প্রকাশ্যে অস্ত্র প্রদর্শন: বৈধ অস্ত্রের প্রদর্শন হলেও ব্যবস্থা নেওয়া হয় না
প্রকাশ্যে অস্ত্র প্রদর্শন: বৈধ অস্ত্রের প্রদর্শন হলেও ব্যবস্থা নেওয়া হয় না

প্রকাশ্যে অস্ত্র প্রদর্শন: বৈধ অস্ত্রের প্রদর্শন হলেও ব্যবস্থা নেওয়া হয় না

জাতীয় ডেস্ক: অস্ত্র প্রদর্শন সংক্রান্ত বিভিন্ন ঘটনার জেরে সাম্প্রতিক সময়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে বড় ধরনের চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। সম্প্রতি রাজধানী ঢাকায় মাদকবিরোধী অভিযানে অংশ নিয়ে লাইসেন্স করা অস্ত্র প্রকাশ্যে প্রদর্শন করায় তীব্র সমালোচনার মুখে পড়েন ঢাকা-৬ আসনের সংসদ সদস্য ইশরাক হোসেন। এই ঘটনার পর রাজনৈতিক ও সামাজিক মহলে ব্যাপক প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হলে তিনি প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশেই মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক প্রতিমন্ত্রীর পদ থেকে পদত্যাগ করতে বাধ্য হন। যদিও তিনি দাবি করেছেন যে আত্মরক্ষার স্বার্থেই তিনি নিজের লাইসেন্স করা অস্ত্রটি বের করেছিলেন, তবে এই বিষয়ে প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে ইতোমধ্যে নানামুখী প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। পুলিশ প্রশাসন জানিয়েছে যে ঘটনাটির তদন্ত চলছে এবং এতে আইনের কোনো ব্যত্যয় পাওয়া গেলে আইন অনুযায়ী যথাযথ পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।

তবে বিশ্লেষকদের মতে, এটি কোনো বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয় বরং দীর্ঘদিন ধরে লাইসেন্স করা অস্ত্রের অপব্যবহারের সংস্কৃতি চলে আসছে। অতীত পরিসংখ্যান পর্যালোচনায় দেখা যায়, গত কয়েক বছরে রাজনীতির সঙ্গে জড়িত প্রভাবশালী ব্যক্তিরা বহুবার প্রকাশ্যে বৈধ অস্ত্র বেআইনিভাবে প্রদর্শন করেছেন। কিন্তু এর প্রায় প্রতিটি ক্ষেত্রেই অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে কোনো ধরনের শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণের নজির নেই। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের হালনাগাদ আগ্নেয়াস্ত্র নীতিমালা অনুযায়ী, আত্মরক্ষার জন্য লাইসেন্সকৃত অস্ত্র বহন করা গেলেও তা দিয়ে জনমনে ভয় বা আতঙ্ক সৃষ্টি করা সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ এবং এমন শর্ত ভঙ্গ করলে সংশ্লিষ্ট অস্ত্রের লাইসেন্স অবিলম্বে বাতিলযোগ্য হওয়ার কথা। অথচ বাস্তবে আইন লঙ্ঘন করা হলেও প্রশাসনের পক্ষ থেকে কার্যকর কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হয় না বললেই চলে।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, বিভিন্ন সময়ে দেশের বিভিন্ন প্রান্তে এ ধরনের অস্ত্র প্রদর্শনের অসংখ্য ঘটনা ঘটলেও পুলিশ বা আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী নামমাত্র তদন্ত করেই দায় সেরেছে। চলতি বছরের শুরুর দিকে চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডে এবং পাবনার ঈশ্বরদীতে রাজনৈতিক নেতা ও ছাত্রনেতাদের প্রকাশ্যে অস্ত্র নিয়ে মহড়ার ঘটনা ব্যাপক আলোচনা জন্ম দেয়। এসব ঘটনায় পুলিশ অস্ত্রগুলো সাময়িকভাবে জমা রাখলেও অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে কোনো আইনি ব্যবস্থা নেয়নি কিংবা লাইসেন্স বাতিলের জন্যও জেলা প্রশাসনের কাছে কোনো সুপারিশমূলক প্রতিবেদন পাঠায়নি। একইভাবে বিগত সরকারের আমলেও তৎকালীন সংসদ সদস্য, রাজনৈতিক নেতা এবং তাদের অনুসারীদের অনেকেই জনসমক্ষে কিংবা রাজনৈতিক কর্মসূচিতে অস্ত্র উঁচিয়ে মহড়া দিলেও পুলিশ কেবল দায়সারা ব্যাখ্যা চেয়েই খালাস পেয়েছে। ময়মনসিংহ, ফরিদপুর, কুষ্টিয়া কিংবা রাজধানী ঢাকাসহ বিভিন্ন এলাকার এসব ঘটনায় অপরাধীদের বিরুদ্ধে কোনো ধরনের প্রশাসনিক বা আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।

বিশেষজ্ঞ ও আইন বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, অতীতে বৈধ অস্ত্রের বেআইনি প্রদর্শনের ঘটনায় কোনো দৃশ্যমান শাস্তি না হওয়ার কারণেই এই অপরাধ প্রবণতা রোধ করা সম্ভব হচ্ছে না। সুপ্রিম কোর্টের বিশিষ্ট আইনজীবীরা বলছেন, অস্ত্রের লাইসেন্স থাকার অর্থ এই নয় যে যখন-তখন জনসমক্ষে তা প্রদর্শন করে ত্রাস সৃষ্টি করা যাবে। আত্মরক্ষার নামে অস্ত্র বহন এবং প্রকাশ্যে তা উঁচিয়ে ভীতি প্রদর্শন করা সম্পূর্ণ আলাদা দুটি বিষয়। এই সংস্কৃতি চিরতরে বন্ধ করতে হলে লাইসেন্স দেওয়ার ক্ষেত্রে যেমন কঠোর যাচাই-বাছাই প্রয়োজন, ঠিক তেমনি শর্ত ভঙ্গের ক্ষেত্রেও দ্রুত আইনানুগ ব্যবস্থা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করা জরুরি। অন্যথায় প্রশাসনের উদাসীনতার সুযোগ নিয়ে ভবিষ্যতেও এ ধরনের বেআইনি অস্ত্রের প্রদর্শন অব্যাহত থাকতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন সংশ্লিষ্টরা।


Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

চাকরি ডেস্ক: সরকারি চাকুরিতে মেধার সঠিক মূল্যায়ন নিশ্চিত করতে এবং দীর্ঘসূত্রিতা কমাতে এবার বড় ধরনের সংস্কারের উদ্যোগ নিয়েছে বাংলাদেশ সরকারি কর্ম কমিশন (পিএসসি)। বিশেষ করে বিসিএস পরীক্ষার ক্ষেত্রে একই প্রার্থীর বারবার ক্যাডার পাওয়ার সুযোগ বা ‘রিপিট ক্যাডার’ প্রথা বন্ধে নীতিগত সিদ্ধান্ত নিয়েছে সংস্থাটি। চাকরিপ্রার্থীদের দীর্ঘদিনের দাবি ও প্রতিযোগিতায় সমতা আনার লক্ষ্যেই এই বিশেষ পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে বলে জানা গেছে।

পিএসসির দায়িত্বশীল সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মটি আগামী ৫০তম বিসিএস পরীক্ষা থেকেই কার্যকর করার পরিকল্পনা রয়েছে। এর ফলে একজন প্রার্থী একবার কোনো ক্যাডার পদে সুপারিশপ্রাপ্ত হওয়ার পর পুনরায় পরীক্ষা দিয়ে অন্য ক্যাডারে যাওয়ার সুযোগ সীমিত হতে পারে। এই ব্যবস্থার ফলে নতুন ও মেধাবী প্রার্থীরা ক্যাডার সার্ভিসে প্রবেশের আরও বেশি সুযোগ পাবেন বলে আশা করছেন সংশ্লিষ্ট নীতিনির্ধারকরা।

অতীতে দেখা গেছে, অনেক প্রার্থী প্রথমবার পছন্দসই ক্যাডার না পেয়ে বা উচ্চতর পদ পেতে বারবার বিসিএস পরীক্ষায় অংশ নেন, যার ফলে অপেক্ষাকৃত কম সৌভাগ্যবান প্রার্থীরা বঞ্চিত হন। এই প্রবণতার কারণে নিয়োগ প্রক্রিয়া যেমন দীর্ঘ হয়, তেমনি সরকারের প্রশাসনিক কার্যক্রমেও এর বিরূপ প্রভাব পড়ে। পিএসসির এই নতুন উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে এই জটিলতা অনেকাংশেই দূর হবে এবং নিয়োগ প্রক্রিয়া আরও গতিশীল ও স্বচ্ছ হবে।

পরীক্ষার্থীদের দীর্ঘদিনের হতাশা লাঘব এবং নিয়োগ প্রক্রিয়ার জট কমাতে পিএসসির এই সিদ্ধান্তকে ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন শিক্ষাবিদ ও অভিজ্ঞ মহল। খুব শীঘ্রই এই সংক্রান্ত বিস্তারিত নির্দেশনা ও নীতিমালা প্রকাশ করা হতে পারে বলে কমিশন সূত্রে জানা গেছে। ৫০তম বিসিএসের বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের আগেই এই নিয়মের রূপরেখা চূড়ান্ত করার কাজ চলছে।

বিসিএসে ‘রিপিট ক্যাডার’ বন্ধে যে উদ্যোগ পিএসসির, ৫০তম থেকেই মিলতে পারে সুফল

র‌্যাবের চৌকস অভিযানে জীপসহ প্রায় ১১ হাজার ইয়াবার চালান আটক

জামালপুর হামলা পাল্টা হামলার মধ্য দিয়ে জেলার সানন্দবাড়ী তে থমথমে অবস্থা বিরাজমান।

পর্নোগ্রাফি নিয়ন্ত্রণ আইনে এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা দায়ের ও আদালতে মিথ্যা হলফনামা দেয়ার অভিযোগে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের কেবিন ক্রু খাদিজা সুলতানা শিমুর বিরুদ্ধে মামলা দায়েরের নির্দেশ দিয়েছেন আদালত।

 

বুধবার (১৫ জুলাই) ঢাকার অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালত-২-এর বিচারক মো. জাকির হোসাইন এ আদেশ দেন। আদালতের আদেশে বলা হয়েছে, শিমুর বিরুদ্ধে পর্নোগ্রাফি নিয়ন্ত্রণ আইন, ২০১২-এর ১৩ ধারা এবং দণ্ডবিধির ১৮১, ১৮২ ও ১৯৩ ধারায় মামলা করা হবে। আদালত নিজেই এ মামলার বাদী হয়েছেন।

 

আদালতের নথি অনুযায়ী, খাদিজা সুলতানা শিমু মামলার বাদী হয়ে বেসরকারি একটি এয়ারলাইন্সের কর্মকর্তা মো. ওমর ফারুক চৌধুরীর বিরুদ্ধে পর্নোগ্রাফি নিয়ন্ত্রণ আইনের বিভিন্ন ধারায় উত্তরা পশ্চিম থানায় মামলা করেন।

 

তদন্ত শেষে উত্তরা পশ্চিম থানার তদন্ত কর্মকর্তা আদালতে চূড়ান্ত প্রতিবেদন দাখিল করে জানান, অভিযোগের সত্যতা পাওয়া যায়নি। প্রতিবেদনে বলা হয়, মামলার এজাহারে উল্লেখ করা ফেসবুক লিংক, ডিজিটাল আলামত ও অন্যান্য তথ্য যাচাই করে ওমর ফারুকের বিরুদ্ধে পর্নোগ্রাফি প্রচারের কোনো প্রমাণ মেলেনি। ফলে ওই কর্মকর্তাকে মামলা থেকে অব্যাহতির সুপারিশ করা হয়।

একই সঙ্গে তদন্ত কর্মকর্তা প্রতিবেদনে উল্লেখ করেন, ওমর ফারুক আগে শিমুর বিরুদ্ধে বিয়ের প্রলোভন দিয়ে অর্থ আত্মসাতের অভিযোগে আদালতে মামলা করেছিলেন। সেই মামলার দায় এড়াতেই শিমু সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচারিত বিভিন্ন লিংক উল্লেখ করে তার বিরুদ্ধে পর্নোগ্রাফি ছড়ানোর অভিযোগ এনে উদ্দেশ্যপ্রণোদিত, হয়রানিমূলক ও মিথ্যা মামলা করেছেন বলে প্রাথমিক তদন্তে প্রতীয়মান হয়েছে। এ কারণে শিমুর বিরুদ্ধে পর্নোগ্রাফি নিয়ন্ত্রণ আইন, ২০১২-এর ১৩ ধারায় আইনগত ব্যবস্থা নেয়ার আবেদনও করেন তদন্ত কর্মকর্তা।

 

পরে গত ৯ জুলাই আদালত তদন্ত প্রতিবেদন গ্রহণ করে ওমর ফারুককে মামলা থেকে অব্যাহতি দেন। আদালতের আদেশে বলা হয়, শিমু ক্ষতিসাধনের উদ্দেশ্যে আদালতে মিথ্যা মামলা দায়ের করেছেন এবং হলফ করে মিথ্যা সাক্ষ্য দিয়েছেন। মামলার নথিতে তার দেয়া হলফনামাও সংযুক্ত রয়েছে। এসব বিবেচনায় আদালত নিজেই বাদী হয়ে তার বিরুদ্ধে পর্নোগ্রাফি নিয়ন্ত্রণ আইন ও দণ্ডবিধির সংশ্লিষ্ট ধারায় মামলা দায়েরের নির্দেশ দেন।

 

তদন্তে যা উঠে এসেছে পুলিশের চূড়ান্ত প্রতিবেদনে বলা হয়, তদন্তকালে রেকর্ড, ডিজিটাল আলামত, ফেসবুক লিংক ও ফরেনসিক তথ্য যাচাই করে ওমর ফারুকের বিরুদ্ধে পর্নোগ্রাফি প্রচারের কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি।

 

তদন্তে আরও উঠে আসে, শিমু বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের কেবিন ক্রু এবং ওমর ফারুক একটি বেসরকারি এয়ারলাইন্সের এয়ারক্রাফট মেইনটেন্যান্স কর্মকর্তা। ফেসবুকে পরিচয়ের পর তাদের মধ্যে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে।

 

প্রতিবেদনে বলা হয়, বিয়ের আশ্বাস দিয়ে বিভিন্ন সময়ে ওমর ফারুকের কাছ থেকে বিপুল পরিমাণ অর্থ ও মূল্যবান সামগ্রী নেয়ার অভিযোগে ওমর ফারুক আদালতে পৃথক মামলা করেন। এরপর সেই মামলার দায় থেকে নিজেকে রক্ষা করতেই শিমু পর্নোগ্রাফি আইনে অভিযোগ দায়ের করেন বলে তদন্তে প্রতীয়মান হয়েছে।

 

ওমর ফারুকের আগের মামলা গত ২০ জুলাই ওমর ফারুক চৌধুরী শিমুর বিরুদ্ধে বিয়ের প্রলোভন, ‘হানি ট্র্যাপ’ ও ব্ল্যাকমেইলের মাধ্যমে প্রায় ২২ লাখ টাকা আত্মসাতের অভিযোগে ঢাকার আদালতে মামলা করেন। আদালত অভিযোগটি আমলে নিয়ে উত্তরা পশ্চিম থানাকে তদন্তের নির্দেশ দেন। পরে তিনি বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স কর্তৃপক্ষের কাছেও লিখিত অভিযোগ করেন।

 

সেই মামলায় অভিযোগ করা হয়, ২০২৪ সালে ফেসবুকে পরিচয়ের পর শিমু তাকে বিয়ের আশ্বাস দিয়ে বিভিন্ন সময়ে টাকা নেন। জন্মদিনে দেড় লাখ টাকা মূল্যের একটি হীরার আংটিসহ বিয়ের খরচের জন্য মোট ২১ লাখ ৭৪ হাজার ৫১১ টাকা নেয়ার পরও বিয়ে না করে প্রতারণার মাধ্যমে অর্থ আত্মসাৎ করা হয়েছে বলে মামলায় দাবি করা হয়।

পর্নোগ্রাফি আইনে কেবিন ক্রু শিমুর বিরুদ্ধে মামলার নির্দেশ আদালতের

ভোলার মনপুরায় নির্বাচনী মাঠে জনআতঙ্ক, দীপক বাহিনীর হাতে আহত ৫

ভোলার মনপুরায় নির্বাচনী মাঠে জনআতঙ্কে, থমথমে পুরো মনপুরা। আসন্ন 2 নং হাজিরহাট ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনী প্রচারণা কালীন সময় প্রার্থী নিজামুদ্দিন হাওলাদারের নেতাকর্মী ও সমর্থকদের বেধড়ক মারধর করার অভিযোগ উঠে এসেছে। প্রার্থীকে বেধড়ক মারধর করায় গুরুতর আহত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি আছেন, নাছির(২৩), আল আমিন(২৫),জিদনী (১৮),অনি (২৩)কাশেম(২৮),অজয়(২৬)

আহতদের পরিবার জানিয়েছেন আহতদের অবস্থা গুরুতর, চিকিৎসার জন্য জেলাতে নেওয়া প্রয়োজন হতে পারে।।

মেম্বার প্রার্থী নাসির অভিযোগ করে বলেন , স্থানীয় প্রশাসন অত্যন্ত দুর্বল অবস্থায় রয়েছে,মাঠ প্রশাসন নীরব দর্শকের ভূমিকা পালন করছেন, দীপক রাশি বাহিনী এরপর এক সন্ত্রাসী কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে, আমি নির্বাচন প্রতারণা চলাকালীন সময়ে অতর্কিত দীপক বাহিনীর মূল হোতা সন্ত্রাসী মাকসুদের নেতৃত্বে দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র সহ আমাকেও আমার তুই ছেলের উপর হামলা চালান।। এতে করে আমিও আমার ছোট ছেলে আমিন গুরুতর আহত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়ে রয়েছি।। মনপুরা পুলিশ প্রশাসনের নিকট আমি অভিযোগ করেছি।ওসি মনপুরা এখন পর্যন্ত কোনো ব্যবস্থা গ্রহণ করেন নাই। তিনি আরো বলেন সন্ত্রাসী ফারুক ফরাজী, ইলিয়াছ চৌধূরী, ইলিয়াস ফরাজী, ফুহাদ আওলাদ মাতাব্বর, মনির ফরাজী, খোকন পর এক নানা সন্ত্রাসী কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছেন।

চেয়ারম্যান প্রার্থী নুরুল ইসলাম অভিযোগ করে বলেন নির্বাচনকে বানচাল করার জন্য একের পর এক সন্ত্রাসী কার্যক্রম চালিয়ে গেলেও ওসি মনপুরা এখন পর্যন্ত কোন ধরনের ব্যবস্থা গ্রহণ করতে পারে নাই, চিরে যদি সন্ত্রাসীদের দমন না করা হয় তাহলে নির্বাচন হবে মনপুরা হবে ঝুঁকিপূর্ণ, নির্বাচনে মাঠ প্রশাসন নিয়ন্ত্রনহীন হয়ে পড়বেন।। নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট আকিব ওসমান মাঠ প্রশাসন নিয়ন্ত্রণে কাজ করলেও এখন পর্যন্ত মনপুরা মাঠ নিয়ন্ত্রণে আনতে পরিপূর্ণ ব্যর্থ হয়েছেন।।

অপর চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী নিজাম উদ্দিন হাওলাদার অভিযোগ করে বলেন পরোক্ষভাবে প্রত্যক্ষভাবে দীপক বাহিনী এ ধরনের ঘটনা চলেছেন, অতর্কিত হামলা, চোরাগুপ্তা হামলা সহ নানা ধরনের কর্মের সাথে পার্থী শাহরিয়া দীপক সরাসরি জড়িত রয়েছেন।।

মুঠোফোনে প্রার্থী শাহরিয়ার চৌধুরী দীপক এর নিকট জানতে চাইলে তিনি সাংবাদিক পরিচয় পেয়ে ব্যস্ততা দেখিয়ে ফোন কাটিয়ে দেন।

বিষয়টি নিয়ে ওসি মনপুরা কে বারবার ফোন করলেও এখন এখন পর্যন্ত মুঠোফোনে পাওয়া যায়নি।।

বিষয়টি নিয়ে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট হাকিম ওসমান এর সাথে কথা বললে তিনি বলেন আমি অতি দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণ করছি, মনপুরাকে মামলা গ্রহণের জন্য নির্দেশ প্রদান করেছি।। অচিরেই মনপুরায় মাঠ প্রশাসন নিয়ন্ত্রণে আনাতে আমি নিরস কাজ করছি।।

উল্লেখ্য এই যে মনপুরা উপজেলা একের পর এক আচরণবিধি লঙ্ঘন করায় প্রার্থী শাহরিয়ার দীপক বিরুদ্ধে শাহরিয়ার বিরুদ্ধে আচরণবিধি লঙ্ঘনের লিখিত অভিযোগ হয়েছে যা পত্র-পত্রিকা ও গণমাধ্যমে বেশ কয়েকবার প্রকাশিত হয়েছে।। আজকের চোরাগুপ্তা হামলা সহ নানা অতর্কিত সন্ত্রাসী হামলার বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়েছে।।। কোন পর্যন্ত কোনো আসামিকে গ্রেপ্তার করতে মনপুরা থানা সম্পূর্ণ ব্যর্থ হয়েছেন।।

আসছে বিস্তারিত……. সাথে থাকুন

ভোলার মনপুরায় নির্বাচনী মাঠে জনআতঙ্ক, দীপক বাহিনীর হাতে আহত ৫

এস এম খলিলুর রহমান
ব্যুরো চীফ হবিগঞ্জ জেলা ॥

নবীগঞ্জ পৌর এলাকার গয়াহরি গ্রামে নিরীহ ব্যক্তি বিজিত দাশ মেটনের উপর সন্ত্রাসী হামলার দায়েরী মামলার অন্যতম আসামী কাউন্সিলর যুবরাজ গোপসহ অপর আসামীদের গ্রেফতার না করায় পুলিশের বিরুদ্ধে অভিযোগ করেছেন বাদিনী সুপ্রিয়া রানী দাশ। শনিবার (১২ জুন) সকালে নবীগঞ্জ প্রেসক্লাব কার্যালয়ে অনুষ্টিত সাংবাদিক সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে সুপ্রিয়া রানী দাশ বলেন, গেল পৌর নির্বাচনকে কেন্দ্র করে কাউন্সিলর যুবরাজ গোপ তার পরিবারের উপর ক্ষিপ্ত হন। এরজের ধরে বিগত ২৬ এপ্রিল সন্ধ্যায় নবীগঞ্জ পৌরসভার ৪নং ওয়ার্ডস্থ গয়াহরি গ্রামে জ্যোতিষ দাশের বাড়ি সামনে রাস্তার উপর পেয়ে আমার স্বামী বিজিত দাশ মেটনকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে ক্ষতবিক্ষত করেন আমাদের ওয়ার্ড কাউন্সিলর যুবরাজ গোপ, জ্যোতিষ দাশ, সীমা রানী দাশ, উৎফল দাশ ও লিপ্টু দাশসহ একদল লোক। তাদের ধারালো অস্ত্রের আঘাতে আমার স্বামী গুরুতর আহত হয়ে সিলেট ও ঢাকা হাসপাতালে চিকিৎসা গ্রহন করি। আমার স্বামী আহত হয়ে মৃত্যুর সাথে পাঞ্জা লড়ছিল। পুলিশ ঘটনার খবর পেয়ে আমার স্বামীর রক্তাক্ত অবস্থা দেখে তাৎক্ষনিকভাবে জ্যোতিষ দাশকে গ্রেফতার করে। পরে ৫৪ ধারায় জেল হাজতে প্রেরন করে পুলিশ। এ ব্যাপারে আমি নবীগঞ্জ থানায় মামলা নিয়ে গেলে পুলিশ আদালতের আশ্রয় নিতে পরামর্শ দেন। পরবর্তীতে আমি বাদী হয়ে হবিগঞ্জ আদালতে উল্লেখিত দুর্বৃত্তদের আসামী করে মামলা দায়ের করি। মামলাটি আদালতের নির্দেশে এফআইআর হিসেবে নবীগঞ্জ থানায় রুজু হয়। মামলা রুজু হলেও মামলার অন্যতম আসামী যুবরাজ গোপসহ অপরাপর আসামীদেরকে পুলিশ গ্রেফতার করতে পারেনি। অথচ যুবরাজ গোপ প্রকাশ্যে নবীগঞ্জ শহরে ও বাড়িতে ঘুরে বেড়াচ্ছে। আমি অসহায় একজন মহিলা, মামলার তদন্ত কর্মকর্তা এসআই লুৎফুর রহমানকে বারবার তাগিদ দেয়া সত্ত্বেও আসামী গ্রেফতার করিতে তিনি গড়িমশি করছেন। এদিকে আমার স্বামীর বর্তমান শারীরিক অবস্থা এখন পর্যন্ত ভাল নয়। বিছানায় শয্যাসায়ী আছেন। দারিদ্রতার কারনে আমার স্বামীর চিকিৎসা করাইতে গিয়ে ইতিমধ্যে ভিটে বাড়ি বিক্রি করতে হয়েছে। সামাজিক বিচার থেকে বঞ্চিত হয়ে আইনের আশ্রয় নিয়েও আমাদের এত বিড়ম্বনা পোহাতে হবে, তা জানা ছিলনা।
বর্তমানে আমার আহত স্বামী বিজিত দাশ কথা বার্তা বলতে পারছেন না, বাম চোখেঁ দেখতেও পান না। ঘটনাটি এলাকার সকল মানূষ অবগত রয়েছেন।
ন্যায় বিচারের স্বার্থে আমার দায়েরী মামলার অন্যতম আসামী যুবরাজ গোপসহ অপর আসামীদের গ্রেফতার পুর্বক আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহনের জন্য সাংবাদিকদের মাধ্যমে পুলিশের উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করছি।

নবীগঞ্জে আসামী গ্রেফতার না করায় পুলিশের বিরুদ্ধে বাদিনীর সংবাদ সম্মেলন

error: আপনি নিউজ চুরি করার চেষ্টা করছেন। বিশেষ প্রয়োজনে যোগাযোগ করুন ০১৭৬৭৪৪৪৩৩৩