পাল্টাপাল্টি কর্মসূচিতে থমথমে জবি, পরিচয়পত্র চেক করে ঢুকতে দেওয়া হচ্ছে শিক্ষার্থীদের - Gono television | বাংলাদেশ সরকার অনুমোদিত বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেল।
পাল্টাপাল্টি কর্মসূচিতে থমথমে জবি, পরিচয়পত্র চেক করে ঢুকতে দেওয়া হচ্ছে শিক্ষার্থীদের

পাল্টাপাল্টি কর্মসূচিতে থমথমে জবি, পরিচয়পত্র চেক করে ঢুকতে দেওয়া হচ্ছে শিক্ষার্থীদের

ছাত্রদল, জকসু, ছাত্রশিবির, ছাত্রশক্তিসহ কয়েকটি পক্ষের মধ্যে সংঘাতের পর জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে (জবি) আজ বৃহস্পতিবার (৬ আগস্ট) সব ধরনের সভা-সমাবেশ ও মিছিল নিষিদ্ধ করেছে প্রশাসন। তবে বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বাভাবিক ক্লাস-পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে। সে জন্য কড়া নিরপত্তার ব্যবস্থা নিয়েছে কর্তৃপক্ষ।

 

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, সকাল থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রবেশপথে কড়া নিরাপত্তার ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। প্রত্যেক শিক্ষার্থীর পরিচয়পত্র দেখে ক্যাম্পাসে প্রবেশ করতে দিচ্ছে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টরিয়াল বডি। পাশাপাশি আশপাশে আইনশৃঙ্খলা রক্ষা বাহিনীর প্রচুর সদস্যও মোতায়েন রয়েছে। পাল্টাপাল্টি কর্মসূচি ও কড়া নিরাপত্তায় থমথমে অবস্থা বিরাজ করছে ক্যাম্পাসে।

 

একই স্থান ও প্রায় একই সময়ে তিনটি পৃথক সংগঠনের কর্মসূচি ঘোষণার প্রেক্ষাপটে সম্ভাব্য আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি বিবেচনায় এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়াতে সতর্ক রয়েছে প্রশাসন। বুধবার (৫ আগস্ট) রাতে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ নাসির উদ্দীন স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

 

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ৬ আগস্ট বিশ্ববিদ্যালয়ের একই স্থানে ও একই সময়ে তিনটি সংগঠন কর্মসূচির ঘোষণা দিয়েছে। এ পরিস্থিতিতে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি বিবেচনায় পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের অভ্যন্তরে সকল ধরনের সভা-সমাবেশ ও মিছিল নিষিদ্ধ করা হলো।

 

ঘোষিত কর্মসূচি অনুযায়ী, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় শিক্ষার্থী সংসদ (জকসু) আজ দুপুর ১২টায় শহীদ রফিক ভবনের সামনে অ্যাম্বুলেন্স হস্তান্তর কর্মসূচির আয়োজন করেছে। আহত ও অসুস্থ শিক্ষার্থীদের চিকিৎসা সহায়তা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে এ কর্মসূচির আয়োজন করা হয়েছে বলে জানানো হয়েছে। এর আগে প্রশাসনকে স্মারকলিপি দেবেন নেতারা।

 

এরপর একই স্থান ও সময়ে ‘ঐক্যবদ্ধ জগন্নাথ’ ব্যানারে সোহরাওয়ার্দী কলেজের শিক্ষার্থীদের হামলার প্রতিবাদে একটি বিক্ষোভ মিছিলের ঘোষণা দেওয়া হয়। এ কর্মসূচিতে সাধারণ শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণের আহ্বান জানিয়ে প্রচারণাও চালানো হয়েছে।

আর জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদল শহীদ রফিক ভবনের সামনে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ মিছিল কর্মসূচি ঘোষণা করে। সংগঠনটির আহ্বায়ক মেহেদী হাসান হিমেল ও সদস্য সচিব শামসুল আরেফিন স্বাক্ষরিত বিজ্ঞপ্তিতে শিক্ষার্থী ও ছাত্রদল নেতাকর্মীদের ওপর হামলার প্রতিবাদে এ কর্মসূচির কথা উল্লেখ করা হয়।

 

এর পরিপ্রেক্ষিতে প্রকাশিত বিজ্ঞপ্তিতে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন বলেছে, একই স্থানে ও কাছাকাছি সময়ে একাধিক কর্মসূচি পালনের ঘোষণার কারণে অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি সৃষ্টি হতে পারে। এ কারণে ক্যাম্পাসে শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রাখতে সাময়িকভাবে সব ধরনের সভা-সমাবেশ ও মিছিল নিষিদ্ধ করা হয়েছে।

 

বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, এ সিদ্ধান্তের বিষয়টি বিশ্ববিদ্যালয়ের সকল ক্রিয়াশীল ছাত্রসংগঠনকে অবহিত করা হয়েছে এবং পরবর্তী নির্দেশনা না দেওয়া পর্যন্ত নিষেধাজ্ঞা বহাল থাকবে। এরইমধ্যে আজ সকাল থেকে শিক্ষার্থীদের পরিচয়পত্র থেকে ক্যাম্পাসে যেতে দিচ্ছে প্রশাসন।


জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ-জকসুর স্বাস্থ্য বিষয়ক সম্পাদক ও বিশ্ববিদ্যালয় ইনকিলাব মঞ্চের আহ্বায়ক মো. নূর মোহাম্মদের ওপর ফের হামলার ঘটনা ঘটেছে। আজ বুধবার (৫ আগস্ট) পুরান ঢাকার সোহরাওয়ার্দী সরকারি কলেজের সামনে এ ঘটনা ঘটে। এ সময় তিনি সহপাঠীদের সঙ্গে অবস্থান করছিলেন। হামলায় তার নারী সহপাঠীরাও আক্রান্ত হয়েছেন বলে জানা গেছে।

 

সহপাঠীদের অভিযোগ, ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা নূর মোহাম্মদকে কাঠ দিয়ে মারধর করেন। এতে তিনি আহত হন। পরে সহপাঠীরা তাকে উদ্ধার করে ন্যাশনাল মেডিকেল হাসপাতালে নিয়ে যান। বর্তমানে তিনি হাসপাতালের জরুরি বিভাগে চিকিৎসাধীন রয়েছেন বলে জানিয়েছেন তার সহপাঠীরা।

 

ইনকিলাব মঞ্চের কেন্দ্রীয় সদস্যসচিব ও ডাকসুর মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক সম্পাদক ফাতিমা তাসনিম জুমা এক ফেসবুক পোস্টে লিখেছেন, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় ইনকিলাব মঞ্চের আহ্বায়ক নূর মোহাম্মদের ওপর হামলা করেছে ছাত্রদল।

 

জকসুর সাধারণ সম্পাদক (জিএস) আব্দুল আলিম আরিফ এক পোস্টে লিখেছেন, ‘ছাত্রদল কি এখন গুন্ডা পোষা শুরু করেছে? সোহরাওয়ার্দী কলেজ ছাত্রদলের কর্মীরা জকসুর স্বাস্থ্য ও পরিবেশ সম্পাদক নূর মোহাম্মদসহ নারী শিক্ষার্থীদের ওপর অতর্কিত হামলা চালিয়েছে। প্রসাশনকে বলব, হামলাকারীদের এখনই বিচারের আওতায় আনুন। নইলে আজ যারা অন্যের ওপর হামলা করছে, কাল তারাই আপনার ওপরও হামলা করবে।’

সোহরাওয়ার্দী কলেজের সামনে জকসুর স্বাস্থ্য সম্পাদকের ওপর ছাত্রদলের হামলা

 

 

জুলাই গণঅভ্যুত্থানে শহীদদের আত্মত্যাগ ও অবদান স্মরণে ‘মাইলস ফর ম্যাট্রিস’ স্লোগানে সরকারি তিতুমীর কলেজ শাখা ইসলামী ছাত্রশিবিরের উদ্যোগে ‘রান ফর ভিক্টোরি ২.০’ শীর্ষক ম্যারাথন অনুষ্ঠিত হয়েছে। এতে পাঁচ শতাধিক শিক্ষার্থী অংশ নেন।

 

বুধবার (৫ আগস্ট) ভোর সাড়ে ৬টায় সরকারি তিতুমীর কলেজের প্রধান ফটক থেকে ম্যারাথনটি শুরু হয়। নির্ধারিত রুট অনুযায়ী অংশগ্রহণকারীরা কলেজের প্রধান ফটক থেকে গুলশান-১ পর্যন্ত দৌড়ে পুনরায় কলেজ গেটে ফিরে আসেন।

 

ম্যারাথন চলাকালে অংশগ্রহণকারীরা জুলাই আন্দোলনের বিভিন্ন স্লোগান দেন। এতে পুরো কর্মসূচিতে উৎসবমুখর পরিবেশ সৃষ্টি হয়।

 

আয়োজকরা জানান, জাতীয় গুরুত্বপূর্ণ দিবস ও ঐতিহাসিক ঘটনাকে ঘিরে শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণে ভবিষ্যতেও এ ধরনের সচেতনতামূলক ও ইতিবাচক কর্মসূচি অব্যাহত থাকবে।

 

ম্যারাথন শেষে সরকারি তিতুমীর কলেজ শাখা ইসলামী ছাত্রশিবিরের সেক্রেটারি সোহেল রানা বলেন, ‘এটি আমাদের দ্বিতীয় বিজয়ের আয়োজন। আমাদের প্রত্যাশার তুলনায় অনেক বেশি অংশগ্রহণকারী এতে যুক্ত হয়েছেন। দেশের বিভিন্ন স্থানে নানা ধরনের বিশৃঙ্খলা দেখা গেলেও তিতুমীর ক্যাম্পাসে কোনো ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেনি। অন্যান্য রাজনৈতিক সংগঠনের সঙ্গে আমাদের সৌহার্দ্যপূর্ণ সম্পর্ক বজায় রয়েছে এবং ভবিষ্যতেও এই সহাবস্থান ও সম্প্রীতি অটুট থাকবে বলে আমরা আশা করি।’

 

কলেজ শাখার সভাপতি খাদেমুল ইসলাম বলেন, ‘তিতুমীর কলেজের পাঁচ শতাধিক শিক্ষার্থীর অংশগ্রহণে আমরা এই ম্যারাথনের আয়োজন করেছি। জুলাইয়ের চেতনা ও আকাঙ্ক্ষাকে নতুন প্রজন্মের মধ্যে উজ্জীবিত রাখাই ছিল এ আয়োজনের মূল উদ্দেশ্য। আমরা ক্যাম্পাসে শান্তিপূর্ণ সহাবস্থান বজায় রেখেছি এবং ভবিষ্যতেও তা অব্যাহত রাখতে চাই।’

 

তিনি আরও বলেন, ‘এই দিনটিকে আমরা এমন একটি ঐতিহাসিক দিন হিসেবে স্মরণ করি, যেদিন শেখ হাসিনাকে দেশ ছাড়তে বাধ্য করা হয়েছিল। সেই প্রেক্ষাপট ও স্মৃতিকে ধারণ করেই আজকের এই প্রতীকী ম্যারাথনের আয়োজন করা হয়েছে।’

পটুয়াখালীর রাঙ্গাবালী উপজেলার ছোটবাইশদিয়া বিজনেস ম্যানেজমেন্ট ইনস্টিটিউট (বিএম) কলেজে এইচএসসি-২০২৬ পরীক্ষার উত্তরপত্র মূল্যায়নের কাজে সদ্য পরীক্ষা দেওয়া চার শিক্ষার্থীকে ব্যবহারের অভিযোগ উঠেছে কলেজের এক প্রভাষকের বিরুদ্ধে।

 

ঘটনা প্রকাশ্যে আসার পর বিষয়টি নিয়ে শুরু হয়েছে আলোচনা-সমালোচনা। পরীক্ষার্থীদের ভাষ্যমতে, মোট ১০০টি উত্তরপত্রের কোড নম্বর তাঁরা পূরণ করেছেন। তবে বিষয়টিকে গুরুতর অনিয়ম হিসেবে দেখছে বাংলাদেশ কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক।

 

রোববার (২ আগস্ট) দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে কলেজে গিয়ে দেখা যায়, চারজন শিক্ষার্থী একসঙ্গে বসে এইচএসসি পরীক্ষার উত্তরপত্রের কোড নম্বর পূরণ করছেন। এই কাজ করিয়েছেন কলেজের বাংলা বিভাগের প্রভাষক মো. রিপন হোসাইন, যিনি সম্প্রতি এনটিআরসিএর মাধ্যমে নিয়োগ পেয়েছেন।

 

জানা গেছে, বাংলাদেশ কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রণ বিভাগের (বিএমটি) পাঠানো একটি চিঠির মাধ্যমে বাংলা বিষয়ের (বিষয় কোড-২১৮১১) উত্তরপত্র পাঠানো হয়েছে ছোটবাইশদিয়া বিজনেস ম্যানেজমেন্ট ইনস্টিটিউটের বাংলা বিভাগের প্রভাষক রিপনের কাছে। গত ৪ জুলাই স্বাক্ষরিত ওই চিঠিতে জানানো হয়, পরীক্ষক কোড-১৪০৫-এর আওতায় তাঁর কাছে মোট ৩৫০টি উত্তরপত্র পাঠানো হয়েছে। চিঠিতে আরও বলা হয়, আগামী ৬ আগস্টের মধ্যে এসব উত্তরপত্র জমা দিতে হবে।

 

অভিযোগ ছিল, তিনি নিজে মূল্যায়ন না করিয়ে এ কাজে ব্যবহার করেন চার শিক্ষার্থী— আনিম, সিফাত, ইভান ও তানভিরকে। এদের মধ্যে আনিম, সিফাত ও ইভান এ বছর ওই কলেজ থেকেই দ্বাদশ শ্রেণির ফাইনাল পরীক্ষা দিয়েছেন। আর তানভির ছিলেন হিসাববিজ্ঞান বিষয়ে কেজ্যুয়াল (অনিয়মিত) পরীক্ষার্থী।

 

পরীক্ষার্থী সিফাত জানান, কলেজের শিক্ষক রিপন স্যার তাঁদের এসব খাতায় কোড নম্বর পূরণের কাজ করতে বলেছেন।

 

আরেক পরীক্ষার্থী আনিম বলেন, তাঁরা কলেজের কাছেই ছিলেন, স্যার ডেকে নিয়ে খাতার কোড পূরণ করতে বলেছেন এবং তাঁরা সেটাই করেছেন। তবে পরীক্ষার্থী হয়ে একই বোর্ডের উত্তরপত্র মূল্যায়নে অংশ নেওয়া নিয়মসম্মত কি না, এমন প্রশ্ন এড়িয়ে গিয়ে তিনি দাবি করেন, তাঁরা শুধু কোড ভরাট করেছেন, প্রকৃত মূল্যায়ন করেননি।

 

ঘটনা প্রকাশ্যে আসার পর থেকে প্রভাষক মো. রিপন হোসাইনের মুঠোফোন বন্ধ পাওয়া যাচ্ছে। সোমবার কলেজের অফিস কক্ষে গিয়েও তাঁকে পাওয়া যায়নি, ফলে এ বিষয়ে তাঁর বক্তব্য জানা সম্ভব হয়নি।

 

রাঙ্গাবালী উপজেলা শিক্ষা অফিসের সুপারভাইজার অনাধি কুমার বাহাদুর বলেন, উত্তরপত্র মূল্যায়নকারীকে কিছু ক্ষেত্রে কোড নম্বর পূরণ করতে হয়, সম্ভবত সে কাজেই শিক্ষার্থীদের সহায়তা নেওয়া হয়েছে। তদন্ত করে বিষয়টি আরও স্পষ্ট হয়ে বলা সম্ভব হবে।

 

তবে বিষয়টিকে গুরুতর অনিয়ম হিসেবে দেখছে বাংলাদেশ কারিগরি শিক্ষা বোর্ড। বোর্ডের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক প্রকৌশলী মো. আবুল কালাম আজাদ এনপিবি নিউজকে বলেন, যাকে উত্তরপত্র মূল্যায়নের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে, শুধু তিনিই তা করতে পারবেন অন্য কোনো শিক্ষকও তা মূল্যায়ন করতে পারবেন না। নির্ধারিত ব্যক্তির পরিবর্তে অন্য কেউ মূল্যায়ন করেছেন এমন প্রমাণ বা অভিযোগ তদন্তে প্রমাণিত হলে তাঁর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানান তিনি। আর শিক্ষার্থীদের দিয়ে উত্তরপত্র মূল্যায়ন করানোর প্রশ্নই ওঠে না বলে স্পষ্ট জানিয়ে দেন এই কর্মকর্তা।

সদ্য পরীক্ষা দেওয়া শিক্ষার্থীদের দিয়ে এইচএসসির উত্তরপত্র মূল্যায়নের অভিযোগ

চায়ের দোকানে বন্ধুদের নিয়ে ধূমপান ও আড্ডার ফাঁকে উচ্চ মাধ্যমিক (এইচএসসি) পরীক্ষার উত্তরপত্র মূল্যায়নের সময় প্রায় এক বস্তা খাতাসহ এক শিক্ষককে আটক করেছে সিলেট মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ড।

 

গতকাল শনিবার (১ আগস্ট) রাত সাড়ে ১১টার দিকে শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (শাবিপ্রবি) প্রধান ফটকসংলগ্ন একটি চায়ের টং দোকান থেকে এসব উত্তরপত্র জব্দ করেন শিক্ষা বোর্ডের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক অধ্যাপক বিলকিস ইয়াসমিন।

 

অভিযুক্ত ওই শিক্ষকের নাম ইকবাল হোসেন সোহান। তিনি সিলেট মেট্রোসিটি উইমেন্স কলেজের প্রাক-প্রভাষক এবং শাবিপ্রবির বাংলা বিভাগের ২০১৭-১৮ শিক্ষাবর্ষের সাবেক শিক্ষার্থী।

 

বিষয়টি নিশ্চিত করে সিলেট শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান অধ্যাপক মো. আনোয়ার হোসেন জানান, এ ঘটনায় তিন সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটিকে আগামী তিন কর্মদিবসের মধ্যে প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়েছে। এ ছাড়া ঘটনাটি শিক্ষা মন্ত্রণালয়কে জানানোর পাশাপাশি জালালাবাদ থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করা হয়েছে।

 

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, শনিবার রাত সাড়ে ১০টার দিকে শিক্ষক ইকবাল তার সাবেক সহপাঠী ও বন্ধুদের নিয়ে ওই চায়ের দোকানে বসে খাতা মূল্যায়ন করছিলেন। বস্তা থেকে খাতা বের করে তার সঙ্গে থাকা দুই বন্ধুকে উত্তরপত্র দেখতে দেখা যায়। এ সময় সেখানে শাবিপ্রবি শাখা ছাত্রলীগের সাবেক সহসভাপতি আইরিন লিনজাও উপস্থিত ছিলেন। এর আগের দিন শুক্রবার রাতেও একই দোকানে বসে চারজন মিলে চা-সিগারেট খাওয়ার ফাঁকে খাতা মূল্যায়ন করেন বলে প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান। পরীক্ষকদের এমন দায়িত্বজ্ঞানহীন আচরণে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন স্থানীয়রা।

খাতা জব্দের সময় পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক অধ্যাপক বিলকিস ইয়াসমিন কৈফিয়ত চাইলে অভিযুক্ত ইকবাল দাবি করেন, খাতা দেখার সময় শেষ হয়ে আসায় তাড়াহুড়ো করে বন্ধুদের নিয়ে উত্তরপত্র না কেটে শুধু কোড নম্বর মেলাচ্ছিলাম।

 

সেখানে উপস্থিত শাবিপ্রবির সাবেক শিক্ষার্থী আইরিন লিনজা নিজের সম্পৃক্ততা অস্বীকার করে বলেন, আমি খাতা মূল্যায়নে অংশ নিইনি। ইকবাল আমার বন্ধু, তাই সেখানে উপস্থিত ছিলাম।

 

ঘটনার পরপরই শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান পুলিশ নিয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছান এবং অভিযুক্ত শিক্ষককে স্থানীয় জালালাবাদ থানায় নিয়ে যান।

 

জালালাবাদ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শামসুল হাবিব জানান, শিক্ষা বোর্ডের পক্ষ থেকে থানায় একটি জিডি করা হয়েছে। বর্তমানে অভিযুক্ত শিক্ষককে বোর্ডের জিম্মায় রাখা হয়েছে।

 

চায়ের দোকানে বন্ধুদের নিয়ে এইচএসসির খাতা মূল্যায়ন, শিক্ষক আটক

যশোরের চৌগাছায় দ্বাদশ শ্রেণির এক ছাত্রীকে ধর্ষণের অভিযোগে আরাফাত হোসেন রাব্বি নামের এক ছাত্রদল নেতাকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। শনিবার রাত আনুমানিক ৯টার দিকে নির্যাতনের শিকার ওই শিক্ষার্থীর লিখিত অভিযোগের প্রেক্ষিতে পুলিশ অভিযুক্তকে আইনানুগ প্রক্রিয়ায় হেফাজতে নেয়।

গ্রেপ্তারকৃত ২২ বছর বয়সী আরাফাত হোসেন রাব্বি স্থানীয় চৌগাছা সরকারি কলেজ শাখা ছাত্রদলের সিনিয়র যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।

 

মামলার বিবরণ ও এজাহার সূত্রে জানা যায়, ভুক্তভোগী কলেজছাত্রী তার জাতীয় পরিচয়পত্র সংক্রান্ত কাজের সহযোগিতার জন্য প্রতিবেশী সম্পর্কের মামাতো ভাই রাব্বির দ্বারস্থ হয়েছিলেন। শনিবার সাপ্তাহিক ছুটির দিন হওয়ায় উপজেলা নির্বাচন কার্যালয়ের কার্যক্রম বন্ধ ছিল। তবে বিষয়টি অবগত থাকা সত্ত্বেও সকাল সাড়ে ৯টার দিকে রাব্বি ওই শিক্ষার্থীকে নিয়ে চৌগাছা শহরের উদ্দেশ্যে রওনা হন। পরবর্তীতে বিভিন্ন অজুহাতে ছাত্রীকে ভুল বুঝিয়ে চৌগাছা পৌরসভার আওতাধীন এক পরিচিত ব্যক্তির বাসায় নিয়ে যান রাব্বি। সেখানে তাকে শারীরিক নির্যাতন ও ধর্ষণ করা হয় বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়।

 

ঘটনার পর অসুস্থ হয়ে পড়া ওই শিক্ষার্থী পরবর্তীতে নিজ বাড়িতে ফিরে গিয়ে পুরো বিষয়টি তার মা-বাবার কাছে প্রকাশ করেন। ঘটনা জানার পর পরিবারের পক্ষ থেকে তাকে নিয়ে তাৎক্ষণিকভাবে থানায় উপস্থিত হন এবং লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন।

 

অভিযোগটি পাওয়ার পরপরই চৌগাছা থানার উপপরিদর্শক (এসআই) আব্দুস সাত্তারের নেতৃত্বে পুলিশের একটি দল অভিযান চালিয়ে অভিযুক্ত রাব্বিকে আটক করতে সক্ষম হয়।

 

ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে চৌগাছা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মামুনুর রশীদ জানান, ভুক্তভোগী পরিবারের লিখিত এজাহারের ভিত্তিতেই অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাকে আগামীকাল (রোববার) যশোর আদালতে সোপর্দ করা হবে এবং ঘটনার বিষয়ে অন্যান্য প্রয়োজনীয় আইনি পদক্ষেপ গ্রহণ প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।

এনআইডি করে দেওয়ার কথা বলে তরু/ণীকে ধ/ র্ষ/ণের অভিযোগ, ছাত্রদল নেতা গ্রেপ্তার

দেশের বিপুল মানবসম্পদকে দক্ষ জনশক্তিতে রূপান্তর করতে কারিগরি ও প্রযুক্তিনির্ভর শিক্ষার ওপর সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিচ্ছে সরকার বলে জানিয়েছেন শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন। তিনি বলেন, ভবিষ্যতের শ্রমবাজারের চাহিদা পূরণে প্রচলিত শিক্ষার পাশাপাশি কারিগরি শিক্ষার কোনো বিকল্প নেই।

 

শনিবার (১ আগস্ট) সকালে ঢাকা পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

 

শিক্ষামন্ত্রী জানান, তরুণদের দক্ষ মানবসম্পদ হিসেবে গড়ে তুলতে সরকার শিক্ষাব্যবস্থায় প্রয়োজনীয় সংস্কার কার্যক্রম হাতে নিয়েছে। এর অংশ হিসেবে কারিগরি শিক্ষার সম্প্রসারণ ও আধুনিকায়নে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।

 

তিনি বলেন, শুধুমাত্র প্রচলিত শিক্ষাব্যবস্থার ওপর নির্ভর করে দেশের বিশাল জনশক্তিকে উৎপাদনশীল সম্পদে পরিণত করা সম্ভব নয়। তাই কারিগরি শিক্ষার সুযোগ বাড়াতে দেশে নতুন করে চারটি ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজ প্রতিষ্ঠার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।

 

আ ন ম এহছানুল হক মিলন আরও জানান, কারিগরি শিক্ষার মানোন্নয়নে আন্তর্জাতিক সহযোগিতাও জোরদার করা হচ্ছে। প্রধানমন্ত্রীর সাম্প্রতিক চীন সফরের সময় বাংলাদেশের কারিগরি শিক্ষা ও দক্ষতা উন্নয়ন খাতে চীনের সঙ্গে একটি সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) সই হয়েছে, যা এ খাতের উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।

 

অনুষ্ঠানে তিনি জুলাইয়ের আন্দোলনে আত্মত্যাগকারীদের স্মরণ করে বলেন, দেশের জন্য যাঁরা জীবন উৎসর্গ করেছেন, তাঁদের অবদান ভবিষ্যৎ প্রজন্মের কাছে তুলে ধরা এবং সংরক্ষণ করা সবার দায়িত্ব।

 

শিক্ষামন্ত্রী বলেন, দক্ষ মানবসম্পদই দেশের টেকসই উন্নয়নের অন্যতম ভিত্তি। তাই শিক্ষাব্যবস্থাকে আরও কর্মমুখী, প্রযুক্তিনির্ভর এবং দেশীয় ও আন্তর্জাতিক শ্রমবাজারের চাহিদার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ করে গড়ে তুলতে হবে।

কারিগরি ও প্রযুক্তিনির্ভর শিক্ষায় জোর দিচ্ছে সরকার: শিক্ষামন্ত্রী

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

ঠাকুরগাঁওয়ে ডিবির অভিযানে শীর্ষ অনলাইন ক্যাসিনো ব্যবসায়ী গ্রেফতার।

 

মোঃ আশরাফুল ইসলাম

ঠাকুরগাঁও প্রতিনিধি

 

ঠাকুরগাঁওয়ে বিশেষ অভিযানে কথিত শীর্ষ অনলাইন ক্যাসিনো ব্যবসায়ী মোহাম্মদ খোরশেদ আলী (৩০)কে গ্রেফতার করেছে জেলা গোয়েন্দা শাখা (ডিবি) পুলিশ।

 

বুধবার ৬আগষ্ট ঠাকুরগাঁও জেলা গোয়েন্দা শাখা (ডিবি)-এর একটি চৌকস দল সদর উপজেলার ১০ নম্বর জামালপুর ইউনিয়নের ৬ নম্বর ওয়ার্ডের মালিগাঁও (কাশিডাঙ্গা) এলাকায় বিশেষ অভিযান পরিচালনা করে তাকে আটক করে।

গ্রেফতারকৃত খোরশেদ আলী মালিগাঁও (কাশিডাঙ্গা) গ্রামের বাসিন্দা। তিনি মোহাম্মদ তোফাজ্জল হোসেন ও মোছা. মাজেদা বেগমের ছেলে।

 

ডিবি পুলিশের দাবি, প্রাথমিক তদন্তে গ্রেফতারকৃতের ব্যবহৃত মোবাইল ফোনে ৩৮টি অনলাইন ক্যাসিনো অ্যাপ পাওয়া গেছে। তিনি ডিজিটাল ইলেকট্রনিক ডিভাইস, মোবাইল ফোন ও ইন্টারনেট ব্যবহার করে সাইবার স্পেসে প্রতারণামূলক কর্মকাণ্ড পরিচালনা করতেন বলে অভিযোগ রয়েছে। এ অভিযোগে তাকে গ্রেফতার করা হয়েছে।

এ বিষয়ে ঠাকুরগাঁও জেলা গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি) জানায়, “আমরা শুধু মাদক নির্মূলে নয়, অনলাইন ক্যাসিনোসহ সব ধরনের সাইবার অপরাধ দমনে সর্বদা সোচ্চার। এ ধরনের অপরাধের বিরুদ্ধে আমাদের অভিযান আরও জোরদারভাবে চলমান থাকবে।”

 

গ্রেফতারকৃতের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।

ঠাকুরগাঁওয়ে ডিবির অভিযানে শীর্ষ অনলাইন ক্যাসিনো ব্যবসায়ী গ্রেফতার।

নীলফামারীতে মেধাবী শিক্ষার্থীদের শিক্ষাবৃত্তির চেক ও প্রশিক্ষণার্থীদের সনদ বিতরণ

 

স্টাফ রিপোর্টার

মাইদুল ইসলাম

নীলফামারীর ডোমার ও ডিমলা উপজেলার মেধাবী শিক্ষার্থীদের মাঝে শিক্ষাবৃত্তির চেক, জেলা পরিষদের ডিজিটাল ল্যাবে কম্পিউটার প্রশিক্ষণ উত্তীর্ণ প্রশিক্ষণার্থীদের সনদপত্র এবং বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন ব্যক্তিদের মাঝে

হুইলচেয়ার বিতরণ করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার

(০৬/আগস্ট) দুপুরে জেলা পরিষদের সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে এসব বিতরণ করেন জেলা পরিষদের প্রশাসক এ্যাডভোকেট মিজানুর রহমান চৌধুরী। জেলা পরিষদের ২০২৪-২০২৫ অর্থ বছরের রাজস্ব বরাদ্দের অর্থে তোমার ও ডিমলা উপজেলার মোট ২৭ জন মেধাবী শিক্ষার্থীকে শিক্ষাবৃত্তির চেক দেওয়া হয়। প্রত্যেক শিক্ষার্থীর হাতে ৫ হাজার টাকা করে তুলে দেওয়া হয়। এছাড়া নীলফামারী জেলা পরিষদের ডিজিটাল ল্যাবে কম্পিউটার প্রশিক্ষণ সফলভাবে সম্পূর্ণ করা সাতজন প্রশিক্ষণার্থীদের সনদপত্র প্রদান করা হয়। একই অনুষ্ঠানে বিশেষ চাহিদা সম্পন্ন দুই ব্যক্তির চলাচলের সুবিধার্থে তাদের হাতে হুইলচেয়ার তুলে দেওয়া হয়। অনুষ্ঠানে জেলা পরিষদের প্রশাসক এ্যাডভোকেট মিজানুর রহমান চৌধুরী বলেন, শিক্ষার্থীদের নিয়মিত পড়াশুনার পাশাপাশি কারিগরি ও প্রযুক্তিগত দক্ষতায় সমৃদ্ধ হতে হবে। এসব দক্ষতা অর্জনের মাধ্যমে ভবিষ্যতে দেশ গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখার জন্য তিনি শিক্ষার্থীদের প্রতি আহ্বান জানান। অনুষ্ঠানে জেলা পরিষদের

কর্মকর্তা-কর্মচারী, শিক্ষার্থী, প্রশিক্ষণার্থী ও সংশ্লিষ্টরা উপস্থিত ছিলেন

নীলফামারীতে মেধাবী শিক্ষার্থীদের শিক্ষাবৃত্তির চেক ও প্রশিক্ষণার্থীদের সনদ বিতরণ 

নীলফামারী জেলা পরিষদের নিয়োগ নিয়ে রিট, এক সপ্তাহে নথি

চাইল অ্যাটর্নি জেনারেলের কার্যালয়

 

স্টাফ রিপোর্টার

মাইদুল ইসলামঃ

০৬/আগস্ট/২৬ইং

নীলফামারী জেলা পরিষদের নিম্ন বিভাগ সহকারী-কাম-টাইপিস্ট পদে নিয়োগ নিয়ে করা রিট মামলাটি শুনানির জন্য হাইকোর্টের কার্যতালিকায় রয়েছে। মামলায় রাষ্ট্রপক্ষের আইনগত প্রস্তুতির জন্য জেলা পরিষদের কাছে প্রয়োজনীয় নথিপত্র চেয়েছে অ্যাটর্নি জেনারেলের কার্যালয়। সম্ভব হলে এক সপ্তাহের মধ্যে এসব নদী পাঠাতে বলা হয়েছে। গত ৩ আগস্ট ডেপুটি আটর্নি জেনারেল মো.জে. আর.খান রবিন স্বাক্ষরিত চিঠিতে নীলফামারী জেলা পরিষদের চেয়ারম্যানকে এ নির্দেশনা দেওয়া হয়। চিঠি সূত্রের জানা গেছে, রিট পিটিশন নম্বর ২৪৮৪/২০২১ (মো. জাহিদ হোসেন বনাম বাংলাদেশ ও অন্যান্য) মামলাটি হাইকোর্ট বিভাগের বিচারপতি কে. এম. হাফিজুল আলম ও বিচারপতি মুরাদ-এ-মাওলা সোহেলের সমন্বয়ে গঠিত ডিভিশন বেঞ্চের দৈনিক কার্যতালিকায় শুনানির জন্য রয়েছে। রিটে অভিযোগ করা হয়েছে ২০১৯ সালের ১৩ জুন প্রকাশিত নিয়োগ বিজ্ঞপ্তির পর নীলফামারী জেলা পরিষদের নিম্ন বিভাগ

সহকারী -কাম-টাইপিস্ট পদে পরীক্ষা গ্রহণ ছাড়াই একজনকে অবৈধ ও গোপনে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। এ নিয়োগ কেন আইনগত কর্তৃত্ববহির্ভৃত ও অবৈধ ঘোষণা করা হবে না এবং নিয়োগ বাতিলের নির্দেশ কেন দেওয়া হবে না, তা জানতে চেয়ে হাইকোর্ট রুল জারি করেন। রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত সংশ্লিষ্ট নিয়োগ প্রক্রিয়ার সব নথি আদালতে দাখিলের ও নির্দেশ দেওয়া হয়। এরমধ্যে ২০১৯ সালের ১৯ জুলাই অনুষ্ঠিত হয়েছে বলে উল্লেখ করা পরীক্ষার নথি ও ফলাফলও রয়েছে। মামলাটির পরবর্তী শুনানিকে সামনে রেখে রাষ্ট্রপক্ষের প্রস্তুতির জন্য জেলা পরিষদের কাছে ভাকালতনামা,

অনুমোদনপত্র, ঘটনার বিবরণ, অনুচ্ছেদভিত্তিক জবাব এবং সংশ্লিষ্ট প্রমাণ্য নথিপত্র চেয়েছে অ্যাটর্নি জেনারেলের কার্যালয়। চিঠিতে বলা হয়েছে, প্রয়োজনীয় কাগজপত্র দ্রুত, সম্ভব হলে এক সপ্তাহের মধ্যে অ্যাটর্নি জেনারেলের কার্যালয়ে পাঠাতে হবে। নির্ধারিত সময়ে নথি সরবরাহ না করা হলে এর ফলে কোন বিরুপ পরিস্থিতি তৈরি হলে তার দায় অ্যাটর্নি জেনারেলের কার্যালয় বহন করবে না। প্রয়োজনে জেলা পরিষদ নিজম্ব প্যানেল আইনজীবীর মাধ্যমেও মামলাটিতে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নিতে পারবে বলে চিঠিতে উল্লেখ করা হয়েছে। এ বিষয়ে সার্বিক সময়ের জন্য ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল মো.জে.আর.খান রবিনের সঙ্গে যোগাযোগ করতে জেলা পরিষদকে অনুরোধ করা হয়েছে।

নীলফামারী জেলা পরিষদের নিয়োগ নিয়ে রিট, এক সপ্তাহে নথি  চাইল অ্যাটর্নি জেনারেলের কার্যালয় 

বাড়িতে বিয়ের আয়োজন। দিন কাটিয়ে রাত পোহালেই সেই বিয়েতে আসার কথা আমন্ত্রিত অতিথিদের। বিয়েকে কেন্দ্র করে চাচাদের সঙ্গে বাজার করতে বেরিয়েছিলেন ফেনীর ছাগলনাইয়া এলাকার যুবক ছায়েদুল হক ফনির (৩২)। কিন্তু বোনের বিয়ের ঠিক আগের দিন সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণ গেল তার। এতে বিয়ে বাড়িতে নেমে এসেছে শোকের ছায়া।

বৃহস্পতিবার (৬ আগস্ট) সকালে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের ছাগলনাইয়া উপজেলার সমিতি বাজার এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।

 

নিহত ফনির উপজেলার ঘোপাল ইউনিয়নের দৌলতপুর গ্রামের ছয়ঘরিয়া পাড়ার আব্দুল হাইয়ের ছেলে। তিনি ছাগলনাইয়া উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের রাজনীতিতে সক্রিয় ছিলেন।

 

ছাগলনাইয়া উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের যুগ্ম আহ্বায়ক ইমাম হোসেন নয়ন জানান, আগামী শুক্রবার ফনিরের চাচাতো বোনের বিয়ে হওয়ার কথা ছিল। বিয়ের কেনাকাটা শেষে বারৈয়ারহাট থেকে টমটমযোগে বাড়ি ফিরছিলেন তিনি। পথে সমিতি বাজার এলাকায় পৌঁছালে চট্টগ্রাম থেকে ফেনীগামী একটি যাত্রীবাহী বাস পেছন থেকে টমটমটিকে ধাক্কা দেয়। এতে ঘটনাস্থলেই ফনির মৃত্যু হয়। এ সময় তার চাচা আলম ও টমটমচালক গুরুতর আহত হন।

মুহুরীগঞ্জ পুলিশ ফাঁড়ির এসআই নোমান জানান, দুর্ঘটনার খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে নিহতের মরদেহ উদ্ধার করে ছাগলনাইয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে পাঠায়। আইনি প্রক্রিয়া শেষে মরদেহ স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। এই ঘটনায় আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।

 

 

বাড়িতে বোনের বিয়ের আয়োজন, বাজার শেষে নিথর দেহে ফিরল ভাই

এলিট ফোর্স র‌্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র‌্যাব) বিলুপ্ত করে নতুন বাহিনী গঠনের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। ‘স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন (এসআরবি) নামে নতুন এ বাহিনীর একটি খসড়া জনমতের জন্য স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ওয়েবসাইটে প্রকাশ করা হয়েছে।

 

খসড়াটি চূড়ান্ত হওয়ার পর বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও বিভাগের মতামত নিয়ে মন্ত্রিসভায় উপস্থাপন করা হবে। সেখানে অনুমোদন পেলে আইনটি জাতীয় সংসদে উত্থাপন করা হবে। নতুন আইন কার্যকর হলে র‌্যাব-সংক্রান্ত বিদ্যমান আইনি ভিত্তি বিলুপ্ত হবে। এসআরবির নতুন বিধিমালা প্রণীত না হওয়া পর্যন্ত আগের কিছু বিধান কার্যকর থাকবে।

 

তবে নতুন বাহিনী হিসেবে স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন (এসআরবি) প্রতীক (লোগো), পতাকা ও পোশাক কী হবে, কোন কোন দায়িত্ব পালন করবে, কার অধীনে থাকবে, সংস্থাটির দায়িত্বে কে থাকবেন, এসব বিষয়ে খসড়া আইনে বলা হয়েছে।

 

এসআরবির দায়িত্ব, কর্মপরিধি ও বিধিবিধান

 

খসড়া আইন পর্যালোচনায় দেখা যায়, দেশের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা রক্ষা, গোয়েন্দা তথ্য সংগ্রহ, অবৈধ অস্ত্র ও বিস্ফোরক উদ্ধার, মাদকদ্রব্য দমন, সাইবার অপরাধ মোকাবিলা, মানবপাচার ও সংঘবদ্ধ অপরাধ দমন, সন্ত্রাসবাদ প্রতিরোধ এবং অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে সহায়তা করা—এসবই এসআরবির দায়িত্ব হিসেবে নির্ধারণ করা হয়েছে। এ ছাড়া আদালত, সরকার কিংবা পুলিশের মহাপরিদর্শকের (আইজিপি) নির্দেশে মামলা দায়ের ও তদন্ত পরিচালনার ক্ষমতাও দেওয়া হয়েছে।

 

খসড়া অনুযায়ী, ফৌজদারি কার্যবিধি অনুসরণ করে এসআরবির সদস্যরা নির্দিষ্ট ক্ষেত্রে তল্লাশি, জব্দ ও গ্রেপ্তার করতে পারবেন। মাদক, অস্ত্র, গোলাবারুদ, বিস্ফোরক, সন্ত্রাসী আস্তানা, মানবপাচার, সংঘবদ্ধ অপরাধ, সাইবার অপরাধ কিংবা রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তাবিরোধী অপরাধের ক্ষেত্রে অভিযান পরিচালনার ক্ষমতা থাকবে বাহিনীটির।

 

এ ছাড়া আদালত, সরকার বা আইজিপির নির্দেশে ফৌজদারি অপরাধের তদন্তও পরিচালনা করতে পারবে এসআরবি। তদন্ত করবেন অন্তত সাব-ইন্সপেক্টর পদমর্যাদার কর্মকর্তা এবং পুরো প্রক্রিয়ায় ফৌজদারি কার্যবিধি ও পুলিশ রেগুলেশন অনুসরণের বাধ্যবাধকতা থাকবে।

 

সুষ্ঠু তদন্ত পরিচালনার স্বার্থে এসআরবির নিজস্ব হাজতখানা, মালখানা ও জিজ্ঞাসাবাদকক্ষ থাকবে। জব্দ করা মালামাল আদালতের আদেশ বা সরকারের প্রণীত বিধি অনুযায়ী নিষ্পত্তি

র‌্যাবের পরিবর্তে আসা এসআরবি কী দায়িত্ব পালন করতে পারবে

সাতক্ষীরা সদরের মাধবকাটি এলাকায় থেকে নতুন মাদক কুশ জব্দ করেছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)। বৃহস্পতিবার (৬ আগষ্ট) দুপুরে অভিযান চালিয়ে ৬ কোটি টাকা মূল্যের ১২ কেজি ওজনের এই মাদক জব্দ করা হয়। এসময় এক চোরাকারবারীকে আটক করা হয়।

 

বিজিবি জানায়, সাতক্ষীরা শহর থেকে মোটর সাইকেলযোগে ল্যাগেজ ভর্তি মাদক নিয়ে ঝাউডাঙ্গা যাওয়ার সময় মাধবকাটি এলাকা থেকে তাকে আটক করা হয়। পরীক্ষা নিরীক্ষার পর দেখা যায়, এই মাদকের নাম কুশ। নতুন এই মাদক দেশের অভ্যন্তরে ছড়িয়ে পড়েছে।

 

সাতক্ষীরা ৩৩ বিজিবি অধিনায়ক লে. কর্নেল কাজী আশিকুর রহমান জানান, দেশের মধ্যে প্রথম এত বড় চালান জব্দ করা হয়েছে এই মাদকের। যার এক গ্রামের মূল্য পাঁচ হাজার টাকা। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে নতুন এই মাদক জব্দ করা হয়েছে।

সাতক্ষীরায় ১২ কেজি মাদক কুশসহ চোরাকারবারী আটক

জ্বালানি তেল ও গ্যাস সংকট, বিদ্যুতের ‘ভূতুড়ে বিল’, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি এবং নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের লাগামহীন মূল্যবৃদ্ধির প্রতিবাদে সচিবালয় অভিমুখে পদযাত্রা করতে গিয়ে পুলিশের বাধার মুখে পড়েছেন ১১ দলীয় জোটের নেতাকর্মীরা।

 

এ সময় সচিবালয়ের সামনে বিরোধীদলীয় নেতা ও জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেন, ‘আমরা কাউকে অসম্মান করতে আসিনি, জনগণের দাবি নিয়ে এসেছি।’

 

বৃহস্পতিবার (৬ আগস্ট) দুপুর পৌনে ১টার দিকে সচিবালয়ের সামনে পৌঁছালে পুলিশ তাদের পদযাত্রায় বাধা দেয়। পরে সেখানেই সংক্ষিপ্ত বক্তব্য দেন তিনি।

 

এ সময় জামায়াত আমির বলেন, আমরা আজ এখানে বক্তৃতা দিতে আসিনি। জনগণের ১১ দফা দাবি মানুষের হাতে তুলে দিতে এসেছি। এই ১১ দফা কোনো দল, গোষ্ঠী বা কোনো ব্যক্তির স্বার্থের জন্য নয়; এটি ১৮ কোটি মানুষের অধিকার রক্ষার দাবি।

 

ডা. শফিকুর রহমান বলেন, দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চলবে। জ্বালানি সংকট, দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি ও জনভোগান্তি বাড়ছে। এসব সমস্যার সমাধানে সরকারকে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে।

 

সরকারের উদ্দেশে জামায়াতের শীর্ষ নেতা বলেন, সচিবালয় জনগণের সম্পদ। সেখানে যারা দায়িত্বে আছেন, তাদের জনগণের দাবি শুনতে হবে এবং বাস্তবায়নের উদ্যোগ নিতে হবে।

 

এসময় তিনি গ্যাস ও বিদ্যুৎ সংকট নিরসন, এলপিজির মূল্যবৃদ্ধি প্রত্যাহার এবং নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম নিয়ন্ত্রণের দাবি জানান।

দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চলবে: বিরোধীদলীয় নেতা

ঝালকাঠির সদর উপজেলার ৫ নং কীর্তিপাশা ইউনিয়ন বিএনপির সাংগঠনিক সভায় আওয়ামী লীগ নেতা ইউপি চেয়ারম্যানের উপস্থিতি ও ফুলের শুভেচ্ছা বিনিময়কে কেন্দ্র করে স্থানীয় রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে আলোচনা সমালোচনা শুরু হয়েছে। সভায় ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সহসভাপতি ইঞ্জিনিয়ার আবদুর রহিম মিয়ার উপস্থিতি এবং বিএনপির নেতাদের ফুল দিয়ে শুভেচ্ছা জানানোর ঘটনাকে কেন্দ্র করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও ব্যাপক প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। বিএনপির এক গ্রুপ বলছে এর পেছনে কয়েক লাখ টাকার লেনদেন হয়েছে।

 

বুধবার বিকেল ৫টায় কীর্তিপাশা ইউনিয়ন পরিষদের সভাকক্ষে সাংগঠনিক কার্যক্রমকে গতিশীল করতে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ঝালকাঠি সদর উপজেলা বিএনপির সভাপতি এস এম এজাজ হাসান। সভাপতিত্ব করেন ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি মো. আনিসুজ্জামান চপল এবং সঞ্চালনা করেন সাধারণ সম্পাদক শরিফুল হক মিয়া।

 

সভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মো. খোকন মল্লিক, প্রচার সম্পাদক আজিজুল হক এবং ইউনিয়ন বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক মো. কামরুল হাসান। সভায় ইউনিয়নের নয়টি ওয়ার্ডের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক নিজ নিজ এলাকার সাংগঠনিক কার্যক্রমের বিভিন্ন বিষয় তুলে ধরেন। তবে সভার আনুষ্ঠানিক কার্যক্রমের বাইরে সবচেয়ে বেশি আলোচনায় আসে ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আওয়ামী লীগ নেতা ইঞ্জিনিয়ার আবদুর রহিম মিয়ার উপস্থিতি। তিনি উপজেলা বিএনপির সভাপতি এস এম এজাজ হাসান, সাধারণ সম্পাদক মো. খোকন মল্লিকসহ অন্য নেতাদের ফুল দিয়ে শুভেচ্ছা জানান। এরপরই বিষয়টি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়।

 

সমালোচকদের দাবি, অতীতে তাঁকে আওয়ামী লীগের বিভিন্ন কর্মসূচিতে অংশ নিতে দেখা গেছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সাবেক শিল্পমন্ত্রী আমির হোসেন আমুর সঙ্গে তাঁর একাধিক ছবিও ছড়িয়ে পড়েছে। এর পরিপ্রেক্ষিতে অনেকেই তাঁর বর্তমান রাজনৈতিক অবস্থান নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। তবে স্থানীয় বাসিন্দাদের একটি অংশ বলছেন, ইঞ্জিনিয়ার আবদুর রহিম মিয়া দলীয় প্রতীকে নয়, স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে ‘আনারস’ প্রতীক নিয়ে নির্বাচনে অংশ নিয়ে বিজয়ী হয়েছিলেন। জনপ্রতিনিধি হিসেবে দায়িত্ব পালনের অংশ হিসেবে তিনি বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন রাজনৈতিক ও সামাজিক অনুষ্ঠানে অংশ নিয়েছেন।

 

এ বিষয়ে ইঞ্জিনিয়ার আবদুর রহিম মিয়া বলেন, ‘আমার বাবা ও দাদাসহ পরিবারের সদস্যরা দীর্ঘদিন ধরে বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে জড়িত। আমি জনগণের ভোটে নির্বাচিত হয়েছি এবং সব সময় মানুষের কল্যাণে কাজ করার চেষ্টা করেছি।’

 

তিনি আরও বলেন, ‘আমি শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের আদর্শে বিশ্বাস করি। ভবিষ্যতে বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত থাকার আগ্রহ রয়েছে। বিগত দিনে বাধ্য হয়ে আমির হোসেন আমুর প্রোগ্রামে যেতে হয়েছে।

 

এদিকে, উপজেলা বিএনপির সভাপতি এস এম এজাজ হাসান বলেন, ‘কেন্দ্রীয় নির্দেশনা অনুযায়ী বর্তমানে বিএনপিতে নতুন সদস্য অন্তর্ভুক্তি বা যোগদানের কোনো সুযোগ নেই। ইউনিয়ন পরিষদে বিএনপির সভা হওয়ায় সৌজন্যতাবশত ইউপি চেয়ারম্যান রহিম মিয়া আমাদের ফুল দিয়ে শুভেচ্ছা জানিয়েছেন।

 

এজাজ হাসানের ভাষ্য, এটি ছিল বিএনপির একটি নিয়মিত সাংগঠনিক সভা এবং দলের নীতিমালার বাইরে কোনো কার্যক্রম পরিচালিত হয়নি।

 

স্থানীয় রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, সাম্প্রতিক এই ঘটনাকে ঘিরে কীর্তিপাশার রাজনীতিতে নতুন মেরুকরণের ইঙ্গিত মিলছে। বিশেষ করে স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের রাজনৈতিক অবস্থান নিয়ে যে আলোচনা শুরু হয়েছে, তার প্রভাব আগামী দিনের রাজনীতি ও ইউপি নির্বা

চনে পড়তে পারে।

 

বিএনপির সাংগঠনিক সভায় আওয়ামী লীগ নেতার ফুলেল শুভেচ্ছা

ঠাকুরগাঁওয়ে আন্তঃমাদ্রাসা ফুটবল টুর্নামেন্ট ও পুরস্কার বিতরণ অনুষ্ঠান ২০২৬ অনুষ্ঠিত।

 

মোঃ আশরাফুল ইসলাম

ঠাকুরগাঁও প্রতিনিধি।

 

ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলার ৪নং বেগুনবাড়ি ইউনিয়নের ঐতিহাসিক বেগুনবাড়ি ফাজিল( ডিগ্রী) মাদ্রাসায় আন্তঃ মাদ্রাসা ফুটবল টুর্নামেন্ট অনুষ্ঠিত হয়।

ফুটবল টুর্নামেন্ট মাদ্রাসার সকল শিক্ষার্থী শ্রেণী ভেদে খেলায় অংশগ্রহণ করেন।

 

আন্তঃমাদ্রাসা ফুটবল টুর্নামেন্ট ২০২৬ অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলা নির্বাহী অফিসার জনাব মোঃ খাইরুল ইসলাম।

গেস্ট অফ অনার হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জনাব মোঃ আব্দুল হামিদ সভাপতি ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলা বিএনপি।

 

বিশেষ অতিথি হিসে উপস্থিত ছিলেন জনাব মোঃ আরিফুল্লাহ্, উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলা,ঠাকুরগাঁও ও জনাব আলহাজ্ব মোঃ আহসান হাবিন সভাপতি অত্র মাদ্রাসা ও সাংগঠনিক সম্পাদক ৪ নং বেগুনবাড়ি ইউনিয়ন বিএনপি।

 

এ সময় প্রধান অতিথির বক্তব্য কালে শিক্ষার্থীদের উদ্দেশ্য করে বলেন বর্তামান সময়ে মাঠ পর্যায়ের খেলা গুলো হারিয়ে যাচ্ছে অনলাইন গেম মোবাইল আসক্তির মাধ্যমে এসব বিভিন্ন ভাবে শিক্ষার্থীদের ধ্বংসের দিকে প্রভাবিত করছে।

 

তাই এই খারাপ দিক থেকে ফিরিয়ে আনতে হলে মাঠ পর্যায়ে খেলাধুলা বিকল্প নাই। সেই সাথে শিক্ষার্থীদের মাঠে খেলাধুলায় মনযোগী করতে বিভিন্ন ভাবে সহযোগীতার আশ্বাস দেন।

 

আন্তঃ মাদ্রাসা ফুটবল টুর্নামেন্ট ফাইনাল খেলায় দশম শ্রেণীর সাথে প্রতিদ্বন্দ্বী করেন অষ্টম শ্রেণীর শিক্ষার্থীরা খেলার মাঠে দশম শ্রেণীকে হারিয়ে ফাইনালে চ্যাম্পিয়নের গৌরব অর্জন করেন অষ্টম শ্রেণীর শিক্ষার্থীরা।

পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে বিজয়ীদের হাতে পুরস্কার তুলেদেন সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জনাব মোঃ খাইরুল ইসলাম।

অত্র মাদ্রসারর অধ্যাক্ষের সভাপতিত্বের অনুষ্ঠানের অনুষ্ঠানিকাতা সমাপ্তি করা হয়।

ঠাকুরগাঁওয়ে আন্তঃমাদ্রাসা ফুটবল টুর্নামেন্ট ও পুরস্কার বিতরণ অনুষ্ঠান ২০২৬ অনুষ্ঠিত

জ্বালানি তেল ও গ্যাসসংকট, বিদ্যুতের ‘ভূতুড়ে’ বিল, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি এবং নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের লাগামহীন মূল্যবৃদ্ধির প্রতিবাদে সচিবালয় ঘেরাও কর্মসূচি পালন করতে গিয়ে পুলিশের বাধার মুখে পড়েছে ১১ দলীয় ঐক্য। অবস্থান কর্মসূচি শেষে সচিবালয়ের উদ্দেশে মিছিল নিয়ে রওনা হলে জিরো পয়েন্ট এলাকায় ব্যারিকেড দিয়ে তাদের অগ্রযাত্রা আটকে দেয় পুলিশ।

 

বৃহস্পতিবার (৬ আগস্ট) রাজধানীর মুক্তাঙ্গনে অবস্থান কর্মসূচি শেষে দুপুর ১টার দিকে নেতাকর্মীরা সচিবালয়ের উদ্দেশে মিছিল নিয়ে রওনা দেন। তবে মিছিলটি জিরো পয়েন্ট এলাকায় পৌঁছালে পুলিশ ব্যারিকেড দিয়ে তাদের থামিয়ে দেয়।

 

এর আগে একই দাবিতে বেলা ১১টার পর রাজধানীর মুক্তাঙ্গনে অবস্থান কর্মসূচি শুরু করে ১১ দলীয় ঐক্য। কর্মসূচি চলাকালে বেলা ১১টা ৫০ মিনিটের দিকে বৃষ্টি শুরু হলেও নেতাকর্মীরা রাজপথ ছেড়ে না গিয়ে কর্মসূচি চালিয়ে যান।

 

সচিবালয় ঘেরাও কর্মসূচিতে নেতৃত্ব দেন বিরোধীদলীয় নেতা ও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান। কর্মসূচিতে এসিপির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলামসহ ১১ দলীয় জোটের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতারা অংশ নেন।

 

অবস্থান কর্মসূচিতে উপস্থিত ছিলেন লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টির (এলডিপি) প্রেসিডেন্ট ড. কর্নেল (অব.) অলি আহমদ বীর বিক্রম, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল ও সাবেক সংসদ সদস্য মিয়া গোলাম পরওয়ার, সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল ও সাবেক এমপি ড. হামিদুর রহমান আযাদ, জাগপার সহসভাপতি ও মুখপাত্র ইঞ্জিনিয়ার রাশেদ প্রধানসহ ১১ দলীয় ঐক্যের শীর্ষ নেতারা।

 

নেতারা বলেন, দেশের বর্তমান পরিস্থিতিতে সাধারণ মানুষের ভোগান্তি বেড়েছে। জ্বালানি সংকট, বিদ্যুতের অতিরিক্ত ও ‘ভূতুড়ে’ বিল, দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতির বিষয়ে সরকারের দৃষ্টি আকর্ষণ করতেই এ কর্মসূচি পালন করা হচ্ছে। এসব সংকট নিরসনে সরকারকে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ারও আহ্বান জানান তারা।

 

পুলিশের বাধার পর নেতাকর্মীরা কিছু সময় ঘটনাস্থলে অবস্থান করেন। পরে কর্মসূচির পরবর্তী সিদ্ধান্ত নিয়ে জোটের নেতারা আলোচনা করেন।

সচিবালয় ঘেরাও কর্মসূচিতে পুলিশের বাঁধার মুখে ১১ দল

র‌্যাবের চৌকস অভিযানে জীপসহ প্রায় ১১ হাজার ইয়াবার চালান আটক

জামালপুর হামলা পাল্টা হামলার মধ্য দিয়ে জেলার সানন্দবাড়ী তে থমথমে অবস্থা বিরাজমান।

পর্নোগ্রাফি নিয়ন্ত্রণ আইনে এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা দায়ের ও আদালতে মিথ্যা হলফনামা দেয়ার অভিযোগে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের কেবিন ক্রু খাদিজা সুলতানা শিমুর বিরুদ্ধে মামলা দায়েরের নির্দেশ দিয়েছেন আদালত।

 

বুধবার (১৫ জুলাই) ঢাকার অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালত-২-এর বিচারক মো. জাকির হোসাইন এ আদেশ দেন। আদালতের আদেশে বলা হয়েছে, শিমুর বিরুদ্ধে পর্নোগ্রাফি নিয়ন্ত্রণ আইন, ২০১২-এর ১৩ ধারা এবং দণ্ডবিধির ১৮১, ১৮২ ও ১৯৩ ধারায় মামলা করা হবে। আদালত নিজেই এ মামলার বাদী হয়েছেন।

 

আদালতের নথি অনুযায়ী, খাদিজা সুলতানা শিমু মামলার বাদী হয়ে বেসরকারি একটি এয়ারলাইন্সের কর্মকর্তা মো. ওমর ফারুক চৌধুরীর বিরুদ্ধে পর্নোগ্রাফি নিয়ন্ত্রণ আইনের বিভিন্ন ধারায় উত্তরা পশ্চিম থানায় মামলা করেন।

 

তদন্ত শেষে উত্তরা পশ্চিম থানার তদন্ত কর্মকর্তা আদালতে চূড়ান্ত প্রতিবেদন দাখিল করে জানান, অভিযোগের সত্যতা পাওয়া যায়নি। প্রতিবেদনে বলা হয়, মামলার এজাহারে উল্লেখ করা ফেসবুক লিংক, ডিজিটাল আলামত ও অন্যান্য তথ্য যাচাই করে ওমর ফারুকের বিরুদ্ধে পর্নোগ্রাফি প্রচারের কোনো প্রমাণ মেলেনি। ফলে ওই কর্মকর্তাকে মামলা থেকে অব্যাহতির সুপারিশ করা হয়।

একই সঙ্গে তদন্ত কর্মকর্তা প্রতিবেদনে উল্লেখ করেন, ওমর ফারুক আগে শিমুর বিরুদ্ধে বিয়ের প্রলোভন দিয়ে অর্থ আত্মসাতের অভিযোগে আদালতে মামলা করেছিলেন। সেই মামলার দায় এড়াতেই শিমু সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচারিত বিভিন্ন লিংক উল্লেখ করে তার বিরুদ্ধে পর্নোগ্রাফি ছড়ানোর অভিযোগ এনে উদ্দেশ্যপ্রণোদিত, হয়রানিমূলক ও মিথ্যা মামলা করেছেন বলে প্রাথমিক তদন্তে প্রতীয়মান হয়েছে। এ কারণে শিমুর বিরুদ্ধে পর্নোগ্রাফি নিয়ন্ত্রণ আইন, ২০১২-এর ১৩ ধারায় আইনগত ব্যবস্থা নেয়ার আবেদনও করেন তদন্ত কর্মকর্তা।

 

পরে গত ৯ জুলাই আদালত তদন্ত প্রতিবেদন গ্রহণ করে ওমর ফারুককে মামলা থেকে অব্যাহতি দেন। আদালতের আদেশে বলা হয়, শিমু ক্ষতিসাধনের উদ্দেশ্যে আদালতে মিথ্যা মামলা দায়ের করেছেন এবং হলফ করে মিথ্যা সাক্ষ্য দিয়েছেন। মামলার নথিতে তার দেয়া হলফনামাও সংযুক্ত রয়েছে। এসব বিবেচনায় আদালত নিজেই বাদী হয়ে তার বিরুদ্ধে পর্নোগ্রাফি নিয়ন্ত্রণ আইন ও দণ্ডবিধির সংশ্লিষ্ট ধারায় মামলা দায়েরের নির্দেশ দেন।

 

তদন্তে যা উঠে এসেছে পুলিশের চূড়ান্ত প্রতিবেদনে বলা হয়, তদন্তকালে রেকর্ড, ডিজিটাল আলামত, ফেসবুক লিংক ও ফরেনসিক তথ্য যাচাই করে ওমর ফারুকের বিরুদ্ধে পর্নোগ্রাফি প্রচারের কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি।

 

তদন্তে আরও উঠে আসে, শিমু বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের কেবিন ক্রু এবং ওমর ফারুক একটি বেসরকারি এয়ারলাইন্সের এয়ারক্রাফট মেইনটেন্যান্স কর্মকর্তা। ফেসবুকে পরিচয়ের পর তাদের মধ্যে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে।

 

প্রতিবেদনে বলা হয়, বিয়ের আশ্বাস দিয়ে বিভিন্ন সময়ে ওমর ফারুকের কাছ থেকে বিপুল পরিমাণ অর্থ ও মূল্যবান সামগ্রী নেয়ার অভিযোগে ওমর ফারুক আদালতে পৃথক মামলা করেন। এরপর সেই মামলার দায় থেকে নিজেকে রক্ষা করতেই শিমু পর্নোগ্রাফি আইনে অভিযোগ দায়ের করেন বলে তদন্তে প্রতীয়মান হয়েছে।

 

ওমর ফারুকের আগের মামলা গত ২০ জুলাই ওমর ফারুক চৌধুরী শিমুর বিরুদ্ধে বিয়ের প্রলোভন, ‘হানি ট্র্যাপ’ ও ব্ল্যাকমেইলের মাধ্যমে প্রায় ২২ লাখ টাকা আত্মসাতের অভিযোগে ঢাকার আদালতে মামলা করেন। আদালত অভিযোগটি আমলে নিয়ে উত্তরা পশ্চিম থানাকে তদন্তের নির্দেশ দেন। পরে তিনি বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স কর্তৃপক্ষের কাছেও লিখিত অভিযোগ করেন।

 

সেই মামলায় অভিযোগ করা হয়, ২০২৪ সালে ফেসবুকে পরিচয়ের পর শিমু তাকে বিয়ের আশ্বাস দিয়ে বিভিন্ন সময়ে টাকা নেন। জন্মদিনে দেড় লাখ টাকা মূল্যের একটি হীরার আংটিসহ বিয়ের খরচের জন্য মোট ২১ লাখ ৭৪ হাজার ৫১১ টাকা নেয়ার পরও বিয়ে না করে প্রতারণার মাধ্যমে অর্থ আত্মসাৎ করা হয়েছে বলে মামলায় দাবি করা হয়।

পর্নোগ্রাফি আইনে কেবিন ক্রু শিমুর বিরুদ্ধে মামলার নির্দেশ আদালতের

error: আপনি নিউজ চুরি করার চেষ্টা করছেন। বিশেষ প্রয়োজনে যোগাযোগ করুন ০১৭৬৭৪৪৪৩৩৩
%d