
সিটি করপোরেশন, পৌরসভা এবং জেলা, উপজেলা ও ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনের দিনক্ষণ এখনো চূড়ান্ত হয়নি। কবে নাগাদ এসব নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা হবে, সেটাও স্পষ্ট নয়। তবুও স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানের এসব নির্বাচন ঘিরে তৎপরতা চালাচ্ছেন বিএনপির তৃণমূল নেতাকর্মীরা। আইন সংশোধন হওয়ায় এবার দলীয় প্রতীকে ভোট না হওয়ার সুযোগে একাধিক সম্ভাব্য প্রার্থী মাঠে রয়েছেন।
তারা ইতোমধ্যে এলাকায় এলাকায় গণসংযোগ করছেন। তাদের পোস্টার, ফেস্টুন ও ব্যানারে সয়লাব হাট-বাজার, গুরুত্বপূর্ণ সড়কের অলিগলি ও জনসমাগমস্থল। নিজেদের পরিচিতি তুলে ধরতে বিভিন্ন সামাজিক ও রাজনৈতিক কর্মসূচিতে অংশ নিচ্ছেন এসব প্রার্থী। ভোটারদের মনোযোগ টানতে ব্যক্তিগত যোগাযোগের পাশাপাশি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমেও জোর দিচ্ছেন তারা। সরকারের বিভিন্ন উদ্যোগ তুলে ধরে দিচ্ছেন নানা প্রতিশ্রুতি। দলীয় সূত্র বলছে, এবার স্থানীয় সরকার নির্বাচনে শক্ত অবস্থান নিশ্চিত করতে আগেভাগেই প্রস্তুতি নিচ্ছে বিএনপি। জাতীয় নির্বাচনের সাফল্যের ধারাবাহিকতা ধরে রাখতে মাঠে সক্রিয়ভাবে কাজ করছেন নেতাকর্মীরা।
জানতে চাইলে বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব ও প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা রুহুল কবির রিজভী যুগান্তরকে বলেন, ‘স্থানীয় নির্বাচনকে কেন্দ্র করে আমাদের দলীয় প্রস্তুতি রয়েছে। নির্বাচনের দিনক্ষণ ঘোষণা হওয়ার পর দলীয় পূর্ণ শক্তি নিয়ে সবাই (নেতাকর্মী) ভোটের মাঠে নামবে। এজন্য ‘কোদাল’ দিয়ে মাঠ তৈরি করতে হবে না।’ সরকারের কার্যক্রমের সফলতায় জাতীয় নির্বাচনের সাফল্য স্থানীয় সরকার নির্বাচনেও পড়বে বলে মনে করেন বিএনপির এ সিনিয়র নেতা। তিনি বলেন, ‘সরকার গঠনের পর গত দুই মাসে ক্ষমতাসীন বিএনপি সরকারের যে অর্জনগুলো রয়েছে, তাতে জনমনে ইতিবাচক ধারণা তৈরি হয়েছে। এ কারণেই আমাদের নেতাকর্মীরা অধিকাংশ স্থানে বিজয়ী হবে।’
চলতি বছরের ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নিরঙ্কুশ জয়ে সরকার গঠন করে বিএনপি। এবার দলটির নজর স্থানীয় সরকার নির্বাচনে। এই নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা না হলেও সরকার থেকে বলা হচ্ছে শিগগিরই অনুষ্ঠিত হবে এই নির্বাচন। তারই ধারাবাহিকতায় ঢাকাসহ অন্যান্য সিটি করপোরেশন, ইউনিয়ন, পৌরসভা ও উপজেলা পর্যায়ে সম্ভাব্য প্রার্থী হওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছেন অনেকেই। কেউ কেউ আনুষ্ঠানিকভাবে প্রার্থিতা ঘোষণা করেছেন। স্থানীয় সরকার নির্বাচনে দলীয় প্রতীক থাকছে না-এমনটা ধরে নিয়েই এগোচ্ছেন বিএনপির নেতাকর্মীরা। একইসঙ্গে সরকারের বিভিন্ন কর্মকাণ্ড জনগণের কাছে তুলে ধরছেন তারা।
জানা যায়, ইতোমধ্যে ঢাকার দুই সিটি করপোরেশন এলাকায় অনেকেই মেয়র ও কাউন্সিলর পদে প্রার্থী হওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন। দেয়ালে-দেয়ালে শোভা পাচ্ছে তাদের পোস্টার ও ফেস্টুন। বিভিন্ন ইস্যুতে এলাকাভিত্তিক নানা কর্মসূচিতে অংশ নিচ্ছেন। একই চিত্র তৃণমূলেও।
স্থানীয় সরকার নির্বাচনের প্রস্তুতি সম্পর্কে ২১টি জেলার বিএনপির শীর্ষ পদে থাকা অন্তত ৩০ জন নেতার অভিমত জানতে চেয়েছে যুগান্তর। কিছুটা অভিন্ন সুরে নেতারা জানান, জাতীয় নির্বাচনের পরপরই স্থানীয় সরকার নির্বাচন নিয়ে কাজ করছেন বিএনপির নেতাকর্মীরা। তারা পোস্টার, ফেস্টুন করে সম্ভাব্য প্রার্থিতা জানান দিয়েছেন। জাতীয় নির্বাচনের অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে স্থানীয় সরকার নির্বাচনেও ভালো ফলের আশাবাদী তারা। এজন্য দলীয় সংগঠনকে আরও সক্রিয় ও সুসংগঠিত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। আগাম এই তৎপরতা নির্বাচনি প্রতিদ্বন্দ্বিতাকে আরও তীব্র করে তুলবে বলেও মনে করে বিএনপির তৃণমূল। একইসঙ্গে এসব নির্বাচনে দলীয় প্রতীক না থাকার সুযোগে একাধিক প্রার্থী যাতে ভোটের মাঠে প্রতিদ্বন্দ্বিতায় না থাকে, সে বিষয়েও নজর রাখা হচ্ছে।
বিএনপির ঢাকা বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক কাজী সাইয়েদুল আলম বাবুল যুগান্তরকে বলেন, স্থানীয় নির্বাচন নিয়ে আমাদের দলের নেতাকর্মীদের প্রস্তুতি আছে। যে যার মতো করে নিজ নিজ এলাকায় কাজ করছেন। তবে দল থেকে এ বিষয়ে এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো নির্দেশনা দেওয়া হয়নি। তিনি বলেন, অনেকেই মাঠপর্যায়ে নির্বাচনের প্রস্তুতি নিয়ে রেখেছেন। কে কোন পদে নির্বাচন করবেন, সেটি জানান দিচ্ছেন। আমাদেরও অনেকেই বলে রাখছেন যে, তারা এলাকায় নির্বাচনি কর্মকাণ্ড চালাবেন। তবে কেন্দ্র থেকে যে সিদ্ধান্ত আসবে, সেটি সম্ভাব্য প্রার্থীরা মেনে নেবেন।
উপজেলা পরিষদ নির্বাচনের প্রস্তুতি নিচ্ছেন ভোলার মনপুরা উপজেলা বিএনপির আইনবিষয়ক সম্পাদক অ্যাডভোকেট ছালাউদ্দিন আহমেদ প্রিন্স। তিনি যুগান্তরকে বলেন, এলাকাবাসী চান আমি চেয়ারম্যান পদে নির্বাচন করি। জনগণের এই দাবিকে স্বাগত জানিয়ে আমি প্রস্তুতি নিচ্ছি। তিনি বলেন, বিগত সময়ে মনপুরাবাসীর পাশে ছিলাম, এখনো আছি।
Like this:
Like Loading...
Related
Leave a Reply