
পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ব্রাজিলের হেক্সা জয়ের স্বপ্ন এখনো টিকে আছে। বিশ্বকাপের ‘রাউন্ড অফ থার্টি টু’ বা ৩২ দলের নকআউট পর্বের এক নাটকীয় ম্যাচে জাপানকে ২-১ গোলে হারিয়ে পরের রাউন্ডে পৌঁছে গেছে সেলেসাওরা।
তবে এই জয়ের মাঝেও ফুটবলপ্রেমীদের মনে সবচেয়ে বড় প্রশ্ন ছিল- ম্যাচে একসময় পিছিয়ে পড়ার পরও কেন মাঠে নামানো হলো না নেইমারকে?
২০২৬ বিশ্বকাপের নকআউট পর্ব শুরুর আগে থেকেই নেইমারের ফেরা নিয়ে দলটিতে জোর আলোচনা চলছিল। কিন্তু টুর্নামেন্ট যত সামনে এগিয়ে যাচ্ছে, ততই স্পষ্ট হচ্ছে যে নেইমার এখনো পুরোপুরি ‘ম্যাচ ফিট’ নন।
ম্যাচে যখন ব্রাজিল ১-০ গোলে পিছিয়ে, তখনও কোচ কার্লো আনচেলোত্তি নেইমারকে মাঠে নামানোর কোনো আগ্রহ দেখাননি। ম্যাচ শেষে এর ব্যাখ্যা দিয়ে ব্রাজিলিয়ান কোচ বলেন:
ম্যাচের ৬০ থেকে ৬৫ মিনিটের দিকে নেইমারকে নামানোর একটা পরিকল্পনা আমার ছিল এবং ওর সাথে কথাও হয়েছিল। কিন্তু আমরা গোল শোধ করে ম্যাচে সমতা ফেরানোর পর আমি দলের কৌশলগত কাঠামো আর ভাঙতে চাইনি।
কারণ দল তখন পুরো ম্যাচ নিয়ন্ত্রণে নিয়ে নিয়েছিল। খেলা যদি অতিরিক্ত সময়ে (৯০ মিনিটের বেশি) যেতো, তখনই নেইমারকে নামানোর কথা ভাবতাম।’
ম্যাচের আগে ব্রাজিলের কিংবদন্তি ফুটবলার জিকো সতর্ক করেছিলেন যে, ভিনিসিয়াসদের হারিয়ে দেওয়ার ক্ষমতা জাপানের আছে। মাঠে নামার পর জাপানি ফুটবলাররা যেন জিকোর সেই কথারই প্রমাণ দিচ্ছিলেন।
পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নদের বিরুদ্ধে একদম অকুতোভয় ফুটবল খেলে প্রথমার্ধেই ১-০ গোলে এগিয়ে যায় এশিয়ার এই পরাশক্তি। বিশেষ করে জাপানের গোলরক্ষক সুজুকি পুরো ম্যাচে দুর্দান্ত ঢাল হয়ে দাঁড়িয়েছিলেন।
দ্বিতীয়ার্ধে দুর্দান্ত এক হেডে গোল করে ব্রাজিলকে ১-১ সমতায় ফেরান অভিজ্ঞ মিডফিল্ডার ক্যাসেমিরো।
ম্যাচের নির্ধারিত ৯০ মিনিট শেষে রেফারি ৬ মিনিট ইনজুরি সময় দেন। ঘড়ির কাঁটায় যখন ৫ মিনিট পার হয়ে গেছে এবং সবাই ধরে নিয়েছে ম্যাচটি অতিরিক্ত সময়ে গড়াচ্ছে, ঠিক তখনই সামনে আসেন গ্যাব্রিয়েল মার্টিনেল্লি।
তার করা শেষ মুহূর্তের নাটকীয় গোলে জয় নিশ্চিত করে স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলে ব্রাজিল শিবির।
গ্রুপ পর্বে স্কটল্যান্ডের বিপক্ষে বদলি হিসেবে সামান্য সময়ের জন্য মাঠে নামা নেইমারকে ছাড়াই শেষ পর্যন্ত জাপানের কঠিন বাধা পার করল ব্রাজিল শিবির।
Leave a Reply