করিডর ও বন্দর বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া অন্তর্বর্তী সরকারের কাজ নয়
করিডর ও বন্দর বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া অন্তর্বর্তী সরকারের কাজ নয়

করিডর ও বন্দর বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া অন্তর্বর্তী সরকারের কাজ নয়

Oplus_131072

গৃহযুদ্ধকবলিত মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যের জন্য ‘মানবিক করিডর’ দেওয়া এবং চট্টগ্রাম বন্দরের কনটেইনার টার্মিনাল বিদেশি কোম্পানির হাতে দেওয়ার বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া অন্তর্বর্তী সরকারের কাজ নয় বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান।
জাতীয়তাবাদী গণতান্ত্রিক আন্দোলনের (এনডিএম) অষ্টম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তারেক রহমান এ কথাগুলো বলেন।শনিবার ঢাকার গুলশানে একটি হোটেলে আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে ভার্চ্যুয়ালি যুক্ত হন তারেক রহমান। তিনি বলেন, ‘অন্তর্বর্তী সরকারের কাছে করিডর প্রদান কিংবা বন্দর ব্যবস্থাপনা বিদেশির হাতে তুলে দেওয়াটাকেই বেশি প্রাধান্য বলে মনে হচ্ছে। আমরা আবারও স্পষ্ট করে জানিয়ে দিতে চাই, করিডর কিংবা বন্দর দেওয়া না–দেওয়ার সিদ্ধান্ত অন্তর্বর্তী সরকারের কাজ নয়, এই সিদ্ধান্ত নেবে জনগণের ভোটে নির্বাচিত জাতীয় সংসদ বা জনগণের ভোটে নির্বাচিত সরকার।’বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান বলেন, ‘অন্তর্বর্তী সরকারের চিন্তা ও কর্মপরিকল্পনা সম্পর্কে জনগণ অন্ধকারে থাকায় দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে হয়তো অস্থিরতা বাড়ছে। বিভিন্ন দাবিদাওয়া নিয়ে প্রতিদিন বিভিন্ন শ্রেণি–পেশার মানুষ রাজপথে জড়ো হচ্ছেন। মাত্র ১০ মাসের মাথায় সরকারের ভেতরে ও বাইরে একধরনের অস্থিরতা দৃশ্যমান হতে শুরু করেছে। সরকার জনগণের ভাষা, আশা–আকাঙ্ক্ষা উপলব্ধি করতে ব্যর্থ হলে রাজনৈতিক অস্থিরতা বাড়তেই থাকবে।’দেশে এভাবে অস্থিরতা বাড়লে সরকারের পক্ষে পরিস্থিতি সামাল দেওয়া কষ্টসাধ্য হয়ে পড়বে বলে মনে করেন তারেক রহমান। তিনি অন্তর্বর্তী সরকারকে তাদের সক্ষমতা সম্পর্কে আরও সতর্ক হওয়ার আহ্বান জানান। একই সঙ্গে ‘পরিস্থিতি অযথা ঘোলাটে না করে জাতীয় নির্বাচনের সুস্পষ্ট তারিখ ঘোষণার’ দাবি জানিয়েছেন।বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান বলেন, ‘গণতন্ত্রের পক্ষের রাজনৈতিক দলগুলো, যারা দীর্ঘ দেড় দশক ধরে ফ্যাসিবাদবিরোধী আন্দোলন–সংগ্রামে একসঙ্গে আমরা রাজপথে ছিলাম, অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সামর্থ্য ও সক্ষমতা সম্পর্কে আমরা এখনো নেতিবাচক মন্তব্য করিনি। আমাদের অবস্থান থেকে আমরা চুপ থাকলেও জনমনে এই সরকারের সক্ষমতা নিয়ে প্রশ্ন এরই মধ্যে উঠেছে। বহু মানুষ, বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ এরই মধ্যে কথা বলছেন।’জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) চলমান সংকট নিয়েও কথা বলেন তারেক রহমান। তিনি বলেন, ‘সরকার এনবিআরের সংস্কার শুরু করেছে। এনবিআর সংস্কারের প্রয়োজনীয়তা নিয়ে হয়তো কারও কোনো তেমন দ্বিমত নেই। কিন্তু সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে আলাপ–আলোচনা, সুষ্ঠু পরিকল্পনা ও পরিণতি চিন্তা না করে তড়িঘড়ি করে সংস্কার শুরু করে দেওয়ায় পুরো বিষয়টি হিতে বিপরীত হয়েছে, যা এরই মধ্যে আমরা সংবাদপত্রের মাধ্যমে পরিষ্কারভাবে দেখতে পাচ্ছি।’দেশের বিনিয়োগ পরিস্থিতিও আশাব্যঞ্জক নয় বলে মন্তব্য করেন তারেক রহমান। তিনি বলেন, ব্যাপক আয়োজনে বিনিয়োগ সম্মেলন করলেও কাঙ্ক্ষিত বিনিয়োগ কিন্তু আসেনি। দেশি কিংবা বিদেশি বিনিয়োগ পরিবেশের জন্য রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা এবং স্থিতিশীল একটি সরকার অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।গণতান্ত্রিক বিশ্বে শেষ পর্যন্ত রাজনীতিবিদেরাই রাষ্ট্র পরিচালনা করেন উল্লেখ করে তারেক রহমান বলেন, ‘সরকার কিন্তু কোনো একটি এলিট ক্লাব কিংবা করপোরেট প্রতিষ্ঠান নয়। সরকার অবশ্যই একটি রাজনৈতিক প্রতিষ্ঠান। এই রাজনৈতিক প্রতিষ্ঠানটির সঙ্গে দেশের প্রতিটি নাগরিকের সরাসরি অংশগ্রহণ নিশ্চিত থাকতে হবে।’আগামী দিনে আর কোনো স্বৈরাচার যাতে দেশ ও জনগণের অধিকার কেড়ে নিতে না পারে, সে জন্য গণতন্ত্রকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দেওয়ার প্রক্রিয়া ও পদ্ধতি প্রণয়ন এবং বাস্তবায়নের এখনই উপযুক্ত সময়। যদিও গণতন্ত্রকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দেওয়ার ক্ষেত্রে অন্তর্বর্তী সরকারের সদিচ্ছা কিংবা সামর্থ্য নিয়ে ইতিমধ্যে হয়তো জনগণের মধ্যে কিছুটা হতাশার সৃষ্টি হয়েছে। তবু গণতন্ত্রের পক্ষের দলগুলো জনগণের ভোটে, জনগণের কাছে জবাবদিহিমূলক সরকার প্রতিষ্ঠার স্বার্থে অন্তর্বর্তী সরকারের প্রতি সমর্থন এখনো অব্যাহত রেখেছে।বিএনপিসহ বাংলাদেশের পক্ষের গণতান্ত্রিক রাজনৈতিক দলগুলো শুরু থেকেই অন্তর্বর্তী সরকারের কর্মপরিকল্পনার ঘোষণার আহ্বান জানিয়ে আসছে উল্লেখ করে তারেক রহমান বলেন, ‘সকল কিছু বিবেচনা করলে আমরা দেখতে পাই, সরকার কিন্তু সেই আহ্বানে সেভাবে সাড়া দেয়নি। সরকার বরং জাতীয় নির্বাচনের সুনির্দিষ্ট দিন–তারিখ ঘোষণাকে সুকৌশলে ‘‘অল্প সংস্কার’’, ‘‘বেশি সংস্কার’’—এ ধরনের এক অভিনব শর্তের বেড়াজালে বলা যায় আটকে দিয়েছে।’গণ–অভ্যুত্থানে শহীদদের সংখ্যা ও তালিকা অন্তর্বর্তী সরকার ১০ মাসেও কেন চূড়ান্ত করতে পারল না, সে প্রশ্নও তুলেছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান। তিনি বলেন, এটা সরকারের সক্ষমতার অভাব নাকি হতাহতদের ব্যাপারে উদাসীনতা; তা দেশের মানুষের একটা বড় জিজ্ঞাসা।এনডিএমের চেয়ারম্যান ববি হাজ্জাজের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন দলের মহাসচিব মোমিনুল আমিন, উচ্চ পরিষদ সদস্য পারভেজ খান প্রমুখ। এ ছাড়া বিএনপির চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন, গণসংহতি আন্দোলনের প্রধান সমন্বয়কারী জোনায়েদ সাকি, বাংলাদেশ লেবার পার্টির চেয়ারম্যান মোস্তাফিজুর রহমান ইরান, গণ অধিকার পরিষদের সাধারণ সম্পাদক রাশেদ খানসহ বিভিন্ন দলের নেতা এবং বিভিন্ন দেশের কূটনীতিকেরা উপস্থিত ছিলেন।অনুষ্ঠানে জুলাই বিপ্লবের বীর যোদ্ধাদের সম্মাননা এবং শহীদ ও আহত যোদ্ধাদের জন্য দোয়ার আয়োজন করা হয়।


Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

র‌্যাবের চৌকস অভিযানে জীপসহ প্রায় ১১ হাজার ইয়াবার চালান আটক

জামালপুর হামলা পাল্টা হামলার মধ্য দিয়ে জেলার সানন্দবাড়ী তে থমথমে অবস্থা বিরাজমান।

পর্নোগ্রাফি নিয়ন্ত্রণ আইনে এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা দায়ের ও আদালতে মিথ্যা হলফনামা দেয়ার অভিযোগে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের কেবিন ক্রু খাদিজা সুলতানা শিমুর বিরুদ্ধে মামলা দায়েরের নির্দেশ দিয়েছেন আদালত।

 

বুধবার (১৫ জুলাই) ঢাকার অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালত-২-এর বিচারক মো. জাকির হোসাইন এ আদেশ দেন। আদালতের আদেশে বলা হয়েছে, শিমুর বিরুদ্ধে পর্নোগ্রাফি নিয়ন্ত্রণ আইন, ২০১২-এর ১৩ ধারা এবং দণ্ডবিধির ১৮১, ১৮২ ও ১৯৩ ধারায় মামলা করা হবে। আদালত নিজেই এ মামলার বাদী হয়েছেন।

 

আদালতের নথি অনুযায়ী, খাদিজা সুলতানা শিমু মামলার বাদী হয়ে বেসরকারি একটি এয়ারলাইন্সের কর্মকর্তা মো. ওমর ফারুক চৌধুরীর বিরুদ্ধে পর্নোগ্রাফি নিয়ন্ত্রণ আইনের বিভিন্ন ধারায় উত্তরা পশ্চিম থানায় মামলা করেন।

 

তদন্ত শেষে উত্তরা পশ্চিম থানার তদন্ত কর্মকর্তা আদালতে চূড়ান্ত প্রতিবেদন দাখিল করে জানান, অভিযোগের সত্যতা পাওয়া যায়নি। প্রতিবেদনে বলা হয়, মামলার এজাহারে উল্লেখ করা ফেসবুক লিংক, ডিজিটাল আলামত ও অন্যান্য তথ্য যাচাই করে ওমর ফারুকের বিরুদ্ধে পর্নোগ্রাফি প্রচারের কোনো প্রমাণ মেলেনি। ফলে ওই কর্মকর্তাকে মামলা থেকে অব্যাহতির সুপারিশ করা হয়।

একই সঙ্গে তদন্ত কর্মকর্তা প্রতিবেদনে উল্লেখ করেন, ওমর ফারুক আগে শিমুর বিরুদ্ধে বিয়ের প্রলোভন দিয়ে অর্থ আত্মসাতের অভিযোগে আদালতে মামলা করেছিলেন। সেই মামলার দায় এড়াতেই শিমু সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচারিত বিভিন্ন লিংক উল্লেখ করে তার বিরুদ্ধে পর্নোগ্রাফি ছড়ানোর অভিযোগ এনে উদ্দেশ্যপ্রণোদিত, হয়রানিমূলক ও মিথ্যা মামলা করেছেন বলে প্রাথমিক তদন্তে প্রতীয়মান হয়েছে। এ কারণে শিমুর বিরুদ্ধে পর্নোগ্রাফি নিয়ন্ত্রণ আইন, ২০১২-এর ১৩ ধারায় আইনগত ব্যবস্থা নেয়ার আবেদনও করেন তদন্ত কর্মকর্তা।

 

পরে গত ৯ জুলাই আদালত তদন্ত প্রতিবেদন গ্রহণ করে ওমর ফারুককে মামলা থেকে অব্যাহতি দেন। আদালতের আদেশে বলা হয়, শিমু ক্ষতিসাধনের উদ্দেশ্যে আদালতে মিথ্যা মামলা দায়ের করেছেন এবং হলফ করে মিথ্যা সাক্ষ্য দিয়েছেন। মামলার নথিতে তার দেয়া হলফনামাও সংযুক্ত রয়েছে। এসব বিবেচনায় আদালত নিজেই বাদী হয়ে তার বিরুদ্ধে পর্নোগ্রাফি নিয়ন্ত্রণ আইন ও দণ্ডবিধির সংশ্লিষ্ট ধারায় মামলা দায়েরের নির্দেশ দেন।

 

তদন্তে যা উঠে এসেছে পুলিশের চূড়ান্ত প্রতিবেদনে বলা হয়, তদন্তকালে রেকর্ড, ডিজিটাল আলামত, ফেসবুক লিংক ও ফরেনসিক তথ্য যাচাই করে ওমর ফারুকের বিরুদ্ধে পর্নোগ্রাফি প্রচারের কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি।

 

তদন্তে আরও উঠে আসে, শিমু বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের কেবিন ক্রু এবং ওমর ফারুক একটি বেসরকারি এয়ারলাইন্সের এয়ারক্রাফট মেইনটেন্যান্স কর্মকর্তা। ফেসবুকে পরিচয়ের পর তাদের মধ্যে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে।

 

প্রতিবেদনে বলা হয়, বিয়ের আশ্বাস দিয়ে বিভিন্ন সময়ে ওমর ফারুকের কাছ থেকে বিপুল পরিমাণ অর্থ ও মূল্যবান সামগ্রী নেয়ার অভিযোগে ওমর ফারুক আদালতে পৃথক মামলা করেন। এরপর সেই মামলার দায় থেকে নিজেকে রক্ষা করতেই শিমু পর্নোগ্রাফি আইনে অভিযোগ দায়ের করেন বলে তদন্তে প্রতীয়মান হয়েছে।

 

ওমর ফারুকের আগের মামলা গত ২০ জুলাই ওমর ফারুক চৌধুরী শিমুর বিরুদ্ধে বিয়ের প্রলোভন, ‘হানি ট্র্যাপ’ ও ব্ল্যাকমেইলের মাধ্যমে প্রায় ২২ লাখ টাকা আত্মসাতের অভিযোগে ঢাকার আদালতে মামলা করেন। আদালত অভিযোগটি আমলে নিয়ে উত্তরা পশ্চিম থানাকে তদন্তের নির্দেশ দেন। পরে তিনি বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স কর্তৃপক্ষের কাছেও লিখিত অভিযোগ করেন।

 

সেই মামলায় অভিযোগ করা হয়, ২০২৪ সালে ফেসবুকে পরিচয়ের পর শিমু তাকে বিয়ের আশ্বাস দিয়ে বিভিন্ন সময়ে টাকা নেন। জন্মদিনে দেড় লাখ টাকা মূল্যের একটি হীরার আংটিসহ বিয়ের খরচের জন্য মোট ২১ লাখ ৭৪ হাজার ৫১১ টাকা নেয়ার পরও বিয়ে না করে প্রতারণার মাধ্যমে অর্থ আত্মসাৎ করা হয়েছে বলে মামলায় দাবি করা হয়।

পর্নোগ্রাফি আইনে কেবিন ক্রু শিমুর বিরুদ্ধে মামলার নির্দেশ আদালতের

ভোলার মনপুরায় নির্বাচনী মাঠে জনআতঙ্ক, দীপক বাহিনীর হাতে আহত ৫

ভোলার মনপুরায় নির্বাচনী মাঠে জনআতঙ্কে, থমথমে পুরো মনপুরা। আসন্ন 2 নং হাজিরহাট ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনী প্রচারণা কালীন সময় প্রার্থী নিজামুদ্দিন হাওলাদারের নেতাকর্মী ও সমর্থকদের বেধড়ক মারধর করার অভিযোগ উঠে এসেছে। প্রার্থীকে বেধড়ক মারধর করায় গুরুতর আহত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি আছেন, নাছির(২৩), আল আমিন(২৫),জিদনী (১৮),অনি (২৩)কাশেম(২৮),অজয়(২৬)

আহতদের পরিবার জানিয়েছেন আহতদের অবস্থা গুরুতর, চিকিৎসার জন্য জেলাতে নেওয়া প্রয়োজন হতে পারে।।

মেম্বার প্রার্থী নাসির অভিযোগ করে বলেন , স্থানীয় প্রশাসন অত্যন্ত দুর্বল অবস্থায় রয়েছে,মাঠ প্রশাসন নীরব দর্শকের ভূমিকা পালন করছেন, দীপক রাশি বাহিনী এরপর এক সন্ত্রাসী কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে, আমি নির্বাচন প্রতারণা চলাকালীন সময়ে অতর্কিত দীপক বাহিনীর মূল হোতা সন্ত্রাসী মাকসুদের নেতৃত্বে দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র সহ আমাকেও আমার তুই ছেলের উপর হামলা চালান।। এতে করে আমিও আমার ছোট ছেলে আমিন গুরুতর আহত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়ে রয়েছি।। মনপুরা পুলিশ প্রশাসনের নিকট আমি অভিযোগ করেছি।ওসি মনপুরা এখন পর্যন্ত কোনো ব্যবস্থা গ্রহণ করেন নাই। তিনি আরো বলেন সন্ত্রাসী ফারুক ফরাজী, ইলিয়াছ চৌধূরী, ইলিয়াস ফরাজী, ফুহাদ আওলাদ মাতাব্বর, মনির ফরাজী, খোকন পর এক নানা সন্ত্রাসী কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছেন।

চেয়ারম্যান প্রার্থী নুরুল ইসলাম অভিযোগ করে বলেন নির্বাচনকে বানচাল করার জন্য একের পর এক সন্ত্রাসী কার্যক্রম চালিয়ে গেলেও ওসি মনপুরা এখন পর্যন্ত কোন ধরনের ব্যবস্থা গ্রহণ করতে পারে নাই, চিরে যদি সন্ত্রাসীদের দমন না করা হয় তাহলে নির্বাচন হবে মনপুরা হবে ঝুঁকিপূর্ণ, নির্বাচনে মাঠ প্রশাসন নিয়ন্ত্রনহীন হয়ে পড়বেন।। নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট আকিব ওসমান মাঠ প্রশাসন নিয়ন্ত্রণে কাজ করলেও এখন পর্যন্ত মনপুরা মাঠ নিয়ন্ত্রণে আনতে পরিপূর্ণ ব্যর্থ হয়েছেন।।

অপর চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী নিজাম উদ্দিন হাওলাদার অভিযোগ করে বলেন পরোক্ষভাবে প্রত্যক্ষভাবে দীপক বাহিনী এ ধরনের ঘটনা চলেছেন, অতর্কিত হামলা, চোরাগুপ্তা হামলা সহ নানা ধরনের কর্মের সাথে পার্থী শাহরিয়া দীপক সরাসরি জড়িত রয়েছেন।।

মুঠোফোনে প্রার্থী শাহরিয়ার চৌধুরী দীপক এর নিকট জানতে চাইলে তিনি সাংবাদিক পরিচয় পেয়ে ব্যস্ততা দেখিয়ে ফোন কাটিয়ে দেন।

বিষয়টি নিয়ে ওসি মনপুরা কে বারবার ফোন করলেও এখন এখন পর্যন্ত মুঠোফোনে পাওয়া যায়নি।।

বিষয়টি নিয়ে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট হাকিম ওসমান এর সাথে কথা বললে তিনি বলেন আমি অতি দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণ করছি, মনপুরাকে মামলা গ্রহণের জন্য নির্দেশ প্রদান করেছি।। অচিরেই মনপুরায় মাঠ প্রশাসন নিয়ন্ত্রণে আনাতে আমি নিরস কাজ করছি।।

উল্লেখ্য এই যে মনপুরা উপজেলা একের পর এক আচরণবিধি লঙ্ঘন করায় প্রার্থী শাহরিয়ার দীপক বিরুদ্ধে শাহরিয়ার বিরুদ্ধে আচরণবিধি লঙ্ঘনের লিখিত অভিযোগ হয়েছে যা পত্র-পত্রিকা ও গণমাধ্যমে বেশ কয়েকবার প্রকাশিত হয়েছে।। আজকের চোরাগুপ্তা হামলা সহ নানা অতর্কিত সন্ত্রাসী হামলার বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়েছে।।। কোন পর্যন্ত কোনো আসামিকে গ্রেপ্তার করতে মনপুরা থানা সম্পূর্ণ ব্যর্থ হয়েছেন।।

আসছে বিস্তারিত……. সাথে থাকুন

ভোলার মনপুরায় নির্বাচনী মাঠে জনআতঙ্ক, দীপক বাহিনীর হাতে আহত ৫

এস এম খলিলুর রহমান
ব্যুরো চীফ হবিগঞ্জ জেলা ॥

নবীগঞ্জ পৌর এলাকার গয়াহরি গ্রামে নিরীহ ব্যক্তি বিজিত দাশ মেটনের উপর সন্ত্রাসী হামলার দায়েরী মামলার অন্যতম আসামী কাউন্সিলর যুবরাজ গোপসহ অপর আসামীদের গ্রেফতার না করায় পুলিশের বিরুদ্ধে অভিযোগ করেছেন বাদিনী সুপ্রিয়া রানী দাশ। শনিবার (১২ জুন) সকালে নবীগঞ্জ প্রেসক্লাব কার্যালয়ে অনুষ্টিত সাংবাদিক সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে সুপ্রিয়া রানী দাশ বলেন, গেল পৌর নির্বাচনকে কেন্দ্র করে কাউন্সিলর যুবরাজ গোপ তার পরিবারের উপর ক্ষিপ্ত হন। এরজের ধরে বিগত ২৬ এপ্রিল সন্ধ্যায় নবীগঞ্জ পৌরসভার ৪নং ওয়ার্ডস্থ গয়াহরি গ্রামে জ্যোতিষ দাশের বাড়ি সামনে রাস্তার উপর পেয়ে আমার স্বামী বিজিত দাশ মেটনকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে ক্ষতবিক্ষত করেন আমাদের ওয়ার্ড কাউন্সিলর যুবরাজ গোপ, জ্যোতিষ দাশ, সীমা রানী দাশ, উৎফল দাশ ও লিপ্টু দাশসহ একদল লোক। তাদের ধারালো অস্ত্রের আঘাতে আমার স্বামী গুরুতর আহত হয়ে সিলেট ও ঢাকা হাসপাতালে চিকিৎসা গ্রহন করি। আমার স্বামী আহত হয়ে মৃত্যুর সাথে পাঞ্জা লড়ছিল। পুলিশ ঘটনার খবর পেয়ে আমার স্বামীর রক্তাক্ত অবস্থা দেখে তাৎক্ষনিকভাবে জ্যোতিষ দাশকে গ্রেফতার করে। পরে ৫৪ ধারায় জেল হাজতে প্রেরন করে পুলিশ। এ ব্যাপারে আমি নবীগঞ্জ থানায় মামলা নিয়ে গেলে পুলিশ আদালতের আশ্রয় নিতে পরামর্শ দেন। পরবর্তীতে আমি বাদী হয়ে হবিগঞ্জ আদালতে উল্লেখিত দুর্বৃত্তদের আসামী করে মামলা দায়ের করি। মামলাটি আদালতের নির্দেশে এফআইআর হিসেবে নবীগঞ্জ থানায় রুজু হয়। মামলা রুজু হলেও মামলার অন্যতম আসামী যুবরাজ গোপসহ অপরাপর আসামীদেরকে পুলিশ গ্রেফতার করতে পারেনি। অথচ যুবরাজ গোপ প্রকাশ্যে নবীগঞ্জ শহরে ও বাড়িতে ঘুরে বেড়াচ্ছে। আমি অসহায় একজন মহিলা, মামলার তদন্ত কর্মকর্তা এসআই লুৎফুর রহমানকে বারবার তাগিদ দেয়া সত্ত্বেও আসামী গ্রেফতার করিতে তিনি গড়িমশি করছেন। এদিকে আমার স্বামীর বর্তমান শারীরিক অবস্থা এখন পর্যন্ত ভাল নয়। বিছানায় শয্যাসায়ী আছেন। দারিদ্রতার কারনে আমার স্বামীর চিকিৎসা করাইতে গিয়ে ইতিমধ্যে ভিটে বাড়ি বিক্রি করতে হয়েছে। সামাজিক বিচার থেকে বঞ্চিত হয়ে আইনের আশ্রয় নিয়েও আমাদের এত বিড়ম্বনা পোহাতে হবে, তা জানা ছিলনা।
বর্তমানে আমার আহত স্বামী বিজিত দাশ কথা বার্তা বলতে পারছেন না, বাম চোখেঁ দেখতেও পান না। ঘটনাটি এলাকার সকল মানূষ অবগত রয়েছেন।
ন্যায় বিচারের স্বার্থে আমার দায়েরী মামলার অন্যতম আসামী যুবরাজ গোপসহ অপর আসামীদের গ্রেফতার পুর্বক আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহনের জন্য সাংবাদিকদের মাধ্যমে পুলিশের উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করছি।

নবীগঞ্জে আসামী গ্রেফতার না করায় পুলিশের বিরুদ্ধে বাদিনীর সংবাদ সম্মেলন

error: আপনি নিউজ চুরি করার চেষ্টা করছেন। বিশেষ প্রয়োজনে যোগাযোগ করুন ০১৭৬৭৪৪৪৩৩৩