নারীর ডাকে মৈত্রী যাত্রা এবং ন্যায়ভিত্তিক বাংলাদেশ গড়ার সংগ্রাম
নারীর ডাকে মৈত্রী যাত্রা এবং ন্যায়ভিত্তিক বাংলাদেশ গড়ার সংগ্রাম

নারীর ডাকে মৈত্রী যাত্রা এবং ন্যায়ভিত্তিক বাংলাদেশ গড়ার সংগ্রাম

Oplus_131072

মানুষ স্বাধীন হয়ে জন্মায়, কিন্তু সর্বত্র সে শৃঙ্খলে আবদ্ধ।’ ফরাসি দার্শনিক জ্যঁ-জ্যাক রুশো তাঁর সোশ্যাল কন্ট্রাক্ট বইটি এই উক্তি দিয়ে শুরু করেন। ‘মানুষের সম্মিলিত ইচ্ছার ভিত্তিতে গড়ে ওঠা কর্তৃত্বই প্রকৃত রাজনৈতিক বৈধতা পায়’—ধারণাটি প্রকাশ করতেই মূলত রুশো বইটি লেখেন। এখানে তিনি দেখিয়েছেন, কীভাবে ব্যক্তিগত স্বাধীনতা সমাজ ও রাষ্ট্রের শৃঙ্খলার সঙ্গে মিলেমিশে টিকে থাকতে পারে।
সিমোন দ্য বোভোয়ারের তাঁর সেকেন্ড সেক্স গ্রন্থে বলেন, ‘নারী জন্মগতভাবে হয় না, বরং সমাজ তাকে নারীতে পরিণত করে।’ এর মানে হলো—জৈবিক লিঙ্গ ও সামাজিক লিঙ্গ এক নয়। অর্থাৎ সমাজ জন্মের পর থেকেই নারীদের ওপর বিভিন্ন ভূমিকা, সীমাবদ্ধতা ও প্রত্যাশা আরোপ করে এবং তাদের একটি বিশেষ ‘নারীত্বের’ ছাঁচে গড়ে তোলে।

উল্লিখিত রুশোর বক্তব্য ও সিমোন দ্য বোভোয়ারের বক্তব্য যোগ করলে ইউনূস সরকারের উদ্যোগে গঠিত নারী সংস্কার কমিটির প্রস্তাবগুলো এবং প্রস্তাবের বিরোধিতাগুলো বুঝতে সুবিধা হবে।
সমাজের ও রাষ্ট্রের শৃঙ্খলে বাঁধা কেবল নারীর স্বাধীনতা নয়, বাঁধা পুরুষের স্বাধীনতাও। পেশিশক্তি ও কৌশল দিয়ে পুরুষ তাঁর স্বাধীনতা কেড়ে নিতে পেরেছিল নারীর চেয়ে অনেক দ্রুত। স্বাধীন পুরুষ রাষ্ট্র, সমাজ ও আইন তৈরি করেছে নারীর মতামত ছাড়া।

স্বাধীন পুরুষ ‘নারীদের ওপর বিভিন্ন ভূমিকা, সীমাবদ্ধতা ও প্রত্যাশা আরোপ করেছে এবং তাদের একটি বিশেষ নারীত্বের ছাঁচে গড়ে তুলেছে।’ যখনই নারী সেই ছাঁচ ভাঙতে চেয়েছেন, তখনই পুরুষ তাঁর ওপর ঝাঁপিয়ে পড়েছেন। একবিংশ শতাব্দীতেও পুরুষ নারীর স্বাধীনতা খর্ব করতে চান। একবিংশ শতাব্দীতে এসেও পুরুষের কাছে, সমাজের কাছে, রাষ্ট্রের কাছে নারীকে তাঁর স্বাধীনতার জন্য দেনদরবার করতে হয়। উল্লিখিত নারী সংস্কার কমিশন গঠন এই ‘দেনদরবারের’-ই বহিঃপ্রকাশ।

প্রস্তাবিত বেশ কিছু বিধান নিয়ে কিছু ধর্মীয় গোষ্ঠী ও ব্যক্তি আপত্তি তুলেছেন। ১. ধর্ম, বর্ণ বা সম্প্রদায় এবং নারী-পুরুষনির্বিশেষে সবার সমান অধিকার নিশ্চিত করার লক্ষ্যে উত্তরাধিকার আইন করা এবং বহুবিবাহের মতো প্রথা নিষিদ্ধ করা। ২. প্রতি নির্বাচনী এলাকায় সরাসরি ভোটে পূরণ করা একটি সাধারণ আসন ও নারীদের জন্য একটি সংরক্ষিত আসন; ৩. যৌনকর্মকে একটি বৈধ পেশা হিসেবে স্বীকৃতি দিয়ে যৌনকর্মীদের সর্বোচ্চ সুরক্ষা প্রদান করা।
কাজী জেসিনের সঞ্চালনায় জি-টিভির এক অনুষ্ঠানে নারী নীতি সংস্কার কমিশনের রিপোর্ট নিয়ে একটি আলোচনা হয়েছিল। সেখানে নারীবিষয়ক সংস্কার কমিশনের অন্যতম সদস্য ব্যারিস্টার সারা হোসেন সহ-আলোচক জনৈক জামায়াত নেতার সামনে দর্শক-শ্রোতাকে সংস্কার প্রস্তাবের পরিষ্কার ব্যাখ্যা দিলেন। তিনি বললেন, ‘আমাদের দেশ ইসলামি আইনে চলে না, আশা করি কখনো চলবেও না। এখানে নানা ধর্মের লোকের বসবাস। অন্য ধর্মের লোক ইসলামি আইনে বাধ্য নন। দেশ চলবে দেশের সংবিধান অনুসারে। বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠার শুরু থেকেই প্রতিটি সরকারই নারীর অধিকারকে এগিয়ে নিয়ে গেছে এবং এই সর্বশেষ সংস্কার প্রস্তাব এরই ধারাবাহিকতা।’

তিনি স্মরণ করিয়ে দেন, যে সরকারে জামায়াতে ইসলামী ছিল, সেই সরকারও নারীর অধিকার এগিয়ে নিয়ে গেছে। যৌনকর্মীর পেশার বৈধতা প্রসঙ্গে ব্যারিস্টার সারা হোসেন জামায়াত নেতাকে কোর্টের রায় এবং বিচারপতিদের মন্তব্যগুলো পড়ে দেখতে পরামর্শ দেন। তিনি যোগ করেন, যৌনকর্মীর পেশার বৈধতার পক্ষে কোর্ট রায় দিয়েছেন।
আমার ধারণা, সামাজিক প্রতিরোধ কমিটিসহ ৬৭টি নারী অধিকার, মানবাধিকার ও উন্নয়ন সংস্থার যে জোট, সেই জোটেরই মতের প্রতিফলন ঘটেছে ব্যারিস্টার সারা হোসেনের সেই বক্তব্যে। তার প্রমাণ পাওয়া গেল গত ১৬ এপ্রিল মানিক মিয়া অ্যাভিনিউতে নারীর ডাকে মৈত্রী-যাত্রার কর্মসূচি আয়োজনের মধ্যে। কমিশনের সংস্কার প্রস্তাবের বিরুদ্ধে চলমান প্রতিক্রিয়াকে নারীবিদ্বেষী ও গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের পরিপন্থী বলে নিন্দা জানিয়েছেন বক্তারা। তাঁরা সরকারকে কমিশনের সুপারিশ বাস্তবায়নের মাধ্যমে লিঙ্গসমতা ও মানবাধিকার সংরক্ষণের আহ্বান জানিয়েছেন। তাঁরা মনে করেন, নারীবিষয়ক সংস্কার কমিশনের রিপোর্ট বাংলাদেশের লিঙ্গসমতার পথে একটি বড় পদক্ষেপ হলেও আইনগত বিরোধ ও সামাজিক প্রতিরোধের কারণে এর বাস্তবায়ন চ্যালেঞ্জের মুখে রয়েছে।
এর আগে ‘নারীর ডাকে মৈত্রী যাত্রা’ কর্মসূচিতে সংহতি জানিয়ে সংবাদ সম্মেলন করে ৪৯টি প্রগতিশীল নারী-শ্রমিক-সাংস্কৃতিক-শিক্ষার্থী ও পেশাজীবী সংগঠন। সেখানে বক্তারা বলেন, ইতিহাসবিচ্ছিন্ন কূপমণ্ডূকতার মাধ্যমে সহিংসতা ও বৈষম্য চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা প্রতিহত করা হবে।

তাঁদের ঘোষণাপত্রে বলা হয়, ‘আমাদের সংস্কৃতি, ধর্ম ও ইতিহাস দারুণ বৈচিত্র্যময় ও সংবেদনশীল। সেই বিশালতাকে উপেক্ষা করে আমরা গুটিকয় মানুষের সংকীর্ণ ব্যাখ্যাকে সর্বজনীন হতে দেব না। আমরা অধিকার ও ধর্মের মধ্যে দ্বন্দ্ব তৈরি করতে দেব না, মর্যাদা নিয়ে কোনো ধরনের দ্ব্যর্থকতা মেনে নেব না। যে ক্ষমতাকাঠামো এসব জুলুমবাজি জিইয়ে রাখে, আমরা সেই কাঠামোকে ভাঙব।’ ন্যায়ভিত্তিক বাংলাদেশের স্বপ্ন ও তা প্রতিষ্ঠার সংগ্রামে নারীরা হাল ছাড়বেন না বলে ঘোষণা দিয়েছেন।
বাংলাদেশে নারী আন্দোলন এখন অনেক পরিপক্ব। এর প্রমাণ পাওয়া গেল যখন তাঁরা যখন শ্রমিকের অধিকার প্রতিষ্ঠার কথাও ঘোষণা করেন। বস্তুত, নারীর অধিকার, শ্রমিকের অধিকার, সংখ্যালঘুর অধিকার মানুষের অধিকারেরই ভিন্ন ভিন্ন রূপ এবং একে অপরের সঙ্গে অঙ্গাঙ্গিভাবে জড়িত। সমাজে যদি শ্রমের মর্যাদা প্রতিষ্ঠিত হয়, শ্রমিক তাঁর ন্যায্য পাওনা পান, নারীর অধিকার স্বয়ংক্রিয়ভাবে অনেকটাই প্রতিষ্ঠিত হয়ে যাবে। এই কথা বাংলাদেশের জন্য খুব বেশি প্রযোজ্য। কারণ, পোশাকশিল্পে, গৃহকর্মে, এমনকি কৃষি ও অকৃষি খাতেও সর্বত্র নারীর উপস্থিতি।
অতীতের নারী আন্দোলন থেকে বর্তমান সময়ের নারীদের শিক্ষা নেওয়া দরকার। শিক্ষাটা হলো, হোলস্টিক তথা সর্বাত্মক আন্দোলনের শিক্ষা। জার্মানির ক্লারা জেটকিন, ব্রিটিশ নেত্রী এমেলিন পেট্রিক-লরেন্স, ব্রিটিশ শান্তিবাদী আন্দোলনের নেত্রী হেলেনা সনউইক, কার্ল মার্ক্সের কন্যা ইলিয়নোর মার্ক্স, লেনিনের জীবনসঙ্গিনী নাদেঝদা ক্রুপস্কয়া—সবাই যুক্ত থেকেছেন সমাজের খোলনলচে পাল্টে দেওয়ার, মনোজাগতিক পরিবর্তনের সর্বাত্মক আন্দোলনের, বিপ্লবের। যে আন্দোলনে নারী, পুরুষ কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে যুদ্ধ করেছে শুধু নারীর জন্য নয়—সবার জন্য। আর একটা বিষয় মনে রাখতে হবে যে, পুরুষ নারীর প্রতিপক্ষ নয়। পুরুষের স্বার্থ ও নারীর স্বার্থ—একে অপরের পরিপূরক। পুরুষের নিজের স্বার্থেই নারীর ক্ষমতায়নের পক্ষে আমার দাঁড়ানো দরকার। একটি দেশের মোটামুটি ৫০ শতাংশই নারী থাকেন। ক্ষমতায়নের একটি প্রধান উপাদান হলো, লেবারফোর্স পার্টিসিপেশন তথা কর্মে নিযুক্তি। এই হার যত বেশি হবে, দেশের উৎপাদন তত বেশি হবে। নিজের পরিবারের স্ত্রী, কন্যা বা ভগ্নির কর্মে নিযুক্তি থেকে সরাসরি যে উপকার আসবে, তার বাইরে, রাষ্ট্রের নিট গেইন তথা নিট লাভ থেকেও আমি উপকৃত হব।
নারী-পুরুষের সম্মিলিত আন্দোলন সম্ভব রাজনৈতিক আন্দোলনের মধ্য দিয়ে এবং আন্দোলনটি হতে হবে সাম্যবাদী আন্দোলন, কারণ জীবনের সর্বক্ষেত্রে সাম্য প্রতিষ্ঠা ছাড়া, বিচ্ছিন্নভাবে শুধু নারী অধিকার প্রতিষ্ঠা সম্ভব হবে না।
কবি শঙ্খ ঘোষ সাম্যের চেতনায় যখন বলেন, ‘আয় বেঁধে বেঁধে থাকি’, তখন তিনি আদতে নারী, পুরুষ—উভয়কেই মিনতি জানান এইভাবে:
‘আমাদের ডান পাশে ধস
আমাদের বাঁয়ে গিরিখাদ
আমাদের মাথায় বোমারু
পায়ে-পায়ে হিমানীর বাঁধ
আমাদের পথ নেই কোনো
আমাদের ঘর গেছে উড়ে
আমাদের শিশুদের শব
ছড়ানো রয়েছে কাছে দূরে!
আমরাও তবে এইভাবে
এ-মুহূর্তে মরে যাব নাকি?
আমাদের পথ নেই আর।
আয় আরও হাতে হাত রেখে
আয় আরও বেঁধে বেঁধে থাকি।


৭ নং বিরুলিয়া ইউনিয়নের চেয়ারম্যান হিসেবে পরিচ্ছন্ন শ্রমিক নেতা আবু কালামকে দেখতে চায় সাধারণ শ্রমজীবী মানুষ।

 

রাকিবুল ইসলাম রঞ্জু:

সাভারের ঐতিহ্যবাহী ৭ নং বিরুলিয়া ইউনিয়নের সর্বস্তরের শ্রমজীবী ও সাধারণ মানুষ স্থানীয় পরিচ্ছন্ন শ্রমিক নেতা বাংলা গার্মেন্টস শ্রমিক ফেডারেশনের কেন্দ্রীয় সভাপতি মো. আবু কালামকে আগামীতে ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান হিসেবে দেখতে চান। এলাকার অবহেলিত শ্রমিক সমাজ ও সাধারণ মানুষের অধিকার আদায়ে দীর্ঘদিন ধরে নিরলসভাবে কাজ করে যাওয়ায় তাঁর প্রতি এই জোরালো জনসমর্থন তৈরি হয়েছে।

 

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, আবু কালাম দীর্ঘ দিন ধরে বিরুলিয়া ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকার পরিচ্ছন্নতা কর্মী ও শ্রমজীবী মানুষের সুখে-দুঃখে পাশে থেকেছেন। তাদের ন্যায্য অধিকার রক্ষা, পেশাগত নিরাপত্তা এবং জীবনমান উন্নয়নে তিনি অগ্রণী ভূমিকা পালন করে আসছেন। একজন সৎ, পরিশ্রমী ও জনবান্ধব নেতা হিসেবে এলাকায় তাঁর বিশেষ সুনাম রয়েছে।

 

এলাকার একাধিক শ্রমজীবী মানুষ জানান, বিরুলিয়া ইউনিয়নের উন্নয়নে এমন একজন নেতার প্রয়োজন যিনি সাধারণ মানুষের ভাষা বোঝেন এবং মাঠপর্যায় থেকে উঠে এসেছেন। অতীতে স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের অনেকের দ্বারাই সাধারণ শ্রমিক ও খেটে খাওয়া মানুষ অবহেলিত হয়েছে। তাই এবার তারা পরিবর্তনের পক্ষে অবস্থান নিয়ে আবু কালামের মতো পরিশ্রুত ও পরীক্ষিত নেতাকে ইউনিয়নের নেতৃত্বে দেখতে চান।

 

এ বিষয়ে আবু কালাম বলেন, “শ্রমজীবী ও সাধারণ মানুষ আমাকে যে ভালোবাসা ও আস্থার কথা জানিয়েছেন, তা আমার জন্য অনেক বড় প্রাপ্তি। আমি আজীবন সাধারণ মানুষের অধিকার ও কল্যাণের জন্য কাজ করে গেছি। জনগণের চাওয়া সামাজিক বিবেচনায় বিরুলিয়া ইউনিয়নের উন্নয়নে নিজেকে আরও নিবেদিতভাবে নিয়োজিত করতে চাই।”

 

স্থানীয় সচেতনমহল ও সচেতন নাগরিক সমাজের মতে, তরুণ ও পরিচ্ছন্ন ভাবমূর্তির এই নেতার প্রতি সাধারণ মানুষের এই আবেগ ও সমর্থন ইউনিয়ন পরিষদের আসন্ন নির্বাচনে এক নতুন সমীকরণের জন্ম দিতে পারে।

৭ নং বিরুলিয়া ইউনিয়নের চেয়ারম্যান হিসেবে পরিচ্ছন্ন শ্রমিক নেতা আবু কালামকে দেখতে চায় সাধারণ শ্রমজীবী মানুষ

সাভারের কাউন্দিয়া পুলিশ ফাঁড়ি ইনচার্জ এসআই কাজী আব্দুর রহিম পেলেন ঢাকা জেলার বিশেষ পুরস্কার

 

 

রাকিবুল ইসলাম রঞ্জু:

 

আগস্ট মাসের সার্বিক আইনশৃঙ্খলা রক্ষা, অপরাধ দমন এবং ভালো কাজের স্বীকৃতিস্বরূপ ঢাকা জেলার মাননীয় পুলিশ সুপারের কার্যালয় থেকে বিশেষ পুরস্কার লাভ করেছেন সাভার মডেল থানাধীন কাউন্দিয়া পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ এসআই কাজী আব্দুর রহিম।

 

পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে আয়োজিত এক মাসিক আইনশৃঙ্খলা সভায় তাঁর হাতে এই সম্মাননা স্মারক ও প্রশংসাপত্র তুলে দেওয়া হয়।

 

যোগদানের পর থেকেই কাউন্দিয়া পুলিশ ফাঁড়ির আওতাধীন এলাকায় মাদক উদ্ধার, পরোয়ানাভুক্ত আসামি গ্রেপ্তার, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ এবং জনবান্ধব পুলিশিং কার্যক্রমে বিশেষ ভূমিকা রেখে চলেছেন এসআই কাজী আব্দুর রহিম। তাঁর এই অর্জনে কাউন্দিয়া পুলিশ ফাঁড়িসহ সাভার মডেল থানা পরিবারে আনন্দের আমেজ বিরাজ করছে।

 

এই প্রাপ্তি সম্পর্কে এসআই কাজী আব্দুর রহিম জানান, “এই স্বীকৃতি আমার কাজের দায়িত্ব আরও বাড়িয়ে দিল। আমি যেন সততা ও নিষ্ঠার সাথে সাধারণ মানুষের সেবা করে যেতে পারি, সেজন্য সকলের দোয়া ও সহযোগিতা কামনা করছি।”

সাভারের কাউন্দিয়া পুলিশ ফাঁড়ি ইনচার্জ এসআই কাজী আব্দুর রহিম পেলেন ঢাকা জেলার বিশেষ পুরস্কার

নওগাঁ জেলা কমিউনিটি পুলিশিং সমন্বয় আহবায়ক কমিটি গঠন: আহবায়ক পলাশ, সদস্য সচিব গোল্ডেন

 

মোঃ সাইদুল ইসলাম হেলাল

বিশেষ প্রতিনিধি : নওগাঁ জেলা কমিউনিটি পুলিশিং সমন্বয় আহবায়ক কমিটি গঠন করা হয়েছে। সমাজের ব্যবসায়ী, সমাজ সেবক সাংবাদিক, আইনজীবী, চিকিৎসক, শ্রমিক নেতা, উদ্যোক্তাসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার প্রতিনিধিদের সমন্বয়ে এ আহবায়ক কমিটি গঠন করা হয়। কমিউনিটি পুলিশিং কার্যক্রমকে আরও গতিশীল করা, পুলিশ ও সাধারণ মানুষের মধ্যে পারস্পরিক আস্থা ও সহযোগিতা বৃদ্ধি এবং অপরাধ প্রতিরোধে জনগণের সক্রিয় অংশগ্রহণ নিশ্চিত করাই এ কমিটি গঠনের মূল লক্ষ্য। কমিটির প্রধান পৃষ্ঠপোষক হিসেবে রয়েছেন নওগাঁ জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম। এবং প্রধান উপদেষ্টা হিসেবে রয়েছেন পুলিশ সুপার মোহাম্মদ তারিকুল ইসলাম ও প্রধান সমন্বয়কারী হিসেবে রয়েছেন নওগাঁ অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস্) জয়ব্রত পাল, সমন্বয় হিসেবে নওগাঁ সদর মডেল থানার অফিসার ইনর্চাজ (ওসি) মোহাম্মদ আসাদুজ্জামান। নবগঠিত কমিটিতে আহবায়ক হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছেন ব্যবসায়ী ও সমাজ সেবক বায়োজিত হোসেন পলাশ এবং সদস্য সচিব হিসেবে রয়েছেন ব্যবসায়ী ও সমাজ সেবক খায়রুল আলম গোল্ডেন। কমিটির অন্যান্য সদস্য হিসেবে রয়েছেন এ্যাড: সাব্বির আহমেদ, আবুল কালাম আজাদ, গোলাম রাব্বানী, আব্দুল মজিদ, মোঃ দেলোয়ার হোসেন, ডাঃ এবারত আলী, মাহমুদুন নবী বেলাল, তারেক রহমান, আমজাদ হোসেন, আবু জাহেদ মাসুদ, মহিলা সদস্য শবনম মোস্তারী কলি, লাকী আক্তার, শ্যামলী বেগম। নবগঠিত এ আহবায়ক কমিটির মাধ্যমে নওগাঁ জেলার পুলিশ ও জনগণের মধ্যে আরও কার্যকর সমন্বয় তৈরি হবে এবং অপরাধ প্রতিরোধ, জননিরাপত্তা ও সামাজিক সচেতনতা বৃদ্ধিতে কমিউনিটি পুলিশিং কার্যক্রম আরও জোরদার হবে বলে সংশ্লিষ্টরা আশা করছেন।

নওগাঁ জেলা কমিউনিটি পুলিশিং সমন্বয় আহবায়ক কমিটি গঠন: আহবায়ক পলাশ, সদস্য সচিব গোল্ডেন 

অচেতন করে টাকা-মোবাইল নেওয়ার সময় অজ্ঞান পার্টির সদস্য গ্রেপ্তার

 

স্টাফ রিপোর্টার

মাইদুল ইসলাম

আন্তঃনগর সীমান্ত ট্রেনে এক যাত্রীকে অচেতন করে টাকা ও মোবাইল হাতিয়ে নেওয়ার সময় ফুল মিয়া (৫৬) নামে অজ্ঞান পার্টির এক সদস্যকে গ্রেফতার করেছে রেলওয়ে পুলিশ। বুধবার

(৯ সেপ্টেম্বর) বিকেলে বিষয়টি নিশ্চিত করে সৈয়দপুর রেলওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জুলফিকার আলী। অসচেতন হয়ে যাওয়া যাত্রী হাজী মফিজুল রহমান সৈয়দপুর রেলওয়ে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। তিনি সীমান্ত এক্সপ্রেসের ‘ঙ’ বগির ৩৪ নম্বর আসনে ছিলেন তার বাড়ি ঝিনাইদহের কালিগঞ্জ উপজেলার হেলাফেলা গ্রামে। বুধবার

বিকেল ৩টা পর্যন্ত তার জ্ঞান ফেরেনি বলে জানিয়েছেন রেলওয়ে পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, খুলনা থেকে ছেড়ে আসা চিলাহাটিগামী সীমন্ত এক্সপ্রেস ট্রেনটি দিনাজপুরের পার্বতীপুর রেলস্টেশন অতিক্রম করার পর মফিজুর রহমান ও অচেতন হয়ে পড়েন। বিষয়টি টের পেয়ে ট্রেনে দায়িত্ব পালনরত রেলওয়ে পুলিশ তার পাশের যাত্রী ফুল মিয়াকে আটক করে। পরে তার দেহে তল্লাশি করে মফিজুল রহমানের টাকা ও মোবাইল ফোন উদ্ধার করা হয়। পুলিশ আরও জানাই ২০২৫ সালে ২

৩০ আগস্ট একই ট্রেনে দুই নারী যাত্রীকে জুস পান করিয়ে অচেতন করার অভিযোগে ফুল মিয়াকে আটক করা হয়েছিল। ওই সময় অচেতন দুই নারী কানের দুল ও নাকের ফুল খুলে নেওয়ার অভিযোগ ওঠে তার বিরুদ্ধে পাশের এক যাত্রী বিষয়টি বুঝতে পেরে ফুল মিয়াকে হাতেনাতে আটক করেন। পরে তার কাছে থাকা জুস পরীক্ষা করতে তাকেই পান করানো হলে তিনি নিজেই অচেতন হয় পড়েন। সৈয়দপুর রেলওয়ে থানার ওসি জুলফিকার আলী বলেন, উপপরিদর্শক (এএসআই)

মিজানুর রহমান বাদী হয়ে

ফুল মিয়াসহ তার অজ্ঞাত নামা দুই থেকে তিনজন সহযোগীর বিরুদ্ধে মামলা করেছেন। পুলিশ জানিয়েছে, ফুল মিয়ার বিরুদ্ধে দেশের বিভিন্ন রেলওয়ে থানায় একাধিক মামলা রয়েছে।

অচেতন করে টাকা-মোবাইল নেওয়ার সময় অজ্ঞান পার্টির সদস্য গ্রেপ্তার 

ওয়ার্ল্ড ভিশনের নীলফামারী কার্যক্রমের সমাপনী অনুষ্ঠিত হয়েছে

 

 

 

 

স্টাফ রিপোর্টার

মাইদুল ইসলাম

 

ওয়ার্ল্ড ভিশন বাংলাদেশের নীলফামারী এরিয়া প্রোগ্রামের সমাপনী ও ধন্যবাদ জ্ঞাপন অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়েছে। আজ সোমবার (৭ সেপ্টেম্বর) সকালে নীলফামারী জেলা শিল্পকলা একাডেমি মিলনায়তনে এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন জেলা প্রশাসক ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মো. নায়িরুজ্জামান। সভাপতিত্ব করেন ওয়ার্ল্ড ভিশন বাংলাদেশের সিনিয়র ডিরেক্টর-অপারেশনস চন্দন জেড. গমেজ।

 

অনুষ্ঠানের শুরুতে অতিথিদের ফুল ও উত্তরীয় দিয়ে শুভেচ্ছা জানানো হয়। পরে পবিত্র কোরআন, গীতা ও বাইবেল পাঠ, সাংস্কৃতিক পরিবেশনা এবং সফলতার গল্প নিয়ে প্রকাশিত বইয়ের মোড়ক উন্মোচন করা হয়। এ ছাড়া ওয়ার্ল্ড ভিশনের বিভিন্ন কার্যক্রমের ওপর একটি ভিডিওচিত্র প্রদর্শন করা হয়।

 

অনুষ্ঠানে নীলফামারী এরিয়া প্রোগ্রামের মাধ্যমে শিশু, যুব, পরিবার ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর জীবনমান উন্নয়নে নেওয়া বিভিন্ন উদ্যোগ ও অর্জন তুলে ধরা হয়। উপকারভোগীদের কয়েকজন তাঁদের অভিজ্ঞতা ও পরিবর্তনের গল্প তুলে ধরেন।

 

এ সময় বক্তব্য দেন ওয়ার্ল্ড ভিশন বাংলাদেশের ডেপুটি ডিরেক্টর-ফিল্ড অপারেশনস রাজু উইলিয়াম রোজারিও, নীলফামারী জেলা প্রেস ক্লাবের সভাপতি এ বি এম মঞ্জুরুল আলম সিয়াম, পলাশবাড়ী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ইব্রাহিম তালুকদার ও উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আতিক আহমেদ।

 

বিশেষ অতিথির বক্তব্য দেন ওয়ার্ল্ড ভিশন বাংলাদেশের ডিরেক্টর-অপারেশনস অ্যান্ড টেকনিক্যাল প্রোগ্রাম লিমা হান্না দারিং। শুভেচ্ছা বক্তব্য দেন ওয়ার্ল্ড ভিশন বাংলাদেশের নীলফামারীর সিনিয়র ম্যানেজার অনুকুল চন্দ্র বর্মন।

 

প্রধান অতিথির বক্তব্যে জেলা প্রশাসক মো. নায়িরুজ্জামান বলেন, উন্নয়ন কার্যক্রমের মূল লক্ষ্য হওয়া উচিত মানুষের সক্ষমতা বৃদ্ধি ও টেকসই পরিবর্তন নিশ্চিত করা। শিশু ও তরুণদের উন্নয়নে সরকারি-বেসরকারি সংস্থার সমন্বিত উদ্যোগ আরও জোরদার করা প্রয়োজন।

 

সভাপতির বক্তব্যে চন্দন জেড. গমেজ বলেন, নীলফামারী এরিয়া প্রোগ্রামের সাফল্য স্থানীয় জনগোষ্ঠী, শিশু, যুব, জনপ্রতিনিধি, প্রশাসন ও অংশীদারদের সম্মিলিত প্রচেষ্টার ফল।

 

অনুষ্ঠানে প্রকল্পের সঙ্গে যুক্ত বিভিন্ন ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানকে সম্মাননা স্মারক দেওয়া হয়। পরে নীলফামারী এরিয়া প্রোগ্রামের আনুষ্ঠানিক সমাপনী ঘোষণা করা হয়।

ওয়ার্ল্ড ভিশনের নীলফামারী কার্যক্রমের সমাপনী অনুষ্ঠিত হয়েছে

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

র‌্যাবের চৌকস অভিযানে জীপসহ প্রায় ১১ হাজার ইয়াবার চালান আটক

জামালপুর হামলা পাল্টা হামলার মধ্য দিয়ে জেলার সানন্দবাড়ী তে থমথমে অবস্থা বিরাজমান।

পর্নোগ্রাফি নিয়ন্ত্রণ আইনে এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা দায়ের ও আদালতে মিথ্যা হলফনামা দেয়ার অভিযোগে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের কেবিন ক্রু খাদিজা সুলতানা শিমুর বিরুদ্ধে মামলা দায়েরের নির্দেশ দিয়েছেন আদালত।

 

বুধবার (১৫ জুলাই) ঢাকার অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালত-২-এর বিচারক মো. জাকির হোসাইন এ আদেশ দেন। আদালতের আদেশে বলা হয়েছে, শিমুর বিরুদ্ধে পর্নোগ্রাফি নিয়ন্ত্রণ আইন, ২০১২-এর ১৩ ধারা এবং দণ্ডবিধির ১৮১, ১৮২ ও ১৯৩ ধারায় মামলা করা হবে। আদালত নিজেই এ মামলার বাদী হয়েছেন।

 

আদালতের নথি অনুযায়ী, খাদিজা সুলতানা শিমু মামলার বাদী হয়ে বেসরকারি একটি এয়ারলাইন্সের কর্মকর্তা মো. ওমর ফারুক চৌধুরীর বিরুদ্ধে পর্নোগ্রাফি নিয়ন্ত্রণ আইনের বিভিন্ন ধারায় উত্তরা পশ্চিম থানায় মামলা করেন।

 

তদন্ত শেষে উত্তরা পশ্চিম থানার তদন্ত কর্মকর্তা আদালতে চূড়ান্ত প্রতিবেদন দাখিল করে জানান, অভিযোগের সত্যতা পাওয়া যায়নি। প্রতিবেদনে বলা হয়, মামলার এজাহারে উল্লেখ করা ফেসবুক লিংক, ডিজিটাল আলামত ও অন্যান্য তথ্য যাচাই করে ওমর ফারুকের বিরুদ্ধে পর্নোগ্রাফি প্রচারের কোনো প্রমাণ মেলেনি। ফলে ওই কর্মকর্তাকে মামলা থেকে অব্যাহতির সুপারিশ করা হয়।

একই সঙ্গে তদন্ত কর্মকর্তা প্রতিবেদনে উল্লেখ করেন, ওমর ফারুক আগে শিমুর বিরুদ্ধে বিয়ের প্রলোভন দিয়ে অর্থ আত্মসাতের অভিযোগে আদালতে মামলা করেছিলেন। সেই মামলার দায় এড়াতেই শিমু সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচারিত বিভিন্ন লিংক উল্লেখ করে তার বিরুদ্ধে পর্নোগ্রাফি ছড়ানোর অভিযোগ এনে উদ্দেশ্যপ্রণোদিত, হয়রানিমূলক ও মিথ্যা মামলা করেছেন বলে প্রাথমিক তদন্তে প্রতীয়মান হয়েছে। এ কারণে শিমুর বিরুদ্ধে পর্নোগ্রাফি নিয়ন্ত্রণ আইন, ২০১২-এর ১৩ ধারায় আইনগত ব্যবস্থা নেয়ার আবেদনও করেন তদন্ত কর্মকর্তা।

 

পরে গত ৯ জুলাই আদালত তদন্ত প্রতিবেদন গ্রহণ করে ওমর ফারুককে মামলা থেকে অব্যাহতি দেন। আদালতের আদেশে বলা হয়, শিমু ক্ষতিসাধনের উদ্দেশ্যে আদালতে মিথ্যা মামলা দায়ের করেছেন এবং হলফ করে মিথ্যা সাক্ষ্য দিয়েছেন। মামলার নথিতে তার দেয়া হলফনামাও সংযুক্ত রয়েছে। এসব বিবেচনায় আদালত নিজেই বাদী হয়ে তার বিরুদ্ধে পর্নোগ্রাফি নিয়ন্ত্রণ আইন ও দণ্ডবিধির সংশ্লিষ্ট ধারায় মামলা দায়েরের নির্দেশ দেন।

 

তদন্তে যা উঠে এসেছে পুলিশের চূড়ান্ত প্রতিবেদনে বলা হয়, তদন্তকালে রেকর্ড, ডিজিটাল আলামত, ফেসবুক লিংক ও ফরেনসিক তথ্য যাচাই করে ওমর ফারুকের বিরুদ্ধে পর্নোগ্রাফি প্রচারের কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি।

 

তদন্তে আরও উঠে আসে, শিমু বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের কেবিন ক্রু এবং ওমর ফারুক একটি বেসরকারি এয়ারলাইন্সের এয়ারক্রাফট মেইনটেন্যান্স কর্মকর্তা। ফেসবুকে পরিচয়ের পর তাদের মধ্যে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে।

 

প্রতিবেদনে বলা হয়, বিয়ের আশ্বাস দিয়ে বিভিন্ন সময়ে ওমর ফারুকের কাছ থেকে বিপুল পরিমাণ অর্থ ও মূল্যবান সামগ্রী নেয়ার অভিযোগে ওমর ফারুক আদালতে পৃথক মামলা করেন। এরপর সেই মামলার দায় থেকে নিজেকে রক্ষা করতেই শিমু পর্নোগ্রাফি আইনে অভিযোগ দায়ের করেন বলে তদন্তে প্রতীয়মান হয়েছে।

 

ওমর ফারুকের আগের মামলা গত ২০ জুলাই ওমর ফারুক চৌধুরী শিমুর বিরুদ্ধে বিয়ের প্রলোভন, ‘হানি ট্র্যাপ’ ও ব্ল্যাকমেইলের মাধ্যমে প্রায় ২২ লাখ টাকা আত্মসাতের অভিযোগে ঢাকার আদালতে মামলা করেন। আদালত অভিযোগটি আমলে নিয়ে উত্তরা পশ্চিম থানাকে তদন্তের নির্দেশ দেন। পরে তিনি বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স কর্তৃপক্ষের কাছেও লিখিত অভিযোগ করেন।

 

সেই মামলায় অভিযোগ করা হয়, ২০২৪ সালে ফেসবুকে পরিচয়ের পর শিমু তাকে বিয়ের আশ্বাস দিয়ে বিভিন্ন সময়ে টাকা নেন। জন্মদিনে দেড় লাখ টাকা মূল্যের একটি হীরার আংটিসহ বিয়ের খরচের জন্য মোট ২১ লাখ ৭৪ হাজার ৫১১ টাকা নেয়ার পরও বিয়ে না করে প্রতারণার মাধ্যমে অর্থ আত্মসাৎ করা হয়েছে বলে মামলায় দাবি করা হয়।

পর্নোগ্রাফি আইনে কেবিন ক্রু শিমুর বিরুদ্ধে মামলার নির্দেশ আদালতের

ভোলার মনপুরায় নির্বাচনী মাঠে জনআতঙ্ক, দীপক বাহিনীর হাতে আহত ৫

ভোলার মনপুরায় নির্বাচনী মাঠে জনআতঙ্কে, থমথমে পুরো মনপুরা। আসন্ন 2 নং হাজিরহাট ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনী প্রচারণা কালীন সময় প্রার্থী নিজামুদ্দিন হাওলাদারের নেতাকর্মী ও সমর্থকদের বেধড়ক মারধর করার অভিযোগ উঠে এসেছে। প্রার্থীকে বেধড়ক মারধর করায় গুরুতর আহত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি আছেন, নাছির(২৩), আল আমিন(২৫),জিদনী (১৮),অনি (২৩)কাশেম(২৮),অজয়(২৬)

আহতদের পরিবার জানিয়েছেন আহতদের অবস্থা গুরুতর, চিকিৎসার জন্য জেলাতে নেওয়া প্রয়োজন হতে পারে।।

মেম্বার প্রার্থী নাসির অভিযোগ করে বলেন , স্থানীয় প্রশাসন অত্যন্ত দুর্বল অবস্থায় রয়েছে,মাঠ প্রশাসন নীরব দর্শকের ভূমিকা পালন করছেন, দীপক রাশি বাহিনী এরপর এক সন্ত্রাসী কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে, আমি নির্বাচন প্রতারণা চলাকালীন সময়ে অতর্কিত দীপক বাহিনীর মূল হোতা সন্ত্রাসী মাকসুদের নেতৃত্বে দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র সহ আমাকেও আমার তুই ছেলের উপর হামলা চালান।। এতে করে আমিও আমার ছোট ছেলে আমিন গুরুতর আহত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়ে রয়েছি।। মনপুরা পুলিশ প্রশাসনের নিকট আমি অভিযোগ করেছি।ওসি মনপুরা এখন পর্যন্ত কোনো ব্যবস্থা গ্রহণ করেন নাই। তিনি আরো বলেন সন্ত্রাসী ফারুক ফরাজী, ইলিয়াছ চৌধূরী, ইলিয়াস ফরাজী, ফুহাদ আওলাদ মাতাব্বর, মনির ফরাজী, খোকন পর এক নানা সন্ত্রাসী কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছেন।

চেয়ারম্যান প্রার্থী নুরুল ইসলাম অভিযোগ করে বলেন নির্বাচনকে বানচাল করার জন্য একের পর এক সন্ত্রাসী কার্যক্রম চালিয়ে গেলেও ওসি মনপুরা এখন পর্যন্ত কোন ধরনের ব্যবস্থা গ্রহণ করতে পারে নাই, চিরে যদি সন্ত্রাসীদের দমন না করা হয় তাহলে নির্বাচন হবে মনপুরা হবে ঝুঁকিপূর্ণ, নির্বাচনে মাঠ প্রশাসন নিয়ন্ত্রনহীন হয়ে পড়বেন।। নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট আকিব ওসমান মাঠ প্রশাসন নিয়ন্ত্রণে কাজ করলেও এখন পর্যন্ত মনপুরা মাঠ নিয়ন্ত্রণে আনতে পরিপূর্ণ ব্যর্থ হয়েছেন।।

অপর চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী নিজাম উদ্দিন হাওলাদার অভিযোগ করে বলেন পরোক্ষভাবে প্রত্যক্ষভাবে দীপক বাহিনী এ ধরনের ঘটনা চলেছেন, অতর্কিত হামলা, চোরাগুপ্তা হামলা সহ নানা ধরনের কর্মের সাথে পার্থী শাহরিয়া দীপক সরাসরি জড়িত রয়েছেন।।

মুঠোফোনে প্রার্থী শাহরিয়ার চৌধুরী দীপক এর নিকট জানতে চাইলে তিনি সাংবাদিক পরিচয় পেয়ে ব্যস্ততা দেখিয়ে ফোন কাটিয়ে দেন।

বিষয়টি নিয়ে ওসি মনপুরা কে বারবার ফোন করলেও এখন এখন পর্যন্ত মুঠোফোনে পাওয়া যায়নি।।

বিষয়টি নিয়ে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট হাকিম ওসমান এর সাথে কথা বললে তিনি বলেন আমি অতি দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণ করছি, মনপুরাকে মামলা গ্রহণের জন্য নির্দেশ প্রদান করেছি।। অচিরেই মনপুরায় মাঠ প্রশাসন নিয়ন্ত্রণে আনাতে আমি নিরস কাজ করছি।।

উল্লেখ্য এই যে মনপুরা উপজেলা একের পর এক আচরণবিধি লঙ্ঘন করায় প্রার্থী শাহরিয়ার দীপক বিরুদ্ধে শাহরিয়ার বিরুদ্ধে আচরণবিধি লঙ্ঘনের লিখিত অভিযোগ হয়েছে যা পত্র-পত্রিকা ও গণমাধ্যমে বেশ কয়েকবার প্রকাশিত হয়েছে।। আজকের চোরাগুপ্তা হামলা সহ নানা অতর্কিত সন্ত্রাসী হামলার বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়েছে।।। কোন পর্যন্ত কোনো আসামিকে গ্রেপ্তার করতে মনপুরা থানা সম্পূর্ণ ব্যর্থ হয়েছেন।।

আসছে বিস্তারিত……. সাথে থাকুন

ভোলার মনপুরায় নির্বাচনী মাঠে জনআতঙ্ক, দীপক বাহিনীর হাতে আহত ৫

এস এম খলিলুর রহমান
ব্যুরো চীফ হবিগঞ্জ জেলা ॥

নবীগঞ্জ পৌর এলাকার গয়াহরি গ্রামে নিরীহ ব্যক্তি বিজিত দাশ মেটনের উপর সন্ত্রাসী হামলার দায়েরী মামলার অন্যতম আসামী কাউন্সিলর যুবরাজ গোপসহ অপর আসামীদের গ্রেফতার না করায় পুলিশের বিরুদ্ধে অভিযোগ করেছেন বাদিনী সুপ্রিয়া রানী দাশ। শনিবার (১২ জুন) সকালে নবীগঞ্জ প্রেসক্লাব কার্যালয়ে অনুষ্টিত সাংবাদিক সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে সুপ্রিয়া রানী দাশ বলেন, গেল পৌর নির্বাচনকে কেন্দ্র করে কাউন্সিলর যুবরাজ গোপ তার পরিবারের উপর ক্ষিপ্ত হন। এরজের ধরে বিগত ২৬ এপ্রিল সন্ধ্যায় নবীগঞ্জ পৌরসভার ৪নং ওয়ার্ডস্থ গয়াহরি গ্রামে জ্যোতিষ দাশের বাড়ি সামনে রাস্তার উপর পেয়ে আমার স্বামী বিজিত দাশ মেটনকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে ক্ষতবিক্ষত করেন আমাদের ওয়ার্ড কাউন্সিলর যুবরাজ গোপ, জ্যোতিষ দাশ, সীমা রানী দাশ, উৎফল দাশ ও লিপ্টু দাশসহ একদল লোক। তাদের ধারালো অস্ত্রের আঘাতে আমার স্বামী গুরুতর আহত হয়ে সিলেট ও ঢাকা হাসপাতালে চিকিৎসা গ্রহন করি। আমার স্বামী আহত হয়ে মৃত্যুর সাথে পাঞ্জা লড়ছিল। পুলিশ ঘটনার খবর পেয়ে আমার স্বামীর রক্তাক্ত অবস্থা দেখে তাৎক্ষনিকভাবে জ্যোতিষ দাশকে গ্রেফতার করে। পরে ৫৪ ধারায় জেল হাজতে প্রেরন করে পুলিশ। এ ব্যাপারে আমি নবীগঞ্জ থানায় মামলা নিয়ে গেলে পুলিশ আদালতের আশ্রয় নিতে পরামর্শ দেন। পরবর্তীতে আমি বাদী হয়ে হবিগঞ্জ আদালতে উল্লেখিত দুর্বৃত্তদের আসামী করে মামলা দায়ের করি। মামলাটি আদালতের নির্দেশে এফআইআর হিসেবে নবীগঞ্জ থানায় রুজু হয়। মামলা রুজু হলেও মামলার অন্যতম আসামী যুবরাজ গোপসহ অপরাপর আসামীদেরকে পুলিশ গ্রেফতার করতে পারেনি। অথচ যুবরাজ গোপ প্রকাশ্যে নবীগঞ্জ শহরে ও বাড়িতে ঘুরে বেড়াচ্ছে। আমি অসহায় একজন মহিলা, মামলার তদন্ত কর্মকর্তা এসআই লুৎফুর রহমানকে বারবার তাগিদ দেয়া সত্ত্বেও আসামী গ্রেফতার করিতে তিনি গড়িমশি করছেন। এদিকে আমার স্বামীর বর্তমান শারীরিক অবস্থা এখন পর্যন্ত ভাল নয়। বিছানায় শয্যাসায়ী আছেন। দারিদ্রতার কারনে আমার স্বামীর চিকিৎসা করাইতে গিয়ে ইতিমধ্যে ভিটে বাড়ি বিক্রি করতে হয়েছে। সামাজিক বিচার থেকে বঞ্চিত হয়ে আইনের আশ্রয় নিয়েও আমাদের এত বিড়ম্বনা পোহাতে হবে, তা জানা ছিলনা।
বর্তমানে আমার আহত স্বামী বিজিত দাশ কথা বার্তা বলতে পারছেন না, বাম চোখেঁ দেখতেও পান না। ঘটনাটি এলাকার সকল মানূষ অবগত রয়েছেন।
ন্যায় বিচারের স্বার্থে আমার দায়েরী মামলার অন্যতম আসামী যুবরাজ গোপসহ অপর আসামীদের গ্রেফতার পুর্বক আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহনের জন্য সাংবাদিকদের মাধ্যমে পুলিশের উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করছি।

নবীগঞ্জে আসামী গ্রেফতার না করায় পুলিশের বিরুদ্ধে বাদিনীর সংবাদ সম্মেলন

error: আপনি নিউজ চুরি করার চেষ্টা করছেন। বিশেষ প্রয়োজনে যোগাযোগ করুন ০১৭৬৭৪৪৪৩৩৩