খেলাধুলা - Gono television | বাংলাদেশ সরকার অনুমোদিত বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেল।

বিশ্বকাপের মঞ্চে আর দেখা যাবে না ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদোকে। স্পেনের বিপক্ষে শেষ ষোলোর মহাগুরুত্বপূর্ণ ম্যাচের আগে নিজেই জানিয়ে দিলেন, ২০২৬ বিশ্বকাপই তার ক্যারিয়ারের শেষ বিশ্বকাপ।

 

রোববার ম্যাচপূর্ব সংবাদ সম্মেলনে ৪১ বছর বয়সী এই পর্তুগিজ মহাতারকা বলেন, ‘আমি যতটা সম্ভব এই মুহূর্তগুলো উপভোগ করতে চাই। এটাই আমার শেষ বিশ্বকাপ। তবে আশা করি, স্পেনের বিপক্ষে ম্যাচ যেন আমার শেষ ম্যাচ না হয়।’২০০৬ সালে প্রথম বিশ্বকাপ খেলেছিলেন রোনালদো। এরপর ২০১০, ২০১৪, ২০১৮, ২০২২ এবং ২০২৬—টানা ছয়টি বিশ্বকাপে খেলার অনন্য কীর্তি গড়েছেন তিনি। এবারের আসরে উজবেকিস্তানের বিপক্ষে গোল করে বিশ্বকাপের ছয়টি ভিন্ন আসরে গোল করা প্রথম ফুটবলারও হয়েছেন।

 

এবারের বিশ্বকাপে এখন পর্যন্ত তিনটি গোল করেছেন রোনালদো। গ্রুপ পর্বে উজবেকিস্তানের বিপক্ষে জোড়া গোল করার পর শেষ ষোলোতে ক্রোয়েশিয়ার বিপক্ষে পেনাল্টি থেকে গোল করে বিশ্বকাপের নকআউট পর্বে নিজের প্রথম গোলের দেখা পান তিনি।

 

রোনালদো বলেন, ‘এই বিশ্বকাপ আমার কাছে অসাধারণ একটি অভিজ্ঞতা। শুধু মাঠের পারফরম্যান্স নয়, মানুষের আবেগ-ভালোবাসার কারণেই এটি আমার স্মৃতিতে সবচেয়ে বেশি জায়গা করে নেবে। কেন জানি না, তবে আবেগের দিক থেকে এটিই আমার সেরা বিশ্বকাপ। আমি প্রতিটি মুহূর্ত উপভোগ করেছি।’বিশ্বকাপ জিততে না পারলেও নিজের ক্যারিয়ার অসম্পূর্ণ থেকে যাবে না বলেও স্পষ্ট জানিয়ে দেন তিনি।

 

‘আমার জীবনে কোনো কিছুর অভাব নেই। বিশ্বকাপ জিতলে আমি বেশি কিছু হয়ে যাবো না, আর না জিতলেও কমে যাব না। অবশ্যই আমাদের শিরোপা জেতার সামর্থ্য আছে, কিন্তু শেষ পর্যন্ত তো একটি দলই চ্যাম্পিয়ন হবে,’ বলেন রোনালদো।

 

জাতীয় দল থেকে অবসর নিয়েও কথা বলেন তিনি, ‘একদিন অবশ্যই সেই সময় আসবে। কিন্তু আগামীকাল যা-ই ঘটুক না কেন, আমি সম্পূর্ণ তৃপ্তি নিয়েই মাঠ ছাড়ব। আমি ফুটবলের জন্য আমার সর্বস্ব উজাড় করে দিয়েছি। আমি অর্থ বা খ্যাতির জন্য খেলি না, খেলি ভালোবাসা থেকে।’

 

সমালোচনাকে ইতিবাচকভাবে নেওয়ার কথাও বলেন পাঁচবারের ব্যালন ডি’অরজয়ী এই তারকা, ‘৪০ বছর পার হওয়ার পরও সমালোচনা শুনতে হয়। তবে আমি সেসবের জন্যও কৃতজ্ঞ। সমালোচনাই মানুষকে আরও পরিণত হতে শেখায়। গঠনমূলক সমালোচনা গ্রহণ করতে হয়, আর যেগুলো আপনাকে ভেঙে দেওয়ার জন্য করা হয়, সেগুলো উপেক্ষা করতে শিখতে হয়।’

 

স্পেনের তরুণ তারকা লামিনে ইয়ামালের প্রশংসাও করেন রোনালদো, ‘ওর সামনে উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ অপেক্ষা করছে। তবে আমি শুধু ইয়ামালকে নয়, পুরো স্পেন দলকেই দেখি। তারা দারুণ একটি দল। দীর্ঘ ক্যারিয়ার গড়তে চাইলে প্রস্তুত থাকতে হবে, সমালোচনায় ভেঙে পড়া যাবে না। যাঁরা আপনাকে ভালোবাসেন, তাঁদের ভালোবাসা এবং নিজের কাজের প্রতি আবেগই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।’অন্যদিকে রোনালদোর প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানিয়েছেন স্পেনের প্রধান কোচ লুইস দে লা ফুয়েন্তে।

 

তিনি বলেন, ‘আমি ক্রিস্টিয়ানোর বড় ভক্ত। উচ্চাকাঙ্ক্ষা, চরিত্র, কঠোর পরিশ্রম এবং প্রতিদিন নিজেকে আরও উন্নত করার মানসিকতা—তরুণদের জন্য সে একটি আদর্শ উদাহরণ।’

 

স্পেন কোচ আরও বলেন, ‘পুরো ম্যাচজুড়েই আমাদের ওর দিকে নজর রাখতে হবে। আলাদা করে একজনকে দায়িত্ব দেওয়ার প্রয়োজন নেই, তবে সে যে জায়গায় খেলতে স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করে, সেখানে তাকে এক মুহূর্তের জন্যও অবহেলা করা যাবে না। সেই জায়গাগুলোতে সে এখনো বিশ্বের অন্যতম সেরা।’

এটাই আমার শেষ বিশ্বকাপ, স্পেন ম্যাচ যেন শেষ ম্যাচ না হয়: রোনালদো

বিশ্বকাপের মঞ্চে আর দেখা যাবে না ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদোকে। স্পেনের বিপক্ষে শেষ ষোলোর মহাগুরুত্বপূর্ণ ম্যাচের আগে নিজেই জানিয়ে দিলেন, ২০২৬ বিশ্বকাপই তার ক্যারিয়ারের শেষ বিশ্বকাপ।   রোববার ম্যাচপূর্ব সংবাদ সম্মেলনে ৪১ বিস্তারিত

চলছে ফিফা ২০২৬ বিশ্বকাপের ১৬-এর লড়াই। পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ব্রাজিল বিদায় নিয়েছে নরওয়ের কাছে। আর তাতে বিশ্বজুড়ে কোটি কোটি ব্রাজিল ভক্তরা ভেঙে পড়েছেন দলটির পরাজয়ে।

 

বিশ্বজুড়ে থাকা সাধারণ ফুটবলপ্রেমীদের মতো বড় ধাক্কা খেয়েছেন ব্রাজিল সমর্থক বাংলাদেশের বিনোদন জগতের তারকারাও। ব্রাজিল দলের এমন বিদায়ে চরম হতাশা প্রকাশ করলেও প্রিয় দলের প্রতি নিজের আজীবন সমর্থনের কথা ব্যক্ত করেছেন ছোটপর্দার জনপ্রিয় অভিনেত্রী তানজিম সাইয়ারা তটিনী।

 

সোমবার (৬ জুলাই) ব্রাজিল বিশ্বকাপের গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে নরওয়ের কাছে ২-১ গোলে হেরে টুর্নামেন্ট থেকে বিদায় নিয়েছে। ব্রাজিলের এই অপ্রত্যাশিত ও দ্রুত বিদায়ের পর সামাজিক মাধ্যমে পক্ষে-বিপক্ষে তুমুল আলোচনা চলছে।

 

ব্রাজিলের টুর্নামেন্ট থেকে বিদায় নিশ্চিত হওয়ার পর সামাজিক মাধ্যম ফেসবুকে একটি আবেগঘন পোস্ট দিয়েছেন তানজিম সাইয়ারা তটিনী।

 

ব্রাজিলের জার্সি পরা একটি ছবি পোস্ট করে সেই পোস্টে অভিনেত্রী লিখেছেন— দলের প্রতিটি ভালো ও খারাপ সময়ে আমি পাশে আছি। ব্রাজিল এমন একটি দল, যা আমি চিরকাল আমার হৃদয়ে বহন করব। আজ, আগামীকাল এবং সর্বদা— আমি আমার দলের সঙ্গেই থাকব।

 

অবশ্য পোস্ট করা ছবিতে দেখা গেছে, একহাত দিয়ে চোখ ঢেকে কান্না লুকানোর একটি ভঙ্গি, যা মূলত পরাজিত সেলেসাও সমর্থকদের বর্তমান মিশ্র আবেগেরই এক প্রতিচ্ছবি। এমনকি নিজের পোস্টের কমেন্টবক্সেও একাধিক কান্নার ইমোজি দিয়ে নিজের মন খারাপের বিষয়টি ফুটিয়ে তোলার চেষ্টা করেছেন এ ছোটপর্দার অভিনেত্রী।

ব্রাজিল এমন এক দল, যাকে চিরকাল হৃদয়ে বহন করব: তটিনী

চলছে ফিফা ২০২৬ বিশ্বকাপের ১৬-এর লড়াই। পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ব্রাজিল বিদায় নিয়েছে নরওয়ের কাছে। আর তাতে বিশ্বজুড়ে কোটি কোটি ব্রাজিল ভক্তরা ভেঙে পড়েছেন দলটির পরাজয়ে।   বিশ্বজুড়ে থাকা সাধারণ ফুটবলপ্রেমীদের মতো বিস্তারিত

ব্রাজিলের পেনাল্টি মিসের ঘটনা নিয়ে আলোচনা যেন থামছেই না। নরওয়ের বিপক্ষে শেষ ষোলোর ম্যাচের শুরুতেই পেনাল্টি কিকের সুযোগ পেয়েছিল পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা। কিন্তু সেই সুযোগ কাজে লাগাতে পারেননি ব্রুনো গুইমারেস। তবে গোল মিসের চেয়েও বেশি প্রশ্ন উঠেছে, দলের নিয়মিত পেনাল্টি নেওয়া তারকা ভিনিসিয়ুস জুনিয়র কেন কিক নিতে এগিয়ে আসেননি।

পেনাল্টি নিয়ে ওঠা প্রশ্নের জবাব দিয়েছেন ভিনিসিয়ুস জুনিয়র। ম্যাচ শেষে তিনি বলেন, স্পটকিক নেওয়ার বিষয়টি ব্যক্তিগত পছন্দের ছিল না। বরং ম্যাচের আগেই প্রধান কোচ কার্লো আনচেলত্তি ঠিক করে দিয়েছিলেন কে পেনাল্টি নেবেন। কোচের নির্দেশ মেনেই তিনি বলটি ব্রুনো গুইমারেসের হাতে তুলে দেন।

 

ম্যাচের ১২ মিনিটে ম্যাথিয়াস কুনহাকে ফাউল করার ঘটনায় ভিএআরের পরামর্শে পেনাল্টির বাঁশি বাজান রেফারি। প্রথমে বল হাতে পেনাল্টি স্পটের দিকে এগিয়ে যান ভিনিসিয়ুস জুনিয়র, যা দেখে ধারণা করা হচ্ছিল তিনিই কিক নেবেন। কিন্তু শেষ মুহূর্তে তিনি দায়িত্ব তুলে দেন ব্রুনো গুইমারেসের ওপর। তবে ব্রুনোর শটটি গোলরক্ষক ঠেকিয়ে দিলে লিড নেওয়ার সুবর্ণ সুযোগ নষ্ট করে ব্রাজিল।

 

ম্যাচ শেষে সংবাদ সম্মেলনে ভিনিসিয়ুস বলেন, ‘কোচ আগে থেকেই ঠিক করে দেন পেনাল্টি কিক কে নেবে। তিনি ব্রুনোকে বেছে নিয়েছিলেন। আমি কখনও অহংকারী ছিলাম না। প্রতিযোগিতার সর্বোচ্চ গোলদাতা হওয়ার ইচ্ছাও আমার ছিল না। ব্রুনো আমার চেয়ে ভালো পেনাল্টি নেয় বলেই কোচ তাকে দায়িত্ব দিয়েছিলেন। আমি কখনও দায়িত্ব থেকে পালিয়ে যাইনি।’

 

পেনাল্টি না নেওয়াকে ঘিরে সমালোচনার জবাবও দিয়েছেন এই ব্রাজিলিয়ান ফরোয়ার্ড। তার ভাষ্য, অনেকেই হয়তো মনে করতে পারেন তিনি দায়িত্ব নিতে চাননি, কিন্তু বাস্তবতা ভিন্ন। ভিনিসিয়ুস বলেন, ‘অনেকে হয়তো বলবে আমি নিতে চাইনি। কিন্তু আমি কখনো পালিয়ে যাইনি। রিয়াল মাদ্রিদের হয়ে কোচ যখন আমাকে দায়িত্ব দেন, তখন আমি পেনাল্টি নিই। দলের প্রয়োজন হলে আমি সব সময় প্রস্তুত থাকি। আমাদের পরবর্তী বিশ্বকাপ এবং সামনে থাকা ম্যাচগুলোর জন্য আরও ভালোভাবে প্রস্তুতি নিতে হবে।’

 

পেনাল্টি নেওয়ার আগে ব্রুনোর সঙ্গে ভিনিসিয়ুসকে কিছুক্ষণ কথা বলতে দেখা যায়। এরপরই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শুরু হয় নানা জল্পনা। অনেকেই ধারণা করেন, দুজনের মধ্যে হয়তো কে পেনাল্টি নেবেন, তা নিয়ে মতবিরোধ হয়েছিল। তবে সেই ব্যাখ্যাও স্পষ্ট করেছেন ভিনিসিয়ুস।

 

তিনি বলেন, ‘কোনো বিতর্কের অবকাশই ছিল না। পেনাল্টি নেয়ার জন্য ব্রুনোকে বেছে নিয়েছিলেন কোচ। আমরা প্রতিদিন অনুশীলন করি এবং কোচ তাকেই নির্বাচন করেছেন। প্রতিযোগিতায় সর্বোচ্চ গোলদাতা হওয়া কিংবা সেরা খেলোয়াড় হওয়ার কোনো অহমিকা আমার নেই।’

 

সতীর্থ ব্রুনো গুইমারেসের পাশেও দাঁড়িয়েছেন ভিনিসিয়ুস জুনিয়র। একটি পেনাল্টি মিস দিয়ে পুরো টুর্নামেন্টে ব্রুনোর অবদানকে মূল্যায়ন না করার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, ‘আমি সব সময় দলের জন্য খেলি। ওই মুহূর্তে ব্রুনোর পেনাল্টি নেওয়াটাই ছিল সঠিক সিদ্ধান্ত। দুর্ভাগ্যবশত সে গোল করতে পারেনি। এটাই ফুটবল। আমাদের মাথা উঁচু রেখেই এগিয়ে যেতে হবে। পুরো টুর্নামেন্টে ব্রুনো অসাধারণ খেলেছে। কিন্তু একটি পেনাল্টি মিস তার সেই পারফরম্যান্সকে কিছুটা আড়াল করে দিয়েছে।’

নরওয়ের বিপক্ষে পেনাল্টি সিদ্ধান্ত আমার নয়, কোচের ছিল: ভিনিসিয়ুস

ব্রাজিলের পেনাল্টি মিসের ঘটনা নিয়ে আলোচনা যেন থামছেই না। নরওয়ের বিপক্ষে শেষ ষোলোর ম্যাচের শুরুতেই পেনাল্টি কিকের সুযোগ পেয়েছিল পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা। কিন্তু সেই সুযোগ কাজে লাগাতে পারেননি ব্রুনো গুইমারেস। তবে বিস্তারিত

 

আন্তর্জাতিক ফুটবলকে বিদায় বললেন নেইমার

এই মেটলাইফ স্টেডিয়ামেই ২০১০ সালে মাত্র ১৮ বছর বয়সে ব্রাজিলের জার্সিতে আন্তর্জাতিক ফুটবলে অভিষেক হয়েছিল নেইমারের। ১৬ বছর পর সেই মাঠেই শেষ হয়ে গেল নেইমার জুনিয়রের বর্ণাঢ্য অধ্যায়। বিশ্বকাপের শেষ ষোলোয় নরওয়ের কাছে ২-১ গোলে হেরে টুর্নামেন্ট থেকে বিদায় নেওয়ার পর আন্তর্জাতিক ফুটবল থেকে অবসরের ঘোষণা দিয়েছেন ব্রাজিলের সর্বকালের সর্বোচ্চ গোলদাতা।

 

ম্যাচ শেষে আবেগঘন কণ্ঠে ৩৪ বছর বয়সী এই তারকা বলেন, ‘আমি চেষ্টা করেছি। নিজের সর্বোচ্চটাই দিয়েছি। এই মেটলাইফ স্টেডিয়ামেই আমার পথচলা শুরু হয়েছিল, আর এখানেই শেষ হলো। এখন সব শেষ।’ এর মধ্য দিয়েই ব্রাজিলের জার্সিতে শেষ হলো নেইমারের ১৬ বছরের রঙিন, আলোচিত এবং আবেগঘন এক অধ্যায়।

আন্তর্জাতিক ফুটবলে নেইমারের পথচলাটা ছিল সংখ্যাতেও অসাধারণ। ২০১০ সালে যুক্তরাষ্ট্রের বিপক্ষে অভিষেকের পর ব্রাজিলের জার্সিতে খেলেছেন ১২৯টি ম্যাচ। করেছেন ৮০টি গোল, যা পুরুষদের আন্তর্জাতিক ফুটবলে ব্রাজিলের ইতিহাসে সর্বোচ্চ। চারটি বিশ্বকাপে (২০১৪, ২০১৮, ২০২২ ও ২০২৬) দেশের প্রতিনিধিত্ব করেছেন তিনি। ২০১২ লন্ডন অলিম্পিকে জিতেছেন রৌপ্যপদক, আর ২০১৬ রিও অলিম্পিকে অধিনায়ক হিসেবে ব্রাজিলকে এনে দিয়েছেন ফুটবল ইভেন্টে দেশটির ইতিহাসের প্রথম অলিম্পিক স্বর্ণপদক।

 

ডান পায়ের কাফের চোট নিয়েই বিশ্বকাপে এসেছিলেন নেইমার। তাই টুর্নামেন্টের শুরু থেকেই পুরোপুরি ফিট ছিলেন না। গ্রুপ পর্বে স্কটল্যান্ডের বিপক্ষে বদলি হিসেবে মাত্র ১৪ মিনিট খেলেছিলেন। এরপর জাপানের বিপক্ষে মাঠেই নামা হয়নি।

 

নরওয়ের বিপক্ষে শেষ ষোলোর ম্যাচেও তাকে শুরুতে বেঞ্চে রেখেছিলেন কোচ কার্লো আনচেলত্তি। দ্বিতীয়ার্ধে দল পিছিয়ে পড়ার পর বদলি হিসেবে মাঠে নামেন নেইমার। ইনজুরি সময়ের একেবারে শেষ মুহূর্তে পেনাল্টি থেকে গোল করে ব্যবধান ২-১ করেন তিনি। সেটিই হয়ে থাকল চলতি বিশ্বকাপে তার একমাত্র গোল এবং আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারের ৮০তম ও শেষ গোল।

 

তবে সেই গোলও ব্রাজিলকে বিদায়ের হাত থেকে রক্ষা করতে পারেনি। নরওয়ে ২-১ ব্যবধানে জয় তুলে নিয়ে কোয়ার্টার ফাইনালে জায়গা করে নেয়। আগামী ১১ জুলাই শেষ আটে তারা মুখোমুখি হবে ইংল্যান্ড ও মেক্সিকো ম্যাচের বিজয়ীর।

 

পেলেকে ছাড়িয়ে ব্রাজিলের ইতিহাসের সর্বোচ্চ গোলদাতা হিসেবেই আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারের ইতি টানলেন নেইমার। তবে দেশের জার্সিতে বিশ্বকাপ জয়ের স্বপ্নটা আর পূরণ হলো না তার। মেটলাইফ স্টেডিয়ামের অশ্রুসিক্ত রাতেই শেষ হলো ব্রাজিল ফুটবলের এক উজ্জ্বল অধ্যায়।

আন্তর্জাতিক ফুটবলকে বিদায় বললেন নেইমার

  আন্তর্জাতিক ফুটবলকে বিদায় বললেন নেইমার এই মেটলাইফ স্টেডিয়ামেই ২০১০ সালে মাত্র ১৮ বছর বয়সে ব্রাজিলের জার্সিতে আন্তর্জাতিক ফুটবলে অভিষেক হয়েছিল নেইমারের। ১৬ বছর পর সেই মাঠেই শেষ হয়ে গেল বিস্তারিত

বিশ্বকাপের শেষ ষোলোর মঞ্চে নরওয়ের কাছে ২-১ গোলে হেরে টুর্নামেন্ট থেকে পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ব্রাজিলের বিদায়ের পর মাঠেই কান্নায় ভেঙে পড়েছেন সেলেসাওদের মহাতারকা নেইমার জুনিয়র। ম্যাচের শেষ বাঁশি বাজার পর চোখের জল লুকানোর কোনো চেষ্টাই করেননি এই ফরোয়ার্ড।

 

সতীর্থদের সান্ত্বনাও কমাতে পারেনি তার বিশ্বকাপ থেকে ছিটকে যাওয়ার তীব্র বেদনা। আর এই হৃদয়বিদারক হারের পরপরই আন্তর্জাতিক ফুটবল থেকে নিজের অবসরের স্পষ্ট ইঙ্গিত দিয়েছেন ব্রাজিলের ইতিহাসের সর্বোচ্চ গোলদাতা।

 

নিউ জার্সির মাঠে নরওয়ের বিপক্ষে ম্যাচের যোগ করা সময়ে পেনাল্টি থেকে ব্রাজিলের হয়ে একমাত্র গোলটি করেছিলেন ইনজুরি কাটিয়ে ফেরা নেইমার। তবে দলের পরাজয় এবং হেক্সা স্বপ্ন চূর্ণ হওয়া এড়ানোর জন্য তা যথেষ্ট ছিল না। ম্যাচ শেষে সম্প্রচারকারী মাধ্যম ‘জিই টিভি’কে দেওয়া সংক্ষিপ্ত ও আবেগাপ্লুত এক প্রতিক্রিয়ায় নেইমার বলেন,’চেষ্টা করেছি, বারবার চেষ্টা করেছি। কিন্তু এখানেই সব শেষ। এখান থেকেই শুরু করেছিলাম, এখানেই শেষ করলাম।’

 

প্রসঙ্গত ২০১০ বিশ্বকাপের পর এই যুক্তরাষ্ট্রের মাটিতেই তৎকালীন কোচ মানো মেনেজেসের অধীনে ব্রাজিল জাতীয় দলে প্রথম অভিষেক হয়েছিল তরুণ নেইমারের। দীর্ঘ ১৬ বছর পর সেই যুক্তরাষ্ট্রের মাঠেই কান্নাভেজা চোখে বিদায়ের রাগিণী শোনালেন তিনি।

 

চলমান ২০২৬ আসরটি ছিল নেইমারের ক্যারিয়ারের চতুর্থ বিশ্বকাপ। ২০১৪, ২০১৮, ২০২২ এবং ২০২৬—টানা চারটি আসরে দেশের হয়ে নিজের সর্বোচ্চটা উজাড় করে দিয়েও সোনালী ট্রফিটি ছোঁয়া হয়নি তার। আর এর মধ্য দিয়ে ফুটবল ইতিহাসে বিশ্বকাপ শিরোপা না জিতেই চারটি বিশ্বকাপ খেলার তালিকায় মাত্র দ্বিতীয় ব্রাজিলিয়ান ফুটবলার হিসেবে নাম লেখালেন এই কিংবদন্তি।

 

বিশ্বকাপ শুরুর আগেই নেইমার ইঙ্গিত দিয়েছিলেন, এটিই হতে যাচ্ছে তার ক্যারিয়ারের শেষ বিশ্বকাপ। ফলে নিউ জার্সির মাঠে শেষ বাঁশির পর নেইমারের এই বাঁধভাঙা কান্না শুধু একটি ম্যাচ হারার হতাশা ছিল না, বরং ফুটবল বিধাতার কাছে বিশ্বকাপ জয়ের আজীবনের স্বপ্ন অধরা থেকে যাওয়ার বেদনার বহিঃপ্রকাশ।

এখান থেকেই শুরু করেছিলাম, এখানেই শেষ করলাম

বিশ্বকাপের শেষ ষোলোর মঞ্চে নরওয়ের কাছে ২-১ গোলে হেরে টুর্নামেন্ট থেকে পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ব্রাজিলের বিদায়ের পর মাঠেই কান্নায় ভেঙে পড়েছেন সেলেসাওদের মহাতারকা নেইমার জুনিয়র। ম্যাচের শেষ বাঁশি বাজার পর চোখের বিস্তারিত

নরওয়ের বিপক্ষে শেষ ১৬–এর লড়াইয়ে ব্রাজিল পাচ্ছে না মিডফিল্ডার লুকাস পাকেতাকে। জাপানের বিপক্ষে ঊরুর চোটে পাকেতার ছিটকে পড়ার আগে গ্রুপ পর্বে হাইতির বিপক্ষে চোট পেয়ে ছিটকে যাওয়া রাফিনিয়াও এখনও পুরোপুরি ফিট নন। ফলে নরওয়ের বিপক্ষে নকআউট ম্যাচের আগে কোচ কার্লো আনচেলত্তির কপালে চিন্তার ভাঁজ পড়া স্বাভাবিক। এমন শ্বাসরুদ্ধকর মুহূর্তে ব্রাজিলের ড্রেসিং রুমে খোলা হাওয়া হয়ে বইতে পারবেন কি নেইমার, নাকি আজও বেঞ্চেই ঠিকানা হবে ৩৪ বছর বয়সী সুপারস্টারের?

 

রোববার (৫ জুলাই) নিউজার্সি স্টেডিয়ামে কোয়ার্টার ফাইনাল নিশ্চিতের লড়াইয়ে নরওয়ের মুখোমুখি হবে ব্রাজিল। এর আগে গতকাল (৪ জুলাই) ম্যাচ পূর্ব সংবাদ সম্মেলনে ব্রাজিলের কোচ কার্লো আনচেলত্তি দিয়েছেন সুখবর। ৯০ মিনিটের ম্যাচ খেলার জন্য পুরোপুরি ফিট হয়েছেন নেইমার। তবে একই সঙ্গে এই কোচ স্বীকার করেছেন, বিশ্বের অন্যতম সেরা এই ফুটবলার বর্তমানে বদলি খেলোয়াড়ের ভূমিকায় থাকার কারণে গভীরভাবে অসন্তুষ্ট।

 

 

চোটের কারণে দীর্ঘ সময় বাইরে থাকার পর অবশেষে নেইমার পুরোপুরি সেরে উঠেছেন এবং বিশ্বকাপে ব্রাজিলের জন্য বড় ভূমিকা রাখতে প্রস্তুত। ৩৪ বছর বয়সী এই ফরোয়ার্ড এখন পর্যন্ত টুর্নামেন্টে মাত্র একটি ম্যাচে ১৪ মিনিট বদলি হিসেবে খেলেছেন। তবে তার ম্যাচ ফিটনেস নিয়ে যে সব উদ্বেগ ছিল, কোচ আনচেলত্তি তা পুরোপুরি উড়িয়ে দিয়েছেন। ফলে নরওয়ের বিপক্ষে গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচের আগে ব্রাজিল শিবিরে কিছুটা হলেও শক্তি বেড়েছে।

 

ফোলিয়া দে সাও পাওলোকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে আনচেলত্তি বেঞ্চে থাকা নেইমারের পরিস্থিতি নিয়ে বিস্তারিত কথা বলেন।

 

তবে পূর্ণ ফিট হয়ে উঠলেও নেইমারকে শুরুর একাদশে রাখবেন কি–না সে সম্পর্কে নিশ্চিত করে কিছু বলেননি আনচেলত্তি। যখন তাকে জিজ্ঞেস করা হয়েছিল, অতিরিক্ত সময়ের জন্য কি তিনি আবারও নেইমারকে বদলি হিসেবে রাখা হবে? এমন প্রশ্নের জবাবে অভিজ্ঞ ইতালিয়ান কোচ বলেন নেইমারের অভিজ্ঞতার ওপর তার পূর্ণ আস্থা আছে।

 

তিনি বলেন, ‘গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো সে খেলার জন্য উপলব্ধ আছে। কতক্ষণ খেলবে, সেটা কেউ জানে না। ম্যাচের গতি এবং সময় নিয়ন্ত্রণ করার অভিজ্ঞতা তার আছে। যখন আমি মনে করব দল তার প্রয়োজন, তখনই তাকে নামাব।’

 

এরপর সরাসরি প্রশ্ন ছিল, নেইমার কি পুরো ৯০ মিনিট খেলতে পারবে? আনচেলত্তির জবাব ছিল পরিষ্কার, ‘হ্যাঁ, সে ৯০ মিনিট খেলতে পারে।’

 

বেঞ্চে বসে থাকা একজন বিশ্বমানের খেলোয়াড়ের মানসিক অবস্থা নিয়ে কথা বলতে গিয়ে কোচ তাকে প্রশংসাও করেন। তিনি বলেন, ‘সে খুশি নয়, তবে খুব ভালো আচরণ করছে।’

 

তিনি আরও বলেন, ‘সে খুব ভালোভাবে ট্রেনিং করছে। নেইমার অত্যন্ত সম্মানিত, বন্ধুবৎসল এবং সতীর্থদের কাছে প্রিয়। দলের মধ্যে তার বড় গুরুত্ব আছে কারণ তার অসাধারণ দক্ষতা আছে এবং সে খুবই বিনয়ী একজন মানুষ। আমি তার সঙ্গে খুব সন্তুষ্ট। আর অবশ্যই, সে খেলতে চায়, যেমনটা সবসময়ই চেয়েছে।’

 

যখন তাকে জিজ্ঞেস করা হয়েছিল নেইমার কি সরাসরি শুরুর একাদশে থাকার দাবি করেছেন, কোচ পরিস্থিতি পরিষ্কার করেন, ‘সে সরাসরি বলে না ‘আমি খেলতে চাই’, কিন্তু সেই ইচ্ছাটা স্পষ্ট। এটা ভালো জিনিস। একজন খেলোয়াড় বেঞ্চে বসে খুশি থাকতে পারে না।’

 

নরওয়ের বিপক্ষে শেষ ষোলোর ম্যাচে ব্রাজিলকে কঠিন পরীক্ষার মুখে পড়তে হবে, যেখানে প্রতিপক্ষের আক্রমণের নেতৃত্বে থাকবেন আর্লিং হালান্ড। সাত ম্যাচের অপরাজিত ধারা নিয়ে ব্রাজিল মাঠে নামবে এবং মূল ভরসা ভিনিসিউস জুনিয়র। নরওয়ের শক্তিশালী শারীরিক ও এরিয়েল আক্রমণ ঠেকানোর পাশাপাশি নেইমারের সৃজনশীলতা সঠিকভাবে ব্যবহার করাই আনচেলত্তির দলের জন্য বড় চাবিকাঠি হবে কোয়ার্টার ফাইনালে ওঠার জন্য।

৯০ মিনিট খেলার জন্য ফিট নেইমার, আনচেলত্তি কতক্ষণ খেলাবেন?

নরওয়ের বিপক্ষে শেষ ১৬–এর লড়াইয়ে ব্রাজিল পাচ্ছে না মিডফিল্ডার লুকাস পাকেতাকে। জাপানের বিপক্ষে ঊরুর চোটে পাকেতার ছিটকে পড়ার আগে গ্রুপ পর্বে হাইতির বিপক্ষে চোট পেয়ে ছিটকে যাওয়া রাফিনিয়াও এখনও পুরোপুরি বিস্তারিত

বিশ্বকাপ শুরুর আগে কেউই হয়তো হিসেবে রাখেনি কেপ ভার্দের নাম। প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপে সুযোগ দেশটি স্বাভাবিকভাবেই ছিল আন্ডারডগ। কিন্তু তারাই মাঠে রেখেছে তুমুল প্রতিদ্বন্দ্বিতার ছাপ। রাউন্ড অব ৩২ থেকে বিদায় নিলেও, বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনাকে নাভিশ্বাস তুলে ছেড়েছে পশ্চিম আফ্রিকার এই দেশ।

 

টুর্নামেন্টজুড়ে কেপ ভার্দের অবিশ্বাস্য পারফরম্যান্সের বড় কারিগর দলটির গোলকিপার ভোজিনিয়া। তার মতে, আর্জেন্টিনার বিপক্ষে রাউন্ড অব ৩২-র ম্যাচেও জয়ী দলের মতোই খেলেছে কেপ ভার্দে। কিন্তু ভাগ্য পাশে না পাওয়া মেলেনি জয়।

মায়ামি স্টেডিয়ামে বাংলাদেশ সময় শনিবার ভোরের ম্যাচে কেপ ভার্দেকে ৩-২ গোলে হারিয়েছে বর্তমান বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা। নির্ধারিত সময়ে ১-১ গোলে সমতা থাকার পর অতিরিক্ত ৩০ মিনিটে গিয়ে জিতেছে লিওনেল স্কালোনির শিষ্যরা।

 

অথচ নির্ধারিত সময়েই জিতে যেতে পারত আর্জেন্টিনা। কিন্তু বারবার তাদের গোলের জন্য জোরাল সব আক্রমণ প্রতিহত করে দিয়েছেন ভোজিনহা। বিপজ্জনক জায়গা থেকে লিওনেল মেসির কথা একাধিক ফ্রি কিক তিনি ফিরিয়েছেন অসামান্য ক্ষিপ্রতায়।

 

সব মিলিয়ে ম্যাচে ৮টি সেভ করেছেন ভোজিনিয়া। বিশ্বকাপের ৪ ম্যাচে তার সেভ মোট ১৮টি। এর সঙ্গে দলের অন্যান্যরাও দারুণ ফুটবল খেললে আর্জেন্টিনাকে ১১৩ মিনিট পর্যন্ত আটকে রাখতে সক্ষম হয় কেপ ভার্দে।

অতিরিক্ত ৩০ মিনিটের দ্বিতীয়ার্ধে গিয়ে মেসির কর্নার থেকে উড়ে আসা বলে প্রথম ক্রিস্তিয়ান রোমেরো ও কেপ ভার্দের ফুটবলারের মাথায় লেগে বল জালে জড়ালে ম্যাচ জিতে যায় আর্জেন্টিনা। মাত্র কয়েক মিনিটের জন্য টাইব্রেকারে ম্যাচটি নিতে পারেনি কেপ ভার্দে।

 

ম্যাচ শেষে পরাজয়ের আক্ষেপ থাকলেও, নিজেদের পারফরম্যান্সে গর্ব করার কথাই বলেন ভোজিনিয়া। ফিফায় দেওয়া সাক্ষাৎকারে প্রতিক্রিয়া জানান কেপ ভার্দের প্রাচীর বনে যাওয়া এই গোলকিপার।

 

“আমার মনে হয়, ম্যাচটি জেতার জন্য আমরা যথেষ্ট ভালো খেলেছিলাম। দুর্ভাগ্যবশত, ফুটবল এমনই। আর্জেন্টিনা সেট পিস থেকে তৃতীয় গোলটি করে, কিন্তু আমরা বর্তমান চ্যাম্পিয়নদের সাথে সমান তালে পাল্লা দিয়ে খেলেছি।”

 

এসময় আর্জেন্টিনার প্রতি পূর্ণ শ্রদ্ধা থাকার কথাও বলেন ভোজিনিয়া।

 

“মেসি এবং আর্জেন্টিনার প্রতিটি খেলোয়াড়ের প্রতি আমাদের অগাধ শ্রদ্ধা রয়েছে। তবে মাঠে নামার পর, প্রতিপক্ষের দক্ষতা সম্পর্কে জানা থাকলেও, আমাদের নিজেদের এবং আমাদের খেলার ওপরই মনোযোগ দিতে হয়।”

আর্জেন্টিনার বিপক্ষে বিজয়ীর মতোই খেলেছি: ভোজিনিয়া

বিশ্বকাপ শুরুর আগে কেউই হয়তো হিসেবে রাখেনি কেপ ভার্দের নাম। প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপে সুযোগ দেশটি স্বাভাবিকভাবেই ছিল আন্ডারডগ। কিন্তু তারাই মাঠে রেখেছে তুমুল প্রতিদ্বন্দ্বিতার ছাপ। রাউন্ড অব ৩২ থেকে বিদায় বিস্তারিত

ফিফা বিশ্বকাপের শেষ ষোলোর লড়াইয়ে আগামী ৫ জুলাই মুখোমুখি হবে ব্রাজিল ও নরওয়ে। অন্যদিকে ৭ জুলাই মাঠে নামবে আর্জেন্টিনা ও মিসর। গুরুত্বপূর্ণ এই দুই ম্যাচের আগে ইতিহাস কিন্তু দুই দক্ষিণ আমেরিকান পরাশক্তির জন্য ভিন্ন বার্তা দিচ্ছে।

 

পরিসংখ্যান বলছে, ব্রাজিল ও নরওয়ে এর আগে আন্তর্জাতিক ফুটবলে চারবার মুখোমুখি হয়েছে। অবাক করার বিষয় হলো, এই চার দেখায় একবারও জয়ের দেখা পায়নি পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা। নরওয়ের কাছে দুটি ম্যাচে হেরেছে ব্রাজিল, আর বাকি দুটি ম্যাচ ড্র হয়েছে। অর্থাৎ হেড-টু-হেড রেকর্ডে এখন পর্যন্ত নরওয়ের বিপক্ষে জয়শূন্য ব্রাজিল।

 

এমন পরিসংখ্যান নিঃসন্দেহে ব্রাজিল শিবিরের জন্য দুশ্চিন্তার কারণ হতে পারে। যদিও বর্তমান দলের শক্তি, খেলোয়াড়দের ফর্ম এবং টুর্নামেন্টের পরিস্থিতি অতীতের পরিসংখ্যানকে বদলে দিতে পারে, তবুও ইতিহাসের পাতায় নরওয়ের বিপক্ষে ব্রাজিলের রেকর্ড মোটেও স্বস্তিদায়ক নয়।

 

অন্যদিকে আর্জেন্টিনার সামনে রয়েছে মিসরের চ্যালেঞ্জ। এই দুই দল এর আগে মাত্র একবার মুখোমুখি হয়েছিল। সেই ম্যাচে দাপুটে ফুটবল খেলেই বড় ব্যবধানে জয় তুলে নিয়েছিল আর্জেন্টিনা। ফলে অতীতের রেকর্ড বর্তমান বিশ্বচ্যাম্পিয়নদের আত্মবিশ্বাস আরও বাড়িয়ে দেবে বলেই মনে করছেন ফুটবল বিশ্লেষকেরা।

 

তবে ফুটবলে পরিসংখ্যান সব সময় শেষ কথা বলে না। প্রতিটি ম্যাচই নতুন, আর নকআউট পর্বে একটি ভুলই বদলে দিতে পারে পুরো সমীকরণ। তারপরও ইতিহাসের বিচারে শেষ ষোলোর আগে আর্জেন্টিনা যেমন পাচ্ছে আত্মবিশ্বাসের বাড়তি রসদ, তেমনি ব্রাজিলকে তাড়া করে ফিরছে নরওয়ের বিপক্ষে জয়হীন অতীত।

 

ব্রাজিল ও নরওয়ের পরিসংখ্যান:

*মোট ম্যাচ: ৪টি

*ব্রাজিলের জয়: ০টি

*নরওয়ের জয়: ২টি

*ড্র: ২টি

 

ম্যাচগুলোর ফলাফল:

*১৯৮৮ (আন্তর্জাতিক প্রীতি ম্যাচ): ব্রাজিল ১-১ নরওয়ে

*১৯৯৭ (আন্তর্জাতিক প্রীতি ম্যাচ): নরওয়ে ৪-২ ব্রাজিল

*১৯৯৮ (ফিফা বিশ্বকাপ, গ্রুপ পর্ব): নরওয়ে ২-১ ব্রাজিল

*২০০৬ (আন্তর্জাতিক প্রীতি ম্যাচ): ব্রাজিল ১-১ নরওয়ে

 

আর্জেন্টিনা ও মিসরের পরিসংখ্যান:

*মোট ম্যাচ: ১টি

*আর্জেন্টিনার জয়: ১টি

*মিসরের জয়: ০টি

*ড্র: ০টি

 

সর্বশেষ সাক্ষাৎ: ২০০৮ সালের আন্তর্জাতিক প্রীতি ম্যাচ

ফল: আর্জেন্টিনা ২-০ মিসর

পরিসংখ্যানে আর্জেন্টিনার জন্য সুখবর, ব্রাজিল শিবিরে বড় দুঃসংবাদ

ফিফা বিশ্বকাপের শেষ ষোলোর লড়াইয়ে আগামী ৫ জুলাই মুখোমুখি হবে ব্রাজিল ও নরওয়ে। অন্যদিকে ৭ জুলাই মাঠে নামবে আর্জেন্টিনা ও মিসর। গুরুত্বপূর্ণ এই দুই ম্যাচের আগে ইতিহাস কিন্তু দুই দক্ষিণ বিস্তারিত

বিশ্বকাপে কেপ ভার্দের বিপক্ষে রাউন্ড অব ৩২’র ম্যাচে রুদ্ধশ্বাস লড়াই শেষে জয় পেয়েছে বর্তমান চ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা। ম্যাচ শেষে দলের পারফরম্যান্স নিয়ে খোলামেলা মূল্যায়ন করেছেন অধিনায়ক লিওনেল মেসি। তার মতে, প্রতিপক্ষকে সহজভাবে দেখার কোনো সুযোগই ছিল না এবং শুরু থেকেই তারা জানতেন কঠিন এক পরীক্ষার মুখোমুখি হতে যাচ্ছেন।

 

মেসি বলেন, কেপ ভার্দের অপরাজিত যাত্রা মোটেও কাকতালীয় ছিল না। স্পেন কিংবা উরুগুয়ের মতো শক্তিশালী দলের বিপক্ষেও তারা ভালো ফল করেছে, তাই ম্যাচটি যে কঠিন হবে, সে বিষয়ে আর্জেন্টিনা আগেই সতর্ক ছিল। তার ভাষায়, প্রথম গোলটি করাই ছিল সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ। গোল পাওয়ার পর মনে হয়েছিল ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নিজেদের হাতে রেখে আরও স্বচ্ছন্দে খেলা যাবে। কিন্তু বাস্তবে ঘটেছে ঠিক উল্টোটা।

 

আর্জেন্টাইন অধিনায়ক স্বীকার করেছেন, ম্যাচের বিভিন্ন সময়ে তার দল বলের নিয়ন্ত্রণ হারিয়েছে। রক্ষণভাগ কিছুটা বেশি নিচে নেমে যাওয়ায় প্রতিপক্ষকে কাঙ্ক্ষিতভাবে চাপে রাখা সম্ভব হয়নি। সেই সুযোগ কাজে লাগিয়ে কেপ ভার্দে সমতাসূচক গোলও আদায় করে নেয়। তবে এমন পরিস্থিতির জন্য দল মানসিকভাবে প্রস্তুত ছিল বলেও জানিয়েছেন তিনি।

 

মেসির মতে, নকআউট পর্বের ফুটবলে কোনো ম্যাচই সহজ নয়। এখানে কোনো দলই প্রতিপক্ষকে বিনা লড়াইয়ে কিছু ছেড়ে দেয় না। কেবল নামের কারণে কোনো দলকে দুর্বল মনে করা হতে পারে, কিন্তু মাঠের বাস্তবতা সম্পূর্ণ ভিন্ন। তাই কেপ ভার্দের বিপক্ষে কঠিন লড়াই তাকে বিস্মিত করেনি।

প্রথম গোলের পর দলে কী ঘটেছিল, জানালেন মেসি

বিশ্বকাপে কেপ ভার্দের বিপক্ষে রাউন্ড অব ৩২’র ম্যাচে রুদ্ধশ্বাস লড়াই শেষে জয় পেয়েছে বর্তমান চ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা। ম্যাচ শেষে দলের পারফরম্যান্স নিয়ে খোলামেলা মূল্যায়ন করেছেন অধিনায়ক লিওনেল মেসি। তার মতে, প্রতিপক্ষকে বিস্তারিত

কেপ ভার্দের এই স্বপ্নযাত্রার নেপথ্যে মাঠ ও মাঠের বাইরে সবচেয়ে বড় তারকা ভোজিনিয়া। ৪০ বছর বয়সী অখ্যাত এই গোলকিপার স্পেনের বিপক্ষে বিশ্বকাপের প্রথম ম্যাচেই পুরো দুনিয়াকে নিজেকে চিনিয়েছেন তার অতি মানবীয় পারফরম্যান্স দিয়ে। একের পর এক আক্রমণ রুখে দিয়ে হতাশায় স্প্যানিশদের হতাশায় ফেলে দেন তিনি। পুরো ম্যাচে ৭টি সেভ করে ম্যাচের সেরাও নির্বাচিত হন ভোজিনিয়া।

 

আর্জেন্টিনার বিপক্ষে আজ ৮টি সেভ করে এবারের বিশ্বকাপে নিজের মোট সেভের সংখ্যা ১৮-তে নিয়ে গেছেন ভোজিনিয়া। চলতি টুর্নামেন্টে তার চেয়ে বেশি সেভ করেছেন শুধু কুরাসাওয়ের এলোয় রুম (২০) এবং প্যারাগুয়ের অরল্যান্ডো গিল (১৯)।

 

বিশ্বকাপের ইতিহাসে ৪০ বা তার বেশি বয়সী গোলকিপারদের মধ্যে কেবল পিটার শিলটন (১৯৯০ সালে ইংল্যান্ডের হয়ে ২৮টি) এবং দিনো জফ (১৯৮২ সালে ইতালির হয়ে ২৭টি) এক টুর্নামেন্টে এর চেয়ে বেশি সেভ করতে পেরেছেন।

 

পরিসংখ্যান যে সবসময় মাঠের আসল গল্প বলতে পারে না—তার সবচেয়ে বড় উদাহরণ কেপ ভার্দের এবারের বিশ্বকাপ অভিযান। টুর্নামেন্টে তারা কোনো ম্যাচ জেতেনি, অথচ তাদের পারফরম্যান্স ছিল চোখে পড়ার মতো।

 

সাবেক চ্যাম্পিয়ন স্পেন ও উরুগুয়ের সঙ্গে ড্র এবং সৌদি আরবকে রুখে দিয়ে কেপ ভার্দে জায়গা করে নিয়েছিল শেষ ৩২-এ। এমন দুর্দান্ত পারফরম্যান্স কি দলটির সমর্থকরা কখনো কল্পনা করতে পেরেছিল?

 

এরপর আজ নকআউট পর্বে লিওনেল মেসির আর্জেন্টিনার বিপক্ষে ম্যাচটিকে তারা টেনে নিয়েছে অতিরিক্ত সময়ে। ঘড়ির কাটায় ১১১তম মিনিট, ম্যাচ তখন ২-২ সমতায়, মনে হচ্ছিল পেনাল্টি শুট আউট নির্ধারণ হবে ম্যাচের ফল কিন্তু ভাগ্য সহায় হলো না কেপ ভার্দের। বোর্গেসের আত্মঘাতী গোলে আবারও এগিয়ে যায় আর্জেন্টিনা। শেষ পর্যন্ত এই গোলেই ম্যাচের ফলাফল নির্ধারণ করে দেয়।

 

ফলাফলে লেখা থাকবে কেপ ভার্দেকে ৩-২ গোলে হারিয়েছে আর্জেন্টিনা। কিন্তু পুরো বিশ্ব ইতিমধ্যেই দেখেছে আফ্রিকার এই দ্বীপরাষ্ট্রের লড়াকু মানসিকতা। বারবার পিছিয়ে পড়েও চোখে চোখ রাঙিয়ে কেপ ভার্দে কিভাবে চ্যালেঞ্জ ছুড়ে তিনবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনাকে।

 

এক ম্যাচে ৮টি সেভ করে নতুন আফ্রিকান রেকর্ডও গড়েছেন ভোজিনিয়া। ২০১৪ বিশ্বকাপে জার্মানির বিপক্ষে আলজেরিয়ার রাইস এম’বোলহির পর নকআউট পর্বে কোনো আফ্রিকান গোলকিপারের এটি সর্বোচ্চ সেভের কীর্তি।

 

২০১০ সালের চ্যাম্পিয়ন স্পেন, দুইবারের চ্যাম্পিয়ন উরুগুয়ে এবং বর্তমান বিশ্বচ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা—সবার বিপক্ষেই চোখে চোখ রেখে লড়াই করেছে কেপভার্দে। পুরো টুর্নামেন্টে তারা ৪টি গোল করেছে, হজম করেছে ৫টি, ৩টি ম্যাচ ড্র করেছে এবং মাত্র ১টিতে হেরেছে।

 

ফিফা র‍্যাঙ্কিংয়ের ৬৭ নম্বরে থাকা কেপ ভার্দে এবারের বিশ্বকাপের সবচেয়ে বড় চমক। অথচ দেশটির মাত্র ৪,০৩৩ বর্গ কিলোমিটার, জনসংখ্যা মাত্র পাঁচ লাখ উনত্রিশ হাজার।

 

ইতিহাসে প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপের নকআউট পর্বে খেলতে নেমে শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক ছিল কেপ ভার্দে। ম্যাচের শুরুতেই রায়ান মেন্ডেস আর্জেন্টিনার রক্ষণকে বেশ ভালোই পরীক্ষা নেন। তবে ধীরে ধীরে ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নিজেদের হাতে নেয় লাতিন আমেরিকার জায়ান্টরা।

 

ম্যাচের ৩১ মিনিটে লিসান্দ্রো মার্টিনেজের পাস থেকে বল নিয়ন্ত্রণে নিয়ে দুর্দান্ত এক শটে বল জালের ছাদে পাঠান লিওনেল মেসি। এটি ছিল টুর্নামেন্টে তার সপ্তম গোল।

 

প্রথমার্ধে আর্জেন্টিনা সুবিধাজনক অবস্থানে থাকলেও বিরতির পর বদলে যায় কেপ ভার্দে। মেন্ডেসের পাস থেকে ডেরয় ডুয়ার্তে কঠিন কোণ থেকে দারুণ ফিনিশিংয়ে গোল করে দলকে ১-১ সমতায় ফেরান। এটি ছিল বিশ্বকাপের নকআউট পর্বে কেপ ভার্দের ইতিহাসে প্রথম গোল।

 

নির্ধারিত সময়ে আর কোনো গোল না হওয়ায় ম্যাচ গড়ায় অতিরিক্ত সময়ে। ৯২ মিনিটে কর্নার থেকে লিসান্দ্রো মার্টিনেজ গোল করে আর্জেন্টিনাকে আবারও এগিয়ে নেন। পিছিয়ে পড়েও দমে যায়নি কেপ ভার্দে। ১০৩ মিনিটে সিডনি লোপেস কাবরাল এক বাঁকানো শটে গোল করে ম্যাচ আবার ২-২ সমতায় আনেন।

 

১১১ মিনিটে মেসির নেওয়া কর্নার থেকে রোমেরো জোরালো হেড করেন, যা কেপ ভার্দের ডিফেন্ডার দিনেই বোর্গেসের গায়ে সামান্য লেগে দিক পরিবর্তন করে জালে জড়ায়। এই আত্মঘাতী গোলেই ৩-২ ব্যবধানে এগিয়ে যায় আর্জেন্টিনা।

 

ম্যাচের একেবারে শেষ মুহূর্তে ফ্রি-কিক থেকে লোপেস কাবরালের একটি বুলেট গতির শট অসাধারণ দক্ষতায় রুখে দেন আর্জেন্টিনার গোলকিপার এমিলিয়ানো মার্তিনেজ। নাহলে ম্যাচটি টাইব্রেকারে গড়াত। এই সেভের মাধ্যমেই আর্জেন্টিনার শেষ-১৬ নিশ্চিত হয়।

 

বিদায় নিলেও বিশ্বজুড়ে ফুটবলপ্রেমীদের হৃদয় জয় করে মাথা উঁচু করেই মাঠ ছেড়েছে কেপ ভার্দে। সেই সঙ্গে বিশ্ব চিনেছে ভোজিনিয়া নামের এক লড়াকু বীরকে।

বিশ্বকাপে কেপ ভার্দের রূপকথা এবং ৪০ বছরের এক প্রাচীর

কেপ ভার্দের এই স্বপ্নযাত্রার নেপথ্যে মাঠ ও মাঠের বাইরে সবচেয়ে বড় তারকা ভোজিনিয়া। ৪০ বছর বয়সী অখ্যাত এই গোলকিপার স্পেনের বিপক্ষে বিশ্বকাপের প্রথম ম্যাচেই পুরো দুনিয়াকে নিজেকে চিনিয়েছেন তার অতি বিস্তারিত

বাড়িতে ছাগল ঢুকা কেন্দ্র করে ঠাকুরগাঁওয়ে হামলা ও শ্লীলতাহানি, ইউপি সদস্যসহ আসামী ১০।

 

মোঃ আশরাফুল ইসলাম

ঠাকুরগাঁও প্রতিনিধি

 

ঠাকুরগাঁওয়ে ভূল্লী উপজেলার ৩নং আউলিয়াপুর ইউনিয়নের ৬ নং ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য ভুজেন চন্দ্র রায়সহ ১০ জনের বিরুদ্ধে হামলা, মারধর, ভাঙচুর, শ্লীলতাহানি ও প্রাণনাশের হুমকির অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবিতে থানায় লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন পরেশ চন্দ্র রায়।

 

লিখিত অভিযোগে পরেশ চন্দ্র রায় দাবি করেন, অভিযুক্তদের সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে পারিবারিক ও জমি-সংক্রান্ত বিরোধ চলে আসছিল। এর জের ধরে ছাগল বাড়ীতে প্রবেশ করাকে কেন্দ্র করে গত ৯ আগস্ট দুপুর আনুমানিক ১টা ৩০ মিনিটে ভুজেন চন্দ্র রায়সহ অভিযুক্তরা সংঘবদ্ধ হয়ে তাদের বাড়িতে প্রবেশ করেন।

 

অভিযোগে বলা হয়, এ সময় অভিযুক্তরা ঘরের গাছের শক্ত ডাল দিয়ে পরেশ চন্দ্র রায়ের বাবা মোটাই শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাত করেন। এতে তিনি গুরুতর আহত হন। একই ঘটনায় পরিবারের নারী সদস্যদেরও মারধর ও শ্লীলতাহানির অভিযোগ করা হয়েছে। অভিযোগকারীর দাবি, তার মেয়েকে টানাহেঁচড়া করে শ্লীলতাহানি করা হয় এবং পরিবারের অন্য সদস্যদেরও মারধর করা হয়।

 

 

অভিযোগে আরও উল্লেখ করা হয়, হামলার সময় অভিযুক্তরা পরিবারের সদস্যদের বিভিন্নভাবে ভয়ভীতি দেখান এবং প্রাণনাশের হুমকি দেন। স্থানীয় লোকজন এগিয়ে এলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে।

 

অভিযুক্তরা হলেন, ১। ইউপি সদস্য ভুজেন চন্দ্র, ২। পশুরাম রায়, ৩। দারগা নাথ, ৪। আশীষ, ৫। সমারু, সকলের পিতা গনেশ চন্দ্র রায়, ৬। জগন্নাথ, ৭। পরিতোষ, উভয়ের পিতা- দারগা নাথ, ৮। প্রদীপ, ৯। মালা রানী, ১০। সুকনী রানী সকলের সাং- কচুবাড়ী হাটপাড়া, ভূল্লী,  ঠাকুরগাঁও।

 

ঘটনার বিষয়ে কয়েকজন স্থানীয় ব্যক্তি সাক্ষ্য দিতে পারবেন বলেও অভিযোগকারী উল্লেখ করেন।

 

এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট থানায় অভিযোগের ভিত্তিতে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন অভিযোগকারী পরেশ চন্দ্র রায়।

 

এ ঘটনায় অভিযুক্ত ইউপি সদস্য ভুজেন এর সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি অভিযোগটি ভিক্তিহীন বলে দাবি করেন।

 

এ বিষয়ে তদন্ত কর্মকর্তা ভূল্লী থানার সাব ইন্সপেক্টর আব্দুল মোত্তালেব জানান, অভিযোগটি রেকর্ড করা হয়েছে। এ ঘটনায় একজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। বাকিদের গ্রেপ্তার করতে অভিযান চলমান আছে।

বাড়িতে ছাগল ঢুকা কেন্দ্র করে ঠাকুরগাঁওয়ে হামলা ও শ্লীলতাহানি, ইউপি সদস্যসহ আসামী ১০

শ্যামনগরে বিনামূল্যে গবাদিপশুর টিকাদান কর্মসূচি

পিপিআর ও ক্ষুরা রোগ প্রতিরোধে তিন শতাধিক গরু, ছাগল ও ভেড়াকে টিকা প্রদা

 

শ্যামনগর (সাতক্ষীরা) প্রতিনিধি: বিনামূল্যে গবাদিপশুর টিকাদান কর্মসূচি পিপিআর ও ক্ষুরা রোগ প্রতিরোধে তিন শতাধিক গরু, ছাগল ও ভেড়াকে টিকা প্রদান। প্রাণিসম্পদের সংক্রামক রোগ নিয়ন্ত্রণ, খামারিদের আর্থিক ক্ষতি কমানো এবং জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবিলায় টেকসই ও জলবায়ু সহনশীল প্রাণিসম্পদ ব্যবস্থাপনা গড়ে তোলার লক্ষ্যে সাতক্ষীরার শ্যামনগরে গরুর ক্ষুরা রোগ (Foot and Mouth Disease-FMD) এবং ছাগল-ভেড়ার পিপিআর রোগ (Peste des Petits Ruminants-PPR) প্রতিরোধে বিনামূল্যে টিকাদান কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়েছে। বৃহস্পতিবার (১৩ আগস্ট) উপজেলার কৈখালী ইউনিয়নের যাদবপুর হাটখোলায় Climate Action at Local Level (CALL) প্রকল্পের আওতায় দিনব্যাপী এ কর্মসূচির আয়োজন করে Local Development Agriculture and Research Society (LEDARS)। কর্মসূচিতে অর্থায়ন করছে Global Alliance for Improved Nutrition (GAIN)।

দিনব্যাপী পরিচালিত এ কর্মসূচিতে স্থানীয় খামারিদের তিন শতাধিক গরু, ছাগল ও ভেড়াকে সম্পূর্ণ বিনামূল্যে FMD ও PPR টিকা প্রদান করা হয়। একই সঙ্গে প্রাণিসম্পদের সংক্রামক রোগ প্রতিরোধ, নির্ধারিত সময়ে টিকা প্রয়োগের গুরুত্ব, রোগের প্রাথমিক লক্ষণ শনাক্তকরণ এবং নিরাপদ ও আধুনিক খামার ব্যবস্থাপনা বিষয়ে খামারিদের প্রয়োজনীয় পরামর্শ ও কারিগরি সহায়তা দেওয়া হয়।

কর্মসূচিতে উপস্থিত ছিলেন কৈখালী ইউনিয়ন ৫ নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য জনাব শাহীনুর রহমান, এআইটি অনিমেষ পরামান্য, ভ্যাকসিনেটর সিকান্দার, ইউনিয়ন MSP কমিটির সদস্য জনাব দিপক কুমার মন্ডল, যাদবপুর জলবায়ু সহনশীল দলের সভাপতি তাছলিমা খাতুনসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তি ও সংশ্লিষ্টরা। এছাড়া CALL প্রকল্পের প্রকল্প কর্মকর্তা জনাব সুব্রত কুমার গাইন উপস্থিত ছিলেন। অনুষ্ঠানের সার্বিক তত্ত্বাবধান ও সমন্বয় করেন CALL প্রকল্পের মাঠ সহায়ক মোঃ কানিজুর রহমান।

সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বলেন, ক্ষুরা রোগ (FMD) ও পিপিআর (PPR) প্রাণিসম্পদ খাতের অন্যতম ক্ষতিকর সংক্রামক রোগ। এসব রোগে আক্রান্ত হলে গবাদিপশুর উৎপাদনশীলতা উল্লেখযোগ্যভাবে কমে যায় এবং গুরুতর ক্ষেত্রে পশুর মৃত্যুঝুঁকিও তৈরি হয়। এতে খামারিরা বড় ধরনের অর্থনৈতিক ক্ষতির সম্মুখীন হন। তাই নির্ধারিত সময়ে নিয়মিত ও পরিকল্পিতভাবে টিকাদান করা এসব রোগ প্রতিরোধের অন্যতম কার্যকর উপায়। তারা আরও বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে প্রাণিসম্পদের রোগঝুঁকি ও উৎপাদন ব্যবস্থাপনায় নানা ধরনের চ্যালেঞ্জ তৈরি হচ্ছে। এসব চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় CALL প্রকল্পের মাধ্যমে জলবায়ু সহনশীল কৃষি ও প্রাণিসম্পদ ব্যবস্থাপনা জোরদারে বিভিন্ন কার্যক্রম বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। এর অংশ হিসেবে খামারিদের বিনামূল্যে টিকাদান, সচেতনতামূলক প্রচারণা এবং প্রয়োজনীয় কারিগরি সহায়তা প্রদান করা হচ্ছে। ভবিষ্যতেও এ ধরনের কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে বলে জানান সংশ্লিষ্টরা।

শ্যামনগরে বিনামূল্যে গবাদিপশুর টিকাদান কর্মসূচি পিপিআর ও ক্ষুরা রোগ প্রতিরোধে তিন শতাধিক গরু, ছাগল ও ভেড়াকে টিকা প্রদান

সাউথ বাংলা ব্যাংকের মামলায় সাজাপ্রাপ্ত আসামি কলারোয়া উপজেলা যুবদলের আহ্বায়ক এম এ হাকিম সবুজ গ্রেপ্তার

 

সাতক্ষীরা প্রতিনিধি: সাউথ বাংলা এগ্রিকালচার অ্যান্ড কমার্স ব্যাংক পিএলসির একটি মামলায় সাজাপ্রাপ্ত আসামি এবং কলারোয়া উপজেলা বিএনপির যুবদলের আহ্বায়ক এম এ হাকিম সবুজকে গ্রেপ্তার করেছে কলারোয়া থানা পুলিশ।

 

বৃহস্পতিবার (১৩ আগস্ট) সন্ধ্যায় কলারোয়া উপজেলার একটি মোবাইল সার্ভিসিংয়ের দোকান থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয় বলে পুলিশ সূত্রে জানা গেছে।

 

পুলিশ সূত্রে জানা যায়, সাউথ বাংলা এগ্রিকালচার অ্যান্ড কমার্স ব্যাংক পিএলসির দায়ের করা মামলায় আদালত থেকে এম এ হাকিম সবুজের বিরুদ্ধে সাজা হয়। ওই মামলায় আদালতের রায় অনুযায়ী তিনি সাজাপ্রাপ্ত আসামি হিসেবে পলাতক ছিলেন বলে পুলিশ জানায়।

 

গোপন সংবাদের ভিত্তিতে কলারোয়া থানা পুলিশ তার অবস্থান শনাক্ত করে। পরে পুলিশের একটি দল অভিযান চালিয়ে কলারোয়া উপজেলার একটি মোবাইল সার্ভিসিংয়ের দোকান থেকে তাকে গ্রেপ্তার করে।

 

গ্রেপ্তারের পর তাকে থানায় নেওয়া হয়। পরবর্তী আইনগত প্রক্রিয়া শেষে তাকে আদালতে পাঠানো হবে বলে পুলিশ জানিয়েছে।

 

এ বিষয়ে কলারোয়া থানা পুলিশের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, আদালতের সাজা পরোয়ানা অনুযায়ী অভিযান চালিয়ে এম এ হাকিম সবুজকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তার বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।

 

এদিকে, এম এ হাকিম সবুজের গ্রেপ্তারের খবর ছড়িয়ে পড়লে স্থানীয় রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনা শুরু হয়েছে। তিনি কলারোয়া উপজেলা বিএনপির যুবদলের আহ্বায়ক হিসেবে রাজনৈতিকভাবে সক্রিয় ছিলেন।

 

তবে মামলার বিস্তারিত ধারা, আদালতের রায়ের তারিখ এবং সাজার মেয়াদ সম্পর্কে সংশ্লিষ্ট আদালত ও পুলিশের নথি যাচাই করে বিস্তারিত জানা যাবে।

সাউথ বাংলা ব্যাংকের মামলায় সাজাপ্রাপ্ত আসামি কলারোয়া উপজেলা যুবদলের আহ্বায়ক এম এ হাকিম সবুজ গ্রেপ্তার

পিরোজপুরের নেছারাবাদে প্রবাসীর বাড়িতে চুরির সময় স্থানীয়দের হাতে নাঈম (২৫) নামে নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের এক নেতা আটক হয়েছেন। আটকের আগে ওই যুবকের ছুরিকাঘাতে প্রবাসীর স্ত্রী, মেয়ে ও এক প্রতিবেশীসহ তিনজন আহত হন।

 

আহতদের উদ্ধার করে নেছারাবাদ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে।

 

বৃহস্পতিবার (১৩ আগস্ট) সকাল ১০টার দিকে স্বরূপকাঠী পৌরসভার ৭ নম্বর ওয়ার্ডে এ ঘটনা ঘটে।

 

আটক নাঈম একই এলাকার মো. রফিক মিয়ার ছেলে।

 

স্থানীয়দের অভিযোগ, নাঈম নিষিদ্ধ ঘোষিত ছাত্রলীগের সঙ্গে সক্রিয়ভাবে যুক্ত ছিলেন।

 

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, প্রবাসী ইলিয়াস হোসেনের বাড়ির পাশে থাকা একটি সুপারি গাছ বেয়ে উঠে নাঈম ঘরে প্রবেশ করেন। এ সময় ঘরে থাকা ইলিয়াস হোসেনের স্ত্রী নাজমা আক্তার তাকে দেখে ফেলেন। নাজমা মোবাইল ফোনে বিষয়টি জানানোর চেষ্টা করলে নাঈম তাকে বাধা দেন। একপর্যায়ে হাতে থাকা ছুরি দিয়ে নাজমাকে আঘাত করা হয়। নাজমার চিৎকার শুনে তার মেয়ে এগিয়ে এলে তাকেও আঘাত করা হয় বলে অভিযোগ রয়েছে। পরে প্রতিবেশী জাহাঙ্গীর হোসেনের ছেলে নুহিন মিয়া তাদের উদ্ধারে এগিয়ে এলে তাকেও ছুরিকাঘাত করে আহত করা হয়। আহতদের চিৎকার শুনে স্থানীয়রা ছুটে এসে নাঈমকে আটক করেন। পরে খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে তাকে আটক করে থানায় নিয়ে যায়।

 

হাসপাতালে চিকিৎসাধীন নাজমা আক্তার বলেন, ঘরে কাজ করার সময় হঠাৎ দেখি নাঈম সুপারি গাছ বেয়ে ঘরে ঢুকেছে। আমি মোবাইলে ফোন করতে গেলে সে বাধা দেয়। পরে চিৎকার করলে ছুরি দিয়ে আমাকে আঘাত করে। আমার মেয়ে ও প্রতিবেশী নুহিন এগিয়ে এলে তাদেরও আহত করা হয়।

 

নেছারাবাদ থানার ওসি মো. মেহেদী হাসান জানান, পৌরসভার ৭ নম্বর ওয়ার্ডে দস্যুতার সময় স্থানীয়রা নাঈম নামে এক যুবককে আটক করেন। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে তাকে হেফাজতে নেয়। এ ঘটনায় তার বিরুদ্ধে দস্যুতার অভিযোগে মামলা করা হয়েছে। পরে তাকে আদালতে পাঠানো হয়েছে।

চুরি করতে গিয়ে ছু/রি/কাঘাতে প্রবাসীর স্ত্রী-মেয়েকে জখম, নিষিদ্ধ ছাত্রলীগ নেতা আটক

টানা তিন দফা উত্থানের পর দেশের বাজারে স্বর্ণের দাম কমিয়েছে বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস)। এবার ভরিতে ২ হাজার ১৫৮ টাকা কমিয়ে ভ্যাটসহ ২২ ক্যারেটের এক ভরি স্বর্ণের দাম ২ লাখ ৩৪ হাজার ৬২১ টাকা নির্ধারণ করেছে সংগঠনটি।

 

শুক্রবার (১৪ আগস্ট) সকালে এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানিয়েছে বাজুস। নতুন এ দাম আজ সকাল ১০টা থেকেই কার্যকর হয়েছে।

 

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, স্থানীয় বাজারে তেজাবি স্বর্ণের (পিওর গোল্ড) মূল্য কমেছে। ফলে সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনায় ভ্যাটসহ স্বর্ণের নতুন দাম নির্ধারণ করা হয়েছে।

 

নতুন দর অনুযায়ী, দেশের বাজারে ভ্যাটসহ প্রতি ভরি (১১.৬৬৪ গ্রাম) ২২ ক্যারেটের স্বর্ণের দাম পড়বে ২ লাখ ৩৪ হাজার ৬২১ টাকা। এছাড়া ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি ২ লাখ ২৪ হাজার ৬৫ টাকা, ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি ১ লাখ ৯২ হাজার ৩৯৮ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম ১ লাখ ৫৭ হাজার ১৭২ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।

 

বাজুস জানিয়েছে, পরবর্তী সিদ্ধান্ত না হওয়া পর্যন্ত সব জুয়েলারি প্রতিষ্ঠানে এই দাম কার্যকর থাকবে। তবে অলঙ্কারের ডিজাইন অনুযায়ী মজুরি প্রযোজ্য। স্বর্ণালঙ্কার ও রৌপলঙ্কারের বিক্রয়মূল্যের সঙ্গে ভ্যাট যুক্ত থাকায় গ্রাহকদের কাছ থেকে আলাদাভাবে ভ্যাট আদায় করা যাবে না। এছাড়া সুনির্দিষ্ট ভ্যাট, মজুরি ও পাথর বাদ দিয়ে অলঙ্কার এক্সচেঞ্জ ও পারচেজের ক্ষেত্রে বাজুসের আগের নিয়ম বহাল থাকবে।

 

এর আগে, সবশেষ গত ১৩ আগস্ট সকালে স্বর্ণের দাম সমন্বয় করেছিল বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন। সেদিন ভরিতে ১ হাজার ১৩৩ টাকা বাড়িয়ে ভ্যাটসহ ২২ ক্যারেটের এক ভরি স্বর্ণের দাম ২ লাখ ৩৬ হাজার ৭৭৯ টাকা নির্ধারণ করা হয়।

 

এছাড়া ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি ২ লাখ ২৬ হাজার ১৬৫ টাকা, ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি ১ লাখ ৯৪ হাজার ২৬০ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম ১ লাখ ৫৮ হাজার ৬৩০ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। যা কার্যকর হয়েছিল সেদিন সকাল ১০টা থেকেই।

 

এ নিয়ে চলতি বছর এখন পর্যন্ত দেশের বাজারে ১০৩ বার সমন্বয় করা হয়েছে স্বর্ণের দাম। যেখানে দাম ৫১ দফা বাড়ানো হয়েছে, কমানো হয়েছে ৫১ দফা ও ১ দফা ভ্যাট সমন্বয় করা হয়েছে। আর গত ২০২৫ সালে দেশের বাজারে মোট ৯৩ বার স্বর্ণের দাম সমন্বয় করা হয়েছিল; যেখানে ৬৪ বার দাম বাড়ানো হয়েছিল, আর কমানো হয়েছিল ২৯ বার

টানা তিন দফা বাড়ার পর দেশে স্বর্ণের দামে পতন

গাজীপুর জজ কোর্টের সামনে সরকারি আইনজীবী (এজিপি) অ্যাডভোকেট রুহুল আমিন ও অ্যাডভোকেট মাহীন হাসান শুভর ওপর হামলার ঘটনায় আদালতে মামলা দায়েরের পর অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করা হয়েছে। একই সঙ্গে নিজেদের ও পরিবারের সদস্যদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগীরা।

 

বৃহস্পতিবার (১৩ আগস্ট) গাজীপুর জেলা আইনজীবী সমিতির লাইব্রেরি কক্ষে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব দাবি জানান তারা।

 

সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, গত ৯ আগস্ট সন্ধ্যা ৬টার দিকে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের পাশে জজ কোর্টের সামনের সড়কে অতর্কিতভাবে তাদের ওপর হামলা চালানো হয়। হামলাকারীরা ধারালো অস্ত্র ও হেলমেট দিয়ে অ্যাডভোকেট রুহুল আমিনকে হত্যার উদ্দেশ্যে মাথা ও চোখ লক্ষ্য করে আঘাত করেন বলে অভিযোগ করা হয়। এতে রুহুল আমিন ও মাহীন হাসান শুভ আহত হন। পরে তাদের শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হয়।

 

ভুক্তভোগীরা জানান, হামলার পর আইনজীবী ও স্থানীয় লোকজন কয়েকজন অভিযুক্তকে আটক করে পুলিশের কাছে সোপর্দ করেন। তবে অজ্ঞাত কারণে পুলিশ তাদের ছেড়ে দেয় বলে অভিযোগ করেন তারা।

 

পরে চিকিৎসা শেষে অ্যাডভোকেট রুহুল আমিন বৃহস্পতিবার অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে মামলা করেন। মামলাটি ১০২১/২০২৬ নম্বরে রুজু করা হয়। পরে আদালত অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করেন।

 

সংবাদ সম্মেলনে বক্তারা আদালতের জারি করা পরোয়ানা দ্রুত কার্যকর করে অভিযুক্তদের গ্রেফতার ও আদালতে সোপর্দ করার দাবি জানান। একই সঙ্গে ভুক্তভোগী, মামলার বাদী এবং তাদের পরিবারের সদস্যদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার আহ্বান জানান তারা।

 

তারা বলেন, মামলা দায়ের করায় আসামিরা ক্ষিপ্ত হয়ে তাদের জীবননাশের হুমকি দিচ্ছেন। এ অবস্থায় ভুক্তভোগী ও তাদের পরিবারের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।

 

আইনজীবীরা বলেন, হামলার সঙ্গে জড়িতদের দ্রুত আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে। তা না হলে ভবিষ্যতে আইনজীবীসহ সাধারণ নাগরিকদের ওপর এ ধরনের হামলার ঘটনা আরও বাড়তে পারে। বিচার বিভাগের প্রতি আস্থা রেখে তারা সুষ্ঠু তদন্ত ও ন্যায়বিচার প্রত্যাশা করেন।

 

সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন অ্যাডভোকেট রুহুল আমিন (এজিপি), গাজীপুর জেলা আইনজীবী সমিতির ক্রীড়া ও সাংস্কৃতিক সম্পাদক অ্যাডভোকেট মো. শাহ আলম, অ্যাডভোকেট মোজাম্মেল, অ্যাডভোকেট কামরুল হাসান রাসেল, অ্যাডভোকেট আল আমিন ইসলাম আশিক, অ্যাডভোকেট আব্দুল্লাহ, অ্যাডভোকেট ওলিউল ইসলাম টুটুল, অ্যাডভোকেট আলমগীর হোসেন ও অ্যাডভোকেট মাহীন হাসান শুভ।

আইনজীবীর ওপর হামলার ঘটনায় পরোয়ানা, নিরাপত্তা চাইলেন ভুক্তভোগীরা

শেরপুরে যৌতুকের দাবিতে স্ত্রীকে নির্যাতনের মামলায় মো. সোহাগ মিয়া (২৯) নামে এক পুলিশ সদস্যকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন আদালত।

 

বৃহস্পতিবার (১৩ আগস্ট) বিকালে আদালতে হাজির হয়ে জামিন আবেদন করেন সোহাগ মিয়া। শুনানি শেষে শেরপুর সদর সিআর আমলি আদালতের বিচারক ও সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট সুলতান মাহমুদ মিলন তার জামিন আবেদন নামঞ্জুর করে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।

 

বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন আদালতের পুলিশ পরিদর্শক মো. জিয়াউর রহমান। তিনি জানান, আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ী সোহাগ মিয়াকে জেলা কারাগারে পাঠানো হয়েছে। তিনি বর্তমানে বান্দরবান জেলা পুলিশ লাইন্সে কর্মরত।

 

মামলা সূত্রে জানা যায়, ২০১৯ সালের ১৫ ডিসেম্বর শেরপুর সদর উপজেলার সূর্য্যদী মধ্যপাড়া গ্রামের মৃত আবুল হাসেনের ছেলে পুলিশ কনস্টেবল সোহাগ মিয়ার সঙ্গে পার্শ্ববর্তী বয়ড়া পরাণপুর গ্রামের মো. আজাদ মিয়ার মেয়ে মোছা. লাকী আক্তারের বিয়ে হয়। তাদের দাম্পত্য জীবনে দুটি সন্তানের জন্ম হয়।

 

লাকী আক্তারের অভিযোগ, বিয়ের সময় মোটা অঙ্কের যৌতুক দেওয়ার পরও সোহাগ মিয়া আরও যৌতুকের জন্য তাকে নির্যাতন করতেন। গত ২৪ জুন ৫ লাখ টাকা যৌতুকের দাবিতে লাকী আক্তারকে মারধর করে বাড়ি থেকে বের করে দেন সোহাগ মিয়া।

 

এর পরিপ্রেক্ষিতে ২৯ জুন স্বামীর বিরুদ্ধে শেরপুরের আদালতে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন, ২০২৫-এর ১১(গ) ধারায় মামলা করেন লাকী আক্তার। ওই মামলায় বৃহস্পতিবার সোহাগ মিয়া আদালতে স্বেচ্ছায় আত্মসমর্পণ করে জামিন আবেদন করেন। শুনানি শেষে আদালত তার জামিন নামঞ্জুর করে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।

 

আদালতের পুলিশ পরিদর্শক মো. জিয়াউর রহমান বলেন, যৌতুক মামলায় পুলিশ কনস্টেবল সোহাগ মিয়াকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন আদালত। আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ী তাকে জেলা কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

স্ত্রী নির্যাতনের মামলায় পুলিশ সদস্য কারাগারে

আইনশৃঙ্খলা রক্ষা ও জননিরাপত্তা বিধানসহ ভালো কাজের স্বীকৃতি হিসেবে ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) বিভিন্ন পর্যায়ের পুলিশ সদস্যদের পুরস্কৃত করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার (১৩ আগস্ট) ডিএমপি সদর দপ্তরে জুলাই মাসের মাসিক অপরাধ পর্যালোচনা সভায় ভালো কাজের স্বীকৃতি হিসেবে বিভিন্ন ক্যাটাগরিতে বিজয়ীদের হাতে পুরস্কার তুলে দেন ইন্সপেক্টর জেনারেল অব পুলিশ (আইজিপি) মো. আলী হোসেন ফকির ও ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার মোসলেহ্ উদ্দিন আহমদ

 

জুলাই-২০২৬ মাসে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের অপরাধ বিভাগের মধ্যে শ্রেষ্ঠ হয়েছে মিরপুর বিভাগ। মূল্যায়নে শ্রেষ্ঠ থানার স্বীকৃতি অর্জন করেছে মিরপুর থানা। দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে উত্তরা-পশ্চিম থানা এবং তৃতীয় স্থান বাড্ডা থানা।

 

অপরদিকে, সহকারী পুলিশ কমিশনারদের মধ্যে ডেমরা জোনের সহকারী পুলিশ কমিশনার মো. শামীম হোসেন প্রথম স্থান অর্জন করেছেন। দ্বিতীয় স্থান অর্জন করেছেন মোহাম্মদপুর জোনের সহকারী পুলিশ কমিশনার মো. আবদুল্লাহ আল মামুন পিপিএম।

 

শ্রেষ্ঠ এসআই প্রথম স্থান অর্জন করেছেন পল্লবী থানার এসআই মো. সাইফুল ইসলাম। দ্বিতীয় স্থান অর্জন করেছেন ভাটারা থানার এসআই দেবাশীষ মন্ডল এবং তৃতীয় স্থান অর্জন করেছেন পল্টন মডেল থানার এসআই অমিত কুমার বিশ্বাস। এএসআইদের মধ্যে প্রথম স্থান অর্জন করেছেন যাত্রাবাড়ী থানার এএসআই নাজমুল ইসলাম এবং দ্বিতীয় স্থান অর্জন করেছে মোহাম্মদপুর থানার এএসআই নাদের আলী।

 

গোয়েন্দা বিভাগের মধ্যে শ্রেষ্ঠ হয়েছে গোয়েন্দা-ওয়ারী বিভাগ। শ্রেষ্ঠ টিম লিডার নির্বাচিত হয়েছেন গোয়েন্দা-ওয়ারী বিভাগের ওয়ারী জোনাল টিমের অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কমিশনার মো. ফজলুল করিম পিপিএম-সেবা।

 

আরও পড়ুন: সরকারি বেতন ১০০ শতাংশ বাড়ানোর সুপারিশ, মন্ত্রিসভার অনুমোদনের অপেক্ষা

 

ট্রাফিক বিভাগের মধ্যে শ্রেষ্ঠ হয়েছে ট্রাফিক-ওয়ারী বিভাগ। শ্রেষ্ঠ ট্রাফিক সার্জেন্টদের মধ্যে প্রথম স্থান অর্জন করেছে মিরপুর-ট্রাফিক জোনের সার্জেন্ট মো. সামসুদ্দীন সরকার এবং দ্বিতীয় স্থান অর্জন করেছে যাত্রাবাড়ী-ট্রাফিক জোনের সার্জেন্ট মো. শাহরিয়ার খান।

 

অপরাধ পর্যালোচনা সভায় অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (লজিস্টিকস্, ফিন্যান্স অ্যান্ড প্রকিউরমেন্ট), অতিরিক্ত দায়িত্বে অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (অ্যাডমিন) মো. মাসুদ করিম, অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (প্রটেকশন অ্যান্ড ডিপ্লোমেটিক সিকিউরিটি) মো. আবুল বাশার তালুকদার, অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (এস্টেট, ডেভেলপমেন্ট ও আইসিটি),অতিরিক্ত দায়িত্বে অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (ক্রাইম এন্ড অপারেশনস্) মোহাম্মদ ওসমান গণি, পিপিএম।

 

অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (কাউন্টার টেরোরিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম) মোহাম্মদ শামসুল হক, যুগ্ম পুলিশ কমিশনারগণ, উপ-পুলিশ কমিশনারগণ, অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কমিশনারগণ, সহকারী পুলিশ কমিশনারগণ, ডিএমপির সকল থানার অফিসার ইনচার্জগণ ও বিভিন্ন পদমর্যাদার পুলিশ কর্মকর্তাগণ উপস্থিত ছিলেন।

ভালো কাজের স্বীকৃতিতে ডিএমপির কর্মকর্তাদের পুরস্কার

দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর মৃত্যুবার্ষিকী: রাজনৈতিক ও সামাজিক অঙ্গনে আলোচিত এক অধ্যায়ের স্মরণ

আজ ১৪ আগস্ট। ২০২৩ সালের এই দিনে রাজধানীর বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে (বিএসএমএমইউ) চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সাবেক নায়েবে আমির ও বহুল আলোচিত ধর্মীয় বক্তা আল্লামা দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদী। মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিল ৮৪ বছর।

তাঁর মৃত্যু বাংলাদেশের রাজনৈতিক ও সামাজিক অঙ্গনে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়। দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবন, ধর্মীয় বক্তা হিসেবে জনপ্রিয়তা এবং ১৯৭১ সালের মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় বিচার—সব মিলিয়ে সাঈদী ছিলেন বাংলাদেশের রাজনীতির অন্যতম আলোচিত ও বিতর্কিত ব্যক্তিত্ব।

শেষ সময়ের চিকিৎসা

২০২৩ সালের ১৩ আগস্ট কারাগারে অসুস্থ হয়ে পড়লে দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীকে প্রথমে গাজীপুরের শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাঁকে ঢাকার বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে স্থানান্তর করা হয়।

পরদিন ১৪ আগস্ট রাতে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাঁর মৃত্যু হয়। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ তাঁর মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করে। তাঁর মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়ার পর অনুসারী ও সমর্থকদের মধ্যে শোকের প্রতিক্রিয়া দেখা যায়।

রাজনৈতিক ও ধর্মীয় জীবনে সাঈদী

দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদী ধর্মীয় বক্তা হিসেবে ব্যাপক পরিচিতি লাভ করেন। দেশের বিভিন্ন স্থানে তাঁর ওয়াজ ও ধর্মীয় বক্তব্যের মাধ্যমে তিনি একটি বড় শ্রোতাগোষ্ঠীর কাছে পরিচিত হয়ে ওঠেন।

এর পাশাপাশি তিনি বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর রাজনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেন। তিনি জাতীয় সংসদের সদস্য হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেন এবং পরবর্তী সময়ে দলটির নায়েবে আমিরের দায়িত্বে ছিলেন।

ধর্মীয় বক্তা ও রাজনৈতিক নেতা হিসেবে তাঁর দীর্ঘ কর্মজীবন বাংলাদেশের সামাজিক ও রাজনৈতিক পরিসরে উল্লেখযোগ্য প্রভাব ফেলেছিল।

মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলা ও বিচার

১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধের সময় সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে মামলা হয়।

২০১৩ সালের ২৮ ফেব্রুয়ারি আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল তাঁকে মৃত্যুদণ্ড দেন। তাঁর বিরুদ্ধে হত্যা, নির্যাতন, লুটপাট ও ধর্ষণসহ বিভিন্ন মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে বিচার হয়।

পরবর্তীতে ট্রাইব্যুনালের রায়ের বিরুদ্ধে তিনি আপিল করেন। ২০১৪ সালের ১৭ সেপ্টেম্বর সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ তাঁর মৃত্যুদণ্ড পরিবর্তন করে আমৃত্যু কারাদণ্ড দেন।

এই বিচার ও রায়কে কেন্দ্র করে বাংলাদেশে ব্যাপক রাজনৈতিক প্রতিক্রিয়া, বিক্ষোভ ও সহিংসতার ঘটনা ঘটে। একই সঙ্গে সাঈদীকে ঘিরে দেশজুড়ে তৈরি হয় তীব্র রাজনৈতিক ও সামাজিক মতবিভাজন।

মৃত্যুর পর প্রতিক্রিয়া

সাঈদীর মৃত্যুর সংবাদ প্রকাশের পর তাঁর অনুসারী ও সমর্থকদের মধ্যে শোকের প্রতিক্রিয়া দেখা যায়। বিভিন্ন স্থানে তাঁকে স্মরণ করে দোয়া ও অন্যান্য কর্মসূচির আয়োজন করা হয়।

অন্যদিকে তাঁর রাজনৈতিক ভূমিকা এবং মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় দণ্ডিত হওয়ার বিষয়টি সামনে এনে বিভিন্ন মহল থেকে ভিন্ন প্রতিক্রিয়াও জানানো হয়।

ফলে তাঁর মৃত্যুর পরও তাঁকে ঘিরে বাংলাদেশের রাজনৈতিক ও সামাজিক অঙ্গনে আলোচনা অব্যাহত থাকে।

মৃত্যুবার্ষিকীতে স্মরণ

আল্লামা দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর জীবন ছিল একই সঙ্গে ধর্মীয়, রাজনৈতিক ও বিচারিক ইতিহাসের সঙ্গে গভীরভাবে সম্পৃক্ত। ধর্মীয় বক্তা হিসেবে তাঁর জনপ্রিয়তা যেমন ব্যাপক ছিল, তেমনি তাঁর রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড ও একাত্তরের মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলাকে ঘিরে ছিল তীব্র বিতর্ক।

আজ তাঁর মৃত্যুবার্ষিকীতে তাঁর অনুসারীরা তাঁকে শ্রদ্ধা ও দোয়ার মাধ্যমে স্মরণ করছেন। একই সঙ্গে তাঁর জীবন ও রাজনৈতিক ভূমিকা নিয়ে নতুন করে আলোচনা হচ্ছে।

ইতিহাসের কোনো আলোচিত ব্যক্তিত্বকে মূল্যায়নের ক্ষেত্রে আবেগের পাশাপাশি আদালতের নথি, ঐতিহাসিক তথ্য ও যাচাইযোগ্য সূত্রকে গুরুত্ব দেওয়া প্রয়োজন। সাঈদীর জীবন ও রাজনৈতিক অধ্যায়ও বাংলাদেশের সাম্প্রতিক ইতিহাসের এমনই একটি আলোচিত অধ্যায়, যা নিয়ে আজও বিভিন্ন মহলে আলোচনা রয়েছে।

আল্লামা দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর মৃত্যুবার্ষিকী: আলোচিত এক অধ্যায়ের স্মরণ

স্বামীর বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলার দায়ে স্ত্রীকে ১০ দিনের কারাদন্ড

 

আতিকুর রহমান আশিক , মানিকগঞ্জ প্রতিনিধি

 

মানিকগঞ্জে স্বামীর বিরুদ্ধে মিথ্যা যৌতুক মামলা দায়ের করার দায়ে লাভলী আক্তার নামে এক নারীকে ১০ দিনের কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই মামলায় অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়ায় স্বামী আরিফুল ইসলাম রতনকে বেকসুর খালাস দেওয়া হয়েছে। মিথ্যা ও হয়রানিমূলক মামলা দায়েরের বিরুদ্ধে আদালতে এ রায় গুরুত্বপূর্ণ বার্তা দেবে বলে মনে করছেন আইনজীবীরা।

 

বৃহস্পতিবার (১৩ আগস্ট) জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালত-২ এর বিচারক দোলন বিশ্বাস এ রায় দেন।

 

মামলা সূত্রে জানা যায়, ২০২৩ সালে স্বামী আরিফুল ইসলাম রতনের বিরুদ্ধে যৌতুক নিরোধ আইন, ২০১৮-এর ৩ ধারায় মামলা করেন স্ত্রী লাভলী আক্তার। মামলায় অভিযোগ করা হয়, ২০২২ সালের ১৫ এপ্রিল আরিফুল পাঁচ লাখ টাকা যৌতুক দাবি করে তাকে মারধর করেন। পরে আরও একটি ঘটনায় যৌতুক দাবির অভিযোগ আনা হয়।

তবে অভিযোগে উল্লেখিত দুই ঘটনার সময়ই আরিফুল ইসলাম বিদেশে ছিলেন। তিনি ২০২১ সালের ৮ এপ্রিল চাকরির উদ্দেশ্যে সৌদি আরবে যান এবং দেশে ফেরেন ২০২৫ সালের ২৬ ফেব্রুয়ারি।

 

গত ২৭ জুলাই সাক্ষ্য-প্রমাণে অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়ায় আরিফুল ইসলাম রতনকে বেকসুর খালাস দেন আদালত। পরে মামলাটি মিথ্যা প্রমাণিত হওয়ায় বাদীর বিরুদ্ধে যৌতুক নিরোধ আইন, ২০১৮-এর ৬ ধারায় ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য আসামিপক্ষের আইনজীবী আদালতে পিটিশন দাখিল করেন।

 

এর পরিপ্রেক্ষিতে বৃহস্পতিবার শুনানি শেষে আদালত বাদী লাভলী আক্তারকে যৌতুক নিরোধ আইন, ২০১৮-এর ৬ ধারায় ১০ দিনের কারাদণ্ড দেন।

 

আসামিপক্ষের আইনজীবী অ্যাডভোকেট জাকির হোসেন কোহিনুর বলেন, সাক্ষ্য-প্রমাণ শেষে আদালত আসামিকে খালাস দেন। পরে মিথ্যা মামলা দায়েরের বিষয়টি বিবেচনায় যৌতুক নিরোধ আইনের ৬ ধারায় বাদীর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে আদালতে আবেদন করা হয়। বৃহস্পতিবার শুনানি শেষে আদালত বাদীকে ১০ দিনের কারাদণ্ড দিয়েছেন।

 

বাদী পক্ষের আইনজীবী সমাপ্তি আক্তার বলেন, ১০ দিনের সাজা হওয়ায় আপিলের শর্তে জামিনের আবেদন করা হয়। পরে আদালত এক মাসের মধ্যে আপিল করার শর্তে এক হাজার টাকা বন্ডের লাভলী আক্তারের জামিন মঞ্জুর করেন।

 

মানিকগঞ্জ জজ কোর্টের আইনজীবী অ্যাডভোকেট মাহাবুবুল ইসলাম বলেন, মিথ্যা মামলা করে কাউকে হয়রানি করলে মামলার বাদীকেও যে শাস্তির মুখোমুখি হতে হবে, এই রায় তার একটি গুরুত্বপূর্ণ বার্তা। এ ধরনের রায় হলে সমাজে ঢালাওভাবে মিথ্যা মামলা দায়েরের প্রবণতা অনেকাংশে কমে আসতে পারে।

স্বামীর বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলার দায়ে স্ত্রীকে ১০ দিনের কারাদন্ড 

র‌্যাবের চৌকস অভিযানে জীপসহ প্রায় ১১ হাজার ইয়াবার চালান আটক

জামালপুর হামলা পাল্টা হামলার মধ্য দিয়ে জেলার সানন্দবাড়ী তে থমথমে অবস্থা বিরাজমান।

পর্নোগ্রাফি নিয়ন্ত্রণ আইনে এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা দায়ের ও আদালতে মিথ্যা হলফনামা দেয়ার অভিযোগে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের কেবিন ক্রু খাদিজা সুলতানা শিমুর বিরুদ্ধে মামলা দায়েরের নির্দেশ দিয়েছেন আদালত।

 

বুধবার (১৫ জুলাই) ঢাকার অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালত-২-এর বিচারক মো. জাকির হোসাইন এ আদেশ দেন। আদালতের আদেশে বলা হয়েছে, শিমুর বিরুদ্ধে পর্নোগ্রাফি নিয়ন্ত্রণ আইন, ২০১২-এর ১৩ ধারা এবং দণ্ডবিধির ১৮১, ১৮২ ও ১৯৩ ধারায় মামলা করা হবে। আদালত নিজেই এ মামলার বাদী হয়েছেন।

 

আদালতের নথি অনুযায়ী, খাদিজা সুলতানা শিমু মামলার বাদী হয়ে বেসরকারি একটি এয়ারলাইন্সের কর্মকর্তা মো. ওমর ফারুক চৌধুরীর বিরুদ্ধে পর্নোগ্রাফি নিয়ন্ত্রণ আইনের বিভিন্ন ধারায় উত্তরা পশ্চিম থানায় মামলা করেন।

 

তদন্ত শেষে উত্তরা পশ্চিম থানার তদন্ত কর্মকর্তা আদালতে চূড়ান্ত প্রতিবেদন দাখিল করে জানান, অভিযোগের সত্যতা পাওয়া যায়নি। প্রতিবেদনে বলা হয়, মামলার এজাহারে উল্লেখ করা ফেসবুক লিংক, ডিজিটাল আলামত ও অন্যান্য তথ্য যাচাই করে ওমর ফারুকের বিরুদ্ধে পর্নোগ্রাফি প্রচারের কোনো প্রমাণ মেলেনি। ফলে ওই কর্মকর্তাকে মামলা থেকে অব্যাহতির সুপারিশ করা হয়।

একই সঙ্গে তদন্ত কর্মকর্তা প্রতিবেদনে উল্লেখ করেন, ওমর ফারুক আগে শিমুর বিরুদ্ধে বিয়ের প্রলোভন দিয়ে অর্থ আত্মসাতের অভিযোগে আদালতে মামলা করেছিলেন। সেই মামলার দায় এড়াতেই শিমু সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচারিত বিভিন্ন লিংক উল্লেখ করে তার বিরুদ্ধে পর্নোগ্রাফি ছড়ানোর অভিযোগ এনে উদ্দেশ্যপ্রণোদিত, হয়রানিমূলক ও মিথ্যা মামলা করেছেন বলে প্রাথমিক তদন্তে প্রতীয়মান হয়েছে। এ কারণে শিমুর বিরুদ্ধে পর্নোগ্রাফি নিয়ন্ত্রণ আইন, ২০১২-এর ১৩ ধারায় আইনগত ব্যবস্থা নেয়ার আবেদনও করেন তদন্ত কর্মকর্তা।

 

পরে গত ৯ জুলাই আদালত তদন্ত প্রতিবেদন গ্রহণ করে ওমর ফারুককে মামলা থেকে অব্যাহতি দেন। আদালতের আদেশে বলা হয়, শিমু ক্ষতিসাধনের উদ্দেশ্যে আদালতে মিথ্যা মামলা দায়ের করেছেন এবং হলফ করে মিথ্যা সাক্ষ্য দিয়েছেন। মামলার নথিতে তার দেয়া হলফনামাও সংযুক্ত রয়েছে। এসব বিবেচনায় আদালত নিজেই বাদী হয়ে তার বিরুদ্ধে পর্নোগ্রাফি নিয়ন্ত্রণ আইন ও দণ্ডবিধির সংশ্লিষ্ট ধারায় মামলা দায়েরের নির্দেশ দেন।

 

তদন্তে যা উঠে এসেছে পুলিশের চূড়ান্ত প্রতিবেদনে বলা হয়, তদন্তকালে রেকর্ড, ডিজিটাল আলামত, ফেসবুক লিংক ও ফরেনসিক তথ্য যাচাই করে ওমর ফারুকের বিরুদ্ধে পর্নোগ্রাফি প্রচারের কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি।

 

তদন্তে আরও উঠে আসে, শিমু বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের কেবিন ক্রু এবং ওমর ফারুক একটি বেসরকারি এয়ারলাইন্সের এয়ারক্রাফট মেইনটেন্যান্স কর্মকর্তা। ফেসবুকে পরিচয়ের পর তাদের মধ্যে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে।

 

প্রতিবেদনে বলা হয়, বিয়ের আশ্বাস দিয়ে বিভিন্ন সময়ে ওমর ফারুকের কাছ থেকে বিপুল পরিমাণ অর্থ ও মূল্যবান সামগ্রী নেয়ার অভিযোগে ওমর ফারুক আদালতে পৃথক মামলা করেন। এরপর সেই মামলার দায় থেকে নিজেকে রক্ষা করতেই শিমু পর্নোগ্রাফি আইনে অভিযোগ দায়ের করেন বলে তদন্তে প্রতীয়মান হয়েছে।

 

ওমর ফারুকের আগের মামলা গত ২০ জুলাই ওমর ফারুক চৌধুরী শিমুর বিরুদ্ধে বিয়ের প্রলোভন, ‘হানি ট্র্যাপ’ ও ব্ল্যাকমেইলের মাধ্যমে প্রায় ২২ লাখ টাকা আত্মসাতের অভিযোগে ঢাকার আদালতে মামলা করেন। আদালত অভিযোগটি আমলে নিয়ে উত্তরা পশ্চিম থানাকে তদন্তের নির্দেশ দেন। পরে তিনি বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স কর্তৃপক্ষের কাছেও লিখিত অভিযোগ করেন।

 

সেই মামলায় অভিযোগ করা হয়, ২০২৪ সালে ফেসবুকে পরিচয়ের পর শিমু তাকে বিয়ের আশ্বাস দিয়ে বিভিন্ন সময়ে টাকা নেন। জন্মদিনে দেড় লাখ টাকা মূল্যের একটি হীরার আংটিসহ বিয়ের খরচের জন্য মোট ২১ লাখ ৭৪ হাজার ৫১১ টাকা নেয়ার পরও বিয়ে না করে প্রতারণার মাধ্যমে অর্থ আত্মসাৎ করা হয়েছে বলে মামলায় দাবি করা হয়।

পর্নোগ্রাফি আইনে কেবিন ক্রু শিমুর বিরুদ্ধে মামলার নির্দেশ আদালতের

error: আপনি নিউজ চুরি করার চেষ্টা করছেন। বিশেষ প্রয়োজনে যোগাযোগ করুন ০১৭৬৭৪৪৪৩৩৩