খুলনায় দুদকের গণশুনানিতে উঠে এসেছে অনিয়ম-দুর্নীতির বিভিন্ন চিত্র - Gono television | বাংলাদেশ সরকার অনুমোদিত বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেল।
খুলনায় দুদকের গণশুনানিতে উঠে এসেছে অনিয়ম-দুর্নীতির বিভিন্ন চিত্র

খুলনায় দুদকের গণশুনানিতে উঠে এসেছে অনিয়ম-দুর্নীতির বিভিন্ন চিত্র

Oplus_131072

অবসরোত্তর ছুটি (পিআরএল) শেষে আনুতোষিক পাওয়ার জন্য সহকারী জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা ও একজন কর্মচারীকে এক লাখ টাকা ঘুষ দিয়েছিলেন খুলনার দিঘলিয়া উপজেলার বাসিন্দা বিনয় কৃষ্ণ বিশ্বাস। কিন্তু টাকা নেওয়ার পরও কোনো কাজ হয়নি। ২৫ দিন আগে তিনি মারা গেছেন। রোববার দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) খুলনায় আয়োজিত গণশুনানিতে এমন অভিযোগ করেন তাঁর স্ত্রী রত্না বিশ্বাস। মঞ্চে উঠে কথা বলতে গিয়ে তিনি কান্নায় ভেঙে পড়েন।
অভিযোগকারী, সাক্ষী এবং অভিযুক্ত ব্যক্তিদের সব পক্ষের কথা শুনে দুদক কমিশনার বিষয়টি অনুসন্ধানের নির্দেশ দেন। সেই সঙ্গে অভিযুক্তের উৎস–বহির্ভূত সম্পদেরও অনুসন্ধান হবে বলে গণশুনানিতে জানানো হয়।

খুলনা জেলা শিল্পকলা মিলনায়তনে দুদকের এই গণশুনানি অনুষ্ঠিত হয়। ‘দুর্নীতির বিরুদ্ধে তারুণ্যের একতা, গড়বো আগামীর শুদ্ধতা’ স্লোগান নিয়ে আয়োজিত গণশুনানিতে সরকারি–বেসরকারি, স্বায়ত্তশাসিত ও সেবামূলক বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বিরুদ্ধে হয়রানি, দুর্নীতি, অনিয়ম, ঘুষ নেওয়াসহ নানা অভিযোগের তোলেন সেবাগ্রহীতারা।

সকাল সাড়ে ৯টা থেকে শুরু হয় দুদকের ওই গণশুনানি চলে বিকেল পর্যন্ত। বিভিন্ন দপ্তরের বিরুদ্ধে জমা পড়া ১৭২টি অভিযোগের মধ্যে দুদক আইনে উপস্থাপনযোগ্য ৫৯টি নিয়ে শুনানি হয়। অধিকাংশ অভিযোগ তাৎক্ষণিক সমাধান করা হয়। আর কয়েকটি অভিযোগ অনুসন্ধান করতে দুদককে নির্দেশনা দেওয়া হয়।
গণশুনানিতে হাফেজ মাওলানা জহুরুল ইসলাম খুলনা মেডিকেল কলেজ (খুমেক) হাসপাতালের সেবা নিয়ে অভিযোগ করেন। তিনি বলেন, হাসপাতালের একজন সুইপার তাঁর ছেলের ড্রেসিং করেন। এ বাবদ তিনি টাকা নিয়েছেন। প্রাইভেট ক্লিনিকের মতো প্রত্যেকবার টাকা দিতে হয়েছে।

এ ছাড়া খুমেক হাসপাতালে দালাল চক্রের দৌরাত্ম্য, অনুমোদনহীন অ্যাম্বুলেন্সে রোগী পরিবহন, রোগী ভাগিয়ে বেসরকারি ক্লিনিকে পাঠানো, নির্দিষ্ট ডায়াগনস্টিক সেন্টারে পরীক্ষা করাতে বাধ্য করা, শয্যা পাইয়ে দিতে অনিয়ম, খাবারের নিম্নমানসহ একাধিক অভিযোগ তোলেন ভুক্তভোগীরা। হাসপাতালের এসব অভিযোগ শুনানির সময় উপস্থিত মানুষ হাসপাতালের সেবা নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেন।

অভিযোগ শোনার পর দুদক কমিশনার বলেন, এখানে একজনও কিন্তু খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের সেবা নিয়ে খুশি না। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ আপনারা কথা দেন, আজ থেকে আপনারা অনিয়ম দূর করার চেষ্টা করবেন।
সাবেক পুলিশ পরিদর্শক মো. সোলাইমান হোসেন অভিযোগ করেন বিভাগীয় হিসাব নিয়ন্ত্রকের (ডিসিএ) কার্যালয়ের বিরুদ্ধে। তিনি বলেন, ‘২০১৫ সালে আমি অবসর গ্রহণ করি। কয়েক বছর আগে আমার স্ট্রোক হয়। আমার পেনশন বই হারিয়ে যায়। আমি ডিসিএ অফিসে গিয়ে একটা নতুন বইয়ের জন্য বলি। তাঁরা আমাকে যেভাবে বলেছিলেন, সেভাবেই আবেদন করি। গত ১০ মাস হয়ে গেলেও বিষয়টির সুরাহা হয়নি।’ অভিযোগের শুনানি শেষে অনুষ্ঠানস্থলেই তাঁকে পেনশন বই দেওয়া হয়। সেই সঙ্গে যেসব কর্মকর্তার গাফিলতির কারণে তাঁকে হয়রানি হতে হয়েছে, তাঁদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণের কথা জানানো হয়।

এ সময় দুদক কমিশনার (তদন্ত) মিঞা মুহাম্মদ আলি আকবার আজিজী ডিসিএ কার্যালয়ের কর্মকর্তাকে উদ্দেশে বলেন, ‘জেলার সর্বোচ্চ বিচারক থাকার পরও অবসরের পর আমি নিজেও অনুভব করেছিলাম অবসরপ্রাপ্ত সরকারি কর্মচারীদের কী পরিমাণ দুর্দশা। আপনারা এতটা অবজ্ঞা করিয়েন না। আমি পুরোপুরি ভুক্তভোগী। আজকের পাবলিক পারসেপশান তো শুনলেন। প্লিজ একটু সহমর্মী হোন।’

যেসব প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠেছে, সেগুলোর মধ্যে অন্যতম খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল, জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কার্যালয়, মাধ্যমিক শিক্ষা কার্যালয়, খুলনা সিটি করপোরেশন (কেসিসি), সড়ক ও জনপদ বিভাগ, জেলা পরিষদ, বিভাগীয় হিসাব নিয়ন্ত্রকের (ডিসিএ) কার্যালয়, ওজোপাডিকো, বাংলাদেশ স্মার্ট ইলেকট্রিক্যাল কোম্পানি লিমিটেড।

গণশুনানির প্রথম পর্বে প্রধান অতিথির বক্তব্যে দুদক কমিশনার (তদন্ত) মিঞা মুহাম্মদ আলি আকবার আজিজী বলেন, ‘জনগণের দেওয়া ট্যাক্সের টাকায় সরকারি চাকরিজীবীদের বেতন হয়। যাঁদের টাকায় আমাদের বেতন হয়, আমরাই আবার তাঁদের প্রভু সেজে যাই। সরকারি কর্মচারীরা আল্লাহর দেওয়া যোগ্যতার সম্পূর্ণ ব্যবহার করে ইমানদারির সঙ্গে নাগরিকদের সেবা দিতে দায়বদ্ধ। যে সৃষ্টিকর্তাকে ভয় করে, সে জ্ঞানত অন্যায় করতে পারে না।’

কমিশনার আরও বলেন, ‘আমরা নিজ নিজ অবস্থানে প্রত্যেকেই বিচারক। যদি আমরা আমাদের পরিবারে নিজের আয়ের চেয়ে বেশি উপহার বা তৈজসপত্র দিই, তবে সন্তানদের সামনে কীভাবে জবাবদিহি করব। আমরা নিজে সৎ থাকব এবং পরিবারবর্গকে সৎপথে রাখব। আমরা সবাই দুর্নীতি বন্ধে প্রতিশ্রুতি দিচ্ছি, একই সঙ্গে মানসম্মত সেবা প্রদানের নিশ্চয়তাও দিতে হবে।’

অনুষ্ঠানের বিশেষ অতিথি দুদক কমিশনার (অনুসন্ধান) ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) হাফিজ আহসান ফরিদ বলেন, ‘শুনতে খারাপ লাগলেও এটা বাস্তব যে একে অপরের হক মেরে খাওয়ার কুসংস্কৃতি বাংলাদেশের মতো পৃথিবীর আর কোথাও নেই। আমরা শোষিত হই আমাদের নিজেদের দ্বারা। দুর্নীতি এখন রাজনৈতিক নেতা–কর্মী, সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী, স্থানীয় মাস্তানের মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই, দুর্নীতি এখন ঘরে ঘরে, পাড়ায় পাড়ায় সমস্ত জায়গাব্যাপী। গত ১৬ বছর দুর্নীতির চাষাবাদ হয়েছে এই দেশে।’
খুলনার জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ সাইফুল ইসলামের সভাপতিত্বে গণশুনানিতে খুলনা বিভাগীয় কমিশনার মো. ফিরোজ সরকার, দুদকের মহাপরিচালক (প্রতিরোধ) মো. আক্তার হোসেন, খুলনা সমন্বিত জেলা কার্যালয়ের উপপরিচালক মো. আবদুল ওয়াদুদ, পুলিশের খুলনা রেঞ্জের ডিআইজি মো. রেজাউল হক, মহানগর পুলিশ কমিশনার মো. জুলফিকার আলী হায়দার, পুলিশ সুপার টি এম মোশাররফ হোসেনসহ বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তা ও প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।


 

মেহেদী হাসান:

শ্যামনগরে Hutch Bangladesh এর উদ্যোগে এক বিশেষ সেমিনার এর আয়োজন  সম্পন্ন হয়েছে।

১০ই অক্টোবর রোজ শুক্রবার বিকাল ৩ ঘটিকায় ঐতিহ্যবাহী নকিপুর জমিদার বাড়ি মাঠ প্রাঙ্গণে Hutch Bangladesh এর উদ্যোগে, এলাকার সাধারণ কৃষকদের বোরো ধানসহ অন্যান্য ফসল চাষাবাদের জন্য এক সেমিনারের আয়োজন করা হয়।

 

উক্ত সেমিনারে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন শ্যামনগরের কৃতি সন্তান, খুলনা কৃষ ইনস্টিটিউট দৌলতপুরের অধ্যক্ষ কৃষিবিদ জনাব এস এম ফেরদৌস হোসেন। উক্ত অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথী ছিলেন বাংলাদেশ এগ্রিকালচারাল ডেভেলপমেন্ট করপোরেশনের নির্বাহী প্রকৌশলী জনাব মোঃ জামাল ফারুক।উক্ত অনুষ্ঠানে আরো উপস্থিত ছিলেন জনাব শেখ সাখাওয়াত হোসেন উপজেলা কৃষি অফিসার ফকিরহাট। উক্ত অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন শ্যামনগরের সুযোগ্য কৃষি অফিসার জনাব নাজমুল হুদা এবং উক্ত অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন জামায়াত ইসলামী বাংলাদেশ, শ্যামনগর উপজেলা শাখার অন্যতম নেতা জনাব হাজী আশরাফুজ্জামান। উক্ত অনুষ্ঠান সাফল্যমন্ডিত করার জন্য সার্বিক সহযোগিতায় ছিলেন শ্যামনগরের কৃতি সন্তান, প্রাচ্যের অক্সফোর্ড খ্যাত ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাক্তন কৃতি ছাত্র শেখ সিরাজুল ইসলাম মিলন।অনুষ্ঠানটিতে আরো উপস্থিত ছিলেন, শ্যামনগর উপজেলা প্রেসক্লাবের সভাপতি, প্রভাষক সামিউল ইমাম আজম মনির, নকিপুর পাইলট মাধ্যমিক বালিকা বিদ্যালয়ের অবসরপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক বাবু কৃষ্ণান্দ মুখার্জী, বিশিষ্ট ক্রিড়া সংগঠক এ মাজিজুল হক, বাবু রনজিত দেবনাথ, শেখ মেহেদী হাসান, এস এম তরিকুল ইসলাম সহ এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ।

 

উক্ত অনুষ্ঠানে, বক্তারা বলেন এলাকার একমাত্র মিষ্টি পানির খালটি সাধারণ কৃষকদের বোরো মৌসুমে সেচের জন্য একমাত্র উপায়। কিন্তু কিছু প্রভাবশালী স্বার্থন্বেষী মানুষ তাদের ব্যক্তি স্বার্থ চরিতার্থের নিমিত্তে এই খালটি নেট পাটা দিয়ে লোনা পানির প্রবাহ নিশ্চিত করে খালটিতে চিংড়ি চাষ অব্যাহত রেখেছে। যাহার ফলে ৬০০-৭০০ জমিতে বোরো ধান চাষে আগ্রহী কৃষকরা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। অনুষ্ঠানে সাধারণ কৃষকদের দাবি অনতিবিলম্বে খালটি অবমুক্ত করা সহ খালটিতে মিষ্টি পানির প্রবাহ নিশ্চিত করতে হবে। না হলে,দেশের কৃষি খাত মারাত্মক ভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবে।

শ্যামনগরে Hutch Bangladesh এর উদ্যোগে সেমিনার অনুষ্ঠিত  

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

র‌্যাবের চৌকস অভিযানে জীপসহ প্রায় ১১ হাজার ইয়াবার চালান আটক

জামালপুর হামলা পাল্টা হামলার মধ্য দিয়ে জেলার সানন্দবাড়ী তে থমথমে অবস্থা বিরাজমান।

error: আপনি নিউজ চুরি করার চেষ্টা করছেন। বিশেষ প্রয়োজনে যোগাযোগ করুন ০১৭৬৭৪৪৪৩৩৩
%d