জাতীয় ডেস্ক: দেশের বিমান চলাচল খাতের সম্প্রসারণ ও আন্তর্জাতিক যোগাযোগের পরিধি বাড়াতে একটি নতুন আধুনিক বিমানবন্দর নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এই প্রকল্পের অংশ হিসেবে ময়মনসিংহের ত্রিশালে একটি আন্তর্জাতিক মানের বিমানবন্দর স্থাপনের পরিকল্পনা হাতে নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটনমন্ত্রী এম. রশিদুজ্জামান মিল্লাত। সম্প্রতি ময়মনসিংহ সিটি করপোরেশনের উদ্যোগে আয়োজিত এক কৃতি শিক্ষার্থী সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এই গুরুত্বপূর্ণ পরিকল্পনার কথা জানান। নগরীর সারিন্দা সবারি রিসোর্টে ‘সৃষ্টি সুখের উল্লাসে’ শীর্ষক এই বর্ণাঢ্য অনুষ্ঠানটির আয়োজন করা হয়েছিল।
অনুষ্ঠানে দেশের এভিয়েশন খাতের ভবিষ্যৎ রূপরেখা তুলে ধরে বিমানমন্ত্রী বলেন, এ দেশের নতুন প্রজন্ম যেভাবে মেধা ও দক্ষতার পরিচয় দিয়ে এগিয়ে চলেছে, তাতে আগামী দিনে দেশের এয়ারলাইন্সের বহরে দুই শতাধিক উড়োজাহাজ যুক্ত হতে পারে। এই ক্রমবর্ধমান চাহিদা মেটানোর অংশ হিসেবে ইতোমধ্যে ৩৫টি নতুন উড়োজাহাজ ক্রয়ের পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে। মন্ত্রী জানান, দীর্ঘমেয়াদি এই পরিকল্পনার আওতায় কেনা নতুন বিমানগুলো আগামী দশকের শুরু থেকে পর্যায়ক্রমে দেশের বহরে যুক্ত হওয়া শুরু করবে। বর্তমানের উড়োজাহাজগুলোর বয়স বাড়ার আগেই ভবিষ্যতের আকাশপথের চাহিদা পূরণে এখন থেকেই সুদূরপ্রসারী প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
আন্তর্জাতিক আকাশপথে বাংলাদেশের যোগাযোগ আরও দৃঢ় করতে বেশ কিছু নতুন রুটে ফ্লাইট চালুর ওপর বিশেষ জোর দিয়েছেন সংশ্লিষ্ট মন্ত্রী। ঐতিহ্যগতভাবে কানাডা ও যুক্তরাষ্ট্রের পাশাপাশি এবার দক্ষিণ কোরিয়া এবং চীনের মতো অর্থনৈতিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ দেশগুলোতে সরাসরি বিমান চলাচলের পরিকল্পনা রয়েছে সরকারের। একই সঙ্গে আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরগুলোতে প্রয়োজনীয় ফ্লাইট স্লট নিশ্চিত করার জন্য সুনির্দিষ্ট কূটনৈতিক ও প্রশাসনিক কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার কথা জানান তিনি। বিমান যোগাযোগের পাশাপাশি দেশের পর্যটনশিল্পের প্রসারেও সরকারের পক্ষ থেকে নানামুখী উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে বলে অনুষ্ঠানে জানানো হয়।
এই ধারাবাহিকতায় নেত্রকোনার জনপ্রিয় পর্যটন এলাকা বিরিশিরিকে একটি জাতীয় মানের আকর্ষণীয় পর্যটনকেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলার সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা রয়েছে সরকারের। বৃহত্তর ময়মনসিংহ অঞ্চলের সামগ্রিক অবকাঠামোগত উন্নয়ন, যোগাযোগ ব্যবস্থার আধুনিকায়ন এবং নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টির লক্ষ্যে স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের সঙ্গে নিয়ে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেন মন্ত্রী। ময়মনসিংহ সিটি করপোরেশনের প্রশাসক মো. রোকনোজ্জামান রোকনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই আয়োজনে সরকারের বেশ কয়েকজন গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রী ও স্থানীয় সংসদ সদস্য বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন।
অনুষ্ঠানের মূল আকর্ষণ ছিল ময়মনসিংহ সিটি করপোরেশন এলাকার বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে সম্প্রতি অনুষ্ঠিত এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষায় কৃতিত্বের সঙ্গে জিপিএ-৫ অর্জনকারী শিক্ষার্থীদের সংবর্ধনা। মূলত ২০২৬ সালের এই কৃতী শিক্ষার্থীদের উৎসাহ দিতে শহরটির প্রায় ১ হাজার ২০০ কৃতি শিক্ষার্থীকে এই অনুষ্ঠানে সংবর্ধিত করা হয়। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছাড়াও তথ্য ও সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রী ইয়াসের খান চৌধুরীসহ স্থানীয় সংসদ সদস্যরা উপস্থিত থেকে শিক্ষার্থীদের হাতে সম্মাননা তুলে দেন এবং তাদের উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ কামনা করেন।
Leave a Reply