গণভোটের গণরায় বাস্তবায়নের দাবিতে কুমিল্লায় ১১ দলের গণমিছিল - Gono television | বাংলাদেশ সরকার অনুমোদিত বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেল।
গণভোটের গণরায় বাস্তবায়নের দাবিতে কুমিল্লায় ১১ দলের গণমিছিল

গণভোটের গণরায় বাস্তবায়নের দাবিতে কুমিল্লায় ১১ দলের গণমিছিল

গণভোটের গণরায় বাস্তবায়ন, জুলাই গণহত্যা ও মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচারের দাবিতে কুমিল্লায় ১১ দলের উদ্যোগে সমাবেশ ও গণমিছিল অনুষ্ঠিত হয়েছে।

 

‎বুধবার সন্ধ্যায় কুমিল্লা টাউন হল মাঠে গণমিছিল পূর্ব সমাবেশে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য ও কুমিল্লা মহানগরী আমির কাজী দ্বীন মোহাম্মদের সভাপতিত্বে মহানগরী জামায়াতের সেক্রেটারি মু. মাহবুবুর রহমানের পরিচালনায় সমাবেশ বক্তব্য রাখেন- জাতীয় নাগরিক পার্টির কেন্দ্রীয় যুগ্ম সমন্বয়ক নাবিদ নরোজ শাহ, এবি পার্টি কুমিল্লা জেলা সভাপতি মিয়া মোহাম্মদ তৌফিক, কুমিল্লা মহানগরী জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি মু. কামারুজ্জামান সোহেল, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিশ কুমিল্লা মহানগরী সভাপতি মাওলানা সোলায়মান, কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রশিবির সভাপতি মোজাম্মেল হোসেন আবির, এবি পার্টি কুমিল্লা মহানগরীর আহ্বায়ক ‎গোলাম মোহাম্মদ সামদানী এবং কুমিল্লা মহানগরী ছাত্রশিবির সভাপতি নাজমুল হাসান পঞ্চায়েত।

 

‎‎সভাপতির বক্তব্য কাজী দ্বীন মোহাম্মদ বলেন, গণভোটে জনগণ যে রায় দিয়েছে, তা বাস্তবায়ন করা রাষ্ট্র ও সরকারের নৈতিক দায়িত্ব। জনগণের মতামত উপেক্ষা করে কোনো গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা টিকে থাকতে পারে না। তাই গণভোটের গণরায় দ্রুত বাস্তবায়ন করতে হবে। একই সঙ্গে জুলাই গণহত্যা ও মানবতাবিরোধী অপরাধে জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক বিচার নিশ্চিত করতে হবে। জনগণের ভোটাধিকার, ন্যায়বিচার ও আইনের শাসন প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে একটি বৈষম্যহীন, ইনসাফভিত্তিক ও কল্যাণরাষ্ট্র গড়ে তোলার জন্য সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার আহ্বান জানান।

 

‎‎এ সময় উপস্থিত ছিলেন কুমিল্লা মহানগরী জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি নাছির আহম্মেদ মোল্লা, মহানগরী কর্মপরিষদ সদস্য কাজী নজির আহম্মেদ, মোহাম্মদ হোসাইন, অধ্যাপক রফিকুল ইসলাম, মিজানুর রহমানসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মীরা। সমাবেশ শেষে গণমিছিলটি নগরীর প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে।


জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ-জকসুর স্বাস্থ্য বিষয়ক সম্পাদক ও বিশ্ববিদ্যালয় ইনকিলাব মঞ্চের আহ্বায়ক মো. নূর মোহাম্মদের ওপর ফের হামলার ঘটনা ঘটেছে। আজ বুধবার (৫ আগস্ট) পুরান ঢাকার সোহরাওয়ার্দী সরকারি কলেজের সামনে এ ঘটনা ঘটে। এ সময় তিনি সহপাঠীদের সঙ্গে অবস্থান করছিলেন। হামলায় তার নারী সহপাঠীরাও আক্রান্ত হয়েছেন বলে জানা গেছে।

 

সহপাঠীদের অভিযোগ, ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা নূর মোহাম্মদকে কাঠ দিয়ে মারধর করেন। এতে তিনি আহত হন। পরে সহপাঠীরা তাকে উদ্ধার করে ন্যাশনাল মেডিকেল হাসপাতালে নিয়ে যান। বর্তমানে তিনি হাসপাতালের জরুরি বিভাগে চিকিৎসাধীন রয়েছেন বলে জানিয়েছেন তার সহপাঠীরা।

 

ইনকিলাব মঞ্চের কেন্দ্রীয় সদস্যসচিব ও ডাকসুর মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক সম্পাদক ফাতিমা তাসনিম জুমা এক ফেসবুক পোস্টে লিখেছেন, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় ইনকিলাব মঞ্চের আহ্বায়ক নূর মোহাম্মদের ওপর হামলা করেছে ছাত্রদল।

 

জকসুর সাধারণ সম্পাদক (জিএস) আব্দুল আলিম আরিফ এক পোস্টে লিখেছেন, ‘ছাত্রদল কি এখন গুন্ডা পোষা শুরু করেছে? সোহরাওয়ার্দী কলেজ ছাত্রদলের কর্মীরা জকসুর স্বাস্থ্য ও পরিবেশ সম্পাদক নূর মোহাম্মদসহ নারী শিক্ষার্থীদের ওপর অতর্কিত হামলা চালিয়েছে। প্রসাশনকে বলব, হামলাকারীদের এখনই বিচারের আওতায় আনুন। নইলে আজ যারা অন্যের ওপর হামলা করছে, কাল তারাই আপনার ওপরও হামলা করবে।’

সোহরাওয়ার্দী কলেজের সামনে জকসুর স্বাস্থ্য সম্পাদকের ওপর ছাত্রদলের হামলা

বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, ১৭ বছর ধরে বিরোধী দলে থেকে যারা নির্যাতনের শিকার হয়েছিলেন, ক্ষমতায় এসে তারাই আবার বিগত সরকারের ফ্যাসিবাদের খাসলত ও পথ ধারণ করছেন।

রোববার (২ আগস্ট) সকাল সাড়ে ১০টায় জাতীয় প্রেস ক্লাবে ‘জান দিব, জুলাই দিব না’ শীর্ষক এক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এ কথা বলেন তিনি।

 

জামায়াত আমির বলেন, বর্তমানে বিরোধী মত দমনে ষড়যন্ত্র, অপপ্রচার ও বলপ্রয়োগের যে চর্চা দেখা যাচ্ছে, তা বিগত সরকারের হুবহু ফটোকপি ছাড়া আর কিছুই নয়।

 

তিনি বলেন, সাড়ে ১৭ বছর ধরে বাংলাদেশের মানুষ, বিশেষ করে বিরোধী রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মী, আলেম-ওলামা, সাংবাদিক, সুশীল সমাজ ও সাধারণ খেটে খাওয়া মানুষ কেমন চরম নির্যাতনের মধ্য দিয়ে দিন কাটিয়েছেন, তা বর্তমান ক্ষমতাসীনদের চিন্তা করা উচিত। কিন্তু একটি রক্তভেজা গণঅভ্যুত্থানের মাধ্যমে মুক্তি পাওয়ার পরও আগের সরকারের দমন-পীড়নের সেই একই আচরণ ধারণ করা হচ্ছে।

 

ডা. শফিকুর রহমান বলেন, ২০২৪ সালের ১ আগস্ট যখন তাদের দলকে নিষিদ্ধ করা হয়েছিল, তখন বিএনপি, এলডিপিসহ গণতান্ত্রিক দলগুলো এর তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছিল। কিন্তু যারা ক্ষমতা চিরস্থায়ী করার জন্য সে সিদ্ধান্ত নিয়েছিল, তাদের পতন হতে মাত্র কয়েক দিন সময় লেগেছে। এটি আল্লাহর বিচার ও কুদরতের নিদর্শন।

বিগত ফ্যাসিবাদের দেখানো পথেই হাঁটছে সরকার: জামায়াত আমির

ফরিদপুরের বোয়ালমারীতে আওয়ামী লীগ থেকে বিএনপিতে যোগ দেওয়া সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান আব্দুল মান্নান মাতুব্বরের বিরুদ্ধে বিএনপি নেতাকর্মীদের বাড়িছাড়া, চাঁদাবাজি ও ভয়ভীতি প্রদর্শনের অভিযোগ উঠেছে। এসব অভিযোগ তুলে সংবাদ সম্মেলন করেছেন স্থানীয় বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতারা।

 

বৃহস্পতিবার (৩০ জুলাই) বিকেল সাড়ে ৫টায় উপজেলার পরমেশ্বরদী ইউনিয়নের পরমেশ্বরদী গ্রামে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলন করা হয়। এতে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন উপজেলা যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক মাহাবুব হাসান সজীব।

 

লিখিত বক্তব্যে তিনি দাবি করেন, গত ১২ ফেব্রুয়ারির জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে এলাকায় কয়েকটি সংঘর্ষের ঘটনা ঘটলেও প্রশাসনের উদ্যোগে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়। তবে পরে আব্দুল মান্নান মাতুব্বর পুনরায় এলাকায় প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা শুরু করেন। সরকারের পরিবর্তনের পর কিছুদিন আত্মগোপনে থাকার পর ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনকে সামনে রেখে এলাকায় ফিরে এসে তিনি ও তার অনুসারীরা বিএনপি নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষের ওপর নানা ধরনের নির্যাতন চালাচ্ছেন।

 

সংবাদ সম্মেলনে আরও অভিযোগ করা হয়, নাজিম হত্যা মামলার বাদী ও সাক্ষীদের মামলা তুলে নিতে চাপ দেওয়া হচ্ছে। তাদের বাড়িতে হামলা, লুটপাট, গবাদিপশু নিয়ে যাওয়া, ফসলি জমিতে যেতে বাধা এবং বিভিন্নভাবে ভয়ভীতি প্রদর্শনের ঘটনাও ঘটছে। এসব কারণে প্রায় ৫০ থেকে ৬০টি পরিবার গত পাঁচ মাস ধরে বাড়িছাড়া রয়েছে এবং প্রায় ৬০ থেকে ৭০ বিঘা জমির পাট কাটতে পারছে না। এছাড়া মাছের ঘের থেকে মাছ লুট ও বিষ প্রয়োগে মাছ নিধন করা হয়েছে। এসব বিষয়ে থানায় একাধিক লিখিত অভিযোগ দেওয়া হয়েছে।

 

পরমেশ্বরদী ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সাবেক সভাপতি আক্কাস মোল্যা বলেন, দীর্ঘদিন ধরে বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত থাকলেও তিনি ও তার পরিবার অতীতেও রাজনৈতিক নির্যাতনের শিকার হয়েছেন। বর্তমানে আব্দুল মান্নান মাতুব্বরের অনুসারীদের কারণে স্বাভাবিকভাবে নিজ বাড়িতে বসবাস করতে পারছেন না বলেও দাবি করেন তিনি।

 

২ নম্বর ওয়ার্ড যুবদলের সাধারণ সম্পাদক আকমল শেখ অভিযোগ করেন, নির্বাচনের পর থেকে তিনি প্রায় সাত মাস ধরে বাড়িছাড়া। তার কাছে তিন লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয়েছে বলে জানান তিনি।

 

একই ওয়ার্ড বিএনপির সাবেক সভাপতি আকুব্বর মাতুব্বর বলেন, প্রভাবশালীদের কারণে তিনি নিজের বাড়িতে যেতে পারছেন না। এমনকি নিজের জমির পাট কাটতেও বাধার মুখে পড়ছেন, ফলে আর্থিক ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছেন।

 

৫ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ মেহেদী হাসান অভিযোগ করেন, তার ভাতিজা সৈয়দ নাজিম আলী হত্যা মামলার বাদী ও সাক্ষীদের মামলা প্রত্যাহারের জন্য চাপ দেওয়া হচ্ছে। মামলা না তোলায় তাদের বাড়িতে হামলার ঘটনাও ঘটেছে।

 

এ বিষয়ে বোয়ালমারী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, এ ঘটনায় থানায় লিখিত অভিযোগ পেলে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

 

সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত বিএনপি নেতারা অভিযোগগুলোর সুষ্ঠু তদন্ত এবং আব্দুল মান্নান মাতুব্বরের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান।

আ’লীগ থেকে বিএনপিতে যোগ দেওয়া নেতার অত্যাচারে ‘ঘরছাড়া’ বিএনপি নেতারা

হবিগঞ্জে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) কেন্দ্রীয় মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটোয়ারী ও উত্তরাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক সারজিস আলমসহ দলটির ১০ নেতার বিরুদ্ধে হত্যাচেষ্টা, মারধর, ভাঙচুর ও ছিনতাইয়ের অভিযোগে মামলা দায়ের করা হয়েছে।

 

বৃহস্পতিবার (৩১ জুলাই) রাত ১০টার দিকে হবিগঞ্জ সদর মডেল থানায় মামলার এজাহার দাখিল করেন জেলা ছাত্রদলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মো. ইকবাল হোসেন রুকন। মামলায় এনসিপির ১০ নেতার নাম উল্লেখের পাশাপাশি অজ্ঞাতপরিচয় আরও ৪০ থেকে ৫০ জনকে আসামি করা হয়েছে।

 

মামলার এজাহার অনুযায়ী, গত ২৮ জুলাই বিকেল ৫টা থেকে রাত ৮টার মধ্যে হবিগঞ্জ পৌরসভার কোর্ট মসজিদের সামনে এনসিপি ও ছাত্রদলের নেতাকর্মীদের মধ্যে দফায় দফায় সংঘর্ষ হয়। অভিযোগে বলা হয়েছে, এনসিপির নেতাকর্মীরা দেশীয় অস্ত্র নিয়ে ছাত্রদলের নেতাকর্মীদের ওপর হামলা চালান।

 

এজাহারে বাদী উল্লেখ করেন, কেন্দ্রীয় ছাত্রদলের কর্মসূচির অংশ হিসেবে জুলাই আন্দোলনের শহীদ রিপন শীলের পরিবারের সঙ্গে সাক্ষাৎ এবং শোকসভায় অংশ নিতে ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা কোর্ট মসজিদের সামনে জড়ো হন। এ সময় নাসীরুদ্দীন পাটোয়ারী, সারজিস আলম, আবু হেনা মোস্তফা কামাল, মাহবুবুল বারী চৌধুরীসহ ৪০ থেকে ৫০ জনের একটি দল দেশীয় অস্ত্র নিয়ে সেখানে এসে হামলা চালায় বলে অভিযোগ করা হয়েছে।

অভিযোগে আরও বলা হয়, হামলায় জেলা ছাত্রদল নেতা মাহফুজ চৌধুরী, মোজাক্কির হোসেন ইমনসহ কয়েকজন আহত হন। তাদের লোহার রড, রামদা, ফিকল, ইটের টুকরোসহ বিভিন্ন দেশীয় অস্ত্র দিয়ে আঘাত করা হয় বলেও এজাহারে উল্লেখ রয়েছে।

 

মামলায় আরও অভিযোগ করা হয়েছে, সংঘর্ষের সময় বাদীর আইফোন-১৩, মোজাক্কির হোসেন ইমনের আইফোন-১১, মাহফুজ চৌধুরীর আইফোন-১৪, মাহমুদুল হাসান গাজীর স্যামসাং এস-২২, রক্সি ইসলামের কাছে থাকা ৫০ হাজার টাকা এবং শিমুল হাসানের আইফোন-১৫ ছিনিয়ে নেওয়া হয়। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছালে অভিযুক্তরা সরে যান এবং আহতরা হবিগঞ্জ সদর আধুনিক হাসপাতালে চিকিৎসা নেন বলে এজাহারে দাবি করা হয়েছে।

 

মামলার আসামিরা হলেন- এনসিপির কেন্দ্রীয় মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটোয়ারী, উত্তরাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক সারজিস আলম, হবিগঞ্জ জেলা জাতীয় শক্তির আহ্বায়ক নুর আলম চৌধুরী, জেলা কমিটির সদস্য ফখরুল জাকির, আ. হাই কামাল, রুহাম গাজী, সদস্য সচিব মাহবুবুল বারী চৌধুরী মুবিন, কেন্দ্রীয় সমন্বয়ক নাহিদ উদ্দিন তারেক, জেলা আহ্বায়ক আবু হেনা মোস্তফা কামাল এবং জেলা কমিটির সদস্য ওয়াদুদ মাহমুদ চৌধুরী।

 

এদিকে, একই ঘটনাকে কেন্দ্র করে এর আগে এনসিপির পক্ষ থেকেও ছাত্রদলের বিরুদ্ধে হামলার অভিযোগ তোলা হয়। দলটির দাবি, ২৮ জুলাই পদযাত্রা ও পথসভা শেষে সার্কিট হাউসে ফেরার পথে ছাত্রদলের হামলায় সারজিস আলমসহ অন্তত ১৫ নেতাকর্মী আহত হন। হামলায় এনসিপির এক কর্মীর একটি চোখ নষ্ট হয়ে যায় বলেও অভিযোগ করেন দলটির নেতারা। একই ঘটনায় কয়েকটি সংবাদমাধ্যমের গাড়ি ভাঙচুরের অভিযোগও করা হয়।

 

এনসিপির অভিযোগ অনুযায়ী, পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠলে নাসীরুদ্দীন পাটোয়ারী ও সারজিস আলম নিরাপত্তার জন্য থানার পাশের সোনালী ব্যাংকে আশ্রয় নেন। পরে পুলিশ তাদের উদ্ধার করে সার্কিট হাউসে নিয়ে যায় এবং রাতে পুলিশি পাহারায় মৌলভীবাজার পৌঁছে দেয়।

 

তবে সদর মডেল থানার এসআই ধ্রুবেশ চক্রবর্তী বলেন, ছাত্রদল নেতা বাদী হয়ে এনসিপির নেতাদের বিরুদ্ধে একটি মামলা দায়ের করেছেন।

 

অন্যদিকে, হবিগঞ্জ জেলা ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক মো. জিল্লুর রহমান ও সাংগঠনিক সম্পাদক মো. মাহবুব আহমেদ থানায় অভিযোগ দায়েরের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

 

ঘটনার জেরে দায়ের হওয়া এ মামলার খবর বৃহস্পতিবার গভীর রাত থেকেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে।

নাসীরুদ্দীন-সারজিসসহ এনসিপির ১০ নেতার বিরুদ্ধে হত্যাচেষ্টার মামলা

এনসিপি বাংলাদেশে নতুন বন্দোবস্তের রাজনীতির কথা বলে নতুন ‘ভণ্ডবস্তের’ রাজনীতি শুরু করেছে। এনসিপিকে বলবো, গঠনমূলক রাজনীতি করুন। এনসিপির রাজনীতি এখন জামায়াতের পরামর্শে পরিচালিত হচ্ছে বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রীর সহকারী মুহাম্মদ রাশেদ খাঁন।

 

বৃহস্পতিবার (৩০ জুলাই) সকালে জেলা প্রশাসকের মিলনায়তনে জেলার সকল সরকারি কর্মকর্তাদের সঙ্গে মতবিনিময় সভা শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে এ মন্তব্য করেন তিনি।

 

তিনি আরও বলেন, সিলেটের ঘটনাটি ঘটেছে জনপ্রিয় সংসদ সদস্যকে নিয়ে এনসিপির নেতৃবৃন্দের বাজে কথা বলায়। গণঅভ্যুত্থানে ভূমিকা আছে বলেই তাদের অপরাধ ক্ষমা হয়ে যায় না। তাই এনসিপির নেতৃবৃন্দকে সুস্থ ধারার রাজনীতি করার আহ্বানও জানান তিনি। না হলে তার উত্তম জবাব দেয়া হবে বলেও হুঁশিয়ারি দেন।

 

আলোচনা সভায় সরকারি সকল দপ্তরের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

এনসিপি নতুন বন্দোবস্তের নামে ‘ভণ্ডবস্তের’ রাজনীতি করছে: রাশেদ খাঁন

হবিগঞ্জে হামলার সময় জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) নেতাদের গাড়ি থেকে ৫ লাখ টাকা ও প্রায় ২০ লাখ টাকার বিভিন্ন যন্ত্রপাতি লুটের অভিযোগ করা হয়েছে। এজাহারে ভাঙচুর করা গাড়িটির ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ উল্লেখ করা হয়েছে প্রায় ৫০ লাখ টাকা।

 

বুধবার রাতে বাহুবল উপজেলার কামাইছড়া পুলিশ ফাঁড়িতে হবিগঞ্জের পুলিশ সুপার তারেক মাহমুদের কাছে হাতে লেখা এজাহার জমা দেন এনসিপির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলামসহ কেন্দ্রীয় নেতারা। এজাহারের বাদী হয়েছেন হবিগঞ্জ জেলা যুবশক্তির আহ্বায়ক তন্ময় তাহের। এতে জেলা ছাত্রদলের সভাপতি শাহ রাজিব আহমেদ রিংগন ও হবিগঞ্জ বৃন্দাবন সরকারি কলেজ ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক আরিফুজ্জামান রিয়াদসহ ১১ জনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে। পাশাপাশি অজ্ঞাতনামা আরও ১০০ জনকে করা হয়েছে আসামি।

 

এর আগে মঙ্গলবার সন্ধ্যায় হবিগঞ্জ শহরে এনসিপির মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটোয়ারী ও উত্তরাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক সারজিস আলমের গাড়িবহরে হামলার ঘটনা ঘটে। পরে পুলিশের সহায়তায় তারা মৌলভীবাজারে চলে যান।

 

নাসীরুদ্দীন পাটোয়ারীর ভাষ্য, হামলাকারীরা ক্যামেরা, ল্যাপটপসহ প্রায় ২০ লাখ টাকার যন্ত্রপাতি এবং গাড়িতে থাকা ৫ লাখ টাকা নিয়ে গেছে। এছাড়া প্রায় ৫০ লাখ টাকা মূল্যের একটি গাড়ি ভাঙচুর করা হয়েছে। তিনি দাবি করেন, হামলার ঘটনাটি সারা দেশের মানুষ প্রত্যক্ষ করেছে।

 

তিনি আরও জানান, এজাহারে হামলার সময় ধারণ করা ভিডিও ফুটেজে শনাক্ত হওয়া ১১ জনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে। পাশাপাশি অজ্ঞাতনামা আরও ১০০ জনকে আসামি করা হয়েছে। এজাহারে দাবি করা হয়েছে, আসামিরা সরকারদলীয় হুইপ জি কে গউছের অনুসারী এবং আহতদের হাসপাতালে নেওয়ার পথেও হামলায় অংশ নেয়।

 

মঙ্গলবার মৌলভীবাজারে চলে গেলেও সেখানকার কর্মসূচি স্থগিত করে বুধবার হামলার প্রতিবাদে আবারও হবিগঞ্জে কর্মসূচি দেয় এনসিপি। একই দিনে বিএনপি, ছাত্রদল ও যুবদলের কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে জেলায় ১৪৪ ধারা জারি করা হয়।

 

এ পরিস্থিতিতে বুধবার বিকেলে হবিগঞ্জে প্রবেশের সময় তাদের গাড়িবহর আটকে দেয় পুলিশ। পুলিশ সুপার তারেক মাহমুদের নেতৃত্বে কয়েকশ পুলিশ সদস্য সেখানে অবস্থান নেন। রাত ৮টা পর্যন্ত ব্যারিকেড অপসারণকে কেন্দ্র করে ধস্তাধস্তির পর উভয় পক্ষের মধ্যে সমঝোতা হয়।

 

এ সময় ছিলেন দক্ষিণাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক ও সংসদ সদস্য হাসনাত আব্দুল্লাহ, উত্তরাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক সারজিস আলম, মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটোয়ারী, উপমুখ্য সংগঠক মাহমুদা আলম মিতুসহ কেন্দ্রীয় নেতারা। পরে তারা ঘটনাস্থলের পাশের কামাইছড়া পুলিশ ফাঁড়িতে এজাহার জমা দিয়ে মৌলভীবাজারে ফিরে যান।

 

মৌলভীবাজারে ফেরার পথে নাসীরুদ্দীন পাটোয়ারী জানান, ‘আমরা দেখব প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের বিচার করার সদিচ্ছা আছে কি না। এটি একটি টেস্ট কেস। আশা করি পরীক্ষায় পাস করবেন তিনি।’

 

হামলার জন্য ছাত্রদলের নেতাকর্মীদের দায়ী করে সারজিস আলম দাবি করে বলেন, হামলায় একজন কর্মীর একটি চোখ নষ্ট হয়েছে, জেলা এনসিপির নেতা মুবিনের হাত ভেঙেছে এবং তিনি নিজেও আঙুলে আঘাত পেয়েছেন।

এনসিপির গাড়ি থেকে ৫ লাখ টাকা ও যন্ত্রপাতি লুটের অভিযোগ

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

ঠাকুরগাঁওয়ে ডিবির অভিযানে শীর্ষ অনলাইন ক্যাসিনো ব্যবসায়ী গ্রেফতার।

 

মোঃ আশরাফুল ইসলাম

ঠাকুরগাঁও প্রতিনিধি

 

ঠাকুরগাঁওয়ে বিশেষ অভিযানে কথিত শীর্ষ অনলাইন ক্যাসিনো ব্যবসায়ী মোহাম্মদ খোরশেদ আলী (৩০)কে গ্রেফতার করেছে জেলা গোয়েন্দা শাখা (ডিবি) পুলিশ।

 

বুধবার ৬আগষ্ট ঠাকুরগাঁও জেলা গোয়েন্দা শাখা (ডিবি)-এর একটি চৌকস দল সদর উপজেলার ১০ নম্বর জামালপুর ইউনিয়নের ৬ নম্বর ওয়ার্ডের মালিগাঁও (কাশিডাঙ্গা) এলাকায় বিশেষ অভিযান পরিচালনা করে তাকে আটক করে।

গ্রেফতারকৃত খোরশেদ আলী মালিগাঁও (কাশিডাঙ্গা) গ্রামের বাসিন্দা। তিনি মোহাম্মদ তোফাজ্জল হোসেন ও মোছা. মাজেদা বেগমের ছেলে।

 

ডিবি পুলিশের দাবি, প্রাথমিক তদন্তে গ্রেফতারকৃতের ব্যবহৃত মোবাইল ফোনে ৩৮টি অনলাইন ক্যাসিনো অ্যাপ পাওয়া গেছে। তিনি ডিজিটাল ইলেকট্রনিক ডিভাইস, মোবাইল ফোন ও ইন্টারনেট ব্যবহার করে সাইবার স্পেসে প্রতারণামূলক কর্মকাণ্ড পরিচালনা করতেন বলে অভিযোগ রয়েছে। এ অভিযোগে তাকে গ্রেফতার করা হয়েছে।

এ বিষয়ে ঠাকুরগাঁও জেলা গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি) জানায়, “আমরা শুধু মাদক নির্মূলে নয়, অনলাইন ক্যাসিনোসহ সব ধরনের সাইবার অপরাধ দমনে সর্বদা সোচ্চার। এ ধরনের অপরাধের বিরুদ্ধে আমাদের অভিযান আরও জোরদারভাবে চলমান থাকবে।”

 

গ্রেফতারকৃতের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।

ঠাকুরগাঁওয়ে ডিবির অভিযানে শীর্ষ অনলাইন ক্যাসিনো ব্যবসায়ী গ্রেফতার।

নীলফামারীতে মেধাবী শিক্ষার্থীদের শিক্ষাবৃত্তির চেক ও প্রশিক্ষণার্থীদের সনদ বিতরণ

 

স্টাফ রিপোর্টার

মাইদুল ইসলাম

নীলফামারীর ডোমার ও ডিমলা উপজেলার মেধাবী শিক্ষার্থীদের মাঝে শিক্ষাবৃত্তির চেক, জেলা পরিষদের ডিজিটাল ল্যাবে কম্পিউটার প্রশিক্ষণ উত্তীর্ণ প্রশিক্ষণার্থীদের সনদপত্র এবং বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন ব্যক্তিদের মাঝে

হুইলচেয়ার বিতরণ করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার

(০৬/আগস্ট) দুপুরে জেলা পরিষদের সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে এসব বিতরণ করেন জেলা পরিষদের প্রশাসক এ্যাডভোকেট মিজানুর রহমান চৌধুরী। জেলা পরিষদের ২০২৪-২০২৫ অর্থ বছরের রাজস্ব বরাদ্দের অর্থে তোমার ও ডিমলা উপজেলার মোট ২৭ জন মেধাবী শিক্ষার্থীকে শিক্ষাবৃত্তির চেক দেওয়া হয়। প্রত্যেক শিক্ষার্থীর হাতে ৫ হাজার টাকা করে তুলে দেওয়া হয়। এছাড়া নীলফামারী জেলা পরিষদের ডিজিটাল ল্যাবে কম্পিউটার প্রশিক্ষণ সফলভাবে সম্পূর্ণ করা সাতজন প্রশিক্ষণার্থীদের সনদপত্র প্রদান করা হয়। একই অনুষ্ঠানে বিশেষ চাহিদা সম্পন্ন দুই ব্যক্তির চলাচলের সুবিধার্থে তাদের হাতে হুইলচেয়ার তুলে দেওয়া হয়। অনুষ্ঠানে জেলা পরিষদের প্রশাসক এ্যাডভোকেট মিজানুর রহমান চৌধুরী বলেন, শিক্ষার্থীদের নিয়মিত পড়াশুনার পাশাপাশি কারিগরি ও প্রযুক্তিগত দক্ষতায় সমৃদ্ধ হতে হবে। এসব দক্ষতা অর্জনের মাধ্যমে ভবিষ্যতে দেশ গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখার জন্য তিনি শিক্ষার্থীদের প্রতি আহ্বান জানান। অনুষ্ঠানে জেলা পরিষদের

কর্মকর্তা-কর্মচারী, শিক্ষার্থী, প্রশিক্ষণার্থী ও সংশ্লিষ্টরা উপস্থিত ছিলেন

নীলফামারীতে মেধাবী শিক্ষার্থীদের শিক্ষাবৃত্তির চেক ও প্রশিক্ষণার্থীদের সনদ বিতরণ 

নীলফামারী জেলা পরিষদের নিয়োগ নিয়ে রিট, এক সপ্তাহে নথি

চাইল অ্যাটর্নি জেনারেলের কার্যালয়

 

স্টাফ রিপোর্টার

মাইদুল ইসলামঃ

০৬/আগস্ট/২৬ইং

নীলফামারী জেলা পরিষদের নিম্ন বিভাগ সহকারী-কাম-টাইপিস্ট পদে নিয়োগ নিয়ে করা রিট মামলাটি শুনানির জন্য হাইকোর্টের কার্যতালিকায় রয়েছে। মামলায় রাষ্ট্রপক্ষের আইনগত প্রস্তুতির জন্য জেলা পরিষদের কাছে প্রয়োজনীয় নথিপত্র চেয়েছে অ্যাটর্নি জেনারেলের কার্যালয়। সম্ভব হলে এক সপ্তাহের মধ্যে এসব নদী পাঠাতে বলা হয়েছে। গত ৩ আগস্ট ডেপুটি আটর্নি জেনারেল মো.জে. আর.খান রবিন স্বাক্ষরিত চিঠিতে নীলফামারী জেলা পরিষদের চেয়ারম্যানকে এ নির্দেশনা দেওয়া হয়। চিঠি সূত্রের জানা গেছে, রিট পিটিশন নম্বর ২৪৮৪/২০২১ (মো. জাহিদ হোসেন বনাম বাংলাদেশ ও অন্যান্য) মামলাটি হাইকোর্ট বিভাগের বিচারপতি কে. এম. হাফিজুল আলম ও বিচারপতি মুরাদ-এ-মাওলা সোহেলের সমন্বয়ে গঠিত ডিভিশন বেঞ্চের দৈনিক কার্যতালিকায় শুনানির জন্য রয়েছে। রিটে অভিযোগ করা হয়েছে ২০১৯ সালের ১৩ জুন প্রকাশিত নিয়োগ বিজ্ঞপ্তির পর নীলফামারী জেলা পরিষদের নিম্ন বিভাগ

সহকারী -কাম-টাইপিস্ট পদে পরীক্ষা গ্রহণ ছাড়াই একজনকে অবৈধ ও গোপনে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। এ নিয়োগ কেন আইনগত কর্তৃত্ববহির্ভৃত ও অবৈধ ঘোষণা করা হবে না এবং নিয়োগ বাতিলের নির্দেশ কেন দেওয়া হবে না, তা জানতে চেয়ে হাইকোর্ট রুল জারি করেন। রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত সংশ্লিষ্ট নিয়োগ প্রক্রিয়ার সব নথি আদালতে দাখিলের ও নির্দেশ দেওয়া হয়। এরমধ্যে ২০১৯ সালের ১৯ জুলাই অনুষ্ঠিত হয়েছে বলে উল্লেখ করা পরীক্ষার নথি ও ফলাফলও রয়েছে। মামলাটির পরবর্তী শুনানিকে সামনে রেখে রাষ্ট্রপক্ষের প্রস্তুতির জন্য জেলা পরিষদের কাছে ভাকালতনামা,

অনুমোদনপত্র, ঘটনার বিবরণ, অনুচ্ছেদভিত্তিক জবাব এবং সংশ্লিষ্ট প্রমাণ্য নথিপত্র চেয়েছে অ্যাটর্নি জেনারেলের কার্যালয়। চিঠিতে বলা হয়েছে, প্রয়োজনীয় কাগজপত্র দ্রুত, সম্ভব হলে এক সপ্তাহের মধ্যে অ্যাটর্নি জেনারেলের কার্যালয়ে পাঠাতে হবে। নির্ধারিত সময়ে নথি সরবরাহ না করা হলে এর ফলে কোন বিরুপ পরিস্থিতি তৈরি হলে তার দায় অ্যাটর্নি জেনারেলের কার্যালয় বহন করবে না। প্রয়োজনে জেলা পরিষদ নিজম্ব প্যানেল আইনজীবীর মাধ্যমেও মামলাটিতে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নিতে পারবে বলে চিঠিতে উল্লেখ করা হয়েছে। এ বিষয়ে সার্বিক সময়ের জন্য ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল মো.জে.আর.খান রবিনের সঙ্গে যোগাযোগ করতে জেলা পরিষদকে অনুরোধ করা হয়েছে।

নীলফামারী জেলা পরিষদের নিয়োগ নিয়ে রিট, এক সপ্তাহে নথি  চাইল অ্যাটর্নি জেনারেলের কার্যালয় 

বাড়িতে বিয়ের আয়োজন। দিন কাটিয়ে রাত পোহালেই সেই বিয়েতে আসার কথা আমন্ত্রিত অতিথিদের। বিয়েকে কেন্দ্র করে চাচাদের সঙ্গে বাজার করতে বেরিয়েছিলেন ফেনীর ছাগলনাইয়া এলাকার যুবক ছায়েদুল হক ফনির (৩২)। কিন্তু বোনের বিয়ের ঠিক আগের দিন সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণ গেল তার। এতে বিয়ে বাড়িতে নেমে এসেছে শোকের ছায়া।

বৃহস্পতিবার (৬ আগস্ট) সকালে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের ছাগলনাইয়া উপজেলার সমিতি বাজার এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।

 

নিহত ফনির উপজেলার ঘোপাল ইউনিয়নের দৌলতপুর গ্রামের ছয়ঘরিয়া পাড়ার আব্দুল হাইয়ের ছেলে। তিনি ছাগলনাইয়া উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের রাজনীতিতে সক্রিয় ছিলেন।

 

ছাগলনাইয়া উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের যুগ্ম আহ্বায়ক ইমাম হোসেন নয়ন জানান, আগামী শুক্রবার ফনিরের চাচাতো বোনের বিয়ে হওয়ার কথা ছিল। বিয়ের কেনাকাটা শেষে বারৈয়ারহাট থেকে টমটমযোগে বাড়ি ফিরছিলেন তিনি। পথে সমিতি বাজার এলাকায় পৌঁছালে চট্টগ্রাম থেকে ফেনীগামী একটি যাত্রীবাহী বাস পেছন থেকে টমটমটিকে ধাক্কা দেয়। এতে ঘটনাস্থলেই ফনির মৃত্যু হয়। এ সময় তার চাচা আলম ও টমটমচালক গুরুতর আহত হন।

মুহুরীগঞ্জ পুলিশ ফাঁড়ির এসআই নোমান জানান, দুর্ঘটনার খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে নিহতের মরদেহ উদ্ধার করে ছাগলনাইয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে পাঠায়। আইনি প্রক্রিয়া শেষে মরদেহ স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। এই ঘটনায় আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।

 

 

বাড়িতে বোনের বিয়ের আয়োজন, বাজার শেষে নিথর দেহে ফিরল ভাই

এলিট ফোর্স র‌্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র‌্যাব) বিলুপ্ত করে নতুন বাহিনী গঠনের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। ‘স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন (এসআরবি) নামে নতুন এ বাহিনীর একটি খসড়া জনমতের জন্য স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ওয়েবসাইটে প্রকাশ করা হয়েছে।

 

খসড়াটি চূড়ান্ত হওয়ার পর বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও বিভাগের মতামত নিয়ে মন্ত্রিসভায় উপস্থাপন করা হবে। সেখানে অনুমোদন পেলে আইনটি জাতীয় সংসদে উত্থাপন করা হবে। নতুন আইন কার্যকর হলে র‌্যাব-সংক্রান্ত বিদ্যমান আইনি ভিত্তি বিলুপ্ত হবে। এসআরবির নতুন বিধিমালা প্রণীত না হওয়া পর্যন্ত আগের কিছু বিধান কার্যকর থাকবে।

 

তবে নতুন বাহিনী হিসেবে স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন (এসআরবি) প্রতীক (লোগো), পতাকা ও পোশাক কী হবে, কোন কোন দায়িত্ব পালন করবে, কার অধীনে থাকবে, সংস্থাটির দায়িত্বে কে থাকবেন, এসব বিষয়ে খসড়া আইনে বলা হয়েছে।

 

এসআরবির দায়িত্ব, কর্মপরিধি ও বিধিবিধান

 

খসড়া আইন পর্যালোচনায় দেখা যায়, দেশের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা রক্ষা, গোয়েন্দা তথ্য সংগ্রহ, অবৈধ অস্ত্র ও বিস্ফোরক উদ্ধার, মাদকদ্রব্য দমন, সাইবার অপরাধ মোকাবিলা, মানবপাচার ও সংঘবদ্ধ অপরাধ দমন, সন্ত্রাসবাদ প্রতিরোধ এবং অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে সহায়তা করা—এসবই এসআরবির দায়িত্ব হিসেবে নির্ধারণ করা হয়েছে। এ ছাড়া আদালত, সরকার কিংবা পুলিশের মহাপরিদর্শকের (আইজিপি) নির্দেশে মামলা দায়ের ও তদন্ত পরিচালনার ক্ষমতাও দেওয়া হয়েছে।

 

খসড়া অনুযায়ী, ফৌজদারি কার্যবিধি অনুসরণ করে এসআরবির সদস্যরা নির্দিষ্ট ক্ষেত্রে তল্লাশি, জব্দ ও গ্রেপ্তার করতে পারবেন। মাদক, অস্ত্র, গোলাবারুদ, বিস্ফোরক, সন্ত্রাসী আস্তানা, মানবপাচার, সংঘবদ্ধ অপরাধ, সাইবার অপরাধ কিংবা রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তাবিরোধী অপরাধের ক্ষেত্রে অভিযান পরিচালনার ক্ষমতা থাকবে বাহিনীটির।

 

এ ছাড়া আদালত, সরকার বা আইজিপির নির্দেশে ফৌজদারি অপরাধের তদন্তও পরিচালনা করতে পারবে এসআরবি। তদন্ত করবেন অন্তত সাব-ইন্সপেক্টর পদমর্যাদার কর্মকর্তা এবং পুরো প্রক্রিয়ায় ফৌজদারি কার্যবিধি ও পুলিশ রেগুলেশন অনুসরণের বাধ্যবাধকতা থাকবে।

 

সুষ্ঠু তদন্ত পরিচালনার স্বার্থে এসআরবির নিজস্ব হাজতখানা, মালখানা ও জিজ্ঞাসাবাদকক্ষ থাকবে। জব্দ করা মালামাল আদালতের আদেশ বা সরকারের প্রণীত বিধি অনুযায়ী নিষ্পত্তি

র‌্যাবের পরিবর্তে আসা এসআরবি কী দায়িত্ব পালন করতে পারবে

সাতক্ষীরা সদরের মাধবকাটি এলাকায় থেকে নতুন মাদক কুশ জব্দ করেছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)। বৃহস্পতিবার (৬ আগষ্ট) দুপুরে অভিযান চালিয়ে ৬ কোটি টাকা মূল্যের ১২ কেজি ওজনের এই মাদক জব্দ করা হয়। এসময় এক চোরাকারবারীকে আটক করা হয়।

 

বিজিবি জানায়, সাতক্ষীরা শহর থেকে মোটর সাইকেলযোগে ল্যাগেজ ভর্তি মাদক নিয়ে ঝাউডাঙ্গা যাওয়ার সময় মাধবকাটি এলাকা থেকে তাকে আটক করা হয়। পরীক্ষা নিরীক্ষার পর দেখা যায়, এই মাদকের নাম কুশ। নতুন এই মাদক দেশের অভ্যন্তরে ছড়িয়ে পড়েছে।

 

সাতক্ষীরা ৩৩ বিজিবি অধিনায়ক লে. কর্নেল কাজী আশিকুর রহমান জানান, দেশের মধ্যে প্রথম এত বড় চালান জব্দ করা হয়েছে এই মাদকের। যার এক গ্রামের মূল্য পাঁচ হাজার টাকা। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে নতুন এই মাদক জব্দ করা হয়েছে।

সাতক্ষীরায় ১২ কেজি মাদক কুশসহ চোরাকারবারী আটক

জ্বালানি তেল ও গ্যাস সংকট, বিদ্যুতের ‘ভূতুড়ে বিল’, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি এবং নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের লাগামহীন মূল্যবৃদ্ধির প্রতিবাদে সচিবালয় অভিমুখে পদযাত্রা করতে গিয়ে পুলিশের বাধার মুখে পড়েছেন ১১ দলীয় জোটের নেতাকর্মীরা।

 

এ সময় সচিবালয়ের সামনে বিরোধীদলীয় নেতা ও জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেন, ‘আমরা কাউকে অসম্মান করতে আসিনি, জনগণের দাবি নিয়ে এসেছি।’

 

বৃহস্পতিবার (৬ আগস্ট) দুপুর পৌনে ১টার দিকে সচিবালয়ের সামনে পৌঁছালে পুলিশ তাদের পদযাত্রায় বাধা দেয়। পরে সেখানেই সংক্ষিপ্ত বক্তব্য দেন তিনি।

 

এ সময় জামায়াত আমির বলেন, আমরা আজ এখানে বক্তৃতা দিতে আসিনি। জনগণের ১১ দফা দাবি মানুষের হাতে তুলে দিতে এসেছি। এই ১১ দফা কোনো দল, গোষ্ঠী বা কোনো ব্যক্তির স্বার্থের জন্য নয়; এটি ১৮ কোটি মানুষের অধিকার রক্ষার দাবি।

 

ডা. শফিকুর রহমান বলেন, দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চলবে। জ্বালানি সংকট, দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি ও জনভোগান্তি বাড়ছে। এসব সমস্যার সমাধানে সরকারকে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে।

 

সরকারের উদ্দেশে জামায়াতের শীর্ষ নেতা বলেন, সচিবালয় জনগণের সম্পদ। সেখানে যারা দায়িত্বে আছেন, তাদের জনগণের দাবি শুনতে হবে এবং বাস্তবায়নের উদ্যোগ নিতে হবে।

 

এসময় তিনি গ্যাস ও বিদ্যুৎ সংকট নিরসন, এলপিজির মূল্যবৃদ্ধি প্রত্যাহার এবং নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম নিয়ন্ত্রণের দাবি জানান।

দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চলবে: বিরোধীদলীয় নেতা

ঝালকাঠির সদর উপজেলার ৫ নং কীর্তিপাশা ইউনিয়ন বিএনপির সাংগঠনিক সভায় আওয়ামী লীগ নেতা ইউপি চেয়ারম্যানের উপস্থিতি ও ফুলের শুভেচ্ছা বিনিময়কে কেন্দ্র করে স্থানীয় রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে আলোচনা সমালোচনা শুরু হয়েছে। সভায় ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সহসভাপতি ইঞ্জিনিয়ার আবদুর রহিম মিয়ার উপস্থিতি এবং বিএনপির নেতাদের ফুল দিয়ে শুভেচ্ছা জানানোর ঘটনাকে কেন্দ্র করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও ব্যাপক প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। বিএনপির এক গ্রুপ বলছে এর পেছনে কয়েক লাখ টাকার লেনদেন হয়েছে।

 

বুধবার বিকেল ৫টায় কীর্তিপাশা ইউনিয়ন পরিষদের সভাকক্ষে সাংগঠনিক কার্যক্রমকে গতিশীল করতে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ঝালকাঠি সদর উপজেলা বিএনপির সভাপতি এস এম এজাজ হাসান। সভাপতিত্ব করেন ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি মো. আনিসুজ্জামান চপল এবং সঞ্চালনা করেন সাধারণ সম্পাদক শরিফুল হক মিয়া।

 

সভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মো. খোকন মল্লিক, প্রচার সম্পাদক আজিজুল হক এবং ইউনিয়ন বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক মো. কামরুল হাসান। সভায় ইউনিয়নের নয়টি ওয়ার্ডের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক নিজ নিজ এলাকার সাংগঠনিক কার্যক্রমের বিভিন্ন বিষয় তুলে ধরেন। তবে সভার আনুষ্ঠানিক কার্যক্রমের বাইরে সবচেয়ে বেশি আলোচনায় আসে ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আওয়ামী লীগ নেতা ইঞ্জিনিয়ার আবদুর রহিম মিয়ার উপস্থিতি। তিনি উপজেলা বিএনপির সভাপতি এস এম এজাজ হাসান, সাধারণ সম্পাদক মো. খোকন মল্লিকসহ অন্য নেতাদের ফুল দিয়ে শুভেচ্ছা জানান। এরপরই বিষয়টি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়।

 

সমালোচকদের দাবি, অতীতে তাঁকে আওয়ামী লীগের বিভিন্ন কর্মসূচিতে অংশ নিতে দেখা গেছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সাবেক শিল্পমন্ত্রী আমির হোসেন আমুর সঙ্গে তাঁর একাধিক ছবিও ছড়িয়ে পড়েছে। এর পরিপ্রেক্ষিতে অনেকেই তাঁর বর্তমান রাজনৈতিক অবস্থান নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। তবে স্থানীয় বাসিন্দাদের একটি অংশ বলছেন, ইঞ্জিনিয়ার আবদুর রহিম মিয়া দলীয় প্রতীকে নয়, স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে ‘আনারস’ প্রতীক নিয়ে নির্বাচনে অংশ নিয়ে বিজয়ী হয়েছিলেন। জনপ্রতিনিধি হিসেবে দায়িত্ব পালনের অংশ হিসেবে তিনি বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন রাজনৈতিক ও সামাজিক অনুষ্ঠানে অংশ নিয়েছেন।

 

এ বিষয়ে ইঞ্জিনিয়ার আবদুর রহিম মিয়া বলেন, ‘আমার বাবা ও দাদাসহ পরিবারের সদস্যরা দীর্ঘদিন ধরে বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে জড়িত। আমি জনগণের ভোটে নির্বাচিত হয়েছি এবং সব সময় মানুষের কল্যাণে কাজ করার চেষ্টা করেছি।’

 

তিনি আরও বলেন, ‘আমি শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের আদর্শে বিশ্বাস করি। ভবিষ্যতে বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত থাকার আগ্রহ রয়েছে। বিগত দিনে বাধ্য হয়ে আমির হোসেন আমুর প্রোগ্রামে যেতে হয়েছে।

 

এদিকে, উপজেলা বিএনপির সভাপতি এস এম এজাজ হাসান বলেন, ‘কেন্দ্রীয় নির্দেশনা অনুযায়ী বর্তমানে বিএনপিতে নতুন সদস্য অন্তর্ভুক্তি বা যোগদানের কোনো সুযোগ নেই। ইউনিয়ন পরিষদে বিএনপির সভা হওয়ায় সৌজন্যতাবশত ইউপি চেয়ারম্যান রহিম মিয়া আমাদের ফুল দিয়ে শুভেচ্ছা জানিয়েছেন।

 

এজাজ হাসানের ভাষ্য, এটি ছিল বিএনপির একটি নিয়মিত সাংগঠনিক সভা এবং দলের নীতিমালার বাইরে কোনো কার্যক্রম পরিচালিত হয়নি।

 

স্থানীয় রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, সাম্প্রতিক এই ঘটনাকে ঘিরে কীর্তিপাশার রাজনীতিতে নতুন মেরুকরণের ইঙ্গিত মিলছে। বিশেষ করে স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের রাজনৈতিক অবস্থান নিয়ে যে আলোচনা শুরু হয়েছে, তার প্রভাব আগামী দিনের রাজনীতি ও ইউপি নির্বা

চনে পড়তে পারে।

 

বিএনপির সাংগঠনিক সভায় আওয়ামী লীগ নেতার ফুলেল শুভেচ্ছা

ঠাকুরগাঁওয়ে আন্তঃমাদ্রাসা ফুটবল টুর্নামেন্ট ও পুরস্কার বিতরণ অনুষ্ঠান ২০২৬ অনুষ্ঠিত।

 

মোঃ আশরাফুল ইসলাম

ঠাকুরগাঁও প্রতিনিধি।

 

ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলার ৪নং বেগুনবাড়ি ইউনিয়নের ঐতিহাসিক বেগুনবাড়ি ফাজিল( ডিগ্রী) মাদ্রাসায় আন্তঃ মাদ্রাসা ফুটবল টুর্নামেন্ট অনুষ্ঠিত হয়।

ফুটবল টুর্নামেন্ট মাদ্রাসার সকল শিক্ষার্থী শ্রেণী ভেদে খেলায় অংশগ্রহণ করেন।

 

আন্তঃমাদ্রাসা ফুটবল টুর্নামেন্ট ২০২৬ অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলা নির্বাহী অফিসার জনাব মোঃ খাইরুল ইসলাম।

গেস্ট অফ অনার হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জনাব মোঃ আব্দুল হামিদ সভাপতি ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলা বিএনপি।

 

বিশেষ অতিথি হিসে উপস্থিত ছিলেন জনাব মোঃ আরিফুল্লাহ্, উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলা,ঠাকুরগাঁও ও জনাব আলহাজ্ব মোঃ আহসান হাবিন সভাপতি অত্র মাদ্রাসা ও সাংগঠনিক সম্পাদক ৪ নং বেগুনবাড়ি ইউনিয়ন বিএনপি।

 

এ সময় প্রধান অতিথির বক্তব্য কালে শিক্ষার্থীদের উদ্দেশ্য করে বলেন বর্তামান সময়ে মাঠ পর্যায়ের খেলা গুলো হারিয়ে যাচ্ছে অনলাইন গেম মোবাইল আসক্তির মাধ্যমে এসব বিভিন্ন ভাবে শিক্ষার্থীদের ধ্বংসের দিকে প্রভাবিত করছে।

 

তাই এই খারাপ দিক থেকে ফিরিয়ে আনতে হলে মাঠ পর্যায়ে খেলাধুলা বিকল্প নাই। সেই সাথে শিক্ষার্থীদের মাঠে খেলাধুলায় মনযোগী করতে বিভিন্ন ভাবে সহযোগীতার আশ্বাস দেন।

 

আন্তঃ মাদ্রাসা ফুটবল টুর্নামেন্ট ফাইনাল খেলায় দশম শ্রেণীর সাথে প্রতিদ্বন্দ্বী করেন অষ্টম শ্রেণীর শিক্ষার্থীরা খেলার মাঠে দশম শ্রেণীকে হারিয়ে ফাইনালে চ্যাম্পিয়নের গৌরব অর্জন করেন অষ্টম শ্রেণীর শিক্ষার্থীরা।

পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে বিজয়ীদের হাতে পুরস্কার তুলেদেন সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জনাব মোঃ খাইরুল ইসলাম।

অত্র মাদ্রসারর অধ্যাক্ষের সভাপতিত্বের অনুষ্ঠানের অনুষ্ঠানিকাতা সমাপ্তি করা হয়।

ঠাকুরগাঁওয়ে আন্তঃমাদ্রাসা ফুটবল টুর্নামেন্ট ও পুরস্কার বিতরণ অনুষ্ঠান ২০২৬ অনুষ্ঠিত

জ্বালানি তেল ও গ্যাসসংকট, বিদ্যুতের ‘ভূতুড়ে’ বিল, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি এবং নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের লাগামহীন মূল্যবৃদ্ধির প্রতিবাদে সচিবালয় ঘেরাও কর্মসূচি পালন করতে গিয়ে পুলিশের বাধার মুখে পড়েছে ১১ দলীয় ঐক্য। অবস্থান কর্মসূচি শেষে সচিবালয়ের উদ্দেশে মিছিল নিয়ে রওনা হলে জিরো পয়েন্ট এলাকায় ব্যারিকেড দিয়ে তাদের অগ্রযাত্রা আটকে দেয় পুলিশ।

 

বৃহস্পতিবার (৬ আগস্ট) রাজধানীর মুক্তাঙ্গনে অবস্থান কর্মসূচি শেষে দুপুর ১টার দিকে নেতাকর্মীরা সচিবালয়ের উদ্দেশে মিছিল নিয়ে রওনা দেন। তবে মিছিলটি জিরো পয়েন্ট এলাকায় পৌঁছালে পুলিশ ব্যারিকেড দিয়ে তাদের থামিয়ে দেয়।

 

এর আগে একই দাবিতে বেলা ১১টার পর রাজধানীর মুক্তাঙ্গনে অবস্থান কর্মসূচি শুরু করে ১১ দলীয় ঐক্য। কর্মসূচি চলাকালে বেলা ১১টা ৫০ মিনিটের দিকে বৃষ্টি শুরু হলেও নেতাকর্মীরা রাজপথ ছেড়ে না গিয়ে কর্মসূচি চালিয়ে যান।

 

সচিবালয় ঘেরাও কর্মসূচিতে নেতৃত্ব দেন বিরোধীদলীয় নেতা ও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান। কর্মসূচিতে এসিপির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলামসহ ১১ দলীয় জোটের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতারা অংশ নেন।

 

অবস্থান কর্মসূচিতে উপস্থিত ছিলেন লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টির (এলডিপি) প্রেসিডেন্ট ড. কর্নেল (অব.) অলি আহমদ বীর বিক্রম, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল ও সাবেক সংসদ সদস্য মিয়া গোলাম পরওয়ার, সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল ও সাবেক এমপি ড. হামিদুর রহমান আযাদ, জাগপার সহসভাপতি ও মুখপাত্র ইঞ্জিনিয়ার রাশেদ প্রধানসহ ১১ দলীয় ঐক্যের শীর্ষ নেতারা।

 

নেতারা বলেন, দেশের বর্তমান পরিস্থিতিতে সাধারণ মানুষের ভোগান্তি বেড়েছে। জ্বালানি সংকট, বিদ্যুতের অতিরিক্ত ও ‘ভূতুড়ে’ বিল, দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতির বিষয়ে সরকারের দৃষ্টি আকর্ষণ করতেই এ কর্মসূচি পালন করা হচ্ছে। এসব সংকট নিরসনে সরকারকে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ারও আহ্বান জানান তারা।

 

পুলিশের বাধার পর নেতাকর্মীরা কিছু সময় ঘটনাস্থলে অবস্থান করেন। পরে কর্মসূচির পরবর্তী সিদ্ধান্ত নিয়ে জোটের নেতারা আলোচনা করেন।

সচিবালয় ঘেরাও কর্মসূচিতে পুলিশের বাঁধার মুখে ১১ দল

র‌্যাবের চৌকস অভিযানে জীপসহ প্রায় ১১ হাজার ইয়াবার চালান আটক

জামালপুর হামলা পাল্টা হামলার মধ্য দিয়ে জেলার সানন্দবাড়ী তে থমথমে অবস্থা বিরাজমান।

পর্নোগ্রাফি নিয়ন্ত্রণ আইনে এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা দায়ের ও আদালতে মিথ্যা হলফনামা দেয়ার অভিযোগে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের কেবিন ক্রু খাদিজা সুলতানা শিমুর বিরুদ্ধে মামলা দায়েরের নির্দেশ দিয়েছেন আদালত।

 

বুধবার (১৫ জুলাই) ঢাকার অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালত-২-এর বিচারক মো. জাকির হোসাইন এ আদেশ দেন। আদালতের আদেশে বলা হয়েছে, শিমুর বিরুদ্ধে পর্নোগ্রাফি নিয়ন্ত্রণ আইন, ২০১২-এর ১৩ ধারা এবং দণ্ডবিধির ১৮১, ১৮২ ও ১৯৩ ধারায় মামলা করা হবে। আদালত নিজেই এ মামলার বাদী হয়েছেন।

 

আদালতের নথি অনুযায়ী, খাদিজা সুলতানা শিমু মামলার বাদী হয়ে বেসরকারি একটি এয়ারলাইন্সের কর্মকর্তা মো. ওমর ফারুক চৌধুরীর বিরুদ্ধে পর্নোগ্রাফি নিয়ন্ত্রণ আইনের বিভিন্ন ধারায় উত্তরা পশ্চিম থানায় মামলা করেন।

 

তদন্ত শেষে উত্তরা পশ্চিম থানার তদন্ত কর্মকর্তা আদালতে চূড়ান্ত প্রতিবেদন দাখিল করে জানান, অভিযোগের সত্যতা পাওয়া যায়নি। প্রতিবেদনে বলা হয়, মামলার এজাহারে উল্লেখ করা ফেসবুক লিংক, ডিজিটাল আলামত ও অন্যান্য তথ্য যাচাই করে ওমর ফারুকের বিরুদ্ধে পর্নোগ্রাফি প্রচারের কোনো প্রমাণ মেলেনি। ফলে ওই কর্মকর্তাকে মামলা থেকে অব্যাহতির সুপারিশ করা হয়।

একই সঙ্গে তদন্ত কর্মকর্তা প্রতিবেদনে উল্লেখ করেন, ওমর ফারুক আগে শিমুর বিরুদ্ধে বিয়ের প্রলোভন দিয়ে অর্থ আত্মসাতের অভিযোগে আদালতে মামলা করেছিলেন। সেই মামলার দায় এড়াতেই শিমু সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচারিত বিভিন্ন লিংক উল্লেখ করে তার বিরুদ্ধে পর্নোগ্রাফি ছড়ানোর অভিযোগ এনে উদ্দেশ্যপ্রণোদিত, হয়রানিমূলক ও মিথ্যা মামলা করেছেন বলে প্রাথমিক তদন্তে প্রতীয়মান হয়েছে। এ কারণে শিমুর বিরুদ্ধে পর্নোগ্রাফি নিয়ন্ত্রণ আইন, ২০১২-এর ১৩ ধারায় আইনগত ব্যবস্থা নেয়ার আবেদনও করেন তদন্ত কর্মকর্তা।

 

পরে গত ৯ জুলাই আদালত তদন্ত প্রতিবেদন গ্রহণ করে ওমর ফারুককে মামলা থেকে অব্যাহতি দেন। আদালতের আদেশে বলা হয়, শিমু ক্ষতিসাধনের উদ্দেশ্যে আদালতে মিথ্যা মামলা দায়ের করেছেন এবং হলফ করে মিথ্যা সাক্ষ্য দিয়েছেন। মামলার নথিতে তার দেয়া হলফনামাও সংযুক্ত রয়েছে। এসব বিবেচনায় আদালত নিজেই বাদী হয়ে তার বিরুদ্ধে পর্নোগ্রাফি নিয়ন্ত্রণ আইন ও দণ্ডবিধির সংশ্লিষ্ট ধারায় মামলা দায়েরের নির্দেশ দেন।

 

তদন্তে যা উঠে এসেছে পুলিশের চূড়ান্ত প্রতিবেদনে বলা হয়, তদন্তকালে রেকর্ড, ডিজিটাল আলামত, ফেসবুক লিংক ও ফরেনসিক তথ্য যাচাই করে ওমর ফারুকের বিরুদ্ধে পর্নোগ্রাফি প্রচারের কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি।

 

তদন্তে আরও উঠে আসে, শিমু বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের কেবিন ক্রু এবং ওমর ফারুক একটি বেসরকারি এয়ারলাইন্সের এয়ারক্রাফট মেইনটেন্যান্স কর্মকর্তা। ফেসবুকে পরিচয়ের পর তাদের মধ্যে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে।

 

প্রতিবেদনে বলা হয়, বিয়ের আশ্বাস দিয়ে বিভিন্ন সময়ে ওমর ফারুকের কাছ থেকে বিপুল পরিমাণ অর্থ ও মূল্যবান সামগ্রী নেয়ার অভিযোগে ওমর ফারুক আদালতে পৃথক মামলা করেন। এরপর সেই মামলার দায় থেকে নিজেকে রক্ষা করতেই শিমু পর্নোগ্রাফি আইনে অভিযোগ দায়ের করেন বলে তদন্তে প্রতীয়মান হয়েছে।

 

ওমর ফারুকের আগের মামলা গত ২০ জুলাই ওমর ফারুক চৌধুরী শিমুর বিরুদ্ধে বিয়ের প্রলোভন, ‘হানি ট্র্যাপ’ ও ব্ল্যাকমেইলের মাধ্যমে প্রায় ২২ লাখ টাকা আত্মসাতের অভিযোগে ঢাকার আদালতে মামলা করেন। আদালত অভিযোগটি আমলে নিয়ে উত্তরা পশ্চিম থানাকে তদন্তের নির্দেশ দেন। পরে তিনি বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স কর্তৃপক্ষের কাছেও লিখিত অভিযোগ করেন।

 

সেই মামলায় অভিযোগ করা হয়, ২০২৪ সালে ফেসবুকে পরিচয়ের পর শিমু তাকে বিয়ের আশ্বাস দিয়ে বিভিন্ন সময়ে টাকা নেন। জন্মদিনে দেড় লাখ টাকা মূল্যের একটি হীরার আংটিসহ বিয়ের খরচের জন্য মোট ২১ লাখ ৭৪ হাজার ৫১১ টাকা নেয়ার পরও বিয়ে না করে প্রতারণার মাধ্যমে অর্থ আত্মসাৎ করা হয়েছে বলে মামলায় দাবি করা হয়।

পর্নোগ্রাফি আইনে কেবিন ক্রু শিমুর বিরুদ্ধে মামলার নির্দেশ আদালতের

error: আপনি নিউজ চুরি করার চেষ্টা করছেন। বিশেষ প্রয়োজনে যোগাযোগ করুন ০১৭৬৭৪৪৪৩৩৩
%d