ইসরায়েলের সঙ্গে কোন কোন দেশের বাণিজ্য বেশি, কী কেনাবেচা হয়
ইসরায়েলের সঙ্গে কোন কোন দেশের বাণিজ্য বেশি, কী কেনাবেচা হয়

ইসরায়েলের সঙ্গে কোন কোন দেশের বাণিজ্য বেশি, কী কেনাবেচা হয়

Oplus_131072

ফিলিস্তিনের গাজায় হামলার জেরে ইসরায়েলের সঙ্গে গত মঙ্গলবার মুক্ত বাণিজ্য আলোচনা স্থগিত করেছে যুক্তরাজ্য। অধিকৃত পশ্চিম তীরে অবৈধ বসতি স্থাপনকারীদের ওপর নিষেধাজ্ঞাও দিয়েছে তারা। এর এক দিন আগেই ইসরায়েলের বিরুদ্ধে পদক্ষেপ নেওয়ার হুমকি দিয়েছিল যুক্তরাজ্য, কানাডা ও ফ্রান্স। গাজায় ইসরায়েলের সামরিক অভিযান ও পশ্চিম তীরে অবৈধ বসতি সম্প্রসারণের কারণে ওই পদক্ষেপ নেয় যুক্তরাজ্য।
যুক্তরাজ্যের এই নিষেধাজ্ঞার মধ্যে ইসরায়েলের সঙ্গে সম্পর্ক পর্যালোচনা করার পদক্ষেপ নিয়েছে ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ)। মঙ্গলবার ইইউয়ের পররাষ্ট্রনীতিবিষয়ক প্রধান কাজা কালাস বলেছেন, ইসরায়েল ও ইইউর মধ্যে একটি বাণিজ্য সহযোগিতা চুক্তি পর্যালোচনার পক্ষে ভোট দিয়েছেন তাঁরা।
যুক্তরাজ্য ও ইসরায়েল কতটা বাণিজ্য করে
২০২২ সালের জুলাই মাসে একটি মুক্তবাণিজ্য চুক্তির (এফটিএ) লক্ষ্যে আলোচনা শুরু করে ইসরায়েল ও যুক্তরাজ্য। এর লক্ষ্য ছিল—দুই দেশের মধ্যে বর্তমানে বহাল থাকা বাণিজ্য চুক্তিগুলোর আওতায় যেসব খাত পড়ে না, ওই খাতগুলোয় অর্থনৈতিক অংশীদারত্ব বৃদ্ধি করা। আন্তর্জাতিক বাণিজ্যসংক্রান্ত পরিসংখ্যানের ডেটাবেজ ইউনাইটেড নেশনস কমট্রেডের তথ্য বলছে, ২০২৪ সালে যুক্তরাজ্য থেকে ১৯৬ কোটি ডলারের পণ্য আমদানি করেছিল ইসরায়েল। সে বছর ইসরায়েলের ১১তম বৃহত্তম আমদানি অংশীদার ছিল যুক্তরাজ্য। দেশটি থেকে ইসরায়েলের আমদানি করা মূল পণ্যগুলোর মধ্যে রয়েছে জেট ইঞ্জিন, বৈদ্যুতিক সরঞ্জাম, ওষুধ ও গাড়ি।
অপর দিকে, ২০২৪ সালে ইসরায়েল যেসব দেশে সবচেয়ে বেশি পণ্য রপ্তানি করেছে, তার মধ্যে যুক্তরাজ্যের অবস্থান অষ্টম। সে বছর যুক্তরাজ্যে প্রায় ১৫৭ কোটি ডলারের পণ্য রপ্তানি করেছিল ইসরায়েল। এর মধ্যে মূলত ছিল হীরা, রাসায়নিক পণ্য, যন্ত্রপাতি ও ইলেকট্রনিক।
ইসরায়েলের রপ্তানি বাণিজ্যের একটি মূল চালিকা শক্তি হলো তাদের ইলেকট্রনিকস খাত। এই খাতের নেতৃত্ব দিচ্ছে ইনটেলের মতো বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান।
যেসব পণ্য ইসরায়েল বেশি আমদানি–রপ্তানি করে
২০২৪ সালে ইসরায়েল ৯ হাজার ১৫০ কোটি ডলারের পণ্য আমদানি করেছিল। রপ্তানি করেছিল ৬ হাজার ১৭০ কোটি ডলারের পণ্য। ইসরায়েলের আমদানি করা পণ্যগুলোর মধ্যে শীর্ষে ছিল:
—প্রায় ১ হাজার ৯০০ কোটি ডলারের ইলেকট্রিক্যাল যন্ত্রপাতি, ইলেকট্রনিকস ও যন্ত্রাংশ।
—প্রায় ১ হাজার কোটি ডলারের গাড়ি, ট্রাক, বাস ও উড়োজাহাজ।
—৮০০ কোটি ডলারের ওষুধসহ বিভিন্ন রাসায়নিক পণ্য।
—৭০০ কোটি ডলারের পেট্রোলিয়াম, কয়লা, সিমেন্টসহ বিভিন্ন খনিজ পণ্য।
—৪০০ কোটি ডলারের রত্নপাথর ও গয়না।
ইসরায়েলের রপ্তানি করা পণ্যগুলোর মধ্যে শীর্ষে ছিল:
—প্রায় ১ হাজার ৮০০ কোটি ডলারের ইলেকট্রিক্যাল যন্ত্রপাতি, ইলেকট্রনিকস ও যন্ত্রাংশ।
—১ হাজার কোটি ডলারের ওষুধসহ বিভিন্ন রাসায়নিক পণ্য।
—৯০০ কোটি ডলারের পালিশ করা হীরাসহ বিভিন্ন রত্নপাথর ও গয়না।
—৭০০ কোটি ডলারের অপটিক্যাল, প্রযুক্তিগত ও চিকিৎসা–সংক্রান্ত সরঞ্জাম।
—৫০০ কোটি ডলারের খনিজ পণ্য।
ইসরায়েলের রপ্তানি বাণিজ্যের একটি মূল চালিকা শক্তি হলো তাদের ইলেকট্রনিকস খাত। এই খাতের নেতৃত্ব দিচ্ছে ইনটেলের মতো বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান। ইসরায়েলে মাইক্রোচিপ উৎপাদনের কারখানা রয়েছে ইনটেলের। এ ছাড়া দেশটির ইলেকট্রনিকস খাতে বড় ভূমিকা রয়েছে এলবিত সিস্টেমস ও অরবোটেকের মতো প্রতিষ্ঠানের। সামরিক–ইলেকট্রনিকস পণ্য তৈরির জন্য পরিচিত প্রতিষ্ঠান দুটি।
ওষুধ পণ্যের বড় রপ্তানিকারক দেশ ইসরায়েল। দেশটিতে টেভা ফার্মাসিউটিক্যালসের মতো বিশাল প্রতিষ্ঠান রয়েছে। এ ছাড়া বিশ্বে হীরা বাণিজ্যে নেতৃত্ব দিচ্ছে ইসরায়েল। বিভিন্ন দেশ থেকে শত শত কোটি ডলারের হীরা আমদানি করে তারা। এরপর পালিশ ও প্রক্রিয়াজাত করে সেগুলো আবার বিদেশে রপ্তানি করে দেশটি।
২০২৪ সালে ইসরায়েল থেকে নেদারল্যান্ডস ২৭৪ কোটি, জার্মানি ২৩৭ কোটি, ভারত ২৩১ কোটি, হংকং ২০০ কোটি, বেলজিয়াম ১৫১ কোটি, ফ্রান্স ১৪৩ কোটি, ইতালি ১২০ কোটি, ব্রাজিল ১১৫ কোটি, স্পেন ৯৭ কোটি, দক্ষিণ কোরিয়া ৯১ কোটি ও জাপান ৯০ কোটি ডলারের পণ্য আমদানি করেছিল।
যেসব দেশ ইসরায়েল থেকে বেশি পণ্য কেনে
২০২৪ সালের ৬ হাজার ১৭০ কোটি ডলারের পণ্য বিক্রি করেছে ইসরায়েল। দেশটির পণ্যের সবচেয়ে বড় আমদানিকারক যুক্তরাষ্ট্র। গত বছর ১ হাজার ৭৩০ কোটি ডলারের ইসরায়েলি পণ্য আমদানি করেছিল ওয়াশিংটন। এরপর আয়ারল্যান্ড ইসরায়েলি পণ্য কিনেছিল ৩২০ কোটি ডলারের। গত বছর ইসরায়েল থেকে ২৮০ কোটি ডলারের পণ্য আমদানি করেছিল চীন।
২০২৪ সালে ইসরায়েল থেকে যুক্তরাষ্ট্র মূলত হীরা, উচ্চপ্রযুক্তির ইলেকট্রনিকস, ইন্টিগ্রেটেড সার্কিট (আইসি), টেলিযোগাযোগ সরঞ্জাম ও রাসায়নিক পণ্য আমদানি করেছিল। সে বছর ইসরায়েল থেকে সবচেয়ে বেশি ইন্টিগ্রেটেড সার্কিট আমদানি করেছিল আয়ারল্যান্ড। এর অর্থমূল্য ছিল প্রায় ৩০০ কোটি ডলার। আর গত বছর চীনের আমদানি করা ইসরায়েলি পণ্যের মধ্যে ছিল অপটিক্যাল সরঞ্জাম, ইলেকট্রনিক সরঞ্জাম ও রাসায়নিক পণ্য।এ ছাড়া অন্য দেশগুলোর মধ্যে ২০২৪ সালে ইসরায়েল থেকে নেদারল্যান্ডস ২৭৪ কোটি, জার্মানি ২৩৭ কোটি, ভারত ২৩১ কোটি, হংকং ২০০ কোটি, বেলজিয়াম ১৫১ কোটি, ফ্রান্স ১৪৩ কোটি, ইতালি ১২০ কোটি, ব্রাজিল ১১৫ কোটি, স্পেন ৯৭ কোটি, দক্ষিণ কোরিয়া ৯১ কোটি ও জাপান ৯০ কোটি ডলারের পণ্য আমদানি করেছিল।যেসব দেশ ইসরায়েলে বেশি পণ্য বিক্রি করে
বিভিন্ন দেশ থেকে ২০২৪ সালে ইসরায়েল ৯ হাজার ১৫০ কোটি ডলারের পণ্য আমদানি করেছিল। সে বছর দেশটিতে সবচেয়ে বেশি ১ হাজার ৯০০ কোটি ডলারের পণ্য রপ্তানি করেছিল চীন। যুক্তরাষ্ট্র রপ্তানি করেছিল ৯৪০ কোটি ডলারের পণ্য।
ইসরায়েলে ৫৬০ কোটি ডলারের পণ্য রপ্তানি করে তৃতীয় অবস্থানে ছিল জার্মানি।
২০২৪ সালে ইসরায়েলে চীন মূলত রপ্তানি করেছিল ইলেকট্রিক গাড়ি, মুঠোফোন, কম্পিউটার ও বিভিন্ন ধরনের ধাতু। যুক্তরাষ্ট্র রপ্তানি করেছিল বিস্ফোরক, হীরা, ইলেকট্রনিকস ও রাসায়নিক পণ্য। প্রতিবছর যুক্তরাষ্ট্র থেকে শত শত কোটি ডলারের সামরিক সহায়তা পায় ইসরায়েল। সেই অর্থ আবার যুক্তরাষ্ট্র থেকে অস্ত্র কিনতে খরচ করে তারা। আর ইসরায়েলে ২০২৪ সালে জার্মানি রপ্তানি করেছে গাড়ি, ওষুধ, যন্ত্রপাতি ও ইলেকট্রনিকস।

এ ছাড়া ২০২৪ সালে ইতালি ৩৬২ কোটি, তুরস্ক ২৮৬কোটি, রাশিয়া ২৩৭ কোটি, ফ্রান্স ২২০ কোটি, দক্ষিণ কোরিয়া ২১৫ কোটি, ভারত ২০৭ কোটি, স্পেন ২০৭ কোটি, জাপান ১৯৪ কোটি, নেদারল্যান্ডস ১৫৩ কোটি, ভিয়েতনাম ১৪৫ কোটি ও সুইজার‌ল্যান্ড ১৩৫ কোটি ডলারের পণ্য রপ্তানি করেছিল ইসরায়েলে।


Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

র‌্যাবের চৌকস অভিযানে জীপসহ প্রায় ১১ হাজার ইয়াবার চালান আটক

জামালপুর হামলা পাল্টা হামলার মধ্য দিয়ে জেলার সানন্দবাড়ী তে থমথমে অবস্থা বিরাজমান।

পর্নোগ্রাফি নিয়ন্ত্রণ আইনে এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা দায়ের ও আদালতে মিথ্যা হলফনামা দেয়ার অভিযোগে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের কেবিন ক্রু খাদিজা সুলতানা শিমুর বিরুদ্ধে মামলা দায়েরের নির্দেশ দিয়েছেন আদালত।

 

বুধবার (১৫ জুলাই) ঢাকার অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালত-২-এর বিচারক মো. জাকির হোসাইন এ আদেশ দেন। আদালতের আদেশে বলা হয়েছে, শিমুর বিরুদ্ধে পর্নোগ্রাফি নিয়ন্ত্রণ আইন, ২০১২-এর ১৩ ধারা এবং দণ্ডবিধির ১৮১, ১৮২ ও ১৯৩ ধারায় মামলা করা হবে। আদালত নিজেই এ মামলার বাদী হয়েছেন।

 

আদালতের নথি অনুযায়ী, খাদিজা সুলতানা শিমু মামলার বাদী হয়ে বেসরকারি একটি এয়ারলাইন্সের কর্মকর্তা মো. ওমর ফারুক চৌধুরীর বিরুদ্ধে পর্নোগ্রাফি নিয়ন্ত্রণ আইনের বিভিন্ন ধারায় উত্তরা পশ্চিম থানায় মামলা করেন।

 

তদন্ত শেষে উত্তরা পশ্চিম থানার তদন্ত কর্মকর্তা আদালতে চূড়ান্ত প্রতিবেদন দাখিল করে জানান, অভিযোগের সত্যতা পাওয়া যায়নি। প্রতিবেদনে বলা হয়, মামলার এজাহারে উল্লেখ করা ফেসবুক লিংক, ডিজিটাল আলামত ও অন্যান্য তথ্য যাচাই করে ওমর ফারুকের বিরুদ্ধে পর্নোগ্রাফি প্রচারের কোনো প্রমাণ মেলেনি। ফলে ওই কর্মকর্তাকে মামলা থেকে অব্যাহতির সুপারিশ করা হয়।

একই সঙ্গে তদন্ত কর্মকর্তা প্রতিবেদনে উল্লেখ করেন, ওমর ফারুক আগে শিমুর বিরুদ্ধে বিয়ের প্রলোভন দিয়ে অর্থ আত্মসাতের অভিযোগে আদালতে মামলা করেছিলেন। সেই মামলার দায় এড়াতেই শিমু সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচারিত বিভিন্ন লিংক উল্লেখ করে তার বিরুদ্ধে পর্নোগ্রাফি ছড়ানোর অভিযোগ এনে উদ্দেশ্যপ্রণোদিত, হয়রানিমূলক ও মিথ্যা মামলা করেছেন বলে প্রাথমিক তদন্তে প্রতীয়মান হয়েছে। এ কারণে শিমুর বিরুদ্ধে পর্নোগ্রাফি নিয়ন্ত্রণ আইন, ২০১২-এর ১৩ ধারায় আইনগত ব্যবস্থা নেয়ার আবেদনও করেন তদন্ত কর্মকর্তা।

 

পরে গত ৯ জুলাই আদালত তদন্ত প্রতিবেদন গ্রহণ করে ওমর ফারুককে মামলা থেকে অব্যাহতি দেন। আদালতের আদেশে বলা হয়, শিমু ক্ষতিসাধনের উদ্দেশ্যে আদালতে মিথ্যা মামলা দায়ের করেছেন এবং হলফ করে মিথ্যা সাক্ষ্য দিয়েছেন। মামলার নথিতে তার দেয়া হলফনামাও সংযুক্ত রয়েছে। এসব বিবেচনায় আদালত নিজেই বাদী হয়ে তার বিরুদ্ধে পর্নোগ্রাফি নিয়ন্ত্রণ আইন ও দণ্ডবিধির সংশ্লিষ্ট ধারায় মামলা দায়েরের নির্দেশ দেন।

 

তদন্তে যা উঠে এসেছে পুলিশের চূড়ান্ত প্রতিবেদনে বলা হয়, তদন্তকালে রেকর্ড, ডিজিটাল আলামত, ফেসবুক লিংক ও ফরেনসিক তথ্য যাচাই করে ওমর ফারুকের বিরুদ্ধে পর্নোগ্রাফি প্রচারের কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি।

 

তদন্তে আরও উঠে আসে, শিমু বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের কেবিন ক্রু এবং ওমর ফারুক একটি বেসরকারি এয়ারলাইন্সের এয়ারক্রাফট মেইনটেন্যান্স কর্মকর্তা। ফেসবুকে পরিচয়ের পর তাদের মধ্যে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে।

 

প্রতিবেদনে বলা হয়, বিয়ের আশ্বাস দিয়ে বিভিন্ন সময়ে ওমর ফারুকের কাছ থেকে বিপুল পরিমাণ অর্থ ও মূল্যবান সামগ্রী নেয়ার অভিযোগে ওমর ফারুক আদালতে পৃথক মামলা করেন। এরপর সেই মামলার দায় থেকে নিজেকে রক্ষা করতেই শিমু পর্নোগ্রাফি আইনে অভিযোগ দায়ের করেন বলে তদন্তে প্রতীয়মান হয়েছে।

 

ওমর ফারুকের আগের মামলা গত ২০ জুলাই ওমর ফারুক চৌধুরী শিমুর বিরুদ্ধে বিয়ের প্রলোভন, ‘হানি ট্র্যাপ’ ও ব্ল্যাকমেইলের মাধ্যমে প্রায় ২২ লাখ টাকা আত্মসাতের অভিযোগে ঢাকার আদালতে মামলা করেন। আদালত অভিযোগটি আমলে নিয়ে উত্তরা পশ্চিম থানাকে তদন্তের নির্দেশ দেন। পরে তিনি বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স কর্তৃপক্ষের কাছেও লিখিত অভিযোগ করেন।

 

সেই মামলায় অভিযোগ করা হয়, ২০২৪ সালে ফেসবুকে পরিচয়ের পর শিমু তাকে বিয়ের আশ্বাস দিয়ে বিভিন্ন সময়ে টাকা নেন। জন্মদিনে দেড় লাখ টাকা মূল্যের একটি হীরার আংটিসহ বিয়ের খরচের জন্য মোট ২১ লাখ ৭৪ হাজার ৫১১ টাকা নেয়ার পরও বিয়ে না করে প্রতারণার মাধ্যমে অর্থ আত্মসাৎ করা হয়েছে বলে মামলায় দাবি করা হয়।

পর্নোগ্রাফি আইনে কেবিন ক্রু শিমুর বিরুদ্ধে মামলার নির্দেশ আদালতের

ভোলার মনপুরায় নির্বাচনী মাঠে জনআতঙ্ক, দীপক বাহিনীর হাতে আহত ৫

ভোলার মনপুরায় নির্বাচনী মাঠে জনআতঙ্কে, থমথমে পুরো মনপুরা। আসন্ন 2 নং হাজিরহাট ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনী প্রচারণা কালীন সময় প্রার্থী নিজামুদ্দিন হাওলাদারের নেতাকর্মী ও সমর্থকদের বেধড়ক মারধর করার অভিযোগ উঠে এসেছে। প্রার্থীকে বেধড়ক মারধর করায় গুরুতর আহত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি আছেন, নাছির(২৩), আল আমিন(২৫),জিদনী (১৮),অনি (২৩)কাশেম(২৮),অজয়(২৬)

আহতদের পরিবার জানিয়েছেন আহতদের অবস্থা গুরুতর, চিকিৎসার জন্য জেলাতে নেওয়া প্রয়োজন হতে পারে।।

মেম্বার প্রার্থী নাসির অভিযোগ করে বলেন , স্থানীয় প্রশাসন অত্যন্ত দুর্বল অবস্থায় রয়েছে,মাঠ প্রশাসন নীরব দর্শকের ভূমিকা পালন করছেন, দীপক রাশি বাহিনী এরপর এক সন্ত্রাসী কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে, আমি নির্বাচন প্রতারণা চলাকালীন সময়ে অতর্কিত দীপক বাহিনীর মূল হোতা সন্ত্রাসী মাকসুদের নেতৃত্বে দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র সহ আমাকেও আমার তুই ছেলের উপর হামলা চালান।। এতে করে আমিও আমার ছোট ছেলে আমিন গুরুতর আহত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়ে রয়েছি।। মনপুরা পুলিশ প্রশাসনের নিকট আমি অভিযোগ করেছি।ওসি মনপুরা এখন পর্যন্ত কোনো ব্যবস্থা গ্রহণ করেন নাই। তিনি আরো বলেন সন্ত্রাসী ফারুক ফরাজী, ইলিয়াছ চৌধূরী, ইলিয়াস ফরাজী, ফুহাদ আওলাদ মাতাব্বর, মনির ফরাজী, খোকন পর এক নানা সন্ত্রাসী কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছেন।

চেয়ারম্যান প্রার্থী নুরুল ইসলাম অভিযোগ করে বলেন নির্বাচনকে বানচাল করার জন্য একের পর এক সন্ত্রাসী কার্যক্রম চালিয়ে গেলেও ওসি মনপুরা এখন পর্যন্ত কোন ধরনের ব্যবস্থা গ্রহণ করতে পারে নাই, চিরে যদি সন্ত্রাসীদের দমন না করা হয় তাহলে নির্বাচন হবে মনপুরা হবে ঝুঁকিপূর্ণ, নির্বাচনে মাঠ প্রশাসন নিয়ন্ত্রনহীন হয়ে পড়বেন।। নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট আকিব ওসমান মাঠ প্রশাসন নিয়ন্ত্রণে কাজ করলেও এখন পর্যন্ত মনপুরা মাঠ নিয়ন্ত্রণে আনতে পরিপূর্ণ ব্যর্থ হয়েছেন।।

অপর চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী নিজাম উদ্দিন হাওলাদার অভিযোগ করে বলেন পরোক্ষভাবে প্রত্যক্ষভাবে দীপক বাহিনী এ ধরনের ঘটনা চলেছেন, অতর্কিত হামলা, চোরাগুপ্তা হামলা সহ নানা ধরনের কর্মের সাথে পার্থী শাহরিয়া দীপক সরাসরি জড়িত রয়েছেন।।

মুঠোফোনে প্রার্থী শাহরিয়ার চৌধুরী দীপক এর নিকট জানতে চাইলে তিনি সাংবাদিক পরিচয় পেয়ে ব্যস্ততা দেখিয়ে ফোন কাটিয়ে দেন।

বিষয়টি নিয়ে ওসি মনপুরা কে বারবার ফোন করলেও এখন এখন পর্যন্ত মুঠোফোনে পাওয়া যায়নি।।

বিষয়টি নিয়ে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট হাকিম ওসমান এর সাথে কথা বললে তিনি বলেন আমি অতি দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণ করছি, মনপুরাকে মামলা গ্রহণের জন্য নির্দেশ প্রদান করেছি।। অচিরেই মনপুরায় মাঠ প্রশাসন নিয়ন্ত্রণে আনাতে আমি নিরস কাজ করছি।।

উল্লেখ্য এই যে মনপুরা উপজেলা একের পর এক আচরণবিধি লঙ্ঘন করায় প্রার্থী শাহরিয়ার দীপক বিরুদ্ধে শাহরিয়ার বিরুদ্ধে আচরণবিধি লঙ্ঘনের লিখিত অভিযোগ হয়েছে যা পত্র-পত্রিকা ও গণমাধ্যমে বেশ কয়েকবার প্রকাশিত হয়েছে।। আজকের চোরাগুপ্তা হামলা সহ নানা অতর্কিত সন্ত্রাসী হামলার বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়েছে।।। কোন পর্যন্ত কোনো আসামিকে গ্রেপ্তার করতে মনপুরা থানা সম্পূর্ণ ব্যর্থ হয়েছেন।।

আসছে বিস্তারিত……. সাথে থাকুন

ভোলার মনপুরায় নির্বাচনী মাঠে জনআতঙ্ক, দীপক বাহিনীর হাতে আহত ৫

এস এম খলিলুর রহমান
ব্যুরো চীফ হবিগঞ্জ জেলা ॥

নবীগঞ্জ পৌর এলাকার গয়াহরি গ্রামে নিরীহ ব্যক্তি বিজিত দাশ মেটনের উপর সন্ত্রাসী হামলার দায়েরী মামলার অন্যতম আসামী কাউন্সিলর যুবরাজ গোপসহ অপর আসামীদের গ্রেফতার না করায় পুলিশের বিরুদ্ধে অভিযোগ করেছেন বাদিনী সুপ্রিয়া রানী দাশ। শনিবার (১২ জুন) সকালে নবীগঞ্জ প্রেসক্লাব কার্যালয়ে অনুষ্টিত সাংবাদিক সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে সুপ্রিয়া রানী দাশ বলেন, গেল পৌর নির্বাচনকে কেন্দ্র করে কাউন্সিলর যুবরাজ গোপ তার পরিবারের উপর ক্ষিপ্ত হন। এরজের ধরে বিগত ২৬ এপ্রিল সন্ধ্যায় নবীগঞ্জ পৌরসভার ৪নং ওয়ার্ডস্থ গয়াহরি গ্রামে জ্যোতিষ দাশের বাড়ি সামনে রাস্তার উপর পেয়ে আমার স্বামী বিজিত দাশ মেটনকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে ক্ষতবিক্ষত করেন আমাদের ওয়ার্ড কাউন্সিলর যুবরাজ গোপ, জ্যোতিষ দাশ, সীমা রানী দাশ, উৎফল দাশ ও লিপ্টু দাশসহ একদল লোক। তাদের ধারালো অস্ত্রের আঘাতে আমার স্বামী গুরুতর আহত হয়ে সিলেট ও ঢাকা হাসপাতালে চিকিৎসা গ্রহন করি। আমার স্বামী আহত হয়ে মৃত্যুর সাথে পাঞ্জা লড়ছিল। পুলিশ ঘটনার খবর পেয়ে আমার স্বামীর রক্তাক্ত অবস্থা দেখে তাৎক্ষনিকভাবে জ্যোতিষ দাশকে গ্রেফতার করে। পরে ৫৪ ধারায় জেল হাজতে প্রেরন করে পুলিশ। এ ব্যাপারে আমি নবীগঞ্জ থানায় মামলা নিয়ে গেলে পুলিশ আদালতের আশ্রয় নিতে পরামর্শ দেন। পরবর্তীতে আমি বাদী হয়ে হবিগঞ্জ আদালতে উল্লেখিত দুর্বৃত্তদের আসামী করে মামলা দায়ের করি। মামলাটি আদালতের নির্দেশে এফআইআর হিসেবে নবীগঞ্জ থানায় রুজু হয়। মামলা রুজু হলেও মামলার অন্যতম আসামী যুবরাজ গোপসহ অপরাপর আসামীদেরকে পুলিশ গ্রেফতার করতে পারেনি। অথচ যুবরাজ গোপ প্রকাশ্যে নবীগঞ্জ শহরে ও বাড়িতে ঘুরে বেড়াচ্ছে। আমি অসহায় একজন মহিলা, মামলার তদন্ত কর্মকর্তা এসআই লুৎফুর রহমানকে বারবার তাগিদ দেয়া সত্ত্বেও আসামী গ্রেফতার করিতে তিনি গড়িমশি করছেন। এদিকে আমার স্বামীর বর্তমান শারীরিক অবস্থা এখন পর্যন্ত ভাল নয়। বিছানায় শয্যাসায়ী আছেন। দারিদ্রতার কারনে আমার স্বামীর চিকিৎসা করাইতে গিয়ে ইতিমধ্যে ভিটে বাড়ি বিক্রি করতে হয়েছে। সামাজিক বিচার থেকে বঞ্চিত হয়ে আইনের আশ্রয় নিয়েও আমাদের এত বিড়ম্বনা পোহাতে হবে, তা জানা ছিলনা।
বর্তমানে আমার আহত স্বামী বিজিত দাশ কথা বার্তা বলতে পারছেন না, বাম চোখেঁ দেখতেও পান না। ঘটনাটি এলাকার সকল মানূষ অবগত রয়েছেন।
ন্যায় বিচারের স্বার্থে আমার দায়েরী মামলার অন্যতম আসামী যুবরাজ গোপসহ অপর আসামীদের গ্রেফতার পুর্বক আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহনের জন্য সাংবাদিকদের মাধ্যমে পুলিশের উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করছি।

নবীগঞ্জে আসামী গ্রেফতার না করায় পুলিশের বিরুদ্ধে বাদিনীর সংবাদ সম্মেলন

error: আপনি নিউজ চুরি করার চেষ্টা করছেন। বিশেষ প্রয়োজনে যোগাযোগ করুন ০১৭৬৭৪৪৪৩৩৩