মনপুরা প্রতিনিধিঃ-ভোলার মনপুরা উপজেলায় সরকারি পরিবার পরিকল্পনা কার্যালয় নিয়মিত বন্ধ থাকে এমন অভিযোগ সোশ্যাল মিডিয়ায় উত্থাপিত হয়। ঘটনাটি অনুসন্ধানে আজ সংবাদ কর্মীরা মাঠে নামে এবং সত্যতা পায়। অনুসন্ধানে দেখা যায়আজ ৮ ডিসেম্বর ২০২৫ বেলা ১১ টায় মনপুরা উপজেলা পরিবার পরিকল্পনা কার্যালয়টি সম্পূর্ণ বন্ধ ও তালাবদ্ধ। স্থানীয় বেশ কয়েকজন পথচারী জানান, নিয়মিত কর্মস্থলে কেউ থাকেন না, মাঝেমধ্যে দু একজন কর্মকর্তা আসেন এবং তখন তারা অফিসের মধ্যেই থাকেন।
বিষয়টি নিয়ে উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডাঃ কবির সোহেলের নিকট জানতে চাইলে তিনি জানান, মনপুরা পরিবার পরিকল্পনা বিভাগ দেখার জন্য আলাদা কর্মকর্তা রয়েছে। আপনারা বিষয়টি ঊর্ধ্বতন অফিসকে জানান।
তবে অফিস বন্ধ থাকায় অফিসের মধ্যে বসবাসের তথ্যটি অনুসন্ধান করা যায়নি।বিষয়টি নিয়ে উক্ত অফিসের অফিস সহকারী শাহাবুদ্দিনের সাথে মুঠো ফোনে যোগাযোগ করলে তিনি বলেন, মনপুরা আমার মূল দায়িত্ব তবে আমি আজ লালমোহন উপজেলা এখানে আমার অতিরিক্ত দায়িত্ব। পরবর্তীতে লালমোহন উপজেলা পরিবার পরিকল্পনা অফিসে খোঁজ নিয়ে জানা যায়, অফিস সহকারী শাহাবুদ্দিন লালমোহন অফিসেও উপস্থিত নেই। মূলত অফিস সহকারী শাহাবুদ্দিন অতিরিক্ত দায়িত্বের অজুহাতে তার নিজ বাড়ি লালমোহন উপজেলায় নিয়মিত অবস্থান করছেন এবং এভাবেই নিয়মিত কর্মস্থল ফাঁকে দেওয়া অভিযোগ রয়েছে উক্ত অফিসের বিরুদ্ধে । এছাড়া আরোও অভিযোগ রয়েছে অন্যান্য কর্মকর্তা কর্মচারীরাও কেউ উক্ত অফিসে নিয়মিত আসেন না, শুধুমাত্র মাসে একবার এসে হাজিরা খাতায় স্বাক্ষর দিয়ে বেতন তুলে নিয়ে যান।এ বিষয়টি নিয়ে ঊর্ধ্বতন অফিসগুলোর নেই কোন যথাযথ মনিটরিং। এছাড়াও আজ উক্ত উপজেলা পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা মোঃ মফিজুল ইসলাম, অফিস স্টাফ রুনা ও এনায়েত হোসেন কেউ বারবার মুঠোফোনের চেষ্টা করেও পাওয়া যায়নি।এমনকি আরো জানাযায়, উক্ত অফিসে দুইজন মাঠ সুপারভাইজার রয়েছে এবং ৫ জন পরিবার পরিকল্পনা মাঠকর্মী কেউ আসেন না উক্ত অফিসে। উক্ত বিষয়ে দুজন মাঠ সুপারভাইজারকে ( মোঃ রুবেল ও মোঃ মনির হোসেন) মুঠো ফোনে বারবার চেষ্টা করে পাওয়া যায়নি।তবে বিষয়টি নিয়ে জেলা পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা মোঃ মনিরুজ্জামান জানান, আমি এ বিষয়ে কিছু জানি না, অফিসে ঘুমানো বা বসবাসের কোন বিধান নেই,অফিস বন্ধ রাখা বিষয়ে আমি ব্যবস্থা নিবো।
তবে বিষয়টিকে পরিবার পরিকল্পনা অধিদপ্তরের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের দায়িত্ব অবহেলা হিসেবে দেখছে সচেতন মহল।
চলছে আমাদের অনুসন্ধান, আসছে বিস্তারিত ২য় পর্বে।
Leave a Reply