আবহাওয়া

হবিগঞ্জ সদর উপজেলার খোয়াই নদীতে দীর্ঘদিন ধরে চলা অবৈধ ড্রেজার দিয়ে বালু উত্তোলনের অভিযোগের মধ্যেই ভয়াবহ বন্যা পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে।

 

টানা বর্ষণ ও ভারতের ত্রিপুরা রাজ্য থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলের প্রবল চাপে খোয়াই নদীর তীররক্ষা বাঁধ ভেঙে এখন পর্যন্ত অন্তত ২৫টি গ্রাম প্লাবিত হয়েছে।

 

পানিবন্দি হয়ে পড়েছেন অর্ধলক্ষাধিক মানুষ। তলিয়ে গেছে অসংখ্য বসতবাড়ি, ফসলি জমি, মাছের ঘের ও গ্রামীণ সড়ক। কৃষি বিভাগের প্রাথমিক হিসাবে কৃষি খাতে প্রায় ৩০ কোটি টাকার ক্ষয়ক্ষতির আশঙ্কা করা হচ্ছে।

 

গত ৯ জুলাই রাত প্রায় ৯টায় সদর উপজেলার চরহামুয়া-কালীগঞ্জ এলাকায় খোয়াই নদীর ডান তীররক্ষা বাঁধের একটি বড় অংশ হঠাৎ ধসে পড়ে। মুহূর্তেই নদীর পানি লোকালয়ে ঢুকে প্রথম দিনেই প্রায় ২০টি গ্রাম প্লাবিত হয়।

পরবর্তী সময়ে নতুন নতুন এলাকা প্লাবিত হওয়ায় ক্ষতিগ্রস্ত গ্রামের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে প্রায় ২৫টিতে। নতুন করে বাহুবল উপজেলার লামাতাশী ইউনিয়নের কয়েকটি গ্রাম এবং সদর উপজেলার পইল ইউনিয়নের আরও কয়েকটি এলাকা বন্যার পানিতে তলিয়ে গেছে।

 

চরহামুয়া, কালীগঞ্জ, লস্করপুর, পইল, তেঘরিয়া, আলাপুরসহ বিস্তীর্ণ এলাকায় দ্রুত পানি ছড়িয়ে পড়ায় হাজারো পরিবার চরম দুর্ভোগে পড়েছে। নারী, শিশু ও বৃদ্ধদের নিয়ে অনেক পরিবার ঘরবাড়ি ছেড়ে নিরাপদ আশ্রয়ের খোঁজে উঁচু স্থানে চলে গেছে।

 

কেউ আশ্রয় নিয়েছেন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে, কেউ ইউনিয়ন পরিষদ ভবনে, আবার কেউ আত্মীয়স্বজনের বাড়িতে। অনেক এলাকায় বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে এবং যোগাযোগ ব্যবস্থা ব্যাহত হয়েছে।

 

স্থানীয়দের অভিযোগ, আলাপুর-কালীগঞ্জ এলাকায় বছরের পর বছর ধরে ড্রেজার বসিয়ে গভীরভাবে বালু উত্তোলন করা হয়েছে।

 

সম্প্রতি আরও কয়েকটি শক্তিশালী ড্রেজার যুক্ত হওয়ায় নদীর তলদেশের স্বাভাবিক ভারসাম্য নষ্ট হয় এবং তীররক্ষা বাঁধের ভিত্তি মারাত্মকভাবে দুর্বল হয়ে পড়ে। পাহাড়ি ঢলের প্রবল স্রোতের চাপ সেই দুর্বল অংশে পড়ায় বাঁধটি ধসে যায় বলে দাবি তাদের।

 

১০ নম্বর লস্করপুর ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান উজ্জ্বল মিয়া বলেন, “দীর্ঘদিন ধরে অবৈধ ড্রেজার দিয়ে বালু উত্তোলনের কারণেই বাঁধ দুর্বল হয়ে পড়েছে। এভাবে চলতে থাকলে ভবিষ্যতে আরও ভয়াবহ বিপর্যয় ঘটবে। অবিলম্বে খোয়াই নদীতে অবৈধ বালু উত্তোলন স্থায়ীভাবে বন্ধ করতে হবে।”

 

স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, বহুবার প্রশাসনের বিভিন্ন দপ্তরে লিখিত ও মৌখিকভাবে অভিযোগ করেও কোনো কার্যকর ব্যবস্থা পাননি। বরং প্রতিবাদকারীদের হয়রানির শিকার হতে হয়েছে। তাদের অভিযোগ, প্রশাসনের দুর্বল নজরদারির সুযোগে একটি প্রভাবশালী চক্র বছরের পর বছর অবৈধভাবে বালু উত্তোলন চালিয়ে এসেছে।

 

বাঁধ ভাঙার খবর পেয়ে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন হবিগঞ্জ-৩ আসনের সংসদ সদস্য ও জাতীয় সংসদের হুইপ আলহাজ জি কে গউছ, জেলা প্রশাসনের কর্মকর্তারা, পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) এবং স্থানীয় প্রশাসনের প্রতিনিধিরা।

 

পরিদর্শনকালে হুইপ জি কে গউছ বলেন, অবৈধ বালু ব্যবসার সঙ্গে জড়িতরা যে দলেরই হোক, তাদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নিতে হবে। ক্ষতিগ্রস্ত বাঁধ দ্রুত সংস্কার করতে হবে এবং দুর্গত মানুষের পাশে দাঁড়াতে হবে।

 

তিনি জেলা প্রশাসনকে জরুরি ভিত্তিতে ক্ষয়ক্ষতির তালিকা প্রস্তুত, বাঁধ সংস্কার এবং অবৈধ বালু উত্তোলনের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেন।

 

পরিদর্শন শেষে তিনি পানিবন্দি মানুষের মধ্যে শুকনো খাবার ও বিশুদ্ধ পানি বিতরণ করেন। এছাড়া জেলা প্রশাসন, বিভিন্ন সামাজিক ও স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন দুর্গত এলাকায় শুকনো খাবার, বিশুদ্ধ পানি ও রান্না করা খাবার বিতরণ করছে।

 

সদর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মাকসুদুল আলম জানান, বন্যার পানিতে একাধিক মাছের খামার ভেসে গেছে। বিভিন্ন জাতের সবজির ক্ষেত, ফলের বাগান ও কৃষিজমি তলিয়ে গেছে। প্রাথমিকভাবে কৃষি খাতে প্রায় ৩০ কোটি টাকার ক্ষয়ক্ষতির আশঙ্কা করা হচ্ছে। ক্ষতিগ্রস্ত কৃষক ও পরিবারের তালিকা তৈরির কাজ চলছে।

 

বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) জানিয়েছে, খোয়াই নদীর পানি কিছুটা কমতে শুরু করলেও জেলার কালনী-কুশিয়ারা ও সুতাং নদীর পানি এখনও বৃদ্ধি পাচ্ছে। সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, চুনারুঘাটের বাল্লা পয়েন্টে খোয়াই নদীর পানি বিপদসীমার ওপরে থাকলেও কমছে।

 

অন্যদিকে আজমিরীগঞ্জে কালনী-কুশিয়ারা নদী এবং শায়েস্তাগঞ্জ-লাখাইয়ের সুতাং নদীর পানি এখনও বৃদ্ধি অব্যাহত রয়েছে।

 

পাউবো আরও জানিয়েছে, সদর উপজেলার লস্করপুর ইউনিয়নের কালীগঞ্জ এবং বানিয়াচং উপজেলার মক্রমপুর ইউনিয়নের রাঘপুর এলাকায় খোয়াই নদীর ডান তীরে নতুন করে ভাঙন দেখা দিয়েছে। ঝুঁকিপূর্ণ স্থানগুলো সার্বক্ষণিক পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে এবং প্রয়োজনীয় প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা গ্রহণের প্রস্তুতি চলছে।

 

দুর্গত এলাকাবাসীর দাবি, শুধু জরুরি ভিত্তিতে বাঁধ মেরামত করলেই হবে না; খোয়াই নদীতে অবৈধ ড্রেজার দিয়ে বালু উত্তোলন স্থায়ীভাবে বন্ধ, দায়ীদের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক আইনগত ব্যবস্থা, নদী ব্যবস্থাপনায় কঠোর নজরদারি এবং ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর জন্য দ্রুত ত্রাণ ও পুনর্বাসনের ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে হবে।

 

তাদের আশঙ্কা, এখনই কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ না করলে ভবিষ্যতে খোয়াই নদী তীরবর্তী আরও বিস্তীর্ণ এলাকা একই ধরনের ভয়াবহ বিপর্যয়ের মুখে পড়বে।

খোয়াই নদীর বাঁধ ভেঙে প্লাবিত ২৫ গ্রাম, পানিবন্দি অর্ধলক্ষ মানুষ

হবিগঞ্জ সদর উপজেলার খোয়াই নদীতে দীর্ঘদিন ধরে চলা অবৈধ ড্রেজার দিয়ে বালু উত্তোলনের অভিযোগের মধ্যেই ভয়াবহ বন্যা পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে।   টানা বর্ষণ ও ভারতের ত্রিপুরা রাজ্য থেকে নেমে আসা বিস্তারিত

টানা বর্ষণ ও উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলের মধ্যে হবিগঞ্জ সদর উপজেলার খোয়াই নদীর পূর্ব তীরের চরহামুয়া-কালীগঞ্জ এলাকায় নদীর তীররক্ষা বাঁধ ভেঙে অন্তত ১৫ থেকে ২০টি গ্রাম প্লাবিত হয়েছে।

 

বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) রাত প্রায় ৯টার দিকে হঠাৎ বাঁধটি ভেঙে গেলে নদীর পানি দ্রুত লোকালয়ে প্রবেশ করে। এতে হাজারো মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছেন এবং রাতের মধ্যেই আরও কয়েকটি গ্রাম প্লাবিত হওয়ার আশঙ্কা দেখা দেয়।

 

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বাঁধ ভেঙে যাওয়ার পর চরহামুয়া, কালীগঞ্জসহ আশপাশের বিস্তীর্ণ এলাকায় দ্রুত পানি ছড়িয়ে পড়ে। এতে অসংখ্য ঘরবাড়ি, রাস্তাঘাট ও কৃষিজমি পানিতে তলিয়ে যায়। অনেক পরিবার নিরাপদ আশ্রয়ের খোঁজে বাড়িঘর ছেড়ে উঁচু স্থানে সরে যেতে শুরু করেছেন।

 

স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা জানান, পরিস্থিতি ক্রমেই অবনতির দিকে যাচ্ছে। বিশেষ করে ১০ নম্বর লস্করপুর ইউনিয়ন, ৪ নম্বর পইল ইউনিয়ন, ৩ নম্বর তেঘরিয়া ইউনিয়ন এবং ভাটি অঞ্চলের বাসিন্দাদের সর্বোচ্চ সতর্ক থাকার আহ্বান জানানো হয়েছে। পানি বৃদ্ধি অব্যাহত থাকলে আরও নতুন নতুন এলাকা প্লাবিত হতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

 

এলাকাবাসীর অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে খোয়াই নদী থেকে নিয়মবহির্ভূতভাবে অবৈধ বালু উত্তোলনের কারণে তীররক্ষা বাঁধ দুর্বল হয়ে পড়ে। প্রবল স্রোতের চাপে সেই দুর্বল বাঁধ ভেঙে বর্তমান পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে বলে তাদের দাবি।

 

১০ নম্বর লস্করপুর ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান উজ্জ্বল মিয়া বলেন, “দীর্ঘদিন ধরে নিয়মের বাইরে নদী থেকে বালু উত্তোলনের কারণেই বাঁধ দুর্বল হয়ে গেছে। প্রবল পানির চাপে সেটি ভেঙে লোকালয় প্লাবিত হয়েছে। ভবিষ্যতে এ ধরনের বিপর্যয় এড়াতে খোয়াই নদী থেকে অবৈধ বালু উত্তোলন স্থায়ীভাবে বন্ধ করতে হবে।”

 

এদিকে বাঁধ ভেঙে যাওয়ার খবর পেয়ে স্থানীয় প্রশাসন, পানি উন্নয়ন বোর্ড এবং জনপ্রতিনিধিরা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন বলে জানা গেছে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ নিরূপণ এবং জরুরি প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা গ্রহণের প্রস্তুতি নিচ্ছে।

 

ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাবাসীর দাবি, দ্রুত ভাঙনরোধে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ, ক্ষতিগ্রস্ত বাঁধ মেরামত এবং দুর্গত মানুষের জন্য জরুরি ত্রাণ ও পুনর্বাসনের উদ্যোগ নেওয়া জরুরি। অন্যথায় পানি বৃদ্ধি অব্যাহত থাকলে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ আকার ধারণ করতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন স্থানীয়রা।

খোয়াই নদীর বাঁধ ভেঙে প্লাবিত ২০ গ্রাম

টানা বর্ষণ ও উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলের মধ্যে হবিগঞ্জ সদর উপজেলার খোয়াই নদীর পূর্ব তীরের চরহামুয়া-কালীগঞ্জ এলাকায় নদীর তীররক্ষা বাঁধ ভেঙে অন্তত ১৫ থেকে ২০টি গ্রাম প্লাবিত হয়েছে। বিস্তারিত

টানা কয়েকদিনের বৃষ্টিতে বিপর্যস্ত চট্টগ্রাম, তিন পার্বত্য জেলা ও কক্সবাজার। পানিবন্দি লাখ লাখ মানুষ। অনেকে আশ্রয়কেন্দ্রে ঠাঁই নিয়েছেন। বৃষ্টির সঙ্গে যোগ হয়েছে পাহাড়ধস। পানিতে সড়ক তলিয়ে যাওয়ায় অনেক স্থানে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন। জলমগ্ন ঘরবাড়িতে খাবার ও থাকার অবস্থা নেই।

 

এরইমধ্যে প্রশাসনের পক্ষ থেকে দেওয়া হচ্ছে শুকনো খাবারসহ ত্রাণ সহায়তা। বৃষ্টি এখনও বন্ধ না হওয়ায় পরিস্থিতি আরও খারাপ হওয়ার আশঙ্কা করা হচ্ছে। এদিকে, আজ শুক্রবার (১০ জুলাই) চট্টগ্রামের বাঁশখালীতে পাহাড়ি ঢল ও বানের পানিতে ডুবে দুই শিশুর মৃত্যু হয়েছে।

 

টানা কয়েকদিন ধরে পানি তলিয়ে গেছে বান্দরবানের বিস্তীর্ণ এলাকা। টানা বর্ষণে সাঙ্গু, মাতামুহুরী আর বাঁকখালী নদীর পানি বেড়েছে। প্লাবিত হয়েছে নিচু এলাকাগুলো। চরম ভোগান্তিতে পানিবন্দি এলাকার বাসিন্দারা।

 

পানিতে সড়ক তলিয়ে যাওয়ায় বিভিন্ন উপজেলাসহ ঢাকা-চট্টগ্রামের সঙ্গে জেলার যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন। বৈরি আবহাওয়ায় বিপাকে দিন এনে দিন খাওয়া মানুষ। অনেকেই উঠেছেন আশ্রয়কেন্দ্রে। প্রশাসনের পক্ষ থেকে দেওয়া হচ্ছে শুকনো খাবার।

 

আর টানা বৃষ্টি আর পাহাড়ি ঢলে রাঙামাটির বাঘাইছড়ি, লংগদু, বরকল, বিলাইছড়িসহ নিচু এলাকাগুলো জলমগ্ন অবস্থায় রয়েছে। বিভিন্ন স্থানে পাহাড়ধসের কারণে ব্যাহত হচ্ছে যান চলাচল। খোলা হয়েছে একাধিক আশ্রয়কেন্দ্র। সাজেকে আটকা পড়া পর্যটকদের উদ্ধার করেছে সেনাবাহিনী।

 

এদিকে, খাগড়াছড়িতে চেঙ্গী নদী ও আশপাশের ছড়া-খালের পানি নেমে যাওয়ায় শহরের নিচু এলাকার ঘরবাড়ি ও সড়ক থেকে পানি নেমেছে। শুরু হয়েছে যান চলাচল। তবে, দীঘিনালার মাইনী নদীর পানিতে ছোট মেরুং ইউনিয়নে এখনও জলমগ্ন হাজারো পরিবার। থেমে থেমে চলছে বৃষ্টিপাত।

 

এছাড়াও কক্সবাজারের চকরিয়া, পেকুয়া, রামুসহ বিভিন্ন উপজেলার নিম্নাঞ্চল এখনও পানিতে তলিয়ে আছে। সবচেয়ে বেশি ভোগান্তিতে চকরিয়ার নিচু এলাকার বাসিন্দারা। বৃষ্টির পাশাপাশি পাহাড়ি ঢলের কারণে নিমজ্জিত বিস্তীর্ণ এলাকা। পাহাড়ধসের শঙ্কায় ঝুঁকিপূর্ণভাবে বসবাসকারীদের নিরাপদে সরে যাওয়ার নির্দেশনা দিয়েছে প্রশাসন।

 

অন্যদিকে, চট্টগ্রামের চন্দনাইশ, সাতকানিয়া ও বাঁশখালী উপজেলার বিস্তীর্ণ এলাকা পানিতে নিমজ্জিত। পাহাড়ি ঢলের কারণে নদীর পানি উপচে লোকালয় ডুবেছে। চন্দনাইশ ও সাতকানিয়ায় চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়কের বিভিন্ন অংশ পানিতে তলিয়ে গেছে। ব্যাহত হচ্ছে যান চলাচল। বৃষ্টি কিছুটা কমে আসায় চট্টগ্রাম নগরীর বেশিরভাগ জলাবদ্ধ এলাকা থেকে পানি নেমে গেছে। তবে, এখনও নিচু এলাকাগুলো তলিয়ে আছে।

টানা বৃষ্টিতে বিপর্যস্ত চট্টগ্রাম, পানিবন্দি লাখ লাখ মানুষ

টানা কয়েকদিনের বৃষ্টিতে বিপর্যস্ত চট্টগ্রাম, তিন পার্বত্য জেলা ও কক্সবাজার। পানিবন্দি লাখ লাখ মানুষ। অনেকে আশ্রয়কেন্দ্রে ঠাঁই নিয়েছেন। বৃষ্টির সঙ্গে যোগ হয়েছে পাহাড়ধস। পানিতে সড়ক তলিয়ে যাওয়ায় অনেক স্থানে যোগাযোগ বিস্তারিত

সক্রিয় মৌসুমি বায়ুর প্রভাবে দেশের আট বিভাগের বিভিন্ন এলাকায় আগামী ২৪ ঘণ্টায় ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টিপাত হতে পারে বলে সতর্ক করেছে বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদফতর। এ সময় ঢাকা ও চট্টগ্রাম মহানগরের কোথাও কোথাও অস্থায়ী জলাবদ্ধতা এবং চট্টগ্রাম বিভাগের পাহাড়ি এলাকায় ভূমিধসের আশঙ্কার কথাও জানিয়েছে সংস্থাটি।

 

শুক্রবার (১০ জুলাই) সকাল ১০টায় প্রকাশিত ভারী বৃষ্টিপাতের সতর্কবার্তায় এ তথ্য জানান আবহাওয়াবিদ ড. মো. ওমর ফারুক।

 

সতর্কবার্তায় বলা হয়, সক্রিয় মৌসুমি বায়ুর প্রভাবে শুক্রবার সকাল ১০টা থেকে পরবর্তী ২৪ ঘণ্টায় রংপুর, রাজশাহী, ময়মনসিংহ, ঢাকা, খুলনা, বরিশাল, চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগের কোথাও কোথাও ভারী (২৪ ঘণ্টায় ৪৪ থেকে ৮৮ মিলিমিটার) এবং অতি ভারী (২৪ ঘণ্টায় ৮৮ মিলিমিটারের বেশি) বৃষ্টিপাত হতে পারে।

 

এতে আরও বলা হয়, ভারী থেকে অতি ভারী বর্ষণের ফলে ঢাকা ও চট্টগ্রাম মহানগরের নিম্নাঞ্চলে সাময়িক জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হতে পারে। পাশাপাশি চট্টগ্রাম বিভাগের পাহাড়ি এলাকায় অতিবৃষ্টির কারণে কোথাও কোথাও ভূমিধসের ঝুঁকি রয়েছে।

 

এ পরিস্থিতিতে সংশ্লিষ্ট এলাকার বাসিন্দাদের প্রয়োজনীয় সতর্কতা অবলম্বনের পাশাপাশি পাহাড়ি অঞ্চলে অপ্রয়োজনীয় যাতায়াত এড়িয়ে চলার পরামর্শ দিয়েছে আবহাওয়া অধিদফতর।

দেশের ৮ বিভাগেই অতি ভারী বৃষ্টির সতর্কবার্তা, জলাবদ্ধতা ও ভূমিধসের শঙ্কা

সক্রিয় মৌসুমি বায়ুর প্রভাবে দেশের আট বিভাগের বিভিন্ন এলাকায় আগামী ২৪ ঘণ্টায় ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টিপাত হতে পারে বলে সতর্ক করেছে বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদফতর। এ সময় ঢাকা ও চট্টগ্রাম বিস্তারিত

টানা বৃষ্টিতে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। চারটি বিভাগের বিভিন্ন এলাকায় বন্যা পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে।

 

সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত চট্টগ্রাম বিভাগ, যেখানে পাহাড়ধসে অন্তত ৩০ জন মারা গেছেন। এছাড়া বিভাগের অনেক এলাকায় সড়ক যোগাযোগও মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয়েছে।

 

এর মধ্যেই বৃষ্টিপাত নিয়ে কিছুটা স্বস্তির বার্তা দিয়েছে বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তর।

 

শুক্রবার (১০ জুলাই) আবহাওয়াবিদ বজলুর রশিদ জানিয়েছেন, চট্টগ্রামে আগের ২৪ ঘণ্টার তুলনায় বৃষ্টির পরিমাণ কমেছে।

এর আগে যেখানে ৩২৯ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছিল, সর্বশেষ ২৪ ঘণ্টায় তা নেমে এসেছে ২১১ মিলিমিটারে।

 

তবে দেশের সব অঞ্চলের জন্য স্বস্তির খবর নয়। আবহাওয়া অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, খুলনা, রাজশাহী ও বরিশাল বিভাগের বিভিন্ন স্থানে এখনও ভারী বৃষ্টির আশঙ্কা রয়েছে। এসব এলাকায় থেমে থেমে সারাদিন বৃষ্টি হতে পারে।

 

জুলাই মাস বর্ষাকালের মধ্যভাগ হওয়ায় এই সময়ে মাঝারি থেকে ভারী বৃষ্টিপাত স্বাভাবিক বলেও উল্লেখ করেন আবহাওয়াবিদ বজলুর রশিদ। তিনি, এ মাসে এমন বৃষ্টিপাত অস্বাভাবিক নয়।

 

বৃষ্টির পরিস্থিতি কবে থেকে আরও উন্নতি হতে পারে-এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি জানান, আগামী শনি ও রোববার থেকে ভারী বৃষ্টির প্রবণতা ধীরে ধীরে কমে আসতে পারে।

 

এছাড়া আবহাওয়ার উন্নতি হলে শনিবার থেকেই নদীবন্দরগুলোর জন্য জারি থাকা সতর্ক সংকেত প্রত্যাহার করা হতে পারে বলেও জানিয়েছেন এই আবহাওয়াবিদ।

কবে থেকে কমতে পারে ভারী বৃষ্টি, জানালেন আবহাওয়াবিদ

টানা বৃষ্টিতে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। চারটি বিভাগের বিভিন্ন এলাকায় বন্যা পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে।   সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত চট্টগ্রাম বিভাগ, যেখানে পাহাড়ধসে অন্তত ৩০ জন মারা গেছেন। বিস্তারিত

সক্রিয় মৌসুমি বায়ুর প্রভাবে রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে ভারি থেকে অতি ভারি বৃষ্টিপাত হতে পারে বলে পূর্বাভাস দিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর। একই সঙ্গে দেশের ১৪টি জেলার ওপর দিয়ে ঝড় বয়ে যাওয়ার আশঙ্কার কথাও জানিয়েছে সংস্থাটি।

 

শনিবার (তারিখ) প্রকাশিত পৃথক দুটি বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়। আবহাওয়া অধিদপ্তরের পূর্বাভাস অনুযায়ী, মৌসুমি বায়ু সক্রিয় থাকায় দেশের বিভিন্ন এলাকায় বজ্রসহ বৃষ্টির প্রবণতা বাড়তে পারে। কোথাও কোথাও ভারি থেকে অতি ভারি বর্ষণও হতে পারে।

 

আবহাওয়াবিদ এ কে এম নাজমুলের সই করা এক বিজ্ঞপ্তিতে জানা যায়, গতকাল বৃহস্পতিবার সকাল ৬টা থেকে পরবর্তী ৪৮ ঘণ্টা (২ দিন) রংপুর,রাজশাহী, ময়মনসিংহ, ঢাকা, খুলনা, বরিশাল, চট্টগ্রাম, সিলেট বিভাগের কোথাও কোথাও ভারি (৪৪–৮৮ মি.মি) থেকে অতি ভারি (৮৮ মি.মি-বেশি) বর্ষণ হতে পারে।

 

এছাড়া, ঢাকা ও চট্টগ্রাম মহানগরীতে অস্থায়ীভাবে জলাবদ্ধতা তৈরি হতে পারে। চট্টগ্রাম বিভাগের পাহাড়ি এলাকায় ভূমিধসের আশঙ্কা রয়েছে। অন্যদিকে আজ শুক্রবার ভোর ৫টা থেকে দুপুর ১টা পর্যন্ত দেশের অভ্যন্তরীণ নদীবন্দরসমূহের জন্য আবহাওয়া অফিসের দেওয়া অপর এক বিজ্ঞপ্তিতে জানা যায়, রাজধানী ঢাকাসহ দেশের ১৪টি জেলার ওপর দিয়ে ঘণ্টায় ৪৫ থেকে ৬০ কিলোমিটার বেগে অস্থায়ীভাবে ঝোড়ো হাওয়া ও বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে। পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, টাঙ্গাইল, ময়মনসিংহ, ঢাকা, ফরিদপুর, কুষ্টিয়া, যশোর, খুলনা, বরিশাল, পটুয়াখালী, কুমিল্লা, নোয়াখালী, চট্টগ্রাম, কক্সবাজার এবং সিলেট অঞ্চলসমূহের উপর দিয়ে দক্ষিণ/দক্ষিণ-পূর্ব দিক থেকে ঘন্টায় ৪৫-৬০ কি.মি. বেগে বৃষ্টি/বজ্রবৃষ্টিসহ অস্থায়ীভাবে দমকা/ঝড়ো হাওয়া বয়ে যেতে পারে।

 

এসব এলাকার নদীবন্দর সমূহকে ০১ নম্বর (পুনঃ) ০১ নম্বর সতর্ক সংকেত দেখাতে বলা হয়েছে।

আগামী ২৪ ঘণ্টা বৃষ্টি নিয়ে আবহাওয়া অফিসের সতর্ক বার্তা

সক্রিয় মৌসুমি বায়ুর প্রভাবে রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে ভারি থেকে অতি ভারি বৃষ্টিপাত হতে পারে বলে পূর্বাভাস দিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর। একই সঙ্গে দেশের ১৪টি জেলার ওপর দিয়ে ঝড় বয়ে বিস্তারিত

আগামী ২৪ থেকে ৭২ ঘণ্টায় দেশের ১৬ জেলার বন্যা পরিস্থিতির আরও অবনতির আশঙ্কা করেছে বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ডের বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র। এ সময়ে কয়েকটি জেলার নদ-নদীর পানি বিপদসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হতে পারে। ফলে নদীসংলগ্ন নিম্নাঞ্চলে স্বল্পমেয়াদি বন্যা এবং কোথাও কোথাও সাময়িক প্লাবনের আশঙ্কা রয়েছে।

 

আজ বুধবার (৮ জুলাই) বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ড থেকে এক পূর্বাভাসে এ তথ্য জানানো হয়েছে। এতে বলা হয়েছে, আগামী ২৪ থেকে ৭২ ঘণ্টায় বান্দরবান ও কক্সবাজার জেলার বন্যা পরিস্থিতির আরও অবনতি হতে পারে। একই সময়ে ফেনী, চট্টগ্রাম ও খাগড়াছড়ি জেলার সংশ্লিষ্ট নদ-নদীর পানি কিছু কিছু স্থানে বিপদসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হতে পারে।

 

এতে এসব জেলার নদীসংলগ্ন নিম্নাঞ্চলের কোথাও কোথাও স্বল্পমেয়াদি বন্যা পরিস্থিতির সৃষ্টি হতে পারে। এছাড়া লক্ষ্মীপুর ও নোয়াখালী জেলার নদীসংলগ্ন নিম্নাঞ্চল সাময়িকভাবে প্লাবিত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

 

এদিকে আগামী ২৪ থেকে ৭২ ঘণ্টায় সিলেট, সুনামগঞ্জ, মৌলভীবাজার, হবিগঞ্জ, নেত্রকোণা, শেরপুর ও ময়মনসিংহ জেলার কয়েকটি নদীর পানি বিপদসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হতে পারে। এর ফলে এসব জেলার নদীসংলগ্ন নিম্নাঞ্চলেও কোথাও কোথাও স্বল্পমেয়াদি বন্যা পরিস্থিতির উদ্ভব হতে পারে।

 

অন্যদিকে আগামী ২৪ থেকে ৪৮ ঘণ্টায় তিস্তা নদীর পানি বিপদসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। এতে নীলফামারী, লালমনিরহাট ও রংপুর জেলার নদীসংলগ্ন নিম্নাঞ্চলে স্বল্পমেয়াদি বন্যা পরিস্থিতির সৃষ্টি হতে পারে।

 

এ ছাড়া আগামী ৭২ ঘণ্টায় ধরলা ও দুধকুমার নদীর পানি লালমনিরহাট ও কুড়িগ্রাম জেলায় সতর্কসীমায় প্রবাহিত হতে পারে। এর ফলে এসব জেলার নদীসংলগ্ন নিম্নাঞ্চলের কোথাও কোথাও সাময়িক প্লাবনের সম্ভাবনা রয়েছে।

 

বন্যা পরিস্থিতির আরও অবনতি হতে পারে ১৬ জেলায়

আগামী ২৪ থেকে ৭২ ঘণ্টায় দেশের ১৬ জেলার বন্যা পরিস্থিতির আরও অবনতির আশঙ্কা করেছে বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ডের বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র। এ সময়ে কয়েকটি জেলার নদ-নদীর পানি বিপদসীমার বিস্তারিত

গত দেড় বছরে বাংলাদেশে মোট ৫২টি ভূমিকম্প অনুভূত হয়েছে। এর মধ্যে ৩৯টির উৎপত্তিস্থল ছিল দেশের অভ্যন্তরে। রিখটার স্কেলে এসব ভূমিকম্পের মাত্রা ছিল ২ দশমিক ৫ থেকে ৫ দশমিক ৭। সমন্বিত দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কর্মসূচির জরিপের তথ্য অনুযায়ী, সাত মাত্রার ভূমিকম্পেই ঢাকার ৭২ হাজার ভবন ধসে পড়বে। পাশাপাশি গ্যাস লাইন ফেটে অগ্নিকুণ্ডে পরিণত হতে পারে রাজধানী। ভূমিকম্পের সংখ্যা বাড়তে থাকায় বড় ধরনের দুর্যোগের ঝুঁকি নিয়ে সতর্ক করেছেন বিশেষজ্ঞরা।

 

প্রতি বছরই বিশ্বের বিভিন্ন দেশে ভূমিকম্পে প্রাণহানির ঘটনা ঘটছে। সাড়ে সাত ও ৭.২ মাত্রার ভূমিকম্পে মানবিক বিপর্যয়ে পড়েছে ভেনেজুয়েলা। বাংলাদেশেও গত বছরে নরসিংদীর মাধবদিতে ৫ দশমিক ৭ মাত্রার ভূমিকম্পে ১০ জনের মৃত্যু হয় এবং আহত হন পাঁচ শতাধিক মানুষ।

 

আবহাওয়া অধিদফতরের ভূমিকম্প পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রের তথ্য অনুযায়ী, গত দেড় বছরে বাংলাদেশে ৫২ বার ভূমিকম্প আঘাত হেনেছে। এর মধ্যে দেশের অভ্যন্তরে উৎপন্ন হয়েছে ৩৯টি। রিখটার স্কেলে ২.৫ থেকে ৫.৭ মাত্রার ছিলো এসব ভূমিকম্প। সবচেয়ে বেশি ৮টি ভূমিকম্পের উৎপত্তি হয়েছে সিলেটে। নরসিংদিতে ৫ টি এবং রংপুরে ৪টি ভূমিকম্প উৎপন্ন হয়েছে। এছাড়া কয়েকটি ভূমিকম্পের উৎপত্তিস্থল ছিল বাংলাদেশ-ভারত সীমান্ত, ভুটান ও মিয়ানমারে।

 

আবহাওয়া অধিদফতরের ভূমিকম্প পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা রুবাইয়াত কবির বলেন, ২০১৫-১৬ থেকে ২০২০-২১ সময় পর্যন্ত বাংলাদেশের অভ্যন্তরে বছরে গড়ে ১০টির কম ভূমিকম্প হতো। তবে গত দুই-তিন বছরে এ সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। তিনি বলেন, প্রায় ১৫০ বছর ধরে এ অঞ্চলে বড় ধরনের ভূমিকম্প না হওয়ায় বড় ভূমিকম্পের ঝুঁকি রয়েছে।

 

গত দেড় বছরে ১৩টি ভূমিকম্পের মাত্রা ছিল রিখটার স্কেলে ৪ থেকে ৫। এমনকি ঢাকার বাড্ডা এলাকায় উৎপন্ন একটি ভূমিকম্পের মাত্রা ছিল ৩ দশমিক ৭। এরপরও যত্রতত্র বহুতল ভবন নির্মাণ অব্যাহত থাকায় ঝুঁকি আরও বাড়ছে।

 

বুয়েটের পুরকৌশল বিভাগের অধ্যাপক ড. মেহেদী আহমেদ আনসারী বলেন, রাজউকের আওতাধীন প্রায় ৬০ শতাংশ এলাকা নরম ও ভরাট মাটির ওপর অবস্থিত। তাই এসব এলাকায় মাটি উন্নয়ন এবং ভূমিকম্প সহনশীল ভবন নির্মাণ নিশ্চিত করতে হবে।

 

রাজউকের অধীন এলাকায় ২১ লাখ ভবনের মধ্যে ৬ লাখ বহুতল। এর প্রায় বেশিরভাগই তৈরি হয়েছে বিল্ডিং কোড না মেনে। তাই যেসব এলাকায় মাটি তুলনামূলকভাবে মজবুত, সেখানে বিল্ডিং কোড মেনে ভবন নির্মাণে তদারকি আরও বাড়ানোরও পরামর্শ দেন তিনি।

 

তিনি আরও বলেন, বিদ্যমান ভবনগুলোর কাঠামোগত সক্ষমতা পরীক্ষা করে প্রয়োজনীয় মজবুতীকরণ করতে হবে। গ্যাস লাইন এনশিওর করা, যাতে ভূমিকম্পের পরে ওখানে বাতাসে গ্যাস ছেড়ে দেওয়া যায়, না হলে আটকা থাকলে ওখানে যদি আগুন লেগে যায়, ওটা সেকেন্ডারি ডিজাস্টার মেজর হয়ে যেতে পারে।

 

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ডিজাস্টার সায়েন্স অ্যান্ড ক্লাইমেট রেজিলিয়েন্স বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. জিল্লুর রহমান বলেন, বড় ধরনের ভূমিকম্পে হাজার হাজার ভবন ধসে পড়লে শুধু সরকারি জনবল দিয়ে পরিস্থিতি সামাল দেওয়া সম্ভব হবে না। এজন্য আগেভাগেই প্রশিক্ষিত স্বেচ্ছাসেবক তৈরি করতে হবে।

 

বিশেষজ্ঞদের মতে, ভূমিকম্পের আগাম পূর্বাভাস দেওয়া সম্ভব নয়। তাই আগাম প্রস্তুতি ও পরবর্তী প্রস্তুতি নিশ্চিত করে ক্ষয়ক্ষতি কমানো সম্ভব।

ঢাকায় ৭ মাত্রার ভূমিকম্পে ধসে পড়তে পারে ৭২ হাজার ভবন

গত দেড় বছরে বাংলাদেশে মোট ৫২টি ভূমিকম্প অনুভূত হয়েছে। এর মধ্যে ৩৯টির উৎপত্তিস্থল ছিল দেশের অভ্যন্তরে। রিখটার স্কেলে এসব ভূমিকম্পের মাত্রা ছিল ২ দশমিক ৫ থেকে ৫ দশমিক ৭। সমন্বিত বিস্তারিত

নীলফামারীতে বন্যার পানিতে ডুবে আছে পাইকার পাড়া এলাকার বাসিন্দারা

মাইদুল ইসলাম: (জেলা প্রতিনিধি নীলফামারী)

নীলফামারী সদর উপজেলার ৬ নং ওয়ার্ড

ব্লু ল্যান্ড স্কুলের পিছনে পাইকার পাড়ার বাসিন্দারা বন্যার পানিতে জলবদ্ধতায় ডুবে আছে। সোমবার

(২৯ জুন) বিকেল ৪ টার সময় সরজমিনে গেলে স্থানীয়রা জানায়, শাহাজান বাবু (মোয়াজ্জেম), খায়রুল ইসলাম, বাবুল ইসলাম, ও নুরনাহার সহ আরও অনেকে জানায়, গত ৩০ বছর ধরে সামান্য বৃষ্টির পানি হলে জলবদ্ধতায় ডুবে যায় পুরো এলাকা ভোগান্তির শিকার হয় আমাদের এবং সন্তানরা যেতে পারেনা স্কুল,কলেজ,ও নামাজ পড়তে যেতে পারে না মসজিদে। প্রতিবছর বন্যা হলে পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা না থাকায় জলবদ্ধতায় পানিতে ডুবে হয়ে পুরো এলাকাবাসী। বিগত ৩ বছর আগে পানির জলবদ্ধতার কারণে দুর্ঘটনা শিকার হয় রিপন (৮) বছরের শিশুর অকাল মৃত্যু হয়। তবুও মেলেনি কোন সমাধান তাই এলাকাবাসীর আকুল আবেদন নীলফামারী পৌরসভা প্রশাসক মহোদয়ের কাছে আমাদের পাইকার পাড়া এলাকার জলাবদ্ধতার নিরাশন ও রাস্তা সংস্কারের দৃষ্টি আকর্ষণ করছি।

নীলফামারীতে বন্যার পানিতে ডুবে আছে পাইকার পাড়া এলাকার বাসিন্দারা

নীলফামারীতে বন্যার পানিতে ডুবে আছে পাইকার পাড়া এলাকার বাসিন্দারা মাইদুল ইসলাম: (জেলা প্রতিনিধি নীলফামারী) নীলফামারী সদর উপজেলার ৬ নং ওয়ার্ড ব্লু ল্যান্ড স্কুলের পিছনে পাইকার পাড়ার বাসিন্দারা বন্যার পানিতে জলবদ্ধতায় বিস্তারিত

বাংলাদেশের পূর্ব ও উত্তরাঞ্চলের নিকটবর্তী সীমান্ত এলাকায় এক ঘণ্টারও কম সময়ের ব্যবধানে পরপর তিনটি ভূমিকম্প অনুভূত হয়েছে।

 

সোমবার ২৯ জুন ভোর ৪টা থেকে ৫টার মধ্যে ভারতের মণিপুর, অরুণাচল প্রদেশ-ভুটান সীমান্ত এবং মেঘালয় অঞ্চলে এই ভূকম্পনগুলোর উৎপত্তি হয়।

 

ভারতের সরকারি ভূমিকম্প পর্যবেক্ষণ সংস্থা ‘ন্যাশনাল সেন্টার ফর সিসমোলজি’র তথ্য অনুযায়ী,

বাংলাদেশ সময় ভোর ৪টা ১২ মিনিটে প্রথম ভূমিকম্পটি আঘাত হানে ভারতের মণিপুরে। রিখটার স্কেলে এর মাত্রা ছিল ৩.৫ এবং এর উপকেন্দ্র ছিল ভূ-পৃষ্ঠ থেকে প্রায় ৫৯ কিলোমিটার গভীরে।

 

দ্বিতীয় ভূমিকম্প (অরুণাচল-ভুটান সীমান্ত):

 

এর প্রায় পাঁচ মিনিট পর, ভোর ৪টা ১৭ মিনিটে অরুণাচল প্রদেশ ও ভুটান সীমান্তবর্তী এলাকায় দ্বিতীয় ভূমিকম্পটি হয়। ৩ মাত্রার এই ভূমিকম্পটির উপকেন্দ্র ছিল মাত্র ৭ কিলোমিটার গভীরে।

 

তৃতীয় ভূমিকম্প (মেঘালয়):

 

সর্বশেষ ভোর ৫টা ৫ মিনিটে সুনামগঞ্জের উত্তরের এলাকা সংলগ্ন ভারতের মেঘালয় রাজ্যে তৃতীয় ভূমিকম্পটি অনুভূত হয়। এর মাত্রা ছিল ২.৯ এবং এটি ভূ-পৃষ্ঠের প্রায় ১০ কিলোমিটার গভীরে সংগঠিত হয়।

 

এর আগে এবং সাম্প্রতিক সময়ে দেশে ও সীমান্ত এলাকায় আরও দুটি ভূমিকম্পের রেকর্ড পাওয়া গেছে:

 

কক্সবাজার-মিয়ানমার সীমান্ত: গত রোববার (২৮ জুন) রাতেও কক্সবাজার-মিয়ানমার সীমান্তবর্তী এলাকায় ৪.৪ মাত্রার একটি ভূমিকম্প অনুভূত হয়।

 

নারায়ণগঞ্জ (অভ্যন্তরীণ): দেশের ভেতরে সর্বশেষ গত ২২ জুন রাত ৯টা ২৮ মিনিটে নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জে ৪ মাত্রার একটি ভূমিকম্প সংগঠিত হয়।

 

ভূ-পৃষ্ঠের ১৬ কিলোমিটার গভীরতায় উৎপত্তি হওয়া এই ভূমিকম্পটি ঢাকা ও আশেপাশের এলাকায় অনুভূত হয়েছিল।

বাংলাদেশের আশপাশে এক ঘণ্টায় তিনবার ভূমিকম্প!

বাংলাদেশের পূর্ব ও উত্তরাঞ্চলের নিকটবর্তী সীমান্ত এলাকায় এক ঘণ্টারও কম সময়ের ব্যবধানে পরপর তিনটি ভূমিকম্প অনুভূত হয়েছে।   সোমবার ২৯ জুন ভোর ৪টা থেকে ৫টার মধ্যে ভারতের মণিপুর, অরুণাচল প্রদেশ-ভুটান বিস্তারিত

র‌্যাবের চৌকস অভিযানে জীপসহ প্রায় ১১ হাজার ইয়াবার চালান আটক

জামালপুর হামলা পাল্টা হামলার মধ্য দিয়ে জেলার সানন্দবাড়ী তে থমথমে অবস্থা বিরাজমান।

পর্নোগ্রাফি নিয়ন্ত্রণ আইনে এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা দায়ের ও আদালতে মিথ্যা হলফনামা দেয়ার অভিযোগে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের কেবিন ক্রু খাদিজা সুলতানা শিমুর বিরুদ্ধে মামলা দায়েরের নির্দেশ দিয়েছেন আদালত।

 

বুধবার (১৫ জুলাই) ঢাকার অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালত-২-এর বিচারক মো. জাকির হোসাইন এ আদেশ দেন। আদালতের আদেশে বলা হয়েছে, শিমুর বিরুদ্ধে পর্নোগ্রাফি নিয়ন্ত্রণ আইন, ২০১২-এর ১৩ ধারা এবং দণ্ডবিধির ১৮১, ১৮২ ও ১৯৩ ধারায় মামলা করা হবে। আদালত নিজেই এ মামলার বাদী হয়েছেন।

 

আদালতের নথি অনুযায়ী, খাদিজা সুলতানা শিমু মামলার বাদী হয়ে বেসরকারি একটি এয়ারলাইন্সের কর্মকর্তা মো. ওমর ফারুক চৌধুরীর বিরুদ্ধে পর্নোগ্রাফি নিয়ন্ত্রণ আইনের বিভিন্ন ধারায় উত্তরা পশ্চিম থানায় মামলা করেন।

 

তদন্ত শেষে উত্তরা পশ্চিম থানার তদন্ত কর্মকর্তা আদালতে চূড়ান্ত প্রতিবেদন দাখিল করে জানান, অভিযোগের সত্যতা পাওয়া যায়নি। প্রতিবেদনে বলা হয়, মামলার এজাহারে উল্লেখ করা ফেসবুক লিংক, ডিজিটাল আলামত ও অন্যান্য তথ্য যাচাই করে ওমর ফারুকের বিরুদ্ধে পর্নোগ্রাফি প্রচারের কোনো প্রমাণ মেলেনি। ফলে ওই কর্মকর্তাকে মামলা থেকে অব্যাহতির সুপারিশ করা হয়।

একই সঙ্গে তদন্ত কর্মকর্তা প্রতিবেদনে উল্লেখ করেন, ওমর ফারুক আগে শিমুর বিরুদ্ধে বিয়ের প্রলোভন দিয়ে অর্থ আত্মসাতের অভিযোগে আদালতে মামলা করেছিলেন। সেই মামলার দায় এড়াতেই শিমু সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচারিত বিভিন্ন লিংক উল্লেখ করে তার বিরুদ্ধে পর্নোগ্রাফি ছড়ানোর অভিযোগ এনে উদ্দেশ্যপ্রণোদিত, হয়রানিমূলক ও মিথ্যা মামলা করেছেন বলে প্রাথমিক তদন্তে প্রতীয়মান হয়েছে। এ কারণে শিমুর বিরুদ্ধে পর্নোগ্রাফি নিয়ন্ত্রণ আইন, ২০১২-এর ১৩ ধারায় আইনগত ব্যবস্থা নেয়ার আবেদনও করেন তদন্ত কর্মকর্তা।

 

পরে গত ৯ জুলাই আদালত তদন্ত প্রতিবেদন গ্রহণ করে ওমর ফারুককে মামলা থেকে অব্যাহতি দেন। আদালতের আদেশে বলা হয়, শিমু ক্ষতিসাধনের উদ্দেশ্যে আদালতে মিথ্যা মামলা দায়ের করেছেন এবং হলফ করে মিথ্যা সাক্ষ্য দিয়েছেন। মামলার নথিতে তার দেয়া হলফনামাও সংযুক্ত রয়েছে। এসব বিবেচনায় আদালত নিজেই বাদী হয়ে তার বিরুদ্ধে পর্নোগ্রাফি নিয়ন্ত্রণ আইন ও দণ্ডবিধির সংশ্লিষ্ট ধারায় মামলা দায়েরের নির্দেশ দেন।

 

তদন্তে যা উঠে এসেছে পুলিশের চূড়ান্ত প্রতিবেদনে বলা হয়, তদন্তকালে রেকর্ড, ডিজিটাল আলামত, ফেসবুক লিংক ও ফরেনসিক তথ্য যাচাই করে ওমর ফারুকের বিরুদ্ধে পর্নোগ্রাফি প্রচারের কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি।

 

তদন্তে আরও উঠে আসে, শিমু বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের কেবিন ক্রু এবং ওমর ফারুক একটি বেসরকারি এয়ারলাইন্সের এয়ারক্রাফট মেইনটেন্যান্স কর্মকর্তা। ফেসবুকে পরিচয়ের পর তাদের মধ্যে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে।

 

প্রতিবেদনে বলা হয়, বিয়ের আশ্বাস দিয়ে বিভিন্ন সময়ে ওমর ফারুকের কাছ থেকে বিপুল পরিমাণ অর্থ ও মূল্যবান সামগ্রী নেয়ার অভিযোগে ওমর ফারুক আদালতে পৃথক মামলা করেন। এরপর সেই মামলার দায় থেকে নিজেকে রক্ষা করতেই শিমু পর্নোগ্রাফি আইনে অভিযোগ দায়ের করেন বলে তদন্তে প্রতীয়মান হয়েছে।

 

ওমর ফারুকের আগের মামলা গত ২০ জুলাই ওমর ফারুক চৌধুরী শিমুর বিরুদ্ধে বিয়ের প্রলোভন, ‘হানি ট্র্যাপ’ ও ব্ল্যাকমেইলের মাধ্যমে প্রায় ২২ লাখ টাকা আত্মসাতের অভিযোগে ঢাকার আদালতে মামলা করেন। আদালত অভিযোগটি আমলে নিয়ে উত্তরা পশ্চিম থানাকে তদন্তের নির্দেশ দেন। পরে তিনি বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স কর্তৃপক্ষের কাছেও লিখিত অভিযোগ করেন।

 

সেই মামলায় অভিযোগ করা হয়, ২০২৪ সালে ফেসবুকে পরিচয়ের পর শিমু তাকে বিয়ের আশ্বাস দিয়ে বিভিন্ন সময়ে টাকা নেন। জন্মদিনে দেড় লাখ টাকা মূল্যের একটি হীরার আংটিসহ বিয়ের খরচের জন্য মোট ২১ লাখ ৭৪ হাজার ৫১১ টাকা নেয়ার পরও বিয়ে না করে প্রতারণার মাধ্যমে অর্থ আত্মসাৎ করা হয়েছে বলে মামলায় দাবি করা হয়।

পর্নোগ্রাফি আইনে কেবিন ক্রু শিমুর বিরুদ্ধে মামলার নির্দেশ আদালতের

ভোলার মনপুরায় নির্বাচনী মাঠে জনআতঙ্ক, দীপক বাহিনীর হাতে আহত ৫

ভোলার মনপুরায় নির্বাচনী মাঠে জনআতঙ্কে, থমথমে পুরো মনপুরা। আসন্ন 2 নং হাজিরহাট ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনী প্রচারণা কালীন সময় প্রার্থী নিজামুদ্দিন হাওলাদারের নেতাকর্মী ও সমর্থকদের বেধড়ক মারধর করার অভিযোগ উঠে এসেছে। প্রার্থীকে বেধড়ক মারধর করায় গুরুতর আহত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি আছেন, নাছির(২৩), আল আমিন(২৫),জিদনী (১৮),অনি (২৩)কাশেম(২৮),অজয়(২৬)

আহতদের পরিবার জানিয়েছেন আহতদের অবস্থা গুরুতর, চিকিৎসার জন্য জেলাতে নেওয়া প্রয়োজন হতে পারে।।

মেম্বার প্রার্থী নাসির অভিযোগ করে বলেন , স্থানীয় প্রশাসন অত্যন্ত দুর্বল অবস্থায় রয়েছে,মাঠ প্রশাসন নীরব দর্শকের ভূমিকা পালন করছেন, দীপক রাশি বাহিনী এরপর এক সন্ত্রাসী কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে, আমি নির্বাচন প্রতারণা চলাকালীন সময়ে অতর্কিত দীপক বাহিনীর মূল হোতা সন্ত্রাসী মাকসুদের নেতৃত্বে দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র সহ আমাকেও আমার তুই ছেলের উপর হামলা চালান।। এতে করে আমিও আমার ছোট ছেলে আমিন গুরুতর আহত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়ে রয়েছি।। মনপুরা পুলিশ প্রশাসনের নিকট আমি অভিযোগ করেছি।ওসি মনপুরা এখন পর্যন্ত কোনো ব্যবস্থা গ্রহণ করেন নাই। তিনি আরো বলেন সন্ত্রাসী ফারুক ফরাজী, ইলিয়াছ চৌধূরী, ইলিয়াস ফরাজী, ফুহাদ আওলাদ মাতাব্বর, মনির ফরাজী, খোকন পর এক নানা সন্ত্রাসী কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছেন।

চেয়ারম্যান প্রার্থী নুরুল ইসলাম অভিযোগ করে বলেন নির্বাচনকে বানচাল করার জন্য একের পর এক সন্ত্রাসী কার্যক্রম চালিয়ে গেলেও ওসি মনপুরা এখন পর্যন্ত কোন ধরনের ব্যবস্থা গ্রহণ করতে পারে নাই, চিরে যদি সন্ত্রাসীদের দমন না করা হয় তাহলে নির্বাচন হবে মনপুরা হবে ঝুঁকিপূর্ণ, নির্বাচনে মাঠ প্রশাসন নিয়ন্ত্রনহীন হয়ে পড়বেন।। নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট আকিব ওসমান মাঠ প্রশাসন নিয়ন্ত্রণে কাজ করলেও এখন পর্যন্ত মনপুরা মাঠ নিয়ন্ত্রণে আনতে পরিপূর্ণ ব্যর্থ হয়েছেন।।

অপর চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী নিজাম উদ্দিন হাওলাদার অভিযোগ করে বলেন পরোক্ষভাবে প্রত্যক্ষভাবে দীপক বাহিনী এ ধরনের ঘটনা চলেছেন, অতর্কিত হামলা, চোরাগুপ্তা হামলা সহ নানা ধরনের কর্মের সাথে পার্থী শাহরিয়া দীপক সরাসরি জড়িত রয়েছেন।।

মুঠোফোনে প্রার্থী শাহরিয়ার চৌধুরী দীপক এর নিকট জানতে চাইলে তিনি সাংবাদিক পরিচয় পেয়ে ব্যস্ততা দেখিয়ে ফোন কাটিয়ে দেন।

বিষয়টি নিয়ে ওসি মনপুরা কে বারবার ফোন করলেও এখন এখন পর্যন্ত মুঠোফোনে পাওয়া যায়নি।।

বিষয়টি নিয়ে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট হাকিম ওসমান এর সাথে কথা বললে তিনি বলেন আমি অতি দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণ করছি, মনপুরাকে মামলা গ্রহণের জন্য নির্দেশ প্রদান করেছি।। অচিরেই মনপুরায় মাঠ প্রশাসন নিয়ন্ত্রণে আনাতে আমি নিরস কাজ করছি।।

উল্লেখ্য এই যে মনপুরা উপজেলা একের পর এক আচরণবিধি লঙ্ঘন করায় প্রার্থী শাহরিয়ার দীপক বিরুদ্ধে শাহরিয়ার বিরুদ্ধে আচরণবিধি লঙ্ঘনের লিখিত অভিযোগ হয়েছে যা পত্র-পত্রিকা ও গণমাধ্যমে বেশ কয়েকবার প্রকাশিত হয়েছে।। আজকের চোরাগুপ্তা হামলা সহ নানা অতর্কিত সন্ত্রাসী হামলার বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়েছে।।। কোন পর্যন্ত কোনো আসামিকে গ্রেপ্তার করতে মনপুরা থানা সম্পূর্ণ ব্যর্থ হয়েছেন।।

আসছে বিস্তারিত……. সাথে থাকুন

ভোলার মনপুরায় নির্বাচনী মাঠে জনআতঙ্ক, দীপক বাহিনীর হাতে আহত ৫

এস এম খলিলুর রহমান
ব্যুরো চীফ হবিগঞ্জ জেলা ॥

নবীগঞ্জ পৌর এলাকার গয়াহরি গ্রামে নিরীহ ব্যক্তি বিজিত দাশ মেটনের উপর সন্ত্রাসী হামলার দায়েরী মামলার অন্যতম আসামী কাউন্সিলর যুবরাজ গোপসহ অপর আসামীদের গ্রেফতার না করায় পুলিশের বিরুদ্ধে অভিযোগ করেছেন বাদিনী সুপ্রিয়া রানী দাশ। শনিবার (১২ জুন) সকালে নবীগঞ্জ প্রেসক্লাব কার্যালয়ে অনুষ্টিত সাংবাদিক সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে সুপ্রিয়া রানী দাশ বলেন, গেল পৌর নির্বাচনকে কেন্দ্র করে কাউন্সিলর যুবরাজ গোপ তার পরিবারের উপর ক্ষিপ্ত হন। এরজের ধরে বিগত ২৬ এপ্রিল সন্ধ্যায় নবীগঞ্জ পৌরসভার ৪নং ওয়ার্ডস্থ গয়াহরি গ্রামে জ্যোতিষ দাশের বাড়ি সামনে রাস্তার উপর পেয়ে আমার স্বামী বিজিত দাশ মেটনকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে ক্ষতবিক্ষত করেন আমাদের ওয়ার্ড কাউন্সিলর যুবরাজ গোপ, জ্যোতিষ দাশ, সীমা রানী দাশ, উৎফল দাশ ও লিপ্টু দাশসহ একদল লোক। তাদের ধারালো অস্ত্রের আঘাতে আমার স্বামী গুরুতর আহত হয়ে সিলেট ও ঢাকা হাসপাতালে চিকিৎসা গ্রহন করি। আমার স্বামী আহত হয়ে মৃত্যুর সাথে পাঞ্জা লড়ছিল। পুলিশ ঘটনার খবর পেয়ে আমার স্বামীর রক্তাক্ত অবস্থা দেখে তাৎক্ষনিকভাবে জ্যোতিষ দাশকে গ্রেফতার করে। পরে ৫৪ ধারায় জেল হাজতে প্রেরন করে পুলিশ। এ ব্যাপারে আমি নবীগঞ্জ থানায় মামলা নিয়ে গেলে পুলিশ আদালতের আশ্রয় নিতে পরামর্শ দেন। পরবর্তীতে আমি বাদী হয়ে হবিগঞ্জ আদালতে উল্লেখিত দুর্বৃত্তদের আসামী করে মামলা দায়ের করি। মামলাটি আদালতের নির্দেশে এফআইআর হিসেবে নবীগঞ্জ থানায় রুজু হয়। মামলা রুজু হলেও মামলার অন্যতম আসামী যুবরাজ গোপসহ অপরাপর আসামীদেরকে পুলিশ গ্রেফতার করতে পারেনি। অথচ যুবরাজ গোপ প্রকাশ্যে নবীগঞ্জ শহরে ও বাড়িতে ঘুরে বেড়াচ্ছে। আমি অসহায় একজন মহিলা, মামলার তদন্ত কর্মকর্তা এসআই লুৎফুর রহমানকে বারবার তাগিদ দেয়া সত্ত্বেও আসামী গ্রেফতার করিতে তিনি গড়িমশি করছেন। এদিকে আমার স্বামীর বর্তমান শারীরিক অবস্থা এখন পর্যন্ত ভাল নয়। বিছানায় শয্যাসায়ী আছেন। দারিদ্রতার কারনে আমার স্বামীর চিকিৎসা করাইতে গিয়ে ইতিমধ্যে ভিটে বাড়ি বিক্রি করতে হয়েছে। সামাজিক বিচার থেকে বঞ্চিত হয়ে আইনের আশ্রয় নিয়েও আমাদের এত বিড়ম্বনা পোহাতে হবে, তা জানা ছিলনা।
বর্তমানে আমার আহত স্বামী বিজিত দাশ কথা বার্তা বলতে পারছেন না, বাম চোখেঁ দেখতেও পান না। ঘটনাটি এলাকার সকল মানূষ অবগত রয়েছেন।
ন্যায় বিচারের স্বার্থে আমার দায়েরী মামলার অন্যতম আসামী যুবরাজ গোপসহ অপর আসামীদের গ্রেফতার পুর্বক আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহনের জন্য সাংবাদিকদের মাধ্যমে পুলিশের উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করছি।

নবীগঞ্জে আসামী গ্রেফতার না করায় পুলিশের বিরুদ্ধে বাদিনীর সংবাদ সম্মেলন

error: আপনি নিউজ চুরি করার চেষ্টা করছেন। বিশেষ প্রয়োজনে যোগাযোগ করুন ০১৭৬৭৪৪৪৩৩৩