চ্যাটজিপিটি ব্যবহারের বিপদগুলোও জেনে রাখুন
চ্যাটজিপিটি ব্যবহারের বিপদগুলোও জেনে রাখুন

চ্যাটজিপিটি ব্যবহারের বিপদগুলোও জেনে রাখুন

Oplus_131072

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স (এআই) বলতে গেলে আমাদের জীবনের একটি অবিচ্ছেদ্য অংশ হয়ে উঠেছে। প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে এটি আমাদের শিক্ষা, স্বাস্থ্য, ব্যবসা-বাণিজ্য, যোগযোগ, বিনোদন ইত্যাদি সবকিছুতেই কোনো না কোনোভাবে সম্পৃক্ত হয়ে পড়ছে।ইতিমধ্যে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক প্রযুক্তিসেবা চ্যাটজিপিটি সারা বিশ্বে ব্যাপক পরিচিতি পেয়েছে। সেই সঙ্গে বিভিন্ন ক্ষেত্রে এর ব্যবহার নিয়ে তৈরি হয়েছে নানা বিতর্ক। বিশেষ করে শিক্ষাক্ষেত্রে কোথায় এটির ব্যবহার কতটুকু সমীচীন, সমস্যা সমাধানের জন্য কতটুকু মাত্রায় ব্যবহার গ্রহণযোগ্য, সেটি নিয়েও দ্বিধাদ্বন্দ্ব আছে।চ্যাটজিপিটি কী
চ্যাটজিপিটি মূলত ওপেনএআই নামের একটি মার্কিন প্রতিষ্ঠানের তৈরি ‘প্রাকৃতিক ভাষা প্রক্রিয়াকরণ’ (ন্যাচারাল ল্যাঙ্গুয়েজ প্রসেসিং) প্রযুক্তি, যেটি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তারই একটি শাখা। এটিকে কোনো প্রশ্ন করা হলে এমনভাবে আচরণ করে, যেন প্রশ্নটি বুঝতে পেরেছে এবং সেই অনুযায়ী প্রশ্নের উত্তর বা প্রতিক্রিয়া জানাতে পারে। অন্যান্য চ্যাটবটগুলো যেখানে নির্দিষ্ট কাজের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকে এবং শুধু পূর্বনির্ধারিত প্রম্পট বা কমান্ডের ভিত্তিতে সাড়া দেয়, চ্যাটজিপিটি সেখানে বিভিন্ন বিষয়ে ব্যবহারকারীর সঙ্গে অর্থপূর্ণ ও পরিপ্রেক্ষিত অনুযায়ী প্রাসঙ্গিক কথোপকথন পরিচালনা করতে পারে।কোনো প্রশ্নের উত্তরে বিস্তারিত ব্যাখ্যা যেমন দিতে পারে, তেমনি আবার প্রয়োজন হলে উপস্থাপন করতে পারে বৃহৎ কিছুর সারাংশ। এটি এতটাই বাস্তব পর্যায়ে পৌঁছেছে যে কাদার মধ্যে গরু-মহিষ আটকা পড়লে কীভাবে উদ্ধার করতে হবে, সেই উত্তর যেমন দিতে পারে, তেমনি রান্না করা মাংসে লবণ বেশি হলে কী করা উচিত, সেই পরামর্শও দিতে পারে। ব্যবহারকারী কোনো বিষয় বর্ণনা করে সেটির ওপর গল্প, কবিতা, নিবন্ধ লিখে দিতে বললে যেমন লিখতে পারে, তেমনি লিখতে পারে প্রোগ্রাম ও ই–মেইল, করতে পারে জটিল অঙ্কের সমাধান, আঁকতে পারে ছবি। চ্যাটজিপিটি ছাড়াও আরও কিছু অ্যাপ বা পরিষেবা আছে, যেগুলো একই ধরনের প্রযুক্তি ব্যবহার করে। সাধারণত এগুলো লার্জ ল্যাঙ্গুয়েজ মডেল নামে পরিচিত। ভিন্ন পরিপ্রেক্ষিত বা পরিস্থিতিতে প্রতিটি মডেলরই রয়েছে নিজস্ব কিছু সবলতা ও দুর্বলতা।শিক্ষাক্ষেত্রে চ্যাটজিপিটি
সাম্প্রতিক সময়ে শিক্ষাক্ষেত্রে চ্যাটজিপিটির ব্যাপক প্রভাব লক্ষ করা যাচ্ছে। সেটির ভালো দিক যেমন আছে, তেমনি আছে উদ্বেগজনক দিকও। শিক্ষার্থীরা নিজেদের মতো করে এখানে প্রশ্ন জিজ্ঞাসা করতে পারে এবং তাৎক্ষণিক উত্তর পেতে পারে। প্রত্যেক শিক্ষার্থীর বোঝার ধরন বা চাহিদা আলাদা। কারও হয়তো একটি বিষয়ে বুঝতে সমস্যা, তো অন্যজনের আরেকটি বিষয়ে সমস্যা। যার যেখানে বুঝতে সমস্যা, সেই অনুযায়ী নিজের মতো করে চ্যাটজিপিটিকে বিভিন্নভাবে জিজ্ঞেস করা যায়। উত্তরও আসে তাৎক্ষণিক, পাওয়া যায় বিভিন্ন আঙ্গিকের ব্যাখ্যা। শিক্ষার্থীদের তথ্য অনুসন্ধান করতে ঘণ্টার পর ঘণ্টা সময় ব্যয় করতে হয় না। শেখার এ পদ্ধতি শিক্ষার্থীদের দক্ষতা উন্নয়নে নিশ্চয়ই কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে, যদি একে সঠিকভাবে ব্যবহার করা যায়।আমাদের শিক্ষাব্যবস্থায় বড় একটি সমস্যা হলো মানসম্পন্ন লেখা, বিশেষ করে সেটি যদি হয় বিদেশি কোনো ভাষায়। বিভিন্ন একাডেমিক প্রতিবেদন, ই–মেইল, থিসিস, প্রস্তাবনা ইত্যাদি লিখতে গিয়ে বিভিন্ন পর্যায়ের ভুল হয়। বানানগত, ব্যাকরণগত, গঠনগত এ ধরনের ভুল সংশোধনে ব্যক্তিগত পরামর্শকের ভূমিকা রাখতে পারে চ্যাটজিপিটি।কিন্তু সমস্যা হলো, শিক্ষাসহায়ক এ ব্যবস্থার রয়েছে বেশ কিছু নেতিবাচক দিকও। তাই এটি ব্যবহারের ক্ষেত্রে কিছু বিষয় বিবেচনায় রাখা উচিত।
কপিপেস্ট (নকল)
শ্রেণিকক্ষে অ্যাসাইনমেন্ট, বাড়ির কাজ ইত্যাদি দেওয়ার উদ্দেশ্যই হলো শিক্ষার্থীরা যেন মাথা খাঁটিয়ে সমস্যা সমাধান করে দক্ষতা বৃদ্ধি করতে পারে। ক্লাসের বিষয়গুলো বোঝার জন্য চ্যাটজিপিটি বা অন্যান্য বহু শিক্ষাসহায়ক রিসোর্স, টিউটরিয়াল ব্যবহার করা যেতেই পারে। কিন্তু অ্যাসাইনমেন্টের সমাধান চ্যাটজিপিটিকে জিজ্ঞেস করে, সেখান থেকে পাওয়া উত্তর কপিপেস্ট করলে শেখার উদ্দেশ্য ব্যাহত তো হবেই, সঙ্গে নৈতিক দিক থেকেও সেটি হবে অগ্রহণযোগ্য।নির্ভুলতা
চ্যাটজিপিটির উত্তরগুলো সব সময় সঠিক হয় না। এটি ক্ষেত্রবিশেষে খুব আত্মবিশ্বাসী ভঙ্গিতে ভুল উত্তর দেয়। অতএব এ থেকে পাওয়া উত্তরের নির্ভুলতা ও উৎস যাচাই করার প্রয়োজন হয়। এটিকে শেখানোর জন্য যে প্রক্রিয়া নির্ধারণ করা হয়েছে বা যতটুকু ডেটা (উপাত্ত) ইনপুট হিসেবে দেওয়া হয়েছে, এটির উত্তর প্রদানের সক্ষমতা ততটুকুর মধ্যেই সীমাবদ্ধ। মানুষ যেমন অকৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার অধিকারী, সৃষ্টিশীল হয়ে নিত্যনতুন সমাধান বা চিন্তা করার যে সামর্থ্য মানুষের আছে, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার সেটি নেই। চ্যাটজিপিটির মতো পরিষেবাগুলো কিছু শুরু করার ক্ষেত্রে বা বুঝতে পারার ক্ষেত্রে সাহায্য করতে পারে, কিন্তু কোনোভাবেই সেটি মানুষের বুদ্ধিমত্তার প্রতিস্থাপন নয়।সামাজিক মিথস্ক্রিয়া
চ্যাটজিপিটিকে মানুষের মিথস্ক্রিয়ার বিকল্প হিসেবে ভাবা উচিত নয়। সহপাঠী ও শিক্ষকদের উপস্থিতিতে শ্রেণিকক্ষে যে মিথস্ক্রিয়ার সুযোগ সৃষ্টি হয়, শিক্ষার্থীদের সামাজিক ও মানসিক দক্ষতাসহ সামগ্রিক বিকাশের জন্য এর গুরুত্ব অপরিসীম। একটি সমস্যা সমাধান মানে শুধু উত্তর বের করে নিয়ে আসা নয়। বহু সমস্যা সমাধানের জন্য দলগতভাবে কাজ করতে হয়, অন্য সদস্যদের মনমানসিকতা বুঝতে পারতে হয়, নিজের চিন্তাভাবনা সবার সামনে সঠিকভাবে উপস্থাপন করতে জানতে হয়, পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ তৈরি করতে হয়। এ রকম বহুধরনের দক্ষতা রয়েছে, বহু শিক্ষার ব্যাপার রয়েছে, যেগুলোর সমাধান কখনোই চ্যাটজিপিটির কাছে পাওয়া সম্ভব নয়।
অতিনির্ভরশীলতা
চ্যাটজিপিটির সহায়তা নিতে গিয়ে যদি এমন পরিস্থিতি তৈরি হয় যে স্বাভাবিক চিন্তা করার আগ্রহ হারিয়ে ফেলছেন, অপ্রয়োজনীয় কিছুর জন্যও চ্যাটজিপিটির দ্বারস্থ হচ্ছেন, তাহলে সেটি উদ্বেগজনক। এতে আপনার স্বভাবজাত সৃজনশীলতার বিকাশ ব্যাহত হতে পারে, নষ্ট হতে পারে ‘ক্রিটিক্যালি’ চিন্তা করার সুযোগ। প্রকাশনা, থিসিস, গবেষণা বা বৃত্তির আবেদনের ক্ষেত্রে অনেক সময় উল্লেখ করাই থাকে, সরাসরি এআই-সহায়তা নিয়ে লেখা দেওয়া যাবে না। অতিরিক্ত নির্ভরশীল হয়ে পড়লে এসব ক্ষেত্রেও আপনি সমস্যায় পড়তে পারেন।


গানে থাকা দৃশ্যমান ওয়াটারমার্ক সরানোর সুযোগ দিচ্ছে প্রতিষ্ঠানটি। তবে দৃশ্যমান ওয়াটারমার্ক সরানো হলেও এআই দিয়ে তৈরি কনটেন্ট শনাক্ত করতে গোপন প্রযুক্তিগত চিহ্ন বহাল থাকবে।

 

গুগল নতুন একটি সেটিং চালু করেছে, যার মাধ্যমে ব্যবহারকারীরা জেমিনির ‘ন্যানো ব্যানানা’ ইমেজ জেনারেশন মডেল দিয়ে তৈরি ছবির দৃশ্যমান ওয়াটারমার্ক সরাতে পারবেন। বর্তমানে নির্দিষ্ট কিছু অঞ্চলে জেমিনি ও ‘ফ্লো’ প্ল্যাটফর্মে এ সুবিধা পাওয়া যাচ্ছে। শিগগিরই গুগলের ‘সার্চ এআই মোডেও’ এটি চালু হতে পারে।

 

শুধু ছবিই নয়, এআই দিয়ে তৈরি অন্যান্য কনটেন্টের ক্ষেত্রেও ওয়াটারমার্ক সরানোর সুবিধা দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে গুগলের। জেমিনি ‘ওমনি’ দিয়ে তৈরি ভিডিও এবং ‘লিরিয়া’ দিয়ে তৈরি গান থেকেও দৃশ্যমান ওয়াটারমার্ক সরাতে পারবেন ব্যবহারকারীরা।

 

স্থানীয় আইনের ওপর নির্ভর করবে ওয়াটারমার্ক অপসারণ

 

গুগল জানিয়েছে, যেসব দেশ বা অঞ্চলে আইন অনুযায়ী এআই-নির্মিত কনটেন্টে ওয়াটারমার্ক প্রদর্শন বাধ্যতামূলক, সেখানে এ সুবিধা পাওয়া যাবে না।

 

তবে দৃশ্যমান ওয়াটারমার্ক সরানো গেলেও এআই-নির্মিত কনটেন্ট থেকে গোপন শনাক্তকারী সরাবে না গুগল। প্রতিষ্ঠানটি কনটেন্টের উৎস ও পরিচয় শনাক্ত করতে ‘সিন্থআইডি’ নামের অদৃশ্য ওয়াটারমার্ক প্রযুক্তির পাশাপাশি ‘সিটুপিএ’ মেটাডেটা ব্যবহার করবে।

ওয়াটারমার্ক সরালেও শনাক্ত করা যাবে এআই কনটেন্ট

 

দৃশ্যমান ওয়াটারমার্ক সরিয়ে ফেললেই কোনো কনটেন্ট এআই দিয়ে তৈরি বা সম্পাদিত হয়েছে—এটি শনাক্ত করা অসম্ভব হয়ে যাবে না। গুগলের দাবি, ব্যবহারকারীরা চাইলে জেমিনিকে জিজ্ঞেস করেও জানতে পারবেন কোনো ছবি এআই দিয়ে তৈরি বা সম্পাদিত হয়েছে কি না।

 

জেমিনি ছবির গোপন উৎস-সংক্রান্ত তথ্য বিশ্লেষণ করতে পারে এবং যেখানে প্রযোজ্য, সেখানে ‘সিন্থআইডি’ শনাক্তকারী খুঁজে বের করতে পারে। এর ফলে দৃশ্যমানভাবে কনটেন্টে কোনো চিহ্ন না থাকলেও পেছনের প্রযুক্তির মাধ্যমে সেটি এআই-নির্মিত কি না, তা শনাক্ত করার সুযোগ থাকবে।

 

এআই কনটেন্ট নিয়ে বাড়ছে বিতর্ক

 

এআই দিয়ে তৈরি ছবি, ভিডিও, গানসহ বিভিন্ন ধরনের কনটেন্টের ব্যবহার দ্রুত বাড়ছে। ফলে কৃত্রিমভাবে তৈরি কনটেন্ট যেন সহজে শনাক্ত করা যায়, সে বিষয়ে প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলোর ওপর চাপও বাড়ছে।

 

একই সঙ্গে ব্যবহারকারীরা যেন নিজেদের প্রয়োজন অনুযায়ী এআই-নির্মিত কনটেন্টের দৃশ্যমান উপস্থাপনা নিয়ন্ত্রণ করতে পারেন, সেই দাবিও রয়েছে। গুগলের নতুন সিদ্ধান্তকে দৃশ্যমান লেবেলিং ও গোপন শনাক্তকরণ—এই দুই ব্যবস্থার মধ্যে ভারসাম্য তৈরির একটি উদ্যোগ হিসেবে দেখা হচ্ছে।

জেমিনির এআই কনটেন্ট থেকে ওয়াটারমার্ক সরানোর সুযোগ দিচ্ছে গুগল

বাংলাদেশে প্রথমবারের মতো আনুষ্ঠানিকভাবে চালু হচ্ছে গুগলের ডিজিটাল পেমেন্ট সেবা গুগল পে।বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর ড. আহসান এইচ মনসুর মঙ্গলবার (২৪ জুন) রাজধানীর একটি হোটেলে আয়োজিত অনুষ্ঠানে এই সেবার আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করবেন। সিটি ব্যাংক গুগলের সঙ্গে অংশীদার হয়ে এই সেবা চালু করতে যাচ্ছে। সহযোগী হিসেবে রয়েছে আন্তর্জাতিক কার্ড ব্র্যান্ড মাস্টারকার্ড এবং ভিসা। দেশের মধ্যে প্রথমবারের মতো সিটি ব্যাংকই সরাসরি গুগল পে’র সঙ্গে যুক্ত হলো। গুগল পে চালুর মাধ্যমে দেশের গ্রাহকরা এখন থেকে তাদের অ্যান্ড্রয়েড স্মার্টফোন ব্যবহার করেই সহজ, দ্রুত ও নিরাপদ উপায়ে লেনদেন করতে পারবেন। পেমেন্টের জন্য আর আলাদা করে কার্ড বহন করার প্রয়োজন হবে না। ফোন ট্যাপ করেই দেশে বা বিদেশে যেকোনো পয়েন্ট-অব-সেল (POS) টার্মিনালে অর্থ প্রদান সম্ভব হবে।এই সেবায় গুগল কোনো ফি নিচ্ছে না, ফলে ব্যবহারকারীরা সম্পূর্ণ ফ্রি-তে গুগল পে ব্যবহার করতে পারবেন। প্রাথমিকভাবে এই সুবিধা সিটি ব্যাংকের মাস্টারকার্ড ও ভিসা কার্ডধারীদের জন্য চালু হচ্ছে। সেবাটি ব্যবহারের জন্য গ্রাহকদের একটি অ্যান্ড্রয়েড স্মার্টফোনে গুগল পে অ্যাপ ডাউনলোড করে নিজেদের কার্ডের তথ্য যুক্ত করতে হবে। একবার কার্ড যুক্ত হয়ে গেলে, যেকোনো দোকান, শপিং মল বা রেস্তোরাঁয় স্মার্টফোন ট্যাপ করেই তা দিয়ে পেমেন্ট করা যাবে।

দেশে আজ থেকে চালু হচ্ছে গুগল পে, পাওয়া যাবে যেসব সুবিধা

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

র‌্যাবের চৌকস অভিযানে জীপসহ প্রায় ১১ হাজার ইয়াবার চালান আটক

জামালপুর হামলা পাল্টা হামলার মধ্য দিয়ে জেলার সানন্দবাড়ী তে থমথমে অবস্থা বিরাজমান।

পর্নোগ্রাফি নিয়ন্ত্রণ আইনে এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা দায়ের ও আদালতে মিথ্যা হলফনামা দেয়ার অভিযোগে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের কেবিন ক্রু খাদিজা সুলতানা শিমুর বিরুদ্ধে মামলা দায়েরের নির্দেশ দিয়েছেন আদালত।

 

বুধবার (১৫ জুলাই) ঢাকার অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালত-২-এর বিচারক মো. জাকির হোসাইন এ আদেশ দেন। আদালতের আদেশে বলা হয়েছে, শিমুর বিরুদ্ধে পর্নোগ্রাফি নিয়ন্ত্রণ আইন, ২০১২-এর ১৩ ধারা এবং দণ্ডবিধির ১৮১, ১৮২ ও ১৯৩ ধারায় মামলা করা হবে। আদালত নিজেই এ মামলার বাদী হয়েছেন।

 

আদালতের নথি অনুযায়ী, খাদিজা সুলতানা শিমু মামলার বাদী হয়ে বেসরকারি একটি এয়ারলাইন্সের কর্মকর্তা মো. ওমর ফারুক চৌধুরীর বিরুদ্ধে পর্নোগ্রাফি নিয়ন্ত্রণ আইনের বিভিন্ন ধারায় উত্তরা পশ্চিম থানায় মামলা করেন।

 

তদন্ত শেষে উত্তরা পশ্চিম থানার তদন্ত কর্মকর্তা আদালতে চূড়ান্ত প্রতিবেদন দাখিল করে জানান, অভিযোগের সত্যতা পাওয়া যায়নি। প্রতিবেদনে বলা হয়, মামলার এজাহারে উল্লেখ করা ফেসবুক লিংক, ডিজিটাল আলামত ও অন্যান্য তথ্য যাচাই করে ওমর ফারুকের বিরুদ্ধে পর্নোগ্রাফি প্রচারের কোনো প্রমাণ মেলেনি। ফলে ওই কর্মকর্তাকে মামলা থেকে অব্যাহতির সুপারিশ করা হয়।

একই সঙ্গে তদন্ত কর্মকর্তা প্রতিবেদনে উল্লেখ করেন, ওমর ফারুক আগে শিমুর বিরুদ্ধে বিয়ের প্রলোভন দিয়ে অর্থ আত্মসাতের অভিযোগে আদালতে মামলা করেছিলেন। সেই মামলার দায় এড়াতেই শিমু সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচারিত বিভিন্ন লিংক উল্লেখ করে তার বিরুদ্ধে পর্নোগ্রাফি ছড়ানোর অভিযোগ এনে উদ্দেশ্যপ্রণোদিত, হয়রানিমূলক ও মিথ্যা মামলা করেছেন বলে প্রাথমিক তদন্তে প্রতীয়মান হয়েছে। এ কারণে শিমুর বিরুদ্ধে পর্নোগ্রাফি নিয়ন্ত্রণ আইন, ২০১২-এর ১৩ ধারায় আইনগত ব্যবস্থা নেয়ার আবেদনও করেন তদন্ত কর্মকর্তা।

 

পরে গত ৯ জুলাই আদালত তদন্ত প্রতিবেদন গ্রহণ করে ওমর ফারুককে মামলা থেকে অব্যাহতি দেন। আদালতের আদেশে বলা হয়, শিমু ক্ষতিসাধনের উদ্দেশ্যে আদালতে মিথ্যা মামলা দায়ের করেছেন এবং হলফ করে মিথ্যা সাক্ষ্য দিয়েছেন। মামলার নথিতে তার দেয়া হলফনামাও সংযুক্ত রয়েছে। এসব বিবেচনায় আদালত নিজেই বাদী হয়ে তার বিরুদ্ধে পর্নোগ্রাফি নিয়ন্ত্রণ আইন ও দণ্ডবিধির সংশ্লিষ্ট ধারায় মামলা দায়েরের নির্দেশ দেন।

 

তদন্তে যা উঠে এসেছে পুলিশের চূড়ান্ত প্রতিবেদনে বলা হয়, তদন্তকালে রেকর্ড, ডিজিটাল আলামত, ফেসবুক লিংক ও ফরেনসিক তথ্য যাচাই করে ওমর ফারুকের বিরুদ্ধে পর্নোগ্রাফি প্রচারের কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি।

 

তদন্তে আরও উঠে আসে, শিমু বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের কেবিন ক্রু এবং ওমর ফারুক একটি বেসরকারি এয়ারলাইন্সের এয়ারক্রাফট মেইনটেন্যান্স কর্মকর্তা। ফেসবুকে পরিচয়ের পর তাদের মধ্যে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে।

 

প্রতিবেদনে বলা হয়, বিয়ের আশ্বাস দিয়ে বিভিন্ন সময়ে ওমর ফারুকের কাছ থেকে বিপুল পরিমাণ অর্থ ও মূল্যবান সামগ্রী নেয়ার অভিযোগে ওমর ফারুক আদালতে পৃথক মামলা করেন। এরপর সেই মামলার দায় থেকে নিজেকে রক্ষা করতেই শিমু পর্নোগ্রাফি আইনে অভিযোগ দায়ের করেন বলে তদন্তে প্রতীয়মান হয়েছে।

 

ওমর ফারুকের আগের মামলা গত ২০ জুলাই ওমর ফারুক চৌধুরী শিমুর বিরুদ্ধে বিয়ের প্রলোভন, ‘হানি ট্র্যাপ’ ও ব্ল্যাকমেইলের মাধ্যমে প্রায় ২২ লাখ টাকা আত্মসাতের অভিযোগে ঢাকার আদালতে মামলা করেন। আদালত অভিযোগটি আমলে নিয়ে উত্তরা পশ্চিম থানাকে তদন্তের নির্দেশ দেন। পরে তিনি বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স কর্তৃপক্ষের কাছেও লিখিত অভিযোগ করেন।

 

সেই মামলায় অভিযোগ করা হয়, ২০২৪ সালে ফেসবুকে পরিচয়ের পর শিমু তাকে বিয়ের আশ্বাস দিয়ে বিভিন্ন সময়ে টাকা নেন। জন্মদিনে দেড় লাখ টাকা মূল্যের একটি হীরার আংটিসহ বিয়ের খরচের জন্য মোট ২১ লাখ ৭৪ হাজার ৫১১ টাকা নেয়ার পরও বিয়ে না করে প্রতারণার মাধ্যমে অর্থ আত্মসাৎ করা হয়েছে বলে মামলায় দাবি করা হয়।

পর্নোগ্রাফি আইনে কেবিন ক্রু শিমুর বিরুদ্ধে মামলার নির্দেশ আদালতের

ভোলার মনপুরায় নির্বাচনী মাঠে জনআতঙ্ক, দীপক বাহিনীর হাতে আহত ৫

ভোলার মনপুরায় নির্বাচনী মাঠে জনআতঙ্কে, থমথমে পুরো মনপুরা। আসন্ন 2 নং হাজিরহাট ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনী প্রচারণা কালীন সময় প্রার্থী নিজামুদ্দিন হাওলাদারের নেতাকর্মী ও সমর্থকদের বেধড়ক মারধর করার অভিযোগ উঠে এসেছে। প্রার্থীকে বেধড়ক মারধর করায় গুরুতর আহত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি আছেন, নাছির(২৩), আল আমিন(২৫),জিদনী (১৮),অনি (২৩)কাশেম(২৮),অজয়(২৬)

আহতদের পরিবার জানিয়েছেন আহতদের অবস্থা গুরুতর, চিকিৎসার জন্য জেলাতে নেওয়া প্রয়োজন হতে পারে।।

মেম্বার প্রার্থী নাসির অভিযোগ করে বলেন , স্থানীয় প্রশাসন অত্যন্ত দুর্বল অবস্থায় রয়েছে,মাঠ প্রশাসন নীরব দর্শকের ভূমিকা পালন করছেন, দীপক রাশি বাহিনী এরপর এক সন্ত্রাসী কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে, আমি নির্বাচন প্রতারণা চলাকালীন সময়ে অতর্কিত দীপক বাহিনীর মূল হোতা সন্ত্রাসী মাকসুদের নেতৃত্বে দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র সহ আমাকেও আমার তুই ছেলের উপর হামলা চালান।। এতে করে আমিও আমার ছোট ছেলে আমিন গুরুতর আহত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়ে রয়েছি।। মনপুরা পুলিশ প্রশাসনের নিকট আমি অভিযোগ করেছি।ওসি মনপুরা এখন পর্যন্ত কোনো ব্যবস্থা গ্রহণ করেন নাই। তিনি আরো বলেন সন্ত্রাসী ফারুক ফরাজী, ইলিয়াছ চৌধূরী, ইলিয়াস ফরাজী, ফুহাদ আওলাদ মাতাব্বর, মনির ফরাজী, খোকন পর এক নানা সন্ত্রাসী কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছেন।

চেয়ারম্যান প্রার্থী নুরুল ইসলাম অভিযোগ করে বলেন নির্বাচনকে বানচাল করার জন্য একের পর এক সন্ত্রাসী কার্যক্রম চালিয়ে গেলেও ওসি মনপুরা এখন পর্যন্ত কোন ধরনের ব্যবস্থা গ্রহণ করতে পারে নাই, চিরে যদি সন্ত্রাসীদের দমন না করা হয় তাহলে নির্বাচন হবে মনপুরা হবে ঝুঁকিপূর্ণ, নির্বাচনে মাঠ প্রশাসন নিয়ন্ত্রনহীন হয়ে পড়বেন।। নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট আকিব ওসমান মাঠ প্রশাসন নিয়ন্ত্রণে কাজ করলেও এখন পর্যন্ত মনপুরা মাঠ নিয়ন্ত্রণে আনতে পরিপূর্ণ ব্যর্থ হয়েছেন।।

অপর চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী নিজাম উদ্দিন হাওলাদার অভিযোগ করে বলেন পরোক্ষভাবে প্রত্যক্ষভাবে দীপক বাহিনী এ ধরনের ঘটনা চলেছেন, অতর্কিত হামলা, চোরাগুপ্তা হামলা সহ নানা ধরনের কর্মের সাথে পার্থী শাহরিয়া দীপক সরাসরি জড়িত রয়েছেন।।

মুঠোফোনে প্রার্থী শাহরিয়ার চৌধুরী দীপক এর নিকট জানতে চাইলে তিনি সাংবাদিক পরিচয় পেয়ে ব্যস্ততা দেখিয়ে ফোন কাটিয়ে দেন।

বিষয়টি নিয়ে ওসি মনপুরা কে বারবার ফোন করলেও এখন এখন পর্যন্ত মুঠোফোনে পাওয়া যায়নি।।

বিষয়টি নিয়ে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট হাকিম ওসমান এর সাথে কথা বললে তিনি বলেন আমি অতি দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণ করছি, মনপুরাকে মামলা গ্রহণের জন্য নির্দেশ প্রদান করেছি।। অচিরেই মনপুরায় মাঠ প্রশাসন নিয়ন্ত্রণে আনাতে আমি নিরস কাজ করছি।।

উল্লেখ্য এই যে মনপুরা উপজেলা একের পর এক আচরণবিধি লঙ্ঘন করায় প্রার্থী শাহরিয়ার দীপক বিরুদ্ধে শাহরিয়ার বিরুদ্ধে আচরণবিধি লঙ্ঘনের লিখিত অভিযোগ হয়েছে যা পত্র-পত্রিকা ও গণমাধ্যমে বেশ কয়েকবার প্রকাশিত হয়েছে।। আজকের চোরাগুপ্তা হামলা সহ নানা অতর্কিত সন্ত্রাসী হামলার বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়েছে।।। কোন পর্যন্ত কোনো আসামিকে গ্রেপ্তার করতে মনপুরা থানা সম্পূর্ণ ব্যর্থ হয়েছেন।।

আসছে বিস্তারিত……. সাথে থাকুন

ভোলার মনপুরায় নির্বাচনী মাঠে জনআতঙ্ক, দীপক বাহিনীর হাতে আহত ৫

এস এম খলিলুর রহমান
ব্যুরো চীফ হবিগঞ্জ জেলা ॥

নবীগঞ্জ পৌর এলাকার গয়াহরি গ্রামে নিরীহ ব্যক্তি বিজিত দাশ মেটনের উপর সন্ত্রাসী হামলার দায়েরী মামলার অন্যতম আসামী কাউন্সিলর যুবরাজ গোপসহ অপর আসামীদের গ্রেফতার না করায় পুলিশের বিরুদ্ধে অভিযোগ করেছেন বাদিনী সুপ্রিয়া রানী দাশ। শনিবার (১২ জুন) সকালে নবীগঞ্জ প্রেসক্লাব কার্যালয়ে অনুষ্টিত সাংবাদিক সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে সুপ্রিয়া রানী দাশ বলেন, গেল পৌর নির্বাচনকে কেন্দ্র করে কাউন্সিলর যুবরাজ গোপ তার পরিবারের উপর ক্ষিপ্ত হন। এরজের ধরে বিগত ২৬ এপ্রিল সন্ধ্যায় নবীগঞ্জ পৌরসভার ৪নং ওয়ার্ডস্থ গয়াহরি গ্রামে জ্যোতিষ দাশের বাড়ি সামনে রাস্তার উপর পেয়ে আমার স্বামী বিজিত দাশ মেটনকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে ক্ষতবিক্ষত করেন আমাদের ওয়ার্ড কাউন্সিলর যুবরাজ গোপ, জ্যোতিষ দাশ, সীমা রানী দাশ, উৎফল দাশ ও লিপ্টু দাশসহ একদল লোক। তাদের ধারালো অস্ত্রের আঘাতে আমার স্বামী গুরুতর আহত হয়ে সিলেট ও ঢাকা হাসপাতালে চিকিৎসা গ্রহন করি। আমার স্বামী আহত হয়ে মৃত্যুর সাথে পাঞ্জা লড়ছিল। পুলিশ ঘটনার খবর পেয়ে আমার স্বামীর রক্তাক্ত অবস্থা দেখে তাৎক্ষনিকভাবে জ্যোতিষ দাশকে গ্রেফতার করে। পরে ৫৪ ধারায় জেল হাজতে প্রেরন করে পুলিশ। এ ব্যাপারে আমি নবীগঞ্জ থানায় মামলা নিয়ে গেলে পুলিশ আদালতের আশ্রয় নিতে পরামর্শ দেন। পরবর্তীতে আমি বাদী হয়ে হবিগঞ্জ আদালতে উল্লেখিত দুর্বৃত্তদের আসামী করে মামলা দায়ের করি। মামলাটি আদালতের নির্দেশে এফআইআর হিসেবে নবীগঞ্জ থানায় রুজু হয়। মামলা রুজু হলেও মামলার অন্যতম আসামী যুবরাজ গোপসহ অপরাপর আসামীদেরকে পুলিশ গ্রেফতার করতে পারেনি। অথচ যুবরাজ গোপ প্রকাশ্যে নবীগঞ্জ শহরে ও বাড়িতে ঘুরে বেড়াচ্ছে। আমি অসহায় একজন মহিলা, মামলার তদন্ত কর্মকর্তা এসআই লুৎফুর রহমানকে বারবার তাগিদ দেয়া সত্ত্বেও আসামী গ্রেফতার করিতে তিনি গড়িমশি করছেন। এদিকে আমার স্বামীর বর্তমান শারীরিক অবস্থা এখন পর্যন্ত ভাল নয়। বিছানায় শয্যাসায়ী আছেন। দারিদ্রতার কারনে আমার স্বামীর চিকিৎসা করাইতে গিয়ে ইতিমধ্যে ভিটে বাড়ি বিক্রি করতে হয়েছে। সামাজিক বিচার থেকে বঞ্চিত হয়ে আইনের আশ্রয় নিয়েও আমাদের এত বিড়ম্বনা পোহাতে হবে, তা জানা ছিলনা।
বর্তমানে আমার আহত স্বামী বিজিত দাশ কথা বার্তা বলতে পারছেন না, বাম চোখেঁ দেখতেও পান না। ঘটনাটি এলাকার সকল মানূষ অবগত রয়েছেন।
ন্যায় বিচারের স্বার্থে আমার দায়েরী মামলার অন্যতম আসামী যুবরাজ গোপসহ অপর আসামীদের গ্রেফতার পুর্বক আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহনের জন্য সাংবাদিকদের মাধ্যমে পুলিশের উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করছি।

নবীগঞ্জে আসামী গ্রেফতার না করায় পুলিশের বিরুদ্ধে বাদিনীর সংবাদ সম্মেলন

error: আপনি নিউজ চুরি করার চেষ্টা করছেন। বিশেষ প্রয়োজনে যোগাযোগ করুন ০১৭৬৭৪৪৪৩৩৩