আইন-আদালত ডেস্ক: সিলেটের ওসমানীনগর উপজেলায় জমি ও বসতবাড়ির মালিকানা নিয়ে দুই লন্ডন প্রবাসী ভাইয়ের মধ্যকার বিরোধ আদালত পর্যন্ত গড়িয়েছে। পৈতৃক ও ক্রয়সূত্রে প্রাপ্ত সম্পত্তির সঠিক বাটোয়ারা বা বণ্টন নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে এই জটিলতার সৃষ্টি হয়েছে। দুই পক্ষের দ্বন্দ্বের জেরে পারিবারিক শান্তি বিঘ্নিত হওয়ার পাশাপাশি স্থানীয় পর্যায়েও বেশ চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। সম্পত্তি নিয়ে এই বিরোধের অবসান ঘটাতে শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হয়েছেন ভুক্তভোগী পক্ষ।
নথি ও স্থানীয় সূত্র থেকে জানা যায়, উপজেলার দয়ামীর ইউনিয়নের চণ্ডিতিয়র কাজীবাড়ি গ্রামের মৃত মদরিস আলীর চার সন্তানের মধ্যে দুই সৎ ভাই মারা গেলেও মো. মকবুল আলী ও মো. মোফাজ্জল আলী নামের দুই আপন ভাই বেঁচে রয়েছেন। দুজনেই দীর্ঘদিন ধরে যুক্তরাজ্যে প্রবাসী হিসেবে বসবাস করছেন। বিদেশে থাকা অবস্থায় তাদের পৈতৃক সম্পত্তি ভাগাভাগি নিয়ে বিরোধ শুরু হয়। মকবুল আলীর অভিযোগ, ছোট ভাই মোফাজ্জল আলী কোনো ধরনের সুরাহা না করেই এককভাবে সমস্ত সম্পত্তি ভোগ দখল করার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন।
এই বিরোধের জেরে গত মার্চ মাসে সিলেটের দেওয়ানি আদালতে একটি বাটোয়ারা মামলা দায়ের করেন মকবুল আলী। ওই মামলার পরিপ্রেক্ষিতে গত সেপ্টেম্বর মাসে আদালত উভয় পক্ষকে বিরোধপূর্ণ জমিতে স্থিতাবস্থা বজায় রাখার নির্দেশ দেন। পরবর্তীতে গত ১২ অক্টোবর আদালতের সেই নির্দেশনার অনুলিপি বিবাদীপক্ষের কেয়ারটেকারের কাছে হস্তান্তর করা হয়। কিন্তু আদালতের নিষেধাজ্ঞা সত্ত্বেও সেখানে আগের মতো বসবাস ও দখল কার্যক্রম অব্যাহত রাখা হয় বলে অভিযোগ ওঠে।
এরপর গত ১৩ অক্টোবর ওসমানীনগর থানার পুলিশ আদালতের আদেশ বাস্তবায়নের জন্য ঘটনাস্থলে গিয়ে সত্যতা পায় এবং বিরোধপূর্ণ স্থানে মোফাজ্জল আলীর লোকজনের উপস্থিতি লক্ষ্য করে। আদালতের স্পষ্ট নির্দেশ অমান্য করে দখল বজায় রাখার ঘটনায় বাদীপক্ষের লোকজন ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন এবং বিষয়টি লিখিতভাবে আদালতকে জানানোর আইনি প্রস্তুতি নিচ্ছেন। বাদী মকবুল আলী তার ন্যায্য অধিকার ও সুবিচার পাওয়ার দাবি জানিয়েছেন।
অন্যদিকে বিবাদী মো. মোফাজ্জল আলী তার বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ অস্বীকার করে দাবি করেছেন যে তিনি বাটোয়ারার পর নিজের বৈধ সম্পত্তিতেই অবস্থান করছেন। তাকে হেয় প্রতিপন্ন করতে একটি কুচক্রী মহল এ ধরনের অপপ্রচার চালাচ্ছে বলে তার মন্তব্য। এ বিষয়ে ওসমানীনগর থানার পরিদর্শক তদন্ত মো. জয়নাল আবেদীন জানিয়েছেন, আদালতের স্থিতাবস্থা বজায় রাখার নির্দেশনার পর বিরোধপূর্ণ স্থানে রূপ পরিবর্তনের বা নতুন করে কোনো কার্যক্রম চালানোর সুযোগ নেই এবং আইনি প্রক্রিয়া অনুযায়ী পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
Leave a Reply