ভ্লাদিভস্তকে দিনের কুচকাওয়াজ শেষের দিকে, তখন মস্কোতে শুরু হয় রাষ্ট্রীয় মূল কুচকাওয়াজ। আমি একটি স্থানীয় ক্যাফেতে বসে বড় পর্দায় লাইভ সম্প্রচার দেখতে থাকি।
রেড স্কয়ার—ইতিহাসের গর্ব, রাজনীতির কেন্দ্রে। প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন দাঁড়িয়ে আছেন চীনা নেতা সি চিন পিংয়ের পাশে। একে একে অংশ নিচ্ছেন বিশ্বের নানা দেশের রাষ্ট্রনেতারা—ব্রাজিল, মিসর, সার্বিয়া, ভেনেজুয়েলা, ফিলিস্তিন ও এমনকি ইউরোপীয় ইউনিয়নের সদস্য স্লোভাকিয়ার প্রধানমন্ত্রী। এ যেন এক অনন্য কূটনৈতিক বার্তা। ইউক্রেন যুদ্ধের পর রাশিয়া যে আন্তর্জাতিকভাবে একঘরে হয়ে পড়েছে—এই ধারণার বিপরীতে একটি জবাব যেন রেড স্কয়ারের এই মহাশোভা।‘দূর পরবাস’-এ জীবনের গল্প, নানা আয়োজনের খবর, ভিডিও, ছবি ও লেখা পাঠাতে পারবেন পাঠকেরা। ই-মেইল: dp@prothomalo.com
১০ মে রাশিয়ার জন্য শুধু একটি তারিখ নয়—এটি রাশিয়ান জাতিসত্তার অংশ। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে প্রায় ২.৭ কোটি সোভিয়েত নাগরিকের প্রাণ বিসর্জনের স্মরণে এই দিন পালিত হয়। তবে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে এটি একধরনের রাজনৈতিক বার্তার প্ল্যাটফর্ম হয়ে উঠেছে। পুতিন এবারও ইউক্রেনে রাশিয়ার সামরিক অভিযানের ন্যায্যতা হিসেবে ইতিহাসের পুনঃব্যাখ্যা করেন। তাঁর ভাষণে বারবার উঠে আসে মহান দেশপ্রেমিক যুদ্ধের উত্তরাধিকার হিসেবে তা রক্ষার কথা। অনেকেই এই তুলনাকে সমর্থন করেন না, কিন্তু রাশিয়ার অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে এটি এক শক্তিশালী আবেগঘন বয়ান।
গত দুই বছরের তুলনায় এবার রাশিয়ার সামরিক কুচকাওয়াজ ছিল অনেক বেশি দৃঢ় ও গোছানো। ১১ হাজার ৫০০ সৈন্যের অংশগ্রহণ, আধুনিক এবং ঐতিহাসিক ট্যাংকের মিশ্রণ, সামরিক ড্রোনের প্রদর্শন এবং রেড স্কয়ারের ওপর দিয়ে যুদ্ধবিমানের ওড়াউড়ি—সব মিলিয়ে এটি এক পরিপূর্ণ সামরিক প্রদর্শন ছিল। বিশেষ দৃষ্টি আকর্ষণ করে শাহেদ ধরনের রাশিয়ান ড্রোন ‘জেরানিয়াম-২’ ইউক্রেন যুদ্ধের পর যার ব্যবহার নিয়ে ব্যাপক আলোচনা হয়েছে। এ ধরনের অস্ত্রের প্রকাশ্য প্রদর্শন রাশিয়ার ভবিষ্যৎ যুদ্ধ কৌশলের দিক নির্দেশ করে
এই বিজয় দিবস শুধু একটি সামরিক প্রদর্শন নয়, বরং ইতিহাস, রাজনীতি ও জনমতের একজোট প্রকাশ। ভ্লাদিভস্তকের রাস্তায় যুদ্ধপ্রবীণদের হাতে থাকা ছবি যেমন মন ছুঁয়ে যায়, তেমনি রেড স্কয়ারের কৌশলগত বার্তাও ভাবায়। যদিও অনেকেই রাশিয়ার বর্তমান অবস্থান নিয়ে দ্বিমত পোষণ করেন, কিন্তু একজন পর্যবেক্ষক হিসেবে বলতেই হয়, রাশিয়া ইতিহাসকে ব্যবহার করে তার বর্তমানকে গড়ে নিচ্ছে এবং বিজয় দিবস সেই কৌশলের কেন্দ্রীয় স্তম্ভ হয়ে উঠেছে।
৮০তম বিজয় দিবস ছিল একটি মুহূর্ত, যেখানে ইতিহাস, আধুনিকতা, সামরিক শক্তি এবং আন্তর্জাতিক সম্পর্ক একসঙ্গে মিশে গিয়েছে। ভ্লাদিভস্তকের শান্ত দৃশ্য থেকে রেড স্কয়ারের গর্জন—সবকিছুই যেন একটি বৃহৎ বার্তা বহন করছিল: রাশিয়া এখনো তার অতীতকে আঁকড়ে ধরে ভবিষ্যতের পথে হাঁটছে।


Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

র‌্যাবের চৌকস অভিযানে জীপসহ প্রায় ১১ হাজার ইয়াবার চালান আটক

জামালপুর হামলা পাল্টা হামলার মধ্য দিয়ে জেলার সানন্দবাড়ী তে থমথমে অবস্থা বিরাজমান।

পর্নোগ্রাফি নিয়ন্ত্রণ আইনে এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা দায়ের ও আদালতে মিথ্যা হলফনামা দেয়ার অভিযোগে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের কেবিন ক্রু খাদিজা সুলতানা শিমুর বিরুদ্ধে মামলা দায়েরের নির্দেশ দিয়েছেন আদালত।

 

বুধবার (১৫ জুলাই) ঢাকার অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালত-২-এর বিচারক মো. জাকির হোসাইন এ আদেশ দেন। আদালতের আদেশে বলা হয়েছে, শিমুর বিরুদ্ধে পর্নোগ্রাফি নিয়ন্ত্রণ আইন, ২০১২-এর ১৩ ধারা এবং দণ্ডবিধির ১৮১, ১৮২ ও ১৯৩ ধারায় মামলা করা হবে। আদালত নিজেই এ মামলার বাদী হয়েছেন।

 

আদালতের নথি অনুযায়ী, খাদিজা সুলতানা শিমু মামলার বাদী হয়ে বেসরকারি একটি এয়ারলাইন্সের কর্মকর্তা মো. ওমর ফারুক চৌধুরীর বিরুদ্ধে পর্নোগ্রাফি নিয়ন্ত্রণ আইনের বিভিন্ন ধারায় উত্তরা পশ্চিম থানায় মামলা করেন।

 

তদন্ত শেষে উত্তরা পশ্চিম থানার তদন্ত কর্মকর্তা আদালতে চূড়ান্ত প্রতিবেদন দাখিল করে জানান, অভিযোগের সত্যতা পাওয়া যায়নি। প্রতিবেদনে বলা হয়, মামলার এজাহারে উল্লেখ করা ফেসবুক লিংক, ডিজিটাল আলামত ও অন্যান্য তথ্য যাচাই করে ওমর ফারুকের বিরুদ্ধে পর্নোগ্রাফি প্রচারের কোনো প্রমাণ মেলেনি। ফলে ওই কর্মকর্তাকে মামলা থেকে অব্যাহতির সুপারিশ করা হয়।

একই সঙ্গে তদন্ত কর্মকর্তা প্রতিবেদনে উল্লেখ করেন, ওমর ফারুক আগে শিমুর বিরুদ্ধে বিয়ের প্রলোভন দিয়ে অর্থ আত্মসাতের অভিযোগে আদালতে মামলা করেছিলেন। সেই মামলার দায় এড়াতেই শিমু সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচারিত বিভিন্ন লিংক উল্লেখ করে তার বিরুদ্ধে পর্নোগ্রাফি ছড়ানোর অভিযোগ এনে উদ্দেশ্যপ্রণোদিত, হয়রানিমূলক ও মিথ্যা মামলা করেছেন বলে প্রাথমিক তদন্তে প্রতীয়মান হয়েছে। এ কারণে শিমুর বিরুদ্ধে পর্নোগ্রাফি নিয়ন্ত্রণ আইন, ২০১২-এর ১৩ ধারায় আইনগত ব্যবস্থা নেয়ার আবেদনও করেন তদন্ত কর্মকর্তা।

 

পরে গত ৯ জুলাই আদালত তদন্ত প্রতিবেদন গ্রহণ করে ওমর ফারুককে মামলা থেকে অব্যাহতি দেন। আদালতের আদেশে বলা হয়, শিমু ক্ষতিসাধনের উদ্দেশ্যে আদালতে মিথ্যা মামলা দায়ের করেছেন এবং হলফ করে মিথ্যা সাক্ষ্য দিয়েছেন। মামলার নথিতে তার দেয়া হলফনামাও সংযুক্ত রয়েছে। এসব বিবেচনায় আদালত নিজেই বাদী হয়ে তার বিরুদ্ধে পর্নোগ্রাফি নিয়ন্ত্রণ আইন ও দণ্ডবিধির সংশ্লিষ্ট ধারায় মামলা দায়েরের নির্দেশ দেন।

 

তদন্তে যা উঠে এসেছে পুলিশের চূড়ান্ত প্রতিবেদনে বলা হয়, তদন্তকালে রেকর্ড, ডিজিটাল আলামত, ফেসবুক লিংক ও ফরেনসিক তথ্য যাচাই করে ওমর ফারুকের বিরুদ্ধে পর্নোগ্রাফি প্রচারের কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি।

 

তদন্তে আরও উঠে আসে, শিমু বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের কেবিন ক্রু এবং ওমর ফারুক একটি বেসরকারি এয়ারলাইন্সের এয়ারক্রাফট মেইনটেন্যান্স কর্মকর্তা। ফেসবুকে পরিচয়ের পর তাদের মধ্যে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে।

 

প্রতিবেদনে বলা হয়, বিয়ের আশ্বাস দিয়ে বিভিন্ন সময়ে ওমর ফারুকের কাছ থেকে বিপুল পরিমাণ অর্থ ও মূল্যবান সামগ্রী নেয়ার অভিযোগে ওমর ফারুক আদালতে পৃথক মামলা করেন। এরপর সেই মামলার দায় থেকে নিজেকে রক্ষা করতেই শিমু পর্নোগ্রাফি আইনে অভিযোগ দায়ের করেন বলে তদন্তে প্রতীয়মান হয়েছে।

 

ওমর ফারুকের আগের মামলা গত ২০ জুলাই ওমর ফারুক চৌধুরী শিমুর বিরুদ্ধে বিয়ের প্রলোভন, ‘হানি ট্র্যাপ’ ও ব্ল্যাকমেইলের মাধ্যমে প্রায় ২২ লাখ টাকা আত্মসাতের অভিযোগে ঢাকার আদালতে মামলা করেন। আদালত অভিযোগটি আমলে নিয়ে উত্তরা পশ্চিম থানাকে তদন্তের নির্দেশ দেন। পরে তিনি বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স কর্তৃপক্ষের কাছেও লিখিত অভিযোগ করেন।

 

সেই মামলায় অভিযোগ করা হয়, ২০২৪ সালে ফেসবুকে পরিচয়ের পর শিমু তাকে বিয়ের আশ্বাস দিয়ে বিভিন্ন সময়ে টাকা নেন। জন্মদিনে দেড় লাখ টাকা মূল্যের একটি হীরার আংটিসহ বিয়ের খরচের জন্য মোট ২১ লাখ ৭৪ হাজার ৫১১ টাকা নেয়ার পরও বিয়ে না করে প্রতারণার মাধ্যমে অর্থ আত্মসাৎ করা হয়েছে বলে মামলায় দাবি করা হয়।

পর্নোগ্রাফি আইনে কেবিন ক্রু শিমুর বিরুদ্ধে মামলার নির্দেশ আদালতের

ভোলার মনপুরায় নির্বাচনী মাঠে জনআতঙ্ক, দীপক বাহিনীর হাতে আহত ৫

ভোলার মনপুরায় নির্বাচনী মাঠে জনআতঙ্কে, থমথমে পুরো মনপুরা। আসন্ন 2 নং হাজিরহাট ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনী প্রচারণা কালীন সময় প্রার্থী নিজামুদ্দিন হাওলাদারের নেতাকর্মী ও সমর্থকদের বেধড়ক মারধর করার অভিযোগ উঠে এসেছে। প্রার্থীকে বেধড়ক মারধর করায় গুরুতর আহত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি আছেন, নাছির(২৩), আল আমিন(২৫),জিদনী (১৮),অনি (২৩)কাশেম(২৮),অজয়(২৬)

আহতদের পরিবার জানিয়েছেন আহতদের অবস্থা গুরুতর, চিকিৎসার জন্য জেলাতে নেওয়া প্রয়োজন হতে পারে।।

মেম্বার প্রার্থী নাসির অভিযোগ করে বলেন , স্থানীয় প্রশাসন অত্যন্ত দুর্বল অবস্থায় রয়েছে,মাঠ প্রশাসন নীরব দর্শকের ভূমিকা পালন করছেন, দীপক রাশি বাহিনী এরপর এক সন্ত্রাসী কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে, আমি নির্বাচন প্রতারণা চলাকালীন সময়ে অতর্কিত দীপক বাহিনীর মূল হোতা সন্ত্রাসী মাকসুদের নেতৃত্বে দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র সহ আমাকেও আমার তুই ছেলের উপর হামলা চালান।। এতে করে আমিও আমার ছোট ছেলে আমিন গুরুতর আহত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়ে রয়েছি।। মনপুরা পুলিশ প্রশাসনের নিকট আমি অভিযোগ করেছি।ওসি মনপুরা এখন পর্যন্ত কোনো ব্যবস্থা গ্রহণ করেন নাই। তিনি আরো বলেন সন্ত্রাসী ফারুক ফরাজী, ইলিয়াছ চৌধূরী, ইলিয়াস ফরাজী, ফুহাদ আওলাদ মাতাব্বর, মনির ফরাজী, খোকন পর এক নানা সন্ত্রাসী কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছেন।

চেয়ারম্যান প্রার্থী নুরুল ইসলাম অভিযোগ করে বলেন নির্বাচনকে বানচাল করার জন্য একের পর এক সন্ত্রাসী কার্যক্রম চালিয়ে গেলেও ওসি মনপুরা এখন পর্যন্ত কোন ধরনের ব্যবস্থা গ্রহণ করতে পারে নাই, চিরে যদি সন্ত্রাসীদের দমন না করা হয় তাহলে নির্বাচন হবে মনপুরা হবে ঝুঁকিপূর্ণ, নির্বাচনে মাঠ প্রশাসন নিয়ন্ত্রনহীন হয়ে পড়বেন।। নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট আকিব ওসমান মাঠ প্রশাসন নিয়ন্ত্রণে কাজ করলেও এখন পর্যন্ত মনপুরা মাঠ নিয়ন্ত্রণে আনতে পরিপূর্ণ ব্যর্থ হয়েছেন।।

অপর চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী নিজাম উদ্দিন হাওলাদার অভিযোগ করে বলেন পরোক্ষভাবে প্রত্যক্ষভাবে দীপক বাহিনী এ ধরনের ঘটনা চলেছেন, অতর্কিত হামলা, চোরাগুপ্তা হামলা সহ নানা ধরনের কর্মের সাথে পার্থী শাহরিয়া দীপক সরাসরি জড়িত রয়েছেন।।

মুঠোফোনে প্রার্থী শাহরিয়ার চৌধুরী দীপক এর নিকট জানতে চাইলে তিনি সাংবাদিক পরিচয় পেয়ে ব্যস্ততা দেখিয়ে ফোন কাটিয়ে দেন।

বিষয়টি নিয়ে ওসি মনপুরা কে বারবার ফোন করলেও এখন এখন পর্যন্ত মুঠোফোনে পাওয়া যায়নি।।

বিষয়টি নিয়ে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট হাকিম ওসমান এর সাথে কথা বললে তিনি বলেন আমি অতি দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণ করছি, মনপুরাকে মামলা গ্রহণের জন্য নির্দেশ প্রদান করেছি।। অচিরেই মনপুরায় মাঠ প্রশাসন নিয়ন্ত্রণে আনাতে আমি নিরস কাজ করছি।।

উল্লেখ্য এই যে মনপুরা উপজেলা একের পর এক আচরণবিধি লঙ্ঘন করায় প্রার্থী শাহরিয়ার দীপক বিরুদ্ধে শাহরিয়ার বিরুদ্ধে আচরণবিধি লঙ্ঘনের লিখিত অভিযোগ হয়েছে যা পত্র-পত্রিকা ও গণমাধ্যমে বেশ কয়েকবার প্রকাশিত হয়েছে।। আজকের চোরাগুপ্তা হামলা সহ নানা অতর্কিত সন্ত্রাসী হামলার বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়েছে।।। কোন পর্যন্ত কোনো আসামিকে গ্রেপ্তার করতে মনপুরা থানা সম্পূর্ণ ব্যর্থ হয়েছেন।।

আসছে বিস্তারিত……. সাথে থাকুন

ভোলার মনপুরায় নির্বাচনী মাঠে জনআতঙ্ক, দীপক বাহিনীর হাতে আহত ৫

এস এম খলিলুর রহমান
ব্যুরো চীফ হবিগঞ্জ জেলা ॥

নবীগঞ্জ পৌর এলাকার গয়াহরি গ্রামে নিরীহ ব্যক্তি বিজিত দাশ মেটনের উপর সন্ত্রাসী হামলার দায়েরী মামলার অন্যতম আসামী কাউন্সিলর যুবরাজ গোপসহ অপর আসামীদের গ্রেফতার না করায় পুলিশের বিরুদ্ধে অভিযোগ করেছেন বাদিনী সুপ্রিয়া রানী দাশ। শনিবার (১২ জুন) সকালে নবীগঞ্জ প্রেসক্লাব কার্যালয়ে অনুষ্টিত সাংবাদিক সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে সুপ্রিয়া রানী দাশ বলেন, গেল পৌর নির্বাচনকে কেন্দ্র করে কাউন্সিলর যুবরাজ গোপ তার পরিবারের উপর ক্ষিপ্ত হন। এরজের ধরে বিগত ২৬ এপ্রিল সন্ধ্যায় নবীগঞ্জ পৌরসভার ৪নং ওয়ার্ডস্থ গয়াহরি গ্রামে জ্যোতিষ দাশের বাড়ি সামনে রাস্তার উপর পেয়ে আমার স্বামী বিজিত দাশ মেটনকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে ক্ষতবিক্ষত করেন আমাদের ওয়ার্ড কাউন্সিলর যুবরাজ গোপ, জ্যোতিষ দাশ, সীমা রানী দাশ, উৎফল দাশ ও লিপ্টু দাশসহ একদল লোক। তাদের ধারালো অস্ত্রের আঘাতে আমার স্বামী গুরুতর আহত হয়ে সিলেট ও ঢাকা হাসপাতালে চিকিৎসা গ্রহন করি। আমার স্বামী আহত হয়ে মৃত্যুর সাথে পাঞ্জা লড়ছিল। পুলিশ ঘটনার খবর পেয়ে আমার স্বামীর রক্তাক্ত অবস্থা দেখে তাৎক্ষনিকভাবে জ্যোতিষ দাশকে গ্রেফতার করে। পরে ৫৪ ধারায় জেল হাজতে প্রেরন করে পুলিশ। এ ব্যাপারে আমি নবীগঞ্জ থানায় মামলা নিয়ে গেলে পুলিশ আদালতের আশ্রয় নিতে পরামর্শ দেন। পরবর্তীতে আমি বাদী হয়ে হবিগঞ্জ আদালতে উল্লেখিত দুর্বৃত্তদের আসামী করে মামলা দায়ের করি। মামলাটি আদালতের নির্দেশে এফআইআর হিসেবে নবীগঞ্জ থানায় রুজু হয়। মামলা রুজু হলেও মামলার অন্যতম আসামী যুবরাজ গোপসহ অপরাপর আসামীদেরকে পুলিশ গ্রেফতার করতে পারেনি। অথচ যুবরাজ গোপ প্রকাশ্যে নবীগঞ্জ শহরে ও বাড়িতে ঘুরে বেড়াচ্ছে। আমি অসহায় একজন মহিলা, মামলার তদন্ত কর্মকর্তা এসআই লুৎফুর রহমানকে বারবার তাগিদ দেয়া সত্ত্বেও আসামী গ্রেফতার করিতে তিনি গড়িমশি করছেন। এদিকে আমার স্বামীর বর্তমান শারীরিক অবস্থা এখন পর্যন্ত ভাল নয়। বিছানায় শয্যাসায়ী আছেন। দারিদ্রতার কারনে আমার স্বামীর চিকিৎসা করাইতে গিয়ে ইতিমধ্যে ভিটে বাড়ি বিক্রি করতে হয়েছে। সামাজিক বিচার থেকে বঞ্চিত হয়ে আইনের আশ্রয় নিয়েও আমাদের এত বিড়ম্বনা পোহাতে হবে, তা জানা ছিলনা।
বর্তমানে আমার আহত স্বামী বিজিত দাশ কথা বার্তা বলতে পারছেন না, বাম চোখেঁ দেখতেও পান না। ঘটনাটি এলাকার সকল মানূষ অবগত রয়েছেন।
ন্যায় বিচারের স্বার্থে আমার দায়েরী মামলার অন্যতম আসামী যুবরাজ গোপসহ অপর আসামীদের গ্রেফতার পুর্বক আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহনের জন্য সাংবাদিকদের মাধ্যমে পুলিশের উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করছি।

নবীগঞ্জে আসামী গ্রেফতার না করায় পুলিশের বিরুদ্ধে বাদিনীর সংবাদ সম্মেলন

error: আপনি নিউজ চুরি করার চেষ্টা করছেন। বিশেষ প্রয়োজনে যোগাযোগ করুন ০১৭৬৭৪৪৪৩৩৩