নিজস্ব প্রতিবেদক
জামালপুরের মাদারগঞ্জে মাসুদ প্রামাণিক হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় সহবাসী রুবেল প্রামাণিকের বক্তব্য ঘিরে একাধিক প্রশ্ন ও অসংগতি উঠে এসেছে। তার বয়ানে থাকা স্ববিরোধ ও অদ্ভুত বিবরণ তদন্তকারীদের পাশাপাশি সাধারণ মানুষের মাঝেও সন্দেহ তৈরি করেছে।
রুবেল দাবি করেছেন, তিনি রাত ১১:৩০টার দিকে ঘুমিয়ে পড়েন এবং হামলার সময় ছিল ভোর ৩:০০টা। তবে প্রশ্ন হচ্ছে, তিনি যদি সত্যিই ঘুমন্ত অবস্থায় আক্রান্ত হয়ে অজ্ঞান হয়ে যান, তবে সময়জ্ঞান তার হলো কীভাবে? ঘরে মোবাইল বা ঘড়ি না থাকলে নির্দিষ্ট সময় বলা বাস্তবসম্মত নয়।
রুবেল আরও বলেন, তার কারো সাথে শত্রুতা নেই, তবে মাসুদের থাকতে পারে। প্রশ্ন উঠেছে, তাহলে তিনি কীভাবে জানলেন যে হামলাকারীরা শুধু মাসুদকেই টার্গেট করেছিল? হামলাকারীরা কীভাবে জানলো, মাসুদ তার সাথেই ঘুমাচ্ছিল?
রুবেল বলেন, তিনি সাতজন হামলাকারীকে দেখেছেন। অথচ ঘরে আলো নিভানো ছিল বলে জানা গেছে। প্রশ্ন হলো, অন্ধকারে তিনি কীভাবে হামলাকারীদের সংখ্যা গুনলেন? এমনকি চারজন মুখোশ পরা আর তিনজন খোলা মুখে ছিল বলেও তিনি উল্লেখ করেন। এত বড় পরিকল্পিত মিশনে তিনজন কেন মুখ খোলা রাখবে? তারা কি ইচ্ছা করেই ধরা পড়তে এসেছিল?
যেসব নাম রুবেল বলেছেন, তাদের কারোর সাথেই নিহত মাসুদের বিদেশযাত্রা বা আর্থিক লেনদেনের কোনও প্রমাণ এখন পর্যন্ত পাওয়া যায়নি। তাহলে তারা কেন এত বড় ঝুঁকি নিয়ে এমন ভয়ংকর হত্যাকাণ্ডে অংশ নেবে?
রুবেল বলেছেন, তিনি চিৎকার করেননি, আবার মুখ বাঁধার কথাও বলেননি। তাহলে সে কেন কিছু বলেননি বা প্রতিরোধের চেষ্টা করেননি? একজন সুস্থ ও সচেতন ব্যক্তি স্বাভাবিকভাবে এমন পরিস্থিতিতে আত্মরক্ষার চেষ্টা করেন। এই নির্লিপ্ততা তাকে আরও সন্দেহের কেন্দ্রে নিয়ে এসেছে
স্থানীয়দের ধারণা, রুবেলের বক্তব্যে এত অসামঞ্জস্যতা রয়েছে যে, তাকে রিমান্ডে এনে জিজ্ঞাসাবাদ করলে প্রকৃত ঘটনা বেরিয়ে আসতে পারে। অনেকেই মনে করছেন, রুবেল নিজেই হয়তো এই ঘটনার কোনো না কোনোভাবে অংশ।
উল্লেখ্য, এই ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও দোষীদের বিচারের দাবিতে এলাকাবাসীর মাঝে উত্তেজনা বিরাজ করছে। সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের কাছেও দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে।
Leave a Reply