জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) ‘মার্চ টু গোপালগঞ্জ’ কর্মসূচি ঘিরে সংঘর্ষ ও সহিংসতায় নিহতের ঘটনায় ৪টি মামলা হয়েছে। গত ১৯ জুলাই রাতে পুলিশ বাদী হয়ে অজ্ঞাত ৫ হাজার ৪শ’ জনকে আসামি করে গোপালগঞ্জ সদর থানায় পৃথক ৪টি হত্যা মামলা দায়ের করেন।সংঘর্ষ ও সহিংসতায় গুলিবিদ্ধ হয়ে ৫ জন নিহত হয়। নিহতরা হলো- শহরের উদয়ন রোডের দীপ্ত সাহা (২৭), টুঙ্গিপাড়ার সোহেল রানা মোল্লা (৩০), বিসিক এলাকার রমজান কাজী (১৭), সদর উপজেলার ভেড়ার বাজার বেপারীপাড়ার ইমন তালুকদার (১৭) ও শহরের থানা পাড়ার রমজান মুন্সি (৩৫)। এর মধ্যে ১৮ জুলাই (শুক্রবার) রাত আড়াইটার দিকে গুলিবিদ্ধ রমজান মুন্সি ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যায়।
গোপালগঞ্জ সদর থানা সূত্রে যানা যায়, রমজান কাজী (১৭) নিহতের ঘটনায় অজ্ঞাতনামা ৮শ’ থেকে ৯শ’ জনকে আসামি করা হয়েছে। মামলার বাদী এসআই মো. আইয়ুব হোসেন ও তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই মুরাদ হোসেন। মামলা নং ১৭।
দিপ্ত সাহা (২৭) নিহতের ঘটনায় অজ্ঞাতনামা ১৪শ’ থেকে ১৫শ’ জনকে আসামি করা হয়েছে। মামলার বাদী এসআই শামীম হোসেন ও তদন্তকারী কর্মকর্তা নয়ন কুমার সাহা। মামলা নং ১৮।
সোহেল রানা (৩০) নিহতের ঘটনায় অজ্ঞাতনামা ১৪শ’ থেকে ১৫শ’ জনকে আসামি করা হয়েছে। মামলার বাদী এসআই আবুল কালাম আজাদ ও তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই শফিকুল ইসলাম। মামলা নং ১৯।
ইমন তালুকদার (১৭) নিহতের ঘটনায় অজ্ঞাতনামা ১৪শ’ থেকে ১৫শ’ জনকে আসামি করা হয়েছে। মামলার বাদী এসআই শেখ মিজানুর রহমান ও তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই শহিদুল ইসলাম। মামলা নং ২০।
এই চারটি মামলার মধ্যে একটি মামলায় অজ্ঞাত ৮শ’-৯শ’ জনকে আসামি করা হয়েছে। এছাড়া বাকি তিনটি মামলায় প্রত্যেকটিতে অজ্ঞাত ১৪শ’-১৫শ’ জনকে আসামি করা হয়েছে। চারটি হত্যা মামলায় মোট আসামির সংখ্যা হলো ৫ হাজার ৪শ’ জন।
গোপালগঞ্জ সদর থানার অফিসার ইনচার্জ মির মোহাম্মদ সাজেদুর রহমান মামলার বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, মামলার তদন্তের স্বার্থে প্রয়োজন হলে নিহতদের লাশ উত্তোলন করে ময়নাতদন্ত করা হবে।
এছাড়াও শনিবার রাতে অভিযান চালিয়ে বিভিন্ন মামলায় গোপালগঞ্জ সদর থানা পুলিশ ৯ জন ও কোটালীপাড়া থানা ৬ জনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। রোববার আদালতের মাধ্যমে গ্রেপ্তারকৃতদের জেল হাজতে পাঠানো হয়। এ পর্যন্ত জেলায় মোট গ্রেপ্তারের সংখ্যা ৩২১।
এদিকে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) ‘মার্চ টু গোপালগঞ্জ’ কর্মসূচিকে ঘিরে সংঘর্ষ ও সহিংসতায় গাড়ি ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ, গাছ ফেলে সড়ক অবরোধের ঘটনায় এ পর্যন্ত ৪টি মামলা হয়েছে। এসব মামলায় মোট আসামি ৩ হাজার ৮ জন। এরমধ্যে এজাহারনামীয় আসামি ৩৫৮ জন। মোট মামলার সংখ্যা দাড়ালো ৮-এ গিয়ে। মামলায় মোট এজাহারনামীয় আসামি ৩৫৮ জনএবং অজ্ঞাতনামা আসামি ৭ হাজার ৭শ’ ৬০ জন।
Leave a Reply