আবহাওয়া - Gono television | বাংলাদেশ সরকার অনুমোদিত বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেল।

টানা বৃষ্টিতে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। চারটি বিভাগের বিভিন্ন এলাকায় বন্যা পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে।

 

সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত চট্টগ্রাম বিভাগ, যেখানে পাহাড়ধসে অন্তত ৩০ জন মারা গেছেন। এছাড়া বিভাগের অনেক এলাকায় সড়ক যোগাযোগও মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয়েছে।

 

এর মধ্যেই বৃষ্টিপাত নিয়ে কিছুটা স্বস্তির বার্তা দিয়েছে বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তর।

 

শুক্রবার (১০ জুলাই) আবহাওয়াবিদ বজলুর রশিদ জানিয়েছেন, চট্টগ্রামে আগের ২৪ ঘণ্টার তুলনায় বৃষ্টির পরিমাণ কমেছে।

এর আগে যেখানে ৩২৯ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছিল, সর্বশেষ ২৪ ঘণ্টায় তা নেমে এসেছে ২১১ মিলিমিটারে।

 

তবে দেশের সব অঞ্চলের জন্য স্বস্তির খবর নয়। আবহাওয়া অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, খুলনা, রাজশাহী ও বরিশাল বিভাগের বিভিন্ন স্থানে এখনও ভারী বৃষ্টির আশঙ্কা রয়েছে। এসব এলাকায় থেমে থেমে সারাদিন বৃষ্টি হতে পারে।

 

জুলাই মাস বর্ষাকালের মধ্যভাগ হওয়ায় এই সময়ে মাঝারি থেকে ভারী বৃষ্টিপাত স্বাভাবিক বলেও উল্লেখ করেন আবহাওয়াবিদ বজলুর রশিদ। তিনি, এ মাসে এমন বৃষ্টিপাত অস্বাভাবিক নয়।

 

বৃষ্টির পরিস্থিতি কবে থেকে আরও উন্নতি হতে পারে-এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি জানান, আগামী শনি ও রোববার থেকে ভারী বৃষ্টির প্রবণতা ধীরে ধীরে কমে আসতে পারে।

 

এছাড়া আবহাওয়ার উন্নতি হলে শনিবার থেকেই নদীবন্দরগুলোর জন্য জারি থাকা সতর্ক সংকেত প্রত্যাহার করা হতে পারে বলেও জানিয়েছেন এই আবহাওয়াবিদ।

কবে থেকে কমতে পারে ভারী বৃষ্টি, জানালেন আবহাওয়াবিদ

টানা বৃষ্টিতে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। চারটি বিভাগের বিভিন্ন এলাকায় বন্যা পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে।   সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত চট্টগ্রাম বিভাগ, যেখানে পাহাড়ধসে অন্তত ৩০ জন মারা গেছেন। বিস্তারিত

সক্রিয় মৌসুমি বায়ুর প্রভাবে রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে ভারি থেকে অতি ভারি বৃষ্টিপাত হতে পারে বলে পূর্বাভাস দিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর। একই সঙ্গে দেশের ১৪টি জেলার ওপর দিয়ে ঝড় বয়ে যাওয়ার আশঙ্কার কথাও জানিয়েছে সংস্থাটি।

 

শনিবার (তারিখ) প্রকাশিত পৃথক দুটি বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়। আবহাওয়া অধিদপ্তরের পূর্বাভাস অনুযায়ী, মৌসুমি বায়ু সক্রিয় থাকায় দেশের বিভিন্ন এলাকায় বজ্রসহ বৃষ্টির প্রবণতা বাড়তে পারে। কোথাও কোথাও ভারি থেকে অতি ভারি বর্ষণও হতে পারে।

 

আবহাওয়াবিদ এ কে এম নাজমুলের সই করা এক বিজ্ঞপ্তিতে জানা যায়, গতকাল বৃহস্পতিবার সকাল ৬টা থেকে পরবর্তী ৪৮ ঘণ্টা (২ দিন) রংপুর,রাজশাহী, ময়মনসিংহ, ঢাকা, খুলনা, বরিশাল, চট্টগ্রাম, সিলেট বিভাগের কোথাও কোথাও ভারি (৪৪–৮৮ মি.মি) থেকে অতি ভারি (৮৮ মি.মি-বেশি) বর্ষণ হতে পারে।

 

এছাড়া, ঢাকা ও চট্টগ্রাম মহানগরীতে অস্থায়ীভাবে জলাবদ্ধতা তৈরি হতে পারে। চট্টগ্রাম বিভাগের পাহাড়ি এলাকায় ভূমিধসের আশঙ্কা রয়েছে। অন্যদিকে আজ শুক্রবার ভোর ৫টা থেকে দুপুর ১টা পর্যন্ত দেশের অভ্যন্তরীণ নদীবন্দরসমূহের জন্য আবহাওয়া অফিসের দেওয়া অপর এক বিজ্ঞপ্তিতে জানা যায়, রাজধানী ঢাকাসহ দেশের ১৪টি জেলার ওপর দিয়ে ঘণ্টায় ৪৫ থেকে ৬০ কিলোমিটার বেগে অস্থায়ীভাবে ঝোড়ো হাওয়া ও বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে। পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, টাঙ্গাইল, ময়মনসিংহ, ঢাকা, ফরিদপুর, কুষ্টিয়া, যশোর, খুলনা, বরিশাল, পটুয়াখালী, কুমিল্লা, নোয়াখালী, চট্টগ্রাম, কক্সবাজার এবং সিলেট অঞ্চলসমূহের উপর দিয়ে দক্ষিণ/দক্ষিণ-পূর্ব দিক থেকে ঘন্টায় ৪৫-৬০ কি.মি. বেগে বৃষ্টি/বজ্রবৃষ্টিসহ অস্থায়ীভাবে দমকা/ঝড়ো হাওয়া বয়ে যেতে পারে।

 

এসব এলাকার নদীবন্দর সমূহকে ০১ নম্বর (পুনঃ) ০১ নম্বর সতর্ক সংকেত দেখাতে বলা হয়েছে।

আগামী ২৪ ঘণ্টা বৃষ্টি নিয়ে আবহাওয়া অফিসের সতর্ক বার্তা

সক্রিয় মৌসুমি বায়ুর প্রভাবে রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে ভারি থেকে অতি ভারি বৃষ্টিপাত হতে পারে বলে পূর্বাভাস দিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর। একই সঙ্গে দেশের ১৪টি জেলার ওপর দিয়ে ঝড় বয়ে বিস্তারিত

আগামী ২৪ থেকে ৭২ ঘণ্টায় দেশের ১৬ জেলার বন্যা পরিস্থিতির আরও অবনতির আশঙ্কা করেছে বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ডের বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র। এ সময়ে কয়েকটি জেলার নদ-নদীর পানি বিপদসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হতে পারে। ফলে নদীসংলগ্ন নিম্নাঞ্চলে স্বল্পমেয়াদি বন্যা এবং কোথাও কোথাও সাময়িক প্লাবনের আশঙ্কা রয়েছে।

 

আজ বুধবার (৮ জুলাই) বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ড থেকে এক পূর্বাভাসে এ তথ্য জানানো হয়েছে। এতে বলা হয়েছে, আগামী ২৪ থেকে ৭২ ঘণ্টায় বান্দরবান ও কক্সবাজার জেলার বন্যা পরিস্থিতির আরও অবনতি হতে পারে। একই সময়ে ফেনী, চট্টগ্রাম ও খাগড়াছড়ি জেলার সংশ্লিষ্ট নদ-নদীর পানি কিছু কিছু স্থানে বিপদসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হতে পারে।

 

এতে এসব জেলার নদীসংলগ্ন নিম্নাঞ্চলের কোথাও কোথাও স্বল্পমেয়াদি বন্যা পরিস্থিতির সৃষ্টি হতে পারে। এছাড়া লক্ষ্মীপুর ও নোয়াখালী জেলার নদীসংলগ্ন নিম্নাঞ্চল সাময়িকভাবে প্লাবিত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

 

এদিকে আগামী ২৪ থেকে ৭২ ঘণ্টায় সিলেট, সুনামগঞ্জ, মৌলভীবাজার, হবিগঞ্জ, নেত্রকোণা, শেরপুর ও ময়মনসিংহ জেলার কয়েকটি নদীর পানি বিপদসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হতে পারে। এর ফলে এসব জেলার নদীসংলগ্ন নিম্নাঞ্চলেও কোথাও কোথাও স্বল্পমেয়াদি বন্যা পরিস্থিতির উদ্ভব হতে পারে।

 

অন্যদিকে আগামী ২৪ থেকে ৪৮ ঘণ্টায় তিস্তা নদীর পানি বিপদসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। এতে নীলফামারী, লালমনিরহাট ও রংপুর জেলার নদীসংলগ্ন নিম্নাঞ্চলে স্বল্পমেয়াদি বন্যা পরিস্থিতির সৃষ্টি হতে পারে।

 

এ ছাড়া আগামী ৭২ ঘণ্টায় ধরলা ও দুধকুমার নদীর পানি লালমনিরহাট ও কুড়িগ্রাম জেলায় সতর্কসীমায় প্রবাহিত হতে পারে। এর ফলে এসব জেলার নদীসংলগ্ন নিম্নাঞ্চলের কোথাও কোথাও সাময়িক প্লাবনের সম্ভাবনা রয়েছে।

 

বন্যা পরিস্থিতির আরও অবনতি হতে পারে ১৬ জেলায়

আগামী ২৪ থেকে ৭২ ঘণ্টায় দেশের ১৬ জেলার বন্যা পরিস্থিতির আরও অবনতির আশঙ্কা করেছে বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ডের বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র। এ সময়ে কয়েকটি জেলার নদ-নদীর পানি বিপদসীমার বিস্তারিত

গত দেড় বছরে বাংলাদেশে মোট ৫২টি ভূমিকম্প অনুভূত হয়েছে। এর মধ্যে ৩৯টির উৎপত্তিস্থল ছিল দেশের অভ্যন্তরে। রিখটার স্কেলে এসব ভূমিকম্পের মাত্রা ছিল ২ দশমিক ৫ থেকে ৫ দশমিক ৭। সমন্বিত দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কর্মসূচির জরিপের তথ্য অনুযায়ী, সাত মাত্রার ভূমিকম্পেই ঢাকার ৭২ হাজার ভবন ধসে পড়বে। পাশাপাশি গ্যাস লাইন ফেটে অগ্নিকুণ্ডে পরিণত হতে পারে রাজধানী। ভূমিকম্পের সংখ্যা বাড়তে থাকায় বড় ধরনের দুর্যোগের ঝুঁকি নিয়ে সতর্ক করেছেন বিশেষজ্ঞরা।

 

প্রতি বছরই বিশ্বের বিভিন্ন দেশে ভূমিকম্পে প্রাণহানির ঘটনা ঘটছে। সাড়ে সাত ও ৭.২ মাত্রার ভূমিকম্পে মানবিক বিপর্যয়ে পড়েছে ভেনেজুয়েলা। বাংলাদেশেও গত বছরে নরসিংদীর মাধবদিতে ৫ দশমিক ৭ মাত্রার ভূমিকম্পে ১০ জনের মৃত্যু হয় এবং আহত হন পাঁচ শতাধিক মানুষ।

 

আবহাওয়া অধিদফতরের ভূমিকম্প পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রের তথ্য অনুযায়ী, গত দেড় বছরে বাংলাদেশে ৫২ বার ভূমিকম্প আঘাত হেনেছে। এর মধ্যে দেশের অভ্যন্তরে উৎপন্ন হয়েছে ৩৯টি। রিখটার স্কেলে ২.৫ থেকে ৫.৭ মাত্রার ছিলো এসব ভূমিকম্প। সবচেয়ে বেশি ৮টি ভূমিকম্পের উৎপত্তি হয়েছে সিলেটে। নরসিংদিতে ৫ টি এবং রংপুরে ৪টি ভূমিকম্প উৎপন্ন হয়েছে। এছাড়া কয়েকটি ভূমিকম্পের উৎপত্তিস্থল ছিল বাংলাদেশ-ভারত সীমান্ত, ভুটান ও মিয়ানমারে।

 

আবহাওয়া অধিদফতরের ভূমিকম্প পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা রুবাইয়াত কবির বলেন, ২০১৫-১৬ থেকে ২০২০-২১ সময় পর্যন্ত বাংলাদেশের অভ্যন্তরে বছরে গড়ে ১০টির কম ভূমিকম্প হতো। তবে গত দুই-তিন বছরে এ সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। তিনি বলেন, প্রায় ১৫০ বছর ধরে এ অঞ্চলে বড় ধরনের ভূমিকম্প না হওয়ায় বড় ভূমিকম্পের ঝুঁকি রয়েছে।

 

গত দেড় বছরে ১৩টি ভূমিকম্পের মাত্রা ছিল রিখটার স্কেলে ৪ থেকে ৫। এমনকি ঢাকার বাড্ডা এলাকায় উৎপন্ন একটি ভূমিকম্পের মাত্রা ছিল ৩ দশমিক ৭। এরপরও যত্রতত্র বহুতল ভবন নির্মাণ অব্যাহত থাকায় ঝুঁকি আরও বাড়ছে।

 

বুয়েটের পুরকৌশল বিভাগের অধ্যাপক ড. মেহেদী আহমেদ আনসারী বলেন, রাজউকের আওতাধীন প্রায় ৬০ শতাংশ এলাকা নরম ও ভরাট মাটির ওপর অবস্থিত। তাই এসব এলাকায় মাটি উন্নয়ন এবং ভূমিকম্প সহনশীল ভবন নির্মাণ নিশ্চিত করতে হবে।

 

রাজউকের অধীন এলাকায় ২১ লাখ ভবনের মধ্যে ৬ লাখ বহুতল। এর প্রায় বেশিরভাগই তৈরি হয়েছে বিল্ডিং কোড না মেনে। তাই যেসব এলাকায় মাটি তুলনামূলকভাবে মজবুত, সেখানে বিল্ডিং কোড মেনে ভবন নির্মাণে তদারকি আরও বাড়ানোরও পরামর্শ দেন তিনি।

 

তিনি আরও বলেন, বিদ্যমান ভবনগুলোর কাঠামোগত সক্ষমতা পরীক্ষা করে প্রয়োজনীয় মজবুতীকরণ করতে হবে। গ্যাস লাইন এনশিওর করা, যাতে ভূমিকম্পের পরে ওখানে বাতাসে গ্যাস ছেড়ে দেওয়া যায়, না হলে আটকা থাকলে ওখানে যদি আগুন লেগে যায়, ওটা সেকেন্ডারি ডিজাস্টার মেজর হয়ে যেতে পারে।

 

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ডিজাস্টার সায়েন্স অ্যান্ড ক্লাইমেট রেজিলিয়েন্স বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. জিল্লুর রহমান বলেন, বড় ধরনের ভূমিকম্পে হাজার হাজার ভবন ধসে পড়লে শুধু সরকারি জনবল দিয়ে পরিস্থিতি সামাল দেওয়া সম্ভব হবে না। এজন্য আগেভাগেই প্রশিক্ষিত স্বেচ্ছাসেবক তৈরি করতে হবে।

 

বিশেষজ্ঞদের মতে, ভূমিকম্পের আগাম পূর্বাভাস দেওয়া সম্ভব নয়। তাই আগাম প্রস্তুতি ও পরবর্তী প্রস্তুতি নিশ্চিত করে ক্ষয়ক্ষতি কমানো সম্ভব।

ঢাকায় ৭ মাত্রার ভূমিকম্পে ধসে পড়তে পারে ৭২ হাজার ভবন

গত দেড় বছরে বাংলাদেশে মোট ৫২টি ভূমিকম্প অনুভূত হয়েছে। এর মধ্যে ৩৯টির উৎপত্তিস্থল ছিল দেশের অভ্যন্তরে। রিখটার স্কেলে এসব ভূমিকম্পের মাত্রা ছিল ২ দশমিক ৫ থেকে ৫ দশমিক ৭। সমন্বিত বিস্তারিত

নীলফামারীতে বন্যার পানিতে ডুবে আছে পাইকার পাড়া এলাকার বাসিন্দারা

মাইদুল ইসলাম: (জেলা প্রতিনিধি নীলফামারী)

নীলফামারী সদর উপজেলার ৬ নং ওয়ার্ড

ব্লু ল্যান্ড স্কুলের পিছনে পাইকার পাড়ার বাসিন্দারা বন্যার পানিতে জলবদ্ধতায় ডুবে আছে। সোমবার

(২৯ জুন) বিকেল ৪ টার সময় সরজমিনে গেলে স্থানীয়রা জানায়, শাহাজান বাবু (মোয়াজ্জেম), খায়রুল ইসলাম, বাবুল ইসলাম, ও নুরনাহার সহ আরও অনেকে জানায়, গত ৩০ বছর ধরে সামান্য বৃষ্টির পানি হলে জলবদ্ধতায় ডুবে যায় পুরো এলাকা ভোগান্তির শিকার হয় আমাদের এবং সন্তানরা যেতে পারেনা স্কুল,কলেজ,ও নামাজ পড়তে যেতে পারে না মসজিদে। প্রতিবছর বন্যা হলে পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা না থাকায় জলবদ্ধতায় পানিতে ডুবে হয়ে পুরো এলাকাবাসী। বিগত ৩ বছর আগে পানির জলবদ্ধতার কারণে দুর্ঘটনা শিকার হয় রিপন (৮) বছরের শিশুর অকাল মৃত্যু হয়। তবুও মেলেনি কোন সমাধান তাই এলাকাবাসীর আকুল আবেদন নীলফামারী পৌরসভা প্রশাসক মহোদয়ের কাছে আমাদের পাইকার পাড়া এলাকার জলাবদ্ধতার নিরাশন ও রাস্তা সংস্কারের দৃষ্টি আকর্ষণ করছি।

নীলফামারীতে বন্যার পানিতে ডুবে আছে পাইকার পাড়া এলাকার বাসিন্দারা

নীলফামারীতে বন্যার পানিতে ডুবে আছে পাইকার পাড়া এলাকার বাসিন্দারা মাইদুল ইসলাম: (জেলা প্রতিনিধি নীলফামারী) নীলফামারী সদর উপজেলার ৬ নং ওয়ার্ড ব্লু ল্যান্ড স্কুলের পিছনে পাইকার পাড়ার বাসিন্দারা বন্যার পানিতে জলবদ্ধতায় বিস্তারিত

বাংলাদেশের পূর্ব ও উত্তরাঞ্চলের নিকটবর্তী সীমান্ত এলাকায় এক ঘণ্টারও কম সময়ের ব্যবধানে পরপর তিনটি ভূমিকম্প অনুভূত হয়েছে।

 

সোমবার ২৯ জুন ভোর ৪টা থেকে ৫টার মধ্যে ভারতের মণিপুর, অরুণাচল প্রদেশ-ভুটান সীমান্ত এবং মেঘালয় অঞ্চলে এই ভূকম্পনগুলোর উৎপত্তি হয়।

 

ভারতের সরকারি ভূমিকম্প পর্যবেক্ষণ সংস্থা ‘ন্যাশনাল সেন্টার ফর সিসমোলজি’র তথ্য অনুযায়ী,

বাংলাদেশ সময় ভোর ৪টা ১২ মিনিটে প্রথম ভূমিকম্পটি আঘাত হানে ভারতের মণিপুরে। রিখটার স্কেলে এর মাত্রা ছিল ৩.৫ এবং এর উপকেন্দ্র ছিল ভূ-পৃষ্ঠ থেকে প্রায় ৫৯ কিলোমিটার গভীরে।

 

দ্বিতীয় ভূমিকম্প (অরুণাচল-ভুটান সীমান্ত):

 

এর প্রায় পাঁচ মিনিট পর, ভোর ৪টা ১৭ মিনিটে অরুণাচল প্রদেশ ও ভুটান সীমান্তবর্তী এলাকায় দ্বিতীয় ভূমিকম্পটি হয়। ৩ মাত্রার এই ভূমিকম্পটির উপকেন্দ্র ছিল মাত্র ৭ কিলোমিটার গভীরে।

 

তৃতীয় ভূমিকম্প (মেঘালয়):

 

সর্বশেষ ভোর ৫টা ৫ মিনিটে সুনামগঞ্জের উত্তরের এলাকা সংলগ্ন ভারতের মেঘালয় রাজ্যে তৃতীয় ভূমিকম্পটি অনুভূত হয়। এর মাত্রা ছিল ২.৯ এবং এটি ভূ-পৃষ্ঠের প্রায় ১০ কিলোমিটার গভীরে সংগঠিত হয়।

 

এর আগে এবং সাম্প্রতিক সময়ে দেশে ও সীমান্ত এলাকায় আরও দুটি ভূমিকম্পের রেকর্ড পাওয়া গেছে:

 

কক্সবাজার-মিয়ানমার সীমান্ত: গত রোববার (২৮ জুন) রাতেও কক্সবাজার-মিয়ানমার সীমান্তবর্তী এলাকায় ৪.৪ মাত্রার একটি ভূমিকম্প অনুভূত হয়।

 

নারায়ণগঞ্জ (অভ্যন্তরীণ): দেশের ভেতরে সর্বশেষ গত ২২ জুন রাত ৯টা ২৮ মিনিটে নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জে ৪ মাত্রার একটি ভূমিকম্প সংগঠিত হয়।

 

ভূ-পৃষ্ঠের ১৬ কিলোমিটার গভীরতায় উৎপত্তি হওয়া এই ভূমিকম্পটি ঢাকা ও আশেপাশের এলাকায় অনুভূত হয়েছিল।

বাংলাদেশের আশপাশে এক ঘণ্টায় তিনবার ভূমিকম্প!

বাংলাদেশের পূর্ব ও উত্তরাঞ্চলের নিকটবর্তী সীমান্ত এলাকায় এক ঘণ্টারও কম সময়ের ব্যবধানে পরপর তিনটি ভূমিকম্প অনুভূত হয়েছে।   সোমবার ২৯ জুন ভোর ৪টা থেকে ৫টার মধ্যে ভারতের মণিপুর, অরুণাচল প্রদেশ-ভুটান বিস্তারিত

 

ভারী বৃষ্টিপাতের প্রভাবে সিলেট, সুনামগঞ্জ ও নেত্রকোনা জেলার নদীসংলগ্ন নিম্নাঞ্চল সাময়িকভাবে প্লাবিত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে বলে জানিয়েছে পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র।

 

সোমবার (১৫ জুন) প্রকাশিত পূর্বাভাসে বলা হয়, বাংলাদেশ ও ভারতের আবহাওয়া অধিদপ্তর এবং বৈশ্বিক আবহাওয়াগত সংস্থাগুলোর তথ্য বিশ্লেষণে এ সতর্কতা দেওয়া হয়েছে।

 

পাউবো জানিয়েছে, উত্তর-পূর্বাঞ্চলের কুশিয়ারা নদী ফেঞ্চুগঞ্জ ও মার্কুলি স্টেশনে এবং সোমেশ্বরী নদী কলমাকান্দা স্টেশনে সতর্কসীমার কাছাকাছি প্রবাহিত হচ্ছে। গত ২৪ ঘণ্টায় সিলেট, ময়মনসিংহ ও রংপুর বিভাগে মাঝারি থেকে ভারী বৃষ্টিপাত হয়েছে।

 

আগামী তিন দিনে দেশের উত্তরাঞ্চল, উত্তর-পূর্বাঞ্চল ও উজানে মাঝারি থেকে ভারী বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা রয়েছে। পরবর্তী দুই দিনে কোথাও কোথাও ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টি হতে পারে বলেও পূর্বাভাসে উল্লেখ করা হয়েছে।

 

ব্রহ্মপুত্র–যমুনা নদ-নদীর পানি বর্তমানে স্থিতিশীল থাকলেও আগামী পাঁচ দিনে তা কিছুটা বাড়তে পারে, তবে বিপদসীমার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। একই সময়ে গঙ্গা–পদ্মা নদীর পানি বাড়লেও তা বিপদসীমার নিচেই থাকবে বলে জানানো হয়েছে।

 

উত্তর-পূর্বাঞ্চলের সুরমা ও কুশিয়ারা নদীর পানি আগামী তিন দিন বাড়তে পারে এবং কিছু এলাকায় সতর্কসীমায় প্রবাহিত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। এ সময় নদীসংলগ্ন নিম্নাঞ্চল সাময়িকভাবে প্লাবিত হতে পারে।

 

ময়মনসিংহ বিভাগের সোমেশ্বরী, ভুলাই ও কংস নদীর পানি দ্রুত বাড়ছে, যা আগামী কয়েক দিন অব্যাহত থাকতে পারে। রংপুর বিভাগের দুধকুমার নদীর পানি বাড়লেও তিস্তা ও ধরলা নদী আপাতত স্থিতিশীল রয়েছে।

 

এদিকে চট্টগ্রাম বিভাগের কিছু নদীর পানি বাড়লেও কয়েকটি নদীর পানি হ্রাস পেয়েছে বলে জানিয়েছে পাউবো।

 

অন্যদিকে আবহাওয়া অধিদপ্তর জানিয়েছে, মৌসুমি বায়ু বর্তমানে মোটামুটি সক্রিয় অবস্থায় রয়েছে। মঙ্গলবার (১৬ জুন) রংপুর, ময়মনসিংহ, সিলেট ও চট্টগ্রাম বিভাগে অনেক জায়গায় এবং দেশের অন্যান্য অঞ্চলে কিছু কিছু জায়গায় বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে। কোথাও কোথাও মাঝারি থেকে ভারী বর্ষণও হতে পারে।

 

আবহাওয়াবিদদের মতে, ২০ জুনের পর দেশে বৃষ্টিপাতের প্রবণতা আরও বাড়তে পারে, যা চলমান ভ্যাপসা গরম কিছুটা কমিয়ে আনতে পারে। চলতি জুন মাসে বৃষ্টিপাত স্বাভাবিকের তুলনায় কিছুটা কম থাকতে পারে বলেও আভাস দেওয়া হয়েছে।

তিন জেলায় বন্যার পূর্বাভাস

  ভারী বৃষ্টিপাতের প্রভাবে সিলেট, সুনামগঞ্জ ও নেত্রকোনা জেলার নদীসংলগ্ন নিম্নাঞ্চল সাময়িকভাবে প্লাবিত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে বলে জানিয়েছে পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র।   সোমবার (১৫ বিস্তারিত

জলবায়ু পরিবর্তনের ক্রমবর্ধমান ঝুঁকি মোকাবিলায় সমন্বিত উদ্যোগ গ্রহণের আহ্বান জানিয়েছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। বিশ্ব পরিবেশ দিবস ২০২৬ উপলক্ষে বৃহস্পতিবার (৪ জুন) দেওয়া এক ফেসবুক বার্তায় তিনি এ আহ্বান জানান।

 

ফেসবুক বার্তায় তিনি বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনের অভিঘাত বর্তমানে সমগ্র মানবজাতির জন্য অন্যতম বড় বৈশ্বিক চ্যালেঞ্জ। সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধি, তাপদাহ, অনিয়মিত বৃষ্টিপাত, ঘূর্ণিঝড়, জলোচ্ছ্বাস, আকস্মিক বন্যা, খরা এবং জীববৈচিত্র্যের অবক্ষয় বিশ্বব্যাপী পরিবেশ ও অর্থনীতির ওপর গভীর প্রভাব ফেলছে।

 

তিনি উল্লেখ করেন, বৈশ্বিক গ্রিনহাউস গ্যাস নিঃসরণে বাংলাদেশের অবদান খুবই কম হলেও ভৌগোলিক অবস্থান, উচ্চ জনঘনত্ব এবং জলবায়ু-সংবেদনশীল অর্থনীতির কারণে দেশটি জলবায়ু ঝুঁকির মুখে রয়েছে।

 

তিনি লেখেন, Climate Risk Index 2026 অনুযায়ী বাংলাদেশ উচ্চ জলবায়ু ঝুঁকির সম্মুখীন। লবণাক্ততা বৃদ্ধি, কৃষি উৎপাদন হ্রাস, জলবায়ুজনিত বাস্তুচ্যুতি এবং প্রাকৃতিক দুর্যোগের ক্রমবর্ধমান তীব্রতা আমাদের উন্নয়ন অগ্রযাত্রার জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

 

তারেক রহমান বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবিলায় জাতীয় অভিযোজন পরিকল্পনা (NAP), জাতীয়ভাবে নির্ধারিত অবদান (NDC), উপকূলীয় সুরক্ষা, সামাজিক বনায়ন, দুর্যোগ প্রস্তুতি এবং প্রকৃতি-ভিত্তিক সমাধানকে গুরুত্ব দিতে হবে।

 

তিনি জানান, পরিবেশ সংরক্ষণ ও জলবায়ু সহনশীলতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে আগামী পাঁচ বছরে ২৫ কোটি বৃক্ষরোপণের কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়েছে। পাশাপাশি ২০ হাজার কিলোমিটার খাল খনন ও পুনঃখননের উদ্যোগ নেওয়ার কথাও উল্লেখ করেন।

 

কৃষিখাতকে জলবায়ু-সহিষ্ণু ও আধুনিক ভিত্তিতে পুনর্গঠনের ওপর গুরুত্বারোপ করে তিনি বলেন, গবেষণা, উদ্ভাবন, প্রশিক্ষণ ও সম্প্রসারণ কার্যক্রমকে অগ্রাধিকার দিতে হবে।

 

বার্তায় নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবহার বৃদ্ধি, সবুজ শিল্পায়ন, পরিবেশবান্ধব নগরায়ণ, উন্নত বর্জ্য ব্যবস্থাপনা, গণপরিবহন উন্নয়ন এবং পরিবেশবান্ধব প্রযুক্তির প্রসারের প্রয়োজনীয়তার কথাও তুলে ধরেন তিনি।

 

সবশেষে তারেক রহমান বলেন, পরিবেশ সচেতনতা, দায়িত্বশীল আচরণ এবং সমন্বিত উদ্যোগের মাধ্যমে একটি সবুজ, নিরাপদ ও জলবায়ু-সহনশীল বাংলাদেশ গড়ে তোলা সম্ভব।

 

সব শেষে তিনি বিশ্ব পরিবেশ দিবস ২০২৬ উপলক্ষে গৃহীত সকল কর্মসূচির সার্বিক সাফল্য কামনা করেন।

জলবায়ু সংকট মোকাবিলায় সমন্বিত উদ্যোগের আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর

জলবায়ু পরিবর্তনের ক্রমবর্ধমান ঝুঁকি মোকাবিলায় সমন্বিত উদ্যোগ গ্রহণের আহ্বান জানিয়েছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। বিশ্ব পরিবেশ দিবস ২০২৬ উপলক্ষে বৃহস্পতিবার (৪ জুন) দেওয়া এক ফেসবুক বার্তায় তিনি এ আহ্বান বিস্তারিত

চাঁপাইনবাবগঞ্জের তিন উপজেলায় পৃথক বজ্রপাতের ঘটনায় তিন নারীসহ ছয়জনের মৃত্যু হয়েছে। বৃহস্পতিবার (৪ জুন) বিকেলে বৃষ্টির সময় জেলার সদর, শিবগঞ্জ ও নাচোল উপজেলায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।

 

নিহতরা হলেন, চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর উপজেলার আতাহার গ্রামের রাব্বিলের ছেলে আব্দুল্লাহ, শিবগঞ্জ উপজেলার চকনরেন্দ্র গ্রামের আব্দুর রবের স্ত্রী মাহমুদা আক্তার, রানীবাড়ি বাজারপাড়ার আবুল কাশেমের মেয়ে সাদিয়া খাতুন, মোবারকপুর ইউনিয়নের শিকারপুর দক্ষিণপাড়ার ফিটু আলীর ছেলে মেসবাউল, নাচোল উপজেলার লাহাবাড়ি গ্রামের সুমিয়ারা বেগম এবং একই উপজেলার নেজামপুর ইউনিয়নের গোসাইপুর গ্রামের শাফিউলের ছেলে হাসান আলি লালু।

 

এ বিষয়ে শিবগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মতিউর রহমান বলেন, শিবগঞ্জ উপজেলার নিহত তিনজন বাড়ির পাশের আমবাগানে আম কুড়ানোর সময় আকস্মিক বজ্রপাত হলে ঘটনাস্থলেই তাদের মৃত্যু হয়।

 

এদিকে, শিবগঞ্জ উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মিজানুর রহমান বলেন, নিহত তিন পরিবারের প্রত্যেককে তাৎক্ষণিকভাবে ২৫ হাজার টাকা করে আর্থিক সহায়তা প্রদান করা হয়েছে।

 

অন্যদিকে, চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) একরামুল হোসাইন বলেন, আতাহার এলাকায় বৃষ্টির মধ্যে মাঠ থেকে গরু আনতে গিয়ে বজ্রপাতে গুরুতর আহত হয় আব্দুল্লাহ। পরে স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করে।

 

নাচোল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সুকোমল চন্দ্র দেবনাথ বলেন, নাচোল উপজেলার লাহাবাড়ি এলাকায় মাঠে ঘাস কেটে বাড়ি ফেরার পথে বজ্রপাতে সুমিয়ারা বেগমের মৃত্যু হয়। এদিকে আমকুড়াতে গিয়ে বজ্রপাতে নাচোল উপজেলার গোসাইপুর গ্রামের হাসান আলি লালুর মৃত্যু হয়।

 

এ বিষয়ে স্থানীয় প্রশাসন জানায়, চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর ও নাচোল উপজেলার নিহত পরিবারগুলোকে ২৫ হাজার টাকা করে আর্থিক সহায়তা প্রদান করা হয়েছে।

চাঁপাইনবাবগঞ্জে বজ্রপাতে ৬ জনের মৃত্যু

চাঁপাইনবাবগঞ্জের তিন উপজেলায় পৃথক বজ্রপাতের ঘটনায় তিন নারীসহ ছয়জনের মৃত্যু হয়েছে। বৃহস্পতিবার (৪ জুন) বিকেলে বৃষ্টির সময় জেলার সদর, শিবগঞ্জ ও নাচোল উপজেলায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।   নিহতরা হলেন, চাঁপাইনবাবগঞ্জ বিস্তারিত

দেশের চার জেলার ওপর দিয়ে দুপুর ১টার মধ্যে ঘণ্টায় সর্বোচ্চ ৬০ কিলোমিটার বেগে দমকা অথবা ঝড়ো হাওয়া বয়ে যেতে পারে। একইসাথে হতে পারে বৃষ্টি অথবা বজ্রবৃষ্টি।

 

বৃহস্পতিবার (৪ জুন) ভোর ৫টা থেকে দুপুরে ১টা পর্যন্ত দেশের অভ্যন্তরীণ নদীবন্দরগুলোর জন্য দেওয়া আবহাওয়ার পূর্বাভাসে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

 

আবহাওয়া অফিস জানায়– বগুড়া, টাংগাইল, ময়মনসিংহ ও সিলেট অঞ্চলের ওপর দিয়ে পশ্চিম বা উত্তর-পশ্চিম দিক থেকে ঘণ্টায় ৪৫-৬০ কিলোমিটার বেগে অস্থায়ীভাবে দমকা অথবা ঝড়ো হাওয়াসহ বৃষ্টি অথবা বজ্রবৃষ্টি হতে পারে।

 

এসব এলাকার নদীবন্দরগুলোকে ১ নম্বর সতর্ক সংকেত প্রদর্শনের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

দুপুরের মধ্যে ৪ জেলায় ঝড়সহ বজ্রবৃষ্টির আভাস

দেশের চার জেলার ওপর দিয়ে দুপুর ১টার মধ্যে ঘণ্টায় সর্বোচ্চ ৬০ কিলোমিটার বেগে দমকা অথবা ঝড়ো হাওয়া বয়ে যেতে পারে। একইসাথে হতে পারে বৃষ্টি অথবা বজ্রবৃষ্টি।   বৃহস্পতিবার (৪ জুন) বিস্তারিত

মালয়েশিয়ায় ১২৬ জন বাংলাদেশি কর্মীর ৩ মাস বেতন নেই। সমাধানে কোম্পানি পরিদর্শনে দূতাবাস

 

মো:নুরুল ইসলাম সুজন কুয়ালালামপুর মালয়েশিয়া।।

 

মালয়েশিয়ার পাহাং রাজ্যের প্লাইউড প্রস্তুতকারক প্রতিষ্ঠান মেনটাকাব ভিনিয়ার অ্যান্ড প্লাইউড এসডিএন বিএইচডি-তে কর্মরত প্রায় ২৫০ জন অভিবাসী শ্রমিক জানিয়েছেন, তিন মাসেরও বেশি সময় ধরে তাঁদের বেতন দেওয়া হয়নি, যার ফলে তাঁদের এবং দেশে থাকা তাঁদের পরিবারের জন্য দুর্ভোগ সৃষ্টি হয়েছে।

বাংলাদেশ, মিয়ানমার, ইন্দোনেশিয়া ও নেপালের শ্রমিকরাও দাবি করেছেন যে, তাঁদের চাকরির চুক্তিতে উল্লিখিত শর্তের চেয়ে ভিন্ন কর্মপরিবেশে তাঁদেরকে কাজ করতে হয়েছে।

১২৬ জন বাংলাদেশি শ্রমিকের একজন মুখপাত্র স্থানীয় সংবাদমাধ্যম ফ্রী মালয়েশিয়া টুডে-কে জানান যে, বকেয়া মজুরি এখানে তাদের দুর্ভোগের কারণ হচ্ছে এবং দেশে থাকা তাদের পরিবারগুলো ঋণ বা বন্ধকী ঋণ পরিশোধ করতে হিমশিম খাচ্ছে।

 

তারা জানান কলিং ভিসায় মালয়েশিয়া যেতে বেশিরভাগেরই জনপ্রতি প্রায় ১৬ থেকে ১৮ হাজার রিঙ্গিত খরচ হয়েছে। এই অর্থের একটি বড় অংশ তারা ব্যাংক ঋণ, নিজেদের জমি বন্ধক রেখে অথবা পরিবারের সদস্যদের কাছ থেকে ধার করে জোগাড় করেছিলেন। ভাগ্য বদলের আশায় পাড়িজমানো এসব কর্মীদের পরিবার তাদের পাঠানো টাকার ওপর নির্ভরশীল। কর্মীরা বলেন “আমরা এখানে যখন সংগ্রাম করছি, আমাদের প্রিয়জনেরাও তখন দুর্ভোগ ও উদ্বেগের সম্মুখীন হচ্ছেন। আমরা আশা করি মালয়েশীয় কর্তৃপক্ষ আমাদের বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে নেবে”।

 

উল্লখ্য, কোম্পানিটির বৈদেশিক বাজারগুলোর মধ্যে রয়েছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, দক্ষিণ আফ্রিকা এবং উপসাগরীয় রাষ্ট্রসমূহ।

 

শ্রমিকরা অভিযোগ করেছেন যে, চুক্তিতে নির্ধারিত আট ঘণ্টার পরিবর্তে তাঁদেরকে দৈনিক ৬৫ রিঙ্গিত মজুরিতে দিনে ১২ ঘণ্টা পর্যন্ত কাজ করতে বাধ্য করা হতো এবং তাঁদেরকে নিয়মিতভাবে সাপ্তাহিক ছুটির দিন দেওয়া হতো না।

“তারা আমাদের পাসপোর্ট আটকে রেখেছে, যা আমাদের চুক্তির লঙ্ঘন। এছাড়াও, আমাদের বার্ষিক ছুটিতে দেশে যেতে চাইলে মালয়েশিয়ায় ফিরে আসা নিশ্চিত করার জন্য ২৫০০ রিঙ্গিত জামানত চাইছে। এটা ঠিক নয়,” মুখপাত্র বলেন।

 

তিনি বলেন, তারা বাংলাদেশ হাই কমিশন ও শ্রম বিভাগকে বিষয়টি জানালেও তাদের অভিযোগ তদন্ত করতে কোনো কর্মকর্তা আসেননি।

 

তবে কর্মীদের অভিযোগ সঠিক নয় দাবী করে দূতাবাস থেকে আরটিভিকে জানায়, গতকাল ১১ আগস্ট) সকাল ১১ টায় কর্মীদের পক্ষ থেকে জানানোর পর দূতাবাস থেকে নিয়োগকর্তার সাথে যোগাযোগ করে সকল সমস্যা সমাধানের লক্ষে আগামীকাল ১৩ আগস্ট দূতাবাস, নিয়োগকর্তা এবং কর্মী প্রতিনিধিদের সমন্বয়ে ত্রিপক্ষীয় বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে। বৈঠকে অংশ নিতে ইতোমধ্যে দূতাবাসের প্রতিনিধি দল সেখানে রওনা দিয়েছেন।

 

এছাড়া অভিযোগের বিষয়ে বিস্তারিত জানতে যোগাযোগ করা হলে কোম্পানির একজন মুখপাত্র জানান, কোম্পানির নিজস্ব সমস্যার কারণে বেতন প্রদানে বিলম্ব হয়েছে।

তিনি বলেছেন, কোম্পানি কর্মীদের বেতনের একাংশ পরিশোধ করেছে, কিন্তু ঠিক কত টাকা পরিশোধ করা হয়েছে তা জানাতে রাজি হননি।

 

আমরা বলছি না যে আমরা তাদের পাওনা পরিশোধ করব না। আমরা যত দ্রুত সম্ভব তাদের বকেয়া নিষ্পত্তি করার জন্য যথাসাধ্য চেষ্টা করছি।

“সমস্যা হলো, তারা আমাদের পরিকল্পনা শুনতে চায় না। তাদের সাথে কথা বলাও কঠিন, কারণ তারা আক্রমণাত্মক,” তিনি বললেন।

 

মুখপাত্র দাবি করেছেন যে, শ্রমিকদের দাবি দিন দিন বাড়ছিল, যার ফলে কোম্পানির পক্ষে বিষয়টি সামাল দেওয়া কঠিন হয়ে পড়ছিল। তিনি আরও বলেন, কোম্পানির ওপর চাপ সৃষ্টির জন্য তাদের অন্যান্য অভিযোগগুলোকে অতিরঞ্জিত করা হয়েছে।

মালয়েশিয়ায় ১২৬ জন বাংলাদেশি কর্মীর ৩ মাস বেতন নেই। সমাধানে কোম্পানি পরিদর্শনে দূতাবাস

জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটোয়ারী বলেছেন, ‘এই বিএনপি জিয়াউর রহমানের বিএনপি নয়, খালেদা জিয়ার বিএনপিও নয়। এটি ক্রমেই একটি মাফিয়া-গোষ্ঠীনির্ভর রাজনৈতিক কাঠামোয় পরিণত হচ্ছে, এমন অভিযোগ ও আশঙ্কা এখন জনমনে গভীরভাবে জায়গা করে নিচ্ছে।’

 

বুধবার (১২ আগস্ট) নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক অ্যাকাউন্টে দেওয়া এক স্ট্যাটাসে এসব কথা বলেন তিনি।

 

স্ট্যাটাসে নাসীরুদ্দীন পাটোয়ারী লেখেন, ‘জনগণের গলার কাঁটা বিএনপি আজ জনগণের জন্য গলার কাঁটা হয়ে দাঁড়িয়েছে। এই কাঁটা গভীরভাবে বিঁধে যাওয়ার আগেই সরিয়ে ফেলতে হবে; নইলে দীর্ঘমেয়াদে এই ক্ষত বয়ে বেড়াতে হবে

।’

অনেকে বিএনপিকে আরও সময় ও সুযোগ দেওয়ার কথা বলছেন উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘মাত্র পাঁচ মাস হয়েছে, তাদের আরও সময় ও সুযোগ দেওয়া উচিত। আমি মোটেই একমত নই। কারণ গণঅভ্যুত্থানের পর থেকেই তাদের কর্মকাণ্ড ও রাজনৈতিক চরিত্র সম্পর্কে যথেষ্ট ইঙ্গিত পাওয়া গেছে।’

 

বিএনপির রাজনীতির সমালোচনা করে এনসিপির এই নেতা বলেন, ‘আওয়ামী লীগ ও ভারতনির্ভরতার পুরোনো রাজনীতির পুনরাবৃত্তি দেশের সার্বভৌমত্বের প্রশ্নে গভীর উদ্বেগ তৈরি করছে।’

 

সরকারের বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের কার্যক্রম নিয়েও প্রশ্ন তোলেন নাসীরুদ্দীন। তিনি লেখেন, ‘সরকারের বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের ব্যর্থতা নিয়েও মানুষের প্রশ্ন বাড়ছে—শিক্ষামন্ত্রী ব্যর্থ, অর্থমন্ত্রী ব্যর্থ, স্বাস্থ্যমন্ত্রী ব্যর্থ, জ্বালানি মন্ত্রণালয়ে দ্বিগুণ ব্যর্থতা, আর স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ব্যস্ত এস আলমের হিসাব-নিকাশে!’

 

দেশের সামগ্রিক পরিস্থিতি নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করে তিনি বলেন, ‘এরই মধ্যে দেশে নতুন করে জঙ্গি নাটকের আশঙ্কা, পাহাড়ে অস্থিরতা এবং সম্ভাব্য খাদ্যসংকট, সব মিলিয়ে পরিস্থিতি আরও উদ্বেগজনক হয়ে উঠছে।’

 

বিএনপির বর্তমান রাজনৈতিক চরিত্র নিয়েও মন্তব্য করে নাসীরুদ্দীন বলেন, ‘এই বিএনপি জিয়াউর রহমানের বিএনপি নয়, খালেদা জিয়ার বিএনপিও নয়। এটি ক্রমেই একটি মাফিয়া-গোষ্ঠীনির্ভর রাজনৈতিক কাঠামোয় পরিণত হচ্ছে, এমন অভিযোগ ও আশঙ্কা এখন জনমনে গভীরভাবে জায়গা করে নিচ্ছে।’

 

 

 

 

স্ট্যাটাসের শেষ দিকে তিনি লেখেন, ‘ক্ষত ছোট থাকতেই চিকিৎসা জরুরি। ক্ষত গভীর হয়ে গেলে তার বোঝা শুধু একটি দল নয়, পুরো জাতিকেই দীর্ঘদিন বহন করতে হয়।’

 

‘বাংলাদেশের স্বার্থে, সার্বভৌমত্বের স্বার্থে এবং জনগণের ভবিষ্যতের স্বার্থে, সময় থাকতে এই রাজনৈতিক গলার কাঁটা সরানো জরুরি’—বলে মন্তব্য শেষ করেন এনসিপির মুখ্য সমন্বয়ক।

বিএনপি ক্রমেই মাফিয়া-গোষ্ঠীনির্ভর দলে পরিণত হচ্ছে: নাসীরুদ্দীন পাটোয়ারী

নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠন ছাত্রলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক গোলাম রাব্বানীর ছোট ভাই ও ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) সাবেক সহকারী কমিশনার মো. গোলাম রুহানী ও সাবেক যুগ্ম কমিশনার বিপ্লব কুমার সরকারসহ পুলিশের উর্ধ্বতন ৬ কর্মকর্তাকে চাকরি থেকে বরখাস্ত করা হয়েছে।

 

বুধবার (১২ আগস্ট) রাষ্ট্রপতির আদেশক্রমে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব মনজুর মোর্শেদ চৌধুরী স্বাক্ষরিত ছয়টি পৃথক প্রজ্ঞাপনে এসব তথ্য জানানো হয়েছে।

 

বরখাস্ত হতে যাওয়া অন্য পুলিশ কর্মকর্তারা হলেন— সুদীপ কুমার চক্রবর্তী, রাজন কুমার দাস, কাজী আশরাফুল আজীম ও মো. ইকবাল হোসাইন।

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।

 

সূত্র জানায়, তাদের বিরুদ্ধে কর্মস্থলে অননুমোদিতভাবে অনুপস্থিত থাকা এবং পলায়নের অভিযোগে বিভাগীয় মামলা করা হয়। তদন্তে অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ার পর তাদের চাকরি থেকে বরখাস্ত করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

 

ছয় কর্মকর্তার মধ্যে ডিএমপির সাবেক যুগ্ম কমিশনার বিপ্লব কুমার সরকার সাময়িক বরখাস্ত হয়ে বরিশালে রেঞ্জ ডিআইজি কার্যালয়ে সংযুক্ত ছিলেন। সাবেক ছাত্রলীগ সাধারণ সম্পাদক গোলাম রাব্বানীর ছোট ভাই মো. গোলাম রুহানী বর্তমানে সাময়িক বরখাস্ত ও পলাতক।

 

সুদীপ কুমার চক্রবর্তী সাময়িক বরখাস্ত হয়ে বরিশাল রেঞ্জ ডিআইজির কার্যালয়ে সংযুক্ত ছিলেন। রাজন কুমার দাস সাময়িক বরখাস্ত ও পলাতক। জুলাই আন্দোলনের সময় ‘গুলি করি, মরে একটা, আহত হয় একটা। একটাই যায় স্যার, বাকিডি যায় না’- মন্তব্য করা মো. ইকবাল হোসাইন সাময়িক বরখাস্ত হয়ে খুলনা রেঞ্জ ডিআইজির কার্যালয়ে সংযুক্ত ছিলেন। কাজী আশরাফুল আজীম সাময়িক বরখাস্ত হয়ে চট্টগ্রাম রেঞ্জ ডিআইজি কার্যালয়ে সংযুক্ত

ছিলেন।

 

চাকরি হারালেন গোলাম রুহানী-বিপ্লব কুমার, প্রজ্ঞাপন জারি

টিএসপি সার সরকারি নির্ধারিত দামের চেয়ে বেশি দামে বিক্রির অভিযোগ তুলে ‘সিন্ডিকেট’র বিরুদ্ধে প্রশ্ন তুলেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী। তিনি বলেছেন, ‘সবার আগে সিন্ডিকেট, সবার আগে ভাইয়া। ভাইয়া সিন্ডিকেট রাজ্যে সবাইকে স্বাগত!।’

 

বুধবার (১২ আগস্ট) নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক অ্যাকাউন্ট থেকে দেওয়া এক ফেসবুক স্ট্যাটাস ও এর কমেন্টে এসব বলেন তিনি।

 

সরকারি নির্ধারিত দামের চেয়ে বেশি দামে কৃষকদের সার কিনতে হচ্ছে বলেও দাবি করে পাটওয়ারী বলেন, ‘টিএসপি সারের সরকারি দাম ১ হাজার ৩৫০ টাকা। কৃষককে কিনতে হচ্ছে ১ হাজার ৮০০ টাকায়!’

তিনি লেখেন, প্রতি বস্তায় অতিরিক্ত ৪৫০ টাকা করে নেওয়া হচ্ছে। এই অর্থ কোথায় যাচ্ছে এবং কার পকেটে যাচ্ছে—এমন প্রশ্নও করেন তিনি। পাশাপাশি কারা এই সিন্ডিকেট চালাচ্ছে, তা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন এনসিপির এই নেতা।

 

 

 

নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী আরও লেখেন, ‘অদ্ভুত ব্যাপার হলো, সিন্ডিকেটের কারও নাম নেই, পরিচয় নেই; তারা যেন অদৃশ্য ভূত! কিন্তু এই সিন্ডিকেটের নেপথ্যের হোতা হিসেবে বারবার ভাইয়ার নামই সামনে আসছে।’

 

পরে কমেন্ট সেকশনে তিনি লেখেন, ‘সবার আগে সিন্ডিকেট, সবার আগে ভাইয়া। ভাইয়া সিন্ডিকেট রাজ্যে সবাইকে স্বাগত!’

 

তবে পোস্টে ‘ভাইয়া’ বলতে কাকে বোঝানো হয়েছে, তা স্পষ্ট করেননি নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী।

‘ভাইয়া সিন্ডিকেট’ রাজ্যে সবাইকে স্বাগত: নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী

ক্যাম্পাসে ছাত্রসংগঠনগুলোর মধ্যে গায়ের জোর ও পেশিশক্তির পরিবর্তে মেধা, যোগ্যতা ও বুদ্ধিবৃত্তিক কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে প্রতিযোগিতা হওয়া উচিত বলে মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় সভাপতি নূরুল ইসলাম সাদ্দাম।

 

তিনি বলেন, ‘শক্তি থাকলেই সব সময় শক্তি দেখাতে হয় না। আমরা চাই জুলাইয়ের পরে ক্যাম্পাসগুলোতে মেধার চর্চা হোক। মেধার ভিত্তিতে কম্পিটিশন হোক। যুদ্ধ হলে ইন্টেলেকচুয়াল ওয়ার হওয়া উচিত। গায়ের জোর সবাই দেখাতে পারে, কিন্তু ছাত্রশিবির গায়ের জোর দেখাতে চায় না। আমরা চাই মেধা নিয়ে প্রতিযোগিতা হোক।’

 

বুধবার (১২ আগস্ট) কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের (কুবি) প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থীদের নিয়ে বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবির কুবি শাখার আয়োজিত নবীনবরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।

 

ক্যাম্পাসে সাম্প্রতিক সহিংসতার প্রসঙ্গ টেনে সাদ্দাম হোসেন বলেন, ছাত্রসংগঠনগুলোর মধ্যে প্রতিযোগিতা থাকা স্বাভাবিক। তবে সেই প্রতিযোগিতা হতে হবে শিক্ষার্থীদের কল্যাণ ও ইতিবাচক কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে। পেশিশক্তি প্রদর্শন করে নেতৃত্ব প্রতিষ্ঠার চেষ্টা ছাত্ররাজনীতিকে ক্ষতিগ্রস্ত করে।

 

তিনি বলেন, ‘আমরা এখন পর্যন্ত কোনো জায়গায় মাইর খেলেও মাইরের কোনো জবাব দিচ্ছি না। তার মানে এই না যে আমাদের শক্তি নেই। এটা মনে করার কোনো কারণ নেই। শক্তি থাকলেই সব সময় শক্তি দেখাতে হয় না।’

 

ছাত্ররাজনীতির প্রতিযোগিতার ধরন ব্যাখ্যা করে শিবির সভাপতি বলেন, ‘আমি একটা নবীনবরণ করলে তুমি আরও ১০টা নবীনবরণ করো। আমি স্টুডেন্টদের নিয়ে হায়ার এডুকেশনের একটা প্রোগ্রাম করলে তুমি আরও ২০টা করো। আমি সফটওয়্যার ডেভেলপমেন্ট নিয়ে প্রোগ্রাম করলে তুমি আরও ভালো প্রোগ্রাম করো। এভাবেই প্রতিযোগিতা হওয়া উচিত।’

 

তিনি বলেন, ‘গায়ের জোর দিয়ে সবাই কিছু একটা করতে পারে। কিন্তু শিক্ষার্থীদের জন্য কে বেশি কাজ করতে পারে, কে বেশি ভালো উদ্যোগ নিতে পারে, কে শিক্ষার্থীদের সমস্যাগুলো নিয়ে বেশি কথা বলতে পারে—সেই প্রতিযোগিতাই হওয়া উচিত।’

 

সাদ্দাম হোসেন বলেন, জুলাইয়ের পর দেশের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে নতুন ধরনের ছাত্ররাজনীতির চর্চা প্রয়োজন। ছাত্রসংগঠনগুলোর কাজ হওয়া উচিত শিক্ষার্থীদের একাডেমিক উন্নয়ন, উচ্চশিক্ষা, গবেষণা, ক্যারিয়ার ও সামাজিক সচেতনতা বৃদ্ধিতে ভূমিকা রাখা।

 

তিনি বলেন, ‘জুলাইয়ের পরে ক্যাম্পাসগুলোতে মেধার চর্চা হওয়া উচিত। মেধার ভিত্তিতে কম্পিটিশন হওয়া উচিত। যুদ্ধটা হলে ইনটেলেকচুয়াল ওয়ার হওয়া উচিত।’

 

বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে শিবির সভাপতি বলেন, বিশ্ববিদ্যালয় শুধু সার্টিফিকেট অর্জনের জায়গা নয়; এটি জ্ঞান, মেধা, নৈতিকতা ও নেতৃত্ব তৈরির প্রতিষ্ঠান। শিক্ষার্থীদের নিজেদের যোগ্যতা অর্জনের পাশাপাশি সমাজ ও দেশের প্রতি দায়বদ্ধতা তৈরি করতে হবে।

 

তিনি বলেন, একটা সোসাইটি এমনিই তৈরি হয় না। একটা সমৃদ্ধ বাংলাদেশ মুখের কথায় তৈরি হয় না। যে সোসাইটি নিজেকে তৈরি করতে পেরেছে, সেই সোসাইটির মানুষগুলোকে আগে তৈরি করতে হবে। বিশ্ববিদ্যালয় যদি শুধু সার্টিফিকেট দেয়, কিন্তু নৈতিক মানুষ তৈরি করতে না পারে, তাহলে সেই শিক্ষা সমাজের জন্য কতটা কার্যকর—সেটা ভাবতে হবে।

 

দেশের উন্নয়নে মেধাবীদের ভূমিকার প্রসঙ্গ টেনে শিবির সভাপতি সিঙ্গাপুরের উদাহরণ তুলে ধরেন। তিনি বলেন, মেধাবীদের যথাযথভাবে মূল্যায়ন ও রাষ্ট্র পরিচালনায় তাদের সম্পৃক্ত করার মাধ্যমে একটি দেশ দ্রুত এগিয়ে যেতে পারে। বাংলাদেশেও মেধাভিত্তিক নেতৃত্ব প্রতিষ্ঠার প্রয়োজন রয়েছে।

 

তিনি বলেন, মেধার মূল্যায়ন না থাকলে কোনো সোসাইটি এগোতে পারে না। মেধাবীদের সামনে নিয়ে আসতে হবে। যারা যোগ্য, যারা মেধাবী, যারা নৈতিক—তাদের নেতৃত্বে আসার সুযোগ তৈরি করতে হবে।

 

শিবির সভাপতি আরও বলেন, ছাত্ররাজনীতির মূল প্রতিযোগিতা হওয়া উচিত শিক্ষার্থীদের জন্য ভালো কিছু করার ক্ষেত্রে। সংগঠনগুলো কে কত বেশি শিক্ষার্থীর পাশে দাঁড়াতে পারে, কে কত বেশি শিক্ষামূলক ও জনকল্যাণমূলক কর্মসূচি নিতে পারে এবং কে কত বেশি যোগ্য নেতৃত্ব তৈরি করতে পারে—তার ভিত্তিতেই নিজেদের প্রমাণ করা উচিত।

 

বুধবার (১২ আগস্ট) কুমিল্লা শহরের ঢুলিপাড়া চৌমুহনী এলাকায় এ নবীনবরণ ও ক্যারিয়ার গাইডলাইন অনুষ্ঠান কুবি শাখা ছাত্রশিবিরের সাধারণ সম্পাদক সাইফুল ইসলামের সঞ্চালনায় পরিচালিত হয়। এতে সভাপতিত্ব করেন বিশ্ববিদ্যালয় শাখা সভাপতি মোজাম্মেল হোসেন আবির। প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় সভাপতি নুরুল ইসলাম সাদ্দাম।

 

এ ছাড়াও প্রধান বক্তা হিসেবে উপস্থিত ছিলেন রাঙামাটি বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য ও চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আতিয়ার রহমান। এ ছাড়াও উপস্থিত ছিলেন কুমিল্লা মহানগর ও বিশ্ববিদ্যালয় শাখা শিবিরের অন্য নেতারা, বিশ্ববিদ্যালয়ের নবীন শিক্ষার্থী, শিক্ষক ও সাংবাদিকরা।

গায়ের জোর নয়, মেধা নিয়ে প্রতিযোগিতা চাই: শিবির সভাপতি

ভুল করে ইঁদুর মারার গ্যাস ট্যাবলেট খেয়ে কিশোরীর মৃত্যু, শ্যামনগরে

 

সংবাদদাতা: ইয়াছিন মোড়ল

 

সাতক্ষীরার শ্যামনগরে ভুল করে ইঁদুর মারার গ্যাস ট্যাবলেট খেয়ে সোহানা পারভীন (১৭) নামে এক কিশোরীর মৃত্যু হয়েছে। মঙ্গলবার দিবাগত রাত সাড়ে ১২টার দিকে উপজেলার জয়নগর গ্রামে নিজ বাড়িতে এ ঘটনা ঘটে।

 

নিহত সোহানা পারভীন জয়নগর গ্রামের আব্দুল মান্নানের মেয়ে। পারিবারিক ও থানা সূত্রে জানা যায়, রাতে ভুলক্রমে ইঁদুর মারার জন্য ব্যবহৃত গ্যাস ট্যাবলেট খেয়ে গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েন তিনি।

 

পরে পরিবারের সদস্যরা দ্রুত সোহানাকে উদ্ধার করে শ্যামনগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়ার চেষ্টা করেন। তবে হাসপাতালে নেওয়ার পথেই তার মৃত্যু হয়।

 

শ্যামনগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. শাফিউল ইসলাম পাটোয়ারী ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, পরিবারের পক্ষ থেকে কোনো অভিযোগ না থাকায় মরদেহ পারিবারিকভাবে দাফন করা হয়েছে।

করে ইঁদুর মারার গ্যাস ট্যাবলেট খেয়ে কিশোরীর মৃত্যু, শ্যামনগরে

গাইবান্ধায় বাসদ (মার্কসবাদী)’র বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ অনুষ্ঠিত

 

শাহ্ পারভেজ সংগ্রাম,গাইবান্ধা প্রতিনিধি

জ্বালানি তেল আমদানি, বিদ্যুৎ বিতরণ, রেল, পর্যটন মোটেলসহ ৪৪টি রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠান বেসরকারি খাতে তুলে দেওয়া এবং অত্যাবশ্যকীয় ওষুধের মূল্যতালিকা বাতিলের সিদ্ধান্ত প্রত্যাহারের দাবিতে গাইবান্ধায় বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ করেছে বাসদ (মার্কসবাদী)।

মঙ্গলবার (১২ আগস্ট) বেলা ১২টায় পার্টি গাইবান্ধা জেলা শাখার উদ্যোগে জেলা শহরে এ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়।

পরবর্তী সমাবেশে জেলা আহ্বায়ক কমরেড আহসানুল হাবিব সাঈদের সভাপতিত্বে বক্তব্য দেন জেলা কমিটির সদস্য কমরেড গোলাম ছাদেক লেবু, কাজী আবু রাহেন শফিউল্লাহ খোকন ও নিলুফার ইয়াসমিন শিল্পী।

সমাবেশে বক্তারা বলেন, জ্বালানি তেল আমদানি ও বিদ্যুৎ বিতরণ বেসরকারি খাতে ছেড়ে দিলে পুরো দেশ ও জনগণ বহুজাতিক বা বেসরকারি কোম্পানির কাছে জিম্মি হয়ে পড়বে। রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠান জনগণের সম্পদ; তা কোনো ব্যক্তির মুনাফার জন্য ছেড়ে দেওয়া অন্যায়।

নেতৃবৃন্দ অবিলম্বে রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠান ব্যক্তিমালিকানায় দেওয়ার পাঁয়তারা এবং জনস্বার্থবিরোধী ওষুধের মূল্যতালিকা বাতিলের সিদ্ধান্ত প্রত্যাহারের দাবি জানান।

 

পাশাপাশি ম্যানেজিং কমিটির মাধ্যমে শিক্ষক নিয়োগ বাতিল করে এনটিআরসিএ (NTRCA)-এর মাধ্যমে নিয়োগ প্রক্রিয়া বহাল রাখার আহ্বান জানান।

গাইবান্ধায় বাসদ (মার্কসবাদী)’র বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ অনুষ্ঠিত 

চিত্রনায়ক মোহাম্মদ শাহরিয়ার ইমন ওরফে সালমান শাহকে হত্যার অভিযোগে করা মামলায় গ্রেপ্তার খলনায়ক আশরাফুল হক ডনের জামিন আবেদন নামঞ্জুর করেছেন আদালত। বুধবার (১২ আগস্ট) দুপুরে শুনানি শেষে ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মোহাম্মদ এহসানুল ইসলামের আদালত এ আদেশ দেন।

 

এদিন আসামি পক্ষের আইনজীবী মো. তরিকুল ইসলাম জুয়েল জামিন চেয়ে শুনানি করেন। রাষ্ট্রপক্ষে মহানগর পাবলিক প্রসিকিউটর ওমর ফারুক ফারুকী এর বিরোধিতা করেন। উভয় পক্ষের শুনানি শেষে আদালত আসামির জামিনের আবেদন নামঞ্জুর করেন।

 

জামিন আবেদনে উল্লেখ করা হয়, হাজতি আসামি বাংলাদেশ চলচিত্র জগতের একজন জনপ্রিয় ও নামকরা খলনায়ক। এই মামলার ঘটনা সম্পর্কে কিছুই জানেন না তিনি। আসামিকে ষড়যন্ত্রমূলকভাবে ও হয়রানি করার উদ্দেশ্যে এ মামলায় জড়ানো হয়েছে। আসামি সম্পূর্ণ ষড়যন্ত্রের শিকার। আসামি ডনের বিরুদ্ধে এজাহার এবং গ্রেপ্তারি ফরোয়ার্ডিংয়ে সুনির্দিষ্ট কোনো অভিযোগ নেই। তিনি কথিত ঘটনার সাথে জড়িত ছিল না। এজন্য তার জামিন পাওয়া একান্ত আবশ্যক।

 

গত ৯ আগস্ট ভোরে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে ডনকে গ্রেপ্তার করা হয়। এরপর বিকেলে তাকে আদালতে হাজির করে কারাগারে আটক রাখার আবেদন করেন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা সিআইডির পুলিশ পরিদর্শক আরিফুর রহমান। আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে বিচারক তাকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন।

জানা গেছে, চিত্রনায়ক সালমান শাহ হত্যা মামলার কারণে ডনের বিদেশযাত্রায় নিষেধাজ্ঞা ছিল। ইমিগ্রেশন থেকে জানানোর পরে সিআইডি তাকে হেফাজতে নিয়েছে। গত ৯ আগস্ট সৌদি আরবে ওমরাহ পালনে যাওয়ার সময় তাকে আটক করা হয়।

 

সালমান শাহ ১৯৯৬ সালের ৬ সেপ্টেম্বর রাজধানীর ইস্কাটনের বাসায় মারা যান। শুরুতে তার মৃত্যুকে আত্মহত্যা বলা হলেও পরে এ নিয়ে হত্যা মামলা হয়। মামলাটির তদন্তে বিভিন্ন সময়ে একাধিক ব্যক্তির নাম এসেছে।

 

২০২৫ সালের ২০ অক্টোবর সালমান শাহর মা নীলা চৌধুরীর পক্ষে তার ভাই মোহাম্মদ আলমগীর কুমকুম বাদী হয়ে রমনা থানায় সামিরা হকসহ ১১ জনের বিরুদ্ধে মামলাটি দায়ের করেন। অন্য আসামিরা হলেন—সামিরা হকের মা লতিফা হক লুসি, ব্যবসায়ী আজিজ মোহাম্মদ ভাই, খলনায়ক ডন, ডেভিড, জাভেদ, ফারুক, রুবী, আ. ছাত্তার, সাজু ও রেজভি আহমেদ ওরফে ফরহাদ।

সালমান শাহ হত্যা মামলায় খলনায়ক ডনের জামিন নামঞ্জুর

সিলেট নগরীর রায়নগর মিতালি আবাসিক এলাকায় নিজ বাড়ি থেকে আবদুস সাত্তার, তার স্ত্রী ও এক গৃহকর্মীর গলা কাটা লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। উপস্থিত দু-একজন অবশ্য বলেছেন খুন হওয়া মেয়েটি গৃহকর্মী নয় আবদুস সাত্তারের নিজের মেয়ে। খবর পাওয়ার পরপরই থানা পুলিশ, সিআইডি এবং পিবিআইয়ের ক্রাইম সিন ইউনিট ঘটনাস্থলে পৌঁছে আলামত সংগ্রহের কাজ শুরু করেছে।

 

বুধবার (১২ আগস্ট) সকালে ১১১ নম্বর বাসায় রক্তাক্ত লাশগুলো দেখতে পেয়ে স্থানীয় লোকজন পুলিশে খবর দেন।

 

সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশের মিডিয়া অফিসার অতিরিক্ত উপকমিশনার মঞ্জুরুল আলম এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

 

এ ঘটনায় পুরো রায়নগর ও মিতালী আবাসিক এলাকায় তীব্র আতঙ্ক এবং উত্তেজনা বিরাজ করছে। খবর পেয়ে বিপুলসংখ্যক উৎসুক জনতা বাড়ির সামনে ভিড় জমিয়েছেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে সেখানে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।

 

সর্বশেষ পাওয়া খবরে জানা গেছে, বাসার একটি বাথরুম ভেতর থেকে লক করা ছিল। ফায়ার সার্ভিসের লোকজন এসে লক খুলেছেন। তবে বাথরুমের ভেতর কিছু পাওয়া যায়নি। ধারণা করা হচ্ছে, ঘাতকরা ঠান্ডা মাথায় খুন করে এই বাথরুমে হাত মুখ ধুয়ে বেরিয়ে যায়।

 

পুলিশের প্রাথমিক ধারণা, বুধবার (১২ আগস্ট) সকালের দিকে কোনো এক সময়ে দুর্বৃত্তরা প্রাচীরঘেরা বাড়িটিতে প্রবেশ করে এবং অত্যন্ত নৃশংসভাবে তিনজনকে গলা কেটে হত্যা করে পালিয়ে যায়। নিহতদের শরীরে একাধিক আঘাতের চিহ্ন রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

 

মিতালি আবাসিক এলাকার সাধারণ সম্পাদক নাজমুল হক নাজু ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, ‘সকালে বাসার ভেতরে নৃশংস এ হত্যাকাণ্ডের খবর পেয়ে আমরা স্তম্ভিত হয়ে যাই। তাৎক্ষণিকভাবে বিষয়টি আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে জানানো হয়।’

 

পুলিশ জানিয়েছে, লাশগুলো ময়নাতদন্তের জন্য সিলেট এম এ জি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানোর প্রস্তুতি চলছে। পূর্বশত্রুতা, রাজনৈতিক কোন্দল নাকি ডাকাতির উদ্দেশ্যে এই হত্যাকাণ্ড—তা এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি। তবে অপরাধীদের দ্রুত শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে পুলিশের একাধিক টিম ইতিমধ্যে মাঠে নেমেছে।

নিজ বাড়িতে স্বামী-স্ত্রীসহ ৩ জনের গলা কাটা লাশ, সবশেষ যা জানা যাচ্ছে

র‌্যাবের চৌকস অভিযানে জীপসহ প্রায় ১১ হাজার ইয়াবার চালান আটক

জামালপুর হামলা পাল্টা হামলার মধ্য দিয়ে জেলার সানন্দবাড়ী তে থমথমে অবস্থা বিরাজমান।

পর্নোগ্রাফি নিয়ন্ত্রণ আইনে এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা দায়ের ও আদালতে মিথ্যা হলফনামা দেয়ার অভিযোগে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের কেবিন ক্রু খাদিজা সুলতানা শিমুর বিরুদ্ধে মামলা দায়েরের নির্দেশ দিয়েছেন আদালত।

 

বুধবার (১৫ জুলাই) ঢাকার অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালত-২-এর বিচারক মো. জাকির হোসাইন এ আদেশ দেন। আদালতের আদেশে বলা হয়েছে, শিমুর বিরুদ্ধে পর্নোগ্রাফি নিয়ন্ত্রণ আইন, ২০১২-এর ১৩ ধারা এবং দণ্ডবিধির ১৮১, ১৮২ ও ১৯৩ ধারায় মামলা করা হবে। আদালত নিজেই এ মামলার বাদী হয়েছেন।

 

আদালতের নথি অনুযায়ী, খাদিজা সুলতানা শিমু মামলার বাদী হয়ে বেসরকারি একটি এয়ারলাইন্সের কর্মকর্তা মো. ওমর ফারুক চৌধুরীর বিরুদ্ধে পর্নোগ্রাফি নিয়ন্ত্রণ আইনের বিভিন্ন ধারায় উত্তরা পশ্চিম থানায় মামলা করেন।

 

তদন্ত শেষে উত্তরা পশ্চিম থানার তদন্ত কর্মকর্তা আদালতে চূড়ান্ত প্রতিবেদন দাখিল করে জানান, অভিযোগের সত্যতা পাওয়া যায়নি। প্রতিবেদনে বলা হয়, মামলার এজাহারে উল্লেখ করা ফেসবুক লিংক, ডিজিটাল আলামত ও অন্যান্য তথ্য যাচাই করে ওমর ফারুকের বিরুদ্ধে পর্নোগ্রাফি প্রচারের কোনো প্রমাণ মেলেনি। ফলে ওই কর্মকর্তাকে মামলা থেকে অব্যাহতির সুপারিশ করা হয়।

একই সঙ্গে তদন্ত কর্মকর্তা প্রতিবেদনে উল্লেখ করেন, ওমর ফারুক আগে শিমুর বিরুদ্ধে বিয়ের প্রলোভন দিয়ে অর্থ আত্মসাতের অভিযোগে আদালতে মামলা করেছিলেন। সেই মামলার দায় এড়াতেই শিমু সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচারিত বিভিন্ন লিংক উল্লেখ করে তার বিরুদ্ধে পর্নোগ্রাফি ছড়ানোর অভিযোগ এনে উদ্দেশ্যপ্রণোদিত, হয়রানিমূলক ও মিথ্যা মামলা করেছেন বলে প্রাথমিক তদন্তে প্রতীয়মান হয়েছে। এ কারণে শিমুর বিরুদ্ধে পর্নোগ্রাফি নিয়ন্ত্রণ আইন, ২০১২-এর ১৩ ধারায় আইনগত ব্যবস্থা নেয়ার আবেদনও করেন তদন্ত কর্মকর্তা।

 

পরে গত ৯ জুলাই আদালত তদন্ত প্রতিবেদন গ্রহণ করে ওমর ফারুককে মামলা থেকে অব্যাহতি দেন। আদালতের আদেশে বলা হয়, শিমু ক্ষতিসাধনের উদ্দেশ্যে আদালতে মিথ্যা মামলা দায়ের করেছেন এবং হলফ করে মিথ্যা সাক্ষ্য দিয়েছেন। মামলার নথিতে তার দেয়া হলফনামাও সংযুক্ত রয়েছে। এসব বিবেচনায় আদালত নিজেই বাদী হয়ে তার বিরুদ্ধে পর্নোগ্রাফি নিয়ন্ত্রণ আইন ও দণ্ডবিধির সংশ্লিষ্ট ধারায় মামলা দায়েরের নির্দেশ দেন।

 

তদন্তে যা উঠে এসেছে পুলিশের চূড়ান্ত প্রতিবেদনে বলা হয়, তদন্তকালে রেকর্ড, ডিজিটাল আলামত, ফেসবুক লিংক ও ফরেনসিক তথ্য যাচাই করে ওমর ফারুকের বিরুদ্ধে পর্নোগ্রাফি প্রচারের কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি।

 

তদন্তে আরও উঠে আসে, শিমু বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের কেবিন ক্রু এবং ওমর ফারুক একটি বেসরকারি এয়ারলাইন্সের এয়ারক্রাফট মেইনটেন্যান্স কর্মকর্তা। ফেসবুকে পরিচয়ের পর তাদের মধ্যে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে।

 

প্রতিবেদনে বলা হয়, বিয়ের আশ্বাস দিয়ে বিভিন্ন সময়ে ওমর ফারুকের কাছ থেকে বিপুল পরিমাণ অর্থ ও মূল্যবান সামগ্রী নেয়ার অভিযোগে ওমর ফারুক আদালতে পৃথক মামলা করেন। এরপর সেই মামলার দায় থেকে নিজেকে রক্ষা করতেই শিমু পর্নোগ্রাফি আইনে অভিযোগ দায়ের করেন বলে তদন্তে প্রতীয়মান হয়েছে।

 

ওমর ফারুকের আগের মামলা গত ২০ জুলাই ওমর ফারুক চৌধুরী শিমুর বিরুদ্ধে বিয়ের প্রলোভন, ‘হানি ট্র্যাপ’ ও ব্ল্যাকমেইলের মাধ্যমে প্রায় ২২ লাখ টাকা আত্মসাতের অভিযোগে ঢাকার আদালতে মামলা করেন। আদালত অভিযোগটি আমলে নিয়ে উত্তরা পশ্চিম থানাকে তদন্তের নির্দেশ দেন। পরে তিনি বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স কর্তৃপক্ষের কাছেও লিখিত অভিযোগ করেন।

 

সেই মামলায় অভিযোগ করা হয়, ২০২৪ সালে ফেসবুকে পরিচয়ের পর শিমু তাকে বিয়ের আশ্বাস দিয়ে বিভিন্ন সময়ে টাকা নেন। জন্মদিনে দেড় লাখ টাকা মূল্যের একটি হীরার আংটিসহ বিয়ের খরচের জন্য মোট ২১ লাখ ৭৪ হাজার ৫১১ টাকা নেয়ার পরও বিয়ে না করে প্রতারণার মাধ্যমে অর্থ আত্মসাৎ করা হয়েছে বলে মামলায় দাবি করা হয়।

পর্নোগ্রাফি আইনে কেবিন ক্রু শিমুর বিরুদ্ধে মামলার নির্দেশ আদালতের

error: আপনি নিউজ চুরি করার চেষ্টা করছেন। বিশেষ প্রয়োজনে যোগাযোগ করুন ০১৭৬৭৪৪৪৩৩৩