
বিশ্বকাপের মঞ্চে আর দেখা যাবে না ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদোকে। স্পেনের বিপক্ষে শেষ ষোলোর মহাগুরুত্বপূর্ণ ম্যাচের আগে নিজেই জানিয়ে দিলেন, ২০২৬ বিশ্বকাপই তার ক্যারিয়ারের শেষ বিশ্বকাপ।
রোববার ম্যাচপূর্ব সংবাদ সম্মেলনে ৪১ বছর বয়সী এই পর্তুগিজ মহাতারকা বলেন, ‘আমি যতটা সম্ভব এই মুহূর্তগুলো উপভোগ করতে চাই। এটাই আমার শেষ বিশ্বকাপ। তবে আশা করি, স্পেনের বিপক্ষে ম্যাচ যেন আমার শেষ ম্যাচ না হয়।’২০০৬ সালে প্রথম বিশ্বকাপ খেলেছিলেন রোনালদো। এরপর ২০১০, ২০১৪, ২০১৮, ২০২২ এবং ২০২৬—টানা ছয়টি বিশ্বকাপে খেলার অনন্য কীর্তি গড়েছেন তিনি। এবারের আসরে উজবেকিস্তানের বিপক্ষে গোল করে বিশ্বকাপের ছয়টি ভিন্ন আসরে গোল করা প্রথম ফুটবলারও হয়েছেন।
এবারের বিশ্বকাপে এখন পর্যন্ত তিনটি গোল করেছেন রোনালদো। গ্রুপ পর্বে উজবেকিস্তানের বিপক্ষে জোড়া গোল করার পর শেষ ষোলোতে ক্রোয়েশিয়ার বিপক্ষে পেনাল্টি থেকে গোল করে বিশ্বকাপের নকআউট পর্বে নিজের প্রথম গোলের দেখা পান তিনি।
রোনালদো বলেন, ‘এই বিশ্বকাপ আমার কাছে অসাধারণ একটি অভিজ্ঞতা। শুধু মাঠের পারফরম্যান্স নয়, মানুষের আবেগ-ভালোবাসার কারণেই এটি আমার স্মৃতিতে সবচেয়ে বেশি জায়গা করে নেবে। কেন জানি না, তবে আবেগের দিক থেকে এটিই আমার সেরা বিশ্বকাপ। আমি প্রতিটি মুহূর্ত উপভোগ করেছি।’বিশ্বকাপ জিততে না পারলেও নিজের ক্যারিয়ার অসম্পূর্ণ থেকে যাবে না বলেও স্পষ্ট জানিয়ে দেন তিনি।
‘আমার জীবনে কোনো কিছুর অভাব নেই। বিশ্বকাপ জিতলে আমি বেশি কিছু হয়ে যাবো না, আর না জিতলেও কমে যাব না। অবশ্যই আমাদের শিরোপা জেতার সামর্থ্য আছে, কিন্তু শেষ পর্যন্ত তো একটি দলই চ্যাম্পিয়ন হবে,’ বলেন রোনালদো।
জাতীয় দল থেকে অবসর নিয়েও কথা বলেন তিনি, ‘একদিন অবশ্যই সেই সময় আসবে। কিন্তু আগামীকাল যা-ই ঘটুক না কেন, আমি সম্পূর্ণ তৃপ্তি নিয়েই মাঠ ছাড়ব। আমি ফুটবলের জন্য আমার সর্বস্ব উজাড় করে দিয়েছি। আমি অর্থ বা খ্যাতির জন্য খেলি না, খেলি ভালোবাসা থেকে।’
সমালোচনাকে ইতিবাচকভাবে নেওয়ার কথাও বলেন পাঁচবারের ব্যালন ডি’অরজয়ী এই তারকা, ‘৪০ বছর পার হওয়ার পরও সমালোচনা শুনতে হয়। তবে আমি সেসবের জন্যও কৃতজ্ঞ। সমালোচনাই মানুষকে আরও পরিণত হতে শেখায়। গঠনমূলক সমালোচনা গ্রহণ করতে হয়, আর যেগুলো আপনাকে ভেঙে দেওয়ার জন্য করা হয়, সেগুলো উপেক্ষা করতে শিখতে হয়।’
স্পেনের তরুণ তারকা লামিনে ইয়ামালের প্রশংসাও করেন রোনালদো, ‘ওর সামনে উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ অপেক্ষা করছে। তবে আমি শুধু ইয়ামালকে নয়, পুরো স্পেন দলকেই দেখি। তারা দারুণ একটি দল। দীর্ঘ ক্যারিয়ার গড়তে চাইলে প্রস্তুত থাকতে হবে, সমালোচনায় ভেঙে পড়া যাবে না। যাঁরা আপনাকে ভালোবাসেন, তাঁদের ভালোবাসা এবং নিজের কাজের প্রতি আবেগই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।’অন্যদিকে রোনালদোর প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানিয়েছেন স্পেনের প্রধান কোচ লুইস দে লা ফুয়েন্তে।
তিনি বলেন, ‘আমি ক্রিস্টিয়ানোর বড় ভক্ত। উচ্চাকাঙ্ক্ষা, চরিত্র, কঠোর পরিশ্রম এবং প্রতিদিন নিজেকে আরও উন্নত করার মানসিকতা—তরুণদের জন্য সে একটি আদর্শ উদাহরণ।’
স্পেন কোচ আরও বলেন, ‘পুরো ম্যাচজুড়েই আমাদের ওর দিকে নজর রাখতে হবে। আলাদা করে একজনকে দায়িত্ব দেওয়ার প্রয়োজন নেই, তবে সে যে জায়গায় খেলতে স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করে, সেখানে তাকে এক মুহূর্তের জন্যও অবহেলা করা যাবে না। সেই জায়গাগুলোতে সে এখনো বিশ্বের অন্যতম সেরা।’
বিশ্বকাপের মঞ্চে আর দেখা যাবে না ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদোকে। স্পেনের বিপক্ষে শেষ ষোলোর মহাগুরুত্বপূর্ণ ম্যাচের আগে নিজেই জানিয়ে দিলেন, ২০২৬ বিশ্বকাপই তার ক্যারিয়ারের শেষ বিশ্বকাপ। রোববার ম্যাচপূর্ব সংবাদ সম্মেলনে ৪১ বিস্তারিত

চলছে ফিফা ২০২৬ বিশ্বকাপের ১৬-এর লড়াই। পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ব্রাজিল বিদায় নিয়েছে নরওয়ের কাছে। আর তাতে বিশ্বজুড়ে কোটি কোটি ব্রাজিল ভক্তরা ভেঙে পড়েছেন দলটির পরাজয়ে।
বিশ্বজুড়ে থাকা সাধারণ ফুটবলপ্রেমীদের মতো বড় ধাক্কা খেয়েছেন ব্রাজিল সমর্থক বাংলাদেশের বিনোদন জগতের তারকারাও। ব্রাজিল দলের এমন বিদায়ে চরম হতাশা প্রকাশ করলেও প্রিয় দলের প্রতি নিজের আজীবন সমর্থনের কথা ব্যক্ত করেছেন ছোটপর্দার জনপ্রিয় অভিনেত্রী তানজিম সাইয়ারা তটিনী।
সোমবার (৬ জুলাই) ব্রাজিল বিশ্বকাপের গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে নরওয়ের কাছে ২-১ গোলে হেরে টুর্নামেন্ট থেকে বিদায় নিয়েছে। ব্রাজিলের এই অপ্রত্যাশিত ও দ্রুত বিদায়ের পর সামাজিক মাধ্যমে পক্ষে-বিপক্ষে তুমুল আলোচনা চলছে।
ব্রাজিলের টুর্নামেন্ট থেকে বিদায় নিশ্চিত হওয়ার পর সামাজিক মাধ্যম ফেসবুকে একটি আবেগঘন পোস্ট দিয়েছেন তানজিম সাইয়ারা তটিনী।
ব্রাজিলের জার্সি পরা একটি ছবি পোস্ট করে সেই পোস্টে অভিনেত্রী লিখেছেন— দলের প্রতিটি ভালো ও খারাপ সময়ে আমি পাশে আছি। ব্রাজিল এমন একটি দল, যা আমি চিরকাল আমার হৃদয়ে বহন করব। আজ, আগামীকাল এবং সর্বদা— আমি আমার দলের সঙ্গেই থাকব।
অবশ্য পোস্ট করা ছবিতে দেখা গেছে, একহাত দিয়ে চোখ ঢেকে কান্না লুকানোর একটি ভঙ্গি, যা মূলত পরাজিত সেলেসাও সমর্থকদের বর্তমান মিশ্র আবেগেরই এক প্রতিচ্ছবি। এমনকি নিজের পোস্টের কমেন্টবক্সেও একাধিক কান্নার ইমোজি দিয়ে নিজের মন খারাপের বিষয়টি ফুটিয়ে তোলার চেষ্টা করেছেন এ ছোটপর্দার অভিনেত্রী।
চলছে ফিফা ২০২৬ বিশ্বকাপের ১৬-এর লড়াই। পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ব্রাজিল বিদায় নিয়েছে নরওয়ের কাছে। আর তাতে বিশ্বজুড়ে কোটি কোটি ব্রাজিল ভক্তরা ভেঙে পড়েছেন দলটির পরাজয়ে। বিশ্বজুড়ে থাকা সাধারণ ফুটবলপ্রেমীদের মতো বিস্তারিত

ব্রাজিলের পেনাল্টি মিসের ঘটনা নিয়ে আলোচনা যেন থামছেই না। নরওয়ের বিপক্ষে শেষ ষোলোর ম্যাচের শুরুতেই পেনাল্টি কিকের সুযোগ পেয়েছিল পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা। কিন্তু সেই সুযোগ কাজে লাগাতে পারেননি ব্রুনো গুইমারেস। তবে গোল মিসের চেয়েও বেশি প্রশ্ন উঠেছে, দলের নিয়মিত পেনাল্টি নেওয়া তারকা ভিনিসিয়ুস জুনিয়র কেন কিক নিতে এগিয়ে আসেননি।
পেনাল্টি নিয়ে ওঠা প্রশ্নের জবাব দিয়েছেন ভিনিসিয়ুস জুনিয়র। ম্যাচ শেষে তিনি বলেন, স্পটকিক নেওয়ার বিষয়টি ব্যক্তিগত পছন্দের ছিল না। বরং ম্যাচের আগেই প্রধান কোচ কার্লো আনচেলত্তি ঠিক করে দিয়েছিলেন কে পেনাল্টি নেবেন। কোচের নির্দেশ মেনেই তিনি বলটি ব্রুনো গুইমারেসের হাতে তুলে দেন।
ম্যাচের ১২ মিনিটে ম্যাথিয়াস কুনহাকে ফাউল করার ঘটনায় ভিএআরের পরামর্শে পেনাল্টির বাঁশি বাজান রেফারি। প্রথমে বল হাতে পেনাল্টি স্পটের দিকে এগিয়ে যান ভিনিসিয়ুস জুনিয়র, যা দেখে ধারণা করা হচ্ছিল তিনিই কিক নেবেন। কিন্তু শেষ মুহূর্তে তিনি দায়িত্ব তুলে দেন ব্রুনো গুইমারেসের ওপর। তবে ব্রুনোর শটটি গোলরক্ষক ঠেকিয়ে দিলে লিড নেওয়ার সুবর্ণ সুযোগ নষ্ট করে ব্রাজিল।
ম্যাচ শেষে সংবাদ সম্মেলনে ভিনিসিয়ুস বলেন, ‘কোচ আগে থেকেই ঠিক করে দেন পেনাল্টি কিক কে নেবে। তিনি ব্রুনোকে বেছে নিয়েছিলেন। আমি কখনও অহংকারী ছিলাম না। প্রতিযোগিতার সর্বোচ্চ গোলদাতা হওয়ার ইচ্ছাও আমার ছিল না। ব্রুনো আমার চেয়ে ভালো পেনাল্টি নেয় বলেই কোচ তাকে দায়িত্ব দিয়েছিলেন। আমি কখনও দায়িত্ব থেকে পালিয়ে যাইনি।’
পেনাল্টি না নেওয়াকে ঘিরে সমালোচনার জবাবও দিয়েছেন এই ব্রাজিলিয়ান ফরোয়ার্ড। তার ভাষ্য, অনেকেই হয়তো মনে করতে পারেন তিনি দায়িত্ব নিতে চাননি, কিন্তু বাস্তবতা ভিন্ন। ভিনিসিয়ুস বলেন, ‘অনেকে হয়তো বলবে আমি নিতে চাইনি। কিন্তু আমি কখনো পালিয়ে যাইনি। রিয়াল মাদ্রিদের হয়ে কোচ যখন আমাকে দায়িত্ব দেন, তখন আমি পেনাল্টি নিই। দলের প্রয়োজন হলে আমি সব সময় প্রস্তুত থাকি। আমাদের পরবর্তী বিশ্বকাপ এবং সামনে থাকা ম্যাচগুলোর জন্য আরও ভালোভাবে প্রস্তুতি নিতে হবে।’
পেনাল্টি নেওয়ার আগে ব্রুনোর সঙ্গে ভিনিসিয়ুসকে কিছুক্ষণ কথা বলতে দেখা যায়। এরপরই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শুরু হয় নানা জল্পনা। অনেকেই ধারণা করেন, দুজনের মধ্যে হয়তো কে পেনাল্টি নেবেন, তা নিয়ে মতবিরোধ হয়েছিল। তবে সেই ব্যাখ্যাও স্পষ্ট করেছেন ভিনিসিয়ুস।
তিনি বলেন, ‘কোনো বিতর্কের অবকাশই ছিল না। পেনাল্টি নেয়ার জন্য ব্রুনোকে বেছে নিয়েছিলেন কোচ। আমরা প্রতিদিন অনুশীলন করি এবং কোচ তাকেই নির্বাচন করেছেন। প্রতিযোগিতায় সর্বোচ্চ গোলদাতা হওয়া কিংবা সেরা খেলোয়াড় হওয়ার কোনো অহমিকা আমার নেই।’
সতীর্থ ব্রুনো গুইমারেসের পাশেও দাঁড়িয়েছেন ভিনিসিয়ুস জুনিয়র। একটি পেনাল্টি মিস দিয়ে পুরো টুর্নামেন্টে ব্রুনোর অবদানকে মূল্যায়ন না করার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, ‘আমি সব সময় দলের জন্য খেলি। ওই মুহূর্তে ব্রুনোর পেনাল্টি নেওয়াটাই ছিল সঠিক সিদ্ধান্ত। দুর্ভাগ্যবশত সে গোল করতে পারেনি। এটাই ফুটবল। আমাদের মাথা উঁচু রেখেই এগিয়ে যেতে হবে। পুরো টুর্নামেন্টে ব্রুনো অসাধারণ খেলেছে। কিন্তু একটি পেনাল্টি মিস তার সেই পারফরম্যান্সকে কিছুটা আড়াল করে দিয়েছে।’
ব্রাজিলের পেনাল্টি মিসের ঘটনা নিয়ে আলোচনা যেন থামছেই না। নরওয়ের বিপক্ষে শেষ ষোলোর ম্যাচের শুরুতেই পেনাল্টি কিকের সুযোগ পেয়েছিল পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা। কিন্তু সেই সুযোগ কাজে লাগাতে পারেননি ব্রুনো গুইমারেস। তবে বিস্তারিত

আন্তর্জাতিক ফুটবলকে বিদায় বললেন নেইমার
এই মেটলাইফ স্টেডিয়ামেই ২০১০ সালে মাত্র ১৮ বছর বয়সে ব্রাজিলের জার্সিতে আন্তর্জাতিক ফুটবলে অভিষেক হয়েছিল নেইমারের। ১৬ বছর পর সেই মাঠেই শেষ হয়ে গেল নেইমার জুনিয়রের বর্ণাঢ্য অধ্যায়। বিশ্বকাপের শেষ ষোলোয় নরওয়ের কাছে ২-১ গোলে হেরে টুর্নামেন্ট থেকে বিদায় নেওয়ার পর আন্তর্জাতিক ফুটবল থেকে অবসরের ঘোষণা দিয়েছেন ব্রাজিলের সর্বকালের সর্বোচ্চ গোলদাতা।
ম্যাচ শেষে আবেগঘন কণ্ঠে ৩৪ বছর বয়সী এই তারকা বলেন, ‘আমি চেষ্টা করেছি। নিজের সর্বোচ্চটাই দিয়েছি। এই মেটলাইফ স্টেডিয়ামেই আমার পথচলা শুরু হয়েছিল, আর এখানেই শেষ হলো। এখন সব শেষ।’ এর মধ্য দিয়েই ব্রাজিলের জার্সিতে শেষ হলো নেইমারের ১৬ বছরের রঙিন, আলোচিত এবং আবেগঘন এক অধ্যায়।
আন্তর্জাতিক ফুটবলে নেইমারের পথচলাটা ছিল সংখ্যাতেও অসাধারণ। ২০১০ সালে যুক্তরাষ্ট্রের বিপক্ষে অভিষেকের পর ব্রাজিলের জার্সিতে খেলেছেন ১২৯টি ম্যাচ। করেছেন ৮০টি গোল, যা পুরুষদের আন্তর্জাতিক ফুটবলে ব্রাজিলের ইতিহাসে সর্বোচ্চ। চারটি বিশ্বকাপে (২০১৪, ২০১৮, ২০২২ ও ২০২৬) দেশের প্রতিনিধিত্ব করেছেন তিনি। ২০১২ লন্ডন অলিম্পিকে জিতেছেন রৌপ্যপদক, আর ২০১৬ রিও অলিম্পিকে অধিনায়ক হিসেবে ব্রাজিলকে এনে দিয়েছেন ফুটবল ইভেন্টে দেশটির ইতিহাসের প্রথম অলিম্পিক স্বর্ণপদক।
ডান পায়ের কাফের চোট নিয়েই বিশ্বকাপে এসেছিলেন নেইমার। তাই টুর্নামেন্টের শুরু থেকেই পুরোপুরি ফিট ছিলেন না। গ্রুপ পর্বে স্কটল্যান্ডের বিপক্ষে বদলি হিসেবে মাত্র ১৪ মিনিট খেলেছিলেন। এরপর জাপানের বিপক্ষে মাঠেই নামা হয়নি।
নরওয়ের বিপক্ষে শেষ ষোলোর ম্যাচেও তাকে শুরুতে বেঞ্চে রেখেছিলেন কোচ কার্লো আনচেলত্তি। দ্বিতীয়ার্ধে দল পিছিয়ে পড়ার পর বদলি হিসেবে মাঠে নামেন নেইমার। ইনজুরি সময়ের একেবারে শেষ মুহূর্তে পেনাল্টি থেকে গোল করে ব্যবধান ২-১ করেন তিনি। সেটিই হয়ে থাকল চলতি বিশ্বকাপে তার একমাত্র গোল এবং আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারের ৮০তম ও শেষ গোল।
তবে সেই গোলও ব্রাজিলকে বিদায়ের হাত থেকে রক্ষা করতে পারেনি। নরওয়ে ২-১ ব্যবধানে জয় তুলে নিয়ে কোয়ার্টার ফাইনালে জায়গা করে নেয়। আগামী ১১ জুলাই শেষ আটে তারা মুখোমুখি হবে ইংল্যান্ড ও মেক্সিকো ম্যাচের বিজয়ীর।
পেলেকে ছাড়িয়ে ব্রাজিলের ইতিহাসের সর্বোচ্চ গোলদাতা হিসেবেই আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারের ইতি টানলেন নেইমার। তবে দেশের জার্সিতে বিশ্বকাপ জয়ের স্বপ্নটা আর পূরণ হলো না তার। মেটলাইফ স্টেডিয়ামের অশ্রুসিক্ত রাতেই শেষ হলো ব্রাজিল ফুটবলের এক উজ্জ্বল অধ্যায়।
আন্তর্জাতিক ফুটবলকে বিদায় বললেন নেইমার এই মেটলাইফ স্টেডিয়ামেই ২০১০ সালে মাত্র ১৮ বছর বয়সে ব্রাজিলের জার্সিতে আন্তর্জাতিক ফুটবলে অভিষেক হয়েছিল নেইমারের। ১৬ বছর পর সেই মাঠেই শেষ হয়ে গেল বিস্তারিত

বিশ্বকাপের শেষ ষোলোর মঞ্চে নরওয়ের কাছে ২-১ গোলে হেরে টুর্নামেন্ট থেকে পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ব্রাজিলের বিদায়ের পর মাঠেই কান্নায় ভেঙে পড়েছেন সেলেসাওদের মহাতারকা নেইমার জুনিয়র। ম্যাচের শেষ বাঁশি বাজার পর চোখের জল লুকানোর কোনো চেষ্টাই করেননি এই ফরোয়ার্ড।
সতীর্থদের সান্ত্বনাও কমাতে পারেনি তার বিশ্বকাপ থেকে ছিটকে যাওয়ার তীব্র বেদনা। আর এই হৃদয়বিদারক হারের পরপরই আন্তর্জাতিক ফুটবল থেকে নিজের অবসরের স্পষ্ট ইঙ্গিত দিয়েছেন ব্রাজিলের ইতিহাসের সর্বোচ্চ গোলদাতা।
নিউ জার্সির মাঠে নরওয়ের বিপক্ষে ম্যাচের যোগ করা সময়ে পেনাল্টি থেকে ব্রাজিলের হয়ে একমাত্র গোলটি করেছিলেন ইনজুরি কাটিয়ে ফেরা নেইমার। তবে দলের পরাজয় এবং হেক্সা স্বপ্ন চূর্ণ হওয়া এড়ানোর জন্য তা যথেষ্ট ছিল না। ম্যাচ শেষে সম্প্রচারকারী মাধ্যম ‘জিই টিভি’কে দেওয়া সংক্ষিপ্ত ও আবেগাপ্লুত এক প্রতিক্রিয়ায় নেইমার বলেন,’চেষ্টা করেছি, বারবার চেষ্টা করেছি। কিন্তু এখানেই সব শেষ। এখান থেকেই শুরু করেছিলাম, এখানেই শেষ করলাম।’
প্রসঙ্গত ২০১০ বিশ্বকাপের পর এই যুক্তরাষ্ট্রের মাটিতেই তৎকালীন কোচ মানো মেনেজেসের অধীনে ব্রাজিল জাতীয় দলে প্রথম অভিষেক হয়েছিল তরুণ নেইমারের। দীর্ঘ ১৬ বছর পর সেই যুক্তরাষ্ট্রের মাঠেই কান্নাভেজা চোখে বিদায়ের রাগিণী শোনালেন তিনি।
চলমান ২০২৬ আসরটি ছিল নেইমারের ক্যারিয়ারের চতুর্থ বিশ্বকাপ। ২০১৪, ২০১৮, ২০২২ এবং ২০২৬—টানা চারটি আসরে দেশের হয়ে নিজের সর্বোচ্চটা উজাড় করে দিয়েও সোনালী ট্রফিটি ছোঁয়া হয়নি তার। আর এর মধ্য দিয়ে ফুটবল ইতিহাসে বিশ্বকাপ শিরোপা না জিতেই চারটি বিশ্বকাপ খেলার তালিকায় মাত্র দ্বিতীয় ব্রাজিলিয়ান ফুটবলার হিসেবে নাম লেখালেন এই কিংবদন্তি।
বিশ্বকাপ শুরুর আগেই নেইমার ইঙ্গিত দিয়েছিলেন, এটিই হতে যাচ্ছে তার ক্যারিয়ারের শেষ বিশ্বকাপ। ফলে নিউ জার্সির মাঠে শেষ বাঁশির পর নেইমারের এই বাঁধভাঙা কান্না শুধু একটি ম্যাচ হারার হতাশা ছিল না, বরং ফুটবল বিধাতার কাছে বিশ্বকাপ জয়ের আজীবনের স্বপ্ন অধরা থেকে যাওয়ার বেদনার বহিঃপ্রকাশ।
বিশ্বকাপের শেষ ষোলোর মঞ্চে নরওয়ের কাছে ২-১ গোলে হেরে টুর্নামেন্ট থেকে পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ব্রাজিলের বিদায়ের পর মাঠেই কান্নায় ভেঙে পড়েছেন সেলেসাওদের মহাতারকা নেইমার জুনিয়র। ম্যাচের শেষ বাঁশি বাজার পর চোখের বিস্তারিত

নরওয়ের বিপক্ষে শেষ ১৬–এর লড়াইয়ে ব্রাজিল পাচ্ছে না মিডফিল্ডার লুকাস পাকেতাকে। জাপানের বিপক্ষে ঊরুর চোটে পাকেতার ছিটকে পড়ার আগে গ্রুপ পর্বে হাইতির বিপক্ষে চোট পেয়ে ছিটকে যাওয়া রাফিনিয়াও এখনও পুরোপুরি ফিট নন। ফলে নরওয়ের বিপক্ষে নকআউট ম্যাচের আগে কোচ কার্লো আনচেলত্তির কপালে চিন্তার ভাঁজ পড়া স্বাভাবিক। এমন শ্বাসরুদ্ধকর মুহূর্তে ব্রাজিলের ড্রেসিং রুমে খোলা হাওয়া হয়ে বইতে পারবেন কি নেইমার, নাকি আজও বেঞ্চেই ঠিকানা হবে ৩৪ বছর বয়সী সুপারস্টারের?
রোববার (৫ জুলাই) নিউজার্সি স্টেডিয়ামে কোয়ার্টার ফাইনাল নিশ্চিতের লড়াইয়ে নরওয়ের মুখোমুখি হবে ব্রাজিল। এর আগে গতকাল (৪ জুলাই) ম্যাচ পূর্ব সংবাদ সম্মেলনে ব্রাজিলের কোচ কার্লো আনচেলত্তি দিয়েছেন সুখবর। ৯০ মিনিটের ম্যাচ খেলার জন্য পুরোপুরি ফিট হয়েছেন নেইমার। তবে একই সঙ্গে এই কোচ স্বীকার করেছেন, বিশ্বের অন্যতম সেরা এই ফুটবলার বর্তমানে বদলি খেলোয়াড়ের ভূমিকায় থাকার কারণে গভীরভাবে অসন্তুষ্ট।
চোটের কারণে দীর্ঘ সময় বাইরে থাকার পর অবশেষে নেইমার পুরোপুরি সেরে উঠেছেন এবং বিশ্বকাপে ব্রাজিলের জন্য বড় ভূমিকা রাখতে প্রস্তুত। ৩৪ বছর বয়সী এই ফরোয়ার্ড এখন পর্যন্ত টুর্নামেন্টে মাত্র একটি ম্যাচে ১৪ মিনিট বদলি হিসেবে খেলেছেন। তবে তার ম্যাচ ফিটনেস নিয়ে যে সব উদ্বেগ ছিল, কোচ আনচেলত্তি তা পুরোপুরি উড়িয়ে দিয়েছেন। ফলে নরওয়ের বিপক্ষে গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচের আগে ব্রাজিল শিবিরে কিছুটা হলেও শক্তি বেড়েছে।
ফোলিয়া দে সাও পাওলোকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে আনচেলত্তি বেঞ্চে থাকা নেইমারের পরিস্থিতি নিয়ে বিস্তারিত কথা বলেন।
তবে পূর্ণ ফিট হয়ে উঠলেও নেইমারকে শুরুর একাদশে রাখবেন কি–না সে সম্পর্কে নিশ্চিত করে কিছু বলেননি আনচেলত্তি। যখন তাকে জিজ্ঞেস করা হয়েছিল, অতিরিক্ত সময়ের জন্য কি তিনি আবারও নেইমারকে বদলি হিসেবে রাখা হবে? এমন প্রশ্নের জবাবে অভিজ্ঞ ইতালিয়ান কোচ বলেন নেইমারের অভিজ্ঞতার ওপর তার পূর্ণ আস্থা আছে।
তিনি বলেন, ‘গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো সে খেলার জন্য উপলব্ধ আছে। কতক্ষণ খেলবে, সেটা কেউ জানে না। ম্যাচের গতি এবং সময় নিয়ন্ত্রণ করার অভিজ্ঞতা তার আছে। যখন আমি মনে করব দল তার প্রয়োজন, তখনই তাকে নামাব।’
এরপর সরাসরি প্রশ্ন ছিল, নেইমার কি পুরো ৯০ মিনিট খেলতে পারবে? আনচেলত্তির জবাব ছিল পরিষ্কার, ‘হ্যাঁ, সে ৯০ মিনিট খেলতে পারে।’
বেঞ্চে বসে থাকা একজন বিশ্বমানের খেলোয়াড়ের মানসিক অবস্থা নিয়ে কথা বলতে গিয়ে কোচ তাকে প্রশংসাও করেন। তিনি বলেন, ‘সে খুশি নয়, তবে খুব ভালো আচরণ করছে।’
তিনি আরও বলেন, ‘সে খুব ভালোভাবে ট্রেনিং করছে। নেইমার অত্যন্ত সম্মানিত, বন্ধুবৎসল এবং সতীর্থদের কাছে প্রিয়। দলের মধ্যে তার বড় গুরুত্ব আছে কারণ তার অসাধারণ দক্ষতা আছে এবং সে খুবই বিনয়ী একজন মানুষ। আমি তার সঙ্গে খুব সন্তুষ্ট। আর অবশ্যই, সে খেলতে চায়, যেমনটা সবসময়ই চেয়েছে।’
যখন তাকে জিজ্ঞেস করা হয়েছিল নেইমার কি সরাসরি শুরুর একাদশে থাকার দাবি করেছেন, কোচ পরিস্থিতি পরিষ্কার করেন, ‘সে সরাসরি বলে না ‘আমি খেলতে চাই’, কিন্তু সেই ইচ্ছাটা স্পষ্ট। এটা ভালো জিনিস। একজন খেলোয়াড় বেঞ্চে বসে খুশি থাকতে পারে না।’
নরওয়ের বিপক্ষে শেষ ষোলোর ম্যাচে ব্রাজিলকে কঠিন পরীক্ষার মুখে পড়তে হবে, যেখানে প্রতিপক্ষের আক্রমণের নেতৃত্বে থাকবেন আর্লিং হালান্ড। সাত ম্যাচের অপরাজিত ধারা নিয়ে ব্রাজিল মাঠে নামবে এবং মূল ভরসা ভিনিসিউস জুনিয়র। নরওয়ের শক্তিশালী শারীরিক ও এরিয়েল আক্রমণ ঠেকানোর পাশাপাশি নেইমারের সৃজনশীলতা সঠিকভাবে ব্যবহার করাই আনচেলত্তির দলের জন্য বড় চাবিকাঠি হবে কোয়ার্টার ফাইনালে ওঠার জন্য।
নরওয়ের বিপক্ষে শেষ ১৬–এর লড়াইয়ে ব্রাজিল পাচ্ছে না মিডফিল্ডার লুকাস পাকেতাকে। জাপানের বিপক্ষে ঊরুর চোটে পাকেতার ছিটকে পড়ার আগে গ্রুপ পর্বে হাইতির বিপক্ষে চোট পেয়ে ছিটকে যাওয়া রাফিনিয়াও এখনও পুরোপুরি বিস্তারিত

বিশ্বকাপ শুরুর আগে কেউই হয়তো হিসেবে রাখেনি কেপ ভার্দের নাম। প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপে সুযোগ দেশটি স্বাভাবিকভাবেই ছিল আন্ডারডগ। কিন্তু তারাই মাঠে রেখেছে তুমুল প্রতিদ্বন্দ্বিতার ছাপ। রাউন্ড অব ৩২ থেকে বিদায় নিলেও, বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনাকে নাভিশ্বাস তুলে ছেড়েছে পশ্চিম আফ্রিকার এই দেশ।
টুর্নামেন্টজুড়ে কেপ ভার্দের অবিশ্বাস্য পারফরম্যান্সের বড় কারিগর দলটির গোলকিপার ভোজিনিয়া। তার মতে, আর্জেন্টিনার বিপক্ষে রাউন্ড অব ৩২-র ম্যাচেও জয়ী দলের মতোই খেলেছে কেপ ভার্দে। কিন্তু ভাগ্য পাশে না পাওয়া মেলেনি জয়।
মায়ামি স্টেডিয়ামে বাংলাদেশ সময় শনিবার ভোরের ম্যাচে কেপ ভার্দেকে ৩-২ গোলে হারিয়েছে বর্তমান বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা। নির্ধারিত সময়ে ১-১ গোলে সমতা থাকার পর অতিরিক্ত ৩০ মিনিটে গিয়ে জিতেছে লিওনেল স্কালোনির শিষ্যরা।
অথচ নির্ধারিত সময়েই জিতে যেতে পারত আর্জেন্টিনা। কিন্তু বারবার তাদের গোলের জন্য জোরাল সব আক্রমণ প্রতিহত করে দিয়েছেন ভোজিনহা। বিপজ্জনক জায়গা থেকে লিওনেল মেসির কথা একাধিক ফ্রি কিক তিনি ফিরিয়েছেন অসামান্য ক্ষিপ্রতায়।
সব মিলিয়ে ম্যাচে ৮টি সেভ করেছেন ভোজিনিয়া। বিশ্বকাপের ৪ ম্যাচে তার সেভ মোট ১৮টি। এর সঙ্গে দলের অন্যান্যরাও দারুণ ফুটবল খেললে আর্জেন্টিনাকে ১১৩ মিনিট পর্যন্ত আটকে রাখতে সক্ষম হয় কেপ ভার্দে।
অতিরিক্ত ৩০ মিনিটের দ্বিতীয়ার্ধে গিয়ে মেসির কর্নার থেকে উড়ে আসা বলে প্রথম ক্রিস্তিয়ান রোমেরো ও কেপ ভার্দের ফুটবলারের মাথায় লেগে বল জালে জড়ালে ম্যাচ জিতে যায় আর্জেন্টিনা। মাত্র কয়েক মিনিটের জন্য টাইব্রেকারে ম্যাচটি নিতে পারেনি কেপ ভার্দে।
ম্যাচ শেষে পরাজয়ের আক্ষেপ থাকলেও, নিজেদের পারফরম্যান্সে গর্ব করার কথাই বলেন ভোজিনিয়া। ফিফায় দেওয়া সাক্ষাৎকারে প্রতিক্রিয়া জানান কেপ ভার্দের প্রাচীর বনে যাওয়া এই গোলকিপার।
“আমার মনে হয়, ম্যাচটি জেতার জন্য আমরা যথেষ্ট ভালো খেলেছিলাম। দুর্ভাগ্যবশত, ফুটবল এমনই। আর্জেন্টিনা সেট পিস থেকে তৃতীয় গোলটি করে, কিন্তু আমরা বর্তমান চ্যাম্পিয়নদের সাথে সমান তালে পাল্লা দিয়ে খেলেছি।”
এসময় আর্জেন্টিনার প্রতি পূর্ণ শ্রদ্ধা থাকার কথাও বলেন ভোজিনিয়া।
“মেসি এবং আর্জেন্টিনার প্রতিটি খেলোয়াড়ের প্রতি আমাদের অগাধ শ্রদ্ধা রয়েছে। তবে মাঠে নামার পর, প্রতিপক্ষের দক্ষতা সম্পর্কে জানা থাকলেও, আমাদের নিজেদের এবং আমাদের খেলার ওপরই মনোযোগ দিতে হয়।”
বিশ্বকাপ শুরুর আগে কেউই হয়তো হিসেবে রাখেনি কেপ ভার্দের নাম। প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপে সুযোগ দেশটি স্বাভাবিকভাবেই ছিল আন্ডারডগ। কিন্তু তারাই মাঠে রেখেছে তুমুল প্রতিদ্বন্দ্বিতার ছাপ। রাউন্ড অব ৩২ থেকে বিদায় বিস্তারিত

ফিফা বিশ্বকাপের শেষ ষোলোর লড়াইয়ে আগামী ৫ জুলাই মুখোমুখি হবে ব্রাজিল ও নরওয়ে। অন্যদিকে ৭ জুলাই মাঠে নামবে আর্জেন্টিনা ও মিসর। গুরুত্বপূর্ণ এই দুই ম্যাচের আগে ইতিহাস কিন্তু দুই দক্ষিণ আমেরিকান পরাশক্তির জন্য ভিন্ন বার্তা দিচ্ছে।
পরিসংখ্যান বলছে, ব্রাজিল ও নরওয়ে এর আগে আন্তর্জাতিক ফুটবলে চারবার মুখোমুখি হয়েছে। অবাক করার বিষয় হলো, এই চার দেখায় একবারও জয়ের দেখা পায়নি পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা। নরওয়ের কাছে দুটি ম্যাচে হেরেছে ব্রাজিল, আর বাকি দুটি ম্যাচ ড্র হয়েছে। অর্থাৎ হেড-টু-হেড রেকর্ডে এখন পর্যন্ত নরওয়ের বিপক্ষে জয়শূন্য ব্রাজিল।
এমন পরিসংখ্যান নিঃসন্দেহে ব্রাজিল শিবিরের জন্য দুশ্চিন্তার কারণ হতে পারে। যদিও বর্তমান দলের শক্তি, খেলোয়াড়দের ফর্ম এবং টুর্নামেন্টের পরিস্থিতি অতীতের পরিসংখ্যানকে বদলে দিতে পারে, তবুও ইতিহাসের পাতায় নরওয়ের বিপক্ষে ব্রাজিলের রেকর্ড মোটেও স্বস্তিদায়ক নয়।
অন্যদিকে আর্জেন্টিনার সামনে রয়েছে মিসরের চ্যালেঞ্জ। এই দুই দল এর আগে মাত্র একবার মুখোমুখি হয়েছিল। সেই ম্যাচে দাপুটে ফুটবল খেলেই বড় ব্যবধানে জয় তুলে নিয়েছিল আর্জেন্টিনা। ফলে অতীতের রেকর্ড বর্তমান বিশ্বচ্যাম্পিয়নদের আত্মবিশ্বাস আরও বাড়িয়ে দেবে বলেই মনে করছেন ফুটবল বিশ্লেষকেরা।
তবে ফুটবলে পরিসংখ্যান সব সময় শেষ কথা বলে না। প্রতিটি ম্যাচই নতুন, আর নকআউট পর্বে একটি ভুলই বদলে দিতে পারে পুরো সমীকরণ। তারপরও ইতিহাসের বিচারে শেষ ষোলোর আগে আর্জেন্টিনা যেমন পাচ্ছে আত্মবিশ্বাসের বাড়তি রসদ, তেমনি ব্রাজিলকে তাড়া করে ফিরছে নরওয়ের বিপক্ষে জয়হীন অতীত।
ব্রাজিল ও নরওয়ের পরিসংখ্যান:
*মোট ম্যাচ: ৪টি
*ব্রাজিলের জয়: ০টি
*নরওয়ের জয়: ২টি
*ড্র: ২টি
ম্যাচগুলোর ফলাফল:
*১৯৮৮ (আন্তর্জাতিক প্রীতি ম্যাচ): ব্রাজিল ১-১ নরওয়ে
*১৯৯৭ (আন্তর্জাতিক প্রীতি ম্যাচ): নরওয়ে ৪-২ ব্রাজিল
*১৯৯৮ (ফিফা বিশ্বকাপ, গ্রুপ পর্ব): নরওয়ে ২-১ ব্রাজিল
*২০০৬ (আন্তর্জাতিক প্রীতি ম্যাচ): ব্রাজিল ১-১ নরওয়ে
আর্জেন্টিনা ও মিসরের পরিসংখ্যান:
*মোট ম্যাচ: ১টি
*আর্জেন্টিনার জয়: ১টি
*মিসরের জয়: ০টি
*ড্র: ০টি
সর্বশেষ সাক্ষাৎ: ২০০৮ সালের আন্তর্জাতিক প্রীতি ম্যাচ
ফল: আর্জেন্টিনা ২-০ মিসর
ফিফা বিশ্বকাপের শেষ ষোলোর লড়াইয়ে আগামী ৫ জুলাই মুখোমুখি হবে ব্রাজিল ও নরওয়ে। অন্যদিকে ৭ জুলাই মাঠে নামবে আর্জেন্টিনা ও মিসর। গুরুত্বপূর্ণ এই দুই ম্যাচের আগে ইতিহাস কিন্তু দুই দক্ষিণ বিস্তারিত

বিশ্বকাপে কেপ ভার্দের বিপক্ষে রাউন্ড অব ৩২’র ম্যাচে রুদ্ধশ্বাস লড়াই শেষে জয় পেয়েছে বর্তমান চ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা। ম্যাচ শেষে দলের পারফরম্যান্স নিয়ে খোলামেলা মূল্যায়ন করেছেন অধিনায়ক লিওনেল মেসি। তার মতে, প্রতিপক্ষকে সহজভাবে দেখার কোনো সুযোগই ছিল না এবং শুরু থেকেই তারা জানতেন কঠিন এক পরীক্ষার মুখোমুখি হতে যাচ্ছেন।
মেসি বলেন, কেপ ভার্দের অপরাজিত যাত্রা মোটেও কাকতালীয় ছিল না। স্পেন কিংবা উরুগুয়ের মতো শক্তিশালী দলের বিপক্ষেও তারা ভালো ফল করেছে, তাই ম্যাচটি যে কঠিন হবে, সে বিষয়ে আর্জেন্টিনা আগেই সতর্ক ছিল। তার ভাষায়, প্রথম গোলটি করাই ছিল সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ। গোল পাওয়ার পর মনে হয়েছিল ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নিজেদের হাতে রেখে আরও স্বচ্ছন্দে খেলা যাবে। কিন্তু বাস্তবে ঘটেছে ঠিক উল্টোটা।
আর্জেন্টাইন অধিনায়ক স্বীকার করেছেন, ম্যাচের বিভিন্ন সময়ে তার দল বলের নিয়ন্ত্রণ হারিয়েছে। রক্ষণভাগ কিছুটা বেশি নিচে নেমে যাওয়ায় প্রতিপক্ষকে কাঙ্ক্ষিতভাবে চাপে রাখা সম্ভব হয়নি। সেই সুযোগ কাজে লাগিয়ে কেপ ভার্দে সমতাসূচক গোলও আদায় করে নেয়। তবে এমন পরিস্থিতির জন্য দল মানসিকভাবে প্রস্তুত ছিল বলেও জানিয়েছেন তিনি।
মেসির মতে, নকআউট পর্বের ফুটবলে কোনো ম্যাচই সহজ নয়। এখানে কোনো দলই প্রতিপক্ষকে বিনা লড়াইয়ে কিছু ছেড়ে দেয় না। কেবল নামের কারণে কোনো দলকে দুর্বল মনে করা হতে পারে, কিন্তু মাঠের বাস্তবতা সম্পূর্ণ ভিন্ন। তাই কেপ ভার্দের বিপক্ষে কঠিন লড়াই তাকে বিস্মিত করেনি।
বিশ্বকাপে কেপ ভার্দের বিপক্ষে রাউন্ড অব ৩২’র ম্যাচে রুদ্ধশ্বাস লড়াই শেষে জয় পেয়েছে বর্তমান চ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা। ম্যাচ শেষে দলের পারফরম্যান্স নিয়ে খোলামেলা মূল্যায়ন করেছেন অধিনায়ক লিওনেল মেসি। তার মতে, প্রতিপক্ষকে বিস্তারিত

কেপ ভার্দের এই স্বপ্নযাত্রার নেপথ্যে মাঠ ও মাঠের বাইরে সবচেয়ে বড় তারকা ভোজিনিয়া। ৪০ বছর বয়সী অখ্যাত এই গোলকিপার স্পেনের বিপক্ষে বিশ্বকাপের প্রথম ম্যাচেই পুরো দুনিয়াকে নিজেকে চিনিয়েছেন তার অতি মানবীয় পারফরম্যান্স দিয়ে। একের পর এক আক্রমণ রুখে দিয়ে হতাশায় স্প্যানিশদের হতাশায় ফেলে দেন তিনি। পুরো ম্যাচে ৭টি সেভ করে ম্যাচের সেরাও নির্বাচিত হন ভোজিনিয়া।
আর্জেন্টিনার বিপক্ষে আজ ৮টি সেভ করে এবারের বিশ্বকাপে নিজের মোট সেভের সংখ্যা ১৮-তে নিয়ে গেছেন ভোজিনিয়া। চলতি টুর্নামেন্টে তার চেয়ে বেশি সেভ করেছেন শুধু কুরাসাওয়ের এলোয় রুম (২০) এবং প্যারাগুয়ের অরল্যান্ডো গিল (১৯)।
বিশ্বকাপের ইতিহাসে ৪০ বা তার বেশি বয়সী গোলকিপারদের মধ্যে কেবল পিটার শিলটন (১৯৯০ সালে ইংল্যান্ডের হয়ে ২৮টি) এবং দিনো জফ (১৯৮২ সালে ইতালির হয়ে ২৭টি) এক টুর্নামেন্টে এর চেয়ে বেশি সেভ করতে পেরেছেন।
পরিসংখ্যান যে সবসময় মাঠের আসল গল্প বলতে পারে না—তার সবচেয়ে বড় উদাহরণ কেপ ভার্দের এবারের বিশ্বকাপ অভিযান। টুর্নামেন্টে তারা কোনো ম্যাচ জেতেনি, অথচ তাদের পারফরম্যান্স ছিল চোখে পড়ার মতো।
সাবেক চ্যাম্পিয়ন স্পেন ও উরুগুয়ের সঙ্গে ড্র এবং সৌদি আরবকে রুখে দিয়ে কেপ ভার্দে জায়গা করে নিয়েছিল শেষ ৩২-এ। এমন দুর্দান্ত পারফরম্যান্স কি দলটির সমর্থকরা কখনো কল্পনা করতে পেরেছিল?
এরপর আজ নকআউট পর্বে লিওনেল মেসির আর্জেন্টিনার বিপক্ষে ম্যাচটিকে তারা টেনে নিয়েছে অতিরিক্ত সময়ে। ঘড়ির কাটায় ১১১তম মিনিট, ম্যাচ তখন ২-২ সমতায়, মনে হচ্ছিল পেনাল্টি শুট আউট নির্ধারণ হবে ম্যাচের ফল কিন্তু ভাগ্য সহায় হলো না কেপ ভার্দের। বোর্গেসের আত্মঘাতী গোলে আবারও এগিয়ে যায় আর্জেন্টিনা। শেষ পর্যন্ত এই গোলেই ম্যাচের ফলাফল নির্ধারণ করে দেয়।
ফলাফলে লেখা থাকবে কেপ ভার্দেকে ৩-২ গোলে হারিয়েছে আর্জেন্টিনা। কিন্তু পুরো বিশ্ব ইতিমধ্যেই দেখেছে আফ্রিকার এই দ্বীপরাষ্ট্রের লড়াকু মানসিকতা। বারবার পিছিয়ে পড়েও চোখে চোখ রাঙিয়ে কেপ ভার্দে কিভাবে চ্যালেঞ্জ ছুড়ে তিনবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনাকে।
এক ম্যাচে ৮টি সেভ করে নতুন আফ্রিকান রেকর্ডও গড়েছেন ভোজিনিয়া। ২০১৪ বিশ্বকাপে জার্মানির বিপক্ষে আলজেরিয়ার রাইস এম’বোলহির পর নকআউট পর্বে কোনো আফ্রিকান গোলকিপারের এটি সর্বোচ্চ সেভের কীর্তি।
২০১০ সালের চ্যাম্পিয়ন স্পেন, দুইবারের চ্যাম্পিয়ন উরুগুয়ে এবং বর্তমান বিশ্বচ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা—সবার বিপক্ষেই চোখে চোখ রেখে লড়াই করেছে কেপভার্দে। পুরো টুর্নামেন্টে তারা ৪টি গোল করেছে, হজম করেছে ৫টি, ৩টি ম্যাচ ড্র করেছে এবং মাত্র ১টিতে হেরেছে।
ফিফা র্যাঙ্কিংয়ের ৬৭ নম্বরে থাকা কেপ ভার্দে এবারের বিশ্বকাপের সবচেয়ে বড় চমক। অথচ দেশটির মাত্র ৪,০৩৩ বর্গ কিলোমিটার, জনসংখ্যা মাত্র পাঁচ লাখ উনত্রিশ হাজার।
ইতিহাসে প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপের নকআউট পর্বে খেলতে নেমে শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক ছিল কেপ ভার্দে। ম্যাচের শুরুতেই রায়ান মেন্ডেস আর্জেন্টিনার রক্ষণকে বেশ ভালোই পরীক্ষা নেন। তবে ধীরে ধীরে ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নিজেদের হাতে নেয় লাতিন আমেরিকার জায়ান্টরা।
ম্যাচের ৩১ মিনিটে লিসান্দ্রো মার্টিনেজের পাস থেকে বল নিয়ন্ত্রণে নিয়ে দুর্দান্ত এক শটে বল জালের ছাদে পাঠান লিওনেল মেসি। এটি ছিল টুর্নামেন্টে তার সপ্তম গোল।
প্রথমার্ধে আর্জেন্টিনা সুবিধাজনক অবস্থানে থাকলেও বিরতির পর বদলে যায় কেপ ভার্দে। মেন্ডেসের পাস থেকে ডেরয় ডুয়ার্তে কঠিন কোণ থেকে দারুণ ফিনিশিংয়ে গোল করে দলকে ১-১ সমতায় ফেরান। এটি ছিল বিশ্বকাপের নকআউট পর্বে কেপ ভার্দের ইতিহাসে প্রথম গোল।
নির্ধারিত সময়ে আর কোনো গোল না হওয়ায় ম্যাচ গড়ায় অতিরিক্ত সময়ে। ৯২ মিনিটে কর্নার থেকে লিসান্দ্রো মার্টিনেজ গোল করে আর্জেন্টিনাকে আবারও এগিয়ে নেন। পিছিয়ে পড়েও দমে যায়নি কেপ ভার্দে। ১০৩ মিনিটে সিডনি লোপেস কাবরাল এক বাঁকানো শটে গোল করে ম্যাচ আবার ২-২ সমতায় আনেন।
১১১ মিনিটে মেসির নেওয়া কর্নার থেকে রোমেরো জোরালো হেড করেন, যা কেপ ভার্দের ডিফেন্ডার দিনেই বোর্গেসের গায়ে সামান্য লেগে দিক পরিবর্তন করে জালে জড়ায়। এই আত্মঘাতী গোলেই ৩-২ ব্যবধানে এগিয়ে যায় আর্জেন্টিনা।
ম্যাচের একেবারে শেষ মুহূর্তে ফ্রি-কিক থেকে লোপেস কাবরালের একটি বুলেট গতির শট অসাধারণ দক্ষতায় রুখে দেন আর্জেন্টিনার গোলকিপার এমিলিয়ানো মার্তিনেজ। নাহলে ম্যাচটি টাইব্রেকারে গড়াত। এই সেভের মাধ্যমেই আর্জেন্টিনার শেষ-১৬ নিশ্চিত হয়।
বিদায় নিলেও বিশ্বজুড়ে ফুটবলপ্রেমীদের হৃদয় জয় করে মাথা উঁচু করেই মাঠ ছেড়েছে কেপ ভার্দে। সেই সঙ্গে বিশ্ব চিনেছে ভোজিনিয়া নামের এক লড়াকু বীরকে।
কেপ ভার্দের এই স্বপ্নযাত্রার নেপথ্যে মাঠ ও মাঠের বাইরে সবচেয়ে বড় তারকা ভোজিনিয়া। ৪০ বছর বয়সী অখ্যাত এই গোলকিপার স্পেনের বিপক্ষে বিশ্বকাপের প্রথম ম্যাচেই পুরো দুনিয়াকে নিজেকে চিনিয়েছেন তার অতি বিস্তারিত

