
কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের প্রধান ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার আগামী ডিসেম্বরে দেশে ফেরার প্রচারণার প্রসঙ্গে ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীর বিক্রম বলেছেন, ‘তারা বলে ডিসেম্বর মাসে দেশে আসবে। আমরা অপেক্ষা করে আছি। দেশে আসুক। ইনশাআল্লাহ রাজপথে দেখা হবে।’
বুধবার (০৫ আগস্ট) রাজধানীর বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে আয়োজিত শহীদ পরিবার ও জুলাইযোদ্ধাদের সংবর্ধনা ও আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের প্রধান ও গণঅভ্যুত্থানে ক্ষমতাচ্যুত হয়ে ভারতে অবস্থানরত শেখ হাসিনা আগামী ডিসেম্বরে দেশে ফিরবেন বলে দলটির অ্যাক্টিভিস্টদের প্রচারণার জবাবে ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি বলেন, ‘আমরা তো আওয়ামী লীগ হতে পারব না, হতেও চাই না। তাদের কোনো অনুশোচনা নেই। এত অন্যায়, অবিচার, খুন, গুম, অর্থ পাচার, হত্যা, নির্যাতন, আয়নাঘর—কোনো কিছু নিয়েই তাদের লজ্জাবোধ নেই। আবার বলে, ডিসেম্বর মাসে দেশে আসবে। আমরা অপেক্ষা করছি। দেশে আসুক, দেখা হবে ইনশাআল্লাহ রাজপথে।’
তিনি আরও বলেন, ‘২৭ বছর বয়সে মুক্তিযুদ্ধ করেছি, এখন ৮২ বছর বয়সে বাংলাদেশের জন্য আরেকটি যুদ্ধ করব।’
জুলাই অভ্যুত্থানে শহীদ ও আহতদের প্রসঙ্গে ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি বলেন, সরকারের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব হলো নিহতদের পরিবারের পাশে দাঁড়ানো এবং আহতদের চিকিৎসা ও পুনর্বাসন নিশ্চিত করা। দেশের সামর্থ্য অনুযায়ী তাদের সর্বোচ্চ সহায়তা দেওয়া হবে বলেও আশ্বাস দেন তিনি।
গণতন্ত্র ও নির্বাচন প্রসঙ্গে হাফিজ উদ্দিন আহমদ বলেন, ‘১৯৭১ সালের জনযুদ্ধ ছিল গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার যুদ্ধ। একইভাবে জুলাইয়ের এই আন্দোলনও ছিল গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার জন্য। নির্বাচন গণতন্ত্রের অবিচ্ছেদ্য অংশ। যতদিন গণতন্ত্র ও মানুষের মত প্রকাশের স্বাধীনতা থাকবে, ততদিন দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বও অক্ষুণ্ন থাকবে।’
তিনি জাতীয় ঐক্যের আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, মতপার্থক্য থাকলেও জাতীয় স্বার্থ, গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ এবং দেশের স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্বের প্রশ্নে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে।
এদিকে অনুষ্ঠানে প্রদর্শিত একটি প্রামাণ্যচিত্রে জুলাই অভ্যুত্থানের প্রথম শহীদ আবু সাঈদ এবং বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার ছবি না থাকায় হট্টগোল ও বিশৃঙ্খলার সৃষ্টি হয়। এ ঘটনায় দুঃখ প্রকাশ করে হাফিজ উদ্দিন আহমদ বলেন, জাতীয় অনুষ্ঠানে এমন পরিস্থিতি কাম্য নয়। সংশ্লিষ্টরা ভুল স্বীকার করে ক্ষমা চাওয়ার পরও বিশৃঙ্খলা চলতে থাকা অনভিপ্রেত।
তিনি বলেন, ‘বিদেশিরাও অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন। তাদের সামনে এ ধরনের ঘটনা আমাকে ব্যথিত করেছে। রাষ্ট্রীয় অনুষ্ঠানে “ভুয়া, ভুয়া” বলে চিৎকার করা আমাদের রাজনৈতিক সংস্কৃতির জন্য শুভ নয়।’
Leave a Reply