বন্যা ও পাহাড় ধসে সাত জেলায় প্রাণহানি বেড়ে ৫৪ - Gono television | বাংলাদেশ সরকার অনুমোদিত বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেল।
বন্যা ও পাহাড় ধসে সাত জেলায় প্রাণহানি বেড়ে ৫৪

বন্যা ও পাহাড় ধসে সাত জেলায় প্রাণহানি বেড়ে ৫৪

সোমবার (১৩ জুলাই) দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের বন্যা সংক্রান্ত হালনাগাদ প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে।

 

প্রতিবেদন অনুযায়ী, বন্যাকবলিত এলাকায় বর্তমানে ১ লাখ ৫৫ হাজার ৩১১টি পরিবার পানিবন্দি রয়েছে। খাগড়াছড়ি, রাঙামাটি, বান্দরবান, কক্সবাজার, চট্টগ্রাম, মৌলভীবাজার ও হবিগঞ্জ এই সাত জেলায় মোট ৬ লাখ ৯ হাজার ৪১১ জন মানুষ বন্যা ও পাহাড়ি ঢলের কারণে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন।

 

প্রাণ হারানো ৫৪ জনের মধ্যে ৩১ জনই মারা গেছেন কক্সবাজারে। এছাড়া চট্টগ্রামে ১৩, বান্দরবানে ৬, রাঙামাটিতে ৩ ও মৌলভীবাজারে ১ জনের মৃত্যু হয়েছে।

 

ক্ষতিগ্রস্তদের সহায়তায় সরকারিভাবে ১ হাজার ৪২টি আশ্রয়কেন্দ্র চালু করা হয়েছে। এসব কেন্দ্রে ইতোমধ্যে ৩৮ হাজার ৪২২ জন আশ্রয় নিয়েছেন বলে জানিয়েছে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়।


উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢল ও টানা অতিভারী বৃষ্টির প্রভাবে তিস্তা নদীর পানি আরও বৃদ্ধি পেয়ে বিপদসীমার ৭ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। ফলে নদীর বাম তীরের জেলা লালমনিরহাটের নিম্নাঞ্চলে বন্যা পরিস্থিতির আরও অবনতির আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।

 

মঙ্গলবার (১৪ জুলাই) সকাল ৬টার তথ্য অনুযায়ী দেশের বৃহত্তম সেচ প্রকল্প তিস্তা ব্যারেজের ডালিয়া পয়েন্টে নদীর পানির সমতল রেকর্ড করা হয়েছে ৫২ দশমিক ২২ মিটার, যা বিপদসীমা চেয়ে ৭ সেন্টিমিটার ওপরে।

 

পানি উন্নয়ন বোর্ড সূত্রে জানা গেছে, ভারতের উজানে থেকে আসা পানি এবং গত কয়েক দিনের টানা অতিভারী বৃষ্টির কারণে তিস্তা নদীতে পানি প্রবাহ দ্রুত বৃদ্ধি পেয়েছে। সোমবার সন্ধ্যায় বিপদসীমার ৩ সেন্টিমিটার ওপরে থাকা পানি মঙ্গলবার সকালেই বেড়ে ৭ সেন্টিমিটার ওপরে পৌঁছেছে।

 

সরেজমিনে দেখা গেছে, ইতোমধ্যে তিস্তা চরাঞ্চলের বিভিন্ন এলাকার রাস্তাঘাট, ফসলি জমি ও নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হতে শুরু করেছে। জেলার পাঁচটি উপজেলার নদীতীরবর্তী বিভিন্ন এলাকায় পানি ঢুকছে। চরাঞ্চলের অনেক এলাকায় নৌকা ও ভেলাই হয়ে উঠেছে মানুষের চলাচলের প্রধান মাধ্যম।

পানি উন্নয়ন বোর্ড সূত্র বলছে, উজানে বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকায় তিস্তার পানি বৃদ্ধি পাচ্ছে। ফলে নদীতীরবর্তী নিম্নাঞ্চলে স্বল্পমেয়াদি বন্যা পরিস্থিতি আরও বিস্তৃত হতে পারে। পরিস্থিতি সার্বক্ষণিক পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে এবং ঝুঁকিপূর্ণ এলাকার মানুষকে সতর্ক থাকতে বলা হয়েছে।

 

ডাউয়াবাড়ি ইউনিয়নের চরের বাসিন্দা সামসুল আলম বলেন, ‘সোমবার থেকে পানি বাড়লেও আজ সকালে আরও বেড়েছে। কয়েকটি বাড়িতে ইতোমধ্যে পানি উঠেছে। এভাবে পানি বাড়তে থাকলে বড় বন্যা হতে পারে। তখন দুর্বল বাঁধগুলো টিকিয়ে রাখা কঠিন হবে।’

 

শৈলমারী চরের মফিজুর রহমান বলেন, ‘উজানের ঢল আর টানা বৃষ্টির কারণে প্রতিবছরই আমাদের দুর্ভোগ বাড়ছে। নদীর নাব্যতা কমে যাওয়ায় সামান্য পানি বাড়লেই চরাঞ্চল তলিয়ে যায়। দ্রুত তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়ন করা দরকার।’

 

লালমনিরহাট পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী সুনিল কুমার বলেন, ভারী বৃষ্টিপাত ও উজানের ঢলের কারণে তিস্তা নদীর পানি বৃদ্ধি অব্যাহত রয়েছে। মনদীতীরবর্তী ও চরাঞ্চলের বাসিন্দাদের সতর্কতার সঙ্গে চলাচল করতে বলা হয়েছেও পরিস্থিতি সার্বক্ষণিক পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে।

তিস্তার পানি বাড়ছে হু হু করে, বন্যার আশঙ্কা

আজ ভোর ৫টা থেকেই ঢাকায় ঝুম বৃষ্টি শুরু হয়েছে। থেমে থেমে এই বৃষ্টি চলছে। রাজধানীর অনেকে রাস্তায় এরই মধ্যে পানি জমে গেছে। কোথাও হাঁটুপানি, কোথাও কোমরসমান পানি জমেছে এসব রাস্তায়। পথচারীদের দুর্ভোগের শেষ নেই।

 

আজ রোববার (১২ জুলাই) সপ্তাহের প্রথম কার্যদিবসে রাজধানীবাসীর ঘুম ভেঙেছে বৃষ্টির শব্দে। বৃষ্টিতে মিরপুর, মতিঝিল, নয়াপল্টনসহ বিভিন্ন এলাকায় সৃষ্টি হয়েছে জলাবদ্ধতা। এ কারণে কর্মস্থলগামী মানুষ, শিক্ষার্থী, পথচারী ও যানবাহন চলাচলে চরম ভোগান্তির মুখে পড়ে।

 

এদিকে, কয়েক দিন ধরেই দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে বৃষ্টি হচ্ছে। এ কারণে কোথাও আকস্মিক বন্যা পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। বৃষ্টি, পাহাড়ি ঢল ও পাহাড়ধসে গত ছয় দিনে চট্টগ্রাম বিভাগে অন্তত ৪৩ জনের মৃত্যু হয়েছে। একই সময়ে বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন প্রায় ৮ লাখ ৬৭ হাজার মানুষ। এছাড়া টানা বর্ষণে চট্টগ্রাম অঞ্চলের ২৪২ কিলোমিটার সড়ক পানির নিচে তলিয়ে গেছে।

 

এদিকে, আগামী ২৪ ঘণ্টায় রংপুর, ময়মনসিংহ, ঢাকা, চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগের কোথাও কোথাও ভারি থেকে অতিভারি বৃষ্টির পূর্ভাবাস দিয়েছে আবহাওয়া অফিস।

ভোর থেকেই ঢাকায় বৃষ্টি, জলাবদ্ধতায় জনদুর্ভোগ

টানা ৪ দিন ধরে সমুদ্র উপকূলবর্তী চট্টগ্রামের বাঁশখালীর পুরোটাই পানির নিচে। বন্যাকবলিত এই এলাকার মানুষের দুর্ভোগ চরমে। পানিবন্দি শত শত পরিবার। অনেক ঘরবাড়ি বিধ্বস্ত, তলিয়ে গেছে সড়ক, ফসলি জমি। এরই মধ্যে দেখা দিয়েছে খাদ্য ও বিশুদ্ধ পানির সংকট। অনেক এলাকা বিদ্যুৎবিহীন।

 

সরেজমিনে দেখা যায়, বাঁশখালীর ছনুয়া ইউনিয়নে একটি যৌথ পরিবারের মাটির ঘরটি ছিল মাথা গোঁজার একমাত্র ঠাঁই। সেখানে ৫ পরিবারের সদস্যরা থাকতেন। কিন্তু বন্যার পানির তোড়ে ভেঙে ডুবে আছে ঘরটি। এমনকি ভেসে গেছে আসবাবপত্র।

 

ঠিক এই পরিবারের দুর্দশার মতো বন্যাকবলিত ছনুয়া ইউনিয়নের বেশির ভাগ পরিবারের মাটির ঘর বিধ্বস্ত হয়েছে। অনেক পরিবার গৃহহীন। খোলা আকাশ এখন তাদের ঠিকানা। কেউবা মাথা গোঁজার জন্য ছুটছেন উঁচু স্থান ও আশ্রয়কেন্দ্রে।

 

চট্টগ্রামে বন্যায় সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত উপজেলাগুলোর অন্যতম বাঁশখালী এলাকার অনেক ঘরবাড়ি হাঁটু থেকে কোমর পানিতে ডুবে থাকায় কয়েক হাজার পরিবার পানিবন্দি। এখনও ত্রাণ সহায়তা না পাওয়ায় অসহায় এসব মানুষের দিন কাটছে কষ্টে।

 

অন্যদিকে, বন্যার পানিতে তলিয়ে গেছে ফসলি জমি, ভেসে গেছে ঘেরের মাছ। ক্ষতির মুখে ধান ও লবণচাষিরা।

 

এছাড়াও বন্যা পরিস্থিতির কারণে বাঁশখালীতে পুঁইছড়ি, শেখের খিল, কাথারিয়া ও গণ্ডামারা-সহ ৫/৬টি ইউনিয়নের বেশির ভাগ গ্রাম প্লাবিত হওয়ায় দুর্ভোগ চরমে।

চট্টগ্রামের বাঁশখালীর পুরো এলাকা পানির নিচে, মানুষের দুর্ভোগ চরমে

হবিগঞ্জ সদর উপজেলার খোয়াই নদীতে দীর্ঘদিন ধরে চলা অবৈধ ড্রেজার দিয়ে বালু উত্তোলনের অভিযোগের মধ্যেই ভয়াবহ বন্যা পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে।

 

টানা বর্ষণ ও ভারতের ত্রিপুরা রাজ্য থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলের প্রবল চাপে খোয়াই নদীর তীররক্ষা বাঁধ ভেঙে এখন পর্যন্ত অন্তত ২৫টি গ্রাম প্লাবিত হয়েছে।

 

পানিবন্দি হয়ে পড়েছেন অর্ধলক্ষাধিক মানুষ। তলিয়ে গেছে অসংখ্য বসতবাড়ি, ফসলি জমি, মাছের ঘের ও গ্রামীণ সড়ক। কৃষি বিভাগের প্রাথমিক হিসাবে কৃষি খাতে প্রায় ৩০ কোটি টাকার ক্ষয়ক্ষতির আশঙ্কা করা হচ্ছে।

 

গত ৯ জুলাই রাত প্রায় ৯টায় সদর উপজেলার চরহামুয়া-কালীগঞ্জ এলাকায় খোয়াই নদীর ডান তীররক্ষা বাঁধের একটি বড় অংশ হঠাৎ ধসে পড়ে। মুহূর্তেই নদীর পানি লোকালয়ে ঢুকে প্রথম দিনেই প্রায় ২০টি গ্রাম প্লাবিত হয়।

পরবর্তী সময়ে নতুন নতুন এলাকা প্লাবিত হওয়ায় ক্ষতিগ্রস্ত গ্রামের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে প্রায় ২৫টিতে। নতুন করে বাহুবল উপজেলার লামাতাশী ইউনিয়নের কয়েকটি গ্রাম এবং সদর উপজেলার পইল ইউনিয়নের আরও কয়েকটি এলাকা বন্যার পানিতে তলিয়ে গেছে।

 

চরহামুয়া, কালীগঞ্জ, লস্করপুর, পইল, তেঘরিয়া, আলাপুরসহ বিস্তীর্ণ এলাকায় দ্রুত পানি ছড়িয়ে পড়ায় হাজারো পরিবার চরম দুর্ভোগে পড়েছে। নারী, শিশু ও বৃদ্ধদের নিয়ে অনেক পরিবার ঘরবাড়ি ছেড়ে নিরাপদ আশ্রয়ের খোঁজে উঁচু স্থানে চলে গেছে।

 

কেউ আশ্রয় নিয়েছেন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে, কেউ ইউনিয়ন পরিষদ ভবনে, আবার কেউ আত্মীয়স্বজনের বাড়িতে। অনেক এলাকায় বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে এবং যোগাযোগ ব্যবস্থা ব্যাহত হয়েছে।

 

স্থানীয়দের অভিযোগ, আলাপুর-কালীগঞ্জ এলাকায় বছরের পর বছর ধরে ড্রেজার বসিয়ে গভীরভাবে বালু উত্তোলন করা হয়েছে।

 

সম্প্রতি আরও কয়েকটি শক্তিশালী ড্রেজার যুক্ত হওয়ায় নদীর তলদেশের স্বাভাবিক ভারসাম্য নষ্ট হয় এবং তীররক্ষা বাঁধের ভিত্তি মারাত্মকভাবে দুর্বল হয়ে পড়ে। পাহাড়ি ঢলের প্রবল স্রোতের চাপ সেই দুর্বল অংশে পড়ায় বাঁধটি ধসে যায় বলে দাবি তাদের।

 

১০ নম্বর লস্করপুর ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান উজ্জ্বল মিয়া বলেন, “দীর্ঘদিন ধরে অবৈধ ড্রেজার দিয়ে বালু উত্তোলনের কারণেই বাঁধ দুর্বল হয়ে পড়েছে। এভাবে চলতে থাকলে ভবিষ্যতে আরও ভয়াবহ বিপর্যয় ঘটবে। অবিলম্বে খোয়াই নদীতে অবৈধ বালু উত্তোলন স্থায়ীভাবে বন্ধ করতে হবে।”

 

স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, বহুবার প্রশাসনের বিভিন্ন দপ্তরে লিখিত ও মৌখিকভাবে অভিযোগ করেও কোনো কার্যকর ব্যবস্থা পাননি। বরং প্রতিবাদকারীদের হয়রানির শিকার হতে হয়েছে। তাদের অভিযোগ, প্রশাসনের দুর্বল নজরদারির সুযোগে একটি প্রভাবশালী চক্র বছরের পর বছর অবৈধভাবে বালু উত্তোলন চালিয়ে এসেছে।

 

বাঁধ ভাঙার খবর পেয়ে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন হবিগঞ্জ-৩ আসনের সংসদ সদস্য ও জাতীয় সংসদের হুইপ আলহাজ জি কে গউছ, জেলা প্রশাসনের কর্মকর্তারা, পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) এবং স্থানীয় প্রশাসনের প্রতিনিধিরা।

 

পরিদর্শনকালে হুইপ জি কে গউছ বলেন, অবৈধ বালু ব্যবসার সঙ্গে জড়িতরা যে দলেরই হোক, তাদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নিতে হবে। ক্ষতিগ্রস্ত বাঁধ দ্রুত সংস্কার করতে হবে এবং দুর্গত মানুষের পাশে দাঁড়াতে হবে।

 

তিনি জেলা প্রশাসনকে জরুরি ভিত্তিতে ক্ষয়ক্ষতির তালিকা প্রস্তুত, বাঁধ সংস্কার এবং অবৈধ বালু উত্তোলনের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেন।

 

পরিদর্শন শেষে তিনি পানিবন্দি মানুষের মধ্যে শুকনো খাবার ও বিশুদ্ধ পানি বিতরণ করেন। এছাড়া জেলা প্রশাসন, বিভিন্ন সামাজিক ও স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন দুর্গত এলাকায় শুকনো খাবার, বিশুদ্ধ পানি ও রান্না করা খাবার বিতরণ করছে।

 

সদর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মাকসুদুল আলম জানান, বন্যার পানিতে একাধিক মাছের খামার ভেসে গেছে। বিভিন্ন জাতের সবজির ক্ষেত, ফলের বাগান ও কৃষিজমি তলিয়ে গেছে। প্রাথমিকভাবে কৃষি খাতে প্রায় ৩০ কোটি টাকার ক্ষয়ক্ষতির আশঙ্কা করা হচ্ছে। ক্ষতিগ্রস্ত কৃষক ও পরিবারের তালিকা তৈরির কাজ চলছে।

 

বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) জানিয়েছে, খোয়াই নদীর পানি কিছুটা কমতে শুরু করলেও জেলার কালনী-কুশিয়ারা ও সুতাং নদীর পানি এখনও বৃদ্ধি পাচ্ছে। সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, চুনারুঘাটের বাল্লা পয়েন্টে খোয়াই নদীর পানি বিপদসীমার ওপরে থাকলেও কমছে।

 

অন্যদিকে আজমিরীগঞ্জে কালনী-কুশিয়ারা নদী এবং শায়েস্তাগঞ্জ-লাখাইয়ের সুতাং নদীর পানি এখনও বৃদ্ধি অব্যাহত রয়েছে।

 

পাউবো আরও জানিয়েছে, সদর উপজেলার লস্করপুর ইউনিয়নের কালীগঞ্জ এবং বানিয়াচং উপজেলার মক্রমপুর ইউনিয়নের রাঘপুর এলাকায় খোয়াই নদীর ডান তীরে নতুন করে ভাঙন দেখা দিয়েছে। ঝুঁকিপূর্ণ স্থানগুলো সার্বক্ষণিক পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে এবং প্রয়োজনীয় প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা গ্রহণের প্রস্তুতি চলছে।

 

দুর্গত এলাকাবাসীর দাবি, শুধু জরুরি ভিত্তিতে বাঁধ মেরামত করলেই হবে না; খোয়াই নদীতে অবৈধ ড্রেজার দিয়ে বালু উত্তোলন স্থায়ীভাবে বন্ধ, দায়ীদের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক আইনগত ব্যবস্থা, নদী ব্যবস্থাপনায় কঠোর নজরদারি এবং ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর জন্য দ্রুত ত্রাণ ও পুনর্বাসনের ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে হবে।

 

তাদের আশঙ্কা, এখনই কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ না করলে ভবিষ্যতে খোয়াই নদী তীরবর্তী আরও বিস্তীর্ণ এলাকা একই ধরনের ভয়াবহ বিপর্যয়ের মুখে পড়বে।

খোয়াই নদীর বাঁধ ভেঙে প্লাবিত ২৫ গ্রাম, পানিবন্দি অর্ধলক্ষ মানুষ

টানা বর্ষণ ও উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলের মধ্যে হবিগঞ্জ সদর উপজেলার খোয়াই নদীর পূর্ব তীরের চরহামুয়া-কালীগঞ্জ এলাকায় নদীর তীররক্ষা বাঁধ ভেঙে অন্তত ১৫ থেকে ২০টি গ্রাম প্লাবিত হয়েছে।

 

বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) রাত প্রায় ৯টার দিকে হঠাৎ বাঁধটি ভেঙে গেলে নদীর পানি দ্রুত লোকালয়ে প্রবেশ করে। এতে হাজারো মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছেন এবং রাতের মধ্যেই আরও কয়েকটি গ্রাম প্লাবিত হওয়ার আশঙ্কা দেখা দেয়।

 

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বাঁধ ভেঙে যাওয়ার পর চরহামুয়া, কালীগঞ্জসহ আশপাশের বিস্তীর্ণ এলাকায় দ্রুত পানি ছড়িয়ে পড়ে। এতে অসংখ্য ঘরবাড়ি, রাস্তাঘাট ও কৃষিজমি পানিতে তলিয়ে যায়। অনেক পরিবার নিরাপদ আশ্রয়ের খোঁজে বাড়িঘর ছেড়ে উঁচু স্থানে সরে যেতে শুরু করেছেন।

 

স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা জানান, পরিস্থিতি ক্রমেই অবনতির দিকে যাচ্ছে। বিশেষ করে ১০ নম্বর লস্করপুর ইউনিয়ন, ৪ নম্বর পইল ইউনিয়ন, ৩ নম্বর তেঘরিয়া ইউনিয়ন এবং ভাটি অঞ্চলের বাসিন্দাদের সর্বোচ্চ সতর্ক থাকার আহ্বান জানানো হয়েছে। পানি বৃদ্ধি অব্যাহত থাকলে আরও নতুন নতুন এলাকা প্লাবিত হতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

 

এলাকাবাসীর অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে খোয়াই নদী থেকে নিয়মবহির্ভূতভাবে অবৈধ বালু উত্তোলনের কারণে তীররক্ষা বাঁধ দুর্বল হয়ে পড়ে। প্রবল স্রোতের চাপে সেই দুর্বল বাঁধ ভেঙে বর্তমান পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে বলে তাদের দাবি।

 

১০ নম্বর লস্করপুর ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান উজ্জ্বল মিয়া বলেন, “দীর্ঘদিন ধরে নিয়মের বাইরে নদী থেকে বালু উত্তোলনের কারণেই বাঁধ দুর্বল হয়ে গেছে। প্রবল পানির চাপে সেটি ভেঙে লোকালয় প্লাবিত হয়েছে। ভবিষ্যতে এ ধরনের বিপর্যয় এড়াতে খোয়াই নদী থেকে অবৈধ বালু উত্তোলন স্থায়ীভাবে বন্ধ করতে হবে।”

 

এদিকে বাঁধ ভেঙে যাওয়ার খবর পেয়ে স্থানীয় প্রশাসন, পানি উন্নয়ন বোর্ড এবং জনপ্রতিনিধিরা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন বলে জানা গেছে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ নিরূপণ এবং জরুরি প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা গ্রহণের প্রস্তুতি নিচ্ছে।

 

ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাবাসীর দাবি, দ্রুত ভাঙনরোধে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ, ক্ষতিগ্রস্ত বাঁধ মেরামত এবং দুর্গত মানুষের জন্য জরুরি ত্রাণ ও পুনর্বাসনের উদ্যোগ নেওয়া জরুরি। অন্যথায় পানি বৃদ্ধি অব্যাহত থাকলে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ আকার ধারণ করতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন স্থানীয়রা।

খোয়াই নদীর বাঁধ ভেঙে প্লাবিত ২০ গ্রাম

টানা কয়েকদিনের বৃষ্টিতে বিপর্যস্ত চট্টগ্রাম, তিন পার্বত্য জেলা ও কক্সবাজার। পানিবন্দি লাখ লাখ মানুষ। অনেকে আশ্রয়কেন্দ্রে ঠাঁই নিয়েছেন। বৃষ্টির সঙ্গে যোগ হয়েছে পাহাড়ধস। পানিতে সড়ক তলিয়ে যাওয়ায় অনেক স্থানে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন। জলমগ্ন ঘরবাড়িতে খাবার ও থাকার অবস্থা নেই।

 

এরইমধ্যে প্রশাসনের পক্ষ থেকে দেওয়া হচ্ছে শুকনো খাবারসহ ত্রাণ সহায়তা। বৃষ্টি এখনও বন্ধ না হওয়ায় পরিস্থিতি আরও খারাপ হওয়ার আশঙ্কা করা হচ্ছে। এদিকে, আজ শুক্রবার (১০ জুলাই) চট্টগ্রামের বাঁশখালীতে পাহাড়ি ঢল ও বানের পানিতে ডুবে দুই শিশুর মৃত্যু হয়েছে।

 

টানা কয়েকদিন ধরে পানি তলিয়ে গেছে বান্দরবানের বিস্তীর্ণ এলাকা। টানা বর্ষণে সাঙ্গু, মাতামুহুরী আর বাঁকখালী নদীর পানি বেড়েছে। প্লাবিত হয়েছে নিচু এলাকাগুলো। চরম ভোগান্তিতে পানিবন্দি এলাকার বাসিন্দারা।

 

পানিতে সড়ক তলিয়ে যাওয়ায় বিভিন্ন উপজেলাসহ ঢাকা-চট্টগ্রামের সঙ্গে জেলার যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন। বৈরি আবহাওয়ায় বিপাকে দিন এনে দিন খাওয়া মানুষ। অনেকেই উঠেছেন আশ্রয়কেন্দ্রে। প্রশাসনের পক্ষ থেকে দেওয়া হচ্ছে শুকনো খাবার।

 

আর টানা বৃষ্টি আর পাহাড়ি ঢলে রাঙামাটির বাঘাইছড়ি, লংগদু, বরকল, বিলাইছড়িসহ নিচু এলাকাগুলো জলমগ্ন অবস্থায় রয়েছে। বিভিন্ন স্থানে পাহাড়ধসের কারণে ব্যাহত হচ্ছে যান চলাচল। খোলা হয়েছে একাধিক আশ্রয়কেন্দ্র। সাজেকে আটকা পড়া পর্যটকদের উদ্ধার করেছে সেনাবাহিনী।

 

এদিকে, খাগড়াছড়িতে চেঙ্গী নদী ও আশপাশের ছড়া-খালের পানি নেমে যাওয়ায় শহরের নিচু এলাকার ঘরবাড়ি ও সড়ক থেকে পানি নেমেছে। শুরু হয়েছে যান চলাচল। তবে, দীঘিনালার মাইনী নদীর পানিতে ছোট মেরুং ইউনিয়নে এখনও জলমগ্ন হাজারো পরিবার। থেমে থেমে চলছে বৃষ্টিপাত।

 

এছাড়াও কক্সবাজারের চকরিয়া, পেকুয়া, রামুসহ বিভিন্ন উপজেলার নিম্নাঞ্চল এখনও পানিতে তলিয়ে আছে। সবচেয়ে বেশি ভোগান্তিতে চকরিয়ার নিচু এলাকার বাসিন্দারা। বৃষ্টির পাশাপাশি পাহাড়ি ঢলের কারণে নিমজ্জিত বিস্তীর্ণ এলাকা। পাহাড়ধসের শঙ্কায় ঝুঁকিপূর্ণভাবে বসবাসকারীদের নিরাপদে সরে যাওয়ার নির্দেশনা দিয়েছে প্রশাসন।

 

অন্যদিকে, চট্টগ্রামের চন্দনাইশ, সাতকানিয়া ও বাঁশখালী উপজেলার বিস্তীর্ণ এলাকা পানিতে নিমজ্জিত। পাহাড়ি ঢলের কারণে নদীর পানি উপচে লোকালয় ডুবেছে। চন্দনাইশ ও সাতকানিয়ায় চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়কের বিভিন্ন অংশ পানিতে তলিয়ে গেছে। ব্যাহত হচ্ছে যান চলাচল। বৃষ্টি কিছুটা কমে আসায় চট্টগ্রাম নগরীর বেশিরভাগ জলাবদ্ধ এলাকা থেকে পানি নেমে গেছে। তবে, এখনও নিচু এলাকাগুলো তলিয়ে আছে।

টানা বৃষ্টিতে বিপর্যস্ত চট্টগ্রাম, পানিবন্দি লাখ লাখ মানুষ

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

মিথ্যা ও কুরুরুচিপূর্ণ মন্তব্যের প্রতিবাদে নীলফামারীতে পরিবহন শ্রমিকদের মানববন্ধন

মাইদুল ইসলাম

স্টাফ রিপোর্টার

জেলা নীলফামারী: নীলফামারী জেলা বাস মিনিবাস শ্রমিক ইউনিয়ন (রেজি, নং রাজ-২২০) সৈয়দপুরভিত্তিক নেতৃবৃন্দদের বিরুদ্ধে মিথ্যা বানোয়াট ও কুরুচিপূর্ণ মন্তব্য, চাঁদাবাজি এবং শ্রমিক নির্যাতনের অভিযোগে মানববন্ধন ও প্রতিবাদ সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। মঙ্গলবার

(১৪ জুলাই) দুপুরে শহরের চৌরঙ্গী মোড়ে এ কর্মসূচির আয়োজন করে নীলফামারী জেলা বাস মিনিবাস ও কোর্স পরিবহন শ্রমিক ইউনিয়নের

(রেজি.নং রাজ ৩৪৪৬) শ্রমিকরা। এ সময় বক্তব্য দেন জেলা বাস মিনিবাস ও কোর্স পরিবহন শ্রমিক ইউনিয়নের সভাপতি নুর আলম, সাধারণ সম্পাদক মাসুদ রানা মানিক, জেলা শ্রমিক দলের সাধারণ সম্পাদক জামিয়ার রহমান এবং সড়ক পরিবহন মালিক গ্রুপের অর্থ সম্পাদক আবু তাহের প্রমুখ। বক্তারা অভিযোগ করে বলেন, সৈয়দপুরভিত্তিক নীলফামারী জেলা বাস মিনিবাস শ্রমিক দীর্ঘ ৪৮ বছর ধরে জেলার পরিবহন খাতে প্রভাব বিস্তার করে আসছে। এ সময় বিভিন্নভাবে জেলার বাস মিনিবাস ও কোর্স পরিবহন মালিক ও শ্রমিকদের হয়রানি ও নির্যাতন করা হয়েছে বলেও তারা দাবি করেন। তাদের ভাষ্য, মালিক ও শ্রমিকদের স্বার্থ রক্ষার উদ্দেশ্যে জেলা কেন্দ্রীয় নীলফামারী জেলা বাস মিনিবাস ও কোর্স পরিবহন শ্রমিক ইউনিয়ন গঠন করা হয়েছে। নতুন এই সংগঠনকে নিয়ে মিথ্যা, বানোয়াট ও কুরুচিপূর্ণ মন্তব্য করা হচ্ছে, যা কোনভাবেই মেনে নেওয়া হবে না। বক্তারা আরো হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, ভবিষ্যতে কেউ যদি

সংগঠনটির নেতৃবৃন্দ বা শ্রমিকদের সম্পর্কে মিথ্যা, বানোয়াট ও কুরুচিপূর্ণ মন্তব্য করেন, তাহলে শ্রমিকরা প্রচলিত আইনের আওতায় আইনানুগ ব্যাবস্থা গ্রহণ করবেন।

মিথ্যা ও কুরুরুচিপূর্ণ মন্তব্যের প্রতিবাদে নীলফামারীতে পরিবহন শ্রমিকদের মানববন্ধন 

নীলফামারী জেলা পুলিশ সুপার ফরহাদ হোসেন খানের নেতৃত্বে সাইবার অপরাধ দমনে সক্রিয় নীলফামারী জেলা পুলিশ

মাইদুল ইসলাম

স্টাফ রিপোর্টার

নীলফামারীতে পুলিশ সুপার মোঃ ফরহাদ হোসেন খানের নেতৃত্বে ভিসা প্রতারণা, অনলাইন ক্যাসিনো,থাই জুয়াসহ বিভিন্ন সাইবার অপরাধের বিরুদ্ধে ব্যাপক অভিযান পরিচালনা করছে জেলা পুলিশ। চলতি বছরে জানুয়ারি থেকে জুন পর্যন্ত ফাইবার নিরাপত্তা আইনে ২২ মামলা দায়ের করা হয়েছে। এসব মামলায় ৬১ জনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। এছাড়া আরও প্রায় ২০০ জনকে অজ্ঞাত আসামী করে তদন্ত কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে। মঙ্গলবার (১৪ জুলাই) জেলা পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার

(ক্রাইম এন্ড অপস) এ বি এমন ফয়জুল ইসলাম এ তথ্য নিশ্চিত করেন। তিনি জানান, নীলফামারী সদর, সৈয়দপুর ও কিশোরগঞ্জ উপজেলায় ধারাবাহিক অভিযানে ছয় মাসে ২২টি মামলা দায়ের করা হয়েছে। মামলাগুলোতে ৮১ জনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে। অনলাইন ভিত্তিক ভিসা প্রতারণা, অবৈধ ক্যাসিনো পরিচালনা এবং থাই জুয়ার মাধ্যমে সাধারণ মানুষের কাছ থেকে নগদ অর্থ হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগে এসব মামলা করা হয়েছে। জেলা পুলিশের অভিযানে বিভিন্ন স্থান থেকে অভিযুক্তদের গ্রেপ্তার করা হয়েছে এবং অপরাধচক্রের অন্যান্য সদস্যদের সনাক্ত তদন্ত চলছে। অতিরিক্ত পুলিশ সুপার এ বি এম ফয়জুল ইসলাম বলেন,”পুলিশ সুপার মোঃ ফরহাদ হোসেন খানের সার্বিক দিকনির্দেশনায় নীলফামারী জেলা পুলিশ মাদক, জুয়া অনলাইন ক্যাসিনো, ভিসা

প্রতারণাসহ সকল ধরনের সাইবার অপরাধ দমনে জিরো টলারেস নীতি অনুসরণ করেছে। এসব অপরাধ পুরোপুরি নির্মূল করা কঠিন হলেও কঠোর অভিযান ও গোয়েন্দা তৎপরতার মাধ্যমে নিয়ন্ত্রণে রাখার সর্বোচ্চ চেষ্টা অব্যাহত থাকবে।”

তিনি আরো বলেন, সাধারণ মানুষকে অনলাইন প্রতারণা, অবৈধ ক্যাসিনো ও তাই জুয়ার মতো অপরাধ সম্পর্কে সচেতন হতে হবে। জেলা পুলিশ অপরাধ দমনে যেমন কঠোর অবস্থানে রয়েছে, তেমনি জনসচেতনতামূলক আগামীতে কার্যক্রম ও অব্যাহত থাকবে।

নীলফামারী জেলা পুলিশ সুপার ফরহাদ হোসেন খানের নেতৃত্বে সাইবার অপরাধ দমনে সক্রিয় নীলফামারী জেলা পুলিশ 

নগদ টাকার লেনদেনের ঝুঁকি কমাতে পীরগঞ্জে পূবালী ব্যাংক পিএলসির বাংলা কিউআর বুথ উদ্বোধন।

 

মোঃআশরাফুল ইসলাম

ঠাকুরগাঁও প্রতিনিধি:

 

বাংলাদেশ সরকারের ‘ক্যাশলেস বাংলাদেশ’ বিনির্মাণ উদ্যোগ এবং বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্দেশনা বাস্তবায়নের অংশ হিসেবে ঠাকুরগাঁও জেলার পীরগঞ্জে পূবালী ব্যাংক পিএলসি শাখার উদ্যোগে বাংলা কিউআর (Bangla QR) বুথ উদ্বোধন করা হয়েছে।

 

মঙ্গলবার (১৪ জুলাই) উপজেলার হায়দার আলী মার্কেট প্রাঙ্গণে আনুষ্ঠানিকভাবে এ কার্যক্রমের উদ্বোধন করা হয়। এর মাধ্যমে সাধারণ গ্রাহকদের আধুনিক ডিজিটাল ব্যাংকিং সেবার আওতায় এনে নিরাপদ, দ্রুত ও স্বচ্ছ আর্থিক লেনদেনে উৎসাহিত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

 

 

উদ্বোধন উপলক্ষে পূবালী ব্যাংক পিএলসি, পীরগঞ্জ শাখার আয়োজনে একটি বর্ণাঢ্য র‌্যালি বের করা হয়। র‌্যালিটি পীরগঞ্জের প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ শেষে পুনরায় হায়দার আলী মার্কেটে এসে শেষ হয়।

 

পরে অতিথিরা ফিতা কেটে ও বেলুন উড়িয়ে বাংলা কিউআর বুথের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন। র‌্যালিতে ব্যাংকের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের পাশাপাশি স্থানীয় ব্যবসায়ী ও সাধারণ মানুষ অংশ নেন।

 

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন পীরগঞ্জ সরকারি কলেজের অধ্যক্ষ প্রফেসর মোহাম্মদ বদরুল হুদা। বিশেষ অতিথি ছিলেন পূবালী ব্যাংক পিএলসির ঠাকুরগাঁও শাখার উপ-মহাব্যবস্থাপক ও শাখা প্রধান মো. আব্দুর রাজ্জাক। এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন বিশিষ্ট ব্যবসায়ী ও সমাজসেবক মো. ইমদাদুর রহমান, মো. জিল্লুর রহমান জুয়েল ও মো. রুহুল আমিন। এ সময় আরও উপস্থিত ছিলেন ঠাকুরগাঁও জেলার পীরগঞ্জ ব্যবসায়ী সমিতি, সভাপতি মো. হাবিবুর রহমান জীবনসহ পূবালী ব্যাংক পিএলসির বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তা-কর্মচারী এবং স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ।

 

 

প্রধান অতিথির বক্তব্যে প্রফেসর মোহাম্মদ বদরুল হুদা বলেন, বর্তমান সময়ে ডিজিটাল লেনদেন আধুনিক অর্থনীতির অন্যতম ভিত্তি। একটি স্মার্ট ও প্রযুক্তিনির্ভর বাংলাদেশ গড়ে তুলতে নগদ লেনদেনের বিকল্প হিসেবে ক্যাশলেস ব্যবস্থার সম্প্রসারণ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বাংলা কিউআর ব্যবস্থার মাধ্যমে ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী থেকে বড় প্রতিষ্ঠান—সবাই দ্রুত, সহজ, নিরাপদ ও স্বল্প ব্যয়ে ডিজিটাল লেনদেন করতে পারবেন।

তিনি আরও বলেন, ক্যাশলেস লেনদেন আর্থিক কার্যক্রমে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করে। পাশাপাশি কর ও ভ্যাট ব্যবস্থাকে আরও কার্যকর করার পাশাপাশি অর্থপাচার ও দুর্নীতি প্রতিরোধেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। তিনি ব্যবসায়ীদের ডিজিটাল লেনদেনে এগিয়ে আসার আহ্বান জানান এবং সাধারণ মানুষকে প্রযুক্তিনির্ভর আর্থিক সেবা ব্যবহারে উৎসাহিত করেন।

 

বিশেষ অতিথির বক্তব্যে পূবালী ব্যাংক পিএলসির ঠাকুরগাঁও শাখার উপ-মহাব্যবস্থাপক ও শাখা প্রধান মো. আব্দুর রাজ্জাক বলেন, এক দেশ, এক কিউআর লেনদেন—বাংলা কিউআর এই স্লোগানকে ধারণ করে বাংলাদেশ সরকার ও বাংলাদেশ ব্যাংক একটি ক্যাশলেস বাংলাদেশ গড়ে তোলার উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। সেই উদ্যোগকে সফল করতে পূবালী ব্যাংক পিএলসি দেশব্যাপী ধারাবাহিকভাবে ক্যাশলেস ক্যাম্পেইন পরিচালনা করছে।

 

তিনি বলেন, এই ধারাবাহিকতার অংশ হিসেবে পীরগঞ্জ শাখার উদ্যোগে এ ক্যাম্পেইনের উদ্বোধন করা হয়েছে। উপজেলার সব শ্রেণি-পেশার মানুষের কাছে ডিজিটাল লেনদেনের সহজ পদ্ধতি পৌঁছে দেওয়া এবং আধুনিক ব্যাংকিং সেবায় তাদের উদ্বুদ্ধ করাই এ কর্মসূচির মূল লক্ষ্য।

 

তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশ সরকার ও বাংলাদেশ ব্যাংকের ক্যাশলেস বাংলাদেশ বাস্তবায়ন কর্মসূচিতে পূবালী ব্যাংক অগ্রণী ভূমিকা রাখতে বদ্ধপরিকর। ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও)-এর নির্দেশনায় দেশের প্রতিটি জেলা, উপজেলা, ইউনিয়ন, ওয়ার্ড এবং প্রত্যন্ত অঞ্চলে এই ক্যাম্পেইন পরিচালিত হচ্ছে। বাংলাদেশ সম্পূর্ণ ক্যাশলেস না হওয়া পর্যন্ত এ কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।

 

মো. আব্দুর রাজ্জাক বলেন, ক্যাশলেস অর্থনীতির অন্যতম বড় সুবিধা হলো কাগজের নোট ছাপাতে সরকারের বিপুল ব্যয় উল্লেখযোগ্যভাবে কমে আসবে। ফলে সেই অর্থ দেশের উন্নয়ন ও উৎপাদনশীল খাতে বিনিয়োগ করা সম্ভব হবে। একই সঙ্গে ডিজিটাল লেনদেনের প্রসারের মাধ্যমে আর্থিক কার্যক্রম আরও নিরাপদ, স্বচ্ছ ও গতিশীল হবে এবং স্মার্ট বাংলাদেশ গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

 

তিনি জানান, পূবালী ব্যাংক পিএলসি শুধু শহরাঞ্চলেই নয়, গ্রামাঞ্চলের ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী, দোকানদার ও সাধারণ মানুষের দোরগোড়ায় ক্যাশলেস ব্যাংকিং সেবা পৌঁছে দিতে নিরলসভাবে কাজ করছে। ব্যাংকের লক্ষ্য হলো প্রতিটি ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান—এমনকি ছোট চায়ের দোকান ও ক্ষুদ্র উদ্যোক্তাদের কাছেও বাংলা কিউআরভিত্তিক ডিজিটাল লেনদেনের সুবিধা পৌঁছে দেওয়া। এর মাধ্যমে নগদ অর্থের ব্যবহার কমিয়ে নিরাপদ, স্বচ্ছ ও আধুনিক লেনদেন ব্যবস্থা সবার জন্য সহজলভ্য করা সম্ভব হবে।

 

আরও বক্তব্য রাখেন পূবালী ব্যাংক পিএলসি, পীরগঞ্জ শাখা প্রধান পরেশ চন্দ্র রায়। তিনি বলেন, বাংলা কিউআর ব্যবহারের মাধ্যমে গ্রাহকরা খুব সহজে, দ্রুত ও নিরাপদভাবে অর্থ লেনদেন করতে পারবেন। এতে নগদ অর্থ বহনের ঝুঁকি কমবে এবং ব্যবসায়ীদের লেনদেন আরও স্বচ্ছ ও সহজ হবে।

 

তিনি আরও বলেন, পূবালী ব্যাংক পিএলসি গ্রাহকদের আধুনিক ব্যাংকিং সেবার সঙ্গে সম্পৃক্ত করতে নিরলসভাবে কাজ করছে। বাংলা কিউআর ব্যবহারে সাধারণ মানুষের মধ্যে সচেতনতা বৃদ্ধি এবং ক্ষুদ্র ও মাঝারি ব্যবসায়ীদের ডিজিটাল লেনদেনে উৎসাহিত করাই এ কার্যক্রমের মূল উদ্দেশ্য। তিনি সকল ব্যবসায়ী ও গ্রাহককে বাংলা কিউআর ব্যবহার করে ক্যাশলেস লেনদেনে অভ্যস্ত হওয়ার আহ্বান জানান।

 

অনুষ্ঠানে উপস্থিত স্থানীয় ব্যবসায়ীরা বলেন, বর্তমানে মানুষ নিরাপদ, দ্রুত ও ঝামেলামুক্ত আর্থিক সেবা প্রত্যাশা করে। ক্যাশলেস লেনদেন সেই প্রত্যাশা পূরণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। বিশেষ করে ক্ষুদ্র ও মাঝারি ব্যবসায়ীরা সহজেই গ্রাহকদের কাছ থেকে ডিজিটালভাবে অর্থ গ্রহণ করতে পারবেন এবং আরও বেশি মানুষ আনুষ্ঠানিক ব্যাংকিং সেবার আওতায় আসবেন।

 

এ সময় আরেক ব্যবসায়ী নিম্ন আয়ের মানুষের জন্য স্মার্টফোনের দাম সহনীয় করার বিষ

নগদ টাকার লেনদেনের ঝুঁকি কমাতে পীরগঞ্জে পূবালী ব্যাংক পিএলসির বাংলা কিউআর বুথ উদ্বোধন।

ডিমলা উপজেলায় শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও সামাজিক সুরক্ষায় বিভিন্ন উপকরণ বিতরণ

মাইদুল ইসলাম

স্টাফ রিপোর্টার: নীলফামারীর ডিমলা উপজেলায় বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচির (এডিপি) অর্থায়নে বিভিন্ন মাধ্যমিক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শিক্ষা উপকরণ, অতি দরিদ্র নারীদের মাঝে সেলাই মেশিন, শারীরিক প্রতিবন্ধীদের হুইলচেয়ার, আর্থিকভাবে অসচ্ছল পরিবারের মাঝে আর্থিক সহায়তা এবং যাত্রীদের মধ্যে স্বাস্থ্য সুরক্ষা বিষয়ক উপকরণ বিতরণ করা হয়েছে। মঙ্গলবার

(১৪ জুলাই) উপজেলা পরিষদ প্রাঙ্গনে আয়োজিত এর বিতরণ সভা অনুষ্ঠিত হয় সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন নীলফামারী জেলা প্রশাসক ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মোহাম্মদ নায়িরুজামান। অনুষ্ঠানে বিভিন্ন মাধ্যমিক শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের জন্য সিলিং ফ্যান, উঁচু-নিচু বেঞ্চ ও খেলাধুলার বিভিন্ন সামগ্রী বিতরণ করা হয়েছে। এছাড়া অতি দরিদ্র নারীদের আত্মকর্মসংস্থানের লক্ষে সেলাই মেশিন শারীরিক প্রতিবন্ধীদের চলাচলের সুবিধার্থে হুইলচেয়ার, আর্থিকভাবে অসচ্ছল পরিবারের সদস্যদের মাঝে নগদ আর্থিক সহায়তা এবং ছাত্রীদের স্বাস্থ্য সচেতনতা ও নিরাপদ স্বাস্থ্য ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে স্বাস্থ্য সুরক্ষা বিষয়ক উপকরণ বিতরণ করা হয়। প্রধান অতিথির বক্তব্যে জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ নায়িরুজামান বলেন, সরকারের উন্নয়ন কার্যক্রমের মূল লক্ষ্য হলো সমাজের সকল শ্রেণী পেশার মানুষের

জীবনমান উন্নয়ন করা। শিক্ষা, স্বাস্থ্য,নারীর ক্ষমতায়ন ও সামাজিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সরকার বিভিন্ন কর্মসূচি বাস্তবায়ন করছে। এসব সহায়তা মানুষের জীবনমান উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ প্রেমিকা রাখবে। অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ডিমলা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোঃ ইমরানুজ্জামান। এ সময় আরো উপস্থিত ছিলেন উপজেলা সহকারি কমিশনার (ভূমি) রওশন কবির , উপজেলার বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তা, বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের প্রধান, শিক্ষক-শিক্ষার্থী এবং স্থানীয় গণমাধ্যম ব্যক্তিবর্গ। অনুষ্ঠান শেষে প্রধান অতিথি বিভিন্ন শ্রেণী পেশার উপকারভোগীদের হাতে শিক্ষা উপকরণ, সেলাই মেশিন,

হুইলচেয়ার, আর্থিক সহায়তা এবং স্বাস্থ্য সুরক্ষা সামগ্রী তুলে দেন উপস্থিত উপকারভোগীরা সরকারের এ উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়ে সংশ্লিষ্টদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।

ডিমলা উপজেলায় শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও সামাজিক সুরক্ষায় বিভিন্ন উপকরণ বিতরণ 

ইউক্রেনের প্রধানমন্ত্রী ইউলিয়া সভিরিদেঙ্কো পদত্যাগ করেছেন। দেশটির প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি সরকারের কার্যক্রমে নতুন গতি আনতে মন্ত্রিসভায় ব্যাপক রদবদলের উদ্যোগ নেওয়ার পর তিনি পদত্যাগের সিদ্ধান্ত নেন।

মঙ্গলবার ইউক্রেনের পার্লামেন্ট প্রধানমন্ত্রীর পদত্যাগপত্র গ্রহণ করে। এর ফলে নতুন প্রধানমন্ত্রী ও মন্ত্রিসভা গঠনের প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। সরকার পুনর্গঠনের মাধ্যমে যুদ্ধকালীন প্রশাসনকে আরও কার্যকর ও দক্ষ করার লক্ষ্য রয়েছে বলে জানিয়েছে প্রেসিডেন্টের কার্যালয়।

ইউলিয়া সভিরিদেঙ্কো দায়িত্ব পালনকালে দেশের অর্থনীতি, আন্তর্জাতিক সহযোগিতা এবং যুদ্ধকালীন প্রশাসনিক কার্যক্রমে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। তবে নতুন পরিস্থিতির আলোকে সরকারে পরিবর্তন আনার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

নতুন প্রধানমন্ত্রী কে হবেন, সে বিষয়ে শিগগিরই আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেওয়া হতে পারে।

পদত্যাগ করলেন প্রধানমন্ত্রী

বিএনপি নেতৃত্বাধীন সরকারের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ, স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন, অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী ও শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলনের পরিবর্তনের দাবি জানিয়েছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মূখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী।

 

আজ মঙ্গলবার (১৪ জুলাই) সকালে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে নিজের ভেরিফাইড একাউন্টে দেওয়া এক পোস্টে তিনি এ দাবি জানান।

 

ফেসবুক পোস্টে নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী লিখেছেন, ‌‌দেশের অর্থনীতি, স্বাস্থ্য, শিক্ষা ও অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা খাতকে গতিশীল করতে অর্থমন্ত্রী, স্বাস্থ্যমন্ত্রী, শিক্ষামন্ত্রী ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী-এই চারজনকেই পরিবর্তন করা উচিত।

 

 

 

প্রসঙ্গত, দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়া ও জলাবদ্ধতার মধ্যে এইচএসসি পরীক্ষা চালিয়ে যাওয়া সিদ্ধান্তের প্রতিবাদ জানিয়ে শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলনের পদত্যাগের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে চলছে সরব আলোচনা। এর মধ্যে এই দাবিতে রাজধানী ঢাকার বিভিন্ন কলেজের শিক্ষার্থীরা আন্দোলন কর্মসূচি ঘোষণা করেছে।

 

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীসহ ৪ মন্ত্রীর পরিবর্তন চাইলেন নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী

জামালপুর সদর উপজেলার রশিদপুর ইউনিয়নের পাকুল্যা ভাঙ্গুনী ঘাট থেকে গজারীআটা ভাঙা ব্রিজ পর্যন্ত প্রায় আড়াই কিলোমিটার গ্রামীণ সড়কের ইট তুলে বিক্রি করে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে একটি প্রতারক চক্রের বিরুদ্ধে। সড়কটি পাকা করার কথা বলে সংসদ-সদস্যকে দিয়ে উদ্বোধন করিয়ে ইট তুলে নেওয়া হলেও পরে জানা যায়, ওই সড়কের কোনো উন্নয়ন প্রকল্পই ছিল না। এতে কয়েকটি গ্রামের হাজারো মানুষ চরম দুর্ভোগে পড়েছেন।

 

স্থানীয়রা জানান, কয়েক বছর আগে সড়কটিতে ইটের সলিং নির্মাণ করা হয়। এতে পাকুল্যা, গজারীআটা, গুপীনাথপুর, হাটুভাঙ্গা, ডুয়াইলপাড়াসহ আশপাশের গ্রামের মানুষের যাতায়াত সহজ হয়। প্রায় দুই মাস আগে ঠিকাদার পরিচয়ে একটি চক্র সড়কটি পাকা করার কথা বলে পুরো সড়কের ইট খুলে নিয়ে যায়। তখন সংসদ-সদস্যসহ গণ্যমান্য ব্যক্তিদের উপস্থিতিতে উদ্বোধন হওয়ায় প্রথমে কেউ সন্দেহ করেননি।

 

পরে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি) থেকে জানা যায়, ওই সড়ক পাকা করার কোনো প্রকল্প বা দরপত্রই হয়নি। একইভাবে সদর উপজেলার আরও দুটি গ্রামীণ সড়ক থেকেও ইট তুলে নেওয়ার অভিযোগ রয়েছে। ইট তুলে নেওয়ার পর সড়কজুড়ে বড় বড় গর্ত ও কাদার সৃষ্টি হয়েছে। সামান্য বৃষ্টিতেই পানি জমে চলাচল প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়ে।

 

পাকুল্যা গ্রামের সাইদুর রহমান বলেন, রাস্তা বেহালের কারণে কৃষিপণ্য সময়মতো বাজারে নিতে না পারায় ন্যায্যমূল্য থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন কৃষকরা। জামালপুর এলজিইডির নির্বাহী প্রকৌশলী রোজদিদ আহম্মেদ বলেন, সদর উপজেলার তিনটি সড়ক থেকে ইট তুলে নেওয়ার ঘটনায় স্থানীয় জনপ্রতিনিধির পক্ষ থেকে মামলা করা হয়েছে।

 

সংসদ-সদস্য অ্যাডভোকেট শাহ মো. ওয়ারেছ আলী মামুন যুগান্তরকে বলেন, প্রতারক চক্র উন্নয়ন কাজের কথা বলে তাকে উদ্বোধনে নিয়ে যায়। পরে প্রকৃত ঘটনা জানতে পেরে তার উদ্যোগে মূল হোতা আবদুল মান্নানসহ ১১ জনকে আটক করে পুলিশের হাতে তুলে দেওয়া হয় এবং মামলা করে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। তিনি জানান, দ্রুত দরপত্র আহ্বান করে সড়কটি সংস্কারের ব্যবস্থা করা হবে।

এমপিকে দিয়ে উদ্বোধন পরে সড়কের ইট বিক্রি

সোমবার (১৩ জুলাই) দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের বন্যা সংক্রান্ত হালনাগাদ প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে।

 

প্রতিবেদন অনুযায়ী, বন্যাকবলিত এলাকায় বর্তমানে ১ লাখ ৫৫ হাজার ৩১১টি পরিবার পানিবন্দি রয়েছে। খাগড়াছড়ি, রাঙামাটি, বান্দরবান, কক্সবাজার, চট্টগ্রাম, মৌলভীবাজার ও হবিগঞ্জ এই সাত জেলায় মোট ৬ লাখ ৯ হাজার ৪১১ জন মানুষ বন্যা ও পাহাড়ি ঢলের কারণে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন।

 

প্রাণ হারানো ৫৪ জনের মধ্যে ৩১ জনই মারা গেছেন কক্সবাজারে। এছাড়া চট্টগ্রামে ১৩, বান্দরবানে ৬, রাঙামাটিতে ৩ ও মৌলভীবাজারে ১ জনের মৃত্যু হয়েছে।

 

ক্ষতিগ্রস্তদের সহায়তায় সরকারিভাবে ১ হাজার ৪২টি আশ্রয়কেন্দ্র চালু করা হয়েছে। এসব কেন্দ্রে ইতোমধ্যে ৩৮ হাজার ৪২২ জন আশ্রয় নিয়েছেন বলে জানিয়েছে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়।

বন্যা ও পাহাড় ধসে সাত জেলায় প্রাণহানি বেড়ে ৫৪

সোমবার বিকেল সাড়ে ৫টার ছোট চণ্ডীপুর গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। নিহতরা হলেন—উপজেলার ছোট চণ্ডীপুর গ্রামের বাসিন্দা সবিতা রাণী (৩৩) ও তার মেয়ে পল্লবী রাণী (১৫)।

 

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে নিজ বাড়ির একটি কক্ষে সিলিং ফ্যানের সঙ্গে ওড়না প্যাঁচানো অবস্থায় মা ও মেয়েকে ঝুলতে দেখেন প্রতিবেশীরা। তখন তারা দরজা ভেঙে ঘরে ঢুকে দুজনকে নিচে নামিয়ে পুলিশে খবর দেন।

 

পার্বতীপুর মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) ওয়াদুদ আলী জানান, প্রতিবেশীরা দরজা ভেঙে ঘরে ঢুকে মা ও মেয়েকে ঝুলন্ত অবস্থা থেকে উদ্ধার করে মাটিতে নামিয়ে রাখেন। তবে কী কারণে এ ঘটনা ঘটেছে, সে বিষয়ে এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি। লাশ দিনাজপুর এম আব্দুর রহিম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে।

একই ঘরে মা-মেয়ের ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার করল প্রতিবেশীরা

বিয়ের দাওয়াত খেয়ে ক্যাম্পাসে ফেরার পথে সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণ হারিয়েছেন জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়ের এনভায়রনমেন্টাল সাইন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের শিক্ষার্থী মো. জাহিদ হাসান। তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের ২০২১-২২ শিক্ষাবর্ষের ছাত্র ।

সোমবার বিকেল ৫টার দিকে টাঙ্গাইলের সাগরদিঘী এলাকায় সিএনজি চালিত অটোরিকশা ও মোটরসাইকেলের মুখোমুখি সংঘর্ষে এ দুর্ঘটনা ঘটে। নিহত জাহিদের বাড়ি টাঙ্গাইলের ভূঞাপুর উপজেলার ভারই গ্রামে।

 

‎পারিবারিক ও ক্যাম্পাস সূত্রে জানা যায়, জাহিদ টাঙ্গাইলে একটি বিয়ের দাওয়াত শেষে বিশ্ববিদ্যালয়ে ফিরছিলেন। সাগরদিঘী নামক স্থানে তাকে বহনকারী সিএনজি অটোরিকশার সাথে মোটরসাইকেলের মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। এ সময় জাহিদ সিএনজির সামনের সিটে বসা ছিলেন। সংঘর্ষের ফলে তিনি বুকে প্রচণ্ড আঘাত পান এবং ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়।

 

‎তার মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করেছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ড. মোশারফ হোসেন। উপাচার্যের অনুমোদনক্রমে বিশ্ববিদ্যালয় পরিবহন প্রশাসন থেকে জাহিদের জানাজায় অংশ নেওয়ার জন্য শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের সুবিধার্থে একটি বিশেষ বাস দেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে।

বিয়ে বাড়ি থেকে ফেরার পথে সড়ক দুর্ঘটনায় বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থী নিহত

র‌্যাবের চৌকস অভিযানে জীপসহ প্রায় ১১ হাজার ইয়াবার চালান আটক

জামালপুর হামলা পাল্টা হামলার মধ্য দিয়ে জেলার সানন্দবাড়ী তে থমথমে অবস্থা বিরাজমান।

error: আপনি নিউজ চুরি করার চেষ্টা করছেন। বিশেষ প্রয়োজনে যোগাযোগ করুন ০১৭৬৭৪৪৪৩৩৩
%d