অভিবাসীবিরোধী অভিযানের জেরে বিক্ষোভে উত্তাল যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়া অঙ্গরাজ্যের লস অ্যাঞ্জেলেসে ৭০০ মেরিন সেনা মোতায়েন করা হয়েছে। বিক্ষোভ ঠেকাতে অন্যান্য বাহিনীকে সহায়তা করতে তাদের মোতায়েন করা হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনী এক বিবৃতিতে বিষয়টি নিশ্চিত করেছে।বিবৃতিতে বলা হয়েছে, লস অ্যাঞ্জেলেসের বিস্তৃত এলাকায় ফেডারেল কর্মী ও ফেডারেল সম্পত্তির সুরক্ষা নিশ্চিত করতে মাঠপর্যায়ে যেসব বাহিনী কাজ করছে মেরিন সেনারা তাদের সঙ্গে কাজ করবে। ওই এলাকায় নজরদারি অব্যাহত রাখতে পর্যাপ্ত সংখ্যক বাহিনী সরবরাহের জন্য তাদের মোতায়েন করা হয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনীর বিবৃতিতে আরও জানানো হয়েছে, টাস্ক ফোর্স ৫১–এর মধ্যে ২ হাজার ১০০ ন্যাশনাল গার্ড সদস্য এবং ৭০০ মেরিন সেনা রয়েছেন। তারা উত্তেজনা প্রশমন, জনসমাগম নিয়ন্ত্রণ এবং বলপ্রয়োগের নিয়ম সম্পর্কে প্রশিকক্ষণপ্রাপ্ত।
এ সিদ্ধান্তের নিন্দা জানিয়েছেন ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম। তিনি লস অ্যাঞ্জেলেস এলাকায় মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের মেরিন সেনা মোতায়েনের সিদ্ধান্তকে ‘অযৌক্তিক’ বলে অভিহিত করেছেন।গ্যাভিন নিউসম আরও বলেন, ‘তারা (মেরিন সেনারা) আমাদের বীর। একজন একনায়কোচিত প্রেসিডেন্টের উন্মাদ বাস্তবতা বর্জিত ইচ্ছা পূরণের জন্য নিজের দেশের মাটিতে তাদের দেশবাসীর মুখোমুখি দাঁড় করানো উচিত নয়। এটা আমেরিকান আদর্শের পরিপন্থী।’
এদিকে সান ফ্রান্সিসকো পুলিশ রোববারের বিক্ষোভ কর্মসূচির সম্পর্কে একটি হালনাগাদ তথ্য দিয়েছে। পুলিশের ভারপ্রাপ্ত প্রধান পল ইয়েপ জানিয়েছেন, শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদ শেষ পর্যন্ত সহিংসতা ও সম্পত্তি ধ্বংসে পরিণত হয়।
পল ইয়েপ আরও জানান বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে সংঘর্ষে আহত একজন পুলিশ কর্মকর্তাকে হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছিল। তবে তিনি এখন সুস্থ হয়েছেন। বিক্ষোভ ছেড়ে যেতে অস্বীকৃতি জানানো ৬০ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
রোববার রাতভর বিভিন্ন স্থান থেকে ১৪৮ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাদের মধ্যে ছয়জন অপ্রাপ্তবয়স্ক ছিলো। ১৪৭ জনকে পরে মুক্তি দেওয়া হয়েছে। গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের অর্ধেক সান ফ্রান্সিসকোর বাসিন্দা, আর বাকি অর্ধেক শহরের বাইরের বাসিন্দা ছিলেন।লস অ্যাঞ্জেলেসের বিক্ষোভ দমনে ন্যাশনাল গার্ড মোতায়েন করাকে ‘অবৈধ’ উল্লেখ করে এর নিন্দা জানিয়েছেন এবং দ্রুত সৈন্যদের প্রত্যাহার দাবি করেছেন ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর। তিনি বলেন, ট্রাম্প প্রশাসন রাজ্যে দুই হাজার ন্যাশনাল গার্ড মোতায়েনের নির্দেশ দিয়ে ‘ক্যালিফোর্নিয়ার সার্বভৌমত্ব লঙ্ঘন’ করেছে। তিনি বলেন, ‘এটি একজন স্বৈরশাসকের কাজ, প্রেসিডেন্টের নয়।’
হোয়াইট হাউজ পাল্টা দাবি করেছে, ‘সবাই বিশৃঙ্খলা ও সহিংসতা দেখেছে।’ প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প বিক্ষোভকারীদের ‘সহিংস বিদ্রোহী গোষ্ঠী’ আখ্যা দিয়ে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন। তিনি বলেন, ‘ওরা থুথু ছিটালে, আমরা আঘাত করবো।’ তবে ‘ইনসারেকশন অ্যাক্ট’ এখনো কার্যকর করেননি তিনি।আইন বিশেষজ্ঞদের মতে, টাইটেল ১০ অনুযায়ী ন্যাশনাল গার্ডের মোতায়েনে সাধারণত গভর্নরের অনুমতি প্রয়োজন।
নিউসম বলেছেন, ট্রাম্প তার অনুমতি ছাড়াই সৈন্য মোতায়েন করেছেন, যা আইনি বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে। সূত্র: রয়টার্স
Leave a Reply