চুলার শিখার চেয়ে দ্বিগুণ ভয়াবহ জেট ফুয়েলের আগুন, পানিতে আরও বাড়ে
চুলার শিখার চেয়ে দ্বিগুণ ভয়াবহ জেট ফুয়েলের আগুন, পানিতে আরও বাড়ে

চুলার শিখার চেয়ে দ্বিগুণ ভয়াবহ জেট ফুয়েলের আগুন, পানিতে আরও বাড়ে

বিশ্বজুড়ে প্রতিদিন হাজার হাজার যাত্রীবাহী ও কার্গো বিমান উড়ে বেড়াচ্ছে আকাশে। অথচ এই বিশাল আকাশ পরিবহন ব্যবস্থার প্রাণশক্তি ‘জেট ফুয়েল’ সম্পর্কে সাধারণ মানুষের ধারণা এখনো সীমিত। তেলের বাজারে ব্রেন্ট বা ক্রুড নিয়ে আলোচনা যতটা হয়, জেট ফুয়েল নিয়ে হয় না তেমনটি, অথচ এই জ্বালানিই আধুনিক বিমানচালনার অপরিহার্য ভিত্তি। আজ আমরা এই জ্বালানি সম্পর্কে বিস্তারিত জানার চেষ্টা করবো।জেট ফুয়েল কী:

 

জেট ফুয়েল এক ধরনের বিশেষায়িত তরল হাইড্রোকার্বনভিত্তিক জ্বালানি। যা মূলত জেট ইঞ্জিন ও গ্যাস টারবাইন ইঞ্জিনসমৃদ্ধ বিমানে ব্যবহৃত হয়। সাধারণত এটি উচ্চ তাপমাত্রা ও নিম্ন তাপমাত্রা উভয়ই সহ্য করতে সক্ষম, দাহ্য হলেও তুলনামূলকভাবে নিরাপদ ও কম সালফারযুক্ত।

 

বাণিজ্যিকভাবে ব্যবহৃত জেট ফুয়েলের সবচেয়ে প্রচলিত রূপ হলো জেট এ-১। যা আন্তর্জাতিকভাবে বেসামরিক বিমান পরিবহন খাতে ব্যবহৃত হয়। সামরিক খাতে ব্যবহারের জন্য জেপি-৪, জেপি-৫, জেপি-৭ ও জেপি-৮ নামে কিছু ভিন্ন মানের জেট ফুয়েল ব্যবহৃত হয়।

 

জেট ফুয়েলের রাসায়নিক প্রকৃতি:

 

জেট ফুয়েল মূলত কেরোসিন ফ্র্যাকশন থেকে উৎপাদিত হয়। অর্থাৎ এই জ্বালানি মূলত কেরোসিনের পরিশোধিত রূপ। এর গঠন অনেকটা ডিজেল ও কেরোসিনের মাঝামাঝি।

 

ফ্ল্যাশ পয়েন্ট বা জ্বলার জন্য প্রয়োজনীয় তাপমাত্রা:

 

জেট ফুয়েল জ্বলার জন্য প্রয়োজন হয় একটি নির্দিষ্ট তাপমাত্রা। সাধারণত জেট এ ও জেট এ-১ ফুয়েলের ফ্ল্যাশ পয়েন্ট প্রায় ২৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস বা ১০০ ফারেনহাইটের মতো। অর্থাৎ, এই তাপমাত্রার নিচে এটি নিজে নিজে বাষ্প হয়ে জ্বলবে না।

 

ফ্রিজিং পয়েন্ট বা জমে যায় যে তাপমাত্রায়:

 

জেট এ ফুয়েলের ফ্রিজিং পয়েন্ট হলো প্রায় মাইনাস ৪০ ডিগ্রি সেলসিয়াস ও জেট এ-১ ফুয়েলের ফ্রিজিং পয়েন্ট হলো প্রায় মাইনাস ৪৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস। এই বৈশিষ্ট্যের জন্যই জেট ফুয়েল দীর্ঘসময় উচ্চতাপ ও নিম্নতাপে উড়ন্ত অবস্থায় স্থিতিশীল থাকে।

 

সাধারণ চুলার আগুন ও জেট ফুয়েলের আগুনের মধ্যে পার্থক্য:

 

এলপিজি বা প্রাকৃতিক গ্যাসের শিখার তাপমাত্রা সাধারণত ১০০-১২০০ ডিগ্রি সেলসিয়াস পর্যন্ত হতে পারে। আবার কাঠ বা কয়লার আগুনের তাপমাত্রা ৬০০-১০০০ ডিগ্রি সেলসিয়াসের মধ্যে থাকে। কিন্তু জেট ফুয়েলের শিখা খোলা পরিবেশে ১৫০০-২০০০ ডিগ্রি সেলসিয়াস পর্যন্ত তাপমাত্রা উৎপন্ন করতে পারে। অর্থাৎ সাধারণ আগুনের তুলনায় জেট ফুয়েলের আগুনের তাপমাত্রা দ্বিগুণ হয়।

 

জেট ফুয়েলের আগুন নেভানোর উপায়:

 

১. বিশেষ ধরনের ফোম

 

একুয়াস ফিল্ম ফর্মিং ফোম বা এএফএফএফ হলো জেট ফুয়েল বা তরল হাইড্রোকার্বন আগুন নেভানোর সবচেয়ে কার্যকর উপায়। এই ফোম আগুনের ওপর এক ধরনের স্তর তৈরি করে। যা অক্সিজেন সরবরাহ বন্ধ করে দেয় ও আগুনের উপরিভাগ ঠান্ডা করে। সেই সঙ্গে এটি জ্বালানি ও বাষ্পের সংস্পর্শ রোধ করে পুনরায় জ্বলার সম্ভাবনা কমায়।

 

২. শুকনো রাসায়নিক পাউডার

 

বেশ কিছু ধরনের আগুন নেভানোর পাউডার রয়েছে। যেমন- মনোঅ্যামোনিয়াম ফসফেট বা সোডিয়াম বাইকার্বোনেট জেট ফুয়েলের আগুন দমনে কার্যকর। এগুলো আগুনের রাসায়নিক বিক্রিয়া থামিয়ে দেয় ও দ্রুত ছড়িয়ে পড়া ঠেকাতে সহায়তা করে। তবে এগুলো সাধারণত ছোট বা প্রাথমিক আগুনে বেশি ব্যবহৃত হয়।

 

৩. কার্বন ডাই-অক্সাইড

 

কার্বন ডাই-অক্সাইড আগুনের স্থান থেকে অক্সিজেন সরিয়ে নেয়। ফলে আগুন দ্রুত নেভে। তবে এটি বদ্ধ জায়গায় বেশি কার্যকর। খোলা জায়গায় বা বড় অগ্নিকাণ্ডে খুব একটা কার্যকর নয়।

 

পানি ঢালা যাবে না:

 

জেট ফুয়েলে লাগা আগুন নেভাতে কোনোভাবেই পানি ব্যবহার করা যাবে না। পানি ঢাললে এই জ্বালানির আগুন আরও ছড়িয়ে পড়তে পারে, কারণ জেট ফুয়েল পানির চেয়ে হালকা ও পানির সাথে মেশে না। ফলে, পানি দিলে ফুয়েল ছড়িয়ে গিয়ে আগুন আরও বাড়বে।

 

পানি দিয়ে আগুন নেভানোর চেষ্টা করলে জ্বালানির উপরে ভেসে থাকা আগুন আরও ছড়িয়ে পড়বে। বিশেষ করে রানওয়ে বা খোলা জায়গায়।

 

জেট ফুয়েল অগ্নিকাণ্ডে করণীয়:

 

দ্রুত ঘটনাস্থল ঘিরে ফেলা ও ফুয়েলের বিস্তার রোধ করতে হবে।

 

ফুয়েল পাইপলাইন বা ট্যাঙ্ক থেকে ফুয়েল প্রবাহ বন্ধ করে দিতে হবে।

 

ফোম সাপ্লাইসহ বিশেষ ফায়ার টেন্ডারের ব্যবস্থা রাখা।

 

জেট ফুয়েলের উৎপাদন:

 

এই জ্বালানি উৎপাদনের প্রক্রিয়াটি বেশ জটিল এবং শুরু হয় ক্রুড অয়েল দিয়ে। যা সাধারণত সমুদ্রের তলদেশ বা ভূগর্ভ থেকে সংগ্রহ করা হয়। ক্রুড অয়েলকে পাতন কলামে গরম করা হয়, যেখানে এটি বিভিন্ন উপাদানে বিভক্ত হয়। কেরোসিন, যা জেট ফুয়েলের প্রধান উপাদান, মাঝারি তাপমাত্রায় (১৫০-২৭৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস) পৃথক হয়। এরপরে কেরোসিনকে আরও পরিশোধন করে সালফার ও অন্যান্য অপ্রয়োজনীয় উপাদান অপসারণ করা হয়।

 

সবশেষে পরিশোধিত কেরোসিনে বিভিন্ন সংযোজন মেশানো হয় যাতে এটি জেট ফুয়েলের আন্তর্জাতিক মান পূরণ করে। এই সংযোজনগুলো জ্বালানির স্থায়িত্ব, নিরাপত্তা ও কার্যকারিতা বাড়ায়। উৎপাদিত জেট ফুয়েল কঠোর মান নিয়ন্ত্রণ পরীক্ষার মধ্য দিয়ে যায় এবং তারপর পাইপলাইন, ট্যাঙ্কার বা অন্যান্য মাধ্যমে বিমানবন্দরে সরবরাহ করা হয়।

বিশ্বের প্রধান জেট ফুয়েল রপ্তানিকারক দেশ:

যুক্তরাষ্ট্র, রাশিয়া, সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাত ও ভারত (রিলায়েন্স রিফাইনারি)

বাংলাদেশের বেসরকারি ও সরকারি বিমানের জন্য ব্যবহৃত জেট ফুয়েল প্রধানত আমদানি করা হয় ও বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশনের (বিপিসি) এর মাধ্যমে সংরক্ষণ ও বিতরণ করা হয়।

 

 

 


Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

‎বাংলাদেশ তরুণ কলাম লেখক ফোরাম, গোপালগঞ্জ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (গোবিপ্রবি) শাখার ২০২৫-২৬ কার্যবর্ষের কমিটি ঘোষণা করা হয়েছে। উক্ত কমিটিতে আইন বিভাগের শিক্ষার্থী মো. ইমন হোসেন কে  সভাপতি এবং বাংলা বিভাগের শিক্ষার্থী জান্নাতি খাতুন কে সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত করা হয়েছে।

সোমবার (১৩ অক্টোবর) বাংলাদেশ তরুণ কলাম লেখক ফোরামের কেন্দ্রীয় সভাপতি মুহম্মদ সজীব প্রধান ও সাধারণ সম্পাদক মো. আবদুর রহিম স্বাক্ষরিত বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়। ‎বিজ্ঞপ্তিতে নতুন সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদককে আগামী সাত কর্মদিবসের মধ্যে পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠন করে
কেন্দ্রীয় দপ্তর সেলে জমা দিতে বলা হয়েছে।

‎নব-নির্বাচিত কমিটির সভাপতি মো. ইমন হোসেন বলেন,”এই দায়িত্ব আমার কাছে কেবল একটি পদ নয়- এটি একটি দায়িত্বের প্রতিজ্ঞা। আমি বিশ্বাস করি, প্রতিটি তরুণ লেখকের কলমে লুকিয়ে আছে পরিবর্তনের শক্তি, জাগরণের আগুন, আর ভবিষ্যতের প্রতিশ্রুতি। আমি চাই তরুণ কলাম লেখকদের কলম হোক হাতিয়ার – স্বপ্নের,সাফল্যের, প্রতিবাদেরও, যেখানে শব্দ জন্ম দেবে চিন্তার, আর চিন্তা জাগাবে মানবতা। আমাদের লক্ষ্য শুধু লেখা নয়—সমাজে আলোর বীজ বপন করা। আমার বিশ্বাস  তরুণ কলাম লেখক ফোরাম হবে সেই মঞ্চ, যেখানে তরুণের ভাবনা মিলবে দেশের হৃদস্পন্দনের সাথে, আর কলম হবে পরিবর্তনের পতাকা।”

সাধারণ সম্পাদক জান্নাতি খাতুন বলেন, “আলহামদুলিল্লাহ, কলমের রাজ্যে আজ নতুন সূর্যের উদয়। দায়িত্ব নয়, এটি এক বিশ্বাস—চিন্তার প্রদীপ জ্বেলে ফোরামকে স্বপ্নের চূড়ায় পৌঁছে দেওয়া।আমি প্রতিশ্রুতিবদ্ধ—প্রতিটি শব্দে জাগবে সত্য, প্রতিটি লেখায় ফুটবে প্রজ্ঞার ফুল। বাংলাদেশ তরুণ কলাম লেখক ফোরাম এখন হবে এক অগ্নিশিখা—যেখানে কলম হবে তরবারি, চিন্তা হবে বিপ্লবের অঙ্গীকার”।

প্রসঙ্গত, ‘সুপ্ত প্রতিভা বিকশিত হোক লেখনীর ধারায়’ প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে ২০১৮ সালের ২৩ জুলাই যাত্রা শুরু করে বাংলাদেশ তরুণ কলাম লেখক ফোরাম। তরুণ লেখকদের পরামর্শ দেওয়া, পত্রিকায় লেখা প্রকাশে সহযোগিতাসহ লেখালেখি বিষয়ক সভা, সেমিনার এবং কর্মশালার আয়োজন করে থাকে সংগঠনটি।

বাংলাদেশ তরুণ কলাম লেখক ফোরাম, গোবিপ্রবি শাখার নেতৃত্বে ইমন-জান্নাতি

 

মেহেদী হাসান:

শ্যামনগরে Hutch Bangladesh এর উদ্যোগে এক বিশেষ সেমিনার এর আয়োজন  সম্পন্ন হয়েছে।

১০ই অক্টোবর রোজ শুক্রবার বিকাল ৩ ঘটিকায় ঐতিহ্যবাহী নকিপুর জমিদার বাড়ি মাঠ প্রাঙ্গণে Hutch Bangladesh এর উদ্যোগে, এলাকার সাধারণ কৃষকদের বোরো ধানসহ অন্যান্য ফসল চাষাবাদের জন্য এক সেমিনারের আয়োজন করা হয়।

 

উক্ত সেমিনারে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন শ্যামনগরের কৃতি সন্তান, খুলনা কৃষ ইনস্টিটিউট দৌলতপুরের অধ্যক্ষ কৃষিবিদ জনাব এস এম ফেরদৌস হোসেন। উক্ত অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথী ছিলেন বাংলাদেশ এগ্রিকালচারাল ডেভেলপমেন্ট করপোরেশনের নির্বাহী প্রকৌশলী জনাব মোঃ জামাল ফারুক।উক্ত অনুষ্ঠানে আরো উপস্থিত ছিলেন জনাব শেখ সাখাওয়াত হোসেন উপজেলা কৃষি অফিসার ফকিরহাট। উক্ত অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন শ্যামনগরের সুযোগ্য কৃষি অফিসার জনাব নাজমুল হুদা এবং উক্ত অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন জামায়াত ইসলামী বাংলাদেশ, শ্যামনগর উপজেলা শাখার অন্যতম নেতা জনাব হাজী আশরাফুজ্জামান। উক্ত অনুষ্ঠান সাফল্যমন্ডিত করার জন্য সার্বিক সহযোগিতায় ছিলেন শ্যামনগরের কৃতি সন্তান, প্রাচ্যের অক্সফোর্ড খ্যাত ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাক্তন কৃতি ছাত্র শেখ সিরাজুল ইসলাম মিলন।অনুষ্ঠানটিতে আরো উপস্থিত ছিলেন, শ্যামনগর উপজেলা প্রেসক্লাবের সভাপতি, প্রভাষক সামিউল ইমাম আজম মনির, নকিপুর পাইলট মাধ্যমিক বালিকা বিদ্যালয়ের অবসরপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক বাবু কৃষ্ণান্দ মুখার্জী, বিশিষ্ট ক্রিড়া সংগঠক এ মাজিজুল হক, বাবু রনজিত দেবনাথ, শেখ মেহেদী হাসান, এস এম তরিকুল ইসলাম সহ এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ।

 

উক্ত অনুষ্ঠানে, বক্তারা বলেন এলাকার একমাত্র মিষ্টি পানির খালটি সাধারণ কৃষকদের বোরো মৌসুমে সেচের জন্য একমাত্র উপায়। কিন্তু কিছু প্রভাবশালী স্বার্থন্বেষী মানুষ তাদের ব্যক্তি স্বার্থ চরিতার্থের নিমিত্তে এই খালটি নেট পাটা দিয়ে লোনা পানির প্রবাহ নিশ্চিত করে খালটিতে চিংড়ি চাষ অব্যাহত রেখেছে। যাহার ফলে ৬০০-৭০০ জমিতে বোরো ধান চাষে আগ্রহী কৃষকরা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। অনুষ্ঠানে সাধারণ কৃষকদের দাবি অনতিবিলম্বে খালটি অবমুক্ত করা সহ খালটিতে মিষ্টি পানির প্রবাহ নিশ্চিত করতে হবে। না হলে,দেশের কৃষি খাত মারাত্মক ভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবে।

শ্যামনগরে Hutch Bangladesh এর উদ্যোগে সেমিনার অনুষ্ঠিত  

 

গোবিপ্রবি প্রতিনিধি:
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের নির্বাচনে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রশিবিরের সভাপতির প্রার্থীতার বিরুদ্ধে রিট আবেদনকারী নারী শিক্ষার্থীকে শিবির নেতা কর্তৃক প্রকাশ্যে গণধর্ষণের হুমকি, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রদল নেত্রীদের হেনস্থা এবং শিবিরের নেতাকর্মীদের দ্বারা সারাদেশে নারী শিক্ষার্থীদের লক্ষ্য করে অব্যাহত সাইবার বুলিংয়ের প্রতিবাদে বিক্ষোভ মিছিল করেছে গোপালগঞ্জ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (গোবিপ্রবি) ছাত্রদল।
মঙ্গলবার (২ সেপ্টেম্বর) দুপুরে ছাত্রদলের সভাপতি দুর্জয় শুভ ও সাধারণ সম্পাদক আমিনুল ইসলাম বিদ্যুতের নেতৃত্বে বিশ্ববিদ্যালয়ের  লিপুস ক্যান্টিন থেকে বিক্ষোভ  মিছিল  শুরু হয়ে ক্যাম্পাসের প্রশাসনিক ভবনের সামনে নেতাকর্মীদের বক্তৃতার মাধ্যমে বিক্ষোভ মিছিল কর্মসূচী শেষ হয়। বিক্ষোভ মিছিলে আনুমানিক হাজারের অধিক নেতাকর্মীর উপস্থিতি দেখ যায়।
এসময়  বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলের  সিনিয়র সহ-সভাপতি রাকিবুল ইসলাম,  সিনিয়র যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক শাহরিয়ার গালিব, সাংগঠনিক সম্পাদক ফারুক খন্দকার,   যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মোঃ শাহাজান ইসলাম, মাসুদ রানা, আরিফুল ইসলাম, নূরজামাল, আল রোহান, বাতেন সরকার, শফিকুল ইসলাম, জাহিদ কামাল,  দপ্তর সম্পাদক তর্কি ইয়াছির,  সহ সকল  পর্যায়ের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।
বিক্ষোভ মিছিলে স্লোগান দেয়, ❝নারী অধিকার রক্ষা করতে, ছাত্রদল সজাগ থাকবে। দিল্লি গেছে স্বৈরাচার, পিন্ডি যাবে রাজাকার। শিবির আর স্বৈরাচার, মিলেমিশে একাকার। নারী হেনস্থার আস্তানা, এ বাংলায় হবে না।❞
বিক্ষোভ মিছিল শেষে ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক আমিনুল ইসলাম বিদ্যুৎ বলেন, নারীদের অধিকার নিয়ে কথা বলে যে সংগঠন, তা জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল। কিন্তু আমরা দেখতে পাচ্ছি ৫ আগস্টের পর একটি গুপ্ত সংগঠনের আবির্ভাব হয়েছে, যারা গত ১৭ বছর স্বৈরাচারের সাথে মিলিত হয়ে কাজ চালিয়েছে। সেই কারণে তারা তাদের কমিটি প্রকাশ করে না। বর্তমানে তারা সাইবার ক্রাইমের মাধ্যমে নারীদের হেনস্তা করছে এবং গুপ্তভাবে নিজেদের উদ্দেশ্য হাসিল করার চেষ্টা করছে। আমি স্পষ্টভাবে জানিয়ে দিতে চাই, জামাত-শিবির গুপ্তভাবে রাজনীতি করে তাদের ফায়দা হাসিল করতে পারবে না।
ছাত্রদলের সভাপতি দুর্জয় শুভ বলেন, পরিচয় গোপন করে এমন চরিত্রহীনা রাজনীতি বন্ধ করার আহ্বান থাকবে আপনাদের প্রতি (গুপ্ত বাহিনীর)। পাশাপাশি, যারা বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ (৭১) বিশ্বাস করে না, তারা বাংলাদেশে রাজনীতি করতে পারে না। আপনারা গুপ্তভাবে রাজনীতি করবেন না, প্রকাশ্যে আসুন। আপনাদের বিরুদ্ধে কেউ কথা বললেও আপনারা ফেক আইডি দিয়ে প্রতিহত করেন। এই ফেক আইডির রাজনীতি বন্ধ করতে হবে। আমি ছাত্রদলের রাজনীতি করি, আমার পরিচয় আছে। আপনিও রাজনীতি করলে আপনার পরিচয় প্রকাশ্যে আনুন। আমরা সবাই ২৪ জুলাইয়ের আন্দোলনে একসাথে কাজ করেছি। আবার একসাথে থেকে আগামী বাংলাদেশ গড়ব। তবে আপনাদের প্রতি একটা অনুরোধ রাখবো, সাইবার বুলিং ও অনলাইন রাজনীতি থেকে সরে আসুন।

নারী নিপীড়নের গোবিপ্রবি ছাত্রদলের বিক্ষোভ 

র‌্যাবের চৌকস অভিযানে জীপসহ প্রায় ১১ হাজার ইয়াবার চালান আটক

জামালপুর হামলা পাল্টা হামলার মধ্য দিয়ে জেলার সানন্দবাড়ী তে থমথমে অবস্থা বিরাজমান।

error: আপনি নিউজ চুরি করার চেষ্টা করছেন। বিশেষ প্রয়োজনে যোগাযোগ করুন ০১৭৬৭৪৪৪৩৩৩
%d