চতুর্থ শিল্প বিপ্লবের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় দক্ষতা অর্জনের আহ্বান
চতুর্থ শিল্প বিপ্লবের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় দক্ষতা অর্জনের আহ্বান

চতুর্থ শিল্প বিপ্লবের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় দক্ষতা অর্জনের আহ্বান

পটুয়াখালী প্রতিনিধি

চতুর্থ শিল্প বিপ্লবের পরিবর্তিত কর্মবাজারে টিকে থাকতে তরুণদের প্রযুক্তিনির্ভর দক্ষতা অর্জনের পাশাপাশি সফট স্কিল, যোগাযোগ দক্ষতা ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI) বিষয়ে জ্ঞান অর্জনের আহ্বান জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা। শুধু একাডেমিক সার্টিফিকেট নয়, কর্মসংস্থানের জন্য বাস্তব দক্ষতা অর্জনকেই সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দেওয়ার কথা বলেন তারা।

গতকাল সোমবার (৫ অক্টোবর) পটুয়াখালীতে e-Learning & Earning Ltd.-এর উদ্যোগে ‘চতুর্থ শিল্প বিপ্লব ও পরিবর্তিত পেশা: প্রযুক্তি শিক্ষার প্রয়োজনীয়তা ও ভবিষ্যৎ কর্মজগতের প্রস্তুতি’ শীর্ষক ফেসবুক লাইভ আলোচনা অনুষ্ঠানে এসব কথা বলা হয়।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন পটুয়াখালী জেলা আইসিটি অফিসার মো. সবুজ তালুকদার। বিশেষ অতিথি ছিলেন e-Learning & Earning Ltd.-এর বরিশাল বিভাগের বিভাগীয় প্রধান কিশোর চন্দ্র বালা। আলোচক হিসেবে ছিলেন AI প্রশিক্ষক মিয়া মোহাম্মদ তাহমিদ ইসলাম। অনুষ্ঠানে সফল প্রশিক্ষণার্থী হিসেবে তাজমিরান জাহান শিরিন ও মো. নাজমুল হোসেন নিজেদের অভিজ্ঞতা তুলে ধরেন। অনুষ্ঠানটি উপস্থাপনা করেন ডিজিটাল মার্কেটিং প্রশিক্ষক সৈয়দ ফেরদৌস মাহমুদ রাকিব।

বেসিক কম্পিউটার শিক্ষায় গুরুত্ব

প্রধান অতিথি মো. সবুজ তালুকদার বলেন, প্রযুক্তিনির্ভর কর্মসংস্থানের জন্য তরুণদের প্রথমেই বেসিক কম্পিউটার বিষয়ে দক্ষ হতে হবে। কম্পিউটারের মৌলিক জ্ঞান অর্জনের পর গ্রাফিক ডিজাইন, ডিজিটাল মার্কেটিংসহ বিভিন্ন বিষয়ে প্রশিক্ষণ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা সম্ভব।

তিনি আগ্রহী তরুণদের জেলা আইসিটি অফিসের সঙ্গে যোগাযোগ করে নাম, ফোন নম্বর ও প্রয়োজনীয় তথ্য দেওয়ার আহ্বান জানান। একই সঙ্গে ফ্রিল্যান্সিংয়ে সফল ব্যক্তিদের সঙ্গে নিয়ে প্রশিক্ষক তৈরির মাধ্যমে উপজেলা পর্যায়ে প্রশিক্ষণ কার্যক্রম সম্প্রসারণের পরিকল্পনার কথা জানান তিনি।

জেলা আইসিটি অফিসার বলেন, উপজেলা পর্যায়ের অনেক দরিদ্র পরিবারের তরুণ-তরুণীর পক্ষে জেলা বা বিভাগীয় শহরে এসে প্রশিক্ষণ নেওয়া সম্ভব হয় না। তাই তাদের নিজ নিজ এলাকায় প্রশিক্ষণের সুযোগ তৈরি করা প্রয়োজন। এ লক্ষ্যে জেলা আইসিটি অফিসের উদ্যোগে উপজেলা পর্যায়ে নতুন ব্যাচ চালুর উদ্যোগ নেওয়া হবে।

ফ্রিল্যান্সিং প্রসঙ্গে তিনি বলেন, প্রশিক্ষণ গ্রহণের পরপরই আয় শুরু হবে—এমন ধারণা ঠিক নয়। এ পেশায় সফলতার জন্য ধৈর্য, নির্দিষ্ট বিষয়ে দক্ষতা, ভালো প্রোফাইল ও যোগাযোগ দক্ষতা প্রয়োজন। একটি সার্টিফিকেট সুযোগের দরজা পর্যন্ত পৌঁছাতে সহায়তা করলেও বাস্তব দক্ষতা ছাড়া সেই সুযোগ কাজে লাগানো সম্ভব নয়।

‘প্রযুক্তিকে ভয় নয়, কাজে লাগাতে হবে’

বিশেষ অতিথি কিশোর চন্দ্র বালা বলেন, শিল্প বিপ্লবের প্রতিটি পর্যায়েই নতুন প্রযুক্তিকে ঘিরে মানুষের মধ্যে কর্মসংস্থান হারানোর আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। কিন্তু সময়ের সঙ্গে প্রমাণ হয়েছে, প্রযুক্তি শুধু মানুষের কাজ কেড়ে নেয়নি; বরং কাজকে সহজ করেছে এবং নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি করেছে।

তিনি বলেন, বর্তমান সময়ের সবচেয়ে বড় প্রয়োজন হলো পরিবর্তনের সঙ্গে নিজেকে মানিয়ে নেওয়ার মানসিকতা। এখনকার প্রতিযোগিতা শুধু প্রচলিত জ্ঞান বা শিক্ষাগত যোগ্যতার মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়; তথ্য, প্রযুক্তি, চিন্তাশক্তি, যোগাযোগ ও সফট স্কিলও সমান গুরুত্বপূর্ণ।

তরুণদের নিয়মিত শেখার অভ্যাস গড়ে তোলার ওপর গুরুত্ব দিয়ে তিনি বলেন, জ্ঞান অর্জনের মাধ্যমও সময়ের সঙ্গে পরিবর্তিত হয়েছে। বইয়ের পাশাপাশি PDF, অডিও, ভিডিও, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও বিভিন্ন অনলাইন প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে এখন সহজেই জ্ঞান অর্জন করা যায়। হাতে থাকা মোবাইল, ল্যাপটপ বা কম্পিউটারকে শুধু বিনোদনের জন্য নয়, জ্ঞান অর্জন ও কর্মসংস্থানের মাধ্যম হিসেবেও ব্যবহার করতে হবে।

চতুর্থ শিল্প বিপ্লবের প্রেক্ষাপটে AI-কে অবহেলা না করে এর সঙ্গে কাজ করার দক্ষতা অর্জনের আহ্বান জানান তিনি।

সার্টিফিকেট নয়, চাকরির বাজারে প্রয়োজন দক্ষতা

কিশোর চন্দ্র বালা বলেন, একজন শিক্ষার্থী জীবনের দীর্ঘ সময় একাডেমিক শিক্ষায় ব্যয় করলেও শুধু সার্টিফিকেট কর্মসংস্থানের নিশ্চয়তা দেয় না। একাডেমিক জ্ঞানের পাশাপাশি নির্দিষ্ট বিষয়ে বাস্তব দক্ষতা অর্জন করতে হবে।

তার ভাষায়, কর্মবাজারে শুধু ‘আমি কী পড়েছি’ তা নয়, ‘আমি কী করতে পারি’—সেটিই গুরুত্বপূর্ণ।

ছয় জেলায় বছরে ২,৪০০ প্রশিক্ষণার্থী

e-Learning & Earning Ltd.-এর প্রশিক্ষণ কার্যক্রমের তথ্য তুলে ধরে বিশেষ অতিথি জানান, সরকারি প্রকল্পের আওতায় দেশের ৬৪ জেলায় তরুণদের বিভিন্ন প্রযুক্তিনির্ভর প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে। সরকারি প্রকল্পের বাইরে আগ্রহীদের জন্যও স্বল্প খরচে বেসরকারিভাবে প্রশিক্ষণ গ্রহণের সুযোগ রয়েছে।

তিনি জানান, বরিশাল বিভাগের ছয়টি জেলায় প্রতি তিন মাসে প্রায় ৬০০ জন এবং বছরে প্রায় ২ হাজার ৪০০ জনকে বিভিন্ন বিষয়ে প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে।

প্রশিক্ষণের বিষয়গুলোর মধ্যে রয়েছে কম্পিউটার অফিস অ্যাপ্লিকেশন, বেসিক হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্কিং, গ্রাফিক ডিজাইন, ডিজিটাল মার্কেটিং, ওয়েব ডিজাইন ও ডেভেলপমেন্ট, ভিডিও এডিটিং, কমিউনিকেটিভ ইংলিশ, ফ্রিল্যান্সিং মার্কেটপ্লেস ও সফট স্কিল।

এ ছাড়া AI-ভিত্তিক প্রশিক্ষণে প্রম্পট ইঞ্জিনিয়ারিং, AI কনটেন্ট ক্রিয়েশন, জেনারেটিভ AI টুলস, AI প্রোডাক্টিভিটি, ডেটা অ্যানালাইসিস ও AI ফ্রিল্যান্সিং বিষয়ে প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে।

পটুয়াখালীর সফল প্রশিক্ষণার্থীদের সাফল্যের তথ্য

অনুষ্ঠানে পটুয়াখালীর সফল প্রশিক্ষণার্থীদের বিভিন্ন অর্জনের তথ্য তুলে ধরা হয়। বক্তারা জানান, জেলার প্রশিক্ষণার্থীদের মধ্যে মারুফা আমিন, তাজমিরান জাহান শিরিন, নূর হোসেন মৃধা, মো. নাজমুল হোসেন ও ইমামুল হক ফ্রিল্যান্সিং ও প্রযুক্তিনির্ভর কর্মক্ষেত্রে নিজেদের প্রতিষ্ঠিত করেছেন।

বিশেষ অতিথি জানান, গত ১ অক্টোবর ভোলায় অনুষ্ঠিত একটি অনুষ্ঠানে পটুয়াখালীর সফল প্রশিক্ষণার্থী মারুফা আমিনসহ জেলার কয়েকজন সফল ফ্রিল্যান্সারকে সম্মাননা দেওয়া হয়েছে।

তিনি আরও জানান, এখন পর্যন্ত প্রায় ২ হাজার ৪০০ প্রশিক্ষণার্থীর মধ্যে ১ হাজার ২৮ জন নিজেদের কর্মসংস্থান তৈরি করতে সক্ষম হয়েছেন এবং তারা সম্মিলিতভাবে প্রায় সাড়ে সাত কোটি টাকা আয় করেছেন।

AI নিয়ে নতুন সম্ভাবনার কথা

অনুষ্ঠানের আলোচক ও AI প্রশিক্ষক মিয়া মোহাম্মদ তাহমিদ ইসলাম কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার বর্তমান ব্যবহার ও ভবিষ্যৎ কর্মবাজারে এর প্রভাব নিয়ে আলোচনা করেন।

তিনি বলেন, AI-কে মানুষের প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে না দেখে কাজের সহযোগী হিসেবে ব্যবহার করার দক্ষতা অর্জন করতে হবে। কনটেন্ট তৈরি, ডিজাইন, গবেষণা, ডেটা বিশ্লেষণ, ডিজিটাল মার্কেটিং ও ফ্রিল্যান্সিংসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে AI-ভিত্তিক দক্ষতার নতুন সুযোগ তৈরি হচ্ছে।

প্রশিক্ষণার্থীদের অভিজ্ঞতা

অনুষ্ঠানে সফল প্রশিক্ষণার্থী তাজমিরান জাহান শিরিন ও মো. নাজমুল হোসেন তাদের প্রশিক্ষণ ও কর্মজীবনের অভিজ্ঞতা তুলে ধরেন।

তারা জানান, প্রশিক্ষণের মাধ্যমে নির্দিষ্ট কারিগরি দক্ষতার পাশাপাশি ক্লায়েন্ট কমিউনিকেশন, কাজ উপস্থাপন, পোর্টফোলিও তৈরি ও ফ্রিল্যান্সিং মার্কেটপ্লেস সম্পর্কে বাস্তব ধারণা পেয়েছেন। নিয়মিত অনুশীলন, ধৈর্য এবং নিজের দক্ষতা উন্নয়নের ধারাবাহিকতাই তাদের এগিয়ে যেতে সহায়তা করেছে।

তাদের মতে, নতুনদের জন্য শুরুতে কাজ পাওয়া চ্যালেঞ্জিং হলেও নির্দিষ্ট একটি বিষয়ে দক্ষতা অর্জন, নিয়মিত অনুশীলন এবং সঠিক দিকনির্দেশনা থাকলে প্রযুক্তিনির্ভর কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি করা সম্ভব।

উপজেলা পর্যায়ে প্রশিক্ষণ সম্প্রসারণের প্রত্যাশা

অনুষ্ঠানে বক্তারা পটুয়াখালীসহ বরিশাল বিভাগের বিভিন্ন জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে আরও বেশি প্রযুক্তিনির্ভর প্রশিক্ষণের সুযোগ তৈরির প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন। বিশেষ করে সরকারি প্রকল্পের আওতায় প্রশিক্ষণের সুযোগ না পাওয়া তরুণদের জন্য স্বল্প খরচে দক্ষতা অর্জনের সুযোগ তৈরির ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়।

বক্তারা বলেন, প্রশিক্ষণ একজন তরুণকে সুযোগের পথ দেখাতে পারে; কিন্তু সেই সুযোগকে সফলতায় রূপ দিতে প্রয়োজন আন্তরিকতা, ধৈর্য, পরিশ্রম, নিয়মিত শেখার মানসিকতা এবং বাস্তব দক্ষতা।

অনুষ্ঠানের শেষ পর্যায়ে তরুণদের সময়ের পরিবর্তনকে গ্রহণ করে নিজেদের প্রযুক্তিগত দক্ষতায় সমৃদ্ধ হওয়ার এবং ভবিষ্যৎ কর্মবাজারের জন্য এখন থেকেই প্রস্তুতি নেওয়ার আহ্বান জানানো হয়।


Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

র‌্যাবের চৌকস অভিযানে জীপসহ প্রায় ১১ হাজার ইয়াবার চালান আটক

জামালপুর হামলা পাল্টা হামলার মধ্য দিয়ে জেলার সানন্দবাড়ী তে থমথমে অবস্থা বিরাজমান।

পর্নোগ্রাফি নিয়ন্ত্রণ আইনে এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা দায়ের ও আদালতে মিথ্যা হলফনামা দেয়ার অভিযোগে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের কেবিন ক্রু খাদিজা সুলতানা শিমুর বিরুদ্ধে মামলা দায়েরের নির্দেশ দিয়েছেন আদালত।

 

বুধবার (১৫ জুলাই) ঢাকার অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালত-২-এর বিচারক মো. জাকির হোসাইন এ আদেশ দেন। আদালতের আদেশে বলা হয়েছে, শিমুর বিরুদ্ধে পর্নোগ্রাফি নিয়ন্ত্রণ আইন, ২০১২-এর ১৩ ধারা এবং দণ্ডবিধির ১৮১, ১৮২ ও ১৯৩ ধারায় মামলা করা হবে। আদালত নিজেই এ মামলার বাদী হয়েছেন।

 

আদালতের নথি অনুযায়ী, খাদিজা সুলতানা শিমু মামলার বাদী হয়ে বেসরকারি একটি এয়ারলাইন্সের কর্মকর্তা মো. ওমর ফারুক চৌধুরীর বিরুদ্ধে পর্নোগ্রাফি নিয়ন্ত্রণ আইনের বিভিন্ন ধারায় উত্তরা পশ্চিম থানায় মামলা করেন।

 

তদন্ত শেষে উত্তরা পশ্চিম থানার তদন্ত কর্মকর্তা আদালতে চূড়ান্ত প্রতিবেদন দাখিল করে জানান, অভিযোগের সত্যতা পাওয়া যায়নি। প্রতিবেদনে বলা হয়, মামলার এজাহারে উল্লেখ করা ফেসবুক লিংক, ডিজিটাল আলামত ও অন্যান্য তথ্য যাচাই করে ওমর ফারুকের বিরুদ্ধে পর্নোগ্রাফি প্রচারের কোনো প্রমাণ মেলেনি। ফলে ওই কর্মকর্তাকে মামলা থেকে অব্যাহতির সুপারিশ করা হয়।

একই সঙ্গে তদন্ত কর্মকর্তা প্রতিবেদনে উল্লেখ করেন, ওমর ফারুক আগে শিমুর বিরুদ্ধে বিয়ের প্রলোভন দিয়ে অর্থ আত্মসাতের অভিযোগে আদালতে মামলা করেছিলেন। সেই মামলার দায় এড়াতেই শিমু সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচারিত বিভিন্ন লিংক উল্লেখ করে তার বিরুদ্ধে পর্নোগ্রাফি ছড়ানোর অভিযোগ এনে উদ্দেশ্যপ্রণোদিত, হয়রানিমূলক ও মিথ্যা মামলা করেছেন বলে প্রাথমিক তদন্তে প্রতীয়মান হয়েছে। এ কারণে শিমুর বিরুদ্ধে পর্নোগ্রাফি নিয়ন্ত্রণ আইন, ২০১২-এর ১৩ ধারায় আইনগত ব্যবস্থা নেয়ার আবেদনও করেন তদন্ত কর্মকর্তা।

 

পরে গত ৯ জুলাই আদালত তদন্ত প্রতিবেদন গ্রহণ করে ওমর ফারুককে মামলা থেকে অব্যাহতি দেন। আদালতের আদেশে বলা হয়, শিমু ক্ষতিসাধনের উদ্দেশ্যে আদালতে মিথ্যা মামলা দায়ের করেছেন এবং হলফ করে মিথ্যা সাক্ষ্য দিয়েছেন। মামলার নথিতে তার দেয়া হলফনামাও সংযুক্ত রয়েছে। এসব বিবেচনায় আদালত নিজেই বাদী হয়ে তার বিরুদ্ধে পর্নোগ্রাফি নিয়ন্ত্রণ আইন ও দণ্ডবিধির সংশ্লিষ্ট ধারায় মামলা দায়েরের নির্দেশ দেন।

 

তদন্তে যা উঠে এসেছে পুলিশের চূড়ান্ত প্রতিবেদনে বলা হয়, তদন্তকালে রেকর্ড, ডিজিটাল আলামত, ফেসবুক লিংক ও ফরেনসিক তথ্য যাচাই করে ওমর ফারুকের বিরুদ্ধে পর্নোগ্রাফি প্রচারের কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি।

 

তদন্তে আরও উঠে আসে, শিমু বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের কেবিন ক্রু এবং ওমর ফারুক একটি বেসরকারি এয়ারলাইন্সের এয়ারক্রাফট মেইনটেন্যান্স কর্মকর্তা। ফেসবুকে পরিচয়ের পর তাদের মধ্যে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে।

 

প্রতিবেদনে বলা হয়, বিয়ের আশ্বাস দিয়ে বিভিন্ন সময়ে ওমর ফারুকের কাছ থেকে বিপুল পরিমাণ অর্থ ও মূল্যবান সামগ্রী নেয়ার অভিযোগে ওমর ফারুক আদালতে পৃথক মামলা করেন। এরপর সেই মামলার দায় থেকে নিজেকে রক্ষা করতেই শিমু পর্নোগ্রাফি আইনে অভিযোগ দায়ের করেন বলে তদন্তে প্রতীয়মান হয়েছে।

 

ওমর ফারুকের আগের মামলা গত ২০ জুলাই ওমর ফারুক চৌধুরী শিমুর বিরুদ্ধে বিয়ের প্রলোভন, ‘হানি ট্র্যাপ’ ও ব্ল্যাকমেইলের মাধ্যমে প্রায় ২২ লাখ টাকা আত্মসাতের অভিযোগে ঢাকার আদালতে মামলা করেন। আদালত অভিযোগটি আমলে নিয়ে উত্তরা পশ্চিম থানাকে তদন্তের নির্দেশ দেন। পরে তিনি বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স কর্তৃপক্ষের কাছেও লিখিত অভিযোগ করেন।

 

সেই মামলায় অভিযোগ করা হয়, ২০২৪ সালে ফেসবুকে পরিচয়ের পর শিমু তাকে বিয়ের আশ্বাস দিয়ে বিভিন্ন সময়ে টাকা নেন। জন্মদিনে দেড় লাখ টাকা মূল্যের একটি হীরার আংটিসহ বিয়ের খরচের জন্য মোট ২১ লাখ ৭৪ হাজার ৫১১ টাকা নেয়ার পরও বিয়ে না করে প্রতারণার মাধ্যমে অর্থ আত্মসাৎ করা হয়েছে বলে মামলায় দাবি করা হয়।

পর্নোগ্রাফি আইনে কেবিন ক্রু শিমুর বিরুদ্ধে মামলার নির্দেশ আদালতের

ভোলার মনপুরায় নির্বাচনী মাঠে জনআতঙ্ক, দীপক বাহিনীর হাতে আহত ৫

ভোলার মনপুরায় নির্বাচনী মাঠে জনআতঙ্কে, থমথমে পুরো মনপুরা। আসন্ন 2 নং হাজিরহাট ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনী প্রচারণা কালীন সময় প্রার্থী নিজামুদ্দিন হাওলাদারের নেতাকর্মী ও সমর্থকদের বেধড়ক মারধর করার অভিযোগ উঠে এসেছে। প্রার্থীকে বেধড়ক মারধর করায় গুরুতর আহত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি আছেন, নাছির(২৩), আল আমিন(২৫),জিদনী (১৮),অনি (২৩)কাশেম(২৮),অজয়(২৬)

আহতদের পরিবার জানিয়েছেন আহতদের অবস্থা গুরুতর, চিকিৎসার জন্য জেলাতে নেওয়া প্রয়োজন হতে পারে।।

মেম্বার প্রার্থী নাসির অভিযোগ করে বলেন , স্থানীয় প্রশাসন অত্যন্ত দুর্বল অবস্থায় রয়েছে,মাঠ প্রশাসন নীরব দর্শকের ভূমিকা পালন করছেন, দীপক রাশি বাহিনী এরপর এক সন্ত্রাসী কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে, আমি নির্বাচন প্রতারণা চলাকালীন সময়ে অতর্কিত দীপক বাহিনীর মূল হোতা সন্ত্রাসী মাকসুদের নেতৃত্বে দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র সহ আমাকেও আমার তুই ছেলের উপর হামলা চালান।। এতে করে আমিও আমার ছোট ছেলে আমিন গুরুতর আহত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়ে রয়েছি।। মনপুরা পুলিশ প্রশাসনের নিকট আমি অভিযোগ করেছি।ওসি মনপুরা এখন পর্যন্ত কোনো ব্যবস্থা গ্রহণ করেন নাই। তিনি আরো বলেন সন্ত্রাসী ফারুক ফরাজী, ইলিয়াছ চৌধূরী, ইলিয়াস ফরাজী, ফুহাদ আওলাদ মাতাব্বর, মনির ফরাজী, খোকন পর এক নানা সন্ত্রাসী কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছেন।

চেয়ারম্যান প্রার্থী নুরুল ইসলাম অভিযোগ করে বলেন নির্বাচনকে বানচাল করার জন্য একের পর এক সন্ত্রাসী কার্যক্রম চালিয়ে গেলেও ওসি মনপুরা এখন পর্যন্ত কোন ধরনের ব্যবস্থা গ্রহণ করতে পারে নাই, চিরে যদি সন্ত্রাসীদের দমন না করা হয় তাহলে নির্বাচন হবে মনপুরা হবে ঝুঁকিপূর্ণ, নির্বাচনে মাঠ প্রশাসন নিয়ন্ত্রনহীন হয়ে পড়বেন।। নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট আকিব ওসমান মাঠ প্রশাসন নিয়ন্ত্রণে কাজ করলেও এখন পর্যন্ত মনপুরা মাঠ নিয়ন্ত্রণে আনতে পরিপূর্ণ ব্যর্থ হয়েছেন।।

অপর চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী নিজাম উদ্দিন হাওলাদার অভিযোগ করে বলেন পরোক্ষভাবে প্রত্যক্ষভাবে দীপক বাহিনী এ ধরনের ঘটনা চলেছেন, অতর্কিত হামলা, চোরাগুপ্তা হামলা সহ নানা ধরনের কর্মের সাথে পার্থী শাহরিয়া দীপক সরাসরি জড়িত রয়েছেন।।

মুঠোফোনে প্রার্থী শাহরিয়ার চৌধুরী দীপক এর নিকট জানতে চাইলে তিনি সাংবাদিক পরিচয় পেয়ে ব্যস্ততা দেখিয়ে ফোন কাটিয়ে দেন।

বিষয়টি নিয়ে ওসি মনপুরা কে বারবার ফোন করলেও এখন এখন পর্যন্ত মুঠোফোনে পাওয়া যায়নি।।

বিষয়টি নিয়ে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট হাকিম ওসমান এর সাথে কথা বললে তিনি বলেন আমি অতি দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণ করছি, মনপুরাকে মামলা গ্রহণের জন্য নির্দেশ প্রদান করেছি।। অচিরেই মনপুরায় মাঠ প্রশাসন নিয়ন্ত্রণে আনাতে আমি নিরস কাজ করছি।।

উল্লেখ্য এই যে মনপুরা উপজেলা একের পর এক আচরণবিধি লঙ্ঘন করায় প্রার্থী শাহরিয়ার দীপক বিরুদ্ধে শাহরিয়ার বিরুদ্ধে আচরণবিধি লঙ্ঘনের লিখিত অভিযোগ হয়েছে যা পত্র-পত্রিকা ও গণমাধ্যমে বেশ কয়েকবার প্রকাশিত হয়েছে।। আজকের চোরাগুপ্তা হামলা সহ নানা অতর্কিত সন্ত্রাসী হামলার বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়েছে।।। কোন পর্যন্ত কোনো আসামিকে গ্রেপ্তার করতে মনপুরা থানা সম্পূর্ণ ব্যর্থ হয়েছেন।।

আসছে বিস্তারিত……. সাথে থাকুন

ভোলার মনপুরায় নির্বাচনী মাঠে জনআতঙ্ক, দীপক বাহিনীর হাতে আহত ৫

এস এম খলিলুর রহমান
ব্যুরো চীফ হবিগঞ্জ জেলা ॥

নবীগঞ্জ পৌর এলাকার গয়াহরি গ্রামে নিরীহ ব্যক্তি বিজিত দাশ মেটনের উপর সন্ত্রাসী হামলার দায়েরী মামলার অন্যতম আসামী কাউন্সিলর যুবরাজ গোপসহ অপর আসামীদের গ্রেফতার না করায় পুলিশের বিরুদ্ধে অভিযোগ করেছেন বাদিনী সুপ্রিয়া রানী দাশ। শনিবার (১২ জুন) সকালে নবীগঞ্জ প্রেসক্লাব কার্যালয়ে অনুষ্টিত সাংবাদিক সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে সুপ্রিয়া রানী দাশ বলেন, গেল পৌর নির্বাচনকে কেন্দ্র করে কাউন্সিলর যুবরাজ গোপ তার পরিবারের উপর ক্ষিপ্ত হন। এরজের ধরে বিগত ২৬ এপ্রিল সন্ধ্যায় নবীগঞ্জ পৌরসভার ৪নং ওয়ার্ডস্থ গয়াহরি গ্রামে জ্যোতিষ দাশের বাড়ি সামনে রাস্তার উপর পেয়ে আমার স্বামী বিজিত দাশ মেটনকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে ক্ষতবিক্ষত করেন আমাদের ওয়ার্ড কাউন্সিলর যুবরাজ গোপ, জ্যোতিষ দাশ, সীমা রানী দাশ, উৎফল দাশ ও লিপ্টু দাশসহ একদল লোক। তাদের ধারালো অস্ত্রের আঘাতে আমার স্বামী গুরুতর আহত হয়ে সিলেট ও ঢাকা হাসপাতালে চিকিৎসা গ্রহন করি। আমার স্বামী আহত হয়ে মৃত্যুর সাথে পাঞ্জা লড়ছিল। পুলিশ ঘটনার খবর পেয়ে আমার স্বামীর রক্তাক্ত অবস্থা দেখে তাৎক্ষনিকভাবে জ্যোতিষ দাশকে গ্রেফতার করে। পরে ৫৪ ধারায় জেল হাজতে প্রেরন করে পুলিশ। এ ব্যাপারে আমি নবীগঞ্জ থানায় মামলা নিয়ে গেলে পুলিশ আদালতের আশ্রয় নিতে পরামর্শ দেন। পরবর্তীতে আমি বাদী হয়ে হবিগঞ্জ আদালতে উল্লেখিত দুর্বৃত্তদের আসামী করে মামলা দায়ের করি। মামলাটি আদালতের নির্দেশে এফআইআর হিসেবে নবীগঞ্জ থানায় রুজু হয়। মামলা রুজু হলেও মামলার অন্যতম আসামী যুবরাজ গোপসহ অপরাপর আসামীদেরকে পুলিশ গ্রেফতার করতে পারেনি। অথচ যুবরাজ গোপ প্রকাশ্যে নবীগঞ্জ শহরে ও বাড়িতে ঘুরে বেড়াচ্ছে। আমি অসহায় একজন মহিলা, মামলার তদন্ত কর্মকর্তা এসআই লুৎফুর রহমানকে বারবার তাগিদ দেয়া সত্ত্বেও আসামী গ্রেফতার করিতে তিনি গড়িমশি করছেন। এদিকে আমার স্বামীর বর্তমান শারীরিক অবস্থা এখন পর্যন্ত ভাল নয়। বিছানায় শয্যাসায়ী আছেন। দারিদ্রতার কারনে আমার স্বামীর চিকিৎসা করাইতে গিয়ে ইতিমধ্যে ভিটে বাড়ি বিক্রি করতে হয়েছে। সামাজিক বিচার থেকে বঞ্চিত হয়ে আইনের আশ্রয় নিয়েও আমাদের এত বিড়ম্বনা পোহাতে হবে, তা জানা ছিলনা।
বর্তমানে আমার আহত স্বামী বিজিত দাশ কথা বার্তা বলতে পারছেন না, বাম চোখেঁ দেখতেও পান না। ঘটনাটি এলাকার সকল মানূষ অবগত রয়েছেন।
ন্যায় বিচারের স্বার্থে আমার দায়েরী মামলার অন্যতম আসামী যুবরাজ গোপসহ অপর আসামীদের গ্রেফতার পুর্বক আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহনের জন্য সাংবাদিকদের মাধ্যমে পুলিশের উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করছি।

নবীগঞ্জে আসামী গ্রেফতার না করায় পুলিশের বিরুদ্ধে বাদিনীর সংবাদ সম্মেলন

error: আপনি নিউজ চুরি করার চেষ্টা করছেন। বিশেষ প্রয়োজনে যোগাযোগ করুন ০১৭৬৭৪৪৪৩৩৩