চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে ৮ ফুট দীর্ঘ আজগর উদ্ধার
চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে ৮ ফুট দীর্ঘ আজগর উদ্ধার

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে ৮ ফুট দীর্ঘ আজগর উদ্ধার

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে আট ফুট দীর্ঘ একটি অজগর উদ্ধার করে পাহাড়ে অবমুক্ত করেছে সোসাইটি ফর স্নেক অ্যান্ড স্নেকবাইট অ্যাওয়ারনেস (থ্রি-এসএ)।

 

শুক্রবার (২৪ এপ্রিল) রাত ৯টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের দক্ষিণ ক্যাম্পাসে নীপবন শিশু বিদ্যালয়ের সামনে সাপটি দেখা যায়।

 

ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগের ২০২০-২১ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী জমাদিউল আউয়াল সুজাত সাপটি দেখে সোসাইটি ফর স্নেক অ্যান্ড স্নেকবাইট অ্যাওয়ারনেসকে খবর দেন।

 

সংগঠনটির প্রতিষ্ঠাতা ও প্রাণিবিদ্যা বিভাগের সাবেক শিক্ষার্থী মোহাম্মদ রফিকুল ইসলাম বলেন, ‘আট ফুট দীর্ঘ সাপটি একটি বার্মিজ পাইথন। অজগর সাপ সাধারণত বেশ লম্বা হয়ে থাকে। পৃথিবীর সবচেয়ে লম্বা সাপ হল রেটিকুলেটেড পাইথন। তবে আমাদের দেশে বার্মিজ পাইথনই বেশি দেখা যায়।’

 

উদ্ধার করা সাপটি ক্যাম্পাসের পাহাড়ি অঞ্চলে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে জানিয়ে রফিক বলেন, ‘নিরাপত্তার স্বার্থে আমরা সাপ অবমুক্ত করার নির্দিষ্ট স্থান প্রকাশ করি না। তবে এটুকু বলা যায়, ক্যাম্পাসের নিকটবর্তী পাহাড়ি ও বনাঞ্চল এলাকায় এটি অবমুক্ত করা হয়েছে।’

 

সংগঠনের উপদেষ্টা ও প্রাণিবিদ্যা বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ইব্রাহীম খলিল আল হায়দার বলেন, বার্মিজ পাইথন আমাদের আদি সাপ। আমাদের দেশে তিন ধরনের পাইথন পাওয়া যায়। তার মধ্যে এটা সবচেয়ে বেশি পাওয়া যায়। এই সাপ ১৭ থেকে ১৮ ফুট হতে পারে। এটা জুভেনাইল বা সাব-এডাল্ট সাপ।

 

তিনি বলেন, এই সাপের কোনো বিষ নেই। মানুষের জীবন ঝুঁকি হবে এমন কোনো ক্ষতি করে না। তবে পুকুরে নেমে মাছ খেয়ে বা খামারের মুরগি বা হাঁস খেয়ে ক্ষতি করে। এছাড়া কোনো ক্ষতি করে না।

 

এর আগে গত ১০ ও ১২ এপ্রিল বিশ্ববিদ্যালয় এলাকা থেকে দুটি কিং কোবরা উ

দ্ধার করা হয়।

 


অসহায় প্রবীণদের মাঝে গাইবান্ধায় বয়স্ক ভাতা বিতরণ

 

শাহ্ পারভেজ সংগ্রাম, গাইবান্ধা প্রতিনিধি

গাইবান্ধায় আঞ্জুমান মফিদুল ইসলামের আয়োজনে অসহায় দুস্থদের মাঝে বয়স্ক ভাতা বিতরন করা হয়েছে।শনিবার বেলা ১১ টার দিকে জেলা শহরের ডিবি রোডে অবস্থিত আঞ্জুমান মফিদুল ইসলামের সম্মেলন কক্ষে এই বয়স্ক ভাতা বিতরন অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে ত্রিশ জন উপকারভোগী বয়স্ক নারী-পুরুষের প্রত্যেকের হাতে বয়স্ক ভাতার নগদ অর্থ তুলে দেন গাইবান্ধা জেলা প্রশাসক ড. মো. মনিরুজ্জামান।

 

অনুষ্ঠানে সংক্ষিপ্ত আলোচনায় আঞ্জুমান মফিদুল ইসলাম গাইবান্ধা জেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক, আলহাজ্ব এ্যাডভোকেট এ,এস.এম হুমায়ন ইকবাল বলেন, আঞ্জুমান মফিদুল ইসলাম একটি ইসলামী জনকল্যান সংস্থা। বেওয়ারিশ লাশ দাফন, মরদেহ ও রোগী পরিবহনের জন্য চব্বিশ ঘন্টা ফ্রি বা স্বল্প খরচে এ্যাম্বলেন্স সার্ভিস প্রদান, অসহায় দরিদ্রদের সহায়তা সহ সংস্থাটির নানা কার্যক্রম তুলে ধরেন তিনি।

 

অপর দিকে জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে আঞ্জুমান মফিদুল ইসলাম গাইবান্ধা জেলা শাখাকে তাদের কার্যক্রম আরো গতিশীল করার লক্ষ্যে যথাসাধ্য সহযোগিতার আশ্বাস দেওয়া হয়।

 

এসময় উপস্থিত ছিলেন, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) একেএম হেদায়েতুল ইসলাম, আঞ্জুমান মফিদুল ইসলাম গাইবান্ধা জেলার সভাপতি আলহাজ্ব মো. শহিদুল ইসলাম, সহ- সভাপতি আব্দুল লতিফ হক্কানী, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও পৌর বিএনপির সভাপতি শহিদুজ্জামান শহিদ, গাইবান্ধা সরকারী কলেজের সাবেক অধ্যক্ষ খলিলুর রহমানসহ অন্যরা।

 

এছাড়া বয়স্ক ভাতা বিতরন অনুষ্ঠানের আগে আঞ্জুমান মফিদুল ইসলামের কার্যালয়ের মুল ফটকের সামনে,”পরিস্কার পরিবেশ, ডেঙ্গু মুক্ত বাংলাদেশ”এই প্রতিপাদ্য নিয়ে মফিদুল ইসলাম আয়োজিত ঝাড়ু হাতে দিনব্যাপী ডেঙ্গু প্রতিরোধ ও পরিচ্ছন্নতা অভিযানের উদ্বোধন করেন জেলা প্রশাসক।

অসহায় প্রবীণদের মাঝে গাইবান্ধায় বয়স্ক ভাতা বিতরণ

আদালতের নিষেধাজ্ঞার পরও বাড়িতে আগুন

 

স্টাফ রিপোর্টার

মাইদুল ইসলামঃ

 

নীলফামারীতে বিরোধপূর্ণ জমিতে প্রতিপক্ষের প্রবেশে আদালতের নিষেধাজ্ঞা থাকার পরও বসতবাড়িতে হামলা, ভাঙচুর, লুটপাট ও অগ্নিসংযোগের অভিযোগ উঠেছে। ঘটনায় বাড়ির মালিকসহ চারজন আহত হয়েছেন বলে এজাহারে দাবি করা হয়েছে। আগুনে তিনটি ঘর পুড়ে যাওয়ার অভিযোগও রয়েছে।

গত ২৬ সেপ্টেম্বর নীলফামারী সদর উপজেলার পশ্চিম কুঠিয়ার মোড় (সিপাইপাড়া) এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় মো. বাহাদুর রহমান বাদী হয়ে নীলফামারী সদর থানায় ১৫ জনের নাম উল্লেখ এবং অজ্ঞাতনামা আরও ১০ থেকে ১৫ জনকে আসামি করে এজাহার দিয়েছেন।

বাদীর দাবি, জমি নিয়ে প্রতিবেশীদের সঙ্গে বিরোধের জেরে তিনি নীলফামারীর অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে এমআর ১৮১/২০২৬ নম্বর মামলা করেন। মামলার আদেশে প্রতিপক্ষকে নালিশি জমিতে প্রবেশে বারিত করা হয়। একই সঙ্গে ঘটনাস্থলের শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রাখতে নীলফামারী সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে নির্দেশ দেওয়া হয়।

আদালতের আদেশনামায় আরও বলা হয়েছে, প্রতিপক্ষ জমি নিয়ে দেওয়ানি আদালতে বাটোয়ারা মামলা করলেও সেখানে কোনো স্থগিতাদেশ দেওয়া হয়নি। সহকারী কমিশনার (ভূমি)-এর দখলসংক্রান্ত প্রতিবেদনসহ সংশ্লিষ্ট নথি পর্যালোচনা শেষে আদালত প্রতিপক্ষকে নালিশি জমিতে প্রবেশে নিষেধ করেন।

বাদীর এজাহার অনুযায়ী, আদালতের ওই আদেশের পর ২৬ সেপ্টেম্বর সকাল ৯টার দিকে তিনি রাজমিস্ত্রি দিয়ে বাড়ির নির্মাণকাজ শুরু করেন। বেলা আনুমানিক ২টা ৪০ মিনিটে একদল লোক দেশীয় অস্ত্র নিয়ে সেখানে গিয়ে নির্মাণকাজে বাধা দেয়।

এ সময় তাঁকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে মাথায় আঘাত করা হয় বলে অভিযোগ করেন বাহাদুর রহমান। পরে তাঁকে ও তাঁর পরিবারের সদস্যদের মারধর করা হয়। তাঁর ছেলে, স্ত্রী, মা ও ভাতিজাকেও মারধরের অভিযোগ রয়েছে।

এজাহারে আরও বলা হয়েছে, হামলাকারীরা বাড়ির নির্মাণাধীন অংশ ভাঙচুর করে প্রায় দুই লাখ টাকার ক্ষতি করে। পরে কয়েকজন ঘরে ঢুকে স্বর্ণালংকার ও বাড়ি নির্মাণের জন্য রাখা ৫ লাখ ৫ হাজার টাকা নিয়ে যায় বলে অভিযোগ করেছেন বাদী।

এরপর একটি ঘরে পেট্রল ছিটিয়ে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয় বলে এজাহারে অভিযোগ করা হয়েছে। মুহূর্তে আগুন ছড়িয়ে পড়ে এবং বাড়ির তিনটি ঘর ক্ষতিগ্রস্ত হয় বলে দাবি করা হয়েছে। স্থানীয়রা আগুন নেভানোর চেষ্টা করে ব্যর্থ হলে ফায়ার সার্ভিসকে খবর দেওয়া হয়। পরে দুটি ইউনিট ঘটনাস্থলে গিয়ে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে বলে এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে।

ঘটনার পর আহতদের নীলফামারী জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। চিকিৎসা ও আহতদের নিয়ে ব্যস্ত থাকায় থানায় এজাহার দিতে কিছুটা বিলম্ব হয়েছে বলে বাদী উল্লেখ করেছেন।

আদালতের আদেশ বাস্তবায়ন নিয়ে প্রশ্ন

সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন হলো—বিরোধপূর্ণ জমিতে প্রতিপক্ষের প্রবেশে আদালতের নিষেধাজ্ঞা থাকার পরও সেখানে সংঘর্ষ ও অগ্নিসংযোগের মতো ঘটনা কীভাবে ঘটল? আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ী ঘটনাস্থলে শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রাখতে পুলিশের দায়িত্ব থাকলেও ঘটনার সময় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর উপস্থিতি ছিল কি না, তা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে।

তবে এসব অভিযোগের সত্যতা তদন্তসাপেক্ষ। বাদীর অভিযোগের বিপরীতে অভিযুক্তদের বক্তব্য এবং পুলিশের তদন্তের ফলাফল পাওয়া গেলে ঘটনার প্রকৃত চিত্র আরও পরিষ্কার হবে।

স্থানীয়দের দাবি, জমি নিয়ে বিরোধকে কেন্দ্র করে যাতে আরও বড় ধরনের সংঘাত না ঘটে, সে জন্য দ্রুত তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি।

এ বিষয়ে নীলফামারী সদর থানার অফিসার ইনচার্জ বলেন তদন্ত সাপেক্ষে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

আদালতের নিষেধাজ্ঞার পরও বাড়িতে আগুন

মানিকগঞ্জে ঘোড়ার মাংস সহ ৯ জন কে কারাদণ্ড

 

 

আতিকুর রহমান আশিক

মানিকগঞ্জ প্রতিনিধি

 

 

মানিকগঞ্জে ঘোড়া জবাই করে মাংস প্যাকেটজাত করে বিভিন্ন এলাকায় সরবরাহের প্রস্তুতির অভিযোগে নয়জনকে কারাদণ্ড দিয়েছেন ভ্রাম্যমাণ আদালত। তাঁদের মধ্যে একজনকে এক বছরের বিনাশ্রম কারাদণ্ড এবং অপর আটজনকে ছয় মাস করে বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।

 

বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) সদর উপজেলার জাগীর পাট গবেষণা এলাকায় পরিত্যক্ত হাসান অ্যান্ড ব্রাদার্সের একটি কারখানায় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হওয়া একটি অভিযোগের ভিত্তিতে অভিযান চালানো হয়। ঘটনাস্থলে গিয়ে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া যায়। সেখানে ১৩টি ঘোড়া জবাই করা অবস্থায় এবং একটি ঘোড়া জীবিত অবস্থায় পাওয়া যায়। পরে নয়জনকে আটক করা হয়। তাঁদের বিরুদ্ধে পশু জবাই ও মাংসের মান নিয়ন্ত্রণ আইন, ২০১১-এর ৪ ধারা লঙ্ঘনের দায়ে ২৪ ধারায় কারাদণ্ড দেওয়া হয়।

 

দণ্ডপ্রাপ্তরা হলেন মো. মিজানুর রহমান (৩০), রুবেল (৩৯), সোহেল রানা (৩০), ইমন হাসান (২৮), মো. তুহিন (১৯), ইব্রাহীম খলিল (২১), মাসুদ রানা (২৪), হুমায়ুন কবির (৩৫) ও মারুফ (২৬)।

 

অভিযানে নেতৃত্ব দেন সদর উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট রিক্তা খাতুন। এ সময় সদর উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. মো. মনির হোসেন ও পুলিশের সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।

 

রিক্তা খাতুন বলেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হওয়া একটি অভিযোগের ভিত্তিতে ঘটনাস্থলে গিয়ে এর সত্যতা পাওয়া যায়। সেখানে ঘোড়া জবাই করে মাংস প্রস্তুত ও সরবরাহের প্রক্রিয়া চলছিল। বিষয়টি আইনগতভাবে গুরুতর হওয়ায় সংশ্লিষ্ট আইনের ধারায় তাঁদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।

 

তিনি বলেন, পশু জবাই ও মাংসের মান নিয়ন্ত্রণ আইন, ২০১১-এর ৪ ধারা লঙ্ঘনের দায়ে নয়জনকে ২৪ ধারায় শাস্তি দেওয়া হয়েছে। তাঁদের মধ্যে একজন অন্যদের একত্রিত করে এ কাজের মূল সমন্বয় করায় তাঁকে এক বছরের বিনাশ্রম কারাদণ্ড এবং বাকি আটজনকে ছয় মাস করে বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।

 

রিক্তা খাতুন আরও বলেন, জিজ্ঞাসাবাদে আটক ব্যক্তিরা জানিয়েছেন, ঘোড়াগুলো দেশের বিভিন্ন এলাকা থেকে সংগ্রহ করা হয়েছে। তাঁদের মধ্যে ঢাকা, গাজীপুর ও জামালপুরের বাসিন্দা রয়েছেন। ঘোড়াগুলো জবাইয়ের পর মাংস প্যাকেটজাত করে সংশ্লিষ্টদের কাছে সরবরাহের পরিকল্পনা ছিল। এসব মাংস পরবর্তী সময়ে বিভিন্ন বাজারে সরবরাহ করা হতে পারে।

 

তিনি বলেন, ঘটনাস্থলে ঘোড়াগুলোকে দড়ি দিয়ে ঝুলিয়ে অত্যন্ত নিষ্ঠুরভাবে হত্যা করার চিত্র পাওয়া গেছে। একটি প্রাণীর সঙ্গে এ ধরনের নিষ্ঠুর আচরণ অত্যন্ত অমানবিক। আইন ভঙ্গের পাশাপাশি পশুর প্রতি নিষ্ঠুর আচরণের বিষয়টিও গুরুতরভাবে দেখা হয়েছে।

 

সদর উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. মো. মনির হোসেন বলেন, “ঘোড়ার মাংস খাওয়া নিষিদ্ধ। জবাই করা ঘোড়ার মাংস দ্রুত প্যাকেটজাত করে সরবরাহের প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছিল। ঘটনাস্থলে ঘোড়াগুলোকে দড়ি দিয়ে ঝুলিয়ে হত্যার চিত্রও পাওয়া যায়। ঘটনার সঙ্গে আরও কেউ জড়িত কি না এবং জবাই করা মাংস কোথায় সরবরাহের পরিকল্পনা ছিল, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

মানিকগঞ্জে ঘোড়ার মাংস সহ ৯ জন কে কারাদণ্ড 

নওগাঁয় ট্রাক ও অটোরিকশা সংঘর্ষে (সওজ) প্রকৌশলী রাশেদুজ্জামান নিহত

 

মোঃ সাইদুল ইসলাম হেলাল

বিশেষ প্রতিনিধিঃ

নওগাঁ-রাজশাহী আঞ্চলিক মহাসড়কে ট্রাক ও সিএনজিচালিত অটোরিকশার মুখোমুখি সংঘর্ষে সড়ক ও জনপথ (সওজ) অধিদপ্তরের এক উপ-সহকারী প্রকৌশলী ঘটনাস্থলেই নিহত হয়েছেন। এ দুর্ঘটনায় তার সাত বছরের শিশুকন্যা গুরুতর আহত হয়ে বর্তমানে চিকিৎসাধীন রয়েছে।

 

শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) রাত সাড়ে ৮টার দিকে নওগাঁ সদর উপজেলার হাপানিয়া এলাকায় এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনা ঘটে।

 

নিহত কর্মকর্তার নাম মো. রাশেদুজ্জামান। তিনি নওগাঁর মহাদেবপুর-পত্নীতলা সাব-ডিভিশন অফিসে সওজ-এর উপ-সহকারী প্রকৌশলী হিসেবে কর্মরত ছিলেন।

 

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, শনিবার রাতে স্ত্রী ও মেয়েকে সঙ্গে নিয়ে নওগাঁ শহর থেকে অটোরিকশাযোগে মহাদেবপুরের দিকে যাচ্ছিলেন রাশেদুজ্জামান। পথিমধ্যে হাপানিয়া এলাকায় পৌঁছালে বিপরীত দিক থেকে আসা একটি দ্রুতগামী ট্রাকের সঙ্গে অটোরিকশাটির মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। এতে ঘটনাস্থলেই প্রাণ হারান রাশেদুজ্জামান। এ সময় তার সাত বছরের মেয়ে রুমাইসা জামান গুরুতর আহত হয়, তবে তার স্ত্রী অক্ষত রয়েছেন।

 

ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে নওগাঁ সড়ক ও জনপথ (সওজ) অধিদপ্তরের নির্বাহী প্রকৌশলী আবুল মনসুর আহমেদ রোববার সকালে জানান, “রাশেদুজ্জামান একজন অত্যন্ত দায়িত্বশীল কর্মকর্তা ছিলেন। তার এই অকাল মৃত্যু আমাদের জন্য অত্যন্ত কষ্টদায়ক।” তিনি আরও জানান, রাশেদুজ্জামানের স্ত্রী সুস্থ থাকলেও তার শিশুকন্যা আশঙ্কাজনক অবস্থায় চিকিৎসাধীন।

 

নওগাঁ সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আসাদুজ্জামান বলেন, খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে মরদেহ উদ্ধার করে থানায় নিয়ে আসে। এ ঘটনায় একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে। ঘাতক ট্রাকটি ইতোমধ্যে শনাক্ত করা হয়েছে এবং চালককে দ্রুত গ্রেপ্তারে পুলিশি অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

 

মোঃ সাইদুল ইসলাম হেলাল

বিশেষ প্রতিনিধিঃ

 

নওগাঁয় ট্রাক ও অটোরিকশা সংঘর্ষে (সওজ) প্রকৌশলী রাশেদুজ্জামান নিহত

চাঁদপুরের মতলব উত্তর উপজেলার ২০ নম্বর ইমামপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ১৫১ জন শিক্ষার্থীর নামে ‘মিড-ডে মিল’ প্রকল্পের খাবার বরাদ্দ দেওয়া হলেও সরেজমিনে উপস্থিত পাওয়া গেছে ৭৫ জনকে। অর্থাৎ বরাদ্দ পাওয়া শিক্ষার্থীর তুলনায় ৭৬ জন কম শিক্ষার্থী বিদ্যালয়ে উপস্থিত ছিল।

 

এই ৭৬ জনের জন্য বরাদ্দকৃত খাবারের হিসাব জানতে চাওয়া হলেও কোনো সদুত্তর পাওয়া যায়নি। বিষয়টি নিয়ে প্রশ্ন করা হলে কোনো মন্তব্য না করে লিখিত আবেদন করতে বলেছেন বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক সোহানা ইসলাম।

 

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, প্রতিদিনের মতো বিদ্যালয়টিতে ১৫১ জন শিক্ষার্থীর বিপরীতে মিড-ডে মিলের খাবার সরবরাহ করা হয়। তবে শ্রেণিভিত্তিক শিক্ষার্থীর উপস্থিতি যাচাই করে দেখা যায়, প্রথম শ্রেণিতে ১৪ জন, দ্বিতীয় শ্রেণিতে ১৫ জন, তৃতীয় শ্রেণিতে ১৫ জন, চতুর্থ শ্রেণিতে ২৩ জন এবং পঞ্চম শ্রেণিতে ৮ জন শিক্ষার্থী উপস্থিত ছিল। সব মিলিয়ে উপস্থিত শিক্ষার্থীর সংখ্যা দাঁড়ায় ৭৫ জনে।

 

এ হিসাবে বিদ্যালয়ে উপস্থিত শিক্ষার্থীর তুলনায় ৭৬ জনের খাবার অতিরিক্ত বরাদ্দ হওয়ার বিষয়টি সামনে এসেছে। নিয়ম অনুযায়ী অতিরিক্ত বরাদ্দকৃত খাবার বা এর ব্যবহারের হিসাব সংরক্ষণের বাধ্যবাধকতা থাকলেও ওই খাবার কোথায় যাচ্ছে বা কীভাবে এর হিসাব সমন্বয় করা হচ্ছে, তা নিয়ে স্থানীয় অভিভাবক ও সচেতন মহলের মধ্যে প্রশ্ন উঠেছে।

 

বাকি খাবারের হিসাব এবং এ বিষয়ে কোনো অনিয়ম হয়েছে কি না জানতে চাইলে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক সোহানা ইসলাম সংবাদকর্মীদের সরাসরি কোনো উত্তর দিতে অস্বীকৃতি জানান। ক্ষোভ প্রকাশ করে তিনি বলেন, ‘আমি এ বিষয়ে আপনাদের কোনো উত্তর দেব না। আপনারা আমার কাছে লিখিতভাবে আবেদন করলে আমি তার লিখিত জবাব দেব।’

 

প্রধান শিক্ষকের এমন আচরণে স্থানীয় অভিভাবকদের মধ্যে ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে।

 

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক অভিভাবক জানান, সরকারি বরাদ্দের খাবার নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই এমন অস্পষ্টতা চলে আসছে। খাদ্য বিতরণে অনিয়ম না থাকলে হিসাব দিতে কেন প্রধান শিক্ষক গড়িমসি করছেন তা নিয়ে জোর গুঞ্জন সৃষ্টি হয়েছে।

 

এ বিষয়ে উপজেলা সহকারী শিক্ষা কর্মকর্তা জামাল হোসেন বলেন, বিষয়টি আমি খোঁজখবর নিচ্ছি। যদি কোনো অনিয়ম পাওয়া যায়, তাহলে বিধি মোতাবেক অবশ্যই ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

 

মতলব উত্তর উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) মাহমুদা কুলসুম মনি বলেন, সরকারি খাদ্য বা অর্থ বরাদ্দের ক্ষেত্রে কোনো ধরনের অনিয়ম সহ্য করা হবে না। মিড-ডে মিলের খাবারে শিক্ষার্থী সংখ্যার সাথে উপস্থিতির যে তফাৎ দেখা গেছে এবং প্রধান শিক্ষকের বক্তব্য এড়িয়ে যাওয়ার যে বিষয়টি উঠেছে তা আমরা গুরুত্বের সাথে দেখছি।

 

তিনি আরও জানান, বিষয়টি তদন্ত করে দেখার জন্য উপজেলা শিক্ষা অফিসারকে নির্দেশনা দেওয়া হচ্ছে। তদন্তে যদি কোনো ধরনের স্বজনপ্রীতি, অনিয়ম বা দুর্নীতি প্রমাণিত হয়, তবে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে সরকারি বিধি মোতাবেক কঠোর প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

শিক্ষার্থী ৭৫, মিড-ডে মিলের খাবার বরাদ্দ ১৫১ জনের, হিসাব দিতে নারাজ প্রধান শিক্ষক

রাঙ্গামাটির কাপ্তাইয়ে কর্ণফুলী নদীতে নেমে নিখোঁজ হওয়া চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের (চবি) এক শিক্ষার্থীর মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে।

 

রোববার (২০ সেপ্টেম্বর) বিকাল ৪টা ৪০ মিনিটের দিকে সীতা ঘাটের পাথরঘাটা এলাকা থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়।

 

নিহত শিক্ষার্থীর নাম সাজিদ শাহারিয়ার সানম (২৪)। তিনি চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের ২০২০-২১ সেশনের শেষ বর্ষের শিক্ষার্থী এবং নরসিংদীর রায়পুরা উপজেলার নাছির উদ্দীনের ছেলে।

 

স্থানীয় ও প্রত্যক্ষদর্শীদের বরাতে জানা যায়, রোববার সকালে নরসিংদী ও ঢাকা থেকে নয়জনের একটি পর্যটক দল কাপ্তাইয়ে আসে। পরে স্থানীয় গাইডের সঙ্গে তারা সীতা পাহাড়ে ট্র্যাকিংয়ে যান। পাহাড়ে ঘোরাঘুরি শেষে দুপুরের দিকে সীতা ঘাটের পাথরঘাটা এলাকায় কর্ণফুলী নদীতে হাত-মুখ ধুতে নামেন তারা। এ সময় স্রোতের টানে সানম গভীর পানিতে তলিয়ে যান। সঙ্গে থাকা বন্ধুরা তাকে উদ্ধারের চেষ্টা করলেও সফল হননি।

 

খবর পেয়ে কাপ্তাই থানা পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিসের ডুবুরি দল ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধার অভিযান শুরু করে। পরে নৌবাহিনীর ডুবুরি দলও উদ্ধারকাজে যুক্ত হয়।

 

মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করে কাপ্তাই থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) শেখ মাহমুদুল হাসান বলেন, তার মৃতদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। নৌবাহিনী ও ফায়ার সার্ভিসের ডুবুরি দল উদ্ধারে কাজ করছিল। পরে বিকেল ৪টা ৪০ মিনিটের দিকে নিখোঁজ শিক্ষার্থীর মরদেহ উদ্ধার করা হয়।

 

এর আগে সানমের বন্ধু সাইফুল ইসলাম জানান, তারা নয়জন সকালে সীতার পাহাড়ে ওঠেন। পাহাড় ভ্রমণ শেষে নদীতে হাত-মুখ ধোয়ার জন্য ঘাটে নামার পর মুহূর্তের মধ্যে সানম পানিতে তলিয়ে যান।

কাপ্তাইয়ে কর্ণফুলী নদীতে নিখোঁজ চবি শিক্ষার্থীর ম-রদেহ উদ্ধার

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

র‌্যাবের চৌকস অভিযানে জীপসহ প্রায় ১১ হাজার ইয়াবার চালান আটক

জামালপুর হামলা পাল্টা হামলার মধ্য দিয়ে জেলার সানন্দবাড়ী তে থমথমে অবস্থা বিরাজমান।

পর্নোগ্রাফি নিয়ন্ত্রণ আইনে এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা দায়ের ও আদালতে মিথ্যা হলফনামা দেয়ার অভিযোগে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের কেবিন ক্রু খাদিজা সুলতানা শিমুর বিরুদ্ধে মামলা দায়েরের নির্দেশ দিয়েছেন আদালত।

 

বুধবার (১৫ জুলাই) ঢাকার অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালত-২-এর বিচারক মো. জাকির হোসাইন এ আদেশ দেন। আদালতের আদেশে বলা হয়েছে, শিমুর বিরুদ্ধে পর্নোগ্রাফি নিয়ন্ত্রণ আইন, ২০১২-এর ১৩ ধারা এবং দণ্ডবিধির ১৮১, ১৮২ ও ১৯৩ ধারায় মামলা করা হবে। আদালত নিজেই এ মামলার বাদী হয়েছেন।

 

আদালতের নথি অনুযায়ী, খাদিজা সুলতানা শিমু মামলার বাদী হয়ে বেসরকারি একটি এয়ারলাইন্সের কর্মকর্তা মো. ওমর ফারুক চৌধুরীর বিরুদ্ধে পর্নোগ্রাফি নিয়ন্ত্রণ আইনের বিভিন্ন ধারায় উত্তরা পশ্চিম থানায় মামলা করেন।

 

তদন্ত শেষে উত্তরা পশ্চিম থানার তদন্ত কর্মকর্তা আদালতে চূড়ান্ত প্রতিবেদন দাখিল করে জানান, অভিযোগের সত্যতা পাওয়া যায়নি। প্রতিবেদনে বলা হয়, মামলার এজাহারে উল্লেখ করা ফেসবুক লিংক, ডিজিটাল আলামত ও অন্যান্য তথ্য যাচাই করে ওমর ফারুকের বিরুদ্ধে পর্নোগ্রাফি প্রচারের কোনো প্রমাণ মেলেনি। ফলে ওই কর্মকর্তাকে মামলা থেকে অব্যাহতির সুপারিশ করা হয়।

একই সঙ্গে তদন্ত কর্মকর্তা প্রতিবেদনে উল্লেখ করেন, ওমর ফারুক আগে শিমুর বিরুদ্ধে বিয়ের প্রলোভন দিয়ে অর্থ আত্মসাতের অভিযোগে আদালতে মামলা করেছিলেন। সেই মামলার দায় এড়াতেই শিমু সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচারিত বিভিন্ন লিংক উল্লেখ করে তার বিরুদ্ধে পর্নোগ্রাফি ছড়ানোর অভিযোগ এনে উদ্দেশ্যপ্রণোদিত, হয়রানিমূলক ও মিথ্যা মামলা করেছেন বলে প্রাথমিক তদন্তে প্রতীয়মান হয়েছে। এ কারণে শিমুর বিরুদ্ধে পর্নোগ্রাফি নিয়ন্ত্রণ আইন, ২০১২-এর ১৩ ধারায় আইনগত ব্যবস্থা নেয়ার আবেদনও করেন তদন্ত কর্মকর্তা।

 

পরে গত ৯ জুলাই আদালত তদন্ত প্রতিবেদন গ্রহণ করে ওমর ফারুককে মামলা থেকে অব্যাহতি দেন। আদালতের আদেশে বলা হয়, শিমু ক্ষতিসাধনের উদ্দেশ্যে আদালতে মিথ্যা মামলা দায়ের করেছেন এবং হলফ করে মিথ্যা সাক্ষ্য দিয়েছেন। মামলার নথিতে তার দেয়া হলফনামাও সংযুক্ত রয়েছে। এসব বিবেচনায় আদালত নিজেই বাদী হয়ে তার বিরুদ্ধে পর্নোগ্রাফি নিয়ন্ত্রণ আইন ও দণ্ডবিধির সংশ্লিষ্ট ধারায় মামলা দায়েরের নির্দেশ দেন।

 

তদন্তে যা উঠে এসেছে পুলিশের চূড়ান্ত প্রতিবেদনে বলা হয়, তদন্তকালে রেকর্ড, ডিজিটাল আলামত, ফেসবুক লিংক ও ফরেনসিক তথ্য যাচাই করে ওমর ফারুকের বিরুদ্ধে পর্নোগ্রাফি প্রচারের কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি।

 

তদন্তে আরও উঠে আসে, শিমু বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের কেবিন ক্রু এবং ওমর ফারুক একটি বেসরকারি এয়ারলাইন্সের এয়ারক্রাফট মেইনটেন্যান্স কর্মকর্তা। ফেসবুকে পরিচয়ের পর তাদের মধ্যে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে।

 

প্রতিবেদনে বলা হয়, বিয়ের আশ্বাস দিয়ে বিভিন্ন সময়ে ওমর ফারুকের কাছ থেকে বিপুল পরিমাণ অর্থ ও মূল্যবান সামগ্রী নেয়ার অভিযোগে ওমর ফারুক আদালতে পৃথক মামলা করেন। এরপর সেই মামলার দায় থেকে নিজেকে রক্ষা করতেই শিমু পর্নোগ্রাফি আইনে অভিযোগ দায়ের করেন বলে তদন্তে প্রতীয়মান হয়েছে।

 

ওমর ফারুকের আগের মামলা গত ২০ জুলাই ওমর ফারুক চৌধুরী শিমুর বিরুদ্ধে বিয়ের প্রলোভন, ‘হানি ট্র্যাপ’ ও ব্ল্যাকমেইলের মাধ্যমে প্রায় ২২ লাখ টাকা আত্মসাতের অভিযোগে ঢাকার আদালতে মামলা করেন। আদালত অভিযোগটি আমলে নিয়ে উত্তরা পশ্চিম থানাকে তদন্তের নির্দেশ দেন। পরে তিনি বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স কর্তৃপক্ষের কাছেও লিখিত অভিযোগ করেন।

 

সেই মামলায় অভিযোগ করা হয়, ২০২৪ সালে ফেসবুকে পরিচয়ের পর শিমু তাকে বিয়ের আশ্বাস দিয়ে বিভিন্ন সময়ে টাকা নেন। জন্মদিনে দেড় লাখ টাকা মূল্যের একটি হীরার আংটিসহ বিয়ের খরচের জন্য মোট ২১ লাখ ৭৪ হাজার ৫১১ টাকা নেয়ার পরও বিয়ে না করে প্রতারণার মাধ্যমে অর্থ আত্মসাৎ করা হয়েছে বলে মামলায় দাবি করা হয়।

পর্নোগ্রাফি আইনে কেবিন ক্রু শিমুর বিরুদ্ধে মামলার নির্দেশ আদালতের

ভোলার মনপুরায় নির্বাচনী মাঠে জনআতঙ্ক, দীপক বাহিনীর হাতে আহত ৫

ভোলার মনপুরায় নির্বাচনী মাঠে জনআতঙ্কে, থমথমে পুরো মনপুরা। আসন্ন 2 নং হাজিরহাট ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনী প্রচারণা কালীন সময় প্রার্থী নিজামুদ্দিন হাওলাদারের নেতাকর্মী ও সমর্থকদের বেধড়ক মারধর করার অভিযোগ উঠে এসেছে। প্রার্থীকে বেধড়ক মারধর করায় গুরুতর আহত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি আছেন, নাছির(২৩), আল আমিন(২৫),জিদনী (১৮),অনি (২৩)কাশেম(২৮),অজয়(২৬)

আহতদের পরিবার জানিয়েছেন আহতদের অবস্থা গুরুতর, চিকিৎসার জন্য জেলাতে নেওয়া প্রয়োজন হতে পারে।।

মেম্বার প্রার্থী নাসির অভিযোগ করে বলেন , স্থানীয় প্রশাসন অত্যন্ত দুর্বল অবস্থায় রয়েছে,মাঠ প্রশাসন নীরব দর্শকের ভূমিকা পালন করছেন, দীপক রাশি বাহিনী এরপর এক সন্ত্রাসী কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে, আমি নির্বাচন প্রতারণা চলাকালীন সময়ে অতর্কিত দীপক বাহিনীর মূল হোতা সন্ত্রাসী মাকসুদের নেতৃত্বে দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র সহ আমাকেও আমার তুই ছেলের উপর হামলা চালান।। এতে করে আমিও আমার ছোট ছেলে আমিন গুরুতর আহত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়ে রয়েছি।। মনপুরা পুলিশ প্রশাসনের নিকট আমি অভিযোগ করেছি।ওসি মনপুরা এখন পর্যন্ত কোনো ব্যবস্থা গ্রহণ করেন নাই। তিনি আরো বলেন সন্ত্রাসী ফারুক ফরাজী, ইলিয়াছ চৌধূরী, ইলিয়াস ফরাজী, ফুহাদ আওলাদ মাতাব্বর, মনির ফরাজী, খোকন পর এক নানা সন্ত্রাসী কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছেন।

চেয়ারম্যান প্রার্থী নুরুল ইসলাম অভিযোগ করে বলেন নির্বাচনকে বানচাল করার জন্য একের পর এক সন্ত্রাসী কার্যক্রম চালিয়ে গেলেও ওসি মনপুরা এখন পর্যন্ত কোন ধরনের ব্যবস্থা গ্রহণ করতে পারে নাই, চিরে যদি সন্ত্রাসীদের দমন না করা হয় তাহলে নির্বাচন হবে মনপুরা হবে ঝুঁকিপূর্ণ, নির্বাচনে মাঠ প্রশাসন নিয়ন্ত্রনহীন হয়ে পড়বেন।। নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট আকিব ওসমান মাঠ প্রশাসন নিয়ন্ত্রণে কাজ করলেও এখন পর্যন্ত মনপুরা মাঠ নিয়ন্ত্রণে আনতে পরিপূর্ণ ব্যর্থ হয়েছেন।।

অপর চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী নিজাম উদ্দিন হাওলাদার অভিযোগ করে বলেন পরোক্ষভাবে প্রত্যক্ষভাবে দীপক বাহিনী এ ধরনের ঘটনা চলেছেন, অতর্কিত হামলা, চোরাগুপ্তা হামলা সহ নানা ধরনের কর্মের সাথে পার্থী শাহরিয়া দীপক সরাসরি জড়িত রয়েছেন।।

মুঠোফোনে প্রার্থী শাহরিয়ার চৌধুরী দীপক এর নিকট জানতে চাইলে তিনি সাংবাদিক পরিচয় পেয়ে ব্যস্ততা দেখিয়ে ফোন কাটিয়ে দেন।

বিষয়টি নিয়ে ওসি মনপুরা কে বারবার ফোন করলেও এখন এখন পর্যন্ত মুঠোফোনে পাওয়া যায়নি।।

বিষয়টি নিয়ে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট হাকিম ওসমান এর সাথে কথা বললে তিনি বলেন আমি অতি দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণ করছি, মনপুরাকে মামলা গ্রহণের জন্য নির্দেশ প্রদান করেছি।। অচিরেই মনপুরায় মাঠ প্রশাসন নিয়ন্ত্রণে আনাতে আমি নিরস কাজ করছি।।

উল্লেখ্য এই যে মনপুরা উপজেলা একের পর এক আচরণবিধি লঙ্ঘন করায় প্রার্থী শাহরিয়ার দীপক বিরুদ্ধে শাহরিয়ার বিরুদ্ধে আচরণবিধি লঙ্ঘনের লিখিত অভিযোগ হয়েছে যা পত্র-পত্রিকা ও গণমাধ্যমে বেশ কয়েকবার প্রকাশিত হয়েছে।। আজকের চোরাগুপ্তা হামলা সহ নানা অতর্কিত সন্ত্রাসী হামলার বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়েছে।।। কোন পর্যন্ত কোনো আসামিকে গ্রেপ্তার করতে মনপুরা থানা সম্পূর্ণ ব্যর্থ হয়েছেন।।

আসছে বিস্তারিত……. সাথে থাকুন

ভোলার মনপুরায় নির্বাচনী মাঠে জনআতঙ্ক, দীপক বাহিনীর হাতে আহত ৫

এস এম খলিলুর রহমান
ব্যুরো চীফ হবিগঞ্জ জেলা ॥

নবীগঞ্জ পৌর এলাকার গয়াহরি গ্রামে নিরীহ ব্যক্তি বিজিত দাশ মেটনের উপর সন্ত্রাসী হামলার দায়েরী মামলার অন্যতম আসামী কাউন্সিলর যুবরাজ গোপসহ অপর আসামীদের গ্রেফতার না করায় পুলিশের বিরুদ্ধে অভিযোগ করেছেন বাদিনী সুপ্রিয়া রানী দাশ। শনিবার (১২ জুন) সকালে নবীগঞ্জ প্রেসক্লাব কার্যালয়ে অনুষ্টিত সাংবাদিক সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে সুপ্রিয়া রানী দাশ বলেন, গেল পৌর নির্বাচনকে কেন্দ্র করে কাউন্সিলর যুবরাজ গোপ তার পরিবারের উপর ক্ষিপ্ত হন। এরজের ধরে বিগত ২৬ এপ্রিল সন্ধ্যায় নবীগঞ্জ পৌরসভার ৪নং ওয়ার্ডস্থ গয়াহরি গ্রামে জ্যোতিষ দাশের বাড়ি সামনে রাস্তার উপর পেয়ে আমার স্বামী বিজিত দাশ মেটনকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে ক্ষতবিক্ষত করেন আমাদের ওয়ার্ড কাউন্সিলর যুবরাজ গোপ, জ্যোতিষ দাশ, সীমা রানী দাশ, উৎফল দাশ ও লিপ্টু দাশসহ একদল লোক। তাদের ধারালো অস্ত্রের আঘাতে আমার স্বামী গুরুতর আহত হয়ে সিলেট ও ঢাকা হাসপাতালে চিকিৎসা গ্রহন করি। আমার স্বামী আহত হয়ে মৃত্যুর সাথে পাঞ্জা লড়ছিল। পুলিশ ঘটনার খবর পেয়ে আমার স্বামীর রক্তাক্ত অবস্থা দেখে তাৎক্ষনিকভাবে জ্যোতিষ দাশকে গ্রেফতার করে। পরে ৫৪ ধারায় জেল হাজতে প্রেরন করে পুলিশ। এ ব্যাপারে আমি নবীগঞ্জ থানায় মামলা নিয়ে গেলে পুলিশ আদালতের আশ্রয় নিতে পরামর্শ দেন। পরবর্তীতে আমি বাদী হয়ে হবিগঞ্জ আদালতে উল্লেখিত দুর্বৃত্তদের আসামী করে মামলা দায়ের করি। মামলাটি আদালতের নির্দেশে এফআইআর হিসেবে নবীগঞ্জ থানায় রুজু হয়। মামলা রুজু হলেও মামলার অন্যতম আসামী যুবরাজ গোপসহ অপরাপর আসামীদেরকে পুলিশ গ্রেফতার করতে পারেনি। অথচ যুবরাজ গোপ প্রকাশ্যে নবীগঞ্জ শহরে ও বাড়িতে ঘুরে বেড়াচ্ছে। আমি অসহায় একজন মহিলা, মামলার তদন্ত কর্মকর্তা এসআই লুৎফুর রহমানকে বারবার তাগিদ দেয়া সত্ত্বেও আসামী গ্রেফতার করিতে তিনি গড়িমশি করছেন। এদিকে আমার স্বামীর বর্তমান শারীরিক অবস্থা এখন পর্যন্ত ভাল নয়। বিছানায় শয্যাসায়ী আছেন। দারিদ্রতার কারনে আমার স্বামীর চিকিৎসা করাইতে গিয়ে ইতিমধ্যে ভিটে বাড়ি বিক্রি করতে হয়েছে। সামাজিক বিচার থেকে বঞ্চিত হয়ে আইনের আশ্রয় নিয়েও আমাদের এত বিড়ম্বনা পোহাতে হবে, তা জানা ছিলনা।
বর্তমানে আমার আহত স্বামী বিজিত দাশ কথা বার্তা বলতে পারছেন না, বাম চোখেঁ দেখতেও পান না। ঘটনাটি এলাকার সকল মানূষ অবগত রয়েছেন।
ন্যায় বিচারের স্বার্থে আমার দায়েরী মামলার অন্যতম আসামী যুবরাজ গোপসহ অপর আসামীদের গ্রেফতার পুর্বক আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহনের জন্য সাংবাদিকদের মাধ্যমে পুলিশের উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করছি।

নবীগঞ্জে আসামী গ্রেফতার না করায় পুলিশের বিরুদ্ধে বাদিনীর সংবাদ সম্মেলন

error: আপনি নিউজ চুরি করার চেষ্টা করছেন। বিশেষ প্রয়োজনে যোগাযোগ করুন ০১৭৬৭৪৪৪৩৩৩